মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শনিবার, ১ নভেম্বর ২০১৪, ১৭ কার্তিক ১৪২১
আমিরাতে নিজে মরে ৪ শিশুকে বাঁচালেন বাংলাদেশী মহিলা
বাংলানিউজ ॥ হাজারো স্বপ্ন নিয়ে সুদূর আমিরাতে পাড়ি দিয়েছিলেন তিনি। চার বছর ধরে স্বপ্ন বাস্তবায়নও হচ্ছিল একটু একটু করে। দু’মাসের মধ্যে দেশি ফিরে মেয়ে বিয়ে দেবেন-স্বপ্নের জাল বুনছিলেন তিনি।
কিন্তু আর এগোতে পারলেন না তিনি। আবুধাবির সৈকতে ৪ শিশুকে বাঁচিয়ে তিনি নিজেই চলে গেলেন পরপারে। তিনি বাংলাদেশী নারী সাফিয়া। আমিরাতে গৃহকর্মীর কাজ করতেন।
আরব আমিরাতেরই একটি সংবাদ মাধ্যম বৃহস্পতিবার সাফিয়ার এ বীরত্বগাঁথা প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, অভিভাবকদের অসতর্কতার ফাঁক গলে আবুধাবির দাবিয়া সৈকতের অথৈ পানিতে নেমে যাচ্ছিল ৬-১০ বছর বয়সী চার শিশু। পাশেই ছিলেন সাফিয়া। চার অবুঝ শিশুর ভেসে যাওয়া দেখে চিৎকার-চেঁচামেচি করতে থাকেন তিনি। কিন্তু তাদের থামানো যাচ্ছিল না। আশপাশে কাউকে না পেয়ে সাফিয়া নিজেই চার শিশুকে ফেরাতে সৈকতে নেমে পড়েন। কিন্তু সমুদ্রের পানি হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় বিপদে পড়েন সাফিয়া। তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন ঘটনাস্থলে। সাফিয়া একে একে চার শিশুকেই প্রায় অক্ষত অবস্থায় মা-বাবার হাতে তুলে দেন।
কিন্তু নিজে ফিরে আসতে গিয়ে তুমুল স্রোত তাকে তলিয়ে নিয়ে যায়। ডুবসাঁতারে তীরে আসতে গিয়ে পাথরখণ্ডের সঙ্গে আঘাতে গুরুতর জখম হতে থাকেন। ঢেউয়ের সঙ্গে প্রাণপণ যুদ্ধ করছিলেন সাফিয়া। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না।
সাফিয়ার গৃহকর্তা আবু আবদুল্লাহ জানান, সাফিয়া গত প্রায় চার বছর ধরে তার গৃহে কর্মী হিসেবে কাজ করছিলেন। দুই মাসের মধ্যে মেয়েকে বিয়ে দেয়ার কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু তা আর হলো না।...
তিনি বলেন, এই সাহসী নারী নিঃসঙ্কোচে আমাদের সন্তানদের প্রাণ বাঁচাতে আত্মোৎসর্গ করেছেন। তার বীরত্বের তুলনা হয় না।
সাফিয়ার মরদেহ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানান আবু আবদুল্লাহ।
আমরা অঙ্গীকার পালন করেছি এবার ভারতের পালা
জঙ্গী নির্মূল প্রসঙ্গে আনন্দবাজারকে শেখ হাসিনা
বিডিনিউজ ॥ সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে ভারতের কাছ থেকে ‘জিরো টলারেন্স’ প্রত্যাশা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বাংলাদেশের মাটি থেকে যেভাবে ভারতের জঙ্গীদের উৎখাত করা হয়েছে, একইভাবে ভারতে ঘাঁটি করা বাংলাদেশী জঙ্গীদের নিশ্চিহ্নে ব্যবস্থা নেয়া দরকার।’ শুক্রবার কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত সাক্ষাতকারে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন।
সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানের একটি বাড়িতে বিস্ফোরণে দুই বাংলাদেশী নিহত এবং তারা নিষিদ্ধ জঙ্গী সংগঠন জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) সদস্য বলে ভারতীয় গোয়েন্দাদের দাবি।
ভারতের গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, বর্ধমানের খাগড়াগড়ে বিস্ফোরণের পর এর সঙ্গে জেএমবিসহ ইন্ডিয়ান মুজাহিদীন (আইএম) ও আল জিহাদের সম্পৃক্ততার আভাস পেয়েছেন গোয়েন্দারা।
জেএমবি সদস্যরা পশ্চিমবঙ্গে ঘাঁটি গেড়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াসহ দুই দলের শীর্ষ নেতাদের হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন বলে এনআইএ কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে।
এ বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যখন খবর পাই পশ্চিমবঙ্গেই আশ্রয় নিয়ে জঙ্গীরা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে, সরকারের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করছে, মানুষের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করছে, খুব খারাপ লাগে।’
মুক্তিযুদ্ধের সময় অকুণ্ঠ সহযোগিতা যোগানো পশ্চিমবঙ্গের মানুষ এটা সহ্য করবে না বলেও আশা প্রকাশ করেন শেখ হাসিনা।
ভারতবিরোধী জঙ্গী দমনে অতীতে বাংলাদেশের ভূমিকা স্মরণ করিয়ে দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশের মাটি থেকে ভারতীয় জঙ্গীদের আমরা সমূলে উৎখাত করেছি। অনেকের অনেক প্রভাবশালী বন্ধু ছিল। আমরা কাউকে ছাড় দেইনি। আমরা আমাদের অঙ্গীকার পালন করেছি।
‘ভারতের মানুষ এবার তাদের মাটি থেকে বাংলাদেশের জঙ্গী ঘাঁটিগুলো উচ্ছেদ করুক। ওই দেশের যেসব মানুষ এই জঙ্গীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে, তাদের খুঁজে বের করে শাস্তি দিক।’
বাংলাদেশে নৈরাজ্য সৃষ্টিতে পশ্চিমবঙ্গ থেকে অর্থের যোগান দেয়া হয়েছিল বলেও সম্প্রতি অভিযোগ উঠেছে। এজন্য পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের মাধ্যমে বাংলাদেশের মৌলবাদী দলগুলোকে কয়েক মিলিয়ন ডলার দেয়া হয়েছে বলে ভারতের একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
আনন্দবাজার পত্রিকার এক রিপোর্টে বলা হয়, বাংলাদেশে অস্থিরতা সৃষ্টির জন্য জামায়াতকে কোটি কোটি টাকা দেয়া হয়েছে। এ কাজে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তৃণমূলের এমপি আহমেদ হাসান ইমরানের নাম এসেছে। তবে তৃণমূল নেত্রী ও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী এ বিষয়ে এখনও মুখ খোলেননি।
পশ্চিমবঙ্গে কারা বাংলাদেশের সন্ত্রাসীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে তা উল্লেখ না করলেও সরকারের হাতে সব তথ্য রয়েছে বলে জানান শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, ‘এখান থেকে তাড়া খেয়ে জঙ্গীরা এখন প্রতিবেশী দেশে আশ্রয় নিয়েছে। কারা এদের আশ্রয় দিয়েছে, কী চক্রান্ত চলেছে, এসব নিয়ে অনেক খবর আমাদের কাছে রয়েছে। তবে সব কথা এখনই বলা যাবে না।’
বর্ধমান বিস্ফোরণের ঘটনা তদন্তে বাংলাদেশ সব ধরনের সহায়তা দিচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এ সংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদানের জন্য বাংলাদেশের গোয়েন্দারা শীঘ্রই ভারতে যাবে।
বান্ধবীর জন্য নেইমারের উড়োজাহাজ
স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ গত গ্রীষ্মে ইবিজায় সার্বিয়ান মডেলকন্যা সোরাজা ভুসেলিচকে প্রথম দেখেন। এরপর নিয়মিতই স্কাইপেতে দু’জনের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত ছিল। কথা বলতে বলতেই একের প্রতি আরেকজনের আকর্ষণটা বেড়েছে। স্পেনে বড়ই একা ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার। বার্সিলোনার হয়ে দুর্দান্ত খেলছেন ঠিকই, তবে ছুটির দিনগুলো যেন নিঃসঙ্গতা ঘিরে ধরত তাঁকে। তাই এবার ভুসেলিচকে বার্সায় নিয়ে আসলেন। সে জন্য সার্বিয়ায় ব্যক্তিগত উড়োজাহাজ পাঠিয়ে দেন ভুসেলিচকে আনতে। এসব দাবি সার্বিয়ার একটি দৈনিকের। পত্রিকায় আরও দাবি করা হয়েছে ভুসেলিচ অক্টোবর শেষ হয়ে গেলে বার্সায় আসবেন এবং সে জন্য বিমান টিকেটও করা হয়েছিল। কিন্তু এতদিন তর সইছিল না ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টারের। এ জন্য তিনি টিকেট বাতিল করে ব্যক্তিগত উড়োজাহাজ পাঠিয়ে দেন নেইমার। এরপর বেশ কয়েকদিন বার্সিলোনায় ছিলেন ভুসেলিচ।
বলকান অঞ্চলে দারুণ জনপ্রিয় ভুসেলিচ। বিশেষ করে সেখানকার ‘বিগ ব্রাদার’ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি খ্যাতি কুড়াতে সক্ষম হয়েছেন। নেইমারের সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্বটা ক্রমেই বেশ গাঢ় হয়ে উঠেছে। পরিচয়ের পর স্কাইপেতে নিয়মিত কথা বলতে। সেই কারণেই পরস্পরের কাছাকাছি হওয়ার এক আকর্ষণ তৈরি হয়েছিল। তারই ফলশ্রুতিতে নিঃসঙ্গ অনুভব করা নেইমার তাঁকে পাশে চেয়েছিলেন। তবে সবকিছুই ঠিকঠাক করা হয়েছিল অক্টোবরের শেষে। ততদিন অপেক্ষার যন্ত্রণা সহ্য হয়নি। তাই বিমান টিকেট বাতিল করে নিজের উড়োজাহাজই পাঠিয়ে দিয়েছিলেন নেইমার। বান্ধবীকে কাছে এনেছেন আগেই। পরে নিজেই উড়োজাহাজে বার্সার জার্সি পরা অবস্থায় বিভিন্ন পোজে তোলা ছবি পোস্ট করেন ভুসেলিচ। যদিও এই ছবিগুলোর সঙ্গে নেইমার ছিলেন না এবং তাঁর সঙ্গে কোন ধরনের সংশ্লিষ্টতাও প্রকাশ করে না। কিন্তু সার্বিয়ার পত্রিকা ‘কুরির’ জোর দাবি নিয়েই লিখেছে নেইমারের পাঠানো উড়োজাহাজে করে তাঁর কাছেই গিয়েছিলেন ভুসেলিচ। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইলে ভুসেলিচের তোলা ছবি এবং সার্বিয়ান পত্রিকার দাবি এখন নেইমারের সঙ্গে ভুসেলিচের সত্যিকার কি সম্পর্ক তৈরি হয়েছে সেটা নিয়েই গুঞ্জন। সময় হলেই হয়ত এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে। তাছাড়া গত বুধবার এস্প্যানিওলের বিরুদ্ধে টাইব্রেকারে কাতালান সুপার কাপের একাদশেও ছিলেন না নেইমার। এ বিষয়টিও এখন সবাই যোগসূত্র করছেন ভুসেলিচের সঙ্গে। সবকিছু পর্যালোচনা করে ‘কুরির’ প্রত্রিকার দাবিটা সত্য হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি দেখা যাচ্ছে। অবশ্য ইতোমধ্যেই ভুসেলিচ ফিরে গেছেন এবং নেইমারও এখন শনিবার সেল্টাভিগোর বিরুদ্ধে খেলার জন্য স্কোয়াডে যোগ দিয়েছেন।
এবার মাশ্চেরানোর কাছে ধরাশায়ী মেসি
আর্জেন্টিনার ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার জিতলেন বার্সিলোনার বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার
স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ এ কি হচ্ছে! সবকিছুই যেন একে একে হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে! লিওনেল মেসি নামের ক্ষুদে জাদুকরের পায়ে গত কয়েক বছর সব পুরস্কারই নুইয়ে পড়েছিল। অথচ চলমান বছরে যেন সবকিছু উল্টো রথে চলছে। শুরু হয়েছে ২০১৪ সালের শুরু থেকেই। জানুয়ারিতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর কাছে হারান ফিফা ব্যালন ডি’অরের মুকুট। এরপর একে একে খুইয়েছেন আরও অনেক মুকুট। এরই ধারাবাহিকতায় এবার বার্সিলোনার বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কারও হাতছাড়া হয়েছে আর্জেন্টাইন অধিনায়কের। এবার মুকুট হারাতে হয়েছে স্বদেশী ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার জ্যাভিয়ের মাশ্চেরানোর কাছে। বিচারকদের রায়ে মেসিকে পেছনে ফেলে ২০১৩-১৪ মৌসুমে বার্সিলোনার সেরা ফুটবলার নির্বাচিত হয়েছেন মাশ্চেরানো। পরশু পরিবারের সদস্যসহ জমকালো অনুষ্ঠানে সেরার এ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করেন ৩০ বছর বয়সী এই ফুটবলার। বার্সার বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের এ পুরস্কারটির নাম ‘আলডো রোভিরা।’ ২০০৯ সালে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহত সাবেক ক্লাব সদস্য রোভিরার স্মরণে এ পুরস্কারের প্রবর্তন। সাধারণত কাতালান সংবাদমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ও ক্লাবের শীর্ষ কর্তাদের ভোটেই নির্বাচিত হন বার্সার বর্ষসেরা খেলোয়াড়। এবার বার্সার প্রেসিডেন্ট জোসেপ মারিয়া বার্টোমোউ এবং জুরি বোর্ডের সদস্যদের বিচারে সেরা হয়েছেন মাশ্চেরানো। অন্যান্য পুরস্কারের মতো বার্সার বর্ষসেরার পুরস্কারও নিজের করে নিয়েছিলেন মেসি। গত চার বছরের তিনবারই এ পুরস্কার জয় করেন তিনি। কিন্তু এবার পুরস্কারটা উঠেছে মেসির স্বদেশী মাশ্চেরানোর হাতে। গত মৌসুমটা মোটেই ভাল যায়নি বার্সার। কাতালানরা জিততে পারেনি কোন বড় শিরোপা। এর মাঝেও ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে আলো ছড়ান মাশ্চেরানো। দলের প্রয়োজনে সমানতালে সামলিয়েছেন রক্ষণভাগ ও মাঝমাঠ। রক্ষণ ও মধ্যমাঠে বহুমুখী প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন আর্জেন্টিনা দলের সাবেক এই অধিনায়ক। যে কারণে বিচারকরা এবার তাকেই বেছে নিয়েছেন। পুরস্কার পাওয়ার পর ক্লাবের সব সতীর্থ ও কোচিং স্টাফদের ধন্যবাদ জানান মাশ্চেরানো। বলেন, আমাকে ভোট দেওয়ার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ। এখনও আমরা যে সাফল্য পেয়েছি চেষ্টা করব এর ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে। ক্লাবের চাহিদা অনুযায়ী আগের মতোই ভাল খেলতে চেষ্টা করব। ২০১৪ সালের শুরু থেকেই বিষাদের শুরু মেসির। জানুয়ারিতে হারান ফিফা সেরার মুকুট। বছরের মাঝামাঝিতে হাতের মুঠোয় থাকা বিশ্বকাপ জিততে পারেননি নিজের নির্লজ্জ ব্যথতায়। কিছুদিন আগে আবারও রোনাল্ডোর কাছে হারিয়েছেন স্প্যানিশ লা লিগার সেরা খেলোয়াড়ের মুকুট। এবার হারালেন ক্লাব শ্রেষ্ঠত্বও। একে এক সব হারানো মেসি বিশ্বের মানুষকে তার দেশের রাজধানী বুয়েনস ইয়ার্সে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। ২০১৮ সালের যুব অলিম্পিকের ভেন্যু শহর বুয়েনস ইর্য়াসকে নিয়ে নগর কর্তৃপক্ষের তৈরি একটি বিজ্ঞাপনচিত্রে অংশ নেন বার্সিলোনা ডায়মন্ড। সেখানে সবাইকে নিজের দেশে আমন্ত্রণ জানান যুব অলিম্পিকের আগামী আসরের শুভেচ্ছাদূত মেসি। আর্জেন্টিনার রাজধানী শহরটির বিভিন্ন আকর্ষণীয় স্থান ও সংস্কৃতি তুলে ধরা হয়েছে বিজ্ঞাপনচিত্রে। ভিডিওর শেষ দিকে পর্দায় ভেসে ওঠেন মেসি; হাসিমুখে আমন্ত্রণ জানান তার দেশে বেড়াতে আসার। বুয়েনস ইর্য়াসের সড়কগুলোতেও দেখা যাচ্ছে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক মেসির ছবিসহ পোস্টার। যেখানে লেখা ‘বুয়েনস ইর্য়াসে মিস করও না।’
ক্রিকেট- উৎসব আনন্দে ভাসছে খুলনা
হোটেল-স্টেডিয়ামজুড়ে কড়া নিরাপত্তা, ৩ নবেম্বর শুরু বাংলাদেশ-জিম্বাবুইয়ে টেস্ট
অমল সাহা, খুলনা অফিস ॥ বাংলাদেশ-জিম্বাবুইয়ে টেস্ট ম্যাচকে ঘিরে উৎসব আনন্দে ভাসছে খুলনা। রাস্তায় তৈরি করা হয়েছে অসংখ্য তোরণ। রাতের নগরী আলোয় উদ্ভাসিত হচ্ছে। ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ও আনন্দের ফোয়ারা বইছে। হোটেল-স্টেডিয়াম জুড়ে গড়ে তোলা হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা বলয়। আগামী ৩ নবেম্বর খুলনার শহীদ শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে শুরু হবে ৫ দিনের টেস্ট ম্যাচ।
ইতোমধ্যে খুলনার ক্রিকেট ভেন্যু শহীদ শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামের সার্বিক প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে খুলনায় পৌঁছেছে স্বাগতিক বাংলাদেশ ও সফরকারী জিম্বাবুইয়ে দল। রাতে একই হোটেলে অবস্থান করে বেন্ডন টেইলর ও মুসফিক বাহিনী। শহীদ শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে শুক্রবার সকালে জিম্বাবুইয়ে দল এবং বিকেলে টাইগারবাহিনী অনুশীলন করে। ২ নবেম্বর পর্যন্ত দুই দল একইভাবে অনুশীলন করবে বলে বিসিবির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
দীর্ঘ দুই বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া টেস্ট ম্যাচকে কেন্দ্র করে উৎসবের আনন্দে ভাসছে খুলনা। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ প্রায় সব মোড়েই আলোকসজ্জা করা হয়েছে। বিভিন্ন সড়কের ডিভাইডারগুলোয় নতুন করে রং করা হয়েছে। রাতে ডিভাইডারগুলোতে আলো ঝলমল করছে। রয়েল মোড়ের চিংড়ি ভাস্কর্য, ময়লাপোতা মোড়ের ক্রীড়া ভাস্কর্য মৈত্রী এবং শিববাড়ি মোড়ের ভাস্কর্যে আলোক সজ্জার পাশপাশি সুন্দরবনসহ খুলনার বিভিন্ন ঐতিহ্য দিয়ে রেপ্লিকা তৈরি করা হয়েছে। এগুলো দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছে অসংখ্য মানুষ। আর নগরীর প্রবেশ পথের বিভিন্ন সড়কে বহু তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে। রাতে নগরীর প্রধান রাস্তাগুলো আলোয় ঝলমল করে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, খেলার টিকেট বিক্রি হবে রবিবার থেকে। ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক খুলনা শাখায় টিকেট বিক্রি হবে। এছাড়া ই-ক্যাশের মাধ্যমেও বৃহস্পতিবার থেকে টিকেট বিক্রি শুরু হয়েছে। তবে কি পরিমাণ টিকেট বিক্রি হবে তা এখনও জানা যায়নি। খুলনা টেস্টের টিকেটের দাম ইস্টার্ন স্ট্যান্ড ২০ টাকা, ওয়েস্টার্ন গ্যালারি ৫০ টাকা, ক্লাব হাউস পূর্ব ও পশ্চিম ৭৫ টাকা, ইন্টারন্যাশনাল পূর্ব ও পশ্চিম ১০০ টাকা এবং বিসিবি করর্পোরেট ১ হাজার টাকা।
কেএমপি সূত্র জানিয়েছে, খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়াম ও খেলোয়াড়দের আবাসস্থল সিটি ইন হোটেল জুড়ে তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার জন্য হোটেল সার্বক্ষণিক ১৬৫ পুলিশ এবং স্টেডিয়ামে ৪২৫ পুলিশ দায়িত্ব পালন করবেন। দুইজন উপ-কমিশনারের নেতৃত্বে পৃথক দুটি মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে উপ-কমিশনার আবদুল মান্নান হোটেলের নিরাপত্তা এবং এস এম ফজলুর রহমান মাঠের নিরাপত্তার বিষয়টি তদারিক করবেন। খেলার দিন স্টেডিয়ামের ১৪ গেটেও থাকবে বাড়তি নিরাপত্তা। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) স্পেশাল ব্রঞ্চের এডিসি শেখ মনিরুজ্জামান মিঠু জানান, খেলা উপলক্ষে ৭৩১ পুলিশ, দুই প্লাটুন বিজিবি নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবে। এছাড়া সাদা পোশাকে পুলিশ ও গোয়েন্দা সদস্যরা মাঠে এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় টহল দেবে। থাকবে আর্চওয়ে, ডগ স্কোয়াড ও বোম্ব সার্চ মেশিন। স্টেডিয়ামে প্রবেশের ১৪টি পয়েন্টে বাড়তি নিরাপত্তা থাকবে। তিনি বলেন, খেলা চলাকালীন সময়ে বয়রা মোড় থেকে নতুন রাস্তা পর্যন্ত কোন যানবাহন চলাচল করবে না। এছাড়া খেলোয়াড়দের যাতায়াতের সময়ও সংশ্লিষ্ট রুটে যান চলাচল বন্ধ থাকবে।
কুড়িগ্রামের প্রতিমা ভাংচুর মামলায় একজন আটক
স্টাফ রিপোর্টার, কুড়িগ্রাম ॥ রাজারহাটে কালী মন্দিরের প্রতিমা ভাংচুরের ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে নাজিম খান বাজার থেকে মামলার অন্যতম আসামি নিজামুদ্দিন সরকারকে (৩৫) আটক গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অপর দুই আসামি এখনও পলাতক রয়েছে। রাজারহাট উপজেলার নাজিম খান ইউনিয়নের সোমনারায়ণ এলাকায় দূর্বৃত্তের হাতে সার্বজনীন শ্মশান কালী মন্দির ভাংচুরের ঘটনাঘটে সোমবার ভোর রাতে। এ নিয়ে সোমবার রাতে মন্দির কমিটির সভাপতি সুজন বকসী বাদী হয়ে পুলিশের (অব) হাবিলদার নূর উদ্দিনকে প্রধান আসামি করে ৩ জনের বিরুদ্ধে রাজারহাট থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।



গোপালগঞ্জে ছাত্রী লাঞ্ছনার ঘটনায় সহপাঠীর জেল
নিজস্ব সংবাদদাতা, গোপালগঞ্জ, ৩১ অক্টোবর ॥ গোপালগঞ্জে এক কলেজ ছাত্রীকে লাঞ্ছিত করার অপরাধে মামুন মোল্লা নামে একই কলেজের এক ছাত্রকে ১৫ দিনের কারাদ- দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। শুক্রবার দুপুরে পুলিশ তাকে গোপালগঞ্জ জেলা কারাগারে পাঠিয়েছে। জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে রামদিয়া সরকারী এস কে কলেজের ছাত্র-ছাত্রী সংসদের সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত একটি সভা চলাকালে মামুন মোল্লা ওই কলেজ ছাত্রীর উপর ক্ষিপ্ত হয়ে কথা কাটাকাটি ও এক পর্যায়ে তাকে লাঞ্ছিত করে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও কাশিয়ানীর ইউএনও মোঃ মনিরুজ্জামান সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তাকে সাজা দিয়ে জেলে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

সাতক্ষীরায় ভুয়া এসআই আটক

স্টাফ রিপোর্টার, সাতক্ষীরা ॥ সাতক্ষীরার ভোমরা বন্দর এলাকায় ডিজিএফআই’র এস আই পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজি ও প্রতারণার অভিযোগে এক প্রতারককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে বিজিবি। আটককৃত প্রতারকের নাম বিষ্ণুপদ সরকার। তিনি সাতক্ষীরা শহরের আমতলা এলাকার নির্মল সরকারের ছেলে। বৃহস্পতিবার রাতে এঘটনা ঘটে।
সাতক্ষীরার ভোমরা বিওপির কমান্ডার সুবেদার নজরুল ইসলাম জানান, বিষ্ণুপদ সরকার নিজেকে ডিজিএফআই’র এস আই পরিচয় দিয়ে ভোমরা বিওপিতে আসে। তার পরিচয়ে সন্দেহ হলে সাতক্ষীরায় কর্মরত ডিজিএফআই’র জনৈক কর্মকর্তাকে জানানো হলে, তিনি ঘটনাস্থলে এসে বিষ্ণুর পরিচয় পত্রটি ভূয়া বলে সনাক্ত করেন। পরে সদর থানার ওসি গোলাম রহমান তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন।


ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের মেয়র শিক্ষা পদক প্রদান
স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী ॥ নগরীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ২০১৩ সালের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের ‘মেয়র শিক্ষা পদক’ প্রদান করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে রাজশাহী নগর ভবনের গ্রীন প্লাজায় শিক্ষা পদক প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে এক হাজার ৬শ’ জন জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীকে পদক প্রদান করেন রাসিক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আজাহার আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে রাবির সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. ফাইসুল ইসলাম ফারুকী, প্রফেসর একেএম শাহাদত হোসেন ম-ল, রাজশাহী বার এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ্যাডভোকেট মোজাম্মেল হক, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র-১ আনোয়ারুল আমিন আযব প্রমুখ০ উপস্থিত ছিলেন।
৬৯ বছরেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি
যশোর বিমানবন্দর
স্টাফ রিপোর্টার, যশোর অফিস ॥ ১৯৪৬ সালে যশোর বিমানবন্দর গড়ে তোলা হয়। প্রথমে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট চললেও এখন তা বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে বেসরকারী ৪টি বিমানের ফ্লাইট রয়েছে এই বন্দরে। প্রতিষ্ঠার ৬৯ বছর পেরিয়ে গেলেও কোন উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি যশোর বিমানবন্দরে। সেই পুরনো ভবনে চলছে এর কার্যক্রম। বর্ধিত করা হয়নি রানওয়ের সীমানা। যে কারণে এখানে বড় উড়োজাহাজ চলাচল করার কোন সুযোগ নেই। সেই সঙ্গে নেই যাত্রীদের বসার মনোরম পরিবেশ। পার্কিং সমস্যা প্রকট, ভিআইপি সড়কের দুইপাশে গড়ে উঠেছে বড় বড় ঘাস। ভেতরের ওয়ালে ঝুল আর ধুলায় ভরা। নেই ভবনের মানের টয়লেট। অবস্থা দেখে মনে হবে এই বন্দরের কোন অভিভাবক নেই। যশোর বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এ সব সমস্যা সমাধানে প্রধান কার্যালয়ে চিঠি দিলেও তাতে কোন সফলতা আসেনি। যশোর বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, ১৯৪৬ সালে ২২৫ একর জমির ওপর গড়ে তোলা হয় যশোর বিমানবন্দর। জমির রিজার্ভ আছে আরও ৬২ একর। চালু হবার পর বাংলাদেশ বিমানের প্রতি সপ্তাহে ২টি করে ফ্লাইট উঠানামা করত। গত ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ বিমানের সব ধরনের ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রয়েছে। লোকসানের কারণ দেখিয়ে ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ রাখা হয়েছে। এখন যশোর বিমানবন্দর দিয়ে ৪টি বেসরকারী খাতের বিমান চলাচল করছে।
এগুলো হলোÑইউনাইটেড এয়ারওয়েজ, রিজেন্ট, ইউএস বাংলা এবং নভোএয়ার। এ সব বিমানে প্রতিদিন ৬টি ফ্লাইট চলাচল করে থাকে। এখানে রয়েছে ২টি ভিআইপি রুম। যাতে মাত্র ১২ জনের বসার ব্যবস্থা আছে। হোল্ডিং লাইঞ্জে বসার ব্যবস্থা রয়েছে প্রায় ৪০ জনের। অথচ যশোর বিমানবন্দর প্রতিদিন ব্যবহার করেন প্রায় ৬শ’ যাত্রী। তাদের আনা নেয়ার জন্য আসেন আরও শতাধিক মানুষ। বন্দরটি খুলনা বিভাগের ১০ জেলার মানুষ ব্যবহার করায় প্রতিদিন থাকে ভিআইপিদের চাপ। এতে বিপাকে পড়তে হয় তাদের। ইউনাইটেড এয়ার যশোরের ব্যবস্থাপক মাহামুদুর রহমান বলেন, যশোর বিমানবন্দরে যাত্রীদের ন্যূনতম কোন সুযোগ-সুবিধা নেই। এখানে রয়েছে পার্কিং সমস্যা। বসার জন্য ভালমানের কোন ব্যবস্থা রাখা হয়নি। ভবনের ভেতরে ঝুলে ভরা। যাতায়াতের রাস্তায় ঘাসে ভরে গেছে। টয়লেট ব্যবস্থাও নাজুক। এই অবস্থার মধ্যে আমাদের যাত্রীদের সেবা দিতে হচ্ছে। রিজেন্ট এয়ার যশোরের ব্যবস্থাপক শাবানা সাত্তার জানান, ফ্লাইট যখন আসে তখন যাত্রীরা উঠার আগেই ভবনের এসি বন্ধ করে দেয়া হয়। টয়লেটের এতবেশি দুর্গন্ধ যে যাত্রীরা সেটা ব্যবহার করতে পারে না। ইউএস বাংলা এয়ার যশোরের ব্যবস্থাপক সাব্বির হোসেন জানান, যাত্রীদের বসার সঙ্কট এই বন্দরে তীব্র। তাছাড়া পুরনো রাডারে চলছে যশোর বিমানবন্দরের কার্যক্রম। এতে বৈমানিকদের বিমান চালাতে সমস্যা হচ্ছে। অভিযোগে জানা গেছে, যশোর বিমানবন্দরে যাত্রীসেবার মান না থাকলেও রয়েছে যাত্রী বিড়ম্বনা। একজন যাত্রীর সঙ্গে তাঁর আত্মীয় এলে তাঁকে ৫০ টাকা দিয়ে টিকিট কাটতে হয়। এই টাকা কোথায় যাচ্ছে, তা কেউ জানে না।
এ সব ব্যাপারে যশোর বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক আলমগীর পাঠান জানান, বন্দরের পরিধি বাড়ানোসহ বিভিন্ন সমস্যা উল্লেখ করে সদর দফতরে চিঠি দিয়েছি। সেখানে ২ হাজার ফিট রানওয়ে বর্ধিত করা, পার্কিং ব্যবস্থা বাড়ানো এবং টার্মিনাল ভবন বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে, যা বাস্তবায়ন হলে এ সব সমস্যা আর থাকবে না। তিনি বলেন, ইউনাইটেড এয়ারের কাছে এক কোটি ৩ লাখ ২২ হাজার টাকা এবং রিজেন্টের কাছে আমাদের পাওনা রয়েছে ৩৭ লাখ ৪৭ হাজার টাকা। গত ৫ বছর ধরে তারা এটি পরিশোধ করছে না। যাত্রীদের সুবিধার্থে যশোর বিমানবন্দরে ওয়াইফাই স্থাপন করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উখিয়ায় ওয়াক্ফের চিংড়ি ঘের নিয়ে সংঘর্ষ ॥ মোতোয়ালি অবরুদ্ধ
গাড়ি ভাংচুর ॥ আহত ২০
স্টাফ রিপোর্টার, কক্সবাজার ॥ উখিয়ায় চিংড়ি ঘেরের লাগিয়ত নিয়ে ওয়াক্ফ স্টেটের মোতয়ালি ও প্রান্তিক চাষীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। ওয়াক্ফ এস্টেটের নতুন মোতোওয়াল্লি সোহেল মোস্তফা চৌধুরীকে বিক্ষুব্ধ জনতা অবরুদ্ধ করে রাখলে পুলিশ-বিজিবির সদস্যরা তাকে উদ্ধারে এগিয়ে আসে। এ সময় পুলিশ ও বিজিবির গুলিতে অন্তত ২০ নারী-পুরুষ আহত হয়েছে। উত্তেজিত চিংড়ি ঘের মালিক পুলিশের ও ওয়াক্ফ স্টেটের নতুন মোতয়ালির দু’টি নোহা গাড়ি ভাংচুর করেছে। জনতার রোষানল থেকে পালিয়ে কোনমতে রক্ষা পেয়েছে তারা। শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টায় আঞ্জুমানপাড়া সড়কের করাচিপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, ওয়াক্ফ এস্টেটের মোতওয়ালি লতিফ আনোয়ার চৌধুরীর নিকট থেকে প্রায় ৬০ লাখ টাকা দিয়ে ৯৫০ একর জমির ১৪টি চিংড়ি ঘের লাগিয়ত হিসেবে দু’বছরের জন্য লিজ নেয় একাধিক প্রান্তিক চাষী। সম্প্রতি মোতোয়ালি পরিবর্তন হয়ে সোহেল মোস্তফা চৌধুরী নতুন মোতওয়াি নিয়োগ হয়ে লিজ নেয়া প্রান্তিক চাষীদের চিংড়ি ঘের এবং টাকা ফেরত না দিয়ে অন্যত্র লাগিয়ত করার চেষ্টা চালায়। খবর পেয়ে চাষীরা শুক্রবার ভোর ৭টা থেকে পালংখালী আঞ্জুমান পাড়া সড়কের মোড়ে শত শত নারী-পুরুষ জড়ো হয়ে অবস্থান নেয়। এক পর্যায়ে মোতোয়ালি সোহেল মোস্তফা চৌধুরী থানা পুলিশ ও বিজিবি নিয়ে এলাকায় যেতে চাইলে চাষীরা তাদের গতিরোধ করে এবং তাদের ন্যায্য পাওনার দাবিতে বিক্ষোভ করে।
সংবাদ প্রকাশের পর বিরামপুর পৌরসভায় নিয়োগের প্রক্রিয়া বন্ধ
বিক্ষোভ, মানববন্ধন
স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর, ৩১ অক্টোবর ॥ জনকণ্ঠে সংবাদ প্রকাশের পর বিক্ষুব্ধ জনতার প্রতিবাদের মুখে দিনাজপুরের বিরামপুর পৌরসভার শুক্রবার অনুষ্ঠিতব্য অবৈধ পন্থায় কর্মচারী নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। জনকণ্ঠে সংবাদ প্রকাশের পর শুক্রবার সকালে কর্মচারী নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করার ঘোষণা দেন দিনাজপুর জেলা প্রশাসক আহমদ আমীম আল রাজী। অবৈধ নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করায় জেলা প্রশাসককে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বিরামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ ও উপজেলার সর্বস্তরের মানুষ।
৩১ অক্টোবর শুক্রবার বেলা ১১টায় বিরামপুর সরকারী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে বিরামপুর পৌরসভার ১০ কর্মচারী নিয়োগের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যানসহ প্রায় সকল দলের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গসহ সকল স্তরের মানুষ বরাবরের মতো এবারের নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের দাবি করে আসছিলেন। শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে বিরামপুর সরকারী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের সামনে হাজার হাজার প্রতিবাদী মানুষ সমবেত হতে থাকেন। তারা এক পর্যায়ে স্কুলের প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে দিয়ে বাইরে অবস্থান নেয়।
বেলা ১১টার দিকে সাধারণ মানুষ বিরামপুর পৌরসভার সামনের সড়কে মানববন্ধন করে। এরপর তারা পৌরসভা ভবন ঘেরাও করে বিভিন্ন স্লোগান দেয়। এ অবস্থায় খবর আসে, দিনাজপুর জেলা প্রশাসক আজকের এই বিতর্কিত নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করেছেন।
বঙ্গোপসাগরের মৎস্য গ্রাউন্ডে ঝাঁকে ঝাঁকে ধরা পড়ছে লইট্যা
ইলিশসহ অন্যান্য মাছ উধাও
মহসিন চৌধুরী, চট্টগ্রাম অফিস ॥ লইট্যা প্রজনন মৌসুম কেটে যাওয়ার পরই বঙ্গোপসাগরের প্রায় সব মৎস্য গ্রাউন্ড থেকে উধাও হয়ে গেছে। তবে সাগরে এখন ঝাঁকে ঝাঁকে ধরা পড়ছে লইট্যা মাছ। গত তিনদিন ধরে ফিরিঙ্গীবাজার ফিশারিঘাট এলাকায় দেশী প্রযুক্তির ইঞ্জিন বোটগুলো টনে টনে এ ধরনের মাছ নিয়ে ফিরছে। এতে বাজারে অস্বাভাবিক সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় আড়তে লইট্যা মাছের দাম নেমে এসেছে কেজিপ্রতি ৩০-৪০ টাকায়। সাগরে এখন আর অন্য কোন ধরনের মাছের আধিক্য নেই। কিন্তু লইট্যা মাছের ঝাঁক ধরা পড়ায় অনেকে এটিকে দুর্যোগের পূর্বাভাসও মনে করছেন। জেলেরা জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড় হুদহুদ কেটে যাবার পর বাংলাদেশের উপকূল এলাকায় এ জাতের মাছ ধরা পড়ছে। সাধারণত এ ধরনের মাছের ঝাঁক যে কোন দুর্যোগের আগে উপকূলের দিকে ছুটে আসে। এ নিয়ে জেলেরা কিছুটা শঙ্কিত।
ফিরিঙ্গীবাজার ফিশারিঘাটে ফিরে আসা জেলেরা জানিয়েছেন, গত ৩-৪ দিন ধরে বঙ্গোপসাগরের নিকটবর্তী ফিশিং গ্রাউন্ডগুলোতে ইলিশ, রূপচাঁদা, পোয়া, ছুরি, আইলাসহ বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক মাছ প্রায় উধাও। গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রজননের জন্য সব ধরনের ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ ছিল। এ সময় সাধারণত দূরপাল্লা থেকে ইলিশের ঝাঁক নদী মোহনায় মিঠা পানি অথবা অপেক্ষাকৃত কম লবণাক্ত পানিতে ডিম ছাড়তে ছুটে আসে। প্রজননের সুবিধার জন্য ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু এ প্রজনন মৌসুম শেষ হয়ে পনের দিন কেটে গেছে। সাগরে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপকূল থেকে শত শত ইঞ্জিন বোট ছুটে যায় ইলিশের আশায়। কিন্তু সাউথ প্যাসেজ, সোয়াত অব নো গ্রাউন্ড, এলিফ্যান্ট পয়েন্ট, সেন্টমার্টিনসহ বঙ্গোপসাগরের প্রায় সব ফিশিং গ্রাউন্ডে ইলিশের ঝাঁক নেই। নদী মোহনা থেকে অনেক আগেই মাছের ঝাঁক সরে গেছে। জেলেরা জানিয়েছে, প্রজনন মৌসুম শেষ হওয়ার পরও ইলিশের উপস্থিতি থাকে ব্যাপক। কিন্তু এবার ব্যতিক্রম। তাই প্রজননের সময় ইলিশের ঝাঁক কেমন এসেছিল এটিও স্পষ্ট নয়। নিবিড় প্রজননের জন্য এ বছর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন সংস্থা ব্যাপক ধরপাকড় ও শাস্তি দিয়ে জেলেদের সাগরযাত্রা বন্ধ রেখেছিল। কিন্তু আসলেই ইলিশের ঝাঁক ব্যাপকহারে এসেছে কিনা এ নিয়ে কোন পরিসংখ্যান বা সঠিক চিত্র নেই। প্রজনন মৌসুমের পর সাগরের আচরণে সামনের ইলিশ মৌসুম নিয়ে শঙ্কিত। বৃহস্পতিবার ভোরে চট্টগ্রামের মাছের বৃহৎ আড়ত ফিরিঙ্গীবাজার ফিশারিঘাটে সরেজমিনে দেখা যায়, টনে টনে আসছে লইট্যা মাছ। সাগর থেকে অন্য কোন প্রকার মাছের তেমন আধিক্য নেই। তবে কিছুটা ব্যতিক্রম ছিল ছোট আকৃতির লাক্কা মাছের চালানও। ঘাটে এসেছে ছোট ছোট লাক্কা মাছের চালান। আড়তদাররা জানিয়েছেন, গত তিনদিন ধরে পুরো বাজার সয়লাব লইট্যা মাছে। সপ্তাহ দশ দিন আগেও আড়তে প্রতিকেজি লইট্যা মাছের দাম ৮০ থেকে ১শ’ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। বৃহস্পতিবার দাম পড়তে পড়তে ৩০ টাকায় ঠেকেছে। অথচ এ সময় সবচেয়ে বেশি ধরা পড়ার কথা ইলিশের ঝাঁক। কিন্তু জেলেরা হতাশ। পর্যাপ্ত কোন ইলিশ আনতে পারছে না। তাই ভরা মৌসুমেও ইলিশ নেই বাজারে। ছোটখাট চালান আসছে ঘাটে। ফিশারিঘাটের বোট মালিক এবং আড়তদাররা জানিয়েছেন, এখানে প্রতিদিন দেড়শটি আড়তে অন্তত ৪০ থেকে ৫০ টন লইট্যা আসছে। লইট্যা মাছের প্রভাবে অন্যান্য মাছের দামেও প্রভাব পড়েছে। কম দামে মাছ বিক্রি হওয়ায় মিঠা পানির মাছের চাহিদা হ্রাস পেয়েছে। এ ফিশারিঘাটে সাতক্ষীরা থেকে আসা বিপুল পরিমাণ মিঠা পানির মাছ অবিক্রিত থাকায় কোল্ড স্টোরেজে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। প্রতিটি আড়তে বিপুল লইট্যা মাছ বিক্রির পর তা নগরীর সর্বত্র বিক্রি হচ্ছে। নিয়মিত বাজার ছাড়িয়ে ঠেলাগাড়িতেও এ মাছ বিক্রি হচ্ছে নগরীর পাড়া-মহল্লায়। মাছের দাম কমে যাওয়ায় গরুর মাংস এবং মুরগির বাজারেও প্রভাব পড়েছে। কোরবান পরবর্তী সময়ে গরুর মাংসের বাজার আর নড়েচড়ে উঠেনি। সবচেয়ে বেশি লোকসান গুনছে পোল্ট্রি মালিকরা। প্রতিকেজি ফার্মের মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১২০ টাকায়।
চট্টগ্রামের জেলেরা জানিয়েছেন, সাগরে হঠাৎ লইট্যা মাছ ধরা পড়ার প্রবণতাকে তারা দুর্যোগের পূর্বাভাস বলে মনে করছেন। সাধারণত, এ মাছটি অনেকটা স্পর্শকাতর। তাই দুর্যোগের আগেই সাধারণত এ মাছটি দলছুট হয়ে উপকূলের দিকে ছুটে আসে। একই অবস্থা ইলিশ মাছের ক্ষেত্রেও হয়ে থাকে। তবে দূরপাল্লার যাত্রায় ইলিশের গতি বেশি। দুর্যোগের কারণে ইলিশের দল উপকূলমুখী না হয়ে অন্যদিকেও হতে পারে। এতে হয়ত প্রজননের ভরা মৌসুমে নদী মোহনামুখী হতে বাঁধাপ্রাপ্ত হয়েছে। বিশেষ করে প্রজননের সময়ে বঙ্গোপসাগরে অতি মারাত্মক ঘূর্ণিঝড় হুদহুদ সৃষ্টি হওয়ায় প্রভাব পড়তে পারে। জেলে এবং চট্টগ্রামের ফিশিং ব্যবসায়ীরা আসন্ন মৌসুমে সাগরের বিভিন্ন গ্রাউন্ডে রকমারি প্রজাতির মৎস্য আহরণ নিয়ে দ্বন্দ্বে রয়েছেন। নবেম্বর মাস থেকেই সাগর শান্ত থাকার সুযোগে বঙ্গোপসাগরের সাতটি ফিশিং গ্রাউন্ড থেকে সহস্রাধিক ছোট বড় নৌযানে লক্ষাধিক জেলে মৎস্য আহরণে নেমে পড়ার কথা।
বাউফলে পোস্ট অফিসের কাজ চলে বাড়ি ও দোকানে
নিজস্ব সংবাদদাতা, বাউফল, ৩১ অক্টোবর ॥ বাউফল উপজেলা পোস্ট অফিসসহ ৩টি সাব-পোস্ট অফিস ও ৪৪টি শাখা অফিসের বেহাল অবস্থা। কাজকর্ম হয় পোস্টমাস্টারের বাড়ি ও দোকানপাটে বসে। সরকারের এসব পোস্ট অফিস থেকে বছরে কয়েক কোটি টাকা রাজস্ব আয় হলেও অবকাঠামোর কোন উন্নয়ন হচ্ছে না। ফলে দাফতরিক কাজকর্ম সম্পন্ন করতে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাউফল উপজেলা পোস্ট অফিসের অধীনে ১০টি, কালাইয়া সাব- পোস্ট অফিসের অধীনে ৪টি, কালিশুরী সাব-পোস্ট অফিসের অধীনে ১৬টি ও বগা সাব-পোস্ট অফিসের অধীনে ১৪টিসহ মোট ৪৪টি শাখা অফিস রয়েছে। এর মধ্যে কালাইয়া ও কালিশুরী সাব-পোস্ট অফিস চলছে ভাড়া ঘরে, বাকি ৪৪টি শাখা অফিসের নিজস্ব কোন ভবন নেই।
উপজেলা পোস্ট অফিসে ১ জন পোস্টমাস্টার, ২ জন পোস্টম্যান, ১ জন অপারেটর, ১ জন স্ট্যাম্প ভেন্ডার, ১ জন প্যাকার, সাব-পোস্ট অফিসে ১ জন পোস্টমাস্টার, ১ জন রানার, ১ জন অপারেটর ও ১ জন কেরানী এবং শাখা অফিসে ১ জন পোস্টমাস্টার, ১ জন পোস্টম্যান ও ১ জন রানার থাকার কথা থাকলেও সেখানে অর্ধেকেরও কম রয়েছে। শাখার অফিসগুলোতে কাজকর্ম হয় পোস্টমাস্টারের বাড়ি কিংবা কোন বাজার বা হাটের দোকানপাটে বসে। পোস্টমাস্টার সেখান থেকে গ্রাম হিসেব করে চিঠিপত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ডকুমেন্ট, পার্সেল বা মানিঅর্ডার সরবরাহ করেন। উপজেলা পোস্ট অফিস থেকে দৈনিক এসব চিঠিপত্র সাব-পোস্ট অফিস ও শাখা অফিসগুলোতে পাঠানো হয়। কিন্তু তারা প্রতিদিনের চিঠি বিলি করেন না।
সপ্তাহে একদিন বা হাটের দিন চিঠিপত্র বিলি করেন। আগে পোস্ট অফিসগুলোর সামনে লেটার বক্স থাকলেও এখন আর তা নেই। লেটার বক্সগুলো ভেঙ্গে যাওয়ার পর নতুন করে আর সরবরাহ করা হয়নি । নাম প্রকাশ না করার শর্তে শাখা অফিসের কয়েকজন পোস্টমাস্টার অভিযোগ করেন, পরের ঘরে থেকে সরকারী কাজকর্ম করলেও তাদের তেমন কোন সুযোগ-সুবিধা দেয়া হয় না। বাউফল উপজেলা পোস্টমাস্টার মোঃ রফিকুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন ধরে কোন অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হয়নি। এমনকি উপজেলা পোস্ট অফিসে পোস্টমাস্টারের কোন ট্রেজারী রুম নেই।
দিল্লী জামে মসজিদ নয়া ইমামের দস্তারবন্দী ॥ মোদি বাদ, নওয়াজ আমন্ত্রিত
দিল্লী জামে মসজিদের নতুন শাহী ইমাম শাবান বুখারির ‘দস্তারবন্দী’ (অভিষেক) অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ পেলেন না ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তবে ওই অনুষ্ঠানে বর্তমান শাহী ইমাম সৈয়দ আহমেদ বুখারির আমন্ত্রণ পেয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ। খবর আনন্দবাজার পত্রিকা অনলাইনের।
বিশ্বের প্রায় ৩ হাজার অতিথি উপস্থিত থাকবেন ২২ নবেম্বরের দস্তারবন্দী অনুষ্ঠানে। প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ না জানানোর ব্যাপারে ইমাম বুখারি বলেন, ভারতের মুসলমানরা এখনও মোদির সঙ্গে একাত্ম হতে পারছেন না। গুজরাট দাঙ্গার জন্য মুসলমানরা তাঁকে ক্ষমা করেনি। তিনি আরও বলেন, এটা ব্যক্তিগত লড়াই নয়। মোদি আমাদের পছন্দ করেন না। আমরাও তাঁকে পছন্দ করি না। তিনি সব সময় মুসলমানদের সঙ্গে একটা দূরত্ব বজায় রেখে চলার চেষ্টা করেন। বিজেপি মুখপাত্র নলীন কোহলি বলেন, ‘নিজ দেশের প্রধানমন্ত্রীকে বাদ দিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো চরম অসৌজন্যের পরিচয়। দেশের মুসলমানরা ভারতের জন্য বাঁচে ও প্রাণ দেয়। তাঁদের অভিভাবক হয়ে বুখারি এমন কাজ করতে পারেন না।’ বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করেনি কংগ্রেস। রাজনীতিবিদদের মতে, শরীফ আসুন বা না আসুন; এই অনুষ্ঠানে দেশের প্রধানমন্ত্রীকে বাদ দিয়ে তাঁকে আমন্ত্রণ জানিয়ে মোদি বিরোধিতার পুরনো অবস্থানেই অনড় থাকলেন বুখারি।
পার্লামেন্ট ও প্রিন্ট মিডিয়ার সঙ্গে দ্বন্দ্বে ব্রিটিশ পুলিশ
মিডিয়ার স্বাধীনতার সীমা নিয়ে বিতর্ক
ব্রিটেনের নিরাপত্তা বিভাগ এখন পার্লামেন্ট এবং দেশটির শক্তিশালী প্রিন্ট মিডিয়ার সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়াতে চলেছে। সংবাদের সূত্র অনুসন্ধানে পুলিশ গোপনে একটি বিতর্কিত আইন প্রয়োগ করেছিল বিষয়টি প্রকাশিত হওয়ার পর দ্বন্দ্বের শুরু। এর ফলে ডিজিটাল যুগে মিডিয়ার স্বাধীনতার সীমারেখা কোন পর্যন্ত হওয়া উচিত সেই বিতর্কটিও সামনে চলে এসেছে।
সান ও মেইল সংবাদপত্রে রবিবার প্রকাশিত একটি সংবাদের উৎস খুঁজতে পুলিশ এমন একটি আইন ব্যবহার করেছে যে আইনটি সাধারণত সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীদের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়। ওই সংবাদের জের ধরে চাকরি হারিয়েছেন দুজন সিনিয়র কর্মকর্তা। রেগুলেশন অব ইনভেস্ট পাওয়ার এ্যাক্টের (রিপা) অধীনে পুলিশ যেহেতু আদালতের দারস্থ হয়নি তাই এ বিষয়ে পূর্ণমাত্রায় তদন্ত হবে কিনা তা অনিশ্চিত রয়ে গেছে। পার্লামেন্টে সরকারের সিনিয়ির প্রতিনিধি এ্যান্ড্রু মিচেলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগে কোন কোন কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট ছিলেন তা জানার জন্য পুলিশ সান সংবাদপত্রের রাজনৈতিক সম্পাদক টম নিউটন ডানের ফোন রেকর্ডে প্রবেশ করেছিল। ট্যাবলয়েড সংবাদপত্রটি ওই খবর প্রথমপাতায় ছেপেছিল। প্রেস গেজেট সাময়িকীর ডোমিনিক পন্সফোর্ড বলেছেন, পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে কোন টেলিফোন নম্বরগুলো ব্যবহার করা হয়েছে সেটি খুঁজে বের করা তাদের জন্য খুব সহজ ব্যাপার ছিল। উল্লেখ্য, ‘সেভ আওয়ার সোর্স’ ক্যাম্পেনটির উদ্যোক্তা প্রেস গেজেট সাময়িকী।
আধুনিক প্রযুক্তির আগমণের সঙ্গে মিল রেখে রিপা আইনটি ২০০০ সালে প্রবর্তন করা হয়েছিল। আইনটি এ সম্পর্কিত ইউরোপীয় আইন ও রীতিনীতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। তবে ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজমের পক্ষে ইউরোপিয়ান কোর্ট অব হিউম্যান রাইটস এখন ওই রিপার বিরুদ্ধে আইনগত লড়াই শুরু করেছে। কারণ ওই আইনের মাধ্যমে মানুষের স্বাধীন মত প্রকাশের ওপর বিধি নিষেধ আরোপ করা হয়েছে। পন্সফোর্ড জানিয়েছেন, ইউরোপিয়ান কোর্ট অব হিউম্যান রাইটসে এ নিয়ে অনেকগুলো মামলা জমে গেছে। ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থেরেসা মে আইনটি সংশোধনের পক্ষে। এ ব্যাপারে তিনি ব্রিটিশ মিডিয়াকর্মীদের সমর্থন পাচ্ছেন। -এএফপি
সাইবার হামলায় সন্ত্রস্ত ন্যাটো
রাশিয়ার গতিবিধির ওপর বিশেষ নজর
গত এক সপ্তাহ ধরে ইউরোপের আকাশে টহলদারি করে ব্যস্ত সময় পার করেছে উত্তর আটলান্টিক সামরিক জোট ন্যাটো। রাশিয়ার বোমারু বিমানগুলো এ সময়ে কয়েকবার ন্যাটো জোটভুক্ত দেশগুলোর আকাশসীমায় ঢুঁ মারে। পাশাপাশি জোটটিকে সামাল দিতে হচ্ছে সাইবার আক্রমণ বা সন্ত্রাসের। খবর গার্ডিয়ান অনলাইন।
পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো রাশিয়ার গতিবিধির ওপর বিশেষভাবে নজর রাখছে। ন্যাটো মনে করে বড় হুমকি তৈরি না করলেও মস্কো ইউরোপ ও তার আশপাশের আকাশ সীমায় অনাবশ্যক উত্তেজনা সৃষ্টি করছে। ন্যাটো জানিয়েছে, মঙ্গল ও বুধবার ২৪ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে রাশিয়ার অনেকগুলো জঙ্গী বিমানের গতিপথ রোধ করা হয়েছে। জোটটি মনে করে ইউরোপের আকাশে এখন রাশিয়ার আনাগোনা অনেক বেড়ে গেছে। এর পাশাপাশি সাইবার আক্রমণও ন্যাটোকে প্রতিহত করতে হচ্ছে। আকাশে ইঁদুর-বিড়াল খেলার লাইভ শোর পাশাপাশি ভূমিতে দৃষ্টির আড়ালে সাইবার হামলাকারীরা পশ্চিমা ইন্টারনেট সার্ভার টার্গেট করে যেভাবে আক্রমণ পরিচালনা করছে তার পরিধিটি অনেক বড় বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। ন্যাটো সাইবার নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান ও ব্রিটেনের রয়্যাল এয়ারফোর্সের সাবেক কর্মকর্তা ইয়ান ওয়েস্ট বলেছেন, হুমকি ক্ষেত্রটি অনেক বড়, ম্যালওয়্যার থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় সমর্থনপুষ্ট সাইবার হামলা সবই রয়েছে এর মধ্যে। তিনি মনে করেন, তারা যাকে অসম্ভব বলে ধারণা করেন এমন অঘটনও সাইবার আক্রমণকারীরা ঘটাতে সক্ষম। ন্যাটোর ৩৪টি ওয়েবসাইট প্রতিদিন প্রায় এক লাখ নেট ব্যবহারকারী ভিজিট করে থাকেন। তাদের ওপর নজরদারি করার জন্য ন্যাটোর রয়েছে ২শ’ শক্তিশালী টিম। ন্যাটো সাইটগুলোর নিরাপত্তা বিধান করাই তাদের কাজ। এগুলো টার্গেট করে করা প্রতিদিন অন্তত ২ কোটি সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের খবর দিয়েছেন। তিনি বলছেন, এগুলোর আংশিক ন্যাটোর মনিটরে ধরা পড়ে। গত বছর ন্যাটো সাইবার ইউনিট এ ধরনের ৩ হাজার ৬শ’ অস্বাভাবিক আচরণ প্রতিরোধ করেছে। চলতি বছর ইউক্রেন আইএস সঙ্কট এ ধরনের আক্রমণের ঝুঁকি আরও বাড়িয়েছে। প্রতি সপ্তাহে অন্তত পাঁচ এরকম ঘটনা মোকাবেলা করতে হয়। ন্যাটো সাইবার নজরদারি গ্রুপ আইসাইট পার্টনার্স জানিয়েছে, ন্যাটোর কম্পিউটার সিস্টেমে গুপ্তচরবৃত্তি চালানোর উদ্দেশে রাশিয়ান হ্যাকাররা মাইক্রোসফট উইন্ডোজে একটি ক্ষতিকর প্রোগ্রাম (বাগ) ঢুকিয়ে দিয়েছে। এ লক্ষ্যে তারা পাঁচ বছর ধরে স্যান্ডওয়ার্ম নামে একটি হ্যাকিং প্রোগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। কেবল ন্যাটো নয় ইউক্রেনের কম্পিউটার সিস্টেমও এর টার্গেটের মধ্যে রয়েছে। এক সপ্তাহ আগে হ্যাকাররা সাফল্যজনকভাবে হোয়াইট হাউসের কম্পিউটার নেটওয়ার্কে ঢুকে পড়েছিল।
ওয়েস্ট বলছেন, সাইবার আক্রমণ প্রতিহতে যারা কাজ করে তাদের কর্মকা- অনেকটা খড়ের গাদার মধ্যে সূঁচ খোঁজার মতই। অথচ কাজটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সাইবার সন্ত্রাসীরা পুরো একটি ইউনিটের কাজ অচল করে দিতে পারে। সামরিক ও রাজনৈতিক মহলে সাইবার সন্ত্রাসকে বোমা হামলা বা ট্যাঙ্ক দিয়ে আক্রমণ চালানোর মতোই দেখা হচ্ছে। এ থেকে ধ্বংসের বিষয়টি সেভাবে চোখে পড়ে না। কারণ পুরো বিষয়টিই ভার্চুয়াল। কিন্তু এর ফলে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণকে খাটো করে দেখার কোন সুযোগ নাই। কারণ সাইবার আক্রমণ পাওয়ার সাপ্লাই, চিকিৎসাসেবা, পানি সরবরাহ, আর্থিক বাজারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকা- মুহূর্তের মধ্যে বন্ধ করে দিতে পারে।
জাতীয় পার্টি একদিনের গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না ॥ এরশাদ
স্টাফ রিপোর্টার ॥ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, আমরা আমলাতন্ত্র নয়, গণতন্ত্র চাই। জাপা জনগণের ক্ষমতায়নে বিশ্বাস করে। আমরা সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পেলে জনগণের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেব। শুক্রবার রাজধানীর বনানীতে রাজউক মাঠে জাতীয় পার্টির ঢাকা মহানগর কমিটি (উত্তর) আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ বলেন, উপজেলা পরিষদ এখন আমলারা চালায়। তাই উপজেলা চেয়ারম্যানদের হাতে কোন ক্ষমতা নেই। আমি ক্ষমতায় থাকতে উপজেলা ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছিলাম। তখন মানুষ অনেক সুবিধা পেত। ন্যায়বিচার পেত। এখন চেয়ারম্যানদের হাত থেকে সকল ক্ষমতা খর্ব করা হয়েছে। যা ভাবতেই কষ্ট হয়।
বাংলাদেশে গণতন্ত্র কেবল একদিনেই আসে, তা হলো ভোটের দিনে এমন মন্তব্য করে এরশাদ বলেন, জাতীয় পার্টি একদিনের গণতন্ত্রে বিশ্বাসী নয়। আমরা ক্ষমতায় গেলে উপজেলা চেয়ারম্যানদের হাতে পরিষদ চালানোর পূর্ণাঙ্গ ক্ষমতা ফিরিয়ে দেব। সুশাসন প্রতিষ্ঠা করব। মানুষ ভাল থাকবে। শান্তি ও নিরাপদে থাকবে। এরশাদ বলেন, দেশে শিক্ষার মান বলতে কিছু নেই। যারা পরীক্ষা দিচ্ছে সবাই পাস। তা হতে পারে না। আমাদের শিক্ষার মান কমছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, মানুষকে দেয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে না সরকার। সব ঘরে চাকরি দেয়ার নাম নেই। দেশে বেকারের সংখ্যা বাড়ছে।
সাবেক সেনাপ্রধান এরশাদ বলেন, আমরা ক্ষমতায় গেলে প্রাদেশিক পরিষদ করে জনগণের কাছে ক্ষমতা দিব। আমরা নির্বাচন পদ্ধতির পরিবর্তন করতে চাই। জাতীয় পার্টি জনগণের নন্দিত পার্টি। নিন্দিত নয়। আমার কোন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সন্ত্রাস, টেন্ডারবাজির অভিযোগ নেই। জাতীয় পার্টি শান্তিতে বিশ্বাস করে। সহাবস্থানে বিশ্বাস করে। অত্যাচার-জুলুম বিশ্বাস করে না। তাই এখনও মানুষ জাতীয় পার্টির শাসন ভুলে যায়নি।
দুই দলের হাত থেকে (আওয়ামী লীগ-বিএনপি) মানুষ রক্ষা পেতে চায় এমন মন্তব্য করে এরশাদ বলেন, জাতীয় পার্টি আছে, মানুষের মনের ইচ্ছা পূরণ করবে। সে লক্ষ নিয়েই আমরা এগিয়ে চলেছি। সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করছি। মানুষের বাড়ি বাড়ি যাব। তাদের বোঝাব। জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় এলে স্বর্ণযুগ ফিরবে। এ সময় তিনি দলের সেøাগান হিসেবে উল্লেখ করেন, ‘জাতীয় পার্টি একশ’ একান্ন।’ অর্থাৎ আগামীতে ১৫১টি আসন পেয়ে দল ক্ষমতায় আসতে চায়। অনুষ্ঠানে সরকারের বিভিন্ন কর্মকা- নিয়ে সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত এরশাদ। আলোচনা শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, প্রেসিডিয়াম সদস্য জিএম কাদের, মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, ফয়সাল চিশতী, আবু হোসেন বাবলা প্রমুখ।
দেলোয়ার হোসেন খানের শারীরিক অবস্থার উন্নতি ॥ আমেরিকায় চিকিৎসাধীন জাপা নেতা অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন খানের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। খুব শিগগিরই তিনি দেশে ফিরতে পারেন বলে তাঁর পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে। তিনি ৫ অক্টোবর চিকিৎসার জন্য আমেরিকা যান। ক্যালিফোর্নিয়ার বেভারহিলে সিনাই মেডিক্যাল সেন্টারে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি হৃদরোগসহ বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছেন। দেলোয়ার হোসেনের সুস্থতার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে।
বর্ণাঢ্য আনুষ্ঠানিকতা নববধূ নিয়ে মিনিস্টার্স এ্যাপার্টমেন্টে রেলমন্ত্রী
মীর শাহ আলম, কুমিল্লা ॥ বর্ণাঢ্য আয়োজন আর উৎসবমুখর পরিবেশে অবশেষে শুক্রবার সম্পন্ন হলো রেলপথমন্ত্রী মোঃ মুজিবুল হক মুজিবের বহুল আলোচিত বিয়ে। একই সঙ্গে দেশের ইতিহাসে প্রথম মন্ত্রী হিসেবে কারও কুমার জীবনের ইতি ঘটল। বিকেলে ৫ লাখ ১ টাকা দেনমোহরের ভিত্তিতে বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার পর আনুষ্ঠানিকতা শেষে সন্ধ্যা ৬টার দিকে গ্রামের মেঠোপথ পেরিয়ে নববধূ হনুফা আক্তার রিক্তাকে নিয়ে রেলপথমন্ত্রী সড়ক পথে ঢাকার বেইলী রোডের মিনিস্টার্স এ্যাপার্টমেন্টের উদ্দেশে রওয়ানা করেন।
জানা যায়, শুক্রবার বেলা ২টা ৫৫ মিনিটে জাতীয় পতাকা সুশোভিত পাজেরো গাড়িতে চড়ে মন্ত্রীবর মুজিবুল হক ফুল দিয়ে অপরূপে সাজানো গাড়িতে করে পৌঁছান কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার ১০নং গল্লাই ইউনিয়নের মিরাখলা গ্রামে। তাকেসহ বরযাত্রীদের ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে বরণ করে কনেপক্ষ। তার পরনে ছিল গাঢ় সোনালী রঙের শেরওয়ানি ও কিছুুটা সাদা রঙের উপর সোনালী কাজের টুপি, হাতে রুমাল। এ সময় তার গাড়িতে ছিলেন সাবেক আইনমন্ত্রী এ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু এমপি, যুবলীগ নেতা শাহিনুল হক শাহীনসহ তার নিকটাত্মীয়রা। কিন্তু বর মন্ত্রী হলেও সরাসরি ঢুকতে পারেননি বিয়ের অনুষ্ঠানস্থ বরের আসনে। পথে বাদ সাধে ১২-১৩ বছরের ৬ শিশু খাদিজা, আলো, ময়না, দীনা, শাওন ও হেলাল। দৃষ্টিনন্দন প্রধান ফটকে মন্ত্রীবরকে আগলে দাঁড়ায় তারা। তাদের ৫ হাজার ১ টাকা নজরানা দিয়ে শিশুদের থেকে ছাড়া পেলেন মন্ত্রীবর মুজিবুল হক। পরে একটু এগিয়ে গাড়ি থেকে নেমে তিনি হেঁটে গিয়ে বসলেন বরের আসনে। ৩টি প্যান্ডেল করা হয়েছে মেহমানদের আপ্যায়নের জন্য। বাড়ির পূর্বাংশে অতিথিদের অভ্যর্থনা জানাতে একটি, পশ্চিমাংশে অতিথিদের আপ্যায়নের জন্য একটি এবং দুই প্যান্ডেলের মাঝে আরও একটি প্যান্ডেলে বর ও ভিআইপিদের জন্য একটি প্যান্ডেল করা হয়েছে। অতিথিদের কাচ্চি বিরিয়ানী, চিকেন রোস্ট, জালি কাবাব, আলু বোখারা, চাটনী, বোরহানী, মিনারেল ওয়াটার ও কোল্ড ড্রিংকস দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়। বরকে দেয়া হয় আস্ত খাসির রোস্ট। বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে পড়ান স্থানীয় মসজিদের ইমাম কারি আবদুল লতিফ। নিকাহ্ রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব পালন করেন গল্লাই ইউনিয়নের কাজী মাওলানা ছিদ্দিকুর রহমান। ৫ লাখ ১ টাকা মূল্যের কাবিনে বর ও কনে স্বাক্ষর করেন। এ বিয়েতে উকিল করা হয় মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ডিএমডি আবুল হাসেম। বিয়ের কাবিনে বরপক্ষে সাক্ষী রাখা হয় মন্ত্রীর পিএস গোলাম কিবরিয়া, চৌদ্দগ্রামের ৪নং শ্রীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহজালাল মজুমদার, চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার মেয়র মিজানুর রহমান এবং কনেপক্ষে গল্লাই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ফজলুল করিম। এ সময় কনের পরনে ছিল সোনালী রঙের শাড়ির উপর পুঁতির কাজ করা লেহেঙ্গা। অনুষ্ঠানে অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মহিলা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকী, জাতীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক আলী আশ্রাফ, তাজুল ইসলাম, সাবেক এমপি নাসিমুল আলম চৌধুরী নজরুল, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যক্ষ আফজল খান এ্যাডভোকেট, জেলা পরিষদ প্রশাসক আলহাজ ওমর ফারুক, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি সফিকুর রহমান, রেলওয়ের মহাপরিচালক মোঃ তফাজ্জল হোসেন, এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী ওয়াহিদুর রহমান, কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মোঃ হাসানুজ্জামান কল্লোল, পুলিশ সুপার টুটুল চক্রবর্তী, পদস্থ সরকারী কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার লোকজন অংশ নেয়।
কনের (হনুফা আক্তার রিক্তা) বাড়ি মিরাখোলার সবুজ ঘেরা ছোট একটি গ্রামে। যে গ্রামে লোকসংখ্যা প্রায় ১৭শ’র মতো। কিন্তু বিয়ের দিন শুধু কনের বাড়িটি ঘিরেই লোকসংখ্যা পরিমাণ ছিল প্রায় সাড়ে ৪ হাজার। চান্দিনার কুটম্বপুর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার রাস্তা পাড়ি দিয়ে কনের বাড়িতে আসার সময় রাস্তার দুই পাশে ছিল সব বয়েসী মানুষের উপচেপড়া ভিড়। একটিবারের জন্য বরের হাত ছুঁতে রাস্তা ধরে দাঁড়িয়ে ছিল শত শত লোক। যাদের অধিকাংশই ব্যস্ত ছিলেন মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও করতে।
আজ নাটোরে খালেদা জিয়ার জনসভা
স্টাফ রিপোর্টার ॥ আজ শনিবার নাটোরে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের জনসভা। নির্দলীয় সরকারের দাবিতে এ জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। বিকেল ৩টায় এনএস কলেজ মাঠে জেলা বিএনপির সভাপতি রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর সভাপতিত্বে এ জনসভা অনুষ্ঠিত হবে।
নাটোরের জনসভায় যোগ দিতে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া সকাল ১০টায় গুলশানের বাসা থেকে রওনা দেবেন। জনসভা শেষে সন্ধ্যায় তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন বলে বিএনপি চেয়ারপার্সনের মিডিয়া উয়িং কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান জানিয়েছেন।
শিক্ষা খাতে বিপ্লব করতে পারলেই মধ্য আয়ের দেশ হবে বাংলাদেশ ॥ মজেনা
স্টাফ রিপোর্টার ॥ শিক্ষা খাতে বিপ্লব করতে পারলেই বাংলাদেশের ছেলেমেয়েরা এ দেশটিকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করতে পারবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজেনা।
শুক্রবার সকালে ঢাকায় হোম ইকোনমিক্স কলেজ অডিটোরিয়ামে ‘হোম ইকোনমিক্স এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হিয়াব)’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
হোম ইকোনমিক্স এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হিয়াব) চেয়ারম্যান নাসিমা ফেরদৌসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে হিয়াব উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। এতে বক্তৃতা করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজেনা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, কলেজটির সাবেক অধ্যক্ষ ও হিয়াবের মহাসচিব ফাতেমা সুরাইয়া, হোম ইকোনমিক্স কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ সামছুন্নাহার, ডিজাইনার বিবি রাসেল ও সাবেক সংসদ রোমানা মাহমুদ প্রমুখ।
মজেনা বলেন, মধ্যম আয়ের দেশ গঠনের জন্য দরকার বাসস্থান, সুস্বাস্থ্য ও গুণগত শিক্ষা। আর এসবই সম্ভব প্রবল ইচ্ছাশক্তির মাধ্যমে। তিনি বলেন, আমি আশা করছি বাংলাদেশ সরকার ভাল ও মানসম্পন্ন শিক্ষক নিয়োগ দেবে এবং শিক্ষকদের ভাল বেতন ও সুবিধা দেবে। যাতে শিক্ষকরা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে ভাল শিক্ষা দিতে পারেন।
মজেনা বলেন, প্রবল ইচ্ছাশক্তির বলে বাংলাদেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার দ্বারপ্রান্তে। ইতোমধ্যে কৃষিতে বিপ্লব করেছে দেশটি। স্বাস্থ্য খাতেও অনেক উন্নতি সাধন করেছে। কমিয়েছে মাতৃমৃত্যুর হার। এসবই সম্ভব হয়েছে প্রবল মনোবাসনার কারণে। এর সঙ্গে নারীর প্রবল ইচ্ছাশক্তি থাকলে বাংলাদেশ সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে বলে তিনি আশাপ্রকাশ করেন।
মার্কিন দূত বলেনÑ আশা করছি, সরকার ইন্টারনেট যোগাযোগ আরও জোরদার করবে। যাতে প্রতিটি শিশু এর ব্যবহারে ভাল শিক্ষা নিতে পারে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেন, বর্তমান বাংলাদেশ অনেকটা এগিয়ে গেছে। যেভাবে আমাদের ছেলেমেয়েরা কাজ করে যাচ্ছে এতে এগিয়ে যেতেই হবে।
তিনি বলেন, হোম ইকোনমিক্স ছেলেমেয়ে সবার জন্য উন্মুক্ত করা উচিত। এখানে (অনুষ্ঠান) সব নারী। আমরা কয়েকজন বিরল পুরুষ বসে আছি। এজন্য আমরা চাই, এ শিক্ষা সব স্তরে পৌঁছে যাক। পুরুষদের রেখে নারীরা এগিয়ে যেতে পারবে না আবার নারীদের রেখেও পুরুষরা এগিয়ে যেতে পারবে না। সব জায়গায় দুটো হাত, দুটো পা নিয়েই এগুতে হবে।
অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, আমরা সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। সব জায়গায় এখন নারীদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। হোম ইকোনমিক্সে কেন ছেলেরা পড়তে পারবে না?
বক্তব্যের শেষে অর্থমন্ত্রী ঘণ্টা বাজিয়ে এ সংগঠনের যাত্রা শুরু করেন। ১৯৬১ সাল থেকে যাত্রা শুরু করেছে হোম ইকোনমিক্স কলেজ। শুক্রবার থেকে এ কলেজেই যাত্রা শুরু করল ‘হোম ইকোনমিক্স এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ।’
আইনী জটিলতায় ঝুলে গেছে ওষুধ নীতি, জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে
নকল ও ভেজাল ওষুধের ছড়াছড়ি
নিখিল মানখিন ॥ আইনী জটিলতায় আটকে পড়েছে জাতীয় ওষুধ নীতি। উচ্চ আদালতে বিচারাধীন থাকায় নীতিমালা চূড়ান্ত করার বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ২০১২ সালের নবেম্বর মাসে নীতিমালা প্রণয়ন কমিটি খসড়া নীতিমালা তৈরি করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছিল। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নীতিমালার ওপর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মতামত চাওয়া হয়। এরপর নীতিমালা প্রণয়ন কমিটির একজন সদস্যের আপত্তি ও আদালতে মামলা করার পর তা আর আলোর মুখ দেখেনি। নীতিমালা যুগোপযোগী না করায় ও ওষুধ বিক্রির গেজেট প্রকাশ না করায় এখন বাজারে নকল ও ভেজাল ওষুধের ছড়াছড়ি। ক্রেতারা প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে জনস্বাস্থ্য। প্রস্তাবিত নীতিমালায় বলা হয়েছে, সব স্বীকৃত পদ্ধতির ওষুধের সর্বোত্তম তাত্ত্বিক পরিচয়কে চিকিৎসক ও ফার্মাসিস্ট উভয়ের কাছে সহজ করে তোলা হবে। এ লক্ষ্যে ওষুধের বাণিজ্যিক নামের পাশাপাশি স্পষ্টভাবে জিনেরিক নামে উৎপাদন ও বিপণন করতে হবে।
তিন দশকের পুরনো ওষুধনীতি দিয়ে চলছে দেশের বিকাশমান ওষুধ শিল্প। গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প দ্রুত বিকাশ হলেও সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ওষুধনীতির আধুনিকায়ন করা হয়নি। এতে নকল, ভেজাল ও নিম্নমানের ওষুধ বাজারে সহজে জায়গা করে নিচ্ছে। রোধ করা যাচ্ছে না ওষুধের লাগামহীন উচ্চ মূল্য। পুরনো নীতিমালার বাধ্যবাধকতায় ওষুধের মান ও কার্যকারিতা নিয়েও ক্রেতারা কোন তথ্য জানতে পারছেন না। তাদের নির্ভর করতে হচ্ছে কমিশন আকাক্সক্ষী ডাক্তারদের ওপর, যারা অজ্ঞাত-অখ্যাত কোম্পানির মানহীন ওষুধ লিখে দিচ্ছেন ক্রেতাদের ব্যবস্থাপত্রে। সব মিলিয়ে যুগোপযোগী ওষুধনীতি না থাকায় দেশজুড়ে ওষুধ বাণিজ্যে চলছে সীমাহীন নৈরাজ্য। ওষুধ শিল্প নিয়ন্ত্রণে ১৯৮২ সালে সর্বশেষ আইন কার্যকর হয়। এরপর দীর্ঘ ৩২ বছরে বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত হয়েছে। এ দেশের তৈরি ওষুধ নিজেদের ৯৮ ভাগ চাহিদা মিটিয়ে বিশ্ব বাজারে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কিন্তু একটি আধুনিক ওষুধনীতি বাস্তবায়নের কাজ তিন দশকেও শেষ হয়নি। ২০০৫ সালে সরকার জাতীয় ওষুধ নীতি তৈরির ঘোষণা দেয়। সেই অনুযায়ী ২০১২ সালে একটি খসড়া তৈরি করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে ফাইলবন্দী রয়েছে। জাতীয় ওষুধ নীতি যুগোপযোগী করার জন্য ওই বছর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবকে প্রধান করে ৮ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটিতে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের কর্মকর্তা ও ওষুধ বিশেষজ্ঞ রয়েছেন।
ওষুধ প্রশাসন সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যাল সোসাইটির সংশ্লিষ্টতা ছাড়া খসড়া নীতিমালা প্রণয়ন করায় আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। আদালত শুনানি শেষে বাদীর পক্ষে রায় দেয়। পরে এই ঘটনা উচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়ায়। সেখানে শুনানি শেষে আদালত বাদীর পক্ষে রায় দেয়। পরবর্তীতে উচ্চ আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে রিট করেন বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যাল সোসাইটির আরেক নেতা। এরপর ওষুধ নীতিমালা প্রণয়নের কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়। সেই কার্যক্রম নতুন করে আর চালু করা হয়নি।
ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর আরও জানায়, ২০০৫ সালের পরে প্রথম ওষুধ নীতিকে যুগোপযোগী করে খসড়া তৈরি করা হয়েছে। এই নীতিমালা হালনাগাদ করার জন্য সব ধরনের তথ্য সংযুক্ত করার টার্গেট নেয়া হয়েছিল। এর মধ্যে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা ছাড়াও ইউনানি, আয়ুর্বেদিক, হোমিওপ্যাথিক ওষুধের তালিকার ওপর জোর দেয়া হয়েছে। আরও জানা গেছে, ওষুধের দোকানগুলোতে দেশী-বিদেশী বিভিন্ন ধরনের ফুড সাপ্লিমেন্ট বিক্রি হচ্ছে। রোগীরা চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে এসব ওষুধ হিসেবে কিনে খাচ্ছে। কিন্তু এসব ফুড সাপ্লিমেন্ট বিক্রির কোন গাইডলাইন নেই। ওষুধ দোকানের অসাধু মালিকরা নিজেদের খুশিমতো বাড়তি দামে বিক্রি করছে। ফুড সাপ্লিমেন্ট ওষুধের দোকানে রাখার কোন নিয়মকানুন নেই। নতুন ওষুধ নীতিমালায় এই সম্পর্কে নির্দিষ্ট গাইডলাইনসহ নতুন নতুন অনেক বিষয় সংযুক্ত করা হয়েছে । আরও জানা গেছে, ওষুধ আমদানি, ওষুধ তৈরি, কারখানা তৈরির নিয়ম ও শর্ত, ওষুধ কেনা ও বিক্রি, রফতানি, মার্কেটিং নীতিমালা, ওষুধের মূল্য নির্ধারণ, ওষুধ বিক্রির গাইডলাইন তৈরি, গেজেট প্রকাশসহ ওষুধ সংক্রান্ত সব ধরনের নিয়ম ওষুধ নীতিতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে। চিকিৎসা ছাড়পত্র ছাড়াও যেসব ওষুধ (ওটিসি) খুচরা দোকানে বিক্রি করা হয় তার তালিকা তৈরি করে নিয়ম নির্ধারণ করা হবে। এছাড়াও ডাক্তার প্রেসক্রিপশন (চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্র) দেখে ওষুধ বিক্রির বিভিন্ন শর্ত তুলে ধরা হবে।
ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর আরও জানায়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রণয়ন করা এ নীতিমালা অনুযায়ী একটি মূল্যনির্ধারণী কমিটির মাধ্যমে সরকার ওষুধের দাম নির্ধারণ করে দেবে। সরকারী-বেসরকারী হাসপাতালে গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্টদের তত্ত্বাবধানে গঠন করা হবে ‘হসপিটাল ফার্মেসি’ এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে হবে ‘কমিউনিটি ফার্মেসি’ শক্তিশালী করা হবে । আদায়কৃত রাজস্বের ১৫ শতাংশের অংশিদার হবেন এ প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা। এ ছাড়া সব বিভাগীয় শহরে ওষুধ পরীক্ষাগার স্থাপন করা হবে। খসড়া নীতিমালায় আরও বলা হয় ১শ’ বা তার বেশি শয্যাবিশিষ্ট দেশের সব সরকারী ও বেসরকারী হাসপাতালের ফার্মাকোলজি বিভাগে ওষুধের বিরূপ প্রতিক্রিয়া তদারকির জন্য ‘ফোকাল পয়েন্ট’ নির্ধারণ করা হবে। কোন একটি মেডিক্যাল কলেজকে এ বিষয়ে জাতীয় কেন্দ্র ঘোষণা করে এ কার্যক্রম শক্তিশালী করা হবে। সব স্বীকৃত পদ্ধতির ওষুধের সর্বোত্তম তাত্ত্বিক পরিচয়কে চিকিৎসক ও ফার্মাসিস্ট উভয়ের কাছে সহজ করার লক্ষ্যে ওষুধের বাণিজ্যিক নামের পাশাপাশি স্পষ্টভাবে জিনেরিক নামে উৎপাদন ও বিপণন করতে হবে বলেও প্রস্তাবিত নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে। ওষুধের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য নির্ধারণ করবে এবং প্রতি বছর এ মূল্য পর্যালোচনা করা হবে। এ মূল্য নির্ধারণী কমিটিতে সরকার, উৎপাদক কোম্পানি ও ভোক্তার যথাযথ প্রতিনিধিত্ব থাকবে। কোম্পানির অজান্তে বাজারে ওষুধের দামের ওঠানামা প্রতিরোধে জাতীয় ওষুধ নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের অধিবীক্ষণ কার্যকরভাবে বাড়ানো হবে এবং এতে ভোক্তার প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করা হবে। কোন ভোক্তা নিম্নমানের নকল ভেজাল চোরাচালান করা ওষুধ ব্যবহারে ক্ষতিগ্রস্ত তিনি যাতে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ পেতে পারেন তা নিশ্চিত করার জন্য বিদ্যমান আইন সংশোধন করা হবে বলে খসড়া নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে।
বিএমএ মহাসচিব অধ্যাপক ইকবাল আর্সলান জানান, বর্তমানে যে ওষুধ নীতিমালা আছে তা শিল্পবান্ধব, রোগীবান্ধব নয়। এখন দেশে রোগীবান্ধব ওষুধ নীতি হওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন।
ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের একজন পরিচালক বলেন, খসড়া ওষুধ নীতিমালায় অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা নতুন করে তৈরি করা হয়েছে। আগে অত্যাবশ্যকীয় তালিকায় ২০৯টি থাকলেও এখন তা সংযোজন ও বিয়োজন করে ২৫৪টি করা হয়েছে। ব্যবস্থাপত্র ছাড়া (ওটিসি) যেসব ফুড আইটেম বিক্রি করা হচ্ছে তা আইনী প্রক্রিয়ায় নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। নকল ঠেকাতে বিভিন্ন সুপারিশ প্রণয় করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিএনপির যেখানেই কমিটি, সেখানেই কোন্দল
হাইকমান্ড অস্বস্তিতে
শরীফুল ইসলাম ॥ দল গোছাতে গিয়ে বার বার হোঁচট খাচ্ছে বিএনপি। যেখানে কমিটি সেখানেই কোন্দল মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। এ নিয়ে দলের হাইকমান্ড চরম অস্বস্তিতে।
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করার পর থেকেই নাজুক অবস্থা কাটিয়ে তুলতে দল গোছানোর উদ্যোগ নেয় বিএনপি হাইকমান্ড। প্রথমেই দলের জাতীয় কাউন্সিল করতে যেয়ে হোঁচট খান চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। এরপর সাংগঠনিক জেলা কমিটি, ঢাকা মহানগর বিএনপি, শ্রমিক দল ও ছাত্রদলসহ যেখানেই কমিটি করতে গিয়েছেন সেখানেই হোঁচট খেয়েছেন তিনি। এ কারণে যুবদলসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ে আরও কিছু কমিটি গঠনের কাজ শেষ পর্যায়ে নিয়ে এলেও বাস্তবতার কথা বিবেচনা করে কমিটি ঘোষণা থেকে বিরত রয়েছেন খালেদা জিয়া।
৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর দলের সর্বস্তরে হতাশা দেখা দিলে প্রথমেই বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল করার প্রস্তুতি নেয়া হয়। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুসারে আগের জাতীয় কাউন্সিলের পর ৩ বছরেরও অনেক বেশি সময় অতিক্রান্ত হওয়ায় পরবর্তী জাতীয় কাউন্সিলের বিষয়টি প্রাধান্য পায়। কিন্তু জাতীয় কাউন্সিলের প্রস্তুতি নিতে গিয়ে নানামুখী সমস্যার সম্মুখীন হওয়ায় সে যাত্রায় তা করা সম্ভব হয়নি। এরপর বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া বিভিন্ন সাংগঠনিক জেলা নেতাদের ঢাকায় ডেকে এনে বৈঠক করে জেলা কমিটি গঠনের কাজ শুরু করেন। কিন্তু এ কমিটি গঠন করতে গিয়ে জেলায় জেলায় দলীয় কোন্দল ছড়িয়ে পড়ায় ডজনখানেক কমিটি গঠনের পর তা স্থগিত করা হয়। বিএনপিকে ছাড়াই নির্বাচন করে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর বিএনপি নেতারা আন্দোলন ব্যর্থ হওয়ার জন্য একে অপরকে দোষারোপ করতে থাকে। ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদসহ দলের কিছু নেতা আন্দোলন ব্যর্থ হওয়ার জন্য ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দিকে ইঙ্গিত করেন। আর মির্জা আব্বাস ও গয়েশ্বর রায়সহ কিছু নেতা সরকারবিরোধী আন্দোলন ব্যর্থ হওয়ার জন্য সাদেক হোসেন খোকার নেতৃত্বাধীন ঢাকা মহানগর বিএনপির ব্যর্থতার কথা ধারাবাহিকভাবে বলতে থাকেন। এক পর্যায়ে তাঁদের এ অভিযোগ আমলে নিয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া সাদেক হোসেন খোকার অনুপস্থিতিতে ঢাকা মহানগর বিএনপির নেতাদের সঙ্গে তাঁর গুলশান কার্যালয়ে দীর্ঘ বৈঠক করেন। মির্জা আব্বাসের উপস্থিতিতে সে বৈঠকে ঢাকা মহানগর বিএনপির বেশ ক’জন নেতা দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনপূর্ব আন্দোলনে ঢাকার নেতাদের ব্যর্থতার কথা তুলে ধরেন। তখন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াও আন্দোলনে ঢাকা মহানগর বিএনপির ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করে অবিলম্বে খোকার নেতৃত্বাধীন কমিটি ভেঙ্গে দেয়ার আশ্বাস দেন। তবে এক পর্যায়ে খালেদা জিয়ার এ ঘোষণায় ক্ষুব্ধ হয়ে সাদেক হোসেন খোকা সংবাদ সম্মেলন করে দল থেকে পদত্যাগ করার ঘোষণা দিলে ঢাকা মহানগর বিএনপির নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া থেমে যায়।
কিছুদিন পর সাদেক হোসেন খোকা চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে চলে গেলে মির্জা আব্বাস ও তাঁর অনুসারীরা আবার ঢাকা মহানগর বিএনপির কমিটি পুনর্গঠনের বিষয়ে সোচ্ছার হন। অবশেষে ১৮ জুলাই বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে আহ্বায়ক, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেলকে সদস্যসচিব এবং চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আবদুল আউয়াল মিন্টোকে যুগ্ম-মহাসচিব করে ঢাকা মহানগর বিএনপির ৫৩ সদস্যের নতুন কমিটি গঠন করা হয়।
এদিকে দলে মির্জা ফখরুল ইসলামের লোক বলে পরিচিত হাবিব-উন-নবী খান সোহেলকে ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব করায় কমিটি গঠনের শুরুত্বেই বিক্ষুব্ধ হন মির্জা আব্বাস। এ জন্য তিনি অভিমান করে প্রথম ক’দিন দলীয় কর্মকা- থেকে বিরত থাকেন। এরপর খালেদা জিয়ার নির্দেশে দলে সক্রিয় হন। কিন্তু হাবিব-উন-নবী খান সোহেলকে পাশ কাটিয়ে ঢাকা মহানগর বিএনপির বিভিন্ন ইউনিট কমিটি করতে গিয়ে মির্জা আব্বাস একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করেন। তবে মির্জা ফখরুলের সহযোগিতায় হাবিব-উন-নবী খান সোহেলও এর বিরোধিতা করেন। এ কারণে মহানগর বিএনপির ইউনিট কমিটি গঠনে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। এর ফলে খালেদা জিয়ার বেঁধে দেয়া ২ মাস সময় অনেক আগে পার হয়ে গেলেও ঢাকা মহানগর বিএনপির সকল থানা ও ওয়ার্ড পর্য়ায়ে কমিটি গঠনের কাজ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় পর শ্রমিক দলের নতুন কমিটি করার জন্য এ বছর ১৯ এপ্রিল বিএনপির এ অঙ্গ সংগঠনের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয় রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে। এ কাউন্সিলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। খালেদা জিয়া অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করার পর ওখানেই নতুন কমিটি গঠন নিয়ে শুরু হয় শ্রমিক দলের ২ গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতি, চেয়ার ছোড়াছুড়িসহ ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া। এক পর্যায়ে সংগঠনের সভাপতি ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ও কাউন্সিল সমন্বয় কমিটির চেয়ারম্যান বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানের উপস্থিতিতে কাউন্সিলরদের সরাসরি ভোটে নতুন কমিটি গঠনের দাবি উঠে। কিন্তু এ প্রক্রিয়ায় নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়াও শুরু করা হয়। কিন্তু হঠাৎ করে এ প্রক্রিয়ায় কমিটি গঠন স্থগিত হয়ে যাওয়ায় ওইদিন সন্ধ্যায় আবারও শ্রমিক দলের ২ গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। এ পর্যায়ে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার নির্দেশে কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠন স্থগিত করা হয়।
এরপর থেকে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া নজরুল ইসলাম খান ও আবদুল্লাহ আল নোমানসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করে নতুন কমিটি গঠনের ব্যাপারে পরামর্শ নেন। অবশেষে খালেদা জিয়ার নির্দেশে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও শ্রমিক দলের কাউন্সিল সমন্বয় কমিটির চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানের স্বাক্ষরে ২৭ এপ্রিল আনোয়ার হোসাইনকে সভাপতি এবং নুরুল ইসলাম নাসিমকে সাধারণ সম্পাদক করে ৩৫ সদস্যের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। কিন্তু এ কমিটি ঘোষণার পর থেকেই বিদ্রোহী গ্রুপ কমিটি প্রত্যাখ্যান করে সাংগঠনিক কর্মকা- থেকে বিরত থাকে।
২৪ সেপ্টেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার করে দেয়া কমিটিকে অবৈধ ঘোষণা করে শ্রমিক দলের পাল্টা কমিটি গঠন করে সংগঠনের বিদ্রোহী নেতারা। এম নাজিমউদ্দীনকে সভাপতি এবং আবুল খায়ের খাজাকে সাধারণ সম্পাদক করে ২০১ সদস্যবিশিষ্ট পাল্টা কমিটি ঘোষণা করা হয়। এ কমিটি ঘোষণার পর খালেদা জিয়ার করে দেয়া কমিটিও নতুন কমিটিতে অবৈধ ঘোষণা করে। এভাবে শ্রমিক দলের পাল্টাপাল্টি কমিটি গঠন করা নিয়ে বিএনপিতে তোলপাড় শুরু হয়।
কেন শ্রমিক দলের পাল্টা কমিটি গঠন করা হলো তা জানতে চাওয়া হলে বিদ্রাহী কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবুল খায়ের খাজা সাংবাদিকদের বলেন, শ্রমিক দলের কমিটি বিএনপির কোন নেতা অনুমোদন দেন না। গোপন ব্যালট বা হস্ত উত্তোলনের মাধ্যমে হ্যাঁ-না ভোটে নির্বাচিত কমিটির অনুমোদন দেয় শ্রম পরিদফতর। কিন্তু বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম খান, আব্দুল্লাহ আল নোমান ও জাফরুল হাসান সম্পূর্ণ নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য সাবজেক্ট কমিটির মাধ্যমে একটি পকেট কমিটি দিয়েছেন। তাঁরা স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে এ কাজ করেছেন। এছাড়া ওই কমিটির অনেকের কাছ থেকে তাঁরা অর্থনৈতিক সুবিধাও নিয়েছেন। এজন্য তাঁদের ঘোষিত কমিটিকে অবৈধ ঘোষণা করে একটি বিশেষ কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন কমিটি করা হয়েছে। আবুল খায়ের খাজা বলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান এতদিন শ্রমিক দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। এছাড়া তাঁকে আন্তর্জাতিক খ্যাতিমান সম্পন্ন শ্রমিক নেতাও বলা হয়। অন্যদিকে আব্দুল্লাহ আল নোমান বিএনপির ভাইসচেয়ারম্যান। আর জাফরুল হাসান শ্রমিক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। তাঁদের কারণেই শ্রমিক দলের আজ এ অবস্থা।
শ্রমিক দলের বিদ্রোহীদের পাল্টা কমিটি ঘোষণার পর সংবাদ সম্মেলন করে এ কমিটি অবৈধ ও এখতিয়ার বহির্ভূত বলে দাবি করেছেন খালেদা জিয়ার অনুমোদিত শ্রমিক দলের সভাপতি মোঃ আনোয়ার হোসাইন। তিনি বলেন, এ ধরনের কমিটি ঘোষণা হতে পারে না।
বহু মিটিং-সিটিংয়ের পর ১৪ অক্টোবর বিএনপির সহযোগী সংগঠন ছাত্রদলের ২০১ সদস্যের নতুন কমিটি অনুমোদন করেন দলের চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। প্রকৃত ছাত্রদের বাদ দিয়ে সন্ত্রাসী, খুনী, মাদকব্যবসায়ী, অছাত্র ও আদুভাইদের নিয়ে এ কমিটি গঠন করায় ১৫ অক্টোবর থেকে নয়াপল্টন বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন করে পদবঞ্চিতরা। তারা বিএনপি কার্যালয়ে প্রবেশের সময় দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের বেশ ক’জন সিনিয়র নেতাকে ধাওয়া করে। সেইসঙ্গে বিএনপি নেতা শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী ও সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর কুশপুত্তলিকা দাহ করে। এছাড়া তারা বিএনপি কার্যালয়ে ভাংচুরের পাশাপাশি চতুর্থ তলায় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেয়। তাদের বাগে আনতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বেশ ক’জন বিএনপি নেতা দফায় দফায় বৈঠক করে ব্যর্থ হন। কিন্তু মির্জা আব্বাস বৈঠক করার পর ছাত্রদলের পদবঞ্চিতরা ২১ অক্টোবর তাদের বিক্ষোভ কর্মসূচী সাময়িক স্থগিত করে। তবে যে কোন সময় আবার ছাত্রদলের বিদ্রোহীরা ফুঁসে উঠতে পারে বলে খোদ বিএনপি নেতাকর্মীরাই আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।
সম্প্রতি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের জানান বিএনপি একটি বড় দল। এখানে নেতা হওয়ার মতো যোগ্য অনেকেই নেতৃত্বে আসতে চায়। তাই কমিটি গঠন করতে গেলে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা হয় এবং মাঝে মধ্যে সমস্যাও দেখা দেয়। তবে সময়মতো সব ঠিক হয়ে যাবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেন, বড় রাজনৈতিক দল হওয়ায় নানান মত ও পথের নেতাকর্মীরা সম্মিলন হয়। তাই নেতৃত্ব নিয়ে কখনও কখনও মতবিরোধ হয়।
জেএমবির প্রধান সমন্বয়ক আব্দুন নূর আটক
উচ্চ ক্ষমতার বোমা ও সরঞ্জাম উদ্ধার
স্টাফ রিপোর্টার ॥ দেশে বড় ধরনের নাশকতার মতো কর্মকাণ্ড করার সূদুরপ্রসারী পরিকল্পনা ছিল নিষিদ্ধ জঙ্গী সংগঠন জেএমবির। বিশেষ করে বর্তমান সরকারের প্রথম এক বছর পূর্তি সামনে রেখে রাজধানীসহ আশপাশের জেলায় আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণের পরিকল্পনাও ছিল। সেভাবেই তারা প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এ ছাড়া বাংলাভাই ও শায়খ আব্দুুর রহমানের ফাঁসির পর থেকেই দেশব্যাপী তছনছ হওয়া এ জঙ্গী সংগঠনকে চাঙ্গা করারও দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন সংগঠনটির আত্মগোপনে থাকা নেতৃবৃন্দ। জেএমবির প্রধান সমন্বয়কারী মোঃ আব্দুন নুর ও তার চার সহযোগীকে আটকের পর এ ধরনের তথ্যই পেয়েছে র‌্যাব। শুক্রবার ভোরে সিরাজগঞ্জ এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। এ সময় তারা চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে রেলযোগে জয়দেবপুরের দিকে আসছিলেন। র‌্যাব স্বীকার করেছে তাদের কাছে অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের পর জেএমবির সর্বশেষ অবস্থান সম্পর্কে প্রকৃত চিত্র পাওয়া যেতে পারে।
আটকের পর পরই তারা প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছে-বাংলাভাই ও শায়খ আব্দুর রহমানের ফাঁসির পর এক মুহূর্তও অলস বসে থাকেনি জেএমবি। কৌশলগত কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অন্যান্য জঙ্গী সংগঠনের সঙ্গে লিয়াজোঁ রেখে দিক নির্দেশনা দিয়ে আসছিল জেএমবির আত্মগোপনে থাকা নেতৃবৃন্দ।
র‌্যাব জানিয়েছে-মোঃ আব্দুন নূর এহসার সদস্য। তার সহযোগীরাও গায়েরে এহসার সদস্য। তারা বেশ দুর্ধর্ষ। যে সব সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়েছে সেগুলো বেশ মারাত্মক। এ ধরনের বোমা দিয়ে বড় ধরনের স্থাপনাতেও আঘাত করা যায়। আব্দুুন্ নূরের অন্য চার সহযোগী হচ্ছেন-নুর ইসলাম, মোঃ নূরুজ্জামান আরিফ গায়েরে, মোঃ আবুল কালাম আজাদ ও ফারুক আহম্মেদ এহসার।
আটককৃতদের কাছ থেকে ৪৯টি প্রাইমারি ডেটোনেটর, ২৬টি ইলেক্ট্রনিক ডেটোনেটর, ৪টি টাইম বোমা, ৩৫ গজ কর্ডেক্স ১০ কেজি পাওয়ার জেল, ১৫৫টি বিভিন্ন প্রকার সার্কিট, ৫৫টি জিহাদী বই, ৪৫টি বোতাম টাইপ সার্কিট, ৩টি ইগনাইটর, ১টি পাওয়ার রেগুলেটর উদ্ধার করা হয়। যার মধ্যে কয়েকটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বোমা ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম ছিল।
গ্রেফতারকৃত জেএমবি সদস্যদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেই অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে র‌্যাব। তার মধ্যে আব্দুন নূর মূলত বাংলাদেশে অবস্থান করে আত্মগোপনে থাকা জেএমবির আমির সোহেল মাহফুজের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতেন। এ সময় জেএমবিকে পুনরায় সংগঠিত করার জন্য নতুন সদস্যপদ সংগ্রহের চেষ্টা করতে থাকেন। এ ছাড়াও জেলখানায় অবস্থানরত জেএমবি শীর্ষ নেতার ও দেশের বাইরে আত্মগোপনে থাকা জেএমবির সক্রিয় সদস্যদের সঙ্গেও যোগাযোগ রক্ষা করতেন।
র‌্যাব জানিয়েছে- আব্দুন নূরকে পাকড়াও করার জন্য র‌্যাব দীর্ঘদিন ধরেই তৎপর ছিল। বিশেষ করে দেশের উত্তর পশ্চিম সীমান্ত এলাকায় তার বিচরণ ও অবস্থান সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য ছিল। সর্বশেষ তথ্য আসে- চাঁপাই নবাবগঞ্জ থেকে তিনি সহযোগীদের নিয়ে রেলযোগে জয়দেবপুরের দিকে আসছেন। সেভাবেই শুক্রবার রাত থেকেই র‌্যাবের বিশেষ টিম সেখানে অবস্থান নেয়।
গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ হাসান জানান-শুক্রবার রাত ৩টার দিকে সিরাজগঞ্জের একটি রেল স্টেশন থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। সে সময় তারা র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টাও করেন। আটকের পর পরই তাদের কাছ থেকে ‘উল্লেখযোগ্য পরিমাণ’ হাতে তৈরি বিস্ফোরক এবং বোমাতৈরির সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
এ সম্পর্কে আটককৃতরা আরও স্বীকার করেন- গ্রেফতার আতঙ্কে বোমা ও বোমা তৈরির সরঞ্জামসহ তারা চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে জয়দেবপুরের দিকে আসছিল। রাজধানীসহ আশপাশের যে কোন এলাকায় রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগে বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নাশকতা সৃষ্টির পরিকল্পনা ছিল তাদের। মূলত তারা যে একেবারে নির্মূল হয়ে যায়নি দেশবাসীর কাছে এ ম্যাসেজ পাঠানোই ছিল তাদের টার্গেট।
এদিকে তাদের ঢাকায় আনার পর পরই সন্ধ্যায় র‌্যাব সদর দফতরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পরিচালক মুফতি মাহমুদ হাসান জানান-আটককৃতদের কাছ থেকে যে সব বোমা উদ্ধার করা হয়েছে তা খুবই শক্তিশালী ও উচচ ক্ষমতাসম্পন্ন। এখানে সার্কিটগুলো খুলে রাখা হয়েছে । তবে বোমাতে এখনও বিশ্ফোরক আছে। বোমাগুলোতে ডিলে টাইম মেকানিজম ব্যবহার করা হয়েছে।
আটককৃতদের মধ্যে কারও কারও মৃত্যুদ- ও যাবজ্জীবন হয়েছে। কেউ কেউ বিভিন্ন মেয়াদের কারাভোগও করেছে। তাদের বিরুদ্বে কিছু মামলা এখনও বিচারাধীন। এছাড়াও কিছু সদস্য জামিনেও বের হয়ে আত্মগোপন করে আছে। যার ফলে সাংগঠনিকভাবে পূর্বের মতো সারাদেশে একযোগে নাশকতা সৃষ্টি করাসহ পরিকল্পিতভাবে কোথাও বোমা বিস্ফোরণ সক্ষমতা না থাকলেও যারা জেলখানার বাইরে আছে তাদের তৎপরতা কিন্তু একদম বন্ধ হয়ে যায়। তবে র‌্যাবের কঠোর গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযানের ফলে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা পুনরায় সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা চালিয়েও বার বার ব্যর্থ হয়েছে এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে আটক হয়েছে। বিগত কয়েক বছরে একমাত্র ত্রিশাল জঙ্গী ছিনতাইয়ের ঘটনা ছাড়া কোথাও কোন নাশকতা সংঘটিত করতে পারেনি।
র‌্যাব আরও জানিয়েছে, আটককৃত আব্দুন নূর অতীতে কোথাও কোথাও অপারেশন চালিয়েছে সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তার অন্য সহযোগীরা কোথায় অবস্থান করছে সে ব্যাপারের র‌্যাবের তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়েছে।
মাজা ভাঙ্গা দলের ॥ হুমকিতে ভয় পায় না আওয়ামী লীগ ॥ মায়া
স্টাফ রিপোর্টার ॥ বিএনপিকে ‘মাজা ভাঙ্গা দল’ হিসেবে আখ্যায়িত করে নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম বলেছেন, বিএনপি এখন মাজা ভাঙ্গা দলে পরিণত হয়েছে। দলটির এখন আর মাজার জোর নেই। আর মাজা ভাঙ্গা দলের হুমকিতে আওয়ামী লীগ ভয় পায় না।
শুক্রবার বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ আয়োজিত যৌথসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। আগামী ৩ নবেম্বর জেলহত্যা দিবস উপলক্ষে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের জনসভা সফল করতেই স্বেচ্ছাসেবক লীগ এই যৌথসভার আয়োজন করে।
মায়া আরও বলেন, রাজধানী ঢাকা যার ক্ষমতাও তার। এটা কিন্তু বুঝতে হবে। গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগেও তারা (বিএনপি-জামায়াত) কিন্তু ঢাকা দখল করতে পারেনি। ঢাকা দখলের ক্ষমতা বিএনপির আগেও ছিল না, আগামীতেও হবে না। তাই আগামীতেও রাজধানী ঢাকাকে রাজনৈতিকভাবে দখলে রাখতে দলের প্রত্যেক নেতাকর্মীর মধ্যে ইস্পাত কঠিন ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।
জামায়াত প্রসঙ্গে মন্ত্রী আরও বলেন, মাজা ভাঙ্গা বিএনপির জোটবন্ধু জামায়াতে ইসলামীও নির্জীব হয়ে যাচ্ছে। একটা একটা করে রাজাকার শিরোমণিদের ফাঁসি হবে, জামায়াত আরও নির্জীব হয়ে যাবে। তবে জামায়াত-শিবিরের কিছু সন্ত্রাসী আছে। এসব সন্ত্রাসীকে চিরতরে ধ্বংস করতে হবে।
যৌথসভায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সংগঠনের সভাপতি মোল্লা মোঃ আবু কাওছারের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক পংকজ দেবনাথ এমপি প্রমুখ।
নারায়ণগঞ্জে ট্রাক চাপায় মা-মেয়ের মৃত্যু ॥ ট্রাকে আগুন, বিক্ষোভ
ধাওয়া পাল্টাধাওয়া, পুলিশসহ আহত পাঁচ ॥ অন্যত্র নিহত ৬
জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ নারায়ণগঞ্জ শহরের নবাব সলিমুল্লাহ সড়কের মিশনপাড়া এলাকায় ট্রাকচাপায় মা ও মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত হয়েছে অপর মেয়ে অর্পিতা। তাকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে শহরের খানপুরে ৩শ’ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী এক ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে এবং ট্রাকটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে বিক্ষুব্ধ লোকজনের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় দুই পুলিশসহ আহত হয় কমপক্ষে পাঁচজন। এছাড়া দেশের অন্যত্র সড়ক দুর্ঘটনায় ছয়জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে রাজশাহীতে ট্রাকের ধাক্কায় মাদ্রাসা শিক্ষক, সিরাজগঞ্জে ট্রাকচালক, নীলফামারীতে বৃদ্ধা, লালমনিরহাটে ট্রাকের ধাক্কায় শিশু এবং চট্টগ্রামে এক যুবক নিহত হয়। শুক্রবার দুর্ঘটনায় এসব হতাহতের ঘটনা ঘটে।
নারায়ণগঞ্জে ট্রাকচাপায় নিহতরা হলো শহরের চাষাঢ়া ৩৬ নং বালুর মাঠ এলাকার ব্যবসায়ী গোলাম সারোয়ারের স্ত্রী পিয়ারী আক্তার শিরিন (৩২) ও তার ছয় বছরের মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস জয়িতা। আহত হয় তাদের বড় মেয়ে মর্গ্যান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্রী অর্পিতা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, বেলা পৌনে ১১টার দিকে রিকশাযোগে পিয়ারী আক্তার শিরিন ও তার দুই মেয়ে অর্পিতা ও জয়িতাকে নিয়ে রিকশাযোগে খানপুর যাওয়ার পথে নগরের মিশনপাড়া এলাকায় গম বোঝাই একটি ট্রাক পেছন থেকে তাদের রিকশাকে ধাক্কা দেয়। এতে রিকশাটি উল্টে যায় এবং রিকশা আরোহী শিরিন ও তার ছোট মেয়ে জয়িতা নিচে পড়ে গেলে ট্রাকের পেছনের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। বড় মেয়ে অর্পিতা ও রিকশাচালক গুরুতর আহত হয়। আশপাশের লোকজন অর্পিতা ও রিকশাচালককে উদ্ধার করে শহরের খানপুরে অবস্থিত ৩শ’ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করে।
এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সড়ক অবরোধ করে এবং ঘাতক ট্রাকটিতে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলে এলাকাবাসীর সঙ্গে ধাওয়া- পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জে দুই পুলিশসহ আহত হয় কমপক্ষে পাঁচজন। বিক্ষুব্ধ লোকজন দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ট্রাকচালকের বিচার দাবি করেন।
নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুর কাদের জানান, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ট্রাকচালক পালিয়ে গেছে। তবে তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
রাজশাহীতে মাদ্রাসা শিক্ষক নিহত ॥ রাজশাহী নগরীতে ট্রাকের ধাক্কায় আব্দুর রহমান (২৮) নামে এক মাদ্রাসা শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে নগরীর উপকণ্ঠ বিমানবন্দর এলাকায় রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আব্দুর রহমান নগরীর নওদাপাড়া ট্রাক ট্রার্মিনাল এলাকার একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করতেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে মোটরসাইকেলযোগে আব্দুর রহমান বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বেপরোয়া গতির ট্রাক তাঁকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
সিরাজগঞ্জে ট্রাকচালক নিহত ॥ শুক্রবার সকালে বগুড়া-নগরবাড়ী মহাসড়কের সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার রয়হাট্টি এলাকায় তিনটি ট্রাকের সংঘর্ষে ফারুক হোসেন (২৫) নামে এক ট্রাকচালক নিহত ও অন্তত তিনজন গুরুতর আহত হয়েছে। আহতদের বগুড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়লে যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়ে।
হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানা সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে একটি কয়লাবোঝাই ট্রাক বগুড়া যাচ্ছিল। ট্রাকটি শুক্রবার সকাল আটটার দিকে রয়হাট্টি এলাকায় পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা অপর একটি মালবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এর কিছুক্ষণ পর ভুইয়াগাঁতী থেকে সিরাজগঞ্জমুখী ইটবোঝাই আরও একটি ট্রাক দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাক দুইটিকে ধাক্কা মারে। এতে ঘটনাস্থলেই ইটবোঝাই ট্রাকের ডাইভার ফারুক নিহত হয় ও অপর তিনজন আহত হয়।
নীলফামারীতে বৃদ্ধা নিহত ॥ ব্যাটারিচালিত যাত্রীবাহী অটোর ধাক্কায় শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে নীলফামারীর কিশোরীগঞ্জ উপজেলা শহরের বাগাগিলি ব্রিজ থেকে নদীতে ছিটকে পড়ে ৭৫ বছরের এক বৃদ্ধা ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। উপজেলার বাহাগিলি ঘাটেরপাড় গ্রামের মৃত বদর উদ্দিনের স্ত্রী কাচুমাই নামের ওই বৃদ্ধা ভ্যানযোগে রাজিব গ্রামের মেয়ের জামাইয়ের বাড়িতে বেড়াতে যাচ্ছিলেন। এ সময় বাগাগিলি ব্রিজের ওপর বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অটো ওই ভ্যানটিকে ধাক্কা দিলে ভ্যান আরোহী ওই বৃদ্ধা যমুনেশ্বরী নদীতে ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন। অটোচালক মাজেদুল ইসলামকে (৩৫) আটক এবং লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
লালমনিরহাটে শিশু নিহত ॥ শুক্রবার বেলা ১১টায় পাটগ্রাম উপজেলার ৮ নং বুড়িমারী ইউনিয়নের কামারহাট খাতাপাড়ায় রোকন হোসেন (৬) নামে এক শিশু চলন্ত ট্রাকের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছে। সে খাতাপাড়া গ্রামের সাফিউল ইসলামের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, শুক্রবার বেলা ১১টায় পাটগ্রাম-বুড়িমারী আঞ্চলিক সড়কের কামারহাট খাতাপাড়ায় রাস্তা পারাপারের সময় বুড়িমারী স্থলবন্দরগামী একটি ট্রাক রোকনকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায় সে। চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছে। ট্রাকটি আটক করা হয়েছে।
মীরসরাইয়ে যুবক নিহত ॥ স্টাফ রিপোর্টার চট্টগ্রাম অফিস থেকে জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মীরসরাই উপজেলার বারৈয়ারহাট বাজার এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও একজন। শুক্রবার ভোর ৪টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
জোরারগঞ্জ থানা সূত্রে জানা যায়, নিহত সম্রাট বেপারী (২৫) মাদারীপুর জেলার কাসার থানার পশ্চিম মাইজ গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ছিলেন একটি গাড়ির হেলপার। চট্টগ্রামমুখী একটি যাত্রীবাহী বাস সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে যাত্রী ও বক্স থেকে যাত্রীর মালামাল নামাচ্ছিল। এ সময় পেছন থেকে আসা অজ্ঞাত একটি কাভার্ডভ্যান বাসটিকে ধাক্কা দিলে বাসটির হেলপার ও এক যাত্রী রক্তাক্ত জখম হন। উপস্থিত লোকজন তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বাসের হেলপারকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত যাত্রীর পরিচয় জানা যায়নি।
বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ১॥ শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রাম-বান্দরবান সড়কের কেরানীহাট নিকটবর্তী হলুদিয়া এলাকায় বিপরীতমুখী বাস-ট্রাক সংঘর্ষে ট্রাক চালক নিহত হন। আহত হয়েছেন আরও ২ জন। নিহত ট্রাকচালক গফুরের বাড়ির নিকটবর্তী সাতকানিয়ায় বলে জানা গেছে। ফেরদৌস এবং মাহমুদুর রহমান নামে আরও দু’জন আহত হন।
বিএসইসি ভবনে ফের অগ্নিকাণ্ড
কেউ হতাহত হয়নি, ১১ তলা থেকে সূত্রপাত
স্টাফ রিপোর্টার ॥ আবারও রাজধানীর কাওরানবাজার বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল অধিদফতর (বিএসইসি) ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। অগ্নিকাণ্ডের সময় বেশকিছু মানুষ ভবনে আটকা পড়লেও কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তাদের নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। প্রায় আড়াই ঘণ্টার চেষ্টায় ফায়ার সার্ভিসের ২০টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
এগার তলা ভবনটির শেষ তলায় থাকা দৈনিক আমার দেশ পত্রিকা অফিসে আগুন লাগে। আগুনে বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়। এমন ঘটনায় আমার দেশ পত্রিকার অনলাইন সংস্করণ, ভবনটিতে অবস্থিত বেসরকারী টেলিভিশন চ্যানেল এনটিভি ছয় ঘণ্টা পর সম্প্রচার চালু করে। কিন্তু রাত আটটা পর্যন্ত আরটিভি সম্প্রচার চালু করতে পারেনি। তবে দ্রুত চালুর চেষ্টা চলছে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি রহস্যময় ও পরিকল্পিত নাশকতা বলে সংবাদ মাধ্যম তিনটির তরফ থেকে দাবি করা হয়েছে। তবে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও ঘটনার সময় বৈদ্যুতিক কাজ করা আমার দেশ পত্রিকার বিদ্যুত বিভাগের এক কর্মকর্তা ও ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তাদের ধারণা, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটার সম্ভবনা সবচেয়ে বেশি। ঘটনা তদন্তে বিএসইসি কর্তৃপক্ষ ও ফায়ার সার্ভিসের তরফ থেকে ৫ সদস্যবিশিষ্ট পৃথক দুইটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি শুক্রবার থেকেই তদন্ত শুরু করেছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী আমির হোসেন আমু ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং এ ব্যাপারে সার্বিক পর্যালোচনা চলছে বলে সাংবাদিকদের জানান। মন্ত্রী ছাড়াও ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহমেদ খান, বিএসইসির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী ইমতিয়াজ হোসেন চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
শুক্রবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে রাজধানীর কাওরানবাজার কাজী নজরুল ইসলাম এ্যাভিনিউয়ের ১০২ নম্বর ১১ তলা বিএসইসি ভবনের এসার তলায় আগুন লাগে। এসার তলায় দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার অফিসের স্টোররুম থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে আমার দেশ পত্রিকার বিদ্যুত বিভাগের কর্মকর্তা ও ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা। তাদের ধারণা বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট হয়ে ফ্লোরে আগুন লাগতে পারে। ফায়ার সার্ভিসের ২০টি ইউনিট প্রায় আড়াই ঘণ্টার চেষ্টায় দুপুর দুইটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
জানা গেছে, ভবনটিতে বহু অফিস রয়েছে। হিরো হোন্ডা, এটলাস বাংলাদেশ লিমিটেড, বিএসইসি অফিস, এবি (আরব বাংলাদেশ) ব্যাংক, বেসরকারী টেলিভিশন চ্যানেল এনটিভি, আরটিভি ছাড়াও ভবনটির এসার তলায় দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার অফিস। পত্রিকাটির অনলাইন সংস্করণ বের হচ্ছিল। ফ্লোরটি বিএসইসি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ভাড়া নিয়ে অফিস স্থাপন করেছিল আমার দেশ। পত্রিকা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভাড়ার মোটা অঙ্কের টাকা বাকি পড়ে। এ নিয়ে দেনদরবার চলছিল। গত সেপ্টেম্বরেই আমার দেশ পত্রিকার অফিস স্থানান্তরের কথা ছিল। কিন্তু বকেয়া পরিশোধ করতে না পারায় দেরি হয়। তারপরও অফিসের আসবাবপত্র গোছগাছের কাজ চলছিল। ১৫ দিন আগে আমার দেশ পত্রিকার ৩৫টি এসিসহ বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি খোলা হয়। মাত্র ৮টি এসি ভবনটির নিচ তলায় নামানো হয়েছিল। বাকিগুলো উপরেই ছিল। তবে এসব এসিতে কোন বৈদ্যুতিক সংযোগ ছিল না।
গত ২২ অক্টোবর আমার দেশ পত্রিকার যাবতীয় মালামাল সরিয়ে নেয়ার কথা ছিল। পত্রিকাটির অনলাইন সংস্করণের অফিসের জন্য রাজধানীর গুলশান নিকেতনের ১ নম্বর সড়কের এ ব্লকের ৩৯/এ নম্বর বাড়ির একটি ফ্লোর ভাড়া করা হয়েছে।
নবেম্বর মাস থেকেই সেখানেই অফিস চালু করার কথা ছিল। বন্ধ থাকা দৈনিক আমার দেশের নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, পত্রিকা অফিসটির জায়গা বিএসইসি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ভাড়া নেয়া। পত্রিকা বন্ধ হওয়ার কারণে ভাড়া বাবদ বিএসইসি কর্তৃপক্ষের কাছে প্রচুর ঋণ ছিল। গত বৃহস্পতিবার রাতে বিষয়টি বিএসইসি কর্র্তৃপক্ষের সঙ্গে সমঝোতা হয়। সমস্ত পাওনা পরিশোধ করে দেয়া হয়েছে। এরপর থেকেই চূড়ান্তভাবে যাবতীয় মালামাল সরানোর কাজ চলছিল। এরইমধ্যে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে। এটি পরিকল্পিত নাশকতা। আগুন তাদের ১১ বছরের বহু মূল্যবান কাগজপত্র, ডকুমেন্ট ছাড়াও ১১০টি কম্পিউটার ও ৩৫টি এসি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ক্ষতির পরিমাণ অন্তত কয়েক কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এর সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া দরকার। তিনি সরকারসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে এর ক্ষতিপূরণ দাবি করেন।
আমার দেশ পত্রিকার বিদ্যুত বিভাগের কর্মকর্তা আহমদ আলী বলেন, পাওনা মিটানোর পর ভবন থেকে যাবতীয় মালামাল নামানোর কাজ শুরু হয়। সকাল ১০টা থেকে তারা ১০ জন যাবতীয় মালামাল নামানোর কাজ শুরু করেন। এর মধ্যে ৫ জন গুলশান থেকে আসে। আর আমরা ৫ জন আমার দেশ পত্রিকার স্টাফ। গুলশান থেকে আসা ৫ জনকে আমি চিনি না। আমি ছাড়াও আমার দেশ পত্রিকার স্টাফ পারভেজ, স্টোরকিপার মোহসীন, ক্লিনার তরল দাস, পিয়ন আব্বাস আলী ও নিরাপত্তা প্রহরী মাসুদও মালামাল সরানোর কাজে সহযোগিতা করছিল।
বেলা সোয়া ১১টার দিকে ভবনটির পূর্বদিকের কোনার স্টোর রুমের সিলিংয়ের উপরের দিকে শর্টসার্কিটের আওয়াজ শুনি। বিষয়টি তেমন আমলে না নিয়ে আমার কাজ করছিলাম। মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই স্টোর রুম থেকে ধোয়া বের হতে থাকে। স্টোর রুম তালা দেয়া ছিল। স্টোর রুমের তালা খুলতে খুলতেই মুর্হূতেই ধোঁয়া পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
তারা দ্রুত ভবনে থাকা অগ্নিনির্বাপক সিলিন্ডার থেকে গ্যাস ছাড়তে থাকেন। তারা সবাই মিলে চেষ্টা করেও আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে পারছিলেন না। এ সময় তারা ফায়ার সার্ভিসে ফোন করে দৌড়ে নিচে নামতে থাকেন। কয়েকজন অবশ্যই লিফট দিয়েই নিচে নেমেছেন। তিনি দৌড়ে নামার সময় ভবনের যেসব ফ্লোরের অফিস খোলা ছিল সেইসব ফ্লোরে চিৎকার করে আগুন লেগেছে বলে জানায়। ওই সময় ভবনটির চতুর্থ তলায় এনটিভির কন্ফারেন্স রুমে স্কীল ডেভেলপমেন্ট নামের একটি ওয়ার্কশপ চলছিল। দ্বিতীয় সেশনে দৈনিক মানব জমিন পত্রিকার সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরীর বক্তব্য দেয়ার কথা ছিল। এমন খবর শুনে সবাই সিঁড়ি দিয়ে দৌড়ে নিচে নামেন।
আলী আহমেদের দাবি, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট হয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে। ভবনে কাগজসহ কাঠের জিনিসপত্র থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে যায়। শুক্রবার থাকায় এনটিভি, আরটিভি আর আমার দেশ পত্রিকা ব্যতীত প্রায় সব অফিসই বন্ধ ছিল। সব মিলিয়ে ভবনে প্রায় আড়াইশ’ থেকে তিনশ’ মানুষের অবস্থান ছিল। তবে এসার তলায় মাত্র ১২ থেকে ১৩ জন ছিল।
ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার কর্মীরা জানান, মাত্র ৭ মিনিটের মধ্যে ফায়ার সার্ভিসের ২০টি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে হাজির হয়। তারা ভবনের সামনে দুইটি সুউচ্চ মই স্থাপন করে। এ দুইটি মই দিয়ে ২৩ তলা ভবনের ছাদের আগুন পর্যন্ত নেভানো সম্ভব। পাশাপাশি এসব মই দিয়ে সুউচ্চ ভবনে আটকাপড়া মানুষদের উদ্ধার করা হয়ে থাকে। এদের সঙ্গে যোগ দেয় বসুন্ধরা গ্রুপের ফায়ার সার্ভিসের ২৫ জন কর্মী ও তাদের অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রপাতি। বেলা সাড়ে ১১টার মধ্যে পুরো এসার তলায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিস ভবনটির চারদিক থেকে ভবনটি পানি ছিটাতে থাকে। ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহমেদ খান জানান, ফায়ার সার্ভিস খবর পাওয়ার ৭ মিনিটের মধ্যেই ঘটনাস্থলে হাজির হয়। ২০টি ইউনিট কাজ করে। আগুন লাগার পর স্বাভাবিক কারণেই ভবনের ভেতরের সব বৈদ্যুতিক ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় কর্তৃপক্ষ। এমন পরিস্থিতিতে সার্চ লাইট জ্বালিয়ে অক্সিজেন মাস্ক নিয়ে ফায়ার সার্ভিসের একশ’ উদ্ধারকারী ভবনটিতে অভিযান শুরু করে। ভবনে বেশকিছু লোক আটকা পড়েছিল। তবে এসার তলায় কোন লোক আটকা পড়েনি। বেশির ভাগই ভবনটির নীচতলা থেকে শুরু করে ৮ তলা পর্যন্ত আটকা পড়েছিলেন। এদের প্রায় সবাই ভয়ে আর ধোঁয়ার কারণে বিভিন্ন সিঁড়ির গোড়ায় আটকা ছিলেন। তাদের ফায়ার সার্ভিস আধঘণ্টার মধ্যেই উদ্ধার করেন। কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ভবনটির আগুন এগার তলা থেকে নিচে নামতে পারেনি। কারণ প্রথমেই পানি ছিটিয়ে ১০ তলায় পর্যাপ্ত পানি জমিয়ে দেয়া হয়েছে। পুরো ভবনে ৭টি মোটা পাইপ দিয়ে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি দেয়া হয়। পানি ভবনের বিভিন্ন ফ্লোরে আটকে থাকায় আগুন আর নিচে নামতে পারেনি। তবে ধোঁয়ায় অনেকটাই আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিল ভবনটি। পানির ছিটানোর কারণে ভবনের সামনের দিকের কিছু কাঁচ ভেঙ্গে পড়ে। দুপুর ২টায় আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরুপণের চেষ্টা চলছে। ভবনটিতে ফায়ার সার্ভিসের প্রয়োজনীয় পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতির অভাব থাকার বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশনস) মেজর মাহবুবুর রহমান জানান, ঘটনা তদন্তে ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক শেখ মিজানুর রহমানকে প্রধান করে ৫ সদস্যবিশিষ্ট গঠিত তদন্ত কমিটিকে দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিএসইসি চেয়ারম্যান প্রকৌশলী ইমতিয়াজ হোসেন চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ২০০৭ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি ভয়াবহ অগ্নিকা-ের ৩ জনের মৃত্যুর পর গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশ মোতাবেক ভবনটিতে অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হয়েছে। তারপরও কি কারণে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটতে পারে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনা তদন্তে বিএসইসির পরিচালক (অর্থ) সৈয়দ মোজাম্মেল হককে প্রধান করে ৫ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছে। যে ফ্লোরে আগুন লেগেছে সেই ফ্লোরটি ব্যবহারের উপযোগী কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন বিষয়টি বিশেষজ্ঞদের পরীক্ষা- নিরীক্ষার পর মতামতের উপর নির্ভর করছে। বেসরকারী এনটিভির চেয়ারম্যান মোসাদ্দেক আলী ফালু বলেন, ঘটনাটি রহস্যময়। ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঘটনাস্থলে যান। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত সাংবাদিকদের সান্ত¡না দেন। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি রহস্যময়। ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন তিনি।
সপ্তাহজুড়ে উত্তেজনা
০ মীর কাশেম আলীর রায় কাল
০ কামারুজ্জামানের আপীল বিভাগের রায় হতে পারে এ সপ্তাহে
০ সন্ত্রাসের প্রস্তুতি শিবিরের
০ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তসিল
বিকাশ দত্ত ॥ আগামী সপ্তাহ হবে ঘটনাবহুল সপ্তাহ। মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আগামীকাল রবিবার আলবদর কমান্ডার মীর কাশেম আলীর রায় ঘোষণার পর পরই রায় হতে পারে আপীল বিভাগে। এখানে প্রথমেই রয়েছে সিএভি থাকা জামায়াত নেতা মোহাম্মদ কামারুজ্জামানের মামলাটি। তাই আপীল বিভাগের তার রায়টি হবার সম্ভাবনা বেশি। কারণ, আপীল বিভাগে অন্য দুটি মামলা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর এখনও শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়নি। সাধারণত আপীল বিভাগে যদি ট্রাইব্যুনালের দেয়া দণ্ড বহাল রেখেই রায় দেন, তারপরেই দ্রুত তা বাস্তবায়িত হয়ে থাকে। এর আগে দেখা গেছে, কাদের মোল্লার রায় যেদিন ঘোষণা করা হয় ওই রাতেই তার রায় বাস্তবায়িত হয়। সে হিসেবে কামারুজ্জামানের ক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনালের রায় বহাল থাকলে এ সপ্তাহেই সেটা বাস্তবায়িত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। কারণ আপীল বিভাগে এ রায় ঘোষণার পর রিভিউর কোন সুযোগ নেই। এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, ট্রাইব্যুনালের দণ্ড আপীল বিভাগ রাখলে তার ওপর রিভিউ চলবে না। যারা বিচারের মুখোমুখি এখন তাদের ট্রাইব্যুনালের রায় এবং আপীল বিভাগের রায় বিশেষ আইনী ব্যবস্থায়ই চলছে। এই ক্ষেত্রে অপরাপর আইনের মতো রিভিউ করা অথবা অনুকম্পায় যাওয়ার কোন আইনগত সুযোগ নেই। এদিকে নিজামীর মৃতুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর জামায়াত বৃহস্পতি, রবি ও সোমবারের ৭২ ঘণ্টা হরতালের ডাক দিয়েছে। ইতোমধ্যে বৃহস্পতিবার পার হয়েছে। মীর কাশেম ও আপীল বিভাগের রায়কে ঘিরে তাদের বুধ ও বৃহস্পতিবার হরতালের কর্মসূচী দেয়ার চিন্তাভাবনা আছে বলে জানা গেছে। হরতালের মধ্যে রেললাইনে আক্রমণসহ বড় ধরনের নাশকতার চেষ্টা চালাবে শিবির। প্রতিশোধ নেয়ার অঙ্গীকার করে দেশজুড়ে শিবির ক্যাডারদের প্রস্তুত হতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে জামায়াত-শিবির দেশের কোথাও কোন ধরনের নাশকতামূলক কর্মকা- চালাতে না পারে সেজন্য সারাদেশেই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে সতর্কাবস্থায় থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে দলটির হাইকমান্ড থেকে। এরই মধ্যে অরাজকতা সৃষ্টির জন্য জামায়াতের ৪/৫ শ’ কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার অব্যাহত থাকলে তারা গ্রেফতার এড়াতে প্রতিবেশী দেশ ভারতের পশ্চিম বাংলায় আশ্রয় নিতে পারে। একই সঙ্গে ভারতে থাকা জঙ্গীদের এই সুযোগে এ দেশে প্রবেশ করার সম্ভাবনা রয়েছে। জামায়াতের হরতালের সময় আওয়ামী লীগ মাঠে থাকবে। বিএনপি মৌন সমর্থন দিলেও প্রকাশ্যে থাকছে না। শেষের দিকে তারা কী করবে এখনও অস্পষ্ট। এদিকে জঙ্গীদের হুমকির কারণে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ খবর জানা গেছে।
অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রপ্রতিন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, যারা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় নিয়ে অরাজকতা সৃষ্টি করবে তাদের কঠোর হস্তে দমন করা হবে। পাশাপািশ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হত্যার হুমকির জন্য তাঁর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হচ্ছে।
মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আলবদর বাহিনীর প্রধান মতিউর রহমান নিজামীকে ট্রাইব্যুাল মৃত্যুদণ্ড প্রদান করার পর জামায়াতে ইসলামী ৭২ ঘণ্টার হরতালের ডাক দেয়। ইতোমধ্যে রবিবার জামায়াত নেতা মীর কাশেম আলীর বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ দিন ধার্য করেছে। পাশাপাশি এই রায়ের পর আপীল বিভাগ থেকে আরও একটি রায় আসার সম্ভাবনা রয়েছে। সেদিক থেকে জামায়াত আরও দুদিন হরতালের চিন্তাভাবনা করছে বলে বিভিন্ন পত্রপত্রিকার খবরে জানা গেছে। মঙ্গলবার পবিত্র আশুরার ছুটি। যদি বুধ ও বৃহস্পতিবার হরতাল দেয়, তাহলে সপ্তাহজুড়ে দেশে থাকবে অস্থিরতা। আর এই হরতালকে কেন্দ্র করে নানা ধরনের অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা রয়েছে। জামায়াতের হরতালে বিএনপির মৌন সমর্থন রয়েছে। যেহেতু জামায়াত ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক দল সে কারণে জামায়াতকে খুশি করতে তারা মৌন সমর্থন দেবে। তবে প্রকাশ্যে রাস্তায় নামবে না। জামায়াত চেষ্টা করে যাবে তাদের নামাতে।
হরতাল ও এত রায়, রায় কার্যকর আর এর বিরুদ্ধে জামায়াতের সন্ত্রাস- এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জনকণ্ঠকে বলেছেন, আমাদের ব্যাপক প্রস্তুতি আছে। জামায়াত যদি হরতালের নামে অরাজকতা সৃষ্টি করে তাহলে তাদের কঠোর থেকে কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। আমরা তাদের মাঠে নামতে দিচ্ছি না। আগামীতেও নামতে দেব না। কোনভাবেই ছাড় দেয়া হবে না। আমাদের বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ আছে।
পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে যাতে তারা সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে চলে যেতে পারে, আবার এই সুযোগে ভারতে অবস্থানরত জঙ্গীরা এখানে এসে হামলা করে তাহলে সীমান্ত সিল করে দেয়া হবে কি না- এর উত্তরে স্বরাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বর্ডার সিল করাই আছে। তবে এত বড় বর্ডারের কোন ফাঁক দিয়ে যাতে আসতে না পারে সে জন্য আমাদের প্রস্তুতি আছে। গোয়েন্দারা সজাগ আছে। তিনি আরও বলেন, জঙ্গীদের ধরতে টাস্কফোর্স গঠন করাটা আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়া। দু’ দেশের স্বার্থের জন্য গোয়েন্দারা কাজ করে যাচ্ছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার হুমকি দেয়ার বিষয়ে সরকার যথেষ্ট সজাগ আছে। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিষয়টি আরও জোরদার করা হচ্ছে। গোয়েন্দারা নজরদারি রাখছে। নিরাপত্তার বিষয়ে আমাদের খেয়াল আছে।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ একটি অনুষ্ঠানে বলেছেন, জামায়াতকে রাজনৈতিক দল হিসেবে বিবেচনা করার কোন যৌক্তিকতা নেই। জামায়াত ইতোমধ্যে নিজেদের জঙ্গী সংগঠন হিসেবে পরিচিত করেছে। এই সন্ত্রাসী বা জঙ্গী সংগঠনকে নিষিদ্ধ করার দাবি এখন সাধারণ মানুষের। বর্তমান সরকার দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য দেশের আইন শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য যতটুকু যা করা দরকার তা করে যাচ্ছে।
আইনজীবী ও সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ বলেছেন, মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের সময় ডিফেন্স পক্ষের আইনজীবী থাকেন তারপরেও তারা হরতাল ডাকে। এই হরতাল ডাকাটাও আদালত অবমাননার শামিল। পশ্চিমবঙ্গে যে সমস্ত জঙ্গী অবস্থান করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে হামলার পরিকল্পনা করছে তাদের বিরুদ্ধে টাস্কফোর্স গঠন করে যৌথভাবে অভিযান চালানো দরকার।
জঙ্গীদের হামলার হুমকি প্রসঙ্গে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহরিয়ার কবির জনকণ্ঠকে বলেছেন, এটা পরিষ্কার জামায়াত পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেসকে ব্যবহার করে সেখানে ঘাঁটি গেড়েছে। তাদের টার্গেট প্রধানমন্ত্রী। জামায়াতের টার্গেট দিল্লী নয়। যেহেতু তারা উত্তর-পূর্ব ভারতের সন্ত্রাসী দলগুলোর সঙ্গে যুক্ত। বাংলাদেশের নিরাপত্তা বিচ্ছিন্ন নয়। জঙ্গী মৌলবাদী সন্ত্রাসীর ক্ষেত্রে ভারত এবং বাংলাদেশকে একযোগে কাজ করতে হবে। প্রয়োজন হলে টাস্কফোর্স গঠন করতে হবে। তাদের দক্ষিণ এশিয়া থেকে নির্মূল করতে হবে। আমরা চাই অবিলম্বে বিজিবি ও বিএসএফ সীমান্ত সিল করে দেয়া দরকার। বৈঠক করে দুদেশের গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য বিনিময় এবং সম্মিলিত অভিযান চালানো প্রয়োজন। আঞ্চলিক টাস্কফোর্সে প্রতিবেশী দেশ ভুটান, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা, বার্মাকে যুক্ত করা।
অন্যদিকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দণ্ডপ্রাপ্তদের চূড়ান্ত বিচারিক থেকে দণ্ড কার্যকর করার বিষয়ে প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলী বলেছেন, একটি পয়েন্টে রিভিউ হয় না। কাদের মোল্লার বিষয়ে রিভিউ গ্রান্ড হয়নি। প্রত্যেক কেসে আলাদা আলাদা ম্যারিট থাকে। আপীল বিভাগ যদি কোন আসামিকে সর্বোচ্চ দণ্ড বহাল রাখে তাহলে দণ্ড কার্যকর করতে সময় লাগবে না।
জামায়াতের প্রস্ততি ॥ একাত্তরের ঘাতক নিজামীর পর আগামীকাল আরেক জামায়াত নেতা আলবদর মীর কাশেম আলীর রায়। একদিন পর সোমবারই হতে পারে আপীল বিভাগে আরেকটি রায়। আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের রায়কে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে জামায়াত-শিবিরের তাণ্ডব দমাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতি যেমন আছে তেমনি টানা হরতাল দিয়ে নাশকতার ছক কষছে জামায়াতীরাও। জানা গেছে, নিজামীর ফাঁসির রায়ের প্রতিবাদে সোমবার তিনদিনের হরতাল শেষ হতেই বুধ ও বৃহস্পতিবার দেয়া হবে আবার হরতাল। হরতালের মধ্যে রেললাইনে আক্রমণসহ বড় ধরনের নাশবকতার চেষ্টা চালাবে শিবির। প্রতিশোধ নেয়ার অঙ্গীকার করে দেশজুড়ে শিবির ক্যাডারদের প্রস্তুত হতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
দলের নীতিনির্ধারকরা এ বিষয়ে ইতোমধ্যেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী মঙ্গলবার পবিত্র আশুরার সরকারী ছুটি। জামায়াতের কারণে সপ্তাহের অবশিষ্ট চারটি কর্মদিবসই পড়তে যাচ্ছে হরতালের খপ্পরে। রবিবার কাশেম আলীকে দোষী সাব্যস্ত করা হলে সঙ্গে সঙ্গেই বুধ ও বৃহস্পতিবার হরতাল কর্মসূচী দেবে জামায়াত। সোমবার কামারুজ্জামানের রায় দেয়া হলে পরিস্থিতি অনুযায়ী দেয়া হবে কর্মসূচী। জামায়াত নেতা হলেও কাশেম আলী ও কামারুজ্জামান দুজনই শিবিরের সাবেক সভাপতি হওয়ায় বড় ধরনের তাণ্ডব চালানোর পরিকল্পনা করছে শিবির। দক্ষিণাঞ্চলের একটি উপজেলার ভাইস-চেয়ারম্যান ও ঢাকা মহানগর জামায়াতের এক কর্মপরিষদ সদস্য রীতিমতো সরকারকে হুমকি দিয়েই বললেন, মীর কাশেমের সাজা হলে বুধ ও বৃহস্পতিবারও হরতাল থাকবে। সারা দেশের শিবিরকর্মীদের নিয়ে তারা বড় ধরনের সন্ত্রাস ও নাশকতার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় আওয়ামী লীগ ॥ যেকোন ধরনের নাশকতা ও সংঘাত মোকাবেলায় সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় আওয়ামী লীগ বলে জানিয়েছেন তাঁদের নেতারা। আগামী এক সপ্তাহে মীর কাশেম আলীর রায়ের পর আপীল বিভাগে আরেকটি রায় হবার সম্ভাবনা রয়েছে। যুদ্ধাপরাধীর রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আদালত কর্তৃক সন্ত্রাসী দল হিসেবে ঘোষিত জামায়াত-শিবির দেশের কোথাও কোন ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড যাতে চালাতে না পারে সেজন্য সারাদেশেই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে সতর্কাবস্থায় থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে দলটির হাইকমান্ড থেকে।
দলটির একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শীর্ষ যুদ্ধাপরাধী মীর কাশেম আলীর রায় রবিবার ঘোষণা করা হবে। এর পর আপীল বিভাগের এম কামারুজ্জামানের রায় হবার সম্ভাবনা রয়েছে। রায় ঘোষণার পর জামায়াত-শিবির ও কিছু উগ্র সাম্প্রদায়িক সংগঠন দেশের বিভিন্নস্থানে নাশকতা চালাতে পারে। এমন আশঙ্কা থেকেই যেকোন ধরনের বিশৃঙ্খলা রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলার প্রস্তুতি নিয়েছে আওয়ামী লীগ। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আগামী রবিবার থেকেই রাজধানীর প্রতিটি থানা ও ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ ও তার সকল সহযোগী সংগঠন জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সতর্ক প্রহরায় থাকবে।
জানা গেছে, জামায়াত-শিবিরের যেকোন ধরনের অশুভ তৎপরতা বা নাশকতার চেষ্টা শক্তহাতে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি চলছে সরকার ও আওয়ামী লীগে বলে তারা জানিয়েছে।