কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

সঙ্গীতানুরাগী চিত্রশিল্পী কাইয়ুম চৌধুরীর চলে যাওয়া

প্রকাশিত : ২ ডিসেম্বর ২০১৪
সঙ্গীতানুরাগী চিত্রশিল্পী কাইয়ুম চৌধুরীর চলে যাওয়া

মনোয়ার হোসেন ॥ রং-তুলির আঁচড়ে সৃষ্টির বিভায় জীবনভর শিল্পানুরাগীদের মন রাঙিয়েছেন কাইয়ুম চৌধুরী। উল্টো দিকে শিল্পী তাঁর আপন মননের খোরাক মিটিয়েছেন সুরের ধারায় অবগাহন করে। সঙ্গীতের মায়াজালে বিমোহিত হতে ভীষণ ভালবাসতেন এই বরেণ্য ও পথিকৃৎ শিল্পী। বলতে গেলে গান শোনাটা ছিল এই চিত্রকরের নিয়মিত অভ্যাস। বিভোরতার সন্ধানে কাজের ফাঁকে ঘরে বসে সুরের মূর্ছনায় আবিষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ছুটে যেতেন সঙ্গীতাসরে। শ্রবণ ইন্দ্রিয়ের সুখময়তায় ভাসিয়ে দিতেন নিজেকে। সে কথারই প্রমাণ মেলে সঙ্গীতের মহাযজ্ঞ বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসঙ্গীত উৎসবের তাঁর উপস্থিতিতে। দর্শক ও শিল্পীর সংখ্যা এবং অনুষ্ঠানের ব্যাপ্তির বিবেচনায় বিশ্বের সর্ববৃহৎ এই ধ্রুপদী সঙ্গীতাসরে নিয়মিত শ্রোতা ছিলেন তিনি। এ উৎসবের আগের দুটি আসরেও প্রতিটি রাতেই সুর-তাল ও লয়ের আস্বাদন নিতে হাজির হয়েছেন অনুষ্ঠান প্রাঙ্গণে। এবারের পঞ্চরজনীর সঙ্গীত সম্মেলনেও নিয়মিত ছিলেন এই বিশিষ্ট শ্রোতা। রবিবার উৎসবের চতুর্থ রজনীর উদ্বোধনী অধিবেশনে উপস্থিত হয়েছিলেন বিশেষ অতিথির মর্যাদায়। বলেছিলেন শিল্প ও সাহিত্যের প্রতি আপন অনুরাগের। এসব বিষয়ে নিজের ভাবনার কথা বলে শেষ করেছিলেন বক্তব্য। এরই মাঝে মঞ্চে চলে আসেন এ উৎসবের উদ্বোধক শিক্ষাবিদ আনিসুজ্জামান। তবে কথা শেষ করেও আবার কিছু একটা বলতে ফিরে আসছিলেন ডায়াসে। মাইকের কাছে এসে কিছু একটা বলতে চাইলেন। কিন্তু অন্তিম সেই কথাটি আর বলতে পারলেন না। মাথা ঘুরে লুটিয়ে পড়লেন মঞ্চে। সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেয়ার পর জানা গেল আগেই তাঁর প্রয়াণ ঘটেছে। অর্থাৎ সঙ্গীতাসরের মঞ্চেই মৃত্যুবরণ করেছেন সঙ্গীতপিপাসু এই চিত্রশিল্প। বলা যায় শিল্পতীর্থ থেকেই পৃথিবীকে বিদায় জানালেন শিল্পী।

সঙ্গীতের এই মহাযজ্ঞে বিপুলসংখ্যক শ্রোতার উপস্থিতি দেখে বিস্মিত হয়েছিলেন কাইয়ুম চৌধুরী। নিজের তৃপ্তির কথা উচ্চারণ করে বলেন, শ্রোতাদের বিপুল উপস্থিতি আমাকে মুগ্ধ করেছে। আগামীর আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছিলেন, এ দেশের উচ্চাঙ্গসঙ্গীতচর্চা একদিন উচ্চশিখরে উঠবে। তবে সেদিন হয়তো তিনি থাকবেন নাÑএই শংকার প্রকাশর তাঁর উচ্চারণে। বলেন, আমি বেঁচে থাকতে হয়তো সেই অবস্থা দেখতে পারবো না। ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ, বাহাদুর হোসেন খাঁ, ফুলঝুঁরি খাঁরা এদেশেই ধ্রুপদী সঙ্গীতচর্চার সূচনা করেছিলেন। তবে পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে তাঁরা ভারতে পাড়ি জমিয়েছিলেন। চারুশিল্পের সঙ্গে সঙ্গীতের গভীর সম্পর্কে প্রসঙ্গে বলেন, একসময় আর্ট কলেজে আব্দুল আলীম, মমতাজ উদ্দিন, কানাইলাল শীল বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান শোনাতেন।

প্রকাশিত : ২ ডিসেম্বর ২০১৪

০২/১২/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: