রৌদ্রজ্জ্বল, তাপমাত্রা ২৩.৯ °C
 
৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ

‘বাকি ম্যাচগুলোও জিতব’

প্রকাশিত : ২৯ অক্টোবর ২০১৪

বললেন বাংলাদেশের কোচ চন্দ্রিকা হাতুরাসিংহে

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশের মাটিতে সাবেক বাংলাদেশ কোচ ডেভ হোয়াটমোরের পা পড়তেই কী তাহলে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের ভাগ্য বদলে গেল? ২০০৫ সালে জিম্বাবুইয়েকে হারিয়েই প্রথমবার টেস্টে জয় পায় বাংলাদেশ, দেশের মাটিতে। এবার যখন দল বছরজুড়ে হারতে হারতে বিধ্বস্ত অবস্থায় পড়ে যায়। আবারও স্বস্তির ৩ উইকেটের জয় আসে। এবারও প্রতিপক্ষ জিম্বাবুইয়ে। দেশের মাটিতেই জয় আসে। যা কিনা দেশের মাটিতে বাংলাদেশের দ্বিতীয়বারের মতো টেস্ট জয়। সেই জয়টি আসে আবার প্রায় ১০ বছর পর! দেশের মাটিতে দুই জয়ের সাক্ষী থাকলেন শ্রীলঙ্কান বংশদ্ভূত বর্তমানে বাংলাদেশ-জিম্বাবুইয়ে সিরিজে ধারাভাষ্যকার হিসেবে বাংলাদেশে অবস্থান করা অস্ট্রেলিয়ান কোচ ডেভ হোয়াটমোর। আর এই জয় পেয়ে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের কোচ হিসেবে টেস্ট খেলুড়ে কোন দলের বিপক্ষে জয়ের সুখ পেলেন বর্তমান কোচ আরেক শ্রীলঙ্কান চন্দ্রিকা হাতুরাসিংহে। টেস্ট জয় সবসময়ই আনন্দের বলেই জানিয়েছেন। আর আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই বলেছেন, ‘বাকি ম্যাচগুলোও জিতব।’

হাতুরাসিংহে বলেছেন, ‘টেস্ট ম্যাচ জেতা সব সময়ই আনন্দের। এটা সব সময়ই মনে সন্তুষ্টি আনে। আমরা তাদের চেয়ে ভাল খেলেছি বলেই জিতেছি। তবে ম্যাচে লড়াই হয়েছে। দ্বিতীয় ইনিংসে তিনটি উইকেট হারানোর আগ পর্যন্ত ম্যাচে আমাদেরই কর্তৃত্ব ছিল। কিন্তু ওই অল্প একটু সময়ই আমাদের চাপে ফেলে দিল। এটাই একটু চিন্তার বিষয়। তবে তা থেকে শেষ পর্যন্ত বেরিয়ে আসতে পারায় আমি খুশি।’

চতুর্থ ইনিংসে বাংলাদেশ যেভাবে ব্যাটিং করল সবার মনেই উদ্বেগ কাজ করেছে। ৬২ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে হারের শঙ্কাতেই পড়ে গিয়েছিল দল। হাতুরাসিংহে উইকেটকেই সামনে তুলে ধরলেন। বললেন, ‘দুই দলের জন্যই এই উইকেটে ব্যাট করা কঠিন ছিল। বোলারদের কৃতিত্ব দিতেই হবে। খুবই ভাল বল করেছে তারা। আমাদের টপঅর্ডার ব্যাটসম্যানদের কেউ কেউ যেসব বলে আউট হলো, সেগুলো খেলার মতো ছিল না। তবে আমি হতাশ প্রথম ইনিংসের তিনটি রানআউট নিয়ে। এসব অনুর্ধ-১৩ ক্রিকেট খেলার সময়ই শিখে ফেলা উচিত। এটাই মূল চিন্তার বিষয়। খুবই বাজে ভুল ছিল ওগুলো। এ নিয়ে আমি কথা বলব। ওই আউটগুলো হজম করতে না হলে আমরা ১০০ থেকে ১৫০ রান লিড নিতে পারতাম। তখন ম্যাচটা অন্য রকমও হতে পারত।’ বাংলাদেশ অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম যেমনটি বলেছেন, ‘ম্যাচ হারতে পারি আমরা কোন সময়ই মনে হয়নি।’ মুশফিকের সঙ্গে একমত কোচও। কখনই কী মনে হয়নি হারতে পারেন? এমন প্রশ্নে হাতুরাসিংহে বলেন, ‘আমার তাই মনে হচ্ছিল।’

ব্যাটসম্যানদের নিয়ে হাতুরাসিংহে বলেন, ‘আবারও বলছি, এই উইকেটে ব্যাটিং করা কঠিন ছিল। অন্যদিকে আমাদের বোলাররা খুবই ভাল বল করেছে। ব্যাটসম্যানদের জন্য এখানে খেলাটা চ্যালেঞ্জ ছিল। আমার কাছে চিন্তার বিষয় মনে হচ্ছে, আমরা যেভাবে প্রতিপক্ষকে ম্যাচে ফিরতে দিয়েছিলাম, সেটা। কারণ ম্যাচটা ছিল আমাদের হাতে।’ উইকেটে ব্যাটিং কঠিন ছিল বলছেন। তো এই উইকেটে আপনাদের পরিকল্পনাটা কী ছিল আসলে? হাতুরাসিংহে বললেন, ‘পরিকল্পনা ছিল আমাদের স্পিনাররা যেন জিম্বাবুইয়ের ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে ভাল কিছু করে। তবে আমি নিজেও আসলে উইকেটে এতটা বৈচিত্র্যময় বাউন্স আশা করিনি। একটু অবাকই হয়েছি। আমাদের স্পিনাররা ওদের বিপক্ষে ভাল বল করবে, সে বিশ্বাস ছিল। কারণ আমাদের স্পিন আক্রমণ অনেক বৈচিত্র্যপূর্ণ।’ যা হওয়ার হয়ে গেছে। জয় পেয়েছে বাংলাদেশই। এখন কোচ সামনের ম্যাচগুলো নিয়ে ভাবতে চান। বলেছেন, ‘এমন জয় তো আত্মবিশ্বাস বাড়াবেই। আপনি যখন জিতবেন, অন্য পরিকল্পনাগুলো কাজে লাগাতে পারবেন। সে জন্যই আমি বেশি খুশি। প্রতিটি ম্যাচই এক একটা চ্যালেঞ্জ। সামনে আরেকটা নতুন ম্যাচ। আশা করি, আমরা আমাদের প্রক্রিয়াটা ধরে রেখে তাদের ওপর এই চাপ রাখতে পারব এবং বাকি ম্যাচগুলোও জিতব।’

প্রকাশিত : ২৯ অক্টোবর ২০১৪

২৯/১০/২০১৪ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

খেলার খবর



ব্রেকিং নিউজ: