রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

তরুণদের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছে ক্রেমলিনের

প্রকাশিত : ৫ ডিসেম্বর ২০১৪

তরুণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে সমর্থন অর্জনের চেষ্টা ক্রেমলিনের অনেক পুরনো দিনের রীতি। তবে সম্প্রতি রাশিয়ার রাজনৈতিক ঘটনাবলী শাসকদের তরুণ সমাজ থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে বলে মনে হয়। রাজনীতিকদের চেয়ে পপ তারকারা এখন রুশ তরুণদের কাছে বেশি প্রিয়। খবর ওয়াশিংটন পোস্ট অনলাইনের।

এক দশক আগে সাবেক সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রগুলোতে অগণতান্ত্রিক নেতৃত্ব হটাতে তরুণরা ‘রঙ্গিন বিপ্লবের’ (অরেঞ্জ রেভল্যুশন, রোজ রেভল্যুশন) সূচনা করেছিল। ওই সময়ে ক্রেমলিন জাতীয়তাবাদী তরুণ সংগঠন ‘নাশির’ প্রতি সমর্থন যুগিয়েছিল। কিন্তু ক্রেমলিনের সেই কৌশল এখন বুমেরাং হয়েছে। চলতি বছর গোড়ারদিকে কৃষ্ণসাগরীয় উপদ্বীপ ক্রিমিয়াকে গণভোটের মাধ্যমে নিজের সঙ্গে সংযুক্ত করার পর মস্কো এর ভূখ-গত গুরুত্ব ও ঐতিহাসিক বন্ধন তুলে ধরার জন্য দেশাত্মবোধক কারিকুলাম গ্রহণ করেছিল। ক্রিমিয়াকে সংযুক্তি নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর প্রবল সমালোচনার মুখে রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের সরকার ওই পদক্ষেপ নিয়েছিল। এর কয়েকমাস পর মস্কো যখন জনপ্রিয় ও স্পষ্টভাষী পপ তারকাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে শুরু করল তখন থেকে কর্তৃপক্ষের প্রতি রুশ তরুণদের মনোভাব বদলাতে শুরু করেছে। তরুণরা এখন খোলাখুলিভাবেই বলছে, তারা রাজনীতির সঙ্গে জড়াতে ইচ্ছুক নয় বরং সরকার তাদের প্রজন্মের পপ তারকাদের নিজ স্বার্থে ব্যবহার করছে। আলেক্সি কোর্নেভ নামে ১৯ বছর বয়সী এক ছাত্র বলছিলেন, রাজনীতি নিয়ে আমার কোন মাথাব্যথা নাই। আমার প্রিয় আইডলদের সঙ্গে কর্তৃপক্ষের আচরণ নিয়ে আমি চিন্তিত। এখানে রাজনীতি মুখ্য বিষয় নয়।

রাশিয়ার তরুণ প্রজন্মের ব্যাপক জনপ্রিয় পপ তারকা আইভান আলেক্সিভকে নিয়ে এখন তার ফ্যানরা চিন্তিত। তার গত সাত-আট বছরের পারফরমেন্স তাকে রাশিয়ার সাধারণ মানুষ বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে জনপ্রিয় করে তুলেছে। আলেক্সিভ সাধারণভাবে নয়েজি এমসি নামেই পরিচিত। সরকারের বিরোধিতা করায় তাকে এখন আত্মগোপনে চলে যেতে হয়েছে। এটা যেন সোভিয়েত আমলের ঘটনারই পুনরাবৃত্তি। নয়েজি এমসি যে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ক্রেমলিনবিরোধী প্রচারণায় যোগ দিয়েছেন তা নয়, অনেকটা অনিচ্ছাকৃতভাবে তিনি এতে জড়িয়ে গেছেন। গত সাত-আট বছরের শিল্পী জীবনে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কখনও কখনও তার মতের অমিল হলেও যুক্তিসঙ্গত উপায়ে সমালোচনা করায় সমস্যা তেমন হয়নি। মার্চে ক্রিমিয়াকে রাশিয়ার সঙ্গে সংযুক্তির পর তিনি ছিলেন এ ব্যাপারে অনেকটা নীরব। আগস্টে ইউক্রেনে এক অনুষ্ঠানে গান গাইতে গেলে তিনি সেখানে তার এক ফ্যানের কাছ থেকে ইউক্রেনের পতাকা গ্রহণের পর ক্রেমলিন তার প্রতি ক্ষুব্ধ হয়। এখন কি ঘটে তার ভাগ্যে সেটি নিয়ে উদ্বিগ্ন তার ভক্ত মহল।

প্রকাশিত : ৫ ডিসেম্বর ২০১৪

০৫/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: