মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

বাউল শুধু গান নয়, এটা জীবনদর্শন -প্রভাতী বাউল

প্রকাশিত : ৪ ডিসেম্বর ২০১৪

তিনি একাধারে গান করেন, চিত্রশিল্পী এবং গল্প কথক। পশ্চিম বাংলার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে পরিচিত মুখ। ছোটবেলা থেকেই গান এবং নাচের ওপর পড়াশোনা করেছেন কবি গুরুর প্রতিষ্ঠিত শান্তিনিকেতনে। তবে তিনি সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট লালনসঙ্গীতের প্রতি। তিনি একই সঙ্গে দুটি বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে ছন্দের তালে তালে যখন লালন গান করেন তখন ভাবরসে মোহাবিষ্ট হয়ে উঠেন তাবৎ শ্রোতা। তিনি সুপরিচিত লালন গানের ঐতিহ্যবাহী পুরনো ধারাকেই লালন করেন এবং সেই মতেই চর্চা করেন। তিনি বাউলদের ব্যবহৃত বাদ্যযন্ত্র ডুগি, একতারা এবং নূপুর ব্যবহার করেন গানের সময়ে। গুরু পর¤ণ্ঠরায় এই ঐতিহ্য তিনি বহন করছেন সনাতন দাস বাউল এবং শ্রী শশাঙ্ক দাস বাউলের কাছ থেকে। বাংলাদেশের চট্টগ্রামের বাস করতেন তাঁর পূর্ব পুরুষরা। যদিও তিনি ১৯৭৬ সালে আসামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। পরে আসামের রাজনৈতিক পরিস্থিতি খারাপ হয়ে যায় এবং দাঙ্গা শুরু হলে তাঁর ছয় বছর বয়সে তাদের পরিবারকে পশ্চিম বাংলায় পাঠিয়ে দেয়া হয়। অচিরেই গানের এবং নাচের প্রতি তাঁর আগ্রহ থেকে তাকে কত্থক এবং গানের তালিমের জন্য জগদীশ শর্মা ও সত্যবৃতা রায় এবং নাচের জন্য শ্রী লেখা মুখোপাধ্যায়ের কাছে পাঠান। কিন্তু সেই সময়ের গুরুশিষ্য পর¤ণ্ঠরার ‘দাসভিত্তিক ব্যাপার-স্যাপার’ খুব একটা পছন্দ হয়নি প্রভাতীর। তিনি বীরভূম, বাকুড়া এবং বোলপুরের বাউল সাধকদের দ্বারা আকৃষ্ট হন। একদিন ট্রেনে এক অন্ধ বাউলের গান শুনে খুবই আকৃষ্ট হন। সেই অন্ধ বাউল গান গেয়ে ভিক্ষে করছিলেন। ভাইপদ তরুণ দাস বাউল ছিলেন এই ঘরানার গানে তাঁর প্রথম ওস্তাদ। একজন ব্রাহ্মণের মেয়ে ট্রেনে একতারা বাজিয়ে বাউল গান করছে এটা তার পরিবার মেনে নেয়নি। তাকে স্কুল থেকেও বহিষ্কার করা হয়। একদিন তিনি শুনতে পান আশি বছর বয়সী বাউল সনাতন দাস লাধাকে নিয়ে কবিতা আবৃত্তি করছেন।২০০০ সাল থেকেই বাউল গান নিয়ে পৃথিবীর নানা প্রান্তে ঘুরে বেড়িয়েছেন প্রভাতী বাউল এবং ছড়িয়ে দিয়েছেন লালন গানের আধ্যাত্মিকতাবাদ। দেশের মধ্যে সব বড় বড় বাউল আসর এবং সুফি উৎসবে তিনি অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি দিল্লীর আধ্যাত্মিক সাধক হযরত এনায়েত খানের ওরসেও গান গেয়েছেন। যা কিনা একজন নারী সঙ্গীতজ্ঞের জন্য বিরল সম্মান। ২০০১ সালে তিনি ফ্রান্সের মর্যাদাপূর্ণ আসর ‘ম্যাসন দ্যু কারচার দ্যু মন্ডে ইন প্যারিস’ থেকে অংশগ্রহণের ডাক পান। তিনি সেখানে তাঁর একক সঙ্গীত উপস্থাপনা করেন। প্রত্যেক বছর তিনি বাংলার বিভিন্ন গ্রামে বাউল উৎসবে অংশগ্রহণ করেন। তবে এত কিছুর মধ্যেও নিজের ছবি আঁকা এবং গল্প কথন কিন্তু তিনি ভুলে যাননি। ২০০৩ সালে তিনি মুঘল আমলের ‘হামজা নামা’ অঙ্কিত ছবির সঙ্গে এক নতুন ধরনের গল্প বলার রীতির প্রবর্তন করেন। নিজে রাধা ভাবকে নিয়ে এঁকেছেন নয় খ-ের বিশাল চিত্রকর্ম। যার মধ্য দিয়ে তিনি রাধার গল্প বলতে চেয়েছেন। বাউলসঙ্গীত নিয়ে বলতে গিয়ে তিনি বললেন, ‘বাউল সঙ্গীতের সৌন্দর্য হচ্ছে এটি জীবনের সাধারণ কিছুকে খুব অসাধারণভাবে উপস্থাপন করে।

খুব সাধারণ ভাষায় ভালবাসাকে প্রকাশ করা খুব কঠিন কাজ।’ জীবনকে একটি ভ্রমণ বলে মনে করেন তিনি এবং এই ভ্রমণের মধ্য দিয়ে জীবনের নিগূঢ় সত্যটাকে আবিষ্কার করতে চান তিনি। এগিয়ে চলুক বাউল সাধনায় প্রভাতী বাউলের পথচলা।

প্রকাশিত : ৪ ডিসেম্বর ২০১৪

০৪/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: