রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৮ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, বৃহস্পতিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

পোনা উৎপাদনে সফলতা দাবি করা হলেও কেনা হয় বাইরে থেকে

প্রকাশিত : ৪ নভেম্বর ২০১৪

সান্তাহার বামগই হালচালÑশেষ

নিজস্ব সংবাদাদাতা, সান্তাহার, ৩ নবেম্বর ॥ বগুড়ার সান্তাহার প্লাবন ভূমি উপকেন্দ্র-বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের ইনচার্জ নিলুফা বেগমের বিরুদ্ধে কুঁচিয়া গবেষণা প্রকল্পেও গবেষণার নামে অর্থ লোপাটের অভিযোগ উঠেছে। ভেদা মাছ প্রকল্পের মতো এ প্রকল্পটিও মুখ থুবড়ে পড়ার উপক্রম।

জানা গেছে, ৩ বছর ধরে কৃত্রিম উপায়ে কুঁচিয়ার প্রজনন ও হ্যাচিং বিষয়ে একটি গবেষণা প্রকল্পের কাজ চলছে। এই প্রকল্পের ফিল্ড হ্যাচারিতে সম্প্রতি কৃত্রিম উপায়ে কুঁচিয়া পোনা উৎপাদনে তিনি ব্যাপক সফলতা অর্জন করেছেন বলে দাবি করলেও বাস্তবে তার কোন প্রমাণ মেলেনি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কৃত্রিম উপায়ে নয়; কেন্দ্রের পুকুরে প্রাকৃতিক উপায়ে সফলতা মিলেছে। কেন্দ্রের ফিল্ডের পাশে ৩টি চৌবাচ্চায় রাখা কুঁচিয়া পোনাগুলো গবেষণার মাধ্যমে কৃত্রিম উপায়ে উৎপাদন করেছেন বলে গবেষণাগারের প্রধান নিলুফা বেগম দাবি করলেও একটি সূত্রে জানা গেছে পোনাগুলো উপজেলার কুঁচিয়া ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে কিনে এনে রাখা হয়েছে।

গবেষণার কাজে কুঁচিয়া সরবরাহ এবং সার্ভে কাজে সহযোগিতাকারীরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, শুরু থেকে এ পর্যন্ত কুঁচিয়া প্রকল্পে যে কাজ হয়েছে তাতে বড়জোড় ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। কারণ হিসেবে সূত্র বলে, তিন বছরে পুরুষ ও নারী এবং পোনা কুঁচিয়া কিনেছেন ১০-১২ মণ। যার মোট মূল্য দেড় লাখ টাকার বেশি নয়। এছাড়া সার্ভে করার জন্য নওগাঁ, নাটোর, সিরাজগঞ্জ, পাবনা এবং বগুড়া জেলায় কুঁচিয়া শিকারি ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ, স্থির ও ভিডিওচিত্র ধারণ এবং সেগুলো সংরক্ষণ ব্যয় কুঁচিয়া কেনার দ্বিগুণ হতে পারে। এর বাইরে তেমন একটা খরচ নাই। পক্ষান্তরে এ প্রকল্পে চলতি এবং গত ২ বছরে বরাদ্দ হয়েছে সাড়ে ২৬ লাখ টাকা।

এদিকে, বিগত ঈদ-উল-ফিতরের আগে ওই কর্মকর্তার স্বামী জহুরুল আলম কেন্দ্র্রে উপস্থিত না থাকার কারণে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন দেয়া হয়নি। বেতন দেয়া হয় ঈদের পর ৩ আগস্ট। হিসাব কর্মকর্তা হিসাব খুব একটা বোঝেন না এ রকম খোঁড়া অজুহাত হাত দেখিয়ে তিনি ওই অমানবিক অনিয়ম করেন। এছাড়া মাস্টাররোল কর্মচারীদের অফিস এবং গবেষণা কেন্দ্রের কাজে তেমন একটা না লাগিয়ে অধিকাংশ সময় তাঁর ব্যক্তিগত কাজে বিশেষ করে বাসভবনের মাঠে সবজি চাষ ও উদ্বৃত্ত সবজি বিক্রি এবং গরু পালন কাজ করিয়ে নেন। পক্ষান্তরে তাঁরই গরু তার সবজি বাগানের ক্ষতি করলে, সে দিনের পারিশ্রমিক কেটে দেন।

অফিসের ৫ কম্পিউটারের মধ্যে ৩টি তাঁর বাসায় রেখেছেন। অবশিষ্ট ২টির মধ্যে একটি নষ্ট এবং অকেজো প্রায় একটি দিয়ে কোন রকমে চলছে অফিসের কাজ। এসব অনিয়মের সঙ্গে কর্মকর্তার স্বামী জহুরুল আলম ছাড়াও পিকআপের চালক আশরাফুল ইসলাম জড়িত বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। এদিকে, প্রতিষ্ঠানটির জনবল কাঠামো ২২ জনের হলেও আছে মাত্র ৫ জন। এমতাবস্থায় গবেষণাগারটিতে গবেষণার নামে কী হচ্ছে তা সহজেই অনুমান করা যায়।

প্রকাশিত : ৪ নভেম্বর ২০১৪

০৪/১১/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: