আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৭ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

জঙ্গী দমন ॥ বাংলাদেশ গোয়েন্দা টিম যাচ্ছে ভারত

প্রকাশিত : ২০ নভেম্বর ২০১৪
  • এনআইএ দলের ঢাকা ত্যাগ

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ বাংলাদেশের গোয়েন্দা টিম খুব শীঘ্রই জঙ্গী দমন ও তথ্য বিনিময়ের উদ্দেশে ভারত সফরে যাচ্ছে। ঢাকা সফরকালে ভারতের গোয়েন্দা টিম এনআইএ ভারতে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছে বাংলাদেশের গোয়েন্দা টিমকে। ভারতের এনআইএ টিম ঢাকায় সফরকালে দুই দেশের মধ্যে আলোচনায় বাংলাদেশ ও ভারত জঙ্গী দমন এবং তথ্য বিনিময়ে এক সঙ্গে কাজ করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যে জঙ্গী ও শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকা বিনিময় হয়েছে নিজ নিজ দেশে গ্রেফতার করে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় হস্তান্তর করবে দুই দেশই। বাংলাদেশে জঙ্গী দমনে বাংলাদেশের গোয়েন্দা প্রতিনিধি দলের প্রশংসা করেছে ভারতের গোয়েন্দা প্রতিনিধি দল। বুধবার সকাল সাড়ে দশটায় এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইটে এনআইএ প্রতিনিধি দল ভারতের উদেশে ঢাকা ত্যাগ করেছে। গোয়েন্দা সূত্র এ খবর জানিয়েছে।

বৈঠক সূত্র জানায়, বাংলাদেশের গোয়েন্দা টিম ভারত সফরে গেলে বর্ধমানের খাগড়াগড়ে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় ভারতে গ্রেফতার হওয়া জেএমবি সদস্যদের প্রয়োজনে জেরা করারও সুযোগ দেয়া হবে। ভারতের ৪ সদস্যের এনআইএ দল ঢাকায় সফরকালে বাংলাদেশের ৬ সদস্যের গোয়েন্দা টিমের সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ সদর দফতর ও র‌্যাব সদর দফতরে তিন দফা বৈঠক করেছেন। তিন দফা বৈঠকে বাংলাদেশী গোয়েন্দাদের কাছ থেকে তারা জেএমবির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এ পর্যন্ত জঙ্গী তৎপরতা সম্পর্কে অবগত হন। ময়মনসিংহের ত্রিশালে জেএমবির জঙ্গী ছিনতাইয়ের ঘটনা সম্পর্কেও জানানো হয়েছে ভারতের এনআইএ টিমকে।

সাজিদের স্ত্রী শাহিদা কি গ্রেফতার?

বর্ধমানের খাগড়াগড়ে বিস্ফোরণের ঘটনায় এনআইএ টিমের দেয়া মোবাইল ফোন নম্বরের সূত্র ধরে এক নারীকে আটক করা হয়েছে। সোমবার রাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঢাকা থেকে আটক করেছে এক নারীকে। এই নারীর নাম শাহিদা। কলকাতায় গ্রেফতার হওয়া সাজিদ ওরফে মাসুমের স্ত্রী। সাজিদ ওরফে মাসুম গ্রেফতার হওয়ার আগে কলকাতা থেকে মোবাইল ফোনে কথা বলেছে এই নারীর সঙ্গে। তাকে গ্রেফতার করার পর সাজিদ ওরফে মাসুমের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এনআইএ টিমকে এই নারীর গ্রেফতারের বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে বলে বৈঠক সূত্র জানায়। এনআইএ টিম জঙ্গীদের তালিকা ছাড়াও প্রায় ১৫টি ফোন নম্বর দিয়েছে। তবে পুলিশ ও র‌্যাব কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা এই নারীকে গ্রেফতারের বিষয়টি স্বীকার না করে এড়িয়ে যাচ্ছেন।

এনআইএর তালিকার ১১ জঙ্গীকে খোঁজ করা হচ্ছে ॥ ভারতের গোয়েন্দা টিম এনআইএ যে ১১ জনের তালিকা দিয়েছে তাদের গ্রেফতারের জন্য খোঁজ করছে বাংলাদেশের গোয়েন্দারা। ১১ জঙ্গী হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের মাওলানা ইউসুফ শেখ, রেজাউল করিম, আমজাদ আলী শেখ, আবুল কালাম, বুরহান শেখ, হাবিবুর রহমান শেখ, জহিরুল শেখ, নসরুল্লাহ, অসমের বাসিন্দা শাহিনুর আলম, কাওসার ও তালহা শেখ। তাদের ধরিয়ে দেয়ার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করেছে ভারত। কিন্তু তালিকায় দেয়া নামের সঙ্গে বাংলাদেশের জঙ্গীদের নামের গরমিল পাওয়া যাচ্ছে। গোয়েন্দাদের ধারণা, বাংলাদেশের জঙ্গীরা ভারতে গিয়ে তাদের নাম বদল করে ফেলেছে। নারায়ণগঞ্জের বন্দরের ফরাজীকান্দার মাসুদ রানা ওরফে মাসুম কলকাতায় গিয়ে যেভাবে সাজিদ ওরফে রহমতউল্লাহ শেখ নতুন নাম নিয়ে গ্রেফতার হয়েছে।

বাংলাদেশের তালিকায় জঙ্গীদের মধ্যে হুজিও আছে ॥ বাংলাদেশের গোয়েন্দারা যে তালিকা এনআইএ টিমকে দিয়েছে তার মধ্যে হরকত-উল-জিহাদের (হুজি)-এর ৪ জঙ্গী ও জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) ৬ জঙ্গী রয়েছে। হুজির ৪ জঙ্গী হচ্ছে মাওলানা তাজউদ্দিন, হাফেজ জাহাঙ্গীর আলম বদর, মুফতি শফিকুর রহমান ও মুফতি আবদুল হাই। এই ৪ জঙ্গী মৃত্যুদ-াদেশ প্রাপ্ত ফাঁসির আসামি। রমনা বটমূল গ্রেনেড হামলার মামলায় তাদের মৃত্যুদ-াদেশ হয়েছে। এ ছাড়াও তারা একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলার চার্জশীটভুক্ত আসামি। বিএনপির সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুর ভাই হচ্ছেন মাওলানা তাজউদ্দিন। এ ছাড়াও জেএমবির ৬ জঙ্গী হচ্ছেন জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি)। জেএমবির সদস্য আবু সাঈদ শেখ, তরিকুল ইসলাম, সোহেল মাহফুজ ও আনোয়ারুল ইসলাম ও শাখাওয়াত। পলাতক এই ১০ জঙ্গীকে গ্রেফতারের জন্য বাংলাদেশের গোয়েন্দারা এই ১০ জঙ্গীর নামের তালিকা দিয়েছে ভারতের গোয়েন্দা টিম এনআইএকে।

৪১ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকায় পুরস্কার ঘোষিত ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীও

বাংলাদেশের গোয়েন্দা প্রতিনিধি দলের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অনেক আগেই ৪১ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকাটি দেয়া হয়েছিল ভারতকে। আবারও বুধবার দেয়া হয়েছে এনআইএকে। এর মধ্যে পুরস্কার ঘোষিত ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীও আছে, যারা এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ভারতসহ বিভিন্ন দেশে পলাতক আছে। এই তালিকাটিতে যারা আছে তাদের অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে ভারতে থাকলেও এতদিন ধরে গ্রেফতার হচ্ছিল না। ভারতে থেকে বাংলাদেশ তারা সন্ত্রাস, চাঁদাবাজিসহ আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটাচ্ছে। আর এ কারণেই আবারও এই তালিকাটি দেয়া হয়েছে এনআইএকে। তালিকাভুক্ত ৪১ শীর্ষ সন্ত্রাসীরা হচ্ছেন মিরপুরের শাহাদাৎ হোসেন (বর্তমানে ভারতের মুর্শিদাবাদে), কুষ্টিয়ার আমিনুল ইসলাম ওরফে মুকুল ওরফে বিজয় (কারাগারে), কুষ্টিয়ার শাহীন ওরফে রুমি, নরোত্তম সাহা ওরফে আশিক ওরফে রবিন ওরফে আশিষ, নয়াটোলার জিসান (কলকাতায়), শাহীন শিকদার (আগরতলায়), খন্দকার তানভীর ইসলাম ওরফে ফার্মগেটের জয় (কলকাতায়), মোহাম্মদপুরের নবীন হোসেন ওরফে নবী, কুষ্টিয়ার আনোয়ার হোসেন আনু (ভারতের গোবিন্দপুরে), কুষ্টিয়ার কালু, যশোরের আনিসুর রহমান লিটন ওরফে ফিঙে লিটন (বনগাঁ), রাজবাড়ীর পাংশার অমল কৃষ্ণ মল (বনগাঁয়), তৌফিকুল আলম খান ওরফে তৌফিক আলম ওরফে পিয়াল খান (বনগাঁয়), চট্টগ্রামের মামুনুর রশীদ (ত্রিপুরায়), চট্টগ্রামের সুনীল কান্তি দে, নওগাঁর গৌতম চন্দ্র শীলাল ওরফে গৌতম চেয়ারম্যান, ঢাকার মিরপুরের প্রকাশ বিশ্বাস, বিকাশ বিশ্বাস, রমনার মোল্লা মাসুদ, পুরান ঢাকার আগা শামীম, নওগাঁর চপল, মহাখালীর মোস্তাফিজুর রহমান ওরফে মুকুল, মিরপুরের বাবু, আগারগাঁওয়ের মিন্টু, তেজগাঁওয়ের আতাউর রহমান আতা, রাজবাড়ীর হালিম, শাহজাহানপুরের জাফর আহমেদ ওরফে মানিক, পল্লবীর কালা চান, মেহেরপুরের মিনহাজউদ্দীন দুখু, মেহেরপুরের এনামুল হক, মেহেরপুরের সিদ্দিক, চট্টগ্রামের এইচএম আবু তৈয়ব, চট্টগ্রামের মোর্শেদ খান, চট্টগ্রামের নুরুল আলম ওরফে এতিম আলম, চট্টগ্রামের রাজীব দত্ত ওরফে রিঙ্কু, চট্টগ্রামের সাজ্জাদ খান, কুমিল্লার শহীদুল ইসলাম ওরফে সুব ওরফে সব্বা, ভাসানটেকের ইব্রাহিম খলিল, রাজবাড়ীর ছামাদ মোল্যা ওরফে ছামাদ মেম্বার ওরফে আজিজ কমান্ডার এবং রাজধানীর ত্রিমতী সুব্রত বাইন ওরফে ফতেহ আলী (বর্তমানে নেপাল)। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যে ৪১ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকা দেয়া হয়েছে তার মধ্যে পুরস্কার ঘোষিত শীর্ষ সন্ত্রাসীরা আছে। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ে যে ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল তারাও আছে। এ ছাড়াও আওয়ামী লীগ সরকারের আগের সময়েও শীর্ষ সন্ত্রাসীর যে তালিকা দেয়া হয়েছিল ৪১ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকায় আছে তারাও।

এনআইএ জানতে চায় জঙ্গী উত্থান সমাচার ॥ র‌্যাব সদর দফতরের বৈঠকে ভারতের টিম এনআইএ টিম বাংলাদেশের জঙ্গী উত্থান ও বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে চান। বাংলাদেশের গোয়েন্দা টিমের প্রতিনিধি দলের কর্মকর্তারা ভারতের প্রতিনিধি দল এনআইএকে জানান, শায়খ আবদুর রহমান, সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলা ভাই, আতাউর রহমান সানি, হাফেজ মাহমুদ, আউয়ালসহ শীর্ষস্থানীয় জঙ্গীদের কীভাবে গ্রেফতার করা হয় তার বিস্তারিত তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরা হয়। জঙ্গীবাদ দমনে এ পর্যন্ত র‌্যাব কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে সে বিষয়েও এনআইএ প্রতিনিধিদের অবহিত করা হয়। জেএমবির প্রতিষ্ঠাতা আমির শায়খ আবদুর রহমান ও শীর্ষ জঙ্গী সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলা ভাইয়ের উত্থান, সর্বহারা নিধনের নামে রাজশাহীতে জাগ্রত মুসলিম জনতা নামে আত্মপ্রকাশ, সেখানে তাদের সন্ত্রাস এবং পরবর্তীকালে ২০০৫ সালে দেশজুড়ে সিরিজ বোমা হামলার মধ্য দিয়ে জামা’আতুল মুজাহিদীন (জেএমবি) নামে আত্মপ্রকাশের নানা ইতিহাস তুলে ধরা হয়। জেএমবি প্রতিষ্ঠায় তাদের লক্ষ্য কী ছিল, কীভাবে সংগঠনটি পরিচালিত হতো, প্রতিষ্ঠাকালীন সংগঠনটির নেতৃস্থানীয় কারা ছিল তুলে ধরা হয় ইত্যাদি বিষয়ও। শুধু জেএমবি সম্পর্কেই নয়, বাংলাদেশে নিষিদ্ধ জঙ্গী ও উগ্রবাদী সংগঠন সম্পর্কেও বাংলাদেশী গোয়েন্দাদের কাছ থেকে ধারণা নেন এনআইএ প্রতিনিধিরা। পুলিশ সদর দফতরের বৈঠকে বাংলাদেশী গোয়েন্দারা ত্রিশালে জঙ্গী ছিনতাই সম্পর্কেও এনআইএ প্রতিনিধিদের জানান, গত ফেব্রুয়ারি মাসে ত্রিশালে প্রিজনভ্যানে হামলা করে জেএমবির শীর্ষস্থানীয় জঙ্গী সালেহীন ওরফে সালাউদ্দিন, বোমা মিজান ও রাকিব হাসানকে ছিনিয়ে নেয়া হয়। পরবর্তীকালে পুলিশের গুলিতে রাকিব হাসান নিহত হয়। আর সালাউদ্দিন ও বোমা মিজান ভারতে পালিয়ে যায়। এ ছিনতাইয়ের নাটের গুরু হিসেবে কাজ করে ফারুক হোসেন ওরফে আনোয়ার ওরফে তানভীর। সেও ভারতে পালিয়ে গেছে বলে বৈঠকে জানানো হয়। তাদের ধরতে বাংলাদেশ এনআইএর সহায়তা কামনা করেন।

দুই দেশের মধ্যে ভিডিও ফুটেজ বিনিময় ॥ বাংলাদেশ গোয়েন্দা টিমের প্রতিনিধি ও ভারতের গোয়েন্দা টিম এনআইএর মধ্যে জঙ্গীদের বোমা তৈরির কলাকৌশল, বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো, উদ্ধারকৃত বোমার ভিডিও ফুটেজ বিনিময় হয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারতের জঙ্গীদের বোমা তৈরির কলাকৌশল থেকে শুরু করে হামলার ধরন ও বোমার আকার সবই এক। এমনকি বোমায় ব্যবহৃত উপকরণও অভিন্ন। ভারতের এনআইএ টিম বর্ধমান খাগড়াগড়ে জেএমবির জঙ্গীরা যে বোমা তৈরি করেছে এবং বিস্ফোরিত বোমার উপকরণ উদ্ধারের পর যে ভিডিও ফুটেজ তৈরি করেছে তা দেখিয়েছেন বাংলাদেশের গোয়েন্দা টিমের প্রতিনিধি দলকে। আর বাংলাদেশের গোয়েন্দা টিমের প্রতিনিধি দলও বিভিন্ন সময়ে জেএমবিসহ নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গী সংগঠনের জঙ্গীদের কাছ থেকে বোমা ও বোমার উপকরণ উদ্ধার করেছে তার তৈরি করা ভিডিও ফুটেজ দেখিয়েছে ভারতের গোয়েন্দা প্রতিনিধি দল এনআইএকে। দুই দেশের গোয়েন্দারা দুই দেশের ভিডিও ফুটেজ দেখে অভিমত ব্যক্ত করেছেন, দুই দেশের জঙ্গীদের বোমা প্রস্তুত থেকে শুরু করে বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে হামলা করার ধরন সবকিছুই এক ও অভিন্ন।

প্রকাশিত : ২০ নভেম্বর ২০১৪

২০/১১/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: