আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৭ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

বিশ্বকাপের অনুপ্রেরণা!

প্রকাশিত : ৩ ডিসেম্বর ২০১৪
বিশ্বকাপের  অনুপ্রেরণা!
  • তিন টেস্ট ও পাঁচ ওয়ানডেতে জিম্বাবুইয়েকে হারিয়ে উজ্জীবিত টাইগাররা

রোকসানা বেগম ॥ বাংলাদেশের বিপক্ষে একটি করে ম্যাচ খেলছে আর হারছে জিম্বাবুইয়ে। হারতে হারতে এমনই অবস্থা হয়েছে, টানা ৮টি ম্যাচই হেরে গেছে। টেস্টে টানা তিন ম্যাচে হেরেছে। এরপর ওয়ানডেতেও টানা পাঁচ ম্যাচে হেরেছে। টেস্টের পর ওয়ানডেতেও হোয়াইটওয়াশ হয়েছে। এমন বাজে নৈপুণ্য এর আগে কখনোই দেখায়নি জিম্বাবুইয়ে। বাংলাদেশও কী এর আগে কখনো এমন দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়েছে?

কখনোই না। টেস্ট সিরিজ জেতার পর ওয়ানডে সিরিজ জিতে নেয়ার রেকর্ড আছে। তবে তিন টেস্ট, ৫ ওয়ানডে ম্যাচের সিরিজ টানা খেলেইনি বাংলাদেশ। তাই এমন সাফল্য কখনও নিজেদের ইতিহাসে যুক্ত করার সুযোগও হয়নি। এবার হয়েছে। সেই সুযোগ কাজেও লাগিয়েছে বাংলাদেশ।

এর আগে অবশ্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের পর তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজেও হোয়াইটওয়াশ করার স্বাদ পায় বাংলাদেশ। তবে সেই সিরিজ জয়ে এখনও ওয়েস্ট ইন্ডিজ ‘দুর্বল’ দল ছিল, সেই লোগো লেগেই আছে। এবার আর বলার অপশন নেই যে জিম্বাবুইয়ে দুর্বল দল। জিম্বাবুইয়ের এই সময়ের সেরা দলটিকেই বাংলাদেশ হারিয়েছে।

ঢাকায় প্রথম টেস্টে ৩ উইকেটে জেতার পর খুলনায় দ্বিতীয় টেস্টেও ১৬২ রানে জিতে বাংলাদেশ। টেস্ট সিরিজ জয় করে নেয়। কেউ ভাবেনি জিম্বাবুইয়েকে তিন টেস্টের সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করবে বাংলাদেশ। বিশ্ব সেরা টেস্ট অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানই যেমন বলেছিলেন, ‘জিম্বাবুইয়েকে তিন টেস্টেই হারিয়ে দেব, কেউ ভাবেনি।’ কিন্তু তৃতীয় টেস্টে গিয়ে চট্টগ্রামে তাই ঘটেছে। এবার জয়টি আরও বড় হয়েছে। ১৮৬ রানে জিতে জিম্বাবুইয়েকে হোয়াইটওয়াশ করে বাংলাদেশ। প্রথমবারের মতো তিন টেস্টের সিরিজে বাংলাদেশের কাছে হোয়াইটওয়াশ হয় জিম্বাবুইয়ে।

টেস্টের এ বিশাল আকারের জয় ওয়ানডেতেও টনিক হিসেবে কাজ করে। এক এক করে পাঁচটি ওয়ানডেতেই জিম্বাবুইয়েকে হারিয়ে দেয় বাংলাদেশ। ২০০৬ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো জিম্বাবুইয়েকে কষ্টে পোড়ায় বাংলাদেশ। যে ইতিহাস এখন পর্যন্ত বাংলাদেশকে হারিয়ে রচনা করতে পারেনি জিম্বাবুইয়ে। বাংলাদেশ সেই কাজটি দুইবার করে ফেলল।

টেস্টে জিম্বাবুইয়েকে হোয়াইটওয়াশ করতেই ওয়ানডেতেও তা করা সম্ভব, সেই বিশ্বাস সবার ভেতর ঢুকে যায়। কিন্তু ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা সেই বিশ্বাসে বিশ্বাসী ছিলেন না। তার একটাই কথা, ‘আমরা ম্যাচ বাই ম্যাচ এগিয়ে যাব। প্রথমে সিরিজ জিততে চাই। এরপর যা হয় দেখা যাবে।’ প্রথম ওয়ানডেতে ৮৭ রানের জয় পেয়ে যায় বাংলাদেশ। এরপর চট্টগ্রামেই দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও ৬৮ রানের জয় তুলে নেয়। সিরিজ জয় করতে বাকি থাকা ৩টি ম্যাচের যে কোন একটিতে জিতলেই হতো। ঢাকায় তৃতীয় ওয়ানডেতেই ১২৪ রানের বড় ব্যবধানে জিতে ওয়ানডে সিরিজও জিতে নেয় বাংলাদেশ। যখন ওয়ানডে সিরিজ জয় হয়ে যায়, তখন হোয়াইটওয়াশের স্বপ্ন আরও ডানা বাঁধে।

এনামুল হক বিজয় তো বলেই ফেলেন, ‘৩-০ হয়ে গেছে। এখন ৫-০ হওয়া সম্ভব।’ মাশরাফি চতুর্থ ওয়ানডের আগেও হোয়াইটওয়াশ শব্দটি মুখ দিয়ে বের করতে রাজি হননি। আবারও তার কথা, ‘আমি প্রতিটি ম্যাচ হিসেব করেই এগিয়ে যেতে চাই।’ চতুর্থ ওয়ানডেতেও বাংলাদেশ জিতে যায়। তবে এবার জয়টি একটু কষ্ট করেই আদায় করে নিতে হয়। ২১ রানে জয় আসে। এখন কী আর মাশরাফি না বলে পারেন, ‘হোয়াইটওয়াশ সম্ভব।’ তাই বলেছেন ওয়ানডে অধিনায়ক। এবার মাশরাফির কণ্ঠে হোয়াইটওয়াশের সুর, ‘বাকি আর একটি ম্যাচ। এবার ৫-০ না বলে আর কিই বা করার আছে। আশা করি আমরা তা করতে পারব।’ তাই হলো। পঞ্চম ও শেষ ওয়ানডেতে জিম্বাবুইয়েকে ৫ উইকেটে হারিয়ে দিয়ে হোয়াইটওয়াশ করল বাংলাদেশ। এমন নৈপুণ্য বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে। এ আত্মবিশ্বাস নিয়েই এখন দল বিশ্বকাপে খেলতে যেতে পারবে। বিশ্বকাপে যাওয়ার আগে ক্রিকেটাররা হয়ত ঢাকা লীগ খেলবেন। কিন্তু দেশের মাটিতে নয়, অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে গিয়ে খেলাই দলের জন্য সবচেয়ে উপকার হবে। এজন্য এক মাসের বেশি সময় আগেই অস্ট্রেলিয়ায় চলে যাবে দল। আর আইসিসি যে প্রস্তুতি ম্যাচের ফিক্সশ্চার দিয়েছে, সেই হিসেবে পাকিস্তান ও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলারও সুযোগ থাকছে বাংলাদেশের। তবে বাংলাদেশ দল এখন সিরিজ জয়ের উৎসব করবে কয়েকটা দিন। বিশ্রামেও থাকবে। টানা সেই অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই ক্রিকেটের মধ্যে আছেন ক্রিকেটাররা। এখন একটু বিশ্রাম দরকার। সেই বিশ্রাম পাচ্ছেও।

এমন সিরিজ জয়ে মাশরাফি ভীষণ খুশি। বলেছেন, ‘খুবই আনন্দ লাগছে।’ তবে স্বাভাবিকভাবেই যা হওয়ার কথা, তাই হয়েছে। জিম্বাবুইয়ে অধিনায়ক এলটন চিগুম্বুরা ভীষণ হতাশ। বললেন, ‘সিরিজটি খুবই হতাশার গেছে। বিশেষ করে বিশ্বকাপের আগে এমন সিরিজ কাম্য নয়। বোলাররা পুরো সিরিজজুড়েই ভাল করেছে। কিন্তু ব্যাটসম্যানরা সেই কাজ করতে পারেনি। বিশ্বকাপের আগে এখন ভুলগুলো শুধরে নিতে পারলেই হয়।’ মাশরাফির খুশি হওয়ার আরও কারণ আছে। ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হোয়াইটওয়াশ করে বাংলাদেশ। মাশরাফি অধিনায়ক থেকেও ইনজুরির জন্য হোয়াইটওয়াশে নেতৃত্ব দিতে পারেননি। ২০১০ সালেও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে একই অবস্থা হয় মাশরাফির। বাংলাদেশ ৫ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ৪-০’তে জিতে। কিন্তু মাশরাফি অধিনায়ক থাকলেও এক ম্যাচের বেশি খেলতে পারেননি। এবার তার হাত ধরেই হোয়াইটওয়াশের স্বাদ নিয়েছে বাংলাদেশ। তাই মাশরাফিও ভীষণ খুশি। ২০০৬ সালে জিম্বাবুইয়েকে বাংলাদেশ প্রথমবার ৫-০ ব্যবধানে হাবিবুল বাশারের নেতৃত্বে হারায়। এরপর নেতৃত্বে মাশরাফিই কেবল ৫ ম্যাচের সিরিজে সব ম্যাচ হয়েছে এমন সিরিজে প্রতিপক্ষকে হোয়াইটওয়াশ করার কৃতিত্ব গড়েন। মাশরাফির নেতৃত্বে যেমন ওয়ানডে সিরিজে জিম্বাবুইয়েকে হোয়াইটওয়াশ করার কৃতিত্ব গড়েছে বাংলাদেশ, মুশফিকের নেতৃত্বেও কিন্তু প্রথমবারের মতো তিন টেস্ট ম্যাচের সিরিজে জয় পায় বাংলাদেশ। মুশফিকও তাই ভীষণ খুশি। বলেছেন, ‘বছরজুড়ে আমরা অনেক কষ্ট করেছি। তার সুফল পেয়েছি।’

সত্যিই তাই। বছরজুড়ে টেস্ট, ওয়ানডেতে শুধুই হেরেছে বাংলাদেশ। বছরের শেষ সময়ে এসে ‘শেষ ভাল যার, সব ভাল তার’ এ কথার যথার্থ প্রয়োগ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। জিম্বাবুইয়েকে টেস্টে ও ওয়ানডেতে হোয়াইটওয়াশ করেছে। শুধু কী তাই, সিরিজজুড়ে ব্যবধান হিসেব করলে দাঁড়ায়, বাংলাদেশ ৮-০ জিম্বাবুইয়ে।

প্রকাশিত : ৩ ডিসেম্বর ২০১৪

০৩/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: