মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

শঙ্কার নাম জাতীয়করণ

প্রকাশিত : ২৩ নভেম্বর ২০১৪

রাশিয়া ক্রিমিয়া দখল করার পর থেকেই এই উপদ্বীপটির ব্যবসাবাণিজ্যে বেজায় মন্দ। পর্যটন শিল্প একেবারেই ভেঙ্গে পড়েছে। কোম্পানিগুলো ইউক্রেনের ক্রেতা আর সরবরাহকারীদের সঙ্গে বাধ্য হয়ে সব সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়ে লোকসান গুনছে। এখন আবার জাতীয়করণের ঝুঁকি তৈরি হয়ে গেছে। বেকারি থেকে শিপইর্য়াড পর্যন্ত ক্রিমিয়ার ক্রেমলিন সমর্থিত সরকার যে সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কিয়েভের ভালো সম্পর্ক আছে কিংবা যেগুলো কিয়েভের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সেগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিচ্ছে।

সপ্তাহ দেড়েক আগে এই উপদ্বীপটির সবচেয়ে বড় রুটি ও কনফেকশনারী তৈরির কারখানা ক্রেমখেলেভকে জাতীয়করণ করা হয়েছে। এই কোম্পানিটির মালিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এরা পূর্ব ইউক্রেনে রাশিয়ান বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে অর্থায়ন করেছে। এমনকি এই কোম্পানিতে ময়দা সরবরাহ করত যে কোম্পানিটি সেটারও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে ক্রেমলিন সমর্থিত সরকার। এই বছরের শুরুর দিকে কয়েক মাসের জন্য ইউক্রেনের দোনেস্ক অঞ্চলে রাশিয়া সমর্থিত গবর্নরের স্থলাভিষিক্ত হয়েছিল সেরহাই তারুতা নামক এক হোল্ডিংয় কোম্পানির কর্ণধার যিনি ইউক্রেন সমর্থিত এক গোষ্ঠীর প্রধান। সপ্তাহ দেড়েক আগে এই কোম্পানিটির ক্রিমিয়ায় অবস্থিত একটি রিসোর্ট কমপ্লেক্স বন্ধ করে দেয়া হয়। রিসোর্টটি অবৈধভাবে পার্কের নিকট জনসাধারণের যাতায়াতে বাধা সৃষ্টি করেছে এই অভিযোগ এনে তা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

সম্প্রতি ক্রিমিয়ার সবচেয়ে বড় শিপ বিল্ডিং কোম্পানি ঝালিভ এর ওপর রাশিয়া সমর্থিত সরকার নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। কোম্পানিটি তাদের কোন কার্যক্রমই ঠিক মতো করতে পারছে না। কী কারণে এমনটা করা হচ্ছে তাও পরিষ্কার করে কোম্পানিটিকে বলা হচ্ছে না। এভাবে একের পর এক প্রতিষ্ঠানকে জাতীয়করণ কিংবা কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ অথবা বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। এছাড়া যে কোম্পানিগুলোর রাশিয়ান ব্যাংকে ঋণ আছে সেগুলো জাতীয়করণের হুমকির মধ্যে রয়েছে। ক্রিমিয়ার সৌরশক্তি উৎপাদন কেন্দ্রটি এ্যাকটিভ সোলার কোম্পানি পরিচালনা করে থাকে। এই কোম্পানিটি তিনশ’ মিলিয়ন ডলারের ঋণ রাশিয়ান ব্যাংক থেকে নিয়েছে বলে ক্রিমিয়ার নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী সার্জেই আক্সিনোভ জানিয়েছেন কিন্তু কোম্পানিটির কর্তৃপক্ষ বলছে রাশিয়ান কোন প্রতিষ্ঠানেই এর কোন ঋণ নেই। এভাবে আরও অনেক প্রতিষ্ঠানই হুমকির মুখে পড়ে গেছে।

ক্রিমিয়ার দখল নেয়ার পর থেকে ইউক্রেনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলো যেগুলোর শাখা ক্রিমিয়াতে আছে সেগুলোতে জাতীয়করণ করা হয়েছেই, ইউক্রেনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোও জাতীয়করণ করা হচ্ছে। ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানকে জাতীয়করণ, নিয়ন্ত্রণ আরোপ এবং বন্ধ করার জন্য সম্প্রতি পার্লামেন্টে তড়িঘড়ি করে আইনও পাস করিয়ে নেয়া হয়েছে। অব্যবস্থাপনা, অসাধুতার দোহাই দিয়ে এসব করা হচ্ছে। যাকে রাশিয়ার প্রধান বিরোধী দল ইয়াবলোকো নব্য বলশেভিক স্বৈরতন্ত্র হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। জাতীয়করণের ডামাডোলে ক্রিমিয়ায় ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের মালিকরা এখন নিজেদের অস্তিত্ব বিনাশের শঙ্কায় ভুগছেন।

প্রকাশিত : ২৩ নভেম্বর ২০১৪

২৩/১১/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: