কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

এ্যাপেকের সদস্য হতে আগ্রহী বাংলাদেশ ॥ বেজিং শীর্ষে রাষ্ট্রপতি

প্রকাশিত : ১০ নভেম্বর ২০১৪

এ্যাপেকের সদস্য হতে বাংলাদেশের গভীর আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ নতুন সদস্যভুক্তির ওপর থেকে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নেয়ার বিষয়টি এ্যাপেক বিবেচনা করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন।

রবিবার বেজিংয়ে এ্যাপেক সিইও শীর্ষ সম্মেলনের এক অধিবেশনে ভাষণে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে এ্যাপেকের সদস্য হওয়ার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। নতুন সদস্য নেয়ার ওপর থেকে এশিয়া প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন (এ্যাপেক) তার স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। খবর বাসসর।

এ অধিবেশন সঞ্চালনা করেন জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল এবং এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক এবং সামাজিক কমিশনের নির্বাহী সচিব ড. শামশাদ আক্তার। এতে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট ইউ থেইন সেইন, লাও পিডিআর’র প্রেসিডেন্ট চোমালি সায়াসোন, কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী সামডি আক্কা মোহা সেনা পাদেই টিহো হুন সেন এবং বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও সিইও’রা উপস্থিত ছিলেন।

আবদুল হামিদ বলেন, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকার বাংলাদেশের মতো নন-এ্যাপেক ও এ্যাপেক সদস্য দেশগুলোর টেকসই অর্থনীতি প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে শিক্ষা ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রস্তাবিত ‘ফ্রি ট্রেড এরিয়া অব দ্যা এশিয়া প্যাসিফিক (এফটিএএপি)’-এর ফলে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলের সৃষ্টি হবে, যা এ অঞ্চলে বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে। বাংলাদেশ এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে আগ্রহী। আবদুল হামিদ বলেন, সার্ক ও বিমস্টেক-এর আওতায় বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বৃহত্তর অবকাঠামো ও অর্থনীতি যোগাযোগের উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি বলেন, এর আওতায় বর্তমানে বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর (বিসিআইএম-ইসি) প্রতিষ্ঠার কাজ চলছে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ ইন্ডিয়ান ওশেন রিম এ্যাসোসিয়েশনে (আইওআরএ) সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশ আইওআরএ সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা জোরদারের অপেক্ষায় রয়েছে। এছাড়া সমুদ্র বিষয়ক খাতে এ অঞ্চলের ভারত, শ্রীলঙ্কা, সিঙ্গাপুর, ইউএই ও জাপানের মতো দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, এই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যের স্থান হিসেবে আবির্ভূত হতে আমরা দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে একটি গভীর সমুদ্রবন্দর এবং দক্ষিণাঞ্চলে তৃতীয় সমুদ্রবন্দর প্রতিষ্ঠায় আগ্রহী। বিশ্বের এ অঞ্চলে সিল্ক রোড ইকোনমিক বেল্ট এবং একুশ শতকের মেরিটাইম সিল্ক রুট পুনরুজ্জীবনে চীনের প্রেসিডেন্ট ঝি জিমপিং যে উদ্যোগ নিয়েছেন বাংলাদেশ তার প্রশংসা করছে।

তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সড়ক ও রেল যোগাযোগ সম্প্রসারণে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এছাড়া এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমান যোগাযোগ স্থল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে দেশের মধ্যাঞ্চলে বিশ্বমানের একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণেরও পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

আবদুল হামিদ বলেন, স্থায়ী বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে একটি কার্যকর মৌলিক সংস্কার অপরিহার্য। এ জন্য জোরালো রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রয়োজন রয়েছে। বাংলাদেশ এ ধরনের প্রক্রিয়ায় এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকার বন্ধু দেশগুলোর সঙ্গে অংশ নিতে প্রস্তুত। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বেশ কয়েক বছর ধরে বার্ষিক জিডিপি ৬ শতাংশের উপরে বজায় রেখেছে। এখানে প্রতিযোগিতামূলকভাবে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। এছাড়া বিপুল পরিশ্রমী তরুণ ও সহজলভ্য শ্রমশক্তিসহ সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগের জন্য উদার পরিবেশ বিরাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, জিডিপি ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের দিক থেকে বাংলাদেশ বর্তমানে অর্থনৈতিক দিক থেকে বিশ্বের প্রথম ৪৫টি দেশের মধ্যে রয়েছে।

মিয়ানমার শরণার্থী সমস্যা সমাধানের উপায় বের করুন ॥ রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ বলেছেন, মিয়ানমারের রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ বন্ধে একটি ফলপ্রসূ উপায় খুঁজে বের করতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের একসঙ্গে কাজ করা উচিত। কারণ এ অনুপ্রবেশ বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক সমস্যা সৃষ্টি করছে।

রবিবার বেজিংয়ে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট উ থেইন সেইনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠককালে রাষ্ট্রপতি বলেন, রাখাইন প্রদেশ থেকে বাংলাদেশে মিয়ানমার শরণার্থীদের অনুপ্রবেশ বাংলাদেশে ব্যাপক আর্থ-সামাজিক সমস্যা সৃষ্টি করছে এবং বান্দরবান ও কক্সবাজার জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানে উভয় দেশের উচিত একসঙ্গে কাজ করা।

বৈঠক শেষে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বাসসকে জানান, ১৯৯১-৯২ সাল থেকে বিপুলসংখ্যক মিয়ানমারের নাগরিক সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের ফলে সৃষ্ট মারাত্মক সমস্যা সম্পর্কে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টকে অবহিত করা হয়েছে। বৈঠকে দ্রুত প্রত্যাবাসনের মাধ্যমে বাংলাদেশে বসবাসরত শরণার্থীদের ফিরিয়ে নেয়ার জন্য মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রেস সচিব বলেন, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে আরও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার আশ্বাস দেন। রাষ্ট্রপতি মাদক উৎপাদন ও চোরাকারবারি প্রতিরোধে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বৈঠকে আবদুল হামিদ বলেন, বাংলাদেশ মিয়ানমার থেকে গ্যাস আমদানি করতে আগ্রহী। তিনি বাণিজ্যিক ব্যবধান কমিয়ে আনতে বাংলাদেশ থেকে ওষুধ ও পাটজাত পণ্য আমদানির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

রাষ্ট্রপতি উভয় দেশের মধ্যে সরাসরি সড়ক ও রেল যোগাযোগ স্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এতে স্বল্প খরচে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে পণ্য ও সেবা পরিবহন সহজ হবে।

বেজিংয়ে জাদুঘর পরিদর্শন করলেন রাষ্ট্রপতির সহধর্মিণী ॥ রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের সহধর্মিণী রাশিদা খানম রবিবার এখানে জাদুঘর পরিদর্শন করেছেন। এ সময় কানেকটিভিটি পার্টনারশিপ জোরদার শীর্ষক সংলাপে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের সহধর্মিণীরা তাঁর সঙ্গে ছিলেন।

প্রকাশিত : ১০ নভেম্বর ২০১৪

১০/১১/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

শেষের পাতা



ব্রেকিং নিউজ: