মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

চট্টগ্রামে ৬৮ কার্গো জাহাজ থেকে পণ্য খালাস বিঘ্নিত

প্রকাশিত : ৩ ডিসেম্বর ২০১৪
  • লাইটারিং শ্রমিক ধর্মঘট

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ সদরঘাট ও বাংলা বাজার লাইটারিং ঘাটে শ্রমিকদের ধর্মঘটে আমদানি করা পণ্য হ্যান্ডলিং মঙ্গলবার সকাল থেকে আবার আংশিক চালু হয়েছে। শ্রমিকদের একাংশ ১৬টির মধ্যে ৪টি ঘাটে পুরোদমে কাজ শুরু করেছে। আরও কয়েকটি ঘাট এবং গুদামে বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে ঘাট ও গুদাম শ্রমিকরা। তবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বিবদমান দু’পক্ষ ঘাট শ্রমিকদের মধ্যে সমঝোতার উদ্যোগ নেয়া হলেও তা ফলপ্রসূ হয়নি। এতে ৬৮টি পণ্যবাহী কার্গো জাহাজ থেকে আমদানি করা পণ্য হ্যান্ডলিং বিঘিœত হচ্ছে। জানা যায়, মজুরি বৃদ্ধিসহ ৯ দফা দাবিতে ঘাট শ্রমিকদের একাংশ রবিবার থেকে আসস্মিক ধর্মঘট শুরু করে। কিন্তু এ ধর্মঘটে যোগ দেয়নি শ্রমিকদের অপর একটি অংশ। লাইটার জাহাজ মালিকরাও এ ধর্মঘটে যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। সোমবার দু’পক্ষ মুখোমুখি হলে সদরঘাট, মাঝিরঘাট এবং বাংলাবাজারের ১৬টি বেসরকারি ঘাটই একযোগে বন্ধ হয়ে যায়। মঙ্গলবার সকাল থেকে আরবঘাট, ফোমল্যান্ড ঘাট, আদম ঘাট এবং কর্ণফুলী ঘাটে স্বাভাবিকভাবে গম ও ডাল হ্যান্ডলিং শুরু হয়। লাইটার জাহাজ থেকে এসব পণ্য ঘাটের গুদাম এবং ট্রাকে হ্যান্ডলিং করা হয়েছে। আরও কয়েকটি ঘাটে শ্রমিকরা বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে। অন্যদিকে, শ্রমিকদের সঙ্গে সমঝোতার জন্য চট্টগ্রাম চেম্বার ও স্থানীয় পর্যায়ে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তবে সন্ধ্যা পর্যন্ত ফলপ্রসূ কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে সিংহভাগ ঘাটে তিন দিন ধরে জাহাজ থেকে কার্গো হ্যান্ডলিং বন্ধ রয়েছে।

অনুসন্ধান নিয়ে জানা যায়, লাইটার জাহাজ থেকে ক্রেনের হুক পয়েন্টে হ্যান্ডলিং এবং গুদামজাত ও ট্রাকে পণ্য নামানোর ক্ষেত্রে বস্তাপ্রতি ৪ টাকা হারে দীর্ঘদিন মজুরি পেত। গত বছর শ্রমিকদের আন্দোলনের মুখে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও চেম্বারের সাবেক সভাপতি এমএ লতিফের মধ্যস্থতায় মজুরি দ্বিগুণ বাড়িয়ে ৯ টাকায় উন্নতী করে। বর্তমানে শ্রমিকরা এ মজুরি ৫০ ভাগ বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে আসছে। গত বছর মজুরি নিয়ে সমঝোতা বৈঠকে পরবর্তীতে ২০ ভাগ বৃদ্ধির প্রস্তাব ছিল। লাইটার জাহাজ হ্যান্ডলিং অপারেটর ও মালিকরা অভিযোগ করেছেন, সদরঘাট ও বাংলা বাজারের লাইটার জেটিঘাট থেকে আমদানি করা ডাল, গম, টিএসপি ও এমওপি সার পরিবহনের ক্ষেত্রে ক্রেন ব্যবহার হওয়ায় শ্রমিকদের কায়িক শ্রম হ্রাস পেয়েছে। অপারেটরদের ক্রেনের জন্য অতিরিক্ত ব্যয় করতে হয়। কিন্তু সদরঘাট ও বাংলাবাজারের একশ্রেণীর শ্রমিক নামধারী অপরাধী চক্র ট্রাকপ্রতি ১৮শ’ টাকা করে বকশিস আদায় করছে। তার উপর মজুরি বৃদ্ধি করলে পণ্যমূল্যের ক্ষেত্রে মারাত্মক প্রভাব পড়বে। এ নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যেও বিভক্তি রয়েছে।

প্রকাশিত : ৩ ডিসেম্বর ২০১৪

০৩/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: