Daily Janakantha http://www.dailyjanakantha.com Read our Online news, within moment. en-us 2017-11-17T05:41:45+0000 লোকজ সংস্কৃতির টানে সবাই ছুটছেন রবীন্দ্র সরোবর http://www.dailyjanakantha.com/details/article/308370/লোকজ-সংস্কৃতির-টানে-সবাই-ছুটছেন-রবীন্দ্র-সরোবর http://www.dailyjanakantha.com/details/article/308370/লোকজ-সংস্কৃতির-টানে-সবাই-ছুটছেন-রবীন্দ্র-সরোবর 2017-11-17T11:58:16+0000 Daily Janakantha স্টাফ রিপোর্টার ॥ চলছে ‘নবান্ন উৎসব’। জারি-সারি, বাউল ও ভাওয়াইয়া গানসহ নানান সাংস্কৃতিক কর্মকা- উপভোগ করতে উৎসুক জনতায় মুখরিত ধানম-ির ...

লোকজ সংস্কৃতির টানে সবাই ছুটছেন রবীন্দ্র সরোবর

 

শেষের পাতা

Daily Janakantha

স্টাফ রিপোর্টার ॥ চলছে ‘নবান্ন উৎসব’। জারি-সারি, বাউল ও ভাওয়াইয়া গানসহ নানান সাংস্কৃতিক কর্মকা- উপভোগ করতে উৎসুক জনতায় মুখরিত ধানম-ির রবীন্দ্র সরোবর। ১৬ নবেম্বর থেকে শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী এ উৎসবে দেশীয় ঐতিহ্যের পরশ পেতে ছুটছেন রাজধানীবাসী। শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় সকাল থেকেই মেলা প্রাঙ্গণে ছিল মানুষের উপচে পড়া ভিড়। সন্তান, পরিবার-পরিজন ও বন্ধুবান্ধব নিয়ে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি উৎসবকে করেছে মুখরিত। ব্যস্ত রাজধানীতে বন্দীপ্রায় শিশুরাও যেন স্বস্তি পেয়েছে মেলা প্রাঙ্গণে ঘুরতে এসে। বর্তমান সময়ের অনেক শিশুই জানে না বাঙালীর লোকজ সংস্কৃতি সম্পর্কে। জানে না নবান্ন উৎসব কি। আবহমান বাংলার সংস্কৃতি থেকে দূরে থাকা শিশুসহ সবার কাছে বাংলার লোকজ সংস্কৃতি নতুন করে সামনে আনতেই ‘প্রাণ চিনিগুঁড়া চাল’ আয়োজন করছে নবান্ন উৎসব-১৪২৪।

‘নবান্ন উৎসবে’ মঞ্চে গান আর মঞ্চের বাইরে পিঠা উৎসব এমন উন্মুক্ত আয়োজনে নবান্নের আনন্দে মেতেছে রবীন্দ্র সরোবর। বাঙালীর ঐতিহ্যকে ধারণ করে মেলা প্রাঙ্গণে ছন আর বাঁশ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে ৩২টি স্টল। বাংলার নবান্নের ঐতিহ্যবাহী পিঠা-পুুলি, পায়েসসহ নানা ধরনের খাবার পাওয়া যাচ্ছে সেখানে। শুধু তাই নয় নাগরদোলা, পুতুল নাচ, বায়োস্কোপ, বানর নাচ, সাপ খেলা ও ঢেঁকিসহ গ্রামবাংলার নানান ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচয় হওয়ার সুযোগ থাকছে সেখানে। এছাড়া তরুণ প্রজন্মকে বাঙালীর ঐতিহ্যকে বোঝানোর চেষ্টায় ভাওয়াইয়া, একক সঙ্গীত, কবিতা আবৃত্তি ও পথনাটকসহ বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

রায়ের বাজারের বাসিন্দা কাকলী ইসলাম ঘুরতে এসেছেন সপরিবারে। তার মেয়ের বয়স পাঁচ বছর। বাঙালীয়ানার সঙ্গে পরিচিত করতে মেয়েকে নিয়ে প্রথমবারের মতো এ নবান্ন উৎসবে বেড়াতে এলেন কাকলী। তিনি জনকণ্ঠকে জানান, ‘রাজধানীর প্রায় সব শিশুরাই গৃহবন্দী। কোন খেলার মাঠ নেই, বেড়াতে যাওয়ার স্থানও কম। শহুরে সংস্কৃতির বাইরেও যে বাঙালীর এতিহ্যবাহী সংস্কৃতি রয়েছে তার ছোঁয়া পেতেই মেয়েকে নিয়ে এখানে আসা। মেয়েকে সাপ খেলা, বানর খেলা, দেখিয়েছি। আসলে এর আগে সে কখনও দেখেনি এসব। তাই অনেক উৎসুক হয়ে দেখছে মেলা প্রাঙ্গণ। এখন তো যেতেই চাইছে না। গ্রামবাংলার এসব ঐতিহ্য বর্তমানে বিলীন হয়ে গেছে। এমন আয়োজন সত্যিই রাজধানীবাসীকে বাঙালীর চিরচেনা ঐতিহ্যের সঙ্গে নতুন করে সেতুবন্ধন ঘটাতে সক্ষম।’

শুক্রবার রবীন্দ্র সরোবরে নবান্ন উৎসব চলছে জেনে স্বামী ও স্কুল পড়ুয়া সন্তানকে নিয়ে এসেছেন শায়লা হক। কিনেছেন নানা ধরনের পিঠা। তিনি বলেন, ছোটবেলায় বাবা-মা, মুরব্বিদের কাছে শুনেছি-ধান দিয়ে আসে নবান্ন। ধান আসবে, কৃষাণী হাসবে, ছেলেমেয়ে খেলবে এটাই বাংলার চিরাচরিত অধ্যায়। আর এটাকে ঘিরেই নবান্ন উৎসব। তবে দিনে দিনে হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের এই উৎসব। রাজধানীর অনেকেই এই উৎসব সম্পর্কে জানে না। তাই আমার সন্তানকে এই উৎসবের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে এসেছি। নিজেরা ঘুরে ঘুরে নানা পিঠা-পুলি কিনেছি। বাচ্চাকে নাগরদোলায় চড়িয়েছি, সাপ খেলা, বানার খেলা দেখালাম।

প্রাণের এই নবান্ন উৎসবে নাতি-নাতনিকে নিয়ে ঘুরে দেখাচ্ছিলেন মোহাম্মদ তায়েব। তিনি জনকণ্ঠকে বলেন, বাঙালীর ঐতিহ্যবাহী উৎসব নবান্ন উৎসব। এটি শহরের অনেক মানুষের কাছে অপরিচিত। তাই আমার নাতি-নাতনিকে এই উৎসবের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে এখানে এসেছি। নাগরদোলা, সাপ-বানরের খেলা, বায়োস্কোপ দেখে তারা সত্যই অভিভূত। এমন আনন্দ তারা এর আগে পায়নি। প্রতিবছর এ ধরনের উৎসব পালিত হলে রাজধানীর শিশুরা বাঙালীর লোকজ সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হবে।’

পুথিপাঠ, গাজীর কিস্সা, পালা গান, পুতুল নাচ, বায়োস্কপ, নাগরদোলা, পালকি, লাঠি খেলা ও বানর নাচে ভরপুর এ নবান্ন উৎসবে এসে তরুণ-তরুণীরাও যেন নতুনভাবে বাঙালীয়ানাকে ঝালিয়ে নিচ্ছেন। মেলার ঘুরতে আসার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরও মিলনমেলা ঘটছে। তাদের মধ্যে তামান্না নামে একজন জনকণ্ঠকে বলেন, ব্যস্তময় শহরে বিনোদনের জায়গাগুলো কমে যাচ্ছে। তাই কোথাও মেলা বা বিনোদন কেন্দ্র বসলে ছুটে যেতে ইচ্ছা করে। তাই বন্ধুদের নিয়ে এসেছি নবান্ন উৎসবে।’

তাদের আরেক বন্ধু আবেদ রহমান বলেন, বৃহস্পতিবার বৃষ্টির কারণে আসিনি। তবে আজকে আর মিস করলাম না। বন্ধুদের সঙ্গে দল বেঁধে চলে আসলাম নবান্ন উৎসবে। এখানে এসে নতুনভাবে বাঙালীয়ানার সঙ্গে পরিচিত হলাম। সব মিলিয়ে অনেক ভাল সময় কাটছে। আমরা সবাই নাগরদোলায় উঠেছি, পিঠা খেয়েছি। এছাড়া বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলো দেখে খুবই আনন্দ পেয়েছি।’ আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাঙালীর ঐতিহ্যবাহী নবান্ন উৎসবের সঙ্গে শহরবাসীকে পরিচয় করিয়ে দিতেই এই আয়োজন। এ আয়োজনে শহুরে মানুষেরা গ্রামবাংলার ঐতিহ্যের স্বাদ পাচ্ছেন। গত বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া এই নবান্ন উৎসবে শেষ দিন আজ শনিবার। প্রতিদিনের মতো আজও সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলা এই মেলা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

মেলার দায়িত্বরত বঙ্গ মিলারস্ লি. কোম্পানির প্রধান বিপণন কর্মকর্তা মোঃ মুস্তাফিজুর রহমান জনকণ্ঠকে জানান, ‘বাংলার ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে আমরা দ্বিতীয়বারের মতো তিন দিনব্যাপী এই মেলার আয়োজন করেছি। মূলত তরুণ প্রজন্মের সামনে বাংলার ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি তুলে ধরতেই এই মেলার আয়োজন। এর মাধ্যমে আমরা বাংলার ঐতিহ্যবাহী নবান্নকে তুলে ধরার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। গ্রাম-বাংলার নবান্নর চিত্র তুলে ধরা হবে। এখানে এসে শহরের শিশুসহ সব বয়সী মানুষ নবান্নর সঙ্গে নতুনভাবে পরিচিতি লাভ করবে। কালের বিবর্তনে আমাদের সংস্কৃতি থেকে অনেক ঐতিহ্যবাহী উৎসব হারিয়ে যাচ্ছে। নবান্ন উৎসবের মতো এমন গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী উৎসব শহরের মানুষের কাছে পরিচয় করিয়ে দেয়াই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।’

উৎসবের বিভিন্ন আয়োজনের পাশাপাশি রয়েছে সাংস্কৃতিক পর্বে গান পরিবেশন। জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী ইন্দ্রমোহন রাজবংশী, ফকির আলমগীর, আবু বকর সিদ্দিক, লিলি ইসলাম, অনিমা রায়, ফেরদৌসী কাকলীসহ বিভিন্ন শিল্পীদের মনমাতানো গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী গানগুলো যেন উৎসবে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।



The Daily Janakantha website developed by
BIKIRAN.COM
]]>
অমৃত কলা, পেঁপে ও আনারসের লাগসই প্রযুক্তি উদ্ভাবন http://www.dailyjanakantha.com/details/article/308365/অমৃত-কলা-পেঁপে-ও-আনারসের-লাগসই-প্রযুক্তি http://www.dailyjanakantha.com/details/article/308365/অমৃত-কলা-পেঁপে-ও-আনারসের-লাগসই-প্রযুক্তি 2017-11-17T11:49:00+0000 Daily Janakantha বশিরুল ইসলাম ॥ সবুজ শ্যামলিমা আর পাখি ডাকা গ্রামীণ পরিবেশে রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ...

অমৃত কলা, পেঁপে ও আনারসের লাগসই প্রযুক্তি উদ্ভাবন

 

শেষের পাতা

Daily Janakantha

বশিরুল ইসলাম ॥ সবুজ শ্যামলিমা আর পাখি ডাকা গ্রামীণ পরিবেশে রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও ছাত্ররা রিসার্চ সিস্টেম (সাউরেস) এবং ড. ওয়াজেদ মিয়া কেন্দ্রীয় গবেষণাগারের মাধ্যমে গবেষণা করে নতুন নতুন প্রযুক্তি আবিষ্কার করে যাচ্ছেন। এটা অস্বীকার করার জো নেই যে, এ বিশ্ববিদ্যালয় কর্মদক্ষ পেশাজীবী তৈরি করতে সক্ষম হলেও বর্তমানে গবেষণা ক্ষেত্রে কিছুটা পিছিয়ে পড়ছিল। কিন্তু এ প্রতিষ্ঠানেরই মেধাবী ছাত্র এ এস এম কামাল উদ্দিন দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে দিলেন অমৃত কলার চাষ। তিনি পেঁপে ও আনারসের লাগসই চাষের প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেন। ড. নূর মোহাম্মদ মিয়া ও ড. ছিদ্দিক আলীসহ অনেক কৃষিবিদ উচ্চ ফলনশীল ধান বিআর-৩, বিআর-৪, বিআর-১০, বিআর-১১, বিআর-১৪, বিআর-১৯, বিআর-২৩ জাত আবিষ্কার করে শুধু নিজ দেশে নয় প্রতিবেশী ভারত, নেপাল, মিয়ানমার, ভিয়েতনাম, পশ্চিম আফ্রিকায়ও স্বীকৃতি পেয়েছেন। কাজী পেয়ারার জনক ড. কাজী এম বদরুদ্দোজা এ বিশ্ববিদ্যালযেরই ছাত্র । ড. কাজী এম বদরুদ্দোজা এবং ড. এসএম জামান নামে দুজন কৃষি বিজ্ঞানী বাংলাদেশ সরকারের ‘সায়েন্টিস্ট ইমেরিটাস’ পদে ভূষিত হয়েছিলেন। তাছাড়া জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে কৃষিতে অবদান রাখার জন্য এ প্রতিষ্ঠানের অনেক গ্র্যাজুয়েট স্বাধীনতা পুরস্কার, রাষ্ট্রপতি পুরস্কার, বিজ্ঞান একাডেমিক স্বর্ণপদক ও শেরেবাংলা পদকসহ বিভিন্ন ধরনের পদক লাভ করেন। আর বর্তমানে উদ্ভাবিত প্রযুক্তির মধ্যে সাউ সরিষা-১, সাউ সরিষা-২, সাউ সরিষা-৩, বাংলাদেশের আবহাওয়ায় আলুবীজ ও পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনে সফলতা, মধু চাষ, পরিবেশ সংরক্ষণে ছাদ বাগান, পশুর চিকিৎসার, টমাটিলো, রুকোলা, সাদা ভুট্টা, জামারুসান মূলা, বিভিন্ন বিদেশী ফুলের উৎপাদন সফলতা উল্লেখযোগ্য।

১৯৩৮ সালে সাধারণ কৃষি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্থাপিত এই ইনস্টিটিউটটি ২০০১ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত হওয়ার পর ব্রিটিশ শাসিত এ প্রতিষ্ঠানের গোড়াপত্তনের মধ্যদিয়ে উচ্চতর কৃষিশিক্ষা এবং কৃষি গবেষণায় নতুন ধারা সূচিত হয়। তাই একথা বললে অত্যুক্তি হবে না যে, দেশে আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা প্রবর্তনের ক্ষেত্রে এ প্রতিষ্ঠান পালন করেছে পথ প্রদর্শকের ভূমিকা। এ দেশের কৃষি উন্নয়নের এমন কোন ক্ষেত্র নেই যেখানে অগ্রণী নেতৃত্বের ভূমিকা রাখেননি এখানকার কৃষিবিদরা।

ফার্মগেট থেকে শেরেবাংলা নগর ২৯৮.৪৮ একরের সুবিশাল জায়গার দখল ছাড়তে ছাড়তে প্রতিষ্ঠানটি এখন মাত্র ৮৭ একরের ওপর প্রতিষ্ঠিত, যা একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য খুবই অপ্রতুল। তবুও শিক্ষা, গবেষণা ও ভৌত অবকাঠামোগত উন্নয়ন সমান্তরালভাবে এগিয়ে চলছে। দেশের প্রাচীন এ প্রতিষ্ঠানটি যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে দুর্বার গতিতে এবং প্রস্তুত করে চলছে দেশ পরিচালনার ভবিষ্যতের কৃষিবিদদের। এ বিশ্ববিদ্যালয় একদিকে দক্ষ পেশাজীবী, অন্যদিকে গবেষণার মধ্য দিয়ে দেশের উন্নয়নের অবদান রেখে চলছে।

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. কামাল উদ্দিন আহাম্মদ বলেন, তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক জ্ঞানসম্পন্ন দক্ষ কৃষিবিদ, প্রাণিবিজ্ঞানী এবং কৃষিবিজ্ঞানী তৈরি করার পাশাপাশি কৃষি গবেষণার যথাযথ প্রচার ও প্রসার করার জন্য এই বিশ্ববিদ্যালয় বিশেষ অবদান রেখে চলেছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠদান সেমিস্টার পদ্ধতিতে হওয়ার পাশাপাশি সিলেবাস শেষ করে নির্দিষ্ট দিনে পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে। এমনকি এখনকার শিক্ষার মনোরম পরিবেশ রাজনীতি, সন্ত্রাস, হানাহানি থেকে মুক্ত। সেশনজটমুক্ত এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা ও গবেষণার উন্নতমান দিন দিন আকর্ষণ করছে দেশের প্রতিভাদীপ্ত তরুণ শিক্ষার্থীদের। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে উচ্চশিক্ষা চুক্তি বিনিময়ে ইতোমধ্যে দেশে-বিদেশে সুনাম অর্জন করেছে। দিন দিন বেড়ে চলছে বিদেশী শিক্ষার্থীর ভর্তি সংখ্যা।

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃষি অনুষদ, এগ্রিবিজনেস ম্যানেজমেন্ট অনুষদ, এ্যানিম্যাল সায়েন্স ও ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদ এবং ফিশারিজ ও একোয়াকালচার অনুষদের ৩৫টি বিভাগ রয়েছে। স্নাতক (সম্মান), স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি তিনটি কোর্স চালু রয়েছে। তিনটি কোর্সে তিন হাজার পাঁচ শ’ শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক, স্নাতকোত্তর এবং পিএইচডি পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা পাস করে দেশ-বিদেশে কৃষি উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে।

প্রফেসর ড. কামাল উদ্দিন আহাম্মদ আরও বলেন, প্রাচীনতম এ কৃষিশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো ও আবাসন সমস্যা বেশ পুরনো। এসব কারণে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছিল নানাভাবে। আর এ সমস্যা দূর করতে বর্তমান সরকার ২০১১ সালে বিশ্ববিদ্যালয় উন্নয়নের জন্য ৯১ কোটি ২৭ লাখ টাকার যা পরবর্তীতে ১০০ কোটি ৩৯ লাখ টাকার প্রকল্প পাস করেন। আর ২১ জুলাই ২০১৬ সালে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙ্গে ৩শ’ ৫২ কোটি ৬৮ লাখ টাকার বরাদ্দ দেয়া হয়। এ বিশাল অঙ্কের বরাদ্দের কারণে-ভোগান্তি দূর হবে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের আবাসিক সমস্যা। ত্বরান্বিত হবে শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম। এ উন্নয়ন প্রকল্প বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তা যথাসময়েই বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন আহাম্মদ।

এই প্রকল্পের বাস্তবায়নের মেয়াদ ধরা হয়েছে ১ এপ্রিল ২০১৬ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯ সাল পর্যন্ত। অনুমোদিত এ প্রকল্পে উল্লেখযোগ্য অবকাঠামোসমূহের মধ্যে রয়েছে ১৫ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয় সাপেক্ষে কৃষকরতœ শেখ হাসিনা হলের অবশিষ্ট ৬তলা থেকে ১০তলা পর্যন্ত নির্মাণ, ২২ কোটি ২২ লাখ টাকা ব্যয় সাপেক্ষে নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা হলের দক্ষিণ ব্লক অবশিষ্ট ৩য় তলা থেকে ১০ম তলা পর্যন্ত নির্মাণ ও উত্তর ব্লক অবশিষ্ট ৬তলা থেকে ১০তলা পর্যন্ত নির্মাণ, ৪৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা ব্যয় সাপেক্ষে শেখ কামাল একাডেমিক ভবনের উর্ধমুখী অবশিষ্ট ২য় তলা থেকে ১০তলা পর্যন্ত নির্মাণ, ৮ কোটি ৩৯ লাখ টাকা ব্যয় সাপেক্ষে প্রশাসনিক ভবনের অবশিষ্ট ৫তলা থেকে ৬ তলা পর্যন্ত নির্মাণ, ২ কোটি ৯১ লাখ টাকা ব্যয় সাপেক্ষে ড. ওয়াজেদ মিয়া কেন্দ্রীয় গবেষণাগারে অবশিষ্ট ৫তলা থেকে ৬তলা পর্যন্ত নির্মাণ, ৪ কোটি ৯৭ লাখ টাকা ব্যয় সাপেক্ষে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি ভবনের অবশিষ্ট ৪তলা থেকে ৬তলা পর্যন্ত নির্মাণ, ২৯ কোটি ৩৭ লাখ টাকা ব্যয় সাপেক্ষে টিএসসি কমপ্লেক্স ভবনের অবশিষ্ট ৩তলা থেকে ৬তলা পর্যন্ত নির্মাণ, ১৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা ব্যয় সাপেক্ষে শিক্ষকদের আবাসিক ভবনের অবশিষ্ট ৬তলা থেকে ১০তলা পর্যন্ত নির্মাণ, ১৫ কোটি ৮১ লাখ টাকা ব্যয় সাপেক্ষে ৩য় এবং ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের আবাসিক ভবনের অবশিষ্ট ৫তলা থেকে ১০তলা পর্যন্ত নির্মাণ, ২ কোটি ২৭ লাখ টাকা ব্যয় সাপেক্ষে ডরমিটরি ভবনের অবশিষ্ট ৩তলা থেকে ৬তলা পর্যন্ত নির্মাণ, ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয় সাপেক্ষে কেন্দ্রীয় মসজিদ নির্মাণ। এ প্রকল্পে অধিকাংশ কাজই ইতোমধ্যে উদ্বোধন করা হয়েছে।

নতুনভাবে শুরু হচ্ছে ৪২ কোটি ৮৬ লাখ টাকা ব্যয় সাপেক্ষে ছাত্রীদের জন্য ১০০০ আসন বিশিষ্ট ১০তলা ভিত দিয়ে ১০তলা হল ভবন নির্মাণ, ৪২ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয় সাপেক্ষে ছাত্রদের জন্য ১০০০ আসন বিশিষ্ট ১০তলা ভিত দিয়ে ১০তলা হল ভবন নির্মাণ, ১৭ কোটি ৪১ লাখ টাকা ব্যয় সাপেক্ষে কর্মকর্তাদের আবাসিক ভবন ৩৯ ইউনিট বিশিষ্ট ১০তলা ভিত দিয়ে ১০তলা ভবন নির্মাণ, ১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যয় সাপেক্ষে ভেটেরিনারি ক্লিনিক নির্মাণ, ৫ কোটি ২ লাখ টাকা ব্যয় সাপেক্ষে পোল্ট্রির শেড নির্মাণ, এছাড়াও গবেষণা প্লটের জন্য ভূমি উন্নয়ন, সেচ ব্যবস্থা, গ্রীন হাউস নির্মাণ, অত্যাধুনিক ২টি গেট নির্মাণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে পানি, গ্যাসের লাইন স্থাপন, বই-পুস্তক ও জার্নাল সংগ্রহ, উচ্চতর কৃষি গবেষণা এবং মানব সম্পদ উন্নয়নের জন্যও বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

তাছাড়া উচ্চশিক্ষা মানোন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ভার্চ্যুয়াল ক্লাসরুম উদ্বোধন করা হয়েছে, যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা উন্নত দেশের পাঠদান সম্পর্কে জানতে পারবেন। উন্নত দেশের শিক্ষকরা এখানে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিতে পারবেন। মিনি আবহাওয়া অফিসের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আবহাওয়া সংক্রান্ত সকল তথ্য-উপাত্ত সহজে সংগ্রহ এবং গবেষণা করতে পারবে। আবহাওয়া অফিসের তাপমান যন্ত্র, ব্যারোমিটার, সানশাইন রেকর্ডার, থার্মোগ্রাফ ও ব্যারোগ্রাফ, হেয়ার হাইগ্রোগ্রাফ ইভাপোরেশন প্যান, স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রের ঘড়িসহ অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা রয়েছে এই মিনি আবহাওয়া অফিসে। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত সেমিনার রুম উদ্বোধন করা হয়েছে। এতে রয়েছে মাল্টিমিডিয়া, আধুনিক সাউন্ড সিস্টেম, ডিজিটাল স্ক্রীন, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অত্যাধুনিক সুবিধা। আর্কাইভ উদ্বোধন করা হয়েছে কৃষিবিষয়ক ডিজিটাল। এর ফলে শিক্ষার্থীরা, গবেষকগণ সহজেই পূর্বে সম্পাদিত সকল কৃষি গবেষণার তথ্য ও ফল জানতে পারবেন এই আর্কাইভের মাধ্যমে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের কৃষি গবেষণার ফল জানতে পারবেন বিদেশী ছাত্রছাত্রী এবং শিক্ষকবৃন্দ।

প্রফেসর ড. কামাল উদ্দিন আহাম্মদ বলেন, বর্তমান সরকার কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। তাই অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি কৃষিকে এগিয়ে নেয়ার জন্য সরকার আরেকটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বাণিজ্য মেলার মাঠটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাভুক্ত করে দেয়ার জন্য ছাত্র, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী তথা এলামনাইদের দাবি। যেহেতু এ বিশ্ববিদ্যালয়টি রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত-তাই কৃষির বিভিন্ন অত্যাধুনিক প্রযুক্তির উন্নয়ন এ বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্ভব এর জন্য প্রয়োজন শুধু সরকারের সদিচ্ছার।


The Daily Janakantha website developed by
BIKIRAN.COM
]]>
‘বাংলা ভাষা ও নজরুলের কবিতার অনুরাগী আমি’ http://www.dailyjanakantha.com/details/article/308353/‘বাংলা-ভাষা-ও-নজরুলের-কবিতার-অনুরাগী-আমি’ http://www.dailyjanakantha.com/details/article/308353/‘বাংলা-ভাষা-ও-নজরুলের-কবিতার-অনুরাগী-আমি’ 2017-11-17T11:42:18+0000 Daily Janakantha মনোয়ার হোসেন ॥ ঢাকা লিট ফেস্টে অংশ নিয়েছেন ভারতের সমকালীন লেখক জেরি পিন্টো। এই কবি, সাহিত্যিক ও শিক্ষকের সঙ্গে কথা ...

‘বাংলা ভাষা ও নজরুলের কবিতার অনুরাগী আমি’

 

প্রথম পাতা

Daily Janakantha

মনোয়ার হোসেন ॥ ঢাকা লিট ফেস্টে অংশ নিয়েছেন ভারতের সমকালীন লেখক জেরি পিন্টো। এই কবি, সাহিত্যিক ও শিক্ষকের সঙ্গে কথা হয় উৎসবের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার। জনকণ্ঠের প্রতিনিধিনিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে তার সাহিত্য ও রাজনীতি ভাবনাসহ নানা বিষয়। বলেছেন বাংলা কবিতার প্রতি তার ভালবাসার কথা। পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো সেই আলাপচারিতার কিছু অংশ। রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে কথা হয় ভারতের এই খ্যাতিমান কবি-লেখক ও সাংবাদিকের সঙ্গে। রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দেয়ার প্রশংসা করে জেরি পিন্টো বলেন, ইসলামের ঐতিহ্য অনুযায়ী কেউ যদি বিতাড়িত হয়ে আশ্রয় প্রার্থনা করে তবে তাকে আশ্রয় দিতে হবে। শুধু ইসলাম নয়, সব ধর্মই একই কথা বলে, এটাই সত্য। ইসলামেও এটা চিরন্তন সত্য। সেই সত্যের আলোয় ইসলামী ঐতিহ্য মেনে বাংলাদেশ আশ্রয় দিয়েছে রোহিঙ্গাদের। অন্যরা সমবেদনা কিংবা প্রতিবাদ জানালেও রোহিঙ্গাদের আশ্রয়ের বিষয়ে তেমন কিছু করেনি। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভূমিকা অতুলনীয়।

এ প্রসঙ্গে জেরি পিন্টো বলেন, মিয়ানমারকে অবশ্যই তার দেশের নাগরিক রোহিঙ্গাদের স্বীকৃতি দেয়া উচিত। রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নাগরিক এবং সেটাই তাদের দেশ। নিজের দেশ ছেড়ে কেউ অন্য দেশে থাকতে চায় না। তারা নিশ্চয়ই নিজের দেশেই ফেরতে যেতে চায়।

বিশ^ রাজনীতির অস্থিতিশীলতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সারাবিশ^ এক অসহিষ্ণু অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এটি খুবই দুঃখজনক। এ কারণে বিশ^ব্যাপী নানামুখী সঙ্কট বিরাজ করছে।

বাংলা সাহিত্যের প্রতি অনুরাগ প্রকাশ করে এই লেখক বলেন, আমি একটু একটু করে বাংলা শিখছি। এই ভাষার প্রতি আমার ভাল লাগা আছে। প্রাথমিকভাবে বাংলা সাহিত্যকে জানতে অনুবাদের বই পড়ছি। বাংলাদেশের জাতীয় কবির প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করে বলেন, আমি নজরুলের কবিতার অনুরাগী এবং সে কারণেই অল্প অল্প করে বাংলা শিখছি। নজরুলের কবিতা কিংবা সাহিত্য আমি বাংলাতেই পড়তে চাই। এর বাইরে আমি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও জীবনানন্দের কবিতার ব্যাপারেও আগ্রহী।

জেরি পিন্টোর বহুল আলোচিত ও পুরস্কারপ্রাপ্ত বই ‘হেলেন : দ্য লাইফ এ্যান্ড টাইমস অব এ বলিউড এইচ-বম্ব’। এই বইতে বলিউডের আলোচিত অভিনেত্রী হেলেনের জীবন কাহিনী তুলে ধরেছেন লেখক। হেলেনকে নিয়ে লেখার আগ্রহ প্রসঙ্গে লেখক বলেন, মূলত ভারত একটি সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু সম্প্রদায়ভিত্তিক রাষ্ট্র। সেখানে খ্রীস্টান হেলেন বলিউডে উঠে এসেছেন অনন্য মহিমায়। তিনি কখনও মিস চিনচিন চু, কখনও বাবুল আবার কখনও হয়েছেন বাঞ্জারান। চরিত্রের ভেতর স্পর্শ করেছেন নানা ধর্ম এবং ঘটিয়েছেন সম্প্রীতির সম্মিলন। হেলেন আসলে একের ভিতর অনেক চরিত্র। তার এই বহুমাত্রিকতাই আমাকে আকৃষ্ট করেছে তাকে নিয়ে লেখতে।

নিজের লেখকসত্তা প্রসঙ্গে জেরি পিন্টো বলেন, একজন লেখকে অবশ্যই সমাজ-সচেতন হতে হবে। সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা ছাড়া ভাল লেখক হওয়া যায় নয়। একজন প্রকৃত লেখকের পক্ষে সমাজ ও রাষ্ট্রকে উপেক্ষা করে ভাল কিছু পাঠককে উপহার দেয়া কঠিন।

ঢাকা লিট ফেস্টের প্রতি নিজের মুগ্ধতার প্রকাশ করে এই লেখক বলেন, সাহিত্যের এ সম্মেলনকে আমার কাছে নতুন চিন্তা মনে হয়েছে। দারুণভাবে উপভোগ করছি উৎসবটি। প্রথম দিন বৃষ্টির ভেতরেও সাহিত্যপ্রেমী মানুষদের সমাগম আমাকে বিস্মিত করেছে। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়, এ দেশের মানুষ শিল্প-সাহিত্যকে অনুভব করে ও ভালবাসে। এর বাইরে এ দেশের মানুষের আন্তরিকতার জুড়ি মেলা ভার। একইভাবে অন্যকে আপ্যায়নেও তারা উদার।

জেরি পিন্টো ভারতের খ্যাতিমান লেখক, কবি ও শিক্ষক। ‘হেলেন : দ্য লাইফ এ্যান্ড টাইমস অব এ বলিউড এইচ-বম্ব’ বইটির জন্য তিনি ভারতের জাতি চলচ্চিত্র পুরস্কারের ৫৪তম আসরে সিনেমার সেরা গ্রন্থ ক্যাটাগরিতে পুরস্কার লাভ করেছেন। এই লেখকের প্রথম উপন্যাস ‘দেম এ্যান্ড দ্য বিগ হুম’ জয় করেছে অনেকগুলো পুরস্কার। এগুলো হলো ক্রসওয়ার্ড এ্যাওয়ার্ড ফর ফিকশন, হিন্দু লিট ফর লাইফ এ্যাওয়ার্ড ফিকশন, সাহিত্য একাডেমির এ্যাওয়ার্ড ও উইন্ডহাম-চ্যামবল প্রাইজ। মুম্বাইয়ের সোফিয়া পলিটেকনিক কলেজে তিনি গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষকতা করছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক কর্মকা-ের সঙ্গে নিয়োজিত রেখেছেন নিজেকে।


The Daily Janakantha website developed by
BIKIRAN.COM
]]>
রাবি হলের সামনে থেকে ফিল্মি স্টাইলে ছাত্রী অপহরণ http://www.dailyjanakantha.com/details/article/308351/রাবি-হলের-সামনে-থেকে-ফিল্মি-স্টাইলে-ছাত্রী http://www.dailyjanakantha.com/details/article/308351/রাবি-হলের-সামনে-থেকে-ফিল্মি-স্টাইলে-ছাত্রী 2017-11-17T11:41:16+0000 Daily Janakantha রাবি সংবাদদাতা ॥ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ছাত্রী হলের সামনে থেকে সাত সকালে এক ছাত্রীকে ফিল্মি স্টাইলে জোরপূর্বক মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে ...

রাবি হলের সামনে থেকে ফিল্মি স্টাইলে ছাত্রী অপহরণ

 

প্রথম পাতা

Daily Janakantha

রাবি সংবাদদাতা ॥ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ছাত্রী হলের সামনে থেকে সাত সকালে এক ছাত্রীকে ফিল্মি স্টাইলে জোরপূর্বক মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের তাপসী রাবেয়া হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এদিকে অপহরণের দশ ঘণ্টা পরেও ওই ছাত্রীর কোন সন্ধান মেলেনি। অপহৃত ছাত্রীকে উদ্ধারের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচী পালন করে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।

উম্মে শাহী আমান্না শোভা নামের ওই ছাত্রীর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার মাতাজি এলাকার আমজাদ হোসেনের মেয়ে। শুক্রবার বিকেলে আমজাদ হোসেন শোভার সাবেক স্বামী সোহেল রানাকে আসামি করে নগরীর মতিহার থানায় অপহরণের মামলা দায়ের করেছেন। পেশায় আইনজীবী সোহেল রানা নওগাঁর পতœীতলা উপজেলার নজিপুরের বাসিন্দা। গত বছরের ডিসেম্বরে তাদের বিয়ে হয়। বনিবনা না হওয়ায় শোভা তার স্বামীকে তালাক দেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ¯œাতক (সম্মান) চূড়ান্ত বর্ষের পরীক্ষা দেয়ার জন্য বান্ধবীসহ বের হয় শোভা। হল থেকে বের হয়ে ৫০ গজ দূরত্ব অতিক্রম করতেই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি মাইক্রোবাসে শোভাকে জোরপূর্বক তুলে নেয় তার স্বাবেক স্বামী সোহেল রানা। এ সময় শোভার বান্ধবীরা চিৎকার শুরু করলে আশেপাশের হল থেকে প্রহরীরা ছুটে আসে। কিন্তু আগে থেকেই স্টার্ট দিয়ে রাখা মাইক্রোবাসটি শোভাকে নিয়ে দ্রুত সটকে পড়ে।

বিশ^বিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, বিষয়টি জানার পরপরই পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা ও র‌্যাবকে জানানো হয়েছে। মেয়ের বাবা থানায় মামলা দায়ের করেছেন। দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাকে উদ্ধারে সর্বাত্মক চেষ্টা করা হচ্ছে। শোভার বাবার বরাত দিয়ে তিনি জানান, গত বছরের ডিসেম্বরে তারা বিয়ে করে। বনিবনা না হওয়ায় দুই মাস আগে শোভা সোহেলকে তালাক দেয়। কিন্তু তালাক কার্যকর হতে নাকি তিন মাস সময় লাগে। সোহেল চাচ্ছে যাতে তালাক না হয়। এজন্য শোভাকে তুলে নিয়ে গেছে তার সাবেক স্বামী সোহেল। অপহৃত ছাত্রীর বাবা আমজাদ হোসেন বলেন, ঘটনার ১০ ঘণ্টা পরেও আমার মেয়ের কোন সন্ধান পাইনি।

বাংলা বিভাগের অধ্যাপক খন্দকার ফরহাদ হোসেন বলেন, পরীক্ষা দিতে আসার পথে একজন ছাত্রীকে এভাবে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। শোভাকে তার সাবেক স্বামী মাইক্রোবাসে তুলেছে এটা আমাদের কয়েকজন ছাত্রীও দেখেছে। দ্রুত তাকে উদ্ধারের জন্য আমরা বিশ্ববিদ্যালয় ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানিয়েছি।

নগরীর মতিহার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, আমরা ওই ছাত্রীকে উদ্ধারের তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছি। মাইক্রোবাসটি শনাক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সব থানায় মেসেজ দিয়েছি।

এদিকে অপহৃত ছাত্রীর উদ্ধারের দাবিতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেছে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী। মিছিল শেষে বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে দুই ঘণ্টা উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচী পালন করে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। এ সময় ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা বৃদ্ধির দাবিও জানান শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের আল্টিমেটাম ॥ এদিকে অপহৃত ছাত্রী উম্মে শাহী আমান্না শোভাকে উদ্ধারে ১৫ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক জান্নাতুল ফেরদৌসের আশ্বাসে শুক্রবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে থেকে অবস্থান কর্মসূচী প্রত্যাহার করে তারা। এ সময় শিক্ষার্থীরা বলেন, শনিবার সকাল ১০টার মধ্যে শোভার খোঁজ পাওয়া না গেলে আবারও আন্দোলনে নামবেন তারা।

রাবি ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ওই ছাত্রীকে উদ্ধারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। শোভার সহপাঠীরা ক্ষুব্ধ হয়ে আন্দোলন করেছে। আমি তাদের সঙ্গে কথা বলার পর তারা শান্ত হয়েছে। তারা বলেছে, শনিবার সকাল ১০টার মধ্যে তারা শোভাকে ফিরে পেতে চায়। শিক্ষার্থীদের বলেছি, রবিবারের মধ্যে তাকে উদ্ধার করা হবে।


The Daily Janakantha website developed by
BIKIRAN.COM
]]>
প্রাণের স্পন্দনে মুখর ঢাকা লিট ফেস্ট- উৎসবের আমেজ http://www.dailyjanakantha.com/details/article/308348/প্রাণের-স্পন্দনে-মুখর-ঢাকা-লিট-ফেস্ট-উৎসবের http://www.dailyjanakantha.com/details/article/308348/প্রাণের-স্পন্দনে-মুখর-ঢাকা-লিট-ফেস্ট-উৎসবের 2017-11-17T11:38:58+0000 Daily Janakantha জনকণ্ঠ রিপোর্ট ॥ উন্মুক্ত আঙ্গিনায় চলছে লাঠিখেলা। আত্মরক্ষা ও আক্রমণের কৌশল প্রদর্শন করছে নারী-পুরুষ লাঠিয়ালের দল। চারপাশ ঘিরে বাংলা সংস্কৃতির ...

প্রাণের স্পন্দনে মুখর ঢাকা লিট ফেস্ট- উৎসবের আমেজ

 

প্রথম পাতা

Daily Janakantha

জনকণ্ঠ রিপোর্ট ॥ উন্মুক্ত আঙ্গিনায় চলছে লাঠিখেলা। আত্মরক্ষা ও আক্রমণের কৌশল প্রদর্শন করছে নারী-পুরুষ লাঠিয়ালের দল। চারপাশ ঘিরে বাংলা সংস্কৃতির ঐতিহ্যবাহী খেলাটি উপভোগ করছেন অসংখ্য দর্শক। সেই দৃশ্য পেরিয়ে সামনে এলে চোখে পড়ে বই বিতানে পাঠকের ভিড়। বাংলাদেশসহ বিশ্ব সাহিত্যের আলোড়ন তোলা বইগুলো সংগ্রহ করছেন বইপ্রেমীরা। এমন সুন্দরের দৃশ্যের মাঝে আবির্ভূত হয়ে মা ও মেয়ে বিষয়ে ভারতীয় লেখিকা ও অভিনয়শিল্পীর সঙ্গে বাংলাদেশের অভিনয়শিল্পীর চলে মুক্ত আলোচনা। এভাবেই শুক্রবার ছুটির দিনে জমাট রূপে ধরা দেয় ঢাকা লিট ফেস্ট। উৎসব আঙ্গিনা বাংলা একাডেমির নানা প্রান্তে ছড়িয়েছে প্রাণের স্পন্দন। সাহিত্য ও শিল্পপ্রেমীদের পদচারণায় মুখরিত হয়েছে আন্তর্জাতিক এ সাহিত্য সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনটি। সকাল সাড়ে নয়টায় শুরু হয়ে রাত আটটা পর্যন্ত চলেছে আলোচনাসহ নানা সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। সাহিত্যের সঙ্গে আলোচিত হয়েছে সমাজ, রাজনীতি, ধর্ম, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান, ইতিহাসসহ নানা বিষয়। শ্রোতা-দর্শককে আনন্দ দিয়েছে সিরীয় বংশোদ্ভূত কবি আদোনিসের কবিতাপাঠ, অস্কারজয়ী অভিনেত্রী টিন্ডা সুইন্টনের আলোচনা, ম্যান বুকারজয়ী নাইজিরিয়ার বেন ওকরির সাহিত্যবিষয়ক আলোচনা, ছিল হুমায়ূন আহমেদের চলচ্চিত্রজীবনের গল্প। সব মিলিয়ে শুক্রবার অনুষ্ঠিত হয়েছে ৩৮ অধিবেশন।

শুক্রবার সকালে কীর্তনের সুরে শুরু হয় ঢাকা লিট ফেস্ট। একাডেমির উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে পরিবেশিত হয়েছে রায়েরবাজার মন্দিরের মহাপ্রভু সংঘের ভক্তিমূলক কীর্তন। কীর্তনের সুর থামতেই শুরু বিষয়ভিত্তিক আলোচনাপর্ব। আজ শনিবার উৎসবের শেষ দিনে ব্রিটিশ সাহিত্য জার্নাল ‘গ্রান্টা’র মোড়ক উন্মোচন হবে এবং দক্ষিণ এশিয়ার সম্মানজনক সাহিত্য পুরস্কার ‘ডিএসসি পুরস্কার’ প্রদান ছাড়াও থাকবে ৩৭ অধিবেশন।

আলাপচারিতায় টিল্ডা সুইন্টন

‘পারফরমেন্স এজ অথরশিপ’ শিরোনামের অধিবেশনে অংশ নিয়েছিলেন অস্কারজয়ী ব্রিটিশ অভিনেত্রী টিল্ডা সুইন্টন। এই অভিনেত্রীর আরেক পরিচয় হচ্ছে লেখক। শিল্পীর চেয়ে লেখিকার পরিচয়কে বেশি আপন করে নিয়েছেন তিনি। তাই তো দুই সত্তাকে এক করে টিল্ডা বলেন, আমি মঞ্চ থেকে উঠে এসেছি, সিনেমাতেও অভিনয় করেছি। কিন্তু লেখালেখির ভুবনে আমি নিজেকে খুঁজে পেয়েছি। নিজেকে লেখক হিসেবে পরিচয় দিতেই বেশি ভালোবাসি।

অভিনয় জীবন সম্পর্কে টিল্ডা বলেন, আমি পারফর্ম করতে ভালবাসি, আর এটাই আমার অভিনয় জীবনের আসল কথা। মঞ্চে বলুন বা সিনেমাতে, আমি যেকোন চরিত্রের ভেতরে এতই ডুবে থাকতে ভালবাসি, বাস্তব সত্তাই ভুলে বসি। সত্যি বলি, আমি এখন অবধি যেসব সিনেমাতে অভিনয় করেছি, তৃপ্ত হইনি। আমি এখনও মনের মতো চরিত্র খুঁজে ফিরি। চরিত্রের মধ্য দিয়ে আমি মানুষের সঙ্গে কথা বলতে চাই।

তরুণ লেখকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কখনও লেখালেখি বন্ধ করো না। লেখালেখির মাঝেই নিজেকে খুঁজে পেয়েছি, পেয়েছি জীবনের ছন্দ। আমার জীবনের লক্ষ্যই লেখালেখি করব। লেখালেখির মতো আর কিছুতেই এত আনন্দ পাই না।

আলাপের এক পর্যায়ে রসিকতা করে টিল্ডা জানান, জার্মানিতে স্থায়ী হলে তিনি নাকি পেশাদার ডাকাত হতেন! অধিবেশনটি সঞ্চালনা করেন উৎসব পরিচালক আহসান আকবর।

নন্দনা সেনের মা ও মেয়ে বিষয়ক কথন

এদিন সকালে একাডেমির বর্ধমান হাউসসংলগ্ন লনে অনুষ্ঠিত হয় মা ও মেয়ে শীর্ষক অধিবেশন। এ বিষয়ে কথা বলেছেন ভারতের খ্যাতনামা অভিনেত্রী, লেখক ও শিশু অধিকারকর্মী নন্দনা সেন। তার আরেক পরিচয় হচ্ছে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের মেয়ে। মা ভারতীয় কবি ও লেখক নবনীতা দেবসেন। প্রাণবন্ত এ আলোচনাপর্বের সঞ্চালনা করেন দেশের নামী অভিনয়শিল্পী সারা যাকের।

নিজের লেখক হয়ে ওঠা প্রসঙ্গে নন্দনা সেন বলেন, আমার পরিবারের সবাই লেখক। বাবা-মা দু’জনই লেখালেখি করেন। বিশেষ করে আমার মা নবনীতা দেবসেন ও নানী রাধা-রাণী দেবীর মধ্যে লেখালেখির বিষয়টি জড়িয়ে আছে তাদের অস্থিমজ্জায়। সেই ধারাবাহিকতায় শিল্পের পথ পেরিয়ে আমিও প্রবেশ করেছি সাহিত্যের আঙ্গিনায়। কথা বলার এক পর্যায়ে মা নবনীতা দেবসেনের কবিতাকে কণ্ঠে তুলে নেন মেয়ে নন্দনা সেন। উপস্থিত শ্রোতা-দর্শককে মুগ্ধ করা ‘জিওল’ নামে পঠিত কবিতার লাইনগুলো ছিল এরকমÑ মনে হয় টুকরো ফেলি/কৈ মাছের মতো লাফায় জিওল জীবন।

মায়ের সঙ্গে নিজের ভবিষ্যত কর্মসূচী প্রসঙ্গে নন্দনা সেন বলেন, আমরা দুজন মিলে ‘মাদার টাং’ নামের একটি বই লিখছি। আমাদের পারিবারিক ইতিহাস উঠে আসবে এ বইয়ে। এক মলাটের ভেতর পাঠক খুঁজে পাবে তিন প্রজন্মের বৃত্তান্ত। মেয়ের সঙ্গে থাকবে তার মা ও নানির জীবনের নানা বিষয়।

মায়ের সঙ্গে নিজের বোঝাপড়া প্রসঙ্গে নন্দনা সেন বলেন, আমাদের দুজনার সম্পর্কটা বন্ধুর মতো। তাই জীবনের যে কোন অভিজ্ঞতার কথা বিনিময় করতে পারি মায়ের সঙ্গে।

শিশু অধিকারকর্মী হিসেবে নিজের কর্মকা- তুলে ধরে বলেন, শিশু যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে কাজ করছি। এ পর্যন্ত আমি ভারতের ৪০০ স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের মাঝে সচেতনতা গড়ে তোলার চেষ্টা করেছি। যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে তাদের প্রতিবাদী হওয়ার কথা বলেছি। আর শিশুদের ওপর এ ধরনের নির্যাতন বন্ধ করতে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে কাজ করা ।

চলচ্চিত্রকার হুমায়ূন আহমেদ

দুপুরে লিট ফেস্টের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে ছিল ‘চলচ্চিত্রকার হুমায়ূন’ শিরোনামে আলোচনা পর্ব। চিত্রনায়ক রিয়াজের সঞ্চালনায় হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন, চলচ্চিত্র পরিচালক মতিন রহমান ও চিত্রগ্রাহক মাহফুজুর রহমান খান আলোচনা করেন।

রিয়াজ বলেন, হুমায়ূন আহমেদের গল্পকে চমৎকার সুতায় গাঁথার ক্ষমতা ছিল। তার লেখায় বৃষ্টি, চাঁদ, জোছনার উপস্থিতিই বলে দেয়, এগুলোর সঙ্গে তার প্রেমের কথা। ভবিষ্যতে হয়তো কেউ হুমায়ূন আহমেদকে পাঠ করবেন, তাকে নিয়ে গবেষণা করবেন, একেকজন একেকভাবে তাকে ব্যাখ্যা করবেন। তার অপেক্ষায় থাকলাম।

মেহের আফরোজ শাওন বলেন, তার আটটি চলচ্চিত্রের পাঁচটিতে আমি প্রধান চরিত্রে কাজ করেছি। তার গল্পগুলো এমন ছিল যে, তার পাঠকরা চরিত্রগুলোর মধ্যে নিজেদের তুলে ধরতেন। আমি প্রথমে ছিলাম হুমায়ূন পাঠক, পরে হয়েছি হুমায়ূন চলচ্চিত্রের অভিনেত্রী। তিনি যখন চলচ্চিত্র বানিয়েছেন তিনি সহজভাবে গল্প বলে গিয়েছেন। সবসময় গল্প লিখেছেন দর্শকের চোখে। আমরা সেটাকে সচরাচর ধারা কিংবা ব্যতিক্রম ধারা বলতে পারি না। আমরা বলতে পারি, এটা হুমায়ূন আহমেদের নিজস্ব ধারা।

দ্বিতীয় দিনের অন্যান্য অধিবেশন

আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে ‘ফ্রম জানাদু টু নাইন লাইফস’ শীর্ষক অধিবেশনে যুক্তরাষ্ট্রের লেখক সাজিয়া ওমরের সঞ্চালনায় আলোচনা করেন ব্রিটিশ ইতিহাসবিদ উইলিয়াম ডালরিম্পল। কবি শামসুর রাহমান মিলনায়তনে ‘অক্ষর ও অঙ্ক’ শীর্ষক অধিবেশনে ভারতীয় সাহিত্যিক গার্গি চট্টোপাধ্যায়ের সঞ্চালনায় অংশ নেন মৌসুমী ব্যানার্জি। ভাস্কর নভেরা প্রদর্শনীলয়ে ‘ক্রিটিকাল মুসলিম : লঞ্চ অব বাংলাদেশ ইস্যু’ শীর্ষক অধিবেশনে পাকিস্তানের আমির হুসাইনের সঞ্চালনায় আলোচনা করেন কবি কায়সার হক, মারিয়া চৌধুরী, রাজিব রহমান ও সর্বরী আহমেদ। কবি শামসুর রাহমান মিলনায়তনে ‘এন এ্যান্ড দ্যা বিগ হুম’ শীর্ষক অধিবেশনে সাহাদাত জাহানের সঞ্চালনায় আলোচনা করেন পেঙ্গুইন ইন্ডিয়ার প্রতিষ্ঠাতা জেরি পিন্টো। উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে ‘মাদার এ্যান্ড ডটার’ শীর্ষক অধিবেশনে সারা যাকেরের সঞ্চালনায় ভারতীয় অভিনেত্রী নন্দনা সেন।

দুপুর সাড়ে বারোটায় আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে ‘পারফরমেন্স এস অথারশিপ’ শীর্ষক অধিবেশনে আলোচনা করেন অস্কারজয়ী অভিনেত্রী টিল্ডা সুইন্টন। এ অধিবেশনটি সঞ্চালনা করেন উৎসব পরিচালক কবি আহসান আকবার। উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে ছিল ‘চলচ্চিত্রকার হুমায়ূন’ শীর্ষক অধিবেশন। যাতে নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের চলচ্চিত্র নিয়ে কথা বলেন চলচ্চিত্র পরিচালক মতিন রহমান, হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন এবং চিত্রগ্রাহক মাহফুজুর রহমান খান। সঞ্চালনায় ছিলেন চিত্রনায়ক রিয়াজ। ভাস্কর নভেরা প্রদর্শনীলয়ে ‘প্রকাশনা-একাল সেকাল’ শীর্ষক অধিবেশনে ফিরোজ আহমেদের সঞ্চালনায় অংশ নেন দিপঙ্কর দাস, রাজীব চে ও সৈয়দ জাকির হোসাইন।

দুপুর দুইটায় কবি শামসুর রাহমান মিলনায়তনে ‘মেমোরিস অব এ পাবলিশার্স’ শীর্ষক অধিবেশনে ইউপিএলের পরিচালক মাহ্্রুখ মহিউদ্দিনের সঞ্চালনায় আলোচনা করেন বিশে^র সবচেয়ে বড় প্রকাশনা পেঙ্গুইন র‌্যান্ডম হাউসের সদ্য সাবেক প্রধান জন ম্যাকিনসন। উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে ‘# মিটু’ শীর্ষক অধিবেশনে জ্যোতি মালহোত্রার সঞ্চালনায় আলোচনা করেন সাবিনা ফয়েজ রশিদ, সামিয়া জামান, সোফি ওয়াকার ও বাচি কাকারিয়া। ভাস্কর নভেরা প্রদর্শনীলয়ে ‘সম্পর্কের এপার ওপার’ শীর্ষক অধিবেশনে আহমেদ রেজার সঞ্চালনায় বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান, পশ্চিমবঙ্গের সাহিত্যিক জহুর সেন মজুমদার, কথাসাহিত্যিক শাহিন আখতার ও কবি সাজ্জাদ শরীফ।

বিকেল সোয়া তিনটায় আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে ‘দ্য ফেমিসেড রোড’ শীর্ষক অধিবেশনে জেরি পিন্টোর সঞ্চালনায় আলোচনা করেন ম্যান বুকারজয়ী নাইজেরীয় কথাসাহিত্যিক বেন ওকরি।

বিকেল সাড়ে চারটায় আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে ছিল ‘হারস্টোরিজ : হোমগ্রো সুপারগার্লস শীর্ষক অধিবেশনে সেতু সবুরের সঞ্চালনায় আলোচনা করেন মাবিয়া আক্তার, মাদিয়া মোরশেদ, নাঈমা হক, এভারেস্টজয়ী প্রথম বাংলাদেশী নারী নিশাত মজুমদার ও তামান্না-ই-লুৎফি। এ সময় ‘হারস্টোরিজ : হোমগ্রো সুপারগার্লস’ শিরোনামে একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। কবি শামসুর রাহমান মিলনায়তনে ‘ইনট্যানজিবল’ শীর্ষক অধিবেশনে সুপ্রভা তাসনিমের সঞ্চালনায় আলোচনা করেন অধ্যাপক সৈয়দ জামিল আহমেদ ও অনন্যা কবির। উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে ছিল সিরিয়ান বংশোদ্ভূত কবি আদোনিসের একক আবৃত্তি। ঢাকা লিট ফেস্টের পরিচালক সাদাফ সায্্ের সঞ্চালনায় আদোনিস তার প্রিয় কবিতাগুলো পাঠ করে শোনান।

সন্ধ্যা পৌনে ছয়টায় আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে ছিল ‘স্যাডো ওয়ার্ল্ড’ প্রামাণ্যচিত্রের দক্ষিণ এশিয়া প্রিমিয়ার। আন্ড্রু ফেইনস্টেনের আলোচিত গ্রন্থ ‘দ্যা স্যাডো ওয়ার্ল্ড : ইনসাইড গ্লোবাল আর্মস ট্রেড’ অবলম্বনে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্রটির ওপরে শুরুতেই আলোচনা করেন আনাদিল হোসেন। পরে আলোচনা করেন বইটির লেখক আন্ড্রু ফেইনস্টেইন ও ডোমিনিক জেইগলার। কবি শামসুর রাহমান মিলনায়তনে ‘টেস্পোরারি পিপল’ শীর্ষক অধিবেশনে রিফাত মুনীমের সঞ্চালনায় আলোচনা করেন দীপক উন্নিকৃষ্ণাণ ও আন্ড্রে নাফিস-সাহলি। উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে ছিল কবিতার পাঠের আয়োজন- ‘বাংলার মুখ ২’। যাতে কবিতা আবৃত্তি করেন জাহিদুল হক, মুহম্মদ সাদিক প্রমুখ।

সাংস্কৃতিক পরিবেশনা

লিট ফেস্টের দ্বিতীয় দিনে ছিল বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। সকালে কসমিক টেন্টে শিশুদের ‘তোতন মামার ম্যাজিক খেলা’ গল্প শুনিয়েছেন নাজিয়া জেবিন । বিকেলে একই স্থানে আট বছরের ছোট বাচ্চাদের ‘মাম্বি এ্যান্ড নট ইয়েট!’ শীর্ষক এ অধিবেশনে বাচ্চাদের সঙ্গে আলাপ আর খেলায় মেতে উঠেন ভারতীয় অভিনেত্রী নন্দনা সেন।

নজরুল মঞ্চে ছিল সকালে ছিল বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ লাঠিয়াল দল অংশ নেন মেয়েদের লাঠি খেলা। নাট্যদল বটতলা পরিবেশন করে সুকুমার রায়ের নাটক। কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক বাচ্চাদের শোনান ‘সাত ভাই চম্পা ও অন্যান্য গল্প’। আরও ছিল নজরুল মঞ্চে মুস্তফা মনোয়ারের পরিচালনায় পুতুল নাচ এবং অজিত রায় সরকার এবং নির্মল চন্দ্র রায় সরকার ও দলের কবিগান।

এবারের উৎসবে প্লাটিনাম স্পন্সর হিসেবে থাকছে এনার্জিস, গোল্ড স্পন্সর মীনা বাজার, প্রিমিয়ার পার্টনার ইন্ডিয়ান হাই কমিশন, স্ট্রাটেজিক পার্টনার ব্রিটিশ কাউন্সিল।

আজকের আয়োজন ॥ আজ শনিবার উৎসবের শেষ দিন। এদিন ব্রিটিশ সাহিত্য জার্নাল ‘গ্রান্টা’র মোড়ক উন্মোচন হবে। এর বাইরে দক্ষিণ এশিয়ার সম্মানজনক সাহিত্য পুরস্কার ‘ডিএসসি পুরস্কার’ প্রদান ছাড়াও থাকছে নানা বিষয়ভিত্তিক ৩৭টি অধিবেশন।

উৎসব আয়োজকনের তথ্য ॥ সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় ঢাকা লিট ফেস্টের আয়োজক যাত্রিক। উৎসব পরিচালনা করছেন কথাসাহিত্যিক কাজী আনিস আহমেদ, কবি সাদাফ সায্্ সিদ্দিকী ও কবি আহসান আকবার। এবারের উৎসবের প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে থাকছে ঢাকা ট্রিবিউন ও বাংলা ট্রিবিউন, সহ-পৃষ্ঠপোষক হিসেবে রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক।


The Daily Janakantha website developed by
BIKIRAN.COM
]]>
ক্ষমতা ছাড়ছেন সৌদি বাদশাহ http://www.dailyjanakantha.com/details/article/308347/ক্ষমতা-ছাড়ছেন-সৌদি-বাদশাহ http://www.dailyjanakantha.com/details/article/308347/ক্ষমতা-ছাড়ছেন-সৌদি-বাদশাহ 2017-11-17T11:38:00+0000 Daily Janakantha নাজিম মাহমুদ ॥ ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছেন সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ। ৮১ বছর বয়সী এই ...

ক্ষমতা ছাড়ছেন সৌদি বাদশাহ

 

প্রথম পাতা

Daily Janakantha

নাজিম মাহমুদ ॥ ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছেন সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ। ৮১ বছর বয়সী এই বাদশাহ তার ছেলে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের হাতে দায়িত্ব দিয়ে আগামী সপ্তাহে ক্ষমতা ত্যাগ করতে পারেন বলে যুক্তরাজ্যভিত্তিক ট্যাবলয়েড ডেইলি মেইলের এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

খবরে বলা হয়েছে, দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেও ব্রিটিশ রানী এলিজাবেথের মতো আলঙ্কারিক পদে থাকবেন সালমান বিন আব্দুল আজিজ। তবে মক্কা ও মদিনার দুই পবিত্র মসজিদের জিম্মাদারীর পদে বহাল থাকবেন তিনি।

চলতি মাসে দুর্নীতির দায়ে সৌদি আরবের ৪০ জন শাহজাদা, কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান মন্ত্রীকে আটক করার পর বাদশাহর এ সিদ্ধান্তকে ৩২ বয়সী যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ক্ষমতা আরও পোক্ত করার একটা কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সৌদি আরবের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, ক্ষমতায় বসার পর মোহাম্মদ বিন সালমান তেলসমৃদ্ধ সৌদি আরবের আঞ্চলিক প্রধান শত্রু ইরানের দিকে দৃষ্টি ফেরাবেন। কেউ কেউ মনে করছেন, তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপও নিতে পারেন তিনি। লেবাননে ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহ মিলিশিয়াদের প্রতিহত করতে ইসরাইলের সহায়তাও নিতে পারেন এই যুবরাজ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অপর এক সৌদি সূত্র জানিয়েছে, সালমান ইতোমধ্যে ইরান ও হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামতে সম্মত হয়েছেন। অবশ্য সৌদি রাজপরিবারের অনেক সদস্য এ ব্যাপারে দ্বিমত পোষণ করেন। এসব কারণে কুয়েতের শাসক ব্যক্তিগতভাবে মোহাম্মদ বিন সালমানকে ‘মত্ত ষাঁড়’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

প্রাথমিকভাবে লেবাননের হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করতে চান সালমান। এ কাজে ইসরাইলী সেনাবাহিনীর সহায়তা আশা করছেন তিনি। ইসরাইলের সঙ্গে সখ্যের অংশ হিসেবে সৌদি আরব তেলআবিবের কয়েক বিলিয়ন ডলারের সরাসরি বিনিয়োগে সম্মতি দিয়েছে।

কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, লেবাননে ইসরাইলের সহায়তা ছাড়া হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে লিপ্ত হওয়া কঠিন বলে মনে করেন যুবরাজ সালমান। পাশাপাশি সিরিয়ার হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধেও যুদ্ধের পরিকল্পনা রয়েছে তার।

চলতি মাসের চার তারিখে রিয়াদের কাছাকাছি একটি ক্ষেপণাত্র হামলা ব্যর্থ করে দেয়ার মধ্য দিয়ে তেহরানের সঙ্গে উত্তেজনায় জড়ায় রিয়াদ। সৌদি কর্তৃপক্ষ মনে করছে, পাশের দেশ ইয়েমেন থেকে এই ক্ষেপণাত্র ছোড়া হয়েছিল। এ ঘটনার সঙ্গে ইরানের প্রত্যক্ষ যোগসাজশ রয়েছে।

এ বিষয়ে সৌদি আরবের বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদিল জুবায়ের বলেন, এই ক্ষেপণাত্র ইয়েমেন থেকেই ছোড়া হয়েছিল। এর জন্য ইরান দায়ী। আর ইরানের এই পদক্ষেপ যুদ্ধে জড়ানোর অংশ।

ওদিকে সৌদি আরবের অপর এক সিনিয়র সূত্র বলেছে, যুবরাজ সালমান এখনই সৌদি আরবের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হচ্ছেন এটি ঠিক নয়। বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ জীবিত থাকাবস্থায় এর সম্ভাবনা কম।

ইসরাইলের সঙ্গে সৌদি আরবের কার্যত কোন কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। তবে উভয় দেশ ইরান ও হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সহমত পোষণ করে।

গত বৃহস্পতিবার ইসরাইলের সিনিয়র কর্মকর্তা গাদি আইজেনকত একটি আরবীয় গণমাধ্যমে সাক্ষাতকার দেন। সাক্ষাতকারে তিনি ইঙ্গিত করেন যে, সৌদি আরবের সঙ্গে ইরানবিষয়ক গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ে তার দেশ সম্মত।

উল্লেখ্য, চলতি মাসে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের পর মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী এই দেশে তোলপাড় শুরু হয়। বর্তমান বাদশাহ সালমানের এক রাজকীয় ডিক্রীতে দুর্নীতি দমন কমিটি গঠন করা হয়। মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বে গঠিত ওই কমিটি কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বহু শাহজাদা, চারজন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ও কমপক্ষে ২০ জন সাবেক মন্ত্রীকে আটক করে। আটককৃতদের মধ্যে ধনকুবের ও সৌদি রাজপরিবারের প্রভাবশালী সদস্য শাহজাদা আল-ওয়ালিদ বিন তালালও আছেন। একই সঙ্গে সৌদি ন্যাশনাল গার্ড ও নৌপ্রধানের পদেও পরিবর্তন আনা হয়। আটক শাহজাদা তালালের মালিকানায় রয়েছে ইনভেস্টমেন্ট ফার্ম কিংডম হোল্ডিং। পাশাপাশি তিনি মার্কিন টেক জায়ান্ট এ্যাপল ও জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারেরও শেয়ারহোল্ডার। একই সঙ্গে আল-ওয়ালিদ বিন তালালের ইউরো ডিজনি থিমপার্ক ও মিডিয়া মুঘল রুপার্ট মারডকের নিউজ কর্পোরেশনেও শেয়ার রয়েছে। সৌদি আরবের সাবেক অর্থমন্ত্রী ইব্রাহিম আল-আসাফও গ্রেফতার হন। এসব আটকের মধ্য দিয়ে যুবরাজ মোহাম্মদের প্রভাব আরও সুসংহত করা হয় বলে মনে করে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।

আটককৃতদের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ আনা হয়েছে সেসব বিষয় এখনও স্পষ্ট করেনি সৌদি কর্তৃপক্ষ। আটকের পর সৌদি আরবের স্টক একচেঞ্জে লেনদেনে ধস নামে। আটক এসব শাহজাদা সৌদি আরবের রিজ কার্লটন হোটেলের মেঝেতে মাদুর বিছিয়ে সময় কাটাচ্ছেন বলে ছবি প্রকাশিত হয়।

জেদ্দায় ২০০৯ সালের বন্যা ও ২০১২ সালে সৌদি আরবে মার্স ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব নিয়ে দেশটিতে নতুন করে তদন্ত শুরু হয়। যুবরাজ সালমানের নেতৃত্বে গঠিত দুর্নীতি দমন কমিটিকে গ্রেফতারি পরোয়ানার পাশাপাশি ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারির ক্ষমতা দেয়ার পর শাহজাদাদের আটকের ঘটনা ঘটে।

The Daily Janakantha website developed by
BIKIRAN.COM
]]>
কঠোর হাতে দমন করুন http://www.dailyjanakantha.com/details/article/308343/কঠোর-হাতে-দমন-করুন http://www.dailyjanakantha.com/details/article/308343/কঠোর-হাতে-দমন-করুন 2017-11-17T11:16:37+0000 Daily Janakantha মঙ্গলবার গভীর রাতে বাগেরহাটের চিতলমারীতে এক হিন্দু দম্পতিকে ঘুমন্ত অবস্থায় পুড়িয়ে মারার জন্য দুষ্কৃতকারীরা যে অপচেষ্টা চালিয়েছে তাকে শতমুখে ধিক্কার ...

কঠোর হাতে দমন করুন

 

সম্পাদকীয়

Daily Janakantha

মঙ্গলবার গভীর রাতে বাগেরহাটের চিতলমারীতে এক হিন্দু দম্পতিকে ঘুমন্ত অবস্থায় পুড়িয়ে মারার জন্য দুষ্কৃতকারীরা যে অপচেষ্টা চালিয়েছে তাকে শতমুখে ধিক্কার জানাতে হবে। তাদের হত্যার জন্য বাইরে থেকে দরজায় তালা দিয়ে ঘরে আগুন দেয়া হয়। আগুনে বসত এবং রান্নাঘরসহ টিভি, ফ্রিজ, আসবাবপত্র, স্বর্ণালঙ্কার, নগদ টাকাসহ সব মালামাল সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে। এই ধ্বংসযজ্ঞের ভেতর সান্ত¦¦না এটুকুই যে, ওই দম্পতি শেষ পর্যন্ত প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন। তারা প্রতিবেশীর সহায়তায় দরজা ভেঙ্গে বাইরে বের হয়ে আসায় প্রাণ বাঁচতে সক্ষম হন। আগুনে পুড়ে তাদের মৃত্যু হতে পারত। বসতঘর পুড়ে যাওয়ায় এ পরিবারটি এখন খোলা আকাশের নিচেই বসবাস করছে। এ ধরনের বর্বর নৃশংস কাজ কোন মানুষের পক্ষে করা সম্ভব এটি বিশ্বাস হতে চায় না। কোন কোন মানুষের মাঝ থেকে মানবিকতা ও মূল্যবোধ কি হারিয়ে যেতে বসেছে! তারা চরম পথটাই বেছে নিচ্ছে, অর্থাৎ টার্গেট ব্যক্তিকে খুন করছে। সে খুনটাও করছে অত্যন্ত নৃশংস পদ্ধতিতে। গোটা সমাজের সবাই নিশ্চয়ই অসুস্থ হয়ে যাননি। তাই করণীয় রয়েছে বহুকিছু। সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকেই উত্তরণের পথ সন্ধান করতে হবে।

দুর্বৃত্তদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য ইতোমধ্যে তৎপর হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে ওই দম্পতির ওপর আক্রমণের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করা জরুরী। জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে এই অপরাধ সংঘটিত হয়েছে নাকি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষকে হত্যা করে কিংবা ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের সম্পদ-সম্পত্তি দখল করার মনোবাঞ্ছা থেকে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে সেটি সুষ্ঠুভাবে খতিয়ে দেখা দরকার। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ক্ষতিগ্রস্ত দম্পতিকে নগদ অর্থসাহায্য করেছেন বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন। চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘর তৈরির জন্য তাৎক্ষণিকভাবে চার বান্ডিল ঢেউটিন দিয়েছেন। প্রাথমিকভাবে এই অর্থ ও গৃহনির্মাণ উপকরণ সহায়তা ক্ষতিগ্রস্ত দম্পতির উপকারে আসবে বটে, কিন্তু তাদের মনে যে নিরাপত্তাহীনতার বোধ তৈরি হয়েছে সেটি আগে নিরসন করা জরুরী। সে কারণে স্বল্পতম সময়ের মধ্যে অপরাধীদের গ্রেফতার করে বিচারের সম্মুখীন করতে হবে।

কিছুদিন আগে রংপুরে পরিকল্পিতভাবে হিন্দুদের ওপর আক্রমণ হয়েছে। দেশে সাম্প্রতিককালে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার অপচেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিষয়টি উদ্বেগজনক। সাম্প্রদায়িক হীন মানসিকতা থেকে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর মতো অপরাধ নিঃসন্দেহে গুরুতর। এটি প্রতিরোধের জন্য বিশেষ কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া জরুরী। একটি মহল নানাভাবে দেশে অস্থিরতা তৈরির অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে। বিগত কয়েক বছরে দেশের সার্বিক উন্নতি সাধিত হয়েছে। অপরাধ দমনে আশানুরূপ অগ্রগতিও হয়েছে। সামনে বেশ কয়েকটি নির্বাচন রয়েছে। এমন একটি সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর অপচেষ্টা কিসের ইঙ্গিত বহন করে? দেশের মানুষ এখন অনেক ভাল আছে, তাদের জীবনমান বেড়েছে। শ্রমজীবী মানুষের আর্থিক অবস্থার যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে, তাদের ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে। এখন একের পর এক অপরাধী কর্মকা- চালানো হলে দেশের উন্নয়ন ব্যাহত হবে, মানুষের শান্তি বিনষ্ট হবেÑ এমনটাই আশঙ্কা। তাই অপরাধীচক্রকে কঠোর হাতে দমন করতেই হবে। চিতলমারির ঘটনা যাতে হিন্দু সম্প্রদায়ের ভেতর কোন রকম ভুল বার্তা না দেয় সেটিও লক্ষ্য রাখা চাই।


The Daily Janakantha website developed by
BIKIRAN.COM
]]>
বিনামূল্যে চিকিৎসা http://www.dailyjanakantha.com/details/article/308342/বিনামূল্যে-চিকিৎসা http://www.dailyjanakantha.com/details/article/308342/বিনামূল্যে-চিকিৎসা 2017-11-17T11:16:12+0000 Daily Janakantha দেশে সরকারী-বেসরকারী পর্যায়ে বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, চিকিৎসক ও অন্যান্য কর্মীর তেমন অভাব নেই। তা সত্ত্বেও অসচ্ছল ও হতদরিদ্রদের এক প্রকার ...

বিনামূল্যে চিকিৎসা

 

সম্পাদকীয়

Daily Janakantha

দেশে সরকারী-বেসরকারী পর্যায়ে বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, চিকিৎসক ও অন্যান্য কর্মীর তেমন অভাব নেই। তা সত্ত্বেও অসচ্ছল ও হতদরিদ্রদের এক প্রকার চিকিৎসা সঙ্কট রয়ে গেছে। কমিউনিটি ক্লিনিক, উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রসহ বিভিন্ন চিকিৎসা সেবাকেন্দ্র থাকলেও বোধগম্য কারণেই অনেক জটিল রোগের চিকিৎসা সেই সব সেবাকেন্দ্রে হয় না। উপরন্তু বর্তমানে চিকিৎসা ব্যয়ও বেড়ে গেছে। গত দুই দশকে দেশে স্বাস্থ্য সেবার ব্যয় বেড়েছে প্রায় চারগুণ। মানুষের মৌলিক অধিকারের মধ্যে অন্যতম একটি হলো চিকিৎসাসেবা। গ্রামের কৃষক ও হতদরিদ্র মানুষ তাদের চিকিৎসার জন্য নির্ভর করে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কেন্দ্রগুলোর ওপর। কিন্তু এগুলো নানা রকম সঙ্কট অনিয়ম-অব্যবস্থাপনায় আক্রান্ত। বড় সঙ্কট হলো লোকবল ও চিকিৎসা সরঞ্জামাদির। আবার যাওবা আছে তারও সদ্ব্যবহার হয় না। যে লোকবল নিয়োজিত আছে তাদেরও কর্মস্থলে যথাযথ দায়িত্ব পালন নিশ্চিত হচ্ছে না। দেশের তৃণমূলে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের আন্তরিকতা ও সদিচ্ছার অভাব নেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোগীকে পরিবারের সদস্য মনে করে চিকিৎসা প্রদানের পরামর্শও দিয়েছেন বহুবার। আবার চিকিৎসা খাতের প্রতিটি সেবার মূল্য নির্ধারণেও তার নির্দেশ রয়েছে। এই নির্দেশ বাস্তবায়নের পাশাপাশি বাড়তি পরীক্ষা-নিরীক্ষাকে নিরুৎসাহিত করা, ওষুধের দাম নির্ধারণ ও মনিটরিং করা, এ্যান্টিবায়োটিকের যত্রতত্র ব্যবহার বন্ধ করা, অযথা দামী ওষুধ প্রদানে চিকিৎসকদের সতর্ক করা ইত্যাদি পদক্ষেপ গ্রহণ করলে অসচ্ছল রোগীরা উপকৃত হতে পরে। দরিদ্র মানুষের কল্যাণ সাধনই যেহেতু শেখ হাসিনার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য, তাই গরিব জনসাধারণের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা ব্যবস্থা পুনর্বহাল করেছেন। দরিদ্রদের জন্য প্রবর্তন করা হয়েছে ‘শেখ হাসিনা হেলথ কেয়ার কর্মসূচী।’ গরিব জনগোষ্ঠীর মধ্যে পঞ্চাশটি রোগের চিকিৎসা বিনামূল্যে নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য সুরক্ষা কর্মসূচীও নেয়া হয়েছিল গত বছর। কিন্তু দরিদ্রের স্বাস্থ্য সেবার গাফিলতির হার বরং আরও বেড়েছে। বাস্তবে দেখা যায়, সরকারী হাসপাতালে চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রায়ই অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থেকে নষ্ট হয়। গরিবের জন্য বিনামূল্যে দেয়া ওষুধপত্রও তাদের ঠিকমতো দেয়া হয় না। অনাদর, অবহেলার বিষয় তো বলাই বাহুল্যমাত্র। দেশের স্বাস্থ্যসেবা এমন দাঁড়িয়েছে যে, ধনী ব্যক্তিরাও অর্থের বিনিময়ে সুচিকিৎসা পান না দেশের নামী-দামী সরকারী-বেসরকারী হাসপাতালগুলোর কাছ থেকে। তাই যাদের সঙ্গতি রয়েছে, তারা বিদেশে চিকিৎসা নিয়ে থাকেন। কিন্তু গরিবদের তো যাওয়ার মতো বিকল্প জায়গা নেই। তাদের একমাত্র আশ্রয়স্থল সরকারী হাসপাতাল, স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও কমিউনিটি কেন্দ্রগুলো। বিদ্যমান অবস্থায় সরকারী হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানসমূহের জন্য নির্দেশনা অবশেষে জারি করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। বিনামূল্যে চিকিৎসা নিশ্চিতের নির্দেশ কতটা কার্যকর হবে তা নির্ভর করবে কর্তৃপক্ষের তদারকির ওপর। সরকারী হাসপাতালসমূহে সাধারণ মানুষেরও স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তিতে সহায়ক ভূমিকা রাখার এ নির্দেশনা সাধারণ হতদরিদ্র মানুষের কাছে আশার আলোকতবর্তিকা হিসেবে ধরা দিচ্ছে। চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা শতভাগ কার্যকর করা জরুরী। এ জন্য কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা চালাতে হবে। চিকিৎসা উপকরণসমূহের সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরী। একই সঙ্গে আগত রোগীদের হয়রানি ও দুর্ভোগ কমানো না গেলে অবহেলা হ্রাস পাবে না। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জারি করা পরিপত্রে যে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে, তার কার্যকর বাস্তবায়ন চিকিৎসা ক্ষেত্রে যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে। হাসপাতালগুলো দালালচক্র মুক্ত হবে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে হয়রানি বন্ধ করার জন্য শুধু বিধিবিধান নয়, যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা গেলে চিকিৎসা খাতে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন হবে।


The Daily Janakantha website developed by
BIKIRAN.COM
]]>
বিপিএলে ১০ ভারতীয়সহ ৭৭ জুয়াড়ি আটক http://www.dailyjanakantha.com/details/article/308341/বিপিএলে-১০-ভারতীয়সহ-৭৭-জুয়াড়ি-আটক http://www.dailyjanakantha.com/details/article/308341/বিপিএলে-১০-ভারতীয়সহ-৭৭-জুয়াড়ি-আটক 2017-11-17T08:55:02+0000 Daily Janakantha অনলাইন রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) শুরু হওয়ার পর থেকেই সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে, এ টুর্নামেন্ট ঘিরে সারাদেশে চলছে ...

বিপিএলে ১০ ভারতীয়সহ ৭৭ জুয়াড়ি আটক

 

খেলা

Daily Janakantha

অনলাইন রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) শুরু হওয়ার পর থেকেই সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে, এ টুর্নামেন্ট ঘিরে সারাদেশে চলছে জুয়ার হিড়িক। সেটাকে আরও ভারি করে তুলেছে আসরের শুরুর দিকে জুয়াকে কেন্দ্র করে রাজধানী বাড্ডায় এক তরুণের খুনের ঘটনা। বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও (বিসিবি)। গ্যালারিতে বসে অনলাইনে জুয়া খেলার সময় ১০ ভারতীয়সহ মোট ৭৭ জুয়াড়িকে আটক করে পুলিশে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইসমাইল হায়দার মল্লিক।


শুক্রবার সিলেট সিক্সার্স এবং রাজশাহী কিংসের ম্যাচের পর আনুষ্ঠানিক এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান বিপিএল এবং বিসিবির এই কর্মকর্তা।

জানা গেছে, বাড্ডায় জুয়া নিয়ে এক তরুণের খুনের ঘটনার পরই নড়েচড়ে বসে বিসিবির দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা। তারা, খোঁজ নিয়ে জানতে পারে, শুধুমাত্র মাঠের বাইরেই নয়, মাঠের মধ্যে গ্যালারিতে বসেই ক্রিকেট জুয়ায় মেতে উঠেছে একটি চক্র। তাদের ধরতেই মূলতঃ বিসিবির অ্যান্টি করাপশন ইউনিট মাঠে নেমে পড়ে। প্রযুক্তির উৎকর্ষতার কারণে হয়তো তাদের ধরা কঠিন। তবে বিসিবি আড়ি পেতে হোক আর যে ভাবেই হোক, মাঠ থেকেই মোট ৭৭জন জুয়াড়িকে আটক করতে সক্ষম হয়।


ইসমাইল হায়দার মল্লিক জানান, ৭৭ জন আটককৃত জুয়াড়ির মধ্যে বাংলাদেশি রয়েছেন মোট ৬৫ জন। এছাড়া বিদেশি রয়েছেন ১২ জন। বিদেশিদের মধ্যে ১০ জনই ভারতীয়।


তিনি বলেন, 'আমরা ৬৫ বাংলাদেশিকে মাঠে বসে অনলাইনে জুয়া খেলার সময় আটক করেছি। যেহেতু আমরা পুলিশ কেস করতে পারি না, তাই তাদেরকে পুলিশে সোপর্দ করেছি। ৬৫ বাংলাদেশি ছাড়াও বিদেশি ছিল ১২ জন। যার মধ্যে ভারতীয়ই ছিল ১০ জন।'


বিপিএলের ম্যাচ চলাকালীন প্রতিটি বলের মাঝে যেটুকু সময় থাকে, তারই ফাঁকে অনলাইনে জুয়া খেলা হয় বলে জানান মল্লিক। তিনি বলেন, মূলতঃ এরা অনলাইনে জুয়া খেলে। বিভিন্ন জুয়ার সাইটে মাঠে বসেই জুয়া খেলে। প্রতিটা বল করতে যে টুকু সময় লাগে তার মাঝেই এই কাজটা করে তারা। প্রযুক্তি অনেক এগিয়ে গেছে, তাই এদের ধরা বেশ কঠিন। তবুও আমরা এদের খুঁজে বের করছি যতটা সম্ভব।


জুয়াড়িদের বিরুদ্ধে বিসিবি কোন আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারছে না বলেও স্বীকার করেন এই বোর্ড পরিচালক। তার মতে, যেহেতু আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার কোন সুযোগ নেই, তাই আমরা তাদেরকে পুলিশে সোপর্দ করে দেই। পরে পুলিশ তাদেরকে অল্প শাস্তি দেয় হয়তো। তবে আমরা মাঠের মধ্যে কেউ কিছু করলে তাদের আমরা আটক করতে পারি।


দেশে জুয়াড়িদের বিরুদ্ধে কোন প্রচলিত কঠিন আইন নেই বলেও জানান তিনি। এ প্রসঙ্গে মল্লিক বলেন, সারাদেশে যে জুয়াটা হয়, তা নিয়ে আমাদের কোন ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ কিন্তু নেই। আর দেশে জুয়া নিয়ে প্রচলিত কোন কঠিন আইনও নেই। আপনাদের জানাচ্ছি, আমাদের স্টেডিয়ামের মধ্যে কিন্তু একটি দুর্নীতি বিরোধী ইউনিট আছে। স্টেডিয়ামের মধ্যে যদি কিছু হয় তাহলে তারা সাথে সাথে ব্যাবস্থা নেয়।

জুয়া থেকে তরুণদের সচেতন করতে বিসিবি মাঠে বিভিন্নভাবে সচেতনতা সৃষ্টির চেষ্টা করছেও বলে জানান আইএইচ মল্লিক।


The Daily Janakantha website developed by
BIKIRAN.COM
]]>
বাউফলে অন্যের বউকে নিজের বউ দাবি করায় কারাদন্ড http://www.dailyjanakantha.com/details/article/308340/বাউফলে-অন্যের-বউকে-নিজের-বউ-দাবি-করায় http://www.dailyjanakantha.com/details/article/308340/বাউফলে-অন্যের-বউকে-নিজের-বউ-দাবি-করায় 2017-11-17T08:34:47+0000 Daily Janakantha নিজস্ব সংবাদদাতা, বাউফল ॥ অন্যের বউকে নিজের বউ বলে দাবি করায় আবদুর রহিম খান নামের ৬ সন্তানের জনককে তিন ...

বাউফলে অন্যের বউকে নিজের বউ দাবি করায় কারাদন্ড

 

দেশের খবর

Daily Janakantha

নিজস্ব সংবাদদাতা, বাউফল ॥ অন্যের বউকে নিজের বউ বলে দাবি করায় আবদুর রহিম খান নামের ৬ সন্তানের জনককে তিন মাসের কারাদন্ড দেয়া হয়েছে। আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় বাউফল উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান এ কারাদন্ড প্রদান করেন।

জানা গেছে, কালাইয়া ইউনিয়নের শৌলা গ্রামের আবদুর রশিদ খানের ছেলে আবদুর রহিম খান কালাইয়া বন্ধরস্থ জনৈক এক ব্যক্তির বউকে নিজের বউ দাবি করে প্রচার করে আসছিল। ঘটনার দিন বিকাল সারে ৫টার দিকে আবদুর রহিম কালাইয়া বন্দরের সিনামা হলের সামনে ওই নারীকে দেখতে পেয়ে নিজের বউ বলে দাবি করে এবং তার হাত ধরে টানাটানির চেষ্টা করে। এসময় তার ডাক চিৎকারে সাদা পোশাকে থাকা বাউফল থানার এসআই ওয়াসিম ওই ব্যক্তিকে হাতে নাতে ধরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে খবর দেন। এরপর তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বাক্ষ প্রমানের ভিত্তিতে আবদুর রহিম খানকে তিন মাসের কারাদন্ড প্রদান করেন। তবে এঘটনায় আবদুর রহিম অনুতপ্ত নয়। বরং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে বসেও একাধিক বার তিনি ওই নারীকে নিজের বউ বলে দাবি করলেও কোন প্রমান দেখাতে পারেননি।


The Daily Janakantha website developed by
BIKIRAN.COM
]]>
গোপালপুর নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলস্ লিঃ এর আখ মাড়াই মৌসুম শুরু http://www.dailyjanakantha.com/details/article/308339/গোপালপুর-নর্থ-বেঙ্গল-সুগার-মিলস্-লিঃ-এর http://www.dailyjanakantha.com/details/article/308339/গোপালপুর-নর্থ-বেঙ্গল-সুগার-মিলস্-লিঃ-এর 2017-11-17T08:33:39+0000 Daily Janakantha সংবাদদাতা,লালপুর ॥ প্রায় ১শ ৪৬ কোটি টাকা ঋনের বোঝা মাথায় নিয়ে উত্তর বঙ্গের ভারী শিল্প নাটোরের লালপুর গোপালপুর নর্থ ...

গোপালপুর নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলস্ লিঃ এর আখ মাড়াই মৌসুম শুরু

 

দেশের খবর

Daily Janakantha

সংবাদদাতা,লালপুর ॥ প্রায় ১শ ৪৬ কোটি টাকা ঋনের বোঝা মাথায় নিয়ে উত্তর বঙ্গের ভারী শিল্প নাটোরের লালপুর গোপালপুর নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলস্ লিঃ এর ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরের আখ মাড়াই মৌসুমের উদ্ধোধন করা হয়েছে । শুক্রবার বিকেলে এই মাড়াই মৌসুম শুরু করা হয় ।

এ মৌসুমে ১২০ কার্য দিবসে ২ লাখ ২ হাজার মে.টন আখ মাড়াই করে ১৫ হাজার ৪৫ মে.টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে । চিনি আহরনের হার ধরা হয়েছে শতকরা ৭.৫০ ভাগ। নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলস্ লিঃ এর মহা ব্যবস্থাপক(কৃষি) ও ব্যবস্থাপনা পরিচাললক (চলতি দায়িত্ব) আব্দুস সেলিম এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন নাটোর-১(লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য এ্যাড. আবুল কালাম আজাদ ।

এসময় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য করপোরেশন এর সচিব এবিএম আরশাদ হোসেন, পরিকল্পনা পরিচালক প্রকৌশলী হারেজ আলী প্রমুখ । এছাড়া লালপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি) আবু তাহির, আওয়ামীলীগের সভাপতি আফতাব হোসেন ঝুলফু,সাধারণ সম্পাদক ইসাহাক আলী,লালপুর থানার ওসি আবু ওবায়েদ সহ নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলস্ লিঃ এর বিভিন্ন দপ্তর এর কর্মকর্তারা সহ সুধীজনরা উপস্থিত ছিলেন । অনুষ্ঠানে আলোচনা সভা ও মিলাদ মহাফিল সহ বিশেষ মোনাজাত এর মধ্য দিয়ে এ মাড়াই মৌসুম শুরু হয় ।


The Daily Janakantha website developed by
BIKIRAN.COM
]]>
বর্ণাঢ্য আয়োজেন ঢাবিতে তাহের মেলা অনুষ্ঠিত http://www.dailyjanakantha.com/details/article/308338/বর্ণাঢ্য-আয়োজেন-ঢাবিতে-তাহের-মেলা-অনুষ্ঠিত http://www.dailyjanakantha.com/details/article/308338/বর্ণাঢ্য-আয়োজেন-ঢাবিতে-তাহের-মেলা-অনুষ্ঠিত 2017-11-17T08:21:23+0000 Daily Janakantha বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার ॥ বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) দিনব্যাপী তাহের মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির সড়কদ্বীপে অক্টোবর ...

বর্ণাঢ্য আয়োজেন ঢাবিতে তাহের মেলা অনুষ্ঠিত

 

জাতীয়

Daily Janakantha

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার ॥ বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) দিনব্যাপী তাহের মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির সড়কদ্বীপে অক্টোবর বিপ্লবের ১০০তম বার্ষিকী, সিপাহী জনতার অভ্যুত্থানের ৪২তম বার্ষিকী এবং কর্ণেল আবু তাহেরের ৭৯তম জন্মদিন উপলক্ষে সারাদিনের এ মেলার উদ্বোধন করেন কর্ণেল তাহেরের সহধর্মীণী বেগম লুৎফা তাহের। দিনব্যাপী এই মেলার আয়োজন করে কর্র্ণেল তাহের সংসদ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কর্ণেল তাহের সংসদের সভাপতি অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক বীনা শিকদার, সদস্য রোকনুজ্জামান, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং কর্ণেল তাহের সংসদের সাবেক সভাপতি হায়দার আকবর খান রন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে ‘অক্টোবর বিপ্লব ও ৭ নভেম্বর অভ্যুত্থান শীর্ষক’ প্রবন্ধ পাঠ করেন অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন। লিখিত প্রবন্ধে তিনি বলেন, রাশিয়ায় জুলিয়ান ক্যালেন্ডারে ১৯১৭ সালের ২৫ অক্টোবর সূচিত হয়েছিল বলে পৃথিবীর সফল সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবটি অক্টোবর বিপ্লব হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। নতুন গ্রেগোরিয়ান বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী তারিখটি পড়ে ১৯১৭ সালের ৭ নভেম্বর। তাই নভেম্বর বিপ্লব হিসেবেও পরিচিত। কাকতালীয়ভাবে রাশিয়ার সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব এবং বাংলাদেশে সৈনিক জনতার অভ্যুত্থান ৭ নভেম্বর তারিখে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের দুর্ভাগ্য মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে পাকিস্তানী রাষ্ট্রযন্ত্রের উচ্ছেদ ঘটিয়ে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র পত্তন করা যায়নি। তারই ফলে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তি রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে সংগঠিত হয়, ষড়যন্ত্র করে। সে ষড়যন্ত্রের সাথে যুক্ত হয় খন্দকার মোশতাকের নেতৃত্বে আওয়ামীলীগের মধ্যকার ষড়যন্ত্রকারীরা। এদের হাতেই জীবন দিতে হয় সপরিবারে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতাকে। রাষ্ট্রক্ষমতা নিরঙ্কুশভাবে দখল করে নেয় মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তি। জাসদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে ও সহযোগিতায় কর্ণেল তাহেরের নেতৃত্বে ৭ই নভেম্বরের অভ্যুত্থান ছিল তার বিরুদ্ধে এক মরিয়া প্রতিরোধ। তা সফল না হওয়ায় মুক্তিযুদ্ধ-বিরোধী স্বৈর শাসকদের দীর্ঘমেয়াদী শাসনে নিপতিত হয় বাংলাদেশ।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সমাজ বিপ্লব নিয়ে যারা স্বপ্ন দেখেন তারা রুশ বিপ্লবের মডেলে ৭ নভেম্বর অভ্যুত্থান থেকে শিক্ষা নিতে পারেন। অক্টোবর সমাপতান্ত্রিক বিপ্লবের শতবর্ষ পূর্তিতে আমরা এই আস্থা ও বিশ্বাস স্থাপন করি যে, অক্টোবর বিপ্লবকে প্রেক্ষাপটে রেখে বাংলাদেশে ৭ নভেম্বর অভ্যুত্থান থেকে বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মও শিক্ষা নেবে। এর ইতিবাচক উপাদান ও ভুলগুলো বিবেচনায় নিয়ে বর্তমান বাস্তবতায় তাদের বিপ্লবী করণীয় নিজেরাই নির্ধারণ করবে।

তাহের মেলায় দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালিত হয়। নানা শ্রেনী-পেশার মানুষ মেলায় ভিড় জমায়। মেলায় বসা স্টলগুলোতে কর্ণেল তাহেরের আলোকচিত্র, তাহেরের ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম, ইউনিফর্ম প্রভৃতি প্রদর্শিত হয়।


The Daily Janakantha website developed by
BIKIRAN.COM
]]>
অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধার পাশে দাঁড়ালেন এমপি মুক্তা http://www.dailyjanakantha.com/details/article/308337/অসুস্থ-মুক্তিযোদ্ধার-পাশে-দাঁড়ালেন-এমপি-মুক্তা http://www.dailyjanakantha.com/details/article/308337/অসুস্থ-মুক্তিযোদ্ধার-পাশে-দাঁড়ালেন-এমপি-মুক্তা 2017-11-17T08:17:45+0000 Daily Janakantha স্টাফ রিপোর্টার ॥ দৈনিক জনকণ্ঠের সংবাদ প্রকাশের পর রাস্তায় পরে থাকা অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধা আবুল খায়েরের (৬৭) পাশে দাঁড়িয়েছেন সংরক্ষিত আসনের ...

অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধার পাশে দাঁড়ালেন এমপি মুক্তা

 

জাতীয়

Daily Janakantha

স্টাফ রিপোর্টার ॥ দৈনিক জনকণ্ঠের সংবাদ প্রকাশের পর রাস্তায় পরে থাকা অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধা আবুল খায়েরের (৬৭) পাশে দাঁড়িয়েছেন সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট নুরজাহান বেগম মুক্তা। দেশের জন্য লড়াই করা বীর মুক্তিযোদ্ধার চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়ে নিজেই হাসপাতলে ভর্তি করেন। শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ভর্তি এই মুক্তিযোদ্ধার সার্বক্ষণিক খোঁজ খবরও রাখছেন। মুক্তিযোদ্ধা আবুল খায়েরের চিকিৎসায় বৃত্তবানদের এগিয়ে আসারও আহ্বান জানান তিনি।

গত ১৫ নবেম্বর দৈনিক জনকণ্ঠে ‘অসুস্থ্য মুক্তিযোদ্ধা আবুল খায়েরকে রাস্তায় ফেলে গেছে স্বজনরা’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। জনকণ্ঠের খবরে বলা হয়, অসহায় বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল খায়েরকে কে বা কারা সাভারে রাস্তায় ফেলে গেছে। স্থানীয় কয়েক যুবক তাকে সাভারের চাপাইনের পক্ষাঘাতগ্রস্তদের পুনর্বাসন কেন্দ্রে (সিআরপিতে) ভর্তি করেন। কিন্তু সিআরপি’র চিকিৎসকরা বলছেন, তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন। তার এ রোগের জন্য সিআরপিতে নয়, ঢাকায় চিকিৎসা দরকার। কিন্তু কে নেবে তার দায়িত্ব? কে তাকে ঢাকায় নিয়ে চিকিৎসা করাবেন?

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, এক কালের এলাকার মেধাবী ছাত্র আবুল খায়ের দেশ মাতৃকার টানে স্বাধীনতা যুদ্ধে যোগ দিয়েছিলেন। শত্রুর মোকাবেলায় ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন গেরিলা যুদ্ধে। যুদ্ধকালে সিলেট ও চাঁদপুরের শাহরাস্তি থানা এলাকায় ছিলেন যোদ্ধাদের কমান্ডার। ২নং সেক্টরে অধিনায়ক খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে বীরদর্পে শত্রুর মোকাবেলা করেছেন।

শুক্রবার রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে অবস্থিত শহীদ সোহরাওয়ারর্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধা আবুল খায়েরকে দেখতে যান সংসদ সদস্য নুরজাহান বেগম মুক্তা। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমার বাবা মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। ওনারা জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছেন। আজ ওনাদের অসুস্থতায় আমরা বসে থাকতে পানি না। ওনাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব। সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুজাফর মো. মাঈনুদ্দিনের কন্য মুক্তা বলেন, ফেসবুকে একটা স্ট্যাটাসের মাধ্যমে বিষয়টি নজরে আসলে ওনাকে দ্রুত চিকিতসা সেবা নিশ্চিতের চেস্টা করি। পরে হৃদরোগে আক্তান্ত আবুল খায়েরের হাতে ৫০ হাজার টাকা তুলে দেন তিনি। একই সঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিতের জন্য অনুরোধ করেন।



The Daily Janakantha website developed by
BIKIRAN.COM
]]>
সেনা মোতায়েন ছাড়া নির্বাচনে গেলে বিপদ হবে ॥ খসরু http://www.dailyjanakantha.com/details/article/308336/সেনা-মোতায়েন-ছাড়া-নির্বাচনে-গেলে-বিপদ-হবে http://www.dailyjanakantha.com/details/article/308336/সেনা-মোতায়েন-ছাড়া-নির্বাচনে-গেলে-বিপদ-হবে 2017-11-17T08:09:45+0000 Daily Janakantha স্টাফ রিপোর্টার ॥ সেনাবাহিনী মোতায়েন ছাড়া একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গেলে বিপদ হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির ...

সেনা মোতায়েন ছাড়া নির্বাচনে গেলে বিপদ হবে ॥ খসরু

 

জাতীয়

Daily Janakantha

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সেনাবাহিনী মোতায়েন ছাড়া একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গেলে বিপদ হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৫২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ‘জাতীয় নাগরিক সংসদ’ নামক একটি সংগঠন আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

নির্বাচনকালীন সময়ে সেনাবাহিনীকে নির্বাহী ক্ষমতায় দিয়ে মাঠে নামানোর দাবি জানিয়ে আমির খসরু বলেন, যদি সেনাবাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করা না হয়, তাহলে সুষ্ঠু নিবাচন হবে না। । সেই নির্বাচন দেশের মানুষ গ্রহণ করবে না। এবারের নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, এর সঙ্গে রাষ্ট্রীয় বেশকিছু সংগঠন ও সংস্থাও জড়িত রয়েছে। ক্ষমতাসীন সরকার নির্বাচনের দিকে যেতে চায় না, তারা ক্ষমতা দখলের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি খালেদা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও ক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুন রায় চৌধুরী, আবু নাসের মুহাম্মদ রহমত উল্লাহ প্রমুখ।


The Daily Janakantha website developed by
BIKIRAN.COM
]]>
ইউপি সদস্যের কাছে পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে নির্যাতনের স্বীকার! http://www.dailyjanakantha.com/details/article/308335/ইউপি-সদস্যের-কাছে-পাওনা-টাকা-চাইতে-গিয়ে http://www.dailyjanakantha.com/details/article/308335/ইউপি-সদস্যের-কাছে-পাওনা-টাকা-চাইতে-গিয়ে 2017-11-17T08:03:53+0000 Daily Janakantha নিজস্ব সংবাদদাতা, আমতলী (বরগুনা) ॥ ইউপি সদস্য মাইনুল ইসলাম চৌকিদারের কাছে পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে নির্যাতনের স্বীকার হয়েছে লোকমান ফকির ...

ইউপি সদস্যের কাছে পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে নির্যাতনের স্বীকার!

 

দেশের খবর

Daily Janakantha

নিজস্ব সংবাদদাতা, আমতলী (বরগুনা) ॥ ইউপি সদস্য মাইনুল ইসলাম চৌকিদারের কাছে পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে নির্যাতনের স্বীকার হয়েছে লোকমান ফকির (৩২) নামের এক ওয়াকসপ ব্যবসায়ী। মারধর করে তার কাছ থেকে জোড়পূর্বক ইউপি সদস্য সাদা কাগজে স্বাক্ষর রেখেছে বলে অভিযোগ করেছে ব্যবসায়ী। গুরুতর আহতাবস্থায় তাকে আমতলী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনা ঘটেছে বৃহস্পতিবার রাতে তালতলীর হেলেঞ্চাবাড়িয়া গ্রামে।

স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, উপজেলার হেলেঞ্চাবাড়িয়া গ্রামের ওয়াকসপ ব্যবসায়ী মোঃ লোকমান ফকিরের নিকট থেকে কড়ইবাড়িয়া ইউপি সদস্য মাইনুল ইসলাম চৌকিদার ব্যবসার কথা বলে ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে দেড় লক্ষ টাকা ধার নেয়। ওই টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার নির্ধারিত তারিখে টাকা চাইতে গেলে এক সপ্তাহ পরে দেওয়ার কথা বলে তাকে পাঠিয়ে দেয়। এরপর থেকে গত দেড় বছর ধরে টাকা ফেরত না দিয়ে আজ-কাল বলে ঘুরিয়ে আসছে। বৃহস্পতিবার রাতে লোকমান ফকির টাকা চাইতে ইউপি সদস্য মাইনুলের বাড়ীতে যায়। এ সময় মাইনুল ইসলাম, তার ছোট ভাই জাফর চৌকিদার ও দুই সহযোগী তাকে বেঁধে সাদা কাগজে স্বাক্ষর দিতে বলে। সাদা কাগজে স্বাক্ষর দিতে রাজি না হওয়ায় তাকে বেধরক মারধর করেছে। পরে জোড় করে সাদা কাগজে স্বাক্ষর রেখে দেয়। মারধরে তার হাত, পা, পিঠে গুরুতর জখম হয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে আমতলী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে।

আমতলী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার গৌরাঙ্গ হাজরা জানান লোকমানের হাত, পা ও পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহৃ রয়েছে।

আহত লোকমান ফকির বলেন আমার কাছ থেকে ইউপি সদস্য মাইনুল ইসলাম চৌকিদার ব্যবসার কথা বলে দেড় লক্ষ টাকা ধার নেয়। ওই টাকা না দিয়ে টালবাহানা করতে থাকে। বৃহস্পতিবার রাতে আমি টাকা চাইতে ইউপি সদস্যের বাড়ীতে যাই। এ সময় ইউপি সদস্য মাইনুল ইসলাম, তার ভাই জাফর চৌকিদার ও তাদের দু’জন সহযোগী আমাকে বেঁধে সাদা কাগজে স্বাক্ষর চায়। আমি সাদা কাগজে স্বাক্ষর দিতে রাজি না হওয়ায় আমাকে বেধরক মারধর করে জোড়পূর্বক সাদা কাগজে স্বাক্ষর রেখে দিয়েছে।

ইউপি সদস্য মাইনুল ইসলাম চৌকিদার মুঠোফোনে মারধর করার কথা স্বীকার করে বলেন আমার কাছে কোন টাকা পাবে না। তবে কেন মারধর করে সাদা কাগজে স্বাক্ষর রেখেছেন এমন প্রশ্নের কোন জবাব দেয়নি।

তালতলী থানার ওসি কমলেশ চন্দ্র হালদার বলেন বিষয়টি আমার জানা নেই। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।


The Daily Janakantha website developed by
BIKIRAN.COM
]]>
মাগুরায় ১৩০ বোতল ফেন্সিডিলসহ একজন গ্রেফতার http://www.dailyjanakantha.com/details/article/308334/মাগুরায়-১৩০-বোতল-ফেন্সিডিলসহ-একজন-গ্রেফতার http://www.dailyjanakantha.com/details/article/308334/মাগুরায়-১৩০-বোতল-ফেন্সিডিলসহ-একজন-গ্রেফতার 2017-11-17T08:00:12+0000 Daily Janakantha নিজস্ব সংবাদদাতা, মাগুরা ॥ আজ শুক্রবার বিকালে মাগুরায় ১৩০ বোতল ফেন্সিডিলসহ একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ । মাগুরা- ঝিনাইদহ সড়কের মাগুরা ...

মাগুরায় ১৩০ বোতল ফেন্সিডিলসহ একজন গ্রেফতার

 

দেশের খবর

Daily Janakantha

নিজস্ব সংবাদদাতা, মাগুরা ॥ আজ শুক্রবার বিকালে মাগুরায় ১৩০ বোতল ফেন্সিডিলসহ একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ । মাগুরা- ঝিনাইদহ সড়কের মাগুরা সদর উপজেলার হাজরাপুর ইউপির রাউতড়া স্থানে একটি পিক-আপ তল্লাশী করে তার মধ্য থেকে ১৩০ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার এবং চাঁদ মোল্লা (২৫)নামে এক মাদকব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে । গ্রেফতারকৃত চাঁদ মোল্লা মাগুরা সদর উপজেলার রাউতড়া গ্রামের ধলা মোল্লার পুত্র।

পুলিশ সুত্রে জানাযায় , মাগুরা সদর থানা পুলিশ মাগুরা ঝিনাইদহ সড়কের মাগুরা সদর উপজেলার রাউতড়া স্থানে একটি পিক-আপ তল্লাশী করে তার মধ্য থেকে ১৩০ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার এবং চাঁদ মোল্লা নামে এক মাদকব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে । এব্যাপারে মাগুরা থানায় মামলা হয়েছে ।


The Daily Janakantha website developed by
BIKIRAN.COM
]]>
শ্রীপুরে পুকুর থেকে শ্রমিকের লাশ উদ্ধার http://www.dailyjanakantha.com/details/article/308333/শ্রীপুরে-পুকুর-থেকে-শ্রমিকের-লাশ-উদ্ধার http://www.dailyjanakantha.com/details/article/308333/শ্রীপুরে-পুকুর-থেকে-শ্রমিকের-লাশ-উদ্ধার 2017-11-17T07:57:50+0000 Daily Janakantha স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর ॥ গাজীপুরের শ্রীপুরে শুক্রবার পুকুর থেকে এক পোষাক শ্রমিকের লাশ পুলিশ উদ্ধার করেছে। নিহতের নাম নয়ন মিয়া ...

শ্রীপুরে পুকুর থেকে শ্রমিকের লাশ উদ্ধার

 

দেশের খবর

Daily Janakantha

স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর ॥ গাজীপুরের শ্রীপুরে শুক্রবার পুকুর থেকে এক পোষাক শ্রমিকের লাশ পুলিশ উদ্ধার করেছে। নিহতের নাম নয়ন মিয়া (৩৫)। সে নেত্রকোনা জেলার গড়দি গ্রমের মৃত কাালা চানের ছেলে। নয়ন স্থানীয় হ্যামস্ পোশাক কারখানায় নির্মান শ্রমিকের কাজ করতো।

পুলিশ ও এলাকাবাসি জানায়, শুক্রবার সকালে শ্রীপুর উপজেলার দক্ষিন ভাংনাহাটি গ্রামের নূরুজ্জামান মাষ্টারের পুকুরে একটি লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয় লোকজন পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে । এসময় নিহতের আত্মীয় পোশাক শ্রমিক জেসমিন এসে নয়ন মিয়ার লাশ সনাক্ত করে।জেসমিন জানায় নয়ন হ্যামস্ পোশাক কারখানার ভিতরে থেকে নির্মান শমিকের কাজ করতো। গত বুধবার রাত সাড়ে আটটার দিকে নয়নের সাথে মোবাইলে তার কথা হয়। এর পরথেকে আর যোগাযোগ হয়নি। এলাকাবাসির ধারনা নয়নকে আজ্ঞাত খুনিরা হত্যা করে লাশ পুকুরে ফেলে রাখে। শ্রীপুর থানার উপপুলিশ পরিদর্শক আবুল হাসান জানান,লাশের শরীরে কোন আঘাতের চিহ্ননেই। চোখ,মুখ,হাতে জলজ প্রানিদের খুবলে খাওয়ার চিহ্ন রয়েছে। ময়না তদন্তের পর মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় শ্রীপুর থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।


The Daily Janakantha website developed by
BIKIRAN.COM
]]>
বরিশালে মাকে মেয়ে ধরা প্রচার করে গণধোলাই http://www.dailyjanakantha.com/details/article/308332/বরিশালে-মাকে-মেয়ে-ধরা-প্রচার-করে-গণধোলাই http://www.dailyjanakantha.com/details/article/308332/বরিশালে-মাকে-মেয়ে-ধরা-প্রচার-করে-গণধোলাই 2017-11-17T07:51:44+0000 Daily Janakantha স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল ॥ দাম্পত্য কলহের জেরধরে প্রবাসীর স্ত্রীর কাছ থেকে তার দুইবছরের একমাত্র কন্যা সন্তানকে ছিনিয়ে এনেছিলো শ্বাশুড়ি। শুক্রবার ...

বরিশালে মাকে মেয়ে ধরা প্রচার করে গণধোলাই

 

দেশের খবর

Daily Janakantha

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল ॥ দাম্পত্য কলহের জেরধরে প্রবাসীর স্ত্রীর কাছ থেকে তার দুইবছরের একমাত্র কন্যা সন্তানকে ছিনিয়ে এনেছিলো শ্বাশুড়ি। শুক্রবার সকালে মেয়েকে নিতে এসে গণধোলাইর শিকার হয়েছেন মাসহ চারজন। মসজিদের মাইকে মেয়ে ধরা প্রচার করে গ্রামবাসীকে জড়োকরে এ হামলা চালানো হয়।

হামলার সময় প্রবাসীর স্ত্রীর চুল কেটে দিয়েছে তার শ্বাশুড়ি সালেহা বেগম। পরবর্তীতে গণধোলাইর শিকার ওই চারজনকে থানা পুলিশের কাছে সোর্পদ করা হয়। বর্তমানে পুলিশ পাহারায় আহত চারজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ঘটনাটি জেলার গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত মেদাকুল গ্রামের।

জানা গেছে, ওই গ্রামের মৃত সাদেক মাতুব্বরের পুত্র কুয়েত প্রবাসী টিটন মাতুব্বরের সাথে তিনবছর পূর্বে পাশ্ববর্তী কালকিনি উপজেলার চরফতে গ্রামের কুয়েত প্রবাসী চুন্নু বেপারীর কন্যা হাসি বেগমের সাথে সামাজিকভাবে বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে তাহিরা নামের দুইবছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।

হাসি বেগম জানান, বিয়ের পর তার স্বামী কর্মস্থল কুয়েতে যাওয়ার পর তার (স্বামী) পরামর্শেই তিনি তার বাবার বাড়িতে বসবাস করে আসছেন। অতিসম্প্রতি তাদের দাম্পত্য কলহ দেখা দেয়ায় গত পাঁচদিন পূর্বে তার শাশুড়ি সালেহা বেগম কৌশলে শিশু তাহিরাকে নিয়ে পালিয়ে আসে। হাসি বেগম আরও জানান, শুক্রবার সকালে তিনি তার ফুফাতো ভাই ইসমাইল হোসেনসহ তাদের নিকট আত্মীয় তানভির আহমেদ, সাকিল হোসেন ও সোহেলকে নিয়ে একটি মাহেন্দ্রাযোগে স্বামীর বাড়িতে এসে মেয়ে তাহিরাকে দেখতে চান। এসময় বিষয়টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে বাড়ির পাশ্ববর্তী মসজিদের মাইকে মেয়ে ধরা প্রচার করে গ্রামবাসীকে জড়ো করে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলায় তিনি (হাসি বেগম) সহ তার ফুফাতো ভাই ইসমাইল হোসেন, তানভির আহমেদ, সাকিল হোসেন ও সোহেল গুরুতর আহত হন। একপর্যায়ে তাদের আটক করে গৌরনদী থানা পুলিশকে খবর দেয়া হয়। প্রবাসীর স্ত্রী হাসি বেগম বলেন, এ সুযোগে আমার শ্বাশুড়ি সালেহা বেগম জোরকরে আমার মাথার চুল কেটে দেয়।

হামলায় আহত ইসমাইল হোসেন বলেন, হামলাকারীরা আমাদের চারজনের সাথে থাকা চারটি দামি মোবাইল ফোন, ব্যবহৃত স্বর্ণালংকার ও নগদ ১৫ হাজার টাকা লুট করে নিয়েছে। এছাড়াও আমাদের বহনকারী মাহেন্দ্রটি ব্যাপক ভাংচুর করেছে।

গৌরনদী মডেল থানার এএসআই মোঃ মিরাজ হোসেন জানান, খবর পেয়ে তিনি সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে আটককৃত হাসি বেগমসহ ইসমাইল হোসেন, তানভির আহমেদ, সাকিল হোসেন ও সোহেলকে উদ্ধার করে উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। থানার বিশ্বস্ত একটি সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি ধামাচাঁপা দেয়ার জন্য স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের কতিপয় ব্যক্তি মরিয়া হয়ে উঠেছেন। এ রির্পোট লেখা পর্যন্ত (শুক্রবার সন্ধ্যা পাঁচটা) হামলায় আহত চারজন পুলিশ পাহারায় গৌরনদী উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।


The Daily Janakantha website developed by
BIKIRAN.COM
]]>
বরিশালে তিন নারীকে পিটিয়ে আহত http://www.dailyjanakantha.com/details/article/308331/বরিশালে-তিন-নারীকে-পিটিয়ে-আহত http://www.dailyjanakantha.com/details/article/308331/বরিশালে-তিন-নারীকে-পিটিয়ে-আহত 2017-11-17T07:49:16+0000 Daily Janakantha স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল ॥ সদ্য আওয়ামীলীগে যোগদানকারী এক আওয়ামীলীগ নেতার সহযোগী ক্যাডাররা তিন নারীকে পিটিয়ে আহত করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া ...

বরিশালে তিন নারীকে পিটিয়ে আহত

 

দেশের খবর

Daily Janakantha

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল ॥ সদ্য আওয়ামীলীগে যোগদানকারী এক আওয়ামীলীগ নেতার সহযোগী ক্যাডাররা তিন নারীকে পিটিয়ে আহত করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহতের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার রাতে জেলার গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া গ্রামে।

ওই গ্রামের মৃত হাতেম হাওলাদারের পুত্র জলিল হাওলাদার জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সাবেক সর্বহারা দলের সদস্য নান্নু হাওলাদারের নেতৃত্বে ভীমেরপাড় গ্রামের শাহজাহান খানের সন্ত্রাসী পুত্র সদ্য আওয়ামীলীগে যোগদানকারী আলিম খান, মাহিলাড়া গ্রামের জামাল সরদার, রাসেল সরদার, পিয়াল সরদার, আকাশ সরদার, সালাম সরদারসহ ১০/১২ জনের একটি সন্ত্রাসী দল এলাকায় প্রভাববিস্তারের জন্য মাহিলাড়া গ্রামের সেলিম হাওলাদারের স্ত্রী দুলুফা বেগম, আরিফ হাওলাদারের স্ত্রী আইরিন বেগম ও জলিল হাওলাদারের স্ত্রী ইয়াসমিন বেগমকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।


The Daily Janakantha website developed by
BIKIRAN.COM
]]>
কথিত পীর স্ত্রীকে মারধর করে সন্তানদের রেখে বাড়িছাড়া করলেন http://www.dailyjanakantha.com/details/article/308330/কথিত-পীর-স্ত্রীকে-মারধর-করে-সন্তানদের-রেখে http://www.dailyjanakantha.com/details/article/308330/কথিত-পীর-স্ত্রীকে-মারধর-করে-সন্তানদের-রেখে 2017-11-17T07:43:34+0000 Daily Janakantha নিজস্ব সংবাদদাতা, কলাপাড়া ॥ এবার চার নম্বর স্ত্রী চার সন্তানের জননী আছমা বেগমকে (৩০) বেধড়ক লাঠিপেটা করেছে পাষন্ড স্বামী মোঃ ...

কথিত পীর স্ত্রীকে মারধর করে সন্তানদের রেখে বাড়িছাড়া করলেন

 

দেশের খবর

Daily Janakantha

নিজস্ব সংবাদদাতা, কলাপাড়া ॥ এবার চার নম্বর স্ত্রী চার সন্তানের জননী আছমা বেগমকে (৩০) বেধড়ক লাঠিপেটা করেছে পাষন্ড স্বামী মোঃ আলতাপ হোসেন ওরফে মিন্টু হুজুর। বাড়ি থেকে মারতে মারতে পড়শি শহীদুলের বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখান থেকে ফের চুলের মুঠি ধরে ধানক্ষেতে ফেলে পেটানো হয়। কিল-ঘুষি-লাথির আঘাত ছিল নির্মম। এমনকি ঘরে এনে গলা টিপে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়। এ পর্যায়ে অর্ধচেতন অবস্থায় পড়ে থাকে। এ

কদিন পরে অসহায় আছমাকে তার দরিদ্র বাবা স্বজনদের সহায়তায় উদ্ধার করে কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করেন। এসময় স্বামী আলতাপ চার সন্তানকেও সঙ্গে নিতে দেয়নি। কাকুতি-মিনতি করেছিল ছোট্ট একমাত্র মেয়ে চার বছরের ইনাকে দেয়ার তাও দেয়া হয়নি। এখন শ্রমজীবী বাবা ইসমাইল হোসেনের ঘাড়ে চিকিৎসাসহ সকল বোঝা চেপে বসেছে। আর অসহায় আছমা হাসপাতালের শয্যায় চোখের পানি ঝরাচ্ছে। বালিয়াতলী ইউনিয়নের দীঘর বালিয়ালী গ্রামের আলতাপ হোসেনের সঙ্গে চাকামইয়ার আছমার বিয়ে হয় অন্তত এক যুগ আগে। আছমা আরও জানান, এর আগেও আলতাপ হেসেন ওরফে মিন্টু হুজুর তিনটি বিয়ে করেছে। আছমা ছিল তার চতুর্থ স্ত্রী। একেক করে সবাইকে সন্তানসহ মারধর করে বাড়ি থেকে সংসার ছাড়া করেছে। এরপরও পঞ্চম স্ত্রী মরিয়মকেও এক ছেলেসহ মারধর করে তাড়িয়ে দেয়। এটি নাকি আলতাপ হোসেনের কৌশল। তিনি কোন স্ত্রীকে তালাকা দেন না। স্বেচ্ছায় স্ত্রীরা তালাক দিয়ে চলে যায়। অথবা বাড়িছাড়া। মোট নয় সন্তান আলতাপ হোসেনের।

স্ত্রীর ভাষায়, ‘তার স্বামী পীর সাহেব। হাজার হাজার মুরিদান বানায়। যার মধ্যে মহিলাও রয়েছে। অনৈতিক কাজের অভিযোগ করেন আছমা। এসব কাজে বাধা দেয়া এবং যৌতুক বাবদ নগদ টাকা, গরু, জিনিস (স্বর্ণালঙ্কার) না দেয়ায় তার ওপর এমন নির্দয় নির্যাতন বহুবার হয়েছে। বাবা গরিব বিধায় যাওয়ার কোন স্থান নেই আছমার তাই আলতাপ হোসেনর সংসার জীবন চতুর্থ স্ত্রী হিসেবে দীর্ঘসময় হয়েছে। তাও ছাড়ার শঙ্কায় পড়েছে। জানান আছমা, বিয়ের এক মাস পর থেকে ফি সপ্তাহে মারধর করত। বহুবার চেয়ারম্যানের কাছে সালিশ বৈঠক হয়েছে। ফের যেই-সেই। আছমা জানান, একবার মারধরে ডান হাতের কনুইয়ের চামড়া উঠে গেছে। পায়ের পাতা ভেঙ্গে দেয়া হয়। মাথা ফাটিয়ে দেয়া হয়েছে। তারপরও সন্তানের মুখের দিকে চেয়ে সব মেনে নিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ রক্ষা আর হয়নি। তার স্বামী এলাকায় নিজেকে হুজুর হিসেবে জাহির করেন। পানি পড়া, তেল পড়া দেন। মুরিদ বানান।

দেশের বিভিন্ন স্থান, বিশেষ করে ঢাকা-চট্টগ্রাম থেকে বহু লোক আসে। সমস্ত রোগের ফিকিড় দেন। চিকিৎসা করেন। আছমার লিখিত অভিযোগ, তার স্বামী বেদাইতি কায়দায় ধর্মকে বিক্রি করে নিজেকে পীর সাহেব সেজে মহিলা-পুরুষকে মুরিদ করেন। মহিলা মুরিদগণ তাকে রাতে আপত্তিকর কায়দায় খেদমত করে। এসব কাজে বাধা দেয়ায় শারীরিক ও মানষিক নির্যাতন চালানো হয় আছমার ওপর। সবশেষ ১৪ নবেম্বর বেলা ১১টায় বেধড়ক মারধর করে বাড়িছাড়া করা হয়। শরীরের ক্ষত নিয়ে হাসপাতালে পড়ে আছে। এ ঘটনায় আছমা বেগম কলাপাড়া থানায় বৃহস্পতিবার রাতে একটি লিখিত এজাহার দাখিল করেছেন। তিনি তার স্বামীর সকল কর্মকান্ডকে রহস্যময় উল্লেখ করেছেন। অভিযুক্ত আলতাপ হোসেন বলেন, ‘আমার বদ নসীব। রাগের মাথায় একটু মেরেছি, এটি সঠিক। কিন্তু যা বলা হয়েছে তা সম্পুর্ণ ঠিক নয়। চতুর্থ স্ত্রী আছমা বেগম এমন কিছু কাজ করেছে যা এক কথায় অকারেন্স। বাকি চার স্ত্রীগণও নিজেদের ভুলের কারণে চলে গেছেন। ভুলের সংশোধন তারা করতে পারেনি। আমি কাউকে অযথা হয়রাণি করিনি।’ এটি তার দূর্ভাগ্য বলেছেন তিনি। ই

উপি চেয়ারম্যান এবিএম হুমায়ুন কবির জানান, একবার এই স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগ পেয়ে তিনি ডেকে শাসিয়ে দিয়েছেন। কলাপাড়া থানার ওসি মোঃ আলাউদ্দিন জানান, তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এছাড়া বাদিনীও সময় চেয়ে ফয়সালার কথা বলেছে।


]]>