Daily Janakantha http://www.dailyjanakantha.com Read our Online news, within moment. en-us 2018-04-22T08:02:28+0000 গরমে হাপিত্যেশ? ডাবের পানি খান আর তফাত দেখুন http://www.dailyjanakantha.com/details/article/342401/গরমে-হাপিত্যেশ-ডাবের-পানি-খান-আর-তফাত http://www.dailyjanakantha.com/details/article/342401/গরমে-হাপিত্যেশ-ডাবের-পানি-খান-আর-তফাত 2018-04-23T12:44:23+0000 Daily Janakantha গরমে প্রাণ জুড়োতে ডাবের পানির জুড়ি মেলা ভার। ডাব কিন্তু স্বাস্থ্যের জন্যও বেশ উপকারী। ডিহাইড্রেশনের মোকাবিলা থেকে শুরু করে শরীরের ...

গরমে হাপিত্যেশ? ডাবের পানি খান আর তফাত দেখুন

 

যাপিত জীবন

Daily Janakantha

গরমে প্রাণ জুড়োতে ডাবের পানির জুড়ি মেলা ভার। ডাব কিন্তু স্বাস্থ্যের জন্যও বেশ উপকারী। ডিহাইড্রেশনের মোকাবিলা থেকে শুরু করে শরীরের ইমিউনিটি গড়ে তোলা, নানা গুণ রয়েছে ডাবের পানিতে। তবে দেখে নেয়া যাক ডাবের পানিতে কি কি গুন বা উপকারিতা রয়েছে।


ডিহাইড্রেশন কমায়

গরমে শরীর খুব তাড়াতাড়ি পানি টেনে নেয়। ফলে দেখা দেয় ডিহাইড্রেশনের মতো সমস্যা। ডাবের পানিতে রয়েছে প্রচুর পুষ্টিগুণ যা শরীরে জলের ঘাটতি পূরণ করে।


রক্তচাপ কমায়

আপনার কি রক্তচাপ খুব বেশি? তাহলে নিয়মিত ডাবের পানি খান। এতে রয়েছে উচ্চমাত্রায় ভিটামিন সি, ম্যাগনেসিয়াম এবং পটাসিয়াম যা রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে।


হজমশক্তি বাড়ায়

ডাবের পানিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার যা আমাদের পাচনতন্ত্রকে সুস্থ রাখে। হজমশক্তি অনেক বাড়িয়ে তোলে। নিয়মিত ডাবের পানি খেলে এ্যাসিডিটির হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।


ডায়াবেটিস

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য খুবই উপকারী ডাবের পানি। নিয়মিত ডাবের জল খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে।


কোষ্টকাঠিন্য দূর

ডাবের পানিতে প্রচুর পরিমাণ ফাইবার থাকায় কোষ্ঠকাঠিন্যের হাত থেকে রেহাই পাওয়া যায়। যাঁরা নিয়মিত শরীরচর্চা করেন তাঁদের জন্যও ডাবের জল খুব উপকারী।


মূত্রাশয়ের রোগ নিরাময়ে

ডাবের পানিতে রয়েছে ডাই-ইউরেটিক উপাদান যা ইউরিনারি ট্র্যাক ইনফেকশনের জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়াকে নষ্ট করে। শরীরে রোগ প্রতিরোধ শক্তি গড়ে তোলে।


ত্বকের যত্ন

এ্যাকনের সমস্যা থাকলে ডাবের পানিতে তুলো ভিজিয়ে তা ত্বকের ওপর লাগান। তৈলাক্ত বা শুষ্ক যে কোনও ত্বকেই ব্যবহার করতে পারেন এই পানি। ডাবের পানি খেলে মুখের ত্বক আর্দ্র হয়। অনেক তরতাজা দেখায়।


The Daily Janakantha website developed by
BIKIRAN.COM
]]>
নান্দনিক সাজে গয়না http://www.dailyjanakantha.com/details/article/342399/নান্দনিক-সাজে-গয়না http://www.dailyjanakantha.com/details/article/342399/নান্দনিক-সাজে-গয়না 2018-04-23T12:42:08+0000 Daily Janakantha গয়নার ক্ষেত্রে নকশা ও উপকরণের বৈচিত্র্যতা সাজগোজে যোগ করেছে নতুন মাত্রা। বিশেষ করে মেটালের গয়নার চাহিদা তুলনামূলক বেশি। দামি ধাতুর ...

নান্দনিক সাজে গয়না

 

যাপিত জীবন

Daily Janakantha

গয়নার ক্ষেত্রে নকশা ও উপকরণের বৈচিত্র্যতা সাজগোজে যোগ করেছে নতুন মাত্রা। বিশেষ করে মেটালের গয়নার চাহিদা তুলনামূলক বেশি। দামি ধাতুর বদলে ব্যবহার করা হচ্ছে দস্তা, পিতলের মতো সুলভ ধাতু। সঙ্গে থাকছে নানা ধরনের পাথর, পুঁতি, কড়ি, কাঠ, প্লাস্টিক, কাপড় এমনকি সুতাও। সাবেকি নকশার পাশাপাশি থাকছে একেবারে ভিন্নধর্মী নতুন ডিজাইন। তাই সহজলভ্য এসব গয়না সবাই পছন্দমতো কিনছে আর সাজিয়ে তুলছে নিজেকে।

সাজের অনুষঙ্গ হিসেবে গয়নার ব্যবহার অনেক প্রাচীন। সুপ্রাচীনকাল থেকেই মানুষের মধ্যে গয়নার প্রচলন ছিল। সেসব গয়না ছিল প্রকৃতি থেকে খুঁজে নেয়া নানা রকম উপাদানে তৈরি। দিনবদলের সঙ্গে সঙ্গে বদলেছে গয়নার ধরন। আধুনিক এ সময়ে স্বর্ণ, রুপা ও হীরার গয়নার পাশাপাশি নারীদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে মেটালের বিভিন্ন ডিজাইনের গয়না। এ্যান্টিক ডিজাইনের গয়নায় প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী ধাঁচ ভেঙে এসেছে নতুনত্ব, যা প্রাকৃতিক পরিবেশবান্ধব এবং ফিউশনধর্মী। নারীরা অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে এখন এ ধরনের গয়নাতেই। গয়নাগুলোতে রয়েছে নিত্যনতুন ডিজাইন। দামটাও তুলনামূলক কম। সব মিলিয়ে মেটাল ও এ্যান্টিকের গয়না এখন সাজগোজের একটি বিরাট অনুষঙ্গ।

দেশীয় অনেক ফ্যাশন হাউস এখন তৈরি করছে এসব পরিবেশবান্ধব গয়না। শুধু নতুনত্ব আনলেই তো আর হবে না। নান্দনিকতার সঙ্গে যুক্ত হয় পরিবেশ রক্ষার বিষয়টিও। গয়না তৈরিতে এখন ব্যবহার করা হয় পাখির পালক। এমনকি অব্যবহৃত কাঠ, পুরনো কাপড় দিয়ে তৈরি গয়না, নারিকেলের ছোবড়ার তৈরি আর মাটির গয়না তো বেশ আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে। এসব গয়নায় বাঙালিয়ানা সাজটাও রয়েছে। গয়নাগুলো শাড়ি, টপস কিংবা সালোয়ার-কামিজসহ সব পোশাকের সঙ্গে মানিয়ে যায়। এছাড়া পাশ্চাত্য ডিজাইনের পোশাকের সঙ্গেও বেশ মানায়। অবশ্যই পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে গয়না পরতে হবে। পোশাকের সঙ্গে মানানসই এসব হরেক রকম প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি গয়নার ব্যবহার নারীকে যেমন নান্দনিকতায় সাজায়, তেমনি সাধারণ সাজের মধ্যে দিচ্ছে ভিন্নতা। তাই অফিস বা ক্যাম্পাসে ঘুরে বেড়াতে কিংবা বাড়িতে এসব মেটালের গয়না পরা যায়। শাড়ির সঙ্গে পরতে পারেন হালকা বা ভারি মেটালের গয়না। এসব গয়নায় কখনো পিতলের সোনালি রং, কখনও এ্যান্টিক বা কপার রঙের প্রলেপ দেয়া। গলায় অনেকে বড় ত্রিকোনাকার গোলাকার ঝুলনি দেয়া কোন লকেট পরতে পারেন। লকেট মোটা কোন চেইন বা মালার সঙ্গে লাগানো থাকতে পারে কিংবা গলার সঙ্গে লাগোয়া কোন নেকলেসও দিব্যি মানিয়ে যাবে। শাড়ির সঙ্গে কানে মাকড়ি বা ঝুমকা গলায় কাঠের মাদুলিও পরতে পারেন। গলায় ভারি গয়না পরলে কানে ছোট দুল পরুন। হাতের গড়ন বুঝে পরা যেতে পারে বালা, চুড়ি কিংবা ব্রেসলেট। যাই পরা হোক না কেন, তা হতে পারে কাঠের তৈরি বালা, লেসের চুড়ি কিংবা চিরায়ত বাঙালী নারীর পছন্দ রেশমি চুড়ি।

সালোয়ার-কামিজের সঙ্গে পরতে পারেন কাঠ, বাঁশ, বেত, কাপড়, পুঁতি, স্টোন ও পার্লের তৈরি গয়না। সুতার টারসেলের সঙ্গে কড়ি ও বিডস দিয়ে তৈরি করা হয়েছে ভিন্নধর্মী গয়না। আরও আছে পায়ের মল, বিছা, আংটি ও টিকলিসহ চুলের অনুষঙ্গ। পোশাকের সঙ্গে গয়না যোগ করে বাড়তি সৌন্দর্যের মাত্রা। তাই নগরীর ফুটপাথ থেকে শুরু করে সব দোকানেই গয়নার পসরা বসে।

এছাড়া বেশ কিছু ফ্যাশন হাউসে পাওয়া যাবে এ ধরনের গয়না। নানা ডিজাইনের মেটালের তৈরি গয়না, পার্ল, পুঁতি, মাটির, বিডসের ও নানা উপাদানের কিছু গয়না পাওয়া যাবে নিউমার্কেট, গাউসিয়া মার্কেট, চাঁদনী চক মার্কেট, মৌচাক মার্কেট, কর্ণফুলী মার্কেট, বসুন্ধরা সিটি, মল্লিকা প্লাজা এবং রাপা প্লাজাসহ বিভিন্ন মার্কেটে। স্কুল-কলেজ বা মার্কেটের পাশ ও ফুটপাথসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে কিনতে পারেন আপনার পছন্দের গয়নাটি। আজকাল অনলাইনে সৃজনশীল উদ্যোক্তাদের নিজস্ব নকশা ও উপাদানে তৈরি পছন্দমতো গয়না কিনে নিতে পারেন।



ছবি : মাহমুদুল হক মনি



The Daily Janakantha website developed by
BIKIRAN.COM
]]>
ভেন্ডেওয়েঘেকে থামালেন মাদেনোভিচ http://www.dailyjanakantha.com/details/article/342367/ভেন্ডেওয়েঘেকে-থামালেন-মাদেনোভিচ http://www.dailyjanakantha.com/details/article/342367/ভেন্ডেওয়েঘেকে-থামালেন-মাদেনোভিচ 2018-04-22T11:28:56+0000 Daily Janakantha স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ফেড কাপে দুর্দান্ত খেলছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোকো ভেন্ডেওয়েঘে। টানা ১৩ ম্যাচে জয়ের রেকর্ড গড়েছিলেন তিনি। অবশেষে তাকে ...

ভেন্ডেওয়েঘেকে থামালেন মাদেনোভিচ

 

খেলার খবর

Daily Janakantha

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ফেড কাপে দুর্দান্ত খেলছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোকো ভেন্ডেওয়েঘে। টানা ১৩ ম্যাচে জয়ের রেকর্ড গড়েছিলেন তিনি। অবশেষে তাকে থামালেন ক্রিস্টিনা মাদেনোভিচ। শনিবার ফেড কাপের সেমিফাইনালের প্রথমদিনে ফরাসী তারকা মাদেনোভিচ প্রথম সেট হেরেও ১-৬, ৬-৩ এবং ৬-২ গেমে পরাজিত করেন কোকো ভেন্ডেওয়েঘেকে। তবে কোকো ভেন্ডেওয়েঘে হেরে গেলেও প্রথমদিনে জয় তুলে নেন স্লোয়ানে স্টিফেন্স। ইউএস ওপেনের চ্যাম্পিয়ন এদিন ৭-৬ (৭/৩) এবং ৭-৫ গেমে পরাজিত করেন ফ্রান্সের পাউলিন পার্মেন্টিয়ারকে। এর ফলে ১-১ ব্যবধানে সমতায় থেকে প্রথমদিনের খেলা শেষ করেছে আমেরিকা-ফ্রান্স।

এদিকে স্টুটগার্টে দাপট দেখায় চেক প্রজাতন্ত্র। এদিন তারা ২-০ ব্যবধানে পরাজিত করে জার্মানিকে। পেত্রা কেভিতোভা ৬-৩ এবং ৬-২ গেমে হারান জুলিয়া জর্জেসকে। অন্য ম্যাচে ক্যারোলিনা পিসকোভা ৭-৫ এবং ৬-৩ গেমে হারান বিশ্ব টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের সাবেক নাম্বার ওয়ান তারকা এ্যাঞ্জেলিক কারবারকে। তবে দ্বিতীয়দিনে জয়ের স্বাদ পেয়েছেন জুলিয়া জর্জেস। রবিবার তিনি ৬-৪ ও ৬-২ গেমে ক্যারোলিনা পিসকোভাকে হারিয়ে জার্মানির আশা বাঁচিয়ে রেখেছেন।

ফেড কাপের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল দল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ১৮ বারের চ্যাম্পিয়ন তারা। গত বছরেও বেলারুশকে হারিয়ে শিরোপা জয়ের উৎসব করে আমেরিকান প্রমীলারা। শিরোপা ধরে রাখার পথে এবারও দুর্বারগতিতে ছুটছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের খেলোয়াড়রা। সেরেনা উইলিয়ামস এবং ভেনাস উইলিয়ামস না খেললেও টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয় তারা। কিন্তু শেষ চারের লড়াইয়ে কিছুটা নিষ্প্রভ হয়ে পড়ে যুক্তরাষ্ট্র। স্লোয়ানে স্টিফেন্স নিজের প্রথম ম্যাচে জয় পেলেও হেরে গেছেন তার সঙ্গী কোকো ভেন্ডেওয়েঘে। বিশ্ব টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের ৯ নম্বরে থাকা স্টিফেন্স জিতলেও ঘাম ঝরেছে। এ প্রসঙ্গে ম্যাচের শেষে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘এটাকে যুদ্ধই বলতে হয়।’ গত বছর ইউএস ওপেন জয়ের মাধ্যমে ক্যারিয়ারের প্রথম গ্র্যান্ডস্লাম নিজের শোকেসে তোলেন স্টিফেন্স। এবার দুই বছরের মধ্যে প্রথম ফেড কাপের জয়ও তুলে নিলেন তিনি। ম্যাচের শেষে ইউএস ওপেনের চ্যাম্পিয়নের উচ্ছ্বাসটা তাই একটু বেশিই। এ প্রসঙ্গে স্লোয়ানে স্টিফেন্স বলেন, ‘দুই বছরের মধ্যে ফেড কাপে এটাই আমার প্রথম জয়। অনুভূতিটাও দারুণ। জয়ের পর খুব ভাল লাগছে।’ তবে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ১-১ ব্যবধানে ড্র করে হতাশ ফ্রান্সের অধিনায়ক ইয়ানিক নোয়া। তার মতে ফ্রান্স ২-০ ব্যবধানেও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল। স্টুটগার্টে প্রথমদিনের অন্য সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয় টেনিস বিশ্বের শক্তিশালী দুই দল জার্মানি আর চেক প্রজাতন্ত্র। তবে চেক প্রজাতন্ত্রের কাছে প্রথমদিনে পাত্তাই পায়নি জার্মানরা। পেত্রা কেভিতোভার প্রতিপক্ষ ছিলেন জুলিয়া জর্জেস। প্রতিপক্ষের বিপক্ষে দারুণ জয় তুলে নেন দুইবারের উইম্বলডন জয়ী কেভিতোভা। জুলিয়া জর্জেসের বিপক্ষে ছয়বার খেলেছেন কেভিতোভা। যার পাঁচটিতেই জয়ের স্বাদ পেয়েছেন চেক তারকা। অন্য ম্যাচে ক্যারোলিনা পিসকোভার মুখোমুখি হয়েছিলেন এ্যাঞ্জেলিক কারবার। লড়াই করলেও শেষ পর্যন্ত পিসকোভার কাছে হার মানতে বাধ্য হয় কারবার। এটাকে অপ্রত্যাশিত বলে মন্তব্য করেছেন ক্যারোলিনা পিসকোভা। টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ (৬) র‌্যাঙ্কধারী পিসকোভা বলেন, ‘এটা আসলে কেউ প্রত্যাশা করেনি।’ তবে দ্বিতীয়দিনে জার্মানির আশা বাঁচিয়েছেন জুলিয়া জর্জেস। এদিন তিনি ক্যারোলিনা পিসকোভাকে ৬-৪ ও ৬-২ গেমে হারান।



The Daily Janakantha website developed by
BIKIRAN.COM
]]>
টানা চতুর্থ, রেকর্ড ৩০ শিরোপা বার্সিলোনার http://www.dailyjanakantha.com/details/article/342366/টানা-চতুর্থ-রেকর্ড-৩০-শিরোপা-বার্সিলোনার http://www.dailyjanakantha.com/details/article/342366/টানা-চতুর্থ-রেকর্ড-৩০-শিরোপা-বার্সিলোনার 2018-04-22T11:28:30+0000 Daily Janakantha স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ স্প্যানিশ কোপা ডেল রে’র শিরোপা ‘ঘরোয়া’ বানিয়ে ফেলেছে বার্সিলোনা। এই আসরটিকে এখন কাতালানদের পৈত্রিক সম্পত্তি বললেও হয়তো ...

টানা চতুর্থ, রেকর্ড ৩০ শিরোপা বার্সিলোনার

 

খেলার খবর

Daily Janakantha

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ স্প্যানিশ কোপা ডেল রে’র শিরোপা ‘ঘরোয়া’ বানিয়ে ফেলেছে বার্সিলোনা। এই আসরটিকে এখন কাতালানদের পৈত্রিক সম্পত্তি বললেও হয়তো বাড়িয়ে বলা হবে না। টানা চতুর্থসহ রেকর্ড সর্বোচ্চ ৩০তম শিরোপা জিতে সে স্বাক্ষরই রেখেছে দলটি। শনিবার রাতে ১১৬তম আসরের ফাইনালে সেভিয়াকে ৫-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার দল। ১৯৮০ সালের পর কোপা ডেল রে ফাইনালে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয় এটি। সেবার রিয়াল মাদ্রিদ শিরোপা জিতেছিল ৬-১ গোলের ব্যবধানে।

এ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের মাঠ ওয়ান্ডা মেট্রোপালিটানোতে প্রথমার্ধে লিওনেল মেসির একটি ও লুইস সুয়ারেজের দুই গোলে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় বার্সা। দ্বিতীয়ার্ধে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা ও ফিলিপ কুটিনহোর আরও দুই গোলে সেভিয়ার বড় হার নিশ্চিত হয়। ২০১৪ সালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ সর্বশেষ কোপা ডেল রে’র শিরোপা জয় করে। এরপর হওয়া চারটি আসরেই ট্রফি নিজেদের শোকেসে ভরেছে কাতালান জায়ান্টরা। অবাক করা বিষয় হলো, কোপাতে ট্রফি জয়ে বার্সার আশেপাশেই নেই কোন দল। বার্সার ৩০তম শিরোপার পর দ্বিতীয় সর্র্বোচ্চ ২৩বার ট্্রফি জিতেছে এ্যাথলেটিক বিলবাও। বিলবাও সর্বশেষ ট্রফি জিতেছে সেই ১৯৮৪ সালে। আর বার্সার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল ট্রফি জিতেছে মাত্র ১৯বার। পরিসংখ্যানই জানান দিচ্ছে কোপা ডেল রে’তে অপ্রতিরোধ্য, অপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সিলোনা।

গত পাঁচ বছরে প্রতিটি ফাইনালেই খেলে বার্সিলোনা। ম্যাচ শেষে মেসি-সুয়ারেজরা একে অপরকে জড়িয়ে ধরা কিংবা হাই ফাইভ দিয়ে শিরোপা উদযাপন করলেও সবার মনেই আগামী রবিবার ডিপোর্টিভো লা করুনার বিপক্ষে ম্যাচটি নিয়ে চিন্তা। কারণ ম্যাচটি জিততে পারলে লা লিগার শিরোপাও নিশ্চিত হবে বার্সার। সেই সঙ্গে ঘরোয়া মৌসুমে ডাবল শিরোপাও ঘরে আসবে। এবারের লীগ শিরোপাটি হতে পারে বার্সিলোনার জন্য একটু অন্যরকম। প্রথম দল হিসেবে লা লিগায় অপরাজিত থেকে শিরোপা নিশ্চিতের হাতছানি এখন মেসিদের সামনে। আর এটা করতে পারলেই কেবল এএস রোমার কাছে হেরে চ্যাম্পিয়ন্স লীগ থেকে বিদায়ের হতাশা কিছুটা হলেও কাটবে। ম্যাচ শুরুর ১৪ মিনিটেই সিলিসেনের লম্বা পাস থেকে কুটিনহো সেভিয়ার রক্ষণভাগে নিজেকে ফাঁকা পেয়ে শেষ মুহূর্তে সুয়ারেজের দিকে বল বাড়িয়ে দেন। পাস থেকে বার্সাকে এগিয়ে দেন সুয়ারেজ। এরপর অবশ্য কিছুক্ষণের জন্য সেভিয়াই ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করে। জেসাস নাভাসের ক্রস থেকে সেভিয়ার তিনজন খেলোয়াড়ের কেউই বল ধরতে পারেননি। ফ্র্যাংকো ভাসকুয়েজের হেড গোলের ঠিকানা খুঁজে পায়নি।

এরপর ম্যাচের ৩১ মিনিটে ইনিয়েস্তার শট বারে লাগার পরপরই ফিরতি বলে জর্ডি আলবার ব্যাক হিলে মেসি দলের ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। বিতর্কিত অফসাইডের কারণে মেসির দ্বিতীয় গোলটি বাতিল হয়ে যায়। যদিও ৪১ মিনিটে উরুগুয়ের তারকা সুয়ারেজ আর কোন ভুল করেননি। বিরতির আগে মেসির সহায়তায় নিজের দ্বিতীয় গোল করেন তিনি। দ্বিতীয়ার্ধে নেমেই গোলের নেশায় পেয়ে বসে স্প্যানিশ জায়ান্টদের। বার্সার হয়ে নিজের শেষ ফাইনালকে স্মরণীয় করে রাখতে একটা গোল যে দরকার ছিল ইনিয়েস্তার। সে জন্যই কিনা ৫২ মিনিটে গোল করেন স্প্যানিশ তারকা। এবারও বল বানিয়ে দেন মেসি। ম্যাচের ৬৯ মিনিটে সেভিয়ার কফিনে শেষ পেরেকটি ঠোকেন কুটিনহো। পেনাল্টি থেকে গোল করে দলের ব্যবধান ৫-০ করেন ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার। এই ম্যাচে গোল করে দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে পাঁচটি কোপা ডেল’রে ফাইনালে গোল করার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন মেসি। ২০০৯, ২০১২, ২০১৫, ২০১৭ ও ২০১৮ সালের ফাইনালে গোল করেন মেসি।

সেভিয়ার বিপক্ষে ফাইনালে গোল করার মাধ্যমে টানা নয় মৌসুম ৪০ বা এর বেশি গোল করেছেন মেসি। তাছাড়া ক্লাব এবং জাতীয় দলের হয়ে ২৭টি ফাইনাল খেলে ২৮টি গোল করেছেন তিনি। পাশাপাশি ১২টি গোলে সহায়তাও করেছেন। এর আগে ১৯৪০ ও ৫০’র দশকে এ্যাথলেটিকো বিলবাওয়ের তারকা টেলমো জারা এই কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন। যদিও সবমিলিয়ে এই পাঁচটি ফাইনালে মেসির ৬ গোলের থেকে জারার ৮ গোল এগিয়ে আছে। ম্যাচে উরুগুয়ের তারকা সুয়ারেজও দারুণ রেকর্ড গড়েছেন। তিনি বার্সার হয়ে পাঁচটি ভিন্ন প্রতিযোগিতার ফাইনালে গোল করার অসামান্য কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। তাছাড়া বার্সার জার্সি গায়ে ১৫০ গোলের মাইলফলকও স্পর্শ করেছেন সাবেক লিভারপুল তারকা।




The Daily Janakantha website developed by
BIKIRAN.COM
]]>
ঢিলেঢালা আইন ॥ দুর্ঘটনার মূল কারণ http://www.dailyjanakantha.com/details/article/342349/ঢিলেঢালা-আইন-দুর্ঘটনার-মূল-কারণ http://www.dailyjanakantha.com/details/article/342349/ঢিলেঢালা-আইন-দুর্ঘটনার-মূল-কারণ 2018-04-22T11:07:27+0000 Daily Janakantha গাফফার খান চৌধুরী ॥ ঢিলেঢালা ট্র্যাফিক আইনই সড়ক দুর্ঘটনার মূল কারণ। আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বাস-ট্রাক চালকরা নেমেছে অসুস্থ প্রতিযোগিতায়। ওভারটেকিং, ...

ঢিলেঢালা আইন ॥ দুর্ঘটনার মূল কারণ

 

প্রথম পাতা

Daily Janakantha

গাফফার খান চৌধুরী ॥ ঢিলেঢালা ট্র্যাফিক আইনই সড়ক দুর্ঘটনার মূল কারণ। আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বাস-ট্রাক চালকরা নেমেছে অসুস্থ প্রতিযোগিতায়। ওভারটেকিং, যত্রতত্র বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা, পেছনের বাসকে সামনে আসতে না দেয়ার প্রতিযোগিতা থেকে একদিকে যেমন ঘটছে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, অন্যদিকে রাস্তায় সৃষ্টি হচ্ছে দুঃসহ ট্রাফিক জ্যাম। আইন লঙ্ঘনের পাশাপাশি রয়েছে অনভিজ্ঞ চালক, মাদকাসক্তি, ভুয়া লাইসেন্স নিয়ে নিয়মকানুন না জেনেই গাড়ি চালানো। ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া বিভাগের উপকমিশনার মাসুদুর রহমান স্বীকার করেন, এসব দুর্ঘটনার মূল কারণ ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন। ট্রাফিক আইন মানলে এসব দুর্ঘটনা নাও ঘটতে পারত। পাশাপাশি অদক্ষ চালকদের বেপরোয়া স্বভাবের কারণে দুর্ঘটনাগুলো ঘটেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। ট্রাফিক বিভাগ অবশ্য বলছে, সম্প্রতি কয়েকটি সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের পর শীঘ্রই চালু হচ্ছে পুলিশের ক্রাশ প্রোগাম। প্রোগ্রাম মোতাবেক যানবাহনকে ট্র্যাফিক আইন মেনে চলতে বাধ্য করা হবে। ট্র্যাফিক আইন অমান্যকারী চালককে তাৎক্ষণিক জেল-জরিমানা করা হবে। ট্র্যাফিক আইন অমান্যকারী বৈধ চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স তিন মাসের জন্য অকার্যকর রাখা হবে। অবৈধ চালকের লাইসেন্স বাতিলসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চালকদের আইন না মানার অন্যতম কারণ হচ্ছে তাদের মানসিকতা। নগর-মহানগরীর রাস্তা এবং হাইওয়েতে ট্র্যাফিক সিগন্যালের বালাই নেই। যতক্ষণ পর্যন্ত ট্র্যাফিক সার্জন বা পুলিশ গাড়ির সামনে গিয়ে না দাঁড়ায় চালকরা তাদের গাড়ি থামানোর কোন প্রয়োজনই মনে করে না। ট্র্যাফিক সিগন্যাল চালু না থাকার কারণেই চালকদের এই মানসিকতা তৈরি হয়েছে। ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় কোন চালক ট্র্যাফিক আইন ভঙ্গের চিন্তা করে না। এমনকি রাজধানীর মিরপুর রোড বা গুলশান এলাকায় দীর্ঘদিন ট্র্যাফিক সিগন্যাল চালু ছিল। তখন চালকরা আইন মেনেই গাড়ি চালিয়েছে। এখন চালকদের মানসিকতা এমন যে, আইন মানার দায়িত্ব তাদের নয় যতক্ষণ না তাদের আইন মানতে বাধ্য করা হচ্ছে। কি কারণে ট্র্যাফিক বিভাগ সিগন্যালের ওপর ভরসা না করে রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণ করেন তা স্পষ্ট নয়। ট্র্যাফিক বিভাগ থেকে বলার চেষ্টা করা হয়, রাস্তায় গাড়ির আধিক্য সিগন্যাল ব্যবস্থা অকার্যকর করে দেয়। বিশ্বের অনেক শহরেই ঢাকা বা চট্টগ্রামের চেয়ে বেশি যানবাহন চলাচল করে। সেসব শহরে সিগন্যাল ব্যবস্থা কার্যকর করতে পারলে ঢাকায় কেন সম্ভব নয়; এর সঠিক জবাব কারো কাছেই পাওয়া যায় না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চালকদের মানসিকতা পরিবর্তন করতে হলে আন্তর্জাতিক ভাবে স্বীকৃত ট্র্যাফিক সিগনাল চালু করে চালকদের তা মানতে বাধ্য করতে হবে। আইন অমান্যকারীকে কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে। তবেই চালকদের শৃঙ্খলায় আনা সম্ভব হবে।

ঢিলেঢালা আইনের পাশাপাশি মাদক সেবন করে গাড়ি চালানো, আগে যাওয়ার অসুস্থ প্রতিযোগিতা, সড়কের তুলনায় অধিক যানবাহন চলাচলসহ নানা কারণে সড়ক-মহাসড়কে দুর্ঘটনা ঘটছে। খানাখন্দ, ছিনতাই, ডাকাতিও সড়ক দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে অনেকাংশে দায়ী। পরিসংখ্যান বলছে, প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ করে কমপক্ষে বিশ হাজার। যার মধ্যে শতকরা ৭৫ জনই সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। সড়ক দুর্ঘটনায় বছরে আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে দেড় হাজার কোটি টাকার বেশি।

সম্প্রতি ঢাকায় পাল্লাপাল্লি করে যাওয়ার সময় বাসের ঘষায় ডান হাত বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর তিতুমীর কলেজের ছাত্র রাজীব হোসেনের মৃত্যু, বাস চাপায় ট্র্যাফিক পুলিশ পরিদর্শক দেলোয়ার হোসেনের জীবন্মৃতুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ার ঘটনা, বনানীতে পাল্লাপাল্লি করে যাওয়ার সময় বাস চাপায় যুবতী রোজিনা খাতুনের ডান পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া, ধানম-িতে ট্রাকের ধাক্কায় সেবিকা মাসুদা আক্তারের মৃত্যু, গোপালগঞ্জে ট্র্যাকের ঘষায় খালিদ হাসান হৃদয়ের কাঁধ থেকে ডান হাত পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার ঘটনা সারাদেশে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

খোদ ঢাকায় এসব সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া বিভাগের উপকমিশনার মাসুদুর রহমান বলছেন, এসব দুর্ঘটনার মূল কারণ ট্র্যাফিক আইন লঙ্ঘন। ট্র্যাফিক আইন মানলে এসব দুর্ঘটনা নাও ঘটতে পারত। পাশাপাশি অদক্ষ চালকদের বেপরোয়া স্বভাবের কারণে দুর্ঘটনাগুলো ঘটেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। এছাড়া ভুয়া লাইসেন্স নিয়ে অনেকেই নিয়মকানুন না জেনেই বা না মেনেই গাড়ি চালানোর ফলে প্রায় প্রতিদিনই দুর্ঘটনা ঘটছে। আবার অনেক চালক মাদক সেবন করে গাড়ি চালায়। তারা রাতে অনেকটাই বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালায়। অনেক সময় তারা পুলিশের নির্দেশও মানে না। ফলে দুর্ঘটনা ঘটে। এ ধরনের চালকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মোঃ আছাদুজ্জামান মিয়া কড়া নির্দেশ দিয়েছেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্র্যাফিক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, যেকোন আদর্শ নগরীর জন্য ওই নগরীর মোট আয়তনের শতকরা ২৫ ভাগ সড়ক থাকতে হয়। ঢাকায় আয়তনের তুলনায় সড়ক রয়েছে শতকরা মাত্র ৮ ভাগ। এই ৮ ভাগের মধ্যে শতকরা ৩০ ভাগ সারাবছর বেদখল থাকে। ঢাকায় সড়কের তুলনায় ব্যক্তিগত যানবাহনের সংখ্যা বেশি। এটিও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।

ট্র্যাফিক বিভাগ বলছে, সম্প্রতি কয়েকটি সড়ক দুর্ঘটনার পর আবার ২০০৯ সালের মতো ক্রাশ প্রোগ্রাম চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। চালু হওয়া প্রোগ্রাম মোতাবেক যানবাহনকে ট্র্যাফিক আইন মেনে চলা বাধ্যতামূলক করা হবে। ট্র্যাফিক আইন অমান্যকারীকে তাৎক্ষণিক জেল-জরিমানা করা হবে। পাশাপাশি নগরবাসীকে ট্র্যাফিক আইন সম্পর্কে সচেতন করতে চালু করা হচ্ছে নানা জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম। রাজধানীর ৭০টি পয়েন্টে স্বয়ংক্রিয় বাতি মেরামত ও রাস্তার লেন মার্কিং করা হবে। ট্র্যাফিক আইন অমান্যকারীকে কমপক্ষে হাজার টাকা জরিমানা, ভুয়া চালকের লাইসেন্স বাতিলসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা, ট্র্যাফিক আইন অমান্যকারী বৈধ চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স তিন মাসের জন্য অকার্যকর করে রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ঢাকার রাস্তা থেকে ২০ বছরের অধিক পুরনো পাবলিক যানবাহন তুলে দেয়া হবে। এসব কাজ তদাররিকর জন্য ঢাকা মহানগর পুলিশের ১২ ডিসিকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

ট্র্যাফিক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বাসে বাসে রেষারেষি করে বেপরোয়া চলাচল ও পাল্লাপাল্লির কারণে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছেন যাত্রীরা। যত্রতত্র বাস থামানো। রাস্তার মাঝপথে গতি কমিয়ে দেয়া, চলন্ত বাসে যাত্রী ওঠানামা করানো। ট্র্যাফিক আইন লঙ্ঘনসহ নানা কারণে প্রাণহানি ও পঙ্গুত্বের শিকার হচ্ছেন অনেকেই। বিষয়টি শক্ত হাতে দমন করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বিআরটিএ (বাংলাদেশ রোড ট্র্যান্সপোর্ট অথরিটি)এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সারাদেশের সড়ক-মহাসড়কে রেজিস্ট্রেশনকৃত বিভিন্ন প্রকারের যানবাহন চলাচল করছে ২৯ লাখ। যদিও বাস্তবে দেশে অন্তত ৩৫ লাখ যানবাহন চলাচল করে। এরমধ্যে অন্তত ২০ লাখ যানবাহন নিয়মিত যাতায়াত করে। বাদবাকি যানবাহনের মধ্যে আরও প্রায় পাঁচ লাখ অনিয়মিতভাবে যাতায়াত করে। দেশে যে পরিমাণ রাস্তা রয়েছে তাতে ১৫ লাখ যানযাহন মোটামুটিভাবে যাতায়াত করতে পারে। সারাবছর গড়ে দেড় লাখ যানবাহন গ্যারেজে থাকে। বিপুল এই যানবাহন চালানোর জন্য রয়েছেন প্রায় ১৬ লাখ বৈধ চালক। বাকিগুলোর স্টিয়ারিং ঘোরাচ্ছে অবৈধ চালকরা।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক্সিডেন্টাল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের হিসাব অনুযায়ী, দেশে যে পরিমাণ সড়ক-মহাসড়কে রয়েছে, আর যে পরিমাণ যানবাহন চলাচল করছে তা রীতিমতো বিস্ময়ের বিষয়। সড়ক-মহাসড়কের তুলনায় অধিক পরিমাণ যানবাহন চলাচল, সড়কের দুই পাশের শতকরা ৫০ ভাগ বেদখল থাকা, সড়ক-মহাসড়কে খানাখন্দ, অদক্ষ চালক, ক্ষমতার অধিক মাল নিয়ে যানবাহনের চলাচল, মাদক সেবন করে গাড়ি চালানো, ট্র্যাফিক আইন অমান্য করা, পাল্লাপাল্লি করে যাওয়া, চালকদের বেপরোয়া স্বভাব, ছিনতাই, চুরি ও ডাকাতির মতো অপরাধের কারণে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. এম আব্দুল মুক্তাদির জনকণ্ঠকে বলেন, সড়ক-মহাসড়ক নির্মাণ করতে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন। অন্তত ২০ বছর মেয়াদী পরিকল্পনা করতে হবে। সেই পরিকল্পনায় দেশের জনসংখ্যা বিশ বছর পর কত হবে, সেই পরিমাণ মানুষের জন্য কি পরিমাণ যানবাহন প্রয়োজন, আর সেই পরিমাণ যানবাহন চলতে, কি পরিমাণ সড়ক-মহাসড়ক প্রয়োজন সেই হিসাব করে সড়ক-মহাসড়ক নির্মাণ করতে হবে। অন্যথায় সড়ক-মহাসড়ক দেশবাসীর জন্য এবং দেশের জন্য দুর্বিসহ যন্ত্রণা নিয়ে আসবে। সড়ক দুর্ঘটনা বাড়বে। দুর্ঘটনায় মৃত্যু ও পঙ্গুত্বের হার বাড়বে আশঙ্কাজনক হারে।

তিনি আরও বলেন, দেশে সাধারণত বিটুমিন দিয়ে সড়ক-মহাসড়ক নির্মিত হয়; যা সাময়িকভাবে সস্তা। কিন্তু একবছর না ঘুরতেই রাস্তার বেহাল দশা চোখে পড়ে। এজন্য দুর্ঘটনাও বাড়ে। একবার পানি উঠলেই পুরো সড়ক নষ্ট হয়ে যায়। ঢাকার সড়কগুলোর ক্ষেত্রে তাই হয়েছে। নষ্ট সড়ক-মহাসড়কে দুর্ঘটনা ঘটা খুবই স্বাভাবিক। আর তাতে হতাহত হওয়াটাই স্বাভাবিক। সড়ক ছাড়াও চালকদের মাদক সেবন, বেপরোয়া স্বভাব, ট্র্যাফিক আইন না মানা, পাল্লাপাল্লি করে যাওয়া, বাড়তি টাকা রোজগারের জন্য বেশী যাত্রীদের ওঠানোর জন্য তাড়াহুড়া করাসহ নানা কারণে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। দেশের সুদূরপ্রসারী অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির কথা চিন্তা করে সড়ক-মহাসড়ক নির্মাণ করা জরুরী। এতে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে দীর্ঘস্থায়ী মহাসড়ক নির্মাণসহ নানা বিষয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. শামসুল হক জনকণ্ঠকে বলেন, শিক্ষা যদি জাতির মেরুদ- হয়, তাহলে সড়ক-মহাসড়ক দেশের মেরুদ-। এই মেরুদ- শক্ত করতে উচিত বিটুমিনের পরিবর্তে কংক্রিটের সড়ক-মহাসড়ক দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা মোতাবেক নির্মাণ করা। কারণ বিটুমিনের সড়ক-মহাসড়ক দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। মেরামত করতে গেলেই রাস্তার একপাশ বন্ধ করতে হয়; যা তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। যানজটে বেকার বসে থাকেন মানুষ। কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়। দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। আর নষ্ট রাস্তায় দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনা ঘটে।

সম্প্রতি ভারত মহাসড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে উন্নতমানের কংক্রিট ব্যবহার করছে। ভাল কংক্রিট দিয়ে মহাসড়ক নির্মিত হলে অন্তত বড় ধরনের কোন বিপর্যয় না হলে ৪০ বছর সেই মহাসড়কে আর হাত দেয়ার বিশেষ কোন প্রয়োজন হয় না। বর্তমান সরকার দেশে কংক্রিটের সড়ক-মহাসড়ক নির্মাণের বিষয়ে চিন্তাভাবনা করছে। সড়ক-মহাসড়কের পাশের অবৈধ স্থাপনা, দোকানপাট সরিয়ে দিলে যানজট কমে যাবে। দুর্ঘটনা হ্রাস পাবে।


The Daily Janakantha website developed by
BIKIRAN.COM
]]>
আজাদুল হকের ‘আমার দেখা মুক্তিযুদ্ধ’ গ্রন্থের প্রকাশনা http://www.dailyjanakantha.com/details/article/342342/আজাদুল-হকের-‘আমার-দেখা-মুক্তিযুদ্ধ’-গ্রন্থের-প্রকাশনা http://www.dailyjanakantha.com/details/article/342342/আজাদুল-হকের-‘আমার-দেখা-মুক্তিযুদ্ধ’-গ্রন্থের-প্রকাশনা 2018-04-22T10:56:24+0000 Daily Janakantha স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরের উত্তাল সময়। মাতৃভূমিকে শত্রুমুক্ত করার সেই সময়টি ছিল লেখকের কৈশোরকাল। অগ্নিঝরা নানা মুহূর্ত দাগ কাটে ছোট ...

আজাদুল হকের ‘আমার দেখা মুক্তিযুদ্ধ’ গ্রন্থের প্রকাশনা

 

শেষের পাতা

Daily Janakantha

স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরের উত্তাল সময়। মাতৃভূমিকে শত্রুমুক্ত করার সেই সময়টি ছিল লেখকের কৈশোরকাল। অগ্নিঝরা নানা মুহূর্ত দাগ কাটে ছোট শিশুটির মনে। স্বাধীনতাযুদ্ধকালীন সেই অমলিন স্মৃতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ছোটবেলার হারিয়ে যাওয়া সাতচাড়া, লাটিম, লাঠি আর ঘুড়ি ওড়ানোর গল্প। স্মৃতির আয়নায় উঠে এসেছে ঊনসত্তরের গণআন্দোলন, পঁচাত্তরের কালো অধ্যায় কিংবা ষাট বা সত্তরের দশকে কেমন ঢাকার চিত্র? এমন নানা বিষয়কে এক মলাটে এনে বই লিখেছেন মার্কিন প্রবাসী লেখক আজাদুল হক। ‘আমার শৈশব-আমার কৈশোর আমার দেখা মুক্তিযুদ্ধ’ শীর্ষক গ্রন্থটির প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত হলো রবিবার। বৈশাখী বিকেলে শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার সেমিনার কক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। গ্রন্থটি নিয়ে আলোচনা করেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দীন ইউসুফ। অনুভূতি ব্যক্ত করেন লেখক আজাদুল হক। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বইটির প্রকাশক আগামী প্রকাশনীর প্রকাশক ওসমান গনি এবং জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সাবেক সভাপতি মাজহারুল ইসলাম প্রমুখ। সভাপতিত্ব করেন কথাসাহিত্যিক হাসনাত আবদুল হাই।

আসাদুজ্জামান নূর বলেন, ফেসবুকে লিখতে লিখতে যে একটি বই হয়ে যাবে, সেটি একটি দারুণ বিশ্বাস। আজাদুল হক সেই কাজটি করেছেন। ফেসবুকে শুধু শুধু বসে না থেকে, এমন সৃজনশীল কাজে মনোযোগ দেয়া উচিত। বইটিতে লেখক তার সময়ে মুক্তিযুদ্ধকে যেভাবে দেখেছেন সেভাবে তুলে ধরেছেন। সে সময় তার বয়স ছিল মাত্র ১০ বছর। সে বয়সের একজন কিশোর মুক্তিযুদ্ধকে যেভাবে দেখেছেন, সেভাবেই তুলে ধরেছেন; এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

নাসির উদ্দীন ইউসুফ বলেন, যারা মুক্তিযুদ্ধ দেখেছে, তারা যদি তাদের দেখাটা সততার সঙ্গে তুলে ধরে ও লিখে যায়, তাহলে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসটা সমৃদ্ধ হবে।

বইটির লেখক আজাদুল হক বলেন, এই বইয়ের বেশ কিছু লেখা একসময় ফেসবুকে প্রকাশ করার পর পাঠক-বন্ধুদের অনুরোধে বই আকাশে প্রকাশ করেছি। বলা যায় তাদের অনুপ্রেরণাই আমাকে বই করতে উদ্বুদ্ধ। আমি দুই খন্ডে বইটি প্রকাশ করব। সেই ধারাবাহিকতায় আজ প্রকাশিত হলো প্রথম খন্ড। এ খন্ডে আমার জীবনের সঙ্গে যারা সংশ্লিষ্ট তাদের স্মৃতিকথা ও মুক্তিযুদ্ধসময়কালীন ঘটনাপ্রবাহ রয়েছে। পরের খন্ডে মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী দিনগুলোর অভিজ্ঞতা বর্ণনা করব।

চারু পিন্টুর আঁকা প্রচ্ছদে ১৩৯ পৃষ্ঠার বইটির মূল্য ধরা হয়েছে ৩০০ টাকা।

নাট্যজনের চিকিৎসা সহায়তায় সোনাই মাধবের মঞ্চায়ন ॥ কুষ্টিয়ার অন্তঃপ্রাণ নাট্যজন আলী আফরোজ পিনু। নাটকের প্রতি নিবেদিত এই মানুষটি আক্রান্ত হয়েছেন জটিল রোগে। তার চিকিৎসার সহায়তায় এগিয়ে লোক নাট্যদল। চিকিৎসা তহবিল গড়তে সোমবার সন্ধ্যায় মঞ্চস্থ হলো দলটির দর্শকনন্দিত প্রযোজনা সোনাই মাধব। শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে পদবালী যাত্রাটির বিশেষ মঞ্চায়ন হয়। ময়মনসিংহ গীতিকা অবলম্বনে সাড়া জাগানো নাটকটির পরিকল্পনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন লিয়াকত আলী লাকী।

নাট্যাখ্যানে গানের সঙ্গে সংলাপে বর্ণিত হয়েছে সোনাই ও মাধবের চিরায়ত প্রেম। প্রেমের সূত্র ধরেই ঘটে বিচ্ছেদ। সেই সঙ্গে ঘটনাক্রমে উপস্থাপিত হয় সোনাইকে পাওয়ার জন্য ভাবনা দেওয়ান নামের এক অত্যাচারীর উদগ্র বাসনা। এই ভাবনা দেওয়ার নানা ছলচাতুরিময় পশুত্বের কারণে বিষপানে আত্মহত্যা করে সোনাই। হাস্যরসাত্মকধর্মী শৈল্পিক প্রয়াসে মেলে ধরা বিয়োগান্তক ঘটনাটি।

নাটকে ব্যবহৃত গানের সুরারোপ করেছেন নাট্যজন দীনেন্দ্র চৌধুরী ও লিয়াকত আলী লাকী। প্রযোজনাটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন রোকসানা আক্তার রূপসা, মোঃ জাহিদুল কবির লিটন, লিয়াকত আলী লাকী, রহিমা খাতুন নীলা, উম্মে মরিয়ম রুমা, কিশোয়ার জাহান, মোঃ রওশন হোসেন, সুচিত্রা রানী সূত্রধর, আব্দুল্লাহেল রাফি তালুকদার, শায়লা আহমেদ প্রমুখ।

বিশ্ব গ্রন্থ ও কপিরাইট দিবস আজ ॥ আজ সোমবার তেইশে এপ্রিল বিশ্ব গ্রন্থ ও কপিরাইট দিবস। ১৯৯৫ সালের এ দিনে বিশ্বজুড়ে পঠন-পাঠন, প্রকাশনা ও কপিরাইটকে উৎসাহ দিতে দিবসটি উদযাপন করে ইউনেস্কো। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও পালিত হবে দিবসটি। এ উপলক্ষে আজ সকালে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কপিরাইট অফিস জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে ‘মেধাসম্পদ বিকাশে কপিরাইট আইনের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করেছে। এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর।

কয়েকজন প্রখ্যাত সাহিত্যিকের জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী স্মরণে দিনটি পালন করা হয়। তারা হলেন- বিশ্বের প্রথম আধুনিক উপন্যাস ‘ডন কুইকসোট’-এর লেখক স্পেনীয় ঔপন্যাসিক কারভানতিস, উইলিয়াম শেক্সপিয়র ও আধুনিককালের অন্যতম বিখ্যাত ঔপন্যাসিক ভ্লাদিমির নবোকভের জন্মদিন। আবার স্পেনে ১৯২৫ সাল থেকে এদিন প্রেমিককে গোলাপ ফুলের বদলে বই উপহার দেন প্রেমিকা।


The Daily Janakantha website developed by
BIKIRAN.COM
]]>
সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ১০ জনের http://www.dailyjanakantha.com/details/article/342339/সড়ক-দুর্ঘটনায়-প্রাণ-গেল-১০-জনের http://www.dailyjanakantha.com/details/article/342339/সড়ক-দুর্ঘটনায়-প্রাণ-গেল-১০-জনের 2018-04-22T10:55:26+0000 Daily Janakantha জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ১০ জন নিহত হয়েছে। এরমধ্যে ময়মনসিংহের ভালুকায় পিতা-পুুত্রসহ তিনজন, গাইবান্ধায় শিশুসহ ...

সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ১০ জনের

 

শেষের পাতা

Daily Janakantha

জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ১০ জন নিহত হয়েছে। এরমধ্যে ময়মনসিংহের ভালুকায় পিতা-পুুত্রসহ তিনজন, গাইবান্ধায় শিশুসহ চারজন নিহত হয়েছে। এছাড়া, বরিশালে প্রকৌশলী, সিরাজগঞ্জে অটোরিক্সাযাত্রী ও নারায়ণগঞ্জে এক শ্রমিক নিহত হয়েছে। এসব দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছে। রবিবার পৃথক দুর্ঘটনায় এসব হতাহতের ঘটনা ঘটে। খবর স্টাফ রিপোর্টার ও নিজস্ব সংবাদদাতাদের।

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভালুকা উপজেলার নিশিন্দা নামক স্থানে রবিবার সকাল ৯টায় কভার্ডভ্যানের পেছনে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় পিতা-পুত্রসহ তিনজন নিহত ও অপর একজন গুরুতর আহত হয়েছে।

জানা যায়, ঘটনার সময় ভালুকা উপজেলার জামিরদিয়া গ্রামের মৃত ইসমাইল শেখের ছেলে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক কামাল হোসেন ওরফে কাদির মাস্টার (৬৫) মাস্টরবাড়ি থেকে ময়মনসিংহে একটি মামলার হাজিরা দিতে যাওয়ার পথে ওই স্থানে পৌঁছলে তাদের প্রাইভেটকারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা কার্ভাডভ্যানের পেছনে ধাক্কা দেয়। এতে প্রাইভেটকারটি দুমড়ে মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই কাদির মাস্টার মারা যান ও অন্যরা গুরুতর আহত হন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে কাদির মাস্টারের ছেলে জুয়েল খান (৩৫) ও ড্রাইভার মোশারফ (৩০) মারা যান। আহত, বাছির খান, বিপ্লব খান ময়মনসিংহে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

গাইবান্ধা ॥ রংপুর-বগুড়া মহাসড়কে রবিবার ভোরে নৈশকোচ ও বালু বোঝাই এক ট্রাকের সংঘর্ষে দুই চালক ও ১ শিশুসহ ৪ জন নিহত এবং ২০ জন আহত হয়েছে।

গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ আকতারুজ্জামান জানান, নিহতরা হলো-সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার বাঘাবাড়ী গ্রামের ফরমান বিশ্বাসের ছেলে আব্দুল মতিন বিশ্বাস (৩৫), রংপুর জেলার বদরগঞ্জ উপজেলার খোরাজান গ্রামের খয়রাত হোসেনের ছেলে আল-আমিন হোসেন (২৩), দিনাজপুর জেলার চিনিরবন্দরের পূর্বছাইদা গ্রামের মঞ্জুরুল ইসলামের শিশু মেয়ে তানিয়া (৬) ও পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার মদনেরপাড়া গ্রামের মোবিয়ার ছেলে রফিকুল ইসলাম (৪০)। অপরদিকে আহতদের মধ্যে ১৩ জনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলো- গোবিন্দগঞ্জের এরশাদ আলী, নীলফামারীর আব্দুস সাত্তার, ঠাকুরগাঁওয়ের মনির হোসেন, শাকিল মিয়া, ধনঞ্জয়, শাহীন, দিনাজপুরের ইসমাইল, মতিউর রহমান, ফরিদুল, রংপুরের সোয়েব আলী, শরিফ মিয়া, শিউলী বেগম, বগুড়ার নূর রহমানের পরিচয় জানা গেছে।

হাইওয়ে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ঢাকার আব্দুল্লাহপুর থেকে ছেড়ে আসা ভিএস পরিবহনের একটি নৈশকোচ বকচর এলাকায় এসে অপর একটি কোচকে ওভারটেক করতে গিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা বগুড়াগামী বালু বোঝাই একটি ট্রাককে ধাক্কা দেয়। ফলে মুখোমুখি এ সংঘর্ষে উভয় গাড়ির সম্মুখভাগ দুমড়ে মুচড়ে যায়। এ সংঘর্ষে নৈশকোচ ও ট্রাকের দুই চালক, ১ শিশুসহ নৈশকোচের দুই যাত্রী ঘটনাস্থলে নিহত এবং ২০ জন যাত্রী আহত হয়। আহতদের গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ রংপুর মেডিক্যাল কলেজ ও বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

বরিশাল ॥ ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর এলাকায় শনিবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় পল্লীবিদ্যুতের উপদেষ্টা প্রতিষ্ঠানের (পিসিএল) প্রকৌশলী খগেন্দ্র নাথ গোলদার (৬০) নিহত ও পিটার (৩০) নামের এক আরোহী গুরুতর আহত হয়েছেন।

নিহত খগেন্দ্র নাথ গোলদার খুলনা জেলার বাসিন্দা ও বরিশাল পল্লীবিদ্যুৎ-২ এর পরামর্শক/উপদেষ্টা প্রতিষ্ঠানের সুপারভিশন কর্মকর্তা (প্রকৌশলী) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

নারায়ণগঞ্জ ॥ বন্দরের বকুলদাসের বাগ এলাকায় একটি ইটভর্তি ট্রাক উল্টে গেলে হৃদয় মিয়া (২০) নামে এক শ্রমিক নিহত হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার সকালে। নিহত হৃদয় মিয়া কিশোরগঞ্জ জেলার অষ্টগ্রাম থানার আব্দুল্লাহপুর এলাকার খন্দকার মোক্তার মিয়ার ছেলে। সে বন্দরের কেওঢালা এলাকায় ভাড়া থাকত।

সিরাজগঞ্জ ॥ রবিবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ-নলকা সড়কের সদর উপজেলার দিয়ারবৈদ্যনাথ এলাকায় ট্রাকের ধাক্কায় আব্দুর রাজ্জাক (৬৫) নামে অটোরিক্সার যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও তিন যাত্রী। নিহত আব্দুর রাজ্জাক সদর উপজেলার বহুলী ইউনিয়নের মাছুয়াকান্দি গ্রামের বাসিন্দা। আহতরা হলেন- সদর উপজেলার বহুলী ইউনিয়নের ডুমুর গোলামী গ্রামের আশরাফ আলী, শিয়ালকোল ইউনিয়নের সারটিয়া গ্রামের কামাল ও কামারখন্দ উপজেলার ভদ্রঘাট গ্রামের মোহাম্মদ আলী।

বগুড়া ॥ সড়ক দুর্ঘটনায় এবার হাত বিচ্ছিন্ন হলো এক শিশুর। এই ঘটনা বগুড়ার শেরপুরের। রবিবার বিকেলে বগুড়া-ঢাকা মহাসড়কের শেরুয়া বটতলা এলাকায় পাথরবোঝাই এক ট্রাকের চাপায় বাম হাত হারায় শিশু সুমি (৮)। ওই সময় সুমি মা মরিয়ম খাতুনের সঙ্গে রাস্তা পার হচ্ছিল। সুমি হঠাৎ রাস্তায় পড়ে যায়। তখনই ঢাকাগামী ট্রাকটি তার বাম হাত চাপা দিয়ে চলে যায়। ঘটনাস্থলেই তার বাম হাত বিচ্ছিন্ন হয়। সুমির বাম হাতের সোল্ডারের সামান্য নিচে থেকে থেঁতলে খসে পড়ে। দ্রুত তাকে প্রথমে শেরপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে সুমিকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। সুমির বাবা দুলাল খান একজন মুদি দোকানি। আগে সে রিক্সা চালাত। তার তিন মেয়ের মধ্যে সুমি ছোট। তাদের বাড়ি শেরপুরের শাহ বন্দেগী ইউনিয়নের ফুলতলা দক্ষিণপাড়ায়। সুমি স্থানীয় ব্র্যাক স্কুলের প্রি-এডুকেশন প্রথম শ্রেণীর শিক্ষার্থী।


The Daily Janakantha website developed by
BIKIRAN.COM
]]>
রাজধানীতে ৮ টন জাটকা জব্দ ॥ সাতজনের কারাদন্ড http://www.dailyjanakantha.com/details/article/342337/রাজধানীতে-৮-টন-জাটকা-জব্দ-সাতজনের http://www.dailyjanakantha.com/details/article/342337/রাজধানীতে-৮-টন-জাটকা-জব্দ-সাতজনের 2018-04-22T10:54:21+0000 Daily Janakantha স্টাফ রিপোর্টার ॥ রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর মাছের আড়তে অভিযান চালিয়ে বিক্রি নিষিদ্ধ আট টন জাটকা ইলিশ জব্দ করেছে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। ...

রাজধানীতে ৮ টন জাটকা জব্দ ॥ সাতজনের কারাদন্ড

 

শেষের পাতা

Daily Janakantha

স্টাফ রিপোর্টার ॥ রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর মাছের আড়তে অভিযান চালিয়ে বিক্রি নিষিদ্ধ আট টন জাটকা ইলিশ জব্দ করেছে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে জাটকা বিক্রির অপরাধে সাতজনকে দুই বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়। শনিবার রাতভর চালনো অভিযানে নেতৃত্ব দেন র‌্যাব সদর দফতরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম।

রবিবার দুপুরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম জানান, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার রাত ৯টা থেকে রবিবার ভোর পর্যন্ত যাত্রাবাড়ী মৎস্য আড়তে অভিযান চালানো হয়।

এ সময় বিক্রির উদ্দেশে আনা আট টন জাটকা জব্দ করা হয়। পরে বেলা ১১টায় এসব জাটকা বিভিন্ন এতিমখানায় বিতরণ করা হয়। জাটকা বিক্রির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।



The Daily Janakantha website developed by
BIKIRAN.COM
]]>
ভুলের বিরুদ্ধে ফুল, চোখ জুড়ানো সুন্দর http://www.dailyjanakantha.com/details/article/342332/ভুলের-বিরুদ্ধে-ফুল-চোখ-জুড়ানো-সুন্দর http://www.dailyjanakantha.com/details/article/342332/ভুলের-বিরুদ্ধে-ফুল-চোখ-জুড়ানো-সুন্দর 2018-04-22T10:52:15+0000 Daily Janakantha মোরসালিন মিজান ॥ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনে প্রবেশ করতে হয়নি। তার আগেই গা শিউরে ওঠে। ভয়াবহ আগুনের চিহ্ন। তা-বের ছবি। ...

ভুলের বিরুদ্ধে ফুল, চোখ জুড়ানো সুন্দর

 

শেষের পাতা

Daily Janakantha

মোরসালিন মিজান ॥ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনে প্রবেশ করতে হয়নি। তার আগেই গা শিউরে ওঠে। ভয়াবহ আগুনের চিহ্ন। তা-বের ছবি। দূর থেকে দেখা যায়। বাড়ির সামনে যে খোলা চত্বর, সে চত্বরের সবুজটুকু পর্যন্ত বিনষ্ট করেছে দুর্বৃত্তরা। আন্দোলনের নামে এমন নিষ্ঠুরতা দেখে ফেরার সময় মন ছিল বিষণœ, হতাশ এবং ঠিক তখনই চোখে পড়ে নাগলিঙ্গম ফুলটি! গত সপ্তাহের কথা। এখনও মুগ্ধতা কাটেনি। ধ্বংসযজ্ঞের বিপরীতে নতুন প্রাণ। ভুলের বিরুদ্ধে ফুল। কী যে ভাল লাগছিল!

তবে শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নয়, এখন রাজধানীর আরও কয়েকটি স্থানে দৃশ্যমান হচ্ছে নাগলিঙ্গম। দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও গাছটি আছে। তবে সংখ্যায় কম। খুব দুর্লভ। এ কারণে ফুলটি নিয়ে কৌতূহলের শেষ নেই। নাগলিঙ্গম গাছটি বিশাল। মোটাসোটা কা-। লম্বায়ও অনেক। সোজা ওপরের দিকে উঠে গেছে। গাছ যেমন বড়, ফুলটিও তা-ই। ওপরের দিকে তাকালে মনে হয় রঙের ফোয়ারা! ঘ্রাণও মিষ্টি। চারপাশ ভরিয়ে রাখে। সারাবছরই কম বেশি ফুল হয়। এখন ঠিক মৌসুম নয়। কিন্তু এত রং রূপ নিয়ে সামনে এসেছে যে, মৌসুম বলেই মনে হচ্ছে।

নাগলিঙ্গম ফুলের পরাগচক্র বিশেষ বাঁকানো। দেখতে ফণা তোলা সাপের মতো। এ কারণেই নাগের কথা মনে পড়ে যায়। সেই নাগ থেকে নাগলিঙ্গম। গাছটি যথেষ্ট দুর্লভ। সারাদেশে যা আছে, চাইলেই

গুণে ফেলা যায়। সে তুলনায় রাজধানী ঢাকা এগিয়ে। বৃক্ষহীন শহরে ভাল সংখ্যায় আছে গাছটি। রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, বলধা গার্ডেন ও চন্দ্রিমা উদ্যানে আছে বিভিন্ন বয়সী নাগলিঙ্গম। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮টি, বাংলাদেশ বন গবেষণা প্রতিষ্ঠানে ৩টি, মিরপুরের জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানে ১টি গাছ আছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলের সামনে আছে একটি গাছ। অন্যটি ভূতত্ত্ব বিভাগের পাশে। ফুল ধরা অবস্থায় গাছগুলো বিশেষ দৃশ্যমান হয়।

তবে গাছ মানেই ফুল নয়। চারা রোপণের পর ১২ থেকে ১৪ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। তার পর ফুল। নাগলিঙ্গমের কা-ের সঙ্গে ঝুলে থাকে অসংখ্য মঞ্জরি। তিন মিটার দীর্ঘ মঞ্জরিতে ফুটে বড় গোলাকার ফুল। ফুলের ব্যাস ২ থেকে ৩ ইঞ্চি। এর ৬টি পাপড়ি। পাপড়িগুলো বাঁকানো, মাংসল। ভেতরের দিকে গাঢ় গোলাপী আর বাইরের দিকে হলদে ধরনের হয়ে থাকে। ভীষণ সুগন্ধি ফুলের চারপাশ ঘিরে থাকে মিষ্টি ঘ্রাণ। গন্ধ বিলিয়ে টপাটপ ঝরেও পড়ে। পাতা যেমন। ফুলও। কোন গাছের নিচে কিছুক্ষণ দাঁড়ালে সেটি বেশ টের পাওয়া যায়। আপনি ঝরে পড়তে থাকে নাগলিঙ্গম ফুল। বড় এবং অপেক্ষাকৃত ভারি হওয়ায় ঝরে পড়ার সময় বেশ শব্দ হয়। বড় শরীর নিয়ে উঁচু থেকে মাটিতে আছড়ে পড়ার কারণে প্রায়ই কিছু পাপড়ি ভেঙ্গে যেতে দেখা যায়।

উদ্ভিদবিদ দ্বিজেন শর্মার বর্ণনা থেকে জানা যায়, নাগলিঙ্গম লিসাইথিডেসিয়া গোত্রের বৃক্ষ। আদি নিবাস দক্ষিণ আমেরিকার উষ্ণ এলাকা। গত দুই-তিন হাজার বছর আগে এর সন্ধান মেলে ভারতে। দেশটিকে এ বৃক্ষের উৎপত্তিস্থল বলে মনে করা হয়। তবে ধীরে ধীরে এটি পৃথিবীব্যাপী ছড়িয়ে পড়তে থাকে। বর্তমানে কম-বেশি সব দেশেই জন্মায়। ফুলটি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শিবপূজায় অত্যাবশ্যক। পূজাতে দরকার হয় বলে শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড এবং অন্যান্য দেশের বৌদ্ধ মন্দিরে গাছটি ব্যাপক হারে লাগানো হয়। বাংলাদেশেও গাছটি আছে বহু দিন। এ দেশে অনেকেই গাছটিকে নাগেশ্বর নামে জানেন। তবে উদ্ভিদবিদ দ্বিজেন শর্মা জানান, নাগেশ্বর সম্পূর্ণ আলাদা একটি গাছ। এর বৈজ্ঞানিক নাম কারম্নপিটা গায়েননসিস। ইংরেজী নাম ক্যানন বল। ক্যানন বলের মতো ফল ধরার কারণেই এমন নামকরণ। তিনি জানান, নাগলিঙ্গমের দ্রুততম বৃদ্ধি ঘটে। গোড়ার দিকে প্রায় ১৮ ফুট। ২৫ থেকে ৩০ ফুট লম্বা কান্ড। কান্ড সরল। পাতা গাঢ় সবুজ। লম্বায় ৫ থেকে ৭ ইঞ্চি পর্যন্ত হয়ে থাকে। চওড়ায় ৩ থেকে ৪ ইঞ্চি। সারাবছরই পাতা ঝরে, নতুন পাতা গজায়। বাকলের রং বাদামী ধূসর এবং অসমান। নাগলিঙ্গমের ফল আরও শক্ত। এটি ২০ সেমি পর্যন্ত লম্বা হয়। নয় মাসের মধ্যে পাকে। পরিপক্ব ফল মাটিতে পড়লে ফেটে যায়। বাতাসে ঝাঁঝালো গন্ধ ছড়ায়। এ ফল পথচারীদের মাথায় পড়লে বিপদের সম্ভাবনা যথেষ্ট। ভেষজ গুণও আছে নাগলিঙ্গমের। ফুল, পাতা এবং বাকলের নির্যাস থেকে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ হয়। এন্টিবায়োটিক, এনটিফাঙ্গাল এবং এন্টিসেপটিক হিসেবে ব্যবহার বিশেষ লক্ষণীয়। এ থেকে তৈরি ওষুধে পেটের পীড়া দূর হয়। পাতার রস ত্বকের নানা সমস্যায় কাজে দেয়। ম্যালেরিয়া রোগ নিরাময়ে এর পাতা ব্যবহার করা হয়। তবে রূপ ঘ্রাণ নাগলিঙ্গমের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এই বৈশিষ্ট্য দিয়েই নিসর্গপ্রেমীদের মুগ্ধ করে রেখেছে ফুলটি।


The Daily Janakantha website developed by
BIKIRAN.COM
]]>
বগুড়ায় বাসের ধাক্কায় শিশুর হাত বিচ্ছিন্ন http://www.dailyjanakantha.com/details/article/342318/বগুড়ায়-বাসের-ধাক্কায়-শিশুর-হাত-বিচ্ছিন্ন http://www.dailyjanakantha.com/details/article/342318/বগুড়ায়-বাসের-ধাক্কায়-শিশুর-হাত-বিচ্ছিন্ন 2018-04-22T10:33:13+0000 Daily Janakantha অনলাইন রিপোর্টার ॥ বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় বাসের ধাক্কায় ৮ বছরের শিশু সুমি খাতুনের বাম হাত ছিঁড়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। রবিবার ...

বগুড়ায় বাসের ধাক্কায় শিশুর হাত বিচ্ছিন্ন

 

দেশের খবর

Daily Janakantha

অনলাইন রিপোর্টার ॥ বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় বাসের ধাক্কায় ৮ বছরের শিশু সুমি খাতুনের বাম হাত ছিঁড়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। রবিবার বিকেলে শেরপুর উপজেলার ফুলতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানায়, স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে রাস্তা পারাপার হওয়ার সময় একটি যাত্রীবাহী বাস সুমি খাতুনকে ধাক্কা দেয়। বাসের ধাক্কায় সুমির বাম হাত ছিঁড়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে শেরপুর উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে শেরপুর থেকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আজিজ মন্ডল জানান, বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ৮ বছরের শিশু সুমিকে আহত অবস্থায় ভর্তি করা হয়। সে হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে আপাতত চিকিৎসাধীন। আহত সুমির পরিবারের সদস্যদের সংবাদ দেয়া হয়েছে।



The Daily Janakantha website developed by
BIKIRAN.COM
]]>
তাহলে কত দূর এগুলো ছাত্রসমাজ http://www.dailyjanakantha.com/details/article/342317/তাহলে-কত-দূর-এগুলো-ছাত্রসমাজ http://www.dailyjanakantha.com/details/article/342317/তাহলে-কত-দূর-এগুলো-ছাত্রসমাজ 2018-04-22T10:29:47+0000 Daily Janakantha আমাদের বিশ্বাসে টান পড়ে, বোধবুদ্ধিতে বিস্ময় জাগে, যখন শুনি এবং দেখতে পাই, বুকে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি ঝুলিয়ে, কণ্ঠে জয় বাংলা জয় ...

তাহলে কত দূর এগুলো ছাত্রসমাজ

 

উপ-সম্পাদকীয়

Daily Janakantha

আমাদের বিশ্বাসে টান পড়ে, বোধবুদ্ধিতে বিস্ময় জাগে, যখন শুনি এবং দেখতে পাই, বুকে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি ঝুলিয়ে, কণ্ঠে জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান দিয়ে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীরা ক্যাম্পাস এলাকায় মিছিল করছে। ধন্দ জাগে এবং বাড়ে যখন দেখি তাদের মিছিলে বাম নামধারী ছাত্রদের সম্মিলন ঘটে। আর হতবাক ও হতোদ্যম হই, যখন দেখতে পাই, প্রায় ষাটোর্ধ একটি ছাত্রসংগঠন; যার রয়েছে গৌরবদীপ্ত ঐতিহাসিক অবদান, সেই সংগঠনের নেতাকর্মীরা দেশ ও জাতির শত্রু বলে বিবেচিত ও চিহ্নিতদের ফাঁদে পা দিয়ে আত্মহননে মত্ত হয়েছে। আমাদের ভাবনায় আসে না, বঙ্গবন্ধুর নিজ হাতে গড়া সংগঠনটির এমন পরিণতি ঘটবে। দুর্বলতার পরিধি এমন স্থানে এসে দাঁড়িয়েছে যে, সংগঠনটি ভ্রান্তির বেড়াজালে আবদ্ধ হয়েছে, তা থেকে তুলে আনা সহজসাধ্য নয়। নীতি, আদর্শ, সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক চর্চার ক্ষেত্র তৈরি করে, তার মাধ্যমে হৃতরাজ্য তথা হৃত সুনাম পুনরুদ্ধারে সচেষ্ট হলেই যে আবার গৌরবদীপ্ত হতে পারবে কি না সন্দেহ থেকে যায়। দুর্ভাগ্য বলি আর দুঃখজনকই বলি, বাস্তবে যা ঘটছে, ঘটতে পারে, ঘটে এসেছে- সবকিছু বিবেচনা নিয়েই সংগঠনের সংস্কার করা না গেলে বিপর্যয় আরও বাড়বে বৈকি। পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা ছাড়া কেবল কতিপয়দের দিয়ে একটি কমিটি দাঁড় করালেই সংগঠন সচল হবে না। যে ধস গত দশ বছরে বেড়েছে, তা পুনঃনির্মাণ করার পরিকল্পনা যদি না হয় বাস্তবসম্মত ও যুগোপযোগী, তা হলে ফলাফল ভিন্নতর হবে না। দায়িত্বে যারা, তাদের কর্তব্য হওয়া সঙ্গত বিপর্যয় আর বাড়তে না দেয়া এবং তা এড়াতে করণীয় নির্ধারণ করে তা কার্যকর করার মধ্যে সঠিক পন্থা পাওয়া যেতে পারে। কেবল মধুর ক্যান্টিন নিয়ন্ত্রণ থাকলেই যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মনোজগৎ নিয়ন্ত্রণে থাকে না, এটা তো প্রমাণিত এখন। সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংযোগ না থাকলে মধুর ক্যান্টিন কেন, অন্য কোথাও বসে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করা যায় না। সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ নামক হঠাৎ গজিয়ে ওঠা সংগঠনটি মূলত ইসলামী ছাত্রশিবির পরিচালিত। এদের সমর্থনে রয়েছে বামপন্থী নামধারী ছাত্র ফেডারেশন, ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্রফ্রন্ট ইত্যাকার সংগঠন। স্খলন হলে বামপন্থীদের অবস্থা কি দাঁড়ায়, অতীতের মতো এবারও তা স্পষ্ট হয়েছে। বঙ্গবন্ধু বলতেন, ঘড়ির পেন্ডুলাম একবার বাঁ দিকে, একবার ডানদিকে যায়। সুতরাং বামদের কট্টর ডান হয়ে ওঠার অজস্র উদাহরণ বিশ্বজুড়েই মিলবে। পশ্চিমবঙ্গেতো বামফ্রন্টের অনেক নেতাকর্মী এখন বিজেপির নেতাকর্মীতে রূপান্তরিত হয়েছে।

কথিত কোটা সংস্কারকে কেন্দ্র করে যে নৈরাজ্য ও নৈরাশ্য দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছে, তার পেছনে অন্য ইন্ধন যে ছিল, তা তদন্ত না করেই অনায়াসে বলা যায়। জামায়াত-শিবির ও ইসলামী ছাত্রী সংস্থার তৎপরতা সবসময়ই ছিল, কৌশলে তারা বিভিন্ন জনদাবির সঙ্গে মিশে যেতে পারে। সন্ত্রাস ও নাশকতা চালাতে পারে। নব্বই-এর গণআন্দোলনের সময় এরা ১৫, ৭ ও ৫ দলীয় তিন জোটের সমান্তরালে আন্দোলনের মাঠে নেমেছিল। তখন তারা পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছে রাজাকার পুনর্বাসনকারী সংগঠন বিএনপির। ২০১৩, ১৪ ও ১৫ সালে পেট্রোলবোমা মেরে জীবন্ত মানুষ হত্যা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, বৃক্ষ নিধনসহ নির্মমতা ও নৃশংসতার নজির রেখেছে জামায়াত-শিবির। কোটা সংস্কারের কথিত এই আন্দোলন জামায়াতী-বিএনপির এজেন্ডা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পরিচালিত। এই কথিত আন্দোলন বহুমাত্রিক ষড়যন্ত্রের বেড়াজালে আবদ্ধ হয়ে পড়েছে। স্বাভাবিক আন্দোলন হিসেবে তাই পরিচালিত হতে পারেনি। দাবি যৌক্তিক বা অযৌক্তিক হতে পারে। কিন্তু সহিংসতা যে যৌক্তিক নয়, আন্দোলনকারীরা তা জানা সত্ত্বেও নাশকতার পথ বেছে নিয়েছিল। যা শিবির ও ইসলামী ছাত্রী সংস্থার মূল লক্ষ্য। এই কাজে তারা প্রশিক্ষিত এবং পারদর্শীও বটে। ওরা জানে, একটি মিথ্যা অপপ্রচার অনেক সহজেই জনগণের কোন কোন অংশকে উত্তেজিত করে ভয়ঙ্কর কা- তথা লুটপাট, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ ঘটিয়ে দেশে দাঙ্গা-হাঙ্গামা লাগাতে পারে। এর অসংখ্য দৃষ্টান্ত এ দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছে অতীতে এবং নিকটকালেও। প্রত্যেক সমাজের এবং সংগঠনের একটি নিজস্ব বৈশিষ্ট্য থাকে। বিশ্বায়নের ফলে মানব সমাজেও সংগঠনের বহুল উন্নতি হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি আরও সহজ করে দিয়েছে। মানবজীবন হয়েছে অনেক সহজ। কিন্তু সমাজে ও সংগঠনে কী পরিমাণ ঘুণ ধরেছে, তা চারপাশে তাকালেই স্পষ্ট হয়। কথিত কোটা সংস্কারের নামে বিএনপি-জামায়াতের ক্যাডার সংগঠন শিবির ও বাম মার্গীয় সশস্ত্ররা যে তান্ডব চালিয়েছে, তা আন্দোলন নয়, নাশকতা এবং অমার্জনীয় অপরাধ। কিন্তু ছাত্রলীগের ‘দুর্গ’ বলে দাবিদার ক্যাম্পাসের ছাত্রলীগাররা বুঝতে পারেননি যে তাদের দুর্গ নড়বড়ে হয়ে যাচ্ছে। দুর্গ রক্ষা করা আর সহজসাধ্য যে নয়, তারা এখনও বুঝতে পেরেছে বলে মনে হয় না। তাদের মস্তিষ্ককোষে এটা প্রকটিত হয়নি যে, আন্দোলনের নামে কথিত আন্দোলনকারীরা ভিন্ন উদ্দেশ্য সাধনের জন্য অর্থাৎ অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করে চরম অরাজকতা সৃষ্টি করার জন্যই রাতের বেলায় ক্যাম্পাস দখল করে, তাদের অসুদদ্দেশ্য সাধন করতে পারে। ইসলামী ছাত্রী সংস্থা যে গত কয়েকবছর ধরে মেয়েদের হলে এক ধরনের তৎপরতা চালিয়ে মেয়েদের সংগঠিত করে শক্তিমত্তা অর্জন করেছে, তা বোঝার ক্ষমতা বর্তমান ছাত্রলীগ নেতাদের মধ্যে অনুপস্থিত। দেখা গেছে, ছাত্রলীগেরই কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখার অনেক নেতা ফেসবুকে ছাত্রলীগ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে শিবির পরিচালিত কথিত আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করছে। এমনকি সরকারবিরোধী স্ট্যাটাসও দিয়েছে। তবে এদের সংগঠন থেকে কারণ দর্শানো হয়নি অদ্যাবধি। কেন হয়নি, তা অস্পষ্ট। পুরো ঘটনার বিষয়ে সংগঠনের কোন পর্যালোচনাও পাওয়া যায়নি। দলীয় গ্রুপিংয়ের মাত্রা কী পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে, কবি সুফিয়া কামাল ছাত্রী হলের ঘটনাসমূহ তার প্রমাণ বহন করে। এই বিষয়গুলোর ‘বেনিফিসিয়ারি’ হয়েছে বলা যায়, আন্দোলনরত শিবির ও বাম মার্গীয়রা। তাদের সকল অপকর্ম তথা আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে নিয়ে যাওয়া, মঙ্গল শোভাযাত্রার উপকরণ ভাংচুর, উপাচার্যের বাসভবনে তা-ব ও উপাচার্যকে হত্যার চেষ্টা, সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা এই ফাঁকে চাপা পড়ে গেছে। ছাত্রলীগাররা বুঝতে অক্ষম ছিল যে, এই কথিত আন্দোলন মূলত মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধা বিরোধিতার নামান্তর। শিবিরের সাফল্য যে, তারা এই বিষয়ে সাধারণ ছাত্রদের বিভ্রান্ত করে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি বিষোদগারের মাত্রা বাড়িয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের উত্তরসূরিদের কোটা কত শতাংশ রাখা উচিত সে নিয়ে আলোচনা হতে পারে। কিন্তু সে পথে না গিয়ে বাঙালীর বীর যোদ্ধা, যারা দেশ স্বাধীন করেছে বলে এই প্রজন্ম উচ্চশিক্ষা লাভের সুযোগসহ চাকরি পাচ্ছে, অথচ তাদের বিরুদ্ধাচরণ করছে। পাকিস্তান যুগে বাঙালীর উচ্চ শিক্ষাগ্রহণ ও চাকরি পাবার পথ ছিল দুর্গম। স্বাধীনতার পর বাঙালী সেই অবস্থা থেকে অনেক দূর এগিয়েছে। আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ এই মুক্তিযুদ্ধে ছিল সর্বাগ্রে। বাস্তবতা এই যে, পঁচাত্তর পরবর্তী সামরিক জান্তা ও তাদের উত্তরসূরিরা প্রশাসনে চাকরির ক্ষেত্রে জামায়াত শিবিরকেই প্রাধান্য দিয়েছে। তাই প্রশাসনে এখনও স্বাধীনতাবিরোধী চেতনাধারীরা সংখ্যায় কম নয়, এরা অনেকে ‘জয়বাংলা’ বলে কৌশলগত কারণে। সরকারের কাছে এদের গ্রহণযোগ্যতাও অনেক বেশি। দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিবির ও ছাত্রদলের যেসব কর্মী ও সমর্থক প্রকাশ্যে সাংগঠনিক কাজ চালাতে পারছে না, তাদের একটি অংশ কোটা নিয়ে রাজপথে নেমেছে শুধু নয়, নেতৃত্বও তাদের হাতে। যে চারজন নেতৃত্ব দিচ্ছে, তারা সবাই শিবির নামক সংগঠনের নেতা। সাধারণ শিক্ষার্থীদের আড়ালে তারা নানা অপকর্ম অতীতেও চালিয়েছে চট্টগ্রাম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেদিনের হামলার মতো জঘন্য, বিকৃত, বীভৎস ঘটনার হোতাদের চরিত্র বিশ্লেষণ সমাজ বিজ্ঞানীদের পক্ষেও কঠিন। তারা বলছেন, এটা এক ধরনের বিশেষায়িত আনন্দ। এক ধরনের বিকারগ্রস্ততা। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, মানসিক রোগীরা হয় নিরীহ প্রকৃতির। কিন্তু শিবিরকর্মীরা নিরীহ নয়। তাদের চেহারায় এক ধরনের অমানবিকতার ছাপ থেকে হিংস্রতায় তারা উদ্দীপ্ত হয়। গত নয় বছর ধরে প্রকাশ্য রাজনীতিতে সুবিধা করতে না পেরে আত্মগোপনে থাকা শিবির অন্য সংগঠনে আশ্রয় নিয়েছে অবলীলায়। তাদের ছাত্রী সংস্থা সক্রিয়। মেয়েদের হলে হলে তারা ধীরে ধীরে অবস্থান নিয়েছে।

এমনিতে গত ক’বছর ধরে শুনে আসছি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে ছাত্রশিবির এবং ছাত্রদল অনুপ্রবেশ করেছে। যা ক্রমান্বয়ে জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন পর্যায়ে সংক্রমিত হয়েছে। শুধু তাই নয়, আদি আকৃত্রিম ছাত্রলীগারদের হটিয়ে তারা পদ ও পাদবি বাগাতে পেরেছে। পদ পেয়ে তারা আরও শিবির ও ছাত্রদল কর্মীদের ছাত্রলীগে অনুপ্রবেশ ঘটিয়েছে। আবার দেখা গেছে, বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রসংগঠনের শাখা না থাকলেও সেখানকার ছাত্রদের মহানগর ও থানা কমিটির নেতৃত্বে রাখা হয়েছে। এমন বিতিকিচ্ছিরি কা-কারখানা রোধে কেউ এগিয়ে আসেনি। প্রচার রয়েছে যে, অর্থের বিনিময়ে এসব পদ ও পদবি বণ্টন করা হয়েছে। এদের অনুপ্রবেশের বিষয়ে সহযোগী সংগঠন আওয়ামী লীগে অবস্থান নেয়া পদ পদবিধারী জামায়াত-বিএনপি নেতারাই ছিল উদ্যোগী। বর্তমান জামায়াত-শিবির নেতৃত্ব সম্পর্কে আওয়ামী লীগের অনেক নেতাই ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন। ঘৃণাভাব নেই তাদের। বরং অনেক নেতা তো তাদের সাদরে দলে পুষ্প দিয়ে বরণ করে নিয়ে পদ-পদবি দিয়ে পুষছেন জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন পর্যায়েও। বলেছেনও এমন, এরা নতুন প্রজন্মের জামায়াত-শিবির। এরা যুদ্ধাপরাধী নয় বলে অতি সরলীকরণ ভাষ্যও দিয়েছেন কোন কোন নেতা। তাই দেখা যায়, ২০১৩, ১৪ ও ১৫ সালে নাশকতা চালানোর পর আত্মগোপনে থাকা জামায়াত-শিবির তাদের রণকৌশল পাল্টেছে। তাদের সুচতুর ক্যাডাররা ক্রমান্বয়ে সরকারী দল ও অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনগুলোতে সুঁই হয়ে ঢুকে পড়েছে। আগামীতে ফাল হয়ে বেরুবে হয়ত। ভোটের রাজনীতিকে সামনে রেখে দলভারি করার জন্য এদের দলে ঠাঁই দিলেও, তারা যে শেষ পর্যন্ত অনুগত থাকবে, বলা যায় না। পদ-পদবি বাগিয়ে নিয়ে আদি অকৃত্রিম আওয়ামী লীগরদের হটিয়ে বা খেদিয়ে নিজেদের অবস্থান পাকাপোক্ত করে দলটিকে জামায়াতী রাজনীতির ধারায় নিয়ে যাবার স্বপ্ন পূরণ করতে চায় তারা। ছাত্রলীগে তাদের অবস্থান বেশ ভাল। ছাত্রলীগের শিবিরপন্থীরা সেদিন রাতে ভেবেছিল তাদের উদ্দেশ্য সাধন হতে যাচ্ছে, সরকারের পতন ঘটবে, তাই তারা ছাত্রলীগ থেকে পদত্যাগ করে নাশকতায় শরীক হয়েছিল। জামায়াতীরা যেমন আওয়ামী লীগের রাজনীতির ধারক ও বাহক হয়ে উঠছে, তেমনি ছাত্রলীগেও শিবির। তাদের হাতে সংগঠনটি যেন ‘অদ্ভুত জন্ম’ লাভ করেছে। হাঁস আর শজারু মিলে সুকুমার রায় হাঁসজারু বানিয়েছিলেন। শিবির-ছাত্রলীগ মিলে ‘খেচর’ দাঁড়াবে হয়ত।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে জামায়াত-বিএনপির অনুপ্রবেশ ঘটেনি। কিন্তু অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো থেকে নিচ পর্যন্ত তারা ছেয়ে আছে। ক্রমশ পঙ্গপালের মতো ছড়িয়ে পড়বে। আওয়ামী লীগ অবশ্য এমনটাও বলে যে, দলে হাইব্রিড আর কাউয়া বেড়েছে। দেড় বছর আগে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কাউন্সিল অধিবেশনে ঘোষণা হয়েছিল যে, এদের চিহ্নিত করে দল থেকে বের করে দেয়া হবে। এদের কারণে নাকি দল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কিন্তু এ সময়কালে কাউকে চিহ্নিত করা দূরে থাক, একটি হাইব্রিড বা একটি কাউয়াও বহিষ্কৃত হয়নি। বরং অনুপ্রবেশ বেড়েছে আরও নির্বাচনকে সামনে রেখে।

কোটা সংস্কারের কথিত আন্দোলনের মাধ্যমে তরুণদের যেভাবে বিভ্রান্ত করা হয়েছে যা হচ্ছে, তাতে ছাত্রলীগের একাংশের ইন্ধন হয়ত থাকতে পারে। পরিস্থিতি তারা এমনভাবে তৈরি করেছে যে, সাধারণ ছাত্ররাও তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে পড়েছে। তারা যে শিবির, তা আড়াল করার জন্য, জয়বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু পর্যন্ত পাপিষ্ঠ মুখে উচ্চারণ করছে। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এখন খৈ ফোটাচ্ছে। অথচ তাদের আন্দোলন শুরু হয়েছে মুক্তিযোদ্ধা কোটার বিরুদ্ধে। ১৯৯৬ সালে যখন এই কোটার ঘোষণা দেয়া হয়, তখনই শিবির এর বিরোধিতা করলেও হালে পানি পায়নি। নতুন করে আবার ২০১৩ সালে শুরু করলেও সুবিধে করতে পারেনি। এরপর গোপনে গোপনে তৎপরতা চালিয়ে এক সময় প্রকাশ্য হয়। গত ফেব্রুয়ারিতে এই দাবি নিয়ে সমাবেশ করে সাধারণ ছাত্রদের ব্যানারে। সে জন্য গত ফেব্রুয়ারি, মার্চ মাসে সারাদেশের শিবিরের ক্যাডাররা ঢাকায় জড় হতে থাকে। অবরোধ, হরতাল, মানুষ হত্যা করেও আন্দোলন সফল করতে না পারা বিএনপি-জামায়াত এই আন্দোলনকে পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করে আসছে। এদের অভিন্ন লক্ষ্য হচ্ছে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি, সরকারকে আত্মরক্ষামূলক অবস্থানে ঠেলে দিয়ে বেগম জিয়ার মুক্তি ত্বরান্বিত করা, জেল থেকে যুদ্ধাপরাধীদেরকে উদ্ধার করা। আর এজন্য রাতের বেলা ক্যাম্পাস জুড়ে নাশকতা চালিয়েছিল। গুলির ব্যবহার করেছে। রড, লাঠি নিয়ে উপাচার্যের বাসভবনে নাশকতা ও তা-ব চালানোর শক্তিমত্তা অর্জনে শিবিরপন্থী ছাত্রলীগারদের পেয়েছে পাশে। কোটার জন্যই যদি আন্দোলন, তাহলে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে এমনকি স্পীকারের কাছেও স্মারকলিপি দিয়ে আলোচনা চালাতে পারত। কিন্তু সে পথে গেলে যে তাদের লক্ষ্য হাসিল হবে না। তাই ওই পথ মাড়ায়নি। সুতরাং রাতকেই বেছে নিয়েছিল। শিবিরের শক্ত ‘চেইন অব কমান্ড’ এমন ছিল যে, দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাধারণ ছাত্রদের রাস্তায় নামাতে বেগ পায়নি। বরং তুরুপের তাসের মতো দেশের অন্যান্য স্থানেও ছাত্রলীগ তাদের সহযোগী হয়েছে। কোটা পদ্ধতির এই কথিত আন্দোলন সম্পর্কে সরকারী দল যেমন অন্ধকারে ছিল, তেমনি ছাত্রলীগেরও সম্যক ধারণ ছিল না। এ বিষয়ে তাদের করণীয় কি? নিশ্চয় তাদের অথর্বতার কারণে শিবির নেতৃত্ব শুধু নয়, ক্যাম্পাসে অবস্থান নিতে পেরেছে। ছাত্র সমাজের সমর্থন যেমন পেয়েছে, তেমনি গণমাধ্যমের আশীর্বাদও তাদের প্রতি। এখানেই শিবিরের সাফল্য। সরকারের মনে রাখা উচিত ছিল, বিশৃঙ্খলা তৈরি হলে তা কিন্তু চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। তাই আগে ভাগেই এই পরিস্থিতি সৃষ্টির পথ বন্ধ করে দেয়াটাই সঙ্গত। এক্ষেত্রে তা হয়নি বোধের ঘাটতির জন্য হয়তবা। প্রশাসনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাও ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে শিবিরের নেতৃত্বাধীন আন্দোলনকে সমর্থন করেছেন। দুঃখজনক যে, এসব ঘটনায় সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোন ব্যাখ্যা দেয়া হয়নি। একজন ছাত্র নিহতের গুজব ছড়িয়ে যে তা-ব চালানো হয়েছে, সে ব্যাপারে সরকার তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিতে পারেনি। সরকার তো আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা আগেই করতে পারত। কিন্তু ‘দেখি না কী হয়’ মার্কা চেতনা ধারণ করলে তো সবই ‘গুবলেট’ হতে বাধ্য। সব ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীকেই সিদ্ধান্তে নিতে হচ্ছে। মন্ত্রী, এমপি, আমলারা তবে কি ¯্রফে শোভাবর্ধন? তাদের থাকা না থাকায় তবে কী এসে যায়?

ক্যাম্পাসে এখন শিবিরের অধিপত্য। কী করে তাদের আধিপত্য বেড়ে গেল, কাদের ছত্রছায়ায় তারা অবস্থান নিতে পারল, নেতৃত্ব তাদের হাতে কীভাবে গেল, সে সব প্রশ্ন আসছেই।

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক প্রিন্স এনামুল হক গত ২০ এপ্রিল রাত নয়টা ৩৫ মিনিটে ফেসবুকে লিখেছেন, ছাত্রশিবির এখন বিভিন্ন নামে ক্যাম্পাসে সোচ্চার হয়েছে। নানা ধরনের গুজব ছড়িয়ে ছাত্রসমাজের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠনে ঢুকে বিশৃঙ্খলা করছে, ধ্বংসাত্মক কর্মকা- পরিচালনা করছে। এরা হিং¯্র হয়ে উঠছে। এদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে সরকার উৎখাত করা এবং খালেদার মুক্তি না হলে সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সহিংসতা ছড়িয়ে দেয়া এবং ক্যাম্পাস নিয়ন্ত্রণে রাখা। তার বক্তব্য প্রমাণ করে, ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে পারছে না। তাদের দুর্গ ভেঙ্গে ভেঙ্গে পড়ছে। বাম মার্গীয় ছাত্রদের সে রাতের ভূমিকাও ছিল শিবিরের সহযাত্রী হয়ে অরাজক অবস্থা সৃষ্টি। কোটা প্রথার সংস্কারের নামে শিবিরের কথিত আন্দোলনে ছাত্রলীগের একটি অংশের যোগদান সম্পর্কে ছাত্রলীগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সহ-সভাপতি এনায়েত হোসেন রেজা বলেন, ছাত্রলীগের শিবিরপন্থীরা এই গোপন তৎপরতা সম্পর্কে নিশ্চয় জানতেন। ঘটনা চলাকালীন ফেসবুকে তাদের অনেকের স্ট্যাটাস সেই কথাই প্রমাণ করে। সম্ভবত পুরো বিষয়টি সম্পর্কে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতারা অন্ধকারে ছিলেন। সবাই ব্যস্ত ১১ মে’র সম্মেলন আয়োজন নিয়ে। ছাত্রলীগ এই আন্দোলনকে ছাত্রদের স্বাভাবিক আন্দোলন ভেবেছিল। কিন্তু কোটার আড়ালে যে নাশকতার লক্ষ্য তা স্পষ্ট হয়, চারুকলা ও উপাচার্যের বাসভবনে তা-ব চালানোর পর। সংগঠনের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা শিবির ও ছাত্রদলকে সম্মেলনের মাধ্যমে উচ্ছেদ করা হবে। আসলে গুজব এমনভাবে ছড়ানো হয়েছিল যে ছাত্রলীগের অনেকে তাতে বিভ্রান্ত হয়েছে। তবে সে রাতে মেয়েরা হল থেকে বেরিয়ে এসে ছিল স্রেফ গুজবের কারণেই নয়, ইসলামী ছাত্রী সংস্থার উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচীর অংশ হিসেবেও। এনায়েত হোসেনের ভাষ্য সম্ভবত বাস্তবতার কাছাকাছি। কিন্তু সংগঠন যে দুর্বল হয়ে পড়েছে, সে কথা তিনি মানতে রাজি নন। ইতিহাস বলে, শক্তিশালী সংগঠন ছিল বলেই বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ে তুলতে পেরেছিলেন। শিবিরের প্রচার-প্রচারণা যেহেতু গোয়েবলসীয় কায়দার, তাই তাদের প্রচারণায় সাধারণ ছাত্র শুধু নয়, ছাত্রলীগাররাও প্রভাবিত হয়েছে। বিভীষিকাময় সে রাতের পূর্বাপর ঘটনাগুলো একসূত্রে গ্রথিত করলে শিবিরের এক ধরনের জয় এবং ছাত্রলীগের এক ধরনের পরাজয় হয়েছে বলা যায়। নেতৃত্ব দুর্বল হলে সংগঠনকে গতিশীল রাখা দুরূহ। এই কথিত আন্দোলনের পেছনে বিশাল অঙ্কের অর্থ কাজ করছে। সেই অর্থের একটা অংশ যে ছাত্রলীগের কতিপয় ভ্রান্তিবিলাসীকে নষ্ট পথে নিয়ে গিয়েছে, তা অনুমান করা যায়। সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলছে। তার সুবিধাভোগী শিবির ও জঙ্গী সন্ত্রাসীরা। কিন্তু ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ এক্ষেত্রে পেছনে পড়ে আছে। প্রযুক্তির ব্যবহার শিবির শিখে নিচ্ছে, দক্ষ হচ্ছে, তবে মননে আধুনিক না হয়েই। এতে তাদের মানসিক বৈকল্যও জন্ম দিচ্ছে। এই অবস্থা যেন ছাত্রলীগের না হয়। ঐতিহ্যবাহী সংগঠনটি আজকের করুণ দশা থেকে উঠে আসবে। তবে তা আলৌকিকভাবে নয়, হতে হবে লৌকিকভাবে। আদি অকৃত্রিম দক্ষ, যোগ্য, মেধাবীদেরই নেতৃত্বে আনা উচিত। বয়সের সীমা নির্ধারণ করে দুর্বল নেতৃত্বকে সমাসীন করা কতটা সঙ্গত, তা ভাবা উচিত। কোটা নামক কথিত আন্দোলনকারীরা সাত মে’র পর কোনদিকে ধাবিত হয়, তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। সরকার এ সময়ে মধ্যে বিষয়টির নিষ্পত্তি করতে আগ্রহী।





The Daily Janakantha website developed by
BIKIRAN.COM
]]>
কিশোর অপরাধ বাড়ছে http://www.dailyjanakantha.com/details/article/342316/কিশোর-অপরাধ-বাড়ছে http://www.dailyjanakantha.com/details/article/342316/কিশোর-অপরাধ-বাড়ছে 2018-04-22T10:27:57+0000 Daily Janakantha দেশে কিশোর অপরাধ বাড়ছে। রাজধানীর উত্তরাতেই রয়েছে কয়েকটি গ্রুপ। সেগুলোর নামেরও নানা বাহার- নাইন স্টার, ডিস্কো বয়েজ, বিগ বস ইত্যাদি। ...

কিশোর অপরাধ বাড়ছে

 

সম্পাদকীয়

Daily Janakantha

দেশে কিশোর অপরাধ বাড়ছে। রাজধানীর উত্তরাতেই রয়েছে কয়েকটি গ্রুপ। সেগুলোর নামেরও নানা বাহার- নাইন স্টার, ডিস্কো বয়েজ, বিগ বস ইত্যাদি। এ রকম আরও একাধিক গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে রাজধানী ও দেশের অন্যত্র। অধিকাংশই কিশোর বয়সী- নাইন-টেন থেকে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী। এসব গ্রুপের আবার গ্যাং লিডারও রয়েছে, যারা অপেক্ষাকৃত অল্প শিক্ষিত এবং মস্তান শ্রেণীর। অধিকাংশই ফেসবুক, ইন্টারনেটে আসক্ত, মাদকাসক্ত, ছোটাখাটো ছিনতাই-রাহাজানির সঙ্গে যুক্ত। পুলিশের খাতায় নাম লেখানো উচ্ছৃঙ্খল বিপথগামী সন্তান। এক গ্রুপের সঙ্গে অন্য গ্রুপের সম্পর্ক মোটেও ভাল নয়- প্রধানত এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে। ফলে মারামারি, হানাহানি, খুনাখুনি তদুপরি প্রতিশোধ স্পৃহা লেগেই থাকে। গত বছর উত্তরায় স্কুলছাত্র আদনান কবির হত্যার এক বছরের মাথায় ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে কিশোর গ্যাং। ২০ মার্চ ফেসবুকে ঘোষণা দিয়ে নাবিল মোবারক নামের এক স্কুলছাত্রকে হত্যার চেষ্টা চালায় তারা। আশঙ্কাজনক অবস্থায় নাবিল এখন ভর্তি ঢামেক হাসপাতালে।

উদ্বিগ্ন ও উৎকণ্ঠিত অভিভাবকদের মধ্যে এই প্রশ্ন জেগে ওঠা স্বাভাবিক যে, এসব কী হচ্ছে দেশে? একেবারে কিশোর বয়সী বাচ্চা ছেলেমেয়েরা জড়িয়ে পড়ছে নানা রকম অপরাধমূলক কর্মকা-ে! প্রায় সবাই সমবয়সী, সহপাঠী বন্ধু, একই স্কুল অথবা পাশাপাশি স্কুলেই পড়াশোনা করে সবাই। সর্বোপরি নিকট প্রতিবেশী। চাই কী, ঈদ কিংবা অন্য কোন পালাপার্বণে একজন আরেকজনের বাসায়ও গিয়েছে, দাওয়াতও খেয়েছে। মিলিত হয়েছে কোন উৎসব আয়োজনে। সেই বন্ধুই কিনা হঠাৎ করে একদিন ভয়ঙ্কর শত্রু হয়ে যায়, একেবারে খুন করে ফেলে! কিশোর-তরুণদের এভাবে বখে যাওয়া, দলাদলি, গ্রুপিং-লবিং, পাড়া-মহল্লায় আধিপত্য বিস্তার, মেয়েদের উত্ত্যক্ত করা ইত্যাদিকে বলা হয় ‘গ্যাং কালচার।’ আইনের পরিভাষায় জুভেনাইল সাবকালচার। এ নাকি নগরায়ণের সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে একে কালচার বলতে দ্বিধা জাগে। বরং বলা যেতে পারে অপসংস্কৃতি- যা সর্বতোভাবে ঘৃণ্য ও পরিত্যাজ্য।

উত্তরার নাইন স্টার ও ডিস্কো বয়েজেরও গডফাদারের সন্ধান মিলেছে। পুলিশের খাতায় তাদের নাম-ধাম-পরিচয় আছে। আছে মামলা, গ্রেফতার এবং জামিনের খবরও। উত্তরা পুলিশের নথিপত্র বলছে, এই দুই গ্রুপের মধ্যে গত কয়েক মাসে সংঘাত-সংঘর্ষে এ পর্যন্ত মামলা হয়েছে পাঁচটি, তিনটি মারামারি, চতুর্থটি ছুরিকাঘাত এবং পঞ্চমটি খুনের। প্রশ্ন জাগে, এটাই কি শেষ? এও সত্য যে, উত্তরার মতো ভয়ঙ্কর সব গ্রুপ গজিয়ে উঠেছে ও উঠছে রাজধানীর অন্যত্র, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, রংপুর ও অন্যত্র। এরা প্রায়ই তুমুল হর্ন বাজিয়ে তীব্র গতিতে রাজপথ দাপিয়ে বেড়ায় হোন্ডায়, সমবয়সী মেয়েদের সকাল-বিকেল উত্ত্যক্ত করে, ফেসবুকে আপত্তিকর স্ট্যাটাস দেয়, মোবাইলে অশ্লীল ছবি ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করে, খেলার মাঠে হামলা চালায় প্রতিপক্ষের ওপর, সর্বোপরি ছিনতাই-চাঁদাবাজি তো আছেই। বেপরোয়া এসব তরুণ কিসের উন্মাদনা, বঞ্চনা অথবা বীরত্ব দেখাতে এসব করে বেড়ায় সমাজে? প্রসঙ্গত পাঠকের মনে পড়তে পারে ঐশীর কথা, যে তার পুলিশ অফিসার বাবা ও মাকে কফির সঙ্গে বিষ মিশিয়ে মেরে ফেলেছিল প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে। অথবা চট্টগ্রামের ঘটনাই বা কম কী? যেখানে সহপাঠী বন্ধুরা ছাদে হিংস্র কুকুর লেলিয়ে দিয়ে মেরে ফেলেছিল হিমাদ্রীকে। কিশোরদের এসব অপরাধমূলক কর্মকা-ের জন্য শুধু মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, ফেসবুক, ইন্টারনেট ইত্যাদিকে দোষ দেয়া যাবে না। শুধু থানা-পুলিশ দিয়েও হবে না। এক্ষেত্রে সবিশেষ গুরুদায়িত্ব রয়েছে সমাজ, পরিবার ও অভিভাবকদের, বিশেষ করে মা-বাবা, ভাইবোনের। খেলাধুলা কিংবা পার্টির ছলে ছেলেটি কোথায় যায়, কী করে, কাদের সঙ্গে মেশে, তা নিয়মিত রাখতে হবে নজরদারিতে। পাড়া-মহল্লার মুরব্বিরাও এক্ষেত্রে দেখভাল করতে পারেন। যথাযথ ভালবাসা দিয়ে সন্তানদের বোঝালে বিপথগামী হওয়া থেকে রক্ষা পেতেও পারে তারা।


The Daily Janakantha website developed by
BIKIRAN.COM
]]>
কোটা সংস্কারের পক্ষে মত সংসদীয় কমিটির http://www.dailyjanakantha.com/details/article/342315/কোটা-সংস্কারের-পক্ষে-মত-সংসদীয়-কমিটির http://www.dailyjanakantha.com/details/article/342315/কোটা-সংস্কারের-পক্ষে-মত-সংসদীয়-কমিটির 2018-04-22T10:27:26+0000 Daily Janakantha অনলাইন রিপোর্টার ॥ সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। এক্ষেত্রে কমিটি কোটা ...

কোটা সংস্কারের পক্ষে মত সংসদীয় কমিটির

 

জাতীয়

Daily Janakantha

অনলাইন রিপোর্টার ॥ সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। এক্ষেত্রে কমিটি কোটা পদ্ধতি সহজ করারা কথা বলেছে।


কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে ব্যাপক আলোচনার মধ্যে রবিবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে আলোচ্যসূচিতে না থাকলেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়।


বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি এইচ এন আশিকুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কোটা বাতিলের কথা বলেছেন ঠিকই। কিন্তু আমাদের কিছু দায়বদ্ধতা রয়েছে। দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা রয়েছে। ইতিহাসের (মুক্তিযুদ্ধ) প্রতি দায়বদ্ধতা রয়েছে। আঞ্চলিকতার প্রতি দায়বদ্ধতা রয়েছে। পিছিয়ে পড়া নৃগোষ্ঠীর প্রতিও আমাদের দায় আছে।”


“সংবিধানে সমতার কথা বলা আছে। পিছিয়ে পড়া গোষ্ঠীর সুযোগ-সুবিধার কথা বলা হয়েছে। এসব বিবেচনা করে আমরা কোটা পদ্ধতি সহজীকরণের কথা বলেছি। যুক্তিযুক্ত সংস্কারের কথা বলেছি।”


বর্তমানে সরকারি চাকরিতে নিয়োগে ৫৬ শতাংশ পদ বিভিন্ন কোটার জন্য সংরক্ষিত; এর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য ৩০ শতাংশ, নারী ১০ শতাংশ, জেলা ১০ শতাংশ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ৫ শতাংশ, প্রতিবন্ধী ১ শতাংশ।


কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারী ‘ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’ কোটার পরিমাণ ১০ শতাংশে কমিয়ে আনার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছে গত দুই মাস ধরে।


শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ১১ এপ্রিল জাতীয় সংসদে বলেন, কোটা নিয়ে যেহেতু এত কিছু, সেহেতু কোনো কোটাই আর রাখা হবে না।


কোটা নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি করার কথাও ওই দিন বলেছিলেন সরকারপ্রধান।


পরদিন কয়েকটি দাবি রেখে আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। তারা প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা বাস্তবায়নে সরকারি গেজেট দ্রুত প্রকাশের দাবি জানিয়েছে।



সংসদীয় কমিটির সভাপতি ও আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ আশিকুর রহমান বলেন, এই কোটা নিয়ে যেন কোনো ষড়যন্ত্র ও দুরভিসন্ধি না হয়, সে বিষয়টিতেও নজর রাখতে বলেছে সংসদীয় কমিটি।


বৈঠকে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক নিয়োগে বিদ্যমান পদ্ধতি বাতিল করে আগের পদ্ধতি বহালের সুপারিশ করা হয়েছে।


এ বিষয়ে কমিটির সভাপতি বলেন, এনসিআরটিএ বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেভাবে নিয়োগ দিচ্ছে, তাতে বেশ কিছু সমস্যা দেখা যাচ্ছে। এক-একজন ব্যক্তিদের অনেক দূর-দূরান্তে নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রকৃত মেধার যাচাই হয় না। এজন্য আমরা নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির মাধ্যমে নিয়োগ নিতে বলেছি।


এই বৈঠক নিয়ে সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্ন পত্র ফাঁস ও নকল বন্ধ,পরীক্ষা পদ্ধতি ও পরীক্ষা কেন্দ্র কমানো এবং শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা যুগোপযোগী করার বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।


আগামী অর্থ বছরে প্রতিটি উপজেলায় একটি করে কলেজ সরকারি করতে এবং এমপিওভুক্তির প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার জন্যও শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করে জনপ্রশাসনের এই সংসদীয় কমিটি।


এছাড়া জেলা শহরে অনেক অননুমোদিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হচ্ছে সে গুলোর বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসককে একটি নীতিমালার আওতায় আনার বিষয়ে কমিটি সুপারিশ করে।


বৈঠকে কমিটির সদস্য জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক, এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী, র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী, মুস্তফা লুৎফুল্লাহ, খোরশেদ আরা হক ও জয়া সেন গুপ্তা অংশ নেন।


The Daily Janakantha website developed by
BIKIRAN.COM
]]>
ট্রিপল থ্রি http://www.dailyjanakantha.com/details/article/342314/ট্রিপল-থ্রি http://www.dailyjanakantha.com/details/article/342314/ট্রিপল-থ্রি 2018-04-22T10:27:11+0000 Daily Janakantha জনগণের দোরগোড়ায় নাগরিকসেবা পৌঁছে যাওয়ার পর জীবনে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে। পশ্চাৎপদ সব ধ্যান-ধারণা এখন আমূল বদলে যাওয়ার পথে। ...

ট্রিপল থ্রি

 

সম্পাদকীয়

Daily Janakantha

জনগণের দোরগোড়ায় নাগরিকসেবা পৌঁছে যাওয়ার পর জীবনে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে। পশ্চাৎপদ সব ধ্যান-ধারণা এখন আমূল বদলে যাওয়ার পথে। ডিজিটাল বাংলাদেশের পথে আরেক প্রক্রিয়া চালু হলো। দেশের প্রতিটি গ্রামের মানুষ এখন সরকারী সেবা পাবে সহজেই। দেশের প্রতিটি মানুষের জীবনের উন্নয়নে পরিবর্তন আনা, দারিদ্র্যমুক্ত, ক্ষুধামুক্ত করা, সবাইকে শিক্ষা দেয়া, সবার আয় বাড়ানোর ক্ষেত্রগুলো ক্রমশ সম্প্রসারিত হচ্ছে। মানুষের ভোগান্তি হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়েছে অনেক। কোথাও বেড়াতে যাবেন- প্রয়োজন সে অঞ্চলের হোটেল-মোটেল ভাড়া করা, কোন্্ নম্বর থেকে যাবতীয় তথ্য পেতে হবে, কী ভাবে পাবেন, জানা নেই। সে সমস্যার সহজ সমাধান করে দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক্সেস টু ইনফরমেশন (এটুআই)। চালু করেছে নতুন কল সেন্টার। ‘সরকারী তথ্য ও সেবা সবসময়’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে এই সেন্টার চালু হয়েছে। এ সেবার আওতায় দেশের যে কোন প্রান্ত থেকে ৩৩৩ নম্বরে কল করে গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক সেবা পাওয়া যাবে। সরকারী বিভিন্ন তথ্য, সেবা, কর্মকর্তাদের তথ্য, বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার প্রতিকার এবং পর্যটন ও জেলা সম্পর্কিত যে কোন সময় দেশ ও দেশের বাইরে থেকে এই নম্বরে ফোন করে জেনে নেয়ার এই সুযোগ প্রদানের মাধ্যমে জনগণের প্রতি সরকারে দায়বদ্ধতা পূরণের এক উজ্জ্বল উদাহরণ বৈকি। দেশের মানুষকে আর সেবার জন্য সরকারী অফিসে আসা-যাওয়া করতে হবে না। ঘরে বসেই পেয়ে যাবে সেবার সকল তথ্য। ডিজিটাল বাংলাদেশের মূল উদ্দেশ্য ছিল সরকারী সেবা প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষও যাতে পেতে পারে, সেজন্য ইউনিয়ন পর্যায়ে ডিজিটাল সেন্টার গড়ে তোলা হয়েছে। ইন্টারনেটকে সহজলভ্য করা হচ্ছে। তারই অংশ হিসেবে এই ‘ট্রিপল-থ্রি’ চালু হয়েছে। এটা অত্যন্ত প্রশংসনীয় এবং জনগুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। প্রান্তিক জনগোষ্ঠী পশ্চাৎপদতা থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগও পাচ্ছে। তাদের জীবনে নতুন এক ভুবন তৈরি হলো। এই দেশ ও দেশের সরকার এবং জনগণের মধ্যকার সম্পর্ক, কাজকর্ম এবং নিজস্ব অধিকার প্রাপ্তির দরজাগুলো খুলে যাচ্ছে ক্রমান্বয়ে। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সেবাপ্রাপ্তির এই সুবর্ণ সুযোগ মানুষকে অগ্রগতির পথে নিয়ে যাচ্ছে। এক বছর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে কল সেন্টারটি। পরীক্ষামূলক পর্যায়ে গত মার্চ মাস পর্যন্ত ছয় লাখের বেশি নাগরিক এ সেবায় কল করেছেন। এর মধ্যে চার হাজারের বেশি ছিল বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার বিষয়ে অভিযোগ। যার মধ্যে ছিল খাদ্যে ভেজাল বিষয়ে ৫২১টি, বাল্যবিয়ে নিয়ে ২৯২টি, মাদক বিক্রির অভিযোগ ১৬১টি। প্রাপ্ত এসব অভিযোগ তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়। এতে সাধারণ জনগণের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। এটা তো বাস্তব যে, এখনও দেশের অধিকাংশ মানুষ নানা কারণে তথ্য প্রাপ্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত। বিভিন্ন সমস্যায় পড়ে নানা কারণে সঠিক প্রতিকার পায় তারা। এই সেবা তাদের জীবনে এক আলোকবর্তিকা অবশ্যই। ফোন করার কল রেট ‘টোল ফ্রি’। দেশের মানুষ যেমন, তেমনি প্রবাসীরাও সুবিধা নিতে পারবেন। রাতদিন ২৪ ঘণ্টা চালু থাকায় যে কোন সময় অভিযোগ জানানো যাবে। দেশের ৬৪ জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে এই কল সেন্টার চালু করা হয়েছে। নকল ও ভেজালপণ্য ক্রয়ে প্রতারিত হওয়া, বাল্যবিয়ে সংক্রান্ত, সরকারী অফিসে বিড়ম্বনায় পড়া, এলাকার রাস্তাঘাট নষ্ট থেকে আরম্ভ করে যে কোন সামাজিক সমস্যা জানিয়ে ফোন করা যাবে। দুর্যোগকালীন সহায়তাও মিলবে। ফোনের পাশাপাশি এসএমএসের মাধ্যমেও তথ্য দেয়া যাবে। তবে সংশয় জাগে, অদক্ষ জনবল, অভিযোগ সমাধানে কর্তৃপক্ষের আগ্রহ না থাকা ইত্যাকার কারণে একসময় না অকার্যকর হয়ে পড়ে। তবে এই সেবা জনগণের মধ্যে নতুন প্রণোদনা জোগাবে অবশ্যই।


The Daily Janakantha website developed by
BIKIRAN.COM
]]>
পুলিশ দম্পতি হত্যা মামলায় গৃহকর্মী সুমির রায় ৬ মে http://www.dailyjanakantha.com/details/article/342271/পুলিশ-দম্পতি-হত্যা-মামলায়-গৃহকর্মী-সুমির-রায় http://www.dailyjanakantha.com/details/article/342271/পুলিশ-দম্পতি-হত্যা-মামলায়-গৃহকর্মী-সুমির-রায় 2018-04-22T09:52:55+0000 Daily Janakantha অনলাইন রিপোর্টার ॥ পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (পলিটিক্যাল শাখা) পরিদর্শক মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রী স্বপ্না রহমান হত্যা মামলায় গৃহকর্মী খাদিজা ...

পুলিশ দম্পতি হত্যা মামলায় গৃহকর্মী সুমির রায় ৬ মে

 

জাতীয়

Daily Janakantha

অনলাইন রিপোর্টার ॥ পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (পলিটিক্যাল শাখা) পরিদর্শক মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রী স্বপ্না রহমান হত্যা মামলায় গৃহকর্মী খাদিজা আক্তার সুমি অংশের রায় ৬ মে ঘোষণা করা হবে। মামলার যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে রবিবার (২২ এপ্রিল) ঢাকার ১ম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ ও শিশু আদালতের বিচারক আল মামুন রায়ের জন্য এ দিন ধার্য করেন।

২০১৫ সালের ১২ নবেম্বর নিহতদের একমাত্র মেয়ে ঐশী রহমানকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশের আদেশ দিয়েছিলেন ঢাকার তিন নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল।

মামলার অন্য আসামি ঐশীর বন্ধু মিজানুর রহমান রনিকে খুনের ঘটনার পর ঐশীদের আশ্রয় দেওয়ার অপরাধে দু’বছরের কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও একমাস কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অপর আসামি ঐশীর বন্ধু আসাদুজ্জামান জনি খালাস পান।

ওইদিন ট্রাইব্যুনাল রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেন, সারাদেশ যেখানে শিশু নির্যাতনের বিপক্ষে সোচ্চার সেখানে স্রোতের বিপরীতে গিয়ে একজন শিশুর বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নেওয়া খুবই কঠিন ছিল। আসামিপক্ষ থেকে ঐশীকে শিশু, ঘটনার সময় ঐশী মাতাল ছিল আর হত্যাকাণ্ড ছিল নিছক একটি দুর্ঘটনা এমন দাবি বিচারক নাকচ করে দেন।

তিনি বলেন, আদালতে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত যে ঐশী ১৮ বৎসরের বেশি। ঘটনার সময় সে শিশু ছিল না। আর হত্যাকাণ্ডটি নিছক দুর্ঘটনা ছিল না। এটি ছিল একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। খুনের আগে সে সময় নিয়েই ঠাণ্ডা মাথায় খুন করে।


মামলার আসামি গৃহকর্মী খাদিজা আক্তার সুমি অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তার অংশের বিচার শিশু আদালতে অনুষ্ঠিত হয়। ২০১৪ সালের ১ জুন গাজীপুরের কিশোর সংশোধন কেন্দ্র থেকে মা সালমা বেগমের জিম্মায় জামিনে মুক্তি পায় সে।


The Daily Janakantha website developed by
BIKIRAN.COM
]]>
৪ রানে হারলো সাকিবের হায়দরাবাদ http://www.dailyjanakantha.com/details/article/342270/৪-রানে-হারলো-সাকিবের-হায়দরাবাদ http://www.dailyjanakantha.com/details/article/342270/৪-রানে-হারলো-সাকিবের-হায়দরাবাদ 2018-04-22T09:45:02+0000 Daily Janakantha অনলাইন ডেস্ক ॥ শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে ৪ রানে হারলো সাকিবের হায়দরাবাদ। চেন্নাইয়ের করা ১৮২ রানের জবাবে ১৭৮ রানে থামে হায়দরাবাদের ইনিংস। ...

৪ রানে হারলো সাকিবের হায়দরাবাদ

 

খেলা

Daily Janakantha

অনলাইন ডেস্ক ॥ শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে ৪ রানে হারলো সাকিবের হায়দরাবাদ। চেন্নাইয়ের করা ১৮২ রানের জবাবে ১৭৮ রানে থামে হায়দরাবাদের ইনিংস। টুর্নামেন্টের শুরুর তিন ম্যাচ জেতার পর, টানা দুই ম্যাচে হারলেন সাকিবরা। ৫ ম্যাচে তিন জয়ে পয়েন্ট টেবিলের চারে নেমে গেলো তারা। অন্যদিকে সমান ম্যাচে চতুর্থ জয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে গেল মহেন্দ্র সিং ধোনির চেন্নাই সুপার কিংস।


রান তাড়া করতে নেমে দ্বীপক চাহারের বোলিং তোপে পড়ে হায়দরাবাদ। মাত্র ২২ রানেই সাজঘরে ফিরে যান টপ অর্ডারের তিন ব্যাটসম্যান। ওপেনার রিকি ভুই ৫ বলে শূন্য, মনিশ পান্ডে ২ বলে ০ এবং দ্বীপক হুদা ৭ বল খেলে করেন মাত্র ১ রান। ফলে শুরুতেই পিছিয়ে পড়ে হায়দরাবাদ।


চতুর্থ উইকেটে প্রাথমিক ধাক্কাটা সামাল দেন বাংলাদেশের সাকিব আল হাসান এবং অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। ৩৭ বলে ৪৯ রানের জুটি গড়েন এ দু’জন। মাঠে নামার পর দ্বিতীয় বলেই চার মারেন সাকিব, পঞ্চম বলে হাঁকান ছক্কা। তবে ঝড়ের পুর্বাভাস দিয়ে তিনি সাজঘরে ফিরে যান ১৯ বলে ২৪ রানের ইনিংস খেলে।


এরপর হায়দরাবাদের জয়ের আশা জাগিয়ে রাখেন কেন উইলিয়ামসন এবং ইউসুফ পাঠান। পঞ্চম উইকেটে মাত্র ৪৫ বলে ৭৯ রান যোগ করে এই জুটি। টানা তৃতীয় ম্যাচে পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস খেলেন উইলিয়ামসন। ১৮তম ওভারে আউট হওয়ার আগে ৫টি করে চার-ছক্কার মারে ৫০ বলে করেন ৮৪ রান।


তখনো হায়দরাবাদের জয়ের জন্য দরকার ছিল ১২ বলে ৩৩ রান। ১৯তম ওভারে ইউসুফ পাঠানও ফিরে গেলেই মূলতঃ শেষ হয়ে যায় সাকিবদের জয়ের আশা। তবু আফগান লেগ স্পিনার শেষ মুহূর্তে রশিদ খান ম্যাচ জমিয়ে তোলেন।


শেষের ৩ বলে হায়দরাবাদের জয়ের জন্য দরকার ছিল ১৬ রান। দুই বলে ৬ এবং চার মেরে সমীকরণটা ১ বলে ছয় রানে নামিয়ে আনেন রশিদ; কিন্তু ক্যারিবিয়ান অভিজ্ঞ বোলার ডোয়াইন ব্র্যাভোর করা শেষ বলে এক রানের বেশি নিতে পারলেন না তিনি। ফলে ৪ রানের পরাজয়ই সঙ্গী হয় রশিদ-সাকিবদের। মাত্র ৪ বল খেলে ১৭ রানে অপরাজিত থাকেন রশিদ। চেন্নাইয়ের হয়ে একাই ৩ উইকেট দখল করেন দ্বীপক চাহার। অন্য ৩ উইকেট নেন কারণ শর্মা, শার্দুল ঠাকুর এবং ডোয়াইন ব্রাভো।


এর আগে ব্যাট করতে নেমে রাইডু-রায়নার ফিফটিতে ৩ উইকেট হারিয়ে ১৮২ রান সংগ্রহ করে চেন্নাই। টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা যুৎসই করতে পারেনি চেন্নাই। প্রথম দশ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে মাত্র ৫৪ রান করে তারা। তবে পরের ১০ ওভারে বাজির দান উলটে দেন আম্বাতি রাইডু। তৃতীয় উইকেটে রায়নার সাথে মাত্র ৫৭ বলে গড়েন ১১২ রানের জুটি।


ইনিংসের ১৭তম ওভারে ভুল বোঝাবুঝিতে রানআউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন রাইডু। তবে আউট হওয়ার আগে ৯ চার এবং ৪ ছক্কার মারে মাত্র ৩৭ বলে ৭৯ রান করেন তিনি। রাইডু ফিরে যাওয়ার পরের ২০ বল থেকে আরো ৩৮ রান যোগ করেন সুরেশ রায়না এবং মহেন্দ্র সিং ধোনি।


তিন নম্বরে নেমে ৫ চার এবং ২ ছক্কার মারে ৫৩ রানে অপরাজিত থাকেন রায়না। অপরপ্রান্তে মাত্র ১২ বলে ৩টি চার এবং ১টি ছক্কার মারে ২৫ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলেন ধোনি। বল হাতে ৪ ওভার করে ৩২ রান খরচ করেও উইকেট পাননি সাকিব আল হাসান। ১টি করে উইকেট দখল করেন রশিদ খান এবং ভুবনেশ্বর কুমার।


The Daily Janakantha website developed by
BIKIRAN.COM
]]>
গাজীপুরে অস্ত্র-গুলি ও মাদকসহ দুই যুবক আটক http://www.dailyjanakantha.com/details/article/342269/গাজীপুরে-অস্ত্র-গুলি-ও-মাদকসহ-দুই-যুবক-আটক http://www.dailyjanakantha.com/details/article/342269/গাজীপুরে-অস্ত্র-গুলি-ও-মাদকসহ-দুই-যুবক-আটক 2018-04-22T09:28:53+0000 Daily Janakantha স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর ॥ গাজীপুরের শ্রীপুরে অস্ত্র-গুলিসহ দুই যুবককে রবিবার আটক করেছে র‍্যাব সদস্যরা। আটকৃতরা হলো- শ্রীপুর উপজেলার আবদার গ্রামের ...

গাজীপুরে অস্ত্র-গুলি ও মাদকসহ দুই যুবক আটক

 

দেশের খবর

Daily Janakantha

স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর ॥ গাজীপুরের শ্রীপুরে অস্ত্র-গুলিসহ দুই যুবককে রবিবার আটক করেছে র‍্যাব সদস্যরা। আটকৃতরা হলো- শ্রীপুর উপজেলার আবদার গ্রামের কোমর উদ্দিনের ছেলে শামীম বেপারী (২৫) ও একই এলাকার মৃত হযরত আলীর ছেলে মো. নাজিম উদ্দিন (৪২)।

র‍্যাব-১ এর পোড়াবাড়ি স্পেশালাইজড কোম্পানির কমান্ডার আব্দুস সালাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার র‍্যাব সদস্যরা শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটির ডুমবাড়ি চালা এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই যুবককে আটক করে। এসময় তাদের দেহ তল্লাশী চালিয়ে একটি বিদেশী পিস্তল, চার রাউন্ডগুলি, একটি ম্যাগজিন, দুইটি মোবাইল ফোন, ১০৩পিস ইয়াবা টেবলেট এবং তিনটি কনডম উদ্ধার করা হয়।

তারা দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে মাদক ও অস্ত্র এনে এ এলাকায় বিক্রি করে আসছিল র‍্যাবের জিজ্ঞাসাবাদ কালে যুবকরা জানিয়েছে। তারা নববর্ষের দিন এক কিশোরীকে অপহরণ করে ধর্ষণের মামলার আসামি।



The Daily Janakantha website developed by
BIKIRAN.COM
]]>
রাজধানীতে কালবৈশাখীর তাণ্ডব http://www.dailyjanakantha.com/details/article/342268/রাজধানীতে-কালবৈশাখীর-তাণ্ডব http://www.dailyjanakantha.com/details/article/342268/রাজধানীতে-কালবৈশাখীর-তাণ্ডব 2018-04-22T09:25:16+0000 Daily Janakantha অনলাইন ডেস্ক ॥ দিনভর গরমের পর সন্ধ্যায় ঢাকায় তীব্র কালবৈশাখী বয়ে গেছে। তাৎক্ষণিকভাবে এতে হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।রবিবার সন্ধ্যা ...

রাজধানীতে কালবৈশাখীর তাণ্ডব

 

জাতীয়

Daily Janakantha

অনলাইন ডেস্ক ॥ দিনভর গরমের পর সন্ধ্যায় ঢাকায় তীব্র কালবৈশাখী বয়ে গেছে। তাৎক্ষণিকভাবে এতে হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।রবিবার সন্ধ্যা ৬টার পর ১৫ মিনিটের আকস্মিক এ ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৩ কিলোমিটারেরও বেশি ছিল বলে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে।


ঝড়ে কেউ হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি জানিয়ে ফায়ার সার্ভিস বলেছে, রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় সড়কে গাছ পড়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। প্রচণ্ড বাতাসে রাজধানীতে কোথাও কোথাও টিনের চাল উড়ে গেছে। গাড়ি চলাচলও থেমে যায় কোন কোন সড়কে। বিদ্যুতের দুই তার এক হয়ে বিস্ফোরণ ঘটে কোথাও কোথাও।

আবহাওয়া পূর্বাভাস কর্মকর্তা শাহীনুল ইসলাম বলেন, সন্ধ্যা ৬টার পরই ঢাকায় কালবৈশাখী ঝড়ের সৃষ্টি হয়। এ সময় মহাখালী-আগারগাঁওসহ সংলগ্ন এলাকায় ঘণ্টায় ৮৩ কিলোমিটার বেগে ঝড় বয়ে যায়। এটি উত্তর-পশ্চিম থেকে শুরু হয়ে ধীরে ধীরে পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়। তীব্র কালবৈশাখী আধা ঘণ্টার মতো স্থায়ী জানিয়ে আবহাওয়াবিদ শাহীনুল বলেন, এ সময় বজ্রঝড়ও ঘটে। তাই আকাশে কালো মেঘ ও বজ্রপাত দেখলে অন্তত ৩০ মিনিট নিরাপদ স্থানে অবস্থান করা উচিত।


বিকালের পর রাজধানীর বাইরে খুলনা ও বরিশাল অঞ্চলেও তীব্র কালবৈশাখী হানা দিয়েছে বলে আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক জানিয়েছেন।


আবহাওয়া অধিদফতর রবিবার সকাল ৯টা থেকে আগামী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়া পূর্বাভাসে জানিয়েছে, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের দু’এক জায়গায় বিজলী চমকানোর সঙ্গে অস্থায়ী দমকা বা ঝড়ো-হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলা বৃষ্টি হতে পারে।



The Daily Janakantha website developed by
BIKIRAN.COM
]]>
শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ http://www.dailyjanakantha.com/details/article/342267/শিক্ষার্থীকে-যৌন-হয়রানির-প্রতিবাদে-সড়ক-অবরোধ http://www.dailyjanakantha.com/details/article/342267/শিক্ষার্থীকে-যৌন-হয়রানির-প্রতিবাদে-সড়ক-অবরোধ 2018-04-22T09:16:04+0000 Daily Janakantha স্টাফ রিপোর্টার ॥ রাজধানীর উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির প্রতিবাদে তুরাগ পরিবহনের বেশ কয়েকটি বাস আটকে রেখে সড়ক ...

শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ

 

দেশের খবর

Daily Janakantha

স্টাফ রিপোর্টার ॥ রাজধানীর উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির প্রতিবাদে তুরাগ পরিবহনের বেশ কয়েকটি বাস আটকে রেখে সড়ক অবরোধ করেছে বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা। তারা যৌন হয়রানিবিরোধী বিভিন্ন লেখাযুক্ত প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছে।

প্রায় এক ঘন্টা সড়ক অবরোধে পর এলাকায় ভয়াবহ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। ভোগান্তি পড়ে সাধারন মানুষ। পরে উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা এসে তুরাগ পরিবহনের মালিক পক্ষে সঙ্গে বসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রবিবার দুপুর ১২টা থেকে ১ টা পর্যন্ত হাউজ বিল্ডিংয়ের সামনের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা তুরাগ পরিবহনের ১২ থেকে ১৫টি বাস আটকে রাখেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা যৌন হয়রানিবিরোধী বিভিন্ন লেখাযুক্ত প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করতে থাকে।

এক পর্যায়ে উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা চালায়। এ সময় উত্তরা পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরুল আলম সিদ্দিক জানান, তুরাগ পরিবহনের মালিকের সঙ্গে যোগাযোগের করে প্রায় এক ঘন্টা পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন।

উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানান, শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষার্থী ক্লাসে আসার জন্য বাড্ডা লিংক রোড থেকে তুরাগ পরিবহনের একটি বাসে ওঠেন। ওই বাসে কয়েকজন যাত্রী ছিলেন। তবে আর কোনও যাত্রী তারা তুলছিল না। বাসে থাকা অন্য যাত্রীরা নতুন বাজারসহ পরের স্টপেজে নেমে যেতে থাকেন।

এতে ওই নারী শিক্ষার্থী কিছুটা ভয় পেয়ে বাকি যাত্রীদের সঙ্গে বসুন্ধরা স্টপেজে নেমে যাওয়ার উদ্যোগ নিলে বাসের কন্ডাক্টর ও হেলপাররা তার হাত ধরে ফেলে। বাসে থাকা আরও দুজন মেয়েটিকে আটকাতে বলে। এতেও মেয়েটি চলন্ত বাস থেকে লাফিয়ে নেমে যান।

শিক্ষার্থীরা জানান, এই খবর পেয়ে আমরা আজ (রবিবার) দুপুর ১২ টা থেকে হাউজ বিল্ডিংয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে তুরাগ পরিবহন আটকাতে থাকি। তারা জানান, এভাবে আমাদের বোনকে যৌন হয়রানি করেছে। আমরা এর বিচার চাই। তুরাগ পরিবহনের মালিকের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য আমরা এমন পদক্ষেপ নিয়েছি। তারা যদি দোষীদের চিহ্নিত করে দেয় তবে আমরা সব বাস ছেড়ে দেবো।




The Daily Janakantha website developed by
BIKIRAN.COM
]]>
বাংলামোটরে কলেজছাত্রী যৌন হয়রানির ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন আগামী ১৬ মে http://www.dailyjanakantha.com/details/article/342266/বাংলামোটরে-কলেজছাত্রী-যৌন-হয়রানির-ঘটনায়-তদন্ত-প্রতিবেদন http://www.dailyjanakantha.com/details/article/342266/বাংলামোটরে-কলেজছাত্রী-যৌন-হয়রানির-ঘটনায়-তদন্ত-প্রতিবেদন 2018-04-22T09:15:53+0000 Daily Janakantha স্টাফ রিপোর্টার ॥ রাজধানীর বাংলামোটরে ৭ মার্চ উপলক্ষে আওয়ামী লীগের সমাবেশের মিছিলে এক কলেজছাত্রীর যৌন হয়রানির ঘটনায় দায়ের করা মামলার ...

বাংলামোটরে কলেজছাত্রী যৌন হয়রানির ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন আগামী ১৬ মে

 

জাতীয়

Daily Janakantha

স্টাফ রিপোর্টার ॥ রাজধানীর বাংলামোটরে ৭ মার্চ উপলক্ষে আওয়ামী লীগের সমাবেশের মিছিলে এক কলেজছাত্রীর যৌন হয়রানির ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পিছিয়ে আগামী ১৬ মে ধার্য করেছেন আদালত।

রবিবার মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু এদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রমনা থানার এসআই শফিকুল ইসলাম প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি। এজন্য ঢাকা মহানগর হাকিম ফাহ্দ-বিন-আমিন চৌধুরী প্রতিবেদন দাখিলের নতুন এ তারিখ ঠিক করেন।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে ওইদিন বিকেলে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের জনসভা ছিল। ক্ষমতাসীন দলটির বিভিন্ন ওয়ার্ড শাখা এবং ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে মিছিল নিয়ে ওই জনসভায় যোগ দেন।

বাংলামোটরে এরকম একটি মিছিলের মধ্যে পড়ে একদল যুবকের হাতে যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়ার কথা এক তরুণী তার ফেসবুকে পোস্ট করলে তা ভাইরাল হয়ে যায়। ভিকটিম ফেসবুক পোস্টে লেখেন, কলেজ থেকে ফেরার সময় এই জনসভার কারণে বাস না পেয়ে হাঁটতে হাঁটতে বাংলামোটরে আসার পর একটি মিছিলে থাকা একদল যুবক তাকে ঘিরে ফেলে যৌন নিপীড়ন করে। ১৫-২০ জন যুবক তাকে যৌন নিপীড়ন শুরু করলে এক পুলিশ সদস্য তাকে উদ্ধার করে একটি বাসে তুলে দেয়।

যৌন হয়রানির ওই ঘটনায় ছাত্রীর বাবা রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে অজ্ঞাত পরিচয় ১৫-২০ জনকে আসামি করা হয়। গত ৯ মার্চ মামলার এজাহার আদালতে এলে মামলাটি তদন্তের নির্দেশ দেন আদালত।



]]>