কুয়াশাচ্ছন্ন, তাপমাত্রা ২২.২ °C
 
৪ ডিসেম্বর ২০১৬, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
শীর্ষ সংবাদ

নড়াইলে আধিপত্য নিয়ে দুই পক্ষে সংঘর্ষ, নিহত এক

প্রকাশিত : ৩১ অক্টোবর ২০১৪

নিজস্ব সংবাদদাতা, নড়াইল, ৩০ অক্টোবর ॥ আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নড়াইলে দুপক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত ও ১৫ জন আহত হয়েছে। নিহত মহসিন সিকদার (৩৬) ভদ্রবিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লিয়াকত সিকদারের ছোট ভাই। সংঘর্ষকালে ৮টি বাড়িঘর ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বাঁশগ্রাম-কলিমন গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, নড়াইল সদর উপজেলার বাঁশগ্রাম ইউনিয়নের বাঁশগ্রাম, ভদ্রবিলা ইউনিয়নের রামসিদ্ধি ও কালিয়া উপজেলার চাঁচুড়ি ইউনিয়নের কলিমন গ্রাম নিয়ে সৃষ্ট দুটি গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। মাঝে মধ্যে প্রায় উত্তপ্ত ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে আসছে। একটি গ্রুপের নেতৃত্ব দেন বাঁশগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, ভদ্রবিলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান লিয়াকত সিকদার ও চাঁচুড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান। অপর গ্রুপের নেতৃত্ব দেন জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি মোঃ নাজমুল আলম ও হিরোক। দুটি গ্রুপের বিরোধ পুলিশ একাধিকবার বিরোধ মীমাংসার উদ্যোগ নিলেও ব্যর্থ হয়েছেন।

জানা গেছে, বুধবার রাতে সদর উপজেলার রামসিদ্ধি গ্রামে বাঁশগ্রামের মফিজুর রহমান মফি মেম্বার ও পার্শ্ববর্তী ভদ্রবিলা গ্রামের নান্না মোল্যার লোকজনের মধ্যে সৃষ্ট বিরোধের মীমাংসার জন্য শালিস বসে। কিন্তু শালিসী বৈঠকে মারামারির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার জের ধরে বৃহস্পতিবার সকালে তিন গ্রামের লোকজন নিয়ে সৃষ্ট দুটি গ্রুপের লোকজন ঢাল, সড়কি, রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষ লিপ্ত হয়। সংঘর্ষে মহসিন সিকদার, ইকবাল বিশ্বাস, জামসেদ মোল্যা, মতিয়ার রহমান, খাজা মিয়া, মুফাসহ ১৫ জন আহত হয়। আহতদের নড়াইল সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গুরুতর আহত মহসিন সিকদার হাসপাতালে চিকিৎসাকালে মারা যান। সংঘর্ষের সময় কলিমন গ্রামের কুদ্দুস মুন্সী, সাবু মুন্সী, রফিক মুন্সী, জাহাঙ্গীর মুন্সী, হারুন সিকদার, খবির মুন্সীর বাড়িসহ কমপক্ষে ৮টি বাড়িঘর ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। এদিকে মহসিন সিকদারের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে নাজমুল আলমের পক্ষের বাঁশগ্রামের নূর ইসলামের খড়ের পালায় আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। পরে দমকল বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

নড়াইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ রেজাউল করিম জানান, উত্তেজনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ পাঠানো হয়। তিনটি গ্রামের লোকজন সংঘর্ষে লিপ্ত হওয়ায় সামান্যসংখ্যক পুলিশ সদস্য সামাল দিতে ব্যর্থ হয়।

প্রকাশিত : ৩১ অক্টোবর ২০১৪

৩১/১০/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


ব্রেকিং নিউজ: