ঢাকা, বাংলাদেশ   বুধবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২ আশ্বিন ১৪২৯

চলন্ত বাসে ডাকাতি ও গণধর্ষণের ঘটনায় ১১ জনের জবানবন্দি

নিজস্ব সংবাদদাতা, টাঙ্গাইল 

প্রকাশিত: ২১:১২, ১১ আগস্ট ২০২২

চলন্ত বাসে ডাকাতি ও গণধর্ষণের ঘটনায় ১১ জনের জবানবন্দি

গ্রেফতারকৃত রতন ও মান্নান

টাঙ্গাইলের মধুপুরে চলন্ত বাসে ডাকাতি ও সংঘবদ্ধ নারীকে ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত মূলপরিকল্পনাকারী মাহমুদুল হাসান মুন্না ওরফে রতন হোসেন ও আব্দুল মান্নান আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ মামলার বাকি দুই আসামী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়নি।
বৃহস্পতিবার (১১ আগস্ট) বিকেলে টাঙ্গাইলের চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক নওরিন করিমের আদালতে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। 

এর আগে মঙ্গলবার (৯ আগস্ট) রতনসহ ৬ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৩ দিনের রিমান্ডে নেয় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। এর মধ্যে চারজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। 

টাঙ্গাইলের আদালত পরিদর্শক তানবীর আহমেদ বলেন, বৃহস্পতিবার রিমান্ডে থাকা চারজনকে আদালতে তোলা হয়। এরমধ্যে বাসে ডাকাতি ও সংঘবদ্ধ নারীকে ধর্ষণের ঘটনার মূলপরিকল্পনাকারী মাহমুদুল হাসান মুন্না ওরফে রতন হোসেন ও আব্দুল মান্নান আদালতে দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে হাসমত আলী ওরফে দীপু ও জীবন প্রামাণিক আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেননি। পরে চারজনকেই কারাগারে পাঠানো হয়। 

এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক হেলাল উদ্দিন জানান, এ মামলায় মোট ১৩জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে চার ধাপে ১১জন আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। আসামিরা সবাই বর্তমানে টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে রয়েছেন। 

স্বীকারোক্তি দেওয়া আসামিরা হলেন- মাহমুদুল হাসান মুন্না ওরফে রতন হোসেন, রাজা মিয়া, আউয়াল, নুরনবী, আব্দুল মান্নান, সোহাগ মন্ডল, বাবু হোসেন জুলহাস, আসলাম তালুকদার রায়হান, রাসেল তালুকদার, আলাউদ্দিন ও নাঈম সরকার। এছাড়াও জীবন প্রামাণিক ও হাসমত আলী দীপু আদালতে স্বাকীরোক্তিমূলক জবানবন্দি দেননি।

উল্লেখ, মঙ্গলবার (২ আগস্ট) কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থেকে নারাগঞ্জগামী ঈগল পরিবহনের একটি বাসটি সিরাজগঞ্জ পৌঁছলে যাত্রীবেশি ডাকাতরা গাড়িতে উঠেন। টাঙ্গাইল অতিক্রম করার পর তারা অস্ত্রের মুখে বাসের নিয়ন্ত্রণ নেন। পরে যাত্রীদের টাকা পয়সা, মুঠোফোন, গহনাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুটে নেন। এ সময় বাসের এক নারী যাত্রী গণধর্ষনের শিকার হন। 

পরে বাসটি টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার রক্তিপাড়া নামক স্থানে সড়কের পাশে খাদে পড়ে যায়। এ ঘটনায় ওই বাসের যাত্রী হেকমত আলী বাদি হয়ে বুধবার (৩ আগস্ট) মধুপুর থানায় ডাকাতি ও ধর্ষনের মামলা করেন।

নৈশকোচে যাত্রীবেশে ডাকাতি ও এক নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় ডাকাতির মূল পরিকল্পনাকারীসহ ডাকাত চক্রের ১০ সদস্যকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। গত রবিবার (৭ আগস্ট) রাতে ঢাকা, গাজীপুর ও সিরাজগঞ্জ এলাকায় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

এর আগে এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (৪ আগস্ট) ভোরে টাঙ্গাইল শহরের নতুন বাস টার্মিনাল এলাকা থেকে মূলহোতা রাজা মিয়াকে গ্রেফতার করে টাঙ্গাইল জেলা ডিবি পুলিশ। পরের দিন শুক্রবার (৫ আগস্ট) ভোরে গাজীপুরের কালিয়াকৈর ও সোহাগপল্লী থেকে আউয়াল ও নুরনবী নামে আরও দুইজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। 

শনিবার (৬ আগস্ট) ওই তিন আসামী আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দেন। পরে তাদের কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হয়।