মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০১৪, ৭ কার্তিক ১৪২১
রোগীর কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়
খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ক্ষোভ
স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা অফিস॥ খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর কাছ থেকে নির্ধারিত টিকেটের মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত টাকা নেয়া হচ্ছে। দুস্থদের জন্য রোগী কল্যাণ সমিতির নামে বহির্বিভাগের রোগীর নিকট থেকে প্রতিটিকেটে অতিরিক্ত ২ টাকা এবং জরুরী বিভাগে আসা রোগীর কাছ থেকে অতিরিক্ত ৫ টাকা নেয়া হচ্ছে। এই অতিরিক্ত টাকা নেয়ার ক্ষেত্রে সরকারী কোন পরিপত্র কিংবা সংশ্লিষ্ট দফতর ও মন্ত্রণালয়ের কোন নির্দেশনা নেই। স্থানীয়ভাবে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সিদ্ধান্তে অতিরিক্ত টাকা নেয়া হচ্ছে। টিকেটের অতিরিক্ত মূল্য নেয়াকে কেন্দ্র করে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কাউন্টারে কর্মরতদের প্রায়ই বচসা হচ্ছে। তাছাড়া সরকারী হাসপাতালে এভাবে টিকেটের অতিরিক্ত টাকা নেয়া যায় কিনা সে ব্যাপারেও প্রশ্ন উঠেছে।
জানা গেছে, চলতি মাসের ৮ তারিখ থেকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগের ৫টাকা মূল্যের টিকেটের সঙ্গে অতিরিক্ত ২ টাকা এবং পরেরদিন থেকে জরুরী বিভাগে আসা রোগীর ১০ টাকা ও ১৫ টাকা মূল্যের টিকেটের সঙ্গে অতিরিক্ত ৫ টাকা হারে নেয়া হচ্ছে। গত ১২ দিনে বহির্বিভাগের সর্বমোট ৯ হাজার ৪১৯টি টিকেট থেকে ১৮ হাজার ৮৩৮ টাকা এবং জরুরী বিভাগে আসা ভর্তিকৃত এক হাজার ৪৬৬ রোগীর কাছ থেকে ৭ হাজার ৩৩০ টাকা আদায় করা হয়েছে।
এ ব্যাপের জানতে চাইলে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ মোঃ আব্দুস সামাদ বলেন, হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা ও স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গরিব-দুস্থ ও অসহায় রোগীর সাহায্যার্থে বহির্বিভাগে টিকেটের অতিরিক্ত ২টাকা এবং জরুরী বিভাগে অতিরিক্ত ৫টাকা করে নেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ব্যবস্থাপনা কমিটিতে জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরের পদস্থ কর্মকর্তাসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা রয়েছেন। সরকারী হাসপাতালে এভাবে অতিরিক্ত টাকা নেয়া যায় কিনা আর গৃহীত টাকা ব্যবহারের স্বচ্ছতা সম্পর্কে জানতে চাইলে তত্ত্বাবধায়ক বলেন, প্রতিদিন কোন না কোন দুস্থ-অসহায় রোগীকে বিনা পয়সায় চিকিৎসা দিতে হয়। এ ধরনের রোগীর সাহয্যার্থে ব্যবস্থাপনা ও স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন কমিটির সদস্যদের সিদ্ধান্তে এ টাকা নেয়া হচ্ছে এবং তা যথাযথভাবে ব্যবহার হচ্ছে কিনা সেটা মনিটরিং করবেন কমিটির সদস্যরা।
বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীকে ব্যঙ্গ করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ায় জামায়াতকর্মী গ্রেফতার
স্টাফ রিপোর্টার, কক্সবাজার ॥ ডিবি পুলিশ অভিযান চালিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ব্যঙ্গ করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ার অপরাধে এক জামায়াতকর্মীকে গ্রেফতার করেছে। সোমবার রাতে কক্সবাজার শহরের ভোলা বাবুর পেট্রোল পাম্পের সামনে হোটেল জিলানীর ৪র্থ তলায় ফোকাস ডেভেলপারস অফিস থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। জামায়াতকর্মী আবদুল জব্বার জেলার উখিয়া মনখালী গ্রামের মৃত ছাবের আহমদের ছেলে।

বান্দরবানের রাজপুণ্যাহ ১৯ ডিসেম্বর
নিজস্ব সংবাদদাতা, বান্দরবান, ২১ অক্টোবর ॥ বান্দরবান পার্বত্য জেলার ঐতিহ্যবাহী ১৩৭তম রাজ পুণ্যাহ মেলা আগামী ১৯ ডিসেম্বর থেকে শুরু হবে। মঙ্গলবার সকালে বান্দরবান বোমাং রাজার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ১৭তম বোমাং রাজা উ চ প্রু চৌধুরী এ ঘোষণা দেন। এ সময় রাজ পরিবারের সিনিয়র সদস্য ছাড়াও স্থানীয় সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে গত বছর এই মেলার আয়োজন না হলেও আগামী ১৯ ডিসেম্বর থেকে ২১ ডিসেম্বর ৩ দিনব্যাপী স্থানীয় রাজার মাঠে এবার রাজপুণ্যাহর আয়োজন করা হবে। মেলাকে ঘিরে জেলার ১১টি আদিবাসীর সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যম-িত মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। এ সময় পাহাড়ি-বাঙালীদের মিলন মেলা পরিণত হয়, দেশী-বিদেশী পর্যটকরা ভিড় জমান এ পর্যটন শহরে।

প্রতিবাদ
দৈনিক জনকণ্ঠে গত ১৯ অক্টোবর শেষের পাতায় প্রকাশিত ‘পূর্বাঞ্চলীয় রেলে পুরনো ইঞ্জিন বিক্রিতে ব্যাপক দুর্নীতি’ শীর্ষক সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক (পূর্ব) মোঃ লুৎফুর রহমান। প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়- রেলের বিভিন্ন অকেজো, ব্যবহৃত মালামাল দরপত্র আহ্বানের মধ্য দিয়ে প্রতিযোগিতামূলক দরে ও সর্বোচ্চ দরদাতার নিকট বিক্রয় করা হয়। অকেজো ইঞ্জিনের মালামালের মধ্যে তামা, পিতল ও এ্যালুমিনিয়ামের পরিমাণ শতকরা ১ ভাগেরও কম। একাধিক কমিটির পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও যাচাই-বাছাইয়ের পর ইঞ্জিনগুলো অকেজো ঘোষিত হলে লট বা ওজনে বিক্রি করা হয়। এক্ষেত্রে কোন ধরনের অনিয়ম হয়নি। প্রকাশিত সংবাদ তথ্য নির্ভর নয়।
প্রতিবেদকের বক্তব্য ॥ প্রকাশিত সংবাদটি কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে হেয় করার উদ্দেশ্যে করা হয়নি। প্রেরিত প্রতিবাদে তামা, পিতল ও এ্যালুমিনিয়ামের যে পরিমাণ লেখা হয়েছে তা সঠিক নয়। প্রত্যেকটি ইঞ্জিনে চারটি করে ট্যাকশান মোটর রয়েছে এবং প্রত্যেকটি মোটরে কমপক্ষে দেড় টন পিতল রয়েছে। প্রত্যেকটি ইঞ্জিনে কমপক্ষে ৬ টন পিতল রয়েছে, যা রেলের বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীদের তথ্যানুযায়ী প্রকাশ করা হয়েছে। ২২টি ইঞ্জিনে মোট ১৩২ টন পিতল ছাড়াও প্রায় সমপরিমাণ এ্যালুমিনিয়াম এবং তামা ছিল। বাকি ধাতব পদার্থ লৌহজাত। ইঞ্জিনগুলো ওয়ার্কস ম্যানেজার (ডিজেল) ড্যামেজ করেছেন বলে স্বীকার করেছেন। সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক (পূর্ব) লুৎফুর রহমান প্রতিবেদককে তথ্য না দিয়ে মিটিংয়ে থাকার কথা বলে এড়িয়ে যান। এমনকি সংবাদের অনেক তথ্য এড়িয়ে গেছেন। ফলে পিতল, তামা ও এ্যালুমিনিয়াম লোহার দরে বিক্রি করায় দুর্নীতির বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে। এছাড়াও তিনি তাঁর প্রতিবাদে যেসব তথ্য দিয়েছেন তা প্রমাণে কোন ধরনের ডকুমেন্ট দিতে পারেননি।
পটিয়ায় ইয়াবা বিক্রেতারা বেপরোয়া
উদ্বেগ, ধ্বংস হচ্ছে যুবসমাজ
নিজস্ব সংবাদদাতা, পটিয়া, ২১ অক্টোবর ॥ হঠাৎ করে চট্টগ্রামের পটিয়ায় ইয়াবা বিক্রেতাদের তৎপরতা বেড়েছে। পৌর সদর ছাড়াও উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে মিলছে মরণব্যাধি এই ইয়াবা ট্যাবলেট। প্রতিদিনেই চট্টগ্রাম-কক্সবাজার আরকান মহাসড়কের বিভিন্ন পরিবহনে করে টেকনাফ ও কক্সবাজার থেকে হাজার হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট মিয়ানমার থেকে কক্সবাজার জেলার টেকনাফ সীমান্তে হয়ে পটিয়া শহরে ঢুকছে। তাছাড়া ইয়াবার ব্যবসার পাশাপাশি চলছে মদের রমরমা কারবার। সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করতে বিশাল একটি সিন্ডিকেট ইয়াবা ও মাদক কারবার পটিয়ার সর্বত্র ছড়িয়ে দিয়েছে। ইয়াবা বিক্রেতাদের আধিপত্য বিস্তার ও টাকা ভাগাভাগি নিয়ে প্রায়ই মারামারির ঘটনা ঘটছে। পুলিশের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের অভিযোগ, দায়িত্ব অবহেলার কারণে ইয়াবা ও মাদক বিক্রেতারা দিন দিন পটিয়ায় বেপরোয়া হয়ে উঠছে। বর্তমানে পৌর সদর ও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে দেড় শতাধিক স্পটে অনেকটা প্রকাশ্যে ইয়াবা ও চোলাই মদের কারবার চলছে। অথচ পুলিশ ব্যস্ত ভূমি বিরোধের সালিশ বিচার নিয়ে। মঙ্গলবার সকালে পটিয়া থানা চত্বরে অনুষ্ঠিত ‘ওপেন হাউস ডে’ অনুষ্ঠানে হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম ও কেলিশহর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন মাস্টার ইয়াবা এবং মাদকের ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ওপেন হাউস ডে’তে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার একেএম হাফিজ উদ্দিন, অতিরিক্ত সহকারী পুলিশ সুপার (পটিয়া) তারেকুল ইসলাম, অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহাবুদ্দিন খলিফাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিরা।
ডিমলায় হাত বাড়ালেই মাদক
স্টাফ রিপোর্টার নীলফামারী থেকে জানান, জমজমাট মাদকের কারবার চলছে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলাজুড়ে। শতাধিক পয়েন্টে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে অবৈধভাবে নিয়ে আসা এবং বাংলাদেশের বাজারে নিষিদ্ধ ভারতীয় মদ, গাঁজা, ফেনসিডিল, হেরোইন, ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের নেশা। হাত বাড়ালেই যেখানে সেখানে মাদক পাওয়া যাওয়ায় আসক্ত হয়ে পড়ছে উঠতি বয়সের তরুণরাসহ স্কুল-কলেজ পড়–য়া ছাত্র ও স্বল্প আয়ের সাধারণ মানুষ। আর মাদক বিক্রির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থানার ওসির সখ্য এবং মাসোয়ারা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসা ও অভিভাবকরা অভিযোগ করে জানায়, গত তিন মাসে উপজেলায় আশঙ্কাজনক হারে মাদক বিক্রেতা ও মাদক সেবীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। ডিমলা সদরের বিভিন্ন পয়েন্ট পুলিশের চোখের সামনে দিনে ও রাতে জমজমাটভাবে বিকিকিনি চলেছে মাদক। এছাড়া উপজেলার খগাখড়িবাড়ী, গয়াবাড়ী, ডালিয়া, নাউতারা, বালাপাড়া, কলোনি, ঠাকুরগঞ্জসহ বিভিন্ন পয়েন্টে প্রকাশ্যে চালানো হচ্ছে এই মাদক কারবার। গত শনিবার বিকেলে র‌্যাব-১৩ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ৫০ বোতল ফেনসিডিলসহ মাদক বিক্রেতা আব্দুর রাজ্জাককে আটক করেছিল। আব্দুর রাজ্জাক দীর্ঘদিন থেকে সীমা সিনেমা হল সংলগ্ন পানের দোকানে ফেনসিডিল বিক্রি করে।
আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে বিগত সময়ে ডিমলা থানায় ৭টি মাদকদ্রব্য বিক্রির অভিযোগে মামলা রয়েছে। র‌্যাবের হাতে আটকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নে জবাবে রাজ্জাক জানিয়েছিল, তার বিরুদ্ধে বিগত সময়ে থানায় ৭টি মামলা থাকায় ডিমলা থানার ওসিকে ম্যানেজ করে থেকে মাদক কারবার চালিয়ে আসছিল। ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, মাদকের বিষয়ে কোন প্রকার ছাড় নেই। ডিমলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শওকত আলীর এ ব্যাপারে বলেন, ডিমলায় কোন মাদকদ্রব্য পাওয়া যায় না। তার বিরুদ্ধে মাসোয়ারা অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।
দু’দলেরই লক্ষ্য জয়
বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা আন্তর্জাতিক প্রীতি ফুটবল
স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ‘প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে জাতীয় দলকে সবসময় একটা শেফে থাকা। ইতিবাচক প্রস্তুতি, নিজেদের সামর্থ্য সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হওয়া। জাতীয় দলের ফুটবলারদের মধ্যে বোঝাপড়ার বিষয়টা ঠিক থাকা। নিজেদের স্ট্যার্ন্ডাটটা যাচাই করে দেখা। শ্রীলঙ্কা আমাদের শক্তির কাছাকাছি মানের দল। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে হোমগ্রাউন্ড এ্যাডভান্টেজকে ভালভাবে কাজে লাগিয়ে লঙ্কানদের বিরুদ্ধে দুটি ম্যাচেই জয় কুড়িয়ে নেয়া।’
কথাগুলো সাইফুল বারী টিটুর। বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত কোচ (ডাচ্ কোচ লোডভিক ডি ক্রুইফ ও তাঁর স্বদেশী সহকারী রেনে কোস্টারকে বরখাস্ত করার পর আপাতত প্রধান কোচের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে দলের আরেক সহকারী কোচ টিটুকে)। বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা দুই ম্যাচ ফিফা আন্তর্জাতিক প্রীতি ফুটবল সিরিজের প্রথমটি অনুষ্ঠিত হবে ২৪ অক্টোবর যশোর শামস-উল-হুদা স্টেডিয়ামে (যশোর জেলা স্টেডিয়াম) বিকেল সাড়ে তিনটায়। অন্য ম্যাচটি হবে রাজশাহী মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামে (রাজশাহী জেলা স্টেডিয়াম) ২৭ অক্টোবর বিকেল ৫টায়। এ উপলক্ষে মঙ্গলবার বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) ভবনে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ দলের কোচ টিটু, অধিনায়ক মামুনুল ইসলাম, টিম লিডার ইকবাল হোসেন ও ম্যানেজার আমিরুল ইসলাম বাবু। শ্রীলঙ্কা দলের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সার্বিয়ান কোচ নিকোলা কাভাজোভিক ও অধিনায়ক তিলিনা বান্দারা। এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন বাফুফের সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম সোহাগ এবং সিরিজের পৃষ্ঠপোষক এস এস স্টিল (প্রাঃ) লিমিটেডের উর্ধতন কর্মকর্তারা। সিরিজের কো-স্পন্সর হচ্ছে চ্যানেল নাইন, ওয়ালটন এবং আমবার গ্রুপ। উল্লেখ্য, রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে চ্যানেল নাইন। আর যশোরে অনুষ্ঠিত প্রথম ম্যাচটি সম্প্রচার করার কথা রয়েছে বাংলাদেশ টেলিভিশনের। সেই চিঠি গ্রহণ করে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত মামুনুলকে ছুটি দিয়েছে কলকাতার দলটি। ছুটি পেয়ে সোমবার দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক-মিডফিল্ডার। এরপর মঙ্গলবার দলের সঙ্গে যশোর চলে যাবেন তিনি। ২৪ অক্টোবর যশোরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ খেলবেন। এরপর ২৭ অক্টোবর দ্বিতীয় ম্যাচ খেলে পরদিন আবার ভারত চলে যাবেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক। এশিয়ান গেমসে অংশ নেয়ার আগে নেপাল দলের সঙ্গে দুটি প্রীতি ম্যাচে অংশ নিয়েছিল বাংলাদেশ জাতীয় দল। যার একটিতে জয় পেলেও অন্যটিতে নেপালের সঙ্গে হেরেছিলেন মামুনুলরা। তবে এবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে যাতে এমন না হয় সেদিকে সতর্ক থাকবেন বলে জানান অধিনায়ক মামুনুল ইসলাম। তিনি আরও বলেন, ‘বাফুফেকে অশেষ ধন্যবাদ এই প্রীতি ম্যাচ আয়োজন করার জন্য। এটা আমাদের চাওয়া ছিল। সোমবার কলকাতা থেকে ঢাকা এসেছি। এসেই দলের সঙ্গে অনুশীলন করেছি। শুনেছি দল ভালই ট্রেনিং করেছে। আমরা জয়ের কথাই ভাবছি। আশা করি যশোর-রাজশাহীর দর্শকদের হতাশ হতে হবে না। এশিয়ান গেমসের আগে নেপালের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ আয়োজন করায় সেটি আমাদের অনেক উপকারে এসেছিল।’ টিটু বলেন, ‘প্রস্তুতি যথেষ্ট নয়। তারপরও সীমিত সুযোগকে কাজে লাগাতে আমরা বদ্ধপরিকর। প্রতিপক্ষ দলের কোচ সম্পর্কে কিছু জানি না। প্রতিপক্ষ সম্পর্কেও তেমন পরিষ্কার ধারণা নেই। ক্রুইফের নির্দেশ অনুযায়ীই এতদিন ধরে দল প্র্যাকটিস করেছে। এখন যদি প্র্যাকটিসের ধরন পাল্টে দিই, তাহলে দলের সমস্যা হতে পারে।’ উল্লেখ্য, ২০১০ সালে এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপের একটি ম্যাচে শ্রীলঙ্কার কাছে হেরেছিল বাংলাদেশ। তখন বাংলাদেশ দলের কোচ ছিলেন টিটু। সে প্রসঙ্গে তাঁর ভাষ্য, ‘আমি প্রতিশোধ নেয়ার কথা ভাবছি না। শুধু জিততে চাই।’ শেখ জামাল ধানম-ির একাধিক খেলোয়াড় আছে জাতীয় দলে। কিন্তু শুরুতেই তারা প্লেয়ারদের ছাড়েনি। এটা দলের প্রস্তুতিতে কতটা প্রভাব ফেলেছে? ‘কিছুটা তো ফেলেছেই, তবে সেটাকে বড় করে দেখতে রাজি নই।’ টিটুর জবাব। বাংলাদেশ দলে এবার দেখা যাবে নতুন চার মুখকে। এরা হলেন- সিফাত, ফাহাদ, তপু ও গোলরক্ষক লিটন। ইনজুরির কারণে বাদ পড়েছেন ডিফেন্ডার মিশু। তবে দলের সঙ্গেই মিশু আছেন বলে জানান ইকবাল। মামুনুল জানান, বাংলাদেশ দল আগের চেয়ে এখন অনেক শক্তিশালী। নতুনরা অনেক সম্ভাবনাময়। এশিয়ান গেমসে আমরা অনেক ভাল করেছি।’ শ্রীলঙ্কার ৩৯ বছর বয়সী সার্বিয়ান কোচ নিকোলা বলেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ।
সেরেনা-হ্যালেপের জয়, ইভানোভিচ-বাউচার্ডের হার
ডব্লিউটিএ চ্যাম্পিয়নশিপস
স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ সিঙ্গাপুরে শুরু হয়ে গেল মৌসুম শেষের আসর ডব্লিউটিএ চ্যাম্পিয়নশিপস প্রতিযোগিতা। বিশ্বের শীর্ষ আট মহিলা টেনিস তারকাদের নিয়ে আকর্ষণীয় এ টুর্নামেন্ট মাঠে গড়িয়েছে। আর শুরুতেই দাপুটে জয় তুলে নিয়েছেন গত দুই আসরের শিরোপাধারী বিশ্বের এক নম্বর সেরেনা উইলিয়ামস। এবার হ্যাটট্রিক শিরোপার খোঁজে আছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এ কৃষ্ণকন্যা। সে পথে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে দারুণ এক জয় পেয়েছেন প্রথম ম্যাচেই। তিনি সরাসরি ৬-৪, ৬-৪ সেটে হারিয়ে দিয়েছেন বিশ্বের সাত নম্বর সার্বিয়ার আনা ইভানোভিচকে। হাঁটুর ইনজুরি নিয়ে শঙ্কা থাকলেও দারুণ জয়ে সেরেনা সেটাকে অনেকখানিই উপশম করেছেন। দিনের অপর ম্যাচে কানাডার উদীয়মান তারকা ইউজেনি বাউচার্ড হেরে গেছেন। বিশ্বের পাঁচ নম্বর এ তারকাকে সরাসরি ৬-২, ৬-৩ সেটে হারিয়েছেন বিশ্বের চার নম্বর রোমানিয়ার সিমোনা হ্যালেপ।
কানাডার টেনিস ইতিহাসে মহিলা বা পুরুষ বিভাগে আজ পর্যন্ত কোন টেনিস খেলোয়াড় র‌্যাঙ্কিংয়ে এত উপরে উঠে আসতে পারেননি। কানাডার রেকর্ড র‌্যাঙ্কিংধারী ২০ বছর বয়সী সুন্দরী তারকা বাউচার্ড। কিন্তু মর্যাদার ডব্লিউটিএ ফাইনাল আসরের রাউন্ড রবীন লীগে পরাজয় দিয়েই শুরু হলো তাঁর যাত্রা। হ্যালেপের বিরুদ্ধে কোন প্রতিদ্বন্দ্বিতাই গড়ে তুলতে পারেননি তিনি। দুই সেটে জিততে পেরেছেন মাত্র ৫টি গেম। অবশ্য ম্যাচে নামার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই র‌্যাঙ্কিংয়ের পাঁচে পা দিয়েছিলেন বাউচার্ড। হ্যালেপের বিরুদ্ধে নামার ঠিক আগ মুহূর্তে জানতে পারেন র‌্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি হয়েছে তাঁর। আর সেটা কানডার টেনিস ইতিহাসেই সেরা করে দিয়েছে তাঁকে। এ বিষয়ে বাউচার্ড বলেন, ‘আমি ম্যাচ শুরু হওয়ার এক ঘণ্টা আগেও এ বিষয়ে কিছু জানতাম না। কেউ একজন আমাকে এটা জানানোর পর খুব অদ্ভুত মনে হচ্ছিল। সত্যিই এটা খুব ভাল বিষয়। তবে এটা উদযাপন করার মতো কোন বিষয় নয়। এখন আমার লক্ষ্য শুধু কিভাবে সামনে এগোনো যায় সেদিকে। র‌্যাঙ্কিংয়ে ওপরের দিকে যেতে পারা সবসময়ই খুব ভাল একটা বিষয়। এ মৌসুমে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা বাউচার্ড উইম্বল্ডনের ফাইনাল খেলেছেন এবং ফ্রেঞ্চ ও অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের সেমিফাইনাল খেলেছেন এবং প্রথম ডব্লিউটিএ শিরোপাও জিতেছেন। কিন্তু শীর্ষ আটের লড়াইয়ের শুরুতে যেভাবে তাঁর যাত্রা শুরু হলো তা একেবারেই সুখকর নয়। হ্যালেপ তাঁর বিরুদ্ধে চারটি ব্রেকপয়েন্ট জিতেছেন আর বাউচার্ড করেছেন মোট ৩০টি আনফোর্সড ইরোর। তবে হারের পরও বিন্দুমাত্র বিচলিত নন তিনি। বাউচার্ড বলেন, ‘বিশ্বের শীর্ষ দশে থাকা খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে টানা তিন ম্যাচ খেলার সুযোগ পাওয়াটাই দারুণ ব্যাপার। এখান থেকে অনেক ভাল কিছু শেখার থাকবে। প্রতিম্যাচে সবাই চাইবে প্রতিপক্ষের চেয়ে এগিয়ে থাকতে।’
বিশ্বের এক নম্বর সেরেনা অবশ্য তেমন সমস্যায় পড়েননি। ইভানোভিচের বিরুদ্ধে সহজ জয় তুলে নিয়েছেন। তবে সমানতালেই লড়েছেন ইভানোভিচও।
শেষ মুহূর্তে তাঁকে হতাশা উপহার দিয়েছেন সেরেনা। উভয় সেটের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ব্রেকপয়েন্ট জিতেছেন সেরেনা। গত মাসে চায়না ওপেন থেকে ইনজুরির জন্য নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন সেরেনা। তখন থেকেই তাঁর ফিটনেস নিয়ে ছিল প্রশ্ন। শঙ্কা ছিল এবার ডব্লিউটিএ আসরে পুরোপুরি ফিট থেকে খেলতে পারবেন কিনা। কিন্তু ইভানোভিচের বিরুদ্ধে নিজের শক্তিমত্তার প্রমাণ ভালভাবেই দিয়েছিলেন ৪-১ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে প্রথম সেটে। এরপর অবশ্য ইভানোভিচ ঘুরে দাঁড়িয়ে টানা তিন গেম জিতে সমতা আনেন। তবে এরপর আরেকটি ব্রেকপয়েন্ট জেতার কাছাকাছি গিয়েও নিজের ভুলে পিছিয়ে পড়েন ৪-৫ গেমে। আর সুযোগটা পাননি। শেষ গেমটিতে ব্রেকপয়েন্ট জিতে যান সেরেনা। দ্বিতীয় সেটে ৪-৩ ব্যবধানে এগিয়ে যান সেরেনা। পরে ৫-৪ গেমে এগিয়ে যান তিনি। আরেকটি ব্রেকপয়েন্ট জিতলেই ম্যাচ অনুকূলে চলে আসবে। তবে সার্ভ করছিলেন ইভানোভিচ। নিজের শক্তিমত্তা, সামর্থ্য আর দক্ষতার আরেকবার প্রমাণ দিয়ে ইভানোভিচকে সমতায় ফিরতে দেননি তিনি।
জিতে যান আবারও ৬-৪ গেমে। এবার ডব্লিউটিএ আসরের ৪৪তম সংস্করণ। আগের ৪৩ টুর্নামেন্টে কেউ টানা তিনবার শিরোপা জিততে পারেননি। সেরেনা সেই রেকর্ড গড়ার পথে রয়েছেন। এছাড়াও টানা চতুর্থবারের মতো বর্ষসেরা র‌্যাঙ্কিং নিয়েও শেষ করার বিরল সুযোগ তাঁর সামনে হাতছানি দিচ্ছে, যা টেনিস ইতিহাসের আরেকটি অভূতপূর্ব ঘটনা হবে। অপরদিকে, ইভানোভিচ ২০০৮ সালের পর এই প্রথম ডব্লিউটিএ আসরে অংশ নিচ্ছেন। তবে শুরুতেই হোঁচট খেলেন তিনি। তবে সেমিতে ওঠার জন্য সবারই সুযোগ আছে আরও দুটি ম্যাচে।
তিন টেস্টেই লক্ষ্য জয়
প্রত্যাশা কৃতী ব্যাটসম্যান মুমিনুলের
স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশ-জিম্বাবুইয়ে তিন টেস্ট ম্যাচের সিরিজ হবে। সেই সিরিজের দুটি ম্যাচ যে দল জিতবে, তারাই সিরিজ জিতে নেবে। কিন্তু বাংলাদেশ দলের নির্ভরযোগ্য টেস্ট ব্যাটসম্যান মুমিনুল হক একটি কিংবা দুটি নয়, টানা তিনটি টেস্টই জিততে চান। জিম্বাবুইয়েকে হোয়াইটওয়াশের জ্বালা দিতে চান।
জিম্বাবুইয়ে ক্রিকেটাররা বিসিবি একাদশের ক্রিকেটারদের বিপক্ষে তিনদিনের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলছেন। আর মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা, মুশফিকুর রহীম, সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবালরা জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে সিরিজে নামার জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন। ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছেন। সেই অনুশীলনের এক ফাঁকেই মুমিনুল হক যেন পুরো বাংলাদেশ দলের আশার কথাই নিজের কণ্ঠে জানিয়ে দিলেন। বছরজুড়ে হারতে থাকা একটি দলের এখন এছাড়া যে আর কোন গতি নেই। তাই মুমিনুল বললেন, ‘সবাই জানে এই সিরিজটা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। চেষ্টা করছি সবাই যেন ইতিবাচক ফল পায়। আগে কী হয়েছে সেটা চিন্তা না করে এই সিরিজটা নিয়ে ভেবে তিনটা টেস্টেই যদি ভালভাবে জিততে পারি, ওয়ানডেতেও যদি জিততে পারি ওভারকাম করতে পারব।’ সিরিজটা আসলেই খুব গুরুত্বপূর্ণ। এ সিরিজের উপর বাংলাদেশ ক্রিকেট কোথায় দাঁড়িয়ে থাকবে, তার ফয়সালা অনেকটাই হয়ে যেতে পারে। শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান, ভারত, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, অস্ট্রেলিয়া, পাকিস্তান দলগুলোর বিপক্ষে হারতে হারতে এখন বাংলাদেশ ক্রিকেটই যেন হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনায় আছে। এমনই অবস্থা ক্রিকেটপ্রেমীরাও মুখ ফিরিয়ে নিতে শুরু করেছেন। এখন যদি জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষেও হার হয় তাহলে ক্রিকেটের প্রতি ভালবাসাই কমে যাবে। দিন দিন আর কত হার সহ্য করা যায়। তাছাড়া আবার সামনে টার্গেট দেয়া আছে যে ২০১৭ সালের মধ্যে র‌্যাঙ্কিং ১০ এর মধ্যে থাকতে হবে। এ সিরিজ থেকে এর শুরু বলা হচ্ছে। মুমিনুলও তাই মনে করেন। তবে এ জন্য জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে খেলাটাকে চাপ হিসেবে নিচ্ছেন না। জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে খেলা মানেই চাপ। যেহেতু শক্তিতে সমান দুই দল। দলের অবস্থা কী? জানতে চাইলে মুমিনুল বলেন, ‘চাপ নিলে চাপ। এখন যে পরিস্থিতি আমাদের ভাল খেলতেই হবে। টেস্ট বলেন, ওয়ানডে বলেন সব জায়গায় ভাল খেলতে হবে। এ সিরিজ যদি আমরা ওভারকাম করতে পারি সামনে যে বিশ্বকাপ, তারপর অন্য যে খেলাগুলো আছে সেগুলোর জন্যও ভাল হবে।’
সর্বশেষ দুটো সিরিজেই যে আমরা জিম্বাবুইয়েতে খেলেছি, দুইটাতেই ভাল করিনি। বিশেষ করে টেস্টে। সেখান থেকে প্রতিশোধ নেয়ারও একটা ব্যাপার থাকে। বাংলাদেশে ২০০৫ সালে সর্বশেষ টেস্ট খেলেছে জিম্বাবুইয়ে। সেক্ষেত্রে আমাদের এ্যাডভান্টেজ বেশি না তাদের? মুমিনুল মনে করছেন, ‘প্রতিশোধ বলে কোন কিছু নেই। কি হয়েছে না হয়েছে, সেটা ভুলে যাওয়াই ভাল। নেতিবাচক কিছু হলে তো ভুলে যাওয়া অবশ্যই ভাল। আমরা ইতিবাচক দিক নিয়ে চিন্তা করছি। একটা একটা করে তিনটা টেস্টেই জেতার চেষ্টা করব। প্রতিটি ম্যাচেই উন্নতি করার চেষ্টা করব।’ বছরের শেষ সিরিজ এটা। টানা বছরজুড়ে খারাপ খেলা। একটাও ওয়ানডে না জেতা। টেস্টেও ভাল ফল নয়। সেক্ষেত্রে ফিনিশিং দেয়ার ব্যাপার আছে কিনা? তাছাড়া জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষেই কিন্তু প্রথম টেস্ট জয় পেয়েছিলাম। এখন আমরা খারাপ সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। এই সময়টা সেই সময়ের স্মৃতিটা অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে কিনা? মুমিনুল মনে করছেন করবে, ‘অবশ্যই কাজ করতে পারে। সেইসময় আমরা দেশের মাটিতে জিতেছিলাম। এবারও যদি ভালভাবে জিততে পারি, অবশ্যই কাজ করবে।’ ব্যাটসম্যানরা অনেকেই একসঙ্গে অফফর্মে আছে। টেস্টে আপনি ছাড়া। এটা কী বাড়তি দায়িত্ব নেয়ার ব্যাপার না চ্যালেঞ্জ? মুমিনুল চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিচ্ছেন না, ‘এটা আমার দায়িত্ব। বাড়তি চাপ না, চ্যালেঞ্জও না। যখন এর আগে টেস্টে তিনটা এক শ’ করেছি তখন প্রত্যাশা বেড়েছে। আমি আগে যেভাবে খেলেছি, সেভাবেই খেলব। যতটুকু করতে পারি নাই তারচেয়ে বেশি করার চেষ্টা করব।’ একসঙ্গে যে অনেকের খারাপ সময় যাচ্ছে এটা নিয়ে সবার মধ্যে আলোচনা হয়? মুমিনুল বলেছেন হয়, ‘অবশ্যই এটা নিয়ে আলোচনা হয়। এটা নিয়ে কথাবার্তা হয়।
কিভাবে ওভারকাম করা যায়, সেই কথা হয়। কিভাবে কী করলে ভাল হবে, সেই কথাবার্তা হয়।’ এটা কী মানসিক একটা ব্যাপার? মুমিনুল বললেন মানসিক ব্যাপার, ‘আমার মনে হয় হতে পারে এটা মানসিক ব্যাপার।’ সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মুমিনুল বললেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজে নিজের ব্যাটিং নিয়েই সন্তুষ্ট হতে পারেননি, ‘আমার যে প্রত্যাশা ছিল সেই অনুযায়ী ব্যাটিং করতে পারিনি।’ সবশেষে আবারও সিরিজ জেতার আকাক্সক্ষার কথাই জানান দিলেন মুমিনুল, ‘টিমের সবাই সিরিজটার দিকে অনেক বেশি ফোকাশ। ভালভাবে জেতার জন্য, সিরিজ জেতার জন্যই সবাই ভাবছে।’ ভাবনা নয়, মুখে নয়, কাজে প্রমাণ চায় সবাই, মাঠেও যেন প্রমাণ মিলে, ভাল ফল মিলে, জয় মিলে; সেদিকেই দৃষ্টি রয়েছে সবার।
দ্বিতীয় দফা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে চ্যালেঞ্জের মুখে দিলমা রুসেফ
জাতীয় তেল কোম্পানির দুর্নীতি
ব্রাজিলীয় তেল কোম্পানির আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনা দেশটির আগামী রবিবারের দ্বিতীয় দফা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। জাতীয় তেল কোম্পানি পেত্রিব্রাসের একজন প্রভাবশালী পরিচালক পাওলো রর্বাতো কোস্টাকে পুলিশ গ্রেফতার এবং ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে। নির্বাচনের আগ মুহূর্তে এ ঘটনাটি ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট দিলমা রুসেফকে অস্বস্তিতে ফেলে দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচন প্রতিযোগিতায় তিনি কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। তেলখাতে দুর্নীতির এ ঘটনাটি দেশটির রাজনীতি ও নির্বাচনকে ঘিরে মূল আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় ব্রাজিলের সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টির মধ্যপন্থী নেতা এসিও নেভিসের প্রতি সমর্থন বেড়েছে। নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে তার প্রতি সমর্থনও তত বাড়ছে। খবর ইন্টারন্যাশনাল নিউইয়র্ক টাইমস। অভিযুক্ত মিস্টার কোস্টার একটি বিলাসবহুল বাড়ি ও ব্যয়বহুল প্রমোদতরী রয়েছে। এছাড়া সুইজারল্যান্ড ও অন্যান্য ব্যাংকে তাঁর মজুদের পরিমাণ ২৫ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি। দুর্নীতির এ ঘটনাটি দ্বিতীয় দফা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দুই প্রার্থীর মধ্যে ব্যবধান তৈরি করে দিতে পারে। এসিও নেভিস এ কেলেঙ্কারির জন্য প্রতিদ্বন্দ্বী দিলমা রুসেফ ও তার সরকারের কড়া সমালোচনা করেছেন। গত রবিবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম দফা ভোট হয়। এতে রুসেফ ৪২ শতাংশ, এসিও নেভিস ৩৪ শতাংশ এবং সোশালিস্ট পার্টির প্রার্থী মারিনা সিলভা ২১ শতাংশ ভোট পান। কেউই ৫০ শতাংশ জনসমর্থন না পাওয়ায় দ্বিতীয় দফা ভোট হবে রবিবার।
অবাধ নির্বাচন অগ্রহণযোগ্য
স্পষ্ট ঘোষণা হংকং নেতা লেউংয়ের ॥ আলোচনার আগে হতাশ গণতন্ত্রপন্থীরা
হংকংয়ের বেজিং নিযুক্ত নেতা লেউং চুন ইং সোমবার সন্ধ্যায় বলেছেন, তাঁর উত্তরাধিকারীকে অবাধ ভোটে নির্বাচিত হতে দেয়ার প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ এরূপ করা হলে রাজনীতিতে দরিদ্রদের মতামতকে প্রাধান্য দেয়ার ঝুঁকি দেখা দেবে। লেউং তার প্রশাসন গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভ যেভাবে মোকাবেলা করছে তা সমর্থন করতে গিয়ে ওই মন্তব্য করেন। এ বিক্ষোভের ফলে তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে শহরের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। প্রতিবাদী সংগঠন অকুপাই সেন্ট্রালের নেতাদের মঙ্গলবার শহর কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত আলোচনায় মিলিত হওয়ার কথা। কিন্তু আলোচনা শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে প্রতিবাদীরা ও অকুপাইবিরোধী বাসিন্দারা কি ঘটতে যাচ্ছে তা তাঁরা জানেন বলে মোটামুটি নিশ্চিত। মংকক প্রতিবাদস্থলে এক বয়স্ক বিক্ষোভকারী স্ট্যানলি চীন বলেন, কোন ফলই হবে না। আমরা জানি, হংকং সরকারের সঙ্গে আলোচনার কোন সুযোগ নেই, সামনে এগিয়ে যাওয়ার কোন উপায় নেই। খবর ইন্টারন্যাশনাল নিউইয়র্ক টাইমস ও হাফিংটনপোস্ট অনলাইনের।
লেউং স্বীকার করেন যে শহরে সামাজিক গতিশীলতা এবং আবাসন সাধ্যের মধ্যে না থাকার কারণে অনেক প্রতিবাদী ক্ষুব্ধ রয়েছে। কিন্তু তিনি যুক্তি দেন যে, জনতার চাপ রোধ করাই পূর্ণ অবাধ নির্বাচনের জন্য প্রতিবাদীদের উত্থাপিত দাবি প্রতিহত করার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ। তিনি গবর্নমেন্ট হাউসে আমেরিকান ও ইউরোপীয় বার্তা সংস্থাগুলোর একদল সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলছিলেন।
এর পরিবর্তে তিনি বেজিংয়ের অবস্থানকেই সমর্থন করেন। বেজিংয়ের নির্দেশ অনুযায়ী শহরের শীর্ষ চীফ এক্সিকিউটিভের পদে তার স্থলাভিষিক্ত হতে চান এমন সব প্রার্থীর জীবনবৃত্তান্তই বেজিং মনোনীত এক মোটামুটি প্রতিনিধিত্বশীল মনোনয়ন কমিটি অবশ্যই পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখবে। তাঁর মতে, এরূপ পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রার্থীদের জনতার এক কল্যাণমুখী রাষ্ট্র সৃষ্টি করার চাপের হাত থেকে রক্ষা করবে এবং এর বদলে অর্থনৈতিক অসমতা প্রশমনের জন্য আরও ব্যবসাবান্ধব নীতি অনুস্মরণ করতে নগর সরকারকে সুযোগ দেবে। লেউংয়ের সরাসরি মন্তব্যে হংকংয়ের উঁচু শ্রেণীর মধ্যে ব্যাপকভাবে প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গিই প্রতিফলিত হয়। শহর পরিচালনার কাজে জনসাধারণকে বিশ্বাস করা যায় না বলে ওই শ্রেণীর ধারণা। তার মন্তব্য গণতন্ত্রপন্থী বিরোধী পক্ষের কাছ থেকে নতুন করে সমালোচনা ডেকে আনবে এবং হংকংয়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যত নিয়ে রাস্তায় রাস্তায় বিক্ষোভের জন্ম দেবে বলে মনে হয়।
সরকার এবং হংকং ফেডারেশন অব স্টুডেন্টসের প্রতিনিধিদের মধ্যকার আলোচনা স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় সরাসরি সম্প্রচারিত হওয়ার কথা। কিন্তু চীনের মতো প্রতিবাদীরা এবং বিক্ষোভকারীদেরই কড়া সমালোচকরা একমত যে, বৈঠকে অনুপস্থিত এমন এক পক্ষের হাতেই প্রকৃত ক্ষমতা নিহিত এবং সেটি হলো চীনের কেন্দ্রীয় সরকার। হংকংয়ের বাসিন্দারা প্রায় নিশ্চিত যে, চীনের অংশগ্রহণ ছাড়া মন্ত্রণালয়ের আলোচনায় কোন ফলই অর্জিত হবে না। প্রতিবাদে যোগদানকারী আইটি সিস্টেমস ম্যানেজার এরিক ওং (৪৪) বলেন, শেষ পর্যন্ত চীনা সরকারই প্রতিটি সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। হংকংয়ের চীফ এক্সিকিউটিভ পদে ২০১৭ সালের নির্বাচনে প্রার্থীদের নাম বেজিং মনোনীত এক কমিটির দ্বারা অনুমোদিত হতে হবে বলে চীন ঘোষণা করলে প্রতিবাদ বিক্ষোভের সূচনা হয়।
পায়রা সমুদ্রবন্দর এলাকায় প্রাণচাঞ্চল্য
নিরাপত্তা ভবন উদ্বোধন বৃহস্পতিবার
মেজবাহউদ্দিন মাননু, কলাপাড়া ॥ সাগরপারের জনপদ কলাপাড়ায় হাজার হাজার মানুষের অর্থনৈতিক জীবনধারা পাল্টে যাচ্ছে। এখানকার অধিকাংশ মানুষ বছরে কমপক্ষে চার মাস বাড়িঘর, স্ত্রী-সন্তান ছেড়ে ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে গিয়ে নির্মাণসহ বিভিন্ন শ্রমিকের কাজ করতেন। দেশের তৃতীয় ‘পায়রা সমুদ্রবন্দর নির্মাণ’ প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ায় এ সব মানুষ এখন নিজের বাড়িতে থেকেই কর্মসংস্থানের সুযোগ পাওয়ার স্বপ্নে বিভোর হয়ে আছেন। পায়রাবন্দর নির্মাণ কাজকে ঘিরে টিয়াখালী নদীতীর এলাকা এখন আলোকিত জনপদে পরিণত হয়েছে। যেখানে মানুষ তার জমিজমা আবাদে দেখাত অনীহা, এখন তাঁরা সোনার দামে জমি বেচাকেনার স্বাদ নিচ্ছেন। আর্থিক দৈন্যের যেন ইতি টানতে যাচ্ছেন এ সব বঞ্চিত মানুষ। প্রকল্প এলাকা অনেক আগেই ভরাট করা হয়েছে। পায়রা সমুদ্রবন্দর প্রকল্প এলাকা পর্যন্ত ইটবিছানো সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। দুটি সংযোগ সড়ক সিলকোট করা হয়েছে। আশপাশেই অসংখ্য দোকানপাট বসেছে। লিকার চায়ের বদলে এখন কফির স্বাদ নিচ্ছেন মানুষ। প্রকল্প এলাকায় টার্মিনাল স্থাপন করা হয়েছে। সৌরবিদ্যুত সিস্টেম চালু করা হয়েছে। পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি বসানো হয়েছে। নিরাপত্তা ভবনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এখন চলছে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ। জেলা সদর পটুয়াখালী থেকে পর্যটন শহর কলাপাড়া উপজেলা সদর থেকে সোজা গাড়িতে মানুষ যেতে পারছে পায়রাবন্দর প্রকল্প এলাকায়। এখন পড়ন্ত বিকেলে দর্শনার্থীর ভিড় লেগে থাকে পায়রাবন্দরে। শত শত নারী-পুরুষ প্রতিদিন এখানে ভিড় করছে। রিক্সা, হোন্ডা, অটোবাইকের নতুন রুটে পরিণত হয়েছে এ পথটি। অজানা, অচেনা এ জনপদ এখন হয়ে আছে কর্মমুখর। আগামী ২৩ অক্টোবর বন্দরের নিরাপত্তা ভবনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের প্রস্তুতি চলছে। নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানসহ মন্ত্রিপরিষদের একাধিক সদস্যের এ অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ঝড়-ঝঞ্ঝা বিক্ষুব্ধ এ অঞ্চলের মানুষের কাছে শুধু কৃষি এবং মাছ ধরার পেশা ছিল জীবিকার অবলম্বন। কিন্তু প্রাকৃতিক বিপর্যয় এ পেশায় দেখা দেয় অনিশ্চয়তা। পায়রা সমুদ্রবন্দর নির্মাণ প্রকল্প শুরু হওয়ায় ধুঁকে ধুঁকে চলা ওই পেশার মানুষগুলো এখন কর্মসংস্থানের নতুন স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলহাজ মাহবুবুর রহমান জানান, প্রাকৃতিক বৈরী পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বিপর্যয় উপলব্ধি করতে পেরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পায়রা সমুদ্রবন্দর নির্মাণের মধ্য দিয়ে এ অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকায় পরিবর্তনের ছোঁয়া এনে দিয়েছেন। শিল্পভিত্তিক অঞ্চল ছাড়াও পর্যটন শিল্পকে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে রূপ দিতেই তাঁর এ প্রচেষ্টা বলে প্রধানমন্ত্রী প্রকল্প এলাকার উদ্বোধনী দিনে বলেছেন।
পায়রাবন্দর কর্তৃপক্ষের বোর্ড মেম্বার (হারবার ও মেরিন) ক্যাপ্টেন সাইদুর রহমান জানান, ২০১৫ সালের মাঝামাঝি সময় বহির্নোঙ্গরের কাজ শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া ছোট ভ্যাসেলের মাধ্যমে পণ্য খালাসের মধ্য দিয়ে এই বন্দরের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করার পরিকল্পনা চূড়ান্ত পর্যায় রয়েছে। রামনাবাদ মোহনা থেকে কাজল, তেঁতুলিয়া নদী হয়ে কালীগঞ্জ পর্যন্ত সমুদ্রের (নৌ-পথের) গভীরতা যাচাইয়ের কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। অধিকাংশ রুটের গভীরতা সাত থেকে ১৫ মিটার। তবে শুধু চালিতাবুনিয়াসহ কয়েকটি এলাকায় খননকাজ করতে হবে।
এই কর্মকর্তা জানান, অন্যান্য বন্দরে জাহাজ চলাচলে যেমন জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভর করতে হয়। পায়রাবন্দরের সঙ্গে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলে এ ধরনের সমস্যা থাকবে না। গভীরতা বেশি থাকায় এই রুটে ২৪ ঘণ্টা জাহাজ চলাচলের সুযোগ রয়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে ইতোমধ্যে কাউয়ারচরে বাতিঘর স্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে। পায়রাবন্দর থেকে কুয়াকাটাগামী মহাসড়কের রজপাড়া পর্যন্ত চার লেনের মূল সংযোগ সড়ক নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। এ বছর লালুয়ার চারিপাড়াসহ আশপাশ এলাকার প্রায় দুই হাজার একর জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া চূড়ান্তের পথে। প্রকল্পের এ কাজ করতে তিন শ’ কোটি টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। চারিপাড়ায় মূলবন্দরের কাজ শুরু করতে বিদেশী বিশেষজ্ঞ নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পায়রা সমুদ্রবন্দর প্রকল্পের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ২০১৩ সালের ১৯ নবেম্বর। এ অঞ্চলের মানুষের কাছে ওই দিনটি হয়ে আছে ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণ, যা ছিল তাঁদের কাছে স্বপ্নের মতো। এর বাস্তব প্রতিফলন এখন দেখছেন তাঁরা। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা তাঁর প্রতিশ্রুতি অনুসারে দেশের তৃতীয় সমুদ্রবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেন এ জনপদকে ঘিরে। বেছে নেয়া হয় রামনাবাদ চ্যানেলকে। বহু দফা দেশী এবং আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ দল সমীক্ষা চালায়। বন্দর সূত্রে জানা গেছে, মাদার ভ্যাসেলকে বহির্নোঙ্গরে রেখে লাইটার জাহাজে এ বন্দর দিয়ে পণ্য ওঠানামা করা যাবে। এ বন্দর এলাকা এক্সক্লুসিভ জোনে পরিণত হবে।
টিয়াখালীতে ১৬ একর জমি অধিগ্রহণ করে পায়রাবন্দর প্রকল্প এলাকার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ২০১৩ সালের ৩ নবেম্বর, জাতীয় সংসদে পায়রা সমুদ্রবন্দর কর্তৃপক্ষ আইন-২০১৩ পাস হয়। এ আইনের আওতায় রামনাবাদ পাড়ের মধ্যবর্তী টিয়াখালী ইউনিয়নের ইটবাড়িয়াতে দেশের তৃতীয় সমুদ্রবন্দর প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। পায়রা সমুদ্রবন্দর নির্মাণের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের একটি তদারকি সেলও গঠন করা হয়েছে।
জঙ্গী অর্থায়ন বন্ধে শাস্তির মাত্রা বাড়ানো হচ্ছে
মানিলন্ডারিং আইন সংশোধনের উদ্যোগ
এম শাহজাহান ॥ জঙ্গী ও সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন নিয়ন্ত্রণে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২ এর চারটি ধারা সংশোধন করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন নিয়ন্ত্রণ করা গেলে বাংলাদেশ নিয়ে দেশী ও আন্তর্জাতিক জঙ্গীদের যে অপতৎপরতা রয়েছে তা বন্ধ হবে। এ লক্ষ্যে মানিলন্ডারিং আইনের ধারা-৯ অপরাধের তদন্ত ও বিচার, ধারা-১২-দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুমোদনের অপরিহার্যতা, ধারা-১৪ সম্পত্তির অবরুদ্ধকরণ বা ক্রোক আদেশ এবং ধারা ২৩- মানিলন্ডারিং অপরাধ দমন প্রতিরোধে বাংলাদেশ ব্যাংকের যে ক্ষমতা রয়েছে তা সংশোধন করা হবে। যেমন অভিযোগ উঠেছে, সেকেন্ড হোম হিসেবে ইতোমধ্যে মালয়েশিয়াতে ৫ হাজার কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে। অথচ পাচারকারীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে পারেনি সরকার।
জানা গেছে, টাকা পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন বন্ধে ইতোপূর্বে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২ পাস করা হয়েছে। যার লক্ষ্য ছিল দক্ষিণ এশীয় সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ করা। এছাড়া সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন ও জাল নোট তৈরির মতো অবৈধ কর্মকা-ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশী কর্মকর্তাদের সক্ষম করবে বলে মনে করা হয়েছিল। ওই আইনে মানিলন্ডারিং সম্পর্কিত অপরাধগুলোর সংজ্ঞাকে বিস্তৃত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ২৮টি কর্মকা-কে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে ?
এগুলোর মধ্যে রয়েছে- অবৈধ অস্ত্রের বাণিজ্য, সন্ত্রাসবাদ ও সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন, পাইরেসি, উড়োজাহাজ ছিনতাই, অবৈধ মাদক বিক্রি, মানব পাচার, সংগঠিত অপরাধ, জিম্মি করা, কপিরাইট লঙ্ঘন, দুর্নীতি ও ঘুষ, জাল করা, খুন ও শারীরিক ক্ষতি, যৌন অপব্যবহার, ভয় দেখানো, ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করা, চাঁদাবাজি, প্রতারণা, চোরাচালান ও পরিবেশগত অপরাধসমূহ। কেউ মানিলন্ডারিং বা লন্ডারিং সংশ্লিষ্ট অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে চার থেকে ১২ বছর পর্যন্ত কারাদ- এবং ১ মিলিয়ন বা ১০ লাখ টাকা জরিমানার সম্মুখীন হবেন। তবে শাস্তি হিসেবে এই দ- এতদিন লঘুদ- হিসেবেই বিবেচিত হয়ে আসছে। তবে এবারের সংশোধিত আইনে সাজার মেয়াদ ও আর্থিক দ-ের পরিমাণ কয়েকগুণ বাড়ানো হবে বলে জানা গেছে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব গোকুল চাঁদ দাস জনকণ্ঠকে বলেন, সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থপাচারের মতো বিষয়টি একটি জটিল বিষয়। সব সময় আইন করে এটি নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। তারপরও বর্তমান সরকার এ বিষয়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছে। তিনি বলেন, মানিলন্ডারিং আইনের কতগুলো ধারা সংশোধন করা হবে। মূলত যাঁরা মানিলন্ডারিং করছেন তাঁদের শাস্তি নিশ্চিত করতেই আইন সংশোধন করা হবে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোসহ বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে মতামত চাওয়া হয়েছে। শীঘ্রই মতামত ও সুপারিশগুলো পাওয়া গেলে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবে অর্থমন্ত্রণালয়।
এছাড়া, বাংলাদেশের এক ইঞ্চি মাটিও জঙ্গীদের জন্য নয়। জঙ্গী নির্মূল ও দমনে বাংলাদেশের এই অবস্থান বিশ্ববাসীকে আগেই জানিয়ে দিয়েছে বর্তমান সরকার। তারপরও জঙ্গীবাদের ছোবল থেকে পুরোপুরি আশঙ্কামুক্ত নয় বাংলাদেশ। সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন নিয়ন্ত্রণে এবার কঠোর অবস্থানে রয়েছে সরকার। সরকার মনে করছে, সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন নিয়ন্ত্রণ করা গেলে বাংলাদেশ নিয়ে দেশী ও আন্তর্জাতিক জঙ্গীদের যে অপতৎপরতা রয়েছে তা বন্ধ হবে। এ লক্ষ্যে অর্থ সরবরাহ নিয়ন্ত্রণে এবার মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২ এর গুরুত্বপূর্ণ চারটি ধারা সংশোধন করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
সেকেন্ড হোমের নামে মালয়েশিয়ায় টাকা পাচার ॥ সেকেন্ড হোমের নামে মালয়েশিয়ায় ইতোমধ্যে ৫ হাজার কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে। যা মানিলন্ডারিং আইনে অপরাধ। অথচ যারা টাকা পাচার করল তাদের শাস্তি নিশ্চিত করতে পারেনি সরকার। যদিও ৫ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে অনুসন্ধান কমিটি গঠন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সেকেন্ড হোম বা দ্বিতীয় আবাস গড়ার নামে দুর্নীতিবাজ রাজনীতিক, ব্যবসায়ী ও আমলারা দেশ থেকে বিশাল অঙ্কের টাকা পাচার করেছে। গত পাঁচ বছরে ৪ হাজার ৯৮৬ কোটি টাকার সমপরিমাণ মার্কিন ডলার বিদেশে পাচার করা হয়েছে এবং প্রায় ৮০০ কোটি টাকা পাচারের প্রক্রিয়ায় রয়েছে বলে সম্প্রতি একটি অভিযোগ আসে দুদকে। অভিযোগটি আমলে নিয়ে কমিশন অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় এবং তিন সদস্যের একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বিদেশে পাড়ি জমাতে সেকেন্ড হোমের জন্য আবেদন করেছেন বাংলাদেশের ৬৪৮ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি। এদের মধ্যে রাজনীতিবিদ, সুবিধাভোগী শিল্পপতি, ব্যবসায়ী ও আমলা রয়েছেন। আর তাঁদের পছন্দের তালিকায় সবার ওপরে রয়েছে মালয়েশিয়া। এরপর রয়েছে কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও সিঙ্গাপুর। এরপর রয়েছে মধপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ। এসব দেশ বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তা ও স্বকর্মসংস্থান কোটায় বাংলাদেশীদের সহজেই ভিসা দিচ্ছে।
এছাড়া গ্লোবাল ফিনান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি বা জিএফআই’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০২ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত এক দশকে বাংলাদেশ থেকে অন্তত ১ হাজার ৬০৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার বা ১ লাখ ২৮ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। পাচারের নিরিখে ১৫০টি উন্নয়নশীল দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৪৭তম। আর দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। এতে আরও বলা হয়, উল্লিখিত সময়ে গড়ে প্রতিবছর ১৬০ কোটি ৮০ লাখ ডলার বা ১২ হাজার ৮৬৪ কোটি টাকা বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়েছে।
জানা গেছে, বাংলাদেশে বিএনপি-জামায়াত জোটের মৌলবাদী রাজনীতি বিশেষ করে হুজি, হরকত-উল-জিহাদ, হেফাজতে ইসলামের উত্থান ও সম্প্রতি জেএমবির ফাঁসির দ-প্রাপ্ত আসামি ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনায় সরকার অস্বস্তিতে রয়েছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক মৌলবাদী শক্তি আল কায়েদা, আইএস এক হয়ে দেশে বড় ধরনের নাশকতামূলক কর্মকা- করতে পারে এ ধরনের আশঙ্কা রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। বাংলাদেশের জঙ্গীবাদের উত্থানে ইতোপূর্বে ভারতের আনন্দ বাজার পত্রিকা উদ্বেগ জানিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে-বাংলাদেশের জামায়াতপন্থ’ী মৌলবাদী স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলোকে বিভিন্ন খাতে ঢালাও ঋণ দিচ্ছে ইসলামী ব্যাংকগুলো। এছাড়া জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাসে অর্থায়নে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকসহ ২০টি ব্যাংকের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।
তিন কার্যদিবস পর ঘুরে দাঁড়াল পুঁজিবাজার
ডিএসইতে সূচক ও লেনদেন বেড়েছে
অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ অবশেষে টানা ৩ দিন দরপতনের পর মঙ্গলবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে পুঁজিবাজার। এদিন দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচক ও লেনদেন বেড়েছে। তবে অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচক বাড়লেও কমেছে লেনদেন। দিনভর উভয় বাজারে উর্ধমুখী প্রবণতায় লেনদেন হয়েছে। দুপুর তিনটার দিকে ডিএসইর মূল্য সূচক ১০০ পয়েন্টেরও বেশি বাড়ে। এরপর কিছুটা কমে যায়। দিনশেষে ডিএসইর ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ৮৯ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৫২৩৩ পয়েন্টে। দিনভর লেনদেন হওয়া ৩০১টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ২২৭টির, কমেছে ৪১টির আর অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৩টি কোম্পানির শেয়ার দর।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, মঙ্গলবার ডিএসইতে ৬৯৪ কোটি ২৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর আগে সোমবার ডিএসইর ব্রড ইনডেক্স অবস্থান করে ৫১৪৪ পয়েন্টে। ওই দিন লেনদেন হয় ৫৯৬ কোটি ৯৫ লাখ ৬৫ হাজার টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট। সে হিসেবে মঙ্গলবার ডিএসইতে লেনদেন কমেছে ৯৭ কোটি ২৭ লাখ ৪৮ হাজার টাকা বা ১৪.০১ শতাংশ। এদিন ডিএসই প্রধান মূল্য সূচক ডিএসই এক্স ৮৯ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৫ হাজার ২৩৩ পয়েন্টে। ডিএসইএস বা শরীয়াহ সূচক ২৬ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে এক হাজার ২৩৩ পয়েন্টে। আর ডিএস-৩০ সূচক ৩৮ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৯৭২ পয়েন্টে। মঙ্গলবার ডিএসইর টপ-২০ তালিকায় থাকা কোম্পানিগুলোর মোট ৩৪৯ কোটি ২৭ লাখ ৩৭ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যা ডিএসইর মোট লেনদেনের ৫০.৩১ শতাংশ। এদিন ডিএসইতে সবচেয়ে বেশি শেয়ার লেনদেন হয়েছে এমজেএল বিডির। দিনভর এ কোম্পানির ২২ লাখ ৩ হাজার ৭০০ শেয়ার ৩২ কোটি ৪৫ লাখ ১৫ হাজার টাকায় লেনদেন হয়েছে। এছাড়া খুলনা পাওয়ার কোম্পানির ২৯ কোটি ৭৯ লাখ, স্কয়ার ফার্মার ২৮ কোটি ৮১ লাখ, গ্রামীণফোনের ২৬ কোটি ৪৯ লাখ, আরএসআরএম স্টিলসের ২৫ কোটি ১ লাখ, তিতাস গ্যাসের ২২ কোটি ৩১ লাখ, আইডিএলসির ১৯ কোটি ৪১ লাখ, বেক্সিমকো ফার্মার ১৭ কোটি ৭৬ লাখ, সিটি ব্যাংকের ১৫ কোটি ৭৭ লাখ এবং লাফার্জ সুরমা সিমেন্টের ১৫ কোটি ৭০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।
এদিকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ভ্রমণ ও অবকাশ খাতের ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের শেয়ার দর গত দুই বছর আগের অবস্থানে নেমে এসেছে। সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবস মঙ্গলবার ৮০ পয়সা বা ৭ দশমিক ২৭ শতাংশ দর হারিয়ে কোম্পানিটি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) টপটেন লুজার তালিকার দ্বিতীয় স্থানে নেমে আসে। দিনভর এই শেয়ার ১০ টাকা ২০ পয়সা থেকে ১০ টাকা ৫০ পয়সায় লেনদেন হয়। এছাড়া দাম কমার প্রথম অবস্থানে ছিল মিউচুয়াল ফান্ড খাতের ইবিএল এনআরবি মিউচুয়াল ফান্ড। এদিন এ ইউনিটের দর ৭০ পয়সা বা ৯ দশমিক ৮৬ শতাংশ কমে সর্বশেষ লেনদেন হয় ৬ টাকা ৪০ পয়সায়। দিনভর এ ইউনিট ৬ টাকা ৪০ পয়সা ৭ টাকায় লেনদেন হয়। এরপর দর কমার তৃতীয় স্থানে ছিল শ্যামপুর সুগার, চতুর্থ হাক্কানী পাল্প, পঞ্চম পদ্মা লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ষষ্ঠ কাশেম ড্রাইসেল, সপ্তম ইসলামিক ফিন্যান্স, অষ্টম আইসিবি এএমসিএল দ্বিতীয় মিউচুয়াল ফান্ড, নবম ইনফরমেশন সার্ভিসেস নেটওয়ার্ক এবং দশম স্থানে ছিল রেনউইক যজ্ঞেশ্বর।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) ওয়েবসাইট সূত্রে জানা যায়, এদিন সিএসইর সিএসসিএক্স সূচক ১৪৮ পয়েন্ট বেড়ে ৯ হাজার ৮২৬ পয়েন্টে অবস্থান করে। এছাড়া সিএসই-৩০ সূচক ২৪৬ পয়েন্ট বেড়ে ১৩ হাজার ৩৮৫ পয়েন্টে এবং সিএএসপিআই সূচক ২৬৭ পয়েন্ট বেড়ে ১৬ হাজার ১৬১ পয়েন্টে দাঁড়ায়। স্টক এক্সচেঞ্জটিতে লেনদেন হওয়া ২২৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ১৫৩টির, কমেছে ৫৪টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৬টির দাম। লেনদেন হয় মোট ৪৪ কোটি ০৩ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট। আগের কার্যদিবস সোমবার লেনদেন হয়েছিল মোট ৪৬ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।
খালেদা জিয়া কাল নীলফামারী যাচ্ছেন
স্টাফ রিপোর্টার, নীলফামারী ॥ বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া আগামীকাল বৃহস্পতিবার নীলফামারী আসছেন। নীলফামারী শহরের বড় মাঠে ২০ দলীয় জোটের জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন তিনি। খালেদা জিয়ার জনসভা সফল করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।
বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার আগমন ও জনসভা ঘিরে মঙ্গলবার বিকেল চারটায় জেলা শহরে বিশাল প্রচার মিছিল করেছে বিএনপি। এ সময় বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু সাংবাদিকদের জানান, নীলফামারীর সমাবেশে ১০ লাখেরও বেশি মানুষের সমাগম ঘটবে। এই জনসভা থেকে সরকার পতন আন্দোলনের দিক নিদের্শনামূলক গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখবেন বেগম জিয়া। জনসভায় রংপুর বিভাগের আট জেলার বিএনপির নেতাকর্মী ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন।
জনসভায় খালেদা জিয়ার হাতে ফুল দিয়ে বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা যোগদান করবেন- এমন আভাস দিয়ে বলেন, কিছু চমক অপেক্ষা করছে। তবে কোন দলের কারা বিএনপিতে যোগদান করছেন তাদের নাম তিনি জানাননি।
এদিকে বড় মাঠের জনসভাস্থলে চলছে মঞ্চ তৈরির কাজ। মাঠজুড়ে টাঙানো হয়েছে বিশালাকারের বহু ডিজিটাল ব্যানার, ভাষণ প্রচারের জন্য ২২৫টি মাইক সেট করা হয়েছে।
অপরদিকে খালেদা জিয়ার নীলফামারীর আগমন ও জনসভা ঘিরে জেলার বিভিন্ন হাটবাজার ও রাস্তায় রাস্তায় টাঙানো হয়েছে ডিজিটাল ব্যানার। তাতে নেতাকর্মীদের ছবিসহ খালেদা জিয়ার আগমন এবং জনসভার বার্তা দেয়া হয়েছে।
জনসভার মঞ্চের সামনের জায়গা কার দখলে থাকবে- এ নিয়ে চলছে ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের গোপন বৈঠক। একাধিক সূত্র জানায়, জনসভার দিন জামায়াত-শিবির ও বাংলাদেশ ন্যাপের পক্ষে মঞ্চের কাছাকাছি স্থানটি উভয় দলের ২০ হাজার করে ৪০ হাজার মানুষ অবস্থান নেবে। তবে এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সামসুজ্জামান জামান বলেন, আমরা জনসভার মঞ্চ থেকে মাঠে পাঁচটি স্তরের ব্যবস্থা করেছি। এর মধ্যে মঞ্চের দুই ধারে থাকবে সাংবাদিকদের আসন। মঞ্চের প্রথম সারিতে মহিলা, দ্বিতীয় সারিতে ছাত্রদল ও যুবদল, তৃতীয় সারিতে বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোটের কর্মীবৃন্দ ও পঞ্চম সারিতে সাধারণ জনতা থাকবে। ২০ দলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে তিনি জানান।
সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ নির্মাণ কাজ দুই বছরেও শুরু হয়নি
বরাদ্দ টাকা ফেরত গেছে ॥ শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলছে
মিজানুর রহমান, সাতক্ষীরা ॥ সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজে শিক্ষার্থীদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট তৃতীয় দিনের মতো অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার সকালে শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল-সমাবেশ ও সাতক্ষীরা-কালীগঞ্জ মহাসড়ক অবরোধ করে অবস্থান ধর্মঘট করেছে। এ সময় কমপক্ষে ৩০ মিনিট যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। ২৫০ শয্যা হাসপাতালের নির্মাণ কাজ দ্রুত সম্পন্ন, পরিবহনসহ বিভিন্ন সরঞ্জামাদির সঙ্কট দূর ও কলেজের ৪০টি শূন্যপদে শিক্ষক নিয়োগসহ বিভিন্ন দাবিতে এই শিক্ষার্থীর ধর্মঘট অব্যাহত রয়েছে।
জমি অধিগ্রহণ ও ভবন নির্মাণের জন্য টাকা বরাদ্দ হলেও সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজের নির্মাণ কাজ গত ২ বছরেও শুরু হয়নি। জানুয়ারি ১২ থেকে ডিসেম্বর ১৪ পর্যন্ত এই প্রকল্পের মেয়াদ থাকলেও চলতি বছর এই প্রকল্পের মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানো হয়েছে। প্রায় ৪ মাস আগে এই কাজের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হলেও এই কাজ শুরু হয়নি। গত অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীতে এই প্রকল্পের জন্য প্রথম দফায় ৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও রিভাইজ করে পরবর্তীতে ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হলেও দরপত্র না হওয়ায় এপ্রিলে বরাদ্দ ৪ কোটি টাকা সারেন্ডার করার পাশাপাশি বাকি টাকা নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে মেডিকেল কলেজের ভবন নির্মিত না হওয়ায় ১শ’ ৫২ জন শিক্ষার্থীকে এখন ক্লাস করতে হচ্ছে অসমাপ্ত নবনির্মিত আড়াইশ শয্যার হাসপাতাল ভবনের স্টাফ কোয়ার্টারে। এখানেই তাদের থাকতে হচ্ছে। সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডাঃ এস জেড আতিক সমস্যা ও সঙ্কট দূর করার চেষ্টা চলছে দাবি করে মঙ্গলবার জনকণ্ঠকে বলেন, স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর ও মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।
সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয় ২০১২ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি। বর্তমানে এই কলেজে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ১শ’ ৫২ জন। কলেজ নির্মাণের জন্য সাতক্ষীরা শহর থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার দূরে বাঁকালে ৩০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। জেলা প্রশাসন থেকে এই জমি অধিগ্রহণ কাজ শেষ করতে সময় লাগে প্রায় এক বছর। ১২ সালের ২৬ নবেম্বর জমি অধিগ্রহণের টাকা পরিশোধ হয়। ১২-১৩ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীতে বরাদ্দ ২০ কোটি টাকার মধ্যে ৫ কোটি টাকা ব্যয় করা হয় জমি অধিগ্রহণ খাতে। চলতি অর্থবছরে মেডিক্যাল কলেজ নির্মাণের জন্য প্রথম ফেজে বরাদ্দ মেলে ১৪ কোটি টাকা। সূত্র জানায়, এই মেডিক্যাল কলেজ নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু করে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর। কলেজ ভবন নির্মাণের জন্য ১৩ সালে একটি প্যাকেজে ১শ’ ৯৭ কোটি টাকার একটি দরপত্র আহ্বান করা হয় স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর থেকে। কিন্তু এই বড় প্যাকেজটি বাতিল হয়ে যায়। পরবর্তীতে গত নবেম্বরে ১শ’ ৯৭ কোটি টাকার এই প্যাকেজটি ২০ ভাগে ভাগ করে পুনরায় রিভাইজ এস্টিমেট তৈরা করা হয়। কিন্তু এক সঙ্গে ৫০ কোটি টাকার বেশি কাজের অনুমোদন দেয়ার ক্ষমতা মন্ত্রণালয়ের না থাকায় দরপত্র আহ্বান পুনরায় আটকে যায়। পরবর্তীতে এই প্যাকেজ ছোট করে ২০টি প্যাকেজ করা হলেও পুরনো রেট অনুযায়ী এস্টিমেট করায় ফের জটিলতা দেখা দেয় এবং দরপত্র প্রক্রিয়া ফের আটকে যায়। পরবর্তীতে নির্মাণ ব্যয় ১০ ভাগ বৃদ্ধি করে প্রথম দফায় পাঁচটি প্যাকেজ অনুমোদনের জন্য ৪ মে মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হয়। এরপরও মন্ত্রণালয়ের ধীরগতির কারণে দরপত্র কার্যক্রম বিলম্বিত হয়। পরবর্তীতে এই কাজের দরপত্র আহ্বান করা হলেও এখনও কাজ শুরু হয়নি।
দায়িত্বশীল সূত্র জনকণ্ঠকে জানায়, কলেজের জন্য জমি অধিগ্রহণের পর ২৭ নবেম্বর ’১২ থেকে ৪ ফেব্রুয়ারি ’১৩ পর্যন্ত কয়েক দফা কলেজ অধ্যক্ষের পক্ষ থেকে ভবন নির্মাণ প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ডিজি, সচিবসহ বিভিন্ন কর্মকর্তার কাছে চিঠি দিয়ে কাজ শুরু করার অনুরোধ জানানো হয়। কিন্তু স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের প্রকল্প তৈরি ও দরপত্র নিয়ে জটিলতায় মেডিক্যাল কলেজ নির্মাণ প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ফাইলবন্দী হয়ে পড়ে। ইতোমধ্যে নির্মাণ কাজের জন্য প্রথম দফায় বরাদ্দ ১৫ কোটি টাকা ফেরত চলে গেছে। তৃতীয় কিস্তির বরাদ্দের ৩ কোটি টাকা দিয়ে যন্ত্রপাতি কেনা হলেও বাকি ৭ কোটি টাকা ফেরত দেয়ার পাশাপাশি ও ৪র্থ কিস্তির টাকা নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে।
কলেজ সংলগ্ন আড়াইশ’ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের ভবন নির্মাণ কাজ শেষ হলেও ভবনের জানালা ও দরজার গ্লাস লাগানোর বিষয়টি দরপত্রে উল্লেখ না থাকায় ঠিকাদার কাজ বন্ধ করে দেয়ায় কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে হাসপাতাল ভবন হস্তান্তর করা হচ্ছে না। এছাড়া হাসপাতালের রান্নাঘরের টিনশেড ডিজাইন পরির্তন করে ছাদের ভবন করা হলেও এই বাড়তি কাজের জন্য ঠিকাদারকে টাকা দেয়া হয়নি। বৈদ্যুতিক লাইন নির্মাণসহ জলছাদ নির্মাণের বিষয়গুলো প্রকল্পের নকশায় ও কার্যাদেশে না থাকায় ঠিকাদার এই বাড়তি কাজের টাকা দাবি করছে। এই বাড়তি কাজের বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন না থাকায় একদিকে যেমন ঠিকাদার বাড়তি কাজের টাকা পাচ্ছে না, পাশাপাশি কাজ শেষ না হওয়ায় হাসপাতাল চালু করাও সম্ভব হচ্ছে না। ফলে শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক ক্লাস করার জন্য প্রায় ৬ কিলোমিটার দূরে সদর হাসপাতালে আসতে হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষক সঙ্কটের কারণে লেখাপড়া ব্যাহত হওয়ার তারা তাদের ভবিষ্যত নিয়ে শঙ্কিত হয়ে এখন আন্দেলনে নেমেছে। শুরু করেছে পরীক্ষা বর্জনসহ ক্লাস ধর্মঘট।
টানা ধর্মঘটের তৃতীয় দিনে সমাবেশ চলাকালে শিক্ষার্থী বক্তারা বলেন, ২৫০ শয্যা হাসপাতালের নির্মাণাধীন ভবন ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও আজও তা শেষ হয়নি। কলেজ থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার দূরে সদর হাসপাতালে যেয়ে ব্যবহারিক বিষয়গুলো শিখতে হচ্ছে। সেখানে বিভিন্ন সরঞ্জামাদির অভাব ও আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার দিয়ে ক্লাস নেয়ায় তাদের লেখাপড়া মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে তাদের পেশাগত জীবনে বিরূপ প্রভাব ফেলবে। বক্তারা দ্রুত মেডিক্যাল কলেজের ২৫০ শয্যা হাসপাতাল চালু, না হলে আমরণ অনশনসহ বৃহত্তর আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণা দেন। প্রসঙ্গত, শিক্ষক সঙ্কট দূর, নির্মাণাধীন ২৫০ শয্যা হাসপাতাল চালু ও পর্যাপ্ত পরিবহন ব্যবস্থার দাবিতে গত রবিবার থেকে শিক্ষার্থীরা এই ধর্মঘট চালিয়ে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ স্ট্রাটেজিক গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে
বিস-এ বক্তৃতায় জাপানী রাষ্ট্রদূত
স্টাফ রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানী রাষ্ট্রদূত শিরো সাদোশমা বলেছেন, বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ স্ট্র্যাটেজিক রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে। এছাড়া বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পণ্য রফতানি ধরে রাখতে হলে এদেশের শিল্পস্থাপনার পুনর্বিন্যাসে জোর দিতে হবে বলে এমন অভিমত প্রকাশ করেন তিনি। বাংলাদেশের শিল্প উন্নয়নে শিল্পের বহুমুখীকরণ এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর এক্ষেত্রে বাংলাদেশকে সহযোগিতা দিতে জাপান প্রস্তুত বলে জানিয়েছে জাপানী রাষ্ট্রদূত। মঙ্গলবার রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল এ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) আয়োজিত এক দেশভিত্তিক বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
বিআইআইএসএস আয়োজিত এবারের দেশভিত্তিক বক্তৃতার বিষয় ছিল ‘বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক: ব্যাপকভিত্তিক অংশীদারিত্ব।’ এতে মূল বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানী রাষ্ট্রদূত শিরো সাদোশিমা।
জাপানী রাষ্ট্রদূত শিরো সাদোশিমা তাঁর বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ একটি স্ট্র্যাটেজিক গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে। বাংলাদেশের ভৌগোলিক গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে তিনি এই অঞ্চলে ভারত মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরের সংযোগস্থলের কথা উল্লেখ করেন। জাপানী রাষ্ট্রদূত বলেন, জাপান প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে তার শিল্প ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম এই অঞ্চলে প্রসারিত করেছে।
স্ট্র্যাটেজিক দিক থেকে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে, যাকে তিনি ‘মেরু’ হিসেবে অবহিত করেন।
বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদের বিষয়ে জাপানী রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশে যথেষ্ট পরিমাণে প্রাকৃতিক সম্পদ না থাকলেও প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ রয়েছে। আগামী ১৫ থেকে ২০ বছর পরে বাণিজ্যিকভাবে এই গ্যাস উত্তোলন করা দুরূহ হয়ে পড়বে। যেহেতু বাংলাদেশ মধ্য আয়ের দেশে রূপান্তরিত হওয়ার চেষ্টা করছে। তার মানে বাংলাদেশকে অন্যান্য দেশের সঙ্গে সমান প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হতে হবে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানি নির্ভরতার দ্বারা এদেশের পণ্য রফতানি ধরে রাখতে পারবে না বলেও তিনি মতামত দেন। এক্ষেত্রে বাংলাদেশকে অবশ্যই রফতানি পণ্যের তালিকায় উচ্চমানসম্পন্ন পণ্য যোগ করতে হবে। বিশেষ করে বাংলাদেশকে তার শিল্প স্থাপনা পুনর্বিন্যাস করার ওপর জোর দিতে হবে। আর এটা করতে হলে এখনই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। এছাড়া শিল্প উন্নয়নে শিল্পের বহুমুখীকরণ এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে বাংলাদেশকে সহায়তা করতে জাপান প্রস্তুত বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
জাপানী রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের মৌলিক পণ্য যেমন তৈরি পোশাক ও বস্ত্র এখন উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের বাজারে রফতানি হচ্ছে। এসব পণ্যের খুব কম পরিমাণ এশিয়ার বাজারে প্রবেশ করে। চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান বাংলাদেশের পণ্যের গুরুত্বপূর্ণ বাজার হতে পারে। বাংলাদেশের উচিত এই অঞ্চলে নতুন বাজার সন্ধান করা।
বিআইআইএসএস’র চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সী ফয়েজ আহমদ বলেন, বাংলাদেশ ও জাপান উভয়ই তাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর থেকে অর্থনৈতিক ও কারিগরি সহযোগিতা, সাংস্কৃতিক বিনিময়, দ্বিপাক্ষিক সফরের মাধ্যমে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছে। এটা দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সুসম্পর্ক ও শ্রদ্ধা বৃদ্ধিতে সহায়তা করেছে। জাপানের উন্নয়ন সহযোগিতা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।
অনুষ্ঠানে বিআইআইএসএস’র মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ কে এম আবদুর রহমান এনডিসি বলেন, বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও সংস্কৃতি বিনিময় গড়ে উঠেছে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় জাপানের সমর্থন ও সহযোগিতা বাংলাদেশীরা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করে। তিনি বলেন, জাপানই পশ্চিমা বিশ্বের বাইরে একমাত্র শিল্পোন্নত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র যা সারা বিশ্বের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য একটি দৃষ্টান্ত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক জাপান সফর ও জাপানী প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের ঢাকা সফর দু’দেশের জনগণের জন্য দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে বিভিন্ন দিক উন্মোচন করেছে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সাবেক রাষ্ট্রদূত মহসিন আলী খান, মেজর জেনারেল (অব) এম এ মতিন, সাবেক রাষ্ট্রদূত জামিল মজিদ, ড. আফসারুল কাদির, হুমায়ুন কবীর, ঢাকার চীনা দূতাবাসের চার্জ দ্যা এ্যাফেয়ার্স সু গোয়াংচৌ প্রমুখ।
ইইউ ও যুক্তরাষ্ট্রকে ন্যায্য দাম দিতে হবে পোশাকের ॥ তোফায়েল
ব্রাসেলসে ফলোআপ মিটিংয়ে গার্মেন্টসে বাংলাদেশের অগ্রগতিতে সন্তোষ
অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ গার্মেন্টস শিল্পের উন্নয়নে সরকারের পক্ষ থেকে তৈরি পোশাকের মূল্য বৃদ্ধির আহ্বান জানানো হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে পোশাকের ক্রেতাদের উদ্দেশে বলা হয়েছে, এ শিল্পখাত উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া বাংলাদেশ এ্যাকশন প্ল্যান বাস্তবায়ন করা হয়েছে। তবে বাস্তবায়নের এই অগ্রগতি ধরে রাখতে হলে পোশাকের মূল্য বৃদ্ধি আগে প্রয়োজন। আর পোশাকশিল্পে নিরাপদ কর্মপরিবেশ তৈরিতে এ পর্যন্ত সরকারের নেয়া পদক্ষেপ ও তা বাস্তবায়নের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। শ্রম অধিকার বাস্তবায়নে শ্রম আইন সংশোধন, ইপিজেড আইন সংশোধন, ট্রেড ইউনিয়নের রেজিস্ট্রেশন প্রদান ও ফায়ার সেফটি নিশ্চিতকল্পে যন্ত্রপাতি আমদানি শুল্কমুক্ত করায় আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থাও (আইএলও) বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করেছে। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বলছে, পোশাকশিল্পে বাংলাদেশের অর্জন ভাল, তবে আরও অগ্রগতি প্রয়োজন। বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত সাসটেইনেবিলিটি কমপ্যাক্টের ফলোআপ মিটিংয়ে তৈরি পোশাক খাত নিয়ে বাংলাদেশের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়। ওই সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ তৈরি ও শ্রম অধিকার বাস্তবায়ন করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া বাংলাদেশ এ্যাকশন প্ল্যানের ১৬ শর্ত পূরণ করা হয়েছে। তাই যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাক রফতানিতে বাংলাদেশ জিএসপি ফিরে পাওয়ার অধিকার রাখে। আশা করছি, যুক্তরাষ্ট্র সময়মতো বাংলাদেশকে জিএসপি সুবিধা ফিরিয়ে দেবে। তবে জিএসপির পাশাপাশি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে পোশাকের সঠিক দাম নিশ্চিত করা। গুণগতমান ভাল হওয়ায় সারাবিশ্বে বাংলাদেশের পোশাকের বাজার তৈরি হচ্ছে। তবে প্রধান ক্রেতা ইইউ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে পোশাকের ন্যায্য দাম দিতে হবে। শ্রম অধিকার রক্ষায় সরকার ও মালিকপক্ষ আন্তরিক। এই অধিকার রক্ষা করতে হলে পোশাকের দামও বেশি দিতে হবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানের ১৪ অনুচ্ছেদে শ্রমিকদের শোষণমুক্ত সুন্দর জীবন নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। গত বছর এ শিল্পে ৭৭ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি করা হয়েছে। এছাড়া তৈরি পোশাক কারখানাগুলোতে ভাল কাজের পরিবেশ বিরাজ করছে। ইপিজেডে ৪০০ কারখানা রয়েছে। সেখানে ৯০ হাজারের বেশি শ্রমিক কাজ করছেন। কারখানাগুলোর বেশির ভাগই ওয়ার্কার্স ওয়েলফেয়ার এ্যাসোসিয়েশন রয়েছে, এগুলো ট্রেড ইউনিয়নেরই নামান্তর। কারখানায় কাজের পরিবেশ না থাকলে বিদেশীরা বিনিয়োগ করবে না। সেখানে শ্রমিকদের কোন অভিযোগ নেই। সকলের স্বার্থরক্ষা করেই ইপিজেডে কাজ চলছে। কোন শ্রমিকের বেতনই ১০ হাজার টাকার নিচে নয়। এই বাস্তবতায় বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা ফিরিয়ে দিতে হবে।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি এগিয়ে যাচ্ছে। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের রফতানি ছিল মাত্র ৩৪৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, বর্তমান রফতানি হচ্ছে ৩০ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
ইউএস এআইডি এবং ইউকে এআইডির সহায়তায় ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের সাম্প্রতিক এক সার্ভে রিপোর্টের কথা উল্লেখ করে ওই সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকরা ন্যূনতম বেতন পাচ্ছেন-প্রতি মাসে গড়ে ৭ হাজার ৩০০ টাকা। এছাড়া শ্রমিকরা কর্মবান্ধব পরিবেশে কাজ করছেন। ২ হাজার শিল্প-কারখানা পরিদর্শন করে দেখা গেছে সেখানে মাত্র ২৯টি কারখানায় ত্রুটি রয়েছে, যা শতকরা ২ ভাগের কম এবং তা আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য।
ওই সভায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি (জিএসপি) সানডা গালিনা বলেন, শ্রম অধিকার ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ তৈরিতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে, তা সন্তোষজনক। তবে কারখানায় ফায়ার সেফটি নিশ্চিত করতে আরও পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। তিনি বলেন, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রপাতি আমদানিতে বাংলাদেশ সরকার শুল্কমুক্ত সুবিধা দিয়েছে। এই সুবিধা দেয়ার ফলে অগ্নি দুর্ঘটনা হ্রাস পাবে।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর তৈরি পোশাকশিল্প খাতের নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও শ্রম অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ২০১৩ সালের ৮ জুলাই জেনেভায় সাসটেইনেবিলিটি কমপ্যাক্ট গৃহীত হয়। সাসটেইনেবিলিটি কমপ্যাক্ট মোতাবেক শ্রম আইন সংশোধন, শ্রম পরিদর্শক নিয়োগ, ইপিজেড আইন সংশোধন, সাধারণের প্রবেশযোগ্য ডাটাবেজ স্থাপন, রফতানিমুখী গার্মেন্টস কারখানা যাচাই-বাছাই, ২৩৬টি ট্রেড ইউনিয়নকে রেজিস্ট্রেশন প্রদান, ফায়ার সেফটি ডোর ও শিল্প-কারখানা নির্মাণের সামগ্রী আমদানির ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রদান, শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ বিনির্মাণে ও শ্রমিকদের কল্যাণের বিষয়ে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ এবং অর্জিত সাফল্যের অগ্রগতি সভায় তুলে ধরা হয়।
জব্বারের নির্দেশে রাজাকাররা মঠবাড়িয়ায় গণহত্যা লুন্ঠন করেছে
যুদ্ধাপরাধী বিচার
মহেন্দ্র অধিকারীর জবানবন্দী
স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত জাতীয় পার্টির নেতা পলাতক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল জব্বারের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের ১৪তম সাক্ষী মহেন্দ্র অধিকারী জবানবন্দী প্রদান করেছেন। এর আগে প্রসিকিউশনের ১৩তম সাক্ষী জনপ্রসাদ পাইককে জেরা করেন রাষ্ট্রনিয়োজিত আইনজীবী। আজ ১৪তম সাক্ষীকে রাষ্ট্রকর্তৃক নিয়োজিত আইনজীবী জেরা ও ১৫তম সাক্ষীর জবানবন্দীর জন্য দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ আদেশ প্রদান করেছেন।
সাক্ষী তাঁর জবানবন্দীতে বলেন, আসামি আব্দুল জব্বারের নির্দেশে রাজাকারবাহিনী মঠবাড়িয়ায় গণহত্যা, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করে। সাক্ষীকে জবানবন্দীতে সহায়তা করেন প্রসি্িকউটর জাহিদ ইমাম। অপরদিকে রাষ্ট্রনিযোজিত আইনজীবী আবুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষী তাঁর জবানবন্দীতে বলেন, আমার নাম মহেন্দ্র অধিকারী। আমার বর্তমান বয়স আনুমানিক ৮৪ বছর। আমার ঠিকানা, গ্রাম-ফুলঝুড়ি, থানা-মঠবাড়িয়া, জেলা-পিরোজপুর। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় আমার বয়স ছিল আনুমানিক ৪১ বছর। তখন আমি তুষখালী হাইস্কুলে ‘প-িত’ পদে অধিষ্ঠিত ছিলাম। বর্তমানে আমি অবসর জীবনযাপন করছি। আমি এই মামলার আসামি আব্দুল জব্বার ইঞ্জিনিয়ারকে চিনি। তিনি মঠবাড়িয়া এলাকায় মুসলিম লীগের একজন নেতা ছিলেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি মঠবাড়িয়ায় শান্তিকমিটি গঠন করেন এবং ঐ কমিটির চেয়ারম্যান হন। তিনি ইস্কান্দার মৃধাকে স্থানীয় রাজাকার কমান্ডার হিসেবে নিয়োগ দেন। পরবর্তীতে ওই রাজাকারবাহিনী আসামি আব্দুল জব্বার ইঞ্জিনিয়ারের নির্দেশে মঠবাড়িয়া এলাকায় গণহত্যা, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করে।
১৯৭১ সালের ১৬ মে রবিবার তুষখালী হাটের দিন ছিল। আমি সেদিন অনুমান সকাল ১১টায় তুষখালী হাটে যাই। হাটে গিয়ে শুনতে পাই যে, আসামি আব্দুল জব্বার ইঞ্জিনিয়ার তুষখালী স্কুল মাঠে সভা করবেন। আমি সভা শুনার জন্য পার্শ¦বর্তী একটি দোকানে গোপনে অবস্থান নেই। এবং আসামি আব্দুল জব্বার ইঞ্জিনিয়ারের বক্তব্য শুনি। সভায় প্রায় ২০০-৩০০ লোক উপস্থিত ছিল। আব্দুল জব্বার ইঞ্জিনিয়ার তার বক্তব্যে বলেন, আওয়ামী লীগ, মুক্তিযোদ্ধা এবং হিন্দুরা পাকিস্তানের শত্রু। তাদের ধংস করতে হবে। হিন্দুদের মালামাল গণিমতের মাল হিসেবে ব্যবহার করা জায়েজ। হিন্দুরা কেবল মুসলমান হলেই তারা বাঁচতে পারে। বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে আসামি আব্দুল জব্বার ইঞ্জিনিয়ার স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক বিশ্বাস ও মোতালেব শরীফকে জীবিত বা মৃত তার নিকট হাজির করার জন্য উপস্থিত রাজাকারদের নির্দেশ দেন।
সভাশেষে আসামি আব্দুল জব্বার ইঞ্জিনিয়ার তার কিছু সংখ্যক সঙ্গীদের নিয়ে শান্তিকমিটি গঠনের জন্য তুষখালী ডাকবাংলোতে যান। ওই রাজাকার কমান্ডার ইস্কান্দার মৃধার নেতৃত্বে রাজাকারবাহিনীর একটি দল ফুলঝুরি গ্রামের দিকে রওনা দেন। এই সময় আমি বাড়িতে ফিরে আসি। বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে রাজ্জাক বিশ্বাসের বাড়ির দিক হতে গুলির শব্দ শুনতে পাই। রাতের বেলা শুনি, ওই রাজাকারবাহিনীর লোকজন মোতালেব শরীফকে গুলি করে হত্যা করেছে। এবং আব্দুর রাজ্জাক গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছে। আব্দুর রাজ্জাক আহত অবস্থায় তিন দিন পর মারা যান।
উল্লেখ্য, গত ২০ জুলাই আদালতে জব্বারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ঋষিকেশ সাহা। অপরদিকে বিরোধিতা করে শুনানি করেন তার পক্ষে রাষ্ট্র নিয়োগপ্রাপ্ত আইনজীবী আবুল হাসান। গত ৮ জুলাই জব্বারের পক্ষে একজন রাষ্ট্রীয় আইনজীবী নিয়োগ দিয়ে অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল। এর আগে গত ২৯ এপ্রিল এ মামলার তদন্ত সম্পন্ন করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের কাছে দাখিল করে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। পরে প্রতিবেদনের নথিপত্র, সাক্ষ্য-প্রমাণসহ যাবতীয় বিচার-বিশ্লেষণ করে ৫টি অভিযোগে ৭৯ পৃষ্ঠার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়।
গত ১২ মে তার বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের আনীত ৫টি অভিযোগ আমলে নিয়ে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। তবে এখনও তাকে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী গ্রেফতার করতে পারেনি। এরপর গত ১৪ আগস্ট জব্বারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। জাতীয় পার্টির সাবেক এই নেতার বিরুদ্ধে ৩৬ জনকে হত্যা ২০০ জনকে ধর্মান্তরিত এবং লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগ করে ৫৫৭টি বাড়ি-ঘর ধ্বংস করার অভিযোগ রয়েছে।
১৫ সালে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬.২ ॥ বিশ্বব্যাংক
অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ২ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। এর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, সরকারীভাবে অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বেসরকারী বিনিয়োগ বৃদ্ধির আশা, রেমিটেন্স বৃদ্ধি ও বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমা। এই প্রবৃদ্ধি বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে স্বস্তিদায়ক বলে মনে করা হচ্ছে সংস্থাটির পক্ষ থেকে। অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি হবে ৭ শতাংশ। বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট শীর্ষক প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি। সেই সঙ্গে বেশকিছু চ্যালেঞ্জের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে এখনই করণীয় কী সেসব উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিশ্বব্যাংক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর ইউহানেস জাট। প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সংস্থাটির প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন। এছাড়া সংস্থাটির প্রধান অর্থনীতিবিদ সালমান জাইদি, রিসার্স এ্যানালিস্ট নাদিম রিজওয়ান ও যোগাযোগ কর্মকর্তা মেহরীন এ মাহবুব উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর ইউহানেস জাট তার বক্তব্যে বলেন, বিশ্বব্যাংক বর্তমানে ইবোলা ভাইরাস আক্রান্ত দেশগুলোকে শুধুমাত্র ইবোলার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে প্রায় ৪০ কোটি মার্কিন ডলার সহায়তা দেবে। তাছাড়া আগামীতে বিশ্বব্যাপী অবকাঠামো উন্নয়নে অর্থায়ন গ্যাপ কিভাবে কমানো যায় ও জলবায়ুর পরিবর্তন সংক্রান্ত সমস্যা সমাধান কিভাবে করা যায় সেজন্য ক্লাইমেট চেঞ্জ স্ট্রাটেজি বাস্তবায়ন করা হবে। তাছাড়া সামাজিক নিরাপত্তা, বিদ্যুত উৎপাদন, অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে কিভাবে সহযোগিতা আরও বাড়ানো যায় সেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে কয়েকদিন আগে অনুষ্ঠিত বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বার্ষিক সাধারণ সভায়।
প্রতিবেদনে খাতভিত্তিক প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছর শেষে কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধি হবে দুই শতাংশ, যা ২০১৪ সালে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাব মতে হয়েছে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ। শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধি বেড়ে হবে ৯ দশমিক ৫ শতাংশ, ২০১৪ সালে বিবিএসের হিসেবে ৮ দশমিক ৪ শতাংশ। সেবা খাতে প্রবৃদ্ধি হবে ৬ দশমিক এক শতাংশ, যা বিবিএসের হিসাবে ২০১৪ সালে হয়েছে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ।
অভ্যন্তরীণ ব্যয়ের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে ভোগ বেড়ে দাঁড়াবে ৪ দশমিক ৯ শতাংশ, যা ২০১৪ সালে বিবিএসের হিসাব মতে হয়েছে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। বিনিয়োগ হবে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ, যা বিবিএসের হিসাব মতে হয়েছে ৬ দশমিক ৩ শতাংশ। রফতানি কমে দাঁড়াবে ৬ শতাংশে, বিবিএসের হিসাব মতে ২০১৪ সালে হয়েছে ৬ দশমিক ৩ শতাংশ। আমদানি বেড়ে দাঁড়াবে ২ শতাংশে, যা ছিল মাইনাস শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালে মূল্যস্ফীতি হবে ৭ শতাংশ, এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতি সঠিক পথেই আছে। বলা হয়েছে, প্রথম তিন মাসে রেমিটেন্স খাতে ২১ দশমিক ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে, এটি সন্তোষজনক। রোজা ও কোরবানির ঈদের কারণে অভ্যন্তরীণ খুচরা ব্যয় বেড়েছে। দুই ঈদ মিলে মানুষ ব্যয় করেছে ১০ থেকে ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বন্যা হওয়ার পরও শস্য উৎপাদন ভাল হবে বলে আশা করা হচ্ছে। জুলাই-আগস্ট মাস পর্যন্ত এনবিআরের ১৫ শতাংশ রাজস্ব আদায় ভাল লক্ষণ। এছাড়া বেসরকারী খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ১১ দশমিক ৪ শতাংশ হওয়াটা দুর্বলতার লক্ষণ বলে মনে করছে সংস্থাটি। রফতানি প্রবৃদ্ধি প্রথম তিন মাসে কমেছে। বেড়েছে ব্যালেন্স অব পেমেন্ট। এডিপি বাস্তবায়ন হার অনেক কম, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় অর্ধেক।
বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, দারিদ্র্য নিরসনে ও মানব উন্নয়ন অগ্রগতি এখনও বজায় আছে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি হচ্ছে, তবে যে তুলনায় হওয়ার কথা ছিল সে তুলনায় হয়নি। গত বছরের জানুয়ারি মাসের যে রাজনৈতিক সংকটে পড়েছিল দেশের অর্থনীতি তা পুনরুদ্ধার হচ্ছে। এখন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আছে, কিন্তু অনিশ্চয়তাও আছে। প্রতিযোগিতার সক্ষমতা কমেছে। ফলে বেসরকারী বিনিয়োগ কাক্সিক্ষত মানে হচ্ছে না।
দারিদ্র্যের হার বিষয়ে তিনি বলেন, ২০০০ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত যেহারে দারিদ্র্য বিমোচন হয়েছে সেই ভিত্তিতে মূল্যায়ন করে ২০০০ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত যে প্রবৃদ্ধি হয়েছে সেখানে দারিদ্র্যের হার ৩১ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বর্তমানে ২৪ দশমিক ৪৭ শতাংশে নেমে আসার যে হিসাব সরকারীভাবে পাওয়া গেছে তা যুক্তসঙ্গত। তবে শুধু দারিদ্র্যের হার কমালে চলবে না, বৈষম্যও কমাতে হবে।
ড. জাহিদ হোসেন আরও বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে নিম্ন মানব উন্নয়ন সূচক থেকে মধ্যম অমানব উন্নয়ন সূচকে উঠে এসেছে। এটি হয়েছে মূলত প্রবাসী আয় বৃদ্ধি এবং মানুষর গড় আয়ু বেড়ে যাওয়ার কারণে। তবে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে অর্জনের ক্ষেত্রে আত্মতুষ্টির কোন কারণ নেই। কেননা শিক্ষা খাতে ও স্বাস্থ্যসেবায় গুণগত পরিবর্তন আনার এখনও ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশের শেয়ারবাজার এখন যে পর্যায়ে রয়েছে এতে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। কেননা এটি আবারও ২০১০-১১ সালের মতো অবস্থায় যেতে পারে। কেননা শেয়ারের দাম এত বৃদ্ধি পাওয়ার কোন কারণ দেখছি না।
প্রতিবেদনে ২০১৫ সালে সার্বিক অর্থনীতির ক্ষেত্রে বেশকিছু চ্যালেঞ্জের কথা বলা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে ব্যাংক ঋণের বেশিমাত্রার সুদের হার, লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় হবে কিনা সে বিষয়ে সন্দেহ রয়েছে। রাজস্ব আদায় বাড়াতে হলে ভ্যাট আইন দ্রুত পাস করতে হবে। সেই সঙ্গে রাজস্ব সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়াতে হবে এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীর (এডিপি) গুণগত বাস্তবায়ন বাড়ানো একটির অন্যতম চ্যালেঞ্জ।
অর্থনীতিতে ঝুঁকির ক্ষেত্রে বলা হয়েছে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা আবার ফিরে আসলে বিনিয়োগ কমার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে। পোশাক খাতের ঝুঁকি ও মধ্যপ্রাচ্যে শ্রমিকদের কর্মসংস্থান বাড়ানোকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে বিশ্বব্যাংক।
দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে এবং লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হলে সরকারের এখনই করণীয় বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এডিপির অন্তর্ভুক্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প যেমন, পদ্মা সেতু, ঢাকা-চট্টগ্রাম এবং ঢাকা- ময়মনসিংহ হাইওয়ে, ডাবল ট্রাক অব ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলওয়ে, মেট্রোরেল, বিবিয়ানা গ্যাস ফিল্ড ইত্যাদি প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে তাগিদ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।
সম্প্রতি এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক বলেছে আগামী ২০১৫ সালে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি বেড়ে দাঁড়াবে ৬ দশমিক ৪ শতাংশে। অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়াবে ৬ দশমিক ৫ শতাংশে, যা তার আগের বছর হয়েছে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউট লুক ২০১৪ প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।
গঙ্গায় ১৬ বাঁধ নির্মাণে যাচ্ছে ভারত, হুমকির মুখে বাংলাদেশ
শাহীন রহমান ॥ বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত নদীসমূহের উজানে একের পর এক বাঁধ নির্মাণের ফলে হুমকির মুখে পড়ছে দেশ। আন্তর্জাতিক আইন ও রীতি-নীতি উপেক্ষা করে ভারত আন্তর্জাতিক নদীসমূহের ওপর বাঁধ নির্মাণ করে পানি প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। ফারাক্কার বাঁধ দিয়ে পানি প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু করা হলেও এ প্রক্রিয়া আর থেমে থাকেনি। নদীর ওপর বাঁধ নির্মাণের সর্বশেষ সংযোগ এবার গঙ্গা নদীতে আর ১৬টি বাঁধ নির্মাণের প্রক্রিয়া। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমনিতেই ভারতের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত গঙ্গা নদীতে ছোট-বড় মিলে ৪শ’ বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। এবারে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার এলাহাবাদ থেকে হলদিয়ার ১৬শ’ কিলোমিটার দীর্ঘ গঙ্গা হুগলির ওপর প্রতি ১শ’ কিলোমিটার অন্তর আরও ১৬টি বাঁধ নির্মাণ করতে যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফারাক্কা বাঁধের ও অন্যান্য বাঁধ তৈরির ফলে বাংলাদেশ পানি প্রাপ্তির হার আগের চেয়ে ১০ ভাগের ১ ভাগে নেমে এসেছে। নতুন করে নেয়া এ প্রজেক্ট বাস্তবায়ন হলে দেশে নদী আর নদী থাকবে না। দেশের প্রধান প্রধান নদীগুলোর পানি কমে মরুভূমিতে পরিণত হবে। দেশের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত নদীগুলোর অন্যতম প্রধান নদী পদ্মা। ফারাক্কার বাঁধের প্রভাবে দেশের উত্তরবঙ্গসহ বিভিন্ন এলাকায় মরুকরণ শুরু হয়েছে। নতুন করে নেয়া এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে দেশে এক বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসবে।
শুধু বাংলাদেশ নয় একতরফাভাবে পানি প্রত্যাহরের কারণে ভারতের অভ্যন্তরেও এর প্রভাব পড়ছে। স্বয়ং ভারতের ভেতরের এসব প্রকল্পের বিরুদ্ধে একের পর আন্দোলন চলছে। সেখানে এভাবে পানি প্রত্যাহার করা হলে অবস্থা কী দাঁড়াবে তা সহজেই অনুমেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইতোমধ্যে ফারাক্কা বাঁধের ফলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় মরুকরণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ফারাক্কায় বাঁধ দেয়ার কারণে গঙ্গার পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে দেশের পানিপ্রবাহে বড় উৎস ছিল ব্রহ্মপুত্র। কিন্তু ভারতের আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্পের মাধ্যমে ব্রহ্মপুত্র থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার কিউসেক পানি প্রত্যাহারের পরিকল্পনা ভারতের রয়েছে। ব্রহ্মপুত্র নদী ও ফারাক্কার উজানে গঙ্গা নদীর সঙ্গে রিভার বেসিনে সংযোগ স্থাপন করে দক্ষিণ ভারতে পানি নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। তাঁদের মতে, শুষ্ক মৌসুমে গঙ্গা নদী থেকেও প্রায় ১৮ শতাংশ পানিপ্রবাহ বাংলাদেশে আসত। কিন্তু এখান থেকেও পানি প্রত্যাহার করে দক্ষিণ ভারতে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁদের মতে, ভারতের অভ্যন্তরে আর ১৬টি বাঁধ নির্মাণ করলে শুষ্ক মৌসুমে বড় এ দুটি নদী থেকে অতিরিক্ত কোন পানিই পাওয়া যাবে না। পাশাপাশি লবণাক্ততা ও আসের্নিক সব মিলিয়ে পুরো দেশকে অসুস্থ করে ফেলবে। প্রাকৃতিক ভারসাম্য সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৯৬১ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত ১৪ বছরে নির্মিত ফারাক্কা বাঁধের দৈর্ঘ্য হচ্ছে ২২৪০ মিটার। এটি বাংলাদেশের সীমান্ত থেকে মাত্র সাড়ে ১৬ কিমির মধ্যে অবস্থিত। এই বাঁধের প্রভাব বাংলাদেশ ও ভারতের বিহার-পশ্চিমবঙ্গে বর্ণনাতীতভাবে নেতিবাচক। এই বাঁধের উজান থেকে ৪০ হাজার কিউসেক পানি সরিয়ে নিয়ে কলকাতার হুগলী নদীতে প্রবাহিত করার মূল লক্ষ্যটি সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে। গঙ্গা পরিচ্ছন্নকরণ প্রকল্প, প্রস্তাবিত আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্প ও হিমালয়ান নদীসমূহের প্রতিবেশ পদ্ধতি সংরক্ষণের বিষয়টি একই সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। নতুবা ভারতের উল্টরখ-, উত্তর প্রদেশ, পশ্চিম বাংলা, বিহার, ঝাড়খ- এবং বাংলাদেশ-অর্থাৎ পুরো গঙ্গা অববাহিকা এসব প্রকল্পের ভয়াবহ ফলাফল ভোগ করবে। তাঁদের মতে, গঙ্গা চুক্তি ১৯৯৬ সাল থেকে বলবৎ থাকার পরও প্রতি শুকনো মৌসুমে বাংলাদেশ তার ন্যায্য হিস্যার পানি পাচ্ছে না। অথচ ভারত ও বাংলাদেশের নিজস্ব অনেক আইন, নীতি, চুক্তি, ঘোষণা এবং বিশেষত করে অতি সম্প্রতি জাতিসংঘ প্রণীত আন্তর্জাতিক পানিপ্রবাহ আইনের আলোকে উভয় দেশই নদী-জলাশয়-প্রতিবেশবিরোধী নীতি ও আইন পরিহার এবং এ সবের সংরক্ষণ বিষয়ে দায়বদ্ধ।
সম্প্রতি দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়ায় প্রকাশিত খবরে জানা গেছে, অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সুবিধা প্রাপ্তির লক্ষ্যে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার এলাহাবাদ থেকে হলদিয়ার ১৬০০ কিমি দীর্ঘ গঙ্গা-হুগলীর ওপর প্রতি ১০০ কিমি অন্তর মোট ১৬টি বাঁধ নির্মাণ করতে যাচ্ছেন। কেন্দ্রীয় সরকারের প্রস্তাবিত এসব বাঁধের বিরোধিতা করেছে বিহারের পানিসম্পদমন্ত্রী বিজয় কুমার চৌধুরী। তিনি বলেছেন যে, ফারাক্কা বাঁধের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার ফলে গঙ্গা নদীর বুকে বিহারের বিভিন্ন অঞ্চলে বহু আগেই চর জেগে উঠেছে এবং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বিঘিœত হচ্ছে। তার ওপর যদি আরও বাঁধ তৈরি করা হয় তাহলে গঙ্গা প্রবাহে মারাত্মক প্রভাব পড়বে। তিনি আরও বলেছেন যে, এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার, বিহার রাজ্য সরকারের সঙ্গে কথা বলেননি বা তাদের কোন কিছু অবগতও করেননি। অথচ উক্ত রাজ্যের মধ্য দিয়ে গঙ্গা নদী প্রায় ৪৫০ কিমি পথ প্রবাহিত হচ্ছে। প্রকাশিত খবর থেকে জানা গেছে, এলাহাবাদ-হলদিয়া নদীর অংশের বিশদ প্রকল্প প্রতিবেদন তৈরির জন্য বিদেশী উপদেষ্টাও নিয়োগ দেয়া হয়েছে। নদীর প্রবাহ কার্যকর রাখার জন্য নদীর প্রস্থ কমপক্ষে ১৩৫ ফুট ও গভীরতা ১৫ ফুট অবশ্যই প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের মতে, যেখানে গঙ্গা নদীর ওপর শুধুমাত্র একটি ফারাক্কা বাঁধের কারণে গঙ্গার উজান অংশে ব্যাপক চর জেগেছে, সেক্ষেত্রে একই নদীর ওপর প্রতি শত কিলোমিটারে ১টি করে আরও মোট ১৬টি বাঁধ দেয়া হলে নদীর অবস্থা কী হবে তা সহজে অনুমেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হওয়া গঙ্গা নদী বাংলাদেশ ও ভারত উভয় দেশের প্রধান নদী। মূল গঙ্গা নদীর উৎসস্থল ভাগীরথী ও অলকানন্দা নদীর সঙ্গমস্থল। ভারত ও বাংলাদেশে প্রবাহিত একটি আন্তর্জাতিক নদী। নদীটি ভারতীয় প?জাতন্ত্রে জাতীয় নদীও বটে। গঙ্গার দৈর্ঘ্য ২,৫২৫ কিমি (১,৫৬৯ মাইল)। পশ্চিম হিমালয়ের ভারতের উল্টরাখ- রাজ্য থেকে দক্ষিণ ও পূর্বে গাঙ্গেয় সমভূমি অঞ্চলের ওপর দিয়ে প?বাহিত হয়ে গঙ্গা মিশেছে বঙ্গোপসাগরে। পানি প্রবাহের ক্ষমতা অনুযায়ী গঙ্গানদী বিশ্বের প্রথম ২০টি নদীর একটি। এর অববাহিকার জনসংখ্যা ৪০ কোটি এবং জনঘনত্ব ১,০০০ জন/বর্গমাইল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ নদী বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল নদী অববাহিকা। অথচ নদীর ওপর নতুন করে ১৬টি বাঁধ নির্মাণে প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় দেশে ভেতরে নতুন করে আশঙ্কা শুরু হয়েছে। জানা গেছে, নতুন করে নেয়া এ প্রকল্পের প্রভাব বিষয়ে সমীক্ষায় এর প্রতিবেশ সম্পর্কে ক্ষতিকর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে বিবেচনায় নেয়া হয়নি। এর ফলে এ প্রকল্পের বিরুদ্ধে বাংলা ও বিহারের প্রখ্যাত নদী ও সামাজিক আন্দোলনের ব্যক্তিদের সমন্বয়ে কলকাতা ভিত্তিক একটি নাগরিক কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
জাতিসংঘের সাবেক পরিবেশ বিশেষজ্ঞ ড. এস আই খান এ বিষয়ে বলেন, ফারাক্কা বাঁধের ও অন্যান্য বাঁধ তৈরির ফলে পূর্বে বাংলাদেশ যে পরিমাণ পানি পেত এখন বাংলাদেশ তার ১০ ভাগের ১ ভাগ পানি পায়। গঙ্গা নদীর ওপর প্রায় ৪০০টির মতো ছোট বড় বাঁধ রয়েছে আরও ১৬টি বাঁধ নির্মিত হলে তা দেশের জন্য ধ্বংস বয়ে নিয়ে আসবে। এ প্রজেক্ট বাস্তবায়ন হলে নদী আর নদী থাকবে না। নেপাল, ভারত ও বাংলাদেশের অভিন্ন নদীগুলোর পানিবণ্টন নিয়ে সমস্যা থাকার পরও দক্ষিণ এশিয়ার কোন দেশ জাতিসংঘ প্রণীত আন্তর্জাতিক পানিপ্রবাহ আইনে স্বাক্ষর করেনি। তিনি বলেন, দেশে প্রায় ৫ লাখ নলকূপ রয়েছে এবং প্রতিবছর ৫ মিমি পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। এভাবে নদীর পানি কমতে থাকলে দেশে পাতাল পানি একদিন শেষ হয়ে যাবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত প্রতিবেশী দেশের প্রতি কোন ধরনের তোয়াক্কা না করে একের পর এক আন্তর্জাতিক নদীসমূহের ওপর বাঁধ নির্মাণ করে পানি প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। ফারাক্কা বাঁধ পরীক্ষামূলকভাবে চালু করার কথা বললেও এখন পর্যন্ত তা বাংলাদেশের জন্য মরণঘাতী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এর আগের তারা আন্তঃনদী সংযোগ বাস্তবায়নের প্রকল্প গ্রহণ করে। তিস্তা নদীর ওপর একের পর এক বাঁধ নির্মাণ করে পানি শূন্য করে ফেলেছে। তাদের এ প্রকল্প বাছাইয়ে বাংলাদেশের প্রভাবের বিষয়টি কোন সময়ই বিবেচনায় আনা হয়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ প্রকল্পের ফলে বাংলাদেশের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে। কারণ এ প্রকল্পের মাধ্যমে গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র থেকে অতিরিক্ত পানি তারা সংযোগ প্রকল্পের মাধ্যমে অন্যত্র স্থানান্তর করবে। শুষ্ক মৌসুমে যখন দেশে পানির প্রয়োজন পড়বে বেশি তখন এ দুটি নদীতে অতিরিক্ত কোন পানি থাকবে না। বাংলাদেশ নেপাল, ভারতের প্রকৌশলী বিজ্ঞানী, অর্থনীতিবিদ, পরিবেশবিদ ও সুশীল সমাজ ভারতের নদী সংযোগ প্রকল্পকে কারিগরিভাবে অপরিপক্ব, অর্থনৈতিকভাবে অদূরদর্শিতাসম্পন্ন, সামাজিকভাবে অগ্রহণযোগ্য ও পরিবেশগতভাবে বিপর্যয়কারী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তারপরও ভারত একের পর এক পানি প্রত্যাহার নীতি গ্রহণ করে যাচ্ছে। ভারতের এসব প্রকল্পের বিরুদ্ধে খোদ ভারতেও প্রথম থেকেই প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। ২০০৩ সালের ১ এপ্রিল ভারতে অনুষ্ঠিত জাতীয় পানি সম্মেলনে ভারতের সুশীল সমাজ বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে এসব প্রস্তাবকে ভয়াবহ সামাজিক ও মানবিক বিপর্যয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁদের মতে, পরিবেশ ও প্রতিবেশগতভাবেও এসব প্রকল্পের পরিণতি হবে মারাত্মক। তারপর থেমে থাকছে না তাদের নদীতে বাঁধ দিয়ে পানি প্রত্যাহার করার উদ্যোগ।
৩ ভরি সোনার কোটপিন দিয়ে ৪ খুনের আসামি আওয়ামী লীগে
স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ ॥ নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে আলোচিত আওয়ামী লীগের চার কর্মীকে দিনে দুপুরে হত্যার মামলার প্রধান আসামি বিএনপি নেতা ও গোপালদী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল বাশার কাশু নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনের এমপি নজরুল ইসলাম বাবুকে নৌকার প্রতীক সংবলিত সোনার কোট পিন উপহার দিয়ে আওয়ামী লীগে যোগদান করেছেন। এছাড়া ওই যোগদান অনুষ্ঠানে আরও যোগ দেন চার খুন মামলার আসামি সদাসদি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হক মেম্বার, বিএনপির উপজেলা কমিটির সদস্য বদরুদ্দিন আহম্মেদ, শামসুল হক ও নাজমুল হক। এদিকে চার খুন মামলার আসামি দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী আবুল বাশার কাশু আওয়ামী লীগে যোগদান করায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে আড়াইহাজার উপজেলার নেতাকর্মীদের।
সোমবার রাতে আড়াইহাজার উপজেলার গোপালদি বাজার মাঠে স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত সমাবেশে প্রায় কয়েক শ’ নেতাকর্মী নিয়ে আবুল বাশার কাশু ফুলের তোড়া ও স্বর্ণের তৈরি নৌকা প্রতীক সংবলিত কোট পিন এমপি নজরুল ইসলাম বাবুকে পরিয়ে দেয়া হয়। এ সময় মাইকে ঘোষণা দেয়ায় নৌকা প্রতীক সংবলিত কোট পিনে তিন ভরি স্বর্ণ রয়েছে।
গোপালদী পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাশেমের সভাপতিত্বে ওই সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন এমপি নজরুল ইসলাম বাবু। আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান ও থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহ্জালাল মিয়া, ভাইস চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম, গোপালদী পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির মোল্লাসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ।
স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জানান, আড়াইহাজার উপজেলার সদাসদি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও গোপালদি পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি আবুল বাশার কাশু ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসলে স্থানীয় এমপি আতাউর রহমান আঙ্গুরের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত হয়ে এলাকায় সন্ত্রাস, চাদাবাজি, অপহরণ, ডাকাতি ও হত্যাকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। ২০০২ সালের ১২ মার্চ বর্তমান উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের ছোট ভাই বাবেক, ফুফাতো ভাই বাদল, আওয়ামী লীগ কর্মী ফারুক ও কবীরকে নির্যাতন করার পর আগুনে পুড়িয়ে নৃশংসভাবে এই চারজনকে হত্যা করে। সে সময় কাশু সদাসদি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ছিলেন। ওই সময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছিলেন এই কাশু। সে বিগত গোপালদী পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন। সন্ত্রাসী কাশু ও তার বাহিনী আওয়ামী লীগে যোগদান করায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী সাংসদ নজরুল ইসলাস বাবু আয়োজিত যোগদান অনুষ্ঠান বয়কটও করেন। বিএনপির সন্ত্রাসী, হত্যা মামলার আসামি আবুল বাশার কাশু চার খুন মামলা থেকে বাঁচতে এমপি বাবুকে ম্যানেজ করতেই আওয়ামী লীগে যোগদান করেছে বলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও এলাকাবাসীর অভিযোগ।
এ ব্যাপারে গোপালদী পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন মোল্লা জানান, গোপালদী পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান আবুল বাশার কাশু ও সাধার সম্পাদক জহিরুল হক মেম্বার, বিএনপির উপজেলা কমিটির সদস্য বদরুদ্দিন আহম্মেদ, বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি আবুল কালামসহ মোট দুই হাজার নেতাকর্মী আওয়ামী লীগের যোগদান করেছেন। তারা এমপি বাবুর হাতে ফুলের তোড়া ও স্বর্ণের তৈরী নৌকা প্রতীকের কোট পিন উপহার দিয়ে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন।
আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আলমগীর হোসেন জানান, কাশু চার খুন মামলার চার্জশীটভুক্ত আসামি। এই মামলা আদালতে বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে। তার বিরুদ্ধে খুঁজলে আরও মামলা পাওয়া যাবে।
এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর কেএম ফজলুর রহমান জানান, দুই নং অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলাটির বিচার কার্য চলছে। ইতোমধ্যে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। এখন যুক্তি তর্ক চলছে। মামলার প্রধান আসামি আবুল বাশার ওরফে কাশু।
ওই যোগদান অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া আড়াইহাজার উপজেলা চেয়ারম্যান ও থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহ্জালাল মিয়া বলেন, আবুল বাশার কাশুর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা রয়েছে-এটা আমি জানি। তার বিরুদ্ধে যে মামলা রয়েছে তা আইনগতভাবেই চলবে। দোষী হলে আদালতের রায়ে তার শাস্তি হবে।
এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু সাংবাদিকদের বলেন, সদ্য যোগদান করা বিএনপি নেতা আবুল বাশার কাশু ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান ছিল। সে দুই হাজার লোক নিয়ে আওয়ামী লীগে যোগদান করেছে। নেত্রীর (শেখ হাসিনা) নির্দেশ অনুযায়ী আওয়ামী লীগের ভোট বাড়াচ্ছি আমি। সোনার কোট পিন উপহার নেয়ার বিষয়টি এড়িয়ে যান তিনি।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উন্নত দেশ হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়াবে বাংলাদেশ
শেখ রাসেলের জন্মবার্ষিকীতে প্রধানমন্ত্রী
বিশেষ প্রতিনিধি ॥ প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা দেশের সকল শিশুর নিরাপদ ভবিষ্যত নিশ্চিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, কেবল একটি পরিবার নয়, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নস্যাত ও দেশকে পরাজিত শক্তির হাতে তুলে দেয়ার জন্য ১৫ আগস্ট বর্বরোচিত হত্যাকা- ঘটানো হয়। ঘাতকরা জাতির জনকের শেষ চিহ্নটি পর্যন্ত রাখতে চায়নি। সব থেকে কষ্টের হলো, শেখ রাসেলকে বাবার লাশের পাশ দিয়ে নিয়ে গিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। কী অপরাধ ছিল শেখ রাসেলের? আমরা এ ধরনের কোন শিশুর মৃত্যু দেখতে চাই না। আমরা আর এ ধরনের হত্যাকা- দেখতে চাই না। আমরা শিশুদের একটি নিরাপদ ভবিষ্যত দিতে এবং সকল পর্যায়ে দেশকে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম দেশের মূল্যবান নাগরিক হিসেবে তাদের প্রত্যেককে গড়ে তুলতে চাই।
মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ পুত্র শহীদ শেখ রাসেলের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শেখ রাসেল জাতীয় শিশু কিশোর পরিষদ আয়োজিত আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাখতে গিয়ে আবেগাপ্লুত প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার অংশহিসেবে লেখাপড়ায় মনোযোগী হওয়ার পাশাপাশি অসহায় ও দরিদ্র মানুষের সহায়তায় শিশু-কিশোরদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উন্নত, সুখী-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবেই বাংলাদেশ। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধ্বংস করে একাত্তরের পরাজিত শক্তি স্বাধীনতাবিরোধীদের হাতে দেশকে তুলে দিতেই ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। তবে পঁচাত্তরের পরে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের যেমন যথেচ্ছ বিকৃতি ঘটেছে, ভবিষ্যতে তা আর ঘটবে না।
অনুষ্ঠানে দাবা, চিত্রাঙ্কন ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী এবং এসএসসি পরীক্ষার কৃতি ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছোট ভাই শেখ রাসেলের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অনুষ্ঠানে বার বার আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। কান্নাজড়িত কণ্ঠে শেখ হাসিনা বলেন, বেঁচে থাকলে রাসেলের বয়স ৫০ বছর হতো। কিন্তু ঘাতকের বুলেট তাকে বাঁচতে দেয়নি। রাসেলবিহীন ৩৯ বছরের বেদনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এখন নতুন প্রজন্মের মাঝেই আমি আমার রাসেলকে খুঁজে পাই।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ধানম-ির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে নিহত হয় শেখ রাসেল। ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুলের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র ছিল সে। ওই সময় জার্মানিতে অবস্থান করায় প্রাণে বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। অনুষ্ঠানে বাষ্পরুদ্ধ কণ্ঠে শেখ হাসিনা বলেন, একবার ভেবেছিলাম, শেখ রাসেলকে জার্মানিতে সঙ্গে নিয়ে যাব। মা-বাবা ওকে ছাড়তে চায়নি। এটা আমাদের দুর্ভাগ্য। তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আমরা মুক্তিযুদ্ধ করে বিজয় অর্জন করেছি। আমরা বিজয়ী জাতি। আর যে জাতি একবার বিজয় লাভ করে তারা কারও কাছে আর মাথানত করে না। আমরা আল্লাহ ছাড়া আর কারও কাছে মাথানত করব না।
শিশু-কিশোরদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তোমরা সোনার মাটিতে সোনার ছেলে-মেয়ে। তোমরা অসহায় ও গরিবদের সহায়তা করবে। মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখবে। তাহলেই আমরা এগিয়ে যেতে পারব। শিশু-কিশোরদের মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া করার পাশাপাশি শিক্ষক ও অভিভাবকদের নির্দেশ মেনে চলতে বলেন তিনি। দেশের প্রতিটি শিশুর অধিকার সুরক্ষার অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা চাই প্রতিটি শিশুর জীবন নিরাপদ হোক। শিশু-কিশোরদের মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, সবাইকে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে যাতে কেউ যেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ভূলুণ্ঠিত করতে না পারে।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি লোক তাদের পূর্ণ অধিকার নিয়ে বসবাস করবে এবং বিশেষ করে প্রতিটি শিশুর অধিকার থাকবে নিরাপদ। সরকার প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর মুক্তিযুদ্ধের বিকৃত ইতিহাস শেখানোর মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছিল। কিন্তু ওই সময় বিদেশে বাংলাদেশের সঠিক ইতিহাস শেখানো হচ্ছিল। দেশের ইতিহাস জানতে অনেকের বিদেশে যেতে হয়েছে। কারণ বাংলাদেশে শেখানো হচ্ছিল বিকৃত ইতিহাস। শুধু তাই নয়, বঙ্গবন্ধু পরিবারের হত্যাকারীদের পুরস্কৃত করেছিলেন খুনী মুশতাক ও জিয়াউর রহমান। দেশকে পেছনের দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছিল।
তিনি বলেন, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানার সুযোগ পেয়েছে সবাই। এখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নতুন প্রজন্মের হƒদয়ে গেঁথে গেছে। ভবিষ্যতে আর কেউ তাদের বিভ্রান্ত করতে পারবে না। তাদের বড় মানুষ হয়ে ওঠার জন্য সব উদ্যোগ নিয়েছি আমরা। শিশু অধিকার রক্ষায় কাজ করছে সরকার। একদিন আজকের শিশুরাই আগামী দিনে দেশের নেতৃত্ব দেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় যোগ্য মানুষ হয়ে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। তোমাদের মধ্যে থেকেই আগামীতে মন্ত্রী, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, বৈজ্ঞানিক কৃষিবিদ হবে। আজ শিশুদের মাঝে যে চেতনা এসেছে তা স্বাধীনতার চেতনা। শিশুদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, তোমরা কখনওই অন্ধ, শারীরিক প্রতিবন্ধী ও অসহায় লোকদের অবহেলা করবে না। মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে তাদের দেখবে। তাহলে আমরা আমাদের দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব।
১৯৬৪ সালের ১৮ অক্টোবর শেখ রাসেলের জন্মগ্রহণের সময়ের স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেদিন শেখ রাসেলের জন্ম হয়, সেদিন নির্বাচনের কাজে বাবা চট্টগ্রামে ব্যস্ত ছিলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বার্ট্রান্ড রাসেলের ভক্ত ছিলেন। তার বইয়ের অনুবাদ বাবা মাকে পড়ে শোনাতেন। এ অনুপ্রেরণা থেকেই মা তার ছোট সন্তানের নাম রাসেল রাখেন। বঙ্গবন্ধু ছয় দফা ঘোষণার পর ১৯৬৬ সালের ৮ মে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। সেই সময়ের কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, ছোট রাসেল তখন বাবাকে খুঁজত। জেলখানায় দেখা করতে নিয়ে গেলে আব্বাকে না নিয়ে ফিরতে চাইত না। তখন আমার মা তাকে সান্ত¡না দিয়ে বলতেন, আমিই তোমার বাবা, আমিই তোমার মা।
শেখ হাসিনা বলেন, আমার বাবা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সারা জীবন দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম করে গেছেন। তিনি রাজনৈতিক কারণে বার বার জেল খেটেছেন, আর আমরা ভাই-বোনেরা পিতৃস্নেহ বঞ্চিত হয়েছি। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু রাষ্ট্রপতি ছিলেন, তাঁকে ক্ষমতার লোভে হয়ত হত্যা করা হয়েছিল। কিন্তু তাঁর পরিবারের দোষ কি ছিল? ছোট্ট শিশু রাসেলের কি দোষ ছিল? শেখ রাসেলের মতো একটি ছোট শিশুকে হত্যা করাকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের সবচেয়ে বর্বারোচিত হত্যাকা- হিসেবে আখ্যায়িত করেন তিনি। এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে বার বার চোখের পানি মুছতে দেখা যায়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের বিচার করে আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। নারী-শিশু হত্যার বিচার করেছি। এ ধরনের হত্যাকা- আর কোনদিন যেন ঘটতে না পারে সেক্ষেত্রে এ বিচার দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। আমরা আর এ ধরনের হত্যাকা- দেখতে চাই না। প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারের সফলতা তুলে ধরে বলেন, দরিদ্র পরিবারের পিতা-মাতার উপর চাপ কমাতে শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে বই দেয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেয়া হচ্ছে এবং শিক্ষায় প্রবেশ সহজ করে দিতে শিক্ষার্থীদের সহায়তার পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার প্রাথমিক শিক্ষা অবৈতনিক করেছে। কম্পিউটার শিক্ষাসহ আধুনিক প্রযুক্তি বিস্তৃত করেছে। শিশুরা এখন জানুয়ারি মাসের শুরুতে বিনামূল্যে বই পায়। মানসিক প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে এ সরকার। শিশু পাচার বন্ধে আইন করেছি।
তিনি বলেন, আন্তঃবিদ্যালয় ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠান আয়োজনের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। যাতে তারা লেখাপড়া, খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও ইতিহাসে মনোযোগী হয়। এতে তারা জাতির প্রকৃত ইতিহাস জানতে পারবে। দেশের ইতিহাস জানতে এবং পাকিস্তান কিভাবে ২৪ বছর আমাদের উপর নির্যাতন চালিয়েছে, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দীর্ঘ সংগ্রাম করে দেশ কিভাবে স্বাধীনতা পেয়েছে- এ সব বিষয় জানতে শিশুদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শিশুরা দেশের ভবিষ্যত। তাই ভবিষ্যতে দক্ষতার সঙ্গে দেশ চালাতে সক্ষম হতে নতুন প্রজন্মকে যথাযথ জ্ঞান অর্জন করতে হবে। আমরা শিশুদের এভাবেই গড়ে তুলতে চাই।
সামরিক শাসনের সময়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লোকদের সংগঠিত করার ক্ষেত্রে শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদের ভূমিকার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই সময়ে রাজনীতি নিষিদ্ধ ছিল। দলের নেতাকর্মীরা পরিষদের ব্যানারে তাদের কর্মকা- পরিচালনা করেছে। ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলী বাহিনীর হামলায় শিশু নিহতের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এ ঘটনায় কেউ প্রতিবাদ করেনি; আমি যখনই সুযোগ পেয়েছি, প্রতিবাদ করেছি। আমি যখন দেখি, ফিলিস্তিনী শিশুদের হত্যা করা হচ্ছে, মহিলাদের হত্যা করা হচ্ছে, তখনই আমার মায়ের কথা, আরজু মণির কথা, শেখ রাসেলের কথা মনে পড়ে। আমি তাঁদের লাশ দেখিনি। কিন্তু আমি অনুধাবন করতে পারি, কিভাবে তাদের হত্যা করা হয়েছিল।
শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদের চেয়ারম্যান রকিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, সংগঠনের মহাসচিব মাহমুদ-উস সামাদ চৌধুরী এমপি, উপদেষ্টা সিরাজুল আলম মোল্লা, ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি কে এম শহীদুল্লাহ, ঢাকা মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান হাওলাদার, শিশু-কিশোরদের পক্ষ থেকে ইসরাত জাহান ইমা প্রমুখ। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে দেশাত্মবোধক গান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী দর্শক সারিতে বসে এ অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। পিনপতন নিরবতায় গীতিনাট্য ছোট ছোট শিশু-কিশোররা ’৭৫-এর নির্মম হত্যাকা-ের ভয়াল দৃশ্য যখন তুলে ধরে, তখন দর্শকের সারিতে থাকা প্রধানমন্ত্রীসহ আমন্ত্রিত অতিথিরাও নিজেদের চোখের অশ্রু সংবরণ করতে পারেননি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত হাজারো শিশু-কিশোরদের চোখে-মুখে ছিল ঘাতকদের প্রতি ঘৃণা-ধিক্কার।
মিটল না ছাত্রদল জটিলতা ॥ খালেদা জিয়া অনড়
০ নতুন কমিটির পক্ষে বিএনপি চেয়ারপার্সন
০ ব্যর্থ হলো পদবঞ্চিত ও মির্জা আব্বাস বৈঠক
০ একযোগে পদত্যাগ করতে পারেন নতুন কমিটির ২০ নেতা
স্টাফ রিপোর্টার ॥ আদুভাই, খুনী, মাদক ব্যবসায়ী ও অছাত্রদের প্রাধান্য দিয়ে গঠিত ছাত্রদলের নতুন কমিটি নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার অবসান হয়নি। বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া তাঁর অনুমোদিত কমিটি বহাল রাখার ব্যাপারে অনড়। আর পদবঞ্চিত বিদ্রোহী ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা কমিটি পুনর্গঠন না করলে আবারও বিক্ষোভ শুরু করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এদিকে পদবঞ্চিতদের দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করে নতুন কমিটিতে স্থান পাওয়া ২০ জন নেতা যে কোন সময় একযোগে পদত্যাগ করতে পারেন। এরা সবাই বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের অনুসারী।
মঙ্গলবার সকালে নয়াপল্টন বিএনপি কার্যালয়ের সামনে ছাত্রদলের নতুন কমিটির নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে শোডাউনের চেষ্টা করেন। সকাল পৌনে ১০টায় তাঁরা সেখানে নতুন কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে সেøাগান দিতে থাকেন। এ সময় পুলিশ তাঁদের সেখান থেকে সরে যেতে বলে। কিন্তু পুলিশের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে সেøাগান দিতে থাকলে পুলিশ তাঁদের ধাওয়া করে এবং ২২ জনকে আটক করে। নাশকতার আশঙ্কায় তাঁদের সেখান থেকে আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। অপরদিকে বিকেলে পদবঞ্চিতদের নিয়ে শাহজাহানপুরের বাসায় বৈঠক করে কোন সমাধান দিতে পারেননি মির্জা আব্বাস। বৈঠকে পদবঞ্চিতরা দাবি করেছেন সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত নতুন-পুরাতন কেউ কার্যালয়ে যেতে পারবে না। ছাত্রদলের দফতর সম্পাদক আবদুস সাত্তার পাটোয়ারীর দেয়া তথ্যানুসারে মঙ্গলবার সকালে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে ছাত্রদলের আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন আক্তার হোসেন, রায়হানুল ইসলাম, রোমান, ইমন, মাসুদ খান, মহসিন ভূঁইয়া, মনির হোসেন, ইউসূফ, সাজেদুল, মোরশেদ আলম প্রমুখ। এ ব্যাপারে পল্টন থানার ওসি মোরশেদ আলম সাংবাদিকদের জানান, আমরা যাঁদের আটক করেছি তাঁদের মধ্যে পথচারীও থাকতে পারেন। তবে পল্টন থানার উপপরিদর্শক মতিউর রহমান সাংবাদিকদের জানান, আটককৃতদের মধ্যে ছাত্রদলের নতুন কমিটি ও পদবঞ্চিত দুই পক্ষের নেতাকর্মীরাই আছেন। তাঁরা নয়াপল্টন ও বিএনপি অফিসের আশপাশে সন্দেহজনকভাবে জড়ো হচ্ছিলেন। গত ক’দিনে সেখানে কয়েকবার গ-গোল হয়েছে। এ কারণে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাঁদের আটক করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৪ অক্টোবর ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনের পরদিন থেকে নয়াপল্টন বিএনপি কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন পদবঞ্চিতরা। শনিবার বিএনপি কার্যালয়ের সামনে দিনভর তা-ব চালিয়ে একপর্যায়ে চতুর্থ তলায় ছাত্রদল অফিসে তালা মেরে দেন বিদ্রোহীরা। রবিবার ছাত্রদলের নতুন কমিটির নেতারা কার্যালয়ে গেলে পদবঞ্চিতরা তাঁদের ওপর হামলা চালান এবং লাঠিসোঁটা নিয়ে মারামারি করে। এ সময় বাইরে ককটেল বিস্ফোরণ করে আতঙ্ক সৃষ্টি করে বিএনপি কার্যালয়ের ভেতরে ভাংচুর করেন তাঁরা। ভাংচুর-মারামারির পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বৈঠকের পর ছাত্রদলের পদবঞ্চিতরা তাঁদের কর্মসূচি স্থগিত করেন।
ছাত্রদলের মারামারির ঘটনার পর রবিবার রাতেই পল্টন থানায় একটি মামলা হয়। এতে ভাংচুর, বোমা বিস্ফোরণ ও পুলিশের কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে অজ্ঞাতপরিচয় ৮০-৯০ জনকে আসামি করা হয়। সে মামলার প্রেক্ষিতেই মঙ্গলবার ছাত্রদলের ২২ নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের আটকের পর বিএনপি কার্যালয়ের নিচে দায়িত্বপালনকারী পুলিশের সঙ্গে কথা বলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি তাঁদের ছেড়ে দেয়ার অনুরোধ করেন। কিন্তু তাঁর অনুরোধে কাজ না হওয়ায় তিনি সাংবাদিকদের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দেশে একদলীয় শাসন চলছে। কোন কর্মসূচী না থাকা সত্ত্বেও পুলিশ একদলীয় শাসন কায়েমের জন্য নেতাকর্মীদের আটক করে নিয়ে গেছে। তিনি অবিলম্বে আটককৃতদের মুক্তি দাবি করেন।
রিজভী বলেন, কোন কারণ ছাড়াই আজ ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের আটক করা হয়েছে। অথচ যেদিন কার্যালয় ভাংচুর করা হয়েছিল, সেদিন পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে। পুলিশকে আওয়ামী পুলিশ আখ্যা দিয়ে রিজভী বলেন, দেশে এখন আইনের শাসন নেই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী পুলিশ বাহিনী এখন আওয়ামী বাহিনীতে পরিণত হয়েছে।
ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে বিরাজমান সমস্যার সমাধান করতে ৩ দিনে কয়েক দফা বৈঠক হয়েছে। কিন্তু কোন বৈঠক সমস্যার সমাধান দিতে পারেনি। সর্বপ্রথম রবিবার পদবঞ্চিতদের নিয়ে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বৈঠক করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি তাঁদের সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন। ওইদিন রাতেই এ নিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানীসহ ক’জন বিএনপি নেতা দলের চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার সঙ্গে তাঁর গুলশান কার্যালয়ে গিয়ে বৈঠক করেন। পরদিন সোমবার দুপুরে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ বিষয়ে বৈঠক করেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী ও সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। কিন্তু এ বৈঠকেও কোন সমধান না আসায় রাতে আবারও খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠক করেন তাঁরা। তবে খালেদা জিয়া তাঁদের জানান যে কমিটি হয়ে গেছে তা পুনর্গঠনের কোন সুযোগ নেই। যারা বিশৃঙ্খলা করছে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। তারপরও মঙ্গলবার আবারও পদবঞ্চিতদের নিয়ে বৈঠক করেন বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাস ও মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল।
মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী ছাত্রদলের পদবঞ্চিত নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও যুবদলের সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। মির্জা আব্বাসের শাহজানপুরের বাসায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে মির্জা আব্বাস সাংবাদিকদের জানান, ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। তাদের সঙ্গে আরও আলোচনা হবে। এ ছাড়া এ বিষয়টি নিয়ে আবারও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার সঙ্গে আলোচনা করা হবে। আশা করছি সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। কবে নাগাদ সমস্যার সমাধান হবে তা জানতে চাওয়া হলে তিনি কিছুই জানাননি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পদবঞ্চিতদের বিদ্রোহী বলা ঠিক হবে না। তবে তাদের কিছুটা মতের অমিল রয়েছে।
বৈঠকে ছাত্রদলের পদবঞ্চিত নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন, আবু সাঈদ, জাবেদ হাসান, শহিদুল্লাহ ইমরান, তরুণ দেব, ফেরদৌস আহমেদ মুন্না, রকিবুল ইসলাম রয়েল, মশিউর রহমান মিশু, রবিউল হাসান সবুজ, রফিকুল ইসলাম রফিক, দবির উদ্দিন তুষার, আসাদুজ্জামান মিয়া, সাইফুল ইসলাম, মনিরুল ইসলাম রয়েল, হাবিবুর রহমান সুমন, নুরুজ্জামান মুকিত লিঙ্কন, মনিরুল ইসলাম সোহাগ প্রমুখ। এছাড়া নতুন কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাজী রেজওয়ানুল হক রিয়াজও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
মির্জা আব্বাসের সঙ্গে বৈঠক শেষে পদবঞ্চিত ছাত্রদল নেতা আবু সাঈদ বলেন, ছাত্রদলের বিবদমান সমস্যা সমাধানের আলোচনা চলছে। আমরা দলকে বাঁচাতে চাই। তাই দলকে বাঁচাতে যা কিছু করতে হবে তার জন্য আমরা প্রস্তুত। আমাদের দাবিগুলো ঢাকা মহানগর বিএনিপর আহ্বায়ক মির্জা আব্বাস ও যুবদলের সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের কাছে তুলে ধরেছি। দলের চেয়ারপার্সন তাঁদের ছাত্রদলের বিবদমান সমস্যা সমাধান করার জন্য দায়িত্ব দিয়েছেন। তাঁরা আমাদের বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপার্সনের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে জানাবেন।
তিনি বলেন, পদবঞ্চিতদের দাবিগুলো হলো বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী ও সহ-ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে ছাত্রদলের সব কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দিতে হবে। বর্তমান কমিটি বাতিল করতে হবে, বর্তমান কমিটিতে নতুন বা পুরাতন কাউকে সংযোজন বা বিয়োজন করা যাবে না। এছাড়া সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত আমরা পদবঞ্চিতরা দলীয় কার্যালয়ে যাব না আর নতুন কমিটিতে যারা স্থান পেয়েছে তারাও দলীয় কার্যালয়ে যেতে পারবে না।
বিএনপি কার্যালয়ে ছাত্রদলের নামে সরকারের এজেন্টরা হামলা চালিয়েছে- ফখরুল ॥ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সম্প্রতি ছাত্রদলের নামে সরকারের এজেন্টরা হামলা ও ভাংচুর চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ভাষা সৈনিক আবদুল মতিন স্মরণে ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক পার্র্টি (এনডিপি) আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ফখরুল বলেন, এর আগে সরকারের এজেন্টরা বিএনপি অফিসে বোমা নিক্ষেপ করে যখন ৩০ জনকে আহত করে তখন সেখানে পুলিশ ছিল না। আর এখন ছাত্রদলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে সেখানে কাউকে দাঁড়াতেও দেয়া হচ্ছে না। মঙ্গলবার যখন ছাত্রদলের ছেলেরা পার্টি অফিসের সামনে অবস্থান নেয়, তখন পুলিশ তাদের তুলে নিয়ে যায়। এটি কোন গণতান্ত্রিক সরকারের আচরণ হতে পারে না। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার হিটলারকেও ছাড়িয়ে গেছে। হিটলার যেমন সারা বিশ্বের নিরীহ মানুষের ওপর নির্যাতন চালিয়েছিল ঠিক তেমনভাবে বর্তমান সরকার জগদ্দল পাথরের মতো জনগণের ওপর চেপে বসে তাদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ দেশকে অনিশ্চিত ও অস্থিতিশীল অবস্থার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ১৯৫২ সালে ১৪৪ ধারা জারি করে পাকিস্তান রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবি থেকে আমাদের বঞ্চিত করতে পারেনি। ৭১ সালে আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করেছি। ঠিক একইভাবে দেশের মানুষ আন্দোলন করে তাদের অধিকার আদায় করে নেবে।
ফখরুল বলেন, নিজেদের ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করার জন্য সরকার সব নৈতিকতা জলাঞ্জলি দিয়েছে। একের পর এক গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করে সরকার চিরদিন ক্ষমতায় থাকার পাঁয়তারা করছে। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে আমাদের দলের কাউন্সিল হচ্ছে। কিন্তু সরকার এ কাউন্সিল করতে দিচ্ছে না। এমনকি ঘরের মধ্যে কাউন্সিল করলেও সরকার পুলিশ বাহিনী দিয়ে বাধা দিচ্ছে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, আমার বিরুদ্ধে ২৪টি মামলায় চার্জশীট দেয়া হয়েছে। এভাবে ভয়ঙ্কর নির্যাতনের মধ্য দিয়ে আমরা কঠিন সংগ্রাম করে যাচ্ছি। এটি যুদ্ধের চেয়ে কম নয়। তিনি বলেন, বিএনপি নিয়মতান্ত্রিক গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিশ্বাসী। এ আন্দোলন সফল করতে সবাইকে মাঠে নামতে হবে এবং জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটিয়ে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বিএনপি একটি উদারপন্থী দল তাই আমরা নিয়মতান্ত্রিকভাবে প্রতিবাদ করতে চাই। গণতান্ত্রিক সংগ্রাম করে দাবি আদায় করতে চাই।
এনডিপির সভাপতি খোন্দকার গোলাম মর্তুজার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন এলডিপি মহাসচিব রেদওয়ান আহমেদ, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডাঃ মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, ইসলামিক পার্টির চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট আব্দুল মোবিন, এনপিপির চেয়ারম্যান ফরিদ উজ্জামান ফরহাদ প্রমুখ।
খালেদার বিরুদ্ধে মামলা রাজনৈতিক-বিএনপি ॥ বিএনপির পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন ধর্মীয় উস্কানির অভিযোগ এনে বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা মামলা করা হয়েছে। আমরা এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এই মামলা খালেদা জিয়াকে হয়রানি ও রাজনৈতিক কর্মকা- থেকে দূরে রাখার একটি অপকৌশল মাত্র।
ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এ ধরনের মিথ্যা মামলা দায়ের এই অবৈধ সরকার কর্তৃক গণতন্ত্র হত্যা ও একদলীয় শাসনব্যবস্থা পাকাপোক্ত করার আরেকটি হীন চক্রান্ত। দেশের ১৬ কোটি মানুষের আশা-ভরসার স্থল খালেদা জিয়াকে অহেতুক হয়রানি ও রাজনৈতিক কর্মকা- থেকে দূরে সরিয়ে রাখার একটি অপকৌশল মাত্র। এ মামলা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামকে রোধ করতে পারবে না। আমরা এই বানোয়াট, মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা প্রত্যাহারের আহ্বান জানাচ্ছি। অন্যথায় গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে এসব চক্রান্তের সমুচিত জবাব দেয়া হবে।