মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৪, ৯ অগ্রহায়ন ১৪২১
অস্ট্রেলিয়াতেও আগ্রাসী কোহলি
চার টেস্টের সিরিজ খেলতে অস্ট্রেলিয়ার পথে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভারত
স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ মাঠ ও মাঠের বাইরে সমান আগ্রাসী বিরাট কোহলি। দু’দিন আগে প্রকাশ্যে বলেছিলেন, ‘হ্যাঁ, আনুশকার সঙ্গে সম্পর্ক আছে, তো কি হয়েছে?’ অনেকটা ঘোষণা দিয়ে শ্রীলঙ্কাকে ওয়ানডেতে উড়িয়ে দিয়েছেন ৫-০ ব্যবধানে! মহেন্দ্র সিং ধোনির অনুপস্থিতিতে অস্ট্রেলিয়া সফরে চার টেস্টের প্রথমটিতেও অধিনায়ক তিনি। বিশ্বকাপের আগে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের জন্য যা কঠিন চ্যালেঞ্জ। এমনিতে ভারতীয়দের জন্য অস্ট্রেলিয়া সফরের ইতিহাসটা কেবলই ব্যর্থতার! তবু নিজের স্টাইলে হুঙ্কার ছুড়েছেন ক্রেজি কোহলি। সোমবার দেশ ছাড়ার আগে স্থানীয় মিডিয়াকে বলেছেন, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অস্ট্রেলিয়াকে হারানো সম্ভব। জয় ছাড়া আর কিছু ভাবছেন না তিনি।
‘এই মুহূর্তে দলের দৃষ্টিভঙ্গি দারুণ পজিটিভ। আমরা আক্রমণাত্মক মনোভাব নিয়েই অস্ট্রেলিয়াকে মোকাবেলা করতে চাই। আগ্রাসন বিষয়টাকে দলের মজ্জায় গেঁথে দিতে চাইছি! এটা মনে রাখতে হবে যে, ছয় মাসের মধ্যেই যেন ব্যাপারটা বদলে না যায়। মানসিকভাবে প্রতিটি মুহূর্ত চাঙ্গা থাকতে হবে। গতবার অস্ট্রেলিয়া সফর থেকে অনেক কিছুই শিখেছি। এবার যারা প্রথমবারের মতো যাচ্ছে তাঁদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা ভাগ করতে চাই। পজেটিভ মানসিকতা নিয়ে এগোতে হবে, তবেই ভাল ফল আসবে। আশা করছি বিশ্বকাপের আগে এই সফর থেকে আমরা দারুণভাবে উপকৃত হতে পাব।’ ভারতীয় ক্রিকেটে নতুন এক ‘নিষ্ঠুরতা’র আমদানি করেছেন ‘ক্যাপ্টেন হট কোহলি’। ধারাবাহিক ঔদ্ধত্যে লঙ্কানদের গুড়িয়ে দেয়ার পর তাঁকে এখন এই নামেই ডাকা হচ্ছে!
ইনজুরি থেকে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে না ওঠায় ওই সিরিজে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন কোহলি। ব্যাট হাতে, অধিনায়কের বাহুবন্ধনে ‘সুপার হিরো’ ছিলেন তার নিজেরই মতো। বিশ্বকাপ সামনে রেখে ঝুঁকি নিতে চাইছে না ভারত। আঙুলের চোটে ভোগা ধোনিকে তাই আরও কিছুদিন বিশ্রামে রাখা হবে। ৪ ডিসেম্বর ব্রিসবেনের প্রথম টেস্টে নেতৃত্ব দেবেন কোহলিই। আভিজাত্যের সাদা পোশাকে অধিনায়ক হিসেবে অভিষেক হবে ‘সেনসেশনাল ব্যাটসম্যানের’। গোটা ভারতই অন্যরকম এক রোমাঞ্চে ভাসছে। সাবেক গ্রেট সুনিল গাভাস্কার, সৌরভ গাঙ্গুলী প্রকাশ্যে বলেছেন, ‘টেস্টে অধিনায়ক’ কোহলিকে দেখতে মুখিয়ে তাঁরা। অস্ট্রেলিয়ার বাউন্সি উইকেটে প্রতিপক্ষ দ্রুতগতির বোলারদের বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে সফরকারী ব্যাটসম্যানদের।
এটাকেও ইতিবাচকভাবে দেখা কোহলি বলেন, ‘ওদের নিজেদের মাঠে ওদের হারানোর ভাল সুযোগ রয়েছে। কঠিন হলেও অতীতে আমরা তা করে দেখিয়েছি। এবার দারুণ সুযোগ। আমাদের দলে চারজন বিশ্বমানের পেসার রয়েছে, যারা ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটারের বেশি বেগে বল করতে পারে। এটা বিশাল এ্যাডভান্টেজ, যে কোন ক্যাপ্টেনের জন্য আশীর্বাদ।’ কোহলির কাছে এই সফর অনেকের ক্যারিয়ারের জন্য হতে পাড়ে বড় প্রাপ্তি। ‘অস্ট্রেলিয়ার মতো উইকেটে প্র্যাকটিস করার সুযোগ পাওয়া বড় ব্যাপার। যাঁরা একাদশের বাইরে থাকবে, তাদের এই সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। যাতে কেউ চোটে পড়লে জায়গাটা পূরণ করতে দেশ থেকে কাউকে ডাকতে না হয়।’ ডিরেক্টর রবিশাস্ত্রীর প্রশংসা করে কোহলি আরও বলেন, ‘শাস্ত্রীর উপস্থিতি খুবই ইতিবাচক। যখন একজন তরুণ ওকে কথা বলতে দেখেবে, এটা সরাসরি তার ওপর প্রভাব ফেলবে।’



মোহামেডানের হার

প্রিমিয়ার ক্রিকেট

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ পরাজয়ের বৃত্ত ভেঙ্গে বেরোতেই পারছে না ওল্ড ডিওএইচএস। ওয়ালটন রেফ্রিজারেটর ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লীগে টানা চতুর্থ পরাজয় বরণ করেছে তারা। বিকেএসপির চার নম্বর মাঠে সহজেই তাদের ৪১ রানে হারিয়ে তৃতীয় জয় তুলে নিয়েছে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব। বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে জায়ান্ট কিলার পারটেক্স স্পোর্টিং ক্লাবকে ৭১ রানের বড় ব্যবধানে পরাস্ত করেছে কলাবাগান ক্রীড়া চক্র (কেসি)। তবে আবার হেরেছে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব লিমিটেড। ফতুল্লায় তাদের ৭৯ রানের বড় ব্যবধানে বিধ্বস্ত করেছে কলাবাগান ক্রিকেট একাডেমি (কেসিএ)। প্রথম ব্যাট করে কেসিএ অমিত কুমার ও নাঈম ইসলামের ভয়ঙ্কর বোলিংয়ে ৩৬.৪ ওভারে মাত্র ১৪৩ রানেই গুটিয়ে যাই। অধিনায়ক মাহমুদুল হাসান ৮৮ বলে ৬ চারে সর্বোচ্চ ৫৯ রান করেন। অমিত ২৭ রানে চারটি আর নাঈম ৩১ রানে তিনটি উইকেট নেন। জবাবে মাহমুদুলের বোলিং তোপে চরম বিপর্যয়ে পড়া মোহামেডান ২৬.৪ ওভারে মাত্র ৬৪ রানেই মুখ থুবড়ে পড়ে। মাহমুদুল ২৭ রানে নেন ৫ উইকেট। মোহামেডানের কোন ব্যাটসম্যানই দুই অঙ্কের কোটা ছুঁতে পারেননি। অতিরিক্ত খাতে সর্বোচ্চ ২২ রান হয়েছে।
বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে কলাবাগান কেসি শামসুর রহমানের ৮১ বলে ১২ চার ও ২ ছক্কায় করা ৮২ রানের সুবাদে ৬ উইকেটে ২৩৯ রান তোলে। জবাবে পারটেক্স ৪৮.২ ওভারে ১৬৮ রানে গুটিয়ে যায়। সর্বোচ্চ ৪৫ রান করেন শফিউল ইসলাম। ২২ রানে তিন উইকেট নেন রকিইবুল হাসান। বিকেএসপির চার নম্বর মাঠে প্রাইম ব্যাংক প্রথম ব্যাট করে ৪৯.৩ ওভারে ২৪১ রানে গুটিয়ে যায়। সৈকত আলী ১০৯ বলে ৬ চার ও ৫ ছক্কায় ৯০ এবং তৈয়বুর পারভেজ ৭৯ বলে ৪ চার ও ১ ছক্কায় ৫৬ রান করেন। জবাবে মোহাম্মদ সজীবের ৫৬ বলে ৭ চার ও ২ ছক্কায় ৫৭ রান করলেও অন্যদের ব্যর্থতায় ৪৩ ওভারে ২০০ রানে গুটিয়ে যায়। ৩২ রানে তিন উইকেট নেন তাপস।

ফেদেরারের হার ডেভিস কাপে
স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ডেভিস কাপ ফাইনালের শুরুতেই হোঁচট খেয়েছেন সুজারল্যান্ডের তারকা রজার ফেদেরার। ডেভিস কাপে নিজের সবচেয়ে বাজে ম্যাচটা খেলেছেন তিনি শুক্রবার মোনাকোয়। ১৭ গ্র্যান্ডসøাম জয়ী বিশ্বের দুই নম্বর এ সুইস তারকা ফরাসী তারকা গায়েল মনফিলসের কাছে সরাসরি ৬-১, ৬-৪ ও ৬-৩ সেটে হেরে যান। অবশ্য আরেক সুইস স্টানিসলাস ওয়াওরিঙ্কা জিতে ফ্রান্সের সঙ্গে ১-১ সমতায় আছে সুইজারল্যান্ড।

কমিশনার গোল্ডকাপ ফুটবল
নিজস্ব সংবাদদাতা, নোয়াখালী ॥ চট্টগ্রাম বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার ব্যবস্থাপনায় ও নোয়াখালী জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহযোগিতায় ১১টি জেলা ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় দলের অংশগ্রহণে নোয়াখালীতে শুরু হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার গোল্ডকাপ ফুটবল। শনিবার বিকেলে নোয়াখালী শহীদ ভুলু স্টেডিয়ামে মনোমুগ্ধকর অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল্যাহ। প্রতিযোগিতার পৃষ্ঠাপোষক সাংসদ একরামুল করিম চৌধুরী। উদ্বোধনী খেলায় নোয়াখালী জেলা দল ১-০ গোলে লক্ষ্মীপুর জেলা দলকে পরাজিত করে।
পার্থক্য গড়ে দিচ্ছেন সাকিবই
অভিমত মাশরাফির
মিথুন আশরাফ, চট্টগ্রাম থেকে ॥ জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে একের পর এক ম্যাচ খেলছে বাংলাদেশ। আর জিতেই চলেছে। টানা তিন টেস্টে জিতে জিম্বাবুইয়েকে হোয়াইটওয়াশ করার পর পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতেও জিতেছে বাংলাদেশ। বছরে প্রথম ওয়ানডে জয় হয়েছে। প্রতিটি ম্যাচেই পার্থক্য গড়ে দিচ্ছেন এক সাকিব আল হাসানই। জিম্বাবুইয়ে এক সাকিবের কাছেই হেরে যাচ্ছে। সাকিব ব্যাটিংয়ে নামলে জিম্বাবুইয়ে বোলাররা যেন ছন্নছাড়া হয়ে পড়ছেন। আবার সাকিব বোলিংয়ে আসলে যেন জিম্বাবুইয়ে ব্যাটসম্যানদের থরথর কাঁপন শুরু হয়ে যাচ্ছে। আর তাই তো আজ দ্বিতীয় ওয়ানডেতে নামার আগে পার্থক্য যে শুধুই সাকিব হয়ে উঠেছেন সেই ইঙ্গিতও দিয়ে দিলেন বাংলাদেশ ওয়ানডে দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজাই, ‘আসলে পুরো ম্যাচটা সাকিব একাই খেলছে।’ সাংবাদিকদের সঙ্গে মাশরাফির কথোপকথনের সারসংক্ষেপ এখানে তুলে ধরা হলো।
* এখন সিরিজের উদ্দেশ্য-
মাশরাফি বিন মর্তুজা ॥ উদ্দেশ্য তো একটাই ছিল, আমরা সিরিজ খেলতে আসছি জিততে আসছি। অধিনায়কত্বের বিষয়টা বললে আমারও যতটুকু ভাল লাগছে, প্রত্যেকটা খেলোয়াড়েরই ভাল লাগছে। একটা পর্যায়ে আমাদের ম্যাচটা (প্রথম ওয়ানডে) একটু কঠিন হয়ে গিয়েছিল। ৩০-৩১ রানে ৩ উইকেট পড়ে গিয়েছিল। ওই সময়ে প্রথমে মুমিনুল তারপর মুশফিক এবং সাকিবের অনেক বড় একটা জুটিতে আমরা এমন জায়গায় পৌঁছে গিয়েছিলাম। ম্যাচটা মোটামুটি আমাদের হাতে চলে এসেছিল। বোলিং শুরুতে আমরা ভাল করতে পারিনি। আবার সাকিব এসে ম্যাচটা আমাদের হাতে নিয়ে এসেছে। আসলে পুরো ম্যাচটা ও একাই খেলেছে। বিশেষ করে মুশফিকের কথা বলতে হয়। সাব্বির রহমান রুম্মনের কথাও বলতে হয়। তো সব মিলিয়ে আসলে ভাল লাগছে।
* দেশের সেরা অধিনায়ক-
মাশরাফি ॥ অর্ধেক কাজ তো সাকিবই করে দিয়ে গেছে। সুতরাং সফল অধিনায়কের কোন বিষয় এখানে নেই।
* শিশির ফ্যাক্টর-
মাশরাফি ॥ চিন্তার কারণ এখনও বলব। ম্যাচটা মনে হয় একঘণ্টা এগিয়ে নিয়ে আসা হবে। আমরা খুব ভাগ্যবান, প্রথম ওয়ানডেতে শিশির ওই রকম পড়েনি। স্পিনাররা বল করতে পারছিল। শিশির পড়লেও বলটা শুকিয়ে যাচ্ছিল। শিশিরটা ওই রকমভাবে স্পিনারদের বিরক্ত করেনি। কিন্তু এটা নিয়ে ভয় আছেই।
* খেলোয়াড়দের মোটিভেট-
মাশরাফি ॥ এটা তো অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সাকিব ৪ উইকেট নিয়েছে, আরেকদিক থেকে তো একজনকে ভাল বোলিং করতে হবে। সাকিব সেঞ্চুরি করেছে, ওইপাশ থেকে মুশফিক ভাল ব্যাটিং করেছে। সাব্বির ফিনিস করেছে। বোলিংয়েও সাকিব ব্রেকথ্রু দিয়েছে; তখন রিয়াদ এসে ভাল বোলিং করেছে। কেউ না কেউ এসে তো ভাল বোলিং করতে হবে। রিয়াদের বিচিত্র্যটা খুব ভাল লেগেছে ও বোলিংটাকে ইতিবাচকভাবে নিয়েছে এবং এজন্য সে দশ ওভার বোলিং করেছে। ওর স্পেলটা ভাল ছিল, খুব ভাল লেগেছে। এটাই করতে হবে আসলে ম্যাচ জিততে গেলে একজন অসাধারণ পারফর্মেন্স করে তার সঙ্গে সহযোগিতার জন্য কাউকে পারফর্মেন্স করতেই হয়।
* রিল্যাক্স-
মাশরাফি ॥ এটার কোন সুযোগও নেই। একটা ম্যাচ জিতে তো সিরিজ জিতে যাইনি। সিরিজ যদি জিততে পারি ইনশাল্লাহ ৫ ম্যাচের আগেই, সেক্ষেত্রেও রিলাক্স হব মনে হয় না। এটলিস্ট এই লেভেলে এসে উচিতও না। আর আমার মনেও হয় না কারও মাথায় এটা আছে। হয়ত বা কখনও কখনও হয় একজন খেলোয়াড়কে বিশ্রাম দেয়া হতে পারে। এটা ভিন্ন ব্যাপার। কিন্তু যারা খেলবে একাদশে, থাকবে; তাদের রিলাক্স হওয়ার সুযোগ নেই।
* আরাফাত সানি এবং রুম্মন-
মাশরাফি ॥ সানি ধরেন এই লেভেলে কিছু ক্রিকেট খেলেছে। আমার ওর প্রতি একটা আত্মবিশ্বাস ছিল ওই্ সময়। ওর (সানি) যে বোলিং, আমি সব সময় জানি ও (সানি) যেখানে খেলে, জাতীয় লীগেও স্ট্যাম্প টু স্ট্যাম্প বোলিং করে, জায়গায় বোলিং করে। জিম্বাবুইয়ে যেহেতু স্পিনে দুর্বল, আমার আত্মবিশ্বাস ছিল সানি ভাল করবে, সেটা শিশির থাকলেও। বেসিক্যালি সাকিব তো একটু অন্য টাইপের বোলার, শিশির থাকলে সমস্যা হতে পারে। কিন্তু আমার কাছে মনে হয়েছিল ও (সানি) শিশির থাকলেও ভাল করবে। রুম্মনের কথা বললে বলব ওর অভিষেক ম্যাচ। ম্যাচটা ও ইতিবাচকভাবে নিয়েছে। ওই সময়ে মাত্র ৭ ওভার ছিল। ওই সময়ে ব্যাটিং নেমে এই রকম ইনিংস (২৫ বলে অপরাজিত ৪৪) খেলা কঠিন। খেলে ফেললে খুব ভাল। কিন্তু একটা নতুন খেলোয়াড় এসে খেলাটা খুব কঠিন। নিজেকে মানিয়ে নিয়ে সুন্দর একটা ইনিংস খেলেছে। এটা আমার খুব ভাল লেগেছে। আশা করি এটা ও ক্যারি করবে। এবং ওর আত্মবিশ্বাস বেড়ে যাবে।
* ২০১৪ সালে প্রথম জয়-
মাশরাফি ॥ আমরা প্রতিদিন মাঠে আসি জেতার জন্য। অনুশীলন করি জেতার জন্য। আমাদের কাজই এটা। এই বছর একটা জিতেছি। ইনশাল্লাহ যে কয়টা ম্যাচ আছে সব কয়টা জিততে পারলে আমাদের ভাল হবে। আমাদের কাজই এটা। এখানে রিল্যাক্স হওয়া কিংবা খুব বেশি ভারমুক্ত হওয়ার সুযোগ নেই। কাজ যেটা সেটাই শেষ করা উচিত।
মুক্তিযোদ্ধার পাশাপাশি রাজাকারের তালিকাও করা হবে ॥ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী
নিজস্ব সংবাদদাতা, গাজীপুর, ২২ নবেম্বর ॥ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, এ বছরের মধ্যেই প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রণয়নে যাচাই-বাছাইয়ের কাজ সম্পন্ন করা হবে। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রণয়নের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধবিরোধী আল বদর, আল শামস ও রাজাকারদেরও তালিকা প্রণয়ন করা হবে।
তিনি শনিবার দুপুরে গাজীপুর মহানগরের বোর্ডবাজারে স্থানীয় একটি কমিউিনিটি সেন্টারে বাংলাদেশ ইউনাইটেড ইসলামী পার্টি গাজীপুর জেলা শাখার কমিটি গঠন সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ ইউনাইটেড ইসলামী পার্টির চেয়ারম্যান মাওলানা মোঃ ইসমাইল হোসাইনের সভাপতিত্বে সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজমত উল্লা খান, ইসলামী পার্টির মহাসচিব মাওলানা মোঃ শরীফুর রহমান।

মুন্সীগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত চার আসামি গ্রেফতার
স্টাফ রিপোর্টার, মুন্সীগঞ্জ ॥ শুক্রবার গভীর রাতে ও শনিবার সকালে মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার সাজাপ্রাপ্ত পলাতক ৪ আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আটককৃতরা হলেন, স্থানীয় ফজুশাহ গ্রামের শেখ মৃত রাজ্জাক শেখের পুত্র বাবুল, চাষিরি সুবচনী গ্রামের আব্দুল মোতালেবের পুত্র রনি শেখ, হাটকান গ্রামের হাজী মোঃ আব্দুল বারেক মাদবরের পুত্র লিটন মাদবর ও হাসাইল গ্রামের মালেক শেখের পুত্র মোঃ জান্নাত মিয়া।

পাবনা সুগার মিলের এমডিকে উকিল নোটিস
স্টাফ রিপোর্টার, ঈশ্বরদী ॥ পাবনা চিনি মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে উকিল নোটিস দেয়া হয়েছে। চিনি মিলের দূষিত পানি সংরক্ষণের বাঁধ ভেঙ্গে ফসলী জমির ক্ষতি হওয়ার নয় মাসেও ক্ষতিপূরণ না পাওয়ায় কৃষকরা ক্ষিপ্ত হয়ে এই উকিল নোটিস দিয়েছে। উকিল নোটিসে উল্লেখ করা হয়েছে, ক্ষতিপূরণ না দেয়া হলে মিল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হবে। শনিবার সকালে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা সাংবাদিকদের জানায়, মিল কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতার কারণে নয় মাস আগে ২৩ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সোমবার আইনজীবী আসাদুজ্জামানের মাধ্যমে মিলের এমডিকে উকিল নোটিস দেয়া হয়েছে।

আজ থেকে ইবিতে ভর্তি পরীক্ষা
ইবি সংবাদদাতা ॥ আজ রবিবার থেকে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের অনার্স (সম্মান) প্রথমবর্ষে ভর্তি পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। আগামী ২৭ নবেম্বর বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চলবে। এ বছর ১৪শ’ ৬৫ আসনের বিপরীতে মোট ৮৭ হাজার ৩শ’ ১৬টি আবেদন জমা পড়েছে। প্রতি আসনের বিপরীতে লড়বে ৬০ জন শিক্ষার্থী। এবার ৮ ইউনিটের অধীনে ২২টি বিষয়ের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। আজ ‘এ’ ইউনিট ও ‘এইচ’ ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং আগমীকাল ‘বি’ ইউনিটের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
নারায়ণগঞ্জে সংঘর্ষে আহত ২০
স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ ॥ আড়াইহাজারে কেরাম বোর্ডে জুয়া খেলাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার ব্রাহ্মহ্মন্দী ইউনিয়নের নরসিংদী এলাকার সুরুজ মিয়ার ছেলে মহসিন নরসিংদী ব্রীজের পাশে কেরাম বোর্ডের জুয়ার আয়োজন করে। শনিবার সকালে জুয়া খেলা নিয়ে এলাকার আবুল কাশেম ও ওমর আলীর মধ্যে কথা কাটাকাটি হলে এক পর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষই দেশীয় ধারালো অস্ত্রশস্ত্র টেঁটা, বল্লম, দা, ছোরা, রড ও লাঠি নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালায়। ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। মারাত্মক আহতরা হলোÑ আনোয়ার হোসেন খান, ফাহিম হোসেন, কামালউদ্দিন, আবুল হোসেন, রতন মিয়া, কামরুননেছা, মহিবুর রহমান, মনির হোসেন, জুলহাস, শাজাহান, ইসমাইল হোসেন, আঃ ছোবান, শরীফ, কামাল হোসেন, ওমর আলী।
যশোরে যুবক খুন
স্টাফ রিপোর্টার যশোর অফিস থেকে জানান, ধান কাটা নিয়ে বিরোধের জের ধরে চাচাত ভাইয়ের লাঠির আঘাতে শিমুল হোসেন (২৫) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। শনিবার সকালে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। শিমুল মাগুরার শালিখা উপজেলার মনখালী গ্রামের শুকুর মোল্যার ছেলে। জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে স্থানীয় বৈখালী মাঠে ধান কাটতে যান শিমুল। এ সময় চাচাত ভাইয়ের নেতৃত্বে ৭/৮ জন তার ওপর হামলা করে।
তিতাসে সংঘর্ষের ঘটনায় চার গ্রাম পুরুষশূন্য ॥ লাশ দাফন
নিজস্ব সংবাদদাতা, দাউদকান্দি, ২২ নবেম্বর ॥ কুমিল্লার তিতাস উপজেলার কলাকান্দি বাজারসহ আশপাশের এলাকার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের বিবদমান দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় গোলাগুলির ঘটনায় নিহত ব্যবসায়ী সেন্টুর লাশ শনিবার বিকেলে কলাকান্দি গ্রামে দাফন করা হয়। পুলিশ আহত হওয়ার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে শতাধিক গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে মামলা করায় গ্রেফতার আতঙ্কে ৪ গ্রাম পুরুষশূন্য হয়ে পড়ে। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ জনকে গ্রেফতার করে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দুই পক্ষের সংষর্ষের ঘটনায় নিহত ব্যবসায়ীকে ময়নাতদন্ত শেষে শনিবার বিকেলে তার গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়। নিহতের স্ত্রী আয়েশা বেগম বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। অপরদিকে দুই পক্ষের সংষর্ষের সময় পুলিশ আহত হওয়ায় দুই পক্ষের শতাধিক এলাকাবাসীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এলাকাবাসীর বিরুদ্ধে মামলা হওয়ায় কলাকান্দি বাজারসহ, পোড়াকান্দি, হারাইকান্দি ও কালাচানকান্দি গ্রামগুলো পুরুষশূন্য হয়ে পড়ে। ভীতসন্ত্রস্ত নিরীহ সাধারণ মানুষ ভয়ে এলাকা ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে অন্যত্র চলে যাচ্ছে। এলাকা থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছে।
কুয়াকাটায় তিন নারীসহ পাঁচ পর্যটক সন্ত্রাসী হামলার শিকার
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলাপাড়া, ২২ নবেম্বর ॥ ফাতড়ার বনাঞ্চল থেকে ফেরারপথে চিহ্নিত একদল সন্ত্রাসীর হামলা-মারপিটে তিন নারীসহ কুয়াকাটায় বেড়াতে আসা পাঁচ পর্যটক জখম হয়েছে। এরা হচ্ছে- লিজা, চম্পা, নাজমা, ইব্রাহিম ও মিজান। এসময় তাদের শ্লীলতাহানি করা হয়। রশি দিয়ে বেঁধে জঙ্গলে নেয়ার চেষ্টা করা হয়। ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে টাকা-পয়সাসহ স্বর্ণালঙ্কার ও মোবাইল সেট। মৎস্যবন্দর মহিপুর সংলগ্ন খালগোড়ায় শুক্রবার সন্ধ্যার পরে ঘণ্টাব্যাপী হামলা-তান্ডবের শিকার হয় পর্যটক দল। কলাপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও মহিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক আকন্দের ছেলে সোহাগ আকন্দ, তার ফুফাত ভাই মামুন হাওলাদার, এদের সহযোগী ফজলু, নুরুল হক, ফেরদৌস, শাহিদ, সোহরাবসহ প্রায় কুড়ি জনের একটি সন্ত্রাসী চক্র পর্যটক দলের নারী-পুরুষ সদস্যদের ওপর হামলে পড়ে। ঘণ্টাব্যাপী এ তাণ্ডবে দিশাহারা হয়ে পড়ে আগতরা। পরে এরা মহিপুর পুলিশ তদন্দ কেন্দ্রের সদস্যদের সহায়তায় রক্ষা পায়। আহতদের প্রথমে মহিপুর স্বাস্থ্য ক্লিনিকে, পরে কলাপাড়া হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় শনিবার কলাপাড়া থানায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১২ জনকে আসামি করে একটি মামলা হয়েছে। পর্যটক দলের সদস্য চম্পা এ মামলাটি করেন।
চেয়ারম্যানের স্বেচ্ছাচারিতায় স্থলবন্দরের কর্মকর্তা কর্মচারীরা অতিষ্ঠ
স্টাফ রিপোর্টার, বেনাপোল ॥ বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ (বাস্থবক) এর চেয়ারম্যান মোঃ মোয়েজ্জদ্দীন আহমেদ এখন আকণ্ঠ দুর্নীতিতে নিমজ্জিত; এমনকি দলাদলি, কোন্দল, আঞ্চলিকতা সৃষ্টি করে তিনি স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মকাণ্ডে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি করেছেন। ফলে বন্দর কর্তৃপক্ষের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বিরাজ করছে তীব্র ক্ষোভ ও চরম হতাশা। যার পরিণতিতে দেশের স্থলবন্দরসমূহের সামগ্রিক কর্মকা-ে গতিহীনতা ও পশ্চাদমুখিতা দেখা দিয়েছে। প্রকৃতপক্ষে লোকটি বর্ণচোরা; যার গোপন সম্পর্ক রয়েছে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী ‘ক্রিমিনাল’ সংগঠন ‘জামায়াত’ এর সঙ্গে।
জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে চেয়ারম্যান পদে দায়িত্বপ্রাপ্ত এই জামায়াতপস্থী আমলা কাজ করে যাচ্ছেন দুর্দান্ত প্রভাবে। জামায়াতের শীর্ষস্থানীয় বর্তমান নেতৃত্বের সঙ্গে গোপন নিবিড় সম্পর্ক বজায় রেখে পর্দার অন্তরালে আওয়ামীপন্থীদের নিধন এবং স্থলবন্দরের ভবিষ্যত প্রজম্মকে আওয়ামীমুক্ত করার প্রত্যয় নিয়ে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। স্থলবন্দরের চেয়ারম্যান হিসেবে ২০১২ সালের ১৩ নবেম্বর যোগদানের পর আওয়ামীপন্থী এবং জামায়াত-বিএনপি পন্থী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পৃথক তালিকা তিনি প্রণয়ন করেন। এর কিছুদিন পরেই বিভিন্ন বন্দরে জামায়াত-বিএনপিপন্থী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তিনি এজেন্ট হিসাবে নিয়োগ দেন। বেনাপোল স্থলবন্দরে তার এজেন্ট হিসেবে কাজ করছেন বিএনপি নেতা বাবু গয়েশ্বর রায়ের আত্মীয় সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) পার্থ ঘোষ বলে অভিযোগ আছে। ছাত্র জীবনে জামালপুর জেলা ছাত্র শিবিরের দপ্তর সম্পাদক মেহেদি হোসেন এখন বেনাপোল বন্দরে ট্রাফিক পরিদর্শক। আর হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা (ভারপাপ্ত) আব্দুল হান্নান বিএনপির লোক। এদের অত্যাচারে সাধারণ কর্মচারীরা আজ অতিষ্ঠ। চেয়ারম্যানের আশ্রয় ও প্রশ্রয়ে আব্দুল হান্নান সব জায়গা থেকে কমিশন আদায়ের মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছেন। চেয়ারম্যান এগুলো জেনেও না জানার ভান করে আছেন। আব্দুল হান্নান নিজেও একজন অত্যাচারী হিসেবে সকল কর্মচারীর নিকট পরিচিত। এই দুবৃর্ত্ত কর্মচারী চক্রটির মাধ্যমে চেয়ারম্যান আওয়ামীপন্থীদের বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে সেগুলো পঁজি করে নাটক সাজিয়ে কারণ দর্শানো নোটিস, বিভিন্ন বিভাগীয় মামলা, সাময়িক বরখাস্ত এমনকি চাকরি হতে বরখাস্ত পর্যন্ত করে যাচ্ছেন। ভোমরা স্থলবন্দরে তিনি দু’জনের মাধ্যমে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে একইভাবে কাজ করছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন উপ-সহকারী প্রকৌশলী মেহেদী জোয়ার্র্দ্দার (ছাত্র জীবনে থানা ছাত্রদলের সহ-সম্পাদক ছিলেন) ও ওয়্যারহাউজ সুপারিনটেনডেন্ট মহিউদ্দিন হাওলাদার (যিনি বাগেরহাট জেলা ছাত্র শিবিরের প্রচার সম্পাদক ছিলেন)। প্রধান কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান আলী, এস্টেট অফিসার রেজাউল করীমকে তিনি তার অপকর্মের এজেন্ট নিয়োগ করেছেন। সর্বমোট ৭-৮ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে খুশি করে তাদের বিভিন্ন অবৈধ আয়ের পথ করে দিয়ে এই চেয়ারম্যান চরম স্বেচ্ছাচারিতায় মেতে উঠেছেন। সামান্য অভিযোগ দাঁড় করিয়েই তার এজেন্টদের সাক্ষী বানিয়ে আওয়ামীপন্থীদের নিধন করে যাচ্ছন এক এক করে। ইতোমধ্যে তার নিধন তালিকায় থাকা বেনাপোল বন্দরে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুত) আবু জায়ের কেরামত আলীকে তিনি চাকরিচ্যুত করেছেন। এই প্রকৌশলী ছাত্রজীবনে ঢাকা পলিটেকনিক্যাল কলেজের ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয়ের অডিটর জামাল উদ্দিন জীবনকে মিথ্যা অভিযোগ দাঁড় করিয়ে তার এজেন্টকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করে একধাপ নিচে নামিয়ে দিয়েছেন। যার এক মাত্র কারণ জামাল উদ্দিন (জীবন) ছাত্র জীবনে চট্টগ্রাম মহানগরীর ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক ছিলেন। বন্দরের অডিটর (ছাত্র জীবনে নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক) আলী আশরাফ কে জোর করে সোনামসজিদ স্থলবন্দরে পদ না থাকা সত্ত্বেও সেখানে বদলি করেছেন। তার এহেন কর্মকা- থেকে রেহাই পাননি নি¤œপদের অফিস সহায়ক কর্মচারীগণও বলে অভিযোগ আছে।
সূত্র বলেছে, বাগেরহাটের সন্তান এই আমলা ব্যক্তিটি পারিবারিক জীবনে দু’টি বিবাহ করেছেন। ছাত্রজীবনে সাতক্ষীরায় থাকা অবস্থায় তার ছাত্রীকে বিয়ে করেছেন। সেখানে তার দু’টি সন্তান রয়েছে। দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন বরিশালে; সেখানেও তার একটি মেয়ে রয়েছে। চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে এযাবত অফিস আদেশের বাইরে তিনি ৫ বার এবং অফিস আদেশ নিয়ে ৭ বার সাতক্ষীরায় অবস্থান করেছেন। জেলা সার্কিট হাউসের কথা বললেও তিনি অবস্থান করেন তার ১ম বিবাহিত স্ত্রীর পিতার বাড়িতে। লোকটির পারিবারিক জীবনেও নানাবিধ অসচ্ছতার অভিযোগ পাওয়া যায়।
জানা গেছে, বাংলাদেশ স্থলবন্দরের অধিকাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী তার অযাচিত নির্যাতনে আজ অতিষ্ঠ। বিষয়টি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট সকলেই অবগত রয়েছেন। স্থলবন্দরে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও চাচ্ছেন তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিসহ অপসারণ। ক্ষুব্ধ কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ এতই অতিষ্ঠ যে এই চেয়ারম্যানের দৌরাত্ম বন্ধ না হলে যে কোন সময় দেশের সকল স্থলবন্দরে একযোগে কার্যক্রম বন্ধের পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেন; যা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকা-কে স্থবির করে দিতে পারে। এই আশঙ্কা থেকে পরিত্রাণের জন্য দুর্নীতিবাজ চেয়ারম্যান মোয়েজ্জদ্দীনের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ক্ষুব্ধ কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ এই প্রতিবেদকের মাধ্যমে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাহজাহান খান এবং প্রধানমন্ত্রীর জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ প্রসঙ্গে, চেয়ারম্যান মোয়েজ্জদ্দীন আহমেদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগসমূহের বিষয়ে কথা হয় বেনাপোল স্থলবন্দর থেকে চাকরিচুত প্রকৌশলী আবু জাহের মোঃ কেরামত আলী সঙ্গে। তিনি সাংবাদিকদের কাছে টেলিফোনে জানান, আমার বিরুদ্ধে বেনাপোল স্থল বন্দরের একটি দূর্বৃত্ত চক্র পাতানো ষড়যন্ত্র করে আমাকে অন্যায়ভাবে অভিযুক্ত করে চেয়ারম্যানকে দিয়ে চাকরিচুত করেছেন। আমি বিশ্বাস করি চেয়ারম্যান সম্পূর্ণ তার দলাদলী আঞ্চলীকতা ও দূর্নীতি পরায়নাতার স্বার্থে এই অন্যায় কাজটি করেছেন। আমি ইতোমধ্যে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে গত অক্টোবরের ২৭ তারিখে হাইকোর্টে একটি রিটপিটিশন দায়ের করেছি। যা নিয়মিত মামলা হিসাবে গ্রহনের নিমিত্তে শোনানীর অপেক্ষায় রয়েছে। আসল কথা হলো মোয়েজ্জদ্দীন আহমেদ নামে এই লোকটি বিএনপি-জামায়াত রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। আমি মুক্তি যুদ্ধের স্বপক্ষের লোক আমি ছাত্র জীবনে ছাত্র লীগের নেতা ছিলাম এটাই আমার জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উত্থাপিত অভিযোগ সম্পর্কে চেয়ারম্যান মোয়েজ্জদ্দীন আহমেদ সাংবাদিকদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে আলাপকালে জানান, তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সম্পূর্ণ অসত্য। তিনি জামায়াতের সঙ্গে কোনভাবেই যুক্ত নন। ছাত্রজীবনেও কোন রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না। আসলে বন্দরের একটি দুর্নীতিবাজ চক্র যাদের বিরুদ্ধে আমি বিভিন্ন সময়ে সুনির্দিষ্ট ভিত্তিতে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি তারাই এ রকম মিথ্যা রটনা চালাচ্ছে সাংবাদিকদের কাছে। আঞ্চলিকতা ও দলাদলি তৈরি করার বিষয়টি সঠিক নয়।
ওবামার প্রতি ॥ রিপাবলিকানদের চ্যালেঞ্জ
অভিবাসন সংস্কার ঠেকাতে অর্থ বরাদ্দ না করার অঙ্গীকার
প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার মার্কিন অভিবাসন নীতির বিতর্কিত পরিবর্তন নিয়ে তাঁর সঙ্গে রিপাবলিকানদের রাজনৈতিক লড়াই তীব্র রূপ নিয়েছে। হোয়াইট হাউস এ অভিবাসন সংস্কারের পক্ষে আমেরিকান জনগণের সমর্থন আদায়ের জন্য জোর চেষ্টা চালানোর অঙ্গীকার করেছে, আর রিপাবলিকানরা এ সংস্কার সাধনের চেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়ার সঙ্কল্প ব্যক্ত করেছেন। আইনসভা কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের রিপাবলিকানরা ওবামার স্বাস্থ্যসেবা আইনকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে মামলা দায়েরও করেছেন। গ্র্যান্ড ওল্ড পার্টি (রিপাবলিকান) অভিবাসন প্রশ্নে প্রেসিডেন্টের নেয়া নির্বাহী ব্যবস্থার সমালোচনা করে চলেছে। আর প্রেসিডেন্ট দেশের ভেঙ্গে পড়া অভিবাসন ব্যবস্থাকে নতুন করে ঢেলে সাজাতে কংগ্রেসকে চাপ দিচ্ছেন। খবর ওয়াশিংটন পোস্ট ও নিউইয়র্ক টাইমস অনলাইনের।
ওবামা তাঁর অভিবাসন সংস্কারের পক্ষে জোর প্রচার শুরু করতে শুক্রবার নেভাডা অঙ্গরাজ্যের লাস ভেগাসে যান। সেখানে তিনি এ সংস্কারের বিরোধিতাকারী রিপাবলিকান সমালোচকদের ভর্ৎসনাও করেন। তিনি সেখানকার একটি স্কুলে ভাষণ দেয়ার সময় ৫০ লাখ কাগজপত্রহীন অভিবাসীকে বহিষ্কারের হাত থেকে রক্ষা করা উচিত বলে আমেরিকান জনগণকে বুঝানোর চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, আমরা এমন কোন জাতি নই যারা আমেরিকান স্বপ্নের ভাগী হতে চায় এমন উদ্যমী ও স্বপ্নদর্শী মানুষকে বের করে দেয়। আমরা বিশ্ব থেকে মুখ ঘুরিয়ে রাখতে স্ট্যাচু অব লিবার্টি নির্মাণ করিনি। এর আলো প্রজ্বলিত রাখতেই আমরা সেটি তৈরি করেছিলাম। দেশের ভেঙ্গে পড়া অভিবাসন সংস্কার করতে কংগ্রেসকে অবশ্যই ব্যবস্থা নিতে হবে। রাজধানী ওয়াশিংটনে রিপাাবলিকানরা তাঁদের আক্রমণ শুরু করেছেন। তাঁরা ঘোষণা করেন যে, প্রতিনিধি পরিষদের জিওপি ২০১০ সালের স্বাস্থ্যসেবা আইনের বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জ করে আদালতে এক মামলা দায়ের করেছে। তাঁরা ওবামার অভিবাসন নীতি পরিবর্তনের চেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়ারও অঙ্গীকার করেন। প্রতিনিধি পরিষদের স্পীকার জন এ বোয়েনার (রিপাবলিকান ওহাইও) বলেন, আমরা আমাদের সদস্যদের সঙ্গে কাজ করছি এবং আমাদের সামনে খোলা রয়েছে এমন সব উপায়ই বিবেচনা করছি, কিন্তু প্রতিনিধি পরিষদই ব্যবস্থা নেবে। রিপাবলিকানদের ভাষায় ওবামার ‘রাজকীয় প্রেসিডেন্সিয়াল শাসনের’ বিরুদ্ধে সমন্বিত প্রচার চালাতে গিয়ে বোয়েনার মামলা করার কথা ঘোষণা করেন। এর কয়েক মিনিট আগে তিনি অভিবাসন প্রশ্নে ওবামার নির্বাহী নির্দেশ জারির সমালোচনা করেন। মামলাটি ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়ার ইউএস ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে দায়ের করায় হয়। চার মাস আগে প্রতিনিধি পরিষদের রিপাবলিকান সদস্যরা মামলা দায়েরের প্রস্তাব অনুমোদন করেছিলেন। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কোন কোন রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটিতে তাঁর অভিবাসন সম্পর্কিত নির্দেশটিকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য চাপ দেন। তবে এর বদলে বোয়েনার ওবামার পরিকল্পনার বিরোধিতা করতে প্রতিনিধি পরিষদে পদক্ষেপ নেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, সংবিধান সমুন্নত রাখার বাধ্যবাধকতা প্রতিনিধি পরিষদের রয়েছে এবং ঠিক এ কারণেই আমরা এ কর্মপন্থা অনুসরণ করছি।
ওবামাও তাঁর পদক্ষেপের পক্ষে প্রচার অভিযান চালান। তিনি লাস ভেগাসের ঐ স্কুলে শ্রোতাদের উদ্দেশে বলেন, প্রায় দু’বছর আগে আমি এখানে বলেছিলাম, আমাদের ভেঙ্গে পড়া অভিবাসন ব্যবস্থার সংস্কার করার সময় এসেছে। তিনি যুক্তি দেখান যে, প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের নিষ্ক্রিয়তার কারণেই তিনি একতরফা পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছেন।
বালি প্যাকেজের অগ্রগতি সন্তোষজনক নয়
অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ ইন্দোনেশিয়ায় ঘোষিত বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার বালি প্যাকেজের অগ্রগতি সন্তোষজনক নয় বলে মনে করছে বেসরকারী গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি)। সংস্থাটির মতে, বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ নীতিমালা যথাযথভাবে প্রণয়ন না করায় সমঝোতায় বাংলাদেশসহ স্বল্পোন্নত দেশগুলোর অগ্রগতি হচ্ছে না।
শনিবার বিকেলে গুলশানে লেকশোর হোটেলে ‘রিক্যাবচারিং দ্যা মোমেনটাম ইন দ্যা পোস্ট-বালি প্রোসেস অব দ্যা ডব্লিউটিও’ শীর্ষ সেমিনারে সংস্থাটির পক্ষে এসব কথা বলেন ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। সেমিনারটি আয়োজন করে সিপিডি ফ্রিডরিস এ্যাবেট্রো স্টিটাং।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও বিশেষ কারণে তিনি সেমিনারে যোগ দিতে পারেননি।
ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রর মধ্যে খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ে যে আলোচনা হয়েছে, তাতে বালি প্যাকেজের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করবে বলে মনে হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) বিকল্প কিছু সংস্থা গড়ে উঠেছে। তার মাধ্যমেও স্বল্পোন্নত দেশগুলোর অগ্রগতি কিছুটা হলেও দেখা যাচ্ছে।’
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, এলডিসিভুক্ত ৪৯টি দেশের মধ্যে ৩৪টি দেশ বালি প্যাকেজে অংশগ্রহণ করেছে। এক বছরের মাথায় এর মধ্যে মাত্র আটটি দেশের সামন্য অগ্রগতি হয়েছে। সিপিডির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহানের সভাপতিত্বে সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন দেশী-বিদেশী অর্থনীতিবিদ ও বিভিন্ন গবেষণা সংস্থার প্রতিনিধিরা।
আখ সঙ্কটে ১৫ চিনি কলে লোকসানের আশঙ্কা
স্টাফ রিপোর্টার, ঈশ্বরদী ॥ ঈশ্বরদীর পাবনাসহ দেশের ১৫টি চিনি মিলে উৎপাদিত ৫শ’ ১৮ কোটি টাকা মূল্যমানের ১ লাখ ৪০ হাজার টন চিনি অবিক্রীত থাকার পরও নিজেদের ও দেশের স্বার্থে ২০১৪-১৫ মাড়াই মৌসুমের জন্য চাষীরা আখ চাষ করে বিপাকে পড়েছেন। সব মিলে চলতি মাড়াই মৌসুমে ১৪ লাখ ২০ হাজার ২শ’ ৯৩ টন আখ মাড়াইয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। সে মোতাবেক চাষীরা পাবনা চিনি মিল জোন এলাকায় ৫ হাজার ৯শ’ ৫৮ একর, নর্থ বেঙ্গল চিনি মিল জোন এলাকায় ২৮ হাজার ৪শ’ ২৬ একর, নাটোর চিনি মিল জোন এলাকায় ২০ হাজার ৫শ’ ১০ একর ও কুষ্টিয়া জগতি চিনি মিল জোন এলাকায় ৫৫ হাজার ২শ’ একর জমিতে আখ চাষ করেছেন। এ মৌসুমে আখের ফলনও ভাল হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মিলগুলোতে আখ মাড়াই শুরু না করায় ঋণগ্রস্ত চাষীরা অর্থনৈতিক সঙ্কটে পড়ে মারাত্মকভাবে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। তাঁরা বিপাকে পড়ে বাধ্য হয়েই অর্ধেক মূল্যে গুড় উৎপাদনকারীদের কাছে আখ বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে করে চাষীদের লাভ করাত দূরের কথা, এবার উৎপাদন খরচই উঠাতে পারবে না। ফলে ঋণ পরিশোধ করাও চাষীদের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে। ফলে মিলগুলো লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী চিনিও উৎপাদন করতে পারবে না। একইভাবে বছরের পর বছর লোকসান গুনতে থাকা পাবনা চিনি মিলসহ সব চিনি মিলকে আখ সঙ্কটে পড়ে মোটা অঙ্কের লোকসান গুনতে হবে। আখ চাষীদের দাবি দু-চারদিনের মধ্যেই মিলগুলোতে মাড়াই কাজ শুরু করতে হবে। এদিকে মিলগুলোতে এখনও মাড়াই কাজ শুরু না করায় চাষীরা বাধ্য হয়ে গুড় উৎপাদনকারীদের কাছে আখ বিক্রি করে দেয়ায় মিলগুলো চলতি মৌসুমে আখ সঙ্কটে পড়বেন। এ অবস্থা থেকে রক্ষা পাওয়া এবং দেশের স্বার্থে চিনি মিলগুলোকে রক্ষাকল্পে মিলগুলো শীঘ্রই চালু করে গুড় উৎপাদন সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করতে হবে। এসব বিষয়ে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প কর্পোরেশনের পরিচালক সিডিআর আজিজুর রহমান জানান, চাষীরা যেমন অর্থাভাবে কম মূল্যে আখ বিক্রি করে দিচ্ছে, কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষও চাষীদের সুবিধার্থে মণপ্রতি সত্তর টাকার আখের মূল্য বাড়িয়ে একশ’ টাকা নির্ধারণ করেছে। আখ সঙ্কটের সম্ভাবনা আছে স্বীকার করে তিনি বলেন, গুড় তৈরি বন্ধের জন্য প্রত্যেক মিল এলাকার ডিসি, এসপিসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে গ্রেজেড দিয়ে গুড় উৎপাদন বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে।
মধ্যম আয়ের দেশ হতে এসএমইকে অগ্রাধিকার
অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩০ শতাংশই ক্ষুদ্র এসএমইর অবদান উল্লেখ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের গবর্নর ড. আতিউর রহমান বলেছেন, মধ্য আয়ের দেশে রূপান্তরিত হতে এমএসএমই হচ্ছে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার খাত। তিনি বলেন, বাংলাদেশে বেসরকারী উদ্যোক্তাদের ৯৯ শতাংশই ক্ষুদ্র এসএমই। কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ক্ষুদ্র এসএমইর অবদান ২৫ শতাংশ এবং প্রাতিষ্ঠানিক চাকরির ৮০ শতাংশই আসে এ খাত থেকে। শনিবার রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারস, বাংলাদেশ (আইডিইবি) ভবনে আয়োজিত ‘এসএমই উন্নয়ন : কার্যকরী এসএমই এ্যাসোসিয়েশনের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
যৌথভাবে সেমিনারটির আয়োজন করে বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম), আইডিইবি, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (ডিসিসিআই), সিরডাপ, আরডিএ (বগুড়া), বাংলাদেশ উইম্যান চেম্বার অব কমার্স (বিডব্লিওসিসিআই), বেসিক ব্যাংক লিমিটেড এবং আইডিএলসি ফাইন্যান্স লিমিটেড। বিআইবিএম’র মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহম্মদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআইর সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ ও ভারতীয় হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার সন্দীপ চক্রবর্তী। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইএমএসএমই অব ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান রাজীব চাওলা।
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গবর্নর বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ক্ষুদ্র এসএমই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বর্তমান বিশ্বে প্রবৃদ্ধির প্রধান চালক বেসরকারী খাত। আর বেসরকারী উদ্যোগের অধিকাংশই ক্ষুদ্র এসএমই। বাংলাদেশে বেসরকরী উদ্যোক্তাদের ৯৯ শতাংশই ক্ষুদ্র এসএমই। জিডিপিতে ক্ষুদ্র এসএমই’র অবদান ৩০ শতাংশ। কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ক্ষুদ্র এসএমই’র অবদান ২৫ শতাংশ এবং প্রাতিষ্ঠানিক চাকরির ৮০ শতাংশই আসে ক্ষুদ্র এসএমই থেকে। ড. আতিউর রহমান বলেন, ক্ষুদ্র এসএমই শহর ও গ্রামের আয় বৈষম্য দূর করতে এবং ইনক্লুসিভ প্রবৃদ্ধিতে মুখ্য ভূমিকা রাখে। এটি সত্য যে, বাংলাদেশের মতো দেশে ইনক্লুসিভ প্রবৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব একমাত্র ভাইব্রেন্ট এসএমই খাতের মাধ্যমে। তিনি বলেন, সরকার সঠিকভাবেই চিহ্নিত করতে পেরেছে যে, বাংলাদেশকে মধ্য আয়ের দেশে পরিণত করতে ক্ষুদ্র এসএমই অগ্রাধিকার খাত। সরকারের এ বিশ্বাস থেকেই বাংলাদেশ ব্যাংক ক্ষুদ্র এসএমই নতুন রূপকল্প তৈরি করেছে এবং এ খাতের উন্নয়নে পদক্ষেপ নিয়েছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক বিশ্বে ক্ষুদ্র এসএমই’র অর্থায়নে রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। আমাদের পদক্ষেপ বিশ্বের অন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো পর্যালোচনা শুরু করেছে।
গবর্নর আরও বলেন, শেষ পাঁচ বছরে ১৯ লাখ ক্ষুদ্র এসএমই উদ্যোক্তাকে ৩.৪ বিলিয়ন ইউএস ডলার অর্থায়ন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯০ হাজার মহিলা উদ্যোক্তাদের ১.২ বিলিয়ন ইউএস ডলারের বেশি অর্থায়ন করা হয়েছে। উৎপাদন খাতে ঋণের প্রবাহ আশাব্যঞ্জকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০০৯ থেকে ২০১৪ সালের জুন পর্যন্ত সময়কালে ব্যাংকিং খাত দুই লাখ ৫০ হাজার নতুন ব্যবসায়ীকে ৬.৪ বিলিয়ন ইউএস ডলার অর্থায়ন করেছে। এতে শেষ পাঁচ বছরে ক্ষুদ্র এসএমই খাতে ১৫ লাখের বেশি নতুন চাকরির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। নারী উদ্যোক্তাদরে এসএমই ঋণ দেয়ার জন্য প্রত্যেক ব্যাংককে আলাদা হেল্পডেস্ক ও আলাদা তহবিল করার আহ্বান জানিয়ে গবর্নর জানান, নারীদের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে একজন ডিজিএমের নেতৃত্বে আলাদা বিভাগ চালু করা হচ্ছে। যেখানে শুধু নারীরাই কাজ করবেন। যাতে কোন নারী উদ্যোক্তারা সাহায্যের জন্য এসে মন খারাপ করে ফিরে না যান। মূল প্রবন্ধে আইএমএসএমই অব ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান রাজীব চাওলা কিভাবে এসএমই এ্যাসোসিয়েশন সদস্যদের সহায়তা করতে পারে তা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এ্যাসোসিয়েশন সদস্যদের জন্য পণ্য বিপণন, কাঁচামাল ক্রয়, পণ্য রফতানি, ঋণ প্রাপ্তিতে সহায়তা, রেটিং এজেন্সি, এয়ারলাইন্স, ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি সম্পাদন প্রভৃতি কাজে সহায়তা করে। ভারতীয় হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার সন্দীপ চক্রবর্তী বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে আমরা আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্যকে আরও বেশি সমৃদ্ধ করতে পারি। ভারতের যেসব পণ্য বাংলাদেশে আসে এবং বাংলাদেশের যেসব পণ্য ভারতে যায় দুই দেশের আলোচনার মাধ্যমে তা আরও বাড়ানো যেতে পারে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এফবিসিসিআইর সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশের এক সময়ের অতি ক্ষুদ্র খাত ছিল তৈরি পোশাক। এখন তা বিশ্বের দ্বিতীয় রফতানিকারকের অবস্থানে পৌঁছেছে। অন্যান্য খাতকেও এগিয়ে নিতে এখানকার উদ্যোক্তারা কাজ করছে। এক্ষেত্রে শিল্প সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠন উদ্যোক্তাদের সহযোগিতা দিচ্ছে। ডিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি সবুর খান বলেন, পুরনো শিক্ষাব্যবস্থায় দক্ষ জনশক্তি গড়া সম্ভব নয়। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার মতো জনশক্তি গড়তে শিক্ষাব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে হবে। সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন, ডিসিসিআই’র সভাপতি মোঃ শাহজাহান খান, বিডব্লিওসিসিআইর সভাপতি সেলিমা আহম্মদ, সিরডাপের মহাপরিচালক সিসিপ ইফেন্ডি, বেসিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খন্দকার মোঃ ইকবাল, আইডিএলসি ফাইন্যান্স লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম আরএফ হুসাইন, বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই বিভাগের মহাব্যবস্থাপক সুকোমল সিংহ, আইডিইবির সভাপতি একেএমএ হামিদ প্রমুখ।
সেমিনার থেকে ভারতের আই এ্যাম এসএমই অফ ইন্ডিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের ঢাকা চেম্বার, বিডব্লিউসিসিআই ও আইডিইবি পৃথক চুক্তি স্বাক্ষর হয়। এই চুক্তির আওতায় তারা একে অন্যকে বিভিন্ন সহযোগিতা করবে। দ্বিতীয় অধিবেশনে ভারত থেকে রাজিব চাওলার সঙ্গে আসা ৯ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার গল্প শোনান। এরপর এসএমই খাতের উন্নয়নে বিভিন্ন দিক নিয়ে অতিথিরা আলোচনা করেন। সেশনটি পরিচালনা করেন বিআইবিএমের এসএমই ফ্যাকাল্টি পরামর্শক সুকোমল সিংহ চৌধুরী। সমাপনী বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মোঃ মাছুম পাটোয়ারী। আইডিইবির সভাপতি একেএমএ হামিদের সভাপতিত্বে এই অধিবেশনে অর্থনীতিবিদ, ব্যাংকারসহ বিশিষ্টজনরা বক্তব্য রাখেন।
হবিগঞ্জ ও সুন্দরবনের ৪৬ বর্গকিলোমিটার নিরাপদ জোন ঘোষণা
শকুন রক্ষায় বিশেষ উদ্যোগ
স্টাফ রিপোর্টার॥ এবার দেশে শকুন রক্ষায় বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বাংলাদেশের দুটি এলাকাকে শকুন রক্ষার জন্য নিরাপদ জোন ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে সিলেটের হবিগঞ্জে ১৯ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা ও সুন্দরবনের ২৭ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে প্রথমবারের মতো শকুনের নিরাপদ জোন হিসেবে ঘোষণা করেছে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়। এসব এলাকায় শকুনের জন্য ক্ষতিকর ডাইক্লোফেনাক নামে ভ্যাকসিন গবাদি পশুর জন্য ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া শকুন রক্ষায় সরকার গরুর দেহে ডাইক্লোফেনাকের ব্যবহারও নিষিদ্ধ করেছে। কেটোপ্রফেন নামে অপর একটি ভ্যাকসিনও সরকার বাতিল করারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
শনিবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে বিলুপ্তির হাত থেকে এশিয়ার শকুন রক্ষা নিয়ে এক সেমিনারে এসব কথা জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক নেচার কনজারভেশন (আইইউসিএন) ও বন বিভাগ এ সেমিনারের আয়োজন করে। সকাল ১০টায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এ সেমিনারের উদ্বোধন করেন। অর্থমন্ত্রী তাঁর বক্তৃতায় বলেন, এক সময় সারাদেশে বাঘের দেখা মিললেও মানুষ বৃদ্ধির কারণে এবং বনাঞ্চল কমে যাওয়ায় এসব এলাকা থেকে বাঘ বিলুপ্ত হয়েছে। অথচ এক সময় বাঘ শিকারের জন্য মেলা বসত। এখন এসব দেখা যায় না। বিভিন্ন কারণে শকুনও এদেশ থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। ক্লোরোফ্লোরো কার্বন ব্যবহারের কারণে বিশ্বে পরিবেশের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। আমরা এর জন্য দায়ী না হলেও বৈশ্বিক শিকার। তিনি বলেন, বনাঞ্চল কমে যাওয়ার কারণে বাঘের মতো শকুনের ওপর প্রভাব পড়ছে। গবাদি পশুর ওপর ক্রিটিক্যাল ওষুধ ব্যবহারের কারণে শকুন রক্ষা হুমকির মুখে পড়ছে। এসব ক্ষতিকর ড্রাগ ব্যবহারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সচিব নজিবুর রহমান বলেন, টেকসই উন্নয়নে যেসব বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে তার মধ্যে পরিবেশের উন্নয়নের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু পরিবেশ রক্ষা করতে শকুন রক্ষার কোন বিকল্প নেই। যেসব ওষুধের ব্যবহার শকুনের টিকে থাকার জন্য হুমকি সেসব ওষুধের ব্যবহার বন্ধ করে দেয়ার পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সুন্দরবনে এখন বাঘের সংখ্যা যেমন কমে দাঁড়িয়েছে ৫ শ’তে। তেমনি বিভিন্ন কারণে দেশে এখন মোট শকুনের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫শ’তে। অথচ সারাদেশেই এক সময় শকুনের অস্তিত্ব ছিল। অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে প্রধান বন সংরক্ষক ইউনুস আলী বলেন, সিলেটের হবিগঞ্জে এবং সুন্দরবনের দক্ষিণ ও উত্তর এলাকায় শকুন রক্ষার জন্য একটি নিরাপদ জোন হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়েছে। শকুনের জন্য নিরাপদ জোন ছাড়া শকুন রক্ষার আর কোন পথ নেই। এছাড়া শকুনের জন্য ক্ষতিকর ওষুধের ব্যবহার বন্ধ করে দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। নিরাপদ জোন এলাকায় বসবাসকারীরা যাতে তাদের গবাদিপশুর জন্য কোন ধরনের ডাইক্লোফেনাক ওষুধ ব্যবহার না করে সেদিকে নজর রাখার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনকে এ বিষয়ে নজরদারি করার জন্য বলা হয়েছে। অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক নেচার কনজারভেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শকুন রক্ষায় নিরাপদ জোন ঘোষণা বিশ্বে বাংলাদেশেই প্রথম। এসব এলাকায় শকুনের জন্য ক্ষতিকর কোন ওষুধ ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত কয়েক বছরে এশিয়ায় শকুন আশঙ্কাজনহারে হ্রাস পেয়েছে। ভারতীয় উপমহাদেশে এক সময় ৪০ মিলিয়ন শকুনের অস্তিত্ব ছিল। বর্তমানে এ সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১০ হাজারে। বাংলাদেশ থেকে ইতোমধ্যে শকুনের দুটি প্রজাতি বিলুপ্ত হয়েছে। একমাত্র বাংলা শকুনের অস্তিত্ব রয়েছে। এ প্রজাতিটিও হুমকির মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন কারণে। অনুষ্ঠানে জানানো হয় শকুনের জন্য বিষাক্ত ওষুধ ডাইক্লোফেনাক ও কেটোপ্রফেন পশু-চিকিৎসায় ব্যবহার করায় শকুন মৃত্যুর প্রধান কারণ। বাংলাদেশ ও প্রতিবেশী দেশের পশু চিকিৎসায় ডাইক্লোফেনাক নিষিদ্ধ হলেও কেটোপ্রফেন নিষিদ্ধ হয়নি। শুধু বাংলাদেশ নয়, গোটা পৃথিবীতেই এর অবস্থা খুবই ভয়াবহ। এ শকুনের সংখ্যা দশ হাজারের বেশি হবে না। বাংলাদেশে বাংলা শকুন এখন বিরল প্রজাতি। সব মিলিয়ে এদেশে এর সংখ্যা পাঁচ ’র বেশি হবে না। এদেশ থেকে শকুন হারিয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ হলো প্রজননের আবাসস্থলের অভাব।
দারিদ্র্যের কারণে বিশেষ কিছু এলাকার লোক অবৈধ পথে পাড়ি দিচ্ছে
রামরুর সংবাদ সম্মেলনে তথ্য
স্টাফ রিপোর্টার ॥ দারিদ্র্য, জলবায়ু পরির্বতন ও অভিবাসনে সামাজিক যোগাযোগের অনুপস্থিতির কারণে বিশেষ কিছু এলাকার লোকেরা সমুদ্রপথে অবৈধভাবে অভিবাসী হওয়ার চেষ্টা করছে।
শনিবার বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিফ্যুজি এ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্ট রিসোর্স ইউনিট (রামরু) এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানায়। এতে লিখিত বক্তব্য রাখেন রামরুর চেয়ার ড. তাসমি সিদ্দিকী। তিনি বলেন, অক্টোবর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত সমুদ্র শান্ত থাকায় এ সময় সমুদ্রপথে অবৈধ অভিবাসন ও পাচারের হার বেড়ে যায়।
ড. তাসমি সিদ্দিকী বলেন, যশোর, খুলনা, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, কুড়িগ্রাম, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও সাতক্ষীরা অঞ্চলের লোকেরা অবৈধপথে অভিবাসী হওয়ার চেষ্টা করছে। ২০১২-১৩ সালে নরসিংদী এলাকা অবৈধপথে অভিবাসী হওয়ার চেষ্টাকারীদের ঘাঁটি হিসেবে চিহ্নিত হলেও এখন তা কমে এসেছে। তবে তাদের কেউ কেউ এখন দালালচক্রের সঙ্গে জড়িত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন রামরুর চেয়ার।
তিনি জানান, ইউএনএইচসিআর’র রিপোর্ট অনুযায়ী ২০১২ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৮৭ হাজার লোক সমুদ্রপথে অবৈধপথে থাইল্যান্ড হয়ে মালয়েশিয়ার পথে পাড়ি দিয়েছে। তবে গত বছর এই সংখ্যা ছিল ৫৩ হাজার, যা আগের বছরের তুলনায় শতকরা ৬১ ভাগ বেশি।
রামরুর চেয়ার বলেন, প্রতিবছর কত সংখ্যক লোক সমুদ্রপথে অবৈধভাবে অভিবাসী হওয়ার চেষ্টা করে তার সঠিক পরিসংখ্যান কারও জানা নেই। তবে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী গত এক বছরে (জুলাই ২০১৩- জুন ২০১৪) ১৫-২০ হাজার বাংলাদেশী সমুদ্রপথে অবৈধভাবে অভিবাসী হয়।
ড. তাসমি সিদ্দিকী বলেন, সিরাজগঞ্জ জেলায় গবেষণা চালিয়ে তারা দেখতে পান ৪ হাজারেরও বেশি তরুণ অবৈধপথে মালেশিয়ায় অভিবাসী হওয়ার চেষ্টা করে। যাদের মধ্যে চার শতাধিক এখনও নিখোঁজ রয়েছে। তিনি বলেন, সমুদ্রপথে অবৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত রয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধীচক্র, আন্দামান ও থাইল্যান্ড সীমান্তের জলদস্যুরা এবং মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে কম বেতনে শ্রমিক নিয়োগে আগ্রহী প্রতিষ্ঠান। এ ধরনের ভয়াবহতার হাত থেকে তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে সমুদ্রপথে অবৈধ অভিবাসন চেষ্টা বন্ধে থাই সরকারের প্রতি আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি, বাংলাদেশ-মালয়েশিয়ার জি টু জি কার্যক্রম পুনর্মূল্যায়ন ও বৈধ পথে অভিবাসনের সুযোগ ফিরিয়ে আনা, অভিবাসন আইন ২০১৩-এর অধীনে সমুদ্রপথে অবৈধ অভিবাসনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা করা এবং সমুদ্রপথে অবৈধ অভিবাসনের কুফল সবার সামনে তুলে ধরার ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সরকারের প্রতি রামরুর পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সমুদ্রপথে অবৈধ অভিবাসী হতে গিয়ে গত ১৯ অক্টোবর থাই পুলিশের হাতে আটক হয় ১৭১ জন বাংলাদেশী। মালয়েশিয়ায় অভিবাসী হতে গিয়ে বহু বাংলাদেশী থাইল্যান্ডের জঙ্গলে মানবেতর জীবনযাপন করছে। সমুদ্রপথে অবৈধ অভিবাসী হতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া পরিবারের কয়েকজন সদস্য এ সময় তাদের পরিবারের সদস্য হারানোর কথা তুলে ধরেন। তাদের মধ্যে আবুল হাশেম জানান, তাঁর ভাই জব্বার আলী ৮ মাস আগে চট্টগ্রাম যায়। সেখান থেকে সে নিখোঁজ হয়। ৩০ দিন পর সে ফোন করে জানায়, মালয়েশিয়ায় যাওয়ার জন্য সে সমুদ্রেপথে রওনা হয়েছে। এখন ২ লাখ ২০ হাজার টাকা দিলে তাকে মালয়েশিয়ায় পাঠানো হবে। না হয় তার ওপর অত্যাচার করা হচ্ছে। পরে এক দালালের মাধ্যমে টাকা দেয়া হয়। এরপর থেকে তার ভাইয়ের কোন খোঁজ পাচ্ছেন তাঁরা, আর ওই দালালেরও কোন খোঁজ নেই তাঁদের কাছে। এমন আরেক ভুক্তভোগী ক্বারী আমিনুর রহমান। তিনি বলেন, ছেলে তাঁর সঙ্গে কাজে যেত। হঠাৎ একদিন সে কাজে না গিয়ে হারিয়ে যায়। পরে ফোন করে জানায়, মালয়েশিয়ায় যেতে গিয়ে সে আটক আছে।
দুর্বৃত্তের গুলিতে আহত পাংশা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানের মৃত্যু
নিজস্ব সংবাদদাতা, রাজবাড়ী, ২২ নবেম্বর ॥ দুর্বৃত্তের গুলিতে আহত রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা কৃষক লীগ সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মুন্সী নাদের হোসেন (৬০) মারা গেছেন। শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। নাদের হোসেনের বড় ছেলে আবু হেনা এবং জেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হক জনকণ্ঠকে জানান, শুক্রবার সকালে তিনি দুর্বৃত্তদের হাতে গুলিবিদ্ধ হলে আহতাবস্থায় তাঁকে প্রথমে পাংশা হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
ফরিদপুর মর্গে তাঁর লাশ ময়নাতদন্ত শেষে শনিবার পাংশার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে এলে সেখানে শোকের ছায়া নেমে আসে। বিকাল ৪টায় পাংশা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও রাজবাড়ী-২ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য মোঃ জিল্লুল হাকিম, রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক মোঃ রফিকুল ইসলাম খান, পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ অংশ নেন। জানাজা শেষে গ্রামের বাড়িতে তাঁকে দাফন করা হয়। এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত পাংশা থানায় কোন মামলা হয়নি। তবে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। উল্লেখ্য, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মুন্সী নাদের হোসেন তাঁর নিজবাড়ি হাবাসপুরের কাচারীপাড়া গ্রাম থেকে পাংশা শহরে আসার পথে বাড়ির অদূরে কয়েকজন দুর্বৃত্ত খুব কাছে থেকে তাঁকে পরপর দুই রাউন্ড গুলি করে পালিয়ে যায়। বিকেলে কৃষক লীগের উদ্যোগে এই ঘটনায় দোষী ব্যক্তিদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে ফাঁসির দাবি জানিয়ে পাংশা শহরে একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
কুমিল্লায় হত্যার দেড় মাস পর ব্যবসায়ীর গলিত লাশ উদ্ধার
স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা, ২২ নবেম্বর ॥ কুমিল্লায় হত্যার দেড় মাস পর পানির নিচ থেকে তোতা মিয়া নামে এক ব্যবসায়ীর গলিত লাশ উদ্ধার করেছে জেলা ডিবি পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশ ৭ জনকে আটক করেছে। শনিবার বিকেলে আটককৃতদের দেখানো মতে মহানগরীর ঢুলিপাড়া এলাকার একটি পরিত্যক্ত পুকুর থেকে ম্যাজিস্ট্রেট ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসহ কয়েক হাজার জনতার উপস্থিতিতে লাশটি উদ্ধার করা হয়। টাকা নিয়ে বিরোধের জের ধরে তাকে পিটিয়ে হত্যার পর ইট বেঁধে লাশ পানির নিচে গুম করা হয়েছিল বলে পুলিশ জানায়।
ডিবি পুলিশ ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ৩ অক্টোবর দুপুরে আদর্শ সদর উপজেলার শরীফপুর দক্ষিণপাড়া (শিবের বাজার) গ্রামের মনা মিয়ার পুত্র গরু ব্যবসায়ী তোতা মিয়াকে (১৮) নগরীর ঢুলিপাড়া এলাকার বাসিন্দা কসাই আজাদ বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে সে আর বাড়ি ফেরেনি। এ বিষয়ে নিহতের পরিবার থানায় মামলা কিংবা জিডি না করলেও গোপন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে কুমিল্লা ডিবি পুলিশ এ ঘটনার অনুসন্ধানে মাঠে নামে। ডিবির ওসি মনিরুল ইসলাম পিপিএম জানান, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে এসআই শাহ কামাল আকন্দ ও এসআই শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে ডিবি পুলিশের একটি দল গত শুক্রবার দিন ও রাতে অভিযান চালায়। প্রথমে পুলিশ কুমিল্লা নগরীর দক্ষিণ চর্থা থিরাপুকুরপাড় এলাকার কসাই জুম্মনকে আটক করে। পরে জুম্মনের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী নগরীর ঢুলিপাড়া এলাকার আজাদ, তার ২ ছেলে রিপন ও শওকত, একই এলাকার অপু, ইমরান ও ফুল মিয়াকে আটক করা হয়। তোতা মিয়াকে হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর শুক্রবার রাতে তার নানা মেতু মিয়া বাদী হয়ে কসাই আজাদ, কসাই জুম্মন ও অজ্ঞাতনামাসহ ১০/১২ জনকে আসামি করে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। এদিকে আটককৃত কসাই জুম্মন ও আজাদ টাকা নিয়ে বিরোধের জের ধরে তোতা মিয়াকে হত্যার পর লাশ ইট বেঁধে নগরীর ঢুলিপাড়া এলাকার আসামি কসাই আজাদের বাড়িসংলগ্ন পরিত্যক্ত পুকুরের পানির নিচে ফেলে রাখে বলে ডিবি পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয়। এ তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল শনিবার বিকেল ৩টার দিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ শামীম হোসেনের উপস্থিতিতে আটককৃতদের মধ্যে রিপনের দেখানো মতে নিহত তোতা মিয়ার লাশ উদ্ধারে ওই পুকুরে নামে উদ্ধারকারী দল। প্রায় ২ ঘণ্টাব্যাপী কচুরিপানাযুক্ত ওই পুকুরে উদ্ধারকারী দল ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তল্লাশি চালিয়ে তোতা মিয়ার লাশের গলিত বিভিন্ন অংশ, হাড় ও মাথার খুলি উদ্ধার করে। এ সময় ঘটনাস্থলে বিভিন্ন এলাকার হাজারো উৎসুক নারী-পুরুষ ভিড় জমায়। এ সময় মামলার বাদী নিহতের নানা মেতু মিয়াসহ স্বজনরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শহিদুল ইসলাম জানান, আজ রবিবার নিহতের লাশের অংশ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হবে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপর আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।
ছাত্রলীগের মধ্যে কিছু আবর্জনা ঢুকেছে ॥ ও. কাদের
নিজস্ব সংবাদদাতা, গোপালগঞ্জ, ২২ নবেম্বর ॥ সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বিএনপি যে কটাক্ষ করেছে, তার জন্য তাদের খেসারত দিতে হবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে দেশে ও লন্ডনে অমার্জনীয় ভাষায় কথা বলায় বিএনপির জনসমর্থন কমেছে। এ কারণে বার বার আন্দোলনের কথা বললেও আন্দোলন করতে পারছে না। এ থেকে বিএনপির শিক্ষা নেয়া উচিত। তা না হলে তাদের রাজনীতির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
শনিবার বেলা ১১টায় টুঙ্গিপাড়ার পাটগাতী এলাকায় মধুমতি নদীর ওপর নির্মাণকাজ সমাপ্তির পথে শেখ লুৎফর রহমান সেতু পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। আগামী ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে এ সেতুর উদ্বোধন করা হবে। উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সেতুমন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতুর নদী শাসন চুক্তি শেষ হয়েছে। ২০১৮ সালের মধ্যে পদ্মা সেতু যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হবে। সেতুটি হবে দোতলাবিশিষ্ট। একই সঙ্গে রেল ও অন্য যানবাহন চলাচল করবে। এ সময় তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিন ছাত্রছাত্রী সংসদ নির্বাচন না হওয়ায় ছাত্রলীগের মধ্যে কিছু আবর্জনা, আগাছা ও পরগাছা ঢুকে পড়েছে। এসব পরিষ্কার করতে হবে। এদের ব্যাপারে কোন ছাড় নেই। ছাত্রলীগের কেউ অন্যায় করলে, তাদের বিচার করা হচ্ছে। যারা বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের বিচার করা হয়েছে।
এর আগে সকাল সাড়ে ৯টায় সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির জনকের সমাধিবেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান এবং ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাত করেন। এ সময় অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবুল কাশেম ভূঁইয়া, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইকবাল, জেলা প্রশাসক মোঃ খলিলুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী সমীরণ রায়, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আলী খান, প্রচার সম্পাদক বদরুল আলম বদর, টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ আব্দুল হালিম, সাধারণ সম্পাদক আবুল বশার খায়ের, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সোলায়মান বিশ্বাস, পৌর মেয়র সরদার ইলিয়াস হোসেনসহ স্থানীয় নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
যুদ্ধাপরাধী বিচার ॥ সুবহানের মামলার রায়ের দিন চলতি সপ্তাহে
বিকাশ দত্ত ॥ একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় পার্টির ১২ শীর্ষ নেতার বিচারিক কার্যক্রম শেষে রায় ঘোষণার পর বর্তমান ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মাঝারি পর্যায়ের আরও আটটি ও একটি আদালত অবমাননাসহ নয়টি মামলার বিচারিক কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির আব্দুস সুবহানের মামলার বিচারিক কার্যক্রম প্রায় শেষের দিকে। প্রসিকিউশন পক্ষ আশা করছে চলতি সপ্তাহেই বিচারিক কার্যক্রম শেষে রায় ঘোষণার জন্য দিন নির্ধারণ করা হতে পারে। অন্যদিকে জাতীয় পার্টির নেতা ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল জব্বারের মামলার যুক্তিতর্কও চলতি সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আরও তিনটি মামলা চলতি সপ্তাহে আমলে নেবে কিনা তার ওপর আদেশ প্রদান করবেন ট্রাইব্যুনাল। পাশাপাশি মোবারক-কায়সার ও এটিএম আজাহারুল ইসলামের তিনটি মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষে রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখা হয়েছে। প্রসিকিউশনপক্ষ আশা করছেন শীঘ্রই সিএভিকৃত মামলাগুলোর রায় ঘোষণা করা হতে পারে। তদন্ত সংস্থায় প্রায় ডজন খানেক মামলার তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে শীঘ্র চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশন সূত্রে এ খবর জানা গেছে।
মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্তদের বিচারে জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর এ পর্যন্ত মোট ১২টি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের দেয়া দণ্ডের ওপর আপীল বিভাগে তিনটি মামলা চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়েছে। আরও দুটি মামলা নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। একই সঙ্গে ট্রাইব্যুনালের দেয়া রায়ের পর জামায়াত আমির মতিউর রহমান নিজামী ও মীর কাসেম আলীর মামলা দুটি আপীলের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ট্রাইব্যুনাল-১ ও ২ এ জামায়াত নেতা আব্দুস সুবহান ও জাতীয় পার্টি নেতা ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল জব্বারের মামলা দুটি শেষ পর্যায়ে।
আব্দুস সুবহানের মামলাটি সাক্ষ্যগ্রহণের পর এখন আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক চলছে। আজ রবিবার আবারও আসামি পক্ষ যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রসিকিউশনপক্ষ আশা করছেন চলতি সপ্তাহেই সুবহানের মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষে রায় ঘোষণার জন্য সিএভি রাখা হতে পারে। গত বছরের ১৫ এপ্রিল থেকে সুবহানের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে গত ১২ সেপ্টেম্বর তদন্ত কাজ সম্পন্ন করেন তদন্ত সংস্থা। তদন্তের স্বার্থে গত ১ সেপ্টেম্বর সেফহোমে নিয়ে সুবহানকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন তদন্ত সংস্থা। নয়টি অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কর্মকর্তা ও জব্দ তালিকার সাক্ষীসহ মোট ৪৩ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে সুবহানের বিরুদ্ধে। ২০১২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর সকালে টাঙ্গাইলে বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব প্রান্ত থেকে সুবহানকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এেিদক দ্বিতীয় পর্যায়ে রয়েছে পিরোজপুরের পলাতক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল জব্বারের মামলাটি। এই মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে যুক্তিতর্কের জন্য ২৫ নবেম্বর দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে প্রসিকিউশনপক্ষ তাদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবেন। এর পর রাষ্ট্রকর্তৃক নিয়োজিত আইনজীবী আসামির পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবেন। যুুক্তিতর্ক শেষে ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণার জন্য সিএভি করবেন। আসামি জব্বারের বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৪ জন সাক্ষ্য প্রদান করেছেন। মঠবাড়িয়ার সাবেক সংসদ সদস্য ও জাতীয় পার্টির নেতা জব্বারের বিরুদ্ধে গত ১৪ আগস্ট অভিযোগ গঠন করা হয়। ৭ সেপ্টেম্বর সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন শেষে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। এর আগে ৮ জুলাই ট্রাইব্যুনালের এক আদেশে বলা হয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জব্বারকে গ্রেফতার করতে পারেনি। পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরও হাজির হননি জব্বার। এজন্য তাকে পলাতক ঘোষণা করা হলো। আইনজীবী আবুল হাসানকে মামলায় পলাতক আসামিপক্ষে আইনী লড়াইয়ের জন্য রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগ করা হয়। গত ১২ মে তার বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের
আনীত পাঁচটি অভিযোগ আমলে নিয়ে তাকে গ্রেফতারে পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। অন্যদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের মোঃ মাহিদুর রহমান (৮৪) ও মোঃ আফসার হোসেন ওরফে চুটুর (৬৫) বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেবে কি নেবে না সে বিষয়ে আদেশ প্রদান করা হবে ২৩ নবেম্বর। একইভাবে পটুয়াখালীর ফোরকান মল্লিকের মামলা আমলে নেয়ার বিষয়ে আদেশ ৩০ নবেম্বর প্রদান করা হবে। একই সঙ্গে বাগেরহাটের তিন রাজাকার কসাই সিরাজ, আব্দুল লতিফ তালুকদার ও খান আকরাম হোসেনের বিরুদ্ধে ২ ডিসেম্বর সূচনা বক্তব্য প্রদান করবেন প্রসিকিউশনপক্ষ। নেত্রকোনার মুসলীম লীগ নেতা আতাউর রহমান ননি (৬২) ও নেজামে ইসলামের ওবায়দুল হক তাহেরের (৬৪) বিরুদ্ধে ৪ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রাজাকার হাসান আলীর বিরুদ্ধে ৭ ডিসেম্বর সূচনা বক্তব্য প্রদান করবেন প্রসিকিউশনপক্ষ।
মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে ব্যক্তিগত ব্লগে আপত্তিকর মন্তব্য করায় বিদেশী সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যানের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগের আদেশের জন্য আগামী ১ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল। ব্লগে লেখার বিষয়ে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা চেয়ে আবেদন করেন হাইকোর্টের আইনজীবী আবুল কালাম আজাদ। ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আবুল কালাম আযাদের রায় নিয়ে করা মন্তব্যে ট্রাইব্যুনালের মর্যাদাহানি হয়েছে বলে আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এই আইনজীবী তাঁর আবেদনে উল্লেখ করেন ডেভিড বার্গম্যানের ব্লগে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রায় নিয়ে করা মন্তব্যেও আদালত অবমাননা হয়েছে। গত ২০ ফেব্রুয়ারি সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যানের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে রুল জারি করে আদালত। ট্রাইব্যুনালে ৬ মার্চ হাজির হয়ে ২০১১ সালের ১১ নবেম্বর ও ২০১৩ সালের ২৮ জানুয়ারি ব্লগে লেখার বিষয়ে ব্যাখ্যা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়।
বিচারাধীন বিষয়ে বক্তব্য দেয়া এবং বক্তব্য প্রকাশ দৈনিক সংগ্রামের সম্পাদক আবুল আসাদসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে কেন আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হবে না এ বিষয়ে শুনানীর জন্য ২৪ ডিসেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে। চেয়ারম্যান বিচারপতি এম এনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে তিন সদস্যবিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ আদেশ প্রদান করেছেন। উল্লেখ্য, ২৬ অক্টোবর বিচারাধীন বিষয়ে বক্তব্য দেয়া এবং বক্তব্য প্রকাশ করায় ট্রাইব্যুনালের কাছে পুনরায় ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন দৈনিক সংগ্রামের সম্পাদক আবুল আসাদসহ ৪ জন। ২০ নবেম্বর এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানীর জন্য দিন ছিল। কিন্তু আসামি পক্ষের আইনজীবী সময় প্রার্থনা করায় পুনরায় ২৪ ডিসেম্বর পরবর্তী দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। আদেশের পর প্রসিকিউটর তাপস কান্তি বল বলেন আসামিপক্ষের আবেদনের কারণে ট্রাইব্যুনাল এ দিন নির্ধারণ করেছেন।
জগদ্বিখ্যাত বিজ্ঞানীর বাড়িটি যে কোন সময় ধসে পড়তে পারে
আজ জগদীশচন্দ্র বসুর ৭৭তম মৃত্যুবার্ষিকী
মীর নাসিরউদ্দিন উজ্জ্বল, মুন্সীগঞ্জ ॥ হলুদ জরাজীর্ণ একতলা ভবন। রং চটা পুরনো ভবনের গায়ে লেখা জেসি বোস ইনস্টিটিউট। তবে গাছপালায় এমনভাবে ঢাকা পড়েছে খুব কাছে না এসে বোঝা যাবে না। তবে এটির সামনের মনুমেন্ট। এটি দেখেই বোঝা যায়-বিজ্ঞানী স্যার জগদীশচন্দ্র বসুকে। এছাড়া বড় আকারের নতুন আরও কয়েকটি ভবন রয়েছে। সেগুলোতে ফলাও করে নানা নক্সায় বিভিন্ন দাতাদের পছন্দের ব্যক্তিদের নাম। কোথাও বিজ্ঞানীর নাম চোখে পড়বে না। এই ক্যাম্পাসের প্রায় ১শ’ গজ দূরে ঢাকা-দোহার সড়কের পাশে বাইরের প্রধান ফটক রয়েছে। সেটির রং এমনভাবে চটে গেছে। বিজ্ঞানীর নাম খুঁজে বের করা কষ্ট হবে। পাঠকদের আর আরও কষ্ট হবে আজ রবিবার জগদ্বিখ্যাত বিজ্ঞানীর ৭৭তম মৃত্যু দিবসেও পৈত্রিক ভিটায় নেই কোন কর্মসূচী। এভাবেই অবহেলায় বছরের পর বছর কেটে যাচ্ছে বিজ্ঞানীর জন্ম ও মৃত্যু দিবস। রাষ্ট্রীয়ভাবেই এই কালজয়ী বাঙালীর এই দিবস দুটি পালনে কোন রকম পদক্ষেপ নেই। নেই তাঁর নামে কোন রাস্তা বা অন্য প্রতিষ্ঠান। অথচ আইনস্টাইন বলেছিলিনে, স্যার জগদীশচন্দ্র বসুর এক একটি আবিষ্কারের জন্য একটি করে স্তম্ভ হওয়া উচিত। রেডিও মূল আবিষ্কারক এবং গাছে প্রাণ আছে এমন গুরুত্বপূর্ণ অন্তত ১শ’টির আবিষ্কারক স্যার জগদীশচন্দ্র বসু। তাঁর আবিষ্কার নিয়ে ভারতসহ বিভিন্ন দেশে গবেষণা চলছে। ভারতের কলকাতার অপার সার্কুলার রোডের এই বিজ্ঞানীর বাড়ির বিজ্ঞান মন্দিরে কয়েক শ’ পিএইচডি গবেষক ইতোমধ্যেই ডিগ্রী অর্জন করেছেন। গবেষণারত রয়েছেন আরও অনেকে। বিজ্ঞানী নিয়ে নিজ দেশে অবহেলার নানা দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করে বিজ্ঞানীর বাড়িতে আসা পর্যটকরা বলেন, এসব কারণেই দেশে বিজ্ঞানমনস্ক মানুষ হ্রাস পাচ্ছে। সরকারী হরগঙ্গা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও উদ্ভিদবিজ্ঞানী অধ্যাপক সুখেন চন্দ্র ব্যানার্জী বলেন, বিজ্ঞানীর জন্ম-মৃত্যু দিবস রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন এখন সময়ের দাবি। নতুন প্রজন্ম তাঁর আদর্শ জানতে পারলেই বিজ্ঞানী হওয়ার জন্ম জাগবে। অথচ দেশে বিজ্ঞানে শিক্ষার্থী আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পাচ্ছে।
ফাটল ধরা পুরনো রংচটা ভবনটিই হচ্ছে বিজ্ঞানীর পৈত্রিক ভবন। বিজ্ঞানী স্মৃতিবিজড়িত এই ভবনটিতেই ক্লাস হতো। পরে বিজ্ঞানীর জাদুঘর করা হয়। তবে ভবনটি এতটাই জরাজীর্ণ, এই জাদুঘরও সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। তার পরও নানা রূপের সমাবেশেই কালের সাক্ষী হয়ে রয়েছে জগদ্বিখ্যাত বিজ্ঞানীর বাড়িটি। এই বাড়ির এক পাশে এখন পিকনিক স্পট হিসেবে খ্যাতি লাভ করেছে। যেখানে কৌতূহলী নানা শিক্ষার্থী আর দেশ-বিদেশী শিক্ষার্থীদের আনাগোনায় মুখরিত। এই পিকনিক স্পটটি দোহার সড়কের চলার পথে গাড়িতে বসে দেখা যায়। সেখানে এখন কৃত্রিমপাড়, লেক ও ঝর্ণাও তৈরি করা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে অধ্যক্ষ এসএম আলমগীর হোসেন জানান, ‘স্কুল শাখায় শিক্ষার্থী কম থাকার কারণেই কলেজ শাখায় বিজ্ঞান খোলা হচ্ছে না। মফস্বলের শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান পড়তে আগ্রহ কম।’
তিন শ’ বছরেরও বেশি পুরনো বিজ্ঞানীর স্মৃতিবিজড়িত ভবনটি এখন অবহেলা আর অনাদরে বিনষ্ট হচ্ছে। ভবনের নাজুক অবস্থার কারণেই স্যার জগদীশের নানা স্মৃতির সংগ্রহশালাটি সরিয়ে আনা হয়েছে পিকনিক স্পট এলাকায়। ‘স্যার জগদীশ কমপ্লেক্সে’র একটি কক্ষে সেগুলো রাখা হয়েছে। এটিই এখন স্যার জগদীশ জাদুঘর। এখানে এখন ২০ টাকা টিকেট দিয়ে সেখানে প্রবেশ করা যায়। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকছে।
স্যার জগদীশচন্দ্র বসু ইনস্টিটিউটে এখন ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত এই শিক্ষালয়ের শিক্ষার্থী সংখ্যা ১৩শ’। এই প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ এসএম আলমগীর হোসেন নানা তথ্য দিয়ে বলেন, ২৫ একরেরও বেশি জমির ওপর নির্মিত এই প্রতিষ্ঠান। পুরো একাটিই প্রকৃতির নৈসর্গিক মিলনমেলা। আর বিজ্ঞানীর বাড়িতে সবুজের সমারোহও। এখানে বিশ্ববিদ্যালয় হওয়া এখন সময়ের দাবি। সুন্দর যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং রাজধানীর প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরত্বে এই স্থানে উচ্চ শিক্ষার দ্বার খুলে দেয়ার জন্য প্রয়োজন শুধু একটি সিদ্ধান্ত। ১৯২১ সালে তাঁর বাড়িটিতে এই ইনস্টিটিউশন প্রতিষ্ঠিত হয়। কলেজ শাখা চালু হয় ১৯৯৪ সালে।
দেশ বিদেশে নানা পুরস্কারে ভূষিত এই বিজ্ঞানীর জন্ম হয় ১৮৫৮ সালের ৩০ নবেম্বর ময়মনসিংহে। তখন তাঁর পিতা ভগবান চন্দ্র বসু ময়মনসিংহ জেলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। তাঁর মায়ের নাম ছিল বামা সুন্দরী। এই মহান বিজ্ঞানী ১৯৩৭ সালের ২৩ নবেম্বর কলকাতায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর কোন সন্তান ছিল না। তার স্ত্রী অবলা বসু মারা যান ১৯৫১ সালে । বিক্রমপুরের এই কৃতী সন্তানের আবিষ্কারে বিশ্ব আজ আলোকিত। এই আলোকবর্তিকা নতুন প্রজন্মকে জানান দিতেই তাঁর জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী রাষ্ট্রীয়ভাবে যথাযথভাবে পালনের দাবি এলাকাবাসীর।
স্থানীয় সংসদ সদস্য সুকুমার রঞ্জন ঘোষ জানান, এ ব্যাপারে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ ছাড়া বিজ্ঞানীর স্মৃতি আঁকড়ে ধরার জন্য স্যার জগদীশ ইনস্টিটিউশনেরও অনেক উন্নয়ন হয়েছে তা আরও বেগবান করা হচ্ছে। বিজ্ঞানীর পৈত্রিক ভবনের পাশেই ১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নতুন একটি ভবন উত্তোলনের কাজ চলছে। এ ছাড়া মূল ফটকের এক পাশে ছবি এবং আরেক পাশে সংক্ষিপ্ত জীবনবৃত্তান্তসহ নতুন ফটক স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্ক করে গড়ে তোলার জন্যও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া এটিকে কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
যুবলীগ চেয়ারম্যানের নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ আশরাফের
চট্টগ্রামে বর্ণাঢ্য যুব জাগরণ কর্মসূচী
স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম চেয়ারম্যান ওমর ফারুকের নির্দেশনা মেনে যুবলীগ নেতাকর্মীদের কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি যুবলীগ কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক অনেক নির্দেশনা দিয়েছেন। আপনারা তাঁর নির্দেশনা মেনে কাজ করলে যুবলীগ একটি আদর্শ সংগঠনে পরিণত হবে। দেশে দক্ষ যুবশক্তি বিনির্মাণে যুবলীগকে দায়িত্ব নিতে হবে। বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার বন্দরনগরী চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হয়েছে যুব জাগরণ কর্মসূচী। নগরীর জিইসি মোড় এলাকার জিইসি কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচীতে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন যুবলীগ চেয়ারম্যান মোঃ ওমর ফারুক চৌধুরী।
সকাল ১০টার পর জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে কর্মসূচীর সূচনা ঘটে। নগরী ও জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে যুবলীগ নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে কর্মসূচীতে অংশ নেন। ব্যাপক সমাগমে অনুষ্ঠানস্থল সরগরম হয়ে ওঠে। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের যুবকদের রাজনীতির শ্রেষ্ঠ সংগঠন হচ্ছে যুবলীগ। দক্ষ ও মেধাবী যুবকদের নিয়ে দেশ বিনির্মাণে যুবলীগকে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি যুবলীগের প্রতিষ্ঠা প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, স্বাধীনতার পর শেখ ফজলুল হক মণির উদ্যোগে এই যুব সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা পায়। যুবলীগ গঠন নিয়ে ছাত্রলীগের মধ্যে তখন ডিবেট হয়েছিল। পরে যুবলীগ প্রতিষ্ঠা করা হয়।
উদ্বোধনী বক্তব্যে যুবলীগ চেয়ারম্যান মোঃ ওমর ফারুক বলেন, শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার মধ্যে তফাৎ কি সেটা সকলকে বুঝতে হবে। শেখ হাসিনা করেন প্রেস কনফারেন্স, আর খালেদা জিয়া করেন প্রেসব্রিফিং। খালেদা শুধু আন্দোলনের হুমকি দেন। তিনি সকাল মানেন না, ফজর মানেন না, রোজা, ইফতার মানেন না, প্রতিনিয়ত আন্দোলনের ডাক দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, বিএনপি তারেক রহমানকে দেশে আনার কথা বলছে, আমরাও বলছি ওয়েলকাম। কিন্তু তারেক রহমানকে দেখছি শুধু বক্তৃতা দিতে। কিন্তু নেতা হতে হলে জনগণের ভালবাসা অর্জন করতে হয়, পুলিশের মারও খেতে হয়। জিয়াউর রহমান রাজনীতিকে রাজনীতিকদের জন্য কঠিন করে গেছেন উল্লেখ করে ওমর ফারুক বলেন, তারেক রহমানের বক্তব্য ভদ্রতাবিবর্জিত। মনে হচ্ছে যত বেয়াদবি তত বড় নেতা। রাজনীতি এখন ম্যানেজের রাজনীতি। পুলিশ-সাংবাদিক ম্যানেজ করতে পারলে বড় নেতা হওয়া যায়।
ওমর ফারুক বলেন, সমুদ্রসীমা জয়ের ফলে আমাদের সমুদ্রসীমা বেড়েছে। এজন্য আগামীতে বহু ফিশিং ট্রলার দেয়া হবে। এসব ট্রলার পাবে দেশের যুব সমাজ।
বিশেষ অতিথি ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, যুবলীগকে সরকারের অর্জন মানুষের সামনে তুলে ধরতে হবে। বর্তমান সরকার দেশকে জঙ্গীবাদমুক্ত করেছে। বিশাল সমুদ্রসীমা অর্জন করেছে। সাবেক মেয়র আলহাজ এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, যুবলীগকে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে মিছিল-সমাবেশ করতে হবে। মানুষের কাছে যেতে হবে। খাওয়া-দাওয়াও করাতে হবে। তবে গরু-ছাগল জবাই করে মেজবান না করার জন্য নেত্রীর নির্দেশও মানতে হবে।
সাবেক মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, কয়েকদিন আগে বিএনপি ঘটা করে তারেক রহমানের জন্মদিন পালন করেছে। আল্লাহর কি বিচার জানি না, যেদিন তারেক রহমানের জন্মদিন সেদিন ছিল বিশ্ব স্যানিটেশন দিবস। অর্থাৎ বিশ্ব টয়লেট দিবস তারেক রহমান দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, লুটপাট ও ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার প্রতীক। চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এমএ সালাম বলেন, গত ডিসেম্বরে আমরা দেখেছি বিএনপি-জামায়াত পেট্রোল বোমা মেরে গরু পুড়িয়েছে। গরুর ট্রাকে বোমা মারা হলো কেন? গরু কি রাজনীতি করে? দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোসলেম উদ্দিন আহমেদ বলেন, যুবলীগের কার্যক্রম প্রশ্নবিদ্ধ হবে কেন। যুবলীগের গৌরবময় অতীত আছে। সে অতীত স্মরণে রেখে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা আমিনুল ইসলাম আমিন, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, যুবলীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য আলতাফ হোসেন বাচ্চু, সৈয়দ মাহমুদুল হক, উত্তর জেলা যুবলীগ সভাপতি এসএম আল মামুন, দক্ষিণ জেলা যুবলীগ সভাপতি আ ম ম টিপু সুলতান চৌধুরী। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন নগর যুবলীগের আহ্বায়ক মোঃ মহিউদ্দিন বাচ্চু।
তিস্তা ব্যারাজে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা স্থাপনের নামে অনিয়ম, দুর্নীতি
নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙ্গে ফেলার পাঁয়তারা
তাহমিন হক ববি, তিস্তা ব্যারাজ থেকে ফিরে ॥ দুই দফায় ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা স্থাপন ও মেরামতের নামে প্রায় সাড়ে ৩১ লাখ টাকা অনিয়ম করা হয়। এর মধ্যে ১/১১ সময় সাড়ে ১২ লাখ টাকার দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এতে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সর্ববৃহৎ সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের অবকাঠামো রক্ষার্থে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডালিয়া ডিবিশনের যান্ত্রিক বিভাগের সাবেক দুই নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে এই অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে । সূত্রমতে ব্যারাজের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বিনষ্ট করতে একটি মহল পাঁয়তারা চালিয়ে যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে তিস্তা ব্যারাজে ওপর অপরাধীচক্র যাতে কোন অপরাধ সংঘটিত করতে না পারে সে জন্য নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য সেখানে আনসার ব্যাটালিয়ান ক্যাম্প স্থাপন করা হয়। এই ক্যাম্পে ২০ জন আনসার সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছে।
অভিযোগ আছে আনসার ক্যাম্পের সদস্যরা সেখানকার প্রভাবশালী একটি চক্রসহ সিবিএ নেতাদের কথায় উঠাবসা করেন। এ অবস্থায় ব্যারাজের ওপর দিয়ে চলাচলকারী যানবাহনসহ দর্শনার্থীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণসহ অপরাধী চিহ্নিত করতে স্থাপন করা হয় ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা। এই ক্যামেরাগুলোর মধ্যে একটি নাকি আবার চুরিও হয়েছে?। এ ছাড়াও ব্যারাজের অনেক কিছুর যন্ত্রাংশ চুরি হয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে স্লুইজগেটের মূল্যবান তার চুরি হয়েছে। এ ব্যাপারে থানায় মামলা হলেও চোর ধরা পড়েনি।
বর্তমানে তিস্তা ব্যারাজের ওপর দেখতে পাওয়া যায় তিনটি সিসিটিভি ক্যামেরা ঝুলছে। কিন্তু এগুলোর কার্যক্রম এবং অস্তিত্ব ঠিক রয়েছে কিনা তা যাচাই করতে গেলে বেরিয়ে পড়ে এর চিত্র। আবার সিসিটিভি পরিচালনার জন্য যে কন্ট্রোল রুম রয়েছে সেখানে দেখা মেলেনি টিভি বা রেকর্ডিং করার কোন যন্ত্রপাতি বা অপারেটর। এসব স্থাপনের নামে যে লাখ লাখ টাকা হরিলুট করা হয়েছে নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র সরাসরি স্বীকার করলেন।
অভিযোগের ভিত্তিতে তিস্তা ব্যারাজ নির্মাণের সময় থেকেই তিস্তা ব্যারাজে কোন সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়নি। অথচ সে সময় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন দেখানো হয়েছিল কাগজপত্রে। এরপর ১/১১ সময় অর্থাৎ ২০০৭ সালের ৩ এপ্রিল তিস্তা ব্যারাজে ৪টি এনালগ সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন দেখানো হয়। সে সময় যান্ত্রিক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী দায়িত্বে থাকা আব্দুস সালাম ‘ফাস্ট কম সাভির্সেস’ নামের ঢাকার একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সিসিটিভি ক্যামেরা প্রতিস্থাপন দেখান। আর এ জন্য ব্যয় দেখানো হয়েছিল ১২ লাখ ৫৩ হাজার ২০০ টাকা। এরপর ওই সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো স্থাপনের তিন মাসের মাথায় আবার বিকল দেখানো হয়। এরপর আর হদিস পাওয়া যায় না সেই সিসিটিভি ক্যামেরাগুলোর। এরপর যান্ত্রিক বিভাগে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসাবে যোগদান করেন নিখিল রঞ্জন সোম। তিনি এসে ওই বিকল সিসি ক্যামেরাগুলোকে কাগজ-কলমে খুঁজে বের করে আনেন। এরপর ওই সব বিকল সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো মেরামতের নামে (কাগজ-কলমে) ২০১২-১৩ অর্থবছরে (প্যাকেজ-গড ০১) প্রকল্প তৈরি করেন। এতে তিনি আবার ৪ লাখ ৮৫ হাজার টাকা ব্যয় দেখিয়ে অদৃশ্যমান বিকল সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো মেরামত দেখিয়ে সচল দেখান। মজার বিষয় ওই অদৃশ্য সিসি ক্যামেরাগুলো মেরামতের পর ওই অর্থবছরেই সেগুলো দেখানো হয় পুরোপুরি অচল। এরপর সিসি ক্যামেরা নতুনভাবে প্রতিস্থাপনে আরেকটি ব্যবসা ফাঁদা হয়। নতুনভাবে তৈরি করা হয় আরেকটি প্রজেক্ট। বরাদ্দ এনে ২০১৩ সালের ৬ জুন ৪টি ডে-নাইট ডিজিটাল ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। এবারও সেই পূর্বের ‘ফাস্ট কম সাভির্সেস’ নামের ঢাকার ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন করে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের ব্যয় দেখানো হয় ১৩ লাখ ৮৭ হাজার টাকা। এর মধ্যে ১টি ক্যামেরার কোন অস্তিত্ব প্রতিস্থাপনের পর থেকে আজ পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে বাকি যে ৩টির রয়েছে সেগুলোর খোলস ব্যারাজে ঝুলছে এমন চিত্র চোখে পড়ে। যে ১টি সিসি ক্যামেরার অস্তিত্ব নেই, সেটিকে চুরি হয়েছে বলে দাবি করেছিলেন উক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী। তবে কখন কিভাবে চুরি হয়েছে সে বিষয়ে থানায় কোন মামলা পর্যন্ত করেননি তিনি। প্রশ্ন উঠে ব্যারাজে রাত দিন ২৪ ঘণ্টা আনসার ব্যাটালিয়ার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা অবস্থায় কিভাবে চুরি যায় এসব।
ফলে দুই দফায় সিসি টিভি ক্যামেরা স্থাপন ও মেরামতের নামে যান্ত্রিক বিভাগের পূর্ববর্তী দুই নির্বাহী প্রকৌশলী যথাক্রমে আব্দুস সালাম ও নিখিল চন্দ্র সোম, ৩১ লাখ ২৫ হাজার ২০০ টাকা হরিলুট করেছে বলে অভিযোগের পাশাপাশি সিসিটিভি স্থাপনের অনিয়ম দুর্নীতির সুষ্ঠু তদন্তের দাবি উঠেছে।
এ ব্যাপারে যান্ত্রিক বিভাগের শাখা কর্মকর্তা রহুল আমিন বলেন, আমি এখানে যোগদানের পর আমাকে তিস্তা ব্যারাজ রক্ষায় সিসিটিভি ক্যামেরা রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেয়া হয়। আমি এসেই তিনটি ক্যামেরা দেখতে পাই। এগুলো সচল না অচল বুঝতে পারি না। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সিসিটিভি ক্যামেরা দেখতে পাওয়া গেলেও এর কন্ট্রোলরুমে কোন অপারেটর বা অন্য কোন যন্ত্রপাতি আজও দেখতে পাননি তিনি।
এ ব্যাপারে যান্ত্রিক বিভাগের বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী আনিছুর রহমানের সঙ্গে কথা বলা হলে তিনি বলেন, আমি চলতি বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি এখানে যোগদান করেছি। এ বিষয়ে কোন তথ্য আমার জানা নেই।
মুদ্রার গায়ে খোদাই করা ইতিহাস নোটে সমাজ সংস্কৃতি
মনোযোগ কাড়ছে ঢাকা জাদুঘর
মোরসালিন মিজান ॥ টাকা কি গাছে ধরে? বহু পুরনো প্রশ্ন। উত্তর-একদমই না। গাছে ধরে না টাকা। যদি ধরত! কেমন দেখতে হতো টাকার গাছ? চারপাশে এত যে ‘টাকা টাকা’, এর শুরুটাইবা কবে থেকে? পয়সাপাতি না হলেই নয়। পয়সাপাতির ইতিহাসটা কী? বাংলার টাকা কড়ি আর বিদেশী টাকা কড়ির মধ্যে মিল অমিল কতটা? টাকার গায়ে কী ইতিহাস খোদাই করা থাকে? কেমন সে ইতিহাস? হ্যাঁ, অসংখ্য প্রশ্ন। তবে উত্তর মিলছে খুব সহজেই। চমৎকার উত্তর করছে টাকা জাদুঘর। এখানে প্রাচীন বাংলার মুদ্রা থেকে শুরু করে আছে আজকের দিনের কড়কড়ে নোট। বাইরের দেশের বিভিন্ন মূল্যমানের মুদ্রা ও নোট আছে। সুন্দর সাজানো। দেখতে দেখতে টাকা কড়ি নয় শুধু, আরও কত কী যে দেখা হয়ে যায়!
টাকা জাদুঘর বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগ। প্রথমে ছোট্ট পরিসরে এটি ছিল মতিঝিলের প্রধান কার্যালয়ে। আরও জনগণের করতে এটি স্থানান্তর করা হয় মিরপুরের বাংলাদেশ ব্যাংক ট্রেনিং একাডেমি ভবনে। এর পর থেকে খুব যে দর্শনার্থী, তা নয়। তবে যে বা যিনি একবার এটি ঘুরে দেখেছেন, নিশ্চিত করে বলা যায়, মুগ্ধও হয়েছেন। একেবারে মূল রাস্তা থেকেই দেখা যায় টাকা জাদুঘরের নাম ধাম। দু’কদম এগোলে দৃশ্যমান হয় টাকার গাছটিও! বিভিন্ন সময়ের, দেশ ও কালের মুদ্রা ফলের মতোই গাছে ধরেছে! ভবনের দেয়ালে স্টেনলেজস্টিলে গড়া নান্দনিক এই শিল্পকর্ম স্বাগত জানায় ভেতরে। ভবনের দ্বিতীয় তলায় মূল জাদুঘর। দুটো গ্যালারি নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে। গত বছরের ৫ অক্টোবর এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এর পর থেকে সকলের জন্য উন্মুক্ত।
জাদুঘরের ভেতরে প্রবেশ করলে প্রথমেই চোখে পড়ে একটি পরিপাটি পরিবেশ। বেশ সুন্দর সাজানো গোছানো। আগ্রহ নিয়ে দেখা শুরু হয় ১ নম্বর গ্যালারি থেকে। এখানে বাংলার প্রাচীন যুগ থেকে শুরু করে এই মুহূর্তের বাংলাদেশ। প্রথম শোকেসটি সাজানো হয়েছে বাংলাদেশ তথা ভারতীয় উপমহাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন মুদ্রা দিয়ে। খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতক থেকে খ্রিস্টাব্দ দ্বিতীয় শতক পর্যন্ত বাংলায় এসব মুদ্রার প্রচলন ছিল। মোট মুদ্রা ৫৪টি। সবই ছাপাঙ্কিত রৌপ্য মুদ্রা। অধিকাংশই গোলাকৃতির। জামার বড় বোতামের মতো দেখতে। তবে ৪টি মুদ্রা আর সব থেকে আলাদা। এগুলো বক্র দ-াকৃতির। আঙ্গুলের লম্বা নখের মতো সামান্য বাঁকা। জানা যায়, গান্ধার জনপদের এসব মুদ্রা গ্যালারিতে নতুন সংযোজিত হয়েছে। ২ নম্বর গ্যালারিতে রয়েছে কুষাণ রাজাদের মুদ্রা। এই রাজারা খ্রিস্টীয় প্রথম শতক থেকে দ্বিতীয় শতক পর্যন্ত ভারতে রাজত্ব করেন। রাজাদের মধ্যে ভীমকদফিস, কনিস্ক, হুবিস্ক ও বাসুদেবের সময় মুদ্রিত ও প্রচলিত মুদ্রা শোকেসে স্থান পেয়েছে। ভাল করে তাকালে দেখা যায়, মুদ্রাগুলোতে সম্রাটের ছবি ও দেবদেবীর মূর্তি আঁকা। শোকেসে আরও রয়েছে গ্রীক দেব দেবীর প্রতিচ্ছবি সংবলিত ইন্দো-পার্সিয়ান ও ইন্দো-গ্রীক মুদ্রা। ৩ নম্বর শোকেসে হরিকেল রাজাদের মুদ্রা। আনুমানিক সপ্তম থেকে অষ্টম শতকে প্রাচীন বাংলায় হরিকেল রাজাদের বসবাস ছিল। তবে এই মুদ্রাগুলো কোন ব্যক্তি বা শাসকের নামে করা হয়নি। স্থান বা রাজ্যের নামে মুদ্রিত হয়েছে। মুদ্রাগুলোর একদিকে ত্রিশূল। অপরদিকে হিন্দুদের আদি দেবতা শিবের বাহন নন্দী বা ষাঁড়ের প্রতিকৃতি। গ্যালারির ৪ নম্বর শোকেসটি তুলে ধরছে দিল্লীর সুলতানদের ইতিহাস। এখানে সুলতান আলাউদ্দীন, মাসুদ শাহ, নাসিরউদ্দীন মাহমুদ শাহ, গিয়াসউদ্দীন বলবন, গিয়াসউদ্দীন তুঘলক শাহ, মুহম্মদ বিন তুঘলক, জালাল উদ্দীন ফিরোজ খিলজী, আলা উদ্দীন মুহম্মদ খিলজী, মুইজ উদ্দীন কায়কোবাদসহ ৮ জন সুলতানের সময়ের মুদ্রা। ৫ নম্বর শোকেসে বাংলার স্বাধীন সুলতানদের মুদ্রা। জানা যায়, সিংহাসনে আরোহণ, রাজ্য জয়সহ নানা উপলক্ষে এসব মুদ্রা প্রচলন করেন তাঁরা। ৬ নম্বর শোকেসে আকবর, জাহাঙ্গীর, শাহজাহান, আওরঙ্গজেব, মুহাম্মদ শাহ, আহম্মদ শাহ বাহাদুরসহ কয়েকজনের মুদ্রা। আকবরে মুদ্রাগুলো দেখতে তেঁতুল বিচির মতো। চার কোন। মুঘল আমলের সমসাময়িক কুচবিহারের রৌপ্য মুদ্রা দিয়ে সাজানো হয়েছে ৭ নম্বর শোকেসটি। ৮ ও ৯ নম্বর শোকেস ব্রিটিশ ভারতীয় মুদ্রা। রৌপ্য তাম্র ও মিশ্র ধাতুর মুদ্রা সেই সময়টিকে তুলে ধরছে। ১০ নম্বর শোকেসে পাকিস্তান আমলের মুদ্রা ও কাগজী নোট। এসব নোটে মসজিদ, জিন্নাহর প্রতিকৃতি প্রধান।
পাকিস্তান যেমন ভেঙ্গেছে তেমনি বিলুপ্ত হয়েছে অনেক দেশ। নাম বদলেছে কোন কোনটি। তবে টাকা রয়ে গেছে। সেই টাকা ডেব ডেব করে তাকিয়ে আছে ১১ নম্বর শোকেসে। এখানে বর্মা, চেকোশ্লোভাকিয়া, যুগোশ্লোভিয়া, সিলোন, জায়ার, ট্রান্সনেশিয়াসহ প্রায় এক ডজন দেশের কাগজী নোট। কিছু নোট নানা বিবেচনায় দুষ্প্রাপ্য। সেগুলোকে আলাদা করে নিয়ে দেখানো হচ্ছে ১২ নম্বর শোকেসে। এখানে সবচেয়ে বড় কাগজী নোটটি। রাশিয়ার নোট। দৈর্ঘ্য প্রস্থ উভয় দিক থেকেই বড়। আর ছোট নোটটি জার্মানির। আছে মরক্কো, বার্মুদা, বুলগিরিয়া, কাজাকিস্তান, সোলেমন দ্বীপপুঞ্জ, ওমান, কাতারের হাউব্রিড ব্যাংক নোট।
এই গ্যালারিতে আছে ৩টি টেবিল শোকেসও। একটি শোকেসে স্বর্ণমুদ্রা চক চক করছে। এগুলো মুঘল সম্রাট শাহজাহান ও সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের শাসনামলে প্রচলিত ছিল। ব্রিটিশ আমলেও প্রচলিত ছিল স্বর্ণমুদ্রা। সেগুলোও এখানে রাখা। টেবিল শোকেসে আরও রয়েছে মুঘল আমলের সমসাময়িক অসম রাজা রুদ্রসিংহ, শিবসিংহ, রাজেশ্বর সিংহ, লক্ষ্মী সিংহ, নরসিংহ ও গৌরীনাথ সিংহের মুদ্রা। ১ নম্বর গ্যালারিতে শোকেস টেবিল শোকেস ছাড়াও আছে ৩টি ডিওরামা। এসবে পণ্য বিনিময় প্রথার বিভিন্ন পর্যায় উপস্থাপন করা হয়েছে। এভাবে দেখা শেষ হয় বাংলা ও বাংলাদেশ পর্ব।
এর পর বিদেশের টাকা কড়ি দিয়ে সাজানো ২ নম্বর গ্যালারি। এখানে দেখার শুরুটা হয় ১৩ নম্বর শোকেস দিয়ে। শোকেসের ভেতরে কাঁচা সোনা রং নোট। গোল্ড ফয়েলের তৈরি অনুকৃতি নোটগুলো আমেরকিা, অস্ট্রেলিয়া ও থাইল্যান্ডের। আছে মালয়েশিয়ার স্বর্ণমুদ্রাও। ১৩ নম্বর শোকেসে মোজাম্বিক, কেনিয়া, আইভোরি কোস্ট, বুরুন্ডি বতসোয়ানা, উগান্ডা, রুয়ান্ডা তিউনিসিয়া নাইজিরিয়াসহ কিছু দেশের প্রচলিত মুদ্রা, ব্যাংক নোট ও নমুনা নোট। ১৪ নম্বর শোকেসে আর্জেন্টিনা, পেরু, গুয়েতেমালা, ভেনিজুয়েলা, উরুগুয়ে, ব্রাজিল, ইকুয়েডর, বলিভিয়া, কিউবা, চিলি প্রভৃতি দেশের নোট ও মুদ্রা। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, লুক্সেমবার্গ, জ্যামাইকা, স্কটল্যান্ড, ইউক্রেন, রোমানিয়া, সুইডেনসহ কিছু দেশের নোট দিয়ে সাজানো হয়েছে ১৫ নম্বর শোকেসটি। ১৬ নম্বর শোকেসে ফ্রান্স, ইতালি, জার্মানি, আইসল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস। ১৭ নম্বর শোকেসে রাশিয়া, ইংল্যান্ড, চেক রিপাবলিক, সাইপ্রাস, স্পেন প্রভৃতি দেশের নোট। গ্যালারি পুরোটা দেখা হলে বাইরের দেশের নোট ও মুদ্রা সম্পর্কে ভাল একটি ধারণা হয়ে যায়। আরও যাঁরা জানতে চান, তাঁদের জন্য রয়েছে টাচ স্ক্রিন ডিজিটাল সাইনেজ ও প্রজেক্টর। শেষটাও বেশ মজার। এ পর্যায়ে আছে টাকার সঙ্গে ছবি তোলার ব্যবস্থা। দর্শনার্থীরা চাইলে ১ লাখ টাকার সুভ্যেনির নোটে নিজেদের আবক্ষ ছবি যুক্ত করতে পারেন। কিছু সময় জাদুঘর ঘুরে ক্লান্ত? আছে ছোট্ট কিন্তু সুন্দর একটি কয়েন কাফে। সেখানে হতে পারে গল্প আর হাল্কা খাবার।
সব মিলিয়ে অনবদ্য টাকা জাদুঘর। এর কিউরেটর রেজাউল করিম জনকণ্ঠকে বলেন, এটি বিশেষায়িত জাদুঘর। দেশে এমন দ্বিতীয়টি নেই। অনেক পরিকল্পনা করে জাদুঘরটি গড়া হয়েছে। শহরের শেষ প্রান্তে হলেও, এখানে এসে যথেষ্ট কৌতূহল নিয়েই টাকা ও মুদ্রা দেখছেন দর্শনার্থীরা। খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছেন। বিশেষ করে আশপাশের স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা নিয়মিত আসছে। টাকা ও মুদ্রা দেখার পাশাপাশি তারা সে সময়ের ইতিহাস সমাজ জীবন ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে পারছে। দর্শনার্থী প্রতিনিয়ত বাড়ছে জানিয়ে তিনি বলেন, এখন প্রতিদিন প্রায় ২০০ দর্শনার্থী জাদুঘর পরিদর্শন করছেন। অচিরেই জাদুঘরটি রাজধানীবাসীর মনোযোগ আকর্ষণ করতে হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সারদায় আইজিপি অধ্যাপক শফিউল হত্যাকাণ্ডে জঙ্গী সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখছে পুলিশ
স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী ॥ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক একেএম শফিউল ইসলাম হত্যা মামলার অনেক অগ্রগতি হয়েছে দাবি করে পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল হাসান মাহমুদ খন্দকার বলেছেন, এ ঘটনায় জঙ্গী সম্পৃক্ততা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। শনিবার রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ৩৪তম বহিরাগত ক্যাডেট সাব ইন্সপেক্টর/২০১৩ ব্যাচের সমাপনী কুচকাওয়াজ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।
আইজিপি আরও বলেন, শিক্ষক শফিউল হত্যাকাণ্ডের ঘটনা গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। এরই মধ্যে অনেক তথ্য পুলিশ পেয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই প্রকাশ করা উচিত হবে না উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক রয়েছে। তিনি জানান, খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে অধ্যাপক শফিউল ইসলাম হত্যাকা-ের রহস্য উন্মোচিত হবে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে হাসান মাহমুদ বলেন, একটি ঘটনা ঘটলে অনেক সময় পুলিশ তাৎক্ষণিক ক্লু উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। আবার অনেক সময় দেরিতে হলেও ঘটনার রহস্য বের করা সম্ভব হয়। তিনি বলেন, শফিউল ইসলামের হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি সততার সঙ্গে পুলিশ তদন্ত করছে। ‘আনসার আল ইসলাম বাংলাদেশ-২’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি পুলিশ পর্যবেক্ষণ করছে।
এর আগে পুলিশের মহাপরিদর্শক হাসান মাহমুদ খন্দকার একাডেমির ৩৪তম বহিরাগত ১ হাজার ৩২১ জন সাব ইন্সপেক্টরের বছর মেয়াদী মৌলিক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে অভিবাদন গ্রহণ, কুচকাওয়াজ পরিদর্শন, বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারীদের পদক প্রদান করেন।
এ অনুষ্ঠানে তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু, তাঁর পরিবারের শহীদ সদস্যসহ মহান মুক্তিযুদ্ধের সকল শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, অপরাধ দমন ও সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষার মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের প্রধান কাজ। বিশ্বায়নের যুগে অর্থনৈতিক উন্নয়ন, নগরায়ন, শিক্ষা ও প্রযুক্তির বিস্তার, যোগাযোগের ক্রমবিকাশের ফলে অপরাধের সংখ্যা ও প্রকৃতিতে ব্যাপক ভিন্নতা এসেছে। ফলে পুলিশের কার্যক্রমে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ যোগ হচ্ছে।
কিছু ক্ষমতাধর অবৈধ অস্ত্র তুলে দিচ্ছে ক্যাডারদের হাতে
শংকর কুমার দে ॥ দেশের সীমান্ত দিয়ে প্রতি বছর প্রবেশ করছে হাজার কোটি টাকার আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ, বোমা ও বোমা প্রস্তুতের উপকরণ। দেশের বিভিন্ন সীমান্তগুলোকেই নিরাপদ জোন হিসেবে বেছে নিয়েছে অবৈধ অস্ত্র ব্যবসায়ী ও জঙ্গীরা। এসব অস্ত্র চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে শিক্ষাঙ্গনের ছাত্র নামধারী রাজনৈতিক সন্ত্রাসী, বিপথগামী যুবক, শীর্ষ সন্ত্রাসী, জঙ্গী সদস্য ও আন্ডারওয়ার্ল্ডে।
সূত্র জানায়, প্রাধান্য বিস্তার, পূর্ব শত্রুতা উদ্ধার, অর্থ ও ক্ষমতার লোভে ক্ষমতাধর কিছু ব্যক্তি পর্দার আড়ালে থেকে এই অবৈধ অস্ত্র ক্যাডারদের কাছে তুলে দিচ্ছে। রাজধানীতে সম্প্রতি গ্রেফতার হয়েছে তিন অস্ত্র ব্যবসায়ী। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে গোয়েন্দা পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া গেছে নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য। গ্রেফতারকৃতরা গোয়েন্দা পুলিশকে আরও জানিয়েছে, খোদ রাজধানীতেই ১৫টি পাইকারি অস্ত্র ব্যবসায়ী রয়েছে। তারা প্রত্যেকেই রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় এই অবৈধ কর্মকা- করছে। ক্রেতাদের কাছ থেকে আগাম টাকাসহ অর্ডার পাওয়ার পর চোরাইপথে ভারত থেকে অস্ত্র আমদানি করে তাদের কাছে সরবরাহ করা হয়। আর এসব কাজ করা হচ্ছে কঠোর গোপনীয়তায়।
দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধ অস্ত্রের উৎস সন্ধান এবং প্রকৃত অপরাধীদের ধরতে মাঠে নামেন গোয়েন্দারা। ওই অনুসন্ধানের ভিত্তিতেই অস্ত্রের ক্রেতা সেজে গোয়েন্দা পুলিশের এসি জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে অস্ত্র ব্যবসায়ী মনিরুজ্জামান শিমুল, কামাল হোসেন ও রুহুল আমিন নামের তিন দুর্ধর্ষ অস্ত্র ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করার পর তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, গত ৪ সেপ্টেম্বর খিলগাঁওয়ে মানি এক্সচেঞ্জ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৩৮ লাখ টাকা ছিনতাই ও তার ছেলেকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় যেসব অস্ত্র ব্যবহৃত হয়েছে তা সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে অবৈধ পথে আমদানি করা হয়েছিল বলে গোয়েন্দারা নিশ্চিত হন। পরে এ ছিনতাইয়ের পরিকল্পনাকারী কাজী সিরাজুল ইসলামকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া অত্যাধুনিক তিনটি ক্ষুদে অস্ত্রই ছিল সম্পূর্ণ নতুন। অস্ত্রগুলো সীমান্তের চোরাইপথে ভারত থেকে অবৈধ পথে আমদানি করা হয়েছিল বলে গোয়েন্দাদের জানান তিনি। এ ছাড়া মগবাজারে ট্রিপল মার্ডারসহ বিভিন্ন ছিনতাই ও ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি এনামুল হক শামীমের ওপর ক্ষুদে অস্ত্র দিয়ে গুলি চালানোর ঘটনাসহ বিভিন্ন ঘটনার আলামত পরীক্ষা করা হয়।
গোয়েন্দাদের কাছে জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত তিন অস্ত্র ব্যবসায়ীর দেয়া জবানবন্দীতে জানা গেছে, অস্ত্র সরবরাহের অর্ডার পাওয়া গেলে মনিরুজ্জামান শিমুল ভারত থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকা দিয়ে অস্ত্র ও গুলি বাংলাদেশে নিয়ে আসে। এরপর অস্ত্র ও গুলি রাজধানীতে এনে কামাল ও রুহুল আমিনের কাছে পৌঁছে দেয়। এরপর যিনি অস্ত্রের অর্ডার দিয়েছেন তাঁর কাছে সেই অস্ত্র পৌঁছে দেয়া হয়।
কৃষিজমিতে ভূমিখেকোদের আগ্রাসন ৩ ॥ ভালুকায় বর্জ্য দূষণে সাড়ে ৫শ’ হেক্টর জমিতে এখন ফসল ফলে না
০ হদিস নেই সাড়ে চার শ’ হেক্টর পতিত জমির
০ জলাভূমি হাতেগোনা
০ মরতে বসেছে একদার খিরু নদী
রাজন ভট্টাচার্য ॥ ভালুকার ১১টি ইউনিয়নের মধ্যে আটটি ইউনিয়নের কৃষিজমি এখন আর খুব একটা ফাঁকা নেই। দিন দিন খোলা মাঠ আর সবুজ প্রান্তর কমে আসছে। অপরিকল্পিত শিল্পায়ন, দখল, বিক্রিসহ নানা কারণে অকৃষি খাতে যাচ্ছে ফসলের জমি। দখল আর বিক্রির কারণে প্রাকৃতিক জলাভূমিও এখন হাতে গোনা। সরকারী হিসেবে প্রায় ৩০ বছরে ফসলি জমি কমেছে আট হাজার হেক্টরের বেশি। প্রায় সাড়ে ৪০০ হেক্টর পতিত খাস জমির হদিস নেই। যে যার সুবিধামতো এই জমি দখলে নিয়েছে। অনেক সময় প্রশাসনের অজান্তেই বেহাত হয়েছে জমি। দখল আর দূষণের মুখে মৃতপ্রায় এক সময়ের খরস্রোতা খিরু নদী। স্থানীয় কৃষি বিভাগের দাবি, সম্প্রতি ১৫ ভাগ কৃষিজমি হ্রাস পেয়েছে। ভরাডেবা এলাকায় অবস্থিত এক্সপেরিয়েন্স মিলের দূষিত বর্জ্যে ইতোমধ্যে সাড়ে পাঁচ শতাধিক কৃষকের ৩৫০ হেক্টর জমিতে আর ফসল হচ্ছে না।
প্রশাসন বলছে, কৃষিজমি সুরক্ষায় আইন না হওয়া পর্যন্ত কিছু করার নেই। কেউ জোর করে জমি দখল করে শিল্পকারখানা স্থাপন করতে চাইলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
জানতে চাইলে ভালুকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল আহসান তালুকদার জনকণ্ঠকে বলেন, দিন দিন এলাকায় কৃষিজমি কমছে, তা সত্য। বাস্তবতা হলো, ব্যক্তিমালিকানাধীন কোন জমি কেউ বিক্রি করলে আমাদের করণীয় কিছু থাকে না। তিনি বলেন, যে পর্যন্ত কৃষিজমি সুরক্ষা আইন পাস না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত জমি রক্ষায় প্রশাসনিক কোন উদ্যোগ নেয়া সম্ভব নয়। আইনের বিভিন্ন দিক থাকবে, সেসব দিক বিবেচনা করেই জমি রক্ষায় উদ্যোগ নেয়া সম্ভব হবে। আইনে কৃষিজমি অকৃতি খাতে যেন না যেতে পারে তা নিশ্চিত করা হবে। আমরা চাই দ্রুত আইনটি পাস করা হোক।
তিনি বলেন, কেউ নিজ থেকে যোগাযোগ না করলে আমরা জানতেও পারি না জমি বিক্রির কথা। ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে আপোসের মধ্য দিয়েই জমি বিক্রি হয়ে থাকে। জোর করে জমি দখলের পর সেখানে কেউ শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপন করতে চাইলে আমরা ব্যবস্থা নিতে পারি। এ ধরনের কোন অভিযোগ পেলে অবশ্যই কৃষিজমি রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
১৯৯০ দশকের হিসেব মতে ভালুকায় আবাদি জমির পরিমাণ ছিল ২৭ হাজার ৯৫৫ হেক্টর। এর মধ্যে আমন, বোরো, সবজি ও ফলের চাষযোগ্য জমি ছিল পুরোটাই। বর্তমানে তা হ্রাস পেয়ে সেচকৃত ১৯ হাজার ৫০০ হেক্টরে এসে দাঁড়িয়েছে। বনভূমি রয়েছে ৯ হাজার ২২৭ হেক্টর এবং পতিত জমি ৪২৫ হেক্টর। অর্থাৎ ১৫ শতাংশ আবাদি জমি হ্রাস পেয়েছে বলে কৃষি বিভাগের দাবি।
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ভালুকা অংশ (মাস্টারবাড়ি নাসির গ্লাস থেকে ভরাডোবা নিশিন্দা বিএসবি স্পিনিং মিল পর্যন্ত ২২ কিলোমিটার কৃষিজমি শিল্পায়নের কারণে এখন আর চেনার উপায় নেই। কৃষিজমিতে গড়ে ওঠা শিল্প কারখানার মধ্যে রয়েছে ভরাডোবার নিশিন্দা এলাকায় বি এস বি স্পিনিং মিল, কৃষিবিদ গ্রুপ, বাশার স্পিনিং মিল, এক্সপেরিয়েন্স টেক্সটাইল মিল, মুলতাজিম স্পিনিং মিল, সীমা স্পিনিং মিল, প্যাট্রিয়ট স্পিনিং মিল, ঢাকা কটন মিল, (কাঠালি) রাসেল স্পিনিং মিল, (ধামশুর) কনজিউমার নিটসহ অন্তত শতাধিক কারখানা আবাদি জমির ওপর গড়ে উঠেছে।
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের দুই পাশে ভালুকা অংশে ব্যাপকভাবে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের আইন অমান্য করে জলাভূমি ভরাট হচ্ছে। এসব জমিতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে শিল্প প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করা হবে। সে প্রস্তুতিই চলছে জোরেসোরে। এদিকে ভরাডোবা এলাকায় অবস্থিত এক্সপেরিয়েন্স মিলের দূষিত বর্জ্যে ইতোমধ্যে ৫৫০ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং জমির পরিমাণ ৩৫০ হেক্টর।
পরিবেশ অধিদফতর ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ভর্তুকি হিসেবে মিল কর্তৃপক্ষকে এক কোটি ৪৯ লাখ টাকা জরিমানাও করেছে। তাছাড়া খিরু নদী পুরোটাই ধ্বংস করে ফেলেছে পৌর এলাকায় অবস্থিত শেফার্ড ডায়িং ইন্ডাস্ট্রিজ, আর্টি ডায়িংসহ কয়েকটি ডায়িং ফ্যাক্টরির বিষাক্ত বর্জ্য।ে এসব ফ্যাক্টরি কর্তৃপক্ষ তাদের ইটিপি স্থাপন করলেও খরচ বাঁচানোর জন্য অধিকাংশ সময়ই ইটিপি বন্ধ রাখে এবং এই দূষিত বর্জ্য সরাসরি খিরু নদীতে ফেলছে।
শিল্প এলাকা হবিরবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মোর্শেদ আলম জনকণ্ঠকে বলেন, চীনে ব্যাপকহারে শিল্পায়ন হচ্ছে। আমাদের দেশের শিল্পায়নের বিকল্প কিছু নেই। নিজ এলাকায় শিল্পের কারণে কৃষিজমি বেহাত হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কৃষিজমি তেমন একটা কমেনি। কৃষকের জমি তাদেরই আছে। তাহলে শিল্পায়ন কোথায় হচ্ছে? এমন প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি। মোর্শেদ আলম পরে বলেন, কৃষিজমি কিছু কমলেও মানুষের জীবনযাত্রার মান বেড়েছে। কেউ কষ্টে নেই। এলাকার অনেকেই সামান্য জমি বিক্রি করে ব্যবসাবাণিজ্য করে ভাল আছেন। কৃষিজমি হ্রাস বিষয়ে ভেবে লাভ নেই বলেও পরামর্শ দেন এই চেয়ারম্যান।
১১ ইউনিয়নই ছিল কৃষিনির্ভর ॥ ভালুকায় ইউনিয়নের সংখ্যা ১১। এক সময়ে সব ইউনিয়নেই কৃষিনির্ভর অর্থনীতি ছিল। এখন পুরো উপজেলায় কৃষিনির্ভর অর্থনীতি বলা যাবে না। আগে শিল্প। তারপর কৃষি। রাজধানীর খুব কাছাকাছি এই থানা। এছাড়া ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল হওয়ায় এলাকার জমিতে শিল্প স্থাপনের রীতিমতো ধুম চলছে। তবে তা আজ থেকেও নেই। অন্তত ২০ বছর ধরে এ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। উপজেলার ১১ ইউনিয়নের মধ্যে এখন পর্যন্ত শিল্পায়ন হয়নি এর সংখ্যা তিনটি। এগুলো হচ্ছে ডাকাতিয়া, কাচিনা ও উথুরা ইউনিয়ন। এর বাইরে আট ইউনিয়নের বেশিরভাগ কৃষিজমি এখন বেহাত হয়ে গেছে।
এছাড়াও ভরাডোবা, হবিরবাড়ি ইউনিয়নের বনের জমি বেহাত হয়েছে অনেক। জমি উদ্ধারে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন তৎপরতা নেই। অভিযোগ আছে, প্রশাসনের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় ভূমিদস্যু চক্র নানা কায়দার এসব জমি হাতিয়ে নিয়েছে; যাকে বলে জীবনের জন্য দান। অফেরতযোগ্য। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মল্লিকবাড়ি কৃষি অধ্যুষিত এলাকা হলেও এখন আর সেই চিত্র নেই। বদলে গেছে এই ইউনিয়ন পরিষদের মাটির প্রকৃতি। ভরাডোবা এলাকায় নির্মিত এক্সপেরিয়েন্স টেক্সটাইলের প্রায় পুরো জমিতেই এক সময় আবাদ হতো। একই ইউনিয়নের যেখানে ঢাকা কটন মিল করা হয়েছে সেখানে পুরোটাই ছিল ডোবা। ধানও হতো প্রচুর। জমি কেনার পর অন্য জায়গা থেকে মাটি এনে ভরাট করা হয়েছে।
খিরু নদীর কান্না ॥ উপজেলায় নদী একটিই। নাম ‘খিরু’। সকলের কাছে প্রিয় নাম এটি। নদীর পরিচিতিও বেশ। যারা একটু প্রকৃতিপ্রেমিক তাদের কাছে নদী নিয়ে ইতিহাস আর গল্পের যেন শেষ নেই। এক সময় খরস্রোতা ছিল নদিটি। দখল, দূষণে নদীটি এখন বেহাল। নাব্য নেই। বর্ষায়ও আগের মতো গর্জন হয় না। হারিয়ে গেছে জীববৈচিত্র্য। বর্ষার কয়েকমাস নৌকার দেখা মিললেও শুকনো মৌসুমে নদীর অনেক স্থানই শুকিয়ে যায়। হেঁটে পারাপার হন স্থানীয় লোকজন।
এলাকাবাসী জানিয়েছেন, এক সময় নদীর দু’পারে অনেক ধানচাষ হতো। ভূমিহীন বা সাধারণ কৃষক নিজেদের মতো করে ধান চাষ করত। নদীর দু’পারে এখন অবৈধ স্থাপনার শেষ নেই; যে যার মতো নদীর জায়গা দখলে নিয়েছে। নির্মাণ করেছে বিভিন্ন ধরনের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে বসতবাড়ি। পার ঘেঁষে যাদের বাড়ি তারা নিজের মনে করেই দখলে নিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমি। কে দেখবে এসব। অর্থাৎ বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধার কেউ নেই।
স্থানীয় লোকজনের ভাষায়, কোথাও ফাঁকা থাকলেও এখন নদীর জমিতে চাষের কোন সুযোগ নেই। এলাকায় যত মিল ফ্যাক্টরি হয়েছে তার বেশিরভাগেরই বর্জ্য বিশুদ্ধ করার কোন ব্যবস্থা নেই। অর্থাৎ কারখানার বিষাক্ত বর্জ্যরে লাইন দেয়া হয়েছে নদীতে। ফল হলো- নদীর পানির রঙ বদলে গেছে। স্বাভাবিক রং হারিয়ে পানি রঙিন হয়েছে। কৃষকের ভাষ্য, রঙিন পানি কৃষিকাজে ব্যবহারের অযোগ্য। পানি বিষাক্ত হওয়ায় জীববৈচিত্র্যও ধ্বংস হয়েছে। পরিস্থিতি এমন যে ১০ বছর পর নদীটির অস্তিত্ব থাকবে কিনা এ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। সব মিলিয়ে মৃত খিরু নদী কাঁদছে। বার বার বাঁচার আকুতি জানাচ্ছে।
সলিমুল্লাহ মেডিক্যালে রোবটে অস্ত্রোপচার
ওপেনহার্ট সার্জারিতে লাগবে না পুরো বুক চেরা
নিখিল মানখিন ॥ দেশে নাক, নাক গলার অস্ত্রোপচারে ব্যবহৃত হতে যাচ্ছে রোবট । সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ শেষে দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশী এক চিকিৎসক। তিনি হলেন ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজের নাক, কান ও গলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ রাজিবুল হক। শীঘ্রই স্বল্প খরচে ও নিরাপদে রোবটের সাহায্যে নাক, কান, গলার অস্ত্রোপচার কার্যক্রম শুরু করা হবে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি রোবটের মাধ্যমে অপারেশনে দেশের চিকিৎসায় আমূল পরিবর্তন আসবে বলেও তিনি মনে করছেন ।
ডাঃ রাজিবুল হক জনকণ্ঠকে জানান, উন্নত দেশে বিভিন্ন ধরনের সার্জারি যেমন- জেনারেল, অর্পোপেডিক, হৃদরোগ, মূত্রথলি সার্জারিতে রোবটের ব্যবহার হয়ে থাকে। এসব ক্ষেত্রে কোন কোন সময় ৬ মিলিমিটার পর্যন্ত দেহ ছিদ্র করার প্রয়োজন হয়। কিন্তু নাক, কান, গলার চিকিৎসায় রোবটের যন্ত্র যখন মানবদেহে ঢোকানো হয় তখন কোন ছিদ্রের প্রয়োজন হয় না। রোবটের হাত বড় ও ৫ মিলিমিটার ডায়ামিটার হওয়ায় খুব সহজেই মুখের ভেতর জায়গা করে নিতে পারে। এমনকি রোবট ৩৬০ ডিগ্রী এ্যাঙ্গেলে ঘুরতে ও অপারেশন করতে সক্ষম। অন্যান্য অপারেশন থেকে রোবটিক সার্জারির প্রধান দিক হলো সার্জন কোন প্রকার যন্ত্রপাতি সরাসরি রোগীর ওপর ব্যবহার করেন না। রোবটই অপারেশন করে। সার্জন দূর থেকে অপারেশন সাইডের থ্রী ডি ভিউ দেখে রোবটের মাধ্যমে অপারেশন করিয়ে নেন। ডাঃ রাজিবুল হক আরও জানান, মানবদেহে যেসব অপারেশন সরাসরি করা করা কঠিন সেসব অপারেশনের জন্যই রোবটের সাহায্য নেয়া হয়ে থাকে। রোবট যন্ত্র সেসব জায়গায় সূক্ষ্ম ও সুন্দরভাবে অপারেশন করতে সক্ষম। এছাড়া চিকিৎসক অপারেশন এলাকা থ্রী ডির মাধ্যমে দেখতে পান বলে ক্ষতস্থান সূক্ষ্মভাবে তার চোখে ধরা পড়ে। নাক, কান ও গলার ক্ষেত্রে রোবটের ব্যবহার চিকিৎসাক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলে তিনি মন্তব্য করেন।
জানা গেছে, ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজের নাক, কান ও গলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ রাজিবুল হক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল থেকে রোবটিক সার্জারির ওপর উন্নত প্রশিক্ষণ নিয়ে সম্প্রতি দেশে ফিরেছেন। তিনি পেনসিলভানিয়া মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডাঃ ওয়াইন স্টেইনের অধীনে এই প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। স্টেইন ২০০৫ সাল থেকে রোবটিক সার্জারির ওপর উচ্চতর গবেষণা করে আসছেন।
সার্জারি বিশেষজ্ঞরা জানান, চিকিৎসা বিজ্ঞানে নানা রোগ নির্ণয় ও সংশ্লিষ্ট কাজে আগে থেকেই রোবটের ব্যবহার শুরু হয়েছে। এবার বিজ্ঞানীরা এমন এক ধরনের রোবট উদ্ভাবন করতে সমর্থ হয়েছেন, যা ব্যবহার করে শরীরের অভ্যন্তরে যাবতীয় রোগ নির্ণয় এবং অস্ত্রোপচারের কাজও সহজেই করা যাবে। স্নেকবট নামের এ রোবট দিয়ে হৃৎপি-, প্রোস্টেট ক্যান্সার বা অন্যান্য রোগের অস্ত্রোপচার করা সম্ভব। ক্যামেরা, কাঁচি, চিমটা এবং নানান ধরনের সেন্সর ছোট্ট এ রোবটগুলোর সঙ্গে সংযুক্ত থাকে। তবে ডাক্তারদের হাতেই থাকবে এই স্নেকবট নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব। এসব রোবটকে যথাযথভাবে প্রোগ্রাম করে নিলে এরা নিজেরাই স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি পূর্ণাঙ্গ অস্ত্রোপচার সফলভাবেই করতে সমর্থ হবে।
বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, বিশেষ ধরনের কাজের জন্য যদি এ ধরনের রোবট বিশেষায়িতভাবে তৈরি করা যায়, তাহলে তা আরও সূক্ষ্মভাবে কাজ করতে সক্ষম হবে। এ ধরনের রোবট আসলে একটি বিশেষ ধরনের টুলস। আর তাই এগুলোকে যথাযথভাবে তৈরি করতে পারলে সঠিক কাজটি করিয়ে নেয়া সম্ভব।
স্নেকবট বা একই ধরনের রোবট ব্যবহার করে অত্যন্ত জটিল অস্ত্রোপচার অনায়াসে ও দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করা সম্ভব। এতে চিকিৎসার খরচও অনেক কমে যাবে । আরও ক্ষুদ্রাকৃতির রোবট তেরিতে নিয়োজিত বিজ্ঞানীরা। এসব রোবটের মাথার আকৃতি হবে দশ সেন্টের কয়েনের চাইতেও ক্ষুদ্র। এই ধরনের ক্ষুদ্রাকৃতির রোবট ব্যবহার করে অস্ত্রোপচার করলে রোগীর শরীরের ওপরও চাপ কম পড়বে এবং সেই সঙ্গে রোগীকে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠতে সহায়তা করবে। উদাহরণস্বরূপ ওপেনহার্ট সার্জারির কথা বলা যায়। সাধারণত এই অস্ত্রোপচার করতে বুকের পুরো অংশটাই কেটে নিতে হয়। আর রোবট ব্যবহার করে এটি করতে রোবটকে প্রবেশ করানোর উপযোগী একটু অংশ কেটে নিলেই হয়। এ ধরনের অপারেশনে যথাযথভাবে টিউমারের অংশটি কেটে ফেলা হয়। পাশাপাশি এসব রোবটের সাহায্যে ঠিক কোন্ কোন্ নার্ভ অক্ষত রাখতে হবে, সেটাও নির্ভুলভাবে নির্ণয় করা সহজ। ভবিষ্যতে এসব রোবটের ব্যবহার আরও বাড়বে। কেননা, এসব রোবটের সাহায্যে এমন সব সূক্ষ্ম কাজ করা যায়, যা সাধারণভাবে হাতে করা যায় না। চিকিৎসা ক্ষেত্রের এসব রোবটের আকার ছোট হয়ে এলেও এসব রোবটের সক্ষমতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। ফলে এসব রোবটের ব্যবহার আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বর্তমানে চিকিৎসা ক্ষেত্রে ব্যবহৃত রোবট শুধুমাত্র কেবলের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। তবে শীঘ্রই এমন ধরনের রোবট আসছে যেগুলো দূর থেকেই নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। তারবিহীন এসব রোবট তেরি হলে সেগুলো আরও বেশি সহজ ও দক্ষতার সঙ্গে চিকিৎসা ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
জনগণের সেবাই আমাদের কাজ ॥ প্রধানমন্ত্রী
বিএসএমএমইউতে দুটি বহির্বিভাগ উদ্বোধন
স্টাফ রিপোর্টার ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জনগণই সিদ্ধান্ত নেবেন, তাঁরা কাকে ভোট দেবেন। দেশ ও জনগণের প্রতি আমাদের দায়িত্ব আমরা পালন করে যাচ্ছি। জনগণের সেবা করাই আমাদের কাজ।
শনিবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি বহির্বিভাগ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উদ্বোধন শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলন হলে দেয়া প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক প্রাণ গোপাল দত্তের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক প্রমুখ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে কমিউনিটি ক্লিনিক বন্ধ করে দেয়া হয়। আমরা সেগুলো পুনরায় চালু করে গ্রামাঞ্চলের লাখ লাখ সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে যাচ্ছি, যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সঙ্গে আরেকটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে আরও দুটি মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করব। ইতোমধ্যে সেই নির্দেশ দেয়া হয়েছে। উন্নত চিকিৎসা সেবা দেয়ার লক্ষ্যে দেশে আরও দুটি মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে। মানুষকে ভালভাবে উন্নত সেবা দিতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া সেনাবাহিনীর যেসব হাসপাতালে ৫শ’ শয্যা রয়েছে সেগুলোকে মেডিক্যাল কলেজ করার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে ২৩টি সরকারী মেডিক্যাল কলেজ আছে। আরও পাঁচটি মেডিক্যাল কলেজ চালুর প্রক্রিয়া চলছে। গত ৬ বছরে ৬টি ডেন্টাল কলেজ, ৫টি হেলথ টেকনোলজি ইনস্টিটিউট, ৭টি নার্সিং কলেজ ও ১২টি নার্সিং ট্রেনিং ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
রোগীদের সঙ্গে চিকিৎসকদের ভাল ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোগী অর্ধেক ভাল হয়ে যায় ভাল ব্যবহার করলে। আপনাদের (চিকিৎসক) ব্যবহারের ওপর রোগীরা ভরসা পায়। সেদিক চিন্তা করেই চিকিৎসা দেবেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১০ সালের ডিসেম্বরে এই আউটডোর কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। প্রায় চার বছরের মাথায় এসে তিনি এই কমপ্লেক্সের উদ্বোধন করেন। এই কমপ্লেক্স উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে রোগীরা আরও উন্নত চিকিৎসা সেবা পাবেন এবং চিকিৎসকরাও উন্নত পরিবেশে রোগীদের সেবা দিতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন শেখ হাসিনা। চিকিৎসায় উৎকর্ষের প্রয়োজনে গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ করে ১৯৯৮ সালের ৩০ এপ্রিল তৎকালীন পিজি হাসপাতালকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় করার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি স্বাধীন দেশে একটি মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় থাকবে নাÑ এটা কিভাবে হয়? সে সময় বিরোধী দলের সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতার কথা মনে করিয়ে দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল।
গবেষণার ওপর আরও গুরুত্ব দিতে চিকিৎসকদের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আমি জানতে পেরেছি গবেষণাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার জন্য এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ইনস্টিটিউশনাল রিভিউ বোর্ড (আইআরবি) গঠন করা হয়েছে। আমি আশা করব চিকিৎসা গবেষণার ক্ষেত্রে আপনারা আরও মনোযোগী হবেন। নার্সিং শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, নার্সের যথেষ্ট ঘাটতি আছে। আরও নার্স নিয়োগ দিতে হবে। আগে নার্সিং ক্ষেত্রে কেউ ভর্তি হতে চাইত না। স্বাস্থ্য সেবায় নার্স প্রয়োজন। আমাদের এখানে রোগী ও চিকিৎসকের তুলনায় নার্সের সংখ্যা কম।
১৯৭২ সালে দেশজুড়ে থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠার যে উদ্যোগ বঙ্গবন্ধু গ্রহণ করেছিলেন তারই ধারাবাহিকতায় কমিউনিটি ক্লিনিক গড়ে তোলা হয় বলে শেখ হাসিনা জানান। শুধু রাজনৈতিক বিবেচনায় ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এসে এই কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো বন্ধ করে দেয় বলে জানান তিনি। বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে এ পর্যন্ত ৮ হাজার ৮৫৭ জন সহকারী সার্জন এবং সহকারী ডেন্টাল সার্জন নিয়োগ দেয়ার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতে এত নিয়োগ কেউ দেয়নি।
ঢাকার কুর্মিটোলায় এবং খিলগাঁওয়ে পৃথক দুটি ৫শ’ শয্যার জেনারেল হাসপাতাল চালুর কথা উল্লেখ করে অনুষ্ঠানে উপস্থিত স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমকে উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী, রেলের একটি নিজস্ব হাসপাতাল রয়েছে। এটাকে শুধু রেলের জন্য না রেখে জেনারেল হাসপাতাল করে দিলে শাহজাহানপুরের লোকজন চিকিৎসা পাবে।ৎ
আইন লঙ্ঘন করে রাস্তা পেরোলেই ॥ জেল জরিমানা
০ সড়ক শৃঙ্খলায় রাজধানীতে চালু হচ্ছে মোবাইল কোর্ট
০ ডিএমপির সচেতনতা সৃষ্টির কার্যক্রম
স্টাফ রিপোর্টার ॥ ফুটওভারব্রিজ ব্যবহার না করে পথচারীদের ইচ্ছেমত পারপার ঠেকাতে আগামী মঙ্গলবার থেকে রাজধানীতে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান শুরু করছে। আইন অমান্যকারীদের বিধি মোতাবেক ৬ মাসের কারাদণ্ড অথবা ২শ’ টাকা জরিমানা করা হবে। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হলে সড়ক দুর্ঘটনা ও যানজট খানিকটা সহনীয় পর্যায়ে আসবে। পাশাপাশি মানুষের মধ্যে আইন মানার পাশাপাশি সচেতনতাও বাড়ার আশা প্রকাশ করেছেন ডিএমপি কমিশনার বেনজীর আহমেদ।
গত শনিবার থেকে আগামী সোমবার পর্যন্ত ঢাকা মহানগর পুলিশ প্রতিটি রাস্তার পাশে সচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু করেছে। এসব কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে মাইকিং করা। প্রতিটি রাস্তার মোড়ে, বাস স্টপেজে মাইক বসিয়ে যানবাহন চলাচল, পথচারীদের চলাফেরা, পারাপার সম্পর্কিত ঘোষণা দেয়ার কাজ করছে পুলিশ। মানুষকে দুর্ঘটনা এড়িয়ে ওভারব্রিজ ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এজন্য রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে বাড়তি পুলিশ কাজ করছে। ট্রাফিক আইন সম্পর্কে মাইকিং চলছে। যততত্র যানবাহন না থামানো এবং যাত্রী নামানো-উঠানো নিষেধ করা হচ্ছে। পুরো ঢাকাতেই চলছে এমন জনসচেতনতা। আগামী সোমবার রাত পর্যন্ত চলবে এমন মাইকিং। মাইকিং করার সময় আগামী মঙ্গলবার থেকে যত্রতত্র পারাপার, যাত্রী উঠানো নামানোসহ ট্রাফিক আইন ভঙ্গকারীদের শাস্তি দিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঠে নামছে বলেও সতর্কবাণী প্রচার করা হচ্ছে।
শনিবার ফুটওভারব্রিজ ব্যবহারে পুলিশের চলমান জনসচেতন-তামূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে ডিএমপি কার্যালয়ে এক আনুষ্ঠানিক সাংবাদিক সম্মেলনে ডিএমপি কমিশনার বেনজীর আহমেদ এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, মঙ্গলবার রূপসী বাংলা হোটেলের সামনে থেকে ফার্মগেট পুলিশ বক্সের সামনের রাস্তা পর্যন্ত একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত কাজ শুরু করবে। ফুটওভারব্রিজ ব্যবহার না করে রাস্তা পারাপার করলে ওই পথচারীকে ছয় মাস কারাদ- অথবা ২শ’ টাকা জরিমানা করার বিধান আছে। কমিশনারের অভিযোগ, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজারের ব্যস্ত সড়কে দেখা গেছে অসংখ্য মানুষ ফুটওভারব্রিজ ও আন্ডারপাস ব্যবহার না করে কেবল হাত উঁচু করে বাস থামিয়ে রাস্তা পার হন। এতে পারাপারকারীদের যেমন জীবনের ঝুঁকি রয়েছে, তেমনি ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাতেও সমস্যার সৃষ্টি হয়। মূলত নগরবাসীকে সচেতন করতেই পুলিশ এই উদ্যোগ নিয়েছে। এ উদ্যোগের ফলে ঢাকাবাসী সচেতন হবেন। আশা করছি, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার না হয়ে ফুটওভারব্রিজ ও আন্ডারপাস ব্যবহার করবেন পথচারীরা। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মারুফ হাসান সরদার, মিলি বিশ্বাস, আবদুল জলিল, মিডিয়া বিভাগের উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমানসহ উর্ধতন পুলিশ কর্মকর্তারা।
রাজধানীর যানজট ও সড়ক দুর্ঘটনা সংক্রান্ত বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ সূত্র বলছে, যানজট নিরসনে সরকারের কাছে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী বেশ কিছু পরিকল্পনা পাঠানো হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুপারিশের কথা বলা হয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব হলে যানজট আস্তে আস্তে কমে আসবে। বর্তমানে রাজধানীতে প্রায় আড়াই কোটি মানুষের বসবাস। মানুষের তুলনায় চলাচলের পর্যাপ্ত সড়ক নেই। আর সড়কের তুলনায় যানবাহনের সংখ্যা বেশি। তাই যানজট নিত্যদিনের সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব না হলে রাজধানী থেকে যানজট কমবে না। তবে ট্রাফিক আইন মেনে চললে সড়ক দুর্ঘটনা ও যানজট কিছুটা কমে আসবে। নগরীতে ৪শ’ ইন্টারসেকশনে ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন থাকার কথা। অথচ এর বিপরীতে মাত্র ৭০টি অটোমেটিক সিগন্যালিং সিস্টেম রয়েছে। এসব সিগন্যালিং পয়েন্ট প্রায়ই নষ্ট থাকে। ট্রাফিক আইন মেনে চলার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করা হলে সড়ক দুর্ঘটনা কমে আসবে।