আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৭ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

এবার ফাস্টট্রাকে যুক্ত হচ্ছে মাতারবাড়ী বিদ্যুতকেন্দ্র

প্রকাশিত : ১১ নভেম্বর ২০১৪
  • মনিটর করবেন প্রধানমন্ত্রী

হামিদ-উজ-জামান মামুন ॥ বাস্তবায়ন দ্রুত ও দুর্নীতিমুক্ত করে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ফাস্ট ট্রাকে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে দেশের সর্ববৃহৎ কয়লাভিত্তিক মাতারবাড়ী বিদ্যুত কেন্দ্র। এর আগে ছয়টি মেগা প্রকল্প থাকলেও এই প্রথম নতুন করে কোন প্রকল্প যুক্ত হতে যাচ্ছে। ফলে এখন প্রকল্প সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে সাত। এর মধ্য দিয়ে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন কার্যক্রম সরাসরি তদারকি করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিদ্যুত বিভাগ থেকে সম্প্রতি ফাস্ট ট্রাক প্রজেক্ট মনিটরিং কমিটিতে প্রকল্পটি অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব করা হয়েছে। এ প্রেক্ষিতে ইতোমধ্যেই প্রাথমিক আলোচনার পর কমিটির আগামী বৈঠকে এ প্রকল্পটি যুক্ত করা হতে পারে বলে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে জানা গেছে। ইআরডির ফরেন এইড বাজেট এ্যান্ড এ্যাকাউন্টস উইংয়ের যুগ্ম সচিব ফরিদা নাসরিন জনকণ্ঠকে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ফাস্ট ট্রাক প্রজেক্ট মনিটরিং কমিটির আগামী বৈঠকে এ বিষয়ে আলাপ আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

সূত্র জানায়, ২০১৩ সালে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) থেকে ফাস্ট ট্রাক মনিটরিং কমিটি গঠনের বিষয়ে একটি প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছিল। প্রস্তাব অনুযায়ী গঠন করা হয় এ কমিটি। এর সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই এবং সদস্যরা হলেনÑ অর্থমন্ত্রী, পরিকল্পনা মন্ত্রী, ভূমিমন্ত্রী, পরিবেশ ও বনমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মুখ্য সচিব, অর্থ বিভাগের সচিব, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব, বাস্তবায়ন, পরীবিক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সচিব, পরিকল্পনা সচিব এবং ফাস্ট ট্রাক প্রকল্প বাস্তবায়নকারী মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবরা। তারপরই মেগা ছয় প্রকল্প ফাস্ট ট্রাক প্রকল্প হিসেবে ঘোষণা করে সরকার। ফাস্ট ট্রাকভুক্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলো হচ্ছে, পদ্মা সেতু, সোনাদিয়া গভীর সমুদ্রবন্দর, এলএনজি টার্মিনাল, রামপাল বিদ্যুত কেন্দ্র, রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র ও মেট্রোরেল প্রকল্প। এখন নতুন যুক্ত হচ্ছে ১২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার আল্ট্রাসুপার ক্রিটিক্যাল কয়লাভিত্তিক মাতারবাড়ী বিদ্যুত কেন্দ্র।

মাতারবাড়ী বিদ্যুত কেন্দ্র প্রকল্পটি সম্পর্কে জানা গেছে, কয়লাভিত্তিক এ বিদ্যুত কেন্দ্রটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৫ হাজার ৯৮৪ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারী তহবিলের ৪ হাজার ৯২৬ কোটি ৬৬ লাখ, জাইকার অর্থায়ন ২৮ হাজার ৯৩৯ কোটি ৩ লাখ এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ২ হাজার ১১৮ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। প্রকল্পের প্রধান উপাদান দুটি ইউনিটে ৬শ’ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি স্টিম টারবাইন, সার্কুলেটিং কুলিং ওয়াটার স্টেশন স্থাপন, ২৭৫ মিটার উচ্চতার দুটি স্টেক, আবাসিক ও সামাজিক এলাকা গঠন, পানি শোধন ব্যবস্থা, সাব-স্টেশন, গভীর সমুদ্রে জেটি (বন্দর) কয়লা সংরক্ষণ এবং ব্যবস্থাপনা, এ্যাশ ডিসপোজাল এরিয়া এবং বাফার জোন নির্মাণ করা হবে। বিদ্যুত, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুত বিভাগের উদ্যোগে কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিপিজিসিবিএস) কক্সবাজার জেলার মহেশখালীর মাতারবাড়ী ও ধলঘাটা ইউনিয়নে জুলাই ১৪ হতে জুন ২৩ মেয়াদে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি মূল্যমানের এ উন্নয়ন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। প্রকল্পটির ব্যয় খাত সম্পর্কে জানা যায়, পাওয়ার প্ল্যান্ট (সিভিল), জেটি দুই কিলোমিটার লম্বা, ২৫০ মি. চওড়া এবং ১৮ মিটার গভীর চ্যানেল নির্মাণ বাবদ সাত হাজার ৯১ কোটি টাকা ব্যয় হবে। পাওয়ার প্ল্যান্ট বয়লার বাবদ আট হাজার ৩৭ কোটি টাকা, পাওয়ার প্ল্যান্ট টারবাইন ও জেনারেটর বাবদ চার হাজার ৫শ’ ৭৯ কোটি টাকা, পাওয়ার প্ল্যান্ট-এর কয়লা ও উৎপন্ন এ্যাশ ব্যবস্থাপনা বাবদ দুই হাজার ২শ’ ২৩ কোটি টাকা, ট্রায়েল রান বাবদ এক হাজার ৯শ’ ২৬ কোটি টাকা ব্যয় হবে। এছাড়াও টাউনশিপ উন্নয়ন বাবদ ২শ’ ২৫ কোটি, পরামর্শক খাতে ৫শ’ ৭ কোটি টাকা, ইনস্যুরেন্স, লোকাল ট্রান্সপোর্ট ও পোর্ট হ্যান্ডেলিং বাবদ এক হাজার ৭ কোটি টাকা, জমি অধিগ্রহণ রিসেটলমেন্ট প্ল্যান ও ভূমি উন্নয়ন বাবদ ৪শ’ ৮ কোটি টাকা, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন বাবদ এক শ’ কোটি টাকা, সিডি-ভ্যাট বাবদ এক হাজার ৭শ’ ২৬ কোটি টাকা, ইরেকশন, কমিশনের উপর ভ্যাট ও আয়কর বাবদ এক হাজার ১৮২ কোটি টাকা, পল্লী বিদ্যুতায়ন বাবদ ৭১ কোটি টাকা ব্যয় হবে। এ বিদ্যুত কেন্দ্রটি আল্ট্রা-সুপার ক্রিটিক্যাল টেকনোলজি সমৃদ্ধ হওয়ায় মূল বিদ্যুত কেন্দ্রের যন্ত্রপাতির দাম বেশি। এ বিদ্যুত কেন্দ্রে সাব-বিটুমিনাস কয়লা ব্যবহার করা হবে। এ কয়লার দাম বিটুমিনাস কয়লা অপেক্ষা কম হওয়ায় বিদ্যুতের দাম কম হবে। এ কয়লা ব্যবহারের কারণে বয়লারের ডিজাইন ভিন্নতর হবে যার জন্য বয়লারের দাম বেশি হবে। উপরিউক্ত ভিন্নতাসমূহ বিবেচনায় এ প্রকল্পের ব্যয়ের সঙ্গে অন্য কোন প্রকল্পের মেগাওয়াট প্রতি ব্যয় তুলনাযোগ্য নয়। সূত্র জানায়, ভবিষ্যতে এখানে আরও দুটি পাওয়ার প্ল্যান্ট করা হবে। এলএনজি টার্মিনাল হবে। মহেশখালীকে একটি পূর্ণাঙ্গ টাউনশিপ করা হবে। পরিবেশ অধিদফতর, এনভায়রনমেন্টাল ইমপ্যাক্ট এ্যাসেসমেন্ট সার্টিফিকেট দেয়ায় এর পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কা নেই। অপরদিকে এই পাওয়ার প্ল্যান্টটি থার্মাল এফিসিয়েন্সির দিক থেকে পৃথিবীর মধ্যে সর্বোচ্চ মানের। এর থার্মাল এফিসিয়েন্সি ৪১.৩ ভাগ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যেটা ৩৫ ভাগ, ভারতে ২৯ ভাগ, ইউকে, জার্মানি ও ফ্রান্সে ৩৮ ভাগ, এমনকি খোদ জাপানেও ৪০ ভাগ। জনগুরুত্বপূর্ণ ও দেশীয় অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ এ প্রকল্পের বাস্তবায়ন দ্রুত করতে ফাস্ট ট্রাকে যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত ফাস্ট ট্রাক প্রজেক্ট মনিটরিং কমিটির প্রথম সভা ২০১৩ সালের ১৬ জুন অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় গঠন করা হয় ফাস্ট ট্রাক প্রজেক্ট মনিটরিং টাস্কফোর্স, ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত বিধিবিধান ও কার্যাদি সংশোধন সম্পর্কিত কমিটি এবং ডিপিপি বা টিপিপি প্রণয়ন ও অনুমোদন প্রক্রিয়া সংশোধন সংক্রান্ত ফাস্ট ট্রাক কমিটি।

প্রকাশিত : ১১ নভেম্বর ২০১৪

১১/১১/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: