মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বৃহস্পতিবার, ২৪ এপ্রিল ২০১৪, ১১ বৈশাখ ১৪২১
সিলেটের ছালিম ম্যানশনে ফাটল, আতঙ্ক
ঘটনাস্থলে তদন্ত দল
স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট অফিস ॥ সিলেট নগরীর সোবহানীঘাটের ছালিম ম্যানশনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেয়ায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, কিছুদিন পর পর বিল্ডিংয়ে ফাটল দেখা দেয়। মালিকপক্ষকে বললে মাঝেমধ্যে সিমেন্ট দিয়ে ফাটল বন্ধ করলেও আবার ফাটল দেখা দেয়। এমন খবরে বুধবার সিলেট সিটি কর্পোরেশনেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমানের নেতৃত্বে একদল সদস্য ছালিম ম্যানশনে গিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং মালিকপক্ষের কাছে মার্কেটটির নক্সা তলব করেন। এর আগে মঙ্গলবারও সিটি কর্পোরেশনের একদল সদস্য মার্কেটটি প্রাথমিকভাবে পরিদর্শন করেছিলেন।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, মালিকপক্ষ সঠিকভাবে বিল্ডিংয়ের কাজ করেনি। যথাযথ ফাউন্ডেশন থাকলে বিভিন্ন স্থানে এমন ফাটল থাকত না। এর আগে কোতোয়ালি পুলিশ তদন্ত করে ফাটল ও জনমনে আতঙ্কের খবরের বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের অবগত করলেও কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
সরজমিন ছালিম ম্যানশনে গিয়ে দেখা যায়, পাঁচতলা মার্কেটটির ভেতরে ও বাইরে একাধিক স্থানে ফাটল। ব্যবসায়ীরা বলেন, ‘মার্কেটটি নির্মাণের পর পরই এতে ফাটল দেখা দেয়। এতে দোকান ক্রয় করে বিপাকে পড়েন ব্যবসায়ীরা। ফাটল সম্পর্কে জানতে চাইলে তাদের সঙ্গে মালিকপক্ষ বিরূপ আচরণ ছাড়াও মামলার ভয়ভীতি দেখান। ফলে আতঙ্কের মধ্যেই সেখানে ব্যবসা করতে হচ্ছে।’
ছালিম ম্যানশনের ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্কের খবর পেয়ে ক’মাস আগে সেখানে গিয়েছিলেন কোতোয়ালি মডেল থানার তৎকালীন ওসি (তদন্ত) ও বর্তমানে বিমানবন্দর থানায় কর্মরত আনোয়ার হোসেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বিল্ডিং ফাটলের খবর পেয়ে আমি পুলিশ নিয়ে সেখানে গিয়েছিলাম।
গিয়ে দেখি মার্কেটের ব্যবসায়ীর মধ্যে চরম আতঙ্ক। বিভিন্ন স্থানে ফাটল।
এমনকি লোহাও বেঁকে যায়। কয়েকটি স্থানে ফাটল বন্ধে সিমেন্ট লাগানো হয়েছে।
এর পর আমি থানায় ফিরে একটি সাধারণ ডায়রি করি। ফাটল ও আতঙ্কের খবরটি আমি লিখিতভাবে নগর বিশেষ শাখায় জানিয়েছি। আমার জানা মতে, পুলিশের নগর বিশেষ শাখা থেকে সিটি কর্পোরেশনকে বিষয়টি অবগত করা হয়েছে। এর পর কি হলো তা আমার জানা নেই।’
এ বিষয়ে সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান বলেন, ‘আমরা মার্কেটটির বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখতে পেয়েছি। আমরা মালিকপক্ষের কাছে নক্সা তলব করেছি। যথাযথ যাচাই ও তদন্ত করে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
আগুনে পুড়ে একুশ বসতবাড়ি ছাই
জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ অগ্নিকাণ্ডে মাদারীপুরে নগদ পৌনে দুই লাখ টাকাসহ দশটি, ফরিদপুরে নয়টি বসতঘর ও চট্টগ্রামে তিনটি কাঁচাঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। খবর স্টাফ রিপোর্টার ও নিজস্ব সংবাদদাতাদের পাঠানো-
মাদারীপুর ॥ বুধবার দুুপুরে জেলার শিবচরে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বিপুল পরিমাণ রবি শস্য, নগদ পৌনে ২ লাখ টাকাসহ ১০টি বসতঘর পুড়ে গেছে। আগুন নেভাতে গিয়ে আহত হযেছেন ২ জন। জানা গেছে, বুধবার দুপুর ১২টার দিকে শিবচরের কুতুবপুর ইউনিয়নের বড় কেশবপুর হাকিম আলী বেপারীকান্দি গ্রামে দিলু মুন্সীর রান্না ঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে মুহূর্তের মধ্যে আশপাশের ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে দিলু মুন্সীর ২টি, ইদ্দিস মুন্সীর ১টি, খায়ের মুন্সীর ২টি, সায়েদ মুন্সীর ২টি, তারা মিয়া চকিদারের ১টি, আব্দুল লতিফ হাওলাদারের ১টি ও মোসলেম হাওলাদারের ১টি বসতঘর পুড়ে যায়। এ সময় আগুন নেভাতে গিয়ে আজিজুন্নেছা (৭০) ও খায়ের মুন্সী (৩৫) নামের ২ জন আহত হয়েছেন। অগ্নিকা-ে নগদ টাকা, বিপুল পরিমাণ রবি শস্যসহ প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্তরা জানান।
ফরিদপুর ॥ সদরপুর উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নের চন্দ্রপাড়া গ্রামে বুধবার দুপুর দেড়টায় ভয়াবহ এক অগ্নিকা-ে ৬টি পরিবারের ৯টি ঘরসহ প্রায় ৬ লাখ মালামল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
জানা যায়, গ্রামের মোঃ খালেকের রান্না ঘর থেকে প্রথমে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটে। আগুনে গ্রামের মোঃ ইদ্রিস, মোঃ ইমারত, মোঃ খালেক, মোঃ মোশাররফ, সাইদুল মোল্লা ও তাজেল মোল্লার ৬টি বসত ঘরসহ ৯টি ঘর পুড়ে যায়। আগুনে এসব পরিবারের নগদ ২০ হাজার টাকা, ঘর ও মালামালসহ প্রায় ৬ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। ১ ঘণ্টাব্যাপী চেষ্টা চালিয়ে ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
চট্টগ্রাম ॥ নগরীর বন্দর থানার বকস আলী মুন্সী পাড়ায় অগ্নিকাণ্ডে ভস্মীভূত হয়েছে ৩টি কাঁচাঘর। গত মঙ্গলবার রাত তিনটার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, রাতে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে একটি ঘরে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়ে তা ছড়িয়ে পড়ে পাশের আরও দুটি ঘরে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি গাড়ি অকুস্থলে ছুটে যায। প্রায় দেড়ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নেভানো সম্ভব হয়।
ভস্মীভূত তিনটি ঘরই একই মালিকের। এতে ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক মূল্য ৫ লাখ টাকা বলে ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানানো হয়।
সাতক্ষীরায় আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষ, এলাকা রণক্ষেত্র
গুলিবিদ্ধসহ আহত ১০
স্টাফ রিপোর্টার, সাতক্ষীরা ॥ সাতক্ষীরার আশাশুনিতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ কর্মী বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে ২ জন গুলিবিদ্ধসহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছে। উপজেলার খাজরা ইউনিয়নের গদাইপুরে মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি ও বোমা বিস্ফোরণে গোটা এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। বুধবার দিনভর এলাকা জুড়ে থমথমে অবস্থা বিরাজ করে। এ সময় উভয়পক্ষ কমপক্ষে ১৫টি বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এলাকাবাসী জানায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলার খাজরা ইউনিয়নের পিরোজপুরে ঘোড়া ছুট প্রতিযোগিতা দেখে খাজরা ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান রুহুল কুদ্দুস মোল্যার সমর্থক গদাইপুর গ্রামের জনৈক হোসেন মোল্যা বাড়ি ফিরছিলেন। তিনি বর্তমান চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ ডালিমের বাড়ির সামনে পৌঁছলে চেয়ারম্যানের লোকজন তাকে দা ও হাতুড়ি দিয়ে মারপিট করে। খবর পেয়ে কুদ্দুস মোল্যার সমর্থকরা লাঠিসোঁটা নিয়ে ঘটনাস্থলের দিকে ধাওয়া করে চেয়ারম্যান ডালিম ও তার সমর্থকদের গৃহবন্দী করে রাখে। তখন ডালিমের বাড়ির ছাদের ওপর থেকে ৪ রাউন্ড রিভলবারের গুলি ও বোমা নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে কুদ্দুস মোল্যার সমর্থক মৃত দাউদ মোল্যার ছেলে কামরুল ইসলাম কামুসহ (৪২) অপর একজন গুলিবিদ্ধ হয়।
চার্জ গঠন আদেশ বাতিল চেয়ে খালেদার রিভিশন আবেদন খারিজ
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা
স্টাফ রিপোর্টার ॥ জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুটি দুর্নীতি মামলায় বিচারিক আদালতে অভিযোগ (চার্জ) গঠনের আদেশ বাতিল চেয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম জিয়ার রিভিশন আবেদন খারিজ করে দিয়েছে হাইকোর্ট। বুধবার বিচারপতি বোরহান উদ্দিন ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ প্রদান করেছেন। এর ফলে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলা দুটির বিচারিক কার্যক্রম চলবে। ২১ মে দুই মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য রয়েছে। এদিন ঢাকার তিন নম্বর বিশেষ জজ আদালত সাক্ষ্যগ্রহণ করতে পারবে। খালেদা জিয়ার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছেন, পূর্ণাঙ্গ রায় পাওয়ার পর সিনিয়র আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা ও পরামর্শ করে তাঁরা এই আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপীল করবেন।
১৯ মার্চ ঢাকার জজ আদালত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে করা এই দুই মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পর ২১ এপ্রিল সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর দিন ঠিক করেছিলেন। এই অভিযোগ গঠনকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে বিএনপি চেয়ারপারসন এই প্রক্রিয়ার আইনী বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে উচ্চ আদালতে আসেন। তিনি হাইকোর্টে রিট আবেদন করলে তিন দিন শুনানির পর বুধবার হাইকোর্ট তা খরিজ করে দেয়।
আদালত আদেশে বলেন, অভিযোগ গঠন করে মহানগর দায়রা জজ বিশেষ আদালত-৩ গত ১৯ মার্চ যে আদেশ দিয়েছে তাতে দেখা যায়, আবেদনকারীকে (খালেদা জিয়া) অভিযোগ পড়ে শোনানোর পর তিনি নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেছেন। এ কারণে আবেদনের সারবত্তা নেই। তাই আবেদন খারিজ করা হলো। আদেশ দেয়ার সময় খালেদা জিয়ার পক্ষে আদালতে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন, মওদুদ আহমদ, এজে মোহাম্মদ আলী, রফিকুল ইসলাম মিয়া, মাহবুব উদ্দিন খোকন, জয়নুল আবেদীন এবং এম বদরুদ্দোজা। রাষ্ট্র ও দুদকপক্ষে উপস্থিত ছিলেন এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, অতিরিক্ত এ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা ও মোমতাজ উদ্দিন ফকির এবং খুরশীদ আলম খান।
আদেশের পর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কৌঁসুলি খুরশীদ আলম খান বলেন, আদালত খালেদা জিয়ার আবেদন দুটি সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে। আইন অনুসরণ করে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। মামলাটি সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। বিচারিক আদালতে তিনি প্রতিকার চাইতে পারেন। এসব দিক বিবেচনায় আবেদন খারিজ করা হয়েছে। আবেদন দুটি খারিজ হওয়ায় মামলা দুটির কার্যক্রম চলতে আইনগত কোন বাধা নেই।
বেগম জিয়ার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, আদালতের আদেশে আমরা হতাশ, আমরা হতবাক। বিচারিক আদালতকে বিশ্বাস করে হাইকোর্ট এ আদেশ দিয়েছে। আমরা মক্কেলের (খালেদা জিয়ার) সঙ্গে আলোচনা করে আপীল করা হবে কিনা তা পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। আপীল করার জন্য অবশ্যই আমরা চেষ্টা করব। তিনি আরও বলেন, দেশে ট্রাস্ট আইন বিদ্যমান। সে আইনে মামলা না হয়ে দুদক আইনে মামলা হয়েছে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে। তারপরও দুদক আইনের বিধি ভঙ্গ করে বিচারিক আদালত বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে।
ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মামলা থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদনের শুনানি না করে বিচারিক আদালত অভিযোগ গঠনের যে আদেশ দিয়েছে তাতে মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। ভিত্তিহীন অভিযোগের ওপর নির্ভর করে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, বিচারিক আদালতে অব্যাহতি আবেদনের শুনানি করতে দেয়নি রাষ্ট্রপক্ষ। হাইকোর্টেও ন্যায়বিচার পেলেন না খালেদা জিয়া।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট
২০১১ সালের ৮ আগস্ট জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়াসহ চারজনের নামে তেজগাঁও থানায় মামলা দায়ের করেছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক হারুনুর রশিদ।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট

জিয়া অরফানেজট ট্রাস্টের নামে দুর্নীতির অভিযোগে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন। এতিমদের সহায়তা করার উদ্দেশ্যে একটি বিদেশী ব্যাংক থেকে আসা ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাত করার অভিযোগ এনে এ মামলা দায়ের করা হয়। মামলার অপর আসামিরা হলেন- বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান।
মীর কাশেম আলীর বিরুদ্ধে ২৭ এপ্রিল যুক্তিতর্ক শুরু
যুদ্ধাপরাধী বিচার
স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত জামায়াত নেতা মীর কাশেম আলীর বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক শুরু হচ্ছে ২৭ এপ্রিল থেকে। যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার পর রায় ঘোষণার জন্য ট্রাইব্যুনাল অপেক্ষমান (সিএভি) করবেন। বুধবার মীর কাশেম আলীর দুই সাফাই সাক্ষীর জবানবন্দী ও জেরা শেষে ট্রাইব্যুনাল যুক্তিতর্কের (আর্গুমেন্ট) দিন নির্ধারণ করেছেন। চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান শাহীনের নেতৃত্বে তিন সদস্যবিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ প্রদান করেছেন। ট্রাইব্যুনালে অন্য দু’সদস্য ছিলেন বিচারপতি মোঃ মুজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মোঃ শাহিনুরর ইসলাম। একই ট্রাইব্যুনালে জাতীয় পার্টির নেতা সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারের বিরুদ্ধে অষ্টম সাক্ষী জেরায় বলেছেন, একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বাহ্মণবাড়িয়া ও হবিগঞ্জ অঞ্চলে তৎকালীন কায়সার বাহিনীর প্রধান সৈয়দ মোঃ কায়সারের নেতৃত্বে ও নির্দেশেই হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণসহ বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হতো। জেরা আজ আবার অনুষ্ঠিত হবে।

মীর কাশেম আলী
বুধবার মীর কাশেম আলীর পক্ষে দ্বিতীয় ও তৃতীয় সাফাই সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। দ্বিতীয় সাফাই সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন মোহাম্মদ আলী। তৃতীয় সাফাই সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন আবু তাহের খান। চট্টগ্রামের এই দুই সাফাই সাক্ষী নিজেদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দাবি করেছেন। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে তাদের জেরা করেন রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম ও সুলতান মাহমুদ সীমন। এর আগে গত মঙ্গলবার প্রথম সাফাই সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন মীর কাসেম আলীর ছোট বোন মমতাজ নুরুদ্দিন। উভয়পক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হওয়ায় আগামী রবিবার থেকে মামলার সর্বশেষ ধাপ যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ধার্য করা হয়েছে।
দ্বিতীয় সাফাই সাক্ষী মোহাম্মদ আলী তার সাফাই সাক্ষীতে বলেন, আমার নাম মোহাম্মদ আলী, পিতা-নাজির আলী, মাতা-মরহুমা বেগম জাকিয়া খাতুন। আমি ছোটখোট ব্যবসা করি। মুক্তিযুদ্ধের জন্য ট্রেনিং নিতে ভারতে যাই। ২৮ দিনের সশস্ত্র ট্রেনিং শেষে ২০ নবেম্বর সাবরুম হয়ে বাংলাদেশের রামগড় দিয়ে দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করি। আমাদের কমান্ডার ছিলেন নুর উদ্দিন চৌধুরী। দেশে ফিরে আমি জানতে পারি ডালিম হোটেলে একটি নির্যাতন ক্যাম্প ছিল। মতিউর রহমান মতি ওরফে মইত্যা গু-া এ ডালিম হোটেলে দখল নিয়ে তার সঙ্গে কতিপয় রাজাকার এবং কিছু বিহারী নিয়ে এখানে সাধারণ মানুষকে নির্যাতন করত ও অসামাজিক কার্যকলাপ চালাত। ডালিম হোটেলে নির্যাতন চালাতে এ কথা আমি শুনিনি। তৃতীয় সাফাই সাক্ষী আবু তাহের খানও একই ধরনের জবানবন্দী প্রদান করেছেন। জবানবন্দী শেষে প্রসিকিউটরবৃন্দ তাদের জেরা করেন।
মীর কাশেম আলীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা মোঃ নুরুল ইসলামসহ ২৪ সাক্ষী। তাদের মধ্যে ঘটনার অন্য ২০ সাক্ষী হলেন সৈয়দ মোঃ এমরান, মোঃ সানাউল্লাহ চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক নাসিরুদ্দিন চৌধুরী, সুনীল কান্তি বর্ধন দুলাল, শহীদপুত্র শিবু দাস, মৃদুল কুমার দে, প্রদীপ তালুকদার, মুক্তিযোদ্ধা এস্কান্দার আলম চৌধুরী, মোঃ সালাহউদ্দিন ছুট্টু মিয়া, মোঃ জাকারিয়া, নাজিমুদ্দিন, মোঃ হাসান (১), মোঃ হাসান (২), ফয়েজ আহমেদ সিদ্দিকী, জুলেখা খান, মুক্তিযোদ্ধা জাহাঙ্গীর চৌধুরী, হাসিনা খাতুন, এসএম জামাল উদ্দিন, এসএম সরওয়ার উদ্দিন এবং লুৎফর রহমান ফারুক।

সৈযদ মোহাম্মদ কায়সার
একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বাহ্মণবাড়িয়া ও হবিগঞ্জ অঞ্চলে তৎকালীন কায়সার বাহিনীর প্রধান সৈয়দ মোঃ কায়সারের নেতৃত্বে ও নির্দেশেই হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণসহ বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হতো বলে ট্রাইব্যুনালকে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা শাহ হোসেন আলী (৬৩)। জেরার সময় কায়সারের আইনজীবীর করা এক প্রশ্নের জবাবে সাক্ষী এ কথা বলেন। পরে জেরা অসমাপ্ত অবস্থায় মামলার কাজ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে। বুধবার বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ মামলার কাজ চলে।
মৃত মানুষের ধুলোজমা মুখ, বেদনার ভাস্কর্য- অভিশাপ
আলোকচিত্রে রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি
মোরসালিন মিজান ॥ দুর্যোগের-ই বটে বাংলাদেশ। কত কত দুর্যোগ। লেগেই থাকে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে লন্ডভণ্ড হয়ে যায় জনপদ। প্রাণ যায়। কান্নার জল শুকোতে না শুকোতে আবার কাঁদে বাঙালী। এর পরও সত্য, রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি তাঁদের হতবাক করে দিয়েছিল। এত মৃত্যু এত ক্ষয় নিকট-অতীতে কেউ দেখেনি। দুর্যোগ দুর্ঘটনা দেখা হয়েছে। কিন্তু এমন পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড দেখেনি কেউ।
গত বছরের ২৪ এপ্রিল সাভারে নৃশংসতম এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। বিল্ডিংয়ে ভয়াবহ ফাটল দেখা দেয়ার পরও সেখানে হাজার হাজার পোশাক শ্রমিককে কাজ করতে বাধ্য করা হয়। কর্মরত সেইসব শ্রমিকের উপরই ধসে পড়ে নয় তলা বিল্ডিং। মারা যায় সহস্রাধিক। বিকৃত গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মাটির সঙ্গে মিশে যায় কিছু। বাকিরা এখন জীবনমৃত। হাত রক্ষা পেলেও পা নেই। অথবা পা আছে। হাত কেটে রেখে আসতে হয়েছে ধ্বংসস্তূপের নিচে। দৃশ্যগুলো তখন ক্যামেরাবন্দী করেছিলেন আলোকচিত্রীরা। দিন-রাত সেখানে থেকে ছবি তুলেছিলেন। সেই সব ছবি নিয়ে আয়োজন করা হয়েছে বিশেষ প্রদর্শনীর। শিরোনাম- আফটারম্যাথ : রানা প্লাজা। সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যানের টিএসসি গেটে আয়োজিত প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছেন ৬০ জন আলোকচিত্রী। তাঁদের নির্বাচিত আলোকচিত্র তুলে ধরছে সেই বিভীষিকাময় দিন এবং তার আগে পরের ইতিহাস।
মঙ্গলবার তিন দিনব্যাপী প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম হানা। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত হ্যান ফুগল। আলোচনা করেন ইফতেখারুজ্জামান ও আলী আহম্মেদ। বক্তারা রানা প্লাজা ধসের ঘনটনাকে পরিকল্পিত হত্যাকান্ড মন্তব্য করে দোষীদের প্রত্যেকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেয়ার জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর নিকট জোর দাবি জানান। যাঁরা আহত অবস্থায় বেঁচে আছেন তাঁদের কষ্টের কথা তুলে ধরে বক্তারা বলেন, এঁদের পাশে দাঁড়াতে না পারলে মানুষ হিসেবে আমাদের লজ্জার সীমা থাকবে না।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে প্রদর্শনী ঘুরে দেখার পালা। আর তখনই মন বিষণ্ণ হয়ে যায়। ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে। ছোটখাটো ছিল না রানা প্লাজা। বিশাল অট্টালিকা। মুহূর্তেই তা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। প্রদর্শনীতে সেই ধ্বংসস্তূপের ছবি। কংক্রিটের জঞ্জাল। আর নিচে চাপা পড়া মানুষ। থেতলে যাওয়া শরীর। মৃত মানুষগুলোর ধুলো জমা মুখ। বেদনার ভাস্কর্য যেন! শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত, আহা কী, বাঁচার আকুতি! সে আকুতিটুকু নিখুঁতভাবে ক্যামেরাবন্দী করেছেন আলোকচিত্রীরা। আহতরা বাইর পানে হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। যার হাত গেছে, তাঁর চোখ জুড়ে ভাষা। ভাষাটি বুঝতে পেরে জীবন বাজি রেখে নেমে পড়েছেন উদ্ধারকর্মীরা। প্রদর্শনীর বেশ কিছু ছবিতে সে দৃশ্য। মানবিক মানুষের ইতিহাস ফুটিয়ে তুলেছেন আলোকচিত্রীরা। নিহতদের স্বজনদের বুকফাটা কান্না আহাজারি দেখে চোখের জল ধরে রাখা যায় না। নিখোঁজ পরিজনের লাশটা চাই। তা না হলে মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত কর। আছে এমন আকুতিও। ‘আকাশে বসত মরা ঈশ্বরের’ কাছে ফরিয়াদ আছে। অধর চন্দ্র বিদ্যালয় মাঠে সারি সারি লাশ যেন অভিশাপ দিচ্ছে। হাসপাতালে দেখা যায় বেঁচে থাকার সংগ্রাম। তবে নূপুর পায়ে কাজে যাওয়া মেয়েটির কথা বলতে হয় আলাদা করে। না জানি কত ঘৃণায় সে পা তুলে রেখেছিল এই সমাজের প্রতি!
বিশেষ এই আয়োজন কাল শুক্রবার পর্যন্ত চলবে।
গার্মেন্টসে এক বছরে অনেক উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি
নিউইয়র্ক টাইমস
স্টাফ রিপোর্টার ॥ রানা প্লাজা ট্রাডেজির এক বছর পরেও শ্রমিক অধিকার ও কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন যুক্তরাষ্ট্র। তবে অনেক ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতিও হয়েছে বলে মনে করে দেশটি। এ ছাড়া জিএসপি সুবিধা স্থগিত করায় বাংলাদেশের রফতানি খাতে সীমিত প্রভাব ফেলছে। বার্তা সংস্থা এএফপি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশের পোশাক শিল্প নিয়ে নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পোশাক খাত উন্নয়নে এ্যালায়েন্স ও এ্যাকর্ড জোট পরস্পর দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছে।
এএফপির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, রানা প্লাজা ট্রাজেডির বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আমরা এখনও বাংলাদেশের শ্রমিক অধিকার ও কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তার ব্যাপারে উদ্বিগ্ন। শ্রমিক অধিকার ও কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তার ব্যাপারে বাংলাদেশের অনেক কাজ করার আছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, বিশেষ করে শ্রম আইনের বিভিন্ন দিক, রফতানি প্রক্রিয়াজাতকরণ এলাকাগুলোর নিরাপত্তা ও কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ পর্যবেক্ষণে পরিদর্শক নিয়োগের বিষয়টির মতো অনেক কাজ করতে হবে বাংলাদেশ সরকারকে।
তবে অনেক ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলেও জানান তিনি। এ কর্মকর্তা আরও বলেন, তবে আমরা অনেক ক্ষেত্রে অগ্রগতি লক্ষ্য করেছি। তার মধ্যে রয়েছে শ্রমিক ইউনিয়নের সংখ্যা বৃদ্ধি, অগ্নিনির্বাপণ ও কাঠামোগত মান নিয়ন্ত্রণে সমন্বয়, বেশিসংখ্যক পরিদর্শক নিয়োগ ও এ সেক্টরের সহজে তথ্য পাওয়ার জন্য ডাটাবেস তৈরি।
২৪ এপ্রিল রানা প্লাজা ধসের এক বছরপূর্তি উপলক্ষে আরেক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ২০১২ সালে তাজরিন ফ্যাশনে অগ্নিকা-ে একশ’ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হওয়ার মাত্র কয়েকমাসের মধ্যে রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর কারখানাগুলোর অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ও ভবনের নিরাপত্তার বিষয়ে নজর দেয়া বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু।
যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্ব সহকারে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে। যুক্তরাষ্ট্র শুধু অগ্নিনির্বাপণ ও ভবনের নিরাপত্তার বিষয়টিই দেখছে না, একই সঙ্গে শ্রমিকদের মৌলিক অধিকার নিয়ে শ্রম আইন প্রণয়নের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের আরেক কর্মকর্তা জানান, মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা স্থগিত করায় দেশটির রফতানি খাতে সীমিত প্রভাব ফেলছে। তবে জিএসপি সুবিধা স্থগিত বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী বার্তা দিয়েছে।
তিনি বলেন, এ সুবিধা ফিরে পেতে আমরা একই সময়ে বাংলাদেশ সরকারকে একটি জিএসপি কর্ম পরিকল্পনাও দিয়েছি। সেখানে কিছু বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়গুলো প্রয়োগ করলে আমরা জিএসপি সুবিধা পুনর্বহাল করার ব্যাপারে বিবেচনা করা হবে।
তিনি বলেন, গত বছরের শেষের দিকে আমরা বাংলাদেশের কারখানাগুলোর ওপর একটি অন্তর্বর্তীকালীন পর্যালোচনা করেছি। চলতি বছরের জানুয়ারির শুরুতে আমরা লক্ষ্য করেছি, বাংলাদেশ সরকার কিছু ক্ষেত্রে অগ্রগতি অর্জন করছে। তবে তাদের আরও অগ্রগতি অর্জন করতে হবে। আমরা এখনই জিএসপি সুবিধা পুনর্বহাল করতে পারছি না। চলতি বছরে মে-জুনের দিকে যুক্তরাষ্ট্র আরেকটি পর্যালোচনা করবে বলে জানান তিনি।
‘নিরাপদ বাংলাদেশের জন্য যুদ্ধ’ শিরোনামে নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের পোশাক খাত উন্নয়নে এ্যাকর্ড ও এ্যালায়েন্স জোট কাজ করছে। সম্প্রতি নিরাপত্তার ঘাটতির জন্য একটি কারখানা বন্ধ করে দেয় এ্যাকর্ড। কারখানাটি বন্ধ করে দেয়ার ফলে বেকার হন আড়াই হাজার শ্রমিক। এসব শ্রমিকের বেতনের কোন দায়িত্ব এ্যাকর্ড নেয়নি।
উত্তর আমেরিকাভিত্তিক ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন এ্যালায়েন্সের সমালোচনা করছেন এ্যাকর্ড সদস্যরা। এ্যাকর্ডের অন্যতম সদস্য ও ওয়ার্কার্স রাইট কনসোর্টিয়ামের নির্বাহী পরিচালক স্কট নোভা বলেছেন, এ্যালায়েন্সের অনেক পরিদর্শন দ্রুততার সঙ্গে সমাপ্ত করা হয়েছে। এসব পরিদর্শন মানসম্মত নয়। এ্যালায়েন্সের পরিদর্শন করা কারখানায় এ্যাকর্ড মারাত্মক ত্রুটি রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৫ সালে স্পেকট্রাম সোয়েটার কারখানা ধসের পর ৬৪ জন শ্রমিক প্রাণ হারান। তবে তখনও শ্রমিকদের নিরাপত্তায় কোন উন্নতি হয়নি। এরপর গত বছরের ২৪ এপ্রিল রানা প্লাজা ধসে এক হাজার ১২৯ শ্রমিক প্রাণ হারান। সে ঘটনা পোশাক শিল্পের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ বিপর্যয়। এ ছাড়াও তাজরিন ফ্যাশনসে অগ্নিকা-ে ১১২ জনের প্রাণহানি ঘটে। এসব কারণে ইউরোপ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক ব্র্যান্ডগুলো পোশাক কারখানার শ্রম নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাপ দেয়। কিন্তু এ উদ্যোগে যোগদানের পরিবর্তে পশ্চিমা ব্র্যান্ডগুলো স্পষ্টত এখন দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এদের মধ্যে একটি হলো এ্যাকর্ড। অপরটি এ্যালায়েন্স। এ্যাকর্ডে রয়েছে এইচএন্ডএম, ক্যারিফোর, ম্যাঙ্গোর মতো বহু ইউরোপিয়ান ব্র্যান্ডসহ ১৪টি আমেরিকান কোম্পানি ও আরও দেড়শটি প্রতিষ্ঠান। আর এ্যালায়েন্সে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার ২৬টি প্রতিষ্ঠান। এ্যালায়েন্স সদস্যদের মধ্যে রয়েছে বিশ্ববিখ্যাত ওয়ালমার্ট, গ্যাপ, টার্গেট, কল’স প্রভৃতি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ্যাকর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, এ্যালায়েন্সের পরিদর্শন অত্যন্ত দুর্বল। আর এ্যালায়েন্সের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা এ্যাকর্ডের তুলনায় অনেক বেশি কারখানা পরিদর্শন করেছে।
নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব বিজনেস গত সোমবার একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে এ্যাকর্ড ও এ্যালায়েন্স যখন পাঁচ হাজার কারখানার মধ্যে দুই হাজার কারখানা পরিদর্শন করবে। তখন বাকি তিন হাজার কারখানা খারাপ অবস্থায় থাকবে। বাকি থাকা কারখানায় গোপনে বায়িং হাউসগুলো বিভিন্ন ব্র্যান্ডের কার্যাদেশ পাঠাবে।
অবশ্য পোশাক কারখানা বিশেষজ্ঞ যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডারা ও রৌওর্ক ভিন্নমত মত করে বলেছেন, এ্যার্কড ও এ্যালায়েন্স দু’পক্ষই কারখানার পরিবেশ উন্নয়নে কাজ করছে। তাদের প্রচেষ্টা অভূতপূর্ব। প্রকৃতপক্ষে তাঁরা যেটা করছেন, সেটা অত্যন্ত কঠিন কাজ। তিনি আরও বলেন, দুই জোটের প্রতিযোগিতা ভাল কাজের জন্যই। এতে করে সত্যিকার অর্থেই পোশাক খাতের উন্নয়ন হবে বলে তিনি মনে করেন।
প্রতিজেলায় টেকনিক্যাল কলেজ, ষষ্ঠ শ্রেণী থেকে ভোকেশনাল শিক্ষা
আইডিইবির জাতীয় সম্মেলন ও কাউন্সিল অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী
বিশেষ প্রতিনিধি ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি আত্মনির্ভরশীল দেশ গড়তে সকলের সহযোগিতা কামনা করে বলেছেন, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকালীন বিএনপি-জামায়াত জোটের নির্বিচারে মানুষ হত্যা, জ্বালাও-পোড়াওসহ ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ দেখে অনেকে মনে করেছিল দেশের অর্থনীতি ভেঙ্গে পড়বে। কিন্তু আমরা বিএনপি-জামায়াতের নৈরাজ্য মোকাবেলা করেছি, দেশকে সঠিক পথে এগিয়ে নিয়ে যেতেও সক্ষম হয়েছি। অনেকে আমাদের অগ্রগতি পছন্দ করে না। তারা জাতিকে পরনির্ভর করে রাখতে চায়। কিন্তু আমরা অরাজকতা ও সহিংসতামুক্ত একটি সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ জাতি গঠন করতে চাই।
জনসংখ্যাকে দক্ষ জনশক্তি করে গড়ে তুলতে দেশের প্রতিটি জেলায় টেকনিক্যাল কলেজ স্থাপন এবং পরবর্তী প্রজন্মের ভবিষ্যত কর্মসংস্থানের জন্য ৬ষ্ঠ শ্রেণী থেকে ছেলেমেয়েদের অন্তত একটি ভোকেশনাল শিক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। দেশকে অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে নিতে সুষ্ঠু পরিকল্পনার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, জনগণ কিসে লাভবান হবে, সেটা দেখতে হবে। অল্প খরচে জনগণকে কিভাবে সেবা দেয়া যায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। পরিকল্পনা সুষ্ঠু হতে হবে, যাতে আমরা অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যেতে পারি।
বুধবার সকালে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি)’র ২০তম জাতীয় সম্মেলন ও ৩৮তম কাউন্সিল অধিবেশনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা চাই এগিয়ে যেতে। অনেকে চায়, বাংলাদেশ দারিদ্র্যের কষাঘাতে থাকুক। ভিক্ষা খাইয়ে খাইয়ে আমাদের নিয়ন্ত্রণ করবে। আমরা চাই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ। কারিগরি শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, আমরা চাই সকলে যেন ক্লাস সিক্স থেকে ভোকেশনাল ট্রেনিং পায়। সে জন্য আমরা নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছি। প্রশিক্ষণটা এমন হতে হবে, আমাদের ছেলেমেয়েরা যেন নিজেরাই কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে নিতে পারে। তিনি বলেন, সরকার দেশে বৃত্তিমূলক শিক্ষা প্রসারিত করতে প্রতিটি জেলায় একটি করে কারিগরি স্কুল স্থাপনেরও সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তিন দিনব্যাপী জাতীয় সম্মেলন ও কাউন্সিলের উদ্বোধনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন আইডিইবির সভাপতি এ কে এম এ হামিদ। আইডিইবির সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম ‘আমাদের কথা’ শিরোনামে সাধারণ সম্পাদকের রিপোর্ট উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ সামাজিক অবদান রাখায় আইডিইবির পাঁচ সদস্যকে সম্মাননা পদক দেয়া হয়। পদকপ্রাপ্তরা হলেন- বিশিষ্ট রাজনীতিক এ্যাডভোকেট রহমত আলী এমপি, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হাসান ইমাম, আইডিইবির সাবেক সভাপতি শফিউদ্দিন সরকার, বিশিষ্ট চলচ্চিত্র নির্মাতা প্রয়াত আবদুল জাব্বার খান ও রমানন্দ মল্লিক। অনুষ্ঠানের শুরুতেই আইডিইবির সভাপতি প্রধানমন্ত্রীর হাতে সংগঠনের সম্মানী সদস্যপদের সনদ তুলে দেন। ‘জীবন-জীবিকা সমৃদ্ধির জন্য দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা’ প্রতিপাদ্য নিয়ে এবারের সম্মেলন আয়োজন করে আইডিইবি।
উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের দ্রুত উন্নয়নের জন্য তাঁর সরকার জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণ করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। একটি সরকার সঠিক পরিকল্পনার সঙ্গে আন্তরিকভাবে কাজ করলে দেশের উন্নয়ন সম্ভব। আইডিইবির সদস্যপদ গ্রহণ করে সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, জাতির পিতার কন্যা হিসেবে আজ আমাকে আপনাদের প্রতিষ্ঠানের সম্মানী সদস্যপদ প্রদান করে কৃতজ্ঞতার বন্ধনে আবদ্ধ করেছেন। ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার মূলত যারা দেশের সকল উন্নয়ন কর্মকা-ের মূল চালিকাশক্তি, তাদের পরিবারের একজন গর্বিত সদস্য হতে পেরে আমি আনন্দিত। কিন্তু আমি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কিছুই বুঝি না। তবে আমার সন্তান কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার এবং আমার স্বামী ছিলেন নিউক্লিয়ার সায়েন্টিস্ট। তবে আজকের অনুষ্ঠানে আপনাদের নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তৃতায় সাহিত্যের যে উদ্ধৃতি দিচ্ছিলেন, সাহিত্যের ছাত্রী হিসেবে তা শুনতে আমার বেশ ভাল লেগেছে।
শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৫৪ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী থাকাকালে ২টি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন। তাঁর প্রচেষ্টায় তেজগাঁওয়ে ইস্ট পাকিস্তান (বর্তমান ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট) পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৯৫৫ সালে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সে প্রথম ব্যাচে ছাত্র ভর্তি হয়। তাই ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধুর আত্মিক সম্পর্ক ছিল অবিচ্ছেদ্য। যা এখনও অব্যাহত রয়েছে।
ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারই দেশে ১৮০০ বেসরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ে ভোকেশনাল কোর্স চালু করেছে, ৩টি মহিলা পলিকেনিক্যাল ইনস্টিটিউটসহ ৫১টি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, বেসরকারী পর্যায়ে ৪ শতাধিক পলিটেকনিক প্রতিষ্ঠাসহ মেয়েদের জন্য আরও ৩টিসহ মোট ২৫টি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আইডিইবির সদস্যদের বেতন বৈষম্য নিরসনসহ কয়েকটি পেশাগত সমস্যা সমাধান এবং পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ছাত্র-শিক্ষকদের সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে দুটি আন্তর্মন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তবে ওই কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়ন না হওয়ায় বিষ্ময় প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক আগেই বাস্তবায়ন হওয়ার কথা ছিল। কোথায় ঠেকে আছে, সে বিষয়টি আমি দেখব। তিনি বলেন, বেতন বৈষম্য নিরসনের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়কে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। তবে ইতোমধ্যে পে-কমিশন গঠন হয়ে যাওয়ায় আপনাদের বিষয়টি পে-কমিশনে পাঠানো হয়েছে। তারা বেতন বৈষম্যের এ বিষয়টি দেখবে এবং সমাধান করবে।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারের উন্নয়ন ও সফলতার বিবরণ তুলে ধরে বলেন, আমরা গত পাঁচ বছরে সরকারী ও বেসরকারী খাতে প্রায় এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছি। ২৫ লাখ লোক বিদেশে চাকরি পেয়েছে। আমাদের উদ্যোগের ফলে মালয়েশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যে স্বল্প খরচে শ্রমিক রফতানি শুরু হয়েছে। বিকল্প শ্রমবাজার অনুসন্ধান চলছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে স্বল্প সুদে ও সহজ লভ্যে ঋণ প্রদানের মাধ্যমে উদ্যোক্তা সৃষ্টির উদ্যোগ নিয়েছি।
শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা সত্ত্বেও দেশের অর্থনীতি আজ খুব দৃঢ় অবস্থানে আছে। সামষ্টিক অর্থনীতির প্রতিটি সূচক ইতিবাচক ধারায় এগুচ্ছে। নানান প্রতিকূলতা সত্ত্বেও দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২০ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসা করেছে। আমরা বিদ্যুত উৎপাদন সক্ষমতা ১১ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করেছি। ১৫ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের মাধ্যমে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে চিকিৎসাসেবা দেয়া হচ্ছে। মাথাপিছু গড় আয় দাঁড়িয়েছে ১০৪৪ ডলারে। দারিদ্র্য কমে এখন ২৬ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। ৫ কোটি মানুষ নিম্ন আয় থেকে মধ্য আয়ের স্তরে উন্নীত হয়েছে।
প্রকৌশলীসহ দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আসুন, উন্নয়নের এই ধারাকে এগিয়ে নিয়ে যাই। একুশ শতকের সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে বিশ্বের বুকে বাংলাদেশকে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করি। ক্ষুধা-দারিদ্র্য-নিরক্ষরতামুক্ত জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলি।
১২ রাজ্যে আজ ১১৭ আসনে ভোট, পানি পাচ্ছে না গুজরাট মডেল
কাওসার রহমান ॥ আজ অগ্নিপরীক্ষা রাষ্ট্রপতি তনয় অভিজিতের। রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর তাঁরই ছেড়ে দেয়া আসনে উপনির্বাচনে মাত্র আড়াই হাজার ভোটে জিতেছিলেন তিনি। এবার লোকসভা নির্বাচনেও পশ্চিমবঙ্গের মুর্শীদাবাদ জেলার জঙ্গিপুর আসনে কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে আছেন অভিজিৎ মুখোপাধ্যায়। তবে এবার তৃণমূল কংগ্রেসের সারদা কেলেঙ্কারির সঙ্গে তাঁর নামও আসায় নতুন দুশ্চিন্তা যোগ হয়েছে। ফলে ভোটযুদ্ধে চতুর্মুখি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন মুখে রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের তনয়। জঙ্গিপুরসহ বৃহস্পতিবার ভারতের ১২টি রাজ্যে ষষ্ঠ দফা ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ষষ্ঠ দফায় আজ দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১১৭টি আসনে ভোট হবে। এটাই এবারে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসনে ভোটগ্রহণ। রাষ্ট্রপতি তনয়ের সঙ্গে আজ ভোটযুদ্ধে নামছেন প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং, বলিউড স্টার হেমা মালিনি, তামিলনাড়ুও মুখ্যমন্ত্রী সাবেক অভিনেত্রী জয়ললিতা, কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মিলান্দ দেওরা প্রমুখ।
মোদির বিরুদ্ধে দাঁড়ালেন
কেজরিওয়াল
দিল্লী বিজয় করে সাড়া জাগানো সেই আম আদমি নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল বুধবার ব্যাপক শোডাউন করে বিজেপি প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটের লড়াইয়ে নামলেন। বড় ধরনের রোড শো করে তিনি আজ উত্তরপ্রদেশের বারানসিতে মনোনয়নপত্র জমা দিলেন। এ সময় তিনি জনতার উদ্দেশে বলেন, আমার পকেটে মাত্র ৫০০ টাকা আছে। আমি একজন ফকির। আমার কোন অর্থ নেই। আমি আপনাদের অর্থেই নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছি। আপনারাই ঠিক করেন, আপনারা কী চান।’
মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার আগে এক পথসভায় আম আদমি পার্টির (এএপি) নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল নিজেকে ‘আমজনতা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। লোকসভা নির্বাচনে উত্তর প্রদেশের বারানসি আসনে নিজের মনোনয়নপত্র জমা দিতে যাওয়ার পথে তিনি ওই সভায় অংশ নেন। এ আসনে বিজেপি থেকে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নরেন্দ্র মোদি লড়াই করছেন। তিনি বৃহস্পতিবার শহরে অবস্থিত সরদার প্যাটেলের মূর্তির ওখান থেকে রোড শো করে এ আসনের মনোনয়নপত্র জমা দেবেন।
এ সময় কেজরিওয়াল নরেন্দ্র মোদি ও কংগ্রেসের সহসভাপতি রাহুল গান্ধীর নির্বাচনী বিজ্ঞাপনে ‘বিশাল’ অঙ্কের অর্থ ব্যয়ের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, কেউ কেউ বলছে মোদি পাঁচ হাজার কোটি রুপী নির্বাচনী প্রচারে বিজ্ঞাপন বাবদ ব্যয় করছেন। রাহুল গান্ধীও প্রচুর অর্থ ব্যয় করছেন বিজ্ঞাপনের প্রচারে। আপনারা টিভিতে, পত্রিকায় বিলবোর্ডে এ সব বিজ্ঞাপন দেখছেন। মোদি যদি ক্ষমতায় আসে তাহলে তিনি এর বিপরীতে পাঁচ লাখ কোটি রুপী তুলবেন। এ সময় তিনি উপস্থিত জনগণের উদ্দেশে বলেন, কী ধরনের গণতন্ত্র আপনারা চান, তা আপনাদেরই ঠিক করতে হবে।
আমেথি আসনে রাহুল গান্ধী প্রতারণা করেছেন, এমন অভিযোগ তোলেন আম আদমির এই নেতা। তিনি বলেন, লোকজন তাঁকে বলেছেন, এই পরিবারের সদস্যদের তাঁরা বার বার ভোট দিয়েছেন এলাকার উন্নয়নের আশায়। কিন্তু এমন কিছুই হয়নি এবং তাঁদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে বলে তাঁরা মনে করছেন। তিনি বলেন, ‘তাঁরা তাঁকে সরাসরি দেখতে পান না। জনগণ শুধু দেখে তাঁর হেলিকপ্টার মাথার ওপর উড়ছে। ... আপনারাই ঠিক করেন আপনারা কি হেলিকপ্টার গণতন্ত্র চান, নাকি যিনি গ্রামে গ্রামে, মহল্লায় মহল্লায় যাচ্ছেন, তাঁকে চান।’
চতুর্মুখি চ্যালেঞ্জে
রাষ্ট্রপতি তনয়
পশ্চিমবাংলায় বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দফায় ছয়টি আসনে নির্বাচন হচ্ছে। এ ছয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ৭৮ প্রার্থী। এখানে অন্যতম হেভিওয়েট প্রার্থী রাষ্ট্রপতির ছেলে অভিজিত মুখোপাধ্যায় ও প্রিয়রঞ্জন দাস মুন্সির মেয়ে দীপা দাসমুন্সি।
বাবার ছেড়ে দেয়া আসনে উপনির্বাচনে সহজেই পার পেয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু এবার লোকসভা নির্বাচনে চতুর্মুখি চ্যালেঞ্জে পড়েছেন রাষ্ট্রপতি পুত্র অভিজিত মুখোপাধ্যায়। যদিও সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এ আসনে তাঁর বিরুদ্ধে ছয় মুসলিম প্রার্থী এবার নির্বাচন করছে। কিন্তু কংগ্রেস প্রার্থী অভিজিতকে মূলত মোকাবেলা করতে হবে অন্তত তিনজন হেভিওয়েট প্রার্থীকে। তাঁরা হলেন- বামফ্রন্টের মোজাফফর হোসেন, তৃণমূল কংগ্রেসের হাজী নুরুল ইসলাম এবং বিজেপির সম্র্রাট ঘোষ। এ তিন প্রার্থীর সঙ্গে সম্প্রতি যুক্ত হয়েছি সারদা কেলেঙ্কারি। ফলে সব মিলিয়ে এবার রাষ্ট্রপতি পুত্রকে চতুর্মুখি চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে।
কারণ তৃণমূল নেতা ও পশ্চিমবঙ্গের ক্রীড়ামন্ত্রী মদন মিত্র গত রবিবার দাবি করেছেন, সারদা গোষ্ঠীর কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন প্রণবের ছেলে অভিজিৎ ও মেয়ে শর্মিষ্ঠা। সন্দেহ নেই, ভোটের মাঠে সারদা কেলেঙ্কারিতে সংশ্লিষ্টতা অভিজিতের জন্য নতুন অস্বস্তি সৃষ্টি করবে। যদিও মদন মিত্রের এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে প্রদেশ কংগ্রেস।
২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে জঙ্গিপুর আসনে প্রণব মুখোপাধ্যায় জিতেছিলেন এক লাখ ২৮ হাজার ১৪৯ ভোটের ব্যবধানে। নিকটতম প্রার্থী সিপিএমের মৃগাঙ্ক শেখর ভট্টাচার্য পেয়েছিলেন তিন লাখ ৭৮ হাজার ৬০০ ভোট। বিজেপি প্রার্থী দেবাশিস মজুমদার পেয়েছিলেন ২১ হাজার ৭৯১ ভোট।
২০১২ সালের জুলাইতে রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর আসনটি ছেড়ে দেন প্রণব। ওই বছরের অক্টোবরে উপনির্বাচনে প্রার্থী হন তাঁরই ছেলে অভিজিৎ মুখোপাধ্যায়। সিপিএমের মোজাফফর হোসেনকে হারান মাত্র দুই হাজার ৫৩৬ ভোটের ব্যবধানে। অভিজিৎ পান তিন লাখ ৩২ হাজার ৯১৯ ভোট, আর মোজাফফর হোসেন পান তিন লাখ ৩০ হাজার ৩৯৩ ভোট।
জঙ্গিপুর আসনে এবারও সিপিএমের প্রার্থী মোজাফফর হোসেনই। আছেন তৃণমূল কংগ্রেসের শেখ নুরুল ইসলাম ও বিজেপির সম্রাট ঘোষ। তবে নুরুল ইসলাম অপেক্ষাকৃত দুর্বল প্রার্থী। গত নির্বাচনে বসিরহাট আসন থেকে ৬০ হাজার ১৩৫ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হলেও এবার আর তাঁকে ওই আসনে প্রার্থী করেনি তৃণমূল।
৫৪ বছর বয়সী অভিজিৎ ২০১১ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভারত হেভি ইলেক্ট্রিক্যাল লিমিটেড সংস্থার (ভেল) নির্বাহী কর্মকর্তার পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হন। পেশায় তড়িৎ প্রকৌশলী অভিজিৎ। পরবর্তী সময়ে প্রণব মুখোপাধ্যায়ের লোকসভার আসন ছেড়ে দেয়ার পর ওই আসনের উপনির্বাচনে লড়ে জয়ী হন। তবে অভিজিতের বিরুদ্ধে এলাকার অনেকেরই অভিযোগ, তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশতে পারেন না।
জঙ্গিপুর আসনটি আগে থেকেই কংগ্রেস প্রভাবিত। প্রণব পুত্রের রাজনৈতিক অবস্থান আগের চেয়ে শক্তিশালী হলেও এবার তাঁকে কঠিন লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে হবে। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বামফ্রন্টের (সিপিএম) সেই মোজাফফর হোসেন। আর এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সারদা কেলেঙ্কারি। ফলে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে অভিজিৎ।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরাও মনে করছেন, এখানে তৃণমূল কংগ্রেস সুবিধা করতে পারবে না। শেষ পর্যন্ত লড়াইটা হবে কংগ্রেস আর সিপিএমের মধ্যেই। তাই এখন সবার আজকের ভোটযুদ্ধেও দিকেই।
ফেঁসে গেলেন বিজেপি নেতারা
নির্বাচনী জনসভায় সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে এবার ফেঁসে গেলেন বিজেপির সিনিয়র নেতা গিরিরাজ সিং। ঝাড়খণ্ডের আদালত বুধবার তাঁর বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ওয়ারেন্ট জারি করেছে। গিরিরাজ সিং সম্প্রতি বলেছেন, যাঁরা মোদিকে ভোট দেবেন না তাদের জন্য আদর্শ স্থান হচ্ছে পাকিস্তান। সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক এ বক্তব্য প্রদানের জন্য আদালত তাঁর বিরুদ্ধে আইপিসির ১৫৩ এ, ২৯৫ এ এবং ২৯৮ ধারায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক অভিযোগ এনে এ ওয়ারেন্ট জারি করে। ঝাড়খ-ের বোকারো পুলিশও নির্বাচনী জনসভায় উস্কানিমূলক বক্তব্য প্রদানের জন্য থানায় এফআইআর দায়ের করেছে। এ ছাড়া দেওঘর জেলা পুলিশও তাঁর বিরুদ্ধে অপর একটি মামলা দায়ের করেছে।
এ ঘটনায় অবশ্য সরকারী দল কংগ্রেসও বিজেপির প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নরেন্দ্র মোদি ও তাঁর দল বিজেপির বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক উস্কানি দেয়ার জন্য আইনত ব্যবস্থা গ্রহণের আর্জি জানিয়েছে নির্বাচন কমিশনের কাছে। কংগ্রেসের মুখপাত্র রণদীপ সিং সুরজওয়ালা দলের সদর দফতরে আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে বিজেপির সঙ্গে রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘের বিরুদ্ধেও একই ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান। কংগ্রেস গত কয়েকদিনে বিজেপি ও আরআসএস নেতাদের বিভিন্ন ভাষণের ক্লিপিংয়ের সিডি তৈরি করে। তাঁর মধ্যে রয়েছে গত সোমবার মুম্বাই জনসভায় নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতে স্থানীয় শিবসেনা নেতা মুসলিমদের বিরুদ্ধে যে বিষোদগার করছেন, সেই বিষয়টিও। নরেন্দ্র মোদি নিজে বলছেন, তিনি এই ধরনের সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক ভাষণ অনুমোদন করেন না, যদিও তিনি নিজে সেই সভায় উপস্থিত ছিলেন। অথচ কোন প্রতিবাদ করেননি। এমনকি তিনি সেই শিবসেনা নেতা রাম দাস কাদমের বক্তৃতা উপভোগ করছেন এবং তালিও বাজিয়েছে।
একই ধরনের ভাষণ দিয়েছেন রাষ্ট্রীয় স্বংয় সেবক সঙ্ঘ নেতা প্রবীণ তোগাড়িয়া, বিহারের গিরিরাজ সিং এবং উত্তরপ্রদেশের দায়িত্বপ্রাপ্ত অমিত শাহ।
মোদির নিশ্চয়তা
বিজেপির প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নরেন্দ্র মোদি ভারতে বসবাসরত মুসলমানদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিয়েছেন। বলেছেন, তাঁর নেতৃত্বে ভারতের মুসলমানরা নিরাপদে থাকবে। দলীয় ও জোটের নেতাদের সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক বক্তব্যের পর গেরুয়া দল হিসেবে বিজেপি গণমাধ্যমের প্রচ- চাপের মুখে পড়ে। মিডিয়া এই বলে তীব্র সমালোচনা করে যে, বিজেপি ও তাঁর জোট নেতাদের এ ধরনের বক্তব্য নরেন্দ্র মোদির সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গতিহীন। এ প্রসঙ্গে মোদি বলেন, ‘জনগণ সমর্থন দিলে আমাকে সরকার চালাতে হবে। আর সরকার চলবে সংবিধান অনুযায়ী। আমি বিশ্বাস করি, সরকারের একটাই ধর্ম, সেটা হলো সর্বাগ্রে ভারত।’
উত্তর প্রদেশে আজ হেমার
অগ্নিপরীক্ষা
‘লক্ষ্মী (হিন্দুধর্মমতে ধন-সম্পদের দেবী) সাইকেলে চড়ে আসেননি (সমাজবাদী পার্টির নির্বাচনী প্রতীক), আসেননি কোন হাতির পিঠে চড়েও (বিএসপির নির্বাচনী প্রতীক), তিনি এসেছেন পদ্ম ফুলে ভেসে। আপনারা এই লক্ষ্মীকে পার্লামেন্টে পাঠান’- এভাবেই বিজেপি নেতৃবৃন্দ নির্বাচনী প্রচারের শেষ দিনে জনপ্রিয় বলিউড অভিনেত্রী হেমা মালিনীর পক্ষে ভোট চাইলেন। ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যের মথুরা থেকে এবার প্রথম লোকসভা নির্বাচন করছেন বলিউড অভিনেত্রী।
মাথুরাসহ উত্তর প্রদেশের ১২টি রাজ্যে বৃহস্পতিবার তৃতীয় দফা ভোট হচ্ছে।
অভিনেত্রী থেকে রাজনীতিবিদ বনে যাওয়া হেমা চলতি লোকসভা নির্বাচনে মথুরার একটি আসন থেকে ভারতের প্রধান বিরোধীদল বিজেপির টিকেটে প্রার্থী হয়েছেন।

গুজরাট বনাম তামিলনাড়ু
গুজরাট’স মোদিয়া অর তামিলনাড়ুজ ইনথা লেডিয়া? (গুজরাটের মোদি না তামিলনাড়ুর এই মহিলা। চেন্নাইয়ে কানায় কানায় ভরা সভায় প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন জয়ললিতা। প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে নিজের হয়ে নিজেই সওয়াল করলেন স্বভাবসিদ্ধ ঢঙে। উত্তরও নিজেই দিলেন। বললেন, সুশাসন এবং উন্নয়নে মোদির চেয়ে ঢের এগিয়ে তাঁর প্রশাসন। জনসভায় তখন জয়ারই জয়গান। ৫১ দিন ধরে তামিলনাড়ু এবং প-িচেরির আনাচকানাচ চষে বেড়িয়ে মঙ্গলবার নিজের শহর চেন্নাইয়ে ম্যারাথন প্রচারে ইতি টানলেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী।
বৃহস্পতিবার তামিলনাড়ু রাজ্যের ৩৯ আসনে এবং প-িচেরির ১টি মাত্র আসনে লোকসভা নির্বাচন। ভোটের ভিআইপি বলে এ রাজ্যে জয় ললিতা নিজেই।
প্রচারের প্রথম দিকে কংগ্রেস ও তাদের শরীক ডিএমকেই ছিল তাঁর আক্রমণের প্রধান লক্ষ্য। মোদির হয়ে আগে একটা কুকথাও বলেননি। ফলে এনডিএ শিবিরে যেতে পারেন জয়া। এমন জল্পনাও শুরু হয়েছিল। তাতে জল ঢেলে দিয়ে গত ১৩ এপ্রিল তামিল নববর্ষে মোদিকেও রেয়াত করেননি তিনি। তার পর থেকেই চলছে গুজরাট বনাম তামিলনাড়ুর উন্নয়নের তুল্যমূল্য বিচার। জয়ললিতা একা নন। আজ দেশের অন্যপ্রান্ত থেকে বিজেপির প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থীকে সমালোচনায় বিদ্ধ করেছেন আরেক প্রাবশালী নেত্রী। তিনি বসপার সভানেত্রী মায়াবতী। সম্প্রতি মোদি সংসদকে দুর্নীতিমুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন। দুর্নীতিগ্রস্তদের ধরে ধরে জেলে পুরবেন বলেছেন। তাঁর প্রেক্ষিতে মায়াবতীর কটাক্ষ, ‘উল্টা চোর কোতোয়াল কো ডাঁটে (চোর কোতোয়ালকে ধমকাচ্ছে)। এ তো হাঁড়ির কেটলিকে কালো বলার মতো হয়ে গেল!’ মায়াবতীর কথায়, মোদির মন্তব্য থেকে সতর্ক থাকা উচিত। তাঁর দলে তো এমন অস্ত্র নেতা আছেন যাঁরা দাগি, দুর্নীতিগ্রস্ত, সমাজবিরোধী ও দুষ্কৃতি।
জয়ললিতা কিন্তু স্বপ্ন দেখাচ্ছেন তামিল প্রধানমন্ত্রীর। প্রশ্ন তুলছেন, তামিল মৎস্যজীবীদের শ্রীলঙ্কার সেনারা ধরে নিয়ে গিয়ে আটকে রাখে কেন? প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ কেন রাজাপাকসেকে কড়া জবাব দেন না? চিরকাল এলটিটিইর কঠোর সমালোচক জয়ললিতা কিন্তু তামিল আবেগের অঙ্ক মাথায় রেখেই ভোটের ঠিক আগে রাজীব গান্ধীর হত্যাকা-ে সাত জন অপরাধীকে মুক্তি দেয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন। করুণানিধি নিজেই দলীয় মুখপত্রে এই দাবি তুলে তামিল ভাবাবেগ নিজের দিকে টানতে চাইছিলেন। কিন্তু জয়ললিতা যে তাঁর দেখানো পথ ধরেই বাজিমাত করে বেরিয়ে যাবেন, টেরও পাননি ‘কলাইনার!’
এডিএমকে নেতারা বুক বাজিয়ে বলছেন, এ বার ৪০ আসনের মধ্যে ৪০টাই পাব। কিন্তু জয়ললিতা জানেন, অঙ্ক এতটা সোজা নয়। ডিএমকে মুসলমান, সংখ্যালঘু দলগুলোর সঙ্গে জোট বেঁধেছে। অন্যদিকে বিজেপির সঙ্গে এস রামদাসের পিএমকে, ক্যাপ্টেন বিজয়কান্তের ডিএমডিকে, ভাইকোর এমডিএমকের রামধনু জোট। আঞ্চলিক দলগুলোর নিজস্ব ভোট কোথায়, জয়ললিতার জানা। কিন্তু বিজেপি কোন দিকের ভোট কাটবে, কেউ জানে না।
মহারাষ্ট্রে শেষ ধাপের নির্বাচন
মহারাষ্ট্রের আজ তৃতীয় ও শেষ ধাপের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। শেষ দফায় মুম্বাইয়ের ছয়টিসহ মোট ১৯টি আসনে নির্বাচন হচ্ছে।

অসমে শেষদফা নির্বাচন
উত্তর-পূর্ব ভারতের অসমে আজ শেষ দফা নির্বাচন হচ্ছে। শেষ ভোটে ছয়টি আসনে মোট ৭৪ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এ রাজ্যেও অন্যতম হেভিওয়েট প্রার্থী হলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং। ১৯৯১ সাল থেকে তিনি এ রাজ্য থেকে নির্বাচন করে আসছেন। আজ দুপুরে তিনি ও তাঁর স্ত্রী আসবেন ভোট দিতে। স্থানীয় দিসপুর সরকারী উচ্চ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে তিনি ভোট দেবেন। এ উপলক্ষে রাজ্য পুলিশ ব্যাপক নিরাপত্তা কার্যক্রম গ্রহণ করেছে।
বিহারে তৃতীয় দফা নির্বাচন
তৃতীয় দফায় বিহারে বৃহস্পতিবার ৭টি আসনে ভোট হচ্ছে। এ সাত আসনে মোট প্রার্থী সংখ্যা ১০৮। এদের মধ্যে হেভিওয়েট প্রার্থী বিজেপির শাহনেওয়াজ হোসেন, এনসিপির জেনারেল সেক্রেটারি তারিক আনোয়ার এবং সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও আরজেডি নেতা মোহাম্মদ তসলিমউদ্দিন।
উজানের পানির তোড়ে ভেসে গেছে বিএনপির লংমার্চ আন্দোলন
দেশ-বিদেশের মিডিয়াকর্মীরা তুলতে পারেনি ধু ধু বালুচরের ছবি
নিজস্ব সংবাদদাতা, লালমনিরহাট, ২৩ এপ্রিল ॥ তিস্তা নদীর পানির তোড়ে ভেসে গেছে বিএনপির লংমার্চ কর্মসূচী। পানি শূন্য ধু-ধু বালুচরে পরিণত হওয়া মৃতপ্রায় তিস্তা নদীকে বাঁচাতে বিএনপি দুই দিনের লংমার্চের কর্মসূচী পালন করেছে। ২৩ এপ্রিল তিস্তা নদীর পানিপ্রবাহের ন্যায্য হিস্যা দাবিতে আন্তর্জাতিকভাবে জনমত সৃষ্টি করতে বিএনপি এই কর্মসূচীর ডাক দেয়। লংমার্চ কর্মসূচী নিয়ে সরকার ও প্রতিবেশী দেশ ভারত কিছুটা হলেও বিপাকে পড়েছিল। সরকার সব সময় দাবি করে আসছে ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বের সর্ম্পক রয়েছে। যে কোন সময় তিস্তা নদীর পানির হিস্যা নিয়ে চূড়ান্তভাবে চুক্তি হবে। দুই দেশের যৌথ নদী কমিশনের একাধিক বৈঠকে খসড়া চুক্তি অনুমোদন হয়ে আছে। এখন স্থায়ীভাবে চুক্তি হতে হবে। শুষ্ক মৌসুমে তিস্তা নদীতে হঠাৎ ৩ হাজার ৬শ’ কিউসেক পানি এসেছে। এই পানিপ্রবাহকে দুই দেশের সরকারের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ফসল বলে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা দাবি করছেন।
ভারতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তিস্তা পানিচুক্তি নিয়ে নির্বাচনের আগে ইস্যু সৃষ্টি হতে পারে। এই অজুহাত দেখিয়ে ভোটের কৌশলগত কারণে বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের সরকার তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী ও তাঁর দলের গঠিত পশ্চিমবঙ্গের সরকার তিস্তা পানিচুক্তির বিপক্ষে অবস্থান নেয়। ফলে পানিচুক্তিটি হতে হতে হয়নি। তীরে এসে তরী ডুবার মতো ঘটনা ঘটে যায়।
বিএনপিও রাজনৈতিকভাবে তিস্তা নদীর পানিচুক্তিকে ইস্যু করে বাংলাদেশের জনগণসহ আন্তর্জাতিকভাবে জনমত তৈরি করতে উঠেপড়ে লাগে। তারা বিশ্ব দরবারে প্রমাণ করতে চায় ভারত মুখে বলে বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুতের সম্পর্ক, বাস্তবে তারা বন্ধু নয়। তাই তারা তিস্তা সেচ প্রকল্পের দোয়ানী ব্যারাজে লংমার্চ আন্দোলনের ডাক দিয়ে লাখ লাখ লোকের সমাগম ঘটিয়ে তিস্তা নদীর ন্যায্য পানির হিস্যা দাবি করতে ভারতের ওপর ও বর্তমান বাংলাদেশ সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চায়।
ভারতও বিষয়টি বুঝতে পেরে লংমার্চ কর্মসূচীতে আসা দেশী-বিদেশী সংবাদকর্মী যাতে জনমত তৈরি করতে ধু-ধু বালুচরের ছবি তুলতে না পারে ও লংমার্চে আসা লাখ লাখ মানুষ যাতে মৃতপ্রায় তিস্তার ধু-ধু বালুচরের রূপ দেখতে না পারে- সে কৌশলগত কারণে ভারত রাতারাতি তিস্তা নদীতে পানি ছেড়ে দিয়েছে। ফলে লংমার্চে যোগ দিতে এসে ধু-ধু বালুচরের পরিবর্তে পানিতে ভরা টইটুর যৌবনা তিস্তাকে দেখতে পায় সকলেই। এতে সবাই অবাক। জনতাকে বলতে শোনা গেছে- ভারতের ছেড়ে দেয়া তিস্তা নদীর পানির তোড়ে বিএনপির লংমার্চ কর্মসূচী ভেসে গেছে। এখন আর বিএনপির কাছে কোন রাজনৈতিক ইস্যু থাকল না।
সিপিবিসহ বাম দল নিয়ে গঠিত মোর্চা নেতারা দাবি করেছেন, তাঁরা বিশ্ব জনমত তৈরিতে ১৭ ও ১৮ এপ্রিল তিস্তা ব্যারাজ অভিমুখে লংমার্চ কর্মসূচী পালন করেন। এতে বহির্বিশ্বে তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে জনমত তৈরি হয়। তাই ভারত সরকার বাধ্য হয়ে তিস্তা নদীতে তাদের দাবিকৃত শুষ্ক মৌসুমে ৩ হাজার ৫শ’ কিউসেক পানি ছেড়ে দিয়েছে। সিপিবিসহ বাম দলগুলো এই পানিপ্রবাহের চুক্তির স্থায়িত্ব করতে চূড়ান্ত চুক্তির দাবি জানায়। তিস্তা নদীতে হঠাৎ পানিরপ্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় বিএনপির লংমার্চ কর্মসূচী ব্যর্থতায় পরিণত হয়েছে।
বুধবার তিস্তা ব্যারাজের উজানে রিজার্ভারে বালুচরগুলো পানির নিচে ঢাকা পড়ে গেছে। পানিতে টইটুম্বুর হয়ে গেছে তিস্তা নদী। প্রমত্তা তিস্তা যেন তার পুরনো যৌবন ফিরে পেয়েছে। ভারত সরকার ব্যারাজের উজানে গড়া গজলডোবা বাঁধ খুলে দিয়েছে। তাই ২৩ এপ্রিল বিএনপির লংমার্চে আসা জনতা শুষ্ক পানিশূন্য তিস্তা নদীকে দেখতে পায়নি। তারা পানিতে ভরপুর তিস্তাকে দেখেছে। আবারও বিএনপির রাজনীতি ভারত ও আওয়ামী লীগের রাজনীতির কাছে পরাজিত হলো।
বুধবার ভোর থেকেই লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার দোয়ানীতে অবস্থিত দেশের বৃহত্তর সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজে লংমার্চে যোগ দিতে মানুষের ঢল নামে। পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে বিএনপির ডাকা এই লংমার্র্চে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। লংমার্চ সফল করতে বিএনপি নেতাকর্মীরা কয়েক দিন ধরে লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, রংপুর ও দিনাজপুর জেলায় সন্ধ্যায় মিছিল মিটিং করেছেন। গ্রামে গ্রামে মাইকিং ও লাখ লাখ টাকা খরচ করে লিফলেট বিতরণ করেছেন। তাদের লক্ষ্য ছিল লংমার্চে ৩ লাখ মানুষের সমাবেশ ঘটানো। বিএনপির সেই পরিকল্পনা সফল করতে প্রচারে সফল হলেও শেষ পর্যন্ত লংমার্চের সমাবেশে কয়েক লাখ মানুষের জমায়েত করতে পারেনি। দেশ-বিদেশের শত শত মিডিয়াকর্মী লংমার্চের সংবাদ সংগ্রহ করতে আসে। তারাও লংমার্চের সংবাদ নিতে এসে ধু-ধু বালুচরে ভরা তিস্তা নদীর ছবি তুলতে পারেনি। ভারতের উজান থেকে আসা ঢলের পানিতে তিস্তা এখন প্রমত্তা নদীতে পরিণত হয়েছে। ভারতের ছেড়ে দেয়া পানির তোড়ে বিএনপির লংমার্চ আন্দোলন ভেসে গেছে। লংমার্চ কর্মসূচীতে ১০-১৫ হাজার মানুষের সমাবেশ ঘটে।
তিস্তা ব্যারাজের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহাবুব আলম জানান, কয়েক দিন ধরে তিস্তা নদীতে পানিপ্রবাহ ছিল মাত্র ২৮০ কিউসেক। পানিশূন্য তিস্তার বিষয়ে সরকারকে অবহিত করা হয়েছিল। তাই ভারত সরকারের সঙ্গে যৌথ নদী কমিশনের কর্তারা পানির ন্যায্য হিস্যা দাবি করেন। এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার সকাল থেকেই তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। সন্ধ্যা ৭টায় তিস্তা নদীতে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কিউসেক পানি প্রবাহিত হতে দেখা গেছে। রিজার্ভারের ধু-ধু বালুচরগুলো পানিতে টইটুর হয়ে গেছে। ঢাকা পড়ে গেছে ধু-ধু বালুচরগুলো। আশা করা যাচ্ছে ভারত সরকারের বোধগম্য হয়েছে। তিস্তার ক্ষতি মানে শুধু বাংলাদেশের জনগণের ক্ষতি হবে তা নয়, এতে বাংলাদেশের চেয়ে ভারতের ক্ষতি বেশি হবে। কারণ উত্তরাঞ্চলের মরু প্রক্রিয়ার প্রভাব ভারতের উত্তরাঞ্চলেও পড়বে। তিস্তা নদীতে ৩ হাজার ৫শ’ কিউসেক পানি আসায় নদীটির ভাটি অঞ্চলেও কিছু পানিপ্রবাহ ছেড়ে দেয়া হয়েছে। ব্যারাজের ৪৪টি গেটের ১০-১২টি গেট সামান্য খুলে দেয়া হয়েছে। হঠাৎ করে খুলে দিলে বন্যা ও ফ্লাডওয়াশ হতে পারে। সে কারণে ব্যারাজের গেটগুলো হঠাৎ খুলে দেয়া হয়নি। গেট সামান্য খুলে দিয়ে অল্প অল্প পরিমাণ পানি মূল নদীর ভাটিতে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এবারের বোরো মৌসুমে ব্যারাজের প্রধান নালাগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি শুষ্ক মৌসুমে কৃষক পাবে। ভারতের ছেড়ে দেয়া পানি প্রধান নালা দিয়ে ৮টি জেলার ৩৫টি উপজেলার মধ্যে ২৫টি উপজেলায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা নালায় পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। এতে কৃষক উপকৃত হবেন। বুধবার বেলা ১১টায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানিপ্রবাহ ছিল প্রায় ৩ হাজার ৬শ’ কিউসেক। এই পানিপ্রবাহ হু হু করে বাড়ছে। যেভাবে পানি বাড়ছে তাতে তিস্তাপাড়ের মানুষ আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা করছে।
সাবেক উপমন্ত্রী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (রংপুর বিভাগ) এবং লালমনিরহাট জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু জানান, লংমার্চ সফল করতে লাখো মানুষ তিস্তা ব্যারাজ অভিমুখে এসেছে। বিএনপির এই লংমার্চ সফল হয়েছে। বুধবার ভোররাত থেকে তিস্তা ব্যারাজ মুখে মানুষের ঢল নামে। এমনকি জনগণের আন্দোলনে ভীত হয়ে ভারত সরকার গজলডোবা বাঁধ খুলে দিয়ে তিস্তায় পানি পাঠিয়েছে। তিস্তা নদীর পানিপ্রবাহের এই ন্যায্য হিস্যার জন্য আওয়ামী লীগের কোন অর্জন নেই। নতজানু পররাষ্ট্র নীতি দিয়ে ভারত থেকে আওয়ামী লীগ পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় করতে পারবে না। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ক্ষমতায় না থেকেও বিএনপি তিস্তা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় করে ছেড়েছে। যার প্রমাণ তিস্তা নদীর আজকের পানিপ্রবাহ। বিএনপির এই লংমার্চের আন্দোলন সফল হয়েছে।
স্থানীয় পাটগ্রাম উপজেলা বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার হাসান রাজীব প্রধান জানান, তিস্তা নদী বাঁচা-মরার এই আন্দোলন শুধু বিএনপির রাজনৈতিক আন্দোলন নয়। এই আন্দোলন দেশের আপামর সাধারণ মানুষের আন্দোলন। তিস্তা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় করতে দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। তাই আন্দোলন সফল। পানিপ্রবাহ তাই তার প্রমাণ।

পানি কমে গেছে
নিজস্বসংবাদদাতা নীলফামারী থেকে জানান, হঠাৎ উজানের ঢলে তিস্তায় পানি বৃদ্ধি পেয়েছিল। সেই পানি আবার কমে গেছে। মঙ্গলবার তিস্তার পানি প্রবাহ ছিল ৩ হাজার ৬ কিউসেক। বুধবার সেই পানি নেমে আসে ১ হাজার ২৪২ কিউসেকে। যা ২৪ ঘণ্টা ব্যবধানে পানি কমে যায় ১ হাজার ৭৬৪ কিউসেক।

তিস্তার পানিতে বিএনপির লংমার্চে আসা নেতাকর্মীদের গোসলের ধুম
বুধবার দুপুরে তিস্তা ব্যারাজের দোয়ানী হেলিপ্যাড মাঠে বিএনপির লংমার্চের সমাপনী জনসভায় যোগ দিতে আসা রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলার বিএনপির নেতাকর্মীদের দেখা যায় তিস্তা নদীতে নেমে লাফঝাঁপ আর গোসল করতে। এ সময় সমাবেশ চলছিল। সমাবেশে যখন অনেক বক্তা বলছিলেন চেয়ে দেখেন তিস্তা এখন বালুচরে পরিণত হয়েছে। তখন এ বিভিন্ন জেলার বিএনপির নেতাকর্মীরা লংমার্চের টি শার্ট পড়ে তিস্তায় গোসলে ব্যস্ত ছিল। এ সময় তাঁদের মন্তব্য করতে শোনা যায় তিস্তার স্বচ্ছ ঠাণ্ডা পানিতে গোসলের আনন্দ ভুলবার নয়।
গার্মেন্টস নিয়ে অপপ্রচার করলে আইনানুগ ব্যবস্থা
প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে রানা প্লাজায় ক্ষতিগ্রস্তদের দেয়া হয়েছে ২২ কোটি ১৩ লাখ
বিশেষ প্রতিনিধি ॥ সাভারের আলোচিত রানা প্লাজা ধসের ঘটনাকে পুঁজি করে নেতিবাচক অপপ্রচারের মাধ্যমে একটি কুচক্রী মহল দেশের গার্মেন্টস শিল্পকে ধ্বংসের পাঁয়তারা চালাচ্ছে- এমন অভিযোগ করে জাতীয় অর্থনীতির প্রাণশক্তি এই গার্মেন্টস শিল্প রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেছে সরকার ও পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। তাঁরা সাফ জানিয়ে দিয়েছে- দেশ, রাষ্ট্র ও শিল্পের বিরুদ্ধে অসত্য অপপ্রচার প্রমাণিত হলে অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বুধবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সংবাদ সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের পক্ষ থেকে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলা হয়। রানা প্লাজার মর্মান্তিক দুর্ঘটনার গত এক বছরে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর কার্যালয় থেকে পরিচালিত উদ্ধার কার্যক্রম, নিহত পরিবারের পুনর্বাসন, আহতদের চিকিৎসা, ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা, চিকিৎসাসহ গার্মেন্টস শিল্পের সামগ্রিক কর্ম-পরিবেশ উন্নয়নসহ সরকারের গৃহীত কর্মকাণ্ড তুলে ধরতেই এই প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়। ব্রিফিংয়ে বলা হয়, রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় দায়েরকৃত সব মামলার তদন্ত কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। শীঘ্রই মামলার চার্জশীট দেয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (মিডিয়া) মাহবুবুল হক শাকিল। আরও বক্তব্য রাখেন বিজিএমইএ’র সভাপতি আতিকুল ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন) কবির বিন আনোয়ার।
গার্মেন্টস শিল্পকে ধ্বংস করতে বিভিন্ন অপপ্রচারের সমালোচনা করে মাহবুবুল হক শাকিল বলেন, যাঁরা নিজেদের স্বার্থে রফতানিমুখী এই শিল্পের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন, তাঁরা কী একবারও ভেবে দেখেছেন এতে প্রকৃত কারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে? অপপ্রচারের কারণে গার্মেন্টস শিল্প ধ্বংস হলে কিংবা রফতানি আয় কমে গেলে দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে, মালিকরা তাঁর কারখানা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবে। এতে লাখ লাখ নারী-পুরুষ শ্রমিক বেকার হয়ে পড়বে। তাই দেশ, রাষ্ট্র ও শিল্পের বিরুদ্ধে অসত্য প্রচারণা প্রমাণিত হলে অবশ্যই সরকার তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলসংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের অর্থ সংগ্রহ ও ব্যয় কার্যক্রম অত্যন্ত স্বচ্ছ। কারা কত এই ত্রাণ তহবিলে অর্থ সহায়তা দেয় তা যেমন গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়, ঠিক তেমনি কাকে কত অর্থ সহায়তা দেয়া হচ্ছে তাও মিডিয়ায় প্রকাশ করা হয়। তাছাড়া মিডিয়ার কারণেও রানা প্লাজা ধসের ঘটনার অনুদান কার্যক্রম স্বচ্ছ রাখা সম্ভব হয়েছে। কেননা মিডিয়ার মাধ্যমেই গোটা জাতি জেনেছে কত টাকা অনুদান নেয়া হয়েছে, কত টাকা খরচ করা হয়েছে। যারা এ ত্রাণ তহবিল নিয়ে প্রশ্ন তুলছে তাদের গণমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রীর এই বিশেষ সহকারী।
বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম গার্মেন্টস শিল্প রক্ষায় গণমাধ্যমসহ সকলের সহযোগিতা কামনা করার পাশাপাশি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, রানা প্লাজা ধসের এক বছর পূর্তির দিন আজ বৃহস্পতিবার ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ লেখা শার্ট উল্টো করে পরে কথিত বিক্ষোভের মাধ্যমে বাংলাদেশের পোশাক না ক্রয় করার নেতিবাচক প্রচার চালানোর একটি হীন পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। সেখানে ‘ডোন্ট বাই দ্য গার্মেন্টস ফ্রম বাংলাদেশ’-এই স্লোগান দিয়ে বাংলাদেশী পোশাক না ক্রয় করা এবং ব্যবহার না করার আহ্বান জানানো হবে। দেশী-বিদেশী কিছু এনজিও এবং শ্রমিক সংগঠনের মাধ্যমে দেশী গার্মেন্টস শিল্পকে ধ্বংসের পাঁয়তারা করছে। সবার সহযোগিতার মাধ্যমে এই নেতিবাচক প্রচারকে ইতিবাচক প্রচারে পরিণত করতে হবে।
লিখিত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী রানা প্লাজা ধসের উদ্ধার তৎপরতাসহ গত এক বছরে এই ঘটনায় নিহতদের পরিবার ও আহত শ্রমিকদের সার্বিক কল্যাণ, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কার্যক্রমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তাঁর কার্যালয়, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, আনসার, জেলা প্রশাসন, বিজিএমইএ, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও এনজিও, বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিক এবং আওয়ামী লীগ ও এর সব সহযোগী সংগঠনসহ সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন। পাশাপাশি গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য একটি দুর্ঘটনামুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাসহ এই খাতের উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনাও তুলে ধরেন তিনি।
২৪ এপ্রিল রানা প্লাজা ধসের ঘটনার দিনটিকে গোটা জাতির জন্য ‘জাতীয় ট্র্যাজেডি’ আখ্যা দিয়ে মাহবুবুল হক শাকিল বলেন, এই ঘটনার পর গোটা জাতি এক হয়ে দলমত নির্বিশেষে উদ্ধার কাজ ও দুর্গতদের সাহায্যে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। এতে প্রমাণ হয়েছে জাতির দুর্যোগ মুহূর্তে আমরা কিভাবে ঐক্যবদ্ধ হতে পারি। রানা প্লাজা ঘটনায় সরকারের যে সহায়তা তাও কোন আর্থিক নিক্তিতে আমরা পরিমাপ করতে পারব না। এটা মানুষ হিসেবে শেখ হাসিনার মমত্ববোধের পরিচয়, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনার দায়িত্ববোধের পরিচয়। তিনি বলেন, গার্মেন্টস শিল্প আমাদের জাতীয় সম্পদ। এটিকে রক্ষা করা সকলের দায়িত্ব। আগামীতে এমন ঘটনা যাতে না ঘটে, উত্তর বা দক্ষিণাঞ্চলের কোন মানুষ আর যেন কাজের সন্ধানে এসে লাশ হয়ে ফিরে যেতে না হয়, কোন কিশোর বা কিশোরীর যেন অকালমৃত্যু না হয়- সেজন্য গার্মেন্টস শিল্পের কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।
শীঘ্রই রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির মামলার চার্জশীট দেয়া হবে- উল্লেখ করে মাহবুবুল হক শাকিল বলেন, রানা প্লাজার মালিকদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সবাইকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ১১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাগুলোর তদন্ত কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে। দ্রুতই মামলার চার্জশীট দেয়া হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে এ পর্যন্ত ২২ কোটি ১৩ লাখ ৫৫ হাজার টাকার আর্থিক অনুদান দেয়া হয়েছে। সরকারের অন্য দফতর ও সংস্থা থেকেও আরও ৪ কোটি ৬২ লাখ ৪১ হাজার টাকা ব্যয় করা হয়েছে। এ পর্যন্ত বিজিএমইএ ব্যয় করেছে প্রায় ১৫ কোটি টাকা।
তিনি জানান, রানা প্লাজা ধসের প্রেক্ষিতে সরকার গার্মেন্টস সেক্টরের সামগ্রিক পরিবেশ উন্নয়নে গঠিত ১১ সদস্যের কেবিনেট কমিটির সুপারিশ কার্যকর করা হচ্ছে। এছাড়া গঠিত দুটি টাস্ক ফোর্সও কাজ করছে। তৈরি পোশাক শিল্পের নিরাপদ কর্ম-পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার সারাদেশে কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের জন্য ২৩টি টিম গঠন করে। যার মধ্যে ঢাকায় ২০টি এবং চট্টগ্রামে ৩টি টিম কাজ করছে। এ সকল টিম ৩ হাজার ৪৯৭টি গার্মেস্টস কারাখানা পরিদর্শন করে আইন অমান্যের জন্য ৩৯২টি মামলা দায়ের করেছে। এছাড়া রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর আইএলওর সহযোগিতায় একটি ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ফান্ডে ৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার জমা পড়েছে। শ্রম মন্ত্রণালয় এ ফান্ড থেকে শ্রমিক ও তাদের পরিবারকে অর্থ সাহায্য দেয়া শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে ৫০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে এ সময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক এমপি, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু এমপি, সাভারের এমপি ডা. এনামুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর উপ-সামরিক সচিব কর্নেল মোহাম্মদ মাহবুবুর রশীদ, উপ-প্রেস সচিব নজরুল ইসলাম, আশরাফুল আলম খোকন, মনিরুন্নেসা নিনু, সহকারী সচিব আফিস কবির, নুর ইলাহী মিনা, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক ডা. জুলফিকার আলী লেনিন, প্রধানমন্ত্রীর এ্যাসাইনমেন্ট অফিসার শামীম মুসফিক প্রমুখ।
দুই শিবিরে বিভক্ত বিশ্বের পোশাক ক্রেতারা ॥ ড. ইউনূসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব পাত্তা দেয়নি
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন
হামিদ-উজ-জামান মামুন ॥ পোশাক শিল্পের উন্নয়নে পোশাকের দাম বাড়ানো বিষয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দেয়া প্রস্তাবকে পাত্তা দেয়নি বিশ্বের পোশাক ক্রেতারা। সাভারের রানা প্লাজা ধসের প্রেক্ষাপটে এ প্রস্তাব দিয়েছিলেন তিনি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ গ্রামীণ ব্যাংকসহ নানা ইস্যুতে ব্যাপক সবর থাকলেও এ বিষয়ে কোন গুরুত্ব দেয়নি। উল্টো পৃথিবীর সর্ববৃহৎ দুটি পোশাক ক্রেতা সংগঠন কারখানা পরিদর্শনের নামে একে অপরের বিরুদ্ধে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছে। এমনই চিত্র ফুটে উঠেছে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকায় প্রকাশিত ব্যাটল ফর এ সেফার বাংলাদেশ শীর্ষক প্রতিবেদনে। প্রস্তাব দেয়ার সময়ই ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছিলেন, পোশাক শিল্পের সমস্যা সমাধানের জন্য কিছু প্রস্তাব ক্রেতাদের কাছে আমি মাঝে মধ্যে দিয়েছি। অনেকের কাছে অনেকদিন ধরে দিয়েছি। কিন্তু দানা বাঁধেনি। এখন আবার নতুন করে বলার বা বাস্তবায়নের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
সূত্র জানায়, ২০১৩ সালে ২৪ এপ্রিল সাভার ভয়াবহ ট্র্যাজেডির পর বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে সারাবিশ্ব শোকে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। ওই সময় নোবেল বিজয়ী ড. ইউনূস সাভার ট্র্যাজেডি, পোশাকশিল্প ও বাংলাদেশ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প উন্নয়নে বিভিন্ন প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। তার মধ্যে তিনি আলাদা করে দুটি প্রস্তাব তুলে ধরেছেন। প্রথম প্রস্তাবটিতে তিনি বলেছেন, দেশে ন্যূনতম মজুরি আইন আছে যার ফলে কোন প্রতিষ্ঠান এর নিচে বেতন দিলে এটা বেআইনী প্রতিপন্ন হয়। আমার প্রস্তাব হলো, পোশাক শিল্পের ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো যৌথভাবে একটি আন্তর্জাতিক ন্যূনতম বেতন স্থির করে দেবে। বাংলাদেশের সর্বনিম্ন বেতনের হার যদি এখন ঘণ্টায় ২৫ সেন্ট হয়ে থাকে এটাকে আন্তর্জাতিক শিল্পের জন্য আন্তর্জাতিক মানের করে সর্বনিম্ন ৫০ সেন্ট নির্ধারণ করে তারা সমস্ত দরদাম নির্ধারণ করবে। কোন ক্রেতা এর নিচে বেতন ধরে দর নির্ধারণ করবে না, কোন শিল্প মালিক এর নিচে বেতন ধার্য করবে না। এটা কমপ্লায়েন্সের অঙ্গ হবে। এর একটি নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া হতে পারে এমন ধারণাই স্বাভাবিক। এর ফলে সস্তা শ্রমিকের জন্য যে পরিমাণ আকর্ষণীয় হতে পেরেছিল, সে আর্কষণীয়তা রাতারাতি হারিয়ে ফেলবে। এই আকর্ষণীয়তা ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশকে অন্যান্য দিক থেকে আকর্ষণীয়তার পরিমাণ বাড়াতে হবে। এই প্রস্তাবনায় তিনি কোন্ কোন্ ক্ষেত্রে বাংলাদেশে শ্রমিকদের আকর্ষণ বাড়াতে হবে সে বিষয়ে তুলে ধরে বলেছেন, আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে বিষয়টি তুলে ধরতে হবে। আন্তর্জাতিক ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের জন্য সকল ক্রেতা প্রতিষ্ঠানকে একসঙ্গে একমত করতে হবে- এমন হওয়ার দরকার নেই। কয়েকটি বড় ক্রেতা প্রতিষ্ঠান এ ব্যাপারে এগিয়ে এলেই কাজটা শুরু হয়ে যাবে। অন্যরাও ক্রমে ক্রমে এটা মেনে নেবে।
ড. ইউনসূসের দ্বিতীয় প্রস্তাবটি ছিল এ রকম, আমরা যে পোশাক ৫ ডলার দাম ধরে সুন্দর মোড়কে পুরে চমৎকার কার্টন ভরে নিউইয়র্ক বন্দরে পৌঁছে দেই সেই পোশাকের পেছনে তুলা উৎপাদনকারী কৃষক থেকে শুরু করে তুলা প্রক্রিয়াজাত করা, পরিবহন করা, সুতা বানানো, কাপড় কেনা, রং করা, জামা তৈরি করে সুন্দর মোড়কে কার্টন ভরে নিউইয়র্ক বন্দর পর্যন্ত নিয়ে যেতে যত শ্রম, ব্যবস্থাপনার মেধা এবং কাঁচামাল লেগেছে, বিভিন্ন স্তরে মালিককে যা লাভ করতে হয়েছে, তার সবকিছু এই ৫ ডলারের মধ্যে নিহিত আছে। আমেরিকার বিপণিবিতানে যখন একজন আমেরিকান ক্রেতা এটা ৩৫ ডলারে কিনে আনন্দ উপভোগ করেন তখন মনে স্বাভাবিক প্রশ্ন জাগে, এই বণ্টন ব্যবস্থায় সামান্যতম পরিবর্তন কি করা যায় না। উৎপাদন যারা করল তারা সবাই মিলে পেল ৫ ডলার আর বিক্রি করতে গিয়ে যোগ হলো ৩০ ডলার। বিক্রিয় মূল্যটা সামান্য বাড়ালেই শ্রমিকদের জন্য অনেক কল্যাণমূলক ব্যবস্থা নেয়া যায় এবং উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ করার মধ্যেও কিছুটা সঙ্গতি আসে। এই সঙ্গতি আনার ব্যাপারে ড. ইউনূস বলেছিলেন, ৩৫ ডলারের জামাটিকে যদি ৩৫ ডলার ৫০ সেন্ট কিনতে বলি তাতে ক্রেতা কি খুব বিচলিত বোধ করবেন। এই অতিরিক্ত ৫০ সেন্ট দিয়ে যদি আমি উন্নত বিশ্বের ক্রেতাদের কাছে পরিচিত এবং আস্থাভাজন একটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালনায় বাংলাদেশে গ্রামীণ বা ব্র্যাক পোশাক শিল্প শ্রমিক কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন করতে পারি তাহলে শ্রমিকদের অনেক সমস্যার সমাধান হবে। এ নিয়ে তিনি বিস্তারিত হিসাব-নিকাশ করে তুলে ধরেছিলেন তাঁর প্রস্তাবনায়।
ওই সময় ড. ইউনূসের এসব প্রস্তাবনা নিয়ে দেশে-বিদেশে ব্যাপক হৈচৈ হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। বরং গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে যখন সরকার গ্রামীণ ব্যাংক অধ্যাদেশ সংশোধন করতে গিয়েছে তখন সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর বিবৃতি দিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। পরবর্তীতে পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংকের অর্থ না দেয়ার পেছনে ড. ইউনূস ইস্যু গভীরভাবে প্রভাব ফেলেছিল বলেও ওই সময় সংশ্লিষ্ট অনেকেই মতামত দিয়েছিলেন। তাছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ তাঁকে এ্যাওয়ার্ড, পুরস্কার ও ডিগ্রী দিয়ে সম্মান জানালেও পোশাক শিল্পের উন্নয়নে ড. ইউনূসের প্রস্তাব বাস্তবায়নে কেউ এগিয়ে আসেনি। উল্টো বর্তমানে পোশাক শিল্পের আন্তর্জাতিক ক্রেতারা নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছে।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, পোশাক করাখানার নিরাপত্তার নামে পোশাক ক্রেতাদের দুটি সর্ববৃহৎ সংগঠন এ্যাকর্ড এবং এ্যালায়েন্স দুটি শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি নিরাপত্তা ক্রটির কথা বলে সফটেক্স কারখানা বন্ধ করে দেয় এ্যাকর্ড। এতে বেকার হয়ে পড়েন আড়াই হাজার শ্রমিক। এসব শ্রমিকের বেতনের কোন দায়িত্ব এ্যাকর্ড নেয়নি। সফটেক্সের প্রধান নির্বাহী রেজওয়ান সেলিম অভিযোগ করেছেন, তাঁর কারখানা সঠিক পদ্ধতি ছাড়াই বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে এ্যাকর্ড পেশাদারিত্ব ও সহানুভূতির পরিচয় দেয়নি। শ্রমিকরা বেতনের দাবিতে আন্দোলনে নামার পর তিনি ব্যাংক লোন নিয়েছিলেন তাঁদের বেতন দেয়ার জন্য। এ্যালায়েন্সের সদস্যরাও শ্রমিকদের বেতনের দায়িত্ব না নিয়ে কারখানা বন্ধ করে দেয়ায় ইউরোপভিত্তিক ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের সংগঠন এ্যাকর্ডের সমালোচনা করেছেন।
উত্তর-আমেরিকাভিত্তিক ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন এ্যালায়েন্সের সমালোচনা করছেন এ্যাকর্ড সদস্যরা। এ্যাকর্ডের উপদেষ্টা ও ওয়ার্কার্স রাইট কনসোর্টিয়ামের নির্বাহী পরিচালক স্কট নোভা বলেছেন, এ্যালয়েন্সের অনেক পরিদর্শন ওয়ালমাটের জন্য দ্রুততার সঙ্গে সমাপ্ত করা হয়েছে। এসব পরিদর্শন মানসম্মত নয়। এ্যালায়েন্সের পরিদর্শন করা কারখানায় এ্যাকর্ড মারাত্মক ত্রুটি খুঁজে পেয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, স্পেকট্রাম সোয়েটার কারখানায় ২০০৫ সালে ধসের পর, যে ঘটনায় ৬৪ শ্রমিক প্রাণ হারান, শ্রমিকদের নিরাপত্তায় কোন উন্নতি হয়নি। এরপর গত বছরের ২৪ এপ্রিল রানা প্লাজা ধসে ১১২৯ শ্রমিক প্রাণ হারান যে ঘটনা গার্মেন্টের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ বিপর্যয়। এই ঘটনা ঘটে তাজরীন ফ্যাশনসে অগ্নিকাণ্ডে ১১২ জনের প্রাণহানির কয়েক মাস পরে।
প্রবল জনরোষের কারণে পশ্চিমা পোশাক ব্র্যান্ডগুলো বাংলাদেশী গার্মেন্টের কারখানার শ্রম নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাপ দেয়। আরেকটি সর্বনাশা ধস বা অগ্নিকাণ্ড রোধ করতে তারা প্রতিমাসে শতাধিক গার্মেন্টস কারখানা পরিদর্শন করে নিরাপত্তা সমস্যা খুঁজে বের করার উদ্যোগ নেয়। কিন্তু এই উদ্যোগে যোগদানের পরিবর্তে পশ্চিমা ব্র্যান্ডগুলো পরিষ্কার দুটো শিবিরে বিভক্ত হয়ে গেছে। কেউ কেউ বলেন, এ কারণে সামগ্রিক প্রচেষ্টা হ্রাস পেয়েছে।
এদের মধ্যে একটি গ্রুপ বাংলাদেশ এ্যাকর্ড ফর ফায়ার এ্যান্ড বিল্ডিং সেফটি যেটির সদস্য দেড় শ’র বেশি। এর মধ্যে রয়েছে এইচএন্ডএম, ক্যারিফোর, ম্যাঙ্গোর মতো বহু ইউরোপিয়ান ব্র্যান্ডসহ ১৪টি আমেরিকান কোম্পানি।
অন্য গ্রুপটি দ্য এ্যালায়েন্স ফর বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স সেফটি। এর সদস্য সংখ্যা ২৬টি। যেগুলো সব যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার প্রতিষ্ঠান। এদের মধ্যে রয়েছে ওয়ালমার্ট, গ্যাপ, টার্গেট, কল’স ইত্যাদি।
এ্যালায়েন্সের কিছু কর্মকর্তা দাবি করেন, তাঁরা এ্যাকর্ডের তুলনায় বেশি কারখানা পরিদর্শন করেছেন। তবে এ্যাকর্ডের কর্মকর্তারা দাবি করেন, এ্যালায়েন্সের পরিদর্শন অপেক্ষাকৃত দুর্বল। এ্যাকর্ড দাবি করে, তারা শ্রমিক ইউনিয়নগুলো সঙ্গে নিয়ে কাজ করেন এবং শ্রমিকদের নিকট থেকে অনেক তথ্য সংগ্রহ করেন। একই সময়ে এ্যালায়েন্সের দাবি, বড় ধরনের নিরাপত্তা ক্রটির কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়া কারখানার শ্রমিকদের বেতন এ্যাকর্ড বহন করে না। এ্যালায়েন্স শ্রমিকদের অর্ধেক বেতন বহন করে।
কলম্বিয়া, ডিউক, জর্জটাউন, নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের ১৫টি বিশ্ববিদ্যালয় এ্যাকর্ডের কর্মকা- তুলনামূলক ভাল হওয়ায় এর সঙ্গে যুক্ত হতে আগ্রহী।
কিন্তু এই বিতর্কের মাঝে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ দারা ও রোর্ক বলেছেন, বাংলাদেশে সংস্থা দুটোর কর্মকা- অভূতপূর্ব। তারা পৃথিবীর সবচেয়ে খারাপ গার্মেন্টস কারখানাগুলোকে টেনে তোলার চেষ্টা করছে যা সত্যিই খুব কঠিন কাজ।
ক্যালিফোর্নিয়ার সাবেক হাউজ মেম্বার এলেন ও থ্যাচার যিনি এ্যালায়েন্স বোর্ডের চেয়ারম্যান বলেছেন, রানা প্লাজা ধস সবকিছু পাল্টে দিয়েছে এবং কোম্পানিগুলোকে প্রতিক্রিয়া দেখাতে বাধ্য করেছে। বাংলাদেশের কারখানার নিরাপত্তা সমস্যার সমাধান করা আসলেই দুঃসাধ্য কাজ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের দুর্নীতি ও রাজনৈতিক অবাধ্যতার একটি ইতিহাস রয়েছে। এটা এমন একটি স্থান যেখানে এসব ব্যবসায় যা করা হয়, যা আসলে ব্যবসার আদর্শ নয়। বেশিরভাগ ব্যবসায়ী তাদের অধিকাংশ সময় ব্যয় করে সর্বাধিক ব্যবসার ঝুঁকি নিতে। ঝুঁকির ওপরই এসব ব্যবসার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এখানে কিভাবে আপনি আশা করেন দ্রুত বস্তুগত পরিবর্তনের- প্রশ্ন রাখেন তিনি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে এ্যাকর্ড ১১০ জন প্রকৌশলী নিয়োগ দিয়েছে যারা কারখানার অনিরাপদ বৈদ্যুতিক বক্স, কাঠামোগত নিরাপত্তা ও স্প্রিংকলার সিস্টেম পরিদর্শন করছেন।
রানা প্লাজা ধসের এক বছর ॥ স্বজনরা প্রতীক্ষায়
০ আহত ও নিহতদের পরিবারের অনেকেই ক্ষতিপূরণ পায়নি
০ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দায়ের মামলার তদন্ত কাজও শেষ হয়নি
০ এখন পর্যন্ত চার্জশীট দেয়া হয়নি রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানার বিরুদ্ধে
০ আহতদের অনেকে সারাজীবনের জন্য পঙ্গু হয়ে গেছে
০ দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া ৭৪ শতাংশ শ্রমিক এখনও কাজে ফিরতে পারেনি
রহিম শেখ
রাজধানীর অদূরে সাভারে রানা প্লাজা ধসের সেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার এক বছর পূর্ণ হলো আজ। গত বছরের ২৪ এপ্রিলের এদিনে ভবন ধসে পাঁচটি পোশাক কারখানার এক হাজার ১৩২ জন শ্রমিক-কর্মচারী নিহত হন। ঘটনায় আহত হন আরও কয়েক হাজার। এদের অনেকেই সারা জীবনের জন্য পঙ্গু হয়ে গেছেন। পরিচয়-সঙ্কটের কারণে ক্ষতিপূরণের অর্থ পৌঁছায়নি প্রায় দুই শতাধিক নিহত ব্যক্তির পরিবারের কাছে। ক্ষতিপূরণের আশায় প্রতীক্ষার প্রহর গুণছেন স্বজনহারা পরিবারগুলো। এখন পর্যন্ত যেটুকু মিলেছে তাও যথেষ্ট নয় বলে মনে করছে শ্রমিক সংগঠনগুলো। আলোচিত এ প্রাণহানির ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর তদন্ত কাজও শেষ হয়নি। এখন পর্যন্ত চার্জশিট দেয়া হয়নি রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানার বিরুদ্ধে।
গত বছরের এদিনে কি ঘটেছিল তা শুধু বাংলাদেশই নয়, সারা বিশ্ববাসী জেনেছিল। ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সকাল ৮টায়। সাভারের নয়তলা ভবন রানা প্লাজার পাঁচটি কারখানার শ্রমিকরা দল বেধে প্রবেশ করছেন। যে যার মতো করে কাজে যোগ দিচ্ছেন। তখনও তারা জানতেন না কী ভয়াবহ পরিণতি অপেক্ষা করছে তাদের জন্য। সকাল সাড়ে ৮টায় একযোগে চালু করা হয় ডজনখানেক জেনারেটর। কেঁপে ওঠে নয়তলা ভবনটি। এর কিছুক্ষণের মধ্যে বিশাল এ ভবনটি ধসে পড়ে। হাজারখানেক শ্রমিক প্রাণ হারায় ঘটনাস্থলেই। ভবনে আটকেপড়া ও হাসপাতালে মারা যাওয়া শ্রমিকের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ১৩২ জনে। ঘটনায় আহত হন আরও কয়েক হাজার। দেশের ইতিহাসে একসঙ্গে এত শ্রমিক মারা যাওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম। এর আগে ২৩ এপ্রিল বিকেলেই ওই ভবনটিতে ফাটল দেখা দিয়েছিল। প্রাণের ভয়ে শ্রমিকরা কাজে যোগ দিতে চায়নি ২৪ এপ্রিল সকালে। কিন্তু ভবন মালিক সোহেল রানা জোর করে শ্রমিকদের কাজে যোগ দিতে বাধ্য করেন। ফাটলের কারণে ভবনে ব্র্যাক ব্যাংকের একটি শাখাসহ অন্য প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও খোলা ছিল পোশাক কারখানা। ভয়াবহ ভবন ধসের ঘটনায় প্রাণে দাগ কেটে যায় গোটা বিশ্ববাসীর। উন্মোচিত হয়ে যায়, কতটা ঝুঁকির মধ্যে কাজ করে এদেশের পোশাক শ্রমিকরা। লাভের পেছনে ছুটতে গিয়ে পোশাক শিল্প মালিকরা শ্রমিকদের কিভাবে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয় এ বিষয়টিও উঠে আসে গণমাধ্যমগুলোতে। এ ঘটনায় চরম অস্তিত্ব সঙ্কটে পড়ে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প।
স্মরণকালের ভয়াবহ ভবন ধসের ঘটনার এক বছর চলে গেলেও অনেকেই পাননি নিহত স্বজনদের লাশ। এখন পর্যন্ত প্রকৃত নিখোঁজ শ্রমিকদের পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি। তবে হাইকোর্টে শ্রম মন্ত্রণালয়ের দেয়া তালিকায় নিখোঁজের সংখ্যা বলা হয়েছে ৩৭৯ জন। উদ্ধারকারীদের নেতৃত্ব দেয়া সেনাবাহিনীর নিখোঁজ তালিকায় বলা হয়েছে ২৬১ জন। এর মধ্যে প্রথম দফায় ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে পাওয়া যায় ১৫৭ জনের খোঁজ। দ্বিতীয় দফায় পরিচয় মেলে ৪২ জনের। শ্রম মন্ত্রণালয়ের তালিকা ধরে এখনও নিখোঁজ ১৮০ জন শ্রমিক। উদ্ধার অভিযান শেষে ঘিরে রাখা ভবনের পাশ থেকে কয়েকটি কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যরা মনে করছেন, রানা প্লাজার ধ্বংসস্তূপে আরও দেহাবশেষ পড়ে থাকতে পারে। ওই ঘটনায় যাঁরা আহত হয়েছিলেন তাদের অনেকেই চিরদিনের জন্য পঙ্গু হয়ে গেছেন। হাসপাতালের বিছানায় এখনও কাতরাচ্ছেন আহত অনেক শ্রমিক। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে অনেক পরিবার এখন দিশেহারা। যাঁরা আহত বা নিহত হয়েছেন তাঁদের পরিবারের সদস্যদের অনেকেই এখনও ক্ষতিপূরণ পাননি। যেটুকু মিলেছে তাও যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন পরিবারের স্বজনরা।
দুর্ঘটনার কারণ, অনুসন্ধান ও তদন্ত কমিটি গঠন
রানা প্লাজায় দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে শ্রম মন্ত্রণালয়, রাজউক, শিল্প, স্বরাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং বিজিএমইএ’র একাধিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এরমধ্যে দুর্ঘটনার জন্য নয়টি কারণকে দায়ী করে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে বিজিএমইএ। ভবন তৈরিতে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার, ছয়তলার অনুমোদন নিয়ে নয়তলা ভবন নির্মাণ, কলকারখানা পরিদর্শন বিভাগের অসচেতনতা, সাভার পৌরসভার সংশ্লিষ্ট বিভাগের অবহেলা, ইত্যাদি কারণে ভবনটি ধসে পড়ে। তা ছাড়া একসঙ্গে সব জেনারেটর চালু করা এবং ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি জনবল থাকাকে দুর্ঘটনার বড় কারণ বলে চিহ্নিত করেছে বিজিএমইএ’র তদন্ত কমিটি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে রানা প্লাজা ভবন ধসের জন্য নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার, ইমারত নির্মাণ আইন অনুসরণ না করে ভবন নির্মাণ, মার্কেটের ওপরে অননুমোদিতভাবে ভবনের উচ্চতা বাড়িয়ে গার্মেন্টস স্থাপন এবং ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ঝাঁকুনি সৃষ্টির মতো যন্ত্রপাতি ও জেনারেটরসহ সরঞ্জামাদি এবং অতিরিক্ত পোশাককর্মী প্রবেশে বাধ্য করা এ পাঁচটি কারণকে দায়ী করা হয়। প্রতিবেদনে ভবন মালিক সোহেল রানা এবং ওই ভবনের পাঁচ পোশাক কারখানা মালিকের বিরুদ্ধে দ-বিধির ৩০৪ ধারা অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি অর্থাৎ যাবজ্জীবন বা ১০ বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের সুপারিশ করা হয়। একই সঙ্গে ভবন ধসের জন্য ‘প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে’ দায়ী স্থানীয় মেয়র, কাউন্সিলর, সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীসহ অন্যদের বিরুদ্ধেও একই সুপারিশ করা হয় প্রতিবেদনে। এ ছাড়া রানা প্লাজা ধসের জন্য ২৪ জনকে সুনির্দিষ্টভাবে দায়ী করেছে শ্রম মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটি। তাঁরা হলেন শ্রম মন্ত্রণালয়ের কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন দফতরের আট কর্মকর্তা, সাভার পৌরসভার মেয়রসহ ১০ কর্মকর্তা এবং ভবনের দুই ও পোশাক কারখানার চার মালিক। রাজউকের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ভবনটি নির্মাণে ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড মানা হয়নি। ছয়তলা ভবনের নকশা নিয়ে নয়তলা করা হয়।
দুর্ঘটনায় মামলা
দেশের পোশাক শিল্পের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এ দুর্ঘটনায় মোট তিনটি মামলা দায়ের করা হয়। তিনটি মামলার মধ্যে একটি করে পুলিশ। ওই মামলায় ত্রুটিপূর্ণ জেনেও শ্রমিকদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়ার অভিযোগ আনা হয়। সরাসরি হত্যার অভিযোগ এনে আরেকটি মামলা দায়ের করেন নিহত শ্রমিক জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী শিউলী আক্তার। অপর মামলাটি বিল্ডিং কোড অনুসরণ না করার অভিযোগে করে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। তিনটি মামলাই তদন্ত করছেন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সহকারী পুলিশ সুপার বিজয় কৃষ্ণ কর। মামলা তিনটিতে কবে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হবে জানতে চাইলে বিজয় কৃষ্ণ বলেন, চলতি মাসে চার্জশিট দাখিল করা সম্ভব হবে না। তবে আগামী মাসের মধ্যে আদালতে চার্জশিট দাখিল করতে পারব। প্রাণহানির দিক থেকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় শিল্প দুর্ঘটনার এ মামলায় গ্রেফতার হওয়া আসামিদের মধ্যে রানা প্লাজার মালিক যুবলীগ নেতা সোহেল রানার বাবা আবদুল খালেক ওরফে খালেক কুলু ও ভবনের ৪টি গার্মেন্টস মালিকসহ আট জন জামিনে রয়েছেন।
শ্রমিকদের মানবেতর
জীবন-যাপন
রানা প্লাজা ধসের পর সেই ভবনের যাঁরা বেঁচে আছেন, তাঁদের মধ্যে শতকরা ৫০ ভাগই গুরুতর ‘ট্রমায়’ আক্রান্ত। তাঁদের চিকিৎসার কোন সমন্বিত ব্যবস্থা এখনও করা হয়নি। কিছু প্রতিষ্ঠান কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করলেও তা পর্যাপ্ত নয়। আব্দুর রহমান (২৭) রানা প্লাজার ‘নিউ ওয়েভ বটম’ নামের পোশাক কারখানার অপারেটরের কাজ করতেন। ভবন ধসের পরদিনই তাঁকে উদ্ধার করা হয়। তাঁর শারীরিক ক্ষতি তেমন না হলেও তিনি এখন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। তিনি জানান, রানা প্লাজা ধসের কয়েক মাস পর আমি একটি পোশাক কারখানায় কাজ নিই। কিন্তু তিন দিন পর কাজ ছেড়ে দেই আমি। মেশিন ধরতে গেলেই আমার হাত-পা কাঁপে। বিদ্যুত চলে গেলে প্রচণ্ড ভয় লাগে আমার। একই অবস্থা আসাদ, জুয়েল, শফিক, সালাউদ্দিন, রহিমা ও সালেহা বেগমসহ আরও অনেকের। সম্প্রতি প্রকাশিত বেসরকারী গবেষণা প্রতিষ্ঠান এ্যাকশন এইডের এক জরিপে বলা হয়েছে, রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া ৭৪ শতাংশ শ্রমিক এখনও কোন কাজে ফিরতে পারেনি। এর কারণ হিসেবে প্রায় ৬৪ শতাংশ ক্ষেত্রে শারীরিক সমস্যা এবং প্রায় ২৪ শতাংশ ক্ষেত্রে মানসিক বিপর্যয়জনিত (ট্রমা) সমস্যার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া প্রায় সাড়ে সাত শতাংশ ক্ষেত্রে দেখা গেছে নিয়োগদাতারা রানা প্লাজা ধসের শিকার এমন লোকদের চাকরি দিতে চান না। সংগঠনটির প্রকাশিত জরিপের রিপোর্টে বলা হয়, ওই ঘটনার পর বেঁচে যাওয়া মোট ১ হাজার ৪৩৬ জনের ওপর জরিপ চালিয়ে তাঁরা দেখেছেন তাদের মধ্যে ৭৩ দশমিক ৭ শতাংশই এখনও কোন কাজে ফিরতে পারেননি। জরিপে আরও বলা হয়, ঘটনার পর এক বছর পার হতে চললেও ওই ঘটনার শিকার যাঁরা হয়েছিলেন তাঁরা বা তাদের পরিবারের সদস্যরা এখনও কোন ক্ষতিপূরণ পাননি। তবে অনেকেই প্রধানমন্ত্রীর তহবিলসহ বিভিন্ন উৎস থেকে আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশে তৈরি পোশাকের ক্রেতা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড এবং আইএলওর মতো কিছু আন্তর্জাতিক সংস্থা রয়েছে।
আহতদের সহায়তা ও
বিদেশী তহবিল
রানা প্লাজা ভবন ধসের ঘটনায় আহত ও নিহত পরিবারের সদস্যদের মাঝে সরকারী-বেসরকারী মিলিয়ে এ পর্যন্ত প্রায় ৪২ কোটি টাকা অর্থ সহায়তা দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে শুধু প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকেই অনুদান হিসেবে ২২ কোটি ১১ লাখ ৫৫ হাজার ৭২০ টাকা দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া সরকারের বিভিন্ন দফতর ও দাতা সংস্থা উদ্ধার কাজে খরচ করেছে ৪ কোটি ৬২ লাখ টাকা। আরও অনুদান লাগবে কি না তা নির্ধারণে কাজ চলছে। বেতন, চিকিৎসাসেবা ও আনুষঙ্গিক বাবদ প্রায় ১৫ কোটি টাকা খরচ করলেও নতুন করে আর্থিক সহায়তা দিতে নারাজ পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। দুর্ঘটনায় হতাহতদের ক্ষতিপূরণ দিতে ৪০ মিলিয়ন ডলারের প্রয়োজন হলেও তা যোগাড় হয়নি এখনও। ‘ডোনারস ট্রাস্ট ফান্ড’ নামে ক্ষতিপূরণ তহবিলে এ পর্যন্ত ১৫ মিলিয়ন ডলার জমা পড়েছে। এ তহবিল থেকে গত মঙ্গলবার শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে দুইজন ক্ষতিগ্রস্তকে ৫০ হাজার টাকার চেক দেয়া হয়। এ প্রসঙ্গে ইন্ডাস্ট্রিজ অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক রায় রমেশ চন্দ্র জনকণ্ঠকে বলেন, শীঘ্রই আহত ও নিহত পরিবারের সব আত্মীয়-স্বজনরা মোবাইলে এই অর্থ পাবেন। তবে এখন পর্যন্ত তহবিলে আসা অর্থের পরিমাণ যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ ছাড়া গত মাসে তারা দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিপূরণের জন্য অতিরিক্ত ১০ মিলিয়ন ডলার দিয়েছে। এর মধ্যে ৯ মিলিয়ন ডলার সরাসরি রানা প্লাজার পোশাক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের ৫৮০ কর্মচারীকে এবং বাকি এক মিলিয়ন তহবিলে জমা দেয়া হয়েছে।
শ্রম মন্ত্রণালয়, বিজিএমইএ ও
শ্রমিক সংগঠনগুলোর বক্তব্য
রানা প্লাজার দুর্ঘটনার শ্রমিকদের সহায়তা প্রসঙ্গে শ্রম সচিব মিকাইল শিপার বলেন, শ্রম আইন অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্তদের এক লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেয়ার প্রতিশ্রুতি আমরা রক্ষা করতে পেরেছি। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে যে অর্থ দেয়া হয়েছে, তা রানা প্লাজা ডোনারস ট্রাস্ট ফান্ড’-এর সঙ্গে সমন্বয় করার কোন পরিকল্পনা নেই। তবে সব তথ্য তহবিলের দায়িত্বপ্রাপ্তদের দেয়া হবে। তাঁরা যদি মনে করেন এ অর্থ কেটে নেবেন, নিতে পারেন। আবার নাও নিতে পারেন। এ প্রসঙ্গে বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম জনকণ্ঠকে বলেন, রানা প্লাজায় দুর্ঘটনার শিকার শ্রমিকদের সহায়তার জন্য এ পর্যন্ত বিজিএমইএ এর পক্ষ থেকে ১৪ কোটি ৫০ লাখ ৮ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়েছে। এসব অর্থের মধ্যে ৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা চিকিৎসা সহায়তা বাবদ, বেতন ও অন্য সুবিধা বাবদ ৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা, প্রধানমন্ত্রীর ফান্ডে ২ কোটি টাকা, প্রসূতি শ্রমিকদের ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং উদ্ধার ও পুনর্বাসন কাজে ৯৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা খরচ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও অর্থ অনুদান করা হবে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিজিএমইএ সব সময় শ্রমিকদের প্রতি আন্তরিক। বিজিএমইএ বিষয়টি অবশ্যই দেখবে বলে তিনি জানান। শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানো হয়েছে দাবি করে আতিকুল ইসলাম বলেন, আমরা শ্রমিকদের কল্যাণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিলেও ক্রেতারা এ কাজগুলো দেখছেন না। ভবন ধসে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের চিকিৎসা ও সহায়তার জন্য বিদেশ থেকে আসা অনুদানের অর্থ কোথায়, কিভাবে যাচ্ছে, কাকে দেয়া হচ্ছে, এর হিসাব চান ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকরা। এক্ষেত্রে স্বচ্ছতার যথেষ্ট অভাব ও দুর্নীতির আশঙ্কাও করছেন তাঁরা। এ বিষয়ে গার্মেন্ট শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা মঞ্জুরুল আহসান খান জনকণ্ঠকে বলেন, শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ, তাদের চিকিৎসা, পুনর্বাসনসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে ব্যয় করা অর্থের যথাযথ হিসাব প্রয়োজন। সুনির্দিষ্ট কোন ওয়েবসাইট বা গণবিজ্ঞপ্তি আকারে এ সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের দাবি জানান তিনি। সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি নাজমা আক্তার জনকণ্ঠকে বলেন, যেসব শ্রমিক নিহত হয়েছেন তারা তো ফিরে আসবেন না। তারপরও যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেয়া হলে নিহত বা আহতদের পরিবারের স্বজনরা ভাল থাকবেন। অবিলম্বে সব ক্ষতিগ্রস্ত আহত-নিহত নিখোঁজদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেয়ার দাবি জানান তিনি।
কার কথা সত্য পাপন না সিইওর?
২০১৯ সালের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে বাংলাদেশ
স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ‘ধরি মাছ, না ছুঁই পানি।’-বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজনের কাজকর্ম এমনই। যখনই তাঁর কাছে কোন তথ্য জানতে চাওয়া হয়-ব্যস্ত, ব্যস্ততা শেষ হলেই কথা বলছি; এমন ভাব ধরে ফোন রেখে দেন। পরে তাঁর ব্যস্ততা আর শেষ হয় না। অথচ বুধবার তিনিই ব্যস্ততা দেখিয়ে তাড়াহুড়ো করে এমন এক তথ্য দিলেন, যাতে বোঝাই যাচ্ছে; ২০১৯ সালের বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বাছাইপর্বে খেলার সম্ভাবনা নিয়ে রবিবার বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন যা বলেছেন তা মিথ্যা বলেছেন।
ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় ২০১৯ সালের বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে খেলতে হতে পারে বাংলাদেশকে। আইসিসি সভায় এ আলোচনা হয়েছে। কেন এল এমন বিষয়? বিসিবি সভাপতি হুট করেই এসেছে বলেই জানিয়েছেন, ‘কেন এল আমি জানি না। টেস্ট এবং টি২০ নিয়ে আলোচনার সময় এটাও হবে, এ রকম কোন সিদ্ধান্ত নেয়া আছে কিনা, আমি জানি না।’ কিন্তু বিষয়টি যে হুট করে দুবাইয়ের সর্বশেষ সভায় আসেনি, এর আগেও আলোচনা হয়েছে কয়েকবার; তা জানিয়েছেন বিসিবির সিইও।
সিইও সুজন বলেছেন, ‘২০১১ সালের জুনে (তখন বিসিবি সভাপতি ছিলেন আহম মোস্তফা কামাল) হংকংয়ে যে সভাটি হয়েছে সেখানে এ নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। সিদ্ধান্তটি হচ্ছে, র‌্যাঙ্কিংয়ের ৮ নম্বর দল সরাসরি বিশ্বকাপ খেলবে। আর দুটি দলকে বাছাইপর্ব খেলে বিশ্বকাপে অংশ নিতে হবে। কিন্তু এ বাছাইপর্বের ধরন কী হবে, কিভাবে কোয়ালিফাইন করে বাকি দুটো দলকে বিশ্বকাপে নেয়া হবে তা নিয়েই কাজ চলছে।’ এ কথাগুলোর ফাঁকে সুজনকে জিজ্ঞেস করা হলো, পাপন যত সভায় অংশ নিয়েছেন; এর মধ্যে কী এ নিয়ে আলোচনা হয়নি? সুজন বললেন আসল কথা এবার, ‘বিভিন্ন সময় এটা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’ শুধু সুজনই নন, আরও একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আইসিসির সহসভাপতি হন মোস্তফা কামাল। ২০১২ সালের অক্টোবরেই বিসিবি সভাপতির পদ ছেড়ে দেন। এর পর থেকেই বিসিবির অস্থায়ী সভাপতি ছিলেন নাজমুল হাসান পাপন। ২০১৩ সালের অক্টোবরে প্রথম নির্বাচিত সভাপতি হন পাপন। এ দুই বছর কম করে হলেও চারটি সভায় অংশ নিয়েছেন। সুজনই জানালেন, ‘এক বছরে চার সভা হয়।’ এ সভাগুলোর মধ্যে কখনও হয়তবা ২০১৯ সালের বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব নিয়ে কথা উঠেছে। কিন্তু কবে ঠিক হয়েছে তা জানাতে পারলেন না সুজন।
এর আগে টি২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে বাছাইপর্বে খেলতে হবে। তা জেনেও দেশবাসীকে জানানোর প্রয়োজনবোধ করেননি বিসিবির সভাপতি। তাঁর সঙ্গে প্রতিটি আইসিসির সিইও সভাতে থাকা সুজনও জানাননি। এমনকি বিসিবির পরিচালকদেরও এ বিষয়ে জানাননি। সেই কাজটি এবারও হতে চলেছিল। কিন্তু আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এ বিষয়টি নিয়ে মাতামাতি শুরু করে দেয়। আর তখনই সবার জানা হয়ে যায়। এ নিয়ে দেশে তুমুল সমালোচনাও চলে।
বিসিবি সভাপতি ও সিইওর কূটনৈতিক ব্যর্থতা প্রবল বলেই সবার আলোচনার টেবিলে থাকে। শুধু ক্রিকেটারদের খেলা বৃদ্ধি, দেশে বড় বড় টুর্নামেন্ট আয়োজন করে নাম কামানই যে বড় বিষয় নয়, এ আলোচনাও উঠে আসে। ক্রিকেটারদের যদি বার বার বাছাইপর্ব খেলতে হয়, একটা সময় দল সহযোগী দলগুলোর বিপক্ষে খারাপ খেললে টেস্ট স্ট্যাটাস নিয়েই কথা উঠে যাবে। ক্রিকেট বিশ্বের বড় দলগুলো ছোট্ট দলগুলো এমনিতেই কোণঠাসা করে রাখতে চাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক ব্যর্থতা ক্রিকেটকেই ধ্বংস করে দিতে পারে। টি২০ বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে দল হংকংয়ের বিপক্ষে হেরেছে। যদি ২০১৯ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত বাছাইপর্বে খেলে এবং সহযোগী দেশের কাছে হেরে যায়, তখন কী অবস্থা দাঁড়াবে। হায় হায় রব উঠবে। দেশের ক্রিকেটের অস্তিত্ব নিয়েই টানা হেঁচড়া শুরু হবে। বড় দলগুলো তখন বাংলাদেশের টেস্ট স্ট্যাটাসই বাদের তালিকায় রাখা উচিত বলে উচ্চৈঃস্বরে কথা বলতে থাকবে। টেস্ট চ্যালেঞ্জ নামে যে খেলাটি হবে, সেটি খেলে যদি কোনভাবে বাংলাদেশের দুর্বল নৈপুণ্য ধরা পড়ে, তাহলে টেস্ট স্ট্যাটাস নিয়েই টানাটানি শুরু হবে। এর পর ওয়ানডে স্ট্যাটাস নিয়ে যা হবে তা কী আর বলার অপেক্ষা রাখে।
বিসিবির এক পরিচালকই এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, ‘সব জানে সিইও সুজন। ২০১১ সালের জুনে নাকি এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। তখন ধরে নিলাম তিনি ছিলেন না। মঞ্জুর (আহমেদ) ভাই ছিলেন। কিন্তু পরেত সুজন দায়িত্ব নিয়েছেন। এ বিষয়ে নিশ্চয়ই ফাইলেও অনেক কিছু আছে। তাহলে এতদিন পরও কেন বিষয়টি নিয়ে খোলাসা করা হয়নি। টি২০ বিশ্বকাপ নিয়েও একই অবস্থা হয়েছে। অনেক পরে জানতে পেরেছি। এগুলো ঠিক নয়। এখানে দেশের ক্রিকেটকে যে করেই হোক বাঁচানোর জন্যই আমরা দায়িত্ব নিয়েছি। যে করে হোক আরও উন্নতির জন্যই দায়িত্ব নিয়েছি। কিন্তু কূটনৈতিকভাবে এভাবে ব্যর্থ হতে থাকলে, ক্রিকেট এগিয়ে যাবে কিভাবে। বড় দলগুলো এমনিতেই ছোট্ট দলগুলোকে বাইরে রেখে কিছু করার ফন্দি করছে। সেখানে এমন কূটনৈতিক ব্যর্থতা দেশের ক্রিকেটকেই পিছিয়ে দেবে। এখনই উচ্চৈঃস্বরে কথা বলতে হবে।’
হ্যাটট্রিক শিরোপার লক্ষ্যে শারাপোভা
জার্মানির পোরশে ওপেনে কষ্টার্জিত জয় পেয়েছেন রুশ তারকা
স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ জার্মানির পোরশে ওপেনে কষ্টার্জিত জয় পেয়েছেন মারিয়া শারাপোভা। মঙ্গলবার রাশিয়ান এই গ্ল্যামারগার্ল টুর্নামেন্টের প্রথম পর্বে ৭-৬(৫), ৬-৭(৫) এবং ৭-৬(২) গেমে হারিয়েছেন চেক তারকা লুসি সাফারোভাকে। পোরশে ওপেনের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন মারিয়া শারাপোভা। এবার জিতলে টানা হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের রেকর্ড গড়বেন তিনি।
গত ১৯ এপ্রিল ২৭ বছরে পা দিয়েছেন মারিয়া শারাপোভা। এবারের জন্মদিনটা জার্মানিতেই পালন করেছেন তিনি। দেশের বাইরে হলেও বেশ জাঁকজমকপূর্ণভাবেই নিজের জন্মদিন পালন করেছেন টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের সাবেক নাম্বার ওয়ান এই তারকা। আর ২৭তম জন্মদিনের ঠিক তিনদিন পরই কোর্টে নামেন মাশা। স্টুটগার্টেও শুরুটা বেশভাবেই করেন তিনি। প্রথম সেটেই দারুণ জয়ে এগিয়ে যান তিনি। কিন্তু দ্বিতীয় সেটেই ঘুরে দাঁড়ান চেক টেনিস তারকা লুসি সাফারোভা। এর ফলে ম্যাচের ফলাফল নির্ধারিত হয় তিন নাম্বার সেটে। আর প্রথম দুটির মতো তৃতীয় সেটটিও জমে যায় দুই টেনিস তারকার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত লুসি সাফারোভা নয়, মারিয়া শারাপোভাই হাসেন জয়ের হাসি। তবে চেক টেনিস তারকা লুসি সাফারোভার বিপক্ষে জয়ের জন্য টুর্নামেন্টের ষষ্ঠ বাছাই মারিয়া শারাপোভার বেশ ঘাম ঝড়াতে হয়েছে। লড়াই করতে হয়েছে ৩ ঘণ্টা ২৪ মিনিট।
২০০৪ সালে ক্যারিয়ারের প্রথম কোন গ্র্যান্ডসম জয়ের স্বাদ পান মারিয়া শারাপোভা। এর পর ২০১২ সালে ক্যারিয়ার গ্র্যান্ডসøাম পূর্ণ করেন তিনি। কিন্তু এর পর থেকেই নিষ্প্রভ এই রাশিয়ান টেনিস কন্যা। গত দুটি মৌসুম একেবারেই বাজেভাবে কেটেছে তাঁর। কারণ গ্র্যান্ডসøাম তো দূরে থাক বড় কোন টুর্নামেন্টেই নিজেকে আর তেমনভাবে মেলে ধরতে পারেননি শারাপোভা। এর পেছনে কারণ হিসেবে চোটকেই দায়ী করতে পারেন তিনি।
গত দুই মৌসুমের ধারাবাহিক ব্যর্থতার সৌজন্যে চলতি মৌসুমেও নিজেকে চেনা রূপে খোঁজে পাচ্ছেন না মারিয়া শারাপোভা। মৌসুমের প্রথম গ্র্যান্ডসøাম অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের চতুর্থ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছেন তিনি। তবে কোর্টে ফেরার জন্য সব ধরনের চেষ্টায় করে যাচ্ছেন ২৭ বছর বয়সী মারিয়া শারাপোভা। আগামী মাসেই শুরু হবে মৌসুমের দ্বিতীয় গ্র্যান্ডসøাম টুর্নামেন্ট ফ্রেঞ্চ ওপেন। বিশেষ করে ফ্রেঞ্চ ওপেনের আগেই নিজেকে পুরোপুরি প্রস্তুত করতে চান মাশা। সে জন্যই জার্মানির স্টুটগার্টে পোরশে গ্রা ফিতে নিজের সেরাটা দিতে মরিয়া এই রুশ কন্যা। এই ইভেন্টে টানা দুইবার শিরোপা জয়ের স্বাদ পেয়েছেন শারাপোভা। সেইসঙ্গে ক্লে কোর্টে ১০০তম ম্যাচ জয়ের রেকর্ডও করলেন তিনি। এবার জিতলেই হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের কীর্তি গড়বেন তিনি। আর সেই কীর্তি গড়ার পথে প্রথম ম্যাচেই জয় পাওয়ায় দারুণ তৃপ্ত মারিয়া শারাপোভা। তবে প্রতিপক্ষ লুসি সাফারোভারও ভূয়সী প্রশংসা করেছেন টেনিস র‌্যাঙ্কিংয়ের অষ্টম তারকা মারিয়া শারাপোভা।
এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় লুসি (সাফারোভা) একজন ব্যতিক্রমধর্মী খেলোয়াড়। সে আমাকে কোর্টে অনেক চ্যালেঞ্জর সামনেই দাঁড় করিয়েছে। শুধু এই ইভেন্টেই নয় বরং এমনটা আরও আগেও হয়েছে। এ জন্য আগে থেকেই জানা ছিল যে লুসি সাফারোভার বিপক্ষে ম্যাচটা সহজ হবে না। আমি এর চেয়ে ভালভাবে ফিরতে পারতাম না। আমি মনে করি এটাই অসাধারণ একটি সার্ভিং ম্যাচ। আমার বিপক্ষে বারবারই সে লাইন খোঁজে পাচ্ছিল। যে কারণে তাঁর বিপক্ষে ব্রেক করাটাই ছিল কঠিন। তবে সত্যি বলতে আমি খুব খুশি। কারণ শেষ পর্যন্ত আমিই ম্যাচ জিতেছি।’
টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় পর্বে মারিয়া শারাপোভার প্রতিপক্ষ স্বদেশী এ্যানাস্তাসিয়া পাভলেউচেঙ্কোভা। পাভলেউচোঙ্কোভা ৬-৩, ৬-২ গেমে সহজেই হারিয়েছেন লাটভিয়ার কোয়ালিফায়ার দিয়ানা মারচিনকেভিচা।
মোদি রুখবে এনজিওরা
‘সাম্প্রদায়িক শক্তির দেশ দখলের সম্ভাবনা ঠেকাতে ভারতের ১০০ নির্বাচনী এলাকায় তৎপর সমাজসেবী দল
ভারতের লোকসভা নির্বাচনে হিন্দুত্ববাদী বিজেপি নেতা নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে শামিল হয়েছে বহুসংখ্যক এনজিও ও সুশীল সমাজ। ২০১৪-এর নির্বাচন ক্রমশ সাম্প্রদায়িকতা বনাম ধর্মনিরপেক্ষতা বিতর্ক রূপে ক্রমশ চিহ্নিত হচ্ছে। এ অবস্থায় সমাজসেবক ও এনজিও কর্মীরা নির্বাচনী লড়াইয়ে যোগ দিয়েছেন। তারা মোদিকে রুখতে একযোগে কাজ করছেন এমনকি যদিও এর অর্থ দাঁড়ায় রাজনৈতিক দলগুলো ও ‘কম ক্ষতিকর’ সংগঠনগুলোর সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করা। খবর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অনলাইনের।
সালমান রুশদী, জয়তী ঘোষ, চেতন ভাট, কুমকুম সাঙ্গারি, হোমি কে ভব, দীপা মেহেতার মত প্রখ্যাত বুদ্ধিজীবী ও শিল্পী মোদির প্রধানমন্ত্রী হওয়া ভারতের ভবিষ্যতের জন্য অশুভ সঙ্কেত হবে বলে মন্তব্য করে বিশ্বের পত্রপত্রিকায় খোলা চিঠি পাঠান। এ সময়েই বিরাটসংখ্যক এনজিও কর্মী মোদি ও ‘সাম্প্রদায়িক শক্তির দেশ দখলের’ সম্ভাবনাকে রুখতে তৃণমূল পর্যায়ে সমবেত হচ্ছেন।
জনবাদী বিচার আন্দোলন, ভারতের (জেএভিএবি) উদ্যোগে এনজিও, সমাজকর্মী ও সুশীল সমাজগুলোবারানসী ও লক্ষীসহ প্রায় ১০০টি নির্বাচনী এলাকাতে ছড়িয়ে পড়েছেন। তারা ধর্মনিরপেক্ষতা ও গণতন্ত্র ‘রক্ষা’ করার কাজে সহায়তা করতে ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছেন। গুজরাটের খবর যা মিডিয়া আপনাদের কাছে নিয়ে আসেনি’ শীর্ষক গুজরাট সম্পর্কিত ‘তথ্যপঞ্জী’ নিয়ে তারা সমাবেশ করছেন, পথসভার আয়োজন করছেন, ঘরে ঘরে প্রচার চালাচ্ছেন এবং ই-মেইলে মানুষজনের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।
আরেক শ্রেণীর এনজিও মোদি ও অরবিন্দ কেজরিওয়ালের মধ্যকার বড় নির্বাচনী লড়াই ক্ষেত্র বারানসী এসে পৌঁছেছে। এদের মধ্যে ২৩টি সেখানে এক সঙ্গে এসে পৌঁছানোর কারণ হিসেবে ‘সহকর্মী’ কেজরিওয়ালের নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় যোগ দেয়ার ‘বিশেষ পরিস্থিতির’ কথা উল্লেখ করে। তারা আম আদমি পার্টিকে সমর্থন করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে। এসব এনজিওর মধ্যে রয়েছে বিদ্যা আশ্রম, সাজহা সংস্কৃতি মঞ্চ, সর্বোদা আন্দোলন, লোকবিদ্যা জন আন্দোলন, পিপলস ভিজিল্যান্স কমিটি ফর হিউম্যান রাইটস, ভারতীয় কিষান ইউনিয়ন, গান্ধিয়ান ইনস্টিটিউট অব স্টাডিজ এবং অল ইন্ডিয়া পিপলস সলিডারিটি অর্গেনাইজেশন।
সর্বোদা আন্দোলনের অমরনাথ বাই বলেন, যদিও জন লোকপাল ইস্যুতে কেজরিওয়ালের অবস্থান নিয়ে তার কিছুটা ভিন্নমত রয়েছে, কিন্তু এএপি নেতা কম ‘ক্ষতিকারক’ এবং তিনি এক নতুন চিন্তাধারার প্রতিনিধিত্ব করেন। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) কর্মীদের বিতর্কিত মন্তব্যাদিকে এসব এনজিওরা তাদের বক্তব্যের সারবত্তা তুলে ধরতে কাজে লাগাচ্ছেন। ভিএইচপি নেতা প্রবীণ তোগারিয়া সর্বশেষ এরূপ মন্তব্য করেন। জেএভিএবির বিতরণ করা এক লিফলেটে বলা হয়, যারা বিভেদমূলক সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করছেন তাদের প্রতিহত করা প্রয়োজন। ২০১৪ সালে এদিকে রয়েছেন, ব্যবসায়ীরা এবং অপরদিকে রয়েছে গণতান্ত্রিক শক্তিগুলো। গণতন্ত্র আজ বিপন্ন।
এতে বলা হয়, জাতীয় পর্যায়ে এবং দেশের অন্যান্য অংশে যারা ফ্যাসিবাদী শক্তিকে দৃঢ়ভাবে প্রতিহত করতে পারবেন, তাদের পাশে দাঁড়ানো ছাড়া আমাদের আর কোন উপায় নেই। আমরা দুর্বল নই। আমরা দেশ জুড়ে ছড়িয়ে আছি। আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধ হই এবং কেবল একটি এজেন্ডা নিয়ে এগিয়ে যাই, আর তা হলো আমাদের গণতন্ত্র ও ভারতীয় সংবিধানকে রক্ষা করা। জেএডিএবি কর্ণাটক ও অসমের কয়েকটি আসন ছাড়া উত্তর প্রদেশের ২৫টি নির্বাচনী এলাকা, পশ্চিমবঙ্গের ১৮টি এলাকা, বিহারের ১৮টি এলাকা এবং মহারাষ্ট্রের প্রায় ৮টি এলাকার দিকে মনোনিবেশ করেছে।
এসব এলাকার অধিকাংশে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সংখ্যালঘু রয়েছে। বারানসীর এনজিওগুলোর মতো তারা ‘মোদি উন্মাদনা’ ঠেকাতে অন্যান্য দলের পক্ষে ভোট চাইতেই অনিচ্ছুক নয়। সমাজকর্মী শবনম হাশেমি বলেন, কাজেই আমরা বিহারে আমরা আরজেডি বা কংগ্রেসকে সমর্থন জানানোর লক্ষ্যে কাজ করতে পারি। উত্তর প্রদেশের মোজাফফরনগরে যাই ঘটে থাকুক না কেন সেই রাজ্যে বিএসপি বা এমনকি সমাজবাদী পার্টির পক্ষেও কাজ করতে পারি।
ইউক্রেনে রুশপন্থীদের বিরুদ্ধে ফের সামরিক অভিযান শুরু
জো বাইডেনের সফর শেষে ঘোষণা দিল কিয়েভ
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইউক্রেন ত্যাগের কয়েকঘণ্টা পর দেশটির কর্তৃপক্ষ মস্কোপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করেছে। ইউক্রেন সঙ্কট শুরু এবং স্বশাসিত উপদ্বীপ ক্রিমিয়াকে রাশিয়ার সঙ্গে সংযুক্তির পর বাইডেন ছিলেন ইউক্রেন সফরকারী শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তা। দু’দিনের এ সফরে বাইডেন রাশিয়ার প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণের পাশাপাশি ইউক্রেনকে আর্থিক ও সামরিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। খবর এএফপি, বিবিসি, ওয়াশিংটন পোস্ট ও টাইমস অব ইন্ডিয়া অনলাইনের।
ইউক্রেনের অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ওলেস্কান্দর তুর্চিনভ মঙ্গলবার রাতে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে ফের সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন। এর আগে দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় স্লোভিয়ানস্ক শহরে এক রাজনীতিবিদসহ দুই ব্যক্তির মৃতদেহ পাওয়া যায়। মৃতদেহগুলোতে নির্যাতনের চিহ্ন ছিল বলে জানানো হয়েছে। তুর্চিনভ বলেছেন রাশিয়ার সর্মথনপুষ্ট সন্ত্রাসীরা পুরো দোনেৎস্ক শহর জিম্মি করে রেখেছে। দোনেৎস্ক ও স্লোভিয়ানস্কসহ ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় অনেক শহরের সরকারী ভবনগুলো এখনও রুশপন্থী সশস্ত্র ব্যক্তিদের দখলে। বাইডেন ইউক্রেন সফরে থাকা অবস্থায়ই অভিযানের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছিল। এর আগে গত সপ্তাহে সেখানে একই উদ্দেশে অভিযান চালানো হলেও সেটি সফল হয়নি। পর্যবেক্ষকদের মতে, কিয়েভের এবারের অভিযান যে সফলভাবে হবে অবস্থাদৃষ্টে তা মনে হয় না। রুশপন্থী জঙ্গীরা তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা সরকারী ভবনগুলো ছেড়ে দেয়ার কোন লক্ষণ এখনও পর্যন্ত দেখায়নি। ইস্টার সানডে উপলক্ষে সেই অভিযান স্থগিত রাখা হয়েছিল। তুর্চিনভ বলেছেন, যে দুইজনকে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে তার মধ্যে একজন তার দলের রাজনীতিবিদ ছিলেন। অপর জনের পরিচয় জানা যায়নি। ইউক্রেনের অভিযোগ, রাশিয়ার পুরো সমর্থন এবং সম্পৃক্ততার ভিত্তিতে এ সমস্ত অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট বাইডেন কিয়েভে ইউক্রেনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর রাশিয়াকে বাগাড়ম্বর বন্ধ করে ইউক্রেন সঙ্কট সমাধানে কাজ করার আহ্বান জানান। এ সফরে বাইডেন ইউক্রেনকে ৫ কোটি মার্কিন ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন। এর মধ্যে ১ কোটি ১৪ লাখ ডলার নির্বাচন আয়োজনের ব্যয় ধরা হয়েছে। আগামী ২৫ মে ইউক্রেনে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেনের ভবিষ্যত নির্ধারণের জন্য এই নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া রাশিয়ার ওপর জ্¦ালানি নির্ভরতা কমাতে আর্থিক সহায়তার একটি বড় অংশ ব্যয় করা হবে। দেশের পূর্বাঞ্চলে রুশপন্থী জঙ্গীদের সঙ্গে লড়াইরত ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনী ও সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে ইতোপূর্বে ঘোষিত ১ কোটি ডলারের প্যাকেজ সহায়তার পরিমাণ আরও ৮০ লাখ ডলার বাড়িয়ে দিয়েছেন বাইডেন। এছাড়া রাশিয়ার হুমকি মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপের মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সামরিক মহড়া আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে। এ উপলক্ষে পোল্যান্ডসহ তিনটি বাল্টিক রাষ্ট্রে ৬শ’ সৈন্য পাঠানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাইডেন।
নারী উদ্যোক্তাদের ব্যবসাবান্ধব বাজেট দাবি
অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ ২০১৪-২০১৫ বাজেটে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সহায়ক ব্যবসাবান্ধব বাজেট প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন নারী উদ্যোক্তারা। সিঙ্গেল ডিজিটে/এক অঙ্কের সুদের হারে ব্যাংক ঋণের নিশ্চয়তা, নারীদের জন্য বিশেষ শিল্পপার্ক, পণ্যের বাজারজাতকরণের বিশেষ কেন্দ্রীভূত বাজার প্রতিষ্ঠা ও নতুন উদ্যোক্তাদের ট্যাক্স-ভ্যাটের মওকুফের এবং বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থা, আরও নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টির জন্য বিভাগীয় জেন্ডার বাজেট প্রদান, উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা এবং আগামী বাজেটে ৩০০ কোট টাকা বরাদ্দের দাবি জানান নারী উদ্যোক্তারা। আসন্ন বাজেট নিয়ে নারী উদ্যোক্তাদের ভাবনা ও প্রত্যাশা নিয়ে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)-এর উদ্যোগে বুধবার এফবিসিসিআই সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ‘আসন্ন জাতীয় বাজেট ২০১৪-২০১৫ : নারী উদ্যোক্তাদের প্রত্যাশা’- শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এ দাবি জানান নারী উদ্যোক্তারা। বৈঠকে এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহ্মদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এফবিসিসিআইয়ের প্রথম সহসভাপতি মনোয়ারা হাকিম আলী উক্ত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।
অন্যদের মধ্যে এনবিআরের সদস্য (শুল্কনীতি) মোঃ ফরিদ উদ্দিন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোঃ খলিলুর রহমান, এফবিসিসিআইয়ের সহসভাপতি মোঃ হেলাল উদ্দিন, এসএমই ফাউন্ডেশনের জেনারেল ম্যানেজার শাহীন আনোয়ার। এনবিআরের সদস্য (শুল্কনীতি) ফরিদ উদ্দিন বলেন, নারী উদ্যোক্তাদের ব্যবসার ক্ষেত্রে ট্যাক্স, শুল্ক ও ভ্যাট সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা এনবিআর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করবে। তিনি এ সংক্রান্ত প্রস্তাবনা এনবিআরে প্রদানের জন্য আহ্বান জানান। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী নারী নির্যাতন বন্ধে এবং নারী উদ্যোক্তাদের উন্নয়নের জন্য নারীদের আরও বেশি সচেতন ও সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি দেশের নারী ও নারী উদ্যোক্তাদের নিয়ে একটি ন্যাশনাল ডোবেজ তৈরির সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। এটি হলে নারীর ক্ষমতায়ন ও সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নে সহজতর হবে বলে তিনি মনে করেন।
এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহ্মদ বলেন, দেশের জাতীয় অর্থনীতিতে নারীদের অবদান ও নারীর ক্ষমতায়ন বৃদ্ধির জন্য বর্তমান সরকারের গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন। নতুন নতুন নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টির জন্য এফবিসিসিআই কাজ করে যাচ্ছে। নারীদের অধিকার অর্জনের তিনি তাদের সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। ব্যাংক সুদের হার কমানোর ক্ষেত্রে এফবিসিসিআই সর্বাত্মক কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি জানান। স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক সহজ-শর্তে নারীদের জন্য ১০ লাখ টাকা করে উদ্যোক্তা ও প্রকল্প ঋণ প্রদান করবে বলে তিনি ঘোষণা দেন।
এফবিসিসিআইয়ের প্রথম সহসভাপতি মনোয়ারা হাকিম আলী বলেন, নারী উদ্যোক্তাদের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে সরকারকে একটি গবেষণা প্রতিবেদন তৈরির আহ্বান জানান। জাতীয় অর্থনীতিতে নারীদের অবদান বৃদ্ধিকল্পে নারী উদ্যোক্তাদের বিদ্যমান সমস্যাসমূহ দূর করার জন্য এফবিসিসিআইয়ের বিভিন্ন ভূমিকা কথা তুলে ধরেন। তিনি আগামী বাজেটে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা প্রদানের জন্য আহ্বান জানান। ভারতের ন্যায় একটি বায়ো-টেকনলজির নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানান নারী উদ্যোক্তা ফেরদৌসী বেগম।
বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্সের সাবেক পরিচালক প্রীতি চক্রবর্তী বলেন, নারীরা এখন ম্যাক্রো থেকে মাইক্রো-ইকোনমিতে কাজ করছে। সিঙ্গেল ডিজিটে ব্যাংক ঋণের দাবি জানান তিনি। বাংলাদেশ ওমেন চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক নাসরীন চৌধুরী বলেন, সরকারের বরাদ্দকৃত ১০ কোটি টাকা বাংলাদেশ ওমেন চেম্বার ৬৫টি জেলার নারী উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণের জন্য ব্যয় করা হবে এবং তিনি নারীদের উন্নয়নের জন্য সরকারকে আরও বেশি অর্থ বরাদ্দ করার আহ্বান জানান। এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, ব্যবসা ও শিল্পায়নের জন্য অবশ্যই ব্যাংক সুদের হার কমাতে হবে। নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সরকারকে একটি বিশেষ ফান্ড তৈরি করে তা থেকে সহজ শর্তে ও স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা করার জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
পুঁজিবাজারে স্বস্তির নিশ্বাস লেনদেন ছাড়াল ৫শ’ কোটি টাকা
অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ দেশের পুঁজিবাজারে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফিরতে শুরু করেছে। কাক্সিক্ষত লেনদেনের সঙ্গে সূচকের বৃদ্ধির কারণে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণও বাড়ছে। টি প্লাস টু নতুন সেটেলমেন্ট সাইকেল চালুর পরে বুধবারে প্রথমবারের মতো ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ৫শ’ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। গ্রামীণফোনের মতো বহুজাতিক কোম্পানি এবং জ্বালানি ও শক্তি খাতের কোম্পানির দরবৃদ্ধির দিনে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক বেড়েছে মোট ৩৪ পয়েন্ট। একইভাবে অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও সব ধরনের সূচক বেড়েছে। সেখানেও লেনদেনের গতি ভাল ছিল।
দেখা গেছে, বুধবারে ডিএসইতে ৫৪৭ কোটি টাকা শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে। যা আগের দিনের চেয়ে ১৫৬ কোটি টাকা বেশি। মঙ্গলবারে সেখানে মোট ৩৯১ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছিল। ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেয়া কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ১৪৮টির দর বেড়েছে, কমেছে ১২২টির এবং ২৬টির দাম অপরিবর্তিত ছিল।
বুধবারে ডিএসইতে আগের ধারাবাহিকতায় সূচকের বৃদ্ধি দিয়ে লেনদেন শুরু হয়। আগের দিনের মতো ব্যাংকগুলোর শুরুতে দর কমলেও দিনশেষে আবার তা বেড়েছে। গ্রামীণফোনের মতো বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর দর বাড়ার সঙ্গে অন্যান্য বড় কোম্পানিরও দর বেড়েছে। এর বিপরীতে ছোট কিছু কোম্পানি দর হারিয়েছে। বুধবারে ডিএসইর সার্বিক সূচকটি আগের দিনের চেয়ে ৩৪ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৬৯৪ পয়েন্ট। একইভাবে সেখানে বাছাই তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর দর বেশি বাড়ার কারণে বাছাই সূচকটি বেশি বেড়েছে। ডিএসই-৩০ সূচকটি ২১ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৭শ’ ২৫ পয়েন্ট।
আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টের বাজার পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, গত কয়েকদিনে কিছুটা দর সংশোধনের পরে বুধবারে আবারও বড় মূলধনের কোম্পানিগুলোর আধিপত্য দেখা গেছে। দিনটিতে বড় কোম্পানিগুলোর মোট ২ দশমিক ২৮ শতাংশ দর বেড়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণফোনের ওয়াইম্যাক্স সার্ভিস চালুর সংবাদটি বিনিয়োগকারীদের উদ্বীপ্ত করেছে। যার কারণে কোম্পানিটির মোট ৫ দশমিক ৪১ শতাংশ দর বেড়েছে। একইভাবে গ্লাক্সো মিথক্লাইন ও নোভারটিসের এক সঙ্গে যৌথ প্রজেক্ট চালুর খবরেও গ্লাক্সো মিথক্লাইনের মোট ৬ দশমিক ২৪ শতাংশ দর বেড়েছে। ফলে পুরো ওষুধ খাতেরই মোট ১ দশমিক ৯৯ শতাংশ দর বেড়েছে।
ডিএসইতে খাতওয়ারি লেনদেনের শীর্ষে ছিল জ্বালানি ও শক্তি খাতটি। সারাদিনে খাতটির মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ৯৩ কোটি টাকা, যা মোট লেনদেনের ১৭ দশমিক ২১ ভাগ। এর পর রয়েছে ব্যাংক খাতের লেনদেন। খাতটির মোট লেনদেন হয়েছে ৭৭ কোটি টাকা, যা মোট লেনদেনের ১৪ দশমিক ১৩ ভাগ। টেলিযোগাযোগ খাতের মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫৯ কোটি টাকা, যা মোট লেনদেনের প্রায় ১১ ভাগ। সিমেন্ট খাতের মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫৮ কোটি টাকা, যা মোট লেনদেনের ১০ দশমিক ৬৪ ভাগ।
ডিএসইতে লেনদেনের সেরা কোম্পানিগুলো হলো : গ্রামীণফোন, মেঘনা পেট্রোলিয়াম, অলিম্পিক, লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট, হিডেলবার্গ সিমেন্ট, পদ্মা অয়েল, স্কয়ার ফার্মা, সাউথইস্ট ব্যাংক, যমুনা অয়েল ও ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সব ধরনের সূচকই বেড়েছে। সেখানেও বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর দর বেড়েছে। দিনশেষে সিএসইর প্রধান সূচক আগের দিনের চেয়ে ৯৩ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়ায় ১৪ হাজার ৪৭৩ পয়েন্ট। সিএসইর বাছাই সূচক সিএসই-৩০ আগের চেয়ে মোট ৫৫ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়ায় ১২ হাজার ১৩৮ পয়েন্ট। সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেয়া ২১৬টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১০০টির, কমেছে ৯২টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২৪ কোম্পানির শেয়ার দর। সিএসইতে আগের দিনের চেয়ে মোট ৬ কোটি টাকা লেনদেন বেড়ে দাঁড়ায় ৩২ কোটি টাকায়। মঙ্গলবারে সেখানে মোট ২৬ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছিল।