আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৭ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

ভোরে ১৪.৯০, দিনে ঠা-া উধাও কেন?

প্রকাশিত : ৫ ডিসেম্বর ২০১৪

সকালে রীতিমতো ঠা-া। কিন্তু বেলা যত বেড়েছে, ততই গরম অনুভূত হয়েছে। আবহাওয়া দফতর বলছে, ২৮ নবেম্বর ছিল এই বছরের শীতলতম দিন। ডিসেম্বর মাস কেমন যাবে? জবাবে ভারতের আবহাওয়া দফতর বলছে, পরিবেশে জলীয় বাষ্প এখনও যথেষ্ট বেশি। তাই বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শীত উধাও হচ্ছে। কিন্তু রাতে ফের ঠা-া। এই অবস্থা শুধু কলকাতা বা গাঙ্গেয় সমভূমিতেই নয়, পশ্চিমাঞ্চলের তিন জেলা ও উত্তরবঙ্গেও একই পরিস্থিতি।

আবাহওয়া দফতরের তথ্য বলছে, এদিন কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৪.৯ ডিগ্রী সেলসিয়াস। স্বাভাবিকের থেকে তিন ডিগ্রী কম। অন্যদিকে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৯ ডিগ্রী। যদিও কলকাতা থেকে কয়েক ঘণ্টার দূরত্বে ডায়মন্ড হারবারের তাপমাত্রা ছিল ১৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস। তাপমাত্রার এমন তারতম্য কেন? এই প্রশ্নের জবাবে আবহবিদরা বলেছেন, কয়েকদিন ধরে বঙ্গোপসাগরের দক্ষিণ-পূর্বদিকে নিম্নচাপ দেখা যাচ্ছে। এর ফলে বৃষ্টিপাত না হলেও, বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। তথ্য বলছে, এদিন দুপুরে পরিবেশে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ ছিল ৯১ শতাংশ। শীতের পক্ষে যদিও তা অনুকূল নয়। কলকাতার মতোই মালদহ, বহরমপুর, জলপাইগুড়ি, কৃষ্ণনগর, কোচবিহারের তাপমাত্রার হেরফের নজরে এসেছে আবহবিদদের। এদিন উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে তাপমাত্রা ছিল ১৬ ডিগ্রীর কাছাকাছি। তাঁদের কথায়, প্রতিদিনই উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গে তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে কমছে। এদিন দার্জিলিংয়ের তাপমাত্রা ছিল ৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস। স্বাভাবিকের থেকে তিন ডিগ্রী কম।

আগামী কয়েকদিনের মধ্যে রাজ্যে পশ্চিমি ঝঞ্ঝার কোন সম্ভাবনা নেই। ঘূর্ণাবর্ত হবে এমন কোন ইঙ্গিতও নেই। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের কথায়, শীতের সমস্ত উৎপাদন মজুত। কিন্তু হাড়কাঁপানো শীত আসতে এখনও কয়েকটা দিন অপেক্ষা করতে হবে। কারণ উত্তর ভারত থেকে শীতল, শুষ্ক হাওয়া না ঢুকলে হাড় হিম করা শীত অনুভূত হবে না। কাশ্মীরে কয়েকদিন আগে তুষারপাত হয়েছে। তার জেরে উত্তরপ্রদেশে ব্যাপক ঠা-া পড়েছে। কিন্তু গাঙ্গেয় সমভূমিতে শীতের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে জলীয় বাষ্প। তাই বেলা বাড়তেই ফের গরম।

এমন আবহাওয়া স্বাস্থ্যের পক্ষে বিপজ্জনক বলে মনে করেছেন চিকিৎসকরা। সর্দি, কাশি ও ভাইরাল ফিভারের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। কারণ এমন আবহাওয়ার জন্য হঠাৎ করে ব্যাকটিরিয়া সক্রিয় হয়। বিশেষ করে শিশু ও বুড়োদের ক্ষেত্রে এই সময় সতর্কতা অবলম্বন জরুরী।

প্রকৃতি ও বিজ্ঞান ডেস্ক

প্রকাশিত : ৫ ডিসেম্বর ২০১৪

০৫/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: