মূলত রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৫ °C
 
২৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৭, ১৬ ফাল্গুন ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

তারুণ্যের পছন্দের ট্যাব

প্রকাশিত : ৬ ডিসেম্বর ২০১৪
  • রেজা নওফল হায়দার

লিলি একটা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে। ক্লাসের কমবেশি সবারই ল্যাপটপ আছে। স্যাররা এ্যাসাইনমেন্ট দিচ্ছে। তাই খুব দরকার এমন একটা জিনিসের যার দ্বারা সব কাজ করা যাবে। লিলির এ নিয়ে মন খুব খারাপ। ক্লাসের সবাই খুব স্মার্টলি নিজেদের ল্যাপটপ নিয়ে এসে বিভিন্ন প্রেজেন্টেশন করে। দেখলেই মনটা ভাল হয়ে যায়। লিলি পারে না। কিন্তু এই সময়ে ল্যাপটপ কিনতে অনেক টাকা লাগে। কোথায় পাবে সে এতগুলো টাকা তার সাধ্যের মধ্যে একটা যন্ত্র। এমন করেই বেশ কয়েকদিন চলে যায় আর মন খারাপ হতে থাকে।

লিলি তার প্রয়োজনীয় তথ্যউপাত্ত সংগ্রহ করে লাইব্রেরির সাইবার কেন্দ্র থেকে। কিন্তু ও জানে এই বেঁধে দেয়া স্বল্প সময় মেটাতে পারে না ওর অদম্য ইচ্ছাকে। এমনই এক সময়ে দেশের সর্ববৃহৎ কম্পিউটার মেলা হচ্ছিল। লিলি আর রাশেদ সময় করে ঘুরতে গেল মেলায়। মেলায় ঢুকেই লিলির মন ভাল হয়। এবারের মেলায় সাধ্যের মধ্যে ভাল ভাল ব্র্যান্ডের ট্যাব নিয়ে এসেছে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। ট্যাবগুলো মাত্র সাত হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ বত্রিশ হাজার টাকার মধ্যে রয়েছে। লিলি দেরি না করে কিনবে বলে সিদ্ধান্ত নিল। লিলি যে ল্যাবটি কিনল সেটার দাম মাত্র আট হাজার টাকা। দেশের তৈরি একটা ব্র্যান্ড। তাদের সার্ভিস ভাল।

লিলির মতো এমন অনেক শিক্ষার্থী আছে যাদের এই সময়ে এসে একটা ডিজিটাল যন্ত্রের খুব দরকার। কারণটা মনে হয় সহজে অনুমান করা যায় যে, ইন্টারনেটে সব সময় কাজ করতে হলে মোবাইল নয় বরং ট্যাবের মতো একটা যন্ত্র প্রয়োজন। যার মধ্যে মোবাইল সিম ঢুকিয়ে কাজ করা যায় ইচ্ছামতো। ইন্টারনেটে থাকা যায় সব সময়। বাজারে এখন সবই চায়নার তৈরি পণ্য।

তাই আপনাকে এই পণ্যগুলো কেনার আগে যেখান থেকে কিনছেন বা যার কাছ থেকে কিনছেন তাদের কাছ থেকে অবশ্যই জেনে নিতে হবে ট্যাবটিতে আপনার পছন্দ মতো এপ্লিকেশন সাপোর্ট করে কিনা। তবে বাজারে যে ট্যাবগুলো আছে তারমধ্যে বেশিরভাগই এনড্রোয়েট ভার্সন। যে কোন এ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট করবে। তবে অবশ্যই সার্ভিস ওয়ারেন্টি দেখে নিতে হবে।

ট্যাবের বাজারে ওয়ারেন্টি ছাড়া বহু পণ্য আছে। যেগুলো না কেনাই ভাল। আর একটা ট্যাবে মোবাইল প্লাস ল্যাপটপে যে সকল সুবিধা থাকে তার প্রায় সবরকম সুবিধা রেখেই ট্যাবগুলো বানানো হয়েছে। চিন্তার কিছু নেই সাধ্যের মতো থাকা ট্যাবগুলো থেকে নিজের কাজের ধরন অনুযায়ী একটা ট্যাব নিলেই হয়।

মানবজাতির ধ্বংস দেখছেন হকিং

মানুষের সমকক্ষ কিংবা তার চেয়েও বেশি বুদ্ধিমত্তার যন্ত্র তৈরির চেষ্টা শেষ পর্যন্ত পুরো মানবজাতিকে অস্তিত্বের সঙ্কটে ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং। মহাবিশ্বকে ধ্বংস করতে পারে ঈশ্বর কণা বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে ব্রিটিশ এই তত্ত্বীয় পদার্থবিদ বলেছেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) পূর্ণ অগ্রগতি শেষ পর্যন্ত মানবজাতির সমাপ্তি ডেকে আনতে পারে।’ এ্যামায়োট্রোফিক লেটারাল স্কেরোসিস নামে স্নায়ুতন্ত্রের এক জটিল রোগে (মোটর নিউরন) আক্রান্ত হকিংয়ের দেহের বেশিরভাগটাই অসার। ফলে যন্ত্রের সহায়তা নিয়ে তাকে কথা বলতে হয়, করতে হয় লেখালেখি। ইন্টেলের তৈরি সেই যন্ত্রও চলে প্রাথমিকস্তরের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায়। ওই যন্ত্রের নতুন সংস্করণ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবেই বিবিসিকে মানবজাতিকে নিয়ে নিজের শঙ্কার কথা বলেন বিশ্বখ্যাত এই বিজ্ঞানী। তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রথমদিকের যন্ত্রগুলোর যে উন্নয়ন এ যাবতকালে হয়েছে সেগুলোর উপযোগিতা ইতোমধ্যে প্রমাণিত। কিন্তু মানুষের সমান বা বেশি বুদ্ধিমত্তার যন্ত্র তৈরি করা গেলে তার ফল কতটা ভাল হবে তা নিয়েই তিনি সন্দিহান। ‘এর নিজেরাই নিজেদের কর্তৃত্ব নেবে। আর নিজেদের আরও বদলে নিয়ে দ্রুত সংখ্যা বাড়াবে তারা। সেই তুলনায় জৈব বিবর্তনের গতি অনেকটাই ধীর বলে মানুষ প্রতিযোগিতায় টিকতে পারবে না, পিছিয়ে পড়বে।’ হকিংয়ের মতো শঙ্কা এর আগেও অনেকে প্রকাশ করেছেন। বুদ্ধিমান যন্ত্র শীঘ্রই মানুষের অনেক কাজের দায়িত্ব নেবে এবং এর ফলে লাখ লাখ মানুষ কাজ হারাবে বলে তাদের ধারণা। স্টিফেন হকিং ইন্টারনেটের ভাল-মন্দ নিয়েও কথা বলেছেন। তিনিও মনে করেন, ইন্টারনেট এখন সন্ত্রাসীদের অন্যতম ‘কমান্ড সেন্টার’ হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, ‘হুমকি (সন্ত্রাসীদের) মোকাবেলায় ইন্টারনেট কোম্পানিগুলোর আরও অনেক কিছু করা উচিত। কিন্তু ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও স্বাধীনতায় ছাড় না দিয়ে তা করাই হলো মূল সমস্যা।

কিশোর উদ্ভাবক

শুভাম ব্যানার্জি

চিপ জায়ান্ট ইনটেলের সমর্থন পেল ১৩ বছর বয়সী কিশোর উদ্ভাবক শুভাম ব্যানার্জি। তার তৈরি ব্রেইল প্রিন্টার বাণিজ্যিক উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল সরবরাহ করবে ইনটেল। ১২ বছর বয়সেই মার্কিন রাষ্ট্রপতি কার্যালয় হোয়াইট হাউসে লেগো কিট দিয়ে তৈরি ব্যয়সাশ্রয়ী ব্রেইল প্রিন্টার প্রদর্শন করে আলোচনায় আসেন ব্যানার্জি। ইনটেল ঠিক কী পরিমাণ অর্থের যোগান দিচ্ছে সেটা গোপন রাখলেও রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী এর পরিমাণ কয়েক লাখ মার্কিন ডলার। অন্ধদের পড়ার বিশেষ ভাষা ব্রেইল। দৃষ্টি প্রতিবন্ধীরা পড়ার জন্য ব্রেইল ব্যবহার করে থাকেন। ইনটেলের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক সমর্থন পাওয়ার আগ পর্যন্ত নিজের অভিভাবকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা ৩৫ হাজার ডলারের উপর নির্ভর করেই চলছিল ব্যানার্জির ‘ব্রেইগো ল্যাবস’। স্কুলের সায়েন্স ফেয়ার প্রজেক্ট হিসেবে তৈরি ব্যানার্জির ব্রেইল প্রিন্টার এখন পুরোদস্তুর স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করতে পারবে বলে জানিয়েছে বিবিসি। ব্যানার্জির তৈরি প্রথম ব্রেইল প্রিন্টারের প্রথম সংস্করণ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়েছিল লেগোর মাইন্ডস্টর্ম ইভিথ্রি রোবোটিক কিট। ব্যবহারকারী এক প্রান্তে একটি প্রিন্টারে টাইপ করলে সেই লেখাগুলো প্রিন্টারের অপর প্রান্তে কাগজে প্রিন্ট হয়ে যেত ব্রেইল পদ্ধতিতে। আর এখন প্রিন্টারের আরও উন্নত একটি ভার্সন তৈরিতে কাজ করছেন বলেই জানিয়েছেন শুভাম ব্যানার্জি।

সনি পিকচার্সকে হ্যাকারদের হুমকি

নবেম্বরের শেষ সপ্তাহে ডেটা হ্যাকিংয়ের শিকার হওয়ার পর বিশ্বব্যাপী অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে সনি পিকচার্স প্রযোজিত পাঁচটি ছবি। এর মধ্যে আছে মুক্তির অপেক্ষায় থাকা ‘এ্যানি’ ছবিটিও। গার্ডিয়ান্স অফ দ্য পিস (জিওপি) নামক হ্যাকারদের সংগঠনটি শর্ত না মানলে সনি পিকচার্সের আরও ‘সিক্রেট’ ফাঁস করে দেয়ার হুমকি দিচ্ছে। প্রযুক্তিবিষয়ক সাইট ম্যাশএবল জানিয়েছে, শনিবার সাইটটির কাছে একটি ইমেইল পাঠিয়েছে জিওপি। মেইলটিতে লেখা ছিল, ‘কিছুদিন আগে আমরা জানিয়েছিলাম যে এ্যানি, ফিউরি এবং স্টিল এ্যালিসসহ কিছুসংখ্যক সনি পিকচার্সের ছবি ওয়েবে ছেড়েছি। ইন্টারনেট সার্চের মাধ্যমে সহজেই ওগুলো পাওয়া যাবে। আপনাদের অজানা আরও অনেক তথ্য আছে আমাদের কাছে।’ প্রতি উত্তরে ম্যাশএবল ইমেইল পাঠালেও আর কোন জবাব আসেনি বলেই জানিয়েছে সাইটটি। মেইলে সনি পিকচার্সের অভ্যন্তরীণ কর্মকাণ্ডের কিছু ডকুমেন্টের লিংক থাকলেও সেগুলোর উৎস ও সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং অধিকাংশ ডেটাই কয়েক বছর আগের বলে জানিয়েছে ম্যাশএবল। এ প্রসঙ্গে সনি পিকচার্সের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ‘সনি পিকচার্স এন্টারটেইনমেন্টের কনটেন্ট চুরি একটি অপরাধ এবং আমরা এর সমাধানের জন্য আইন প্রয়োগকারীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছি।’ মুক্তির নির্ধারিত সময়ের আগেই অনলাইনে চলে আসা সনি পিকচার্সের চলচ্চিত্রগুলো হচ্ছে ফিউরি, এ্যানি, মিস্টার টার্নার, স্টিল এ্যালিস এবং টু রাইট লাভ অন হার আর্মস।

ডোমেইন জব্দ

নকল পণ্য বিক্রির অভিযোগে একসঙ্গে মোট ২৯২টি ওয়েব ডোমেইন জব্দ করেছে ইউরোপের পুলিশবাহিনী। ওয়েব ডোমেইন জব্দের খবর নিশ্চিত করেছে ইউরোপোল। এক প্রতিবেদনে বিবিসি জানিয়েছে, সাইটগুলোতে স্পোর্টসওয়্যার, ইলেকট্রনিক্স, ওষুধ ও পাইরেটেড মুভি ও গানের মতো দ্রব্যাদি বিক্রি করা হচ্ছিল। ডোমেইনগুলো ব্যবহার করে পরিচালিত ওয়েবসাইটে কপিরাইট অপরাধ সংক্রান্ত পেজ দেখানো হচ্ছে। ওয়েব ডোমেইন জব্দ হলেও কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি বলে জানিয়েছে বিবিসি। তবে শীঘ্রই জড়িতদের গ্রেফতারের সম্ভাবনা রয়েছে বলে তদন্তের সঙ্গে জড়িত এক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমটি। ওয়েব ডোমেইন জব্দ করার অভিযানে অংশ নেয়া ইউরোপের ‘ন্যাশনাল ইন্টেলেকচুয়াল প্রোপার্টি রাইটস কো-অর্ডিনেশন সেন্টার’-এর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ব্রুস ফোকার্ট এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘এসব জালিয়াতরা বিভিন্ন উৎসবের সুযোগে যে কোন স্থানের গ্রাহকদের কাছে স্বল্পমূল্যে নকল পণ্য বিক্রি করত। এসব জালিয়াতদের হাত থেকে নিজের পরিবার ও আর্থিক অবস্থান নিরাপদ রাখতে ভোক্তাদের সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।’ ২০১২ সালের নবেম্বর থেকে শুরু“হওয়া অভিযানে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৮২৯টি ডোমেইন জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউরোপোল।

সনির পরীক্ষামূলক

ই-পেপার হাতঘড়ি

প্রযুক্তি এবং ফ্যাশনের সমন্বয় ঘটিয়ে ই-পেপার থেকে সনিস তৈরি করল এফইএস হাতঘড়ি। স্বল্প নকশা আর একরঙা ডিভাইসগুলোতে থাকবে স্মার্টওয়াচের সব সুবিধা। এছাড়াও দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারিতে চার্জ থাকবে একটানা প্রায় ৬০ দিন। বিবিসির দেয়া তথ্য অনুযায়ী, হাতঘড়িটির সম্মুখভাগ এবং স্ট্র্যাপে ই-পেপার সংযুক্ত থাকে। ই-পেপার ডিসপ্লেকে অনেকটা এ্যামাজন কিন্ডল ই-বুক রিডারের সঙ্গে তুলনা করা যায়। ই-পেপারের কারণে হাতঘড়িটির ডিজাইন বা স্টাইল সহজেই বদলে নেয়া যায়। বর্তমানে অন্যান্য ডিভাইসের তুলনায় হাতঘড়িটি বেশ ভিন্নধর্মী বলে মনে করছেন গ্যাজেট বিশেষজ্ঞ স্টুয়ার্ট মাইলস। তাঁর মতে আগামী বছর প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোতে ফ্যাশনের একটি বড় ভূমিকা থাকবে। স্টুয়ার্ট আরও বলেন, চারকোণা এবং বড় আকারের একটি ফোন আর হাতঘড়ির মতো পরিধেয় বস্তুর মধ্যে পার্থক্য হলো, হাতঘড়িটি অবশ্যই দেখতে ভাল হতে হবে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ফ্যাশন এন্টারটেইনমেন্ট’ জগতে ডিভাইসটি নিয়ে আরও কাজ চালানোর জন্য হাতঘড়ির বিষয়টি গোপন রেখেছে সনি। সনির এক মুখ্যপাত্র বিবিসিকে জানান, ‘ফ্যাশন এন্টারটেইনমেন্ট’ হলো প্রতিষ্ঠানটির একটি নতুন বিভাগ যেখানে ই-পেপারের বিভিন্ন প্রোটোটাইপের উপর কাজ করা হচ্ছে। ‘ফ্যাশন এন্টারটেইনমেন্ট’ বিভাগটি মূলত ই-পেপারের বিভিন্ন ব্যবহার নিয়ে কাজ করছে। জুতা, টাই এমনকি চশমাতেও ই-পেপার সংযুক্তির ব্যাপারে গবেষণা চালাচ্ছে বিভাগটি।

সূত্র

: আইটি ডট কম ডেস্ক

প্রকাশিত : ৬ ডিসেম্বর ২০১৪

০৬/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: