মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১০ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

এবার সাংবাদিক বুদ্ধিজীবী আইনজীবীরা সেই জঙ্গীদের টার্গেট

প্রকাশিত : ১৯ নভেম্বর ২০১৪
  • ফেসবুকে নতুন স্ট্যাটাস

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী ॥ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক শফিউল ইসলাম হত্যার দায় স্বীকার করে কথিত জঙ্গী সংগঠন আনসার আল ইসলাম বাংলাদেশ-২ নামে ফেসবুক পেজ খোলার নেপথ্যে আসলে কারা, তা তিন দিনেও বের করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোন সংস্থা। এ বিষয়টি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অন্ধকারে থাকলেও ভীতিকর নতুন নতুন স্ট্যাটাস দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে ওই ফেসবুক পেজে। সর্বশেষ ‘পরবর্তী টার্গেট’ দিয়ে নতুন স্ট্যাটাস দেয়া হয়েছে ওই পেজে। সোমবার সন্ধ্যায় তাদের পেজে হুমকি দিয়ে নতুন স্ট্যাস্টাস দিলেও মঙ্গলবার দুপুরে তাদের ওই পেজটি বন্ধ পাওয়া যায়। নতুন স্ট্যাটাসে এবার রীতিমতো শিক্ষক, আইনজীবী, সাংবাদিক, গবেষক, গ্রামের মোড়ল মাতবর, চিকিৎসক, গল্পকার, ঔপন্যাসিক, বুদ্ধিজীবী ও অভিনয় শিল্পীদেরও হুমকি দেয়া হয়েছে। সর্বশেষ সোমবার সন্ধ্যার আগে নতুন স্ট্যাটাসটি পোস্ট করা হয়। সেখানে যথারীতি আরবীতে কোরানের আয়াত তুলে দিয়ে বাংলায় তার অনুবাদও করা হয়। বলা হয় আপাতত তাদের পরবর্তী টার্গেট। সেখানে উল্লেখ করা হয়, রাসূলকে (সা) হেয়কারী, কটূক্তিকারী নাস্তিকগোষ্ঠী। (কেউ ব্যক্তি জীবনে নাস্তিক হলেই আমরা তাকে টার্গেট করছি না) তবে আমাদের টার্গেট শুধু তারাই যারা নাস্তিকতার আড়ালে রাসূলকে (সা) কটূক্তি করছে।

যারা নিজ নিজ পরিম-লে যে কোনভাবেই হোক ইসলামী শরীয়তের আহকাম পালনে বাধা দিচ্ছে- হোক সে কোন ভার্সিটি-কলেজ-স্কুলের প্রধান শিক্ষক, কোন এলাকার মেয়র, মোড়ল-মাতবর কিংবা কোন প্রতিষ্ঠানের প্রধান অথবা বিচারক-আইনজীবী-চিকিৎসক।

যারা লেখনীর মাধ্যমে ইসলামের যে কোন দিককে ইচ্ছাকৃতভাবে বিকৃত করে উপস্থাপনের মাধ্যমে সাধারণ মুসলমানদের ইসলাম থেকে দূরে সরানোর পশ্চিমা-ভারতীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নে তৎপর, তারও টার্গেটের আওতায় থাকবে। যেমন- কোন গল্পকার-ঔপন্যাসিক কিংবা কোন কবি-বুদ্ধিজীবী। কিংবা কোন পত্রিকার সাংবাদিক-সম্পাদক কিংবা কোন নাট্যকার, সিনেমা প্রযোজক ও অভিনয়শিল্পী। যারা নিজেদের বক্তৃতা-বিবৃতির মাধ্যমে ইসলামী শরীয়তের বিরোধিতা করছে, ইসলামী শরীয়তকে নিয়ে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য কটূক্তি করছে তারাই পরবর্তী টার্গেট।

এছাড়া যারা এই মুসলিম সমাজে বিভিন্ন প্রকার অশ্লীলতা-বেহায়াপনা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেয়ার সঙ্গে যুক্ত (ইসলামী শরীয়ত অনুযায়ী- ‘ব্যক্তিগতভাবে কোন হারাম কাজ করা’ আর ‘সমাজকে কোন হারাম কাজের দিকে নিয়ে যাওয়া’ এর মাঝে আকাশ-পাতাল পার্থক্য আছে)। এছাড়া যারা এ দেশের শিক্ষা-সংস্কৃতি-অর্থনীতি থেকে ইসলামী শরীয়তের অবশিষ্টাংশকেও ছেঁটে ফেলার অপচেষ্টা করছে। যারা এই জমিনে দ্বীন ইসলামের আলোকে নিভিয়ে দেয়ার জন্য তৎপর। মূলকথাÑযারাই আল্লাহ, তাঁর রাসূল (সা) ও তাঁর দ্বীনের বিরুদ্ধে লেখনী-কথা-কাজের মাধ্যমে বিরোধিতা-যুদ্ধে লিপ্ত, এমন সকল মুরতাদ ও ইসলামের শত্রুরাই আমাদের টার্গেট ইনশাআল্লাহ।

স্ট্যাটাসের এক প্যারায় বলা হয়, কোন সাধারণ মুসলমান, সাধারণ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীস্টান কিংবা যারা আল্লাহর দ্বীনের সঙ্গে শত্রুতা করছে না, তারা কখনই আমাদের টার্গেট নয়, যদিও ‘হলুদ আলো’ (প্রথম আলো) ধরনের কুফরীপন্থী পত্রিকাগুলো হলুদ সাংবাদিকতার মাধ্যমে আমাদের বিরুদ্ধে এ অপপ্রচার চালায়। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যেন মুজাহিদীনদের হাতে তাঁর শত্রুদের শাস্তি প্রদান করেন এবং মুমিনদের অন্তরকে প্রশান্ত করেন।

সরাসরি হুমকি দিয়ে একের পর এক স্ট্যাটাস দিলেও তাদের সম্পর্কে এখনও অন্ধকারে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। কোথা থেকে কারা কিভাবে এ পেজের সঙ্গে যুক্ত তার লেশমাত্র খুঁজে পাচ্ছে না গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও। বের করতে পারেনি আইপি ঠিকানাও। তবে পুলিশের এক কর্মকর্তা মনে করেন ‘আনসার আল ইসলাম বাংলাদেশ-২’ নামে খোলা ফেসবুক পেজটি ফেক।

বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক মলয় ভৌমিক বলেন, মূলত স্বাধীনতাবিরোধীরাই এ কাজ করছে। এর আগেও একাধিকবার চিঠি দিয়ে ও বিভিন্ন মাধ্যমে হুমকি দেয়া হয়েছে।

ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে তারা দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। তিনি বলেন, তাদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার পক্ষের চেতনা লালনকারীদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। মলয় ভৌমিক বলেন, গণজাগরণ মঞ্চকেও এভাবে নানা প্রকার হুমকি-ধামকি দেয়া হয়েছে। বার বার তারা সুযোগ নিচ্ছে-নেবে এটাই বাস্তবতা। তবে এ ব্যাপারে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের মানুষকে এক হয়ে প্রতিরোধ করতে হবে।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার সরদার তমিজ উদ্দিন জানান, প্রথম দিন থেকেই ফেসবুকের ওই পেজটি তারা দেখছেন। কারা এটি করছেন তা নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছেন। পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থাও বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রেখেছে। এটি নিয়ে অনুসন্ধান চলছে। দ্রুত হয়ত তাদের শনাক্ত করা যাবে। তখন বোঝা যাবে এটি প্রকৃতপক্ষে কারা চালাচ্ছে। ওই পেজটি আসল নাকি ফেক।

গত শনিবার বিকেলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. একেএম শফিউল ইসলাম খুনের ৫ ঘণ্টার মধ্য কথিত নতুন জঙ্গী সংগঠন ‘আনসার আল ইসলাম বাংলাদেশ-২’ ফেসবুকে তাৎক্ষণিক স্ট্যাটাস দিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করে।

প্রকাশিত : ১৯ নভেম্বর ২০১৪

১৯/১১/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: