মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

পরিচর্যায় ব্যস্ত থাকেন।

প্রকাশিত : ৬ ডিসেম্বর ২০১৪
  • যশোরের ছয় কৃষক নারীর সংগ্রাম

সাজেদ রহমান, যশোর থেকে ॥ পঞ্চাশোর্ধ্ব সাবিয়া খাতুনের বাড়ি যশোর সদর উপজেলার লেবুতলা ইউনিয়নের কোদালিয়া গ্রামে। স্বামী আফছার আলীর তৃতীয় স্ত্রী সাবিয়া ৫টি কন্যাসন্তান নিয়ে বিধবা হন ১৩ বছর আগে। ৫ মেয়েকে নিয়ে তিনি যেন অথৈ সাগরে পড়ে যান। কিন্তু ভেসে যাননি সাবিয়া। এক বিঘা জমিকে সম্বল করে নেমে পড়েন কৃষিকাজে। কখনও ধান, আবার পিঁয়াজ, রসুন, সরিষা, সবজি চাষ শুরু করেন। এরপর হাঁস-মুরগি দিয়ে শুরু করে এখন গরু, ছাগলও পালন করছেন। এভাবেই সংসারের হাল ধরে টিকে আছেন তিনি।

এর মধ্যে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী মেজো মেয়েকে রেখে স্বামী পালিয়েছে। স্বামীর পরকীয়ায় প্রাণ গেছে সেজো মেয়ের। শ্বশুরবাড়ির অত্যাচারে টিকতে না পেরে ছোট মেয়ে ফিরে এসেছে মা সাবিয়ার কাছে। এ সব দুর্বিপাকের মাঝেও কৃষিকাজ করে টিকে থাকার জীবন সংগ্রামের কথা শোনালেন সাবিয়া। শুধু সাবিয়া নন, এমন ছয়জন নারী কৃষক শোনালেন সংগ্রামী জীবনের কথা। রবিবার দুপুরে এই ছয় নারীকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। এরা হলেন- যশোর সদর উপজেলার লেবুতলা ইউনিয়নের কোদালিয়া গ্রামের সাবিয়া খাতুন, লেবুতলা গ্রামের শাকিলা খাতুন, বাঘারপাড়া উপজেলার পূর্ণিমা রাণী ও অনিমা পোদ্দার এবং মণিরামপুর উপজেলার শিখা রাণী মল্লিক ও সুষমা সরকার।

খাদ্য নিরাপত্তায় নারী কৃষকদের অধিকার সংরক্ষণে জাতীয় প্রচারাভিযানের অংশ হিসেবে জেলা পর্যায়ে নারী কৃষক নির্বাচন অনুষ্ঠানে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। অক্সফামের সহযোগিতায় উলাসী সৃজনী সংঘ, আফনান ও বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। স্থানীয় সিসিটিএস মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন যশোর হর্টিকালচার সেন্টারের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ বিনয় কুমার সাহা, বিশেষ অতিথি ছিলেন- সমাজসেবা অধিদফতরের উপ পরিচালক শাহাজান মিয়া, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মহিদুল হক খান, সদর উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট সেতারা খাতুন, গাইদঘাট কৃষি ক্লাবের সভাপতি আইয়ুব হোসেন প্রমুখ।

প্রকাশিত : ৬ ডিসেম্বর ২০১৪

০৬/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: