আংশিক মেঘলা, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৬ ডিসেম্বর ২০১৬, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

কুমিল্লায় পুলিশের সঙ্গে গুলিবিনিময়ে দুই সন্ত্রাসী নিহত

প্রকাশিত : ১০ নভেম্বর ২০১৪
  • পুলিশসহ আহত ৩ ॥ লুণ্ঠিত পিস্তলসহ তিনটি পিস্তল উদ্ধার

মীর শাহ আলম, কুমিল্লা, ৯ নবেম্বর ॥ কুমিল্লায় পুলিশের সঙ্গে গুলিবিনিময়ে রাব্বী ও জনি নামের দুই সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। পুলিশের দুই এসআই ও এক সন্ত্রাসীসহ ৩ জন আহত হয়েছে। এ সময় জেলা ডিবির এসআই ফিরোজকে গুলি করে লুণ্ঠিত সরকারী পিস্তল ও সন্ত্রাসীদের ব্যবহৃত অত্যাধুনিক আরও দু’টি বিদেশী পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। রবিবার সকাল সাড়ে দশটায় ঢাকা-চট্টগ্রাম জেলার আদর্শ সদর উপজেলার আলেখারচর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, নগরীর তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী-ছিনতাইকারী বেলাল ওরফে বড় সুমন ওরফে জিরা সুমনের নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারীরা গত বৃহস্পতিবার দিনে-দুপুরে নগরীর ঝাউতলা এলাকায় ডিবির এসআই ফিরোজ হোসেনকে গুলি করে ও এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে তার ব্যবহৃত পিস্তলটি লুটে নেয়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার আদর্শ সদর উপজেলার অশোকতলা ছায়াবিতান এলাকার শাহজাহান ওরফে সাজুর পুত্র বেলাল ওরফে বড় সুমন ওরফে জিরা সুমন (২৮), দৌলতপুরের বাবুলের পুত্র রাব্বী (২৫), অশোকতলার মৃত কালু মিয়ার পুত্র জনি (২৫), ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার চোব্বাশ গ্রামের ইদ্রিস মিয়ার পুত্র সবুজকে (২৫) আসামি করে মামলা দায়ের করে। ঘটনার পর থেকে জেলা পুলিশের ২৪ টিম লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার ও আসামিদের গ্রেফতারে মাঠে নামে। রবিবার জেলা ডিবির ওসি মনিরুল ইসলাম পিপিএম, এসআই ইকবাল বাহার, এসআই শাহ কামাল আকন্দ, এসআই সহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের আলেখারচর এলাকায় অবস্থান নেয়। দু’টি মোটর সাইকেলযোগে ৬ জনের সন্ত্রাসী দল জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকা থেকে ঢাকা অভিমুখে যাওয়ার পথে আলেখারচর এলাকায় পুলিশ তাদের ব্যারিকেড দেয়। এ সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে সন্ত্রাসীরা এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করতে থাকলে পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। এ সময় পুলিশ ১৬ রাউন্ড শটগানের ও ১০ রাউন্ড পিস্তলের গুলি ছোড়ে। দু’পক্ষের মধ্যে গুলিবিনিময়ের ঘটনায় সন্ত্রাসী রাব্বী, জনি ও ফেনী সদরের উত্তর বিরিঞ্চি গ্রামের তাজুল ইসলামের পুত্র শাহাদাত হোসেন ওরফে দুলাল (২০) আহত হয়। আহত সন্ত্রাসী রাব্বীকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর মারা যায়। গুলিবিদ্ধ অপর সন্ত্রাসী জনি ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল সোয়া ৩টায় মারা যায়। এছাড়া এ ঘটনায় আহত ডিবির এসআই সহিদুল ইসলাম (৩৪), এএসআই নজরুল ইসলামকে (৩২) কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সন্ত্রাসীদের ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল, দু’টি পিস্তল ও ৭ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে এবং অপর মোটরসাইকেলযোগে ৩ সন্ত্রাসী পালিয়ে যায়। পুলিশ সুপার টুটুল চক্রবর্তী দুপুরে এক ব্রিফিংয়ে জানান, ডিবির এসআই ফিরোজের কাছ থেকে ছিনতাইকৃত পিস্তলটি নিহত সন্ত্রাসী রাব্বীর কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। পলাতক সন্ত্রাসী জিরা সুমনসহ তার অপর সঙ্গীদের ধরতে বিভিন্ন স্থানে পুলিশের একাধিক টিমের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

প্রকাশিত : ১০ নভেম্বর ২০১৪

১০/১১/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

প্রথম পাতা



ব্রেকিং নিউজ: