মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘন যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ দাঙ্গা

প্রকাশিত : ৩ ডিসেম্বর ২০১৪
ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘন যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ দাঙ্গা

বিশ্বব্যাপী মানবাধিকারের সবক দেয়া দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজ ভূমিতেই বর্ণবাদের মতো জঘন্য অপরাধের বিচার করতে ব্যর্থ। মানবাধিকারের বুলি আওড়ানো সম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্রটির যে কেবল ছড়ি ঘোড়ানোর একটি কৌশল, তা আবারও প্রমাণিত হলো। সম্প্রতি ফার্গুসনের হত্যাকা- এবং অভিযুক্ত পুলিশ অফিসারের দায়মুক্তি, এ ধারাবাহিকতার ফসল। এ ঘটনার মাধ্যমে আবারও প্রতীয়মান হলো, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই বিশ্বের এক নম্বর মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী দেশ, হোক তা স্বদেশ কিংবা বিদেশ।

প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ক্ষমতায় আসার পর ধারণা করা হয়েছিল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কৃষাঙ্গ নাগরিকদের নাগরিক সুরক্ষা বৃদ্ধি পাবে। রাষ্ট্রের প্রতিটি ক্ষেত্রে বর্ণবাদের মতো ঘটনা হ্রাস পেয়ে এগিয়ে যাবে বর্ণবাদহীন সমাজে। দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিকের তকমা মুছে কালো মানুষদেরও রাষ্ট্র সর্বাঙ্গে নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। কিন্তু ফার্গুসনের এ ঘটনা সব মিথ্যা প্রমাণিত করল। একে একে উন্মোচিত হলো বর্ণবাদের জঘন্য সব ঘটনা। কৃষ্ণাঙ্গদের প্রতি পুলিশের বৈষম্যমূলক আচরণের চিত্র পাওয়া যায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অব জ্যাস্টিস স্ট্যাটিস্টিকসের এক পরিসংখানে। সে প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০০৩ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত গ্রেফতার সংশ্লিষ্ট হত্যাকা-ের যে দুই হাজার ৯৩১টি ঘটনা ঘটে, তার শিকার ৩২ শতাংশ কৃষ্ণাঙ্গ। অথচ মার্কিন জনসংখ্যার মোট ১৩ শতাংশ হলো কালো। মার্কিন বিচার বিভাগের এক প্রতিবেদনের মাধ্যমে জানা যায় কৃষ্ণাঙ্গ ও হিসপানিকরা শ্বেতাঙ্গদের তুলনায় তিনগুণ বেশি পুলিশ তল্লাশির শিকার হন। শুধু তাই নয়, প্রতি তিনজন কৃষ্ণাঙ্গের একজনের কারাগারে যাওয়ার অভিজ্ঞতা হয়। অথচ শ্বেতাঙ্গ নাগরিকদের ক্ষেত্রে তা নানা অধিকারের মোড়কে বাধা থাকে।

গত ৯ আগস্ট কৃষ্ণাঙ্গ তরুণ মাইকেল ব্রাউন শ্বেতাঙ্গ পুলিশ অফিসার ড্যারেন উইলসনের গুলিতে নিহত হন। পুলিশ বলছে, ঘটনার দিন মাইকেল ব্রাউন স্থানীয় এক দোকান থেকে সিগারেট নিয়ে দাম না দিয়ে বেরিয়ে যায়। তখন ডাক পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তাদের দাবি, ব্রাউন নিরস্ত্র থাকলেও পুলিশের প্রতি আক্রমণাত্মক আচরণ করেছিলেন। এমনকি উইলসনের অস্ত্র কেড়ে নিতেও উদ্যত হন। পুলিশ অফিসার উইলসন আত্মরক্ষার্থেই নাকি ব্রাউনকে গুলি করেন!

কিন্তু বিনা প্রয়োজনে গুলি করার অভিযোগে ফার্গুসনেব এলাকাবাসী তখনই এ নিয়ে ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। ব্রাউন বর্ণবাদী আচরণের শিকার, এমনটা প্রচার হওয়ার অল্পসময়ের মধ্যে এ আগুন ছড়িয়ে পড়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনেক শহরে। স্থানীয় সেন্ট লুইস কাউন্টির গ্র্যান্ড জুড়ির ওপর দায়িত্ব পড়ে এ অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের। কিন্তু জুড়ি বোর্ড পুলিশ সদস্য ড্যারেন উইলসনকে অভিযুক্ত না করে দায়মুক্তি দেয়। রায় প্রকাশ হওয়ার পর আবারও উত্তপ্ত হয়ে পড়ে মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের ফার্গুসন শহরতলী। ভাংচুর-লুটপাটের পাশাপাশি পুলিশের গাড়ি ও বেশ কয়েকটি বাড়ি পুড়িয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা। পাশাপাশি পুলিশকে গুলি করার মতো ঘটনাও ঘটে।

ফার্গুসন থেকে কৃষ্ণাঙ্গদের এ ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়ে দেশটির অন্যান্য শহরে। পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের থেমে থেমে সংঘর্ষ হয়। ফার্গুসনের মতো অধিকাংশ কৃষ্ণাঙ্গ নগরে বর্ণবাদী আচরণ নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনা। কৃষ্ণাঙ্গ অধ্যুষিত হলেও, সেখানকার পুলিশের কর্মী বাহিনীতে স্বেতাঙ্গরা সংখ্যায় বেশি হওয়ার ফলে এ ধরনের ঘটনার কোন, সুবিচার পায় না কৃষ্ণাঙ্গ নাগরিকরা। ফলে প্রশাসনের সর্বস্তরেই রয়ে গেছে এমন নিমর্মতা। তবে সর্বশেষ খবর হলো, সংশ্লিষ্ট পুলিশ অফিসারটি অবসরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে নেন।

চলমান ডেস্ক

প্রকাশিত : ৩ ডিসেম্বর ২০১৪

০৩/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: