কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন ফুটবলাররা

প্রকাশিত : ৫ ডিসেম্বর ২০১৪
  • শেখ জামাল ধানম-ি ক্লাবের কোচ মারুফ

রুমেল খান ॥ বলা হয়ে থাকে ফুটবলে অধিনায়ক কেবল নামেই অধিনায়ক, আসলে তিনি খেটে খাওয়া শ্রমিক ছাড়া কিছুই নন! আসল অধিনায়ক যদি কাউকে বলতে হয়, তাহলে তিনি হচ্ছেন কোচ। তাঁর দিক-নির্দেশনায়, পরিচালনায়-পরিকল্পনায় দলের জয় বা ড্র নির্ধারিত হয়। ফুটবল দলকে যদি একটা জাহাজের সঙ্গে তুলনা করা হয়, তাহলে নিঃসন্দেহে সে জাহাজের ক্যাপ্টেন হচ্ছেন কোচ। শিপ ক্যাপ্টেন এবং ফুটবল কোচের মধ্যে আরেকটি মিল আছে। জাহাজডুবি হলে দায়ী করা হয় ক্যাপ্টেনকে, তেমনি দলের ভরাডুবি ঘটলে বা সাফল্য না ফেলে বলিরপাঁঠা বানানো হয় এ কোচ মহাশয়কেই! সম্প্রতি মারুফুল হকের অধীনে ভুটানে গিয়ে মর্যাদাকর ‘কিংস কাপ’-এর শিরোপা জিতে দেশে ফিরেছে শেখ জামাল ধানম-ি ক্লাব লিমিটেড। ক্লাবের শিরোপা জেতার পেছনে অবশ্যই কৃতিত্ব দেয়া হচ্ছে দলের খেলোয়াড়দের। তবে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পেছনের আসল নেপথ্য রূপকার হচ্ছেন যিনি, তিনি হলেন কোচ মারুফুল হক।

গত মৌসুমের শেষদিকে হাল ধরেছিলেন শেখ জামালের। কোচ হিসেবে এর আগে অনেক শিরোপাই জিতেছেন। কিন্তু এবারই প্রথম বিদেশের মাটিতে এত বড় আন্তর্জাতিক মানের কোন টুর্নামেন্টে নিজ দলকে চ্যাম্পিয়ন করালেন। এ প্রসঙ্গে জনকণ্ঠের সঙ্গে একান্ত আলাপনে ৪৫ বছর বয়সী মারুফুল বলেন, ‘কোচ হিসেবে বিদেশের মাটিতে প্রথম শিরোপা জয়Ñ এতে দারুণ রোমাঞ্চিত। অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। যদিও আমাদের টার্গেই ছিল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার। ক্লাবের সভাপতি মনজুর কাদের সেভাবেই দলগঠন করেছিলেন।’ শিষ্যদের প্রচেষ্টা সম্পর্কে মারুফুলের মূল্যায়ন, ‘তাদের মনোযোগিতা, আত্মত্যাগ, পরিশ্রম করার মানসিকতা, আত্মনিবেদনÑ সবকিছুই ছিল প্রশংসনীয়। বিশেষ করে দুই ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রা এবং সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে সাড়ে আট হাজার ফুট উচ্চতায় খেলা মোটেই সহজ ব্যাপার নয়। তারপরও তারা সেই অসাধ্য সাধন করতে পেরেছে। এ জন্য তাদের ধন্যবাদ।’ ফাইনালের আগে শিষ্যদের কী বার্তা দিয়েছিলেন? ‘এই ট্রফিটা তোমাদের। এটাকে সতর্কভাবে ধরবে, কিভাবে ধরবে, সেটা নির্ভর করছে তোমাদের ওপর। কোনভাবেই অবহেলা বা অমনোযোগী হওয়া যাবে না।’ মারুফুলের ভাষ্য। ফাইনালের প্রতিপক্ষ ভারতীয় ক্লাব পুনে এফসিকে নিয়ে আগেভাগেই প্রয়োজনীয় ‘হোমওয়ার্ক’ করে নিয়েছিলেন মারুফুল, ‘ফাইনালের আগেই আমরা মাঠে বসে ও ভিডিওতে পুনের খেলা দেখেছি। তাদের খেলার ধরন নিয়ে বিশ্লেষণ-গবেষণা করেছি। তাদের বিরুদ্ধে কিভাবে লড়ব, তার পরিকল্পনা সাজিয়ে নিয়েছিলাম আগে থেকেই। মোট কথা, প্রস্তুতি ও আত্মবিশ্বাসের কোন কমতি ছিল না আমাদের।’ সেমিফাইনালে দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ফরোয়ার্ড সোহেল রানা লাল কার্ড পান। ফলে ফাইনালে খেলতে পারেননি তিনি। এতে কী দলের মানসিক শক্তি বা দলীয় শক্তি কিছুটা হলেও কমে গিয়েছিল? ‘মোটেও না।’ দ্বিমত পোষণ করলেন মারুফ, ‘অবশ্যই সোহেল আমাদের অন্যতম সেরা প্লেয়ার। কিন্তু শেখ জামালের শক্তিমত্তা হচ্ছে প্রতিটি পজিশনেই ব্যাকআপ প্লেয়ার থাকা। এই দলে তো নিয়মিত অধিনায়ক মামুনুলও ছিল না। কিন্তু তাতে তো আমাদের শিরোপা জিততে সমস্যা হয়নি।’ তবে ফাইনালে খেলার দ্বিতীয়ার্ধের ৪১ মিনিটে মিডফিল্ডার জামাল ভুঁইয়া লাল কার্ড পেয়ে বহিষ্কৃত হলে অনেক চাপে পড়ে যায় শেখ জামাল। পুনে তো গোল করে সমতায়ও ফিরতে পারত? ‘না, পারত না। কারণ ওরা প্ল্যানিং ফুটবল খেলতে পারছিল না। তাই এ নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন ছিলাম না।’

এই শিরোপা জিতে আসন্ন ফেডারেশন কাপ ও প্রিমিয়ার লীগের জন্য নিজেদের ভালমতোই ঝালিয়ে নিল শেখ জামাল। এ প্রসঙ্গে মারুফুলের অভিমত, ‘মনজুর কাদের মৌসুম শুরুর অনেক আগেই লক্ষ্য নির্ধারণ করে দিয়েছেনÑ আমাদের প্রতিটি শিরোপাই জিততে হবে। কিংস কাপে তিনি আমাকে কোচিংয়ের ক্ষেত্রে শতভাগ স্বাধীনতা দিয়েছেন। এ জন্য তাঁর কাছে আমি কৃতজ্ঞ।’ গত মৌসুমে প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে দলগঠন করেছিল শেখ জামাল। এবারের এ দলটি নিয়ে কী মারুফুল সন্তুষ্ট? না কি অন্য কোন ক্লাব থেকে বা বিদেশ থেকে আরও নতুন প্লেয়ার নেবেন? ‘যতদূর জানি, ফরোয়ার্ড পজিশনে এক বা একাধিক বিদেশী প্লেয়ার নেয়া হবে। তবে এর চেয়ে আর বেশি কিছু এখনই জানাতে চাই না।’ মারুফুলের জবাব। বুয়েটের ফিজিক্যাল এডুকেশন ডিপার্টমেন্টের শিক্ষক মারুফুল ফুটবলার হিসেবে ক্যারিয়ার না গড়লেও ফুটবল কোচ হিসেবে গড়ছেন উজ্জ্বল ক্যারিয়ার। ময়মনসিংহে জন্ম নেয়া মারুফুলের কোন আদর্শ কোচ না থাকলেও পছন্দ করেন জোসে মরিনহোর ট্রেনিং, পেপ গার্ডিওলার ডেডিকেশন, আর্সেন ওয়েঙ্গারের ট্যাকটিক্স ও স্যার এ্যালেক্স ফার্গুসুনের মোটিভিশন। বাংলাদেশের সাইফুল বারী টিটু, আবু ইউসুফ ও শফিকুল ইসলাম মানিকের কোচিংও ভাল লাগে তাঁর। একসময় আগ্রহী হলেও এখন আর বিভিন্ন তিক্ত অভিজ্ঞতার জন্য বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের কোচ হওয়ার স্বপ্ন দেখেন না। করেছেন এএফসি ‘এ’ এবং ইউফো ‘এ’ লাইসেন্স কোচিং কোর্স। ভবিষ্যতে করতে চান ইউফো ‘প্রো’ লাইসেন্স কোচিং কোর্স।

প্রকাশিত : ৫ ডিসেম্বর ২০১৪

০৫/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

খেলার খবর



ব্রেকিং নিউজ: