কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

স্বাস্থ্য খাতে উল্লেখযোগ্য অর্জনের পাশাপাশি অনিয়ম, দুর্নীতি আছে

প্রকাশিত : ৭ নভেম্বর ২০১৪
  • টিআইবির গবেষণা প্রতিবেদন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের উল্লেখযোগ্য অর্জন এবং সরকারের গৃহীত ইতিবাচক পদক্ষেপসমূহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। তবে এই খাতে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ও বেশ লক্ষ্যণীয়। এতে স্বাস্থ্যসেবার মান এবং স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক সরকারী ও বেসরকারী কার্যক্রমের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা হ্রাস পায়। স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলো মুনাফা অর্জনের কারখানায় পরিণত হয়। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) পরিচালিত ‘স্বাস্থ্য খাতে সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। এই প্রতিবেদনে গবেষণালব্ধ ফলাফলের ভিত্তিতে টিআইবি ১৭ দফা বাস্তবায়নযোগ্য সুপারিশ তুলে ধরেছে। বৃহস্পতিবার গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে রাজধানীর মহাখালীর হোটেল অবকাশে টিআইবি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান, উপনির্বাহী পরিচালক ড. সুমাইয়া খায়ের, সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার (রিসার্চ এ্যান্ড পলিসি) শাহজাদা এম আকরাম ও প্রোগ্রাম ম্যানেজার (রিসার্চ এ্যান্ড পলিসি) তাসলিমা আক্তার। গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে সম্পৃক্ত সকলের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য নীতিমালা বা আইন প্রণয়নের কথা বলা হলেও তা গ্রহণে উদ্যোগের অভাব রয়েছে। বেসরকারী পরীক্ষা-নিরীক্ষাসহ অন্যান্য চিকিৎসা ব্যয় সহনীয় পর্যায়ে রাখার ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। দোষী ডাক্তারদের নিবন্ধন বাতিল সম্পর্কে নির্দেশনা থাকলেও তার বাস্তবায়ন খুবই সীমিত। চিকিৎসকদের অবহেলার কারণে কোন রোগীর মৃত্যু বা ক্ষতি হলে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে আইনী সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বেসরকারী ক্লিনিকগুলোতে নিয়মিত পরিদর্শন করা হয় না। স্বাস্থ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানভেদে মূল্যের ব্যাপক তারতম্য এবং অতিরিক্ত ফি আদায়ের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয় না।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য সেক্টরে জনবল ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন খাতে নিয়ম বহির্ভূত অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতি কার্যক্রমে বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেন হয়ে থাকে। একজন এ্যাডহক চিকিৎসকের জন্য ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা এবং তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীর জন্য ১ থেকে ৫ লাখ টাকা লেনদেন হয়। আর প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ঢাকা এবং ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলায় বদলির জন্য লেনদেন হয় ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা। ডিপিসির মাধ্যমে পদোন্নতির জন্য খরচ করা হয় ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা। সুবিধাজনক স্থানে দীর্ঘদিন অবস্থানের জন্য আড়াই লাখ টাকার বেশি লেনদেন হয়ে থাকে। প্রয়োজনের তুলনায় মানবসম্পদের স্বল্পতা রয়েছে।

প্রকাশিত : ৭ নভেম্বর ২০১৪

০৭/১১/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: