কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র ও আমাদের সংবিধান

প্রকাশিত : ১০ নভেম্বর ২০১৪
  • এম আমীর-উল ইসলাম

(৯ নবেম্বরের পর)

১৯৮৬ সালের ১১ নবেম্বর তারিখে প্রণীত সংবিধান (সপ্তম সংশোধন) আইন, ১৯৮৬ মারফত চতুর্থ সংসদ, ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ তারিখ থেকে ১৯৮৬ সালের ১১ নবেম্বর পর্যন্ত সকল সামরিক আইনের বৈধতা প্রদান করে। সুপ্রীমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ অবশ্য আবারও উক্ত সামরিক শাসন অবৈধ ঘোষণা করে সংবিধান (সপ্তম সংশোধন) আইন বাতিল করে। ১৯৮৮ সালের ৯ জুন তারিখে সংবিধান (অষ্টম সংশোধন) আইন, ১৯৮৮, মারফত প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম নির্ধারণ করা হয় এবং সংবিধানের ১০০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করত; হাইকোর্ট বিভাগের স্থায়ী বেঞ্চগুলো বাংলাদেশের বিভিন্ন শহরে স্থাপন করা হয়। সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগ অহধিৎ ঐড়ংংধরহ ঠ. এড়াবৎহসবহঃ ড়ভ ইধহমষধফবংয ১৯৮৯ ইখউ (ঝঢ়বপরধষ ওংংঁব) মোকদ্দমায় এর ০২-৯-১৯৮৯ তারিখের রায়ে সংবিধানের ১০০ অনুচ্ছেদের সংশোধন বাতিল ঘোষণা করে। অতঃপর, রাজধানীর বাইরে অবস্থিত হাইকোর্ট বিভাগের স্থায়ী বেঞ্চগুলো ঢাকায় প্রত্যাবর্তন করে।

সমগ্র বাংলাদেশে প্রচ- বিক্ষোভ ও দুর্বার গণআন্দোলনের মুখে লে. জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর তারিখে রাষ্ট্র্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করে। এর পূর্বে দলমত নির্বিশেষে সকল রাজনৈতিক দল ও জোট বাংলাদেশের তদানীন্তন প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমেদকে একটি নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের আহ্বান জানান। ইতোমধ্যে উপ-রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করে। উক্ত শূন্য পদে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমেদকে উপ-রাষ্ট্রপতি পদে নিয়োগ প্রদান করে ৬ ডিসেম্বর তারিখে তার নিকট রাষ্ট্রপতি এরশাদ পদত্যাগ করে। উক্ত তারিখেই দেশের তিনটি প্রধান রাজনৈতিক জোট ও দলের স্বতঃস্ফূর্ত আহ্বানে সাড়া দিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের উদ্দেশ্যে তদানীন্তন প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমেদ অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিরপেক্ষ সরকার পরিচালনার দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। অতঃপর ’৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে একটি সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ঐ নির্বাচনে একটি রাজনৈতিক দল নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে ’৯১-এর ২০ মার্চ সরকার গঠন করে।

উল্লেখ্য যে, আমেরিকার প্রধান বিচারপতি ‘মারবুরি বনাম মেডিসন’ মামলার রায়ে বলেছেন যে, ‘ঞযব ঢ়বড়ঢ়ষব যধাব ধহ ড়ৎরমরহধষ ৎরমযঃ ঃড় বংঃধনষরংয, ভড়ৎ ঃযবরৎ ভঁঃঁৎব মড়াবৎহসবহঃ, ংঁপয ঢ়ৎরহপরঢ়ষবং ধং, রহ ঃযবরৎ ড়ঢ়রহরড়হ, ংযধষষ সড়ংঃ পড়হফঁপব ঃড় ঃযবরৎ ড়হি যধঢ়ঢ়রহবংং. ঞযব বীবৎপরংব ড়ভ ঃযরং ড়ৎরমরহধষ ৎরমযঃ রং ধ াবৎু মৎবধঃ বীবৎঃরড়হ; হড়ৎ পধহ রঃ হড়ৎ ড়ঁমযঃ রঃ ঃড় নব ভৎবয়ঁবহঃষু ৎবঢ়বধঃবফ. ঞযব ঢ়ৎরহপরঢ়ষবং ঃযবৎবভড়ৎব, ংড় বংঃধনষরংযবফ, ধৎব ফববসবফ ভঁহফধসবহঃধষ. অহফ ধং ঃযব ধঁঃযড়ৎরঃু ভৎড়স যিরপয ঃযবু ঢ়ৎড়পববফ রং ঝঁঢ়ৎবসব, ধহফ পধহ ংবষফড়স ধপঃ, ঃযবু ধৎব ফবংরমহবফ ঃড় নব ঢ়বৎসধহবহঃ.’

১৯৬৬ সালের নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সংবলিত আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারনামা এবং অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকারের সংরক্ষণপুষ্ট আরেকটি অঙ্গীকারনামা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে গৃহীত হয়। এই অঙ্গীকারসমূহের প্রথম অনুচ্ছেদে ঘোষণা করা হয়েছে যে, ‘প্রত্যেক মানুষেরই আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার রয়েছে। সেই অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রত্যেকের স্বাধীনভাবে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক উন্নয়নের অধিকার স্বীকৃত।’ রাজনৈতিক ও নাগরিক অধিকারের এই আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারনামার ২৫ অনুচ্ছেদে ভোটের অধিকার অর্থাৎ স্বাধীন, অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে প্রশাসনে জনগণের অংশগ্রহণের অধিকার স্বীকৃতি পায়। এই অঙ্গীকারনামায় স্বাধীন ও অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সরকার গঠনের অধিকার স্বীকৃতি লাভ করে। তেমনি একইভাবে বাংলাদেশের সংবিধানের ৭ ও ১১ অনুচ্ছেদে সংবিধানের প্রাধান্য, মানবিক ও মানব সত্তার মর্যাদা, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার নিশ্চিত করার বিধানও প্রণীত হয়। জনগণের ক্ষমতা কার্যকর ও সচল রাখার প্রয়োজনে মত প্রকাশের, তথ্য জানার এবং বৈধ উদ্দেশ্যে সংগঠিত হবার অধিকার; পাশাপাশি সংবিধানের সপ্তম ভাগে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ‘প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ এবং জনগণের পক্ষে তার প্রয়োগ কেবল এই সংবিধানের অধীন ও কর্তৃত্বে কার্যকর হইবে’ বাস্তবায়ন সম্ভব। তাই এটা নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা সংবিধানে নিশ্চিত করা হয়। ১১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ‘প্রজাতন্ত্র হইবে গণতন্ত্র, যেখানে মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা থাকিবে, মানবসত্তার মর্যাদা ও মূল্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত হইবে এবং প্রশাসনের সকল পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হইবে।’

গণতন্ত্র ও মানবাধিকার নিশ্চিত করার জন্য রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে জনগণের স¤পদ ও মালিকানা এবং উৎপাদন ও বণ্টন প্রণালীসমূহ নিয়ন্ত্রণে জনগণের অধিকার এবং কৃষক, শ্রমিক ও জনগণের অনগ্রসর অংশসমূহকে শোষণ থেকে মুক্তির প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে। মানুষের মৌলিক প্রয়োজন নিশ্চিত করার জন্যে অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসাসহ জীবনধারণের মৌলিক উপকরণ নিশ্চিত করা এবং সামাজিক নিরাপত্তা ও বেকারত্ব থেকে মুক্তি এবং ব্যাধিগ্রস্ত, পঙ্গু, বিধবা, এতিম, বৃদ্ধ ও ভাগ্যহতদের জন্য রাষ্ট্রের বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ রয়েছে।

(চলবে)

প্রকাশিত : ১০ নভেম্বর ২০১৪

১০/১১/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: