কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

হরেক রঙের প্রজাপতি ফুলে ফুলে ওড়াউড়ি মুগ্ধ দর্শক

প্রকাশিত : ৬ ডিসেম্বর ২০১৪
হরেক রঙের প্রজাপতি ফুলে ফুলে ওড়াউড়ি মুগ্ধ দর্শক
  • জাবি ক্যাম্পাসের প্রজাপতি মেলায় দিনভর শিশু-কিশোরদের হৈহুল্লোড়ে মুখরিত

জাবি সংবাদদাতা ॥ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) প্রজাপতি মেলায় হরেক রকম প্রজাপতির ওড়াউড়ি দেখে মুগ্ধ দেশের নানাপ্রান্ত থেকে আসা বিভিন্ন বয়সের দর্শনার্থী। হাল্কা শীতে কুয়াশা আর রোদের লুকোচুরির মাঝে হরেক রঙের নানান প্রজাতির প্রজাপতির বিচরণ দেখে সার্থক হয়েছে দর্শনার্থীর মেলায় আসা। প্রজাপতি আর প্রজাপতিপ্রেমীর সরব উপস্থিতিতে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্যদিয়ে ৫ ডিসেম্বর জাবি ক্যাম্পাসে পঞ্চমবারের মতো দেশের একমাত্র প্রজাপতি মেলা হয়ে গেল।

শুক্রবার ‘ডিঙ্গি বুশব্রাউন’, ‘কমন ডাফার’, ‘এপফ্লাই’, ‘প্লেন টাইগার’, ‘কমন ক্রো’, প্লেম জুডি’ ‘পি ব্লু’সহ দেড় শতাধিক প্রজাপতি নানা রঙের ডানা মেলে রাঙিয়ে তোলে জাবি ক্যাম্পাস। মেলা কেন্দ্র করে ক্যাম্পাস সাজানো হয় বর্ণিল রূপে। প্রজাপতির ছবি সংবলিত ব্যানার, ফেস্টুনে ছেয়ে যায় জহির রায়হান মিলনায়তন, শহীদ মিনার চত্বর এবং বোটানিক্যাল গার্ডেন এলাকা। জহির রায়হান মিলনায়তনে আয়োজন করা হয় প্রজাপতি আলোকচিত্র প্রদর্শনী। প্রজাপতি মেলা উপলক্ষে দেশের বিভিন্নস্থান থেকে হাজারও প্রজাপতিপ্রেমী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছুটে আসেন। এদের মধ্যে শিশু-কিশোরের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রজাপতি দেখার পাশাপাশি প্রজাপতির সঙ্গে ছবি তুলতে ভোলেনি শিশু-কিশোররা। মেলা থেকে বাদ পড়েননি প্রাক্তন শিক্ষার্থীরাও। সবার কাছে প্রজাপতি মেলা মিলনমেলায় পরিণত হয়েছিল। পুরনো বন্ধুকে

(১৯ পৃষ্ঠা ২ কঃ দেখুন) হরেক রঙের

(২০-এর পৃষ্ঠার পর)

কাছে পেয়ে খোশগল্পে মেতে ওঠেন অনেকেই। শতাধিক জাতের প্রজাপতি দেখতে দর্শনার্থীরা জহির রায়হান মিলনায়তন ও বোটানিক্যাল গার্ডেনের ‘প্রজাপতির ঘরে’ ভিড় জমায়। দর্শনার্থী অতিথির পদচারণায় মুখরিত একটি দিন কাটে জাবি ক্যাম্পাসের। মেলা দেখতে আসা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী জয়ন্ত সরকার বলেন, ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ব্যতিক্রমী এ মেলা দেখতে এসে খুবই ভাল লাগছে, এই মেলায় এসে একসঙ্গে এত রকমের প্রজাপতি দেখার সুযোগ মেলে তাই বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়ার পরও প্রতিবছরই এদিনটিতে ছুটে আসি।

‘উড়লে আকাশে প্রজাপতি, প্রকৃতি পায় নতুন গতি’ এই স্লোগানে প্রজাপতি সংরক্ষণ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় প্রজাপতির ভূমিকা তুলে ধরে গণসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে শুক্রবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে প্রজাপতি অবমুক্তকরণ ও বেলুন উড়িয়ে ‘প্রজাপতি মেলা-২০১৪’র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের কীটতত্ত্ব শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এই মেলার উদ্বোধন করেন জাবি উপাচার্য ফারজানা ইসলাম। অনুষ্ঠানে মেলার আহ্বায়ক প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মনোয়ার হোসেন তুহিন, আই ইউসিএন’র আঞ্চলিক প্রতিনিধি ইশতিয়াক উদ্দিন আহমেদ, ‘প্রকৃতি ও জীবন’ ফাউন্ডেশনের সভাপতি মুকিত মজুমদার বাবু উপস্থিত ছিলেন। এ সময় প্রজাপতি গবেষণায় অবদান রাখায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সোহরাব হোসেনকে আজীবন সম্মাননা দেয়া হয়। এছাড়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তানভীর হাসানকে প্রজাপতি ইয়ং এ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। জাবি উপাচার্য ফারজানা ইসলাম বলেন, ছোট সময় থেকেই মেয়েরা একটি গান শুনে আসছে ‘প্রজাপতি প্রজাপতি কোথায় পেলে ভাই এমন রঙিন পাখা’ তাই প্রজাপতির প্রতি মেয়েদের আলাদা ভালবাসা রয়েছে। শিশুরাও প্রজাপতি নিয়ে খেলা করতে পছন্দ করে। মেলায় হাজার হাজার দর্শনার্থীই প্রমাণ করে প্রজাপতির প্রতি আমাদের ভালবাসা প্রগাঢ়। তবে প্রজাপতি গবেষণা বৃদ্ধি করে প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় গবেষকদের আরও ভূমিকা রাখার অনুরোধ করেন তিনি। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ‘প্রকৃতি ও জীবন’ ফাউন্ডেশনের পরিচালক মুকিত মজুমদার বাবু বলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে অপ্রতিদ্বন্দ্বী। প্রকৃতি ও পরিবেশ মানুষের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। প্রজাপতির সৌন্দর্যে আমরা মুগ্ধ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মেলার আহ্বায়ক প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মনোয়ার হোসেন।

মেলা আয়োজনের বিষয়ে ড. মনোয়ার হোসেন তুহিন বলেন, প্রজাপতি শুধু বর্ণিল একটি প্রাণীই নয়, ফুলের পরাগায়নের মাধ্যমে এটি প্রকৃতিকে তার নিজস্ব গতিতে বেড়ে উঠতে সহায়তা করে। তাই প্রজাপতি সংরক্ষণের বিষয়ে গণসচেতনতা সৃষ্টির জন্য আমরা এই মেলার আয়োজন করি। এদিকে সকাল সাড়ে নয়টার দিকে প্রজাপতি মেলা দেখতে ক্যাম্পাসে আসেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজেনা। এ সময় তিনি প্রজাপতির ওপর মেলার আহ্বায়ক মনোয়ার হোসেন তুহিনের লেখা একটি বইও কেনেন।

এবারের মেলায় শিশুদের জন্য চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, প্রজাপতি চেনা প্রতিযোগিতা, ঘুড়ি ওড়ানো, কুইজ, বক্তৃতা, প্রজাপতি বিষয়ক বিতর্ক প্রতিযোগিতা, প্রজাপতির ডকুমেন্টারি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। এদিকে বেলা বারোটায় প্রজাপতি পার্ক ও গবেষণা কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন জাবি উপাচার্য অধ্যাপক ফারাজানা ইসলাম

জাবির প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মনোয়ার হোসেন ১৯৯৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ইসমাইল হোসেনের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রজাপতি নিয়ে প্রথম গবেষণার কাজ শুরু করেন । দীর্ঘদিন গবেষণা করে এ পর্যন্ত ৬৩ প্রজাতির প্রজাপতি শনাক্ত করতে সক্ষম হন তিনি। প্রজাপতি সংরক্ষণ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় প্রজাপতির ভূমিকা তুলে ধরে গণসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০১০ সাল থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে দেশের একমাত্র প্রজাপতি মেলা।

প্রকাশিত : ৬ ডিসেম্বর ২০১৪

০৬/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: