মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বুধবার, ১৬ এপ্রিল ২০১৪, ৩ বৈশাখ ১৪২১
এডিপির বাস্তবায়ন নয় মাসে ৪৩ শতাংশ
ব্যয় হয়েছে ২৮ হাজার ৩৬০ কোটি টাকা
হামিদ-উজ-জামান মামুন ॥ চলতি অর্থবছরের নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীর (এডিপি) বাস্তবায়ন হয়েছে ৪৩ শতাংশ। যা গত অর্থবছরের একই সময়ের হয়েছিল ৪৯ শতাংশ। তুলনামূলক পর্যালোচনা করলে দেখা যায় ৬ শতাংশ কম বাস্তবায়িত হয়েছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরীবিক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) প্রাথমিক হিসাব থেকে এ সব তথ্য জানা গেছে।
চলতি অর্থবছরের নয় মাসে ব্যয় হয়েছে মোট ২৮ হাজার ৩৬০ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারী তহবিলের ১৮ হাজার ৪২২ কোটি এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ব্যয় করা হয়েছে ৯ হাজার ৯৩৭ কোটি টাকা। শতাংশের দিক থেকে সরকারী তহবিলের অর্থ বাস্তবায়নের হার ৪৫ শতাংশ এবং বৈদেশিক সহায়তা বরাদ্দের বাস্তবায়নের হার দাঁড়িয়েছে ৪০ শতাংশে।
গত অর্থবছরের একই সময়ে অর্থাৎ জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো ব্যয় করেছে মোট ২৭ হাজার ২১৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারী তহবিলের ১৮ হাজার ১০৯ কোটি এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ৯ হাজার ১১০ কোটি টাকা। এ সময় সরকারী তহবিলের অর্থ ব্যয় হয়েছিল মোট বরাদ্দের ৫৪ শতাংশ এবং বৈদেশিক সহায়তার অংশ ব্যয় হয়েছিল ৪২ শতাংশ।
এডিপির বাস্তবায়ন বাড়াতে কী ধরনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনামন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল জনকণ্ঠকে বলেন, এডিপির বাস্তবায়ন বাড়াতেই সংশোধন করা হয়েছে। এটি করা হয়েছে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর চাহিদা ও সম্মতির উপর ভিত্তি করেই। তাই আমি মনে করি শুধু সংখ্যা দিয়েই নয় গুণগত বাস্তবায়ন যাতে নিশ্চিত হয় সেই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রকল্পের কাক্সিক্ষত বাস্তবায়ন বাড়াতে প্রত্যেকটি প্রকল্প ফিজিক্যাল পরিদর্শন বা অডিট করার ব্যবস্থা নিয়েছি।
প্রত্যোক সপ্তাহে একদিন করে আমি নিজেও প্রকল্প পরিদর্শনে যাব। যা ইতোমধ্যই শুরুও করেছি। পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারাও সপ্তাহে অন্তত একদিন প্রকল্প পরিদর্শনে যাবেন। কাজেই সংশোধিত এডিপির বাস্তবায়ন কাক্সিক্ষতই হবে। সূত্র জানায়, গত ৩ এপ্রিল মূল এডিপি কাটছাঁট করে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) বৈঠকে ৬০ হাজার কোটি টাকার সংশোধিত এডিপি (আরএডিপি) অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকারী তহবিলের ৩৮ হাজার ৮০০ কোটি এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ২১ হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয় করা হচ্ছে। ফলে মূল এডিপি থেকে ছেঁটে ফেলা হয়েছে ৫ হাজার ৮৭২ কোটি টাকা।
চলতি অর্থ বছরের মূল এডিপিতে অর্থবরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৬৫ হাজার ৮৭২ কোটি টাকা। এর সঙ্গে এবারই প্রথম স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানসমূহের নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ (স্থানীয় মুদ্রায়) ৮ হাজার ১১২ কোটি টাকা যোগ হওয়ার ফলে মোট এডিপির আকার দাঁড়িয়েছিল ৭৩ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকা। যা ছিল এ যাবতকালের সর্ববৃহৎ। স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের বরাদ্দসহ চলতি অর্থবছরের এডিপিতে গত অর্থবছরের এডিপির চেয়ে বরাদ্দ বেড়েছে ৩৪ দশমিক ৫ শতাংশ। আর স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের বরাদ্দ ছাড়া এডিপির বরাদ্দ বেড়েছিল ১৯ দশমিক ৭৬ শতাংশ।
এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য ড. শামসুল আলম জনকণ্ঠকে বলেন, বর্তমানে এডিপির আকার বেড়েছে। বলা চলে গত অর্থবছরের চেয়ে চলতি অর্থবছরে মূল এডিপির আকার অনেক বেশি। তাই এ বাস্তবায়ন হারকেও কম বলা যায় না।
সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরের আট মাসে (জুলাই- ফেব্রুয়ারি) বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীর (এডিপি) বাস্তবায়ন হয়েছিল ৩৮ শতাংশ। যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৪৪ শতাংশ। তুলনামূলক পর্যালোচনা করলে দেখা যায় এ বছর আট মাসে বাস্তবায়নের হার কমেছে ৬ শতাংশ। কিন্তু ফেব্রুয়ারি মাসের থেকে মার্চ মাসের তুলনা করলে দেখা যায় এক মাসের ব্যবধানে এডিপি বাস্তবায়নের হার বেড়েছে ৫ শতাংশ। অন্যদিকে, চলতি অর্থবছরের ৭ মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) এডিপির বাস্তবায়ন হয়েছিল ৩৩ শতাংশ। সে তুলনায় এক মাসের ব্যবধানে বাস্তবায়ন হার বেড়েছিল ৫ শতাংশ।
স্বৈরশাসক হটিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করাই বিএনপির মূল লক্ষ্য ॥ খালেদা জিয়া
স্টাফ রিপোর্টার ॥ বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া বলেছেন, স্বৈরশাসক হটিয়ে ও দেশের মানুষের জন্য ভোটের অধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করাই বিএনপির মূল লক্ষ্য। সোমবার রাতে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে জাসাস আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
খালেদা জিয়া জাসাস নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, দেশের অবস্থা সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের মাধ্যমে আপনারা তুলে ধরবেন। আমরা দেশ স্বাধীন করেছি। গণতন্ত্র এনেছি। আমাদেরই দেশের স্বাধীনতা রক্ষা করতে হবে। গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার ফিরিয়ে আনতে হবে। স্বৈরশাসককে হটিয়ে গণতন্ত্র ও দেশের মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করাই বিএনপির মূল লক্ষ্য।
জাসাস নেতাকর্মীদের উদ্দেশে খালেদা জিয়া বলেন, আপনারা যেভাবে গীতিনাট্যের মাধ্যমে স্বৈরাচারী সরকারের চরিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন, এটা প্রশংসার দাবিদার। দেশবাসীর সামনেও তা তুলে ধরুন। আমি আপনাদের পাশে থাকব। যে ধরনের সহযোগিতা লাগে তা দেব।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই খালেদা জিয়াকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান বিএনপি ও বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। খালেদা জিয়াও নেতাকর্মীদের নববর্ষের শুভেচ্ছার জবাব দেন। পরে তিনি দর্শক সারিতে বসে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরুর আগে দেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা গীতিনাট্য (পালকি) পরিবেশন করা হয়। এ সময় অফ হোয়াইটের মাঝে লাল রঙের শাড়ি পরা খালেদা জিয়কে বেশ হাস্যোজ্জ্বল ও উৎফুল্ল দেখা যায়। গীতিনাট্যে অভিনয় করেন অভিনেতা বাবুল আহমেদ, আশরাফ উদ্দিন উজ্জ্বল, হেলাল খান, শিবা সানুসহ জাসাসের কর্মীরা। বাংলা নববর্ষ বরণের অনুষ্ঠানে গীতিনাট্য অনুষ্ঠানটি পরিচালনা ও দিকনির্দেশনা দেন বিএনপির সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক গাজী মাজহারুল আনোয়ার।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এএসএম আব্দুল হালিম, বিএনপির অর্থনীতিবিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সালাম, শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন, মহিলা দলের সভাপতি নূরে আরা সাফা, সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, বিএনপির সহ-ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, জাসাসের সভাপতি এমএ মালেক, সাধারণ সম্পাদক মনির খান, যুগ্ম-সম্পাদক সালাউদ্দিন ভূঁইয়া শিশির, ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বজলুল করিম চৌধুরী আবেদ প্রমুখ।
সাঈদীর আপীল শুনানি শেষ
স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরে ঘৃণীত যুদ্ধাপরাধী ‘দেইল্লা রাজাকার’ খ্যাত মৃত্যুদ-প্রাপ্ত জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পক্ষে-বিপক্ষে দায়ের করা দুটি আপীল আবেদনের শুনানি শেষ হয়েছে। মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি মোঃ মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বে পাঁচ বিচারপতির আপীল বেঞ্চে এ শুনানি সমাপ্ত হয়। পরে আদালত বিষয়টি রায়ের জন্য না রেখে ইব্রাহিম কুট্টি হত্যা মামলা-সংক্রান্ত উভয় পক্ষের (রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষ) দুটি আবেদনের আদেশের জন্য আজ বুধবার দিন নির্ধারণ করে।
এর মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষ ইব্রাহিম কুট্টি হত্যার অভিযোগে স্বাধীনতার পর দায়ের হওয়া মামলার দালাল আইনে গঠিত স্পেশাল ট্রাইব্যুনালের নথি তলবের আবেদন করে। আসামিপক্ষ ওই মামলার রেজিস্টার খাতা (জিআর) তলবের আবেদন করে।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। তাঁকে সহায়তা করেন প্রসিকিউশনপক্ষের সমন্বয়ক ও অতিরিক্ত এ্যাটর্নি জেনারেল এম কে রহমান। আসামিপক্ষে শুনানি করেন খন্দকার মাহবুব হোসেন ও এসএম শাহজাহান।
শুনানির একপর্যায়ে আদালত বলে, আমরা আপনাদের আর কত সময় দেব, দিনের পর দিন, মাসের পর মাস আপনারা শুনানি করেছেন। এখন একই বিষয় বার বার বলছেন। আদালত আরও বলে, এটা এ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনাল নয়, এটা আপীল বিভাগ। আমরা এখানে কেবল ট্রাইব্যুনালের মামলার শুনানি করি না, অন্য মামলাও রয়েছে।
সুবহান আমার পিতাকে ছোরা দিয়ে আঘাত করে, পরে সহযোগীরা হত্যা করে
যুদ্ধাপরাধী বিচার
তহুরুল আলমের জবানবন্দী
স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত জামায়াতের নায়েবে আমির আব্দুস সুবহানের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় সাক্ষী আলহাজ তহুরুল আলম মোল্লা জবানবন্দীতে বলেছেন, কিছু লোক আমার বাবাকে টানতে টানতে কয়লার ডিপোটির পাশে একটি জঙ্গলে আড়ালে গর্তের কাছে নিয়ে যায়। তাদের সঙ্গে সুবহানও সেখানে যায়। মতিউর রহমান নিজামীর ঘরটির সামনে দাঁড়িয়ে ছিল। তার পর সুবহান মওলানা একজনের কাছে থেকে ছোরা নিয়ে আমার পিতাকে আঘাত করে। আমার পিতা আল্লাহু আকবর বলে চিৎকার করে ওঠেন। এর পর মওলানা সহযোগীরা ধারাল অস্ত্র দিয়ে আমার পিতাকে কোপাতে থাকে। এরই একপর্যায়ে আমার পিতা পড়ে যান এবং সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। একই মসজিদের সামনে তাঁর মামা হাবিবুর রহমান, ফুপাতো ভাই মতলেব আহমেদ খান ও তাঁর ছেলে নাজমুল হক খানকেও একইভাবে কুপিয়ে বা জবাই করে হত্যা করা হয়। জবানবন্দী শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবী সাক্ষীকে জেরা করেন। আজ আবার অসমাপ্ত জেরা করার জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে। একই মামলায় ফরিদপুরের নগরকান্দা পৌরসভার মেয়র ও বিএনপি নেতা পলাতক জাহিদ হোসেন খোকন রাজাকারের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক (আর্গুমেন্ট) উপস্থাপন অব্যাহত রয়েছে। আজ আবারও প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক অনুষ্ঠিত হবে। মীর কাশেম আলীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তাকে (আইও) আসামিপক্ষের জেরা অব্যাহত রয়েছে। তার জেরা আজ বুধবার পর্যন্ত মুলতবি রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ও ২ এ আদেশগুলো প্রদান করেছে।
আব্দুস সুবহান
প্রসিকিউশনের সাক্ষী তাঁর জবানবন্দীতে বলেন, ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল বিকেলে পাবনার ঈশ্বরদী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সামনে তাঁর বাবা মোয়াজ্জেম হোসেনকে একটি ছোরা দিয়ে আঘাত করেন আব্দুস সুবহান। পরে তাঁর সহযোগীরা ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাঁর বাবাকে হত্যা করে। ওই একই মসজিদের সামনে তাঁর মামা হাবিবুর রহমান, ফুপাতো ভাই মতলেব আহমেদ খান ও তাঁর ছেলে নাজমুল হক খানকেও একইভাবে কুপিয়ে বা জবাই করে হত্যা করা হয় বলেও জানান সাক্ষী তহুরুল আলম মোল্লা।
সাক্ষ্যগ্রহণে ট্রাইব্যুনালকে সহযোগিতা করেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ সিমন এবং রেজিয়া সুলতানা চমন। সাক্ষ্য শেষে সাক্ষীকে জেরা শুরু করেছেন সুবহানের আইনজীবী মিজানুল ইসলাম। সাক্ষী তাঁর জবানবন্দীতে আরও বলেন, বর্তমানে তাঁর বয়স ৬২ বছর। বাড়ি পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলায়। ১৯৭১ সালে তাঁর বড় ভাই জহুরুল আলম ঈশ্বরদী থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং মামা ফকির নুরুল ইসলাম ঈশ্বরদী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। তিনি জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা খোদা বকস খান, মতিউর রহমান নিজামী ও আব্দুস সুবহানকে চিনতেন বলে সাক্ষ্যে জানান।
সাক্ষী আরও বলেন, ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নির্দেশনামূলক বক্তৃতা দেন। এর পরে আওয়ামী লীগ ও স্বাধীনতার সপক্ষের শক্তির সমন্বয়ে একটি সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়। স্থানীয়ভাবে বাঁশের লাঠি ও বিভিন্নজনের লাইসেন্সকৃত অস্ত্র সংগ্রহ করে মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি নেয়া হতে থাকে। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ রাতে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী ও তাদের এ দেশীয় দোসর জামায়াত ও নেজামে ইসলামীর লোকজন পাবনা জেলার পুলিশ লাইনে আক্রমণ করে। এর পর সাধারণ জনগণ ও পুলিশের প্রতিরোধের মুখে ২৯ মার্চ পাকিস্তানী সেনারা টিকতে না পেরে পাবনার মেন্টাল হসপিটালের পেছনে চর এলাকা দিয়ে ঈশ্বরদীর দিকে এগোতে থাকে। এ সময় মাতপুর এলাকা এবং ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়ায় প্রতিরোধকারীদের সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধ হয় পাকিস্তানী সেনাদের। দাশুড়িয়ার যুদ্ধে তিনি নিজে অংশগ্রহণ করেন।
তহুরুল আলম মোল্লা জবানবন্দীতে বলেন, দাশুড়িয়ার যুদ্ধের পরে পলায়নরত পাকিস্তানী সেনা ও তাদের দোসররা গোপালপুর সুগার মিলে আশ্রয় নেয়। ওই সময় তারা ওই মিলের ম্যানেজার আজিম সাহেবসহ বেশ কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীকে হত্যা করে। তাঁদের স্মরণে ‘লোহিত সাগর’ নামে একটি স্মৃতিফলক রয়েছে। ১০ এপ্রিল পর্যন্ত পাবনা ও ঈশ্বরদী পুরো এলাকাটি সংগ্রাম পরিষদের দখলে ছিল। এর পর ১১ এপ্রিল বিভিন্ন সূত্র থেকে খবর পান, পাকিস্তানী সেনাবাহিনী হত্যা, ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে চালাতে এগিয়ে আসছে। ওইদিন বিকেলের মধ্যেই ঈশ্বরদীতে ঢুকে পড়ে পাকিস্তানী বাহিনী। এ অবস্থায় মামা ফকির নুরুল ইসলাম ও ভাই জহুরুল আলমের সঙ্গে তিলকপুরে চলে যান তাঁর মা। আর অন্য ভাই-বোনেরা আগে থেকেই সেখানে এক আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন।
সাক্ষী জবানবন্দীতে আরও বলেন, ১২ এপ্রিল ঈশ্বরদীতে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী, জামায়াত, মুসলিম লীগ এবং বিহারীরা ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে থাকে। ওই সময় ঈশ্বরদী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে আশ্রয় নেন তাঁর বাবা মোয়াজ্জেম হোসেন, মামা হাবিবুর রহমান, ফুপাতো ভাই মতলেব আহমেদ খান ও ভাতিজা নাজমুল হক খান হেলাল। এর পর ১৩ তারিখ সকালে তাঁর বাবাসহ ঈশ্বরদীতে আটকে পড়া অন্যদের তিলকপুর নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশে বন্ধু ফজলুর রহমান ফান্টুকে নিয়ে ঈশ্বরদী রওনা দেন তিনি। ঈশ্বরদী জামে মসজিদের পাশে ফুপুর বাসায় ঢুকতে গেলে স্থানীয় এক বৃদ্ধের কাছে জানতে পারেন, মসজিদের পাশে এক পরিত্যক্ত ঘরে টর্চারসেল বানিয়ে খোদা বক্সের নেতৃত্বে তালিকা তৈরি করে মানুষ হত্যা করা হচ্ছে। মওলানা সুবহান ও মতিউর রহমান নিজামীর পরামর্শে এসব হত্যাকা- চালাচ্ছেন খোদা বক্স ও তার লোকজন।
তহুরুল আলম বলেন, এই বৃদ্ধ আমাকে আরও জানিয়েছিলেন, ১২ এপ্রিল সুবহান মওলানা ও মতিউর রহমান নিজামীর পরামর্শক্রমে খোদা বক্স ও তার লোকজন আমার মামা হাবিবুর রহমানকে মসজিদ থেকে বের করে নিয়ে হত্যা করেছেন। এ কথা শোনার পর আমাদের গন্তব্যের দিকে না গিয়ে মসজিদের কাছ থেকেই তিলকপুরের দিকে চলে আসি। ১৭ এপ্রিল আবারও বন্ধু ফান্টুকে নিয়ে ঈশ্বরদী যাই এবং বিকেলে মসজিদের সামনের একটি কয়লার ডিপোর কাছে আসি। জায়গাটি জঙ্গলপূর্ণ ছিল। এরই দক্ষিণ দিকে পরিত্যক্ত ঘরটিতে টর্চারসেল বানানো হয়েছিল।
তিনি বলেন, ঘরটির সামনে একটি সাদা গাড়ি দেখতে পাই। সেখানে মওলানা সুবহান, মতিউর রহমান নিজামীকে গাড়ি থেকে নেমে ঘরটির ভেতরে ঢুকতে দেখি। এর কিছুক্ষণ পর খোদা বক্সসহ সুবহান ও মতিউর রহমান নিজামী মসজিদে নামাজ পড়তে ঢোকেন। নামাজ শেষে তারা বেরিয়ে আসার পরে পরিত্যক্ত ঘরটির সামনে দাঁড়ান। এর পর তারা আমার বাবাকে মসজিদ থেকে টানতে টানতে বের করে মসজিদের পাশে কয়লার ডিপোর পাশে একটি গর্তের মতো জায়গায় নিয়ে যান। কাঁদতে কাঁদতে বাবার হত্যাকা-ের বর্ণনা দিয়ে তহুরুল আলম বলেন, মওলানা সুবহানও সেখানে যান। মতিউর রহমান নিজামী ঘরটির সামনে দাঁড়িয়েছিলেন। সুবহান একজনের কাছ থেকে একটি ছোরা নিয়ে বাবাকে আঘাত করতেই তিনি আল্লাহু আকবর বলে চিৎকার দিয়ে ওঠেন। এর পর সুবহানের সহযোগীরা বাবাকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে কোপাতে থাকে এবং একপর্যায়ে তার মৃত্যু হয়। এর পর ১৮ এপ্রিল বাবার লাশ আনার উদ্দেশে গিয়ে একই জায়গায়, একইভাবে সাক্ষী তাঁর ফুপাতো ভাই মতলেব আহমেদ খান ও তাঁর ছেলে নাজমুল হক খান হেলালকে নৃশংসভাবে হত্যা করতে দেখেন। সাক্ষ্য দেয়ার একপর্যায়ে ডকে থাকা আব্দুস সুবহানকে শনাক্ত করেন সাক্ষী।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে জবানবন্দী দিয়েছিলেন বলেও উল্লেখ করেন।
জিএসপি পুনর্বহাল এ্যাকশন প্ল্যান পাঠানো হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে
টিকফা ফোরামের প্রথম বৈঠকে দাবি করবে সরকার
এম শাহজাহান ॥ জিএসপি সুবিধা পুনর্বহালে বাংলাদেশ এ্যাকশন প্ল্যানের চূড়ান্ত প্রতিবেদন যুক্তরাষ্ট্রে পাঠিয়ে দিয়েছে সরকার। আশা করা হচ্ছে, চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ওপর শুনানি শেষে ইউএসটিআর জিএসপি সুবিধা ফিরিয়ে দেবে। এ ছাড়া টিকফা ফোরামের প্রথম বৈঠকে জিএসপি পুনর্বহালের জোর দাবি করবে সরকার। টিকফা কার্যকর ও ফলপ্রসূ করতে সরকারের পক্ষ থেকে জিএসপি সুবিধা ফিরিয়ে দেয়ার প্রস্তাব করা হবে। আগামী ২৭ এপ্রিল ঢাকায় টিকফা ফোরামের প্রথম বৈঠকের দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হয়েছে।
জানা গেছে, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের অনুমোদনের পর মঙ্গলবার বাংলাদেশ এ্যাকশন প্ল্যানের প্রতিবেদনটি অনলাইনে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য দফতর ইউএসটিআরে পাঠানো হয়েছে। এ্যাকশন প্ল্যানের ১৬টি শর্তের বাস্তবায়ন অগ্রগতি সন্তোষজনক দাবি করে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, কিছু কিছু শর্ত পুরোপুরি বাস্তবায়নে কিছুটা সময় লাগবে। কিন্তু এগুলো চলমান প্রক্রিয়া। এখন রাজনৈতিকভাবে বিবেচনা না করে অর্থনৈতিকভাবে বিবেচনা করলে আমরা জিএসপি ফিরে পাব। তিনি আরও বলেন, যে সব শর্ত এখনও পূরণ করা হয়নি, তার কারণ এবং কেন সময় লাগছে, সে সম্পর্কেও প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
সূত্র মতে, বাংলাদেশ এ্যাকশন প্ল্যানের শর্তপূরণে বাংলাদেশের অগ্রগতিতে সন্তুষ্ট যুক্তরাষ্ট্র সরকার। এতে দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধি পাওয়ার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া আগামী ২৭ এপ্রিল ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য টিকফা ফোরামের প্রথম বৈঠকেই এ সংক্রান্ত একটি রূপরেখা তুলে ধরা হবে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কার্যপত্র তৈরি করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও দুই দেশের বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নে একটি মডেল উপস্থাপন করা হতে পারে। জিএসপি ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে টানাপোড়েন চলছে টিকফা ফোরামের বৈঠকের মধ্য দিয়ে তার অবসান হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মূল জিএসপি কর্মসূচী ২০১৩ সালের ৩১ জুলাই মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে। এতে এমনিতেই বিশ্বের প্রায় ১২৭টি দেশ পণ্য রফতানিতে যুক্তরাষ্ট্রের জিএসপি বা শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা পাচ্ছে না। তবে জিএসপির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই যুক্তরাষ্ট্র প্রায় সব দেশের জিএসপি সুবিধা বাতিল করে দেয়। এক্ষেত্রে কারখানার কর্মপরিবেশ এবং শ্রম অধিকার ইস্যুতে বাংলাদেশেরও জিএসপি সুবিধা স্থগিত করা হয়। এখন নতুন করে যদি আবার জিএসপি সুবিধা দেয় তাহলে বাংলাদেশ জিএসপি সুবিধা ফিরে পাবে।
সূত্র মতে, যুক্তরাষ্ট্রের মূল জিএসপি কর্মসূচী নবায়নসংক্রান্ত বিল এবং ১৯৭৪ সাল থেকে অকার্যকর ট্রেড প্রমোশন অথরিটি (টিপিএ) বিল কংগ্রেসের উভয় কক্ষে পাস হতে হবে। আর তা না হলে যুক্তরাষ্ট্র সরকার আর কোন দেশকেই জিএসপি সুবিধা ফিরিয়ে দিতে পারবে না। ফলে দেশটির বাণিজ্য দফতর ইউনাইটেড স্টেটস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ-ইউএসটিআর বাংলাদেশের প্রতিবেদনের ওপর শুনানি করতে পারবে কিনা, সেটাও প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, জিএসপির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই যুক্তরাষ্ট্র প্রায় সব দেশের জিএসপি সুবিধা বাতিল করে দেয়। এখন নতুন করে যদি আবার জিএসপি সুবিধা দেয় তাহলে বাংলাদেশও পাবে- যদি এর মধ্যে রাজনীতি ঢুকে না পড়ে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, টিকফা ফোরামের প্রথম বৈঠকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে জিএসপি ফিরিয়ে দেয়ার অনুরোধ করবে বাংলাদেশ। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হবে, জিএসপি ফিরিয়ে দিতে যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া এ্যাকশন প্ল্যানের ১৬টি শর্ত পূরণ করতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি শর্তগুলো শতভাগ বাস্তবায়নে কাজ করছে সরকার এবং মালিক পক্ষ। এ সংক্রান্ত ইউএসটিআরে যে চূড়ান্ত জবাব দেয়া হয়েছে সে বিষয়েও যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে জানিয়ে দেয়া হবে।
এ প্রসঙ্গে সম্প্রতি সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে। এ লক্ষ্যেই টিকফা চুক্তি করা হয়েছে। টিকফা ফোরামের প্রথম বৈঠকেই বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বাণিজ্য বৃদ্ধিতে জোর দেয়া হবে। তিনি বলেন, শুধু পোশাক নয়, রফতানিযোগ্য সব পণ্য যাতে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে পারে টিকফা ফোরামের বৈঠকে সে বিষয়ে আলোচনা হবে। বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রফতানিতে জিএসপি ইস্যু এখন বড় সমস্যা। টিকফা ফোরামের বৈঠকে এই সমস্যা নিয়েও বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আলোচনা করা হবে।
সূত্র মতে, টিকফা চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধিতে সরকার কাজ করছে। এ কারণে টিকফা ফোরামের প্রথম বৈঠকে শুধু জিএসপি নয়, গুরুত্ব পাচ্ছে বাণিজ্য ও বিনিয়োগসংক্রান্ত ইস্যুও। আলোচনায় আসতে পারে নিরাপত্তা, এনার্জি কো-অপারেশন, জলবায়ু তহবিল এবং শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধায় পোশাক রফতানি। এ ছাড়া দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য কিভাবে বাড়ানো যায় সে বিষয়ে আলোচনা করবে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সরকার।
জানা গেছে, টিকফা (ট্রেড এ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ফ্রেমওয়ার্ক কো-অপারেশন এগ্রিমেন্ট) ফোরামের বৈঠকে জিএসপি নিয়ে আলোচনা করতে রাজি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের এজেন্ডার মধ্যেও স্থান পেয়েছে জিএসপি (জেনারালাইসড সিস্টেম অব প্রেফারেন্সেস) ও শ্রমিকসংক্রান্ত কমিটি নিয়ে আলোচনা। এর বাইরে যুক্তরাষ্ট্র অর্থনীতিতে নারীর ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে আলোচনা করবে। বাংলাদেশে স্থগিত হওয়া জিএসপি সুবিধা পুনরুদ্ধারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া এ্যাকশন প্ল্যানের ১৬ দফা কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন পরিস্থিতি ও পর্যালোচনা অগ্রগতি এবং এ বিষয়ে পরবর্তী করণীয় নিয়ে আলোচনা করতে আগ্রহী দেশটি। এ ছাড়া দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগের বিভিন্ন বিষয় ও পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে আলোচনা করা হবে।
এ প্রসঙ্গে সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এক বৈঠক শেষে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজেনা বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধিতে যুক্তরাষ্ট্র সরকার কাজ করছে। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্র এ দেশে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। টিকফা ফোরামের প্রথম বৈঠকে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র তার অবস্থান আরও ব্যাখ্যা করবে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বরাবরই ভাল। তার পরও এই সম্পর্ক কিভাবে আরও বাড়ানো যায় সেটা নিয়েও আলোচনা চলছে।
জানা গেছে, আগামী ২৭ এপ্রিল রাজধানী ঢাকায় টিকফা ফোরামের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এক দফা তারিখ পরিবর্তন করে নতুন এই সময়সূচী নির্ধারণ করা হয়েছে। টিকফা সভায় অংশ নিতে আগামী ২৪ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের ১২-১৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকায় আসবেন। বাংলাদেশের শ্রম পরিস্থিতি সরেজমিন দেখতে কয়েকটি পোশাক ও চিংড়ি প্রক্রিয়াকরণ কারখানা ঘুরে দেখবে ওই প্রতিনিধি দলটি। এ সময় বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন এবং কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদফতর, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের সঙ্গেও আলাদাভাবে বৈঠক করবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা।
জানা গেছে, ঢাকায় অনুষ্ঠেয় এ বৈঠকে জিএসপি সুবিধা ফিরে পাওয়ার ওপর জোর দেবে বাংলাদেশ। এ ছাড়া এ সুবিধা ফিরে পেতে বাংলাদেশ এ্যাকশন প্ল্যানের কর্মপরিকল্পনার অগ্রগতিও তুলে ধরা হবে।
গত বছরের নবেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের টিকফা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি বাস্তবায়নে এরই মধ্যে একটি ফোরাম গঠন করা হয়েছে। এ ফোরামের নিয়মিতভাবে বছরে কমপক্ষে একবার বৈঠক করার কথা রয়েছে। বৈঠকে প্রতিনিধিত্ব করবে বাংলাদেশের পক্ষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দল (ইউএসটিআর)। এ প্রসঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক উর্ধতন কর্মকর্তা জনকণ্ঠকে বলেন, টিকফার আলোচ্য সূচী হিসেবে ইতোমধ্যে কয়েকটি বিষয় চূড়ান্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রথমেই থাকবে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের রফতানি পণ্যের শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত রফতানি সুবিধা দাবি। বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এ দাবি জানিয়ে আসছে। এর জন্য পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ যুক্তরাষ্ট্রে লবিস্টও নিয়োগ করেছে একাধিকবার। কিন্তু এ ইস্যুতে আলোচনার ক্ষেত্র তৈরির জন্য দেশটি বরাবরই টিকফা স্বাক্ষরের পরামর্শ দিয়েছে। এবার টিকফার প্রথম বৈঠকেই বাংলাদেশ এ দাবিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে। এ ছাড়া শুল্কমুক্ত সুবিধার ক্ষেত্রে রুলস অব অরিজিন প্রণয়নে যুক্তরাষ্ট্র সরকার যেন বাংলাদেশের প্রতি নমনীয় হয়, সে বিষয়ে নজর দেবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
একই সঙ্গে ট্রিপস চুক্তির আওতায় ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের ওষুধশিল্প পেটেন্ট নিবন্ধনের ক্ষেত্রে সুবিধা ভোগ করে আসছে। তাই নির্ধারিত সময়ের পর ট্রিপস চুক্তি প্রতিপালনের বাধ্যবাধকতা অনারোপের জন্য ট্রানজিশন সময় বাড়ানোর ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন চাওয়ার বিষয়টিও চূড়ান্ত করেছে সরকার।
জানা গেছে, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়াতে ইতোমধ্যে অংশীদারিত্ব সংলাপ হয়েছে। সেখানে দেশের রফতানি বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও জ্বালানি খাতের ভবিষ্যত নিয়ে আলোচনা করা হয়। এবারের টিকফা ফোরামের আলোচনায়ও এ বিষয়গুলো ফের আলোচনা করা হতে পারে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় প্রচলিত মার্কেট হচ্ছে ইইউভুক্ত দেশগুলো। যেখানে পোশাক রফতানি হচ্ছে ৫৮ শতাংশ। এর পরই রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান। এই দেশটিতে ২৬-২৭ ভাগ পোশাক রফতানি হয়। এ ছাড়া কানাডায় রফতানি হচ্ছে মাত্র ৪-৫ শতাংশ পোশাক। কিন্তু এলডিসি বা স্বল্পোন্নত দেশ হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশ শুল্ক ও কোটামুক্ত বা জিএসপি সুবিধায় পোশাক রফতানির সুযোগ পাচ্ছে না।
দেখা হলো বহুদিন পর-বাধা হতে পারেনি কাঁটাতারের বেড়া
সীমান্তে বৈশাখী মিলনমেলা
জনকণ্ঠ ফিচার ॥ বাংলা নতুন বছরের আগামনী দিনে সোমবার দিনভর বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের বিভিন্ন এলাকা মেতে উঠেছিল অনাবিল আনন্দ উৎসবে। দিনটি পরিণত হয়েছিল দুই দেশের বাংলা ভাষাভাষী নারী-পুরুষের মিলন মেলায়। সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া এদিন কারও জন্য বাধার দেয়াল হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। এদিন সীমান্ত আইনও যেন ছিল শিথিল। ফলে বছরের এই একটি দিন দুই পারের মানুষ প্রাণ খুলে মানবতা আর ভ্রাতৃত্বের নিবিড় বন্ধনে আবদ্ধ হয়। এক সঙ্গে কাটিয়ে দেয় কয়েক ঘণ্টা বিনিময় করে পরস্পরের আবেগ আর ভাবের। শুধু কি তাই, দুই বাংলার হাজারও মানুষ এদিন তাদের অদেখা আত্মীয়-পরিজনকে নতুন প্রজন্মের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন, উপহার দেন নানা সামগ্রী।
এসএম জসিম উদ্দিন ঠাকুরগাঁও থেকে জানান, বাংলা নতুন বছরের আগমন উপলক্ষে ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলায় মঙ্গলবার ভারত-বাংলদেশ সীমান্তে তাঁরকাটা বেড়ার উভয়পার্শ্বে দুই দেশের আত্মীয়-স্বজনদের দেখা সাক্ষাত ও মতবিনিময় লক্ষ্যে ক্ষণিকের জন্য এক মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সরকারী হিসেব অনুযায়ী গত সোমবার বাংলাদেশে পহেলা বৈশাখ পালিত হলেও বর্ষপুঞ্জি অনুযায়ী পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র ভারতে পহেলা বৈশাখী পালিত হয় মঙ্গলবার। এ কারণে সোমবার ভারতীয় বিএসএফ সীমান্তে কাউকে যেতে দেয়নি। মঙ্গলবার সকাল থেকে দুই দেশের সীমান্তগুলোতে জড় হতে থাকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল হতে আসা হাজার হাজার মানুষ। প্রচ- তাপদাহেও হার মানাতে পারেনি কাউকে। সীমান্তে প্রসাশনও হিমশিম খায় তাদের ঠেকাতে। ভারতের লোকসভা নির্বাচনের কারণে সীমান্তের এলাকাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা জোরদার ও অতিরিক্ত বিএসএফ মোতায়ন করেছেন সে দেশের সরকার সীমান্তে নাশকরা এড়াতে। তাই সরকারীভাবে কোনভাবে দুই দেশের মানুষকে একত্রিত হওয়ার কোন অনুমতি ছিল না। অবশেষে বাধ্য হয়ে বিএসএফ দুই দেশের হাজার হাজার মানুষের ঢল দেখে আবেগে বসিভূত হয়ে কিছু সময়ের জন্য তাঁরকাটার এপার ওপারে দু’দেশের মানুষের কথা বলার সুযোগ করে দেয় দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। এ সময় সীমান্ত দেখে মনে হয় এ যেন এক মহামিলন মেলা। সীমান্তের মেলা উপলক্ষে সীমান্তে কিছুক্ষণের জন্য বসেছিল শাড়ি, লুঙ্গি, ফল ও মিষ্টি মিষ্টান্নের দোকান।
উপজেলার লখড়া গ্রামের আহসান (৩৫) তার দাদি শাশুড়ির জন্য একটি টাঙ্গাইল শাড়ি কিনে দিয়েছেন। সে এসেছিল মুরশিদাবাদ জেলা থেকে। মিনাপুর গ্রামের আলহাজ হালিম তার মামা সামসুদ্দিনের সঙ্গে দেখা করেছে, সে এসেছিল দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ থানার তাজপুর গ্রাম থেকে। ২৫ বছর পর তার সঙ্গে এ প্রথম দেখা হলো। এভাবে হাজার হাজার মানুষ স্থান বিশেষে বিচ্ছিন্নভাবে হরিপুর উপজলোর ২ বিজিবি কারীগাঁও সীমান্তের ৩৫৬ মেইন পিলারের বিপরীতে ভারতীয় বসতপুর বিএসএফ ক্যাম্পের অনুকূলে প্রায় ১ কিমি. এলাকাজুড়ে মেলা বসে। অপরদিক, ভারতীয় ১২১ ব্যাটালিয়ন কুকরাদহ বিএসএফ ক্যাম্পের অনুকূলে ৩০ বিজিবি মলানী ডাবরী সীমান্তের ৩৬৩, ৩৬৬ মেইন পিলার এলাকায় ১ কিমি. ও বেতনা সীমান্তের ৩৬৭ পিলার এলাকায় প্রায় ১ কিমি. এলাকাজুড়ে মিলনমেলা বসে। মানুষ তাদের স্বজনদের সঙ্গে দেখা করে কথা বলে। এ সময় অনেকে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে আবার কেউ উল্লাসে মেতে উঠে। এভাবে চলতে থাকে দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। এ যেন দুই দেশের বাঙালী সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য লালিত পহেলা বৈশাখের সীমান্তের মিলনমেলার উৎসব।
এ বিষয়ে ২ বিজিবি কারীগাঁও ও ৩০ বিজিবি মলানী কোম্পানি কমান্ডাকে জিজ্ঞাসা করা হলে তারা বলেন, সরকারীভাবে কোন অনুমতি ছিল না। আমরা শুনেছি মানুষ বিচ্ছিন্নভাবে সীমান্তে গিয়ে তাদের স্বজনদের সঙ্গে দেখা করে কথা বলেছে। আমাদের জনবল কম থাকায় আমরা তা সামাল দিতে পারিনি। তবে কোন প্রকার অপ্রতিকর ঘটনা ছাড়াই তা শেষ হয়েছে।
এ রহমান মুকুল, পঞ্চগড় থেকে জানান, হার মানে কাঁটাতারের বেড়া। তবুও নাড়ির টানে ছুটে আসা। ভৌগলিক সীমারেখার বেড়াজালে বন্দী দুই বাংলার মানুষ বাংলা নববর্ষের দিনটির জন্য অপেক্ষায় থাকে। মা ও মেয়ের মধ্যে দেখা হলো অনেকদিন পর। হাতের স্পর্শের মাঝে কাঁটাতারের বেড়া থাকলেও তা মনের স্পর্শে হার মেনে গেছে। মা ও মেয়ের মতো সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া আলাদা করে রাখলেও মায়া-মমতা আর ভ্রাতৃত্বের নিবিড় বন্ধনে আবদ্ধ দুই বাংলার ছুটে আসা হাজারো নারী-পুরুষ, আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা প্রতিবছর নববর্ষের এ দিনটিতে সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া ঘেঁষে ভিড় করে। কয়েক ঘণ্টার জন্য বসে মিলনমেলা। দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও সীমান্ত আইন তাদের এ মিলনমেলায় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। কাঁটাতারের দুই পাশে দাঁড়ানো স্বজন একে অন্যকে দেখে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। দিদি, দাদু, কাকা-চাচু, আপু-দুলাভাই, জামাইবাবু কেমন আছিস তোরা। অনেকদিন পর দেখা। বাবা-মার শরীর কেমন। ভিসা করতে দিয়েছি। কিন্তু ভিসা জটিলতায় তিনমাসেও ভিসা পাইনি। ভিসা পেলেই যাচ্ছি। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার ভেলাকোপা থেকে আসা মামা হরানন্দ বাংলাদেশের পঞ্চগড় পৌরসভার জালাসীপাড়া গ্রামে বসবাসকারী ভাগ্নে জয়দেবের সঙ্গে দেখা করলেন। এক বছর পর মামা-ভাগ্নের দেখা। জয়দেব সঙ্গে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে গেছেন মামার সঙ্গে পরিচয় করে দিতে। হরানন্দের এই প্রথম ভাগ্নে বউকে দেখা। তুলারডাঙ্গা গ্রামের মনসুর কাঁটাতারের বেড়ার কাছে জলপাইগুড়ি ছোবারহাটে বসবাসকারী শাশুড়ি মকছেদার সঙ্গে দেখা করতে যান। তিনবছর পর জামাই-শাশুড়ির দেখা। দিনাজপুর জেলার খানসামা থেকে আসা মা কবিতা রানী দেখা করলেন জলপাইগুড়ির গোয়ালবাড়িতে বসবাসকারী মেয়ে কৃষ্ণা রানীর সঙ্গে। দীর্ঘ ৭ বছর পর মা ও মেয়ের দেখা। কাঁটাতারের ফাঁক গলিয়ে মা হাত বাড়িয়ে দেন মেয়ের হাতের স্পর্শ পেতে। শক্ত করে হাত চেপে ধরে মা ও মেয়ে দুইজনই আনন্দের কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। শুধু কষ্ণা, মকছেদা আর হরানন্দই নন, প্রায় চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে দুই বাংলার ছুটে আসা লাখো মানুষ তাদের স্বজনদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাত করেন। কাঁটাতারের বেড়া ঘেঁষে দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ নিজেদের স্বজনকে খুঁজে বের করে কুশলবিনিময় ছাড়াও প্রিয়জনদের সামর্থ্য অনুযায়ী উপহার সামগ্রী তুলে দেয়ার সুযোগ হাতছাড়া করেনি।
দুই বাংলার মানুষের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কয়েকবছর ধরে বিএসএফ-বিজিবি জেলা শহর থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে অমরখানা সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া ঘেঁষে নববর্ষের দিনে আত্মীয়-স্বজনদের দেখা সাক্ষাতের সুযোগ করে দিয়ে আসছে। সকাল ১০টার পরই দুই দেশ থেকে বাঁধভাঙ্গা জোয়ারের মতো লোকজন কাঁটাতারের বেড়ার কাছে আসতে শুরু করে। দুপুর ১২টায় ঘটে লাখো মানুষের সমাগম। শুরু হয় দুই বাংলার মানুষের মিলনমেলা। এর পর দুপুর ২ হয় মিলনমেলা। চার ঘণ্টা ধরে চলা মিলনমেলায় পঞ্চগড়, নীলফামারী, দিনাজপুর, রংপুর, বগুড়া ও ঢাকা থেকে লোকজন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি, দার্জ্জিলিং, ডুয়ার্স, জলপাইগুড়ি, কুচবিহার ও কলকাতায় বসবাসকারী আত্মীয় স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাত করতে আসেন।
পদ্মা পারে পর্যটকদের ভিড়
বৈশাখী আনন্দ
স্টাফ রিপোর্টার, মুন্সীগঞ্জ ॥ পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুরের লৌহজং উপজেলার মাওয়া পদ্মা পারে পর্যটকদের ঢল নেমেছিল। শুধু মাওয়ায়ই নয়, পর্যটকদের ভিড় ছড়িয়ে পড়ে লৌহজংয়ের পদ্মা রিসোট, মাওয়া রিসোটসহ পদ্মা পারের কয়েক কি.মি. বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে। রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের জেলা-উপজেলা থেকে পর্যটকরা এসেছিলেন সপরিবারে। কেউবা এসেছেন একাকি আর প্রেমিক যুগলরা এসেছেন একে অন্যের হাত ধরে। উপভোগ করেছেন বালু চরে ঘুরে বেড়ানোর আনন্দ, নদীতে গোসল করা আর পড়ন্ত বিকেলে সূর্যাস্ত যাওয়ার অভাবনীয় দৃশ্য দেখা। সেই সঙ্গে বাড়তি আকর্ষণ ছিল বাংলার চির চেনা নাগর দোলায় চড়া। তবে পদ্মা পারে সারি সারি ড্রেজারের পাইপ (পদ্মা সেতুর কাজে নিয়োজিত) পর্যটকদের ভ্রমণে বিড়ম্বনার সৃষ্টি করে। একই সঙ্গে নিরাপত্তার জন্য কোন ব্যবস্থা না থাকায় সন্ধ্যা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পদ্মা পার ছেড়েছেন দূর-দূরান্তের পর্যটকরা।
বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে মাওয়া চৌরাস্তা বরাবর দক্ষিণের পদ্মা পারে পর্যটকদের ভিড় ছিল নজর কাড়ার মতো। রাজধানী ঢাকার যানজটে ত্যক্ত-বিরক্ত নগরবাসী সীসাযুক্ত বাতাস থেকে একটু হাফ ছেড়ে মুক্ত বাতাস গ্রহণ করতে পরিবার পরিজন নিয়ে ছুটে এসেছিলেন রাজধানী ঢাকার অনতি দূরের এই পদ্মা পারে। কেরানীগঞ্জ, দোহার, মুন্সীগঞ্জ, সিরাজদিখানসহ কাছাকাছি বিভিন্ন জেলা উপজেলা থেকেও পর্যটক এসেছিলেন পদ্মার নির্মল আনন্দ উপভোগ করতে। কয়েকজন বন্ধু-বান্ধব মিলে একটি গ্রুপ করে এসেছিলেন বেড়াতে। আবার অনেক প্রেমিক যুগল এসেছিলেন একে অন্যের হাত ধরে। ঘুরে বেড়িয়েছেন বালুময় এই পদ্মা পারে।
আমেরিকা প্রবাসী টঙ্গীবাড়ি উপজেলার বাসিন্দা আহসান উল্লাহ তিন বছর পর এক মাসের ছুটি দেশে এসে স্ত্রী আফরোজাকে নিয়ে বেড়াতে এসেছেন মাওয়া পদ্মা পারের এই বেলাভূমিতে। তিনি জানালেন, বিয়ের মাত্র এক মাস পরই জীবন-জীবিকার তাগিদে তাকে চলে যেতে হয়েছিল আমেরিকার নিউইয়র্ক সিটিতে। তাই ৩ বছর পরে দেশে ফিরে স্ত্রীকে নিয়ে চলে এসেছেন এই পদ্মা পারের বেলাভূমিতে। জায়গাটি খুবই সুন্দর, বিকেলটি তাদের খুবই আনন্দে কেটেছে। তবে পদ্মা পারে কোন প্রকার নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যকে না দেখতে পেরে সন্ধ্যার আগেই বাড়ির দিকে ফিরে যান তারা।
সাবেক হুইপ ও স্থানীয় এমপি সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি এ প্রসঙ্গে বলেন, কোলাহল মুক্ত পরিবেশে একটু স্বস্তি নিতেই পর্যটকরা ঢাকা শহর ছেড়ে চলে আসেন মাওয়ার এ পদ্মা পারে। শুধু বিশেষ দিনেই নয়, সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতেও এখানে পর্যটকদের আনাগোনা লেগেই থাকে। সরকার মাওয়ার অদূরে মাঝের চরে অত্যাধুনিক পর্যটক কেন্দ্র গড়ে তোলার প্রকল্প হাতে নিয়েছে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এ নিয়ে কাজ করছে।
রাজধানীর অধিকাংশ এলাকাই আগুনের ঝুঁকিতে
আগুনের উৎস- অপরিকল্পিত, অননুমোদিত কলকারখানা, কেমিক্যাল গুদাম এবং বিদ্যুতের শর্টসার্কিট
শাহীন রহমান ॥ রাজধানীর বেশিরভাগ এলাকাই আগুনের ঝুঁকিতে। অপরিকল্পিত এবং অননুমোদিত কলকারখানা, কেমিক্যাল গুদাম এবং বিদ্যুতের শর্টসার্কিট হচ্ছে আগুনের উৎস। যেভাবেই অগ্নিকা- ঘটুক নিয়ন্ত্রণের সীমাবদ্ধতা মানুষকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। সম্প্রতি সংঘটিত কয়েকটি অগ্নিকাণ্ডে নগরবাসীকে এই অভিজ্ঞতাই অর্জন করতে হয়েছে।
তেজতুরী বাজারের অগ্নিকাণ্ডে তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। সিআরপির ভবন ও যাত্রাবাড়ীতে আগুনে বড় কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। অনুসন্ধানে দেখা গেছে এসব আগুনের সূত্রপাত হয় শর্টসার্কিট থেকে অথবা সংশ্লিষ্ট ভবনে রাখা কেমিক্যাল থেকে। যে কারণে আগুন লেগে থাকুক না কেন এতে জনমানুষের মধ্যে আতঙ্কের কারণ নিয়ন্ত্রণের সীমাবদ্ধতা। ঘিঞ্জি পরিবেশ আর সরু গলির কারণে। ফায়ার ব্রিগেড অনেক ক্ষেত্রেই অসহায় হয়ে যায়। অপরিকল্পিত অবস্থায় নগরায়ন হয়েছে যে ফায়ার ব্রিগেডের গাড়ি ইচ্ছা করলে কোন অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হওয়া এলাকায় পৌঁছতে পারছে না। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতেই ততক্ষণে ঝরে যাচ্ছে অনেক তাজা প্রাণ। এ কারণে প্রায় এলাকায় অনেকটা ঝুঁকি নিয়েই বসবাস করতে হচ্ছে নাগরিকদের।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিভিন্ন কারণে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। ঠিকমতো ব্যবস্থা নেয়া গেলে হয়ত ক্ষতির পরিমাণ অনেক কমিয়ে আনা সম্ভব। রাজধানীতে একাধিক অগ্নিকা-ের ঘটনায় দেখা গেছে আগুন নিয়ন্ত্রণকারী দলের সূত্রপাত স্থলে পৌঁছাতে অনেক বেগ পেতে হচ্ছে। এর পর আবার মানুষের ভিড়ের কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণ আনতে সবচেয়ে বড় সমস্যার সৃষ্টি করে। অপরিকল্পিত নগরায়নের কারণেই রাজধানী হিসেবে ঢাকার বসবাস স্থান আজ ঝুঁকিপূর্ণ। অথচ সিটি কর্পোরেশনে ও রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রথম থেকেই দেখভালে প্রয়োজন ছিল। প্রথম থেকেই যেহেতু তারা এ বিষয়ে নজর দেয়নি ফলে এ অবস্থা থেকে উত্তরণ খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া তাদের মতো, ষাটের দশকে পুরান ঢাকার প্রত্যেক গলিতে হাইড্রেশন পয়েন্ট ছিল (পানির পাইপ লাইন)। কোন সামাজিক কারণে সেই হাইড্রেশন পয়েন্ট থেকে পাইপের মাধ্যমে পানি আগুন নেভানোর কাজসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হতো। কিন্তু আজ ঢাকার কোথাও একটি হাইড্রেশন পয়েন্ট নেই। ফলে ঘিঞ্জি পরিবেশের পাশাপাশি হাইড্রেশন পয়েন্ট না থাকায় আগুন নিভাতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের পানি সংগ্রহের বড় অসুবিধায় পড়তে হয়। এ কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে অনেক বেগ পেয়ে হয় দমকল বাহিনীর।
বাপার সাধারণ সম্পাদক ডা. আব্দুল মতিন বলেন, ঢাকার প্রতিটি গলি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যে সেখানে একটি প্রাইভেট কার ঢুকতে পারে না। এমনকি মুমূর্ষু রোগীর জন্য একটি এ্যাম্বুলেন্স যাতায়াতেরও ব্যবস্থা অনেক গলিতে নেই। সেখানে দমকল বাহিনীর গাড়ি ঢোকার কথা চিন্তা করা যায় না। এ কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার আগেই তা আশপাশের ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। তিনি উল্লেখ করেন, আগের ঢাকার বিশেষ করে পুরান ঢাকার প্রতিটি গলিতেই হাইড্রেশন পয়েন্ট থাকলেও আজ কোথাও এ ধরনের ব্যবস্থা নেই। ঢাকা ওয়াসার পক্ষ থেকে হাইড্রেশন পয়েন্টগুলো সরিয়ে দেয়া হয়েছে। অথচ আজও কলকাতায় আগুন লাগাসহ গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক কাজে হাইড্রেশন পয়েন্ট থেকে পানি সংগ্রহ করা হয়। ঢাকা ঘিঞ্জি পরিবেশের পাশাপাশি পানি সংগ্রহ করা বড় একটি অসুবিধা হয়ে পড়ছে দমকল বাহিনীর জন্য।
গত ২০১০ সালের ৩ জুন তারিখে পুরান ঢাকার নিমতলীতে এরকমই একটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রাণ দিতে হয়েছে ১১৮ জনকে। ওই ঘটনার পর আগুন নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান দমকল বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল ঘিঞ্জি রাস্তা এবং মানুষের ভিড়ের কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণ আনতে সবচেয়ে বড় অসুবিধার সৃষ্টি হয়। ফলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতেও বেশ সময় লাগে। আবার নিমতলীর ঘনবসতিপূর্ণ ঘিঞ্জি এলাকার কারণেই আগুন সরু গলির ছয়টি আবাসিক ভবনে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। শুধু পুরান ঢাকাই নয়, রাজধানীর এমন বহু এলাকাতেই রাস্তাঘাট এবং দালানকোঠা গড়ে উঠেছে অপরিকল্পিতভাবে। ফলে দ্রুত দমকল বাহিনীর পক্ষে সেখানে পৌঁছানো অসম্ভব হয়ে পড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ কারণেই অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা বাড়িয়ে দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, খোদ রাজধানীর বুকে অগ্নিকাণ্ডের এমন ভয়াবহ ঘটনার ঘটনা ঘটলেও এ থেকে এখনও আমরা শিক্ষা নিতে পারিনি। এখানে বিভিন্ন কারণে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অগ্নিকাণ্ডে ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছেই। বেশিরভাগের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন ভবনের রাখা রাসায়নিক পদার্থ থেকে অথবা বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে। অথচ মাদকদ্রব্য ও বিস্ফোরক অধিদফতরে ছাড়পত্র ছাড়া এ ধরনের ব্যবসা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ২০১০ সালে কেমিক্যালের কারণে যেখানে ১১৮ জন জীবন্ত দগ্ধের শিকার হয়েছেন সেই পুরান ঢাকার এখনও প্রতি ভবনের রয়েছে অনুমোদনবিহীন হাজার হাজার কেমিক্যাল গোডাউন। ফলে আবার মিনতলীর মতো ঘটার ঘটেছে যাওয়ার অনেক প্রেক্ষাপট তৈরি করে রাখা হয়েছে সেখানে। মাঝে মাঝে নামমাত্র এর বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হলেও কেমিক্যালের গোডাউন সরাতে কার্যকর কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর তেজতুরী বাজারের যে ভবনের অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটেছে সেই মাহমুদ সুইং এ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক নামের দোকানটিতে কাপড়ের দাগ তোলার থিনারসহ নানা ধরনের রাসায়নিক পদার্থ বিক্রি করা হতো। জানা গেছে, আগুন লাগার এক পর্যায়ে দাহ্য পদার্থের থিনার ড্রাম বিস্ফোরিত হয়ে আগুনের শিখা সংশ্লিষ্ট দোকান এবং বাইরের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের আগুন নেভাতে অনেক বেগ পেতে হয়। সেখানে ঘিঞ্জি পরিবেশ ও মানুষেন ভিড়ের কারণে পৌঁছাতে হয়েছে অনেক কষ্টে। তাদের মতে, শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগলেও অতি উচ্চ দাহ্য পদার্থের কারণেই মানুষ অল্প সময়ে বেশি দগ্ধ হয়।
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট অথবা কেমিক্যালের গুদাম থেকে এ ধরনের আগুনের সূত্রপাত হচ্ছে। আবার ঘিঞ্জি পরিবেশ ও সরু গলির কারণে সহজেই আগুন দ্রুত বাইরে ছড়িয়ে পড়ছে। রাজধানীর অনেক ভবনের আগুন নেভানোর যন্ত্র বা অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র থাকলেও বেশিরভাগ সময়ে তা ব্যবহার করতে না জানার কারণে কাজে আসছে না। ফলে ভয়াবহতার মাত্র বেশি হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতো, প্রচলিত অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রগুলোতে সাধারণত সিলিন্ডারে উচ্চচাপে রক্ষিত তরল কার্বন-ডাই-অক্সাইড নজল দিয়ে স্প্রে আকারে বের করে আগুন নেভানো হয়। সেফটি পিনটি টেনে নিরাপদ দূরত্বে থেকে (অন্তত ছয় ফুট দূরে) নজলটি আগুনের মূলে তাক করে আগুনের একপাশ থেকে অন্য পাশে স্প্রে করতে হবে। কিন্তু অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ব্যবহার করতে না জানার কারণেও মূলত আগুনের লেলিহান শিখা চারদিকে ছড়িয়ে ক্ষয়ক্ষতি বাড়িয়ে দেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের ভেতর দিয়ে অতিরিক্ত তড়িৎ প্রবাহিত হয়। এর ফলে উত্তাপ, বিদ্যুতের ফুলকি ইত্যাদি সৃষ্টি হয়। বর্তনীতে নিরাপত্তা ফিউস, সার্কিট ব্রেকার ইতাদি না থাকলে ঐ বর্তনীতে অধিক উত্তাপের ফলে আগুন ধরে যেতে পারে। যা ঘর বাড়ি বা কারখানায় ছড়িয়ে দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে। ঝড় বাদলের সময় গাছের ডালপালা কিংবা উড়ন্ত পাখি বা বাঁদুর বৈদ্যুতিক পরিবহন বা বিতরণ তারে ফেইজ শর্ট বা লাইন শর্ট করতে পারে। যার কারণে প্রচ- শব্দ, ফুলকি বা অগ্নিকা- ঘটাতে পারে। যা বিদ্যুত বিতরণ ব্যবস্থার ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাদের মতে, বাসাবাড়িতে সাধারণত নিম্নমানের তড়িৎ যন্ত্রপাতি বা ত্রুটিপূর্ণ সংযোগ তার বা তারের অন্তরকের ক্ষতি ইত্যাদি বিভিন্ন কারণে শর্টসার্কিট হয়ে থাকে। আর এ ধরনের শর্টসার্কিট থেকেই প্রায়ই অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটছে। ঘিঞ্জি পরিবেশ আর রাজধানীর বিভিন্ন সরু গলিতে ছড়ি পড়ে আগুনের ভয়াবহতা যেমন বৃদ্ধি করছে। তেমনি এসব ঘিঞ্জি পরিবেশে দমকল বাহিনীর গাড়ি পৌঁছাতে না পারা প্রয়োজনীয় পানি সংগ্রহ করতে না পারা এবং মানুষের ভিড়ের কারণে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা ক্রমেই বেড়ে চলছে। একটু সাবধানী হলে এবং পরিকল্পিভাবে নগরায়ন করা গেলে এ ক্ষতির হাত থেকে সহজেই রক্ষা পাওয়া যেত।
এবার ফখরুল ফিদেল ক্যাস্ট্রোর সঙ্গে তুলনা করলেন তারেককে
স্টাফ রিপোর্টার ॥ বিএনপির সিনিয়র ভাইস- চেয়ারম্যান তারেককে ফিদেল ক্যাস্ট্রোর সঙ্গে তুলনা করেছেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ফিদেল ক্যাস্ট্রো বিদ্রোহ করার পর আদালতে বলেছিলেন, আমার ফাঁসি হতে পারে, কিন্তু ইতিহাস আমাকে ধারণ করবে। ইতিহাস তাঁকে ধারণ করেছে। তারেক রহমানকেও ইতিহাস ধারণ করবে। তিনি বলেন, ইতিহাসের সত্য বলায় তারেকের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে সরকারী দলের নেতারা। মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের প্রতিবাদে’ ছাত্রদল আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদানকালে তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমান সম্পর্কে যারা কুৎসা রটনা করে তারা টিকবে না। বিকেলে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিএনপি গণআন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার বা মিথ্যাচার নতুন কিছু নয়। দেশের বিরুদ্ধে যারা অবস্থান নিয়েছে, এটা তাদেরই নীলনক্সার একটি অংশ। আওয়ামী লীগ নেতাদের বই পড়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, দয়া করে মুক্তিযুদ্ধের পূর্বাপর কথোপকথন বইটা পড়ুন: এ কে খন্দকার, মির্জা সাইদুর রহমান, মাঈদুল হাসানের কথোপকথন।
আওয়ামী লীগের উদ্দেশে ফখরুল বলেন, তারেক রহমান ইতিহাসের একটা সত্য তুলে ধরেছেন। বিভিন্ন বই থেকে সত্য উদ্্ঘাটন করেছেন। সেই বইগুলো যদি ভুল হয়ে থাকে তা বলুন। তারেক রহমানের একটি কথাতেই আপনাদের গায়ে চোতরা পাতা লেগেছে। কিন্তু কষ্ট লাগে পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিবর্গ যখন অশ্লীল কথা বলেন। তখনই বোঝা যায় আপনারা কতটা দেউলিয়া হয়ে গেছেন। তোফায়েল আহমেদের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ১৫ আগস্ট শেখ মুজিব যখন নিহত হন তখন রক্ষীবাহিনীর প্রধান কে ছিলেন এবং তিনি কোথায় ছিলেন। একমাত্র কাদের সিদ্দিকী সাহেব ছাড়া আওয়ামী লীগের কোন নেতা প্রতিবাদ করেননি।
ফখরুল বলেন, একাত্তরে কে স্বাধীনতাযুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছিলেন, কারা ওই সময়ে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে কলকাতায় বিলাসী অবস্থায় ছিলেন, তা সবাই জানে। আওয়ামী লীগ কখনও সত্য ইতিহাসের পক্ষে কথা না বলে এবং অন্য কাউকে স্বীকার না করে শুধু একজনকেই তুলে ধরতে চায়। তিনি বলেন, দেশের রাজনৈতিক অবস্থা, মৌলিক অধিকার ও গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য ছাত্রদলকে ব্যানগার্ডের ভূমিকা পালন করতে হবে।
ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বজলুল করিম চৌধুরী আবেদের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন, নাজিম উদ্দিন আলম, ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, সহ-ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল বারী বাবু, ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল হক নাসির প্রমুখ বক্তব্য।
গণআন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি ॥ আন্দোলন ছাড়া ক্ষমতাসীন সরকারের হাত থেকে দেশ ও দেশের মানুষকে রক্ষা করা যাবে না বলে মন্তব্য করে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী গণআন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। মঙ্গলবার বিকেলে নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আসন্ন নির্বাচনে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন দিয়ে আওয়ামী লীগ ফলাফল নিজেদের পক্ষে নেয়ার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে বলে অভিযোগ করেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন অদ্ভুত দালালের ভূমিকা পালন করছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদ, বরকতুল্লাহ বুলু, সহ-দফতর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি, আসাদুল করিম শাহিন, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবু সাইদ খান খোকন, যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি এ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম, বিএনপি নির্বাহী কমিটির সদস্য রফিক শিকদার প্রমুখ।
শ্রমিকের সন্তানের উচ্চ শিক্ষা বিনামূল্যে দেবে সরকার
স্টাফ রিপোর্টার ॥ দেশের সকল খাতের শ্রমিকদের সন্তানরা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারলে তাদের বিনামূল্যে পড়ার ব্যবস্থা করবে সরকার। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় শ্রমিকদের সন্তানদের এই সুবিধা দিতে ‘শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন বিধিমালা’ সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে। মঙ্গলবার সচিবালয়ে শ্রম সচিব মিকাইল শিপার সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।
শ্রম সচিব মিকাইল শিপার বলেছেন, এতদিন শ্রমিকদের সন্তানদের বিভিন্ন পরীক্ষার ফিসহ আনুষঙ্গিক কিছু সুবিধা দেয়া হতো। বিধিমালা সংশোধন করে উচ্চশিক্ষায় যেসব শ্রমিকের সন্তান ভর্তি হবে সরকার তাদের পড়াশোনার দায়িত্ব নেবে।
সচিব বলেন, কোন শ্রমিকের সন্তান যদি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল কলেজ এবং পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারে আমরা তাদের পড়াশোনার খরচ যোগাব।
বর্তমানে শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন বিধিমালার আওতায় একজন শ্রমিককে এককালীন ২০ হাজার টাকা দেয়া যায়। বিধিমালা সংশোধন করে শ্রমিকদের এককালীন এক লাখ করে টাকা দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান মিকাইল।
এদিকে মোটরযান শ্রমিকদের জন্য গোষ্ঠী বীমা স্কিম চালু করেছে শ্রম মন্ত্রণালয়। শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নুর উপস্থিতিতে মঙ্গলবার সচিবালয়ে মোটরযান শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি মাহবুবুর রহমান ইসমাইল এবং শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক ফয়জুর রহমান নিজ নিজ পক্ষে গোষ্ঠী বীমা স্কিম চুক্তিকে সই করেন। শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন আইন-২০০৬-এর আওতায় গত বছরের ১৮ নবেম্বর নির্মাণ শ্রমিকদের জন্য গোষ্ঠী বীমা স্কিম চালু করে সরকার। ওই স্কিমের আওতায় ইতোমধ্যে ৩০৩ জন নির্মাণ শ্রমিক বীমার আওতাভুক্ত হয়েছ্নে। মোটরযান শ্রমিকদের মধ্য থেকে প্রাথমিক পর্যায়ে এক হাজার জনকে এই বীমা স্কিমের আওতায় আনা হবে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়। পাঁচ বছর মেয়াদী স্কিমে বীমাকৃত অর্থের পরিমাণ হবে দুই লাখ টাকা। প্রিমিয়ামের পরিমাণ হবে বছরে এক হাজার তিন শ’ টাকা। এর মধ্যে মেকানিক শ্রমিক দেবে সাড়ে চার শ’ এবং শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন দেবে সাড়ে আট শ’ টাকা। চুক্তির মেয়াদ শেষে মোটরযান শ্রমিকরা প্রিমিয়ামে জমাকৃত ৫০ শতাংশ ফেরত পাবে। শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন আইন অনুযায়ী, বেসরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে বছরে লাভের একটি অংশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনে দিতে হয়।
ইতোমধ্যে এই ফাউন্ডেশনে ৫০ কোটি টাকার বেশি জমা পড়েছে জানিয়ে চুন্নু বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠান এই ফাউন্ডেশনে টাকা জমা দেয়নি তাদের তাগাদা দেয়া হয়েছে।
পোশাক কারখানার মালিকরা এখনও এই ফাউন্ডেশনে টাকা দেননি জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তারা টাকা দিলে এই ফাউন্ডেশন থেকে বিভিন্ন খাতের শ্রমিকদের সহায়তা দেয়া হবে। ফাউন্ডেশনের টাকা দিয়ে কিভাবে বিভিন্ন খাতের শ্রমিকদের সহায়তা করা যায় সে বিষয়ে মন্ত্রণালয় চিন্তাভাবনা করছে বলেও জানান চুন্নু।
দেশের ৯৫ শতাংশ পোশাক কারখানা সরকার ঘোষিত ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়ন করেছে জানিয়ে শ্রম প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাকি কারখানাগুলো মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে সময় নিয়েছে, তারও ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়ন করবে।
সেন্টমার্টিনে সাগরে ডুবে দুই ভার্সিটি ছাত্রের মৃত্যু
তিনজন উদ্ধার ॥ চার শিক্ষার্থী নিখোঁজ
নিজস্ব সংবাদদাতা, কক্সবাজার, ১৫ এপ্রিল ॥ ঢাকা আসহানউল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্র সেন্টমার্টিনে সাগরে ডুবে মারা গেছে। ৪ শিক্ষার্থী নিখোঁজ রয়েছে। উদ্ধার হওয়া ৩ জনকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিখোঁজ ছাত্রদের সন্ধানে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড তল্লাশি অব্যাহত রেখেছে।
নিহতরা হচ্ছে ঢাকা আহসানউল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের শেষবর্ষের ছাত্র মুনফিজুল ইসলাম ইভান ও সাদ্দাম হোসেন। সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া সাব্বির, উদয়, নোমান ও বাপ্পী নামে ৪ শিক্ষার্থী নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। টেকনাফ থানার ওসি রণজিৎ কুমার বড়ুয়া এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, সোমবার দুপুর ২টার দিকে সেন্টমার্টিনের পূর্ব-দক্ষিণ সমুদ্রের মোহনা থেকে ৫ জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছিল। এদের মধ্যে দুইজন মারা গেছেন। পহেলা বৈশাখ সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সেন্টমার্টিন দ্বীপের উত্তর সৈকতে গোসল করতে নেমে ১০ ছাত্র ঢেউয়ের তোড়ে ভেসে গেলে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। উদ্ধারকৃত ছাত্র আসিফ (২৫) জানান, ঢাকা আহসানউল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৪ শিক্ষার্থীর একটি দল রবিবার সেন্টমার্টিন ভ্রমণে আসে। দ্বীপের বাজারের মেনগুট নামক এক আবাসিক হোটেলে উঠেন তাঁরা।
এ ঘটনায় এখনও নিখোঁজ রয়েছে ৪ শিক্ষার্থী। আহত ও নিখোঁজ সবাই আহসানউল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী। নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড সদস্যরা সাগরে উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। তাদের ভাগ্যে কী ঘটেছে, তা এখনও জানা যায়নি। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের অপর ২৪ ছাত্র এখন পুলিশী হেফাজতে রয়েছে। টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মুজাহিদ উদ্দিন জানান, নিহত দুই ছাত্রের মৃতদেহ তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের জন্য টেকনাফ থানা পুলিশকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
জানা যায়, ভ্রমণে আসা আহসানউল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৪ জনের একটি দল সোমবার সেন্টমার্টিন দ্বীপে সমুদ্রে গোসল করতে নামে। এ সময় স্রোতের টানে তাদের কয়েকজনকে ভেসে যেতে দেখে স্থানীয় লোকজন ও কোস্টগার্ড সদস্যরা সাগরে ঝাঁপিয়ে পড়ে ৫ জনকে উদ্ধার করে। উদ্ধারকারী কর্মকর্তা কোস্টগার্ডের সেন্টমার্টিন দ্বীপের স্টেশন কমান্ডার লে. শহিদ আল আহসান জানান, উদ্ধার হওয়া পাঁচ পর্যটককে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বিশেষ স্পিডবোটযোগে টেকনাফ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ছাড়া নিখোঁজ চার জনের সন্ধানে নৌবাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে অনুসন্ধান এখনও চলছে। প্রসঙ্গত, ২০০৬ সালে সেন্টমার্টিন দ্বীপের টুরারমাথা নামক স্থানে সাগরপাড়ে ফুটবল খেলতে নেমে ২ বুয়েট ছাত্রের সলিল সমাধি ঘটেছিল। প্রতিবছর এ ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় পর্যটকের সলিল সমাধির ঘটনা ঘটে। প্রশাসন এ ব্যাপারে কোন সতর্ক সঙ্কেত, সাগরে নামার নিয়মাবলী ও সতর্কতামূলক নোটিস বা সাইনবোর্ড কোন কিছুই স্থাপন না করায় প্রতিবছর এ ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে আসছে বলে জানিয়েছেন সচেতন মহল।
এতটা অসহায় কোনদিন লাগে নাই ॥ ‘যে জায়গায় আমার বন্ধুরা মারা গেল, সেটা বিপজ্জনক খাদ। প্রতিবছর ঠিক এই জায়গায় মানুষ মারা যায়। এটা একদম সেই জায়গা।’কথাগুলো নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মুহাম্মদ রফিকুজ্জামান সিফাত। তিনিও সেন্টমার্টিনে সমুদ্রে দুর্ঘটনা কবলিতদের একজন।
সেন্টমার্টিনে ভ্রমণে যাওয়া আহসানউল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্প্রিং সেমিস্টার-২০১০ এর ৩৪ জনের একটি দল সোমবার সমুদ্রে গোসল করতে নামে। এ সময় স্রোতের টানে ভাসিয়ে নিয়ে যায় তাদের কয়েকজনকে। ডুবে যাওয়া পাঁচজনকে (আসিফ মুজতবা, ফয়সাল বিন হাবিব, ফারহান-উল-হক শোভন, সাদ্দাম হোসেন এবং মানফেজুল ইসলাম) মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করেন কোস্টগার্ডের সদস্য ও স্থানীয়রা। আর নিখোঁজ রয়ে যায় আরও চারজন (সাব্বির হাসান, শাহারিয়ার রহমান, ইশতিয়াক বিন মাহমুদ, গোলাম রহিম বাপ্পী)।
সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন সাদ্দাম হোসেন এবং মানফেজুল ইসলামকে।
নিজের স্ট্যাটাসে সিফাত উল্লেখ করেছেন, ‘সেই জায়গায় নেই কোন রেড ফ্ল্যাগ, প্রশাসন থেকে কোন প্রকার সতর্কতা দেয়া হয়নি, হোটেল (ঝধহফ ঝযড়ৎব) আমাদের সতর্ক করেনি। একজন বাইরের মানুষ জানতেই পারবে না, সামনেই মৃত্যুখাদ!’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার বন্ধুরা মারা যাচ্ছে আমরা কোন প্রকার রেস্কিউ টিম পাই নাই, হয়ত দুই মিনিট সময় পেলে মানুষগুলো বেঁচে যেত (লোকাল মানুষ তিনজনকে বাঁচায় না হলে তারাও মারা যেত)। তীরে কোন টিউব বা রেস্কিউ উপাদান ছিল না আর কোথাও কোন সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড নেই বলেই প্রতিনিয়ত মানুষ মারা যাচ্ছে’- ফেসবুকে মত সিফাতের।
সিফাত বলেন, ‘আমরা ছিলাম অসহায়। এতটা অসহায় কোনদিন লাগে নাই। চোখের সামনে প্রিয় মানুষগুলো মারা গেল, কেবল প্রশাসনের চরম অবহেলার জন্য। আবার এইটা নাকি পর্যটন এরিয়া। মানুষ হত্যা করে পর্যটন, এইটা তো হত্যা। পরিকল্পিত হত্যা। এখন হয়ত প্রশাসন মিথ্যা কথা বলে নিজেদের দোষ ঢাকতে চাইবে। কিন্তু সত্য জানি আমরা, যাদের চোখের সামনে তারা দেখেছে প্রিয় মানুষদের নির্মমভাবে মারা যাওয়া।’
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, টিভি মিডিয়া এই নিউজ দেবে না, কারণ এখানে রস নেই। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রায় সব টিভি ও নিউজ মিডিয়া আমাদের সঙ্গে কথা বলেছে অথচ কেউ প্রশাসনের চরম দুর্বলতা নিয়ে নিউজ দিল না; কেউ না। আমি অনলাইনে সত্য জানিয়ে রাখলাম। আমি দেখতে চাই অনলাইনের ক্ষমতা আবারও। দুর্বল প্রশাসনের জন্য আর একটি বন্ধু, ভাই, কিংবা সন্তান যেন লাশ না হয়।’
আরেক ছাত্র ফারহান মর্তুজা তাঁর ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘আজকে আমি বেঁচে মরে আছি। দুই বন্ধুকে চোখের সামনে মারা যেতে দেখলাম, চারজন নিখোঁজ। আল্লাহ, ও আল্লাহ, কেন এমন করলা...আমাকে নিয়ে যেতা। এই দুঃখ তো আমাকে অনেক কষ্ট দিচ্ছে। যে চারজন নিখোঁজ আছে- আশা করি তোরা আসবি, তোদেরকে ছাড়া কিছুই কল্পনা করতে পারি না।’
পাঠকদের জানিয়ে রাখি, মঙ্গলবারও কোস্টগার্ড এবং নৌবাহিনীর সদস্যরা সাগরের বিভিন্ন পয়েন্টে ব্যাপক উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। নিহত দুই ছাত্রের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। কোস্টগার্ড টেকনাফ স্টেশনের কমান্ডার লে. কাজী হারুন-অর-রশিদ জানিয়েছেন, নিখোঁজ চার ছাত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত থাকবে। কোস্টগার্ডের পাশাপাশি নৌবাহিনীর একটি দল বিশেষ জাহাজ নিয়ে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
নববর্ষে দেশজুড়ে জনজোয়ার ॥ নির্ভয় করো হে
ঐতিহ্যবাহী রমনা বটমূলে এবার বর্ষবরণের সেøাগান ছিল ‘সম্প্রীতি ও স্বদেশ’
---------------
মোরসালিন মিজান
---------------
এত আলো জ্বালিয়েছ এই গগনে/কী উৎসবের লগনে...। সত্যি উৎসবের লগন। বিপুল আনন্দ দেশজুড়ে। এই বঙ্গদেশের সকল জরা যেন কেটে গেছে। জীর্ণ পুরাতন আর নেই। অশুভ অসুন্দরকে পেছনে ফেলে বাঙালী আবাহন করেছে নতুনেরে। লোকায়ত জীবন আর নিজস্ব কৃষ্টির কাছে বিনা শর্তে নত হয়েছে বাঙালী। পূর্বপুরুষের সকল দান স্বীকার করে নিয়েছে। স্মরণ করেছে কৃতজ্ঞ চিত্তে। কোটি প্রাণের বিনিময়ে পাওয়া স্বাধীনতাকে অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে বুকে ধারণ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে আরও একবার। ধর্ম, গোত্র, ভেদ ভুলে, সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে প্রিয় স্বদেশ গড়ার শপথ নিয়েছে। বাঙালীর এই স্বপ্ন এই উজ্জীবনের কথা জানিয়ে দিয়ে গেছে পহেলা বৈশাখ। সোমবারের প্রথম প্রভাতে প্রথম রবির কিরণে ১৪২১ বঙ্গাব্দকে স্বাগত জানিয়েছে গোটা দেশ। শুধু গ্রামে নয়, বড় বড় শহুরে নয় শুধু। ৫৬ হাজার বর্গমাইলে ছড়িয়ে পড়েছিল বর্ষবরণের আনন্দ। দারুণ হাসিরাশি আর উৎসবের আমেজে দিনটি কাটিয়েছে বাঙালী।
পহেলা বৈশাখ খুব চেনা রাজধানী ঢাকা যথারীতি বদলে গিয়েছিল। সূর্য তখনও উঁকি দেয়নি পুব আকাশে অথচ জেগে উঠেছিল ইট-পাথরের শহর। ঘরে ঘরে ঘর ছেড়ে বের হওয়ার তাড়া। ছোট বড় নেই। সবাই, সকলে ব্যস্ত। স্নান সেরে তড়িঘড়ি সেজে নিয়েছিলেন। পথে নেমে এসেছিলেন। হাজার হাজার লাখ লাখ মানুষ। এঁদের কোন হিন্দু-মুসলিম নেই। বৌদ্ধ-খ্রীস্টান ছিল না। সবাই বাঙালী। তাঁদের উপস্থিতিতে ঢাকার পথগুলো জনসমুদ্রে রূপ নেয়। যেদিকে চোখ যায়, লাল-সাদা রং। বিশেষ করে লাল রং খুব চোখে পড়েছে। মেয়েদের শাড়িতে, জামায় ছিল উজ্জ্বল লাল। ছেলেরা সাদা পাঞ্জাবি পরে বের হয়েছিলেন। কারওটায় সাদা লালের মিশেল। সুন্দর সেজে দীর্ঘপথ হেঁটে নগরবাসী যাচ্ছিলেন রমনার দিকে। ঢাকার মানুষের প্রথম গন্তব্য ছিল রমনা বটমূল। সব পথ গিয়ে মিলিত হচ্ছিল ইতিহাস গড়া সবুজ উদ্যানে। রমনার চারপাশ দিয়েই ছিল প্রবেশের ব্যবস্থা। তবে খুব নিয়ন্ত্রিত। শাহবাগ, প্রেসক্লাব, মিন্টো রোডসহ বিভিন্ন এলাকা দিয়ে স্রোতের মতো প্রবেশ করছিল মানুষ। বিভিন্ন পয়েন্টে বসানো হয়েছিল চেকপোস্ট। সেই সঙ্গে একেবারে নতুন সংযোজন ছিল মানুষ গণনার যন্ত্র। অত্যাধুনিক যন্ত্র অতিক্রম করে সামনে এগোতে হয়েছে। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে রমনায় প্রবেশ করতে দেখা গেছে নারী-পুরুষ-শিশু-বৃদ্ধদের।
বাঙালীর মিলনমেলা রমনা বটমূল ॥ বহু বছরের ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় রাজধানীর রমনা বটমূলে ভোরে আয়োজন করা হয় বর্ষবরণের প্রধান উৎসব। ষাটের দশকে বাঙালী চেতনার উন্মেষ কালে পাকিস্তানীদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে প্রথমবারের মতো অসাম্প্রদায়িক এ উৎসবের আয়োজন করেছিল ছায়ানট। বর্তমানে এই আয়োজন ছাড়া যেন অপূর্ণ থেকে যায় বৈশাখ বরণ। বিগত দিনের ধারাবাহিকতায় এবার ‘সম্প্রীতি ও স্বদেশ’ সেøাগানে নতুন বছরকে বরণ করে নেয়া হয়। ভোরের আলো ফোটার আগেই মানুষের ঢল নামে সবুজ উদ্যানে। বিশাল মঞ্চে হাঁটু ভাঁজ করে বসেছিলেন একঝাঁক শিল্পী। মেয়েরা সকলেই মেঘরং শাড়ি পরেছিলেন। সফেদ পাঞ্জাবি-পাজামা ছিল ছেলেদের। অনুষ্ঠানের সূচনা হয় রাজরূপা চৌধুরীর সরোদ বাদনের মধ্য দিয়ে। এর পর একক ও সম্মেলক গানের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যায় বর্ষবরণের আনুষ্ঠানিকতা। অনুষ্ঠানে সম্মেলক গান করেন ১৩০ জনের মতো শিল্পী। একক গান করেন মিতা হক, খায়রুল আনাম শাকিল, চন্দনা মজুমদার, সত্যম দেবনাথ, লাইসা আহমদ লিসা, সৈকত মুখার্জী, মহিউজ্জামান চৌধুরী, সুমা রাণী রায়, শারমিন সাথী ইসলাম, আবুল কালাম আজাদ, প্রিয়াঙ্কা গোপ প্রমুখ। আবৃত্তি করেন মাহিদুল ইসলাম, ফাহিমা সামাদ ও ফেরদৌস আরা খানম। সব শেষে ছিল ছায়ানট সভাপতি সন্জীদা খাতুনের বক্তব্য। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে দিক-নির্দেশনামূলক বক্তৃতা দেন তিনি। নববর্ষের প্রথম প্রভাতে সকলকে প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানিয়ে সন্জীদা খাতুন বলেন, আমরা আজ প্রভাতী সুরে শান্তির কথা, মানুষের কথা, মানুষকে ভালবাসবার কথা বলেছি। মূল ভাবনাটি ছিল- স্বদেশ আর সম্প্রীতি। সম্প্রীতির অভাবে গভীর বেদনা প্রকাশ পেয়েছে। আবার গৌতমের প্রশান্ত উজ্জ্বল মুখের কথা এসেছে। যে প্রশান্তি জানিয়ে দেয়- সংঘাতের ছবি কিছু নয়। নয়। ওই উজ্জ্বল প্রশান্তি আমাদের লক্ষ্য। আমরা সেই প্রশান্তির সন্ধানে। সম্প্রীতির ভেতর দিয়েই তা প্রতিষ্ঠা সম্ভব। আর এ সম্প্রীতি দেশবাসীকে কাছে টানার প্রধান পথ। নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে তিনি বলেন, যথার্থ শিক্ষা আর ধন-সম্পদের ক্ষেত্রে দেশের মানুষে মানুষে ভেদ বেড়ে চলেছে দিনের পর দিন। এসব কারণে সাধারণ মানুষরা রয়ে যাচ্ছে দুর্বল। এই সুযোগে কুশিক্ষাগ্রস্ত ধর্মব্যবসায়ীরা বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধী বহিশত্রুদের কাছ থেকে দেদার অর্থ সংগ্রহ করে তারই কিছু কিঞ্চিত দরিদ্রের মাঝে বিতরণ করে বশ করছে। ধর্মের দোহাই দিয়ে এই মানুষদের ব্যবহার করছে স্বাধীনতাবিরোধী নানা ধ্বংসাত্মক কাজে। আমরা সব জেনে শুনে নির্লিপ্ত আর নিষ্ক্রিয় থাকতে পারি না। দেশের মানুষের কাছে আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে। সত্যিকার শিক্ষা দান বা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা আপনার আমার সাধ্য নয়। ধর্মের প্রকৃত শিক্ষা যে, হানাহানি নয়। মিলন। আর পরস্পর সম্প্রীতিÑ এ কথা বোঝানোর দায় আমাদের। ভয়-ভীতি দেখিয়ে ধর্মীয় মোহের কারাগারে নিরীহ মানুষকে বন্দী করছে যারা তারা সাধারণের জন্য কল্যাণের আকাক্সক্ষী নয়। এ জ্ঞান সবার কাছে পৌঁছে দিতে হবে আমাদের। রবীন্দ্রনাথ লিখেছেনÑ ধর্মের বেশে মোহ যারে এসে ধরে/অন্ধ সে জন মারে আর শুধু মরে। মোহ মুগ্ধতা বিচার-বুদ্ধিকে আচ্ছন্ন করে ফেলে। ধর্মকথা শোনানো রাজনীতিকরা বস্তুত সাধারণের ঘাড়ে চড়ে ক্ষমতার আসনে বসতে চায়। গান, পাঠ, কবিতা, নাটক ইত্যাদির সাহায্য নিয়ে মানুষকে সব কথা জানাতে হবে আমাদের। জ্ঞানপাপী বুদ্ধিদাতাদের কবল থেকে মুক্ত করতে হবে দেশবাসীকে। মানবতাবোধে সমৃদ্ধ প্রীতির বন্ধনে পরস্পর যুক্ত হয়ে দেশের স্বাধীনতা আর শান্তি স্থিতিশীল করা জরুরী। আসুন সাংস্কৃতিক আয়োজন নিয়ে সবার কাছে যাই। শুভ করে তোলার শপথ নিতে হবে। বাংলাদেশের শুভ কামনা করে বক্তৃতা শেষ করেন সাংস্কৃতিক আন্দোলন সংগ্রামের পুরোধা ব্যক্তিত্ব সন্জীদা খাতুন। সন্জীদা খাতুন বলেই হয়ত নাতিদীর্ঘ বক্তৃতা কালজয়ী গানের মতো, অনবদ্য কবিতার মতো শোনায়। উপস্থিত শ্রোতা, সংস্কৃতিকর্মীদের তাঁর নির্দেশনাগুলো গভীর মনোযোগসহকারে শুনতে দেখা যায়। ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান বিটিভি ও অধিকাংশ বেসরকারী টেলিভিশন প্রচার করে। ফলে এর সঙ্গে একাত্ম হন সারা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা বাঙালীরা।
মঙ্গল শোভাযাত্রা ॥ পহেলা বৈশাখের সবচেয়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনটির নাম মঙ্গল শোভাযাত্রা। বহু বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ এই শোভাযাত্রার আয়োজন করে। শুরু হওয়ার কথা ছিল সকাল ৯টায়। কিন্তু তারও অনেক আগে থেকে চারুকলার সামনের রাস্তায় জড়ো হতে থাকে হাজার হাজার মানুষ। সকলের উপস্থিতিতে আনন্দঘন শুরু হয়। উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। এবারের শোভাযাত্রার সেøাগান ছিলÑ ‘জাগ্রত করো, উদ্যত করো, নির্ভয় করো হে।’ শোভাযাত্রাটি চারুকলা অনুষদ থেকে শুরু হয়ে হোটেল রূপসী বাংলা মোড় পর্যন্ত যায়। সেখান থেকে টিএসসিতে হয়ে চারুকলায় এসে শেষ হয়। প্রতিবারের মতো এবারও শোভাযাত্রায় ফুটিয়ে তোলা হয় লোকায়ত জীবন ও সংস্কৃতি। সে লক্ষ্যে বহন করা হয় কিছু স্ট্রাকচারাল ফর্ম। বাঁশ ও কাঠ দিয়ে বড় বড় কাঠামো গড়ে সেগুলোকে শিল্পকর্মের রূপ দেন চারুকলার শিল্পী ও শিক্ষকরা। ঐতিহ্যবাহী মঙ্গল শোভাযাত্রার অগ্রভাগে এবার রাখা হয় বিশালাকৃতির টেপা পুতুল। এর পেছনে বাঘ। বাঘের মুখোশ। তবে চোখে মুখে হিংস্রতা নেই। অদ্ভুত হাসি-রাশি। উজ্জ্বল রঙে সামনে আসে যেন ছেলেবেলার সেই বাঘমামা! হাঁসটিও বিশালাকৃতির। পা গুটিয়ে বসেছিল। এর পেছনে বিড়াল। আস্ত মাছ কামড়ে ধরে অংশ নেয় শোভাযাত্রায়। একই সময় বহন করা হয় গাজীর পটের লোকজ ফর্ম। তিনটি মাছের কম্পোজিশন ছিল নজর কাড়া। বড় মাছটি যেন সাঁতরে বেড়াচ্ছিল। মাছের শরীর উজ্জ্বল রঙে এঁকে নিয়েছিলেন শিল্পীরা। শোভাযাত্রায় পেখম মেলেছিল ময়ূরপঙ্খী। গ্রাম-বাংলার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য শখের হাঁড়ি শিকায় ঝুলিয়ে নেয়া হয়েছিল। একইভাবে শোলার পাখি, পেঁচা, প্রজাপতি, খরগোশ ইত্যাদি বহন করা হয় শোভাযাত্রায়। ছিল ঢাল-ঢোল, বাঁশি। বর্শা, তীর-ধনুক ইত্যাদির অনুষঙ্গও বাদ যায়নি। বড় বড় শিল্পকর্মের নিচে চমৎকার চাকা জুড়ে দেয়া হয়েছিল। সেগুলো ঠেলে নিয়ে যাওয়া হয়। একেবারে সামনের দিকে বহন করা হয় পেপার ম্যাশ। কাগজের ম- থেকে তৈরি শতাধিক বড় ও ১ হাজারের মতো ছোট মুখোশ প্ল্যাকার্ডের মতো বহন করা হয়। সব মিলিয়ে কী যে বর্ণাঢ্য আয়োজন!
হাজার কণ্ঠে বর্ষবরণ ॥ গত কয়েক বছর ধরে পহেলা বৈশাখ সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের সামনে বর্ণাঢ্য বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়ে আসছে। এরই অংশ হিসেবে এবার পহেলা বৈশাখ সকালে ‘হাজার কণ্ঠে কোটি বাঙালীর বর্ষবরণ’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। চ্যানেল আইয়ের সঙ্গে যৌথভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সুরের ধারা। আগের দিন চৈত্রসংক্রান্তির অনুষ্ঠান দিয়ে শুরু। পরে একই স্থানে ছিল বর্ষবরণের আয়োজন। সংগঠনের শিল্পী ও নিবন্ধনকৃতদের নিয়ে মোট এক হাজার গায়ক-গায়িকার একটি দল গঠন করেন সুরের ধারার অধ্যক্ষ শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা। ভোর সাড়ে ৫টায় সকলকে নিয়ে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে যান তিনি। বিপুলসংখ্যক শিল্পী। বিভিন্ন বয়সী। মেয়েরা পরেছিলেন লাল পাড় সাদা শাড়ি। ছাই রঙের পাঞ্জাবিতে ছিল পুরুষ শিল্পীদের গায়ে। সকলে একসঙ্গে কণ্ঠ ছাড়েনÑ এসো এসো এসো হে বৈশাখ...। সহস্র কণ্ঠের সঙ্গে যোগ দেয় অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত অসংখ্য মানুষ। আবাহনের গান, সকালের গান, দেশের গান, আত্মপ্রত্যয় ও আশা জাগানিয়া গান দিয়ে সাজানো হয় অনুষ্ঠান। কখনও একক গান। কখনও সম্মেলক। এভাবে এগিয়ে চলে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে জনসমাগম। মিরপুর শ্যামলী কল্যাণপুর আগারগাঁও এলাকার মানুষদের বড় একটি অংশ এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ছাড়াও এখানে আয়োজন করা হয় বৈশাখী মেলার। লোকজ ঐতিহ্যের নানা পণ্যে সাজানো হয় স্টল। দিনভর মেলা ঘুরে বেড়ান হাজার হাজার মানুষ।
শাহবাগ থেকে দোয়েল চত্বর ॥ রাজধানীতে পহেলা বৈশাখের সবচেয়ে বড় সমাগম ঘটেছিল শাহবাগ থেকে দোয়েল চত্বর এলাকায়। এই এলাকার কোথাও তিল ধারণের জায়গা ছিল না। বিশাল রাস্তার দুই ধারে ছিল মানুষ আর মানুষ। ছায়ানটের অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর সেখানকার মানুষ চারুকলার দিকে আসতে শুরু করেন। বাকিরা তারও আগে থেকে সমবেত হচ্ছিলেন। কেউ দল বেঁধে। কারও সঙ্গে স্ত্রী-সন্তান। বন্ধুরা, প্রেমিক-প্রেমিকরা ঘুরে বেড়িয়েছেন। পায়ে পা লাগছিল। গায়ে গা। তবে কেউ কারও যন্ত্রণার কারণ হননি। বরং সব ভুলে মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছিল বাঙালী। মঙ্গল শোভাযাত্রা শেষ হলেও এলাকাজুড়ে এর রেশ রয়ে গিয়েছিল। তাই অনেক রাত অবধি মুখর ছিল গোটা এলাকা। এ সময় কারও হাতে ছিল বাঁশি। কারও হাতে একতারা। অনেকেই ঢোল বাজিয়ে এলাকা প্রদক্ষিণ করেছেন। নাচ ছিলেন কেউ কেউ। এরই মাঝে দেখা গেল গ্রামীণ ঐতিহ্যের পালকি। তাতে ছোট্ট বউ। বরও দিব্যি রুমাল মুখে। পালকি বহন করে নিয়ে যেতে দেখা যায় একদল তরুণকে। পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন অদ্ভুত দেখতে ঘটক। রাস্তাজুড়ে বসেছিল বৈশাখী মেলা। গ্রামীণ পণ্য, কাচের চুড়ি, লোকজ বাদ্যযন্ত্রÑ কী নেই! হাতে নিয়ে দেখতে দেখতে, কিনতে কিনতে দিন চলে যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছিল মানুষের ঢল। ‘চেতনায় বাঙালী ও বাঙালিয়ানা’ নামের একটি সংগঠন নববর্ষ বরণে ভিন্নধর্মী এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সকাল ১০টায় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) মিলন চত্বর থেকে ছেলেরা দেশীয় লুঙ্গি, পাঞ্জাবি ও গামছা এবং মেয়েরা দেশীয় শাড়ি পরে শোভাযাত্রা বের করেন।
বৈশাখী মেলা ॥ পহেলা বৈশাখে গোটা শহরটিকেই মনে হয়েছে বড় কোন মেলা। যে পথ দিয়েই যাওয়া গেছে সে পথের ধারেই মেলা। নানা পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছিলেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। ছিল বাহারি খাবার। সর্বত্রই পাওয়া গেছে পান্তা-ইলিশ। শুঁটকি, ভর্তা, আচার ইত্যাদি দিয়ে মজা করে খেয়েছেন পথচারীরা। প্রচ- রোদে ক্লান্ত মানুষের জন্য কয়েক হাত দূরে দূরে ছিল জুস পানীয় কিংবা কাঁচা আমের ভর্তার ব্যবস্থা। এভাবে দারুণ আনন্দে কাটিয়েছেন নগরবাসী।
শুভ হালখাতা ॥ খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পহেলা বৈশাখে হালখাতা খুলেছেন পুরনো ঢাকার ব্যবসায়ীরা। নবোদ্যমে যাত্রা শুরু করেছেন। বায়তুল মোকাররম এলাকার স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা এদিন আমন্ত্রণ করে অতিথি খাইয়েছেন। তাঁতীবাজার ইসলাম পুরের কাপড়ের গদিতে হয়েছে শুভ হালখাতার আনুষ্ঠানিকতা। জানা যায়, এদিন পাইকারি ক্রেতারা পাওনা শোধ করেছেন। সেই সঙ্গে পণ্য কিনে নতুন হিসাব খুলেছেন অনেকে।
সরকারী কর্মসূচী ॥ পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে সরকারীভাবে ব্যাপক কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়। রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ স্বাধীনতা ও একুশে পদকপ্রাপ্ত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, লেখক, কবি, সাহিত্যিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের বঙ্গভবনে সংবর্ধনা জানান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে নববর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ ছাড়া বিভাগীয় শহর, ঢাকা মহানগর, দেশের সব জেলা-উপজেলায় পহেলা বৈশাখ উদ্যাপন উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোচনাসভা ও গ্রামীণ লোকজ মেলার আয়োজন করা হয় সরকারী উদ্যোগে। এদিন কারাগার, হাসপাতাল ও এতিমখানায় উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়। শিশুদের নিয়ে ঐতিহ্যবাহী বাঙালী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং কারাবন্দীদের পরিবেশনায় ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও।
সামাজিক সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের বর্ষবরণ শিল্পকলা একাডেমি ॥ পহেলা বৈশাখ সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমি মুক্তমঞ্চে বৈশাখী অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে পুঁথিপাঠ করেন মুন্সীগঞ্জের শিশির রহমান। একক আবৃত্তি করেন হাসান ইমাম, কৃষ্টি হেফাজ, জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় ও ডালিয়া আহমেদ।
বাংলা একাডেমি ॥ পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশনের (বিসিক) সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ১০ দিনব্যাপী বৈশাখী মেলার আয়োজন করে বাংলা একাডেমি। সেই সঙ্গে চলে বইয়ের আড়ং। একাডেমির নজরুল মঞ্চে একক বক্তৃতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে একক বক্তৃতা করেন অধ্যাপক হায়াৎ মামুদ। সভাপতিত্ব করেন একাডেমির সভাপতি এমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।
সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ॥ রবীন্দ্রসরোবর মঞ্চে সকালে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট। অনুষ্ঠানে বাউল গান পরিবেশন করেন দেলওয়ার ও সোনিয়া। তাঁদের দলীয় পরিবেশনা মুগ্ধ হয়ে উপভোগ করেন শ্রোতা। দলীয় সঙ্গীত পরিবেশন করে ক্রান্তি, বহ্নিশিখা, স্বভূমি লেখক শিল্পী কেন্দ্র ও সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী। দলীয় নৃত্য পরিবেশন করে নৃত্যশ্রী ও বহ্নিশিখার শিল্পীরা।
বেঙ্গল শিল্পালয় ॥ ধানম-ির বেঙ্গল শিল্পালয়ে আয়োজন করা হয় ‘বেঙ্গল বৈশাখী উৎসব ১৪২১।’ তিনদিনব্যাপী আয়োজনের দ্বিতীয় দিনে সোমবার সকাল ১০টায় শুরু হয় বৈশাখ আবাহন।
ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠী ॥ শিশুপার্কের সামনে ভাসানী সড়কে সকাল সাড়ে ৭টায় শুরু হয় ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠীর বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও ভারতের খ্যাতিমান শিল্পীরা সঙ্গীত, নৃত্য, আবৃত্তি পরিবেশন করেন। আয়োজনটি উৎসর্গ করা হয় মরহুম বেলাল মোহাম্মদ ও আবদুর রহমান বয়াতিকে।
নজরুল ইনস্টিটিউট ॥ পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে কবি ভবনে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে অংশ নেন জনপ্রিয় নজরুলসঙ্গীত শিল্পীরা।
রিপোর্টার্স ইউনিটি ॥ এখানে সকাল সাড়ে ৮টা থেকে শুরু হবে বৈশাখী অনুষ্ঠানমালা। সকালে লুচি সবজি, মুড়ি-মোয়া, জিলাপী, কদমা বাতাসা দিয়ে আপ্যায়ন করা হয় সাংবাদিকদের।
আওয়ামী লীগ ॥ পহেলা বৈশাখে সকালে শোভাযাত্রা বের করে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ। শোভাযাত্রাটি বাহাদুর শাহ পার্কের সামনে থেকে সকাল ৭টায় শুরু হয়ে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বঙ্গবন্ধু এ্যাভিনিউয়ের আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
বারো জেলায় তেরো খুন
জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ পৃথক ঘটনায় টাঙ্গাইলে কলেজছাত্র, নাটোরে গৃহবধূ ও কক্সবাজারে যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে অজ্ঞাত যুবক, ফেনীতে যুবলীগ কর্মী, মাদারীপুরে স্কুলছাত্রী, রাজশাহীতে যুবক, চট্টগ্রামের পটিয়ায় মাদ্রাসাছাত্র, ফরিদপুরে বৃদ্ধ ও যুবক, রাজবাড়ীতে তরুণী, লক্ষ্মীপুরে মাদ্রাসা ছাত্র ও খাগড়াছড়িতে গৃহবধূ খুন হয়েছে। খবর স্টাফ রিপোর্টার ও নিজস্ব সংবাদদাতাদের পাঠানো-
টাঙ্গাইলে কলেজছাত্র
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে জমি নিয়ে বিরোধে রাজন সরকার নামে এক কলেজছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা। রবিবার রাতে আহত অবস্থায় ঢাকায় নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। নিহত রাজন উপজেলার গোবিন্দাসি ইউনিয়নের ভালকুটিয়া গ্রামের লাল মিয়া সরকারের ছেলে ও ইব্রাহিম খাঁ কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন।
নাটোরে গৃহবধূ
যৌতুকের জন্য নাটোরে লালপুরের ধনঞ্জয়পাড়ায় গৃহবধূ এক সন্তানের জননী শিরিনা খাতুনকে কুপিয়ে হত্যা করেছে শাশুড়ি রোকেয়া বেগম। পুলিশ নিহতের স্বামী রনি আলম ও শাশুড়ি রোকেয়া বেগমকে গ্রেফতার করেছে।
কক্সবাজারে যুবক
কক্সবাজারের মহেশখালীর হোয়ানক পূর্ব কালাগাজী পাড়ার পাহাড়ে রহমত উল্লাহ নামের এক যুবককে অপহরণের পর কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার বিকেল ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
সিদ্ধিরগঞ্জে অজ্ঞাত যুবক
সিদ্ধিরগঞ্জে অজ্ঞাত (৩০) এক ব্যক্তিকে জবাই করে হত্যা করা হয়েছে। সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ সোমবার বিকেলে ৩টায় জালকুড়ি এলাকা থেকে জবাই করা লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
ফেনীতে যুবলীগ কর্মী
ফেনীতে অপহরণের ১২ দিন পর সোমবার সকালে শহিদুল ইসলাম নামের এক যুবলীগ কর্মীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শহিদ সদর থানার বারাহীপুর গ্রামের মকবুল আহম্মদের পুত্র। গত ৩ এপ্রিল বিকেলে শহিদকে তার বাড়ির কাছ থেকে দুর্বৃত্তরা অপহরণ করে নিয়ে যায়। সোমবার সকালে শহরতলীর চাড়ীপুর এলাকায় লাশ দেখে স্থানীয় লোকজন পুলিশে খবর দেয়।
মাদারীপুরে স্কুলছাত্রী
মঙ্গলবার মাদারীপুরের ডাসারে নিখোঁজের ৬ দিন পর একটি ডোবা থেকে তিথি আক্তার (১৪) নামের দশম শ্রেণীর এক ছাত্রীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রাজশাহীতে যুবক
রাজশাহীর তানোরে আবুল হোসেন নামের এক যুবককে গলা কেটে হত্যার পর তার মোটরসাইকেল ছিনতাই করেছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার সকালে তানোর থানা পুলিশ উপজেলার কাটাপুকুর এলাকার একটি ধান ক্ষেত থেকে তার লাশ উদ্ধার করে।
পটিয়ায় মাদ্রাসাছাত্র
চট্টগ্রামের পটিয়ায় পুকুর থেকে ভাসমান অবস্থায় এক মাদ্রাসাছাত্রের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তার নাম রমজান আলী।
সে উপজেলার শিকলবাহা ইউনিয়নের কালারপুর মাস্টারহাট এলাকার মরহুম মোহাম্মদ সিরাজের পুত্র। মঙ্গলবার দুপুরে পটিয়া কালারপুল পুলিশ ফাঁড়ির একদল পুলিশ স্থানীয়দের সহযোগিতায় লাশটি উদ্ধার করে।
ফরিদপুরে বৃদ্ধ ও যুবক
ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত হয়েছেন দলিল উদ্দিন মোল্লা নামের এক বৃদ্ধ। সোমবার বেলা ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে চরভদ্রাসন উপজেলার সদর ইউনিয়নের কেএম ডাঙ্গি গ্রামে। এ ছাড়া ফরিদপুরে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় হবি শেখ নামের এক যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
রাজবাড়ীতে অজ্ঞাত তরুণী
রাজবাড়ী সদর উপজেলার বসন্তপুর ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামে একটি নার্সারির পাশ থেকে সোমবার দুপুরে অজ্ঞাত এক তরুণীর মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার গায়ের রং শ্যামলা, পরনে গোলাপী রঙের সালোয়ার ও হলুদ রঙের কামিজ ছিল এবং তার দুই চোখে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
লক্ষ্মীপুরে মাদ্রাসাছাত্র
লক্ষ্মীপুরের তেওয়ারীগঞ্জ থেকে মোঃ আবদুর রশিদ নামের এক মাদ্রাসাছাত্রের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার রাত ২টায় সদর উপজেলার তেওয়ারীগঞ্জ ইউনিয়নের কসবা গ্রামের একটি মসজিদের মক্তব থেকে তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
খাগড়াছড়িতে গৃহবধূ
যৌতুকের জন্য পারিবারিক কলহের জের ধরে জেলার দীঘিনালা উপজেলার পূর্ব থানা পাড়া এলাকায় স্বামীর হাতে স্ত্রী রুবি বেগমকে খুন হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ স্বামী মনিরুল ইসলামকে আটক করেছে।
তামিম, মুশফিক ইনজুরিতে
স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ জাতীয় ক্রিকেট লীগ (এনসিএল) খেলা শেষ হয়ে গেল চট্টগ্রামের তামিম ইকবালের। বুড়ো আঙ্গুলের ইনজুরিতে পড়ে দুই সপ্তাহের বিশ্রামে থাকতে হবে এখন তামিমকে। সঙ্গে খানিক ইনজুরিতে পড়েছেন রাজশাহীর অধিনায়ক মুশফিকুর রহীমও। তবে তাঁর ইনজুরি খুব গুরুতর নয়। পরের ম্যাচেই হয়ত খেলতে পারবেন মুশফিক। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের পর এশিয়া কাপ ও টি২০ বিশ্বকাপ হয়। এ জন্য জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা এনসিএলের এবারের আসরে অংশ নিতে পারেননি। যেই ষষ্ঠ রাউন্ড থেকে খেলতে নেমেছেন ইনজুরির ধকলে পড়ছেন। তামিম ইকবালই যেমন রাজশাহীর বিপক্ষে ৪০৩ রানে হারা ম্যাচে ইনজুরিতে পড়ে গেলেন। মাত্র একটি ম্যাচ খেলেই আবার এনসিএল থেকে বিদায় ঘটল তামিমের। বিকেএসপিতে একই ম্যাচে মুশফিকও তাঁর পুরনো আঙ্গুলে ব্যথা পেয়েছেন। তবে তাঁর বেলাতে ইনজুরি এতটা সমস্যা তৈরি করেনি। রাজশাহীর এক ক্রিকেটার সূত্রে জানা গেছে, সামান্য ব্যথা পেয়েছেন মুশফিক। চট্টগ্রামের দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতেই ব্যথা পান। তাঁর পরিবর্তে জুনায়েদ সিদ্দিকী উইকেটরক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। মুশফিক আবার মাঠেও নামতে চান। কিন্তু ততক্ষণে খেলা শেষ হয়ে যায়। পরের ম্যাচ থেকেই মাঠে নামতে পারবেন মুশফিক। একের পর এক ম্যাচে ব্যর্থ হওয়া তামিম এনসিএলেও ব্যর্থ হয়েছেন। প্রথম ইনিংসে ১ রান করেছেন। যেই দ্বিতীয় ইনিংসেও ১ রান করেন, তখন শফিউল ইসলামের বলে আঙ্গুলে চোট পান। মাঠ ছাড়েন। এর পর তাঁর এক্স-রে করা হয়। এক্স-রে দেখে বিসিবির মেডিক্যাল বিভাগ বিশ্রামে থাকতে বলে তামিমকে। দুই সপ্তাহের বিশ্রামে এখন তামিম। বিসিবির চিকিৎসক দেবাশীষ চৌধুরী তামিমের ইনজুরি নিয়ে বলেছেন, ‘তামিম আঙ্গুলে চোট পেয়েছে। ডান হাতের বুড়ো আঙ্গুলে চোট লেগেছে। আগামী দুই সপ্তাহের মতো সে খেলতে পারবে না।’
আবুধাবিতে মুম্বাই-কলকাতা ম্যাচ দিয়ে আজ শুরু আইপিএল
স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ মরুর দেশ আরব আমিরাতে আজ থেকে শুরু হচ্ছে ভারতীয় ক্রিকেট-ঝড়! আবুধাবিতে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ও গ্ল্যামারাস কলকাতা নাইটরাইডার্সের মধ্যকার ধুন্ধুমার টি২০ লড়াই দিয়ে মাঠে গড়াচ্ছে আইপিএলের সপ্তম আসর। বাদশাহী আমিরাতের সঙ্গে ক্রিকেটের সম্পর্কটা নতুন নয়। বহুদিন ধরেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের আকর্ষণীয় ভেন্যু দেশটির আবুধাবি, শারজা ও দুবাই। নিজগৃহে অচ্ছুত পাকিস্তান তাদের দ্বিপক্ষীয় সিরিজগুলোর জন্য আমিরাতকে বেছে নেয়ায় সেখানে পৃথিবীর সব টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর আনাগোনাও নিয়মিত। তবে মরুর দেশে পাকিস্তান-শত্রু ভারতের কোন ঘরোয়া টুর্নামেন্টের আয়োজন এই প্রথম। এ নিয়ে ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক উন্মাদনা। মাত্র ৭২ ঘণ্টায় বিক্রি হয়ে গেছে প্রথম দশ দিনের টিকেট! এ থেকেই মরুর দেশে আইপিএল-ঝড়ের আগাম সঙ্কেত পাওয়া যাচ্ছে। হাইপ্রোফাইল উদ্বোধীন ম্যাচে চ্যাম্পিয়ন মুম্বাইয়ের প্রতিপক্ষ তারকাখচিত কলকাতা। খেলা শুরু বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে আটটায়। চ্যাম্পিয়ন হিসেবে স্বভাবতই টুর্নামেন্টেরও ফেবারিট রোহিত শর্মার নেতৃত্বাধীন মুম্বাই আজও এগিয়ে থাকছে। নিলামে দলের প্রধান পাঁচ তারকা লঙ্কান বিজাতীয় পেসার লাসিথ মালিঙ্গা, ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান বিগম্যান কাইরেন পোলার্ড, অধিনায়ক রোহিত শর্মা, অভিজ্ঞ স্পিনার হরভজন সিং ও স্থানীয় মিডল-অর্ডার ব্যাটসম্যান আমবাতি রাইডুকে ধরে রাখে দলটি। এ ছাড়া নিলামের চমক মাইক হাসি ও টি২০ দুনিয়ার নতুন তারকা নিউজিল্যান্ড অলরাউন্ডার কোরি এ্যান্ডারসনকে দলে ভেড়ায় মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। হরভজন সিংয়ের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটার থাকা সত্ত্বেও গত বছর রোহিত শর্মাকেই শচীনের যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে বেছে নেয় টিম ম্যানেজমেন্ট। সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে প্রথমবারের মতো দলকে আইপিএল ও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি (দ্বিতীয়বার) এনে দেন তিনি। মুম্বাইয়ের ব্যাটিংয়ের অন্যতম প্রধান স্তম্ভও অধিনায়ক নিজে। ১৭১ টি২০ ম্যাচে ২ সেঞ্চুরি ও ২৮ হাফ সেঞ্চুরিতে ৪২২৩ রানই সে সাক্ষ্য দেয়। ব্যাট হাতে অধিনায়ককে সঙ্গ দেবেন মাইক হাসি, আমবাতি রাইডু, কাইরেন পোলার্ড ও আদিত্য তারে। অলরাউন্ডার হিসেবে আছেন সেনসেশন কোরি এ্যান্ডারসন ও পোলার্ড। জহির খান, লাসিথ মালিঙ্গা, হরভজন সিং, প্রজ্ঞান ওঝা ও প্রোটিয়া পেসার মার্চেন্ট ডি লঙ্গকে নিয়ে মুম্বাইয়ের বোলিং আক্রমণও ব্যালান্সড। বিপরীতে ২০১২-এর পঞ্চম আসরের শিরোপাধারী কলকাতা গতবার একদমই সুবিধা করতে পারেনি। এবার ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া গৌতম গাম্ভীর বাহিনী। অধিনায়ক গাম্ভীরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার পুনরুজ্জীবিত করতেও এবারের আইপিএল মহা গুরুত্বপূর্ণ। দলটির প্রতি অগণিত বাংলাদেশী ক্রিকেটপ্রেমীর আগ্রহের কারণ সাকিব আল হাসান। রাইডার্স জার্সিতে দেখা যাবে দুরন্ত এই টাইগার অলরাউন্ডারকে। মূলত দলটির বস বলিউড হিরো শাহরুখ খান ও প্রিয় সাকিবের জন্যই বাংলাদেশে রাইডার্সের অগণিত ভক্ত আজ প্রথম দিন থেকেই টিভি সেটের সামনে উদগ্রীব হয়ে বসে যাবেন। তারকাখচিত কলকাতার লাইনআপে রয়েছে, ব্রাড হাডিন, জ্যাক ক্যালিস, ব্রেট লি, ব্রেন্ডন ম্যাককুলাম, সুনীল নারিনে, ইয়ন মরগান, ইউসুফ পাঠান, রায়ান টেন ডয়েসচেট, লক্ষীপতি বালাজি ও মনোজ তিওয়ারির মতো তারকা ক্রিকেটার।
ভারতের লোকসভা নির্বাচনের জন্য এবার আইপিএলের প্রথম পর্ব অনুষ্ঠিত হচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন ভেন্যুতে। আমিরাত পর্ব চলবে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত। ২ মে আইপিএল ফিরবে নিজ অঙ্গন ভারতের মাটিতে, ১ জুন ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে গ্রেট শচীন টেন্ডুলকরের জন্মস্থান মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে। অংশগ্রহণকারী আট দল- মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স, চেন্নাই সুপার কিংস, কলকাতা নাইটরাইডার্স, দিল্লী ডেয়ারডেভিলস, কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব, রাজস্থান রয়্যালস, রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর ও সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। আগের ছয় আসরের চ্যাম্পিয়ন দলগুলো হচ্ছে, রাজস্থান রয়্যালস- ২০০৮, ডেকান চার্জার্স- ২০০৯, চেন্নাই সুপার কিংস- ২০১০ ও ২০১১, কলকাতা নাইটরাইডার্স- ২০১২, মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ২০১৩। এবারের আইপিএল ভারতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জিং। কারণ, গত বছর রাজস্থান ক্রিকেটার শ্রীশান্তদের স্পট-ফিক্সিং কলঙ্কের সূত্র ধরে বিশ্ব দরবারে ইমেজ সঙ্কটে পড়ে দেশটি। এর পর গত ফেব্রুয়ারিতে বহুল বিতর্কিত সংশোধনী প্রস্তুাব পাস করিয়ে নেয় ক্রিকেটের অঘোষিত মোড়লরা। টি২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে উত্তরণ বাদ দিলে এ সময়ে মাঠের ক্রিকেটে নাজুক অবস্থা ভারতের। সুতরাং আমিরাতকে সহ-আয়োজক করে সপ্তম আয়োজন সফলভাবে শেষ করাটা ভারতীয় ক্রিকেটের ইমেজ পুনরুদ্ধারের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
রাজশাহীর জয় রেকর্ড ৪০৩ রানে
স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ জাতীয় ক্রিকেট লীগের (এনসিএল) ষষ্ঠ রাউন্ডে চারটি ম্যাচেরই রেজাল্ট হয়েছে। প্রতিটি ম্যাচেই দেখা গেছে বড় জয়। চট্টগ্রামকে তিনদিনেই ৪০৩ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে রাজশাহী। যা কিনা দেশের প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট লীগে রেকর্ড রানে জয়। সিলেটের বিপক্ষে ৩১৪ রানের বড় জয় পেয়েছে রংপুর। বরিশালকে ৮ উইকেটে ঢাকা ও ঢাকা মেট্রোকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে খুলনা। বিকেএসপিতে চট্টগ্রাম যে বড় ব্যবধানে হারতে যাচ্ছে তা রাজশাহীর প্রথম ইনিংসে ৬৭৫ রান করাতেই আঁচ পাওয়া যাচ্ছিল। ফরহাদ রেজা ২৫৯, সানজামুল ইসলামের ১৭২ ও মুক্তার আলীর ১৬ ছক্কায় করা ১৬৮ রানেই রাজশাহী এগিয়ে যায়। এর পর যখন চট্টগ্রাম ২০৮ রানেই অলআউট হয়ে যায় বোঝা যাচ্ছিল ম্যাচটিতে ইনিংস ব্যবধানেই জিততে যাচ্ছে রাজশাহী। কিন্তু ফলোঅনে পড়লেই চট্টগ্রামকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করায়নি রাজশাহী। বোনাস পয়েন্টও যে পাওয়া যায়। তাই দ্বিতীয় ইনিংসে খেলতে নেমে ২ উইকেটে মুশফিকুর রহীমের অপরাজিত ৫৪ রানে ১২৮ রান করেই আবারও ইনিংস ঘোষণা করে রাজশাহী। চট্টগ্রামের সামনে জিততে ৫৯৬ রানের টার্গেট দাঁড় হয়। তৃতীয় দিনেই খেলা শেষ হয়ে যায়। চট্টগ্রাম দ্বিতীয় ইনিংসে করতে পারে ১৯২ রান। হারও হয় তাই অনেক বড়। তামিম ইকবাল ইনজুরিতে পড়ে শুরুতেই মাঠ ছাড়েন। আর মাহবুবুল করিম থাকেন অনুপস্থিত। তাই ৮ উইকেট হারাতেই চট্টগ্রামের ইনিংসও শেষ হয়। এমন জয়ে ফরহাদ রেজার কৃতিত্বও অনেক। তিনি যে ডাবল শতক করেছেন। এমন খেলার পর জাতীয় দলেস্থান পাকাপোক্ত করারও একটা টার্গেট থাকে। তবে ফরহাদ রেজা বলছেন, ‘আসলে জাতীয় দল নিয়ে ভাবছি না। এখন শুধু ভাবছি বাকি ম্যাচগুলো এবং বিসিএল কতটা ভাল খেলা যায়। ভাল খেললে জাতীয় দলে খেলার সুযোগ আসবেই। রাজশাহী যে এত বড় জয় পেয়েছে সেটি আসলে সবার নৈপুণ্যেই হয়েছেন। সানজামুল, মুক্তারের নৈপুণ্যও অনেক প্রশংসনীয়।’
টার্গেট যখন ৪৭৭ রান পড়ে তখন কী আর জেতার আশা করা যায়। তাই বলে এত অসহায় হয়ে পড়বে সিলেট! প্রথম ইনিংসেই রংপুর বাজিমাত করে। নাঈম ইসলামের ১৪৪ ও তানভির হায়দারের ১১১ রানে ৩৯১ রান করে রংপুর। জবাব দিতে নেমে ১৪৩ রানেই গুটিয়ে যায় সিলেট। এর পর রংপুর আবার ৬ উইকেটে ২২৮ রান করে ইনিংস ঘোষণা করলে সিলেটের সামনে জিততে বিশাল টার্গেট দাঁড় হয়। চতুর্থদিনে এ টার্গেট অতিক্রম করতে গিয়ে ১৬২ রানেই সিলেটের ইনিংসের পতন ঘটে।
বরিশালের প্রথম ইনিংসের পর দলটিকে নিয়ে সবাই আশাবাদী হয়ে ওঠে। শাহরিয়ার নাফীসের ১২৯ রানে ৩২৩ রান করে। কিন্তু ঢাকা এমন জবাবই দেয়, তৈয়বুর পারভেজের ১০২ রানে ৪৪৩ রান করে বরিশালকে চাপেই ফেলে দেয়। দ্বিতীয় ইনিংসে গিয়ে বরিশালের ইনিংসের পতন ২২৯ রানে ঘটে গেলে ঢাকার জিততে ১১০ রানের টার্গেট পড়ে। অনায়াসেই ২ উইকেট হারিয়ে ১১২ রান করে জিতে যায় ঢাকা।
ঢাকা মেট্রোকে অনায়াসেই হারিয়ে দিয়েছে খুলনা বিভাগ। প্রথম ইনিংসে ৪ উইকেট নেয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ৯ উইকেট নেন রাজ্জাক। তার এ দুর্দান্ত বোলিংয়েই খুলনা জয় পায়। ঢাকা প্রথম ইনিংসে ১৭২ রান করে। জবাবে খুলনা প্রথম ইনিংসে ২১৩ রান করে। এর পর ঢাকা দ্বিতীয় ইনিংসে ২৪৩ রানেই অলআউট হয়ে যায়। খুলনার সামনে জিততে টার্গেট দাঁড় হয় ২০৩ রানের। তুষার ইমরানের ১০৭ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ২০৬ রান করে জিতে খুলনা। রাজ্জাক এর আগেও একাধিকবার এক ইনিংসে ৯ উইকেট নেন।
স্কোর ॥ রাজশাহী প্রথম ইনিংস ৬৭৫/৯ (ইনিংস ঘোষণা), ১৩৫.৩ ওভার; ফরহাদ রেজা ২৫৯, মুক্তার ১৬৮ ও দ্বিতীয় ইনিংস ১২৮/২; ১৪ ওভার (মুশফিক ৫৪*, ফরহাদ হোসেন ৪০*)।
চট্টগ্রাম প্রথম ইনিংস ২০৮/১০; ৫৫ ওভার (মেহেদী ৫৭*, ফয়সাল ৫৪; মুক্তার ৩/৩০ ও দ্বিতীয় ইনিংস ১৯২/১০ (৪৩.৪ ওভার); মমিনুল ৭৫, মেহেদী ৩৫; সানজামুল ৩/২৯)।
ফল ॥ রাজশাহী ৪০৩ রানে জয়ী। ম্যাচসেরা ॥ ফরহাদ রেজা (রাজশাহী)।
রংপুর প্রথম ইনিংস ৩৯১/১০; ১৩২.৪ ওভার (নাঈম ১৪৪, তানভির ১১১; নাসুম ৭/৯৭) ও দ্বিতীয় ইনিংস ২২৮/৬; ৫৪ ওভার (ইনিংস ঘোষণা); আরিফুল ৫৮*, নাসির ৪৭; নাসুম ৩/৬৩)।
সিলেট প্রথম ইনিংস ১৪৩/১০; ৪৯.১ ওভার (শানাজ ৭১; শুভাশিষ ৪/৪০, মাহমুদুল ৩/২৪) ও দ্বিতীয় ইনিংস ১৬২/১০; ৪৬.৩ ওভার (সাকের ৩১; সাজেদুল ৪/৪৬, মাহমুদুল ৩/৩৫)।
ফল ॥ রংপুর ৩১৪ রানে জয়ী। ম্যাচসেরা ॥ নাঈম ইসলাম (রংপুর বিভাগ)।
বরিশাল প্রথম ইনিংস ৩২৩/১০; ৭৯.২ ওভার (শাহরিয়ার ১২৯) ও দ্বিতীয় ইনিংস ২২৯/১০; ৬৪.৪ ওভার (সালমান ৬২; নাজমুল ৪/৪৫)।
ঢাকা প্রথম ইনিংস ৪৪৩/১০; ১২৫.৫ ওভার (পারভেজ ১০২, মজিদ ৮৬, শুভগত ৭৭; নুরুজ্জামান ৩/২) ও দ্বিতীয় ইনিংস ১১২/২; ২৩.৩ ওভার (রনি ৪৭*, মজিদ ৩৩)।
ফল ॥ ঢাকা বিভাগ ৮ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচসেরা ॥ তৈয়বুর পারভেজ (ঢাকা বিভাগ)।
ঢাকা মেট্রো-খুলনা বিভাগ ম্যাচ- কক্সবাজার
ঢাকা মেট্রো প্রথম ইনিংস ১৭২/১০; ৭০.৫ ওভার (সাদমান ৪০; রাজ্জাক ৪/৭৮) ও দ্বিতীয় ইনিংস ২৪৩/১০; ৮৪.২ ওভার (শামসুর ৮৪, শহীদ ৫২*; রাজ্জাক ৯/৯১)।
খুলনা প্রথম ইনিংস ২১৩/১০; ৮১.৪ ওভার (রিপন ৬১; মাহমুদুল্লাহ ৪/৪৫) ও দ্বিতীয় ইনিংস ২১৩/১০; ৮১.৪ ওভার (নিজামউদ্দিন ৬১, তুষার ৫৫; মাহমুদুল্লাহ ৪/৪৫)।
ফল ॥ খুলনা বিভাগ ৫ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচসেরা ॥ আব্দুর রাজ্জাক (খুলনা বিভাগ)।
নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ
ভারতের লোকসভা নির্বাচনে দেশটির একক বৃহত্তম দল হিসেবে বিজেপি আভির্ভূত হতে যাচ্ছে, ভারতজুড়ে চালানো প্রায় এক ডজন নির্বাচনপূর্ব জরিপে এমন আভাস পাওয়া গেছে। কিন্তু সর্বশেষ একটি জরিপে বিজেপি নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক এ্যালায়েন্স (এনডিএ) নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে বলে আভাস পাওয়া গেছে। খবর ওয়েবসাইট।
ভারতের প্রভাবশালী চ্যানেল এনডিটিভি জরিপটি পরিচালনা করেছে এবং মঙ্গলবার জরিপটির ফল প্রকাশ করা হয়েছে। জরিপের ফলাফলে জানানো হয়েছে, চলতি লোকসভা নির্বাচনে এনডিএ জোট সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ২৭২ আসন থেকে তিনটি আসন বেশি (২৭৫টি) পাবে। ফলে সরকার গঠনের জন্য জোটটিকে আঞ্চলিক কোন দলের ওপর নির্ভর করতে হবে না। প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ২২৬টি আসনে জয় পাবে। ১৯৮৪ সালের নির্বাচনে ২টি আসন পাওয়া দলটি এবার ভারতের সবচেয়ে শক্তিশালী দলে পরিণত হতে যাচ্ছে। অন্ধ্রপ্রদেশের তেলেগু দেশম পার্টির মতো সুবিবেচিত কিছু মিত্র দলকে সঙ্গে নিয়ে লোকসভা নির্বাচনে বিরাট জয় পেতে যাচ্ছে বিজেপি।
এনডিটিভি (যার শীর্ষ কর্মকর্তা প্রণয় রায়, যিনি একজন নির্বাচনী প্রবণতা বিশেষজ্ঞ) বলেছে, এটি হতে যাচ্ছে এ যাবৎকালের মধ্যে বিজেপির সেরা ফল।
গত ১০ বছর ধরে টানা দিল্লীর ক্ষমতায় থাকা বিজেপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দল কংগ্রেস দলটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে যাচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। কংগ্রেসের ইতিহাসে দলটি কখনও ১শ’ আসনের নিচে নামেনি, তবে এবার প্রথমবারের মতো দলটি ৯২টি আসন পেতে যাচ্ছে বলে জরিপের ফলাফলে আভাস পাওয়া গেছে। আর কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জোট ১১১টি আসন পেতে যাচ্ছে, যা এককভাবে কংগ্রেসের সবচেয়ে বিপর্যয়কর ফলাফল।

সুলতানপুরে বরুণ গান্ধী মনোনয়নপত্র জমা দিলেন
ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সাধারণ সম্পাদক বরুণ গান্ধী লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য মঙ্গলবার উত্তর প্রদেশ রাজ্যের সুলতানপুর আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এর আগে তিনি এক সংক্ষিপ্ত রোড শোতে অংশ নেন। বরুণ গান্ধী (৩৪) প্রয়াত সঞ্জয় গান্ধীর ছেলে। খবর এএফপির।
বরুণ গান্ধী তাঁর সমর্থকদের সঙ্গে মিছিল সহকারে জেলা কালেক্টরেট ভবনে গিয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। বরুণ গান্ধীকে বরণ করে নিতে আয়োজিত রোড শোটি সংক্ষিপ্ত করা হয়। কারণ স্থানীয় প্রশাসন জানায়, কেবলমাত্র মনোনয়ন দাখিলের জন্যই জমায়েতের অনুমতি দেয়া হয়েছে, রোড শোর জন্য নয়।
রুশপন্থীদের নিরস্ত করুন
ইউক্রেন নিয়ে পুতিনকে ওবামার ফোন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ইউক্রেনের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নিয়ন্ত্রণ করতে তাঁর রুশ প্রতিপক্ষ ভøাদিমির পুতিনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। পূর্ব ইউক্রেনে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা যাতে তাদের দখল করা সরকারী ভবনগুলো ছেড়ে চলে যায়, সে জন্য ওবামা পুতিনকে তাদের ওপর প্রভাব খাটাতে বলেছেন। সোমবার দুই নেতা টেলিফোনে কথা বলেন। তখন রুশপন্থী কর্মীরা ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে ভবনাদি দখল করে রাখে। সংলাপের সময় পুতিন ইউক্রেনে রুশ হস্তক্ষেপে অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং এ সংক্রান্ত খবরগুলোকে বিশ্বাসযোগ্য নয় বলে অভিহিত করেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আরও কিছুসংখ্যক রুশ নাগরিকের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবেন বলে সোমবার জানান। রাশিয়া গত মাসে ইউক্রেনের কাছ থেকে ক্রিমিয়া উপদ্বীপ দখলের পর থেকে দুটি দেশের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইউক্রেনের মস্কোপন্থী প্রেসিডেন্ট ভিক্তর ইয়ানুকোভিচ ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর রাশিয়া উপদ্বীপটি নিজ ভূখ-ভুক্ত করে। খবর বিবিসি ও অন্যান্য ওয়েবসাইটের।
হোয়াইট হাউস জানায়, রাশিয়ার অনুরোধে সোমবার দুই প্রেসিডেন্টের মধ্যে ‘খোলাখুলি ও সরাসরি’ কথাবার্তা হয়। এর বিবৃতিতে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ওবামা সশস্ত্র রুশপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদীদের তৎপরতার প্রতি রুশ সরকারের সমর্থনের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ ব্যক্ত করেছেন। কারণ তাঁরা ইউক্রেনীয় সরকারকে দুর্বল ও অস্থির করে তুলতে উদ্যত হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ইউক্রেনের সব অনিয়মিত বাহিনীর তাদের অস্ত্র সমর্পণ করা প্রয়োজন বলে ওবামা জোর দিয়ে উল্লেখ করেন। তিনি এ সব সশস্ত্র রুশপন্থী দলগুলোকে তাদের দখল করা ভবনগুলো থেকে চলে যেতে রাজি করানোর জন্য পুতিনের প্রতি আহ্বান জানান। বিবৃতিতে মস্কোর ওপর ব্যাপকতর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেয়া হয়। এতে বলা হয়, যদি ওই সব তৎপরতা চলতেই থাকে, তা হলে রাশিয়া এরই মধ্যে যে মাসুল দিয়েছে, তার পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে। ক্রেমলিনের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলে সম্প্রতি সৃষ্ট অসন্তোষ রাশিয়া ও রুশভাষী জনগোষ্ঠীর স্বার্থের কথা বিবেচনা করতে কিয়েভ নেতৃত্বের অনিচ্ছা ও অসামর্থ্যরে ফল। এতে বলা হয়, পুতিন যে কোন রক্তক্ষয় রোধে সহায়তা করতে আমেরিকার হাতে থাকা সম্পদকে কাজে লাগাতে ওবামার প্রতি আহ্বান জানান। বিবৃতিতে রাশিয়া ইউক্রেনে হস্তক্ষেপ করছে এমন অভিযোগ নাকচ করে দেয়া হয়। এতে বলা হয়, এ সব অভিযোগ ‘প্রশ্নবিদ্ধ তথ্যে’র ভিত্তিতে তোলা হয়েছে। হাজার হাজার রুশ সৈন্য ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যবর্তী সীমান্ত এলাকায় মোতায়েন রয়েছে বলে জানা যায়। কিয়েভের আশঙ্কা, রুশপন্থী দলগুলোর বিরুদ্ধে যে কোন অভিযান রাশিয়ার আক্রমণ ডেকে আনতে পারে।
ইউক্রেনের অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট ওলেকজান্ডার তুরচিনভ সোমবার বলেন, সরকারী ভবনাদি দখল করে রেখেছে এমন বন্দুকধারীদের বিরুদ্ধে ‘সন্ত্রাসবিরোধী’ অভিযান শুরু করা হবে। কিন্তু সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও কিয়েভ থেকে কোন বড় ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। রুশপন্থী বিদ্রোহীরা পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোর ১০টি শহরে ভবনাদি দখল করে রয়েছে। ইউক্রেনের ভারি শিল্পগুলো ওই সব প্রদেশেই অবস্থিত।
আজ থেকে ডিএসইতে টি প্লাস টু চালু
অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আজ থেকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) টি প্লাস টু সেটেলমেন্ট সাইকেল আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হবে। ফলে এখন থেকে কোন বিনিয়োগকারী শেয়ার কিনলে তা কেনার তৃতীয় দিনেই বিক্রিযোগ্য হবে। আবার কো শেয়ার বিক্রি করে কোন বিনিয়োগকারীরা পত্রকোষে (পোর্টফলিও) টাকা চলে আসবে। অর্থাৎ এর আগে টি প্লাস থ্রির পরিবর্তে একদিন আগেই সেটেলমেন্ট সম্পন্ন হবে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে মঙ্গলবারও টি প্লাস থ্রিতে লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। নতুন এই সেটেলমেন্ট পদ্ধতি চালুর পর স্টক এক্সচেঞ্জটি কঠিন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করল। শুধু বুধবার যারা শেয়ার কেনাবেচা করবেন তারাই এই পদ্ধতির আওতায় পড়বেন। এ নতুন সেটেলমেন্ট চালুর সিদ্ধান্ত মঙ্গলবার ডিএসইর ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।
টি প্লাস টু এই সেটেলমেন্ট পদ্ধতিটি এ, বি, এন ক্যাটাগরির কোম্পানি বা শেয়ারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এর বাইরে জেড ক্যাটাগরির শেয়ারের লেনদেন আগের মতো টি প্লাস নাইন সেটেলমেন্ট সাইকেলে সম্পন্ন হবে। অর্থাৎ জেড ক্যাটগরিটি এই সুবিধা বঞ্চিত হবে। প্রসঙ্গত, গত মাসে ডিএসই চিঠি দিয়ে তার সব ট্রেকহোল্ডারকে নতুন সেটেলমেন্ট সাইকেল চালুর সিদ্ধান্ত জানিয়েছিল। এর পর শীর্ষ ৩০ ব্রোকারেজ হাউসের সঙ্গে আলোচনা করে আজ এটি চালুর সিদ্ধান্ত নেয় ডিএসই কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) গত বছরের ৩ নবেম্বর লেনদেনের সময়সীমা চার দিনের পরিবর্তে তিনদিন করা হয়। কিন্তু ডিএসইতে নানা কারণে টি প্লাস টু সেটেলমেন্ট চালুতে বিলম্ব হয়েছে।
মার্চ মাসের গোড়ার দিকে লেনদেন নিষ্পত্তি সংক্রান্ত বিধিমালা সেটেলমেন্ট অব ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ট্রানজেকশন রেগুলেশন-১৯৯৮ সংশোধন করে। কিন্তু এতে বাধা সাধেন বিদেশী বিনিয়োগকারীদের হয়ে লেনদেন প্রক্রিয়ায় অংশ গ্রহণকারী কাস্টোডিয়ান ব্যাংকগুলোর আপত্তিতে। তারা নতুন পদ্ধতি চালুর জন্য কিছুটা সময় দেয়া ও বিদ্যমান কিছু সমস্যা সমাধানের অনুরোধ জানায়। মূলত এ কারণে কিছুটা ঝুলেও যায় এটি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৩ মার্চ কাস্টোডিয়ান ব্যাংকগুলোর সঙ্গে বৈঠক করে ডিএসই। ওই বৈঠকে কাস্টোডিয়ান ব্যাংকগুলো টি প্লাস টু চালুর বিষয়ে সম্মতি দেয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ডিএসই ১৬ এপ্রিল চালুর সিদ্ধান্ত নেয়। পরে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক স্বপন কুমার বালা এটি চালুর ঘোষণা দেয়।
অবশ্যই উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে টি প্লাস টু চালু দাবি ছিল দীর্ঘদিনের। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ চালু করতে পারলেও শুরুতে ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদ ও শীর্ষ ব্রোকারদের একটি অংশের আপত্তির কারণেই তা পিছিয়ে। বার বার চালুর তারিখ পিছিয়ে দিয়েও কোন কাজ হয়নি। উল্টো বিনিয়োগকারীদের মাঝে এক ধরনের আশঙ্কা দেখা দেয়, আদৌ ডিএসই এটি চালু করতে পারবে কিনা? কিন্তু বিনিয়োগকারীদের এ আশঙ্কা দূর হলো।
সিএসইর তুলনায় পাঁচ মাস দেরিতে হলেও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের বিনিয়োগকারীরা এখন টি প্লাস টু সেটেলমেন্ট পদ্ধতিতে শেয়ার কেনাবেচা করতে পারে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডিএসইর ট্রেকহোল্ডার জানান, এ পদ্ধতি চালুর পর শেয়ার কিনলে বা বিক্রি করলে একদিন আগেই তা ম্যাচিরড হবে বা বিক্রিযোগ্য হবে। ফলে আগের তুলনায় ডিএসইতে লেনদেন বা তারল্য প্রবাহ বাড়বে।