কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৩ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শনিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

জেএমবি জঙ্গী রকিবুল রঞ্জিত কোহলি নামে ভারতে ঘাঁটি গেড়েছিল

প্রকাশিত : ৪ নভেম্বর ২০১৪

বর্ধমান বিস্ফোরণ তদন্তে নয়া মোড়

মানস বন্দ্যোপাধ্যায়, নয়াদিল্লী, ৩ নবেম্বর ॥ বর্ধমান বিস্ফোরণ ঘটনা তদন্ত নতুন মোড় নিয়েছে। স্বর্ণবিজয়ী ঝাড়খ-ের তারকা শূটার সহদেওর ‘লাভ জিহাদ’ স্বামী রকিবুল হাসান খান ওরফে রঞ্জিত কোহলি জড়িয়ে গেছে এই চক্রের সঙ্গে। খাগড়াগড় বিস্ফোরণের তদন্তে জানা গেছে, ঝাড়খ-ের পাকুড় থেকে বাংলাদেশের জামা’আতুল মুজাহিদীন বিস্ফোরক এবং অন্যান্য সামগ্রী সংগ্রহ করেছে। এনআইএ’র গোয়েন্দারা সন্দেহ করছেন, বিতর্কিত রকিবুল/রঞ্জিত হাওলার মাধ্যমে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাকে টাকা দিয়ে বশ করে বর্ধমান এবং অন্যত্র বিস্ফোরক তৈরির কাজে জড়িত করে জেএমবির বৃহৎ নেটওয়ারর্কের সঙ্গে রকিবুলের সম্পর্কের ক্ষেত্রে গোয়েন্দারা তদন্ত শুরু করেছে। বাংলাদেশে নিষিদ্ধ জেএমবির জন্য রকিবুল ভারত থেকে জঙ্গী মহিলা সংগ্রহ করত কিনা তা নিয়েও খোঁজ খবর চলছে। রকিবুল পরিচয় গোপন করে হিন্দু নাম নিয়ে কৃতী শূটার সহদেওকে বিয়ে করার পর, তাকে নিয়ে অনেক হৈ চৈ হয়েছে। তারা অভিযোগ করেছিলেন, তাকে বিয়ের পর জোর করে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হওয়ার জন্য রঞ্জিত তথা রকিবুল এবং তার পরিবারের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিল। তার ওপর দৈহিক এবং মানসিক উৎপীড়নও হয়েছে। বিয়ের পর রমজানের সময় সহদেও জানতে পেরেছিলেন রঞ্জিত আসলে মুসলিম। তারা পুলিশের কাছে আরও অভিযোগ করেছিলেন, প্রচুর মহিলাকে এভাবে রকিবুল জালে ফাঁসিয়েছে। তার গতিবিধি ছিল সন্দেহজনক। গভীর রাতে বহু অজ্ঞাত মানুষ তার বাড়িতে আসা-যাওয়া করত। মাঝে মাঝেই অসম, দিল্লী ও মুম্বাইতে চলে যেত সে। গোয়েন্দারা এখন সেই সূত্র ধরেই তদন্ত শুরু করেছে। তার সঙ্গে জড়িত মহিলাদের জঙ্গী প্রশিক্ষণ দিয়ে জেএমবির কাছে পৌঁছে দেয়া হয়েছে বলে সন্দেহ গোয়েন্দাদের। ঝাড়খ-ের পাকুড় কালো পাথরের জন্য বিখ্যাত। সেখান থেকে জেএমবি পাথর টুকরো করার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত বিস্ফোরক সংগ্রহ করত বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে রকিবুল রাজ্যের রাজনৈতিক নেতা ও অধিকারীদের মোটা টাকা সরবরাহ করত। ‘লাভ জিহাদ’ নিয়ে তদন্তকালে পুলিশ রকিবুলের ঘর থেকে ৩৬ মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করে। তাতে রাজ্যের উঁচু স্তরের অনেককে প্রচুর মেয়ে সরবরাহ করার তথ্য মিলেছে। পশ্চিমবঙ্গেব বর্ধমান ও অন্যত্র বিস্ফোরক নির্মাণের কারখানায় পাকুড় থেকে বিস্ফোরক গেছে বলেও জানা গেছে। জেএমবি পরিচালিত এই বিস্ফোরক নির্মাণের কারখানায় রকিবুলের মাধ্যমেই বিস্ফোরক সরবরাহ হতো বলে মনে করা হচ্ছে। পুলিশের কাছে দেয়া অভিযোগ অনুসারে রাজ্যের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে রকিবুলের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ভারতে নিষিদ্ধ সংগঠন সিমির সঙ্গেও তার সম্পর্কের দিখটি খতিয়ে দেখছে গোয়েন্দারা। অসমে রকিবুলের ঠিকানা অনেক আগেই জেনেছে। গোয়েন্দারা। পশ্চিমবঙ্গে ধৃত আলিমা বিবি, রাজিয়া বিবি, বদরুল আলম ও হাকিমকে জিজ্ঞাসা করে গোয়েন্দারা জেনেছে, জেএমবি পরিকল্পনা করেছিল অসম, পশ্চিমবঙ্গের ধারাবাহিক বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর হামলা চালিয়ে তাকে হত্যার। আল কায়েদার নির্দেশমতো বাংলাদেশ, অসম এবং পশ্চিমবঙ্গের মালদা, মুর্শিদাবাদ, নদিয়াকে নিয়ে একটি সম্পূর্ণ ইসলামিক রাষ্ট্র গঠনের ছকও রয়েছে জেএমবির। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী যদিও বেগম জিয়ার সঙ্গেই রয়েচে তবুও খুনের তালিকার তার নাম থাকার কারণ, জেএমবি চায় বাংলাদেশ থেকে গণতন্ত্রকে মুছে ফেলতে। সেজন্য গণতন্ত্রে বিশ্বাসী সকলের বিরুদ্ধেই ধীরে ধীরে হামলার ষড়যন্ত্র করছিল জেএমবি।

প্রকাশিত : ৪ নভেম্বর ২০১৪

০৪/১১/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: