কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, সোমবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

বটমূলে বোমা হামলার ফাঁসির আসামি আবুবকর আটক

প্রকাশিত : ৭ নভেম্বর ২০১৪
  • ধরা পড়েছে আনসারুল্লাহ বাংলাটিমের মিডিয়া প্রধান মোরশেদ

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ রমনা বটমূলে বোমা হামলা মামলায় ফাঁসির দ-াদেশপ্রাপ্ত আবুবকর সিদ্দিক ওরফে হাফেজ সেলিমকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে বুধবার রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আবুবকর সিদ্দিক ওরফে হাফেজ সেলিম হাওলাদার নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গী সংগঠন হরকত-উল-জিহাদের (হুজি) সক্রিয় সদস্য এবং হুজি প্রধান মুফতি হান্নানের অন্যতম সহযোগী। আবুবকর ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলারও চার্জশীটভুক্ত আসামি। চার্জশীটে উল্লেখ করা হয়েছে, জঙ্গীবাদবিরোধী অবস্থানের কারণে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ হয়ে শেখ হাসিনাকে হত্যার ষড়যন্ত্র হয়। বিএনপি নেতা আব্দুস সালাম পিন্টু মুফতি আবদুল হান্নান ও আহসানউল্লাহ প্রকাশ কাজলকে ডেকে সেদিনের পত্রিকায় প্রকাশিত আওয়ামী লীগের জনসভার সংবাদ দেখিয়ে সেই জনসভায় গ্রেনেড বিস্ফোরণের নির্দেশ দেয়।

র‌্যাবের এডিজি কর্নেল জিয়াউল আহসান জনকণ্ঠকে বলেন, ২০০৪ সালের একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা ঘটনার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত হুজি জঙ্গী আবুবকর। ঘটনার দিন আবুবকর নিজে গ্রেনেড ছুঁড়ে মারে। এরপর বেশ কিছুক্ষণ বায়তুল মোকাররম মসজিদে নামাজ পড়ার ভান করে লুকিয়ে থেকে পরবর্তীতে আত্মগোপনে চলে যায় । হুজি জঙ্গীরা ‘হাই ভ্যালু টার্গেট’ নিয়ে মাঠে নেমেছে। কর্নেল জিয়া আরও বলেন, ১৯৯২ সাল থেকে কয়েকবার মুফতি হান্নানের সঙ্গে আফগানিস্তানে গিয়ে আল কায়েদা থেকে জিহাদী প্রশিক্ষণ নিয়েছে জঙ্গী আবুবকর সিদ্দিক।

র‌্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আবুবকর জানান, গোপালগঞ্জ টুঙ্গীপাড়ার গওহরডাঙ্গা হাফিজিয়া মাদ্রাসায় লেখাপড়া করার সময় মুফতি হান্নানের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে এই জঙ্গী নেতার সঙ্গে আবুবকরের সম্পর্ক আরও গভীর হয়। মুফতি হান্নান তার আফগানিস্তানে জিহাদে অংশ নেবার কথা বলে তাদের জঙ্গীবাদে দীক্ষা দিতেন। ১৯৯২ সাল থেকে অনেকবার তারা একসঙ্গে আফগাসিন্তান গেছে বলে জনকণ্ঠকে জানান, র‌্যাবের উপমহাপরিচালক কর্নেল জিয়াউল আহসান। রমনা বটমূলে বোমা হামলা ও ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় জড়িত আবুবকর রমনা বটমূলের বোমা হামলা ঘটনায় সম্পৃক্ততার কথা গণমাধ্যমের সামনে অস্বীকার করেন।

র‌্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান বৃহস্পতিবার দুপুরে র‌্যাব সদর দফতরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। ২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানে হুজির জঙ্গীরা ছায়ানটের অনুষ্ঠান চলাকালে হুজি জঙ্গীরা বোমা হামলা করে। রমনা বটমূলে সেই বোমা বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলে সাতজন ও হাসপাতালে তিনজন মারা যান। আহত হয়েছেন আরও অনেকে।

র‌্যাবের জঙ্গী সেলের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার রাত আড়াইটার দিকে র‌্যাব-১০ এর সদস্যরা রমনা বটমূলে বোমা হামলা ও বঙ্গবন্ধু এ্যাভিনিউতে গ্রেনেড হামলা মামলার আসামি আবুবকর সিদ্দিক ওরফে হাফেজ সেলিম হাওলাদারকে কেরানীগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করে। বরিশাল সদর থানার চর আবদানি গ্রামের মৃত আবদুর রাজ্জাক হাওলাদারের ছেলে আবুবকর একুশে আগস্টের ঘটনার পর সেলিম হাওলাদার নাম নিয়ে বিভিন্ন মাদ্রাসায় জঙ্গীবাদ প্রচারের কাজ করতে থাকে। ‘সেলিম হাওলাদার’ নামে পাসপোর্টও তৈরি করে আবুবকর।

এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আদালত ১৪ জন আসামির মধ্যে আটজনকে ফাঁসি ও ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদ- প্রদান করেন। ফাঁসির দ-প্রাপ্ত আট আসামির মধ্যে পাঁচজনই ঘটনার পর থেকে পলাতক ছিল। এরপর ২০০৪ সালে হুজির জঙ্গীদের নেতৃত্বে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে টার্গেট করে বঙ্গবন্ধু এ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের জনসভায় ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় আওয়ামী লীগের ২৪জন নেতাকর্মী নিহত হন। আহত হন আরও শতাধিক। আহত হলেও অলৌকিকভাবে বেঁচে যান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রমনা বটমূলের বোমা হামলার মামলার রায় ঘোষণা করা হয় গত ২৩ জুন। বোমা হামলা ঘটনার ১৩ বছর পর ঘোষিত রায়ে রমনার বটমূলে বোমা হামলা করে নিরীহ মানুষ হত্যার দায়ে মুফতি আব্দুল হান্নানসহ আট জনের ফাঁসির আদেশ দেয় আদালত। মৃত্যুদ-প্রাপ্ত আটজনের একজন আবুবকর সিদ্দিক। আবুবকরসহ পাঁচ আসামি পলাতক ছিল। অন্যদের গ্রেফতারেও র‌্যাব তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে বলে জানান মুফতি মাহমুদ খান।

নিষিদ্ধ জঙ্গী সংগঠন হুজির শীর্ষ নেতা মুফতি হান্নানের অন্যতম সহযোগী আবুবকর সিদ্দিক র‌্যাব হেফাজতে গণমাধ্যমের সামনে স্বীকারোক্তি দিয়েছে ২১ আগস্ট হুজি প্রধান মুফতি হান্নানের নির্দেশে আওয়ামী লীগের সমাবেশে হুজি জঙ্গীরা বোমা হামলা করে। আবুবকর সেদিন সকালে হুজি জঙ্গী কাজল আহমেদের ফোন পেয়ে কেরানীগঞ্জ থেকে ঢাকায় এসে গুলিস্তানে নামে। জানা যায়, হুজি জঙ্গীরা সেসময়ে ওলামা লীগের সঙ্গে মিছিল করে সমাবেশে যোগ দেয়। ২০০১ সালে পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানে জঙ্গী বোমা হামলায় ১০ জন নিহত হন। ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় চলতি বছর জুন মাসে মুফতি হান্নান, আবুবকরসহ আটজনের মৃত্যুদ- এবং ছয়জনের যাবজ্জীবন কারাদ- দেয় আদালত।

এদিকে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের মিডিয়া প্রধান মোরশেদ আলমকে গ্রেফতার করেছে মহানগর গোয়েন্দা শাখা। নীরবে হত্যার কৌশল, তাগুতকে বর্জন করো, নাস্তিক ব্লগার চক্র ও তাদের সমর্থনকারী মুরতাদ সরকারের ব্যাপারে আমাদের করণীয়, গণতন্ত্র ধ্বংস হোকÑ এরকম রাষ্ট্রদ্রোহী এবং জঙ্গী মতবাদ প্রচারের জন্য ১১৭টি ওয়েবসাইট নিয়ন্ত্রণ করে জেহাদী প্রচার চালাত মাসুম। বালাকোট মিডিয়া, তিতুমির মিডিয়া, আনসারুল্লাহ বাংলা মিডিয়া, আল-কাদিসিয়া মিডিয়া নামে বিভিন্ন মিডিয়া হাউস তৈরি করে জঙ্গীবাদ প্রচার করত মাসুম। পাকিস্তানে ওমর নামে এক জঙ্গী নেতার মাধ্যমে আল কায়েদার নির্দেশনা অনুসরণ করত মাসুম। ওমর সিরিয়ার যুদ্ধে নিহত হয়েছে। তাদের আরেক সহযোগী সাইফুলকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। এ তথ্য জানিয়ে মহানগর গোয়েন্দা শাখার যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, তাকে গ্রেফতার করা আমাদের জন্য একটা বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। তিনি জানান, মোরশেদ আলম মোবাইল ফোন কোম্পানি বাংলালিংকের মোবিসার্ভে অপারেশন এ্যান্ড মেইনটেনেন্স বিভাগে ইঞ্জিনিয়ার পদে চাকরি করে। আল কায়েদা প্রধান জাওয়াহিরির বক্তব্যসহ আল কায়েদার বক্তব্য এবং বিভিন্ন জঙ্গী মতবাদ বাংলায় অনুবাদ করার কাজ করে মোরশেদ আলম প্রকাশ মাসুম।

আনসারুল্লাহ বাংলাটিমের প্রধান জসীমউদ্দিন রাহমানীসহ এই জঙ্গী দলের ১০ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় ১৬ সেপ্টেম্বর অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ। গত বছর ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দারকে হত্যার মধ্য দিয়ে আলোচনায় উঠে আসে উগ্রপন্থী সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলাটিম। ওই ঘটনায় জড়িতদের ২০১৩ সালের শেষ দিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তারপরও থেমে থাকেনি তাদের তৎপরতা। মুফতি জসীমউদ্দীন রাহমানী এ সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান। ২০০৪ সালে রিসার্চ সেন্টার ফর ইউনিটি এ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আরসিইউডি) নামে একটি এনজিওর নিবন্ধন নেন সাবেক শিবির নেতা এবং জামায়াতের অন্যতম সংগঠক মুফতি জসীমউদ্দীন রাহমানী। রাজধানীর হাজারীবাগে একটি অফিসও খুলে বসেন তিনি। বেকার যুবকদের প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানে সহায়তায় ওই এনজিওর কার্যক্রম চালানোর কথা থাকলেও এটিই হয়ে ওঠে দুর্ধর্ষ জঙ্গী তৈরির আঁতুড়ঘর। সংস্থাটির অধীনে প্রশিক্ষিত জঙ্গীদের পাঠানো হয় ইয়েমেন, পাকিস্তান, আফগানিস্তানসহ এমন কয়েকটি রাষ্ট্রে। একপর্যায়ে আরসিইউডির যুদ্ধফেরত জঙ্গীদের নিয়ে বাংলাদেশেই সশস্ত্র জিহাদের লক্ষ্যে গঠন করা হয় কঠোর উগ্রপন্থী সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলাটিম। এর আগে তারা জামায়াতুল মুসলিমিন নামে একটি জঙ্গী সংগঠন গড়ার চেষ্টা করে। জসীমউদ্দিন রাহমানী কারাগারে বন্দী থাকলে মাসুম আনসারুল্লাহ বাংলাটিমের প্রচার প্রচারণার দায়িত্ব নেয়। আল জাওয়াহিরির আবেদনে সাড়া দিয়ে মাসুম আল জাওয়াহিরির বক্তব্য বাংলায় অনুবাদ করে। এছাড়া পাকিস্তানী নাগরিকদের জন্যে পশতু ভাষায়ও জেহাদী প্রচারণা চালাত মাসুম। পাকিস্তান ভিত্তিক ফোরাম ‘বাবউল ইসলাম’ ও ‘আনসারুল্লাহ বাংলা’-এর বাংলা বিভাগের মডারেটর মোরশেদ আলম (২৮) ওরফে মাসুমকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। ৫ নবেম্বর রাতে তাকে মহানগরীর কল্যাণপুর এলাকা হতে গ্রেফতার করা হয়েছে। আল কায়েদা নেতা জাওয়াহিরির সদ্য প্রকাশিত জিহাদের মাধ্যমে ইসলামী শাসনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মতবাদসহ আরবী, উর্দু ও ইংরেজী ভাষার বিভিন্ন পোস্ট বাংলায় অনুবাদ করে তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশ ও প্রচার করে অছওঝ-এর জন্য মুজাহিদ সংগ্রহে বিস্তারিত পরিকল্পনা গ্রহণ করাই তার ও তার সহযোগীদের উদ্দেশ্য ছিল।

গ্রেফতারের আগ পর্যন্ত মোরশেদ আলম প্রকাশ মাসুম প্রকাশ ট্রাক্টর ২০১১ সালে ইস্ট-ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং করে বাংলালিংক মোবাইল কোম্পানির মোবিসার্ভে অপারেশন এ্যান্ড মেইনটেইনেন্স বিভাগে নক ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে কর্মরত ছিলেন।

জিজ্ঞাসাবাদে মাসুম জানিয়েছে, তার সহযোগীদের নিয়ে মাসুম ‘বালাকোট মিডিয়া’, ‘তিতুমীর মিডিয়া’, ‘আনসারুল্লাহ বাংলা মিডিয়া’, ‘আল-কাদিসিয়া মিডিয়া’ নামে জিহাদী কার্যক্রম প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে বিভিন্ন ধরনের অডিও ভিডিও বক্তব্য তৈরি করে বাবউল ইসলাম ফোরাম, আনসারুল্লাহ বাংলা ও দাওয়াহ্ ইলাল্লাহ্ ওয়েবপেইজ, ওয়ার্ড প্রেস, ফেসবুক, টুইটার, ইউ টিউব ও আল-আনসার বাংলা ম্যাগাজিনসহ বিভিন্ন ব্লগে বিভিন্ন টংবৎহধসব ব্যবহার করে উগ্র সাম্প্রদায়িক বক্তব্য পোস্ট করে। জিহাদের মাধ্যমে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারকে উৎখাত করার রাষ্ট্রদ্রোহী বক্তব্য প্রচার করে তারা। এ ধরনের জঙ্গী বক্তব্য প্রচার করে মুজাহিদ সংগ্রহের চেষ্টা করে মাসুম। তাদের বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ‘দাওয়া ইলাল্লাহ ফোরামে রেজিস্ট্রেশন চলছে’, ‘কিভাবে বসে থাকা সম্ভব’, ‘কেন আমি আল কায়েদাহকে বাছাই করলাম’, ‘নীরবে হত্যার কৌশল’, ‘শরিয়ত নাকি গণতন্ত্র’, ‘তাগুতকে বর্জন কর’, ‘গণতন্ত্র ধ্বংস হোক’, ‘নাস্তিক ব্লগার চক্র ও তাদের সমর্থনকারী মুরতাদ সরকারের ব্যাপারে আমাদের করণীয়’ ইত্যাদি বক্তব্য তৈরি ও প্রচার করে এই সরকার, সরকারের প্রশাসনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টির অপচেষ্টা করেছেন। সম্প্রতি আল কায়েদার আমির আয়মান আল জাওয়াহিরি (অখ ছঅওউঅঐ ওঘ ওঘউওঅঘ ঝটই-ঈঙঘঞওঘঊঘঞ- (ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও বর্মা) এর মাধ্যমে যুদ্ধ প্রশিক্ষণ শেষে এশিয়া মহাদেশের দেশসমূহে সশস্ত্র জিহাদের মাধ্যমে ইসলামিক শাসনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যুদ্ধ/জিহাদ করার মতবাদ প্রচার করে মাসুম, যা বিপুল অর্থের বিনিময়ে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রকাশ ও প্রচারের ব্যবস্থা করে। জাওয়াহিরির সদ্য প্রকাশিত বক্তব্যের বাংলায় অনুবাদ করে তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশ ও প্রচার করে অছওঝ-এর জন্য মুজাহিদ সংগ্রহে বিস্তারিত পরিকল্পনা গ্রহণ করে মাসুম। একই সঙ্গে মাসুম ও তার সহযোগীরা ঝড়সবযিবৎবরহ নষড়ম, অসৎধনষড়মসহ বিভিন্ন আধুনিক ও প্রগতিশীল ব্লগে ছদ্মনামে এ্যাকাউন্ট করে টার্গেট করে কিছু প্রগতিশীল মানুষকে । এর পর তাদের নামে ইসলাম ধর্ম ও হযরত মোহাম্মদ (সা) সম্পর্কে কটূক্তিকারী অপবাদ দিয়ে সেই ব্লগারদের নাম-ঠিকানাসহ যাবতীয় তথ্য তাদের অপারেশনাল টিমকে দেয়। ইতোমধ্যে আনসারুল্লাহ বাংলাটিমের ‘অপারেশনাল টিম’ ব্লগার রাজীব হায়দারকে হত্যা এবং ব্লগার আসিফ মহিউদ্দিন, দীপ আজাদ ও রাকিব মামুনকে হত্যার চেষ্টা করে মারাত্মক আহত করেছে। এই জঙ্গীরা প্রত্যেকে আধুনিক শিক্ষায় উচ্চশিক্ষত এবং উচ্চ প্রযুক্তিতে দক্ষ। কৌশলগত কারণে চৎড়ঃবপঃবফ ঃবীঃ. পড়স/সফধ, ঋধৎসযড়ঁংবসহ বিভিন্ন ব্লগে ছদ্ম নামে এ্যাকাউন্ট করে ঊহপৎুঢ়ঃবফ সবংংধমব-এর মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান করে তারা। ১১৭টি ফেসবুক এ্যাকাউন্ট খুলে ১১৭টি পাসওয়ার্ড দিয়ে সেসব এ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেছে বলে স্বীকার করেছে মাসুম। তার প্রতিটি পাসওয়ার্ড একটি মেইল বক্সে সেভ করে রেখেছে বলে গোয়েন্দা কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম জানান। মাসুমের সঙ্গে তার একটি সচল এইচপি ল্যাপটপ, একটি নকিয়া এন-৭৫ মডেলের সচল মোবাইল ফোনসেট, (নং-০১৯১১-৯৬০৫৪৬) একটি সচল অঝটঝ উঠউ চখঅণঊজ, একটি প্রিন্টার সফট্ওয়্যার সমৃদ্ধ সিডি, একটি ভিডিও সিডি ‘দি মেসেজ বাংলা’,একটি বই ‘যে ঘটনায় ঈমান মিলে’ লেখক মুফ্তি আমীনুল হক, একটি বই ‘আপন ঘর বাঁচান’ লেখক জাস্টিস মওলানা মোহাম্মাদ তাকী উসমানী, একটি বই ‘ছিলাহুল মু’মিন’-লেখক মুহাম্মাদ আবু ইউসুফ আলামত হিসাবে জব্দ করেছে। উপ-পুলিশ কমিশনার, ডিবি (পশ্চিম) শেখ নাজমুল আলম পিপিএম (বার) এর দিক নির্দেশনায় অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম পিপিএম-এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে সহকারী পুলিশ কমিশনার এ.কে.এম. মাহবুবুর রহমান পিপিএম ও সহকারী পুলিশ কমিশনার মহরম আলী অভিযান পরিচালনা করেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

মহানগর গোয়েন্দা সংস্থার আবেদনের প্রেক্ষিতে আনসারুল্লাহ বাংলাটিমের মিডিয়া প্রধান মোার্শেদ আলম ওরফে মাসুমের ৫দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম মোহাম্মদ হাসিবুল হক। রিমান্ডের আবেদনে পুলিশ আদালতকে জানায়, সারা বিশ্বের বিভিন্ন জঙ্গী সংগঠনের সঙ্গে মাসুমের যোগাযোগ রয়েছে। দেশে তাদের কত সদস্য সক্রিয় এবং তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হলে তাকে রিমান্ডে নেয়া জরুরী।

প্রকাশিত : ৭ নভেম্বর ২০১৪

০৭/১১/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: