Daily Janakantha http://www.dailyjanakantha.com Read our Online news, within moment. en-us 2017-09-20T10:04:58+0000 প্যান প্যাসিফিক ওপেনে মুগুরুজার জয় http://www.dailyjanakantha.com/details/article/295521/প্যান-প্যাসিফিক-ওপেনে-মুগুরুজার-জয় http://www.dailyjanakantha.com/details/article/295521/প্যান-প্যাসিফিক-ওপেনে-মুগুরুজার-জয় 2017-09-21T12:04:53+0000 Daily Janakantha স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ প্যান প্যাসিফিক ওপেনের দ্বিতীয়পর্বে জয়ের স্বাদ পেয়েছেন চেক প্রজাতন্ত্রের ক্যারোলিনা পিসকোভা এবং স্প্যানিশ টেনিস তারকা গারবিন মুগুরুজা। ...

প্যান প্যাসিফিক ওপেনে মুগুরুজার জয়

 

খেলার খবর

Daily Janakantha

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ প্যান প্যাসিফিক ওপেনের দ্বিতীয়পর্বে জয়ের স্বাদ পেয়েছেন চেক প্রজাতন্ত্রের ক্যারোলিনা পিসকোভা এবং স্প্যানিশ টেনিস তারকা গারবিন মুগুরুজা। বুধবার টুর্নামেন্টের শীর্ষ বাছাই মুগুরুজা ৬-৪ এবং ৬-০ গেমে পরাজিত করেছেন পুয়ের্তোরিকোর মনিকা পুইগকে। চেক প্রজাতন্ত্রের দ্বিতীয় বাছাই ক্যারোলিনা পিসকোভা এদিন ৬-২ এবং ৬-১ গেমে হারান পোল্যান্ডের মাগদা লিনেত্তিকে। দ্বিতীয় রাউন্ডের অন্য ম্যাচে বুধবার রাশিয়ার এ্যানাস্তাসিয়া পাভলিউচেঙ্কোভা ৬-৪, ৪-৬ এবং ৬-২ গেমে পরাজিত করেন চীনের ওয়াং ইয়াংকে।

চলতি মৌসুমের তৃতীয় গ্র্যান্ডসøাম উইম্বলডনের চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন গারবিন মুগুরুজা। তারই পুরস্কার হিসেবে বিশ্ব টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান দখল করেছেন তিনি। সদ্য সমাপ্ত ইউএস ওপেনের পরই চেক প্রজাতন্ত্রের ক্যারোলিনা পিসকোভার কাছ থেকে র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান দখল করেন স্পেনের এই টেনিস তারকা। যদিওবা ইউএস ওপেনের চতুর্থ রাউন্ড থেকেই ছিটকে পড়েন তিনি। চেক প্রজাতন্ত্রের পেত্রা কেভিতোভার কাছে হেরে মৌসুমের শেষ মেজর টুর্নামেন্ট ইউএস ওপেন থেকে বিদায় নেন গারবিন মুগুরুজা। তবে শীর্ষস্থান দখল করতে তাতে মোটেও সমস্যা হয়নি তার। রাফায়েল নাদালের সঙ্গে এবারই প্রথম বিশ্ব টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান দখল করেন তিনি। এর আগে এই কীর্তি গড়েছিলেন আন্দ্রে আগাসি এবং সেরেনা উইলিয়ামস। ২০০৩ সালে পুরুষ এবং মহিলা এককে বিশ্ব টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের এক নাম্বার আসনটি দখল করে নিয়েছিলেন আগাসি-সেরেনা।

শীর্ষে উঠে প্যান প্যাসিফিক ওপেনেই প্রথমবারের মতো কোর্টে নামেন গারবিন মুগুরুজা। প্রত্যাশিতভাবেই জয়ের স্বাদ পেয়েছেন তিনি। বুধবার দারুণ জয়েই টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনালের টিকেট কাটেন গারবিন মুগুরুজা। হারিয়েছেন পুয়ের্তোরিকোর মনিকা পুইগকে। গত বছর প্রথমবারের মতো টেনিস কোর্টে আলো ছড়ান পুইগ। গোটা টেনিস বিশ্বকে বিস্মিত করেই রিও অলিম্পিকে চ্যাম্পিয়ন হন তিনি। সেইসঙ্গে প্রথমবারের মতো তার দেশকে ক্রীড়ার মহাযজ্ঞ অলিম্পিকের স্বর্ণপদক উপহার দেন পুইগ। তবে চলতি মৌসুমে পারফর্মেন্সের সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেননি পুয়ের্তোরিকোর এই টেনিস তারকা। মেজর কোন টুর্নামেন্ট জয় তো দূরের কথা ডব্লিউটিএ টুর্নামেন্টেরই ফাইনালে খেলতে পারেননি তিনি।

গারবিন মুগুরুজার মতো জয়ের স্বাদ পেয়েছেন ক্যারোলিনা পিসকোভাও। দ্বিতীয় বাছাই এদিন পরাজিত করেছেন পোল্যান্ডের মাগদা লিনেত্তিকে। তার সামনে এবার মৌসুমের চতুর্থ এবং ক্যারিয়ারের দশম শিরোপা জয়ের হাতছানি। পিসকোভার দৃষ্টিও এখন সেদিকে। শেষ আটের টিকেট নিশ্চিত করার পরই সাক্ষাতকারে তিনি জানিয়েছেন যে, র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান নয় বরং শিরোপা জেতাটাই তার মূল লক্ষ্য এখন। এ বিষয়ে সাবেক নাম্বার ওয়ান এই তারকা নিজের অভিমত প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, ‘র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান অর্জন করাটা আমার মূল লক্ষ্য নয়। এই মুহূর্তে আমি চাই যত বেশি সম্ভব শিরোপা জেতা। আর এটা করতে পারলেই দারুণভাবে এই মৌসুমটা শেষ হবে আমার।’ চেক প্রজাতন্ত্রের এই টেনিস তারকা প্যান প্যাসিফিক ওপেনের দ্বিতীয় রাউন্ডে খুব সহজেই পরাজিত করেছেন মাগদা লিনেত্তিকে। তবে মজার ব্যাপার হলো ইউএস ওপেনের প্রথম রাউন্ডেও এই লিনেত্তির মুখোমুখি হয়েছিলেন। সেবারও এই একই ব্যবধানে পরাজিত করেছিলেন লিনেত্তিকে। প্যান প্যাসিফিক ওপেনের শেষ আটের টিকেট কেটেছেন এ্যানাস্তাসিয়া পাভলিউচেঙ্কোভাও। তবে রীতিমতো ঘাম ঝরেছে তার। তিন সেটের লড়াইয়ে এদিন তিনি পরাজিত করেন চীনের ওয়াং ইয়াংকে। এই টুর্নামেন্টের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ক্যারোলিন ওজনিয়াকি। ড্যানিশ টেনিস তারকা ছাড়াও এখানে খেলছেন গ্রেট ব্রিটেনের জোহানা কন্টার মতো খেলোয়াড়রা। তাই এখানে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মানেই মৌসুমটাকে ভালভাবে শেষ করা। সবার চোখেই এখন শিরোপা জিতেই জাপানের এই টুর্নামেন্টের মিশন শেষ করা।


The Daily Janakantha website developed by
BIKIRAN.COM
]]>
মেসির এক হালিতে বার্সিলোনার বিশাল জয় http://www.dailyjanakantha.com/details/article/295520/মেসির-এক-হালিতে-বার্সিলোনার-বিশাল-জয় http://www.dailyjanakantha.com/details/article/295520/মেসির-এক-হালিতে-বার্সিলোনার-বিশাল-জয় 2017-09-21T12:04:10+0000 Daily Janakantha স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ জাতীয় দলের হয়ে প্রতিপক্ষের জাল খুঁজে না পেলেও ক্লাবের হয়ে গোল করতে জুড়ি মেলা ভার আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের। ...

মেসির এক হালিতে বার্সিলোনার বিশাল জয়

 

খেলার খবর

Daily Janakantha

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ জাতীয় দলের হয়ে প্রতিপক্ষের জাল খুঁজে না পেলেও ক্লাবের হয়ে গোল করতে জুড়ি মেলা ভার আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের। দেশটির দুই তারকা ফুটবলার লিওনেল মেসি ও পাওলো দিবালা এর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

স্প্যানিশ লা লিগায় মঙ্গলবার রাতে আরেকবার এ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন পাঁচবারের ফিফা সেরা তারকা মেসি। এইবারের বিরুদ্ধে বার্সিলোনার ৬-১ গোলের বিশাল জয়ে একাই চার গোল করেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। ক্যারিয়ারে মেসির এটা ৪৩তম হ্যাটট্রিক। এর মধ্য দিয়ে বার্সার মাঠ ন্যুক্যাম্পে ৩০০ গোলের অনন্য মাইলফলকও স্পর্শ করেছেন তিনি। এর আগে ইতালিয়ান সিরি’এ লীগে সাসসোউলোর বিরুদ্ধে জুভেন্টাসের ৩-১ গোলের জয়ে অনবদ্য হ্যাটট্রিক করেন ২৩ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড দিবালা। এটি ছিল জুভদের জার্সিতে দিবালার ১০০তম ম্যাচ। শততম ম্যাচটি হ্যাটট্রিক করে স্মরণীয় করে রাখেন তিনি। নিজ ক্লাবের হয়ে মেসি ও দিবালা গোলের ফুলঝুরি ছুটালেও আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের সর্বশেষ দুই ম্যাচে গোল পাননি। যে কারণে আর্জেন্টিনাও বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়ার শঙ্কায় আছে। মেসি ছাড়াও টানা দ্বিতীয় ম্যাচে গোল পেয়েছেন ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার পাউলিনহো ও ডেনিস সুয়ারেজ। এই জয়ে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রিয়াল মাদ্রিদের থেকে সাত পয়েন্টের ব্যবধান ধরে রাখলো কাতালান জায়ান্টরা।

পাঁচ ম্যাচে পূর্ণ ১৫ পয়েন্ট নিয়ে এককভাবে শীর্ষে বার্সা। বার্সিলোনার দায়িত্ব নেয়ার পর এই প্রথম কোচ আর্নেস্টো ভালভার্ডে পুরো দলকে ঢেলে সাজিয়ে মূল একাদশ সাজান। শনিবার গেটাফের বিরুদ্ধে ২-১ গোলের কষ্টার্জিত জয়ের ম্যাচটি থেকে ছয়জনকে পরিবর্তন করে মাঠে নামে বার্সা। এর মধ্যে দলের তারকা স্ট্রাইকার লুইস সুয়ারেজ ছিলেন বদলি বেঞ্চে। ম্যাচে ভালভার্ডের আস্থার প্রতিদান প্রথম থেকেই দিয়েছেন প্রথমবারের মতো মূল একাদশে খেলতে নামা ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার পাউলিনহো। ম্যাচের ২০ মিনিটে স্পট কিক থেকে মেসি দলকে এগিয়ে দেন। ডি বক্সের ভিতর পর্তুগীজ ডিফেন্ডার নেলসন সেমেডোকে বাজেভাবে চ্যালেঞ্জ করায় আলেহান্দ্রো গালভেজের বিরুদ্ধে পেনাল্টির নির্দেশ দেন রেফারি। বিশ্ব রেকর্ড ফি’তে নেইমার পিএসজিতে চলে যাবার পরে তার শূন্যস্থান পূরণে বার্সিলোনা বেশ কয়েকজন তারকার দিকেই হাত বাড়িয়েছিল।

যাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন পাউলিনহো। কিন্তু ৪০ মিলিয়ন ইউরোতে চাইনিজ দল গুয়াংজু এভারগ্রান্ডে থেকে তাকে দলে নিতে ভালভার্ডেকে বার্সা বোর্ডের তোপের মুখে পড়তে হয়েছিল। কিন্তু গেটাফের বিরুদ্ধে বদলি বেঞ্চ থেকে এসে জয়সূচক গোল করার পরে এই ম্যাচে ডেনিস সুয়ারেজের কর্নার থেকে বিরতির সাত মিনিট আগে বার্সার ব্যবধান দ্বিগুণ করে পাউলিনহো প্রমাণ করেছেন কাতালানরা তাকে দলে নিয়ে মোটেই ভুল করেনি। নিজে গোল করার পাশাপাশি বার্সিলোনার পরপর দুই গোলে সহযোগিতাও করেছেন এই ব্রাজিলিয়ান। ৫৩ মিনিটে তার পাস থেকেই মেসি পোস্টে শট নিলে এইবার গোলরক্ষক মার্কো দিমিত্রোভিচ তা আটকে দেন। কিন্তু ফিরতি বলে ডেনিস সুয়ারেজ আর ভুল করেননি। চার মিনিট পরে অবশ্য বার্সিলোনার রক্ষণভাগের দুর্বলতার সুযোগে ডেভিড জুনকার ক্রস থেকে সার্জি এনরিক সফরকারীদের পক্ষে এক গোল শোধ করেন। দুই মিনিট পরে মেসি দ্রুত আরেক গোল করলে বার্সিলোনা ৩-১ গোলের লিড পায়। ৬২ মিনিটে পাউলিনহোর পাস থেকে পাঁচবারের বিশ্ব সেরা মেসি হ্যাটট্রিক পূরণ করেন। এর মধ্য দিয়ে ন্যুক্যাম্পে ৩০০ গোলের মাইলফলক গড়েন এলএম টেন। ৮৭ মিনিটে এ্যালেক্স ভিডালের সঙ্গে বল আদান-প্রদান করে চলতি মৌসুমে আট ম্যাচে ১২তম গোল করার কৃতিত্ব দেখান আর্জেন্টাইন গোল মেশিন।

ম্যাচ শেষে বার্সা বস আর্নেস্টো ভালভার্ডে বলেন, মেসির চার গোল এখন আর নতুন কোন খবর নয়। সে প্রায়ই এমন করে থাকে। তবে বারবার এটা করে দেখানোটাই গুরুত্বপূর্ণ। সে একজন অতি অসাধারণ খেলোয়াড়, তাকে নিয়ে কিছু বলার মতো কোন ভাষা আমার কাছে নেই। দিনের অপর ম্যাচে সিমোন জাজার সাত মিনিটের হ্যাটট্রিকে ভ্যালেন্সিয়া ৫-০ গোলে মালাগাকে বিধ্বস্ত করেছে। এর ফলে পাঁচ ম্যাচে ৯ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে ভ্যালেন্সিয়া। অন্যদিকে পাঁচ ম্যাচে সবকটিতেই পরাজিত হয়ে টেবিলের তলানিতে নেমে গেছে মালাগা।


The Daily Janakantha website developed by
BIKIRAN.COM
]]>
তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ শুরু আজ মুশফিকদের http://www.dailyjanakantha.com/details/article/295518/তিন-দিনের-প্রস্তুতি-ম্যাচ-শুরু-আজ-মুশফিকদের http://www.dailyjanakantha.com/details/article/295518/তিন-দিনের-প্রস্তুতি-ম্যাচ-শুরু-আজ-মুশফিকদের 2017-09-21T12:03:11+0000 Daily Janakantha স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ রবিবার দক্ষিণ আফ্রিকা পৌঁছে সোমবার থেকেই প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন বাংলাদেশ টেস্ট দলে থাকা ক্রিকেটাররা। কন্ডিশনের সঙ্গে ...

তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ শুরু আজ মুশফিকদের

 

খেলার খবর

Daily Janakantha

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ রবিবার দক্ষিণ আফ্রিকা পৌঁছে সোমবার থেকেই প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন বাংলাদেশ টেস্ট দলে থাকা ক্রিকেটাররা। কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেছেন। এবার ম্যাচ প্র্যাকটিসে নামার পালা। তিনদিন ব্যাট-বলের অনুশীলন শেষে আজ থেকে তিনদিনের মাঠের লড়াইয়ে নামবে মুশফিকবাহিনী। দক্ষিণ আফ্রিকা আমন্ত্রিত একাদশের বিপক্ষে তিনদিনের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে নামবে বাংলাদেশ। ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টায়।

এই ম্যাচটির মাধ্যমেই বোঝা যাবে বাংলাদেশ দল দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে কেমন করবে। ২০০৮ সালের পর ৯ বছর পর আবার দক্ষিণ আফ্রিকায় সিরিজ খেলতে গেছে বাংলাদেশ। এ সিরিজে কেমন করবে দল তা প্রস্তুতি ম্যাচেই আঁচ পাওয়া যাবে। অবশ্য প্রস্তুতি ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা দলটি তারকাহীন। দক্ষিণ আফ্রিকা জাতীয় দলের তারকা ক্রিকেটাররা ম্যাচটিতে নেই। তাই ম্যাচটিতে বাংলাদেশ দল যেমনই করুক তা মূল সিরিজের জন্য গুরুত্ব হয়ে দাঁড়াবে না। এরপরও দক্ষিণ আফ্রিকা কন্ডিশনে বাংলাদেশ দলের ব্যাটসম্যান-বোলাররা কেমন নৈপুণ্য দেখাতে পারে তার ইঙ্গিত মিলবে।

বিশেষ করে পেসারদের দিকেই নজর থাকবে। দক্ষিণ আফ্রিকার উইকেট পেসবান্ধব, তা সবারই জানা। এ উইকেটে পেসাররাই মূল ভূমিকায় থাকবেন। তাইতো বাংলাদেশ দলও পেসনির্ভর দল গড়েছে। পেসাররা দক্ষিণ আফ্রিকার উইকেটে কেমন করবে তা বোঝা যাবে। এ উইকেটে ম্যাচ প্র্যাকটিসে যদি ভাল কিছু করে দেখাতে পারেন মুস্তাফিজ, তাসকিন, শফিউল, শুভাশীষরা তাহলে আসল সিরিজেও নিশ্চয়ই ভাল করবেন। যদিও রুবেল হোসেন এখনও দক্ষিণ আফ্রিকায় পৌঁছাতে পারেননি। তাই প্রস্তুতি ম্যাচটিতে আর সবাই থাকলেও রুবেল যে থাকছেন না তা নিশ্চিত হয়ে গেছে। আজ থেকে তিনদিনের প্রস্তুতি ম্যাচ দিয়েই মূলত দক্ষিণ আফ্রিকা পরীক্ষা শুরু হচ্ছে বাংলাদেশের। ৪৩ দিনের এই সফরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে শুরুতে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২৮ সেপ্টেম্বর প্রথম ও ৬ অক্টোবর দ্বিতীয় টেস্টে খেলতে নামবে বাংলাদেশ। টেস্ট সিরিজ শেষে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১৫, ১৮ ও ২২ অক্টোবর যথাক্রমে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় ওয়ানডে খেলবে বাংলাদেশ। ২৬ ও ২৯ অক্টোবর যথাক্রমে প্রথম ও দ্বিতীয় টি২০ খেলবে। তবে আগে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ হবে, তাই টেস্ট দলের ক্রিকেটাররাই দক্ষিণ আফ্রিকা গেছেন আগে। টেস্ট সিরিজ শেষ হওয়ার আগেই ওয়ানডে দলে যারা ডাক পাবেন তারা দক্ষিণ আফ্রিকায় পৌঁছাবেন।

টেস্ট সিরিজে রয়েছেন মুশফিকুর রহীম, তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, ইমরুল কায়েস, সাব্বির রহমান, মুমিনুল হক, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, লিটন কুমার দাশ, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেন, শফিউল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ ও শুভাশীষ রায়। ক্রিকেটাররা পুরোদমে প্রস্তুত হচ্ছেন। এখন মাঠের লড়াইয়ের প্রস্তুতি নেয়ার পালা। কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেয়ার কাজ হয়ে গেছে। এখন উইকেটের সঙ্গে পুরোপুরি মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা চলছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় পৌঁছে দুইদিন সকালে অনুশীলন করলেও বুধবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত অনুশীলন করেছে বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা। দক্ষিণ আফ্রিকা আমন্ত্রিত একাদশে অধিনায়ক হিসেবে থাকছেন আইডেন মার্করাম। সঙ্গে দলে আছেন তালাদি বোকাকো, ওখুলি কেলে, ম্যাথু ক্রিস্টেনসেন, মাইকেল কোহেন, আইজ্যাক ডিকগালে, জুবায়ের হামসা, হেনরিক ক্লাসেন, মিগায়েল প্রিটোরিয়াস, ইয়ানসি ভ্যালি, শন ভন বার্গ ও লনডিসওয়া জুমা। তারকাহীনই দল প্রোটিয়াদের। তাই এ দলটির বিপক্ষে সাবধান হয়েই খেলতে হবে। আনকোরা ক্রিকেটাররাই যদি বারোটা বাজিয়ে দেন তাহলে মূল সিরিজে বিপদ ঘনিয়ে আসতে পারে। তবে খেলাটি হবে বেনোনিতে। তাই টেস্ট সিরিজে কেমন করবে বাংলাদেশ তা বোঝা কঠিন। কারণ প্রথম টেস্টটি হবে পোচেফস্ট্রুমে।

বাংলাদেশ দল এখন অনেক ভাল ক্রিকেট খেলছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়েও ভাল খেলার আশা করছে। আবার এরই মধ্যে প্রথম টেস্টের দলে নেই ভারনন ফিল্যান্ডার। ফিটনেসের অভাবে পুরো সিরিজ থেকেই নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন পেসার ডেল স্টেইন। অলরাউন্ডার ক্রিস মরিসও একই পথের পথিক। তাই পেস আক্রমণ দক্ষিণ আফ্রিকার দুর্বলই হয়ে পড়েছে। তাইতো বাংলাদেশকে নিয়ে চিন্তায় আছে দক্ষিণ আফ্রিকা। দক্ষিণ আফ্রিকার নতুন কোচ ওটিস গিবসন তো নিজ দলের ক্রিকেটারদের সতর্কই করে দিয়েছেন। বলেছেন, ‘বাংলাদেশকে হাল্কাভাবে নেয়ার কোন সুযোগই নেই। এই বাংলাদেশের বিপক্ষে মানসিক দিক থেকে এগিয়ে থাকারও মানে হয় না। আমরা দেখেছি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তারা কেমন খেলেছে। গত বছর ইংল্যান্ড দলের সঙ্গে আমি ছিলাম। সেবার বাংলাদেশ একটা টেস্ট জিতেছিল।’ সঙ্গে যোগ করেন, ‘আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ খুব আত্মবিশ্বাসী একটি দল। হাল্কা মেজাজ নিয়ে তাদের স্বস্তির জায়গা দিতে চাই না। তারা কঠিন প্রতিপক্ষ হিসেবেই এসেছে। (কোর্টনি) ওয়ালশের মতো বোলার বাংলাদেশের কোচিং স্টাফে আছে। তাদের হেড কোচও (হাতুরাসিংহে) দারুণ কাজ করছে। এটা তাদের খেলায় শক্ত মেজাজ নিয়ে এসেছে।’

অবশ্য ভাল একটা সিরিজের আশা করছেন গিবসন, ‘আমরা বাংলাদেশের বিপক্ষে কঠিন চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত আছি। প্রত্যেক ক্রিকেটারকে ঘরোয়া লীগের ম্যাচ খেলে মাঠে নামতে হচ্ছে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলার পর গত আগস্ট থেকে আমরা কোন টেস্ট খেলিনি। এমন অবস্থাতেই আমাদের বাংলাদেশের বিপক্ষে নামতে হচ্ছে। তারপরও আশা করছি আমরা আমাদের লক্ষ্যের দিকে এগোতে পারব। ভাল একটা সিরিজ আশা করছি।’ মুশফিকরা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে পারবেন? আজ থেকে শুরু হতে যাওয়া তিনদিনের প্রস্তুতি ম্যাচেই তার খানিক হলেও আলামত মিলবে।


The Daily Janakantha website developed by
BIKIRAN.COM
]]>
শিল্পকলায় ঢাকা পদাতিকের লোকনাটক ‘পাইচো চোরের কিচ্ছা’ মঞ্চস্থ http://www.dailyjanakantha.com/details/article/295497/শিল্পকলায়-ঢাকা-পদাতিকের-লোকনাটক-‘পাইচো-চোরের-কিচ্ছা’ http://www.dailyjanakantha.com/details/article/295497/শিল্পকলায়-ঢাকা-পদাতিকের-লোকনাটক-‘পাইচো-চোরের-কিচ্ছা’ 2017-09-20T11:41:16+0000 Daily Janakantha স্টাফ রিপোর্টার ॥ নাটকের কাহিনী গড়ে উঠেছে খুলনা অঞ্চলের লোকগাঁথা নিয়ে। এতে দেখা যায় কোন এক দেশের রাজা উজিরের পরামর্শে ...

শিল্পকলায় ঢাকা পদাতিকের লোকনাটক ‘পাইচো চোরের কিচ্ছা’ মঞ্চস্থ

 

শেষের পাতা

Daily Janakantha

স্টাফ রিপোর্টার ॥ নাটকের কাহিনী গড়ে উঠেছে খুলনা অঞ্চলের লোকগাঁথা নিয়ে। এতে দেখা যায় কোন এক দেশের রাজা উজিরের পরামর্শে মেয়ে মহেশ্বরীর দেখভালের জন্য পাশের গ্রামের এক বুড়ির ছেলেকে নিযুক্ত করে। কোটে নামের এই ছেলেটি এক সন্ন্যাসীর মাধ্যমে জানতে পারে যে তার সঙ্গেই মহেশ্বরী কইন্যের বিয়ে হবে। মহেশ্বরী এ কথা শুনে রেগে গিয়ে কোটেকে তাড়া করে। আর তাড়া খেয়ে কোটে উপস্থিত হয় অন্য এক দেশে। ভাগ্যক্রমে সেই দেশের রাজার মৃত্যুর কারণে কোটে হয় সেই দেশের রাজা। আর তখনই সে মহেশ্বরী কইন্যেকে চুরি করে আনার জন্য পাইচো নামক এক চোরকে নিযুক্ত করে। পাইচোও নানা রকম ফন্দি ফিকির আঁটতে থাকে এবং বিভিন্ন কৌশল প্রয়োগ করে। একে একে সে রাজার হাট-বাজার চুরি করা শুরু করে। রাজ্যবাসী, উজির, নাজির সবাইকে ফাঁকি দিয়ে অবশেষে পাইচো চুরি করতে সফল হয় মহেশ্বরী কইন্যেকে। কইন্যের পিতারূপে বিয়ের মাধ্যমে তাকে তুলে দেয় কোটের হাতে। এরপর মহেশ্বরী রাজা দখল করে কোটের রাজ্য এবং কোটেকে হত্যার জন্য উদ্যত হয়। আর তখনই সে জানতে পারে মহেশ্বরী কইন্যের সঙ্গে কোটের বিয়ে হয়ে গেছে। অবশেষে সে মেনে নেয় তাদের বিয়ে। এভাবেই বিভিন্ন ঘটনাক্রমে আবর্তিত হয় ‘পাইচো চোরের কিচ্ছা’ নাটকের কাহিনী।

ঢাকা পদাতিকের ৩৫তম প্রযোজনা এ নাটকটির ৫৬তম মঞ্চায়ন হয় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার প্রধান মিলনায়তনে বুধবার সন্ধ্যায়। খুলনার লোককাহিনীকে উপজীব্য করে গবেষণাধর্মী এ নাটকের নাট্যরূপ ও নির্দেশনা দিয়েছেন কাজী চপল।

সমগ্র নাটকটি বর্ণনা করেন একজন কথক, আর পাত্র পাত্রীরা এর বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করে। নাটকটিতে সেটের ব্যবহার নেই বললেই চলে। পেছনে শুধু একটি বটগাছের পটচিত্র আছে, যাতে বোঝা যায় গ্রামের কোন এক বটতলায়, রাতের বেলা গানের আসর বসেছে। একদল গ্রামবাসী শুনছে সে গল্পগান।

নির্দেশক বলেন, সমগ্র বাংলাদেশে ছড়িয়ে আছে অসংখ্য সাংস্কৃতিক উপাদান। বাংলার লোকাঙ্গনে লালিত এসব সাংস্কৃতিক উপাদানই আমাদের ঐতিহ্য, আমাদের শেকড়। কৃষিভিত্তিক সভ্যতার এ দেশে খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের শিল্পবোধ বড়ই চমৎকার, মধুর আর বিচিত্র সম্ভারে পরিপূর্ণ। লোকমনে ফল্গুধারার মতো উৎসারিত এই বৈচিত্র্যপূর্ণ পূর্ণাঙ্গ শিল্প উপাদানগুলোই আমাদের অতিপ্রিয় লোকসংস্কৃতি। খুলনা এলাকায় অসংখ্য লোকউপাদান রয়েছে। লোকনাটক করব এ ভাবনাতেই লোককাহিনী পাইচো চোরের কিচ্ছা খুঁজে বের করা। কবিয়াল বিজয় সরকার, আলেক মাতুব্বর, মোসলেম বয়াতীসহ খুলনা এলাকার অসংখ্য লোককবি ভাটিয়ালী সুরে যে ভাব, রস আমাদের মনে গ্রথিত করেছেন তা এই নাটকের মূলসুর হিসেবে কাজ করেছে।

নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন-কাজী শিলা, কিরণ, আলামিন, তন্দ্রা, শ্যামল, দেবাশীষ বড়ুয়া, নিপা, সজল, আসিফ, আল আমিন, রিয়াজ, সম্রাট, তন্বি, সুমন ঘোষ, রাহাত, আসিফ, সামিউল, মাসুদ আহম্মেদ, সুকান্ত, সেতু, ইকরা প্রমুখ।


The Daily Janakantha website developed by
BIKIRAN.COM
]]>
শরণার্থী শিবির থেকে পালানোর সময় কয়েক ঘণ্টায় আটক ২১০ http://www.dailyjanakantha.com/details/article/295496/শরণার্থী-শিবির-থেকে-পালানোর-সময়-কয়েক-ঘণ্টায় http://www.dailyjanakantha.com/details/article/295496/শরণার্থী-শিবির-থেকে-পালানোর-সময়-কয়েক-ঘণ্টায় 2017-09-20T11:40:08+0000 Daily Janakantha মাকসুদ আহমদ, চট্টগ্রাম অফিস ॥ রোহিঙ্গারা শরণার্থী শিবির বাদ দিয়ে জেলায় জেলায় ছড়িয়ে পড়ার টার্গেট নিয়ে এগুচ্ছে। প্রশ্ন উঠেছে কি ...

শরণার্থী শিবির থেকে পালানোর সময় কয়েক ঘণ্টায় আটক ২১০

 

শেষের পাতা

Daily Janakantha

মাকসুদ আহমদ, চট্টগ্রাম অফিস ॥ রোহিঙ্গারা শরণার্থী শিবির বাদ দিয়ে জেলায় জেলায় ছড়িয়ে পড়ার টার্গেট নিয়ে এগুচ্ছে। প্রশ্ন উঠেছে কি কারণে তারা শরণার্থী শিবির ছেড়ে কক্সবাজার ত্যাগ করার চেষ্টা করছে। জেলা প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিকে এড়িয়ে শিবির থেকে পালানোর চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। এদিকে, বুধবার চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আয়োজিত সভায় রোহিঙ্গাদের ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় পাওয়া গেলে আটক বা গ্রেফতারের পরিবর্তে উদ্ধার দেখাতে বলায় প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে প্রশাসন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব সেভেন কক্সবাজারের বিভিন্ন সড়কে চেকপোস্ট বসিয়েছে। মঙ্গলবার কক্সবাজারের লিংক রোড এলাকায় স্থাপিত চেকপোস্টে মাত্র কয়েক ঘণ্টায় ২১০ জন রোহিঙ্গা আটকের ঘটনা ঘটেছে। তবে এসব রোহিঙ্গাকে কক্সবাজারে বালুখালী শরণার্থী শিবিরে হস্তান্তর করেছেন র‌্যাব সেভেনের মেজর রুহুল আমীন। প্রশ্ন উঠেছে টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা প্রবেশে কোন বাধা নেই গত ২৭ আগস্ট থেকে।

এ ব্যাপারে র‌্যাব সেভেনের কক্সবাজারের কোম্পানি কমান্ডার রুহুল আমীন জনকণ্ঠকে জানান, মানবিক দিক চিন্তা করে রোহিঙ্গাদের শরণার্থী শিবিরে ঠাঁই দিচ্ছে সরকার। তবে রোহিঙ্গারা যেন কোন অপরাধের সঙ্গে জড়াতে না পারে সেদিকে আমাদের নজরদারি রয়েছে। এছাড়াও রোহিঙ্গারা যেন কক্সবাজার ছাড়তে না পারে সে জন্য চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। বিভিন্নভাবে নজরদারি রাখা হয়েছে যেন রোহিঙ্গাকে কেন্দ্র করে কেউ ব্যবসায় মেতে উঠতে না পারে।

অভিযোগ রয়েছে, দেশব্যাপী রোহিঙ্গা ছড়ানো ঠেকাতে মরিয়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে একদিকে প্রবেশ অন্যদিকে রোহিঙ্গা ঠেকানোর বিষয়টি এখন প্রশ্নবিদ্ধ। কেন রোহিঙ্গা প্রবেশে বাধা না দিয়ে দেশের অভ্যন্তরে রোহিঙ্গা আটকাতে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে তা নিয়ে সচেতনদের মাঝ রয়েছে কৌতূহল। এ কেমন সিদ্ধান্ত, এ কেমন মানবতার টান। তবে এসব রোহিঙ্গা আগামীতে কাল হয়ে দাঁড়াবে যদি অনুপ্রবেশ বন্ধ করা না যায় বা পুশব্যাক করা না যায়। কারণ ত্রাণের পণ্য ও খাদ্যসামগ্রী বন্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রোহিঙ্গারা উপার্জনের দিকে এগুতে থাকবে। তখনই টেকনাফ-কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন শ্রমবাজার ও দিনমজুর এমনকি হতদরিদ্র শ্রেণীর ওপর প্রভাব পড়বে। অভাবের তাড়নায় শুরু হবে অপরাধ।

আরও অভিযোগ রয়েছে, রোহিঙ্গা প্রবেশে সহায়তা করছে পুরাতন রোহিঙ্গা সিন্ডিকেটসহ টেকনাফ-কক্সবাজার সিন্ডিকেট। উখিয়া ও কুতুপালংয়ে সরকারের নির্ধারিত শরণার্থী শিবির থাকলেও এখন তা বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি, বালুখালী থেকে শুরু করে কক্সবাজারের আনাচে-কানাচে এমনকি বাসাবাড়িতেও মানবিকতার টানের দোহাই দিয়ে ঠাঁই করে নিচ্ছে রোহিঙ্গারা। প্রশ্ন উঠেছে এ দেশের মানুষের মানবিকতাকে পুঁজি করে শেষ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আবাস গড়ে তোলে কিনা রোহিঙ্গারা। এদিকে, বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরের মোবাইল ও সিম ব্যবহার শুরু করেছে এসব রোহিঙ্গারা। প্রশ্ন উঠেছে, বায়োমেট্রিক সিম জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যতীত কিসের ভিত্তিতে তাদের কাছে বিক্রয় করা হচ্ছে। তবে এ ক্ষেত্রে মোবাইল অপারেটরদের দোকানিরা বিভিন্ন নামে এসব সিম বিক্রি করলেও আগামীতে রোহিঙ্গাদের অপরাধের কারণে নিবন্ধিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।


The Daily Janakantha website developed by
BIKIRAN.COM
]]>
শুভ সুন্দরের প্রতিমা সুদৃশ্য তোরণ, কেনাকাটার ধুম http://www.dailyjanakantha.com/details/article/295492/শুভ-সুন্দরের-প্রতিমা-সুদৃশ্য-তোরণ-কেনাকাটার-ধুম http://www.dailyjanakantha.com/details/article/295492/শুভ-সুন্দরের-প্রতিমা-সুদৃশ্য-তোরণ-কেনাকাটার-ধুম 2017-09-20T11:37:33+0000 Daily Janakantha মোরসালিন মিজান ॥ বাঙালীর অভাব-অভিযোগ যতই থাকুক, উৎসবের রঙে সাজতে বিশেষ বিলম্ব হয় না। উপলক্ষ লেগেই থাকে। তবে এখন ছোট-খাট ...

শুভ সুন্দরের প্রতিমা সুদৃশ্য তোরণ, কেনাকাটার ধুম

 

শেষের পাতা

Daily Janakantha

মোরসালিন মিজান ॥ বাঙালীর অভাব-অভিযোগ যতই থাকুক, উৎসবের রঙে সাজতে বিশেষ বিলম্ব হয় না। উপলক্ষ লেগেই থাকে। তবে এখন ছোট-খাট কিছু নয়, শারদীয় দুর্গোৎসবের মতো বড় বর্ণাঢ্য আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। এর পরই ঢাকে বাড়ি পড়বে। বাজবে শঙ্খ। আনন্দে ভাসবে শহর নগর। ভক্তদের দর্শন দিতে স্বর্গলোক থেকে মর্ত্যলোকে আসবেন দশভুজা দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গা। নতুন জামা-কাপড়ে সেজে বিভিন্ন ম-প ঘুরে বেড়াবেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। নাচবেন, গাইবেন। চলবে খাওয়া-দাওয়া, বেড়ানো। অন্য ধর্মাবলম্বীরাও বাদ যাবেন না। সবার অংশগ্রহণে দারুণ মুখরিত হয়ে উঠবে অসাম্প্রদায়িক বাংলা।

শারদীয় দুর্গোৎসবের দীর্ঘ প্রস্তুতি। অনেক দিন ধরেই চলছে। গত মঙ্গলবার ছিল মহালয়া। সনাতন ধর্ম মতে, এদিন দেবী দুর্গা পা রাখেন মর্ত্যলোকে। ভোরে মন্দিরে মন্দিরে চ-ীপাঠের মধ্য দিয়ে দেবীকে আবাহন করা হয়। ষষ্ঠী পূজার মাধ্যমে ২৬ সেপ্টেম্বর শারদীয় দুর্গোৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। পাঁচ দিনব্যাপী উৎসব সামনে রেখে সাজছে পূজা ম-পগুলো।

জানা যায়, এ বছর সারাদেশে ৩০ হাজার ৭৭টি ম-পে শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে। রাজধানীতে ম-পের সংখ্যা বেড়েছে। গত বছর ২২৬টি ম-পে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়। এবার সংখ্যাটি বেড়ে হচ্ছে ২৩১টি। ইতোমধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন গলির মুখে দাঁড়িয়ে গেছে সুদৃশ্য তোরণ। কয়েক দিনের মধ্যেই শুরু হয়ে যাবে আলোকসজ্জার কাজ। আর তখন উৎসবের রংটা সবার চোখে পড়বে বৈকি!

রাজধানীর ম-পগুলোতেও চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করছেন প্রতিমা শিল্পীরা। অধিকাংশ ম-পে মূল কাঠামো নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। এখন চলছে রং করা ও সাজসজ্জার কাজ। ভক্তের রংতুলিতে আপন চেহারায় উদ্ভাসিত হচ্ছেন দেবী দুর্গা। ষষ্ঠীর দিন চোখ এঁকে দেয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হবে প্রতিমা নির্মাণের সকল কাজ।

ঐতিহ্যবাহী ঢাকেশ্বরী মন্দির ঘুরে দেখা যায়, প্রতিমা গড়ার কাজ মোটামুটি শেষ হয়েছে। পূজা ম-পের সামনের খোলা জায়গায় নির্মাণ করা হয়েছে নতুন প্রতিমা। ২৫ বছর ধরে ঢাকেশ্বরী মন্দিরের প্রতিমা বানাচ্ছেন শিল্পী সুকুমার পাল। তার হাতের ছোঁয়ায় মূর্ত হয়েছেন দেবী। এখানে রাখা হয়েছে গত বছরের প্রতিমাও। ষষ্ঠীর দিন প্রথা অনুযায়ী আগের বছরের প্রতিমা বিসর্জন দিয়ে নতুন প্রতিমা উঠানো হবে।

রাজধানীর সবচেয়ে বড় ও আকর্ষণীয় ম-পটি তৈরি করা হয় বনানী মাঠে। এবারও এর ব্যতিক্রম হচ্ছে না। অনেক দিন ধরে চলছে ম-প নির্মাণের কাজ। বিশাল এলাকা নিয়ে গড়া ম-পের পুরো কাজ এখনও শেষ হয়নি। সূক্ষ্ম নক্সা ফুটিয়ে তোলার কাজ করছেন শিল্পীরা। রাজধানীর অন্য ম-পগুলোতেও চলছে মহাউৎসবের প্রস্তুতি।

এদিকে, উৎসব সামনে রেখে চলছে জমজাট কেনাকাটা। ঢাকার প্রায় সব মার্কেট শপিংমলে এখন বাড়তি ভিড়। গত কয়েকদিন বসুন্ধরা সিটি শপিংমল ঘুরে দেখা যায়, উৎসবের আমেজ। নিজের জন্য, পরিবার-পরিজনের জন্য নতুন পোশাক চাই। সেই পোশাকের খোঁজ চলছে। মোহাম্মদপুর থেকে পূজার কেনাকাটা করতে এসেছিলেন শ্যামল সরকার। একটি বিদেশী প্রতিষ্ঠানের বাংলাদেশ অফিসে কাজ করেন। বললেন, আমাদের কেনাকাটা আরও আগেই শেষ হয়েছে। পূজার ছুটিতে গ্রামের বাড়ি যাব। বাবা-মা সেখানে থাকেন। তাদের জন্য শাড়ি-পাঞ্জাবি কিনতে এসেছি।

মগবাজারের আড়ংয়ের শোরুমে কথা হয় নন্দিতা ও আরতির সঙ্গে। দুই বোন এসেছিলেন শাড়ি কিনতে। ছোট বোন আরতি বললেন, পূজাতে শাড়ি না হলে হয় না। সাজটা অসম্পূর্ণ থেকে যায়। এ কারণেই শাড়ি কিনতে আসা। শাড়ি কেনার পর এর সঙ্গে মিলিয়ে অন্য কেনাকাটা করবেন বলে জানান তিনি।

আলাদা করে বলতে হয় শাঁখারীবাজারের কথা। এখান থেকে পরিবারের নারী সদস্যরা নতুন করে শাঁখা গড়ে নিচ্ছেন। ছোট ছোট দোকানগুলোতে মেয়েদের প্রাণোচ্ছ্বল উপস্থিতি। কেউ শাঁখা হাতে পরছেন। কেউ খুলছেন। চলছে দরদাম। বীথিকা রানী নামের এক মাঝবয়সী নারী বললেন, শাঁখা সব সময় পরা হয় না। তবে এটি আমাদের ঐতিহ্য। পূজায় পরি। বাসায় পুরনো শাখা আছে জানিয়ে তিনি বলেন, পূজা উপলক্ষে নতুন শাঁখা কিনেছি। পূজার জন্য নানা উপকরণেরও প্রয়োজন হয়। এসব উপকরণের বিপুল সম্ভার শাঁখারীবাজারে। প্রতিমা সাজানোর শাড়ি, দেবী দুর্গার মাথার মুকুট, গলায় পরানোর রঙিন হারÑ কী নেই? সবই জানান উৎসবের আগমনী ঘোষণা করছে।


The Daily Janakantha website developed by
BIKIRAN.COM
]]>
প্রাণীর প্রতি ভালবাসা http://www.dailyjanakantha.com/details/article/295491/প্রাণীর-প্রতি-ভালবাসা http://www.dailyjanakantha.com/details/article/295491/প্রাণীর-প্রতি-ভালবাসা 2017-09-20T11:30:04+0000 Daily Janakantha যুক্তরাষ্ট্রে হারিকেন ইরমা আঘাত হানার পর ধ্বংসস্তূপে পরিণত একটি বাড়িতে উদ্ধার কাজ করছিলেন এক অগ্নিনির্বাপণ কর্মী। তখন তিনি দেখলেন দেয়ালের ...

প্রাণীর প্রতি ভালবাসা

 

প্রথম পাতা

Daily Janakantha

যুক্তরাষ্ট্রে হারিকেন ইরমা আঘাত হানার পর ধ্বংসস্তূপে পরিণত একটি বাড়িতে উদ্ধার কাজ করছিলেন এক অগ্নিনির্বাপণ কর্মী। তখন তিনি দেখলেন দেয়ালের সঙ্গে একটি হরিণ বিপজ্জনকভাবে ঝুলে আছে। ঝড়ে আহত হয়ে হরিণটি খুব সঙ্কটাপন্ন অবস্থায় তখন।

জনসন নামের ওই কর্মী ভাবলেন, যে কোন সময় হরিণটি নিচে পড়ে যেতে পারে। আর পড়লেই সেটির মৃত্যু নিশ্চিত। তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে গেলেন, কীভাবে হরিণটিকে বাঁচাবেন। তিনি ধীর পায়ে আতঙ্কগ্রস্ত প্রাণীটির কাছে গেলেন। এক বোতল পানি চোখের সামনে তুলে ধরলেন। যাতে হরিণটি ভীত না হয়। তিনি বলেন, পরিস্থিতি এমন দাঁড়াল যে হরিণটি না, আমারই মনে ভয় ধরে গেছে যে যদি প্রাণীটিকে বাঁচাতে না পারি।

হরিণটি তৃষ্ণার্ত ছিল। কাজেই চোখের সামনে পানি দেখে তার ভয়-শঙ্কা কেটে গেল। এই সুযোগে সেটিকে নিরাপদে উদ্ধার করে নিয়ে আসলেন জনসন। তিনি বলেন, কেউ যদি এ ঘটনায় বিস্মিত হয়, তাতে আমার কিছু করার নেই। কিন্তু আমরা অবাক লেগেছে যে, প্রাণীটি মুহূর্তেই পুরো চার বোতল পানি খেয়ে ফেলেছে।

জনসন বলেন, স্থানীয় আটকে পড়া অধিবাসীদের উদ্ধার করেই কেবল আমি আনন্দিত না, আমার হাতে একটি প্রাণী উদ্ধার হয়েছে, জীবন বেঁচেছে, সেটাই আমার আনন্দ। -ইউপিআই অনলাইন


The Daily Janakantha website developed by
BIKIRAN.COM
]]>
অসুস্থ ডিপজলকে নেয়া হলো সিঙ্গাপুরে http://www.dailyjanakantha.com/details/article/295484/অসুস্থ-ডিপজলকে-নেয়া-হলো-সিঙ্গাপুরে http://www.dailyjanakantha.com/details/article/295484/অসুস্থ-ডিপজলকে-নেয়া-হলো-সিঙ্গাপুরে 2017-09-20T11:28:03+0000 Daily Janakantha স্টাফ রিপোর্টার ॥ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন খল অভিনেতা মনোয়ার হোসেন ডিপজল। চিকিৎসকদের পরামর্শে বুধবার বিকেলে ...

অসুস্থ ডিপজলকে নেয়া হলো সিঙ্গাপুরে

 

সংস্কৃতি অঙ্গন

Daily Janakantha

স্টাফ রিপোর্টার ॥ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন খল অভিনেতা মনোয়ার হোসেন ডিপজল। চিকিৎসকদের পরামর্শে বুধবার বিকেলে সাড়ে তিনটায় তাকে সিঙ্গাপুর নেয়া হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চলচ্চিত্র নির্মাতা মনতাজুর রহমান আকবর। আকবর জানিয়েছেন, ডিপজলের ফুসফুসে পানি জমেছে। চিকিৎসকরা পরামর্শে তাকে সিঙ্গাপুরে নেয়া হয়েছে। বুধবার বিকেলে এয়ার এ্যাম্বুলেন্সে তাকে মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ডিপজলের সঙ্গে আছেন কন্যা ওলিজা মনোয়ার ও স্ত্রী জবা। নির্মাতা ছটকু আহমেদ গতকাল বিকেলে বলেন, ডিপজলের অবস্থা সঙ্কটাপন্ন, তার মেয়ে ওলিজা দেশবাসীর কাছে তার পিতার জন্য দোয়া চেয়েছেন। সব প্রস্তুতি সম্পন্ন। কিছুক্ষণের মধ্যেই ডিপজলকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে সিঙ্গাপুরে। জানা যায়, বুধবার সকালে হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তাকে ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় এবং তাকে সিসিইউতে রাখা হয়েছিল। তিনি ডাঃ বরেণ চক্রবর্তীর তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। এ দিকে এই অভিনেতার অসুস্থতার খবর পেয়ে সকাল থেকেই হাসপাতালে ভিড় করেন সহশিল্পীরা। খল অভিনেতা আহমেদ শরীফ, নির্মাতা মনতাজুর রহমান আকবর, অভিনেতা সায়মন সাদিকসহ অনেকেই তাকে দেখতে হাসপাতালে ছুটে যান। আশির দশকের শেষের দিকে চলচ্চিত্রে নাম লেখান এই অভিনেতা। তবে কাজী হায়াত পরিচালিত ‘তেজী’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে খল অভিনেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটে তার। অসংখ্য দর্শকপ্রিয় চলচ্চিত্র উপহার দিয়েছেন তিনি। সর্বশেষ ‘দুলাভাই জিন্দাবাদ’ নামে একটি চলচ্চিত্র প্রযোজনার পাশাপাশি অভিনয় করেছেন তিনি। এটি পরিচালনা করেছেন মনতাজুর রহমান আকবর। চলচ্চিত্রটি আগামী সপ্তাহে মুক্তি পাচ্ছে।





The Daily Janakantha website developed by
BIKIRAN.COM
]]>
এলটন জনের কণ্ঠে গলা মেলালেন বাপ্পী লাহিড়ী http://www.dailyjanakantha.com/details/article/295481/এলটন-জনের-কণ্ঠে-গলা-মেলালেন-বাপ্পী-লাহিড়ী http://www.dailyjanakantha.com/details/article/295481/এলটন-জনের-কণ্ঠে-গলা-মেলালেন-বাপ্পী-লাহিড়ী 2017-09-20T11:27:11+0000 Daily Janakantha সংস্কৃতি ডেস্ক ॥ হলিউড কমেডি-স্পাই ‘কিংসম্যান : দ্য গোল্ডেন সারকেল’ চলচ্চিত্রের ভারতীয় সংস্করণে ব্রিটিশ সঙ্গীতশিল্পী এলটন জনের কণ্ঠে কণ্ঠ মেলালেন ...

এলটন জনের কণ্ঠে গলা মেলালেন বাপ্পী লাহিড়ী

 

সংস্কৃতি অঙ্গন

Daily Janakantha

সংস্কৃতি ডেস্ক ॥ হলিউড কমেডি-স্পাই ‘কিংসম্যান : দ্য গোল্ডেন সারকেল’ চলচ্চিত্রের ভারতীয় সংস্করণে ব্রিটিশ সঙ্গীতশিল্পী এলটন জনের কণ্ঠে কণ্ঠ মেলালেন ভারতীয় সঙ্গীতশিল্পী বাপ্পী লাহিড়ী। ‘ডিস্কো কিং’ খ্যাত ভারতীয় সঙ্গীত তারকা বাপ্পী লাহিড়ীর সঙ্গে এলটন জনের তুলনা করে থাকেন অনেকেই। তারা দুইজনই চকমকে পোশাক ও সোনার গলার অলঙ্কার পরতে ভালবাসেন। শুধু তাই নয় তাদের দুজনের গানের গলা ও গায়কীতেও বেশ মিল রয়েছে- এমনটাই মনে করেন ভক্তরা। গণমাধ্যম জানায়, হলিউডি চলচ্চিত্র ‘কিংসম্যান : দ্য গোল্ডেন সারকেল’-এ একটি অতিথি চরিত্রে অভিনয় করছেন ‘টাইনি ড্যান্সার’, ‘নিকিতা’, ‘রকেট ম্যান’ সহ একাধিক জনপ্রিয় গানের শিল্পী এলটন জন। চলচ্চিত্রে তাকে নিজের চরিত্রেই দেখা যাবে। এ চলচ্চিত্রের ভারতীয় সংস্করণে এলটন জনের চরিত্রটির জন্য কণ্ঠ দিয়েছেন ভারতীয় সঙ্গীত তারকা বাপ্পী লাহিড়ী। এ প্রসঙ্গে শিল্পী বাপ্পী লাহিড়ী বলেন, এলটন জন আমার প্রিয় সঙ্গীতশিল্পী। তার কণ্ঠে কণ্ঠ মেলাতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি। আশা করি আমরা দু’জনে মিলে অসাধারণ কিছু উপহার দিতে পারব দর্শককে। আগামীকাল যুক্তরাষ্ট্রে মুক্তি পাচ্ছে ‘কিংসম্যান : দ্য গোল্ডেন সারকেল।’ এ চলচ্চিত্রের মাধ্যমেই প্রথমবারের মতো বড়পর্দায় হাজির হবেন ‘স্যাক্রিফাইস’ শিল্পী এলটন জন।




The Daily Janakantha website developed by
BIKIRAN.COM
]]>
আফরান নিশো-মেহজাবিনের ‘তোমার কথা বলবো কাকে’ http://www.dailyjanakantha.com/details/article/295480/আফরান-নিশো-মেহজাবিনের-‘তোমার-কথা-বলবো-কাকে’ http://www.dailyjanakantha.com/details/article/295480/আফরান-নিশো-মেহজাবিনের-‘তোমার-কথা-বলবো-কাকে’ 2017-09-20T11:26:48+0000 Daily Janakantha স্টাফ রিপোর্টার ॥ হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার নানা আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। আর এ উপলক্ষে স্যাটেলাইট চ্যানেল বাংলাভিশনের ...

আফরান নিশো-মেহজাবিনের ‘তোমার কথা বলবো কাকে’

 

সংস্কৃতি অঙ্গন

Daily Janakantha

স্টাফ রিপোর্টার ॥ হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার নানা আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। আর এ উপলক্ষে স্যাটেলাইট চ্যানেল বাংলাভিশনের নিজস্ব প্রযোজনায় গুণী নাট্যনির্মাতা অঞ্জন আইচ নির্মাণ করছেন বিশেষ নাটক ‘তোমার কথা বলবো কাকে’। অঞ্জন আইচের নির্দেশনায় এবারই প্রথম একসঙ্গে কাজ করছেন আফরান নিশো ও মেহজাবিন চৌধুরী। এর আগে বিভিন্ন পরিচালকের নির্দেশনায় নিশো মেহজাবিন একসঙ্গে কাজ করলেও অঞ্জন আইচের নির্দেশনায় প্রথম কাজ করছেন। রাজধানীর উত্তরায় একটি শূটিং হাউসে নাটকটির শূটিং শুরু হয়েছে। বৃষ্টিকে উপক্ষো করেই পরিচালক অঞ্জন আইচ নাটকটি নির্মাণ করছেন। এতে অভিনয় প্রসঙ্গে আফরান নিশো বলেন, দাদার নির্দেশনায় কাজ করতে এ কারণেই ভাললাগে যে তার গল্পভাবনা সবসময়ই খুব ভাল হয়। সেই গল্প ভাবনার সঙ্গে যখন মিলিয়ে শিল্পীদের অভিনয়, চিত্রনাট্য, মেকিংয়ের চমৎকার সমন্বয় ঘটে তখনই একটি সুন্দর নাটক হয়ে দাঁড়ায়। আশাকরি এই নাটকটিও ঠিক তেমনি একটি নাটক হবে। আর দাদার নির্দেশনায় প্রায় তিন বছর পর আমার কাজ করা হচ্ছে। মেহজাবিন এই সময়ে এসে অভিনয় নিয়ে দারুণভাবে ভাবছে। এটা একজন অভিনেত্রী হিসেবে খুবই ভাল দিক। রূপ সচেতনতার পাশাপাশি অভিনয়টা নিয়ে যে ভাবতে হবে সেটা একজন অভিনয় শিল্পীর কাজ। মেহজাবিন সবসময়ই আমার একজন পছন্দের কোআর্টিস্ট এবং দর্শকও আমাদের এই জুটিকে খুব পছন্দ করেন। মেহজাবিন বলেন, অনেকদিন পর অঞ্জন দাদার নাটকে কাজ করছি। তার নির্দেশনায় এবারই প্রথম খ- নাটকে কাজ করা। গল্পটা বেশ ভাল। নিশো ভাইয়া নিঃসন্দেহে একজন ভাল অভিনেতা। তার সঙ্গে অভিনয় করাটা সব সময়ই বেশ উপভোগ করি। একজন সহশিল্পী যখন ভাল হয় তখন কাজ করাটাও চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। পরিচালক অঞ্জন আইচ জানান ‘তোমার কথা বলবো কাকে’ নাটকটি একটি রোমান্টিক ও যথেষ্ট আবেগঘন নাটক। আফরান নিশো ও মেহজাবিন চৌধুরীকে গল্পের কারণে তাদের সর্র্বোচ্চ অভিনয় দিয়েই অসীম ও রিয়া চরিত্র দুটিকে ফুটিয়ে তুলতে হচ্ছে বলে জানান পরিচালক অঞ্জন আইচ। আসছে দুর্গা পূজায় দশমীতে বাংলাভিশনে নাটকটি প্রচার হবে। আফরান নিশো প্রথম অঞ্জন আইচের নির্দেশনায় ধারাবাহিক নাটক ‘শূন্য সমীকরণ’ নাটকে অভিনয় করেন। অন্যদিকে মেহজাবিন চৌধুরী অঞ্জন আইচের নির্দেশনায় প্রথম ‘চক্র’ ধারাবাহিকে অভিনয় করেন।



The Daily Janakantha website developed by
BIKIRAN.COM
]]>
সংস্কৃতিমন্ত্রীর সঙ্গে গ্রাম থিয়েটারের মতবিনিময় সভা http://www.dailyjanakantha.com/details/article/295478/সংস্কৃতিমন্ত্রীর-সঙ্গে-গ্রাম-থিয়েটারের-মতবিনিময়-সভা http://www.dailyjanakantha.com/details/article/295478/সংস্কৃতিমন্ত্রীর-সঙ্গে-গ্রাম-থিয়েটারের-মতবিনিময়-সভা 2017-09-20T11:26:13+0000 Daily Janakantha স্টাফ রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার জাতীয় পর্ষদের সভা ঢাকার কেন্দ্রীয় কচিকাঁচার মেলা সেমিনার কক্ষে মঙ্গলবার সকালে অনুষ্ঠিত হয়। সভার ...

সংস্কৃতিমন্ত্রীর সঙ্গে গ্রাম থিয়েটারের মতবিনিময় সভা

 

সংস্কৃতি অঙ্গন

Daily Janakantha

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার জাতীয় পর্ষদের সভা ঢাকার কেন্দ্রীয় কচিকাঁচার মেলা সেমিনার কক্ষে মঙ্গলবার সকালে অনুষ্ঠিত হয়। সভার সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটারের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু। জাতীয় পর্ষদ সভায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটারের সভাপতিম-লীর সদস্য কাজী সাঈদ হোসেন দুলাল, আমিরুল ইসলাম, অধ্যাপক হারুন রশীদ, কামরুল হাসান, আফসানা ফেরদৌসি কেকা, হাফিজা বেগম কাকলি প্রমুখ। সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটারের সাধারণ সম্পাদক তৌফিক হাসান ময়না। মতবিনিময় সভায় আর উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। এ ছাড়া সভায় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় পর্ষদের সকল পর্যায়ের সমন্বয়কারী, আঞ্চলিক সমন্বয়কারী ও ভোর হলো সাংস্কৃতিক বিদ্যালয়ের সমন্বয়কারী এবং পরিচালকরা। জাতীয় পর্ষদের সভা শেষে বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটারের নেতারা সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় অতিথিদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটারের পক্ষ থেকে সংস্কৃতিমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা ক্রেস্ট উপহার দেয়া হয়। মতবিনিময়কালে বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটারের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যত কর্মকান্ড সম্পর্কে মন্ত্রীকে অবহিত করা হয়। মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটারের কার্যক্রম ও ভূমিকা অটুট থাকবে বলে অভিমত ব্যক্ত করা হয়।




The Daily Janakantha website developed by
BIKIRAN.COM
]]>
এসএম সোলায়মান প্রণোদনা ও স্মারক বক্তৃতা কাল http://www.dailyjanakantha.com/details/article/295475/এসএম-সোলায়মান-প্রণোদনা-ও-স্মারক-বক্তৃতা-কাল http://www.dailyjanakantha.com/details/article/295475/এসএম-সোলায়মান-প্রণোদনা-ও-স্মারক-বক্তৃতা-কাল 2017-09-20T11:25:30+0000 Daily Janakantha স্টাফ রিপোর্টার ॥ থিয়েটার আর্ট ইউনিটের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত নাট্য ব্যক্তিত্ব এসএম সোলায়মান স্মরণে প্রতিবছর বিশেষ আয়োজন করে থাকে । এরই ...

এসএম সোলায়মান প্রণোদনা ও স্মারক বক্তৃতা কাল

 

সংস্কৃতি অঙ্গন

Daily Janakantha

স্টাফ রিপোর্টার ॥ থিয়েটার আর্ট ইউনিটের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত নাট্য ব্যক্তিত্ব এসএম সোলায়মান স্মরণে প্রতিবছর বিশেষ আয়োজন করে থাকে । এরই ধারাবাহিকতায় এবারও ‘এসএম সোলায়মান প্রণোদনা ও স্মারক বক্তৃতা’ শীর্ষক বিশেষ আয়োজন করেছে থিয়েটার আর্ট ইউনিট। আগামীকাল ২২ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটার মিলনায়তনে এ আয়োজন করা হয়েছে। এ আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক নাট্যজন লিয়াকত আলী লাকী। আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন নাট্য ব্যক্তিত্ব আহমেদ ইকবাল হায়দার ও ইশরাত নিশাত। আয়োজনে এবারের স্মারক বক্তৃতার বিষয় ‘সোলায়মানের ‘গোলাপজান’ নাটকে সঙ্গীত পুনর্গঠন কিংবা পুনর্সৃজনের অন্তরাভিজান। বক্তৃতা করবেন নাট্যকার ও নির্দেশক শুভাশিষ সিনহা। এবারের অনুষ্ঠানে এসএম সোলায়মান প্রণোদনা গ্রহণ করবে হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের দেউন্দি চাবাগানের প্রতীক থিয়েটার। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে প্রতীক থিয়েটার মঞ্চায়ন করবে তাদের অন্যতম প্রযোজনা নাটক ‘নিজ ভূমে পরবাসী’। নাটকটি রচনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন সুনীল বিশ্বাস।



The Daily Janakantha website developed by
BIKIRAN.COM
]]>
গণপরিবহনের চেয়ে ব্যক্তিগত যানের আধিক্য http://www.dailyjanakantha.com/details/article/295458/গণপরিবহনের-চেয়ে-ব্যক্তিগত-যানের-আধিক্য http://www.dailyjanakantha.com/details/article/295458/গণপরিবহনের-চেয়ে-ব্যক্তিগত-যানের-আধিক্য 2017-09-20T11:21:01+0000 Daily Janakantha রাজন ভট্টাচার্য ॥ গণপরিবহনের তুলনায় দেশে দ্রুত বাড়ছে ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা। গত আট বছরে প্রায় সোয়া দুইগুণ বেড়েছে মোট পরিবহন। ...

গণপরিবহনের চেয়ে ব্যক্তিগত যানের আধিক্য

 

প্রথম পাতা

Daily Janakantha

রাজন ভট্টাচার্য ॥ গণপরিবহনের তুলনায় দেশে দ্রুত বাড়ছে ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা। গত আট বছরে প্রায় সোয়া দুইগুণ বেড়েছে মোট পরিবহন। বর্তমানে দেশে ব্যক্তিগত পরিবহনের সংখ্যা প্রায় ২৫ লাখ। এর মধ্যে প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলের সংখ্যাই বেশি। এর বিপরীতে গণপরিবহনের সংখ্যা তিন লাখের কিছু বেশি। রাজধানী ঢাকায় দুই কোটি মানুষের বিপরীতে চার হাজার বাস ও ৬ হাজার অটোরিক্সাসহ মোট গণপরিবহন ১৫ হাজারের বেশি নেই। তাছাড়া ব্যক্তিগত গাড়ি নিরুৎসাহিত করা ও গণপরিবহন বাড়াতে সরকারের আন্তরিক কোন প্রচেষ্টাও নেই। জনস্বার্থে গণপরিবহনের জন্য যেসব উদ্যোগ নেয়া হয়েছে তাও ঝুলে আছে বছরের পর বছর। এই প্রেক্ষাপটে ব্যক্তিগত পরিবহনের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। আর এমন বাস্তবতা সামনে রেখে আগামীকাল ২২ সেপ্টেম্বর ‘বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবস’ বাংলাদেশেও পালিত হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি পরিকল্পিত শহরের জন্য ২৫ ভাগ রাস্তার মধ্যে ঢাকায় আছে সর্বোচ্চ সাত ভাগ। এই রাস্তায় আড়াই থেকে তিন লাখ গাড়ি চলাচল করতে পারে। অথচ প্রাইভেটকারই চলছে প্রায় আড়াই লাখ। রিক্সা ১০ লাখের বেশি। অন্যান্য পরিবহন তো আছেই। যানজটের কারণে গণপরিবহনের সংখ্যা কমছে। এই সুযোগে বাড়ছে ব্যক্তিগত গাড়ি। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে যানজট। তাই দ্রুত ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করে বাস, মিনিবাস, মেট্রো রেল নির্মাণ, ট্যাক্সি ও অটোরিক্সা নামানোর পরামর্শ দিয়েছেন তারা। অন্যথায় ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষের পথচলা খুবই কঠিন হবে। যারা গণপরিবহনের ওপর নির্ভর করে রাস্তায় বের হন।

ব্যক্তিগত যানবাহন নিরুৎসাহিত করা ও গণপরিবহন বাড়ানোর বিষয়ে পদক্ষেপ প্রসঙ্গে বিআরটিএ সচিব শওকত আলী বলেন, যে সকল শহরে যানজট ও গণপরিবহনের ভোগান্তি রয়েছে সেখানে নানা ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। দিল্লীসহ বিভিন্ন শহরে ব্যক্তিগত গাড়ি নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। যা আমরা ফলো করতে পারি। তিনি বলেন, জোড়-বেজোড় করে ব্যক্তিগত গাড়ি নামানো, একেক এলাকায় নির্দিষ্ট দিনে গাড়ি চালানো এমন সব পদক্ষেপে সাধারণ পরিবহন চলাচলে সুবিধা হয়েছে। আমিও মনে করি ডিটিসিএ ও সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে এরকম পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে।

তিনি জানান, এক সমীক্ষায় বিশ্বব্যাংক বলেছে এক কোটি ৮০ লাখ মানুষের শহর ঢাকা। এই শহরে দিন দিন গণপরিবহন কমছে। ঘণ্টায় গাড়ির সর্বোচ্চ গতি সাত কিলোমিটার। যানজট, ভাড়া নিয়ে জটিলতা, অব্যাহত লোকসানের কারণে গণপরিবহন হ্রাস পাচ্ছে বলেও জানান তিনি।

বিআরটিএ সচিব বলেন, রাজধানীতে মাত্র চার হাজার বাস চলার কথা। অথচ দিন দিন এর সংখ্যা কমছে। দ্রুত বাড়ছে ব্যক্তিগত গাড়ি। আমরা শুনেছি সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে পাইলট প্রকল্প হিসেবে কয়েকটি সড়কে ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল বন্ধ করা হবে। তাছাড়া সবচেয়ে বড় বিষয় হলো কাগজপত্রে গণপরিবহনের সংখ্যা যা আছে রাস্তায় তা নেই।

দেশজুড়ে আট বছরে কত গাড়ি বাড়ল

বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালে সারাদেশে রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত যানবাহনের সংখ্যা ছিল ১৪ লাখ ৯৮ হাজার ২৪৪টি। আট বছরে তা দ্বিগুণের বেশি ছাড়িয়ে গেছে। চলতি বছরের আগস্ট মাস পর্যন্ত সারাদেশে নিবন্ধিত পরিবহনের সংখ্যা ৩১ লাখ ৪৯ হাজার ৩৭৯টি। এর মধ্যে গণপরিবহন হিসেবে পরিচিত অটোরিক্সার সংখ্যা ২০১০ সালে সারাদেশে ছিল এক লাখ ২৬ হাজার ৭৬৩টি। বর্তমানে সারাদেশে অটোরিক্সার সংখ্যা দুই লাখ ৪১ হাজার ৮৩০টি। আট বছরে বেড়েছে এক লাখ ১৫ হাজার ৬৭টি।

তাছাড়া ২০১০ সালে সারাদেশে নিবন্ধিত অটোটেম্পোর সংখ্যা ছিল ১৪ হাজার ২৬৬, বর্তমানে তা দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ১৮৯টি। ২০১০ সালে বাসের সংখ্যা ছিল ২৭ হাজার ৭৭৮টি। আট বছরে সারাদেশে বাসের সংখ্যা ১৫ হাজার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২ হাজার ৯০১টি। ২০১০ সালে সারাদেশে জিপের সংখ্যা ছিল ৩২ হাজার ২৮৬টি, বর্তমানে ৫১ হাজার ৫২৯। ২০১০ সালে সারাদেশে নিবন্ধিত মাইক্রোবাসের সংখ্যা ৬৬ হাজার ৩৭৩, বর্তমানে ৯৫ হাজার ৩১২টি। ২০১০ সালে গণপরিবহন অর্থাৎ মিনিবাসের সংখ্যা সারাদেশে ছিল ২৫ হাজার ৬৪৪টি। আট বছরে দুই হাজার হাজার বেড়ে বর্তমানে এই সংখ্যা ২৭ হাজার ৭০২টি।

ব্যক্তিগত যান হিসেবে পরিচিত ২০১০ সালে সারাদেশে রেজিস্ট্রেশনকৃত মোটরসাইকেলের সংখ্যা ছিল সাত লাখ ৫৯ হাজার ২৫৭, বর্তমানে ১৯ লাখ ৩০ হাজার ৭৫৬টি রয়েছে। আট বছরে এই পরিবহনটি প্রায় তিনগুণ হয়েছে।

ব্যক্তিগত পরিবহন হিসেবে পরিচিত ২০১০ সালে দেশে নিবন্ধিত প্রাইভেটকারের সংখ্যা ছিল দুই লাখ ১৯ হাজার ৮৩০টি। বর্তমানে তিন লাখ ২৪ হাজার ৭০১টি প্রাইভেট কার রয়েছে। আট বছরে বেড়েছে প্রায় এক লাখ পাঁচ হাজার প্রাইভেটকার। মধ্যবিত্তের প্রাইভেটকার হিসেবে পরিচিত ট্যাক্সি। দেশে এর প্রচলন এখন নেই বললেই চলে। যা আছে তা কোন কোন সময় উচ্চবিত্তদের নাগালের বাইরে চলে যায়। ২০১০ সালে সারাদেশে নিবন্ধিত ট্যাক্সির সংখ্যা ছিল ৪৪ হাজার ৩৮০, আট বছরে মাত্র এক হাজার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৫ হাজার ১৯৩। তবে পুরনো ট্যাক্সি এখন সবই বন্ধ। নতুন মাত্র তিন শতাধিক ট্যাক্সি চলছে ঢাকা ও চট্টগ্রামে।

বিশিষ্ট নগর বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক নূরুল ইসলাম নাজেম বলেন, মানুষের আয় বৃদ্ধি, সস্তায় গ্যাস পাওয়াসহ ট্যাক্সি ও অন্যান্য পাবলিক ট্রান্সপোর্টের অভাবে ব্যক্তিগত গাড়ি বাড়ছে। তিনি বলেন, বিকলাঙ্গ করা হয়েছে আমাদের ট্যাক্সি সার্ভিসকে। অন্যান্য সার্ভিসও অজ্ঞাত কারণে উন্নয়ন হচ্ছে না। তাহলে মানুষের চলার কোন ব্যবস্থা নেই। তিনি বলেন, পরিস্থিতি মোকাবেলায় মেট্রো রেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, নৌ-পথ, বিআরটিএসহ যোগাযোগ খাতের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। নইলে আগামী দিনে সাধারণ মানুষের পথচলা আরও কঠিন হবে।

রাজধানীতে আট বছরে দ্বিগুণ প্রাইভেটকার

বিআরটিএ পরিসংখ্যান বলছে, রাজধানীতে দিন দিন ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা বাড়ছে। গত আট বছরে এই শহরে প্রাইভেটকারের সংখ্যাই বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। মজার বিষয় হলো সারাদেশে তিন লাখ ২৪ হাজার প্রাইভেট কারের মধ্যে রাজধানী ঢাকায় আড়াই লাখেরও বেশি। বাকি ৬৩ জেলায় চলছে মাত্র ৭৫ হাজারের কম গাড়ি।

জানা গেছে, ২০১০ সাল পর্যন্ত রাজধানীতে রেজিস্ট্রেশনভুক্ত পরিবহনের সংখ্যা ছিল ৫ লাখ ৯৩ হাজার ৭৭টি। চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত রেজিস্ট্রেশনভুক্ত পরিবহনের সংখ্যা ১১ লাখ ৫০ হাজার ৭০৮টি। অর্থাৎ গত আট বছরে রাজধানীতে রেজিস্ট্রেশনকৃত পরিবহনের সংখ্যা বেড়েছে দ্বিগুণ। ২০১০ সালে রাজধানীতে লাইসেন্সকৃত অটোরিক্সার সংখ্যা ছিল ৯ হাজার ৫৫টি। এখন তা দাঁড়িয়েছে ১০ হাজারের কিছু বেশি। আট বছরে অটোরিক্সা বেড়েছে এক হাজার ৩৯১টি। একই সময়ে রাজধানীতে অটোটেম্পো দুটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৬৬৩তে।

২০১০ সালে রাজধানীতে বাসের সংখ্যা ছিল ১৬ হাজার ৭৮৩, বর্তমানে ১৪ হাজার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ২৭৪টি। ২০১০ সালে রাজধানীতে মিনিবাসের সংখ্যা ছিল ৯ হাজার ৪৯০টি, বর্তমানে ১০ হাজার ৩২৬টি। আট বছরে মিনিবাস বেড়েছে মাত্র এক হাজারেরও কম। অথচ নগরী দুই কোটি বেশি মানুষের মধ্যে একটি বড় অংশের যাতায়াতে একমাত্র নির্ভরতা বাস ও মিনিবাস।

২০১০ সালে রাজধানীতে মোটরসাইকেল ছিল দুই লাখ ১০ হাজার ৮১, বর্তমানে চার লাখ ৮৩ হাজার ৮১৫টি। প্রায় আড়াইগুণ মোটরসাইকেল বেড়েছে গেল প্রায় আট বছরে। ২০১০ সালে প্রাইভেটকারের সংখ্যা ছিল এক লাখ ৬৩ হাজার চারটি, বর্তমানে তা প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে দুই লাখ ৫৫ হাজার ৬২২টি হয়েছে। রয়েছে সাড়ে নয় হাজারের বেশি মাইক্রোবাস। কাগজেপত্রে ট্যাক্সি ৩৬ হাজারের বেশি থাকলেও রাস্তায় নেই।

কেন ব্যক্তিগত যানবাহনের সংখ্যা বাড়ছে জানতে চাইলে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেন, সরকারী ও বেসরকারী পর্যায়ে গণপরিবহনের সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ একেবারেই কম। যে হারে ব্যক্তিগত যানবাহনের সংখ্যা ঢাকাসহ সারাদেশে বাড়ছে সে পরিমাণে গণপরিবহন বাড়ছে না। এজন্য মানুষের ব্যক্তিগত পরিবহনের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। ব্যক্তিগত পরিবহন নিয়ন্ত্রণে ব্যাংক ঋণ বাড়ানো ও কঠোর করা, গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করা ও দাম বাড়ানোর পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের জন্য পরিবহনের ব্যবস্থা করা উচিত। ইতোমধ্যে চার হাজার বাস নামানোর সিদ্ধান্ত হলেও তা দিনের পার দিন নানা কারণে ঝুলে আছে।

রাজধানীতে ১৬৫টি পরিবহন কোম্পানির মধ্যে ১০ ভাগ লাভবান আছে জানিয়ে পরিবহন মালিকদের এই শীর্ষ নেতারা জানান, যানজটসহ নানা কারণে বাস কোম্পানিগুলো অনবরত লস দিয়ে আসছে। এ কারণে মালিকরা নতুন নতুন গাড়ি নামাতে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। এ ব্যাপারে সরকারকে আন্তরিকতার সঙ্গে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবসের আয়োজন

২২ সেপ্টেম্বর ‘বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবস’। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ন্যায় বাংলাদেশে দিবসটি পালনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) দিবসটি উপলক্ষে ২২ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউতে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। সরকারী-বেসরকারী যৌথ উদ্যোগে দিবসটি উদযাপন করা হবে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এবার দিবসটির প্রতিপাদ্য হলো ‘যানজট ও দূষণমুক্ত নগরায়নে প্রয়োজন, গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ’।

যাত্রা শুরুর কথা

ইউরোপে সত্তরের দশকে ২২ সেপ্টেম্বর বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবসের প্রচলন শুরু হয়। বাংলাদেশে ২০০৬ সাল থেকে বেসরকারীভাবে পালিত হয়ে আসলেও ২০১৬ সাল থেকে প্রথম সরকারী-বেসরকারী যৌথ উদ্যোগে দিবসটি পালিত হয়। প্রথম বছর ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষসহ (ডিটিসিএ) সরকারী এবং বেসরকারী ৪৪টি সংস্থার যৌথ উদ্যোগে মানিক মিয়া এভিনিউর উত্তর পাশে (দক্ষিণ প্লাজায়) আলোচনা সভা, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার বৃদ্ধিতে জ্বালানি নির্ভরতা ও পরিবেশ দূষণ বৃদ্ধি পায়। আর স্বল্পসংখ্যক যাত্রী পরিবহনের জন্য গণপরিবহনের পরিবর্তে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারের ফলে সড়কে বেশি জায়গার প্রয়োজন হয়, যা যানজট সৃষ্টি করে। অথচ গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে আনার মাধ্যমে পরিবেশ, স্বাস্থ্য এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব। এ বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য প্রতিবছর বিশ্বের প্রায় ৪ হাজার শহরে দিবসটি পালিত হয়।


The Daily Janakantha website developed by
BIKIRAN.COM
]]>
ওআইসি কন্ট্যাক্ট গ্রুপের সভা ॥ শেখ হাসিনার ৬ দফা http://www.dailyjanakantha.com/details/article/295454/ওআইসি-কন্ট্যাক্ট-গ্রুপের-সভা-শেখ-হাসিনার http://www.dailyjanakantha.com/details/article/295454/ওআইসি-কন্ট্যাক্ট-গ্রুপের-সভা-শেখ-হাসিনার 2017-09-20T11:19:50+0000 Daily Janakantha জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ চলমান রোহিঙ্গা সঙ্কট নিরসনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে একটি রোডম্যাপ ঘোষণা করেছেন। মঙ্গলবার জাতিসংঘ ...

ওআইসি কন্ট্যাক্ট গ্রুপের সভা ॥ শেখ হাসিনার ৬ দফা

 

প্রথম পাতা

Daily Janakantha

জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ চলমান রোহিঙ্গা সঙ্কট নিরসনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে একটি রোডম্যাপ ঘোষণা করেছেন। মঙ্গলবার জাতিসংঘ সদর দফতরে অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন (ওআইসি) কনট্যাক্ট গ্রুপের বৈঠকে শেখ হাসিনা এই ছয় দফা প্রস্তাব পেশ করেন।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭২তম অধিবেশনের ফাঁকে ওআইসি কনট্যাক্ট গ্রুপের এই বৈঠকে তিনি বলেন, আমরা এই ‘জাতিগত নির্মূল’ অভিযানের অবসান দেখতে চাই। আমাদের মুসলমান ভাইদের এই দুর্দশার অবসান চাই। তিনি বলেন, এই সঙ্কটের সূচনা হয়েছে মিয়ানমারে এবং সেখানেই এর সমাধান হতে হবে।

একইসঙ্গে রোহিঙ্গা সঙ্কট মোকাবেলায় ওআইসিভুক্ত দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। রোহিঙ্গাদের দুর্দশার চিত্র স্বচক্ষে দেখতে মুসলিম নেতাদের বাংলাদেশ সফরের আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আপনারা বাংলাদেশে আসলে রোহিঙ্গা নারী ও শিশুদের অবর্ণণীয় দুঃখের কথা শুনতে পারবেন।

এই সঙ্কট নিরসনে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর নির্যাতন বন্ধ করে তাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেয়া এবং তাদের জাতীয়তা নিয়ে রাষ্ট্রীয় অপপ্রচার বন্ধ করাসহ ছয়টি প্রস্তাব মুসলিম দেশগুলোর নেতাদের সামনে তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। খবর এএফপি, আলজাজিরা ও ওয়েবসাইটের।

শেখ হাসিনার ছয় দফা প্রস্তাব

১. রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর সব ধরনের নিপীড়ন এই মুহূর্তে বন্ধ করতে হবে।

২. নিরপরাধ বেসামরিক জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য মিয়ানমারের ভেতরে নিরাপদ এলাকা (সেফ জোন) প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে, যেখানে তাদের সুরক্ষা দেয়া হবে।

৩. বলপ্রয়োগের ফলে বাস্তুচ্যুত সব রোহিঙ্গা যেন নিরাপদে এবং মর্যাদার সঙ্গে মিয়ানমারে তাদের বাড়িতে ফিরতে পারে, সেই ব্যবস্থা করতে হবে।

৪. রোহিঙ্গা সঙ্কট নিরসনে কোফি আনান কমিশনের পূর্ণাঙ্গ সুপারিশ অবিলম্বে নিঃশর্তভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।

৫. রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালী’ হিসেবে চিহ্নিত করার যে রাষ্ট্রীয় প্রপাগান্ডা মিয়ানমার চালাচ্ছে, তা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।

৬. রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে না ফেরা পর্যন্ত তাদের জরুরী মানবিক সহায়তা দেয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে হবে ভ্রাতৃপ্রতিম মুসলিম দেশগুলোকে।

বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে গত ২৪ আগস্ট রাতে আড়াই ডজন পুলিশ পোস্ট ও একটি সেনা ক্যাম্পে হামলার পর দেশটির সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা মুসলমানদের গ্রামে গ্রামে নতুন করে দমন অভিযানে নামে।

তিনি বলেন, বর্মীবাহিনী কীভাবে গ্রামে ঢুকে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে মানুষ মারছে, ঘরের ভেতর আটকে রেখে কীভাবে পুড়িয়ে মারা হচ্ছে, লুটপাট চালিয়ে কীভাবে গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়া হচ্ছে, সেই বিবরণ পাওয়া যাচ্ছে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের কথায়।

ওআইসি কনট্যাক্ট গ্রুপের বৈঠকে বিভিন্ন মুসলিম দেশের নেতাদের উপস্থিতিতে বক্তব্যের শুরুতেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মিয়ানমারে আজ মুসলমান ভাই-বোনেরা জাতিগত নির্মূল অভিযানের মুখোমুখি হয়েছে। রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের চালানো সামরিক অভিযান বিপর্যয়ের সৃষ্টি করেছে। এ ঘটনায় এবারই সবচেয়ে বেশি রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুত হয়ে দেশান্তরী হতে বাধ্য হয়েছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, গত ২৫ আগস্ট থেকে চার লাখের বেশি মানুষ মিয়ানমার থেকে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। এই শরণার্থীদের ৬০ শতাংশই শিশু।

এটা এক অবর্ণনীয় মানবিক বিপর্যয়। আমি নিজে তাদের কাছে গেছি, তাদের মুখ থেকে, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের ভয়াবহ দুর্ভোগের বিবরণ শুনেছি। আমি বলব, আপনারা সবাই আসুন, এই শরণার্থীদের মুখ থেকে শুনে যান, মিয়ানমারে কী রকম নির্মমতা চলছে।’

কয়েক যুগ ধরে প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গার ভার বহন করে আসা বাংলাদেশের এই দফায় আরও প্রায় চার লাখ শরণার্থী প্রবেশ করেছে। রাখাইনের পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এই সংখ্যা ১০ লাখে ঠেকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ।

নির্যাতনের শিকার আরও চার লাখ রোহিঙ্গাকে তিন দশক ধরে আশ্রয় দিয়ে রেখেছে বাংলাদেশ। সব মিলিয়ে বাংলাদেশে থাকা রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা আট লাখ ছাড়িয়েছে। ভূমি স্বল্পতা আর সম্পদের সীমাবদ্ধতার মধ্যেও বাংলাদেশ তাদের আশ্রয়, খাবার আর জরুরী সহায়তা দিয়ে আসছে বলে বৈঠকে জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা ‘বাংলাদেশ থেকে যাওয়া অবৈধ অভিবাসী’ বলে দাবি করছে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ। অথচ ঐতিহাসিক নথিপত্র বলছে, রোহিঙ্গারা রাখাইন রাজ্যে বসবাস করে আসছে শত শত বছর ধরে। মিয়ানমারের সেনাপ্রধান জেনারেল মিন অং হ্লাইং তিন দিন আগেও তাদের সশস্ত্রবাহিনীর এক অনুষ্ঠানে দাবি করেন, রোহিঙ্গা বলে কোন জাতিসত্তা মিয়ানমারে ‘কখনোই ছিল না’। যারা রোহিঙ্গা হিসেবে স্বীকৃতির দাবি করছে, তারা ‘বাঙালী সন্ত্রাসী’।

রাখাইনে এবারের সহিংসতা শুরুর পর মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে এসে মিয়ানমারের নেত্রী আউং সান সুচি বলেন, নব্বইয়ের দশকে করা প্রত্যাবাসন চুক্তির আওতায় ‘যাচাইয়ের মাধ্যমে’ বাংলাদেশে থাকা শরণার্থীদের ফিরিয়ে নিতে তার দেশ প্রস্তুত। কিন্তু এই শরণার্থীদের ‘রোহিঙ্গা’ হিসেবে স্বীকার করে না নেয়ায় এবং তাদের ওপর সেনাবাহিনীর নির্যাতনের বিষয়টি ভাষণে এড়িয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমালোচিত হচ্ছেন সুচি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘মিয়ানমার পরিকল্পিত ও সংগঠিত উপায়ে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে রোহিঙ্গা মুসলমানদের বের করে দিচ্ছে। প্রথমত তারা নিবন্ধিত জাতিগোষ্ঠীর তালিকা থেকে রোহিঙ্গাদের বাদ দিয়েছে। তারপর ১৯৮২ সালের আইনে তাদের নাগরিকত্ব দিতে অস্বীকার করা হয়েছে। রোহিঙ্গাদের নিজ দেশেই আইডিপি ক্যাম্পে পাঠিয়েছে তারা।’

রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে ফেরত পাঠানোর জন্য বাংলাদেশ কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে গেলেও মিয়ানমার তাতে সাড়া দিচ্ছে না বলে মুসলিম দেশের নেতাদের জানান শেখ হাসিনা। আপনারা হয়ত মিডিয়ায় দেখেছেন, রোহিঙ্গারা যাতে তাদের নিজের দেশে ফিরতে না পারে সেজন্য সীমান্তজুড়ে ভূমি মাইন পেতে রাখছে মিয়ানমার। রোহিঙ্গা সমস্যা মোকাবেলায় ওআইসির সদস্যভুক্ত দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, এ বিষয়ে ওআইসির যে কোন উদ্যোগে অংশ নিতে বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে। এই বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে ওআইসি মহাসচিব ড. ইউসেফ আল ওথাইমেনও বক্তব্য রাখেন।


The Daily Janakantha website developed by
BIKIRAN.COM
]]>
মিয়ানমারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা উচিত http://www.dailyjanakantha.com/details/article/295428/মিয়ানমারের-ওপর-নিষেধাজ্ঞা-আরোপ-করা-উচিত http://www.dailyjanakantha.com/details/article/295428/মিয়ানমারের-ওপর-নিষেধাজ্ঞা-আরোপ-করা-উচিত 2017-09-20T10:57:46+0000 Daily Janakantha অনলাইন রিপোর্টার ॥ মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতনের প্রেক্ষাপটে দেশটির ওপর জাতিসংঘে নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা উচিত বলে ...

মিয়ানমারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা উচিত

 

বিদেশের খবর

Daily Janakantha

অনলাইন রিপোর্টার ॥ মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতনের প্রেক্ষাপটে দেশটির ওপর জাতিসংঘে নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন সংস্থাটির মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান জেইদ রাদ আল-হুসেইন।

দেশটির রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর অত্যাচার নির্যাতন থেকে পালিয়ে লাখ লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। যদিও মিয়ানমার সরকার অভিযোগ করে বলছে 'রোহিঙ্গা জঙ্গিরা'ই এমন সহিংস পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

মি: হুসেইন বলছেন, রোহিঙ্গা সম্প্রদায়কে পুরোপুরি নির্মূল করার লক্ষ্যে কয়েকজন রোহিঙ্গা চরমপন্থীর কার্যক্রমের উদাহরণ একটা অজুহাত হিসেবে দেখানো হচ্ছে। এর আগে জাতিসংঘে এক ভাষণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত নেবার জন্য মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানান।


The Daily Janakantha website developed by
BIKIRAN.COM
]]>
৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ পেল রোহিঙ্গাদের রাস্তা নির্মাণে http://www.dailyjanakantha.com/details/article/295427/৪০-কোটি-টাকা-বরাদ্দ-পেল-রোহিঙ্গাদের-রাস্তা http://www.dailyjanakantha.com/details/article/295427/৪০-কোটি-টাকা-বরাদ্দ-পেল-রোহিঙ্গাদের-রাস্তা 2017-09-20T10:54:56+0000 Daily Janakantha অনলাইন রিপোর্টার ॥ সরকার মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত জনগণকে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ব্যাপক কর্মসূচির অংশ হিসেবে কক্সবাজারের ১২টি অস্থায়ী শরণার্থী শিবিরে রাস্তা ...

৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ পেল রোহিঙ্গাদের রাস্তা নির্মাণে

 

জাতীয়

Daily Janakantha

অনলাইন রিপোর্টার ॥ সরকার মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত জনগণকে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ব্যাপক কর্মসূচির অংশ হিসেবে কক্সবাজারের ১২টি অস্থায়ী শরণার্থী শিবিরে রাস্তা নির্মাণে ৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে।

আজ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র জানায়, এলজিআরডি মন্ত্রণালয় কক্সবাজারের ১২টি শরণার্থী শিবিরে রাস্তা নির্মাণে এই অর্থ বরাদ্দ করেছে। প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব আশরাফুল আলম খোকন বলেন, এছাড়াও সরকার ১২টি শরণার্থী শিবিরে ১২শ’ স্যানিটারি ল্যাট্রিন তৈরি ও ১২শ’ নলকূপ বসাচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রত্যেক শরণার্থী শিবিরে একশ’টি করে টয়লেট নির্মাণ করা হবে, যার মধ্যে থাকবে ৬০টি মহিলা ও ৪০টি পুরুষদের জন্য। ‘কক্সবাজারের ১২টি শরণার্থী শিবিরে দুইশ’-এর মতো টয়লেট ইতোমধ্যে তৈরি হয়ে গেছে এবং পরবর্তী ২/৩ দিনের মধ্যে বাকিগুলোর নির্মাণকাজ শেষ হয়ে যাবে। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে গঠিত সমন্বয় কমিটি প্রতিদিন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বৈঠকে বসছে এবং এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে।

প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন) কবির বিন আনোয়ারের সভাপতিত্বে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সমন্বয় কমিটি বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ বর্তমানে ৭২তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশগ্রহণের জন্য নিউইয়র্কে অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অবহিত করা হচ্ছে। এব্যাপারে তিনি প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিচ্ছেন এবং সেখান থেকে ই-ফাইলিংয়ে স্বাক্ষর করছেন।


The Daily Janakantha website developed by
BIKIRAN.COM
]]>
আমাদের টার্গেট ডিসেম্বরের মধ্যে ফোর-জি ॥ তারানা হালিম http://www.dailyjanakantha.com/details/article/295426/আমাদের-টার্গেট-ডিসেম্বরের-মধ্যে-ফোর-জি-তারানা http://www.dailyjanakantha.com/details/article/295426/আমাদের-টার্গেট-ডিসেম্বরের-মধ্যে-ফোর-জি-তারানা 2017-09-20T10:53:57+0000 Daily Janakantha অনলাইন রিপোর্টার ॥ ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেছেন, ‘‘আমাদের টার্গেট হচ্ছে, নভেম্বরের শেষের মধ্যে আমরা নিলাম শেষ করবো। ...

আমাদের টার্গেট ডিসেম্বরের মধ্যে ফোর-জি ॥ তারানা হালিম

 

জাতীয়

Daily Janakantha

অনলাইন রিপোর্টার ॥ ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেছেন, ‘‘আমাদের টার্গেট হচ্ছে, নভেম্বরের শেষের মধ্যে আমরা নিলাম শেষ করবো। আর ডিসেম্বরের মধ্যে ফোর-জি সুবিধা জনগণকে দিতে পারব।’’

বুধবার টেলিযোগাযোগ বিভাগে ফোরজি লাইসেন্স বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান। তারানা হালিম বলেন, এটি আমরা টার্গেট বলছি এ কারণে যে, এর মধ্যে কিছু ইকুইপমেন্ট আমদানির বিষয় আছে, সেটির উপর আমাদের হাত নেই। আমাদের টার্গেট মতো আনুষঙ্গিক কাজ সম্পন্ন করব ডিসেম্বরের মধ্যে।

তরঙ্গ নিলাম এবং ফোর-জি লাইসেন্সিং গাইডলাইন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুমোদন দিয়েছেন জানিয়ে তারানা বলেন, গাইডলাইন অনুযায়ী ২১০০ মেগাহার্টজ, ১৮০০ মেগাহার্টজ এবং ৯০০ মেগাহার্টজ তরঙ্গ নিলাম হবে। এই নিলামে যে অপারেটররা আছেন তারা অংশ নিতে পারবেন।


The Daily Janakantha website developed by
BIKIRAN.COM
]]>
রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের পথ -স্বদেশ রায় http://www.dailyjanakantha.com/details/article/295404/রোহিঙ্গা-সমস্যা-সমাধানের-পথ-স্বদেশ-রায় http://www.dailyjanakantha.com/details/article/295404/রোহিঙ্গা-সমস্যা-সমাধানের-পথ-স্বদেশ-রায় 2017-09-20T10:34:43+0000 Daily Janakantha সুচি এ মুহূর্তে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে নিন্দিত। তার পরেও কোফি আনান কমিশন গঠন প্রক্রিয়ার ইতিহাস যারা জানেন, যারা কোফি আনান ...

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের পথ -স্বদেশ রায়

 

উপ-সম্পাদকীয়

Daily Janakantha

সুচি এ মুহূর্তে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে নিন্দিত। তার পরেও কোফি আনান কমিশন গঠন প্রক্রিয়ার ইতিহাস যারা জানেন, যারা কোফি আনান কমিশনের রিপোর্টটি ভালভাবে পড়েছেন- তারা মনে হয় সুচির ওপর অতটা ক্রুদ্ধ হবেন না। সুচি মিয়ানমারে ডি ফ্যাক্টো নেতা বটে তবে সামরিক বাহিনীর ক্ষমতার বাইরে সুচির হাতে ক্ষমতা খুব বেশি নেই। অন্যদিকে পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো মিয়ানমারের মানুষের মেন্টাল ডেমোগ্রাফি বদলে গেছে। যার একটা উদাহরণ নব্বইয়ের দশকে মিয়ানমারে সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে যে গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল তার নেতৃত্বে ছিল প্রগ্রেসিভ ছাত্ররা, আর জিরো দশকে যেটা হয় তার নেতৃত্বে বৌদ্ধভিক্ষুরা। এর থেকে বোঝা যায় রাষ্ট্রক্ষমতার বাইরে প্রগতিশীল মানুষের যে ক্ষমতা সুচির ছিল তা কতটা কমে গেছে। তবে তার পরেও কোফি আনান কমিশন গঠন প্রক্রিয়া ও আনান কমিশনের রিপোর্ট বলে সীমাবদ্ধতার ভেতর থেকেও সুচি চেষ্টা করেছিলেন রাখাইন প্রদেশের জাতিগত সমস্যার সমাধান করতে।

সুচির সে প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে গেছে। সুচি এখন ব্যর্থ এবং নিন্দিত মানুষ। এর সব থেকে বড় কারণ সুচির দীর্র্র্ঘ নীরবতা। সুচির নীরবতা এত দীর্ঘ না হলে হয়ত এতটা নিন্দিত তাঁকে হতে হতো না। যাহোক, কোন কোন রাজনীতিবিদকে মাঝে মাঝে এ নিন্দা কুড়াতে হয়। সুচি সেটি কুড়িয়েছেন। আশাহত করেছেন পৃথিবীর কোটি কোটি শান্তিপ্রিয় মানুষকে। সুচি তাঁর নীরবতা ভেঙ্গেছেন, কৌশলে কিছু কথা বলেছেন। তবে এর পরেও কি সুচি পারবেন শেষ অবধি তাঁর যতটুকু ক্ষমতা আছে তা ধরে রাখতে! ঘটনাপ্রবাহ যেদিকে যাচ্ছে তাতে সুচির ক্ষমতা ধরে রাখা এখন বেশ অসম্ভব হয়ে উঠেছে। পৃথিবীর যারা শান্তিপ্রিয় মানুষ, যারা হত্যা, অগ্নিসংযোগ, নারী ধর্ষণের মাধ্যমে নিরীহ মানুষকে দেশ ছাড়া করার রিরোধী, গৃহহীন মানুষের ব্যথায় যারা ব্যথিত হন, তারা এখনও চাইবে মিয়ানমারের রাষ্ট্রক্ষমতায় সুচিই থাকুন এবং তিনি আরও শক্তিশালী হোন। কারণ, মিয়ানমারের জাতিগত সমস্যার সমাধান করার জন্য যতটুকু যা করার তা একমাত্র সুচির নেতৃত্ব ছাড়া অন্য কেউ করতে পারবে কি? আর এ মুহূর্তে তাঁর বিকল্প নেই। অনেকে আমার এ লেখায় আবেগের বশবর্তী হয়ে অখুশি হতে পারেন, তার পরেও বলছি কোফি আনান কমিশনের রিপোর্ট শুধু নয়, গত প্রায় চার দশক ধরে কম-বেশি অন্যান্য দেশের সঙ্গে প্রতিবেশী মিয়ানমারের রাজনীতির গতিপ্রকৃতি লক্ষ্য করে আসছি। তাদের অতীতের ও বর্তমানের সামাজিক পরিবর্তন বিভিন্ন মাধ্যমে বোঝার চেষ্টা করি। সেই ক্ষুদ্র জ্ঞান থেকে বলব, কোন সমস্যার সমাধান করতে হলে টেবিলের দুই পাশে দুটি দলকে বসতে হয়। তাই মিয়ানমারের পাশ থেকে যদি সুচি সরে যান তাহলে আলোচনা নিষ্ফল হওয়ার সম্ভাবনা শতভাগ। এ সত্য সকলকে মানতে হবে। নিন্দা ও আবেগ শেষ নয়, শেষ হলো সমাধান ও সাফল্য।

প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা এখন বাংলাদেশে। সাত লাখ মানুষ রিফিউজি হয়ে কোন দেশে পড়ে থাকবে চিরকালের জন্য, এ তো হতে পারে না। আর বাস্তবতা কি? বাংলাদেশ একটি দরিদ্র দেশ। সতেরো কোটি জনগোষ্ঠীর ভারে ভারাক্রান্ত। এ দেশের আর যাই হোক ৭ লাখ মানুষকে বছরের পর বছর খাওয়ানোর মতো শক্তি নেই। পৃথিবীর এক কোনায় চিকিৎসা বঞ্চিত, শিক্ষা বঞ্চিত, সাত লাখ মানুষ পড়ে থাকবে, এ কখনই মেনে নেয়া যায় না। তাই এই রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান করতে হবে। এ কারণে মিয়ানমারের পক্ষে যাতে কোন সামরিক জান্তা না থেকে সুচিই থাকেন, সেটা মন্দের ভাল। এই দিকটি এখন সবাইকে দেখতে হবে। মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা ছাড়া রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের কোন পথ নেই। এ কারণে আলোচনার অপর পক্ষ যাতে সামরিক জান্তা না হয়ে সুচি থাকেন, এ বিষয়টি এ মুহূর্তে গোটা বিশ্বকে নিশ্চিত করতে হবে। মনে রাখতে হবে, মিয়ানমারের এই মানবতাবিরোধী অপারেশনের পেছনে শুধু জাতিগত সংঘাত নয়, বিশাল অর্থনীতি কাজ করছে। এই অর্থনীতির সঙ্গে জড়িত পৃথিবীর সর্বোচ্চ শক্তি আমেরিকা। আমেরিকাকে চ্যালেঞ্জ করে যে শক্তি মাথা উঁচু করছে সেই চীন আর এর সঙ্গে ভারত, রাশিয়া ও পাকিস্তান। এই বিশাল বিশ্ব পরাশক্তি ও আঞ্চলিক পরাশক্তি বিষয়ক আলোচনায় যাওয়ার আগে এটা পরিষ্কার হওয়া দরকার, মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো ছাড়া বিকল্প কি আছে?

বিকল্প কী হতে পারে? বিকল্প কি নব্বইয়ের দশকে ভুটান যেভাবে তার দেশের নেপালী ভাষাভাষী হিন্দুদের নেপালে তাড়িয়ে দিয়েছিল আর নেপাল তাদের গ্রহণ করে; রোহিঙ্গাদের ক্ষেত্রে কি তাই হবে? অর্থাৎ তারা মুসলিম, বাংলাদেশ মুসলিম অধ্যুষিত দেশ বলে তাদের এখানে তাড়িয়ে দেয়া হবে। বাংলাদেশকে তা মেনে নিতে হবে? গত কয়েকদিনে এক মাত্র সরকারপ্রধান ছাড়া সরকারের অনেক বড় বড় অবস্থানের ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে মনে হয়েছে, তারা এ মুহূর্তে বুঝে উঠতে পারছেন না আসলে রোহিঙ্গা সমস্যা কীভাবে সমাধান করা যেতে পারে। হতাশা থেকে এমনও অনেকে বলছেন, পনেরোটি মুসলিম দেশ আছে– সবাই পঞ্চাশ হাজার করে ভাগ করে নিলেই তো সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। এখানে স্বাভাবিক দুটি বিষয় সামনে আসে। এ ধরনের সমাধান পৃথিবীর জন্য একটি খারাপ উদাহরণ হবে। তখন যে কেউ যে কোন অজুহাতে কোন জনগোষ্ঠীকে তার দেশ থেকে বের করে দিতে পারবে। এ ধরনের কোন পথে যাওয়া যায় না। আরও একটি নির্মম সত্য বলতে হয়, মুসলিম দেশগুলোর অন্য দেশের নিপীড়িত মুসলিমদের প্রতি সাহায্য-সহযোগিতা করার ঐতিহ্য খুবই কম। যেমন, রোহিঙ্গারা এখানে আছে প্রায় তিন সপ্তাহের বেশি। কোন মুসলিম দেশই বড় মাপের কোন সাহায্য পাঠায়নি। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের শরণার্থীদের জন্য ইরাক সামান্য কিছু সাহায্য দিয়েছিল। এ ছাড়া কোন মুসলিম দেশ কোন সাহায্য দেয়নি। এই যে সৌদি আরবের এত অর্থ, ইউরোপের নানা দেশে এখন মুসলিম শরণার্থীরা ছড়িয়ে পড়েছে, তারা সেখানে মানবেতর জীবনযাপন করছে। একজন বালক বা বালিকাকেও কঠোর পরিশ্রম করে বাঁচতে হচ্ছে। সৌদি আরর তাদের জন্য কোন সাহায্য পাঠায়নি। অথচ ট্রাম্পের সৌদি সফরকালে সৌদি আরব আমেরিকা থেকে যে অস্ত্র কেনার চুক্তি করেছে, ওই অস্ত্রের মূল্যের এক শ’ ভাগের এক ভাগ অর্থ দিলে ইউরোপে পাড়ি দেয়া মুসলিম শরণার্থীরা অনেক ভাল থাকতে পারতেন।

এখন বাস্তবতা হচ্ছে, মুসলিম দেশগুলো রোহিঙ্গাদের ভাগ করে নেবে, এ চিন্তা অবাস্তব। আবার মুসলিম দেশগুলো রোহিঙ্গাদের বেঁচে থাকার জন্য বড় কোন সাহায্য-সহযোগিতা করবে, এটাও আশা করা যায় না। ইউরোপীয় দেশগুলোর অর্থনৈতিক অবস্থা ভাল নয়। ভারত শুধুমাত্র বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের বন্ধুত্বের স্বার্থে কিছু সহযোগিতা করবে। চীন ও রাশিয়া মিয়ানমারকে সমর্থন করেছে। তাই তাদের কাছ থেকে কোন সহযোগিতা পাওয়া যাবে না। এর থেকে স্পষ্ট হয়ে উঠছে, সাত লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে এক পর্যায়ে বাংলাদেশকে একাই বহন করতে হবে। এর বিপরীতে একমাত্র ভরসা শেখ হাসিনার কূটনীতি। যেমন, ভারত ও মিয়ানমারের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ভারতের দুটি হেভি ইন্ডাস্ট্রি মিয়ানমারে অস্ত্র তৈরি করে। মিয়ানমারে শুধু দুটি প্রকল্পেই ভারতের বিনিয়োগ আছে ৮ মিলিয়ন ডলার। এ ছাড়া মিয়ানমার যখন ইরোপীয় নিষেধাজ্ঞার ভেতর ছিল ওই সময়ে চীনের পাশাপাশি ভারতও মিয়ানমারকে তাদের ব্যবসার একটি স্থান হিসেবে বেছে নেয়। ভারত নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের ক্ষেত্রে চীনের ধারে কাছে যেতে পারে না মিয়ানমারে। তবে অস্ত্র বিক্রিতে মোটামুটি একটি অবস্থানে যায়। এ ছাড়া সিটওয়ে পোর্টকে ঘিরে তাদের কালাডান মাল্টি প্রকল্প আছে। অন্যদিকে চীন ও ভারতের ভেতর স্যান্ডউইচ এই রাষ্ট্রটিকে সর্বোচ্চ ব্যবহার করছে চীন। তাদের হাজার হাজার বিলিয়ন ডলার ব্যবসা ও বিনিয়োগ সেখানে। রাখাইন প্রদেশে সিটওয়ে ঘিরে রয়েছে তাদের একাধিক সেফ ইকোনমি জোন। সিটওয়ে বন্দরের মাধ্যমে ভারত মহাসাগরে আধিপত্যর দিকে এগিয়ে যাওয়া ছাড়াও তেল-গ্যাসে ওই বন্দরকে কাজে লাগানোও চীনের লক্ষ্য। রাশিয়ার সঙ্গে চীনের তেল ও গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহের দীর্ঘ মেয়াদী চুক্তি হয়েছে। তার একটি অংশ ব্যবহার হবে মিয়ানমারে। সেখানে সিটওয়ে বন্দর অনেক বেশি প্রয়োজনীয়। অন্যদিকে মিয়ানমারে গণতন্ত্র আসার পরেই সেখানে প্রথমে আসেন হিলারি। আমেরিকার বড় কোম্পানিগুলো আসছে সেখানে তেল-গ্যাসের কাজে। তাই আমেরিকাকেও পাশে পেয়ে যাচ্ছে মিয়ানমার।

সকলের যেখানে এই ব্যবসায়িক স্বার্থ, আর পৃথিবীর বড় বড় দেশের অর্থনীতি যে মুহূর্তে ক্রোনি ক্যাপিটালিজমকে মেনে নিয়েছে- এই সময়ে মিয়ানমার স্বাভাবিকভাবেই এই দেশগুলোকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে পাশে পাবে। শুধু তাই নয়, কেউ যদি মনে করেন মিয়ানমারের এই অপারেশন মূলত চীনের প্রক্সি অপারেশন যা মিয়ানমারের মাধ্যমে করানো হচ্ছে, তাও খুব বেশি অসত্য নয়। অন্যদিকে চীন ও আমেরিকার হয়ে সিটওয়ে বন্দরকে মুসলিম জনগোষ্ঠী মুক্ত করতে সাহায্য করছে পাকিস্তান। রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মিকে অর্থ দিচ্ছে সৌদি ও পাকিস্তান। ট্রেনিং দিচ্ছে পাকিস্তান। তাই কোফি আনান কমিশনের রিপোর্ট জমা দেয়ার কয়েকদিনের ভেতর রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মির মিয়ানমারের পুলিশ ও আর্মি চৌকিতে হামলার পেছনে চীন ও পাকিস্তানের কোন ষড়যন্ত্র আছে কিনা, সেটা ভেবে দেখা দরকার। কারণ, সুচি যদি সমস্যার সমাধান না চাইতেন তাহলে তিনি তার সরকারের মন্ত্রীদের সদস্য করে এবং কোফি আনানকে প্রধান করে ওই কমিশন করতেন না। কমিশনের রিপোর্ট খুবই সাবধানী রিপোর্ট। পাশাপাশি একটি জনগোষ্ঠীকে কীভাবে তাদের স্থায়ী সমস্যা থেকে বের করে আনা যায় ও স্থায়ীভাবে তাদের এগিয়ে নেয়া যায় তার পুঙ্খানুপুঙ্খ কারণ বের করে সমাধানও সেখানে বলা হয়েছে। রিপোর্টটির ডিটেইলস আলোচনা করতে গেলে এ লেখা অনেক বড় হয়ে যাবে, তাই রিপোর্টের আলোচনায় যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। যাহোক, সুচি এই রিপোর্ট করালেন, কোফি আনানও রিপোর্ট জমা দিলেনÑআর জমা দেয়ার কয়েক দিনের ভেতর কেনই বা সামরিক চৌকি ও পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা হলো? আর কেন এই মানবতাবিরোধী মিলিটারি অপারেশন? এখানে কি চীন ও পাকিস্তান একযোগে কাজ করেছে?

তাই ঘটনার পেছনে যেখানে প্রায় গোটা পৃথিবীর অর্থনৈতিক সুবিধা জড়িত, সেখানে পথ চলা অনেক কঠিন। তার পরেও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এ দায় কাঁধে নিয়েছেন। কাঁধে নিয়ে তিনি একটি সমাধান ইতোমধ্যে বলেছেন, রাখাইনে সেফ জোন তৈরি করে অবিলম্বে ফেরত নিতে হবে রোহিঙ্গাদের। ফিলিস্তিনীর সেফ জোনের অভিজ্ঞতা খুব ভাল নয়। তার পরেও মন্দের ভাল তো! সেই পথেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে হাঁটতে হবে। এখানে তারও হাতে অস্ত্র আছে। চীন ও ভারতের মধ্যে স্যান্ডউইচ দেশ মিয়ানমার অর্থনৈতিকভাবে ওই দুই দেশের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আবার ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড, সামুদ্রিক সিল্ক রুট সব কিছুতেই চীনের কাছে বাংলাদেশও গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি মিয়ানমারের থেকে বাংলাদেশ এক দিক থেকে চীনের জন্য বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এগিয়ে। বাংলাদেশে দক্ষ জনশক্তি আছে। অন্যদিকে ভারত যাই বিনিয়োগ করুক মিয়ানমারে আর ব্যবসা করুকÑদুটি দিকে বাংলাদেশ ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এক. কালাডান মাল্টি প্রকল্প কখনই ভারতের জন্য সুবিধাজনক নয়, বরং সিটওয়ের থেকে শতভাগ সুবিধাজনক চট্টগ্রাম, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দর। এর ভেতর সেভেন সিস্টারের জন্য কালাডান প্রকল্পের থেকে চট্টগ্রাম অনেক বেশি সুবিধাজনক। বাস্তবে কালাডান প্রকল্প সফল হওয়া সম্ভব নয়। দুই, চীন যেমন নিত্যপণ্যের বাজার দখল করেছে মিয়ানমারে, তেমনি ভারত দখল করেছে বাংলাদেশের নিত্যপণ্যের বাজার। এই দুই দেশের স্বার্থ তাই মিয়ানমারের থেকে বাংলাদেশেও কম নয়। শেখ হাসিনা অনেক বড় কূটনীতিক। তিনি তার তথাকথিত প্রফেশনাল কূটনীতিকদের ওপর ভরসা না করে নিজেই চীন ও ভারতকে কনভিন্স করার পথে এগুবেন, এটা বোঝা যাচ্ছে।

সে পথে এগিয়ে প্রথমে নিজ ঘরে ফেরা না হোক, রোহিঙ্গাদের যদি রাখাইনে সেফ জোনে পাঠাতে পারেন শেখ হাসিনা, তাহলে সেটাই হবে তার সব থেকে বড় কূটনৈতিক সাফল্য। রোহিঙ্গাদের এই সেফ জোনে পাঠানোর পরেই বিশ্ব নেতৃত্বের দায়িত্ব ধীরে ধীরে কোফি আনান কমিশনের রিপোর্ট বাস্তবায়ন করা। আপাতত এই পারমাণবিক অস্ত্রসজ্জিত ও ক্রোনি ক্যাপিটালিজমের যুগে এভাবে ধাপে ধাপে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান ছাড়া অন্য কোন পথ দেখা যাচ্ছে না। তবে এটা বাস্তবায়িত করতে হলে টেবিলের ওপাশে সুচিকেই প্রয়োজন, কোন সামরিক জেনারেলকে নয়।


swadeshroy@gmail.com



The Daily Janakantha website developed by
BIKIRAN.COM
]]>
শুভ দেবীপক্ষ http://www.dailyjanakantha.com/details/article/295403/শুভ-দেবীপক্ষ http://www.dailyjanakantha.com/details/article/295403/শুভ-দেবীপক্ষ 2017-09-20T10:33:25+0000 Daily Janakantha মঙ্গলবার অতি প্রত্যুষে শুভ মহালয়ার মাধ্যমে দেশব্যাপী সূচনা হয়েছে দেবী পক্ষের। প্রকৃতপক্ষে এর মাধ্যমেই শুরু হয়ে থাকে সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ...

শুভ দেবীপক্ষ

 

সম্পাদকীয়

Daily Janakantha

মঙ্গলবার অতি প্রত্যুষে শুভ মহালয়ার মাধ্যমে দেশব্যাপী সূচনা হয়েছে দেবী পক্ষের। প্রকৃতপক্ষে এর মাধ্যমেই শুরু হয়ে থাকে সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার। তবে সপরিবারে দেবী দুর্গার মর্ত্যে আগমন ঘটে শুভ মহালয়ার মাঙ্গলিক আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। আনুষ্ঠানিকভাবে ২৬ সেপ্টেম্বর মহা ষষ্ঠী পূজার মাধ্যমে পাঁচ দিনব্যাপী উৎসব শুরু হয়ে মহাসমাপ্তি ঘটবে ৩০ সেপ্টেম্বর শুভ বিজয়া দশমীতে। প্রাথমিক তথ্যে জানা যায়, এবার ৩০ হাজারেরও বেশি ম-পে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে, যা গত বছরের তুলনায় বেশি। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য এটি নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক আনন্দ সংবাদ। কেবল রাজধানীতেই প্রায় আড়াই শ’ ম-পে পূজা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এর পরেই অবস্থান বন্দর ও বাণিজ্যনগরী চট্টগ্রামের। এবার অনেক নতুন স্থানেও অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দুর্গাপূজা। বর্তমান সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর পারস্পরিক ধর্মীয় সহাবস্থান ও সম্প্রীতির ওপর সর্বদাই সবিশেষ জোর ও গুরুত্বারোপ করেছে। প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং একাধিকবার বলেছেন, ‘ধর্ম যার যার উৎসব সবার’। দুর্গাপূজাও দিনে দিনে উৎসবমুখর ও সর্বজনীন হয়ে উঠেছে। ধর্ম-বর্ণ-মত ছোট-বড়-ধনী-গরিব নির্বিশেষে দেশ ও সমাজের প্রায় সর্বস্তরের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে থাকে সার্বজনীন দুর্গোৎসবে। বাংলাদেশ যে সুমহান যুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত একটি অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ, তা এর মাধ্যমেই স্বতঃপ্রমাণিত।

প্রায়াসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে স্বভাবতই সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঘরে ঘরে সাজ সাজ রব। পূজায় ছোট-বড়-আবালবৃদ্ধবণিতা নির্বিশেষে সবার জন্য চাই নতুন জামাকাপড়-জুতা-শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ-ফতুয়া-প্যান্ট-শার্ট-ধুতি-পাঞ্জাবি ইত্যাদি। হাট-বাজার-মার্কেট-সুপারশপ-সুপারমলগুলোও হয়ে উঠেছে রমরমা আলোকোজ্জ্বল ঝলমলে। নিত্যনতুন ডিজাইন ও ফ্যাশনদুরস্ত জামা-কাপড়-জুতায় ভরপুর। প্রায় প্রতিদিনই বাড়ছে কেনাকাটা। সত্যি বলতে কি, গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন উৎসবকে কেন্দ্র করে ফ্যাশনমার্কেটকে ঘিরে সুবিশাল একটি ব্যবসাবাণিজ্য গড়ে উঠেছে। আর শুধুই কি ফ্যাশনদুরস্ত জামাকাপড়! এমনকি জুয়েলারি থেকে শুরু করে তামা-কাঁসা, তৈজসপত্র, সাজের ডাক, পূজার উপকরণ, ফলমূল শাকসবজি, ধান-পাট-শন-পাটখড়ি, রঞ্জকদ্রব্য কিছুই বাদ যায় না। প্রধানত কৃষিজীবী সম্প্রদায় ও জীবন-জীবিকাভিত্তিক অন্যতম উৎসব বিধায় দুর্গাপূজাকে ঘিরে প্রায় সর্ববিধ পণ্যদ্রব্যের ব্যবসাবাণিজ্য হয়ে ওঠে জমজমাট ও অপরিহার্য। ফলে তা প্রতিবছর জাতীয় অর্থনীতিতে তথা জিডিপিতে যোগ করে এক বাড়তি মাত্রা। এবারও এর ব্যতিক্রম ঘটবে না। সিলেটসহ হাওড়াঞ্চলের যেসব স্থান এবার বন্যা ও অতিবৃষ্টিতে ফসলহানির কবলে পড়েছে সেসব বন্যাকবলিত উত্তর-দক্ষিণের কিছু এলাকায় আনন্দের কিছু ঘাটতি হলেও হতে পারে। তবে সরকার ও দাতাগোষ্ঠীর আনুকূল্য পেলে তা অনেকটা পুষিয়ে যাবে নিশ্চয়ই।

সত্যি বটে, দেশে বেশ কিছুদিন ধরে জেএমবি, নব্য জেএমবির নামে কতিপয় জঙ্গী সংগঠন আত্মঘাতী ও সশস্ত্র সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে সাধারণ মানুষের জীবনহানি ও সম্পদ ধ্বংসের পাঁয়তারা চালাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের কঠোর হাতে দমনও করেছে, যা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। বর্তমানে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তপথে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থীও বড় একটা সমস্যা সৃষ্টি করেছে। তাদের মধ্যেও সমাজবিরোধী সন্ত্রাসী ও জঙ্গী ঢুকে পড়া বিচিত্র নয়। পুলিশ প্রধান সে সম্পর্কে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ইতোমধ্যে। সে অবস্থায় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত পূজাম-পগুলোতে প্রয়োজনে নিরাপত্তা আরও বাড়াতে হবে নিশ্চয়ই।


The Daily Janakantha website developed by
BIKIRAN.COM
]]>
ত্রিশ লাখ শহীদ স্মরণ http://www.dailyjanakantha.com/details/article/295402/ত্রিশ-লাখ-শহীদ-স্মরণ http://www.dailyjanakantha.com/details/article/295402/ত্রিশ-লাখ-শহীদ-স্মরণ 2017-09-20T10:33:05+0000 Daily Janakantha মুক্তিপাগল বাঙালী বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছিল স্বাধীনতার জন্য, মুক্ত স্বদেশের ও স্বাধীনতা পতাকার জন্য। দেশমাতৃকার ডাকে সেদিন রণাঙ্গনে ঝাঁপিয়ে ...

ত্রিশ লাখ শহীদ স্মরণ

 

সম্পাদকীয়

Daily Janakantha

মুক্তিপাগল বাঙালী বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছিল স্বাধীনতার জন্য, মুক্ত স্বদেশের ও স্বাধীনতা পতাকার জন্য। দেশমাতৃকার ডাকে সেদিন রণাঙ্গনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল সাড়ে সাত কোটি বাঙালী। কতিপয় কুলাঙ্গার সেদিন স্বাধীনতার বিরোধিতা শুধু নয়, নরঘাতক যুদ্ধাপরাধী পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর সশস্ত্র সহযোগী হয়ে বাঙালী গণনিধনে মত্ত ছিল। শুধু নিধন নয়, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, লুটপাটসহ হেন অপকর্ম নেই যা তারা করেনি। নৃশংসতার সঙ্গে হত্যা করেছে শিক্ষিত-অশিক্ষিত নির্বিশেষে নারী, শিশু, বৃদ্ধাদেরও। নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে কিশোর-তরুণদের। চোখ, চামড়া, নখ উপড়ে ফেলা, হাত কেটে ফেলাসহ বীভৎস ও নারকীয় নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে বাঙলার মানুষকে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে টানা নয় মাস লড়াই চালিয়ে দেশকে স্বাধীন করেছে বাঙালী। বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে বাঙালী ঘরে ঘরে দুর্গ গড়েছিল। হানাদাররা একাত্তরের পঁচিশে মার্চ রাতে ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে ঢাকায় ব্যাপক গণহত্যা শুরু করে। এরপর তা সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যন্ত গ্রামও রেহাই পায়নি পাকিস্তানী হানাদার ও তাদের দোসর শান্তি কমিটি, রাজাকার, আলবদর ও আল শামস নামক প্রশিক্ষিত সশস্ত্র সংগঠনগুলো প্রতিদিনই দেশজুড়ে গণহত্যা চালিয়েছে। পিতা-মাতার সামনে সন্তানকে, স্ত্রীর সামনে স্বামীকে কিংবা পুরো পরিবারকে লাইন ধরে দাঁড় করিয়ে ব্রাশফায়ারে হত্যা করা হয়েছে। বাড়ি থেকে চোখ বেঁধে ধরে নিয়ে গিয়ে বধ্যভূমিতে হত্যা করা হয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকে এখনও আবিষ্কার হয় গণকবর। গর্ত খুঁড়ে মাটিচাপা দেয়া হয়েছে বাঙালীদের। অথচ এই হানাদাররা ইসলাম ধর্ম ও মুসলিম সম্প্রদায় রক্ষার নামে ব্যাপকভাবে মুসলমানদের নিধন করেছে। আর মুসলিম ও হিন্দুদের দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে। শরণার্থী শিবিরে নানা অসুখ-বিসুখে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ দিয়েছে অনেকে, যেসব লিপিবদ্ধ হয়নি। বাংলাদেশে দখলদার পাকি বাহিনী ও তাদের দোসররা ত্রিশ লাখ বাঙালীকে হত্যা করেছে। অনেকের মরদেহ শেয়াল, কুকুর, শকুনের খাদ্যে পরিণত হয়েছে। যত নৃশংস হওয়া সম্ভব হানাদাররা তার নিদর্শন রেখে গেছে। বাঙালীর রক্তে মুক্ত স্বদেশ। পত পত উড়ছে লাল-সবুজের পতাকা। সেদিন বাঙালীর অসীম সাহস, লড়াকু অবস্থান আর আত্মত্যাগের যে নিদর্শন, তা বিশ্বে অদ্বিতীয়। বাঙালীর জীবনে একাত্তরের নয় মাসের প্রতিটি দিন শহীদ দিবস। সেই গণহত্যার বিচার হতে দেয়নি হানাদার পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠী। এমনকি আজও ক্ষমা প্রার্থনা করেনি। বরং বাংলাদেশবিরোধী তৎপরতায় এখনও লিপ্ত। ত্রিশ লাখ বাঙালীর রক্তে বোনা দেশ মাথা উঁচু করে আজ দাঁড়াতে পেরেছে আত্মত্যাগী শহীদদের প্রেরণায়।

মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ত্রিশ লাখ মানুষ স্মরণে নেয়া হয়েছে মহতী উদ্যোগ। যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে বহমান থাকবে। ঈশ্বরদীর কৃষক দম্পতি সিদ্দিকুর রহমান ময়েজ ও বেলি বেগম এমন অভূতপূর্ব ঐতিহাসিক সৃজনের মূল কর্ণধার। কৃষিতে অভূতপূর্ব সাফল্যের জন্য বঙ্গবন্ধু কৃষি পদকপ্রাপ্ত দম্পতি আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সারাদেশে এই চারা রোপণের পরিকল্পনা নিয়েছেন। প্রতিবছর ছয় লাখ তাল গাছের বীজ রোপণ করা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের উৎসাহ ও প্রেরণা এবং সহযোগিতাদানে এগিয়ে এসেছেন এবং স্বাগত জানিয়েছেন।

তাদের উদ্যোগে সহায়তা করছে বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউট ও কৃষি বিভাগ। দশ ফুট পরপর এ বীজ রোপণ করা হবে অনেক স্থানে রেললাইনের দু’পাশে। কৃষকরাই রোপণ করবেন। দেড় কোটি টাকা মূল্যের ত্রিশ লাখ বীজ বিনামূল্যে সরবরাহ করা হবে। তাল গাছ বজ্রপাত থেকে মানুষকে রক্ষা করে, যা এ দেশে সাম্প্রতিককালে ব্যাপকহারে ঘটছে এবং মানুষ মারা যাচ্ছে। তাল বৃক্ষ রোপণ এবং শহীদদের স্মৃতি স্মরণের মহতী উদ্যোগ সফল করার জন্য এবং বৃক্ষ সংরক্ষণে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণই হবে সময়ের চাহিদা পূরণ। এ মহতী উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।


]]>