মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২১.১ °C
 
১১ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

বোকো হারামের বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রতিরোধ

প্রকাশিত : ৯ নভেম্বর ২০১৪

ইসলামপন্থী জঙ্গী দল বোকো হারাম এপ্রিল মাসে নাইজেরিয়ার চিবুক থেকে প্রায় তিনশ’ স্বুলছাত্রীকে অপহরণ করে। আব্বা আজি কালি দেখলেন তার দেশ যেন উম্মাদনায় ছেয়ে গেছে। কালি বর্নো প্রদেশের রাজধানী মাইদুগুরির বাসিন্দা। ১০ লাখ মানুষ অধ্যুষিত উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় এ দরিদ্র শহরটি চিবুক থেকে মাত্র ৮০ মাইল দূরে অবস্থিত। স্কুলছাত্রী অপহরণের আগে শরণার্থীতে ভরে যায় মাইদুগুরি। পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোতে বোকো হারাম হামলা চালাত। এতে ভয়ে তারা পালিয়ে আসত। জঙ্গীরা মোটরসাইকেল ও টয়োটা হিলাক্স ট্রাকে করে এসে আক্রমণ শুরু করত। কখনও আসত গভীর রাতে কখনও বা প্রকাশ্য দিনের বেলায়। তারা ধ্বংস করত বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। ধ্বংস করত এবং গ্রামবাসীদের হত্যা করত। স্কুলছাত্রী অপহরণের একমাস পর অর্থাৎ মে মাসে বিদ্রোহীরা মাইদুগুরির কাছাকাছি চলে আসে। তারা সেখানকার শহর ও গ্রাম ঘিরে ফেলে হামলা চালায়। ওই স্থান থেকে মাইদুগুরির দূরুত্ব প্রায় কাছাকাছি।

এ ঘটনায় কালি শান্ত ও অবিচল থাকার চেষ্টা করেন। কিন্তু তিনি উদ্বেগমুক্ত হতে পারছিলেন না। কিন্তু কেন সেনাবাহিনী নাগরিকদের নিরাপত্তা দিচ্ছিল না তার মনে এ ধরনের প্রশ্নের উদ্রেক হয়। কালি একজন কর্মোদ্যম ও ভদ্র ধাঁচের ৫০ বছর বয়সী সচেতন ব্যক্তি। তিনি একজন সরকারি হিসাবনিরীক্ষক। এছাড়া তিনি দেশটির সিভিলিয়ান জয়েন্ট টাক্স ফোর্সের (জেটিএফ) একজন ইউনিট কমান্ডারও। বোকো হারামের জঙ্গীদের মোকাবেলায় হাজার হাজার ভিজিলেন্ট ব্যাটালিয়নের সমন্নয়ে এ টাক্স ফোর্স ২০১৩ সালে গঠিত হয়। সিভিলিয়ান জেটিএফ নামে পরিচিত এ বাহিনী বিভিন্ন পেশাজীবী, সরকারী চাকরিজীবী, ছাত্রছাত্রী ও ব্যবসায়ীদের নিয়ে গঠন করা হয়। এ বাহিনী ভারি ছুরি, স্থানীয় বন্দুক ও হাতে তৈরি অন্যান্য অস্ত্র ব্যবহার করে বোকো হারামকে মোকাবেলা করে থাকে। কালি এ বাহিনীর আট হাজার সদস্য নিয়ে গঠিত ইউনিটের নেতৃত্ব দেন। বোকো হারামের বিরুদ্ধে সামরিক বাহিনী কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়ায় এ জঙ্গী গোষ্ঠী মোকাবেলার দায়িত্ব সিভিলিয়ান জেটিএফ-এর ওপরই পড়ে। এ ব্যাপারে কালি বলেন, বোকো হারামের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আমরা দায়বদ্ধ। এক বছর আগে মাইদুগুরি থেকে বোকা হারামকে বিতাড়িত করার বড় কৃতিত্ব সিভিলিয়ান জেটিএফ-এর। সিভিলিয়ান জেটিএফ সংক্ষিপ্ত বিচারও করে থাকে। এছাড়া সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও যুবক যারা বোকো হারামে যোগ দিয়েছে মনে করা হয় তাদের শনাক্ত ও সরকারী বাহিনীর হাতে তুলে দেয় সিভিলিয়ান জেটিএফ।

সিভিলিয়ান জেটিএফ নাইজেরিয়ার সেনাবাহিনী, পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত জয়েন্ট টাক্স ফোর্সের সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করে থাকে। তবে সন্ত্রাস দমন করতে গিয়ে জয়েন্ট টাক্স ফোর্সের বিরুদ্ধে নির্বিচারে গণহত্যার অভিযোগ রয়েছে। সূত্র- ইন্টারন্যাশনাল নিউইর্য়ক টাইমস।

প্রকাশিত : ৯ নভেম্বর ২০১৪

০৯/১১/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: