মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

মার্কিন সিনেট নির্বাচনে ॥ কালো টাকার খেলা!

প্রকাশিত : ১৯ নভেম্বর ২০১৪
মার্কিন সিনেট নির্বাচনে ॥  কালো টাকার খেলা!

গত ৪ নবেম্বর অনুষ্ঠিত হয়েছে মার্কিন সিনেট নির্বাচন। সে নির্বাচনে রিপাবলিকানরা ২০০৬ সালের পর প্রথম তাদের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেয়েছে। তারা ডেমোক্র্যাটদের কাছ থেকে ৮টি আসন ছিনিয়ে নিয়ে সিনেটে তাদের প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা করেছে। তবে এবারের নির্বাচনে ভোটারের উপস্থিতি এত কম ছিল যে, গত ৭১ বছরে এত কম ভোটার আর দেখা যায়নি। আরেকটা বৈশিষ্ট্য হলো এবারের নির্বাচনে এত কালো টাকার খেলা হয়েছে যে কংগ্রেসের আর কোন নির্বাচনে হয়নি। বলা চলে যে এবারের সিনেট গোপন ও বিশেষ স্বার্থে প্রদত্ত অর্থের জোয়ারে নির্বাচিত হয়েছে।

সিনেটের আগামী সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা হতে চলেছেন মিচ ম্যাককোনেল। তাঁর নির্বাচনী প্রচারে ন্যাশনাল বাইফেল এ্যাসোসিয়েশন, ন্যাশনাল এ্যাসোসিয়েশন অব রিয়েলটরস এবং ন্যাশনাল ফেডারেশন অব ইন্ডিপেন্ডেন্ট বিজনেসের মতো স্বাধীন সংগঠনগুলো ১ কোটি ৩০ লাখ ডলার দিয়েছে। স্মরণ করা যেতে পারে যে তিনি নির্বাচনী প্রচারে গোপন সূত্র থেকে সীমাহীন পরিমাণে অর্থব্যয়ের সবচেয়ে জোরালো প্রবক্তা দলের বাইরে থেকে তাঁর পক্ষে এককভাবে সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করেছে কেনটাকি অপরচুনিটি কোয়ালিশন নামে একটি তথাকথিত সমাজকল্যাণ সংগঠন। এরা ম্যাককোনেলে প্রতিদ্বন্দ্বী এলিসন লুন্ডারগান গ্রাইমসের বিরুদ্ধে আক্রামণাত্মক প্রচারে ৭৬ লাখ ডলার ব্যয় করেছে। কেনটাকিতে এদের চাইতে বেশি এ্যাড আর কেউ দেয়নি।

কেনটাকি অপরচুনিটি কোয়ালিশনের ম্যাককোনেলকে পুনর্নির্বাচিত করা ছাড়া সমাজকল্যাণধর্মী উদ্দেশ্য সত্যিই কি কোন আছে? থাকলে সেটা কি? সত্যিকার অর্থে এদের সেরকম কোনই উদ্দেশ্য নেই। এই অর্থ তাদের কে দিয়েছে? সেটা যে কেউ হতে পারে যিনি রাজনৈতিক কুশীলব হতে চান অথচ প্রকাশ্যে তা করার মতো সাহস নেই। সম্ভবত অর্থদাতাদের মধ্যে আছেন কয়লা খাতের স্বার্থবাদী গোষ্ঠী, ন্যূনতম মজুরির বিরোধী খুচরা ব্যবসায়ীরা, প্রতিরক্ষা খাতের ঠিকাদাররা। কিন্তু জনসাধারণের সেটা জানবার কোন উপায় নেই। তবে সিনেটের ম্যাককোনেল নিশ্চয়ই জানেন তাঁর এত বড় উপকার ঠিক কে করেছেন বা কার কাছে তিনি ঋণী হয়ে থাকলেন। এই সংগঠনটির সঙ্গে একমাত্র যার নাম যুক্ত তিনি হলেন স্কট জেনিংস। জর্জ ডব্লিউ বুশের আমলে হোয়াইট হাউসের উপরাজনৈতিক পরিচালক ছিলেন। ইনি ম্যাককোনেলের আগের দুই নির্বাচনী প্রচারেও কাজ করেছিলেন।

ম্যাককোনেলের পক্ষে অজ্ঞাত পরিচয় সূত্রে ১ কোটি ১৪ লাখ ডলার ব্যয় করা হয়েছে। তবে তাই বলে তিনিই যে এই গোপন চাঁদার সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী তা নয়। গোপনে বড় অঙ্কের চাঁদা দেয়ার ঘটনা এবারের নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য আকারে বড়েছে সন্দেহ নেই। তাই বলে এমন ঘটনা নতুন কিছু নয়। ২০১০ সালে মধ্যমেয়াদী নির্বাচনে এই রেওয়াজ সবে শুরু হয়েছিল। সে সময় বিভিন্ন গোষ্ঠী ১৬ কোটি ১০ লাখ ডলার ব্যয় করেছিল ঠিকই তবে এই চাঁদা দেয়ার কথা প্রকাশ করেনি। এবারের নির্বাচনে অন্ততপক্ষে ২১ কোটি ৬০ লাখ ডলার গোপন সূত্র থেকে ব্যয় হয়েছে। এর ৬৯ শতাংশ রিপাবলিকারদের পক্ষে ব্যয় করা হয়।

কালোরাডোয় কমপক্ষে ১ কোটি ৮০ লাখ ডলারের কালোটাকা রিপাবলিকান দলের নবনির্বাচিত সিনেট সদস্য কোরি গার্ডনারের পক্ষে ব্যয় করা হয়। ৪০ লাখ ডলার ব্যয় হয় ডেমোক্র্যাট দলীয় সিনেটের মার্ক উদালের পক্ষে নর্থক্যারোলিনায় ১ কোটি ৩৭ লাখ ডলারের গোপন চাঁদা নবনির্বাচিত রিপালিকান সিনেটর টম টিলিসের জন্য ব্যয় করা হয়। ২৬ লাখ ডলার ব্যয় হয় সিনেটর কে হাগানের পেছনে যিনি পরাজিত হন।

কালোটাকাই এবারের নির্বাচনকে কলুষিত করা একমাত্র অর্থব্যয় নয়। এ বছর প্রত্যেক প্রার্থীর জন্য ৯৪টি ‘সুপার প্যাক’ গঠন করা হয়েছিল। সুপার প্যাক হলো স্বাধীনভাবে নির্বাচনী প্রচারের অর্থব্যয়কারী কমিটি। এরা কর্পোরেশন, ইউনিয়ন, সমিতি ও ব্যক্তিবিশেষের কাছ থেকে সীমাহীন অঙ্কের অর্থ সংগ্রহ করে এবং তারপর সেই অর্থ প্রকাশ্যে প্রার্থীর পক্ষে বা তার প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে প্রচারণার কাজে ব্যয় করে থাকে। তবে ঐ চাঁদার অঙ্ক প্রকাশ করতে হয়। এবার সুপারপ্যাকগুলো ফেডারেল সরকারের বেঁধে দেয়া সীমা অতিক্রম করার এবং বড় অঙ্কের অর্থদাতাদের তাদের পছন্দের প্রার্থীকে সমর্থন দেয়ার সুযোগ সৃষ্টির চেষ্টা করেছিল। এসব গ্রুপের ব্যয়িত ৫ কোটি ১৪ লাখ ডলারের মধ্যে ৫৭ শতাংশ ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে ব্যয়িত হয়। সামগ্রিকভাবে হিসাব করলে ৫২ কোটি ৫৬ লাখ স্বাধীন অর্থব্যয়ের মধ্যে (পার্টি কিমিটিগুলোর ব্যয়িত অর্থ বাদে) প্রায় ৫৭ শতাংশ ব্যয়ই ছিল রিপাবলিকানদের।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে এ বছর নির্বাচনে টাকার খেলা যা হয়েছে তা ২০১৬ সালের নির্বাচনেরই মহড়া মাত্র। সেই নির্বাচনে আরও বেশি অর্থ ব্যয় হবে যার সিংহভাগটাই হবে গোপনে। এ ধরনের সমস্ত অর্থব্যয়ের মধ্য দিয়ে আসলে ধনীদেরও প্রভাবশালী আমেরিকানদের স্বার্থ রক্ষিত হবে। বড় অঙ্কের টাকার প্রভাব খাটানোর যে সুযোগ করে দেয়া হয়েছে তাতে এটাকে সীমিত করার সম্ভাবনা সুদূরপরাহত হয়ে গেছে।

টাইম ম্যাগাজিনের খবরে বলা হয় যে, এবারের নির্বাচনী প্রচারে সকল পক্ষই নীচতা ও মূর্খতার পরিচয় দিয়েছে। এ বছরটা হচ্ছে অযোগ্য প্রার্থীদের পোয়াবারো হবার বছর। যারা বক্তব্য দিতে বা ইস্যু নিয়ে কথা বলতে জানে তারা দীর্ঘমেয়াদের জন্য অন্তরালে চলে গেছে। বিজ্ঞাপনের ভূমিকা বরাবর যা হয় তাই হয়েছে- ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। তবে ফাঁকা মাঠে এর প্রভাব পড়েছে আরও বেশি। গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু তোলা যে হয়নি তা নয়, তবে ওগুলো নিয়ে সিরিয়াস ধরনের কোন আলোচনাই হয়নি। এক পক্ষ কোন ইস্যু তুললে অপরপক্ষ তাতে বাগড়া দিয়ে আলোচনাই ভ-ুল করে দিয়েছেন। নির্বাচিত হয়ে কংগ্রেসে গিয়ে উল্লেখযোগ্য কি কাজ করতে বা অর্জন করতে চান এই প্রশ্ন যাকেই করা হয়েছে তিনিই সুকৌমলে এড়িয়ে গেছেন। নির্বাচনী প্রচারে নীরস ও নিষ্প্রভ ভাবটা খুবই পীড়াদায়ক ছিল।

Ñসূত্র নিউইয়র্ক টাইমস

প্রকাশিত : ১৯ নভেম্বর ২০১৪

১৯/১১/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: