মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

বাগদা চিংড়ির দরপতন

প্রকাশিত : ৬ ডিসেম্বর ২০১৪
  • বাগেরহাটে চাষীরা দিশেহারা

বাবুল সরদার, বাগেরহাট, ৫ ডিসেম্বর ॥ সাদা সোনা খ্যাত বাগদা চিংড়ির দাম অস্বাভাবিক কমে যাওয়ায় বাগেরহাটসহ দক্ষিণাঞ্চলের চিংড়ি চাষীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। বাজারে বাগদা চিংড়ির দাম কেজিতে চার থেকে পাঁচ শ’ টাকা পর্যন্ত কমেছে। একদিকে বাজারে বাগদা চিংড়ির দাম কমে গেছে, অন্যদিকে ডিপো মালিকদের কাছে চাষীরা বাকিতে চিংড়ি বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। ডিপো মালিকরা চাষীদের কাছ থেকে বাকিতে চিংড়ি কেনার কথা স্বীকার করেছে। ফলে চিংড়ির উপর নির্ভরশীল হাজার হাজার চাষী আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তবে বাংলাদেশ হিমায়িত খাদ্য রফতানিকারক এ্যাসোসিয়েশন (বিএফএফইএ) দাবি করেছে আন্তর্জাতিক বাজারে বাগদা চিংড়ির দাম ও চাহিদা কমে যাওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। গত দুই মাস ধরে এ অবস্থা চলছে। কবে নাগাদ চিংড়ির বাজার স্বাভাবিক হবে তা নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিদিন চিংড়ির দাম ওঠানামার বিষয়টি তদারকি করতে চাষীরা মৎস্য বিভাগের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। চিংড়ি চাষী, আড়তদার, ডিপো মালিক ও রফতানিকারকদের সঙ্গে কথা বলে এ সব তথ্য পাওয়া গেছে।

চলতি মৌসুমে বাগদা চিংড়ির বাজারদর (বর্তমানে ১৫ গ্রেড ৮০০ টাকা, যা তিন মাস আগে ছিল ১৩০০ টাকা), ২০ গ্রেড ৭০০ টাকা যা আগে ছিল ১১০০ টাকা, ৩০ গ্রেড ৬০০ টাকা যা আগে ছিল ৮৫০ টাকা, ৪৪ গ্রেড ৪০০ টাকা যা আগে ছিল ৬০০ টাকা এবং ৬৬ গ্রেড ২০০ টাকা যা আগে ছিল ৪৫০ টাকা)।

বাগেরহাট সদর উপজেলার বারাকপুর মৎস্য আড়তে বাগদা চিংড়ি বিক্রি করতে আসা বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার উজলকুড় ইউনিয়নের বড় দূর্গাপুর গ্রামের চিংড়ি চাষী দীপঙ্কর বাড়ৈ বলেন, চলতি মৌসুমে আমি তের বিঘা জমিতে বাগদা চিংড়ির চাষ করেছি। মৌসুমের শুরুতে ঘেরে যে রেণুপোনা ছেড়েছিলাম তা ভাইরাস সংক্রমিত ছিল। পরে আবার নতুন করে পোনা ছাড়ি। সেই পোনায় বাগদা চিংড়ির উৎপাদন ভালই হয়েছে। প্রথম দিকে বাগদা চিংড়ি বারো শ’ টাকা পর্যন্ত কেজি বিক্রি করেছি। সেই চিংড়ি এখন ৬ থেকে ৭ শ’ টাকায় বিক্রি করছি তা আবার বাকিতে। ডিপো মালিকের কাছে বর্তমানে আমার লক্ষাধিক টাকা পাওনা রয়েছে। এ টাকা কবে নাগাদ দিতে পারবে, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিদিন চিংড়ির দাম ওঠানামার বিষয়টি তদারকি করতে তিনি মৎস্য বিভাগের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

ডিপো মালিক ইউসুফ হোসেন বলেন, বাংলাদেশ হিমায়িত খাদ্য রফতানিকারক এ্যাসাসিয়েশন (বিএফএফইএ) দাবি করেছে আন্তর্জাতিক বাজারে বাগদা চিংড়ির দাম ও চাহিদা কমে যাওয়ায় বাজারে বাগদা চিংড়ির দাম কমে গেছে। গত সেপ্টম্বর থেকে নতুন করে কোন শিপমেন্ট হচ্ছে না। গত তিন মাসে আমি চাষীদের কাছ থেকে ত্রিশ লাখ টাকার চিংড়ি বাকিতে কিনেছি। আমি যেমন চাষীদের কাছ থেকে বাকিতে চিংড়ি কিনেছি তেমনি আমিও এজেন্টের কাছে বাকিতে চিংড়ি বিক্রি করেছি। তারা আমার পাওনা টাকা দিলে আমিও চাষীদের পাওনা দিয়ে দেব।

বাগেরহাট জেলা চিংড়ি চাষী সমিতির সভাপতি ফকির মহিতুল ইসলাম বলেন, চিংড়ি উৎপাদনে দেশের অন্যতম জেলা বাগেরহাট। এ জেলার শতকরা সত্তর ভাগ মানুষ এই পেশার সঙ্গে জড়িত। মৌসুমের শুরুতে চিংড়ি ঘেরে ভাইরাস সংক্রমিত হয়। ঘের মালিকরা ভাইরাসের প্রকোপ কাটিয়ে উঠে ঘেরে চিংড়ির উৎপাদন ভাল পায়। ঘেরে উৎপাদিত চিংড়ি মৌসুমের প্রথম দিকে বাজারে দামও পায় আশানুরূপ। কিন্তু তিন মাস আগে হঠাৎ করে বাজারে বাগদা চিংড়ির দাম অস্বাভাবিকহারে কমে যায়। গত তিন মাস আগে চাষীরা যে চিংড়ি ১২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছে তা এখন ৬ থেকে সাত শ’ টাকায় বিক্রি হয়।

প্রকাশিত : ৬ ডিসেম্বর ২০১৪

০৬/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

দেশের খবর



ব্রেকিং নিউজ: