রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

লতিফ সিদ্দিকী অজ্ঞাত স্থানে- দিনভর নানা গুঞ্জন ॥ গোয়েন্দা জালে!

প্রকাশিত : ২৫ নভেম্বর ২০১৪
  • দেশে ফেরা নিয়ে তোলপাড়
  • ইসলামপন্থী কয়েকটি দলের আল্টিমেটাম, হরতালের ডাক
  • স্পীকার ও স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর পরস্পরবিরোধী বক্তব্য

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর দেশে ফেরা নিয়ে তোলপাড় চলছে। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে পবিত্র হজ ও তাবলীগ জামাত নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করায় সারা দেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছিল। সোমবার রাতে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বহুল আলোচিত লতিফ সিদ্দিকীর অবস্থান সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য মেলেনি। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরের মধ্যেই তিনি রয়েছেন বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। যে কোন সময় তাঁকে গ্রেফতার করা হতে পারে। স্পীকারের অনুমতির জন্য রবিবার রাতে বিমানবন্দরে লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেফতার করা যায়নি বলে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল মন্তব্য করলেও তাঁকে গ্রেফতার করতে কোন প্রকার অনুমতি প্রয়োজন নেই বলে জাতীয় সংসদের স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী জানিয়েছেন। স্পীকারের এই বক্তব্যের পর বিতর্কিত এই সাবেক মন্ত্রীকে গ্রেফতারে আর কোন বাধাই থাকল না। লতিফ সিদ্দিকীকে নিয়ে জাতীয় সংসদেও তুমুল বিতর্ক হয়েছে।

লতিফ সিদ্দিকী ছিল সোমবারের টক অব দ্য কান্ট্রি। সারাদিন তাঁকে নিয়ে হয়েছে নানান জল্পনা কল্পনা। কখনও চাউর হয়েছে, তিনি জামিনের জন্য হাইকোর্টে গেছেন। আবার কখনও শোনা গেছে, তাঁর গ্রেফতার হওয়ার খবর। তাঁকে নিয়ে রাজনীতিতে নেমেছে বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলো। তাকে গ্রেফতারের আল্টিমেটাম দিয়ে কর্মসূচী দিয়েছে ইসলামপন্থী কয়েকটি দল। আগামী বুধবারের মধ্যে গ্রেফতার করা না হলে আগামী বৃহস্পতিবার হরতালের ডাক দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম ও ইসলামী ঐক্যজোট। দল থেকে বহিষ্কৃত সাবেক এই মন্ত্রীর সঙ্গে এখনও আওয়ামী লীগ রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি নেতারা। তাঁরাও অবিলম্বে লতিফ সিদ্দিকীর গ্রেফতার দাবি করেছেন।

লতিফ সিদ্দিকী গ্রেফতারের দাবি ওঠার প্রেক্ষাপট ॥ চলতি বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর আমেরিকার নিউইয়র্কে এক ঘরোয়া অনুষ্ঠানে লতিফ সিদ্দিকী হজ ও তাবলীগ জামাত নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেন। এর জের ধরে সারাদেশে তাঁর বিরুদ্ধে ডজনখানেক মামলা হয়। কয়েকটি মামলায় তাঁকে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। সারাদেশ থেকেই তাঁকে গ্রেফতারের দাবি ওঠে। গণদাবির মুখে গত ১২ অক্টোবর লতিফ সিদ্দিকীকে মন্ত্রিসভা ও দলের সভাপতিম-লীর সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। এরপর গত ২৫ অক্টোবর লতিফ সিদ্দিকীকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকেও চূড়ান্তভাবে বহিষ্কার করা হয়।

বিমানবন্দরে থেকে লাপাত্তা ॥ গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, রবিবার রাত ৮টা ৪০ মিনিটে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটযোগে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে পৌঁছেন লতিফ সিদ্দিকী। ইমিগ্রেশন শেষে তিনি বিমাবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জের চামেলীতে বেশ কিছুক্ষণ অবস্থান করেন। এ সময় তিনি মোবাইল ফোনে কথা বলেন। এরপর তিনি এক যুবকের সঙ্গে সিলভার কালারের ঢাকা মেট্রো-গ-৩৫-৭৭৮৫ নম্বরের প্রাইভেটকারে চড়েন। গাড়িতে ৪০ থেকে ৪৫ বছর বয়সী এক মহিলাও ছিল। ওই যুবক ও মহিলা দু’জনই লতিফ সিদ্দিকীর পরিবারের কেউ হতে পারে। প্রাইভেটকারটি বিমানবন্দরের সামনে গোলচত্বর দিয়ে বের হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আচমকা গাড়িটি বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজের দিকে যেতে থাকে। র‌্যাব সদর দফতরের সামনের রাস্তা পরিহার করে আবার আচমকা টার্ন নিয়ে সোজা বিমানবন্দর সড়কের দিকে চলে যায়। এরপর মসজিদের পাশ দিয়ে সোজা উত্তরার দিকে যায়। উত্তরা জসীম উদ্দীন রোডে যাওয়ার পর গাড়িটি চোখের পলকে নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। এরপর আর গাড়িটি সন্ধান মেলেনি।

হাইকোর্ট পাড়ায় হাজির হওয়ার গুঞ্জন ॥ ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগে বেশ কয়েকটি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে দেশে ফেরা আবদুল লতিফ সিদ্দিকী আগাম জামিন চাইতে হাইকোর্টে গিয়েছিলেন বলে সোমবার দিনভর গুঞ্জন ছিল। যদিও তাঁর হাজির হওয়া বা তাঁকে দেখা যাওয়ার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। এমনকি কোন দেখা পাওয়া যায়নি। এছাড়া লতিফ সিদ্দিকীর জামিনের কোন আবেদনও জমা পড়েনি বলে এ্যাটর্নি জেনারেলের দফতর থেকে জানান হয়েছে।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাংসদ ও সুপ্রীমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক নূরুল ইসলাম সুজনকে উদ্ধৃত করে সকালে জামিন চাইতে লতিফ সিদ্দিকী হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে এসেছেন বলে সংবাদ প্রচার হয়। যদিও ওই আইনজীবী খবরটি ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন।

উচ্চ আদালত সূত্রে জানা গেছে, আগাম জামিন নিতে খুব সকালে সুপ্রীমকোর্ট এলাকায় গিয়েছিলেন লতিফ সিদ্দিকী। জামিন না হওয়ার আশঙ্কায় দুপুর ১টার দিকে তিনি আদালত প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন। আদালত প্রাঙ্গণে লতিফ সিদ্দিকীর আগমনের খবরে সরগরম হয়ে ওঠে উচ্চ আদালত পাড়া। এমন খবরে দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে বিএনপিপন্থী একদল আইনজীবী। তাঁরা লতিফ সিদ্দিকীকে প্রতিরোধের ঘোষণা দেন।

এ বিষয়ে এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের জামিন আবেদনের কোন অনুলিপি দেয়া হয়নি। জামিন আবেদন করা হয়েছে বলে কোন খবর আমরা জানি না। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কে কোন দল করে সেটা আমরা দেখি না। দেখবও না। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।

স্পীকার ও স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য ॥ সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেফতার করতে স্পীকারের অনুমতি লাগবে বলে মনে করছেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, স্পীকারের অনুমতি নাই বলেই রবিবার রাতে তাঁকে গ্রেফতার করা যায়নি। স্পীকারের অনুমতি ছাড়া একজন এমপিকে গ্রেফতার করা যাবে না। জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলছে। লতিফ সিদ্দিকী সংসদ সদস্য পদে বহাল রয়েছেন। সে কারণে তাঁকে গ্রেফতারে স্পীকারের অনুমতি লাগবে। লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেফতারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোন ব্যর্থতা বা দুর্বলতা নেই। লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেফতারে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা আছে। তেমনি তিনি যেহেতু সংসদ সদস্য সেজন্য তাকে গ্রেফতার করতে আইনী জটিলতা আছে।

স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর এমন বক্তব্য নাকচ করে দিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। সংসদ অধিবেশন শুরুর হওয়ার আগে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেফতার করতে স্পীকারের কোন অনুমতির প্রয়োজন নেই। কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী শুধু সংসদ লবি, গ্যালারি, চেম্বার থেকে কোন সংসদ সদস্যকে গ্রেফতার করার ক্ষেত্রে স্পীকারের অনুমতির প্রয়োজন হয়। এছাড়া কোন অনুমতি লাগে না। তিনি আরও বলেন, কোন সংসদ সদস্যকে গ্রেফতার করা হলে তাঁকে (স্পীকার) অবহিত করার বিধান রয়েছে। এ ক্ষেত্রে স্পীকার সংসদে থাকলে সংসদে জানাতে হবে, না থাকলে চিঠি দিতে হবে। তবে অধিবেশন চলাকালে কোন সংসদ সদস্যকে গ্রেফতার করার বিষয় আমাকে অবহিত করা হলে, আমি সংসদে তা পাঠ করে শুনাব। এ প্রসঙ্গে উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, নবম জাতীয় সংসদে স্পীকার থাকাকালীনও কয়েকজন সিটিং এমপিকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। আমাকে অবহিত করার পর সেটা আমি সংসদে পাঠ করে শুনিয়েছিলাম। সরকারের পক্ষ থেকে লতিফ সিদ্দিকীর সংসদ সদস্য পদ বাতিল করা প্রসঙ্গে কোন চিঠি দিয়েছে কি না, জানতে চাইলে স্পীকার বলেন, এ বিষয়ে আমাকে কিছুই বলা হয়নি। বিষয়টি সম্পর্কে আমি কিছু জানি না। লতিফ সিদ্দিকী আসার আগে তাঁকে (স্পীকার) অবহতি করা হয়েছে কি না, এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে স্পীকার বলেন, আমাকে জানানো হয়নি।

সংসদে যোগদান নিয়ে গুঞ্জন ॥ অজ্ঞাত স্থান থেকে বেরিয়ে সংসদ অধিবেশনে যোগ দেবেন লতিফ সিদ্দিকী এমন গুঞ্জনে সোমবার দুপুরের পর থেকেই সংসদের মূল প্রবেশদ্বারে গণমাধ্যম ও উৎসুক মানুষের ছিল উপচেপড়া ভিড়। সবার মুখেই ছিল ধর্ম নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে রাজনীতিতে কোণঠাসা ৭৭ বছর বয়সী লাতফ সিদ্দিকীর কথা। যদিও শেষ পর্যন্ত তিনি সংসদে অধিবেশনে যোগ দেননি। উচ্চ আদালতে আগাম জামিন মঞ্জুর হলে টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতি) আসন থেকে পাঁচবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য লতিফ সিদ্দিকী সংসদ অধিবেশনে যোগ দেবেন বলেও গুঞ্জন রয়েছে।

গ্রেফতারের দাবিতে হরতালের ডাক ॥ এদিকে আগামী বুধবারের মধ্যে লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেফতার করা না হলে আগামী বৃহস্পতিবার সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালনের ঘোষণা দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম ও ইসলামী ঐক্যজোট। ইসলামী ঐক্যজোটের যুগ্ম-মহাসচিব আহাল্লাহ ওয়াছেল ও হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদীর তরফ থেকে সোমবার দুপুরে এমন ঘোষণা দেয়া হয়। সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেফতারের দাবিতে ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (এনডিএফ) প্রধান শওকত হোসেন নিলু মঙ্গলবার সারাদেশে হরতালের ডাক দেন। সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এমন ঘোষণা দেন। চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসায় এক বৈঠক শেষে লতিফ সিদ্দিকীকে আগামী বুধবারের মধ্যে গ্রেফতারের আল্টিমেটাম দেয় হেফাজতে ইসলাম। তা না হলে আগামী বৃহস্পতিবার হরতাল পালন করা হবে। এদিকে লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেফতারের দাবিতে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে বিক্ষোভ সমাবেশ করে ইসলামী ঐক্যজোটসহ সমমনা ইসলামী দলগুলো।

বিএনপির প্রতিক্রিয়া ॥ সোমবার সকালে আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর দেশে ফেরার বিষয়ে এক প্রতিক্রিয়ায় দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, তাঁর দেশে আসার পেছনে সরকারের সমর্থন রয়েছে। সরকারের সমর্থন না থাকলে তিনি কিভাবে বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে গেলেন। তাঁকে কেন গ্রেফতার করা হলো না। ২২ মামলায় গ্রেফতারের আদেশ থাকা সত্ত্বেও পুলিশের সাহায্যে তিনি বিমানবন্দর ত্যাগ করেছেন। এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুহুল কবির রিজভী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে লতিফ সিদ্দীকী ধর্ম নিয়ে যে মন্তব্য করেছিলেন তার মাধ্যমে তাঁদের রাজনৈতিক দর্শন ফুটে উঠেছিল। আর বিমানবন্দরে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার লোকজন লতিফ সিদ্দিকীকে নিয়ে নাটক করেছেন। তাঁরা অবিলম্বে লতিফ সিদ্দিকীর গ্রেফতার দাবি করেন।

জাতীয় পার্টির (এরশাদ) প্রতিক্রিয়া ॥ ইসলামের অবমাননাকারী সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরেই তাঁকে গ্রেফতার না করায় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ও মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাঁরা অবিলম্বে লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

প্রকাশিত : ২৫ নভেম্বর ২০১৪

২৫/১১/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: