মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

মানবেতর জীবন যাপন করছেন এক বীরাঙ্গনা

প্রকাশিত : ৬ ডিসেম্বর ২০১৪

দেশ স্বাধীন হয়েছে ৪৩ বছর। ’৭১-এ পাক-হানাদার বাহিনীর হাতে লাঞ্ছিত দেশের সকল বীরাঙ্গনাদের মতো ফটিকছড়ির এক জীবিত বীরাঙ্গনা বর্তমানে অভাব-অনটন, রোগ-ব্যাধি আর মানবেতর জীবনযাপন করছেন। স্বাধীনতার জন্য যারা সম্ভ্রম হারিয়েছিলেন, তারা আজ অবহেলার শিকার হয়ে সমাজের কাছে অবহেলিত। ’৭২ সালে বঙ্গবন্ধু বীরাঙ্গনাদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা এবং ১৯৭৫ সালে বীরাঙ্গমাতা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। কাগজেকলমে সরকারীভাবে সেই স্বীকৃতি পেলেও উপজেলার এ জীবিত বীরাঙ্গনা মাতা বর্তমানে কেমন আছেন এবং কিভাবে জীবনযাপন করছেনÑএখন কেউই সে খবর রাখেন না।

এ বীরাঙ্গনার নাম কল্পনা সূত্রধর। বয়স সত্তরোর্ধ। উপজেলার নানুপুর ইউনিয়নের মাইজভা-ার গ্রামের সূত্রধর পাড়ায় তাঁর বসবাস। বিবাহিত জীবনে ২ ছেলের জননী। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তাঁর বয়স ছিল ২৮ বছর। সেই দিনের ঘটনা বলতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, সেই দিনে স্বামী অনিল সূত্রধরকে পাক-হানাদার বাহিনী ধরে বেধড়ক মারধর করে অর্ধমৃত অবস্থায় ফেলে রাখে। পাক-হানাদার বাহিনী ঘরে আগুন দিয়ে তারা স্বামী অনিল সূত্রধরকে আগুনে ফেলে জীবন্ত হত্যা করে। তারপর নরপিশাচরা কল্পনাকে ধরে নিয়ে পাশবিক নির্যাতন চালায়। তিনি সেই দিনের লোমহর্ষক কাহিনীর বর্ণনা দেন এভাবেÑ ‘সেই দিন অনেক চেষ্টা করেছিলাম পালিয়ে সম্ভ্রম রক্ষার জন্য। কিন্তু শেষ রক্ষাটুকু হয়নি। এখন কোনরকমে বেঁচে আছি। এতকিছু হলেও রাষ্ট্রের কাছে এখনও স্বীকৃতি পাননি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, বর্তমানে বয়স্ক ভাতা পেলেও জীবন সায়াহ্নে এসে বীরাঙ্গনা মাতার সম্মান এখনও জোটেনি। তাই শেষ জীবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে রাষ্ট্রীয় সম্মানটুকু আশা করেন।

Ñইউনুস মিয়া, ফটিকছড়ি থেকে

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী রেজাউলের গানই নেশা

জীবনযুদ্ধে কিছু কিছু মানুষ সংগ্রাম করে টিকে থাকে, তেমনি একজন রেজাউল করিম। তিনি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। গান গাওয়া ও গান শেখানো তার নেশা। তার একমাত্র সম্পদ গলার সুর। তার কাছে গান শিখে ক্লোজআপ ওয়ান তারকার খ্যাতি পেয়েছেন বিউটি। গলার সুরে মুগ্ধ হয়ে পেয়েছিলেন চাকরি। কিন্তু দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হওয়ার কারণে শেষ পর্যন্ত চাকরি হারান। অর্থের অভাবে পরিবার-পরিজন নিয়ে কষ্টে জীবনযাপন করলেও বেছে নেননি।

চুয়াডাঙ্গা জেলা শহর থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে আলমডাঙ্গা উপজেলার জেহালা গ্রাম। এ গ্রামের ইসমাইল হোসেনের ৫ ছেলে মেয়ের মধ্যে সবার বড় রেজাউল করিম। জন্ম থেকেই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। ছোটবেলা থেকে গানের প্রতি তার ঝোক ছিল একটু বেশি। ১৯৮২ সালে ৭ বছর বয়সে লেখাপড়ার জন্য ভর্তি হন জেলা সদরের সমন্বিত অন্ধ স্কুলে। ১৯৯২ সালে তিনি এসএসসি পাস করেন। পড়াশুনা করার সময় সহপাঠীদের নিয়ে থালা-গামলা বাজিয়ে গান করতেন। গানের গলা সুমধুর হওয়ায় ভর্তি হন চুয়াডাঙ্গা শিল্পকলা একাডেমিতে। তিনি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হলেও তৎকালীন গানের শিক্ষক খোকন জোয়ার্দ্দার, আশরাফ ওস্তাদসহ অন্যরা তাকে সহযোগিতা করতেন। গান গাওয়ার সুযোগ করে দিতেন বিভিন্ন অনুষ্ঠানে।

শিল্পী রেজাউল করিম গান গাওয়ার পাশাপাশি শুরু করেন গান শেখানোর টিউশনি। আজ পর্যন্ত তিনি এই পেশার সঙ্গে জড়িত। এর থেকে যা আয় হয় তা দিয়ে পরিবারের ৪ সদস্যের কোন রকম খেয়ে না খেয়ে তার সংসার চলে। বর্তমানে তিনি আলমডাঙ্গা মুক্তিযোদ্ধা সাংস্কৃতিক সংসদের গানের শিক্ষক। প্রতিমাসে সম্মানী হিসাবে পান মাত্র ৬০০ টাকা। এছাড়া বিভিন্নজনের বাড়ি গিয়ে গান শেখান। তার কাছে গান শিখে আজ অনেকেই প্রতিষ্ঠিত শিল্পী। তেমনই একজন ক্লোজআপ তারকা বিউটি। ১৯৯৬ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত বিউটি তার কাছে গান শিখেছেন।

-রাজীব হাসান কচি, চুয়াডাঙ্গা থেকে

সাপ ধরাই যার নেশা

বিষধর সাপ ধরা, সর্পদংশনের বিষ নামানোসহ জটিল ও কঠিন রোগের চিকিৎসা সেবা দিয়ে দেশব্যাপী পরিচিতি লাভ করা সর্পরাজ স্বপন হোসেন জীবনের শেষপ্রান্ত পর্যন্ত মানুষের সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দিতে চান। কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি স্বর্ণপদকসহ একাধিক পদক ও সনদপ্রাপ্ত হয়েছেন। একান্ত আলাপনে ৩৪ বছর বয়স্ক স্বপন হোসেন তাঁর কাজের নানা অভিজ্ঞতার কথা বলেন। জেলার গৌরনদী পৌর এলাকার টরকীরচর এলাকার বাসিন্দা মৃত জয়নাল আবেদীন সরদারের পুত্র স্বপন হোসেন। মাত্র ১৭ বছর বয়সে অসম কামার-কামাখ্যা থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হয়ে তিনি ঝুঁকিপূর্ণ এ পেশায় নিজেকে নিয়োজিত করেন। পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় ঘুরে তিনি বিষধর সাপ ধরা থেকে শুরু করে সর্পদংশনের বিষ নামানো, জটিল ও কঠিন রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে বেশ স্বল্পসময়ে সর্পরাজের খেতাব অর্জন করেছেন। একাধিক পদক ও সনদে ভূষিত হয়েছেন। Ñখোকন আহম্মেদ হীরা, বরিশাল থেকে

ভিয়েতনামী কলা এখন বাংলাদেশে

প্রায় বাইশ মাস অপেক্ষার পর ভিয়েতনাম থেকে আনা কলাগাছে ফল এসেছে। এই কলা তরকারি বা ভেজেটেবল হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম হর্টিকালচার সেন্টার কল্যাণপুরে এই সাফল্যের দেখা মিলেছে। উদ্যানতত্ত্ববিদ ড. সাইফুর রহমান ২০১৩ সালে ভিয়েতনাম সফরকালে অনেকটাই পেশাগত টানে সকলের চোখ এড়িয়ে ১৫টি আইটেমের অন্যতম ২টি কলা চারা নিয়ে আসেন। অতি আধুনিক ‘নতুন জার্মপ্লাজম সংগ্রহ’ ও ব্যবহারের মাধ্যমে এই দুটি চারাকে প্রাথমিকভাবে টবে রেখে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। এভাবে সফল হওয়ার পর তা টব থেকে উঠিয়ে জমিতে রোপণ করে পরিচর্যা করেন। মাটিতে রোপণের সময় ওই চারার উচ্চতা ছিল মাত্র এক ফুট, যা এখন পরিপূর্ণতা পেয়ে ফল আসায় দেশী কলাগাছের উচ্চতায় পৌঁছে গেছে।

-ডিএম তালেবুন নবী,

চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে

প্রকাশিত : ৬ ডিসেম্বর ২০১৪

০৬/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: