মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
মঙ্গলবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৪, ১৫ আশ্বিন ১৪২১
সুমেরুতে জমি কিনছে চীন, উদ্বিগ্ন নরওয়ে
আর্কটিকে স্থায়ীভাবে পা রাখার প্রথম পদক্ষেপ
নরওয়েতে জমি কিনতে যাচ্ছেন চীনের এক ধনী ব্যবসায়ী। চীনের এমন পদক্ষেপে উদ্বিগ্ন নরওয়ে। দেশজুড়ে ব্যাপক জল্পনা চলছে যে চীন উত্তর মেরুতে স্থায়ীভাবে পা রাখতে একটি ভিত্তি তৈরি করতে যাচ্ছে। হিমশীতল সমুদ্র তীরবর্তী এই জমির আকর্ষণ হলো এটি নিউইয়র্কের ম্যানহাটানের চেয়ে আড়াই গুণ বড় আর কোলাহল বেশ কম। তবে এর জনসংখ্যা শূন্য।
নরওয়ের সবচেয়ে উত্তরের ভূখ-ের রাজধানী লংইয়ারবেনের হিমশীতল সমুদ্রের উপকূল রেখাজুড়ে যে সম্পত্তি বিক্রি হবে তা নিয়ে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। এর কারণ হলো চীনের এক রিয়াল এস্টেট টাইকুনের উত্তর মেরু নিয়ে অভিলাষ। এই চীনা ধনকুবের এক সময় চীনা কমিউনিস্ট পার্টিতে কাজ করেছেন। হুয়াং নুবো নামে ওই ব্যবসায়ী গত বছর আইসল্যান্ডের হিমশীতল বিরানভূমি কেনার চেষ্টা করেছিলেন। এখন তার মনোযোগ নরওয়ের দিকে পরিবর্তন হয়েছে। চলতি গ্রীষ্মেই উত্তরাঞ্চলীয় শহর ট্রোমসোর কাছে সমুদ্র তীরবর্তী বিশাল একটি প্লট ৪০ লাখ ডলারে বিক্রির প্রাথমিক চুক্তি হয়েছে। নরওয়ের রাষ্ট্রমালিকানাধীন সম্প্রচার সংস্থার বরাতে এ খবর জানা গেছে। এছাড়াও ম্ভালবার্ড দ্বীপমালার প্রধান দ্বীপ স্পিটসবার্গেনে আরও বড় ও আরও উত্তরের সম্পদের দিকেও তাদের চোখ পড়েছে। হুয়াংয়ের কোম্পানি বেজিং ঝংকুন ইনভেস্টমেন্ট গ্রুপ নরওয়ের সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবর অস্বীকার করেছে যে তারা সুমেরুর ভেতরে জমি কিনতে যাচ্ছে। তবে তারা বলেছে, তারা ট্রমোসোর কাছে লিনজেনে একটি বিলাসবহুল রিসোর্ট কমপ্লেক্স তৈরির পরিকল্পনা করেছে। নরওয়ের উত্তরাঞ্চলের সবচেয়ে বড় সংবাদপত্র হুঁশিয়ার করে বলেছে, ধনকুবের হুয়াং নুবো যে চাইনিজ কমিউনিস্ট পার্টি ও দেশটির সরকারের হাতের পুতুল তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। এ এলাকার ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক তাৎপর্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। কারণ বৈষ্ণিক উষ্ণায়নের ফলে এশিয়া থেকে নতুন ও সস্তায় পরিবহন রুট খুলছে। এর ফলে উত্তর মেরুর যে প্রাকৃতিক সম্পদ আছে তা আরোহণের সম্ভাবনার দ্বারও খুলে গেল।
নরওয়েজিয়ান সাইন্টিফিক একাডেমি ফর পোলার রিসার্চের চেয়ারম্যান ইউলি ওসট্রেং বলেছেন, আসছে বছরগুলোতে যে কেউ ভূ-রাজনৈতিক কারণে এই অঞ্চলের প্রতি আগ্রহী হবেন। আমরা ধারণা করছি, হুয়াং কেবল মাত্র আরেকজন ব্যবসায়ী যিনি পর্যটন নিয়ে আগ্রহী। কিন্তু আমরা আরেকটি অনুমানের কথা বলছি। আর এই অনুমানটি হলো চীন সুমেরুতে একটি স্থায়ী অবস্থান গড়ে তুলতে চায়। প্রাকৃতিক সম্পদের কারণেই চীন প্রকাশ্যেই তাদের সুমেরুর অভিলাষের কথা বলেছে। এছাড়া নরওয়েকে শাস্তি দেয়াও চীনের এই পদক্ষেপের অন্যতম একটি উদ্দেশ্য। নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি ২০১০ সালে চীনা দ-প্রাপ্ত ভিন্নমতাবলম্বী লিউ জিয়াবাওকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এই পুরস্কার দেয়ার পর চার বছর ধরে নরওয়ের সঙ্গে চীনের চরম কূটনৈতিক উত্তেজনা চলছে।
-ইন্টারন্যাশনাল নিউইয়র্ক টাইমস
বিশ্ব অর্থবাজারের কেন্দ্র হংকং বিক্ষোভে অচল
তিয়ানআনমেন স্কয়ারের পর চীনের জন্য বৃহত্তম চ্যালেঞ্জ
বিশ্ব অর্থবাজারের কেন্দ্রস্থলে হংকংয়ে হাজার হাজার গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনকারী সোমবার পুলিশের কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জ উপেক্ষা করে তাদের আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে। ২৫ বছর আগে তিয়ানআনমেন স্কয়ারে ছাত্র বিক্ষোভের পর বেজিংয়ের জন্য এটা অন্যতম বৃহত্তম রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ। গণতন্ত্রের দাবিতে তাদের এ আন্দোলন সোমবার আরও ব্যাপক আকার ধারণ করে। শহরের রাস্তাগুলো বন্ধ হয়ে যায়। ব্যাংক ও স্কুলগুলো খোলেনি। অচল হয়ে যাচ্ছে জীবনযাত্রা। খবর গার্ডিয়ান টেলিগ্রাফ অনলাইনের।
পুলিশ রবিবার শেষের দিকে হংকংয়ের কেন্দ্রস্থলে নৌদফতর ও সেন্টাল থেকে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গের জন্য কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের চেষ্টা করলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। আরও বিপুল সংখ্যক মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। কাউলুনে কজওয়েবেও সঙ্কটে নতুন করে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। সুশৃঙ্খল এলাকা হিসেবে পরিচিত বাণিজ্যিক এলাকার বেশকিছু অংশ বিক্ষোভ প্রদর্শনে অচল হয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীদের বেশিরভাগ শান্ত হয়ে আসলে সরকার সোমবার ভোরে ঘোষণা করে যে, দাঙ্গা পুলিশ সরিয়ে নেয়া হয়েছে। রাস্তাগুলো থেকে সরে যাওয়ার জন্য বিক্ষোভকারীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয় ঘোষণায়।
‘এক দেশ দু ব্যবস্থা’ কাঠামের অধীন বেশকিছু স্বায়ত্তশাসন রয়েছে হংকংয়ের। ২০১৭ এ পরবর্তী প্রধান নির্বাহী নির্বাচনে প্রাপ্ত বয়স্কদের ভোটাধিকার দেয়ার জন্য হংকংয়ের প্রতি প্রতিশ্রুতি রয়েছে দীর্ঘদিনের কিন্তু বিক্ষোভকারীদের মধ্যে প্রচ- ক্ষোভ রয়েছে যে, বেজিং ভোটাধিকার সংক্রান্ত যে বিধি ঘোষণা করেছে তাতে প্রার্থীদের ওপর বেশ কড়া নিয়ন্ত্রণ রাখা হয়েছে এবং তাতে করে কোন গণতন্ত্রপন্থী নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। হংকংয়ের বাসিন্দারা এ সিদ্ধান্তকে এ অঞ্চলের ওপর কঠিন নিয়ন্ত্রণ আরোপের এক ব্যাপক চেষ্টার অংশ হিসেবে দেখছে। আগামীকাল বুধবার অহিংস আইন অমান্য আন্দোলন শুরু করার কথা রয়েছে। কিন্তু শিক্ষার্থীরা এ আন্দোলন সত্যিকারভাবে শুরু করে দিয়েছে এ সপ্তাহেই। তারা ক্লাস বর্জন করে সরকারী নৌদফতর প্রাঙ্গণে হামলা চালিয়েছে। বর্তমানে এখানে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
আন্দোলনের সংগঠকরা লাভ এ্যান্ড পিসের সঙ্গে সেন্ট্রাল দখলের পরিকল্পনা করেছেন কয়েকমাস। এলাকাটি অবশ্য এখন প্রাণ ফিরে পেয়েছে। সম্ভবত নামের স্বার্থকতাও। কেউ কেউ এ আন্দোলনকে ‘ছাতা বিপ্লব’ বলে অভিহিত করছেন। কারণ, বিক্ষোভকারীরা কাঁদানে গ্যাস ও মরিচের গুঁড়া স্প্রের আশঙ্কায় মাথার ওপর ছাতা ব্যবহার করে প্রতিটা সময়। জোনস হোপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হুংহো-ফুং বলেন, বিক্ষোভকারীরা এবার আইন অমান্য আন্দোলন শুরু করেছে এবং প্রতিবন্ধক সৃষ্টি করছে রাস্তায়। এর আগেও অচলাবস্থা সৃষ্টি করা হয়েছে। কিন্তু এবার তারা ভ্রƒক্ষেপ করছে না কিছুকেই। হংকংয়ের ইতিহাসে আমি এ রকমটা দেখিনি সত্যিই।
আন্দোলনের কারণে হংকং ডলারের মূল্য ছ মাসের মধ্যে নিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে এবং তিন মাসের মধ্যে মূল্যপতন হয়েছে শেয়ারের। আরও অনেক স্কুলে ধর্মঘট শুরু হয়েছে। শিক্ষার্থীরা এর মধ্যে ঘোষণা দিয়েছে যে, গত সপ্তাহের ক্লাস বর্জনের সিদ্ধান্ত এখন অনির্দিষ্ট সময় ধরে চলবে। অন্যদিকে সরকার সেন্ট্রাল, ওয়ানচাই ও ওয়েস্টার্ন এলাকার স্কুলগুলো বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বেশ কিছু ব্যাংকের শাখা বন্ধ রয়েছে। বন্ধ রয়েছে অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। প্রায় দু’শ’ রাস্তায় বাস চলাচল স্থগিত রয়েছে বলে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট জানিয়েছে।
কর্মকর্তারা বলেছেন, আন্দোলন শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত পুলিশসহ ৪১ জন আহত হয়েছে এবং ৪শ’ বিভিন্ন আইনবিরোধী অপরাধে ৭৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
৪৩ বছরেও কেতাব আলীর নাম শহীদের তালিকায় ওঠেনি
স্টাফ রিপোর্টার, যশোর অফিস ॥ পাকিস্তানী সেনারা যশোর শহরের বারান্দিপাড়ার কেতাব আলীকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে হত্যা করলেও তাঁর নাম ৪৩ বছরেও মুক্তিযুদ্ধে শহীদের তালিকায় উঠেনি। অথচ তিনি যে শহীদ হন তার তথ্য-প্রমাণ রয়েছে।
১৯৭১ সালের ২৮ এপ্রিল পাকিস্তানী বাহিনী ও তার দোসররা কেতাব আলীকে বাড়ি থেকে ধরে শহরতলীর খয়েরতলার দিকে নিয়ে যায়। সেই থেকে তার আর কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি। তাকে হত্যা করা হয় বলে তার স্বজনদের দাবি। তাকে ধরে নিয়ে গেলে ওই সময়ই তার স্ত্রী তৎকালীন যশোরের ডেপুটি কমিশনারকে লিখিতভাবে অবহিত করেছিলেন।
দেশ স্বাধীন হলে বঙ্গবন্ধু তাঁকে স্বাধীনতার জন্য ত্যাগের স্বীকৃতিপত্র দেন। সেই সঙ্গে স্বজনদের হাতে দেন দুই হাজার টাকা। এদিকে হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশন ১৯৭৩ সালে তাঁর নামের ঋণের টাকাও মওকুফ করে দেন।
কেতাব আলীর তিন ছেলে দুই মেয়ে। বড় ও মেঝ ছেলে স্বল্প পুঁজি নিয়ে ব্যবসা করেন এবং ছোট ছেলে আইন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। মেয়ে দুটি বিয়ে হয়ে গেছে। তারা স্বাধীনতাযুদ্ধে তাঁদের বাবার আত্মত্যাগের স্বীকৃতি দাবি করেছেন।

খুলনায় জালনোট শনাক্তকরণ মেশিন হস্তান্তর
স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা অফিস ॥ আসন্ন ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে কোরবানির পশুর হাটে জালনোট প্রচলন প্রতিরোধে বাংলাদেশ ব্যাংক খুলনা শাখার উদ্যোগে সোমবার দুপুরে জালনোট শনাক্তকরণ ৪১টি মেশিন হস্তান্তর করা হয়। এ উপলক্ষে ব্যাংকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংক খুলনা শাখার মহাব্যবস্থাপক ও নির্বাহী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) প্রকাশ চন্দ্র ভদ্র।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মহাব্যবস্থাপক বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও তফসিলী ব্যাংসমূহের গৃহীত নানামুখী কার্যক্রম ও মিডিয়ায় প্রচারের কারণে জালনোটকারীদের দৌরাত্ম্য অনেকাংশে হ্রাস পেয়েছে। মেশিনগুলো হস্তান্তরের ফলে জালনোট শনাক্তকরণ এবং প্রতিরোধ তৎপরতা রোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করা সম্ভব হবে।
প্রশাসনের সহযোগিতায় ডুমুরিয়ার ভুলটিয়ায় দুর্গোৎসবের আয়োজন
স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা অফিস ॥ ডুমুরিয়া উপজেলার ভুলটিয়া গ্রামে হিন্দু সম্প্রদায়ের আতঙ্ক কাটছে না। চুরির অভিযোগে গণপ্রহারে এক যুবকের মৃত্যুর পর এলাকার মানুষ গ্রেফতার ও বাড়িতে হামলা নির্যাতনের ভয়-আতঙ্কে রয়েছে। ওই গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকেরা এবার প্রতিমা তৈরির এক পর্যায়ে শারদীয় দুর্গাপুজো না করার সিদ্ধান্ত নিলেও পরে প্রশাসনের সহযোগিতায় পুজোর আয়োজন করছেন।
জানা যায়, ডুমুরিয়া উপজেলার ভুলটিয়া গ্রামে গত ১৭ সেপ্টেম্বর ভোর রাতে সাগর মল্লিক (৩০) নামের এক যুবককে চুরি করার অভিযোগে স্থানীয়রা গণপ্রহার করে। এতে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় সাগরের বাবা বাদী হয়ে ১৩ জনের নাম ও অজ্ঞাত ১০-১২ জন উল্লেখ করে ডুমুরিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে দুই ব্যক্তিকে আটক করলে এলাকার হিন্দুদের মাঝে গ্রেফতার আতঙ্ক দেখা দেয়। অনেকেই এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যায়। এ রকম পরিস্থিতিতে ভুলটিয়া গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকেরা দুর্গাপুজো না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে সাজিয়াড়া-ভুলটিয়া সার্বজনীন পুজো মন্দিরে যে সব শিল্পী প্রতিমা তৈরি করছিলেন তাদের ফেরত পাঠান। এ খবর প্রশাসনের কাছে পৌঁছলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাদের আশ্বস্ত করে বলেন, কোন রকম হয়রানি ও নির্যাতন যাতে না হয় সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখা হবে। এরপর অনেকে বাড়ি ফিরতে শুরু করে এবং ভাস্কররা পুনরায় ফিরে এসে প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন।

ঈদ ও পুজো ॥ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে তৎপর চোরাকারবারিরা
নিজস্ব সংবাদদাতা, ঠাকুরগাঁও, ২৯ সেপ্টেম্বর ॥ বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকার চোরাচালান ঘাট ও সিন্ডিকেটগুলো আসন্ন দুর্গাপূজা ও ঈদের বাজার ধরার জন্য ইতোমধ্যেই তৎপর হয়ে উঠছে। প্রতিদিন ভারত থেকে গরুসহ রকমারি পণ্য জেলার সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ করছে এবং দেশের অন্যান্য জেলায় চলে যাচ্ছে। এসব মালামাল আনতে গিয়ে মাঝেমধ্যেই ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বিএসএফ’র গুলিতে অনেক চোরাকারবারি হতাহত হচ্ছে।
প্রতিদিনই অবৈধভাবে পাচার হয়ে আসা গরু, শাড়ি, থ্রি-পিস, থান কাপড়, ফেনসিডিল, গাঁজা, হুইস্কি, বিয়ার ও মসলাসহ সীমান্ত পাড়ি দিয়ে এনে নিরাপদ স্থানে রেখে কাভার্ডভ্যানে করে রাজধানী ঢাকাসহ অন্যান্য পার্শ্ববর্তী জেলায় পাচার হচ্ছে। সীমান্তজুড়ে কাঁটাতারের বেড়া নির্মিত হলেও কিছুদূর পর পর রয়েছে গেট। দু’ দেশের সীমান্তরক্ষীদের ম্যানেজ করে চোরাকারবারিরা প্রতিদিনই কিছু সময়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ অর্থের বিনিময়ে গেটগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেয়। এ সময় সীমান্তরক্ষীরা অপেক্ষাকৃত আড়ালে চলে গেলে দু’দেশে অনুপ্রবেশ করে এসব অবৈধপণ্য। সম্প্রতি গরু আনতে গিয়ে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বেউরঝাড়ী সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ’র গুলিতে বেউরঝাড়ি চরইগাথী গ্রামের আজিমুদ্দিনের ছেলে তোজাম্মেল হোসেন (২২), একই গ্রামের ছলিম উদ্দিনের ছেলে মাহামুদ মিস্টার আহম্মদ(২৬), দবির উদ্দিনের ছেলে সাদেকুল ইসলাম (৩৫) ও আনাবুল হকের ছেলে দিলু মোহাম্মদ (২০) নামে ৪ গরু ব্যবসায়ী আহত হয়। তারপরেও থেমে নেই তাদের তৎপরতা।
বর্তমানে জেলার বালিয়াডাঙ্গীর বৈউর ঝাড়ি, মণ্ডুমালা, ধনতলা, রাণীশংকৈলের ডাবরী, ধর্মগড়, মলানীসহ বিভিন্ন সীমান্ত পথে শাড়ি বা অন্যান্য ভোগ্যপণ্য এলেও এখন গরু, ফেনসিডিল ও গাঁজা আসছে স্রোতের মতো। যার অধিকাংশ সড়ক পথে পাচার হচ্ছে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায়।
এ ব্যাপারে ঠাকুরগাঁও বিজিবি সেক্টরের কমান্ডার কর্নেল গোলাম মোস্তফা জানান, পূজা ও ঈদকে সামনে রেখে সীমান্তে বিজিবির নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। চোরাইপথে ভারতীয় পণ্য যেন সীমান্ত দিয়ে দেশে প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য সীমান্ত ক্যাম্পগুলোতে টহল বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের প্রথম প্রতিপক্ষ কুয়েত
এশিয়ান গেমস পুরুষ ক্রিকেট
স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ কুয়েতের কী ভাগ্য! কুয়েত-মালদ্বীপ লীগ পর্বের খেলা ছিল। যে দল জিতবে তারাই খেলবে কোয়ার্টার ফাইনালে অথচ বৃষ্টির জন্য একটি বলও মাঠে গড়ায়নি। কী আর করার। এরপর টসে রেজাল্ট বের করতে হবে। টস করা হলো। টস জিতল কুয়েত। কোন ম্যাচ না জিতেই কোয়ার্টার ফাইনালেও উঠে গেল কুয়েত। এ কুয়েতই হচ্ছে ১৭তম এশিয়ান গেমসে পুরুষদের ক্রিকেট ইভেন্টে বাংলাদেশের প্রথম প্রতিপক্ষ। বুধবার সকাল ১১টায় দক্ষিণ কোরিয়ার ইনচনের ইয়নহুই মাঠে মাশরাফি, সাকিব, তামিমদের বিপক্ষে লড়াই করতে নামবেন কুয়েত ক্রিকেটাররা।
কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশকে সহজ প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলতে হবে তা আগেই বোঝা গেছে। এবারের এশিয়ান গেমসের শক্তিশালী দলগুলো সবাই সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে খেলছে, বাংলাদেশও। তাই সহজ প্রতিপক্ষ পেয়ে শক্তিশালী প্রতিপক্ষরা যে সেমিফাইনালেও উঠে যাবে তাও অনুমিতই। বাংলাদেশও সহজভাবেই সেমিফাইনালে উঠবে তা বলাই যায়।
অবশ্য বিপত্তি আছে একটু। বিপত্তি সেই বৃষ্টি। কুয়েতের অধিনায়ক বাসটাকি মাহমুদ টসে ম্যাচ জেতার পর বলেছেন, ‘যখন টস হবে তখন আমি ‘হেড’ নিলাম। জিতে গেলাম। কোয়ার্টার ফাইনালেও উঠে গেলাম। প্রথমবারের মতো এত বড় টুর্নামেন্টে অংশ নিয়েছি। পরের ধাপেও এগিয়ে গেলাম। ২২ ব্যাটসম্যানের কেউই আউট হলো না। কিন্তু ফল বের হয়ে গেল। সেটি আমাদের পক্ষেই আসল। আমরা ব্যাট উঁচু করে ধরে আনন্দও করলাম। এ অনুভূতি অন্যরকম। কিন্তু ইনচনে যে বৃষ্টিই থামতে রাজি নয়। পড়ছে তো পড়ছেই।’
ইনচনের বৃষ্টি নিয়ে শঙ্কায় আছেন কুয়েত অধিনায়ক। কিন্তু সেই শঙ্কাই যে আবার তাদের আশাও দেখাচ্ছে। কোন জয় না পেয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেছে কুয়েত। যদি কোয়ার্টার ফাইনালটিও এমনই হয়। তাহলে তো কথাই নেই। প্রথমবার অংশ নিয়েই সেমিফাইনালে চলে যাবে। বাংলাদেশ না খেলেই নেবে বিদায়।
এ রকম হওয়ার কী কোন সম্ভাবনা আছে? টসে ম্যাচ ভাগ্য হওয়ার রীতি খুবই কম। দক্ষিণ কোরিয়ায় সেটি দেখা গেল। যদি বাংলাদেশ-কুয়েত ম্যাচেও বৃষ্টি পড়ে, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই হবে টস। পরেরদিন খেলা হওয়ার যে কোন সম্ভাবনাই নেই। নেই যে কোন ‘রিজার্ভ ডে’। তাই বৃষ্টি পড়লেই বিপদ আসতে পারে বাংলাদেশের ভাগ্যেও!
বৃষ্টি না এলে যে হেসেখেলেই বাংলাদেশ জিতবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। বাংলাদেশ ক্রিকেটাররাও এ ম্যাচটির দিকে তাকিয়ে নেই। তাদের দৃষ্টি এশিয়ান গেমসের সর্বোচ্চ সীমা অতিক্রম করা। সেই সীমা স্বর্ণপদক জেতা। ফাইনাল জেতা আর সেই ম্যাচ জিতে চ্যাম্পিয়ন হতে চায় দল। স্বর্ণপদক জিততে চায়। এশিয়ান গেমসে ২০১০ সালে প্রথমবার ক্রিকেট যুক্ত হতেই ঠিক যেমনটি স্বর্ণপদক জিতেছিল বাংলাদেশ। এবারও দলের প্রত্যেকের দৃষ্টি সেদিকেই।
বাংলাদেশ দক্ষিণ কোরিয়ায় গিয়ে এরই মধ্যে অনুশীলনও শুরু করে দিয়েছে। কিন্তু বৃষ্টি অনুশীলনেও বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তাই মাশরাফি বিন মর্তুজা, সাকিব আল হাসান, এনামুল হক বিজয় ও শামসুর রহমান শুভ যান কাবাডি খেলা দেখতে। দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের মেয়েদের কাবাডি খেলা দেখেন মাশরাফিরা আর কোচ চন্দ্রিকা হাতুরাসিংহে এরই মধ্যে ইয়নহুই মাঠে গিয়ে লীগ পর্বের খেলাও দেখেছেন। উইকেটের আচরণ ভালভাবে বোঝার চেষ্টা করেছেন। উইকেটের ওপরই যে সব নির্ভরশীল।
বাংলাদেশ মহিলা ক্রিকেটাররাও এ মাঠেই খেলেছে। এত কম রান হয়েছে যে উইকেট নিয়ে সব দলকেই ভাবতে হচ্ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশকে। এশিয়ান গেমসের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন যে বাংলাদেশ। শুধু স্বর্ণপদক জেতার দিকেই বাংলাদেশের লক্ষ্য থাকলে হতো। এবার বাংলাদেশের লক্ষ্য আরও বিস্তীর্ণ। বছরজুড়ে হারতে হারতে দল এমন পর্যায়ে এসেছে এখন জয় ছাড়া বিকল্প পথ নেই। সেই পথে হাঁটতেই হবে মাশরাফিদের। জয় পেতে হবে। জয়টি আবার কুয়েতের মতো দলের বিপক্ষে এলেও স্বস্তি মিলবে না। বড় দলকে হারাতে হবে। যেমনটি সেমিফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলাতেও জয় চাই সবার আর বড় দলকে হারানো মানেই হচ্ছে স্বর্ণপদক জেতাও। তখন খানিক যে বিধ্বস্ত অবস্থায় আছে বাংলাদেশ দল, অন্তত আপাতত তা থেকে মুক্তি মিলবে। সেই লক্ষ্যেই ক্রিকেটাররা এগিয়ে চলেছেন। এখন দেখা যাক, সেই কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে এবার সাফল্য আসে কিনা। বুধ, বৃহস্পতি, শুক্রবার-টানা তিনদিন তিন ম্যাচ জিতলেই বাংলাদেশ আবারও এশিয়ান গেমসের স্বর্ণপদক গলায় ঝোলাবে। আবারও ক্রিকেটের মাধ্যমে দেশের জাতীয় সঙ্গীত বাজবে গেমসে। সেই যাত্রার শুরু হবে বুধবার। ভাগ্যের সহায়তা নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা কুয়েত এদিন বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ।
জয় দিয়ে শুরু সেরেনা-ইভানোভিচের
চায়না ওপেন
স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ চায়না ওপেনে জয় দিয়েই যাত্রা শুরু করলেন সেরেনা উইলিয়ামস, আনা ইভানোভিচ এবং লুসি সাফারোভার মতো তারকারা। সোমবার টুর্নামেন্টের প্রথম পর্বে সেরেনা উইলিয়ামস স্পেনের সিলভিয়া সোলার ইসপিনোসাকে পরাজিত করে দ্বিতীয় পর্বের টিকেট নিশ্চিত করেন। এদিন টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ তারকা সেরেনা উইলিয়ামস ৭-৫ এবং ৬-২ গেমে হারান সিলভিয়া ইসপিনোসাকে আর সার্বিয়ার আনা ইভানোভিচ ৬-২ এবং ৬-১ গেমে সহজেই জয় তুলে নেন সুইজারল্যান্ডের বেনসিচের বিপক্ষে। টুর্নামেন্টের ১৩তম বাছাই লুসি সাফারোভা ৭-৬ (৭/৩) এবং ৬-৪ গেমে পরাজিত করেন ইতালির ক্যামিলা জর্জিকে। পুরুষ এককে জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করেছেন ইউএস ওপেনের চ্যাম্পিয়ন মারিন সিলিচ। স্বাগতিক চীনের ইয়ান বাইকের বিপক্ষে ৬-২ এবং ৬-১ গেমে সহজ জয় তুলে নেন ক্রোয়েশিয়ার এই তরুণ প্রতিভাবান তারকা।
গত সপ্তাহেই ৩৩ বছরে পা রেখেছেন সেরেনা উইলিয়ামস। কিন্তু বয়স তেত্রিশ ছাড়িয়ে গেলেও পারফর্মেন্সে এখনও দুর্দান্ত এই আমেরিকান। তার প্রমাণ দিয়েছেন মৌসুমের শেষ গ্র্যান্ডস্লাম টুর্নামেন্ট ইউএস ওপেন জিতেই। ইউএস ওপেন জিতে ক্যারিয়ারে রেকর্ড ১৮টি গ্র্যান্ডস্লাম জয়ের অবিস্মরণীয় মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। সেই সঙ্গে ভাগ বসান ক্রিস এভার্ট এবং মার্টিনা নাভ্রাতিলোভার রেকর্ডে। মৌসুমের শেষ গ্র্যান্ডস্লাম জিতেও থেমে থাকতে নারাজ এই আমেরিকান টেনিসের জীবন্ত কিংবদন্তি। সেই টুর্নামেন্ট শেষেই তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন যে এখন তার চোখ ১৯তম গ্র্যান্ডস্লামের দিকে। তাঁর পারফর্মেন্সও বলছে সেরেনা উইলিয়ামস যেন সেই রেকর্ডের দিকেই হাঁটছেন।
ইউএস ওপেনের পরই শুরু হয় উহান ওপেন। কিন্তু চীনের সেই ইভেন্ট থেকে চোটের কারণে নিজের নাম প্রত্যাহার করে নেন সেরেনা উইলিয়ামস। তবে ৫.৪ মিলিয়ন ডলারের এই ইভেন্টে ঠিকই খেলছেন টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের নাম্বার ওয়ান এ তারকা। তবে শুরুতে ঠিকই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে লড়াই করতে হয়েছে সেরেনা উইলিয়ামসকে। ম্যাচ শেষে তা নিজেই স্বীকার করেছেন তিনি। তবে চোট কাটিয়ে এখন আগের চেয়ে বেশ ভাল অনুভব করছেন বলেও জানিয়েছেন ৩৩ বছর বয়সী সেরেনা। এ বিষয়ে তার অভিমত, ‘গত সপ্তাহেও শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলাম আমি। তবে দিনে দিনে উন্নতি হচ্ছি। এবং চ’ড়ান্তভাবে এখানে আজ খেলতে পারছি। এখন আমি অনেক ভাল। এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিও পাচ্ছি।’
এছাড়া সাবেক নাম্বার ওয়ান তারকা আনা ইভানোভিচও দারুণ জয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করেছেন। টুর্নামেন্টের নবম বাছাই ৬-২ এবং ৬-১ গেমে হারিয়েছেন সুইজারল্যান্ডের তরুণ প্রতিভাবান খেলোয়াড় বেলিন্ডা বেনসিচকে। এই জয়ের ফলে দারুণ উচ্ছ্বসিত ইভানোভিচ। সার্বিয়ার এ তারকার মতে, জয়ের পর উচ্ছ্বাসের জোয়ারে ভাসছেন লুসি সাফারোভাও। যিনি ৭-৬ এবং ৬-৪ গেমে পরাজিত করেছেন ইতালির ক্যামিলা জর্জিকে। মৌসুমের শেষ গ্র্যান্ডসøাম টুর্নামেন্ট ইউএস ওপেনের মহিলা এককে ফেবারিট হিসেবেই শিরোপা জেতেন সেরেনা উইলিয়ামস। তবে পুরুষ এককে সবাইকে চমকে দিয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম গ্র্যান্ডসøাম জয়ের স্বাদ পান ক্রোয়েশিয়র মারিন সিলিচ।
চায়না ওপেনের মধ্য দিয়েই চোট কাটিয়ে কোর্টে ফিরেছেন রাফায়েল নাদাল। তবে দ্বৈতে তাঁর ফেরাটা তেমন সুখকর হয়নি। চায়না ওপেনের দ্বৈতে রাফায়েল নাদাল জুটি বেঁধেছিলেন পাবলো আন্দুজারকে নিয়ে। কিন্তু তারা টমাস বার্দিচ এবং জন ইসনার জুটির কাছে ৭-৫, ৪-৬ এবং ১০-৪ গেমের কঠিন লড়াইয়ে পরাজয় মেনে নেন। তবে দ্বৈতে হেরে গেলেও পুরুষ এককে নিজেকে স্বরূপে দেখতে চান রাফায়েল নাদাল। চায়না ওপেন টুর্নামেন্টে সবসময়ই ফেবারিট শীর্ষ তারকা নোভাক জোকোভিচ। এখানে তাঁর রয়েছে শতভাগ সাফল্য। তবে এবার জোকোভিচের রেকর্ডে ভাগ বসাতে চান নাদাল। ম্যাচের আগে নাদাল বলেন, ‘সব টুর্নামেন্টে দারুণ পারফর্ম করে নোভাক জোকোভিচ।
বিশেষভাবে চায়না ওপেনে। পরিসংখ্যান তেমনই বলছে। এখানে অনেক শিরোপাই জিতেছে নোভাক। এখানে খেলতে সে খুবই পছন্দ করে। তবে এবার এখানে আমি শিরোপা জিততে চাই। নোভাকের জয়ের রেকর্ড ভাঙতে চাই। দেখা যাক এ বছর কী ঘটে এ টুর্নামেন্টে।’ এই আসরে খেলছেন না সুইজারল্যান্ডের রজার ফেদেরার। তাই শিরোপার দৌড়ে রয়েছেন কেবল জোকোভিচ, নাদাল ও এ্যান্ডি মারে। তাই কঠিন পরীক্ষায় জিততে প্রস্তুত নাদাল, ‘এবার রজার খেলছে না। সে খেললে দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতো। তবে নোভাক ও মারে বড় মাপের খেলোয়াড়। ভাল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। তারপরও আমার চোখ শিরোপার দিকেই। ভাল টেনিস খেলেই শিরোপা জিততে চাই। নোভাক ও মারেরও শিরোপা জয়ের সুযোগ রয়েছে।’
অশুল্ক বাধায় ভারত বাংলাদেশ বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত হচ্ছে
‘ইনটেক্সপো বাংলাদেশ-২০১৪’ শীর্ষক ভারতীয় টেক্সটাইল প্রদর্শনী শুরু
অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ ‘ইনটেক্সপো বাংলাদেশ-২০১৪’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী ভারতীয় টেক্সটাইল প্রদর্শনী সোমবার ঢাকায় শুরু হয়েছে। রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে এ প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম। এ সময় উদ্যোক্তারা আশাপ্রকাশ করেন, প্রদর্শনীর মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ভারতের ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যবসায়িক যোগাযোগের সেতুবন্ধন তৈরি হবে।
প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম বলেন, বাংলাদেশী তৈরি পোশাক ভারতে শুল্কমুক্ত প্রবেশের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা অশুল্ক বাধার কারণে এ সুযোগ কাজে লাগাতে পারছে না। এ সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত।
তিনি বলেন, এই প্রদর্শনী বাংলাদেশের পণ্যের গুণগত মান বাড়াতে সহায়তা করবে। দুই দেশের অর্থনীতিতে প্রর্দশনীটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এই প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে ভারতের দি সিনথেটিক এ্যান্ড রেয়ন টেক্সটাইলস্ এক্সপোর্ট প্রমোশন কাউন্সিল (এসআরটিইপিসি) ও বাংলাদেশের ভারতীয় দূতাবাস। প্রদর্শনীতে সার্বিক সহায়তা করছে ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (আইবিসিসিআই), ফেডারেশন অব চেম্বারস অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) এবং বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স এ্যান্ড এক্সপোর্টার্স এ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ)।
প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনার সন্দীপ চক্রবর্তী, এফবিসিসিআইর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হারুন উর রশিদ, বিজিএমইর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শহিদুল্লাহ আজিম, ইন্ডিয়া বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আলী, এসআরটিইপিসির আহ্বায়ক সঞ্জীব সরন, নির্বাহী পরিচালক ভি অনিল কুমার প্রমুখ।
ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনার সন্দীপ চক্রবর্তী বলেন, ভারতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানির বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশী ব্যবসায়ী ও ভারতীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে তথ্যগত কিছু সমস্যা আছে। অশুল্ক বাধা সংক্রান্ত কিছু সমস্যা আছে। আমি আশা করি এসব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। তিনি বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন ভারত বিনিয়োগের জন্য আকর্ষণীয় স্থান। ইতোমধ্য প্রধানমন্ত্রী মোদি ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ ভারতের কাছে অগ্রাধিকার পাবে।
এসআরটিইপিসির আহ্বায়ক সঞ্জীব সরন বলেন, ভারত থেকে কম দামে ফ্রেব্রিকস এনে পোশাক তৈরি করবেন বাংলাদেশী ব্যবসায়ীরা। এরপর তা বিদেশে রফতানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করতে পারেন এসব ব্যবসায়ী। প্রয়োজনে পণ্য রফতানিতে ফ্রেব্রিকস রফতানিকারক ব্যবসায়ী সহায়তা করবেন।
বাংলাদেশে পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে বিভিন্ন সুবিধা পাওয়া যায় উল্লেখ করে সঞ্জীব সরন বলেন, বাংলাদেশে পণ্য রফতানি করলে দ্রুত সরবরাহ করা সম্ভব। সরবরাহ খরচও অনেক কম। অপরদিকে, ভারত থেকে পণ্য আমদানি করে বাংলাদেশী ব্যবসায়ীরাও লাভবান হবেন। কারণ, ভারতের পণ্যের গুণগত মান বেশ ভাল। এছাড়া দামেও সস্তা।
পণ্য আমদানি-রফতানিতে অশুল্ক বাধার বিষয়ে সঞ্জীব সরন বলেন, অশুল্ক বাধার কারণে শুধু বাংলাদেশী ব্যবসায়ীরাই সমস্যায় পড়ছেন না; আমরাও (ভারতীয় ব্যবসায়ী) বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি। অশুল্ক বাধার কবলে পড়ে আমাদের অনেক পণ্য নষ্ট হচ্ছে। তবে বাংলাদেশী ব্যবসায়ীরা ভারতে পণ্য রফতানি করতে যে ধরনের সমস্যায় পড়ছেন, তা সমাধানে বিষয়ে আমরা সাহায্য করব। এক্ষেত্রে বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদের প্রস্তাব দেয়ার আহ্বান জানান তিনি। প্রদর্শনীর মাধ্যমে ভারতের মেন মেইড ফ্রেব্রিকস রফতানি ৫০ শতাংশ বাড়বে বলে আশা করছেন এসআরটিইপিসির আহ্বায়ক সঞ্জীব সরন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ব্যবসায়িক সম্পর্ক বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। ভারতের অনেক ব্যবসায়ী বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্ক স্থাপন করতে চান।
সঞ্জীব সরন বলেন, ভারতীয় মেন মেইড টেক্সটাইল বর্তমানে বিশ্বের ১৪০টির মতো দেশে রফতানি হচ্ছে। মেন-মেইড ফ্রেব্রিকের অন্যতম ক্রেতা ইউরোপীয় ইউনিয়ন। তবে বাংলাদেশেও ফ্রেব্রিকস রফতানির বিশাল সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ ফ্রেব্রিকস রফতানি নির্ভরশীল দেশ। বাংলাদেশের কোন ব্যবসায়ী ফ্রেব্রিকস তৈরি করেন না। তাই বাংলাদেশের কোন ব্যবসায়ী এক্ষেত্রে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের প্রতিযোগী নন।
দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা প্রতিষ্ঠিত হলে উভয় দেশ ট্রেক্সটাইল ও গার্মেন্টস খাতে আরও বেশি লাভবান হবে বলে মনে করেন তিনি।
ভারতের সিনথেটিক ও রেয়ন ট্রেক্সটাইল শিল্প একটি ক্রম প্রবৃদ্ধিশীল খাত। ভারত বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম সেলুলোজ ফাইবার/ইয়ার্ন এবং চতুর্থ বৃহত্তম সিনেথেটিক ফাইবার/ইয়ার্ন প্রস্তুতকারী দেশ। মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো ভারতীয় সিনথেটিক ও রেয়ন পণ্যের সর্ববৃহৎ ক্রেতা। মোট রফতানির ২৫ শতাংশই যায় এ দেশগুলোতে। এশীয় দেশগুলোতে রফতানি হয় ২৩ শতাংশের মতো। তবে সম্প্রতি বাংলাদেশে ভারত থেকে সিনথেটিক ও ব্লেন্ড ট্রেক্সটাইল রফতানি বেশ বেড়েছে।
২০১৩-১৪ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে এ খাতের রফতানি আয় হয়েছে ২৩৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ভবিষ্যতে বাংলাদেশে সিনথেটিক ও ব্লেন্ড ট্রেক্সটাইল পণ্য রফতানি করে বিলিয়ন ডলার আয় করা সম্ভব হবে বলে আমরা আশা করেন সঞ্জীব সরন। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রদর্শনীতে ভারতের শীর্ষস্থানীয় ২২টি প্রস্তুতকারী ও রফতানিকারী প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন টেক্সটাইল পণ্য প্রদর্শন করছে। এর মধ্যে রয়েছে স্যুটিং, সার্টিং, পোশাক তৈরি সামগ্রী, এমব্রয়ডারি কাপড়, অভিজাত ফ্যাশন ফেব্রিক, হোম টেক্সটাইল এবং সজ্জাসামগ্রী স্কার্ফ, ওড়না, শাল, লেস, সিনথেটিক ও ব্লেন্ড ইয়ান। প্রদর্শনী সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। আগ্রহী বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদের জন্য প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী ভারতীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বিটুবি মিটিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
নয়দিন পর পুঁজিবাজারে মূল্য সংশোধন
অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ টানা নয় দিন সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার পর সোমবার পুঁজিবাজারে মূল্য সংশোধন হয়েছে। এদিন দুই স্টক এক্সচেঞ্জেই মূল্য সূচক ও লেনদেন কমেছে। এর আগে নয় কার্যদিবস পুঁজিবাজার ধারাবাহিক ঊর্ধ্বমুখী থাকায় মূল্যসূচক রেকর্ড গড়েছিল। একইসঙ্গে ঈদ-উল-আযহা ও দুর্গাপূজার সাধারণ ছুটির আগের লেনদেনও ক্রমান্বয়ে বেড়েছিল। এমনকি আট মাস পর প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক একচেঞ্জের লেনদেন ১২শ’ কোটি টাকা ছাড়িয়েছিল। সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবস সোমবারে মুনাফা তোলার চাপ বাড়ার কারণে লেনদেনের সঙ্গে বেশিরভাগ কোম্পানির দরও কমেছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সোমবারের মূল্য সংশোধন কাক্সিক্ষতই ছিল। পুঁজিবাজারে একটানা ঊর্ধ্বমুখী বা নিম্নমুখী কোনটাই ভালো না। মাঝে মাঝে মূল্য সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে। আগামীতে দীর্ঘ ছুটি এবং বড় দুটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানের কারণে বিনিয়োগকারীদের টাকা নগদায়নের তাগিদ বেশি ছিল। মূলত এর কারণেই নতুন করে বিক্রয়াদেশ বাড়িয়েছেন। এর বিপরীতে ক্রয়াদেশ কিছুটা কম ছিল।
বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ৯০২ কোটি ৬২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আগের দিন এ বাজারে লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ১০১ কোটি ২৯ লাখ টাকার শেয়ার। সে হিসাবে লেনদেন কমেছে ১৯৮ কোটি টাকার বা ১৮ শতাংশ।
এদিকে ডিএসই প্রধান মূল্যসূচক ডিএসই এক্স ২১ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৫ হাজার ৫০ পয়েন্টে। ফলে পতনের পরেও ডিএসইর সার্বিক সূচকটি বিনিয়োগকারীদের মনস্তাত্ত্বিক সীমার ওপরে অবস্থান করছে। একইভাবে শেয়ার বিক্রির চাপ বাড়ার কারণে ডিএসইএস বা শরিয়াহ সূচক ১ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে এক হাজার ১৯৭ পয়েন্টে। আর ডিএস৩০ সূচক ৮ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৯৫৮ পয়েন্টে।
সোমবারে ডিএসইতে মোট লেনদেনে অংশ নিয়েছে ৩০১টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের শেয়ার। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৮৭টি কোম্পানির। আর দর কমেছে ১৭৬টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৮টির।
আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টের বাজার পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, টানা নয় কার্যদিবসে মোট ৩৬২ পয়েন্ট বৃদ্ধির পরে সূচকে নেতিবাচক প্রবণতা ফিরে এসেছে। বিশেষ করে ছোট ও মধ্য মূলধনী কোম্পানিগুলোর দর হারানোর কারণে সূচক কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৫০ পয়েন্ট। ঈদের মতো বড় ছুটির আগে বিনিয়োগকারীদের টাকা নগদায়নের হার বেড়েছে। ফলে আগের দিনের চেয়ে মোট লেনদেন ১৮ শতাংশ কমেছে। দিনটিতে প্রকৌশল খাতের দর কমেছে ২ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং বিবিধ খাতের দরও আগের চেয়ে মোট ১ দশমিক ৮০ শতাংশ কমেছে। এর বিপরীতে ওষুধ এবং রসায়ন খাত দশমিক ৪০ শতাংশ এবং ব্যাংকের দর বেড়েছে দশমিক ৩০ শতাংশ।
ডিএসইতে টাকার অঙ্কে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে যমুনা অয়েলের শেয়ার। এরপরে রয়েছে- স্কয়ার ফার্মা, এমজেএলবিডি, সাইফ পাওয়ারটেক, পদ্মা অয়েল, বেক্সিমকো, তিতাস গ্যাস, বেক্সিমকো ফার্মা, গ্রামীণফোন এবং মেঘনা পেট্রোলিয়াম।
দরবৃদ্ধির সেরা কোম্পানিগুলো হলো : সাইফ পাওয়ার টেক, আলহাজ টেক্সটাইল, ব্যাংক এশিয়া, দেশ গার্মেন্টস, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং, ইবিএল এনআরবি মিউচ্যুয়াল ফান্ড, এনভয় টেক্সটাইল, পপুলার লাইফ, স্কয়ার ফার্মা ও এটলাস বাংলাদেশ।
অপরদিকে সোমবার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) ৬৪ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এদিন সিএসই সার্বিক সূচক ৯৭ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১৫ হাজার ৬১৯ পয়েন্টে। সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ২২৭টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের শেয়ার। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৫৬টির, কমেছে ১৫২টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৯টির।
সিএসইর লেনদেনের সেরা কোম্পানিগুলো হলো : সাইফ পাওয়ার টেক, বেক্সিমকো, স্কয়ার ফার্মা, ইউনাইটেড এয়ার, পদ্মা অয়েল, আরকে সিরামিক, বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেড, আরএসআরএম স্টিল, যমুনা অয়েল এবং এসিআই।
প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তি করে লেখা গান সরবরাহের দায়ে যুবক আটক
স্টাফ রিপোর্টার, কক্সবাজার ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কটুক্তি করে লেখা গান বিভিন্ন মানুষের মোবাইল ফোনে সরবরাহের অভিযোগে কক্সবাজারের টেকপাড়া এলাকা থেকে বাদশাহ মিয়া (২৭) নামে এক যুবককে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। সোমবার বিকেলে শহরের টেকপাড়ার রাহবা কম্পিউটার সেন্টারে ডিবি পুলিশ এ অভিযান চালায়। আটক যুবক বাদশাহ স্থানীয় সিরাজ মিয়ার ছেলে বলে জানা গেছে।
লালমনিরহাট সীমান্তে থেমে থেমে বিএসএফের গুলি, আতঙ্ক
বিজিবি বলছে পুজোর পটকা
নিজস্ব সংবাদদাতা, লালমনিরহাট, ২৯ সেপ্টেম্বর ॥ জেলার দুর্গাপুর মোগলহাট সীমান্তে রবিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১০টা হতে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত থেমে থেমে ভারতীয় বিএসএফের গুলির শব্দে উৎকন্ঠিত হয়ে পড়ে সীমান্ত গ্রাম বাদুরকুটি ও জারিধরলা চরের বাসিন্ধারা। গ্রামবাসী জানিয়েছে, জেলার মোগলহাট ও দূরারকুটি সীমান্তে কয়েকজন ভারতীয় গরুর ব্যবসায়ী ধরলা নদী দিয়ে সাঁতরে গরু পাড় করার সময় বিএসএফ জওয়ানরা এলোপাতাড়ি কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়। তবে চোরাচালানীদের কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
এই সীমান্তে ধরলা নদী বর্ষা মৌসুমে সীমান্তরেখা হিসেবে কাজ করে। ধরলার ডান তীরে বাংলাদেশের বিজিবি ক্যাম্প ও বাম তীরে ভাবতীয় বিএসএফ ক্যাম্প রয়েছে। এখানে সীমান্ত নদী থাকলেও বিজিবির নদীতে টহল দেয়ারমতো কোন নৌযান নেই।
এই সুযোগে চোরাকারবারিরা ঈদকে সামনে রেখে নদীপথে প্রতিদিন কয়েকশত গরু পার করে নিয়ে আসে। দুর্গাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ ছালেকুজ্জামান প্রামাণিক জানান, ঈদ উপলক্ষে প্রতিদিন কৃষকদের শতাধিক গরুর সার্টিফিকেট ইস্যু করতে হচ্ছে।
মোগলহাট সীমান্ত বাজারের ব্যবসায়ী মোঃ ইমাম আলী জানান, রবিবার রাত সাড়ে ১০টা হতে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত সীমান্তে থেমে থেমে গুলির শব্দ শোনা গেছে। গরু চোরাকারবারিদের সঙ্গে ভারতীয় বিএসফের গুলি বিনিময়ের ঘটনায় এই শব্দ হয়েছে বলে বাজারে প্রচার রয়েছে।
এ ব্যাপারে রাতে মোগলহাট বিজিবির বিওপি ক্যাম্পে মোবাইল ফোনে গুলির শব্দ শোনা সর্ম্পকে জানতে চাইলে বিজিবির বিওপি ক্যাম্পের জনৈক সদস্য মিজান জানান, তাঁরাও গুলির শব্দের মতো শুনেছে। বিষয়টি নিশ্চিত হতে খবর নিচ্ছে। তাৎক্ষণিক কিছু জানাতে পারেনি।
মোগলহাট বিজিবি ক্যাম্পের সুবেদার আব্দুল হামিদ জানান, গুলির কোন ঘটনা সীমান্তে ঘটেনি। পুজো উপলক্ষে পটকা ফোটানোর শব্দ ছিল। তবে ধরলা নদীর ওপারে ভারতীয় সীমান্তঘেঁষা বাদুরকুটি ও জারি ধরলার বাংলাদেশী গ্রামের মানুষ বিজিবির কথার সঙ্গে একমত হতে পারেনি। এই গ্রামের বৃদ্ধ মোসলেম উদ্দিন (৫৫) জানান, বিজিবি তাদের গ্রামে নদী পার হয়ে নিয়মিত টহলে আসে না। রাতে গ্রামটি চোরাকারবারিদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।
মুন্সীগঞ্জে ১২ হাজার যক্ষ্মারোগী শনাক্ত, চরাঞ্চলে বেশি
মারাত্মক ওষুধ প্রতিরোধী যক্ষ্মা রোগী ১০ জন
মীর নাসিরউদ্দিন উজ্জ্বল, মুন্সীগঞ্জ ॥ মুন্সীগঞ্জে ১২ হাজার ১৫৩ যক্ষ্মা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে পুরোপুরি সুস্থ হয়েছে ৯ হাজার ২৯৪। সরাসরি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে ওষুধ সেবনের (ডটস) মাধ্যমে চিকিৎসাধীন রয়েছে ২ হাজার ৭৮ রোগী। যক্ষ্মায় মারা গেছেন ৬৮১ জন। আরোগ্য লাভের হার ৯৩ শতাংশ। এদের মধ্যে ১০ জনের এমডিআর (ওষুধ প্রতিরোধী যক্ষ্মা) শনাক্ত হয়েছে। ভয়াবহ এই যক্ষ্মা থেকে মুক্ত হয়েছে ৬। মারা গেছেন একজন, বাকি ৩ জনের ব্যয়বহুল চিকিৎসা চলছে। ২০০৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৪ সালের চলতি মাস পর্যন্ত প্রায় আট বছরের চিত্র এটি। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট এনজিও থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায় চরাঞ্চলের যক্ষ্মা রোগীর প্রকোপ বেশি। এছাড়া মিল-কলকারখানার শ্রমিকরা যক্ষ্মায় আক্রান্ত হচ্ছে। ভৌগোলিক কারণে নদীবেষ্টিত এই জেলায় চরাঞ্চলের বহু মানুষের বসবাস। তাই ৬ চরাঞ্চলের ঘরে ঘরে রোগী শনাক্তের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যক্ষ্মারোগ নিরাময়ে এই জেলায় এখন নীরব বিপ্লব ঘটেছে। কেটে গেছে যক্ষ্মা আতঙ্ক। ‘যক্ষ্মা হলে রক্ষা নেই’ এই প্রবাদ এখন ঠাঁই নিয়েছে জাদুঘরে। এখন প্রবাদ চলছে ‘বিনামূল্যে যক্ষ্মা চিকিৎসা ঘরে ঘরে, সুস্থ হচ্ছে জনে জনে’।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. কাজী শরিফুল আলম জানান, যক্ষ্মার চিকিৎসা এখন অতি সহজলভ্য। কিন্তু কোন যক্ষ্মা রোগী ওষুধের পুরো কোর্স সম্পন্ন না করলে মহাবিপদ। যক্ষ্মা একটি মারাত্মক সংক্রামক রোগ যা প্রাথমিকভাবে ফুসফুস আক্রান্ত করে। তাই রোগী শনাক্তের মাধ্যমে ব্র্যাকের কর্মীরা ডটসের আওতায় ঘরে ঘরে গিয়ে ওষুধ সেবন করানোর ফলেই এই সাফল্য আসছে।
ব্র্যাকের স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জনসংখ্যা কর্মসূচীর সিনিয়র জেলা ব্যবস্থাপক সুব্রত কুমার বিশ্বাস জানান, যক্ষ্মা রোগীর জন্য ১ হাজার ৫৯ সেবিকা কাজ করছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওষুধ খাওয়া বন্ধ করার পরিণতি হতে পারে ভয়াবহ। আর তাই সেবিকাদের সরাসরি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে প্রতিদিন রোগীরা ওষুধ সেবন করছে। এসব কাজের তদারকি করা হচ্ছে পাঁচ স্তরে। এতে এমডিআর হওয়ার আশঙ্কা থাকছে না। মুন্সীগঞ্জ বক্ষব্যাধি হাসপাতালে জুনিয়র কনসালট্যান্ট বক্ষব্যাধি বিশেষঞ্জ ডা. এএসএম ফখরুল আহসান জানান, এখনও বাংলাদেশে লাখে ২২৫ যক্ষ্মা রোগী রয়েছে। এদের অনেকেই এখনও অসচেতন। ভীতি আর অজ্ঞতায় তারা চিকিৎসা সেবা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে। একটু সচেতনতাই দিতে পারে যক্ষ্মা থেকে মুক্তি। যদি সঠিক সময়ে রোগ চিহ্নিত করে চিকিৎসা নেয়া যায় তাহলে যক্ষ্মা একেবারেই সেরে যায়। আর এ কারণেই যক্ষ্মা চিহ্নিতকরণে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সরেজমিন ঘুরে এবং তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, চরাঞ্চল ও অনগ্রসর এলাকাগুলোতে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে যক্ষ্মায় আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। এদের আবার অনেকেই ধূমপায়ী। লৌহজং উপজেলার পদ্মারচরের পাইকারার চর গ্রামের রহমান ঘরামি (৪৬) ও জহিরউদ্দিন (৫০) যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়ে নিয়মিত ছয় মাস ওষুধ খেয়ে সুস্থ হয়েছেন। তারা দু’জনেই ধূমপায়ী ছিলেন। যক্ষ্মা রোগের জীবাণু পাওয়া গেছে পার্শ্ববর্তী বেজগাঁওচরের শাহিনুর আক্তার (১৮), ঝাউটিয়া চরের ফজল তালুকদার (৪৫), গোয়ালীরচরের জহিরুল ইসলাম (৫০), আব্দুস সালাম (৫৫), মোতালেব মিয়া (৪৫), সংগ্রামবীর চরের আ. হামিদ (৬০), দানেশ ফকির (৬০) ও শাইনহাটিরচরের মোজাফ্ফর মাদবরসহ (৫০) আরও অনেকের। তাদের ওষুধ খাওয়াচ্ছেন সরাসরি ব্র্যাকের সেবিকা। যারা সুস্থ হয়েছেন তাদের অনুভূতিও অন্যরকম। সদর উপজেলার মিরেশ্বের বাস্তুহারা গ্রামের বিধবা মাবিয়া খাতুন (৭০) বলেন, ‘আমি অহন কত শান্তিতে আছি, তা বুঝাইতে পারুম না। যক্ষ্মা থেইক্যা যে এমুনভাবে মুক্তি পামু, আগে বুঝতে পারিনি। ছয় মাস ওষুধ খাওনের লেইগা কোথাও বেড়াইতে পর্যন্ত যাই নাই, আইজ এর ফল পাইতাছি।’ গত ৬ আগস্ট ওষুধের কোর্স শেষ করে কফ পরীক্ষায় ভাল রিপোর্ট এসেছে। তাকে ওষুধ খাইয়েছেন ব্র্যাকের সেবিকা রাহেলা আক্তার সঞ্চিতা। কোর্স সফলভাবে সম্পন্ন করায় রাহেলা ব্র্যাক থেকে ৫শ’ টাকা পেয়েছেন। রাহেলার তত্ত্বাবধানে এখনও ৫ রোগী ওষুধ খাচ্ছেন। অর্ধ শিক্ষিত গৃহবধূ রাহেলা ব্র্যাকের সেবিকা ট্রেনিং নিয়ে এখন যক্ষ্মা রোগের চিকিৎসা এবং চিহ্নিতকরণ কাজ ছাড়াও সমাজের অনেক সেবামূলক কাজ করছেন। এই সেবিকা বলেন, ‘এখন জীবনটা বেশ উপভোগ করতাছি। মানুষের উপকার কইরা ভাল লাগা পাইতাছি। কয় টাকা পাইলাম হেইডা বড় কথা না, অসহায় এক মায়েরে শান্তি দিতে পারছি, রোগ মুক্তির জন্য সহযোগিতা করতে পারছি, এর লেইগাই শান্তি।’
বিশেষজ্ঞরা জানান, বাতাসের মাধ্যমে যক্ষ্মা রোগের জীবাণু ছড়ায়। যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি বা কাশির মাধ্যমে রোগের জীবাণু বাতাসে গিয়ে মিশে রোগের সংক্রমণ ঘটায়। যক্ষ্মায় আক্রান্ত হলে তিন সপ্তাহ বা এর অধিক সময় ধরে কাশি হয়, কাশির সঙ্গে রক্ত যাওয়া বুকে ব্যথা অথবা শ্বাস নেয়ার সময় ও কাশির সময় ব্যথা হয়। অস্বাভাবিকভাবে ওজন হ্রাস, অবসাদ অনুভব করা, জ্বর, রাতে ঘাম হওয়া, কাঁপুনি ও ক্ষুধামন্দা দেখা দেয়। তবে যক্ষ্মা হলে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। রোগীকে পরিবার-পরিজন থেকে আলাদা করার দরকার নেই। ¯েপশাল কোন খাওয়া-দাওয়ার দরকার নেই। নিয়মিত, পরিমিত এবং পূর্ণমাত্রায় ও পূর্ণমেয়াদে ওষুধ সেবন করলে অবশ্যই যক্ষ্মা স¤পূর্ণ ভাল হয়ে যায়।
গ্রাহকদের দেড় শ’ কোটি টাকা মেরে জামায়াতী কোম্পানির ‍উধাও
স্বজনকে পাওয়ার অব এ্যাটর্নি দিয়ে এমডির চম্পট
স্টাফ রিপোর্টার, মুন্সীগঞ্জ ॥ মুন্সীগঞ্জে দুইটি ও ঢাকার দোহার উপজেলা হতে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হয়ে গেছে ম্যাগনেট মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ প্রাইভেট লিমিটেড নামে একটি এমএলএম কোম্পানি। নিজের নামের সকল সম্পত্তি পাওয়ার অব এ্যাটর্নির মাধ্যমে আত্মীয়ের নামে রেজিস্ট্রি করে দিয়ে গা ঢাকা দিয়েছে ওই কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এক সময়ের জামায়াত নেতা আনোয়ারুল ইসলাম আনোয়ার। ঢাকার নয়াপল্টনের প্রধান কার্যালয়সহ দশটি শাখার মাধ্যমে কয়েক বছরে ব্যবসা পরিচালনা করে প্রায় দেড় শ’ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার শ্রীনগর ও ষোলঘর শাখায় শত শত গ্রাহক উপস্থিত হয়ে কোম্পানির অফিসে তালা ঝুলতে দেখে হায়-হুতাশ শুরু করে। পরে তারা শ্রীনগর থানায় উপস্থিত হয়ে বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করে।
২০০৯ সালে ম্যাগনেট মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর, লৌহজং ও ঢাকার দোহার উপজেলায় এমএলএম কোম্পানির ব্যবসা বা ঋণ আদান-প্রদানের ব্যবসা শুরু করে। কোম্পানিটির প্রধান কার্যালয় ঢাকার পল্টনের নোয়াখালী টাওয়ারে। এর এমডি আনোয়ারুল ইসলাম শ্রীনগর উপজেলা ছাত্রশিবিরের নেতা ছিলেন। বর্তমানে তিনি উপজেলা জামায়াতের সদস্য। কোম্পানিটির ডিএমডি তাঁর স্ত্রী আছমা আনোয়ার। কৌশলে অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁরা সাধারণ জনতার মাঝে বিশ্বাস অর্জন করে। এক সময় জনগণকে অধিক টাকা সুদ দেয়ার কথা বলে লাখ লাখ টাকা জমা নেয়। এতে বেশি লাভের আশায় সহজ সরল মানুষ এক লাখ থেকে শুরু করে ৩৫ লাখ টাকা পর্যন্ত জমা দেয় ওই কোম্পানির কাছে। প্রথম প্রথম কয়েক মাস সকল গ্রাহককে সুদের টাকা দিলেও এক সময়ে টালবাহানা শুরু করে গ্রাহকদের সঙ্গে। গত কয়েক মাস ধরে গ্রাহকদের টাকা দেই দিচ্ছি করে টালবাহানা শুরু করে কোম্পানির বিভিন্ন আইনকানুন দেখিয়ে টাকা দিতে সময় লাগবে বলে গ্রাহকদের জানায়। ২৫ সেপ্টেম্বর আনোয়ার তাঁর স্বজনদের নামে নিজের সকল বিষয় সম্পত্তির পাওয়ার অব এ্যাটর্নি দিয়ে কোম্পানির অফিসে তালা ঝুলিয়ে গা ঢাকা দিয়েছেন। তাঁর বাড়ি শ্রীনগর উপজেলার শ্রীনগর সদরে।
শ্রীনগর সরকারী কলেজের সাবেক ভিপি মোঃ মোস্তফার স্ত্রী রোকসানা বেগম বলেন, আমি ২০ লাখ টাকা জমা দিয়েছিলাম। কোন টাকাই ফেরত পাইনি। এখন থানায় এসেছি কিন্তু থানাও মামলা নিতে চাচ্ছে না। এখন কি করব বুঝে উঠতে পারছি না। আনোয়ারের নামে যে বিষয় সম্পত্তি ছিল তা তাঁর ভাগ্নে সেলিম ও মোস্তফা কামাল নামে একজনের ছেলের বউ ও তাঁর মেয়ের নামে ক্ষমতা অর্পণ করে গেছেন। প্রশাসনের কাছে আমাদের অনুরোধ থাকবে এ সব বিষয় সম্পত্তি জেন তারা বিক্রি করতে না পারে। শ্রীনগরের সমষপুরের মাসুদ শেখ ২ লাখ টাকা জমা দিয়েছিলেন ষোলঘর শাখায়, মধ্যবাঘড়ার জুয়েল শেখ আলামিনবাজার শাখায় দেড় লাখ টাকা জমা দিয়েছিলেন, শ্রীনগরের আব্দুল সাত্তার তাঁর নামে তিন লাখ ও তাঁর স্ত্রী সালমার নামে ২ লাখ মোট ৫ লাখ টাকা জমা দিয়েছিলন। এ রকম আরও অনেকেই প্রতারণার শিকার হয়ে শ্রীনগরে মাল্টি পারপাস কোম্পানিটির অফিসে গিয়ে তালা ঝুলতে দেখে প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারেন। তাঁরা শ্রীনগরে আনোয়ারুলের বাড়িতে গিয়েও তাঁর ঘরে তালা ঝুলতে দেখেন। তিনি পরিবার-পরিজন নিয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন। শুধু গ্রাহকদেরই নয়, তাঁর কোম্পানির অনেক কর্মচারী ও কর্মকর্তা চাকরির পাশাপাশি নিজের গচ্ছিত টাকা পয়সা সুদের আশায় জমা দিয়ে প্রতারণার শিকার হয়ে এখন কান্নাকাটি শুরু করেছেন। একদিকে চাকরি হারিয়ে বেকার, অপরদিকে নিজেদের গচ্ছিত টাকা পয়সা হারিয়ে এখন দিশেহারা। এমন একজন শামীম আহমেদ মীরাজ জানান, আমি চাকরি করার পাশাপাশি নিজের কিছু টাকাও খাটিয়েছিলাম কোম্পানির কাছে। এখন আমার সবই গেল। টাকা পয়সা তো গেছেই, সেই সঙ্গে গ্রাহকদের চাপে এখন আমি বাড়িছাড়া। তিনি বলেন, কোম্পানিটি গ্রাহকদের কাছ থেকে ২০ কোটি টাকার মতো ঋণ নিয়েছে। তবে কোম্পানিও সদস্যদের কাছে অনেক টাকা পাবে। তাছাড়া এখান থেকে টাকা নিয়ে কোম্পানির এমডির নামে অনেক জায়গা জমিও কেনা হয়েছে।
শ্রীনগর উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার বলেন, মাল্টিপারপাসটি ঢাকার সমবায় হেড অফিস থেকে রেজিস্ট্রেশন নিয়েছিল। আমার এখানে দেড় শতাধিক সমিতির সদস্যের নাম ঠিকানাসহ একটি খাতা জমা দিয়েছিল। সমিতির বাইরে কারও কাছ থেকে ঋণ দেয়া-নেয়ার বিধান নেই কোম্পানিটির।
ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে মন্ত্রীর বক্তব্য পছন্দ করছে না কেউ
এ বক্তব্য শিক্ষার পরিবেশ জটিল করবে- মন্তব্য বিশেষজ্ঞদের
বিভাষ বাড়ৈ ॥ ভর্তি পরীক্ষায় গণহারে ফেলের কারণে শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় একতরফাভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাকে দায়ী করে শিক্ষামন্ত্রী দেয়া বক্তব্যে হতবাক শিক্ষাবিদরা। ‘ঢাবির বাছাই প্রক্রিয়াই ত্রুটিপূর্ণ’ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের এমন বক্তব্যের বিপরীতে উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের শক্ত অবস্থান নেয়ার পর সৃষ্ট বিতর্কে উদ্বিঘ্ন শিক্ষানীতি প্রণয়ন কমিটির সদস্যসহ বিশেষজ্ঞরা। মন্ত্রীর বক্তব্যকে সঠিক বলছেন না প্রায় কেউই। বরং তার বক্তব্যে সৃষ্ট বিতর্ককে সঙ্কট সমাধানের পথে অন্তরায় অভিহিত করে শিক্ষাবিদরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, দুই পক্ষের দোষারোপের সংস্কৃতি শিক্ষার এ সঙ্কটকে আরও জটিল করে তুলবে। বিপর্যয়ের জন্য একে অপরকে দায়ী না করে দ্রুত সঙ্কটের কারণ খুঁজে বের করতে হবে। শিক্ষার মান নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে তাকে এক বাক্যে উড়িয়ে দেয়া যাবে না বলেও মন্ত্রীকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন অনেক শিক্ষাবিদ। বলছেন, শিক্ষা ব্যবস্থা, পাবলিক ও ভর্তি পরীক্ষা- এ তিন ক্ষেত্রেই ত্রুটি আছে। তবে তা নিরসনের ক্ষেত্রে পাল্টাপাল্টি দোষারোপ কোন পন্থা হতে পারে না।
শিক্ষাবিদরা উচ্চশিক্ষার শুরুতে সৃষ্ট ফল বিপর্যয়ের কারণ খুঁজে তার সমাধানের জন্য শিক্ষামন্ত্রী, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় বসার পরামর্শ দিয়েছেন। এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের অধীনে অনুষ্ঠিত ভর্তি পরীক্ষার ফলে এই অনুষদভুক্ত ইংরেজী বিভাগে ভর্তির যোগ্যতাসম্পন্ন মাত্র দুই জন শিক্ষার্থীকে পাওয়া গেছে। ইংরেজী বিভাগের বিপর্যয়ের জন্য অবশ্য শিক্ষার্থীরা হঠাৎ করে ইলেকটিভ ইংলিশ যুক্ত করার বিষয়টিকে দায়ী করেছেন। তবে ফল বিপর্যয় কেবল এখানেই তা নয়। বিজ্ঞান অনুষদের অধীন ‘ক’ এবং বাণিজ্য অনুষদের অধীন ‘গ’ ইউনিটের পরীক্ষায় যথাক্রমে মাত্র ২১ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ২০ দশমিক ৫ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছেন। অর্থাৎ পাবলিক পরীক্ষায় পাসের হার প্রায় শতভাগে চলে গেলেও ভর্তি পরীক্ষায় তাদের ৮০ ভাগই ফেল করেছে। সর্বশেষ কলা অনুষদের অধীন ‘খ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ফেল করেছে ৯০ শতাংশ শক্ষার্থীই। মাত্র ১০ ভাগ শিক্ষার্থী পাস নম্বর পেয়েছে। ‘ঘ’ ইউনিটের পরীক্ষায় পাস করেছে ১৬ শতাংশ। সবচেয়ে বড় বিপর্যয় হয়েছে রবিবার প্রকাশিত ‘চ’ ইউনিটের পরীক্ষার ফলে। যেখানে পাস করেছে তিন শতাংশের কিছু বেশি শিক্ষার্থী। এছাড়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সি’ ইউনিটের ফেলের চিত্রও ভয়াবহ। যেখানে এবার ভর্তি পরীক্ষায় ফেলের হার ৯৫ দশমিক ৪ শতাংশ। ভর্তি পরীক্ষার ব্যাপক ফেলের পর বিভিন্ন মহলে সমালোচনা হচ্ছে। প্রশ্ন উঠেছে শিক্ষার মান নিয়ে। শিক্ষার মান নিয়ে চলা এমন বিতর্কের মধ্যেই রবিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী। আর সেখানেই ‘ঢাবির বাছাই প্রক্রিয়াই ত্রুটিপূর্ণ’ অভিযোগ তোলায় শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় গণহারে ফেলের কারণে শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠার প্রেক্ষাপটে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেছেন শিক্ষামন্ত্রী। বলেছেন, বাছাই প্রক্রিয়াই (ঢাবির) ত্রুটিপূর্ণ ছিল। এজন্য (শিক্ষার্থীরা) ফেল করেছে। এটা আমাদের বিষয় নয়, এটা তারা (ঢাবি কর্তৃপক্ষ) দেখবে। শিক্ষামন্ত্রী পাবলিক পরীক্ষায় ভাল ফলের পর ভর্তি পরীক্ষায় গণফেল ও ইংরেজী বিভাগে মাত্র দুইজন ভর্তির যোগ্য হওয়ার ঘটনার জন্য এভাবেই ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতিকে দায়ী করেছেন। একই সঙ্গে বলেছেন, শিক্ষার্থীদের সর্বনাশ করার এই পদক্ষেপ। ছেলে-মেয়েদের হেনস্থা করতে ফেল বলে প্রচার করা হয়েছে। শিক্ষা ব্যবস্থাকে প্রশ্নের মুখে ফেলার জন্য এটা করল? কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা পরিপূর্ণ না, এটা কোন পরীক্ষাই না। এটা পাস ফেলের না, এটা বাছাই পরীক্ষা। তিনি আরও বলেছেন, আমরা চাই তাঁরা (ঢাবি কর্তৃপক্ষ) দায়িত্বশীল হবেন। তা না করলে প্রয়োজনে আইন পরিবর্তন করব। আগামী বছর সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা নেয়া হবে। তবে এখনই এটা (আইন পরিবর্তন) করতে চাই না।
মন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পরই পাল্টা অবস্থান জানিয়ে দিয়েছেন ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। তিনি বলেছেন, ঢাবির ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে মন্ত্রী ঠিক বলেননি। শিক্ষামন্ত্রীর মন্তব্য তার নিজস্ব মতামতের প্রতিফলন। তবে আমাদের গৃহীত ভর্তি পরীক্ষা দীর্ঘদিনের চিন্তা ও অভিজ্ঞতার ফসল। সব পর্যায়েই এর বিশ্বাসযোগ্যতা রয়েছে। এটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করা উচিত হবে না। মানদ- ঠিক রেখে ও শিক্ষার্থীদের জন্য সহজ আরও ভালো কোন উপায় কেউ জানালে তাকে আমরা স্বাগত জানাব বলেও জানিয়ে দেন উপাচার্য। ‘খ’ ইউনিটের পরীক্ষায় সাধারণ ইংরেজী অংশের পাশাপাশি উচ্চতর ইংরেজী অংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী বিভাগের চাহিদা মোতাবেক অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে শিক্ষার্থীরা কাক্সিক্ষত ফলাফল না করায় সাধারণ ইংরেজী অংশে যারা অপেক্ষাকৃত ভাল করেছে তাদের ওই বিভাগে আসন খালি থাকা সাপেক্ষে ভর্তি করা হবে বলে জানান তিনি। বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের মেধার প্রতিফলন হয় না, এটি সত্যি নয়। কেননা পরীক্ষায় ২০০ নম্বরের মধ্যে ৮০ নম্বর এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার মোট জিপিএ অনুযায়ী নির্ধারণ করা হয়। আর ১২০ নম্বরের ভর্তি পরীক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ করতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সাড়ে ৬ হাজার আসনের বিপরীতে তিন লাখের বেশি পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। তাই বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব চাহিদা অনুযায়ী একটি মানদ- নির্ধারণ করে এ পরীক্ষা গ্রহণ করে। আরেফিন সিদ্দিক বলেন, এ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাছাই পরীক্ষায় কোন শিক্ষার্থী যোগ্য হয়নি বলে সে মেধাবী নয়, এমনটিও ভাবা উচিত হবে না। কেননা এটি বাছাই পরীক্ষা। কোন শিক্ষার্থী এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় ভাল না করলেও অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অনেক ভাল করার নজির রয়েছে।
ফল বিপর্যয়ের পর মন্ত্রী ও উপাচার্যের বিপরীতমুখী অবস্থানে উদ্বিগ্ন দেশের শিক্ষাবিদ, শিক্ষানীতি প্রণয়ন কমিটির সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন কমিটির সদস্য সচিব শিক্ষাবিদ অধ্যাপক শেখ ইকরামুল কবীর বলছিলেন, এখন সঙ্কট সমাধানের দিকে মনোযোগ দিতে হবে। একে অপরকে দায়ী করে কথা বললে সঙ্কটের কারণও বের হবে না আবার সমাধানও হবে না। বরং দুই পক্ষের দোষারোপের সংস্কৃতি শিক্ষার এ সঙ্কটকে আরও জটিল করে তুলবে। বিপর্যয়ের জন্য একে অপরকে দায়ী না করে দ্রুত সঙ্কটের কারণ খুঁজে বের করতে হবে এখন।
শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মমতাজউদ্দিন পাটওয়ারী বলছিলেন, রাজনীতিবিদদের মতো দোষারোপের সংস্কৃতি থেকে দুই পক্ষকেই সরে আসতে হবে। কেন এসব হচ্ছে তার আগে বের করে সে অনুসারে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় সঙ্কট ভয়াবহ হয়ে উঠবে। এই শিক্ষাবিদ বলছিলেন, সঙ্কট আছে সব ক্ষেত্রেই। শিক্ষা, পাবলিক ও ভর্তি পরীক্ষা সব ক্ষেত্রেই সঙ্কট আছে। খুঁজলে দেখা যাবে প্রাথমিকে সঙ্কট ১০টা, মাধ্যমিকে ১৫টা, উচ্চ মাধ্যমিকে ২০টা আর উচ্চশিক্ষায় সঙ্কট আছে ২১টা। অতএত সঙ্কট থাকলে ভর্তি পরীক্ষায় বিপর্যয় হবেই। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলছিলেন, শিক্ষার মান নিয়ে যেমন প্রশ্ন আছে। তেমনি ভর্তি পরীক্ষাও ঠিক নেই। ইংরেজী বিষয়ে হঠাৎ ইলেকটিভ ইংলিশ নিয়ে এসে একটি জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। আসলে কেবল মান সমস্যা নয়। কারণ ফল বেশি ভাল হওয়ার জন্য সামান্য অংশই ভাল ফল করেছে। কিন্তু তারা পরেও এত শিক্ষার্থী মেধাবী তাদের তো ভাল করার কথা ভর্তি পরীক্ষায়। এখন শিক্ষা পদ্ধতি পাল্টে গেছে। সে অনুসারে ভর্তি পরীক্ষায়ও একটা পরিবর্তন জরুরী। তবে কারণ আগে বের করতে হবে। আর সঙ্কট এমনভবে করতে হবে যাবে মেধাবীরা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় একতরফাভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাকে দায়ী করে শিক্ষামন্ত্রী দেয়া বক্তব্যে হতবাক গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী। তিনি বলছিলেন, মন্ত্রীর অবস্থানটি সঠিক মনে হয়নি আমার কাছে। যেহেতু একটি বিপর্যয় ঘটেছে মন্ত্রী বলতে পারতেন সমস্যাটি কি আমরা খুঁজে বের করে সে অনুসারে ব্যবস্থা নেব। তা না করে মন্ত্রীর কঠোর মনোভাব সঙ্কট সমাধানের পথে অন্তরায় সৃষ্টি করতে পারে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থায় অনেক বেশি জাঁকজমক চলে এসেছে। জ্ঞান আহরণের প্রতিযোগিতা ভাল, কিন্তু পরীক্ষায় ভাল ফলাফল করার জন্য অসুস্থ প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে অসুস্থ করে ফেলছে। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় বিপুল পরিমাণ ছাত্র-ছাত্রী পাস করছে, জিপিএ ৫ পাচ্ছে। কিন্তু উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে তারা ব্যর্থ হচ্ছে। নিশ্চয়ই কোথাও না কোথাও গলদ রয়েছে। এটি শিক্ষা প্রশাসক-ব্যবস্থাপক-গবেষকসহ সবাইকে মিলে চিহ্নিত ও সমাধান করতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন ও খ ইউনিট ভর্তি পরীক্ষার সমন্বয়কারী অধ্যাপক ড. সদরুল আমিন শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বলছিলেন, মন্ত্রী বিষয়টি ভুল বলেছেন। কোন প্রেক্ষিতে একথা বলেছেন তা আমার বোধগাম্য নয়। এটি খুবই দুঃখজনক। সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও ঘ ইউনিট ভর্তি পরীক্ষার সমন্বয়কারী অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য সমর্থনযোগ্য নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা দেশের যে কোন পরীক্ষার চেয়ে সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ উপায়ে সম্পন্ন হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় ব্যাপক হারে ফেল প্রসঙ্গে অধ্যাপক ড. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, যেসব শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষা দিয়েছে তারা সবাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার যোগ্যতা রাখে।
কিন্তু আমাদের ভর্তি পরীক্ষার পদ্ধতিগত সমস্যা আছে। যাঁরা পরীক্ষা পরিচালনা করছেন, যাঁরা প্রশ্ন করেছেন তাঁরা দায়ী। তিনি বলেন, শিক্ষায় পাসের হার বাড়া অবশ্যই ইতিবাচক। কিন্তু শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি পেয়েছে কি না সেটা আমাদের বিবেচনা করতে হবে। ইংল্যান্ডে দেখেছি প্রতি বছরের ফলাফলে পাসের হার বাড়ে, সেখানেও এ নিয়ে বিতর্ক হয়। নিউজিল্যান্ডেও একই অবস্থা।
সুবহানের বিরুদ্ধে সাক্ষী তদন্ত কর্মকর্তার জেরা অব্যাহত
যুদ্ধাপরাধী বিচার
স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরের ম্ুিক্তযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত জামায়াতের নায়েবে আমির আব্দুস সুবহানের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের ৩০তম সাক্ষী দ্বিতীয় তদন্ত কর্মকর্তা মোঃ নুর হোসেনের জেরা অব্যাহত রয়েছে। সোমবার আসামি পক্ষের আইনজীবী তৃতীয় দিনের মতো তাকে জেরা করেন। আজ আবার তাকে জেরা করার জন্য দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান শাহীনের নেতৃত্বে তিন সদস্যবিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ প্রদান করেছেন। ট্রাইব্যুনালে অন্য দু‘সদস্য ছিলেন বিচারপতি মোঃ মুজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মোঃ শাহিনুর ইসলাম। অন্যদিকে আজ বাগেরহাটের তিন রাজাকার কসাই সিরাজুল হক ওরফে সিরাজ মাস্টার, আব্দুল লতিফ ও খান আকরাম হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
এদিকে জামায়াতের নায়েবে আমির আব্দুস সুবহানের বিরুদ্ধে ৭ এপ্রিল থেকে এ পর্যন্ত মোট ৩০ সাক্ষী জবানবন্দী প্রদান করেছেন। এরা হলেন- প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা মতিউর রহমান, সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী আ ত ম শাহিদুজ্জামান নাসিম, শহীদপুত্র মুক্তিযোদ্ধা তহুরুল আলম মোল্লা, মোঃ আবু আসাদ, রুস্তম আলী, মোঃ ইসরাইল, কোরবান আলী, শহীদ জায়া জাহানারা বেগম, আশরাফ উদ্দিন মিয়া, মোঃ রিয়াজ উদ্দিন ম-ল, সানোয়ারা খাতুন, মোঃ ফজলুর রহমান ফান্টু, আব্দুর রহমান সরদার, শহীদ পরিবারের সদস্য মোঃ আব্দুল মতিন, মোঃ আজিজুল সরদার, মমতাজ উদ্দিন মন্টু, আক্কাছ শেখ, শহীদপুত্র আলী রানা শেখ, আব্দুল আজিজ, নিজাম উদ্দিন খান, হোসেন সরদার, মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদপুত্র মোঃ শহিদুল্লাহ শহীদ, এসএম সামছুল আলম, মোঃ খোরশেদ আলম, শহীদপুত্র মোঃ সামছুল আলম, আবদুল বাতেন, মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ মোঃ ফজলুল হক এবং এস কে শহীদুল্লাহ।
তিন রাজাকার ॥ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বাগেরহাটের তিন রাজাকার কসাই সিরাজুল হক ওরফে সিরাজ মাস্টার, আব্দুল লতিফ ও খান আকরাম হোসেনের বিরুদ্ধে ১৫ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আমলে নিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। আজ অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল -১ এ মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ গত ১০ জুন এ তিনজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। কচুয়া থানা পুলিশ ১১ জুন পলাতক আসামি আ. লতিফ তালুকদারকে গ্রেফতার করে ট্রাইব্যুনালে হাজির করে। ১৯ জুন অপর পলাতক আসামি আকরাম হোসেন খাঁনকে রাজশাহী থেকে মোড়েলগঞ্জ থানা পুলিশ গ্রেফতার করে ট্রাইব্যুনালে সোপর্দ করে। ২১ জুলাই রাত ১১টায় বাগেরহাট মডেল থানা পুলিশ বাগেরহাট সদর উপজেলার ডেমা গ্রামে মৃত মোসলেম পাইকের (তার চাচা শ্বশুর) পরিত্যক্ত খুপড়ি ঘর থেকে সিরাজ মাস্টারকে গ্রেফতার করে।
২৫ আগস্ট তদন্ত সংস্থা তিন রাজাকারের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রকাশ করে। তদন্ত সংস্থা বাগেরহাটের কসাই সিরাজুল হক সিরাজ মাস্টার, আব্দুল লতিফ ও আকরাম হোসেন খাঁনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত সংস্থা। হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠন ও ধর্মান্তরের ৮টি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনে। এর পর প্রসি্িকউশন তা ট্রাইব্যুনালে দখিল করেন।
জামায়াত কোথাও তালেবান, কোথাও আল কায়েদা, কোথাও আইএস ॥ সৈয়দ আশরাফ
স্টাফ রিপোর্টার ॥ জামায়াত সারা বিশ্বে বিভিন্ন নামে মানবতার বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে। জামায়াত এখানে একটা নাম হলেও এরা কোথাও তালেবান, কোথাও আল কায়দা, আবার কোথাও আইএস নামে জঙ্গী তৎপরতায় লিপ্ত। এরা আন্তর্জাতিক বিভিন্ন জঙ্গী সংগঠনের সহযোদ্ধা। অপশক্তি জামায়াত ও তাদের দোসররা সারা বিশ্বের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। আজ কেউ এদের হাতে নিরাপদ নয় বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।
সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সেলের উদ্যোগে ২০১৩ সালের বিএনপি জামায়াতের তা-ব ‘রক্তাক্ত বাংলাদেশ’ শীর্ষক ডিভিডির মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এসব মন্তব্য করেন। সৈয়দ আশরাফ বলেন, জামায়াত নামক এ অপশক্তির বিরুদ্ধে অনেক আগেই যুদ্ধ শুরু হয়েছে। এরা মানবতার শত্রু। যেখানে সুযোগ হবে সেখানেই তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। চাই বা না চাই এ যুদ্ধ আমাদের ওপর আসবেই। এ যুদ্ধ এগিয়ে নিতে হবে। এদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়লাভ করতে হবে।
তিনি একাত্তরে জামায়াতের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিবরণ তুলে ধরে বলেন, হিটলারের তা-ব দেখার সুযোগ হয়নি। কিন্তু একাত্তরে জামায়াতের তা-ব দেখেছি। ২০১৩ সালে তাদের তা-ব মর্মে মর্মে বুঝেছি। এটা ছিল একাত্তরের তা-বের কপি। এদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, সাংবাদিক, আইনজীবী বা বুদ্ধিজীবী কেউ নিরপেক্ষ নন। সবাই কোন না কোন পক্ষের। তবে মানবতার বিরুদ্ধে যুদ্ধে কেউ নিরপেক্ষ থাকতে পারেন না। সবাইকে লেখনী বা ভিডিও চিত্রের মাধ্যমে মানবতার শত্রুদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বিএনপি-জামায়াতের তা-ব ‘রক্তাক্ত বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রামাণ্যচিত্রটি প্রদর্শন করা হয়। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের সহিংসতার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে এই প্রামাণ্যচিত্রে।
লন্ডনের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক ত্যাগ
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর ৮ দিনের সরকারী সফর শেষে সোমবার সকালে নিউইয়র্ক থেকে মার্কিন এক বিমানে লন্ডনের উদ্দেশে যাত্রা করেছেন। খবর বাসসর।
প্রধানমন্ত্রীকে বহন করা ফ্লাইটটি স্থানীয় সময় ৭টা ১৫ মিনিটে জন এফ কেনেডি বিমানবন্দর ত্যাগ করে।
তিনি দুই দিন লন্ডনে অবস্থানের পর ২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার দেশে ফিরবেন।
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জিয়া উদ্দিন ও জাতিসংঘে স্থায়ী প্রতিনিধি ড. আবদুল মোমেন এবং ব্যাপকসংখ্যক প্রবাসী জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান।
বিএনপিতে কোন্দল সামাল দিতে পারছেন না খালেদা জিয়া
বিভিন্ন স্তরে কমিটিও হচ্ছে না
শরীফুল ইসলাম ॥ বিএনপিতে নেতাকর্মীদের কোন্দল সামাল দিতে পারছেন না দলের চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। কোন্দলের কারণে বিভিন্ন স্তরে কমিটিও করতে পারছে না তারা। যেখানেই কমিটি গঠনের কাজে হাত দেয়া হচ্ছে সেখানেই কোন্দল মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। এ জন্য তিনি দলের সিনিয়র নেতাদের ওপর চরম ক্ষুব্ধ। তবে পরিস্থিতি প্রতিকূলে থাকায় কাউকেই এখন কিছু বলছেন না তিনি।
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে থেকেই দলে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির কিছু নেতা নিজেদের মধ্যে কোন্দলে জড়িয়ে পড়েন। কিন্তু বিএনপি নির্বাচন বর্জনের পর আওয়ামী লীগ যখন সমমনা দলগুলোকে নিয়ে আবারও ৫ বছরের জন্য সরকার গঠন করে ফেলে তখন বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম হতাশা ভর করে। এর পর বিএনপি হাইকমান্ড দলের বিভিন্ন স্তরে কমিটি পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু করলে আবারও কেন্দ্র থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যন্ত নেতাকর্মীদের মধ্যে গ্রুপিং-কোন্দল-দ্বন্দ্ব-সংঘাত বাড়তে থাকে। সেই সঙ্গে যেখানেই দলের কোন কমিটি গঠন করা হয় সেখানেই হয় পাল্টা কমিটি গঠিত হয় না হয় কমিটির লোকেরা ২ ভাগে বিভক্ত হয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। শুধু তাই নয়, কোন্দলরত বিএনপি নেতাকর্মীরা পরস্পরকে ঘায়েল করতে এক গ্রুপ আরেক গ্রুপের বিপক্ষে লিফলেটও বিতরণ করেছে। ১ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভা চলাকালে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ কতিপয় সিনিয়র নেতার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যেই কুৎসিত মন্তব্য করে লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে।
সর্বশেষ ২৪ সেপ্টেম্বর বিএনপির সহযোগী সংগঠন শ্রমিক দলের পাল্টা কমিটি গঠিত হয়। এর আগে ২৭ এপ্রিল আনোয়ার হোসাইনকে সভাপতি এবং নুরুল ইসলাম নাসিমকে সাধারণ সম্পাদক করে শ্রমিক দলের ৩৫ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি করে দেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। কিন্তু খালেদা জিয়ার দেয়া কমিটিকে চ্যালেঞ্জ করে ২৪ অক্টোবর এম নাজিমউদ্দীনকে সভাপতি এবং আবুল খায়ের খাজাকে সাধারণ সম্পাদক করে ২০১ সদস্যবিশিষ্ট শ্রমিক দলের পাল্টা কমিটি ঘোষণা করা হয়। এ অবস্থা দেখে বিএনপির আরেক সহযোগী সংগঠন ছাত্রদেলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি দেয়ার সব প্রস্তুতি থাকার পরও খালেদা জিয়া কমিটি ঘোষণা থেকে বিরত থাকেন। জানা যায়, খালেদা জিয়া ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে আরেকটি পাল্টা কমিটি গঠনের প্রস্তুতি ছিল। কোন্দল বাড়ার আশঙ্কায় বিএনপির অঙ্গ সংগঠন যুবদলের নতুন কমিটি গঠন প্রক্রিয়াও থেমে গেছে বলে জানা গেছে।
১৮ জুলাই মির্জা আব্বাসকে আহ্বায়ক ও হাবিব-উন-নবী খান সোহেলকে সদস্য সচিব করে ৫৩ সদস্যের ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠনের পর দলে আরেক দফা দ্বন্দ্ব-সংঘাত বেড়ে যায়। আগের কমিটির আহ্বায়ক সাদেক হোসেন খোকার অনুসারীরা মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বাধীন কমিটির সরাসরি বিরোধিতা করতে থাকে। এ ছাড়াও নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠনের পরপরই মির্জা আব্বাস ঢাকা মহানগর বিএনপিতে একনায়কতন্ত্র কায়েমের চেষ্টা করলে কতিপয় কেন্দ্রীয় প্রভাবশালী নেতার ইন্ধনে সদস্য সচিব হাবি-উন-নবী খান সোহেলের নেতৃত্বে আরেকটি নতুন গ্রুপের সৃষ্টি হয়। এভাবে ঢাকা মহানগর বিএনপির নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে বিএনপিতে আবারও কোন্দল মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে।
২৪ জুলাই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঢাকা মহানগর বিএনপির নতুন আহ্বায়ক কমিটির নেতাদের নিয়ে শেরেবাংলা নগরে জিয়ার মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে যান। কিন্তু মাজারে ফুল দেয়ার সময় মহাসচিবের একপাশে ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মির্জা আব্বাস ও আরেকপাশে সদস্য সচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল দাঁড়ান। কিন্তু মির্জা আব্বাসের অনুসারী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ধমক দিয়ে সোহেলকে সেখান থেকে সরিয়ে দেন। এ নিয়ে দুইপক্ষের মধ্যে ব্গাবিত-া হয়। একই দিনে মহিলা দল ও ছাত্রদল সেখানে মারামারি ও চুলোচুলিতে লিপ্ত হয়। ২৬ জুলাই নয়াপল্টন ভাসানী ভবনে ঢাকা মহানগর বিএনপি কার্যালয়ে সদস্য সচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের বসার জায়গা মির্জা আব্বাসের অনুসারী পল্টন থানা বিএনপির নেতারা দখল করে নিলে এ নিয়ে দুই গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।
৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর পরই বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও তাদের অনুসারী নেতারা আন্দোলন ব্যর্থ হওয়ায় দলের ভাইসচেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকার নেতৃত্বাধীন ঢাকা মহানগর বিএনপির ওপর চাপায়। এক পর্যায়ে তাদের সঙ্গে সুর মিলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল(অব.) আসম হান্নান শাহ ও ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। এ ছাড়া তাঁরা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ওপরও দায় চাপান। এ নিয়ে প্রায় প্রতিদিনই এক নেতা আরেক নেতার বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করতে থাকেন। কোন কোন নেতা ইশারায়-ইঙ্গিতে আন্দোলনে ব্যর্থতার দায় দলীয় হাইকমান্ডের ওপরও চাপানোর চেষ্টা করে। এতে দলের ভেতর নেতায় নেতায় দ্বন্দ্ব আরও বেড়ে যায়।
ঢাকা মহানগর বিএনপির কর্তৃত্ব নিয়ে মির্জা আব্বাসসহ আরও ক’জন সিনিয়র নেতার সঙ্গে সাদেক হোসেন খোকার দ্বন্দ্ব আরও বেশি বাড়তে থাকায় ফেব্রুয়ারি মাসের দ্বিতীয় সপ্তায় বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া তাঁর গুলশান কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর বিএনপির ওয়ার্ড ও থানা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সে বৈঠকে মির্জা আব্বাসসহ ক’জন সিনিয়র নেতাও উপস্থিত ছিলেন। এ বৈঠকে কতিপয় নেতা নির্বাচনের আগে-পরে আন্দোলন সফল না হওয়ায় সরাসরি ঢাকা মহানগর বিএনপিকে দায়ী করেন। তারা বলেন, তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা নির্বাচনের আগে সারাদেশে আন্দোলন বেগবান করে দেশে প্রায় অচলাবস্থার সৃষ্টি করে ফেলে। কিন্তু ঢাকার নেতারা রাজপথে না নামায় রাজধানীতে আন্দোলন ফ্লপ হয়। এ সুযোগে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার সারাদেশে নির্বাচন করে ফেলতে সক্ষম হয়। আর এতে রাজনৈতিকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয় বিএনপি।
র‌্যাব ডিজিকে সোয়া দু’ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ তদন্ত কমিটির
না’গঞ্জের সাত খুন
বিশেষ প্রতিনিধি ॥ বহুল আলোচিত নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনায় হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনিক তদন্ত কমিটি সোমবার সচিবালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) মহাপরিচালক (ডিজি) মোখলেসুর রহমানকে। তিনি তদন্ত কমিটিকে বলেছেন, ‘র‌্যাব আইন, ন্যায় ও সত্যের পথে থাকে।’ তদন্ত কমিটির প্রধান শাহজাহান আলী মোল্লা বলেছেন, নিখুঁত সত্য বের করতে তদন্ত দেরি হচ্ছে। সময় মতো সবই দেখতে পারবেন। আমরা বসে নেই। শীঘ্রই চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়া হবে।
তদন্ত কমিটি সূত্রে জানা গেছে, সাত জনকে অপহরণের পর খুনের আগে তাঁদের বাঁচানো সম্ভব ছিল না। যেদিন অপহরণের ঘটনা ঘটেছে সেই রাতেই সাতজনকে হত্যা করা হয়। সাতজনকে প্রথমে চেতনানাশক ওষূধ দিয়ে অজ্ঞান করা হয়। তারপর গলায় রশি দিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করা হয়। নাভিস্থল কেটে রশি দিয়ে ইটবেঁধে লাশ শীতলক্ষ্যা নদীতে ডুবিয়ে ফেলা হয়। অপহৃত ব্যক্তিদের জীবিত উদ্ধারে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোন অবহেলা বা গাফিলতি ছিল কিনা, এই ঘটনায় র‌্যাব বা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকা বা সংশ্লিষ্টতা ছিল কিনা, র‌্যাব বা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীসহ অন্যদের জড়িত থাকার বিষয়টি গণতদন্তের মাধ্যমে উদ্ঘাটন করতে প্রশাসনিক তদন্ত কমিটি সোমবার র‌্যাবের ডিজি মোখলেছুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। র‌্যাবের ডিজি মোখলেছুর রহমান ইতোমধ্যেই বলেছেন, র‌্যাব সদস্যদের জন্য দায়মুক্তি চায় না।
সোমবার বেলা আড়াইটায় সচিবালয়ে তদন্ত কমিটির প্রধান শাহজাহান আলী মোল্লার কক্ষে র‌্যাবের ডিজিকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়। বিকেল প্রায় পৌনে পাঁচটা পর্যন্ত জিজ্ঞাসা করা হয় র‌্যাব ডিজিকে। তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব আবুল কাশেম মহিউদ্দিন জানিয়েছেন, সাত খুনের ঘটনায় র‌্যাবের কয়েক সদস্যের সংশ্লিষ্টতা থাকায় বাহিনীর প্রধান হিসেবে র‌্যাবের ডিজি মোখলেছুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল জিয়াউল আহসানকেও জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন এই তদন্ত কমিটি। এই তদন্ত কমিটি নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ নির্বাচনী এলাকার জাতীয় সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভি, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি, নারায়ণগঞ্জের সাবেক ডিসি, সাবেক পুলিশ সুপারসহ প্রায় ৪শ’ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। আরও বেশ কয়েকজন তদন্ত কমিটির জিজ্ঞাসাবাদের তালিকায় আছেন। তদন্ত কমিটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়ার আগে আরও তিন-চার জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে। তবে কবে নাগাদ চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়া হবে সে বিষয়ে কিছু বলেনি তদন্ত কমিটি। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যে আদালতের কাছে দুই দফা অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।
গত ৭ মে গঠিত হয় এই প্রশাসনিক তদন্ত কমিটি। সাত খুনের ঘটনায় র‌্যাব ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসহ অন্যদের জড়িত থাকার অভিযোগ তদন্ত করার নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিটি সাত খুনের ঘটনার উদ্ঘাটন করার জন্য গণতদন্ত করে যাচ্ছেন। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, তাঁর বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন, গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম, আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার ও তাঁর গাড়িচালক ইব্রাহীম গত ২৭ এপ্রিল অপহৃত হন। পরে শীতলক্ষ্যা নদী থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। অপহরণের ঘটনার পরপরই নজরুলের পরিবারের পক্ষ থেকে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা নূর হোসেনকে প্রধান আসামি করে একটি মামলা করা হয়। নূর হোসেন র‌্যাবকে ছয় কোটি টাকা দিয়ে হত্যা করিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন নজরুলের শ্বশুর শহীদুল ইসলাম। অপহৃতদের লাশ উদ্ধারের পর লোকচক্ষুর আড়ালে চলে যান নূর হোসেন। নূর হোসেনকে গত ১৪ জুন কলকাতা বিমানবন্দর সংলগ্ন কৈখালী এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে গ্রেফতার করে ভারতীয় পুলিশ।
পরে দুই সহযোগীসহ পশ্চিমবঙ্গে গেফতার হয়ে বিচারের সম্মুক্ষীণ হয়ে কারাগারে আছেন নূর হোসেন।
র‌্যাব-১১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, মেজর আরিফ হোসেন, লে. কমান্ডার এমএম রানাকে প্রথমে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। তারপর গ্রেফতর করা হয়। গ্রেফতারের পর কয়েক দফা রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। আদালতে নিজেদের দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেন তাঁরা। র‌্যাবের দশ জনকে সাত খুনের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে।
নারায়নগঞ্জ জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম কে এম মহিউদ্দিনের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেন তাঁরা। গত ৪ জুন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেন মেজর আরিফ হোসেন। আর গত ১৮ জুন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেন তারেক সাঈদ মোহাম্মদ। অপহরণ ও গুম করার সকল কাজ নিজেই করেছেন বলে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন আরিফ হোসেন। তারেক সাঈদের নির্দেশে এ কাজ করেছেন বলে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে উল্লেখ করেছেন। অপহরণের ঘটনা ঘটেছিল গত ২৭ এপ্রিল দুপুরে। তাঁদের দেয়া জবানবন্দী অনুযায়ী ওই রাতেই সাতজনকে হত্যা করে লাশ শীতলক্ষ্যায় ইটবেঁধে ডুবিয়ে দেয়া হয়।
যেদিন অপহরণ সেই রাতেই খুন ॥ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে অপহরণের পর গুম করার ঘটনা যেভাবে ঘটেছে তার বর্ণনা দিয়ে মেজর আরিফ হোসেন বলেছেন, কাউন্সিলর নজরুল ইসলামকে আটকের অভিযানে আরিফ হোসেন ও এমএম রানা নিজ নিজ টিম নিয়ে রওনা দেন। আরিফ হোসেন আটক করেন নজরুল ইসলামসহ পাঁচ জনকে। তাদের আটকের ঘটনা দেখে ফেলায় এম এম রানার দল আটক করেন আইনজীবী চন্দন সরকার ও তার গাড়ি চালককে। মোট সাতজনকে আটক করা হয়। আটক সাত জনকে নিয়ে আরিফ হোসেন বেলা প্রায় একটা পঞ্চাশ মিনিটের দিকে তারাব এলাকায় পৌঁছান। এরপর দুটি মাইক্রোবাস নিয়ে তারা নরসিংদী ক্যাম্পের দিকে রওনা হন। অনুমানিক বেলা আড়াইটার দিকে নরসিংদী ক্যাম্পের কাছে পৌঁছান তাঁরা। সেখানকার ক্যাম্প কমান্ডার সুরুজের সঙ্গে ক্যাম্পের বাইরে দেখা হয় তাদের। ক্যাম্প কমান্ডার সুরুজের কাছ থেকে দুই হাজার টাকা নিয়ে সবাই ক্যাম্পের বাইরে দুপুরের খাবার খান। সেখান থেকে রওনা দিয়ে শিবপুরে গিয়ে পৌঁছান বিকেল চারটায়। শিবপুরে অপেক্ষা করেন রাত আটটা পর্যন্ত। মেজর আরিফ জবানবন্দীতে বলেছেন, তাঁর অধিনায়ক তারেক সাঈদকে ফোন করে নারায়ণগঞ্জে ফিরে আসার নির্দেশনা চান। কিন্তু রাস্তায় পুলিশের কড়াকড়ি নজরদারি থাকায় তাদের মাইক্রোবাস নিয়ে আসতে নিষেধ করেন। তাদের নিয়ে আসার জন্য ট্রাক পাঠাবেন বলে জানান তারেক সাঈদ। ট্রাক পাঠানোর পর ফিরে আসার ঘটনাটি সময়সাপেক্ষ বলে তারা মাইক্রোবাস নিয়েই রওনা দেন। মেজর আরিফ তখন সাতজনকেই চেতনা নাশক ওষুধ দেয়ার জন্য সৈনিক মহিউদ্দিন মুন্সিকে সাতটি চেতনা নাশক ওষুধের ইনজেকশন, সিরিঞ্জ নিয়ে আসার নির্দেশ দেন। নির্দেশ অনুযায়ী চেতনা নাশক ইনেজকশন ও সিরিঞ্জ নিয়ে আসা হয়। তখন রাত প্রায় ৮টা।
রাত প্রায় ১০টায় মাইক্রোবাসযোগে কাঁচপুর পৌঁছান তাঁরা। কাঁচপুর ব্রিজের নিচে তারেক সাঈদকে ফোন করে একটি ট্রলার পাঠাতে বলেন মেজর আরিফ। কিছুক্ষণের মধ্যেই তাকে এম এম রানা ফোন করে জানান, কাঁচপুর ব্রিজের নিচে ট্রলার থাকবে। মেজর আরিফ হোসেন ফোন করেন নূর হোসেনকে। কাঁচপুর ব্রিজের নিচে যেন জটলা না থাকে সেজন্য নির্দেশ দেন।
রাত প্রায় ১২টা। আরিফের জবানবন্দী অনুযায়ী ট্রলার আসে কাঁচপুর ব্রিজের নিচে। সিপাহী আবু তৈয়ব আলীকে চেতনা নাশক ইনজেকশন দিতে বলার পর এসআই পুর্ণেন্দু বালা, ল্যান্স নায়েক বেলাল, সৈনিক আবদুল আলিম, তাজুল, কনস্টেবল শিহাবউদ্দিন ও হীরা মিয়াসহ ৮ জনে মিলে সাত জনের মুখে পলিথিন পেঁচিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করেন।
রাত প্রায় আড়াইটা। লাশগুলো নিয়ে ট্রলারযোগে মেঘনার মোহনায় গিয়ে শীতলক্ষ্যা নদীতে সাতটি লাশের সঙ্গে এক সেট ইটের বস্তা বেঁধে নদীতে ফেলে দেয়া হয়। লাশ ফেলার আগে পেটে ছিদ্র করা হয়। ঘটনার ৩ দিন পর ৬টি লাশ শীতলক্ষ্যা নদীতে ভেসে ওঠার পর উদ্ধার করা হয়। আরেকটি লাশ পাওয়া যায় পরদিন।
রাত প্রায় ৩টা। আরিফ হোসেনের দল পৌঁছান নারায়ণগঞ্জের ঘাটে। এই ঘাটেই দেখা পান তারেক সাঈদের। র‌্যাব সদর দফতরে পৌঁছান মেজর আরিফ। তখন রাত প্রায় ৪টা।
র‌্যাব ডিজি যা বলেছেন ॥ সোমবার বিকেল পৌনে পাঁচটায় তদন্ত কমিটির প্রধান শাহজাহান আলী মোল্লার কক্ষে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বের হয়ে আসেন র‌্যাব ডিজি মোখলেছুর রহমান। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বাহিনীর প্রধান হিসেবে আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করাই বাঞ্ছনীয়। তদন্ত কমিটি যা যা জানতে চেয়েছে তার সব কিছুই বলেছি। যেটা সত্যি, তাই বলেছি। কোন কোন বিষয়ে কথা বলেছেন সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন, তদন্ত কমিটি যা জিজ্ঞেস করেছে তার সব বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ। র‌্যাবের সচ্ছতা আছে। যেটা সত্য র‌্যাব সেটাই করে। র‌্যাব আইন, ন্যায় ও সত্যের পথে থাকে।
যা বলেছেন তদন্ত কমিটির প্রধান ॥ র‌্যাব প্রধানকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তদন্ত কমিটি প্রধান শাহজাহান আলী সাংবাদিকদের বলেছেন, এই হত্যা মামলায় র‌্যাব সদস্যরা আসামি। তাদের কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাই সংস্থার প্রধান হিসেবে র‌্যাব ডিজি মোখলেছুর রহমান কতটুকু জানেন তা জিজ্ঞেস করা হয়েছে। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা না ঘটে সে বিষয়ে র‌্যাব মহাপরিচালককে পরামর্শ দেয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটি প্রধান বলেছেন, এই ঘটনা নিয়ে গণমাধ্যমে যেসব খবর এসেছে, সাক্ষীরা যা বলেছেন, আমরা যেসব তথ্য পেয়েছি তার ভিত্তিতে র‌্যাব প্রধানের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। সাত খুনের ঘটনা আগে থেকেই র‌্যাব সদর দফতর জানত কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে তদন্ত কমিটির প্রধান বলেন, এই বিষয়ে চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হবে। চূড়ান্ত প্রতিবেদন কবে দেয়া হবে এমন প্রশ্নের উত্তরে তদন্ত কমিটির প্রধান বলেছেন, জিজ্ঞাসাবাদ শেষের পথে। শীঘ্রই চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়া হবে। এই মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনকে না পাওয়া গেলে তাকে ছাড়াই চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়া হবে বলে জানান তিনি। তদন্ত কমিটি প্রধান বলেছেন, নিখুঁত সত্য বের করতে তদন্ত দেরি হচ্ছে। সময় মতো সবই দেখতে পারবেন। আমরা বসে নেই।
এত কয়লা পুড়ছে তবু আকাশে ছাই নেই, এটাই গ্রীন এনার্জি
কেন কয়লা বিদ্যুত নয় ২
ছত্তিশগড়ের আকাশই এর বড় প্রমাণ
রশিদ মামুন ॥ দুপুরে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রী সেলসিয়াসের উপরে। ছত্তিশগড়ের বিলাসপুরে তাপমাত্রা গ্রীষ্মে ৪২ ডিগ্রী বা তারও উপরে উঠে যায়। সূর্যের তাপ থেকে বাঁচতে এখানকার মোটর বাইক এবং বাইসাইকেল আরোহী পুরুষ-মহিলারা লম্বা কাপড়ে মুখ পেঁচিয়ে রাস্তায় চলাচল করেন। কয়লাখনি রয়েছে দুনিয়াজুড়ে এমন সব জায়গার তাপমাত্রা গ্রীষ্মে
একটু বেশিই থাকে। অন্যদিকে শীতে হাড়কাঁপানো শৈত্য প্রবাহ বয়ে যায়। তখন তাপমাত্রা নেমে যায় দুই ডিগ্রীতে। বড় বিদ্যুত কেন্দ্রের জন্য এখানে তাপমাত্রা বৃদ্ধি অথবা কমে যাচ্ছে এমন কোন উদাহরণ তৈরি হয়নি। ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের (এনটিপিসি) কলকাতা অফিসের কর্মকর্তা সুশান্ত কে আর দাশ এখানকার আকাশ, চারপাশের পরিবেশ দেখিয়ে বললেন এখানে কোন দূষণ নেই। এত এত কয়লা পুড়ছে কিন্তু আকাশে কোন ছাই নেই, মাটিতেও ছাইয়ের দেখা নেই। এটাকে বলা হয় গ্রিন এনার্জি। অনেক মানুষ এখানে বিদ্যুত কেন্দ্র দেখতে আসেন। জায়গার সৌন্দর্যকে বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করেন। কয়লাকে গ্রিন এনার্জি হিসেবে ব্যবহারের কথা জানালেন মহারাষ্ট্রের আদানি গ্রুপের টিরোডা বিদ্যুত কেন্দ্রের বানসাই দে। তিনি বললেন, কম কার্বন নির্গমনের জন্য তাঁদের বিদ্যুত কেন্দ্রটি ‘কার্বন ক্রেডিট ফান্ড’ থেকে অর্থ পুরস্কার পর্যন্ত পাচ্ছে। রোজ টন টন কয়লা পুড়িয়ে বিদ্যুত উৎপাদনের পরও কেন পরিবেশে দূষণ ছড়াচ্ছে না, কেন আবার কার্বন ক্রেডিট থেকে অর্থ পাওয়া যাচ্ছে এসব নিয়ে জিজ্ঞাসা জাগতেই পারে। ছত্তিশগড়ের সিপাথ এবং মহারাষ্ট্রের টিরোডা বিদ্যুত কেন্দ্র দুটির কর্মকর্তাদের ভাষায়, কৌশল হিসেবে তারা ‘গুড ম্যানেজমেন্ট’ শুদ্ধ বাংলায় সু বা সঠিক ব্যবস্থাপনাকে প্রয়োগ করছেন। কিন্তু আমাদের দেশে সেই প্রযুক্তির ব্যবস্থাপনা করতে না পারার দায় প্রযুক্তির উপর চাপানো হচ্ছে। এ দায় প্রযুক্তির নয়, ব্যবস্থাপকের বা সংরক্ষণকারীর বলেই মনে করেন এনটিপিসি-সিপাত পাওয়ারপ্লান্টের নির্বাহী পরিচালক (ইডি) ভি বি ফাদনাভিস। তিনি মনে করেন সুব্যবস্থাপনা আর যেখানে যা দরকার তাই হলেই দূষণ রোধ করা সম্ভব।
আমাদের দেশে একটি মাত্র কয়লা চালিত বিদ্যুত কেন্দ্র রয়েছে। দিনাজপুরের বড় পুকুরিয়াতে ২৫০ মেগাওয়াটের বিদ্যুত কেন্দ্রটির মালিক বিদ্যুত উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। বিদ্যুত কেন্দ্রটির দুটি উৎপাদন ইউনিটের ক্ষমতা কমে দাঁড়িয়েছে ২২০ মেগাওয়াটে। এর উপর একটি ইউনিট বছরের বেশিরভাগ সময় বন্ধ থাকে। এখানের এ্যাশ (ছাই) ব্যবস্থাপনা, কয়লা পরিবহন, শব্দ ব্যবস্থাপনা কোন কিছুতেই সুব্যবস্থাপনার ছোঁয়া নেই। আর এটা দেখে কয়লাতে বিদ্যুত উৎপাদনে ভিতিকর পরিস্থিতির কল্পিত চিত্র আঁকছেন দেশের অনেকেই।
কয়লাতে আমাদের অভিজ্ঞতা না থাকায় বিদ্যুত বিভাগ এবং বাংলাদেশ বিদ্যুত উন্নয়ন বোর্ড বিষয়টির সমাধানে বিকল্প চিন্তা করছেন। বিকল্প হিসেবে কয়লায় বিপুল পরিমাণ বিদ্যুত উৎপাদন করছে এমন কোম্পানির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণের চেষ্টা চলছে। উদ্দেশ্য একটাই- কয়লাচালিত বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণের সঙ্গে সঙ্গে পরিচালনায় দক্ষতা অর্জন। পিডিবির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আমাদের দেশের প্রকৌশলীরা কাজ করতে করতে এসব বিষয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করবে। এটা তাদের এক ধরনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা হবে। যাতে আমরা একসময় নিজেরাই বড় বড় কয়লা চালিত বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণ এবং পরিচালনায় সক্ষম হব। এতে বিদ্যুত কেন্দ্রের ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন করা যাবে। যা পরিবেশ দূষণের হাত থেকে ভবিষ্যত প্রজন্মকে বাঁচাবে।
বলা হয় কয়লাচালিত বিদ্যুত কেন্দ্র মূলক পাঁচ ভাবে পরিবেশের ক্ষতি করে। এরমধ্যে প্রথমটি হচ্ছে কয়লা পরিবহন। পরিবহনের সময় বাতাসে কয়লার অংশ বিশেষ ছড়িয়ে পড়ে। মাটি এবং পানির সঙ্গে মিশে তা পরিবেশের ক্ষতি করে। পরিবেশবাদীদের এমন ধারণা একটু সতর্ক হলেই বদলে দেয়া যায়।
এনটিপিসি-সিপাত পাওয়ারপ্লান্টের নির্বাহী পরিচালক (ইডি) ভি বি ফাদনাভিস বলেন, কয়লা পরিহনের জন্য খনি থেকে ঢাকনা যুক্ত ট্রেন ব্যবহার করা হয়। এছাড়া কয়লা ৫০ থেকে ৭০ মিলিমিটার সাইজ ফর্মে থাকে। কয়লা যেহেতু ছাই অবস্থায় থাকে না, তাই বাতাসে ছড়ানোর কোন সুযোগ নেই। বিদ্যুত কেন্দ্রে আনার পর ট্রেন থেকে কনভেয়ার বেল্টের (প্রবাহমান বেল্ট) উপর দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। তখন কয়লার কোন খন্ডিত অংশ পড়ে গেলেও তা দুই মিটারের বেশি দূরে ছড়ায় না। কনভেয়ার বেল্টটি ঢাকনাযুক্ত ফলে যত দূরেই নেয়া হোক না কেন কয়লা থেকে দূষণ ছড়ানো সম্ভব নয় উপরন্তু কনভেয়ার বেল্টের উপর সংক্রিয়ভাবে পানি স্প্রে করা হয়। এরপর কয়লাকে ক্রাস মেশিনে ভেঙ্গে ট্যালকম পাউডারের (মানুষের শরীরে নেয়ার পাউডার) মতো গুঁড়ো করার পর মেশিনে দিয়ে বিদ্যুত উৎপাদন হয়। এর কোন একটি পর্যায় থেকেও কয়লার আর বাইরে আসার সুযোগ নেই।
দ্বিতীয়ত কয়লা পোড়ানোর সময় তা বিপুল পরিমাণ সালফার অক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড এবং এ্যাশ বা ছাই উৎপন্ন করে, যা বাতাসের সঙ্গে মিশে পরিবেশের ক্ষতি করে। আদানি গ্রুপের টিরোডা বিদ্যুত কেন্দ্রের পরিচালনা এবং সংরক্ষণের সহযোগী মহাব্যবস্থাপক প্রবীর কুমার সাহা এ প্রসঙ্গে বলেন, সুপারক্রিটিক্যালে ৪২ থেকে ৪৩ ভাগ উৎপাদন দক্ষতা রয়েছে, যা সাবক্রিটিক্যালের চেয়ে দুই থেকে তিনভাগ বেশি। এর ফলে একদিকে কয়লার ব্যবহার কম হয়। কম কয়লা পোড়ানোতে সক্স এবং নক্স কম উৎপন্ন হয়। অর্থাৎ বাতাস কম দূষিত হয়। একই প্রশ্নের উত্তরে এনটিপিসি-সিপাত পাওয়ারপ্লান্টের নির্বাহী পরিচালক (ইডি) ভি বি ফাদনাভিস বলেন, সুপারক্রিটিক্যালে এক ইউনিট বিদ্যুত উৎপাদনে সাবক্রিটিক্যালের চেয়ে ৮০ কিলোক্যালোরি হিট কম লাগে। এজন্য উৎপাদনে এক তৃতীয়াংশ কয়লা কম প্রয়োজন হয়। এতে করে ৩৫ থেকে ৪০ ভাগ এ্যাশ কম হয় এবং বাতাসে দশমিক ৬ থেকে আট ভাগ সালফার কম ছড়ায়। তিনি বলেন সুপারক্রিটিক্যালে প্রতি ইউনিট বিদ্যুত উৎপাদনে ২ কেজি কয়লা প্রয়োজন হয়। সাবক্রিটিক্যালে এই পরিমাণ্ট ছয় কেজি। অর্থাৎ প্রযুক্তির উন্নয়ন দূষণের মাত্রা কমিয়ে দেয়। এরপরও দূষণকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
টিরোডা বিদ্যুত কেন্দ্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট বানসাই দে বলেন, এই প্রযুক্তিতে ৯৯ দশমিক ৯৯ ভাগ ফ্লাই এ্যাশ (ছাই) ধরে ফেলা হয়, যা সিমেন্ট কারখানা এবং ইট তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। বাকি যে দশমিক এক ভাগ ফ্লাই এ্যাশ থাকে তা ২৭৫ মিটার উচ্চতার চিমনি দিয়ে বাতাসে ছড়ায়। চিমনির এত উচ্চতার কারণ একটাই, সেখানে বাতাসের আলাদা একটা স্তর থাকে, যা এই ছাইকে বহু দূরে ভাসিয়ে নিয়ে যায়। এই দশমিক এক ভাগ ছাই বিশাল এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে যাতে পরিবেশের উপর তেমন কোন প্রভাব ফেলে না।
পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে তৃতীয়পক্ষের নজরদারি সম্পর্কে বিদ্যুত কেন্দ্রটির টিরোডা স্টেশন হেড চৈতন্য প্রাসাদ শাহো বলেন, কেন্দ্রটির প্রধান ফটকে একটি অনলাইন ডিসপ্লে বোর্ড রয়েছে। যেখানে সব সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডিসপ্লে হয় কতটা ছাই বাতাসে ছাড়া হচ্ছে। আশপাশের গ্রামেও এ ধরনের পরিমাপক বোর্ড রয়েছে রয়েছে। যেকেউ ইচ্ছা করলেই তা দেখতে পারেন। এছাড়াও পরিবেশ অধিদফতরের কঠোর নজরদারি রয়েছে। পরিবেশ অধিদফতর বাতাসের প্রতি ঘনমিটারে ৫০ মিলিগ্রাম ছাই ছড়ানোর মাত্রা বেঁধে দিয়েছে। আমরা আমাদের প্লান্টের ডিজাইন এমনভাবে করেছি যাতে বিভিন্ন ধরনের কয়লার উপর ভিত্তি করে এই মাত্রা ২৩ থেকে ৪০ মিলিগ্রামের মধ্যে থাকে। তিনি জানান, এই মাত্রা অতিক্রম করায় পরিবেশ অধিদফতর কোন কোন কেন্দ্রকে জরিমানা করেছে। আবার বহু কেন্দ্র বন্ধও করে দিয়েছে। বড় কোন গ্রুপ নিশ্চই এসব বিষয়ে ছাড় দিতে গিয়ে নিজেদের বিপুল বিনিয়োগ ঝুঁকির মধ্যে ফেলবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রামপাল বিদ্যুত কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী দেবত্ব রায় জানান, রামপালে বছরে ৪৮ হাজার মেট্রিকটন ছাই তৈরি হবে। এরমধ্যে স্থানীয় চারটি সিমেন্ট কারখানায় ৪০ হাজার টন ছাই ব্যবহার করা সম্ভব। এছাড়া বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণ করা শুরু করলে আরও নতুন নতুন সহযোগী শিল্প তৈরি হবে। যাতে ছাই ব্যবস্থাপনা কঠিক হওয়ার কথা নয়।
টিরোডা এবং এনটিপিসি সিপাত দুটো বিদ্যুত কেন্দ্রই এই ফ্লাই এ্যাশ ব্যবহারের জন্য ইট তৈরি করছে। এছাড়া বাকিটা সিমেন্ট কারখানায় ব্যবহার করছে। এনটিপিসির একজন কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশের অনেক সিমেন্ট মিলই আমাদের এখান থেকে ফ্লাই এ্যাশ বা কয়লা পোড়ানোর ছাই আমদানি করে বলে জানি।
পরিবেশবাদীরা বলে থাকেন এ ধরনের বড় বিদ্যুত কেন্দ্র প্রচ- শব্দ তৈরি করে। যাতে প্রাণীকূলের সাধারণ জীবনাচরণ ব্যাহত হয়। এনটিপিসি এবং টিরোডা দুটি বিদ্যুত কেন্দ্রের মধ্যে প্রবেশ করে দেখা গেছে দেশের কুইক রেন্টাল বিদ্যুত কেন্দ্র থেকেও শব্দ কম। এক একটি ৬৬০ মেগাওয়াটের বড় বিদ্যুত উৎপাদন ইউনিটের কন্ট্রোলরুমে প্রবেশ করলেও আর শব্দ শোনা যায় না। পাঁচ মিনিটের দূরত্বে হাঁটলে আর বোঝাই যায় না এখানে এত বড় কোন উৎপাদন প্রক্রিয়া অবিরত চলছে। শব্দ ব্যবস্থাপনা অনেক পুরনো বিষয়। আমাদের দেশে এখনও ব্যয় কমাতেই শব্দ ব্যবস্থাপনার উপর গুরুত্ব দেয়া হয় না। যাতে বিদ্যুত কেন্দ্রের আশপাশের মানুষ শব্দে বিরক্ত হয়। আধুনিক বিদ্যুত কেন্দ্রের পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা এটা ভাবতেই পারেন না। টিরোডা বিদ্যুত কেন্দ্রের পরিচালনা এবং সংরক্ষণের দায়িত্বে থাকা প্রদীপকুমার সিং শব্দের বিষয়টি শুনে অবাক হন। এমনটা এখন আর দুনিয়ার কোথাও হওয়ার কথা না জানিয়ে তিনি বলেন, কেউ এটা করে থাকলে দুঃখজনক। ভারতে এসব বিষয়কে কঠোরভাবে মানা হয়।
এরপর সবশেষ থাকে পানির ব্যবহার। বিদ্যুত কেন্দ্র পরিচালনার জন্য বিপুল পরিমাণ পানির প্রয়োজন হয়। বিদ্যুত কেন্দ্রে নদী থেকে পানি নিয়ে তা ব্যবহার করে আবার ঠা-া করে নদীতে ছেড়ে দেয়া হয়। অর্থাৎ খুব সামান্য পরিমাণ পানি ব্যবহার করা হয়। এনটিপিসি সিপাত বিদ্যুত কেন্দ্রের এজিএম এস দেবাসী বলেন, এখানে আসার সময় কুলিং সিস্টেম আপনারা দেখে এসেছেন। উপরের বাষ্প দেখে অনেকে ভুল ভাবেন ধোঁয়া উড়ছে। পানিকে ঠাণ্ডা করে আবার নদীতে ছেড়ে দেয়া হয়। এ ক্ষেত্রে নদীর জলের তাপমাত্রা বৃদ্ধির কোন আশঙ্কাও থাকে না।
সিরামিক শিল্পের উপাদান নিয়ে হরিলুট ॥ সাদা মাটি সাবাড়!
বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন
০ ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার এই খনিজ সম্পদ রক্ষার কোন উদ্যোগ নেই
০ খনিজ সম্পদ ব্যুরো অনুমোদন দেয়, কিন্তু দেখাশোনার জন্য কেউ নেই
০ সঠিকভাবে নেয়া হয় না পরিবেশ ছাড়পত্র
বাবুল হোসেন, ময়মনসিংহ ॥ ভারত সীমান্তবর্তী ধোবাউড়া উপজেলার প্রাকৃতিক খনিজ সম্পদ সাদা মাটি উত্তোলনে চলছে হরিলুট ! অভিযোগ, প্রভাবশালী মহল যেভাবে সাদা মাটি তুলে নিচ্ছে তাতে অচিরেই সাবাড় হয়ে যেতে পারে দেশের একমাত্র সাদা মাটির এই খনিজ সম্পদ। অথচ বিরল এই খনিজ সম্পদ রক্ষার কোন উদ্যোগ নেই। ধোবাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামছুল হক জানান, বিভিন্ন সময়ে খনিজ সম্পদ ব্যুরো থেকে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান অনুমতি নিয়ে এই সাদা মাটি উত্তোলন করছে। পরিবেশ অধিদফতর ময়মনসিংহের উপ-পরিচালক ইউসুফ আলী জানান, মন্ত্রণালয় ও পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র ছাড়া সাদা মাটি উত্তোলন শাস্তিযোগ্য অপরাধ হলেও এটি মানছে না কোন প্রতিষ্ঠান। একই চিত্র দেখা গেছে নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার সাদা মাটি উত্তোলনে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন আছে কিনা জানতে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সচিব শফিকুর রহমান পাটোয়ারীর কাছে তথ্য অধিকার আইনে দুই বার ফ্যাক্স বার্তা পাঠানোর ৪৫ দিনেও কোন জবাব মেলেনি।
সরেজমিন দেখা গেছে, ময়মনসিংহে ভারত সীমান্তবর্তী উপজেলা ধোবাউড়ায় এখন কেবল অবশিষ্ট রয়েছে সাদা মাটির খনিজের সুউচ্চ পাহাড়ের ধ্বাংসাবশেষ। যেন কোন হিংস্র্র হায়েনা খাবলে খেয়েছে এর সারটুকু। চারপাশ ক্ষতবিক্ষত। ওপর থেকে এর গভীর তলদেশ পর্যন্ত অপরিকল্পিতভাবে কাটাছেঁড়া করে প্রয়োজনীয় সব অংশ তুলে নিয়ে এখন ফেলে রাখা হয়েছে যেনতেনভাবে। এলোমেলোভাবে কাটাছেঁড়ার কারণে কোথাও পুকুর, ডোবা ও পরিখার মতো পরিবেশ তৈরি হয়েছে পাহাড় টিলার নানা স্থানে। কোন কোন গর্ত চলে গেছে ১০০ থেকে ১৫০ ফুট গভীরে। এরকম পরিবেশে বসবাস করছে আদিবাসীসহ শত শত পরিবার। এসব পরিবারের শঙ্কা- ভূমিকম্প কিংবা প্রাকৃতিক বিপর্যয় হলে ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয় ঘটতে পারে সাদা মাটির খনিজ এলাকায়। অথচ এটি দেখার কেউ নেই! এছাড়া ধোবাউড়ায় সাদা মাটির খনিজ সমৃদ্ধ যে সব পাহাড় টিলা রয়েছে সেগুলো সংরক্ষণেও নেই কোন উদ্যোগ। খোদ বনবিভাগের এমন অনেক পাহাড় টিলাতেও এখন হাত বাড়িয়েছে প্রভাবশালীরা।
ময়মনসিংহের কেবল ধোবাউড়া উপজেলাতেই রয়েছে প্রাকৃতিক সম্পদ সাদা মাটিসহ বাহারি রংয়ের অসংখ্য ছোট-বড় ঢেউ খেলানো পাহাড় আর টিলার সারি। যেন দিগন্তজুড়ে আকাশে হেলান দিয়ে এসব পাহাড় টিলা ঘুমিয়ে আছে। এক সময়ে এসব পাহাড় টিলা ঘন সবুজবনে আচ্ছাদিত থাকলেও এখন অধিকাংশ পাহাড় টিলার সবুজ বৃক্ষরাজি কেটে সাবাড় করে ফেলা হয়েছে। যে সব পাহাড় টিলায় এখনও হাত পড়েনি সেখানেও নেই কোন ঘনসবুজের বৃক্ষরাজি। এখানেই শেষ নয়, যেসব পাহাড় এরই মধ্যে ন্যাড়া করা হয়েছে সেখানে চলছে নির্বিচারে কাটাছেঁড়া। সুউচ্চ পাহাড় কেটে এর গভীর তলদেশ থেকে তুলে আনা হচ্ছে সাদা মাটির খনিজ। প্রাকৃতিক এই খনিজ সম্পদ উত্তোলন ও আহরণে চলছে খেয়ালখুশি ভাব। অপরিকল্পিতভাবে সাদা মাটির খনিজ সম্পদের পাহাড় কাটাছেঁড়ার কারণে ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা করা হলেও দেশের অমূল্য এই প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণে কোন উদ্যোগ দেখা যায়নি। ফলে নির্বিচার চলছে পাহাড় কাটার মহোৎসব।
ময়মনসিংহ জেলা সদর থেকে ৪৫ কিলোমিটার দূরের ভারতীয় সীমান্তবর্তী উপজেলা ধোবাউড়া। আর ধোবাউড়া উপজেলা সদর থেকে মাত্র ১৬ কিলোমিটার দূরের মৌজা ভেদিকুড়া। দক্ষিণ মাইজপাড়া ইউনিয়নের এই মৌজাতেই রয়েছে দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক খনিজ সম্পদ ও সিরামিক শিল্পের প্রধান কাঁচামাল সাদা মাটি। ভেদিকুড়া মৌজায় ছোট-বড় অর্ধশত যে পাহাড় টিলা রয়েছে তার সবকটিতেই আছে এই সাদা মাটির খনিজ। ভেদিকুড়া মৌজার গোবরচুনা, গাছুয়াপাড়া, উত্তররানীপুর, জয়রামপাড়া, দীঘলবাগ ও ঘানই ছাড়াও এর আশপাশের বিশাল এলাকাজুড়ে সমতল ভূমির নিচেও রয়েছে এই প্রাকৃতিক সম্পদের বিশাল মজুদ। ভৌগোলিকভাবে দক্ষিণ মাইজপাড়া ইউনিয়নের ভেদিকুড়া মৌজার উত্তর ভারতের মেঘালয় রাজ্য, পূর্বে নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার আরেক খনিজ সমৃদ্ধ এলাকা কুল্লাউড়ার বিজয়পুর, ও পশ্চিমে হালুয়াঘাট ও দক্ষিণে ফুলপুর উপজেলার সীমান্ত। দক্ষিণ মাইজপাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা আনোয়ারুল হক জানান, ভেদিকুড়া মৌজায় কী পরিমাণ সাদা মাটির খনিজ সম্পদ রয়েছে তার কোন দালিলিক তথ্য প্রমাণ নেই। তবে অনুমান করে বলা যায় প্রায় ৩০ একর জায়গাজুড়ে সাদা মাটির খনি রয়েছে। এর মধ্যে মনসাপাড়া, পুঁটিমারী, ছালপাড়া ও টাঙ্গাটি এলাকাতেই পড়েছে সাদা মাটির সিংহভাগ। মনসাপাড়া এলাকায় ব্যক্তি মালিকানার দাবিদার মেসার্স বাংলাদেশ এগ্রো সিরামিক কোম্পানি ৮৯/১, আর কে মিশন রোড, গোপীবাগ, ঢাকা ঠিাকানার ব্যবস্থাপনা অংশিদার গোলাম কিবরিয়া সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে ৩ একরের বেশি জায়গা থেকে সাদা মাটি উত্তোলন করছে। একই সঙ্গে আদালতের রিট মামলার একটি সাইনবোর্ডও ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে খনি এলাকায়। স্থানীয় প্রশাসনের সূত্র জানায়, খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো এক পত্রে মেসার্স বাংলাদেশ এগ্রো সিরামিক কোম্পানিকে নির্ধারিত একটি সময়ের মধ্যে ২ হাজার মে.টন সাদা মাটি উত্তোলনের অনুমতি দিয়েছে। কিন্তু এই পত্রের কপি স্থানীয় প্রশাসনের হাতে পৌঁছার আগেই বেঁধে দেয়া সময় পার হয়ে গেছে। এর আগেই খেয়ালখুশি মতো সাদা মাটি উত্তোলন করে ওই প্রতিষ্ঠান। এমনকি নির্ধারিত পরিমাণ সাদা মাটি উত্তোলনের পরও চলছে খনন কাজ। প্রশাসনের প্রশ্ন- বেঁধে দেয়া সময় চলে যাওয়ার পর সেখানে গিয়ে কি দেখভাল করবে প্রশাসনের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। এরকম অবস্থায় খনি এলাকায় সাদা মাটি উত্তোলনে হরিলুট কারবার চলছে। খনি এলাকার স্থানীয় শ্রমিক এবং মালিকের প্রতিনিধি দাবি করে মোসলেম উদ্দিন জানায়, মেসার্স বাংলাদেশ এগ্রো সিরামিক কোম্পানির গোলাম কিবরিয়া ক্রয় করা ও পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া জায়গা থেকে এই সাদা মাটি উত্তোলন করছেন। এই ক্ষেত্রে পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র রয়েছে কিনা প্রশ্নে জানান- বিষয়টি মালিকই ভাল বলতে পারবেন।
ভেদিকুড়ার সেকাল একাল ॥ স্থানীয়দের মতে, ধোবাউড়ার পাহাড়ী এলাকায় সাদা মাটির খনিজ আবিষ্কার হয় ১৯৬৮ সালের দিকে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে সাদা মাটির খনিজ খনন শুরু হয়। আজহার নামে একটি কোম্পানি প্রথম এই খনন শুরু করে। খনন কাজ চলে ৮ থেকে ৯ মাস। স্থানীয় আদিবাসী ফাদার জলেন্দ্র রিছিল(৭৬) জানান, দেশ স্বাধীনের আগে ধোবাউড়ার দুর্গম জনপদ ভেদিকুড়া মৌজার ছোট-বড় পাহাড় টিলা ছিল বড় বড় শালগজারিসহ নানা প্রজাতির ঘন সবুজ বৃক্ষরাজিতে ঢাকা। সূর্যের আলো ভেতরে পৌঁছাত না এমন ঘন ছিল সেই বনজঙ্গল। এসময়ে গারো হাজংরাই ছিল এসব বনজঙ্গলের বাসিন্দা। সত্তর দশকের পর থেকে গফরগাঁওসহ অন্যান্য এলাকা থেকে মুসলিম সম্প্রদায়ের পরিবার আসতে থাকে এই ভেদিকুড়ায়। বর্তমানে গারো আদিবাসীদের পাশাপাশি মুসলিম পরিবার সংখ্যাগরিষ্ঠ এই ভেদিকুড়ায়। ময়মনসিংহের গফরগাঁও থেকে আসা হোসেন আলী(৫৫) জানান, তিনি ১৯৬৮ সালের দিকে ভেদিকুড়ার গাছুয়াপাড়ায় পরিবার পরিজন নিয়ে বসত গড়েন। তখনও ছোট-বড় পাহাড় টিলা ছিল বনজঙ্গলে ঢাকা। বাঘ ভাল্লূক বনবিড়ালসহ নানা জাতের প্রাণী দেখা যেত। এখন আর এসব কোনটাই চোখে পড়ে না। তিনি আরও জানান, ষাটের দশকে বনের নওশের ভিটায় একবার খনন কাজ করার সময় পাহাড়ধসে প্রাণ হারায় স্থানীয় ৪ জন শ্রমিক। আহত হয় ৭ জন। এরপর দীর্ঘদিন পাহাড় কাটা ও খনন কাজ বন্ধ ছিল। পরবর্তীতে হক এন্ড ব্রাদার্স এবং কসমস নামে আরও দুটি প্রতিষ্ঠান ভেদিকুড়ায় পাহাড় কেটে সাদা মাটি খনন ও উত্তোলন করছিল। সাদা মাটির খনিজ পরিবহনের জন্য বনের জায়গার ভেতর দিয়ে নিজেদের পছন্দমতো রাস্তাও তৈরি করেছিল এসব প্রতিষ্ঠান। পরে এ নিয়ে বন বিভাগের সঙ্গে মামলায় হেরে গিয়ে সটকে পড়ে ওই প্রতিষ্ঠান। এর পর থেকে বনের দখলীয় জায়গায় পাহাড় কাটা বন্ধ রয়েছে। তবে যেসব প্রতিষ্ঠান পাহাড় কাটাছেঁড়া করে বনের ভেতর থেকে সাদা মাটি উত্তোলন করেছিল সেসব খানাখন্দ এখনও ভরাট করা হয়নি। পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে এসব সাদামাটির পাহাড়। স্থানীয় গাছুয়াপাড়ার নূর মোহাম্মদের দাবি, মনসাপাড়া এলাকার পাহাড় কেটে সাদা মাটি খননের সঙ্গে এখন সরাসরি জড়িত রয়েছে ৪০০ থেকে ৪৫০ জন শ্রমিক। বাংলাদেশ এগ্রো সিরামিক কোম্পানির হয়ে এসব শ্রমিক প্রতিদিন ৪ ঘণ্টা খনন কাজ ও সাদা মাটি উত্তোলনসহ পরিবহন করে দৈনিক ২০০ টাকা থেকে ২৫০ টাকা মজুরি পাচ্ছেন। তবে প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয়রা জানিয়েছে, খননকাজে অর্ধশত শ্রমিক জড়িত। এসব শ্রমিক ওই কোম্পানির হয়ে খনি এলাকা দেখভাল থেকে শুরু করে সাদা মাটি উত্তোলন ও পরিবহনসহ যে কোন পরিস্থিতি সামাল দেয়। এমনকি কোম্পানির ভাড়াটে গুণ্ডা মস্তানের ভূমিকাও পালন করে থাকে এসব শ্রমিক। সোহাগী পাড়া গ্রামের তারা মিয়ার দাবি- এক সময়ে এই পাহাড়ী এলাকায় কাজ না থাকায় তাদের দেশ-বিদেশে দিনমজুরি করতে হয়েছে। কিন্তু কোম্পানির খনন কাজ শুরুর পর থেকে এলাকার শত শত বেকার শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়েছে। পাহাড় কেটে সাবাড় কিংবা সাদা মাটি উত্তোলনের কারণে পরিবেশ বিপর্যয় ডেকে আনার প্রশ্নে এসব শ্রমিক জানায়, আগে পেট, পরে পরিবেশ! কেবল তাই নয়, শ্রমিকরা আরও জানায়, একসময় প্রয়োজন থাকলেও এখন আর পাহাড় টিলার কোন প্রয়োজন নেই। বরং পাহাড় টিলা আর বনজঙ্গল কেটে সাফ করে সমতল করা হলে সেখানে চাষবাসসহ বসত গড়ে তোলা যাবে। দক্ষিণ মাইজপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গাজীউর রহমান শ্রমিকদের এমন দাবির বিরোধিতা করে জানান, পর্যটন সম্ভাবনাময় ধোবাউড়ার ভেদিকুড়াসহ আশপাশের পাহাড় টিলার সাদা মাটির প্রাকৃতিক খনিজ সম্পদ ও সরকারী বনের শাল গজারির বৃক্ষরাজি সংরক্ষণ করা গেলে পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে ভারত সীমান্তের এই অঞ্চল। অথচ এ নিয়ে কোন উদ্যোগ কিংবা পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে না। তিনি আরও জানালেন, পার্শ্ববর্তী ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সাদা মাটির খনিজ সমৃদ্ধ পাহাড় টিলাগুলো সরকারীভাবে যেখানে সংরক্ষণ করা হচ্ছে সেখানে ধোবাউড়ার পাহাড় কেটে সাফ করে অবাধে তুলে নেয়া হচ্ছে সাদামাটি! এতে কেবল পরিবেশ বিপর্যয়ই ডেকে আনা হচ্ছে না, সেইসঙ্গে দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক সম্পদ সাদা মাটি ধ্বংস করা হচ্ছে। স্থানীয় আদিবাসী ও টিলার বাসিন্দা জোসনা রেমা (৭০) জানান, তার চারপাশে পাহাড় টিলা কেটে সাফ করে গর্ত করে ফেলে রাখা হচ্ছে। ভূমিকম্প কিংবা বর্ষায় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটলে ভেদিকুড়ায় পরিবেশের সঙ্গে মানবিক বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।
নির্বিকার স্থানীয় বনবিভাগ ॥ ধোবাউড়ার ভেদিকুড়া মৌজায় রয়েছে ময়মনসিংহ বনবিভাগের নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর রেঞ্জের অধীন ভেদিকুড়া বিট। এই বিটের কর্মকর্তা দেবব্রত দাস জানান, ভেদিকুড়া মৌজায় ৩৮ একরসহ বনবিভাগের ২৪৫ দশমিক ২৮ একর সরকারী জমি রয়েছে। এসব জমিতে রয়েছে ছোট-বড় অর্ধশত পাহাড় টিলা। এর মধ্যে ভেদিকুড়াসহ ৭টি মৌজায় এই পাহাড় টিলার সংখ্যা বেশি। প্রতিটি পাহাড় টিলা সাদা মাটির খনিজসমৃদ্ধ। সে কারণেই প্রভাবশালীদের দৃষ্টি এসব সাদা মাটির পাহাড়ের প্রতি। পাহাড় কাটা ও সাদা মাটি উত্তোলনে বনবিভাগের কোন নজরদারি কিংবা বাধাদানের নজির নেই বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
প্রশাসনের নাকের ডগাতেই চলছে
সবকিছু ॥ ধোবাউড়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা শামছুল হক জানান, খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো থেকে অনুমতি নিয়ে বর্তমানে ভেদিকুড়া মৌজার মনসাপাড়া থেকে সাদা মাটি উত্তোলন করছে বাংলাদেশ এগ্রো সিরামিক কোম্পানি। এছাড়া এই মুহূর্তে অন্য কোন কোম্পানির সাদা মাটি উত্তোলনের অনুমতি নেই। অনুমতির ক্ষেত্রে খনিজ সম্পদ ব্যুরো থেকে কেবল একটি ডিও লেটারের কপি পান তিনি। তবে এটি নির্ধারিত সময়ের আগে কখনই তার হাতে পৌঁছায় না। এই কারণে অনুমতি পাওয়া কোম্পানি নির্ধারিত সময়ে কি পরিমাণ সাদা মাটি উত্তোলন করেছে সেটি দেখার সুযোগ থাকে না বলে দাবি এই কর্মকর্তার। আর এই সুযোগেই মূলত হরিলুট চলে সাদা মাটি উত্তোলনের। সর্বশেষ চলতি সালের গত মার্চে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে খনিজ সম্পদ ব্যুরো থেকে যে ডিও লেটার পাঠানো হয় তাতে এগ্রো সিরামিক কোম্পানির নামে ২ হাজার মে.টন সাদা মাটি উত্তোলনের অনুমতি দেয়ার উল্লেখ ছিল।
খনিজ সম্পদ ব্যুরো পত্র দিয়েই খালাস! ॥ পাহাড় টিলা ও বনজ সম্পদের মালিক বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় হলেও পাহাড় কাটা ও প্রাকৃতিক সম্পদ সাদা মাটি উত্তোলনে অনুমোদন দেয়া হচ্ছে খনিজ সম্পদ ব্যুরো থেকে। আবেদনকারী কোম্পানিকে নির্ধারিত সময় বেঁধে দিয়ে নির্ধারিত পরিমাণ সাদা মাটি উত্তোলনের অনুমোদন দেয়ার পর এই পত্রের কপি দেয়া হচ্ছে সংশ্লিষ্ট থানার নির্বাহী কর্মকর্তাকে। এই ক্ষেত্রে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় কিংবা পরিবেশ অধিদফতরকে কখনই অবহিত করা হচ্ছে না। এমনকি অনুমোদন পাওয়া কোম্পানি কি পরিমাণ সাদা মাটি উত্তোলন করছে এবং কিভাবে পাহাড় কেটে সাবাড় করছে সেটি দেখভালেরও কেউ নেই!
পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র ছাড়াই চলছে সবকিছু! ॥ পরিবেশ অধিদফতর ময়মনসিংহের উপ-পরিচালক ইউসুফ আলী জনকণ্ঠকে জানান, পাহাড়, টিলা ও বনজ সম্পদের মালিক বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়। ১৯৯৫ সালের বন ও পরিবেশ আইন এবং ২০১০ সালের সংশোধিত আইনে পাহাড় টিলা কাটা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করেছে সরকার। তবে সরকার প্রয়োজন মনে করলে পাহাড় টিলা কাটতে পারবে। এই ক্ষেত্রে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ে আগাম অনুমতি নিতে হবে। অনুমতি ছাড়া পাহাড় টিলা কাটাছেঁড়া শাস্তিযোগ্য অপরাধ। অথচ ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় প্রাকৃতিক সম্পদ পাহাড় টিলা কাটা ও সাদা মাটি উত্তোলনে পরিবেশ অধিদফতর থেকে অনুমতি কিংবা ছাড়পত্র গ্রহণ করা হচ্ছে না বলে জানান এই পরিবেশ কর্মকর্তা। এমনকি কোন কোম্পানিকে কি পরিমাণ সাদা মাটি উত্তোলন এবং কিভাবে পাহাড় কাটা হবে এ বিষয়ে অবহিত নয় স্থানীয় পরিবেশ অধিদফতর। ফলে কোন রকম বাধাবিঘœ ছাড়াই কোম্পানির সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে পাহাড় কেটে নির্বিচারে সাদামাটি উত্তোলন করা হচ্ছে। এভাবে পাহাড় টিলা কাটা এবং অপরিকল্পিতভাবে সাদা মাটি উত্তোলনের কারণে ভূমিকম্পসহ যে কোন প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট পরিবেশ কর্মকর্তারা।
স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন ॥ পাহাড় টিলা কেটে সাদা মাটি উত্তোলনের জন্য খনিজ সম্পদ ব্যুরো থেকে আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দিয়ে এর কপি দেয়া হয় সংশ্লিষ্ট উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাকে। ধোবাউড়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শামছুল হক আক্ষেপ করে জানান, পত্রে সময় বেঁধে দিয়ে নির্ধারিত পরিমাণ সাদা মাটি উত্তোলনের অনুমতি দেয়া হয়। কিন্তু এই পত্রের কপি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হাতে পৌঁছার আগেই সেই সময়সীমা পার হয়ে যায়। এতে করে ওই সময়ে কি পরিমাণ সাদা মাটি উত্তোলন করা হয়েছে ও কিভাবে পাহাড় টিলা কাটা হয়েছে সেটি দেখার সুযোগ থাকে না বলে জানান এই কর্মকর্তা। তবে প্রশাসনের নাকের ডগায় ও চোখের সামনে দিনে দুপুরে নির্বিচারে পাহাড় টিলা কেটে সাদা মাটি উত্তোলনের ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসন এ পর্যন্ত কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে এমন কোন নজির নেই। ফলে স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরোর পরিচালক যা বলেন ॥ খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরোর পরিচালক এহসানুল বারী জানান, দেশের সিরামিক শিল্পের কাঁচামাল সংগ্রহ ও এই খাতে শ্রমিকদের কর্মসংস্থান বিবেচনায় খনিজ সম্পদ ব্যুরো আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেয়। এজন্য কোন প্রতিষ্ঠান আবেদন করার পর সেটি সুপারিশসহ অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেয়া হয়। মন্ত্রণালয় অনুমোদন দেয়ার পর পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র পাওয়া গেলে কার্যাদেশ দেয়া হয়। অনুমোদনের পুরো এখতিয়ার মন্ত্রণালয়ের। পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নেয়ার পর লিজের জন্য আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানকে পরিবেশ অধিদফতর থেকে ছাড়পত্র সংগ্রহ করতে হবে। এর পর শর্ত সাপেক্ষে ইজারার অনুমতি দেয়া হয় খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো থেকে। তবে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ও পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র ছাড়া কোন প্রতিষ্ঠান খনিজ সম্পদ আহরণ করতে পারবে না। যে কোন প্রতিষ্ঠানের জন্য এই অনুমোদন নেয়া বাধ্যতামূলক। ধোবাউড়ায় সাদা মাটি উত্তোলনে পরিবেশ বিপর্যয় প্রশ্নে ব্যুরোর এই পরিচালক জানান, এটি দেখার জন্য ময়মনসিংহ জেলায় পরিবেশ অধিদফতরের একজন কর্মকর্তা রয়েছেন। তার ওপর এখন থেকে এটি নিয়মিত মনিটরিং করার জন্য জেলায় মনিটরিং কমিটি হচ্ছে বলে জানান তিনি। ব্যুরোর সহকারী পরিচালক মামুন অর রশিদ জানান, সাদা মাটি উত্তোলনের ফলে অবশ্যই পরিবেশ বিপর্যয় ঘটছে। পরিবেশ বিপর্যয় ঠেকাতেই মনিটরিং কমিটি করা হচ্ছে।
পরিবেশ অধিদফতরের বক্তব্য ॥ পরিবেশ অধিদফতর ঢাকা অঞ্চলের পরিচালক তৌফিকুল আরিফ সাদা মাটি উত্তোলনে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ও পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র নেয়ার বাধ্যবাধকতার উল্লেখ করে জানান, এর বাইরে কোন প্রতিষ্ঠান সাদা মাটি কিংবা কোন ধরনের খনিজ সম্পদ আহরণ করতে পারবে না। ধোবাউড়ায় সাদা মাটি উত্তোলনে পরিবেশ বিপর্যয়ের কথা অকপটে স্বীকার করেন তিনি। ধোবাউড়ায় এগ্রো সিরামিক নামে প্রতিষ্ঠানের সাদা মাটি উত্তোলনে পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র কিংবা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন আছে কিনা প্রশ্নে এই কর্মকর্তার জানা নেই বলে জানান।
তথ্য অধিকার আইনে দুই বার ফ্যাক্স পাঠানোর ৪৫ দিনেও জবাব মেলেনি সচিবের! ॥ প্রচলিত আইনে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ও পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র ছাড়া কোন প্রতিষ্ঠান খনিজ সম্পদে হাত দিতে পারবে না। অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানকে পরিবেশের ক্ষতি না করে সতর্কতার সঙ্গে শর্ত মেনে খনিজ সম্পদ আহরণ করতে হবে। মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র এসব আইনের কথা বললেও সাদা মাটি উত্তোলনের ব্যাপারে কোনা সাড়া পাওয়া যায়নি সরকারের পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সচিব শফিকুর রহমান পাটোয়ারির। সচিবের বক্তব্য জানতে তাঁর অফিস নম্বরে (৯৫৪০৪৮১) এবং মোবাইল নম্বরে (০১৭৫৫৫০০০১৯) চলতি সালের গত এপ্রিল মাস থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অন্তত অর্ধশতবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। সর্বশেষ গত ১০ ও ১৪ আগস্ট তথ্য অধিকার আইনে দুইবার ফ্যাক্স বার্তা পাঠানোর ৪৫ দিনেও জবাব মেলেনি। অফিসের পিও পরিচয়ে রমিজ উদ্দিন অসংখ্যবার জানিয়েছেন, ‘স্যার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে, মন্ত্রীর সামনে, সংসদে ও সভায় ব্যস্ত।’
সাংবাদিক পরিচয় শুনে ফোন রেখে দিচ্ছে এগ্রো সিরামিক কোম্পানি ॥ মন্ত্রণালয়ে অনুমোদন কিংবা পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র রয়েছে কিনা জানতে মেসার্স বাংলাদেশ এগ্রো সিরামিক কোম্পানি ৮৯/১, আর কে মিশন রোড, গোপীবাগ, ঢাকা ঠিকানার ব্যবস্থাপনা অংশিদার গোলাম কিবরিয়ার সঙ্গে তাঁর অফিস নম্বর (৯৫৭৫১৫০) এবং মোবাইল নম্বর (০১৭১৫০২৮১১১) অসংখ্যবার যোগাযোগের চেষ্টা চালিয়েও পাওয়া যায়নি। অফিস নম্বরে ফোনের পর সাংবাদিক পরিচয় জেনে বার বারই ফোন রেখে দেয়া হয়। আর মোবাইল নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে ধোবাউড়ায় কি পরিমাণ সাদা মাটি উত্তোলনের অনুমতি রয়েছে সেটি জানা যায়নি। তবে ধোবাউড়া উপজেলার নির্বাহী অফিসার শামছুল হক জানান, গত মার্চ মাসে খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো থেকে পাঠানো একটি ডিও লেটারে ২ হাজার মে.টন সাদা মাটি উত্তোলনের উল্লেখ ছিল এগ্রো সিরামিক কোম্পানির নামে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন কিংবা পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র রয়েছে কিনা নিশ্চিত নন এই কর্মকর্তা। পরিবেশ অধিদফতর ময়মনসিংহের উপ-পরিচালক ইউসুফ আলীর দাবি, পরিবেশ অধিদফতরের কোন ছাড়পত্র নেই প্রতিষ্ঠানটির নামে।