মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই ২০১৪, ১৬ শ্রাবণ ১৪২১
আজ যেসব এলাকায় ঈদ-উল-ফিতর উদযাপিত হবে
জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ সৌদি আরব তথা মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের সঙ্গে মিল রেখে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঈদ উদযাপন করা হবে আজ সোমবার। যেসব অঞ্চলে আজ পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উদযাপন করা হবে সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো সাতক্ষীরা, মাদারীপুর, পটুয়াখালীর বাউফল, পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া, বরিশালের বাবুগঞ্জ ও দক্ষিণ চট্টগ্রাম জেলা। এর মধ্যে সাতক্ষীরার দুই গ্রামে, মাদারীপুরের ৪ উপজেলার ৫০ গ্রামে, বাউফলের ১০ গ্রামে, মঠবাড়িয়ার ৫ গ্রামে, বাবুগঞ্জের ৪ গ্রামে এবং দক্ষিণ চট্টগ্রামের ৬০ গ্রামের মানুষ ঈদ-উল-ফিতর উদযাপন করবে আজ। দেশের প্রায় ৫০ লাখেরও বেশি মানুষ আজ ঈদ পালন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। খবর স্টাফ রিপোর্টার ও নিজস্ব সংবাদদাতাদের।
দক্ষিণ চট্টগ্রাম ॥ দক্ষিণ চট্টগ্রামে ৬০টি গ্রামে ঈদ-উল-ফিতর উদযাপিত হবে আজ সোমবার। ৩০ রমজান শেষে চন্দনাইশ জাহাঁগিরিয়া শাহ্ সুফি মমতাজিয়া দরবার শরীফ ও মির্জাখিল দরবার শরীফের অনুসারীরা ঈদ-উল-ফিতরের নামাজ আদায়ের মাধ্যমে আজ ঈদ উৎসব পালন করবেন। বিশ্বের যে কোন জায়গায় চাঁদ দেখ গেলে এ দরবারের অনুসারীরা ঈদ-উল-ফিতর ও ঈদ-উল-আজহাসহ সকল ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করে থাকেন।
ঈদ-উল-ফিতরের নামাজ চন্দনাইশের জাহাঁগিরিয়া শাহ্ সুফি মমতাজিয়া দরবার শরীফের সাজ্জাদানশীন মাওলানা হযরত শাহ্ সুফি সৈয়্যদ মোহাম্মদ আলীর ইমামতিতে দরবার শরীফ ঈদগাহে সকাল ৯টায় ঈদ-উল-ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়াও মমতাজিয়া দরবার শরীফ ও মির্জাখিল দরবার শরীফের অনুসারীরা একই সময়ে চট্টগ্রামের পশ্চিম এলাহাবাদ, উত্তর কাঞ্চন নগর, জুনিগোনা, আব্বাসপাড়া, মাঝেরপাড়া, স্টেশন, দিঘিরপাড়, কুন্দুপাড়া, কেশুয়া, মোহাম্মদপুর, হারালা, সাতবাড়িয়া, উত্তর হাশিমপুর, সৈয়দাবাদ, খুনিয়ারপাড়া, বাঁশখালীর জলদী, গুনাগড়ি, কালিপুর, গ-ামারার মিরিঞ্জিরিতলা, সনুয়া, সাধনপুর, আনোয়ারার তৈলারদ্বীপ, বাথুয়া, বারখাইন, বোয়ালখালীর চরণদ্বীপ, খরণদ্বীপ, লোহাগড়ার বড়হাতিয়া, আমিরাবাদ, চুনতি, পুটিবিলা, উত্তর সুখছরি, আধুনগর, সাতকানিয়ার মির্জাখিল, বাংলাবাজার, মাইশামুড়া, খোয়াছপাড়া, বাজালিয়া, কাঞ্চনা, গাঠিয়াডাঙ্গা, পুরানগর, মালেয়াবাদ গ্রামসহ সীতাকু-, সন্দ্বীপ, মীরসরাই, হাটহাজারী, রাঙ্গুনিয়া, উখিয়া, বান্দরবান, আলী কদম, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ, কুতুবপুর, ফেনীসহ বিভিন্ন স্থানে ঈদ উদযাপিত হবে আজ।
দরবার শরীফ সূত্রে জানা যায়, এর বাইরে আজ সোমবার নারায়ণগঞ্জে একটি, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে তিনটি, বাবুগঞ্জে চারটি, হিজলায় দুটি, মেহেন্দিগঞ্জে দুটি, বন্দর থানা সাহেবের হাটে দুটি, বাকেরগঞ্জে একটি, ঝালকাঠিতে একটি, বাউফলে দশটি, গলাচিপায় একটি, রাঙ্গাবালীতে নয়টি, কলাপাড়ায় এগারটি ও বরগুনায় একটি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
সাতক্ষীরা ॥ আজ সোমবার সাতক্ষীরার দুটি গ্রামে ঈদ-উল-ফিতরের নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। সদর উপজেলার সাতানী ও ভাদড়া গ্রামে আহলে হাদিস অনুসারীরা সকাল ৯টায় ঈদের নামাজ আদায় করবেন। ঈদ উদ্যাপন আয়োজক কমিটির নেতৃবৃন্দ জানান, সৌদি আরবের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ঈদ উৎসব পালন করার ঘটনা সাতক্ষীরা জেলায় এই প্রথম।
মাদারীপুর ॥ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে হযরত সুরেশ্বরী (র)-এর অনুসারীরা মাদারীপুরের ৪ উপজেলার ৫০ গ্রামে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে সোমবার ঈদ-উল-ফিতর উদযাপন করছে। রবিবার সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের ৬৯টি দেশে চাঁদ দেখা যাওয়ায় সোমবার ওই সব দেশে ঈদ-উল-ফিতর উদযাপন করছে। সদর উপজেলার পাঁচখোলা, জাজিরা, মহিষেরচর, জাফরাবাদ, চরকালিকাপুর, তাল্লুক, বাহেরচরকাতলা, চরগোবিন্দপুর, আউলিয়াপুর, ছিলারচর, কুনিয়া, মস্তফাপুর, কালকিনির সাহেবরামপুর, আন্ডারচর, আলীনগর, বাঁশগাড়ী, খাসেরহাট, আউলিয়াপুর, রামারপোল, ছবিপুর, ছিলিমপুর, ক্রোকিরচর, সিডিখান, কয়ারিয়া, রমজানপুর, বাটামারা, রাজারচর, শিবচরের কেরানীবাট, পাচ্চর, স্বর্ণকারপট্টিসহ জেলার ৪ উপজেলার ৫০ গ্রামের ধর্মপ্রাণ মুসলমান বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে সোমবার ঈদ-উল-ফিতর উদযাপন করছেন। জেলার কয়েকটি স্থানে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হলেও প্রধান ও বড় জামাত অনুষ্ঠিত হয় সদর উপজেলার তাল্লুকে। সুরেশ্বর দায়রা শরীফের প্রতিষ্ঠাতা হযরত জান শরীফ শাহ্ সুরেশ্বরী (র)-এর অনুসারীরা ১৪৩ বছর পূর্ব থেকে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে রোজা রাখেন এবং ঈদ-উল-ফিতর ও ঈদ-উল-আযহা পালন করে আসছেন।
বাউফল ॥ ভারতের এলাহাবাদের পীর আলহাজ হযরত মাওলানা মমতাজ আলীর মতাদর্শী বাউফলের ১০ গ্রামের প্রায় ১০ হাজার পরিবারের সদস্য আজ সোমবার পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উদযাপন করছেন। সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে তারা ঈদ উদযাপন করছেন। ওই মতাদর্শের আলোকে বাউফলের নাজিরপুর ইউপির তাঁতেরকাঠী, মদনপুরা ইউপির চন্দ্রপাড়া, মদনপুরা ও দ্বিপাশা, বগা ইউপির সাবুপুরা, ধাউরাভাঙ্গা, উত্তর শাপলাখালী ও দক্ষিণ শাপলাখালী, কনকদিয়া ইউপির কনকদিয়া ও বিরপাশা গ্রামের প্রায় ১০ হাজার পরিবারের সদস্য ঈদ উদযাপন করছেন।
মঠবাড়িয়া ॥ মঠবাড়িয়া উপজেলার সাপলেজা ইউনিয়নের ৫টি গ্রামের সুরেশ্বর দরবারের প্রায় দেড় হাজার অনুসারী সোমবার পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উদযাপন করবেন। গ্রামগুলো হলো ভাইজোরা, কচুবাড়িয়া, খেতাছিড়া, সাপলেজা ও ঝাটিবুনিয়া। ভাইজোরা গ্রামের খন্দকার বাড়ি এবং কচুবাড়িয়া গ্রামের সোহরাফ মেম্বর বাড়ি দুটি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। ঈদের জামাতে সুরেশ্বর দরবারের অনুসারী প্রায় ৫০০ মানুষ অংশগ্রহণ করবেন। খেতাছিড়া গ্রামেও একটি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হতো। তবে গ্রামের সুরেশ্বর দরবারের অধিকাংশ পুরুষ দেশের বাইরে চলে যাওয়ায় এখন আর জামাত অনুষ্ঠিত হয় না।
সুরেশ্বর দরবারের অনুসারী ভাইজোড়া গ্রামের ইউপি সদস্য শিপন জানান, সুরেশ্বর দরবারের পীরের নির্দেশে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে প্রতিবছর তারা রোজা রাখা এবং ঈদ-উল-ফিতরের নামাজ আদায় করে থাকেন। এ বছরও তারা পীরের নির্দেশ অনুযায়ী সোমবার ঈদের নামাজ আদায় করবেন।
বাবুগঞ্জ ॥ বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার খানপুরায় জাহাঙ্গীর সিকদারের বাড়ি, ওলানকাঠী এলাকার সরোয়ার খলিফার বাড়ি, কেদারপুরের মান্নান হাওলাদারের বাড়ি ও মাধবপাশার আমীর দুয়ারী বাড়ির জামে মসজিদে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও আয়োজন করা হয়েছে ঈদ জামাতের। আজ সোমবার এ সব জায়গায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। খানপুরার জাহাঙ্গীর সিকদার ও মাধবপাশার আমির দুয়ারী জানান, সৌদি আরব কিংবা মধ্যপ্রাচ্যে কোথাও আজ সোমবার ঈদ উদযাপন হলে তারাও ঈদ উদযাপন করবেন। এ সব পরিবারের সদস্যরা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা রাখেন এবং ঈদ পালন করেন।
জোরালো প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত দুধ খেতে নেই মানা
ক্ষতিকর উপাদানের অস্তিত্ব নিয়ে ধোঁয়াশা
আজাদ সুলায়মান ॥ কমল প্রসাদ দাস বিএসটিআইর পরিচালক। পণ্যের মানের সনদ প্রদানই তাঁর কাজ। ক’দিন বাদে অবসরে যাবেন। বয়স ষাটের কাছাকাছি। তিনি নিরামিষভোজী। জীবনে মাছ মাংস খাননি কখনও। শুধু শাকসবজি আর দুধই তাঁর পুষ্টির প্রধান উপাদান। নাগরিক জীবনে তাকে প্যাকেটজাত পাস্তুরিত দুধই খেতে হচ্ছে। তা খেয়েই দিব্যি সুস্থ আছেন। জীবনে সামান্য সর্দিজ্বর ছাড়া আর কোন রোগবালাই তাঁকে পায়নি।
তিনিই জনকণ্ঠের কাছে পাল্টা প্রশ্ন রেখেছেন, যদি দুধে এলড্রিনই থাকত, তাহলে কি তার স্বাস্থ্যের জন্য সেটা চরম ক্ষতিকর হতো না? যেভাবে বলা হচ্ছে দুধে এলড্রিনের পরিমাণ পাওয়া গেছে, তাহলে দেশে তো মহামারি লেগে যেত। তবুও যেহেতু বিতর্কটা এসে গেছে, একটা দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানের গবেষণায় বাজারের কয়েকটি পাস্তুরিত দুধে এলড্রিনের অস্তিত্ব মিলেছে সেটা আমলে নিতে হবে। দেখতে হবে এলড্রিনের মাত্রা কতটুকু পাওয়া গেছে, কতটুকু সহনীয়, ভোজনীয় ও গ্রহণীয়। যদি বড় ধরনের ক্ষতিকর এলড্রিনের উপস্থিতি থাকত তাহলে তো দেশে মহামারি লেগে যেত। কাজেই দুধ খেতে নেই কোন মানা।
মহাখালীর জনস্বাস্থ্য বিভাগের একটি গবেষণায় দেশের শীর্ষ ছয়টি কোম্পানির তরল পাস্তুরিত দুধের মধ্যে পাঁচটিতেই এলড্রিন পাওয়ার খবর প্রকাশ করা হয়েছে। ঈদ সামনে রেখে হঠাৎ এ ধরনের সংবাদে দেখা দিয়েছে দুধ আতঙ্ক। এসব কোম্পানির দুধ কি সত্যিই জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ, নাকি বিশেষ উদ্দেশে আতঙ্ক ছড়ানো হচ্ছে সে বিষয়ে জনকণ্ঠও অনুসন্ধান চালায়। এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য বিভাগ, বিএসটিআই ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেল ভিন্ন চিত্র। এসব বিভাগের বিশেষজ্ঞগণও কোন সদুপদেশ দিতে পারেননি, ঈদের সময় প্যাকেটজাত দুধ খাওয়া যাবে কি যাবে না। এতে দেখা দিয়েছে ধোঁয়াশা। বিষয়টি কেউই সুস্পষ্ট করতে পারেননি। তবে পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান বিএসটিআই বলছে, পরীক্ষিত ও জোরালো প্রমাণাদি না পাওয়া পর্যন্ত দুধ খেতে নেই মানা।
বিএসটিআইর পরিচালক কমল প্রসাদ দাস জনকণ্ঠকে রবিবার বেশ দৃঢ়তার সঙ্গেই জানান, এলড্রিনের খবর পাওয়ার পরও তিনি বাজার থেকে মিল্কভিটা, আড়ং, প্রাণসহ অন্যান্য ব্র্যান্ডের দুধ কিনছেন। নিজেও খাচ্ছেন, পরিবারের অন্যদেরও খাওয়াচ্ছেন। খাওয়া বন্ধ রাখা হয়নি।
তিনি জানান, তার প্রতিষ্ঠান বিএসটিআই সর্বশেষ গত মে মাসেও বাজারে থাকা শীর্ষ ছয়টি কোম্পানি মিল্কভিটা, আড়ং, প্রাণ, ডেইরি ফ্রেশ ও আকিজ কোম্পানির দুধ সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করেছে। দুধের মান নিয়ন্ত্রণের যে পদ্ধতি, সেটা অনুসরণ করেই পরীক্ষা করা হয়েছে। তাতে দেখা গেছে, এসব দুধ মানউত্তীর্ণ। কোন ভেজাল মিলেনি। যে সব উপাদান থাকার, সবই আছে। তবে এলড্রিন আছে কিনা সেটা এ পদ্বতির পরীক্ষায় ধরা পড়ে না। এখানকার ‘স্ট্যান্ডার্ড মেথড’এ এলড্রিন পরীক্ষা করা হয় না। জনস্বাস্থ্যের নিজস্ব গবেষণায় এলড্রিন পাওয়ার খবর প্রথমবারের মতো একটি কাগজে ফাঁস করা হলো। ওই রিপোর্ট পড়েই তিনি প্রথম জানতে পারেন এলড্রিন সম্পর্কে।
কমল প্রসাদ দাস জানান, এ ধরনের তথ্য পাওয়ার পর পরই বিএসটিআই তাৎক্ষণিক জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাছে এ বিষয়ে জানতে চায়। ঈদের ছুটিতে এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য বিভাগ থেকে কোন ধরনের কাক্সিক্ষত তথ্য মিলেনি। ছুটি শেষে প্রকৃত তথ্য নিয়ে পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে।
এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক সুবিমল সিংহ চৌধুরী রবিবার জনকণ্ঠকে জানান, বাজার থেকে নেয়া ছয়টি ব্র্যান্ডের পাস্তুরিত দুধের মধ্যে পাঁচটিতেই এলড্রিন পাওয়া গেছে। এলড্রিন একটা ক্ষতিকর বিষ। পৃথিবীর অনেক দেশেই এটা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এটা কীটনাশক। কৃষিপণ্যে ব্যবহার করা হয়। গাভী যদি সে সব কৃষিপণ্য যেমন ঘাস, খড়কুটা বা অন্য কোন লতাপাতা খায়, তখন ওই গাভীর দেয়া দুধের মাধ্যমে রূপান্তরিত এলড্রিন পাওয়া যাবে। দেশের পাস্তুরিত (প্যাকেটজাত) দুধ আহরণ করা হয় খামারের গাভী থেকে। দেখা গেছে অধিকাংশ খামারেরই নিজস্ব ঘাসক্ষেত রয়েছে। দ্রুত ঘাস বড় হওয়ার জন্যই ব্যবহার করা হয় এলড্রিন। মূলত এটা খামারিদেরই কর্ম। এলড্রিন তো কীটনাশক হিসেবে অন্যান্য কৃষিপণ্য যেমন শাকসবজি ও চাষের মাছেও ব্যবহার করা হচ্ছে।
সে ক্ষেত্রে ওসব পণ্যেও এলড্রিন আছে কিনা জানতে চাইলে ডা. সুবিমল সিংহ চৌধুরী বলেন, আমরা সবই টেস্ট করেছি। কি ধরনের পণ্যে এলড্রিন পাওয়া গেছে সেটাও জানানো হবে।
ঈদের সময় এ হঠাৎ এ ধরনের অলড্রিন আবিষ্কারের বিষয়টি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কিনা সে বিষয়ে কারোর পক্ষ থেকে কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কেউ কোন মন্তব্যও করতে রাজি হননি। আর কোন কোন ব্র্যান্ডের দুধে এলড্রিন ধরা পড়েছে সেটাও জানাতে রাজি হননি।
কত মাত্রার এলড্রিন শরীরের জন্য ক্ষতিকর, বা কত মাত্রার এলড্রিন মানবদেহের জন্য সহনীয়, গ্রহণীয় ও ভোজনীয় তিনি সেটাও জানাতে পারেননি। বলেছেন- ঈদের পর জানানো হবে।
এ সম্পর্কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক আ,ব,ম ফারুক জনকণ্ঠকে জানান, কত মাত্রার এলড্রিন মানবদেহের জন্য সহনীয় ও কত মাত্রার বর্জনীয়, সেটা নির্ধারণ করা হয় জাতিসংঘের ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন (হু) অথবা ফুড এ্যান্ড এগ্রিকালচার অর্গানাইজেশন (ফাও)-এর সমীক্ষায়। বাংলাদেশে মূলত এ দুটোর নির্ধারিত মাত্রাই অনুসরণ করা হয়। দুধে এলড্রিনের বিষয়টি ধরা পড়ার আগ পর্যন্ত এ সম্পর্কে এখনও সাধারণ মানুষ বা দুগ্ধ কোম্পানিগুলোও ততটা সচেতন হতে পারেনি।
কি ভাবে এ সঙ্কট মোকাবেলা করা সম্ভব জানতে চাইলে অধ্যাপক আ,ব,ম ফারুক বলেন, কোন কৃষিপণ্যে এলড্রিন স্প্রে করার পর কমপক্ষে তিন সপ্তাহের আগ পর্যন্ত বাজারজাত করা যাবে না। এটা নিশ্চিত করতে হবে। কারণ এলড্রিনের ক্ষতিকর প্রভাব তিন সপ্তাহ পর আর থাকে না। দ্বিতীয়ত, কৃষককে সচেতন করতে হবে। যখন তখন পাইকারি হারে এলড্রিন ব্যবহার না করে, তাদের বিকল্প পদ্ধতি অনুসরণ করতে বাধ্য করা। তৃতীয়ত, সরকারের কৃষিবিভাগের মাঠকর্মীদেরই এটা সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখতে হবে।
কমল প্রসাদ দাস এ সম্পর্কে জানান, ঈদের পর জনস্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় রেখে এলড্রিনের বিষয়ে চূড়ান্ত করা হবে। বর্তমানে বিএসটিআইয়ে এলড্রিনের মেথড নেই। প্রয়োজনে এটা অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
এদিকে বাজারে কি ধরনের প্রভাব পড়ছে সে সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এখনও ক্রেতা সাধারণ এলড্রিন নিয়ে ততটা সচেতন নয়। তবে যারা এলড্রিন সম্পর্কে বিশদ জানেন, তারা বাজারের প্যাকেটজাত দুধ পরিহার করছেন।
অধ্যাপক আ,ব,ম ফারুক জানান, তিনি নিজে বাজারের প্যাাকেটজাত পাস্তুরিত দুধ খান না। বাজার থেকে টিনজাত বিদেশী দুধ কিনে পানিতে গুলিয়ে সেটা বাচ্চাদের খাওয়ান। বিদেশী পণ্যে ন্যূনতম মান বজায় রাখা হয় বলে তাঁর বিশ্বাস।
বাজারের শীর্ষ ছয়টি পাস্তুরিত দুধের অন্যতম প্রাণ কোম্পানির মিডিয়া ম্যানেজার জিয়াউল হক জানান, প্রাণের দুধে কোন ধরনের ভেজাল বা এলড্রিন পাওয়া গেছে কিনা এখনও পর্যন্ত তাদের জানা নেই। কোন পক্ষ থেকেও কেউ অভিযোগও করেনি। এই প্রথমবারের মতো তিনি জনকণ্ঠের কাছ থেকে এ ধরনের তথ্য শুনতে পেয়েছেন বলে জানান।
তিনি বলেন, বাজারে ছাড়া দুধ আরও এক সপ্তাহ আগেই শেষ হয়ে গেছে। মানুষ দুধ পাচ্ছে না। দুধের তীব্র সঙ্কট চলছে। কোন পত্রিকা কি লিখেছে সেটা দেখে মানুষ খাওয়া ছেড়ে দেয়নি।
একইভাবে আড়ং দুধের মিডিয়া ম্যানেজারও তার এলড্রিন সম্পর্কে তাদের অজ্ঞতার কথা জানান। তিনি জানান, বাজারে তাদের দুধের ব্যাপক চাহিদা। সে তুলনায় উৎপাদন ও সরবরাহ কম। কোন ধরনের ভেজাল বা এলড্রিন পাওয়া গেলে মানুষ মুখ ফিরিয়ে নিত।
মিল্কভিটার পক্ষ থেকেও একাধিক সূত্র জানিয়েছে, জনস্বাস্থ্য বিভাগের পরীক্ষায় এলড্রিন ধরা পড়লেও সেটা এখনও পর্যন্ত মিল্কভিটাকে জানানো হয়নি। কেউ যদি দুধের মান নিয়ে কোন অভিযোগ না তোলে, তাহলে কিভাবে এর গুণাগুণ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সিরাজগঞ্জের কোন খামারের ঘাসের মাধ্যমে মিল্কভিটায় যদি এলড্রিন পাওয়া গিয়েই থাকে সেটা জাতির সামনে উপস্থাপন করা উচিত। জনস্বাস্থ্য তো সেটা করেনি। এখনও পর্যন্ত অফিসিয়ালি কোন দুগ্ধ কোম্পানিকেও জানানো হয়নি। তেমন কিছু ঘটলে, বাজারে প্রভাব পড়ত। দুধ নিয়ে প্রতিদিন কাড়াকাড়ি চলছে। অতি সচেতন মানুষ যারা এলড্রিন নিয়ে ঘাটাঘাটি করছেন তারাও তো এ দুধই খাচ্ছেন। মিডিয়ায় এ ধরনের আতঙ্ক সৃষ্টি করে অন্য কোন কোম্পানি দুধের একচেটিয়া ব্যবসা করতে চায় কিনা সেটাও খতিয়ে দেখতে হবে।
খালেদা জিয়া ও রওশনকে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ শুভেচ্ছা
বিশেষ প্রতিনিধি ॥ বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া এবং জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের নেতা রওশন এরশাদকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা। রবিবার পৃথক দুটি ঈদকার্ড পাঠিয়ে দু’নেত্রীকে শুভেচ্ছা জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঈদের শুভেচ্ছা কার্ড রবিবার খালেদা জিয়ার গুলশানের কার্যালয়ে পৌঁছে দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এ কে এম শামীম চৌধুরী জানান, বিকেল সোয়া চারটার দিকে প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার শেখ আক্তার হোসেন প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা কার্ডটি পৌঁছে দেন। খালেদা জিয়ার একান্ত সহকারী শিমুল বিশ্বাস শুভেচ্ছা কার্ডটি গ্রহণ করেন। এর আগে শনিবার খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকেও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার কাছে ঈদের শুভেচ্ছা বার্তা পাঠানো হয়।
অপর দিকে জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদকেও ঈদ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঈদকার্ড পাঠিয়ে বিরোধী দলীয় নেতাকে ঈদের আগাম শুভেচ্ছা জানান তিনি।
রবিবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে তাঁর প্রটোকল অফিসার শেখ আখতার হোসেন ঈদ শুভেচ্ছা কার্ডটি রওশন এরশাদের বাসায় পৌঁছে দেন। বিরোধী দলীয় নেতার পক্ষে তাঁর রাজনৈতিক সচিব গোলাম মসিহ এ কার্ড গ্রহণ করেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এ কে এম শমীম চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
আ’লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠক আজ ॥ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের এক জরুরী সভা আজ সোমবার বিকেল ৫টায় গণভবনে অনুষ্ঠিত হবে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঈদপরবর্তী বিএনপি-জামায়াত জোটের আন্দোলনের হুমকি মোকাবেলা, কাউন্সিলের মাধ্যমে সারাদেশে ঝিমিয়ে পড়া সংগঠনকে চাঙ্গা ও শক্তিশালী করে গড়ে তোলাসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে আজকের বৈঠক থেকে।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং এলজিআরডি মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সকল সদস্যকে উক্ত সভায় যথাসময়ে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।
ঈদের দিন সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী ॥ প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ঢাকায় ঈদ উদযাপন করবেন। ঈদের দিন সকাল সাড়ে ৯টায় প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারী বাসভবন গণভবনে দলীয় নেতাকর্মী, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, রাজনীতিক, কবি, সাহিত্যিক, লেখক, সাংবাদিক, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, বিভিন্ন পেশাজীবী নেতা, মুক্তিযোদ্ধাসহ সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। বেলা সাড়ে ১১টায় কূটনীতিক ও বিচারপতিদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন তিনি।
এবারও দেশের বৃহত্তম জামাত শোলাকিয়া ঈদগাহে
নিজস্ব সংবাদদাতা, কিশোরগঞ্জ, ২৭ জুলাই ॥ দেশের সর্ববৃহৎ ঈদ জামাতের জন্য যথারীতি এবারও প্রস্তুত কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ। মাঠে পড়া সুন্নতে মোয়াক্কাদা এবং যে জামাতে মুসল্লি যত বেশি হয় ছওয়াবও তত বেশি হয় ও গুনাহ মাফ হয়-এ বিশ্বাস থেকেই দেশ-বিদেশের লাখ লাখ মুসল্লি এ ঈদগাহে নামাজ পড়তে আসেন। এ মাঠের জামাতের প্রতি মুসল্লিদের আকর্ষণ ক্রমেই বাড়ছে। ফলে প্রতিবছরই জামাতের কলেবর বৃদ্ধি পাচ্ছে, এর সঙ্গে ছড়িয়ে পড়ছে মাঠের সুনাম। ঈদের জামাতকে সামনে রেখে প্রশাসন ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। পৌর কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে মাঠ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নসহ সার্বিক সংস্কার কাজ শেষ করেছে। কর্মীরা মেহরাবের চুনকাম, মাঠে দাগ কাটার কাজ ও ওজুখানা পরিষ্কার করেছে। দূরের মুসল্লিদের সুবিধার জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ‘শোলাকিয়া এক্সপ্রেস’ নামে ২টি স্পেশাল ট্রেনের ব্যবস্থা করেছে। ঈদের দিন সকাল ৬টায় ভৈরব থেকে ছেড়ে আসা ট্রেন এবং সকাল পৌনে ৬টায় ময়মনসিংহ থেকে ছেড়ে আসা ট্রেনটি সকাল ৮টায় কিশোরগঞ্জ পৌঁছবে। জামাত শেষে দুপুর ১২টায় ভৈরব ও ময়মনসিংহের উদ্দেশে ট্রেন দুটি কিশোরগঞ্জ ছেড়ে যাবে ।
শোলাকিয়া মাঠ থেকে এবারও জামাত সরাসরি সম্প্রচার করবে স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যালেন আই। প্রায় তিন শ’ বছর ধরে শোলাকিয়ায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ বছর সকাল ১০টায় ১৮৭তম ঈদ-উল-ফিতরের জামাতে ইমামতি করবেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আলেম, বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ। জামাত শুরুর ৫ মিনিট আগে ৩টি, ৩ মিনিট আগে ২টি ও ১ মিনিট আগে ১টি শটগানের গুলি ফুটিয়ে জামাত আরম্ভের ঘোষণা দেয়া হয়। ঈদ-উল-ফিতরকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিপুল উৎসাহউদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। শহরের বিভিন্ন রাস্তায় ইতোমধ্যে ঈদকে স্বাগত জানিয়ে বড় বড় তোরণ নির্মাণ, ব্যানারে সাজানো সড়ক দ্বীপ স্থাপন করা হয়েছে।
১৮২৮ সালে শোলাকিয়ায় ঈদের বড় জামাত অনুষ্ঠিত হলেও এর যাত্রা শুরু হয় ১৭৫০ সালে। মসনদ-ই-আলা ঈশা খাঁর ষষ্ঠ বংশধর দেওয়ান হযরত খানের উত্তরসূরি দেওয়ান মান্নান দাদ খান ১৯৫০ সালে ৪.৩৫ একর ভূমি শোলাকিয়া ঈদগাহে ওয়াক্ফ করে দেন। বর্তমানে এ জায়গার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭ একর। যা আগত মুসল্লিদের মাত্র অর্ধেকের বেশি ধারণ করতে পারে। এ এলাকার পূর্বনাম ছিল রাজাবাড়িয়া। জনশ্রুতি আছে, ঈদগাহ মাঠে ১ম বড় জামাতে সোয়ালাখ লোক অংশ নিয়েছিলেন। যে কারণে এর নামকরণ করা হয় সোয়ালাকিয়া। ভিন্নমতে, মোঘল আমলে এখানকার পরগনার রাজস্বের পরিমাণ ছিল সোয়ালাখ টাকা। উচ্চারণগত কারণে এই ঈদগাহ মাঠ শোলাকিয়া নামে পরিচিতি লাভ করে।
মাঠের দৈর্ঘ্য পূর্ব-পশ্চিমের দক্ষিণ পার্শ্ব ৯১৪ ফুট, উত্তর সীমারেখা ৭৮৮ ফুট। প্রস্থ উত্তর দক্ষিণে পশ্চিম সীমারেখা ৩৩৫ ফুট ও পূর্ব সীমা রেখা ৩৬১ ফুট। মাঠের ভেতরে ২৬৫টি কাতার (লাইন) রয়েছে। মূল ঈদগাহে জায়গা সঙ্কুলানের অভাবে মাঠের চারপাশের খালি জায়গা-জমি, ক্ষেত, বসত বাড়ির আঙ্গিনায় এবং রাস্তা-ঘাটে অগণিত মুসল্লিকে নামাজ আদায় করতে হয়। এতবড় জামাত চোখে না দেখলে বিশ্বাস করাই কঠিন। প্রতি বছরই এ জামাতের প্রতি ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের আকর্ষণ বাড়ছে। কিন্তু সেই তুলনায় এর উন্নয়ন ও পরিধি বিস্তৃত হয়নি।
শোলাকিয়া ঈদগাহ কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক এসএম আলম জানান, এ মাঠে নামাজ আদায়ের জন্য রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রিপরিষদ, সংসদ সদস্যবৃন্দ ও বিদেশী কূটনৈতিকদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আগে অবস্থান নেয়া মুসল্লিদের থাকা-খাওয়া নিশ্চিত করা হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবারও মুসল্লিরা যাতে নির্বিঘেœ নামাজ আদায় করতে পারেন সেজন্য সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার মোঃ আনোয়ার হোসেন খান জানান, সুইপিং করাসহ মাঠে ৩ স্তরের নিরাপত্তা বলয়ে পুরো এলাকাটি ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার আওতায় থাকবে আর মাঠে ঢোকার ২২টি গেটে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে মুসল্লিদের দেহ তল্লাশি করে ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়া হবে। ঈদের দিন শহরের বিভিন্ন সড়ক ও মাঠের প্রবেশপথে কঠোর ট্রাফিক ব্যবস্থা থাকবে। জরুরী ও সংবাদপত্রের গাড়ি ছাড়া কোন গাড়ি শহরে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না। মাঠের সার্বিক নিরাপত্তায় পোশাকী সিকিউরিটির পাশাপাশি র‌্যাব ও ছদ্মবেশে গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন মাঠ ও মাঠের বাইরে দায়িত্ব পালন করবেন।
সার্কুলার রোড ও নৌরুট চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
রাজধানীর চার পাশের নদী দূষণমুক্ত করে নাব্য ফেরান
বিশেষ প্রতিনিধি ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকার চারপাশের নদীগুলো দূষণমুক্ত করে এবং নাব্য ফিরিয়ে এনে রাজধানীকে ঘিরে বৃত্তাকার নৌ ও সড়কপথ চালু করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে ঢাকার পরিবেশের ইতিবাচক পরিবর্তন হবে। এ প্রকল্প আমাদেরই করা, আমাদেরই বাস্তবায়ন করতে হবে। সার্কুলার রোড ও নৌরুট হলে পণ্য পরিবহন ও জনপরিবহন সহজতর হবে।
রবিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বুড়িগঙ্গা নদীসহ ঢাকা মহানগরীর চারপাশের প্রবহমান নদীগুলো পুনরুদ্ধার এবং ঢাকা মহানগরীর চারদিকে বৃত্তাকার নদীপথ ও সড়কপথ চালু করার বিষয়ে এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশনা দেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বুড়িগঙ্গা নদীকে দূষণমুক্ত করা ও পুনরুদ্ধারে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণেরও নির্দেশ দেন।
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে এ বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, এলজিআরডিমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, পানিসম্পদমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, বন ও পরিবেশমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরিফ, অর্থ প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান ও স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, মন্ত্রিপরিষদ সচিব এম মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া, সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ইকবাল করিম ভুঁইয়া, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আবদুস সোবহান শিকদার ও প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব একেএম শামীম চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে প্রেস সচিব শামীম চৌধুরী প্রেস ব্রিফিংকালে বলেন, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী চারটি নির্দেশ দিয়ে বলেন, বুড়িগঙ্গা নদীকে দূষণমুক্ত করা এবং পুনরুদ্ধারে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় দ্রুত সার্কুলার নৌরুট চালু করবে। সার্কুলার রুট হবে আশুলিয়া-আমিনবাজার-সদরঘাট-ফতুল্লা-কাঁচপুর হয়ে টঙ্গী পর্যন্ত।
এর পাশাপাশি সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় ইস্টার্ন বাইপাসসহ চার লেনের সার্কুলার সড়ক নির্মাণ করবে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সমন্বয় করবে। প্রেস সচিব জানান, সভায় প্রধানমন্ত্রী এই চারটি কাজ দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়ে বলেন, সার্কুলার রোড হলে পণ্য পরিবহন ও জনমানুষ পরিবহন সহজতর হবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এই প্রকল্প অবশ্যই বাস্তবায়ন করতে হবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ঢাকার পরিবেশ রাতারাতি পরিবর্তন আসবে। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় বৃত্তাকার নদীপথ চালু করবে এবং তা টঙ্গী, আশুলিয়া, আমিনবাজার, সদরঘাট, ফতুল্লা, কাঁচপুরকে সংযুক্ত করবে।
অবশেষে স্বস্তির ঘরে ফেরা, প্রকৃতিও ছিল যোগাযোগমন্ত্রীর পক্ষে
নৌপথে কপ্টার টহল, ট্রেনে সিডিউল বিপর্যয়, বাস সঙ্কট থাকলেও নির্বিঘ্ন যাত্রা
রাজন ভট্টাচার্য ॥ এবারের ঈদে সড়কপথে ঈদ যাত্রা নিয়ে সবচেয়ে বেশি আতঙ্ক ছিল। ঢাকা-ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল-চট্টগ্রামের রাস্তা খারাপ হওয়ার কারণেই আতঙ্ক আরও বাড়ে। গুরুত্বপূর্ণ তিনটি মহাসড়কে ফোর লেনের কাজ চলায় রাস্তা ছিল বেহাল। শেষ পর্যন্ত যোগাযোগমন্ত্রীর কঠোর পরিশ্রমে অবিরাম ছুটে চলা মানুষকে স্বস্তিতে বাড়ি ফিরতে সহযোগিতা করেছে। দ্রুত রাস্তা সংস্কারের জন্য সড়ক ও জনপথের প্রকৌশলীদের ছুটি বাতিল করা হয়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রাস্তার কাজ শেষ না হলে শাস্তিরও হুমকি দিয়েছিলেন মন্ত্রী। কথাও রেখেছেন তিনি। বিভিন্ন এলাকায় রাস্তা পরিদর্শনে গিয়ে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থাও নিয়েছেন।
সব মিলিয়ে জোড়াতালির হলেও দ্রুত সময়ের মধ্যে রাস্তা মেরামত হয়েছে। যানজট নিরসনে পুলিশের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছিল নানামুখী পদক্ষেপ। এবার অন্যান্য বছরের মতো বাড়তি বাস ভাড়া আদায়ের খুব বেশি অভিযোগও মেলেনি। সর্বোপরি কপাল ভাল বলতে হবে যোগাযোগমন্ত্রীর। অনেকটা আগেভাগেই শুরু হয় ঈদের ছুটি। এ কারণে যে যার মতো করে একটু আগেই বাড়ি ফিরতে শুরু করেন। বৃষ্টি হলে মহাসড়কে দুর্ভোগ বাড়বে। জোড়াতালির সংস্কার থাকবে না। এমন আশঙ্কার কথা বলেছিলেন প্রকৌশলীসহ পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। প্রকৃতিও যোগাযোগমন্ত্রীর পক্ষে ছিলেন। বৃষ্টি হয়নি। দুর্ভোগ নামেনি সড়ক মহাসড়কে। শেষ পর্যন্ত সম্পন্ন হলো সড়ক পথে নিরাপদ ঈদ যাত্রা। নৌপথ ও রেলপথেও তেমন একটা দুর্ভোগ পোহাতে হয়নি ঘরমুখো মানুষের। হাসিমুখে বাড়ি ফিরতে পেরেছেন যাত্রীরা।
কড়া নিরাপত্তার মধ্যেও ঝুঁকি নিয়ে ছেড়েছে লঞ্চ ॥ দক্ষিণাঞ্চল মানুষের ভিড়ে মুখর সদরঘাট লঞ্চটার্মিনাল। ভোর থেকেই সদরঘাটমুখী মানুষের স্রোত। যে যার মতো করে আগে আসার চেষ্টা। তবে লঞ্চ ছাড়া নিয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে যাত্রীদের। লঞ্চটার্মিনালে যাত্রীদের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে তৎপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। নিরাপদ যাত্রাপথ নিশ্চিত করতে এবারই প্রথম নদীর ওপর হেলিকপ্টার টহল দিতে দেখা গেছে। তবুও নদী পথে ঝুঁকি নিয়ে ঘরে ফেরা বন্ধ হয়নি। ডেকে ও ছাদে বোঝাই যাত্রী নিয়ে সব লঞ্চ বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ঘাট ছেড়েছে। যদিও ঝুঁকি নিয়ে বাড়ি না ফিরতে বার বার মাইকে যাত্রী ও লঞ্চ কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হচ্ছিল।
এবারের ঈদে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি ছিল চোখে পড়ার মতো। সদরঘাটের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে সকালে ঘাটে আসেন র‌্যাবের মহাপরিচালক মোখলেসুর রহমান। পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক। যাত্রীদের নিরাপত্তা দিতে বাহিনীর সজাগ দৃষ্টি রয়েছে। আর বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌচলাচল কর্তৃপক্ষ বলছে, এবারের ঈদে যাত্রীদের কাছে কোন ধরনের অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তার কারণ হচ্ছে, কর্তৃপক্ষের তৎপরতা। কর্তৃপক্ষের এ বক্তব্যের সঙ্গে কোন কোন যাত্রী একমতও পোষণ করেন।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের নৌ-নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের যুগ্ম পরিচালক মোঃ সাইফুল হক খান জানান, নিয়মিত মনিটরিং চলছে। লঞ্চগুলো যাতে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই না করতে পারে, সেজন্য মনিটরিং সেল সার্বক্ষণিক তদারকি করছে। তিনি বলেন, নিরাপত্তার স্বার্থেই বাড়ানো হয়েছে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার সংখ্যা। প্রথমবারের মতো এবার হেলিকপ্টারে টহল দেয়াও হচ্ছে। অপরদিকে যাত্রীদের সর্বোচ্চ সেবার বিষয়ে সাইফুল হক খান বলেন, যাত্রীদের কাছ থেকে এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। বরাবরের মতো এবারও ঘরমুখী যাত্রীরা যাতে কোন ধরনের হয়রানির শিকার না হন, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।
বিলম্বে ট্রেন ছাড়ায় যাত্রী দুর্ভোগ ॥ সময়মতো ট্রেন ছাড়তে পারবে তো? এ নিয়ে ঈদের আগে থেকেই ছিল দুশ্চিন্তা, ছিল আলোচনাও। রেল কর্তৃপক্ষও বার বার বলছিল, অন্যান্য বারের চেয়ে এবার নিরাপদ রেলযাত্রায় প্রস্তুতি ভাল। সময়মতো ট্রেন ছাড়তে পারলে আর কোন সমস্যা নেই। ঈদের বিশেষ সার্ভিসের শুরুটা ছিল বেশ। সময়মতো বেশিরভাগ ট্রেন ছেড়ে গেছে। শনিবার থেকে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। রবিবার তা আরও বাড়ে। সর্বোচ্চ পাঁচ ঘণ্টা বিলম্বেও ট্রেন ছেড়েছে কমলাপুর থেকে। এ নিয়ে ঘরমুখো মানুষের অভিযোগের কোন শেষ ছিল না। তেমনি ক্ষুব্ধ ছিলেন যাত্রীরাও।
নির্ধারিত সময়ের চার ঘণ্টা পর ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ছাড়ার কথা থাকলেও রবিবার দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে রাজশাহীর সিল্ক সিটি ট্রেনটির ঢাকা থেকে রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে ট্রেনটি কমলাপুর ত্যাগ করতে পারেনি। বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত ট্রেনটি কমলাপুরে আসেনি। স্টেশন মাস্টার সাখায়াত হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার কামরুল আহসানের কাছে সিল্কসিটি ট্রেনের দেরি হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ট্রেন রাজশাহী থেকে সকাল ৬টায় ছাড়ার কথা থাকলেও ছেড়েছে ৯টায়। এ কারণে কমলাপুর থেকে ছেড়ে যেতে দেরি হবে। শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার পর ট্রেনটি ছেড়ে যায়।
সময়মতো ট্রেন না ছাড়ায় চট্টগ্রাম ও দিনাজপুরগামী যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। বিকেলের পর এই দুই রুটের ট্রেনগুলো কখন আসবে কখন ছাড়বে কেউ বলতে পারে না। রবিবার সকাল থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ৩০টি ট্রেন কমলাপুর ছেড়েছে। এর মধ্যে রাজশাহীগামী ধূমকেতু ও চট্টগ্রামগামী মহানগর প্রভাতী যথাক্রমে তিন ঘণ্টা ও দেড় ঘণ্টা দেরিতে ছাড়ে। এ ছাড়া বাকি ট্রেনগুলোর বেশিরভাগই সময়মতো ছেড়েছে। কোন কোন ট্রেন ছাড়তে আধঘণ্টা, পৌনে একঘণ্টাও বিলম্ব হয়েছে। দুপুরের পর থেকেই মারাত্মক সিডিউল বিপর্যয় ঘটে রেলে। কমলাপুর স্টেশন মাস্টার সাখাওয়াত হাসান জানান, ঈদে বাড়তি চাপের কারণে এই বিলম্ব হচ্ছে। বিভিন্ন জায়গা থেকে ট্রেনগুলো কমলাপুর পৌঁছাতে দেরি করায় ছাড়তে দেরি হচ্ছে। তবে এতে ট্রেন জট তৈরি হবে না বলে জানান তিনি।
ঢাকা প্রায় ফাঁকা ॥ স্বজনদের সঙ্গে ঈদ করতে রাজধানী ছাড়ছে মানুষ। আর সেই সঙ্গে অনেকটাই ফাঁকা হয়ে পড়েছে ব্যস্ত নগরী ঢাকা। চোখে পড়েনি নিত্যকার চিরচেনা যানজট। বৃহস্পতিবার থেকে ঘরমুখো মানুষের বাড়ি ফেরার এই স্রোতে রাজপথই তুলনামূলকভাবে ফাঁকা হয়ে যায়। বিপণিবিতান সংলগ্ন সড়কগুলো ছাড়া রাজধানীর অন্যান্য সড়কে যানবাহনের ভিড়ও ছিল অনেক কম। শুক্র ও শনিবার ছিল সাপ্তাহিক ছুটি। ঈদের আগে কেবল রবিবারই অফিস খোলা। আর ঈদের ছুটি সোম থেকে বুধবার পর্যন্ত। রোজা ত্রিশটি হলে বৃহস্পতিবারও ঈদের ছুটি থাকবে। ফলে মাঝের একদিন ছুটি নিয়ে টানা নয়দিন ছুটির ফাঁদে দেশ। রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে গাড়ির চাপ নেই বললেই চলে। ছিল না কোন যানজট। মতিঝিল, ফার্মগেট, নিউ মার্কেট, যাত্রাবাড়ী কিংবা মহাখালী কোথাও গাড়ি থেমে থাকতে দেখা যায়নি। এদিকে রাস্তাঘাট ফাঁকা হয়ে যাওয়ায় চলাচলের বাড়তি সুবিধা নিয়ে শেষ সময়ের ঈদের কেনাকাটা করছেন নগরবাসী। তবে গণপরিবহন না পেয়ে অনেকেই বিরক্ত প্রকাশ করেছেন বাস মালিকদের প্রতি। যারা বাস পেয়েছেন তাদের যাত্রা নিরাপদ হয়েছে। যানজটমুক্ত রাস্তায় কোন রকম দুর্ভোগ পোহাতে হয়নি। ম্লান হয়নি ঈদের আনন্দ।
বাস সঙ্কটের মধ্যেও নির্বিঘ্ন যাত্রা ॥ ভোর থেকেই রাজধানীর আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালগুলোতে স্রোতের মতো মানুষ আসতে থাকে। সবার বাড়ি ফেরার চেষ্টা। গাবতলী বাসটার্মিনালে এক পর্যায়ে বাস সঙ্কট দেখা দেয়। কাউন্টার থেকে বলা হয় পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ঘাটে যানজট সৃষ্টি হওয়ায় বাস আসতে সময় লাগছে। আসামাত্র গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে। বিলাস বহুল বাস কাউন্টারগুলোতে যাত্রীদের অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। মহাখালী বাসটার্মিনালে মানুষের অভাব নেই। মহাসড়কে যানজট না থাকলেও যাত্রী বেশি হওয়ায় বাস সঙ্কট দেখা দেয়। ছেড়ে যাওয়া বাসের সংখ্যা ছিল বেশি। সেই তুলনায় বাস আসার গতি ছিল খুবই কম। এনা, শৌখিন, শামীম, শাহজালাল, অনন্যাসহ বিভিন্ন কাউন্টারের সামনে শত শত মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। কাউন্টার থেকে জানানো হয়, অগ্রিম টিকেট দেয়া যাত্রীদের পৌছানোর নিশ্চিয়তা তাদের। বাস আসামাত্রই ছাড়বে। দুপুরের পর অনেক কাউন্টার থেকে টিকেট বিক্রি বন্ধ হয়ে যায়। বলা হয়, বাস আসতে বিলম্ব হওয়ায় টিকেট বিক্রি বন্ধ করা হয়েছে। গাড়ি আসামাত্র আবারও টিকেট দেয়া হবে। রাতভর চলবে বাস। এদিকে সড়ক-মহাসড়কের কোথাও তেমন কোন যানজটের খবর পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ জনকণ্ঠকে বলেন, সড়কপথে যাত্রী দুর্ভোগ নিয়ে আমরা আশঙ্কা করেছিলাম। কিন্তু নানামুখী পদক্ষেপের কারণে শেষ পর্যন্ত কোন রকম দুর্ভোগ ছাড়াই যাত্রীরা বাড়ি ফিরতে পেরেছেন। আটাই সবচেয়ে স্বস্তির বিষয়। তিনি বলেন, দেশের কোন মহাসড়কে যানজটের খবর পাওয়া যায়নি। গাজীপুরের চন্দ্রায় হাজার হাজার যাত্রী বাসের জন্য অপেক্ষা করছিল। তখন মালিক সমিতির পক্ষ থেকে বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আশা করি সবাই বাড়ি ফিরতে পারবেন।
ঢাকা-আরিচা রুটে যানজট ॥ ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক ও নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কে গাড়ির চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় রবিবার সন্ধ্যায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড থেকে রাজ ফুলবাড়িয়া পর্যন্ত প্রায় চার কিমি যানজটের সৃষ্টি হয়। এ ছাড়াও নবীনগর বাসস্ট্যান্ড থেকে ইপিজেড পর্যন্ত সৃষ্টি হয়েছে প্রায় ১০ কিমি যানজটের। প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তরের কর্মকর্তা, থানা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ যানজট নিরসনে সর্বাত্মক চেষ্টা করেন। গার্মেন্টসসহ অফিস-আদালত, শিল্প-কারখানা একযোগে ছুটি হওয়ায় তীব্র এ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আজ চাঁদ দেখা গেলে কাল ঈদ
০ বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপার্সন
০ প্রস্তুত জাতীয় ঈদগাহ্
০ টিভি চ্যানেলগুলোয় থাকছে আনন্দ আয়োজন
স্টাফ রিপোর্টার ॥ ‘ওরে ও নতুন ঈদের চাঁদ/তোমার হেরে হৃদয় সাগর আনন্দে উন্মাদ/তোমার রাঙা তশতরিতে ফিরদৌসের পরী/খুশির শিরনি বিলায় রে ভাই নিখিল ভুবন ভরি/খোদার রহম পড়ছে তোমার চাঁদনী রূপে ঝরি/দুঃখ ও শোক সব ভুলিয়ে দিতে তুমি মায়ার ফাঁদ।’ বছর ঘুরে আবারও এলো খুশি, হাসি আর আনন্দের ঈদ। শেষ হচ্ছে মাসব্যাপী সিয়ামসাধনা। চন্দ্রমাসের হিসাব অনুযায়ী আজ শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেলে আগামীকাল মঙ্গলবার উদ্যাপিত হবে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর। তবে চাঁদ না দেখা গেলে ঈদ পালিত হবে বুধবার। এরই মধ্যে সারাদেশে বইছে আনন্দের ঝর্ণাধারা। এবার ঈদের লম্বা ছুটি হওয়ায় আগেভাগে রাজধানী ঢাকা ছেড়েছে মানুষ। আজ শেষ দিনে আর তেমন ভিড়ের আশঙ্কা নেই।
বাঙালী চিরকালই উৎসব আয়োজনে এগিয়ে রয়েছে। আর সেই উৎসব যদি হয় ঈদ, তাহলে তো কথায় নেই। দেশের বাৎসরিক বাজেটের এক-চতুর্থাংশের সমান ঈদে খরচ করে দেশের উৎসব পাগল মানুষ। এবারও যথারীতি তার ব্যতিক্রম হয়নি। মানুষ ঈদের বাজারে ৫৫ হাজার কোটি টাকা খরচ করেছে। রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের বিপণিবিতানগুলোতে উপচেপড়া ভিড়ছিল রমজানজুড়েই। এমনকি চাঁদরাত পর্যন্ত চলবে এই কেনাকাটা।
পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মোঃ আব্দুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেত্রী রওশন এরশাদ এবং বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া বাণী দিয়েছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। ঢাকাসহ সারাদেশে ঈদের জামাতের আয়োজনের পুরো প্রস্তুতিও সম্পন্ন হয়েছে।
ঈদ-উল-ফিতরের শাব্দিক অর্থ রোজা ভাঙ্গার দিবস। ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব এটি। ধর্মীয় পরিভাষায় ঈদ-উল-ফিতরকে পুরস্কার দিবস হিসেবেও বর্ণনা করা হয়েছে। দীর্ঘ এক মাস রোজা রাখা বা সিয়ামসাধনার পর বিশ্বের মুসলমানরা এ দিনটি ধর্মীয় কর্তব্য পালনসহ খুব আনন্দের সঙ্গে পালন করে থাকে। ধনী-গরিব, ছোট-বড়, আশরাফ-আতরাফ সবাইকে এককাতারে দাঁড় করায় ঈদ। সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যরে বন্ধনেও আবদ্ধ করে। আজ অথবা কাল আকাশে এক ফালি ঈদের চাঁদ উঁকি দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হবে ঈদের আনন্দ। আল্লাহতাআলা এ মাসে তাঁর বান্দাদের ওপর বিশেষ দৃষ্টি প্রদান করে থাকেন। গুনাহ মাফ করে দেন। দোয়া কবুল করেন। এ জন্য ইসলামের অনুসারীদের জন্য এ মাস বিশেষ নিয়ামতের মাস হিসেবে গণ্য। কারণ দীর্ঘ এক মাস সিয়ামসাধনার পরই আসে কেবল এ ঈদ।
হিজরী বর্ষপঞ্জি অনুসারে রমজান শেষে শাওয়াল মাসের প্রথম দিন ঈদ-উল-ফিতর উৎসব পালন করা হয়। চন্দ্রমাস সাধারণত ২৯ বা ৩০ দিনে হয়। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে রমজানের সমাপ্তিতে শাওয়ালের মাসের গণনা শুরু হয়। ঈদের আগের রাতটিকে ইসলামী পরিভাষায় জায়জা (বা পুরস্কার রজনী) এবং চলতি ভাষায় চাঁদ রাত বলা হয়। ধর্মের বিধান অনুযায়ী ঈদের চাঁদ স্বচক্ষে দেখে তবেই ঈদের ঘোষণা দিতে হবে। বাংলাদেশে ঈদের দিন নির্ধারিত হয় দেশের কোথাও না-কোথাও চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুসারে। ইসলামী নিয়ম অনুসারে ঈদের পূর্বে পুরো রমজান মাস রোজা রাখা হলেও ঈদের দিন রোজা রাখার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। ধর্মীয় পরিভাষায় যাকে হারাম বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এক বছর পর মুসলমানদের ঘরে আসে ঈদ। তাই ঈদের আনন্দ থেকে কেউ বঞ্চিত হতে চায় না। কষ্ট করে হলেও প্রিয়জনদের সান্নিধ্যে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে রাজধানী ছেড়ে চলে গেছে লাখ লাখ মানুষ। বাংলাদেশসহ অন্যান্য মুসলিম প্রধান দেশে ঈদ-উল-ফিতরই হলো বৃহত্তম বাৎসরিক উৎসব। যদিও গাজায় বেসামরিক মানুষের ওপর ইসরাইলী হামলায় বহু মুসলমানের প্রাণ গেছে, যা গোটা বিশ্বমানবতাকে কাঁদিয়েছে।
পত্রপত্রিকাগুলো ঈদ উপলক্ষে ঈদসংখ্যা নামে বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করেছে। সরকারী-বেসরকারী বেতার এবং টেলিভিশন চ্যানেলগুলো ঈদের দিন থেকে শুরু করে সপ্তাহব্যাপী বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচারের প্রস্তুতি নিয়েছে।
চাঁদ দেখা ও ঈদ-উল-ফিতরের তারিখ নির্ধারণের জন্য আজ জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হবে চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক। এ কমিটি চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে ঈদ-উল-ফিতর উদ্যাপনের চূড়ান্ত ঘোষণা দেবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা বিল্লাল বিন কাশেম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আজ সোমবার সন্ধ্যা ৭.১৫ মিনিটে (বাদ মাগরিব) ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির এ সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভাপতি আলহাজ প্রিন্সিপাল মতিউর রহমান। দেশের আকাশে কোথাও পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেলে তা নিম্নোক্ত টেলিফোন ও ফ্যাক্স নম্বরে অথবা অন্য কোন উপায়ে জানানোর জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। টেলিফোন নম্বর : ৯৫৫৯৪৯৩, ৯৫৫৯৬৪৩, ৯৫৫৫৯৪৭, ৯৫৫৬৪০৭ ও ৯৫৫৮৩৩৭। ফ্যাক্স নম্বর ৯৫৬৩৩৯৭।
ফিতরা ॥ ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে ফিতরা আদায় করা ওয়াজিব। এটি এক ধরনের সাদকা বা দান, যা রোজার ভুলত্রুটি দূর করার জন্য আদায় করা হয়। ঈদের নামাজের পূর্বেই ফিতরা আদায় করার বিধান রয়েছে। ফিতরার ন্যূনতম পরিমাণ ইসলামী বিধান অনুযায়ী নির্দিষ্ট করা থাকে। সাধারণত ফিতরার পরিমাণ আটা বা অন্য শস্যের (যব, কিসমিস) মূল্যের ভিত্তিতে হিসাব করা হয়। সচরাচর আড়াই সের আটার স্থানীয় মূল্যের ভিত্তিতে ন্যূনতম ফিতরার পরিমাণ নিরূপণ করা হয়। এবার জনপ্রতি ফিতরা নির্ধারণ করা হয়েছে সর্বনিম্ন ৬৫ টাকা।
রাষ্ট্রপতির বাণী ॥ পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে দেশবাসীসহ বিশ্বের সকল মানুষকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ আব্দুল হামিদ। তিনি বাণীতে বলেন, মাসব্যাপী সিয়ামসাধনার পর খুশি আর আনন্দের বার্তা নিয়ে আমাদের মাঝে সমাগত হয় পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর। ঈদ সব শ্রেণী-পেশার মানুষের মধ্যে গড়ে তোলে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও ঐক্যের বন্ধন। এ দিন ধনী-গরিব, আশরাফ-আতরাফ নির্বিশেষে সবাই এক কাতারে শামিল হন এবং ঈদের আনন্দকে ভাগভাগি করে নেন। শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যময় সমাজ গঠনে ঈদ-উল-ফিতরের আবেদন তাই চিরন্তন। ঈদ-উল-ফিতরের শিক্ষা আমাদের সুন্দর ও সমৃদ্ধ সমাজ গঠনে উদ্বুদ্ধ করুক- এ প্রত্যাশা করি।
প্রধানমন্ত্রীর বাণী ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর বাণীতে বলেন, মাসব্যাপী সিয়ামসাধনার পর সকলের জন্য আনন্দের বার্তা নিয়ে এসেছে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর। মুসলিম জাহানের প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে আমি দেশবাসী ও বিশ্বের সকল মুসলমানকে জানাই ঈদ মোবারক। ঈদ শান্তি, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধের অনুপম শিক্ষা দেয়। সাম্য, মৈত্রী ও সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ করে সকল মানুষকে। ব্যক্তি, সমাজ ও জাতীয় জীবনের সর্বক্ষেত্রে ঈদ-উল-ফিতরের শিক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে আমি সকলের প্রতি আহ্বান জানাই। ঈদ ধনী-গরিব নির্বিশেষে সকলের জীবনে আনন্দের বার্তা বয়ে নিয়ে আসুক, এই কামনা করছি। পবিত্র এ দিনে আমি মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ ও মুসলিম উম্মাহর উত্তরোত্তর উন্নতি, সমৃদ্ধি ও অব্যাহত শান্তি কামনা করছি।
প্রধানমন্ত্রীর ঈদ কর্মসূচী ॥ ঈদের দিন সকাল সাড়ে ৯টায় প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারী বাসভবন গণভবনে দলীয় নেতাকর্মী, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, রাজনীতিক, কবি, সাহিত্যিক, লেখক, সাংবাদিক, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, বিভিন্ন পেশাজীবী নেতা, মুক্তিযোদ্ধাসহ সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। বেলা সাড়ে ১১টায় কূটনীতিক ও বিচারপতিদের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সেখানে আমন্ত্রিত অতিথিদের আপ্যায়ন করা হবে।
বিরোধীদলীয় নেতার বাণী ॥ বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। শুভেচ্ছা বাণীতে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, দীর্ঘ এক মাস সিয়ামসাধনার পরে পবিত্র ঈদ ধনী-গরিব ভেদাভেদ ভুলে এক কাতারে শামিল করে দেয়ার পাশাপাশি হিংসা-বিদ্বেষ ও অহঙ্কারসহ সব অন্যায় পাপাচার মুছে দিয়ে নতুন করে সুখী জীবনযাপন শুরু করার তাগিদ দেয়।
রওশন এরশাদ আরও বলেন, ঈদে আনন্দ উদ্যাপনের পাশাপাশি মানবজাতির মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বোধ, সামাজিক সম্প্রীতি, সাম্যচেতনা এবং মহামিলনের বার্তা নিয়ে আসবে বিশ্বজনের দ্বারপ্রান্তে।
বিএনপি চেয়ারপার্সনের বাণী ॥ বাণীতে ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল মুসলমানকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানান বেগম খালেদা জিয়া। ব্যক্তি জীবনকে সুন্দর, পরিশুদ্ধ ও সংযমী করে গড়ার লক্ষ্যে মোমিন মুসলমানরা মাসব্যাপী সিয়ামসাধনার পর অনাবিল আনন্দের বার্তা নিয়ে ঈদ-উল-ফিতর সমাগত। বিশ্ব মুসলিমের সবচেয়ে বড় উৎসব ঈদ-উল-ফিতর । আর ঈদ-উল-ফিতরের উৎসবে সমাজের সকল ভেদরেখা ও সীমানা অতিক্রম করে মানুষে মানুষে মহামিলন ঘটায় ও সৃষ্টি করে পরস্পরের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছাবোধ। ধনী-গরিব, উঁচু-নিচু নির্বিশেষে সকল মানুষকে এক কাতারে দাঁড় করায়। হানাহানি, হিংসা, বিদ্বেষ ও তিক্ততার গ্লানি থেকে মানুষের মনকে এক স্বর্গীয় শান্তি ও সম্প্রীতির চেতনা দান করে ঈদ-উল-ফিতরের উৎসব। তাই আজকের এই উৎসবের দিনে প্রতিটি মুসলমান নর-নারী সৌহার্দ্যরে বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে আনন্দকে একত্রে উপভোগ করতে হবে।
বিএনপি চেয়ারপার্সনের ঈদ কর্মসূচী ॥ ঈদের দিন বেলা ১১টা থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত বিএনপি চেয়ারপার্সন রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিদেশী কূটনৈতিক, দলীয় নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।
জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের কর্মসূচী ॥ জাতীয় পার্টি এক খবর বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ঈদের দিন গুলশানের আজাদ মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করবেন এইচএম এরশাদ। এর পর তিনি বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত বনানীতে নিজ কার্যালয়ে সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।
রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের শুভেচ্ছা ॥ পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে। শুভেচ্ছাবার্তায় তারা দুঃখ গ্লানি ব্যর্থতা ভুলে ধনী-গরিব, আমির-ফকির, নির্বিশেষে সবাইকে ঈদের অনাবিল আনন্দ উপভোগ করতে ও ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার পাশপাশি সুখীসমৃদ্ধ দেশ গড়তে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে যে সব সংগঠন শুভেচ্ছা জানিয়েছে- তাঁদের মধ্যে রয়েছে জাতীয় পার্টির মহাসচিব, বাংলাদেশ খ্রীস্টান এ্যাসোসিয়েশন, জাকের পার্টি।
জাতীয় ঈদগাহের প্রস্তুতি ॥ পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে ইতোমধ্যে জাতীয় ঈদগাহের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। দেশের প্রধান ঈদ জামাত জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে। এতে ইমামতি করবেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব প্রফেসর মাওলানা মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন। জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের প্রধান জামায়াতের পাশে পর্দা দিয়ে মহিলাদের ঈদের নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের সুবিধার্থে ওজু করার ব্যবস্থা রাখাসহ ভ্রাম্যমাণ টয়লেট স্থাপনেরও ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
বায়তুল মোকাররমে জাতীয় মসজিদে ঈদ জামাতের সময়সূচী ॥
অন্যবারের ন্যায় এবারও জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ৫টি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এখানে প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৭টায়। এতে ইমামতি করবেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ঈমাম হাফেজ মুফতি মুহিবুল্লাহিল বাকী নদভী। এ ছাড়া বায়তুল মোকারমের দ্বিতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৮টায়, তৃতীয় জামাত সকাল ৯টায়, চতুর্থ জামাত সকাল ১০টায়, পঞ্চম ও সর্বশেষ জামাত অনুষ্ঠিত হবে বেলা ১১টায়। ঈদের জামাতগুলোর ঈমামতি করবেন পর্যায়ক্রমে হাফেজ মাওলানা মিজানুর রহমান, মাওলানা ওয়ালীযূর রহমান খান, ড. মাওলানা আবদুল কাইয়ূম আল আযহারী, মাওলানা মুহাম্মদ আবদুর রব মিয়া আল বাগদাদী।
জাতীয় সংসদ ॥ পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে ঈদের দিন সকাল ৮টায় বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় সংসদের হুইপ, সংসদ সদস্য ও সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ এলাকার মুসল্লিরা এ জামায়াতে অংশ নেবেন বলে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
ঈদ জামাতের সময়সূচী ॥ সকাল সাড়ে ৭টা রসুলবাগ জামে মসজিদ (দক্ষিণ মুগদা ব্যাংক কলোনি), বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ।
সকাল পৌনে ৮টা ॥ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় মাঠ, মিরপুর ১২ নং সেকশনের হারুন মোল্লা ঈদগা মাঠ।
সকাল ৮টা ॥ পরিবাগ জামে মসজিদ, বসুন্ধরা রাজবাড়ী জামে মসজিদ, কল্যাণপুর হাউজিং এস্টেট মাঠ, সায়েদাবাদ আরজুশাহ দরবার শরীফ বড় জামে মসজিদ, নয়াপল্টন জামে মসজিদ, খিলগাঁও সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ, ব্রাদার্স ইউনিয়ন খেলার মাঠ, গেন্ডারিয়া ধুপখোলা ইস্ট ক্লাব মাঠ, এলিফেন্ট রোড এরোপ্লেন মসজিদ, খিলগাঁও পল্লীমা সংসদ মাঠ, ধানমন্ডি ঈদগাহ্ মাঠ।
সকাল সাড়ে ৮টা ॥ কলাবাগান বশিরউদ্দিন রোড জামে মসজিদ, ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন প্ল্যাটফর্ম, মিরেরবাজার জামে মসজিদ (বাবুখান, গাজীপুর), বসুগাঁও মীরবাড়ি ঈদগাঁহ মাঠ (গাজীপুর)।
সকাল সোয়া ৮টা ॥ পূর্ব কাজীপাড়া বায়তুস্ সালাম জামে মসজিদ।
সকাল ৯টা ॥ সিদ্দিকবাজার মতি সর্দার জামে মসজিদ, সায়েদাবাদ আরজুশাহ দরবার শরীফ বড় জামে মসজিদ (দ্বিতীয় জামায়াত), মাঝুখান ঈদগাহ্ মাঠ (গাজীপুর)।
সকাল ১০টা ॥ সায়েদাবাদ আরজুশাহ দরবার শরীফ বড় জামে মসজিদ (তৃতীয় জামায়াত), বিশ্ব জাকের মঞ্জিল, বনানী দরবার শরীফ।
গাজায় ২৪ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতিতে রাজি হামাস
জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ সাময়িক যুদ্ধবিরতি শেষে ইসরাইল ফের গাজায় হামলা চালানো শুরু করার পর ফিলিস্তিনী গোষ্ঠী হামাস ২৪ ঘণ্টার নতুন যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে। এ যুদ্ধবিরতি স্থানীয় সময় দুপুর ২টা থেকে কার্যকর হবে বলে জানায় হামাস। কিন্তু ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সিএনএনকে বলেন, হামাস ইতোমধ্যে তাদের ঘোষিত যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। খবর বিবিসি অনলাইনের।
হামাসের এক মুখপাত্র বলেছেন, সব ফিলিস্তিনী গোষ্ঠী মিলে মানবিক কারণে ২৪ ঘণ্টার এক যুদ্ধবিরতি শুরু করেছে। জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় সাড়া দিয়ে তারা এই যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়।
ইসরাইলী সেনাবাহিনী ঘোষণা করে যে, হামাসের অব্যাহত রকেট হামলার জবাবে রবিবার সকালে গাজায় ফের হামলা শুরু করে। হামলায় তারা বিমান, স্থল ও জলপথে অভিযান শুরু করে। তবে ইসরাইল হামলা চালানো শুরু করার পর হামাস গাজায় মানবিক যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত নেয় বলে জানায়। হামাসের মুখপাত্র সামি আবু জাহরি এক বিবৃতিতে বলেন, জাতিসংঘের মধ্যস্থতা এবং রমজান শেষে ঈদের প্রস্তুতির জন্য গাজার অধিবাসীদের বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে আমরা ২৪ ঘণ্টা মানবিক যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এই যুদ্ধবিরতি শুরু হচ্ছে রবিবার দুপুর ২টা থেকে।
প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর মন্তব্যের আগে ইসরাইলী সেনাবাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল পিটার লারনার বলেন, হামাসের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা একটা ইতিবাচক দিক। তবে তিনি সতর্কতা উচ্চারণ করে বলেন, এটা একটা প্রাথমিক সিদ্ধান্ত এবং আমরা বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।
ইসরাইল রবিবার সকালে গাজায় ফের বোমা বর্ষণ শুরু করার পর সেখানে প্রচ- বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। হামাস এর আগে ইসরাইলের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছিল।
গত ৮ জুলাই থেকে ইসরাইলী হামলায় এ পর্যন্ত এক হাজার ৬০ জন ফিলিস্তিনী নিহত হয়েছে। এদের বেশিরভাগই শিশু। অন্যদিকে মাত্র ৪০ জন ইসরাইলী হামাসের হামলায় নিহত হয়, যাদের বেশিরভাগই সৈনিক। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, রবিবার ইসরাইলের হামলায় আট ফিলিস্তিনী নাগরিক নিহত হয়েছে। ইসরাইলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, রবিবার হামাস ২৮টি রকেট হামলায় চালায়। এর আগে ইসরাইলের মন্ত্রিপরিষদ গাজায় ইসরাইলী আক্রমণে আরেকটি মানবিক যুদ্ধবিরতি অনুমোদন করেছে বলে একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বিবিসিকে বলেছেন।
ওই কর্মকর্তা বলেন, জাতিসংঘের দিক থেকে অনুরোধের প্রেক্ষাপটে তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং এই যুদ্ধবিরতি ২৪ ঘণ্টা বলবৎ থাকবে। তবে হামাসের দিক থেকে যদি এ সময়ে কোন আক্রমণ করা হয় ইসরাইল সঙ্গে সঙ্গে তার পাল্টা জবাব দেবে। এর আগে শনিবার ১২ ঘণ্টার জন্য সাময়িক যুদ্ধবিরতির সময় শেষ হলে হামাসের পক্ষ থেকে রকেট হামলা শুরু হয়। পরে হামাস যুদ্ধবিরতির সময় সম্প্রসারণ প্রত্যাখ্যান করে এবং বেশ কয়েকটি রকেট হামলা চালানো হয়।
হামাসের একজন মুখপাত্র বিবিসিকে বলেন, কি পরিমাণ ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে তা বোঝা গেছে এবং এটিই তাদের ছক পরিবর্তনের কারণ। ১২ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতির সময় বিভিন্ন বিধ্বস্ত ভবন থেকে বহু মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।
হামাস বলছে ইসরাইলকে যুদ্ধ পুরো বন্ধ করতে হবে। কেননা তারা এসব বিরতিকে আরও হামলার জন্য প্রস্তুতিমূলক সময় হিসেবে ব্যবহার করছে।
কিশোরীগঞ্জে দুই ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা
নিজস্ব সংবাদদাতা,নীলফামারী, ২৭ জুলাই ॥ নীলফামারীর কিশোরীগঞ্জ উপজেলায় দুই ব্যবসায়ীকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার রাতের এই ঘটনায় রবিবার সকালে ওই লাশ দুটি উপজেলার বিন্যাকুড়ির তিস্তা সেচ ক্যানেল এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
খুনের শিকার ওই দুই ব্যক্তি হলে উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের পশ্চিমপাড়া দক্ষিণ বড়ভিটা গ্রামের আইয়ুব আলীর পুত্র দাদন ব্যবসায়ী খায়রুল ইসলাম (৩২) ও বড়ভিটা গ্রামীণ ব্যাংক পাড়ার সুদন বৈষ্যের মাছ ব্যবসায়ী পুত্র মৃণাল বৈষ্য (৩৫)। এদের মধ্যে খায়রুল ইসলামকে মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে এবং মৃণাল বসুকে জবাই করে হত্যা করা হয়। এরা দুইজন বন্ধু বলে জানা গেছে।
এ সময় পুলিশ দাদন ব্যবসায়ী খায়রুল ইসলামের মোটরসাইকেলটি লাশ উদ্ধারের স্থান থেকে তিন কিলোমিটার দূরে পার্শ্ববর্তী রনচন্ডি ইউনিয়নের টটুয়া এলাকায় পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে। ধারণা করা হচ্ছে ব্যবসা সংক্রান্ত টাকা লেনদেনের জের ধরে এদের প্রতিপক্ষ গ্রুপের লোকজন এই দুই ব্যবসায়ীকে হত্যা করেছে।
কিশোরীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজার রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান যে, এদের ব্যবসা সংক্রান্ত টাকা লেনদেনে প্রতিপক্ষ মোবাইলে ডেকে নিয়ে হত্যা করেছে বলে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে। লাশ উদ্ধার করে জেলার মর্গে ময়না তদন্তের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে।
ঈদের পর বিএনপিতেই সংঘর্ষের আশঙ্কা, দ্বন্দ্ব সংঘাত বাড়ছে
কমিটি পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় কোন্দল কমেনি
শরীফুল ইসলাম ॥ বিএনপিতে নেতাকর্মীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাত দিন দিন বাড়ছেই। দলে চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া ছাড়া আর কাউকে কেউ মানতে চাচ্ছে না আর এ জন্যই এ সমস্যা ক্রমেই প্রকট হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ঈদের পর আন্দোলন করতে গেলে দলের নেতাকর্মীদেরই নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে অভিজ্ঞমহল মনে করছে।
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে থেকেই দলে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির কিছু নেতা নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাতে লিপ্ত হয়। কিন্তু বিএনপি নির্বাচন বর্জনের পর আওয়ামী লীগ যখন সমমনা দলগুলোকে নিয়ে আবারও ৫ বছরের জন্য সরকার গঠন করে ফেলে তখন বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম হতাশা ভর করে। এর পর বিএনপি হাইকমান্ড দলের বিভিন্ন স্তরে কমিটি পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু করলে আবারও নেতাকর্মীদের মধ্যে গ্রুপিং-কোন্দল ও দ্বন্দ্ব-সংঘাত বাড়তে থাকে। ১৮ জুলাই মির্জা আব্বাসকে আহ্বায়ক ও হাবিব-উন-নবী খান সোহেলকে সদস্য সচিব করে ৫৩ সদস্যের ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠনের পর দলে আরেক দফা দ্বন্দ্ব-সংঘাত বেড়ে যায়। আগের কমিটির আহ্বায়ক সাদেক হোসেন খোকার অনুসারীরা মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বাধীন কমিটির সরাসরি বিরোধিতা করতে থাকে। এ ছাড়াও নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠনের পরপরই মির্জা আব্বাস ঢাকা মহানগর বিএনপিতে একনায়কতন্ত্র কায়েমের চেষ্টা করলে কতিপয় কেন্দ্রীয় প্রভাবশালী নেতার ইন্ধনে সদস্য সচিব হাবি-উন-নবী খান সোহেলের নেতৃত্বে আরেকটি নতুন গ্রুপের সৃষ্টি হয়। এভাবে ঢাকা মহানগর বিএনপির নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে বিএনপিতে আবারও কোন্দল মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে।
২৪ জুলাই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঢাকা মহানগর বিএনপির নতুন আহ্বায়ক কমিটির নেতাদের নিয়ে শেরেবাংলানগরে জিয়ার মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে যান। কিন্তু মাজারে ফুল দেয়ার সময় মহাসচিবের একপাশে ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মির্জা আব্বাস ও আরেকপাশে সদস্য সচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল দাঁড়ান। কিন্তু মির্জা আব্বাসের অনুসারী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ধমক দিয়ে সোহেলকে সেখান থেকে সরিয়ে দেন। এ নিয়ে দুইপক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। একই দিনে মহিলা দল ও ছাত্রদল সেখানে মারামারি ও চুলোচুলিতে লিপ্ত হয়। ২৬ জুলাই নয়াপল্টন ভাসানী ভবনে ঢাকা মহানগর বিএনপি কার্যালয়ে সদস্য সচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের বসার জায়গা মির্জা আব্বাসের অনুসারী পল্টন থানা বিএনপির নেতারা দখল করে নিলে এ নিয়ে দুই গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।
৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর পরই বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও তাঁদের অনুসারী নেতারা আন্দোলন ব্যর্থ হওয়ায় দলের ভাইসচেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকার নেতৃত্বাধীন ঢাকা মহানগর বিএনপির ওপর চাপায়। একপর্যায়ে তাঁদের সঙ্গে সুর মেলান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) আসম হান্নান শাহ ও ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। এ ছাড়া তাঁরা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ওপরও দায় চাপান। এ নিয়ে প্রায় প্রতিদিনই এক নেতা আরেক নেতার বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করতে থাকেন। কোন কোন নেতা ইশারায়-ইঙ্গিতে আন্দোলনে ব্যর্থতার দায় দলীয় হাইকমান্ডের ওপরও চাপানোর চেষ্টা করেন। এতে দলের ভেতর নেতায় নেতায় দ্বন্দ্ব আরও বেড়ে যায়।
ঢাকা মহানগর বিএনপির কতৃত্ব নিয়ে মির্জা আব্বাসসহ আরও ক’জন সিনিয়র নেতার সঙ্গে সাদেক হোসেন খোকার দ্বন্দ্ব আরও বেশি বাড়তে থাকায় ফেব্রুয়ারি মাসের দ্বিতীয় সপ্তায় বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া তাঁর গুলশান কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর বিএনপির ওয়ার্ড ও থানা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সে বৈঠকে মির্জা আব্বাসসহ ক’জন সিনিয়র নেতাও উপস্থিত ছিলেন। এ বৈঠকে কতিপয় নেতা নির্বাচনের আগে-পরে আন্দোলন সফল না হওয়ায় সরাসরি ঢাকা মহানগর বিএনপিকে দায়ী করেন। তাঁরা বলেন, তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা নির্বাচনের আগে সারাদেশে আন্দোলন বেগবান করে দেশে প্রায় অচলাবস্থার সৃষ্টি করে ফেলে। কিন্তু ঢাকার নেতারা রাজপথে না নামায় রাজধানীতে আন্দোলন ফ্লপ হয়। এ সুযোগে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার সারাদেশে নির্বাচন করে ফেলতে সক্ষম হয় আর এতে রাজনৈতিকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয় বিএনপি।
ঢাকা মহানগর বিএনপির সঙ্গে বৈঠককালে কতিপয় নেতার বক্তব্য আমলে নিয়ে আন্দোলনে ব্যর্থতার দায় ঢাকা মহানগর বিএনপির ওপর চাপিয়ে চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া বর্তমান কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে নতুন কমিটি করার কথা সবাইকে জানিয়ে দেন। এ কথা শুনে ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাদেক হোসেন খোকা জরুরী সংবাদ সম্মেলন করে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করার পাশাপাশি নিজে পদত্যাগ করার ঘোষণা দেন। সেই সঙ্গে কারও নাম উল্লেখ না করে আন্দোলনে ব্যর্থতার জন্য দলের সিনিয়র নেতাদের ওপর দায় চাপান। এ নিয়ে আরও ক’দিন পরস্পরকে দোষারোপ করে দলের নেতাদের মধ্যে বক্তব্য চলতে থাকে। এ পরিস্থিতিতে দ্বন্দ্ব-সংঘাত আরও বাড়তে পারে আঁচ করতে পেরে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া তখন ঢাকা মহানগর বিএনপির নতুন কমিটি করার প্রক্রিয়া থেকে আপাতত সরে আসেন। যদিও সাদেক হোসেন খোকা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় ১৮ জুলাই ঢাকা মহানগর বিএনপির নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়।
একপর্যায়ে সারাদেশের সকল জেলা কমিটির নেতাদের ঢাকায় ডেকে এনে কমিটি পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেন খালেদা জিয়া। এ নিয়ে আবার নতুন করে দ্বন্দ্ব শুরু হয়ে যায় কেন্দ্র থেকে শুরু করে জেলা পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে। নিজ নিজ এলাকার কমিটি পুনর্গঠনের ব্যাপারে খালেদা জিয়া কেন্দ্রীয় নেতাদের মতামত না নেয়ায় তারা খালেদা জিয়ার ওপর ক্ষুব্ধ হন। এ পরিস্থিতিতে ডজনখানেক জেলা কমিটির সঙ্গে বৈঠক ও কমিটি পুনর্গঠনের পর এ প্রক্রিয়া থেকে সরে আসেন খালেদা জিয়া।
নির্বাচনের কিছুদিন পর থেকে বেশ ক’দিন দেশের বাইরে ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। তখন মওদুদ আহমদকে কটাক্ষ করে প্রায়ই বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতেন দলের আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন ‘দেশের সব কোর্ট এখন মুজিব কোর্টের পকেটে বন্দী।’ এ বক্তব্যের কারণে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা হয়। এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, পাবলিকলি তার এ ধরনের বক্তব্য দেয়া ঠিক হয়নি। এর পর একদিন আদালত অঙ্গনেই এ নিয়ে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের সঙ্গে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের বাদানুবাদ হয়। পরে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে খালেদা জিয়ার কাছে ব্যারিস্টার মওদুদ গয়েশ্বর রায়ের বক্তব্য ও আদালত অবমাননার মামলা নিয়ে নালিশ করলে তাঁর ওপর সেখানেই চরম ক্ষুব্ধ হন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। এর পর খালেদা জিয়া দুই নেতাকে ধমক দিয়ে থামিয়ে দিয়ে বলেন, এ নিয়ে যেন আর কোন কথা না শুনি। কিন্তু এর পরও এই দুই নেতা পরস্পরের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিএনপি নেতারা এখন খালেদা জিয়া ছাড়া আর কোন নেতাকে পরোয়া করেন না। তবে দলের একটি অংশ সব সময় লন্ডন থেকে তারেক রহমান যে মেসেজ দেন সে অনুসারে কাজ করেন আর দলে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের সঙ্গে কিছু নেতার সুসম্পর্ক থাকলেও অন্য নেতারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে তাঁর বিপক্ষে অবস্থান করছেন। এ পরিস্থিতিতে সামনের দিনগুলোতে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাত আরও বেড়ে যাবে বলে খোদ দলের নেতাকর্মীরাই এখন বলাবলি করছেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব) মাহবুবুর রহমান জনকণ্ঠকে বলেন, বিএনপি একটি অনেক বড় রাজনৈতিক দল। এখানে অনেক মত ও পথের নেতাকর্মীদের সম্মিলন ঘটেছে। তাই নিজেদের মধ্যে মাঝে-মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হতেই পারে। এতে তেমন সমস্যা হবে না। আন্দোলন শুরু হয়ে গেলে সবাই খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধভাবেই কাজ করবে।
পার্ক ও বিনোদন কেন্দ্র প্রস্তুত, ঢল নামবে মানুষের
রাজধানীজুড়ে ঈদ আনন্দ
মোরসালিন মিজান ॥ সত্যি, আকাশে বাতাসে আনন্দ খেলা করছে এখন। ঈদের আগেই ঈদের খুশি ছড়িয়ে পড়েছে গোটা দেশে। ধনী গরিব নেই। সব ঘরে চলছে ঈদ উদ্যাপনের প্রস্তুতি। আত্মীয়পরিজনের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে প্রতিদিন রাজধানী ঢাকা ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছেন লাখ লাখ মানুষ। তবে এখন অনেকেই ঢাকার মানুষ। এখানেই ঈদ করেন। প্রথম দিনটি তাঁরা মোটামুটি বাসায় কাটান। দ্বিতীয় দিন থেকে শুরু হয় ফাঁকা ঢাকায় ঘুরে বেড়ানো। নতুন পোশাক পরে মনের আনন্দে ছুটে বেড়ান তাঁরা। এ সময় ত৭াদের মূল ঠিকানা হয় প্রধান প্রধান বিনোদন কেন্দ্রগুলো। সে বিবেচনায় বিনোদন কেন্দ্রগুলো গ্রহণ করেছে বিশেষ প্রস্তুতি।
ঢাকা শিশুপার্ক ॥ রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র শাহবাগে অবস্থিত ঢাকা শিশুপার্ক। শহরের অতি পুরনো এ বিনোদন কেন্দ্রে সারাবছরই ছোটমণিদের ভিড় লেগে থাকে। আর ঈদ হলে তো কথাই নেই। প্রতিবারের মতো এবারও ঈদ আনন্দের সঙ্গী হতে প্রস্তুত শিশুপার্ক। ইতোমধ্যে সেজেছে নতুন করে। রাইডগুলোর ছোটখাটো ত্রুটি-বিচ্যুতি দূর করা হয়েছে। রং করা হয়েছে। ব্যবস্থা করা হয়েছে বাড়তি আলোকসজ্জার। এর পাশাপাশি পার্কের পরিবেশ আরও বেশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। শিশুপার্ক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এখানে বর্তমানে ১০টি রাইড রয়েছে। ঈদের প্রথম চার দিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে পার্ক। প্রবেশমূল্য ৮ টাকা। তবে সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে। শিশুপার্কের সহকারী প্রকৌশলী সিদ্দিকুর রহমান বলেন, এখন আধুনিক বিনোদন কেন্দ্র থাকলেও শিশুপার্কের দর্শনার্থী কমেনি। ঈদে প্রতিদিন গড়ে ৫০ হাজার দর্শনার্থী আসেন। শিশুপার্ক সেভাবেই প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানান তিনি।
চিড়িয়াখানা ॥ ঈদে সাধারণ মানুষের বড় একটি অংশ পরিবারপরিজনসহ চিড়িয়াখানায় বেড়াতে যান। বিভিন্ন জন্তুজানোয়ার দেখে চমৎকার সময় কাটান। এবার ঈদের প্রথম পাঁচ দিন সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকবে চিড়িয়াখানা। প্রবেশমূল্য ১০ টাকা। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করতে ঈদের সময় একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হবে বলে জানিয়েছে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ।
জাতীয় জাদুঘর ॥ ঈদের ছুটিতেও খোলা থাকবে জাতীয় জাদুঘর। বেলা ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত পরিদর্শনের সুযোগ পাবেন দর্শনার্থীরা।
শিশুমেলা ॥ শ্যামলীর শিশুমেলা আশপাশ এলাকার শিশুকিশোরদের প্রধান বিনোদন কেন্দ্র। এখানে শুধু শিশুরা চড়তে পারবে এমন রাইড আছে ৩৫টি। পরিবারের সকলের চড়ার মতো আছে ১২টি রাইড। শিশুমেলা কর্তৃপক্ষ জানায়, ঈদের প্রথম সাত দিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এটি খোলা থাকবে। প্রবেশমূল্য ৩০ টাকা। শিশুমেলার ম্যানেজার এবিএম মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, বাচ্চাদের ঈদ আনন্দের সঙ্গী হতে সাধ্যের সবটুকু দিয়ে কাজ করেছেন তাঁরা।
ফ্যান্টাসি কিংডম ॥ রাজধানীর বাইরে হলেও এখন ফ্যান্টাসি কিংডম রাজধানীর মানুষের অন্যতম প্রধান বিনোদন কেন্দ্র। এবার ঈদের প্রথম সাত দিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকবে ফ্যান্টাসি কিংডম। বড়দের প্রবেশমূল্য ২৫০ টাকা। ছোটদের ১৫০। প্রবেশসহ সব রাইডে চড়তে চাইলে বড়দের জন্য ৪৫০ এবং ছোটদের জন্য ২৫০ টাকার টিকেট সংগ্রহ করতে হবে। বাড়তি ২৭০ টাকার টিকেট কেটে সাঁতার কাটা যাবে ওয়াটার কিংডমে। একই সঙ্গে ওয়েভপুল, লেজি রিভার, টিউব স্লাইড, ওয়াটারপুলসহ বিভিন্ন রাইডে চড়া যাবে।
নন্দন পার্ক ॥ সাঁতার কাটাসহ পানির সঙ্গে হরেক খেলাধুলার জন্য যাওয়া চাই নন্দন পার্কে। এটিও ঢাকার বাইরে। এর পরও ঈদে নন্দন ওয়াটার ওয়ার্ল্ড ও ড্রাই পার্কে রাজধানীর মানুষের ভিড় লেগে থাকে। এখানে একটি প্যাকেজসহ প্রবেশমূল্য ৩৪০ টাকা। প্যাকেজ ছাড়া আলাদাভাবে প্রবেশ করতে চাইলে ১৭০ টাকার টিকেট সংগ্রহ করতে হবে। এর বাইরে ২৪টি রাইডে চড়তে ১৫ থেকে ৬০ টাকার টিকেট সংগ্রহ করতে হবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকবে পার্ক।
হেরিটেজ পার্ক ॥ ফ্যান্টাসি কিংডমের পাশেই হেরিটেজ পার্ক। এখানে দেখা যাবে বেশি কিছু ঐতিহাসিক স্থাপনা। রেপ্লিকা ধরনের হলেও নিদর্শনগুলো দেখে ভাল লাগবে দর্শনার্থীদের। পাশাপাশি চড়া যাবে জায়ান্ট ফেরিস হুইল, পাইরেট শিপ, ড্রাই সøাইড, কফি কাপ, ব্যাটারি কার, ফ্যামিলি ট্রেনসহ বিভিন্ন রাইডে। সব রাইডসহ প্রবেশমূল্য ১৮০ টাকা।
এ সবের বাইরে ছোট-বড় আরও বহু বিনোদন কেন্দ্রে ঈদ উদযাপনের বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে বলে জানা গেছে। বিনোদন কেন্দ্রগুলোর পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, রমনা পার্ক, চন্দ্রিমা উদ্যান, সংসদ ভবনসহ বিভিন্ন খোলামেলা জায়গায় জমবে ঈদের আনন্দ আড্ডা।
যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর পরই গাজায় ফের ইসরাইলের হামলা
রবিবার মধ্যরাত পর্যন্ত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই আক্রমণ শুরু
ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরাইল যুদ্ধবিরতির সময়সীমা আরও ২৪ ঘণ্টা বাড়ানোর ঘোষণা দেয়ার পরপরই ফের হামলা শুরু করেছে। জাতিসংঘের অনুরোধে ইসরাইলী মন্ত্রিসভা যুদ্ধবিরতি স্থানীয় সময় রবিবার মধ্যরাত পর্যন্ত বাড়ানোর বিষয়টি অনুমোদন করে। তবে হামাসের যোদ্ধারা ২৪ ঘণ্টার মানবিক যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করেছে এমন অভিযোগ করে নতুন যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই গাজায় ফের হামলা শুরু করেছে ইসরাইল। রবিবার এক বিবৃতিতে হামাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে লড়াই আবার শুরু করার ঘোষণা দেয় ইসরাইলী সেনাবাহিনী। বিবৃতিতে বলা হয়, মানবিক যুদ্ধবিরতির সময়ে হামাসের অনবরত রকেট নিক্ষেপের জেরে গাজা ভূখ-ে সেনাবাহিনী আবার আকাশ, নৌ ও স্থলপথে তৎপরতা শুরু করতে যাচ্ছে। এই ঘোষণার কিছুক্ষণের মধ্যেই গাজার বাসিন্দারা শহরের পূর্ব দিকে ব্যাপক গোলাবর্ষণের আওয়াজ পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। সূত্র- বিবিসি ও এএফপি
এর আগে চলমান সঙ্কটের মুখে শনিবার তেল আবিবে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক শেষে এক বিবৃতিতে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর কথা জানানো হয়, যা রবিবার মধ্যরাত পর্যন্ত কার্যকর থাকার কথা বলা হয়েছিল। ইসরাইলী মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকের পর দেশটির এক কর্মকর্তা বলেন, জাতিসংঘের অনুরোধে মানবিক বিরতির মেয়াদ রবিবার মধ্যরাত পর্যন্ত অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। অস্ত্রবিরতি লঙ্ঘনের কোন ঘটনা ঘটলে ইসরাইলী প্রতিরক্ষা বাহিনী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। তবে হামাসের সঙ্গে ২০ দিন ধরে চলা সংঘাত অবসানে ব্যাপক কোন চুক্তি এখনও অনেক দূরের বিষয় বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
হামাস বলেছে, গাজা থেকে ইসরাইলী ট্যাঙ্ক প্রত্যাহার না করা হলে এবং বাস্তুচ্যূত ফিলিস্তিনীদের ঘরে ফিরতে না দেয়া পর্যন্ত কোন অস্ত্রবিরতি কার্যকর হবে না। শনিবার উভয়পক্ষের ১২ ঘণ্টার অস্ত্রবিরতি শেষ হয়। এর আগে যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত করার জাতিসংঘের উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান করে হামাস। হামাস বলেছে, ইসরাইলী সেনারা গাজা ছেড়ে না যাওয়া পর্যন্ত এবং উদ্বাস্তু লোকজনকে নিজবাড়িতে ফিরে আসার অনুমতি না দেয়া পর্যন্ত তারা যুদ্ধবিরতি মেনে নেবে না। শনিবারের যুদ্ধবিরতিকে ইসরাইল আরও হামলার প্রস্তুতি নিতে ব্যবহার করেছে এবং ওই বিরতি চলাকালে ইসরাইলের পক্ষ থেকে তা লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছে হামাস। ইসরাইল জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি চলাকালেও হামাসযোদ্ধাদের ব্যবহৃত সুড়ঙ্গের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। ইসরাইলী প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, শনিবার রাত ৮টায় যুদ্ধবিরতির সময় শেষ হওয়ার পরপরই গাজা থেকে ইসরাইলে তিনটি মর্টারের গোলা নিক্ষেপ করা হয় এবং গোলাগুলো ইশখল আঞ্চলিক কাউন্সিল এলাকায় আঘাত হেনেছে। হামাসের সশস্ত্র শাখা কাসাম ব্রিগেড বলেছে, তারা ইসরাইলে দুটি দীর্ঘ পাল্লার ও পাঁচটি স্বল্প পাল্লার রকেট নিক্ষেপ করেছে। শনিবার যুদ্ধবিরতি চলাকালে নিজেদের খাবারের মজুদ বৃদ্ধি ও হতাহত সেনাদের উদ্ধার করে ইসরাইলী সেনারা। গাজাবাসীরাও যুদ্ধবিরতির সুযোগে নিহত স্বজনদের লাশ খুঁজে বের করে সেগুলো দাফনের ব্যবস্থা করে। সকাল ৮টায় যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পরপরই তারা সবাই রাস্তায় বের হয়ে এসে ইসরাইলী হামলার ধ্বংসযজ্ঞ প্রত্যক্ষ করে। এ সময় ইসরাইলীদের মতো তারাও নিজেদের খাবারের মজুদ বাড়িয়ে পরবর্তী পরিস্থিতির জন্য তৈরি হয়। ইসরাইলের ২০ দিনের অভিযানে গাজায় এরই মধ্যে নিহত হয়েছে অন্তত এক হাজার ৫০ জন, যাদের অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক। হামাসের পাল্টা হামলায়ও ইসরাইলের ৪২ সেনাসদস্য ও তিনজন বেসামরিক নিহত হন। ইতোমধ্যে গাজায় ইসরাইলের সামরিক কর্মকা- যুদ্ধাপরাধ বলে গণ্য হতে পারে বলে হুঁশিয়ার করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের প্রধান নাভিপিল্লাই। গত ৮ জুলাই গাজায় বিমান হামলা শুরু করে ইসরাইলী সেনারা। ১০ দিনের মাথায় এর মাত্রা বাড়িয়ে নৌ ও স্থল অভিযানও শুরু করে তারা।

গেরিলা গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ॥ লিবিয়ায় মার্কিন দূতাবাস খালি

লিবিয়ায় প্রতিদ্বন্দ্বী গেরিলা গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের মুখে খালি করা হয়েছে মার্কিন দূতাবাস। মার্কিন প্রশাসন দেশটির চলমান সংঘর্ষকে ‘প্রকৃত ঝুঁকি’ বলেও মনে করছে। খবর ওয়েবসাইট।
মার্কিন দূতাবাসের কর্মী সরিয়ে নেয়ার পাশাপাশি লিবিয়ায় বসবাসরত সমস্ত মার্কিন নাগরিককে শীঘ্রই সে দেশ ছাড়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সহায়তায় লিবিয়া থেকে দূতাবাস কর্মীদের বেশিরভাগকে সরিয়ে তিউনিশিয়ায় নেয়া হয়েছে। আর অল্প কয়েকজন কর্মী দিয়ে লিবিয়ায় দূতাবাসের কাজ চালু রাখা হয়েছে। অবশ্য, রাষ্ট্রদূত এ্যানে প্যাটারসন নিজে লিবিয়া ছাড়েননি।


ইন্দোনেশিয়ার নতুন প্রেসিডেন্টের সামনে

অনেক চ্যালেঞ্জজাকার্তার গবর্নর জোকো উইদোদো ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম গণতন্ত্রের এ দেশটিকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছেন। খবর এএফপির।
মৃদুভাষী সাবেক ফার্নিচার ব্যবসায়ী উইদোদোকে মঙ্গলবার ইন্দোনেশিয়া পরবর্তী প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেছেন নির্বাচনী কর্মকর্তারা। যদিও তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রাবোউ সুবিয়ান্তো ফলাফল প্রকাশে কারচুপি হয়েছে বলে আদালতের শরণাপন্ন হচ্ছেন। ব্যাপকভাবে মনে করা হচ্ছে উইদোদো আদালতেও বিজয়ী হবেন। তিনি রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবারের বাইরে থেকে আসা দেশের প্রথম প্রেসিডেন্ট এবং কোটি কোটি ইন্দোনেশীয় তার সংস্কার কর্মসূচীর বাস্তবায়ন দেখার জন্য উৎসুক হয়ে রয়েছে। তার সামনে রয়েছে অজস্র চ্যালেঞ্জ। ইন্দোনেশিয়ার সরকারী চাকরি ও আমলাতন্ত্র দুর্নীতিতে আচ্ছন্ন। দেশের ২০ কোটি ৫০ লাখ জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক দরিদ্র। অর্থনীতিতে ক্রমাগত নাজুক পরিস্থিতি প্রবৃদ্ধিতে হুমকি হয়ে দেখা দিচ্ছে। উইদোদো জ্বালানি ভর্তুকি প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এ ভর্তুকি রাষ্ট্রীয় বাজেটের ২০ শতাংশই খেয়ে ফেলে। ভর্তুকি তুলে নেয়ার বিষয়টি রাজনৈতিক দিক থেকে স্পর্শকাতর হবে এবং সাধারণ জনগণ ও সুযোগ সন্ধানী বিরোধী দলের পক্ষ থেকে আসবে তীব্র প্রতিরোধ।
পার্লামেন্টে উইদোদোর পার্টির চেয়ে বেশি সদস্য রয়েছে প্রাবোউর জোটের। তাই, আইন প্রণয়ন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হবে। ইন্দোনেশীয় পার্লামেন্ট সবচেয়ে দুর্নীতিপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। আইন পরিষদ সদস্যদের উপস্থিতির সংখ্যাটি মোটেই সন্তোষজনক নয় এবং প্রতিবছর খুব কমসংখ্যক বিলই আইনে পরিণত করা যায়। ইন্দোনেশিয়ান ডিফেন্স ইউনিভার্সিটির ইউহানেস সুলাইমান এএফপিকে জানান, পার্লামেন্ট সদস্যদের মধ্যে খুবই বৈরীভাব বিরাজ করছে। উইদোদো সুশাসন চাইলে অর্ধেক সংখ্যক আইন প্রণেতাকে কারাগারে পুরতে হবে। তিনি তাদের দিয়ে সহজেই প্রতিরোধের সম্মুখীন হতে পারেন। প্রতিরোধ আসতে পারে তার নিজ দল ইন্দোনেশিয়ান ডেমোক্র্যাটিক পার্টি অব স্ট্রাগল (পিডিআইপি) থেকে। পিডিআইপি সদস্যদের অধিকাংশেরই সমর্থন রয়েছে সাবেক প্রেসিডেন্ট ও পার্টি নেতা মেঘবতী সুকর্নপুত্রী ও ইন্দোনেশিয়ার প্রথম প্রেসিডেন্ট সুকর্নর নাতনি পুয়ান মহারানীর প্রতি। কেউ কেউ মেঘবতীকে উইদোদোর পাপেট মাস্টার বলেই অভিহত করছে।
ইউক্রেনকে সহায়তায় নয়া মার্কিন পরিকল্পনা
বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে কিয়েভকে তথ্য দেবে ওবামা প্রশাসন
মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর (পেন্টাগন) ইউক্রেনীয় লড়াইয়ে বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করার কাজে সে দেশের সরকারকে সহায়তা করার পরিকল্পনা করছে। এর আওতায় যুক্তরাষ্ট্র বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নিয়ন্ত্রিত ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর সঠিক অবস্থান জানাতে পারবে, যাতে ইউক্রেনীয় সরকার সেগুলোকে আঘাত করতে পারে। কিয়েভের বাহিনী রুশপন্থী বিদ্রোহীদের মূল ঘাঁটি দোনেৎস্ক পুনর্দখলের চেষ্টা চালানোর মতো অবস্থানে রয়েছে। খবর নিউইয়র্ক টাইমস ও ওয়াশিংটন পোস্ট অনলাইনের।
পেন্টাগন ও আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এমন পরিকল্পনা উদ্ভাবন করছে, যাতে ওবামা প্রশাসন পূর্ব ইউক্রেনের রুশ সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হাতে থাকা ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর অবস্থান সুনির্দিষ্টভাবে ইউক্রেন সরকারকে জানাতে পারে। ফলে সেই সরকার সেগুলোকে ধ্বংস করতে সেগুলোতে আঘাত আনতে পারবে। আমেরিকান কর্মকর্তারা এ কথা জানান।
তবে প্রস্তাবটি নিয়ে হোয়াইট হাউসে এখনও বিতর্ক করা হয়নি। প্রশাসনের এক উর্ধতন কর্মকর্তা এ কথা জানান। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা সম্ভাব্য সামরিক হামলার লক্ষ্যস্থলগুলো সম্পর্কে আরও সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে রাজি হবেন কিনা, তা স্পষ্ট নয়। কারণ এ পদক্ষেপ ইউক্রেনীয় সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রকে আরও গভীরভাবে জড়িত করবে। ওবামা ইতোপূর্বে অবশ্য ইউক্রেনের সঙ্গে সীমিত পরিমাণে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় অনুমোদন করেছিলেন।
এরই মধ্যে ইউক্রেন সরকারকে কী ধরনের গোয়েন্দা সমর্থন দিতে হবে, সেই প্রশ্নটি প্রশাসনের ভেতর এক বৃহত্তর বিতর্কের অংশে পরিণত হয়েছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের বিরুদ্ধে কতখানি সরাসরি অবস্থান নিতে হবে এবং রাশিয়াকে পূর্ব ইউক্রেনে শক্তিশালী অস্ত্র দ্রুত সরবরাহ করা থেকে বিরত রাখার চেষ্টায় ওয়াশিংটনকে কত বড় ভূমিকা নেয়া উচিতÑ এ সব প্রশ্নই বৃহত্তর বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু। রাশিয়ার সরবরাহ করা ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর সাহায্যে গত দশ দিনে পূর্ব ইউক্রেনে মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ১৭ বিমানসহ অন্তত পাঁচটি বিমান ধ্বংস করা হয়। বেসামরিক যাত্রীবাহী ওই বিমানটি গুলি করে নামানোর পর পূর্ব ইউক্রেনে ভারি অস্ত্র সরবরাহের পরিমাণ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে শুক্রবার পেন্টাগন ও পররাষ্ট্র দফতর জানায়। পূর্ব ইউক্রেনে অস্ত্রভা-ার ও সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস করার জন্য সেগুলোর অবস্থান জানানো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য প্রযুক্তিগতভাবে কঠিন হবে না। ওবামা প্রশাসন ইউক্রেনীয় রুশ সীমান্ত বরাবর সৈন্য ও যন্ত্রপাতি চলাচলের স্যাটেলাইট ছবি ও অন্যান্য প্রমাণ এরই মধ্যে ইউক্রেনীয়দের প্রদান করছে। এক সামরিক কর্মকর্তা বলেন, আমরা মনে করি আমরা সহজেই ও খুবই কার্যকরভাবে সেটি করতে পারি, কিন্তু সেক্ষেত্রে রুশদের সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রশ্নগুলো জড়িত এবং সেটি করা ঠিক হবে কিনা, তা স্থির করা জটিল বিষয়। আরেক সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীকে হামলার লক্ষ্যস্থল সম্পর্কিত তথ্যাদি জানানো হলেও রাশিয়ার সরবরাহ করা বিমান বিধ্বংসী ব্যাটারিগুলোকে নিখুঁতভাবে আঘাত করার সামর্থ্য তাদের রয়েছে কিনা, সেই প্রশ্নও রয়ে গেছে। ক্ষেপণাস্ত্রবাহী ট্রাকগুলো সীমান্ত বরাবর সামনে পেছনে দ্রুত চলাচল করে থাকেÑ যদি কোন হামলা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়, তা হলে এর আঘাতে বেসামরিক লোকজন হতাহত হতে পারে বা এটি রাশিয়ার ভূখ-ে আঘাত আনতে পারে। এতে পুতিন সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করার অজুহাত পাবেন। কিন্তু ইউক্রেনকে বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর অবস্থান সম্পর্কে সঠিক তথ্য দেয়ার প্রশ্নটি ক্রমশ জরুরী হয়ে উঠছে। পেন্টাগন শুক্রবার জানায়, রাশিয়া সীমান্তের ওপরে নতুন অস্ত্রের বড় ধরনের চালান পাঠানোর পরিকল্পনা করছে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। রাশিয়া থেকে মাল্টিপল রকেট লঞ্চারও শীঘ্রই সরবরাহ করা হবে বলে পেন্টাগন মনে করে। এক উর্ধতন মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, রাশিয়াকে উস্কানি না দিয়ে ইউক্রেনকে কতখানি সহায়তা করা যায়, তা নিয়ে বিতর্ক চলছে।
জয়েন্ট চীফ অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল মার্টিন ই ডেম্পসি বলেন, ইউক্রেনকে আমরা কী সহায়তা দিতে পারি, তা নিয়ে আমরা খুবই সক্রিয়ভাবে চিন্তাভাবনা করছি। তিনি বৃহস্পতিবার কলোরাডোতে এ্যাস্পেন সিকিউরিটি ফোরামে ভাষণ দিচ্ছিলেন।
ইউক্রেনের সরকারী সৈন্যরা শনিবার বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মূল ঘাঁটি দোনেৎস্কের ঠিক বাইরে তাদের সঙ্গে খণ্ড খণ্ড লড়াইয়ে লিপ্ত হয়। সৈন্যরা পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে রুশপন্থী বিদ্রোহের কেন্দ্রস্থল দোনেৎস্কোর দিকে এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে। যদি সেনাবাহিনী প্রায় ৩ লাখ লোকের শহর হরলিভকা পুনর্দখলে সফল হয়, তা হলে তারা দোনেৎস্কের কয়েক মাইলের ভেতর থাকবে। বিদ্রোহীরা গত বসন্তকাল থেকে শহরটিতে ঘাঁটি গেড়ে তাদের ভাষায় দোনেৎস্ক পিপলস রিপাবলিক শাসন করছে। সেনাবাহিনী গত সপ্তাহে আশপাশের ১০টি গ্রাম ও শহর থেকে বিদ্রোহীদের হটিয়ে দিয়েছে। তারা দোনেৎস্কে যাওয়ার ও সেখান থেকে বের হওয়ার রাস্তাগুলোতে প্রতিবন্ধকতা দাঁড় করিয়েছে। যাতে শহরটিতে সরবরাহ হতে না পারে। ইউক্রেনের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা পরিষদের এক মুখপাত্র এ কথা জানান। তিনি বলেন, পরবর্তী লক্ষ্যস্থল হবে দোনেৎস্ক। শহরটিকে মুক্ত করা হবে বলে তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেন।
ব্রিকস ব্যাংক বিশ্বের উন্নয়ন অর্থায়নে নতুন ধারার সূচনা করবে
অর্থনীতিবিদদের অভিমত
অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ উন্নয়নমুখী পাঁচ জাতির সমন্বয়ে ব্রিকস ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হলে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের খবরদারি খর্ব হবে মন্তব্য করে দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ব্রিকস ব্যাংক বিশ্বের উন্নয়ন অর্থায়নে নতুন ধারার সূচনা করবে। তাতে বেশি উপকৃত হবে লাতিন আমেরিকাসহ এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলো।
বিশ্বব্যাংক ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে কঠোর শর্ত জুড়ে দেয়, যা অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে অনেকটাই শ্লথ করে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা। ব্রিকস ব্যাংক যদি বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসে, তাহলে বাংলাদেশের ওপর থেকে চাপ কমে যাবে। এতে বাংলাদেশ লাভবান হবে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর টাকায় পরিচালিত মার্কিন নীতির ধারক বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশে অতিরিক্ত খবরদারি করে। আইএমএফ এবং বিশ্বব্যাংক আর্থিক সহায়তা দেয়ার ক্ষেত্রে মার্কিন আর্থিক নীতিই অনুসরণ করে। যে কারণে ঋণগ্রহীতা দেশগুলোর অর্থনীতি থাকে টালমাটাল অবস্থায়। এই অচলায়তন ভাঙ্গতেই ভারত, ব্রাজিল, চীন, রাশিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা যৌথ মালিকানায় গঠন করছে ব্রিকস ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক।
এ প্রসঙ্গে কথা হয় সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. আকবর আলি খানের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘প্রস্তাবিত ব্রিকস ব্যাংক উন্নয়নে যথেষ্ট ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছি। আর বাংলাদেশ যদি এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হতে পারে, তা খুবই ইতিবাচক দিক। তবে ব্রিকস ব্যাংক তাদের ঋণ নীতিমালা কী হবে, তা এখনও পরিষ্কার করেনি। ফলে এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না বাংলাদেশ কতটুকু উপকৃত হবে।’
‘শুরুতে ব্যাংকটি ভারতের দায়িত্বে রয়েছে,’- এটি ইতিবাচক দিক বলে মনে করেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আরেক উপদেষ্টা মির্জা এ বি আজিজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক মনোভাব নিয়ে ব্রিকস ব্যাংক এলে সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ওপর থেকে অনেক চাপ কমবে। ঋণের সুবিধা যদি বিশ্বব্যাংক থেকে ব্রিকসে ভাল হয় তাহলে সেই দিকে ঝোঁকাটাই স্বাভাবিক। সে ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংকের খবরদারি অনেকটাই বন্ধ হবে।’
প্রথম ছয় বছর ব্রিকসের প্রধানের দায়িত্বে থাকবে ভারত। চীনের সাংহাই শহরে থাকবে ব্রিকসের সদর দফতর। তিন প্রধান মালিক ভারত, চীন ও রাশিয়া বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু হওয়ায় ব্রিকস থেকে আর্থিক সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার থাকছে বলে বিভিন্ন মহলে শোনা যাচ্ছে।
জানা গেছে, দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফায় সভাপতির দায়িত্বে থাকবে ব্রাজিল ও রাশিয়া। তবে তাদের মেয়াদ হবে পাঁচ বছর করে। বোর্ড অব গবর্নসের প্রথম প্রধান হবে রাশিয়া। ১০ হাজার কোটি ডলার শেয়ার মূলধনের মধ্যে আপাতত পাঁচটি দেশ সমান মালিকানার ভিত্তিতে হাতে নিচ্ছে মোট পাঁচ হাজার কোটি ডলারের শেয়ার। প্রতিটি দেশের হাতে থাকছে এক হাজার কোটি ডলারের শেয়ার মূলধন।
বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক এম এম আকাশ বলেন, ‘ব্রিকসের মালিকানায় থাকা পাঁচটি দেশের অর্থনৈতিক ভীত শক্তিশালী করাই মূল উদ্দেশ্য। কোন রকম আর্থিক ঝুঁকিতে পড়লে এই ব্যাংক থেকে নিজেরা সহায়তা নেবে। সুতরাং বাংলাদেশ সদস্য হতে পারলে তা হবে ইতিবাচক।’
এম এম আকাশ বলেন, ‘আমার প্রশ্ন হচ্ছে বারবারই কি আমরা আইএমএফের ভুল প্রেসক্রিপশন গ্রহণ করব? বিশ্ব আর্থিক বাজারে মোড়লি থাকবে মাত্র দুটি সংস্থার? আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক সারা জীবন খবরদারি করে যাবে? আমাদের আর্থিক অসুখ হলে আমরা কি এই দুই কবিরাজের কাছেই ছুটে যাব? এই চ্যালেঞ্জের জবাব দিতে গিয়েই পাঁচটি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান ভøাদিমের পুতিন, নরেন্দ্র মোদি, জিজিনপিং, জ্যাকব জুমা ও দিলমা রুসেফ গত ১৫ জুলাই মিলিত হয়েছিলেন ব্রাজিলের ফোর্তালেজা নগরে।’
উল্লেখ্য, আগামী দুই বছর অর্থাৎ ২০১৭ সালের মধ্যেই প্রাথমিকভাবে ১০ হাজার কোটি মার্কিন ডলার মূলধন নিয়ে যাত্রা শুরু করার কথা রয়েছে প্রস্তাবিত এই নতুন আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থাটির।
নতুন মুদ্রানীতি বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করবে
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত
রহিম শেখ ॥ চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধের জন্য (জুলাই-ডিসেম্বর) মুদ্রানীতিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি সহনীয় রাখাকে চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। পাশাপাশি বেসরকারী খাতে মোট ঋণের প্রবৃদ্ধি অর্জনকে কঠিন উল্লেখ করে সামনের বছরগুলোতে বড় ধরনের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তাঁরা। এ জন্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণেও ঋণের যোগান উৎপাদনশীল খাতে যেন হয় সে বিষয়ে আরও মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দিলেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বাংলাদেশ ব্যাংক মুদ্রানীতিতে বলছে, এই নীতির কার্যকর প্রয়োগের সূত্রে গড় বার্ষিক ভোক্তা মূল্যস্ফীতি ২০১৪ সালের জুনে ৭ দশমিক ৩৫ শতাংশে নেমে এসেছে, যা ৭ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কিছুটা বেশি দাঁড়ালেও নিম্নগামী।
পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট মূল্যস্ফীতির অনেকটা কম ৬ দশমিক ৯৭ শতাংশ। তাই মূল্যস্ফীতির এবারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হচ্ছে সাড়ে ৬ শতাংশ। নয়া মুদ্রানীতিতে মূল্যস্ফীতি সহনীয় মাত্রায় স্থিতিশীল রেখে দেশের সমগ্র জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান ও উন্নয়ন প্রয়াসে আস্থা ও উৎসাহ যোগানে অবদান রাখবে বলে বলা হয়। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গবর্নর ড. সালেহ উদ্দীন আহমেদ জনকণ্ঠকে বলেন, নতুন এ মুদ্রানীতিতে বেসরকারী খাতে বিনিয়োগ কমিয়ে সরকারী খাতে বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে নতুন মুদ্রানীতি বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করবে। উস্কে দেবে মূল্যস্ফীতিও। সবদিক মিলিয়ে নয়া মুদ্রানীতিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি সহনীয় রাখাকে চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন তিনি। সালেহ উদ্দিন বলেন, নতুন নীতিটি বেসরকারী খাতবান্ধব হতে পারত। এতে বাড়ত কর্মসংস্থান বেড়ে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা। কিন্তু বেসরকারী খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি হার কমিয়ে ভারসাম্যমূলক করার চেষ্টা করা হয়েছে।
জানা গেছে, নতুন মুদ্রানীতিতে বেসরকারী খাতে মোট ঋণ প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে। এর মধ্যে দেশের অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ধরা হয়েছে ১৪ শতাংশ এবং বৈদেশিক উৎস থেকে ২ দশমিক ৫ শতাংশ ঋণ প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এবি মির্জা আজিজুল ইসলাম জনকণ্ঠকে বলেন, নতুন এ মুদ্রানীতিতে বেসরকারী খাতে ঋণপ্রবাহ কমিয়ে ১৪ শতাংশে আনা হয়েছে। এটাই অর্জন করা সম্ভব হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় আছে। গেল ছয় মাসে এ খাতে যে লক্ষ্যমাত্রা ছিল সাড়ে ১৬। মে মাস শেষে দেখা গেছে ১১ দশমিক ৪ শতাংশ অর্জন হয়েছে। বর্তমানে দেশে বিনিয়োগে চাহিদা নেই। তাছাড়া রাজনৈতিক অবস্থাও ভাল নেই।
ঈদের পর যদি বিএনপি সত্যিকার আন্দোলন করে তবে এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা কষ্টকর হবে। এ জন্য বেসরকারী খাতে মোট ঋণের প্রবৃদ্ধি অর্জনকে কঠিন উল্লেখ করে সামনের বছরগুলোতে বড় ধরনের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। এ জন্য বৈদেশিক উৎস থেকে ২ দশমিক ৫ শতাংশ ঋণ গ্রহণ সতর্কতার সঙ্গে নেয়ার পরামর্শ দেন তিনি। সালেহ উদ্দীন আহমেদ বলেন, নতুন মুদ্রানীতিকে অনেকটা ভারসাম্যমুখী। এ জন্য এর বাস্তবায়নটাই বড় চ্যালেঞ্জ। সামনে নির্বাচনী বছর, এ সময় প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্থিতি এক সঙ্গে ধরে রাখারও একটা ব্যাপার রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকে রিজার্ভ থাকলেও সম্ভাবনা রয়েছে তা আরও বাড়ার। তবে মূলধনী যন্ত্রাংশ বা আমদানি না বাড়লে এ মুদ্রানীতির বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে বলে মনে করেন তিনি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতি ঘোষণায় ডেপুটি গবর্নর এস কে সুর চৌধুরী বলেছেন, পুঁজিবাজার ক্ষতিগ্রস্ত হয় এমন কোন সিদ্ধান্ত নেয়া হবে না। এস কে সুর বলেন, যেসব ব্যাংকের ২৫ শতাংশের কম বিনিয়োগ রয়েছে তাদের বিনিয়োগে উৎসাহী করা হবে। আর এবারের মুদ্রানীতি বিগত মুদ্রানীতির মতোই বিনিয়োগবান্ধব।
মুদ্রানীতি ঘোষণায় পুঁজিবাজার তত্ত্বাবধায়ক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবিড় সমন্বয় ও সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা নিচ্ছে। এ প্রসঙ্গে ড. সালেহ উদ্দিন বলেন, পুঁজিবাজারে নতুন এই মুদ্রানীতির প্রভাব সম্পর্কে তিনি বলেন, পুঁজিবাজার তার নিজস্ব গতিতেই চলে। এখানে বাংলাদেশ ব্যাংক চাইলেই কিছু করতে পারবে না। তবে আর্থিক অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ঋণপ্রবাহ বাড়ানোর যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, তাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোর পর্যবেক্ষণ দরকার। কেননা, ব্যাংকগুলো এক খাতের ঋণ আরেক খাতে দিতেও দ্বিধা করে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক এ গবর্নর মনে করেন, ঘোষিত মুদ্রানীতিতে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণ নেয়ার বিষয়টি আরও স্পষ্ট হওয়া দরকার ছিল।
পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত শেষ পর্যায়ে
স্টাফ রিপোর্টার ॥ পদ্মা সেতু প্রকল্পে পরামর্শক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত শেষ পর্যায়ে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর তদন্ত টিম এপর্যন্ত প্রাপ্ত সকল তথ্য ও নথি প্রমাণ, সাক্ষ্য গ্রহণের ভিত্তিতে রিপোর্ট তৈরির জন্য শেষ মুহূর্তের পর্যালোচনা করছে। দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা মির্জা জাহিদুল ইসলাম আগামী মাসের শুরুতেই মামলায় তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতে পারেন। সম্প্রতি কানাডা রয়েল পুলিশের তরফ থেকে দুদকের কাছে বেশ কিছু তথ্য এসেছে। এর প্রেক্ষিতে তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকায় সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদও করেছেন। এরই অংশ হিসাবে সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। ড. মশিউর রহমান, জামিলুর রেজা চৌধুরীরও বক্তব্য নেন। আবুল হোসেনের কাছে অন্যদের বিষয়ে, তার সম্পৃক্ততা ও এর সঙ্গে আনুষঙ্গিক বিষয়ে জানতে চেয়েছেন দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা। সূত্র জানায়, কানাডা থেকে যে তথ্য এসেছে সেখানে সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পায়নি। এর প্রেক্ষিতেই তাকে দুদকের তদন্ত টিম জিজ্ঞসাবাদ করেছে।
দুদকের কমিশনার সাহাবুদ্দিন চুপ্পু এসম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, তদন্ত টিম দ্রুত কাজ করছে। আশা করছি খুব শীঘ্রই তারা রিপোর্ট দিতে পারবে। রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে। রিপোর্টে কি থাকতে পারে প্রশ্নে তিনি বলেন, এটি কেবল রিপোর্ট পাওয়ার পরই জানা যাবে। তিনি জানান, কানাডার আদালতে বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরীকে অভিযুক্ত করে যে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল তা স্থগিত করেছে। সেখানে আবুল হাসান চৌধুরী নিয়োজিত আইনজীবী মামলা পরিচালনা করেন এবং এর প্রেক্ষিতেই কানাডার আদালত বলেছে, কানাডার আদালতে বিদেশী নাগরিকের বিচার করা সম্ভব নয়। তারা বিষয়টি স্থগিত করেন। কানাডার আদালতে তাদের দেশের নাগরিকদের বিচারের কাজ চলছে। আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে কানাডায় মামলা চলমান থাকতে এখানে তদন্ত রিপোর্ট জমা দিলে কোন ধরনের আইনী জটিলতা তৈরি হবে কিনা বিষয়ে তিনি বলেন, কানাডার তদন্তের সঙ্গে আমাদের এখানে আর সম্পর্ক নেই। এখানে যা পাবো তদন্ত সেই হিসাবেই এগুবে। দুদক ৮ জুলাই সৈয়দ আবুল হোসেনকে বক্তব্য দেয়ার জন্য নোটিস দেয়। ১৩ জুলাই তিনি লিখিত বক্তব্য দেন। বক্তব্যে তিন বলেন, পদ্মা সেতু প্রকল্পে ন্যূনতম দুর্নীতি বা দুর্নীতির ষড়যন্ত্র হয়নি।
১৯ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস ভবন নির্মাণে ব্যয় বাড়ছে
জমির মূল্যবৃদ্ধিই প্রধান কারণ
হামিদ-উজ-জামান মামুন ॥ ব্যয় বাড়ছে দেশের বিভিন্ন জেলায় নির্মিতব্য ১৯টি আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস ভবন নির্মাণ প্রকল্পে। জমির মূল্যবৃদ্ধিসহ বিভিন্ন কারণে এ ব্যয় বাড়ছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে তেমন অগ্রগতি নেই। তিন বছরে (২০১২-১৪) বাস্তবায়নযোগ্য এ প্রকল্পটির আড়াই বছরে বাস্তবায়ন অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে মাত্র ২০ শতাংশ। এমতাবস্থায় প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি ও আরডিপি সংশোধন করে ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদনের সুপারিশ করেছে পরিকল্পনা কমিশন।
পরিকল্পনা সচিব ও ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য ভূঁইয়া সফিকুল ইসলাম এ বিষয়ে জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের জনগণ দ্রুত ও নিরাপদ প্রক্রিয়ায় মেশিনে পাঠযোগ্য পাসপোর্ট গ্রহণ ও নবায়ন করতে পারবেন। এ বিবেচনায় প্রকল্পটির সংশোধনী প্রস্তাব জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) আগামী সভায় অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, ২০১২ সালের ৩ জানুয়ারি প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদিত হয়েছিল। তখন এর বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছিল ২০১২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত এবং প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ১০৩ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবে এখন প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ২০১৬ সাল পর্যন্ত বৃদ্ধি এবং আরডিপি সংশোধন করে ব্যয় বাড়িয়ে ১৪৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে। অর্থাৎ ব্যয় বাড়ছে প্রায় ৪৩ কোটি টাকা। প্রকল্প সংশোধনের কারণ হিসেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জমির মূল্য বৃদ্ধিই এর প্রধান কারণ। এ ছাড়া উত্তরা ও যাত্রাবাড়ীতে চারতলা ভবনের পরিবর্তে ১০ তলা ভিতবিশিষ্ট ছয়তলা ভবন নির্মাণ, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ ব্যয় বৃদ্ধি, গণপূর্ত অধিদফতরের ২০১৪ সালের রেট সিডিউল অনুসারে প্রাক্কলন, প্রকল্পের দুই বছর মেয়াদ বৃদ্ধি ইত্যাদি কারণে প্রথম সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (আরডিপিপি) সংশোধন করা প্রয়োজন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এ সুপারিশ পরিকল্পনা কমিশন ইতোমধ্যেই অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করেছে। প্রকল্পটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য একনেকের আগামী বৈঠকে এটি উপস্থাপন করা হতে পারে বলে জানা গেছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদফতর সরকারের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। প্রতিবছর উল্লেখযোগ্যসংখ্যক লোক শিক্ষা, চিকিৎসা, কর্মসংস্থান ও পর্যটনের উদ্দেশে বিদেশে যাতায়াত করে থাকেন। সংস্থার ঢাকার প্রধান কার্যালয়ে অবস্থিত আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে পাসপোর্ট ইস্যু ও নবায়নের জন্য অত্যধিক চাপ থাকায় দেশের বিভিন্ন জেলায় ৩৪টি আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস নির্মাণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। ইতোমধ্যে প্রথম পর্যায়ে চারটি আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস নির্মাণের কাজ সমাপ্ত হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে ১১টি আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস ভবন নির্মাণ প্রকল্পের কাজ ২০১৪ সালের মাঝামাঝিতে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। অবশিষ্ট ১৯টি আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস ভবন নির্মাণের জন্য গৃহীত এ প্রকল্পটি মোট ১০৩ কোটি ৮৫ লাখ ২৯ হাজার টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ২০১২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৪ পর্যন্ত মেয়াদে বাস্তবায়নের জন্য ২০১২ সালের ৩ জানুয়ারি একনেকে অনুমোদিত হয়।
যে ১৮ জেলায় ১৯টি পাসপোর্ট অফিস ভবন নির্মাণ করা হবে সেগুলো হলো- ঢাকার উত্তরা ও যাত্রাবাড়ী, নরসিংদী সদর, কিশোরগঞ্জ সদর, মানিকগঞ্জ সদর, মুন্সীগঞ্জ সদর, টাঙ্গাইল, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ, ফেনী, চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, মৌলভীবাজার, পাবনা, বগুড়া, কুষ্টিয়া সদর এবং পটুয়াখালী সদর।
এবার ভোগ্যপণ্যের বাজারে ছুটছে মানুষ, দুধ চিনি মাংসের দাম বেড়েছে
এম শাহজাহান ॥ পোশাকের পর ঈদ উদযাপনে এবার ‘বাজার-সদাই’ করতে ভোগ্যপণ্যের বাজারে ছুটে আসছেন নগরবাসী। মুদি দোকানগুলোতে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় জানান দিচ্ছে, দরজায় কড়া নাড়ছে ঈদ। শুধু ভোজনবিলাসী নয়, ঈদ আনন্দ পরিপূর্ণভাবে উপভোগ করতে সবাই সাধ্যমতো ভোগ্যপণ্য কিনে নিচ্ছেন। এ কারণে দুধ, চিনি, সেমাই, ঘি, মাংস, মাছ, টমেটো, শসা, বিভিন্ন মসলা জাতীয় পণ্য, পোলাও এবং বাঁশমতি চাল, মিষ্টি, দই এবং ফলমূলের চাহিদা অন্য যে কোন সময়ের চেয়ে কয়েকগুণ বেড়েছে।
ভোগ্যপণ্যের চাহিদা বাড়ায় ইতোমধ্যে দুই-একটি পণ্যের দামও বেড়ে গেছে। কিন্তু তার পরও পুরো দেশ ভাসছে ঈদ আনন্দে। বিশেষ করে দুধ, সেমাই এবং মাংসের দাম বাড়লেও ক্রেতারা বাড়তি দাম দিয়েই তা সংগ্রহ করছেন। ফলে ভোক্তাদের সঙ্গে খুশি ব্যবসায়ীরাও। পুরো রমজানে অতিপ্রয়োজনীয় নিত্যপণ্য মিলেছে স্বাভাবিক দামে। আর বিক্রি বাড়ায় ভাল বাণিজ্য হয়েছে ব্যবসায়ীদের। এতে পুরো রমজান মাসে অর্থনীতিতে এক ধরনের সুবাতাস বয়ে গেছে। তবে ঈদের আর একদিন বাকি থাকতে ভোগ্যপণ্যের দাম কিছুটা বেড়ে যাওয়ায় ভোক্তাদের অস্বস্তিও আছে খানিকটা।
তবুও শেষ মুহূর্তে চিনি, দুধ সেমাই, পেঁয়াজ ও মাংসের দাম বাড়লেও তা আমলে নিচ্ছে না ভোক্তারা। পোশাকের পর ভোক্তাদের যত আগ্রহ এখন ভোগ্যপণ্যের বাজারে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, চাহিদা খুব বেশি বেড়ে যাওয়ায় দুধ ও সেমাইয়ের দাম বেড়ে গেছে। তবে ঈদের পর দাম স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে কাপ্তান বাজারের জামশেদ স্টোরের ম্যানেজার আব্দুল গনি জনকণ্ঠকে বলেন, ঈদ সামনে রেখে তরল দুধের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। কোম্পানি দাম না বাড়ালেও খুচরা ব্যবসায়ীরা একটু বেশি মুনাফা করতে দাম বেশি নিচ্ছেন। তিনি বলেন, রমজান মাসজুড়ে চিনির দাম কম ছিল। কিন্তু সেই চিনির দামও কিছুটা বাড়তির দিকে রয়েছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মিল্কভিটা প্রতিলিটার দুধ ৬৫-৭০ এবং কোথাও আরও বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। দাম বেড়েছে প্রাণ, আড়ংসহ অন্যান্য দুধেরও।
জানা গেছে, পুরো রমজান মাসে সরকারের কঠোর মনিটরিং, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারির কারণে এ বছর রমজানে ব্যবসায়ীরা কারসাজির সুযোগ পাননি। রমজানে চাহিদার তুলনায় বেশি পণ্য আমদানি হয়েছে এবং ভোক্তারাও আগের চেয়ে বেশি সচেতন হয়েছেন। বেশি পরিমাণ পণ্য না কিনে যখন যতটুকু প্রয়োজন তাই কিনে এনেছেন। এতে বাজারে পণ্যের সঙ্কট তৈরি হয়নি। এ ছাড়া যে সব কারণে এবার ভোগ্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল ছিল তা হচ্ছে-
বাজারে অভিযান পরিচালনা ॥ রোজার আগেই এবার রাজধানীর বাজারগুলোতে অভিযান শুরু করা হয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে ১৪টি মনিটরিং টিম ঈদ-উল-ফিতরের আগের দিন পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করবে। অভিযান চলাকালে অনিয়ম এবং অতিমুনাফা করার প্রমাণ পাওয়ায় ইতোমধ্যে প্রকৃত দোষী ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছে মনিটরিং টিম। প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক শাস্তিও প্রদান করেছে মোবাইল কোর্ট। আর এ সব পদক্ষেপের ফলে দ্রবমূল্য নিয়ে সিন্ডিকেট করার সুযোগ পায়নি ব্যবসায়ীরা। ভোজ্যতেল, ছোলা, ডাল এবং চিনির মতো ভোগ্যপণ্যের দাম রমজান মাসজুড়ে স্বাভাবিক ছিল। যদিও ঈদ সামনে রেখে দুই-একটি পণ্যের দাম বেড়েছে।
পণ্য আমদানি ও সরবরাহ স্বাভাবিক ছিল ॥ এ বছর রমজানে চাহিদার তুলনায় বেশি পরিমাণ ছোলা, ভোজ্যতেল, চিনি, ডাল ও খেঁজুরসহ অন্যান্য পণ্য আমদানি করা হয়েছে। রমজানে ভোজ্যতেলের চাহিদা রয়েছে সর্বসাকুল্যে আড়াই লাখ টন। একইভাবে চিনির প্রয়োজন প্রায় ২ লাখ টন। আর ছোলা ৫০ হাজার টন। কিন্তু এ তিনটি পণ্য চাহিদার তুলনায় বেশি আমদানি ও সরবরাহ করা হয়েছে। ফলে বাজারে এ সব পণ্যের কোন সঙ্কট হয়নি।
বাসাবাড়িতে পণ্য মজুদ হয়নি ॥ পণ্যের দাম বাড়ার পেছনে বরাবরই ভোক্তাদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে রমজানের শুরুতে বাসাবাড়ির জন্য বেশি পরিমাণ পণ্য কিনে মজুদ করা হয়। কিন্তু এ বছর ভোক্তাদের মধ্যে দাম বাড়ার কোন আতঙ্ক পরিলক্ষিত হয়নি। ফলে বেশি পরিমাণ পণ্যও মজুদ করা হয়নি। এতে পণ্যের দাম বাড়তে পারেনি।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে সিরিজ বৈঠক ॥ এবার রোজার পনের দিন আগে থেকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সিরিজ বৈঠক করেছে। ব্যবসায়ীদের ওপর এক ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে সক্ষম হয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ফলে ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও খুচরা ব্যবসায়ীদের বেশি দাম নেয়া সম্ভব হয়নি।
টিসিবির পণ্য বিক্রি ॥ রমজান মাসজুড়ে টিসিবি খোলাবাজারে ট্রাকে করে ভোজ্যতেল, চিনি, ডাল, ও ছোলা বিক্রি করে। রাজধানীসহ সারাদেশে টিসিবির এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকায় ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়তে পারেনি।
সুন্দরবনসংলগ্ন মধ্যবাড়ী এলাকায় পাউবোর বেড়িবাঁধে ভাঙ্গন
বিস্তীর্ণ এলাকা তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা
স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা অফিস ॥ খুলনার সুন্দরবন সংলগ্ন কয়রা উপজেলার মঠবাড়ী এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধে ব্যাপক ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। এতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী। মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধের এ অংশটি যে কোন সময় ভেঙ্গে গিয়ে বিস্তীর্ণ জনপদ তলিয়ে যেতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছে। এলাকাবাসী জরুরী ভিত্তিতে বেড়িবাঁধের ঝঁকিপূর্ণ স্থান মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
স্থানীয়রা জানায়, পানি উন্নয়ন বোর্ড সাতক্ষীরার আওতাধীন ১৩/১৪-২ নং পোল্ডারের বিরাট অংশ খুলনার কয়রা উপজেলা এলাকায় অবস্থিত। এই পোল্ডারের মহারাজপুর ইউনিয়নের (পবনা ক্লোজারের পার্শে) মঠবাড়ী লঞ্চঘাট সংলগ্ন এলাকার প্রায় এক কিলোমিটার বেড়িবাঁধ মারাত্মক হুমকির সম্মুখীন হয়েছে। শাকবাড়িয়া নদীর জোয়ারের পানির চাপে বাঁধের এই অংশে ব্যাপক ভাঙ্গন সৃষ্টি হয়েছে। নদীর পানির ঢেউ প্রতিনিয়ত বাঁধের উপর আছড়ে পড়ছে। লম্বালম্বিভাবে বাঁধের অর্ধেক বা তার কম বেশি মাটি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এ ছাড়া উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের গাজীপাড়া ও কাটকাটা, কয়রা সদর ইউনিয়নের উত্তর মদিনাবাদ, হরিণখোলা ও ঘাটাখালী ও ৪নং কয়রা, মহারাজপুর ইউনিয়নের লোকা ও দশালিয়া, মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের নয়ানী, কালীবাড়ি, শেখের কোনা ও সরদার ঘাট এলাকায় বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। মারাত্মক ঝুঁকিতে থাকা মঠবাড়ী লঞ্চঘাট সংলগ্ন এলাকার বাঁধ দ্রুত ভেঙ্গে যেতে থাকায় এলাকাবাসী আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে।
এলাকাবাসী জানিয়েছে, অবিলম্বে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামত করা না হলে কয়রার বিস্তীর্ণ জনপদ ভেসে যাবে। জোয়ারের পানির চাপে বেড়িবাঁধের মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ স্থান ভেঙ্গে মহারাজপুর, বাগালী, কয়রা সদর ও উত্তর বেদকাশি ইউনিয়নের অসংখ্য গ্রাম পানিতে প্লাবিত হয়ে ঘর-বাড়ি, রাস্তা-ঘাট, স্কুল-কলেজ, ফসলী জমি, মৎস্য ঘের, গবাদিপশুর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এলাকাবাসী ভাঙ্গন কবলিত বেড়িবাঁধ জরুরী ভিত্তিতে মেরামতের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
শিবনদে সেতু নির্মাণের আট বছর পর সংযোগ সড়ক
টোল সড়ক নয়, তবু টোল আদায়
স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী ॥ সেতু নির্মাণের ৮ বছর পর অবশেষে রাজশাহীর তানোর-মোহনপুর উপজেলার মধ্যে সংযোগকারী শিবনদের ওপর ‘গোল্লাপাড়া-সইপাড়া’ সড়ক নির্মাণ শুরু হয়েছে। তবে সংযোগ সড়ক নির্মাণের শুরুতেই ঘোষণা ছাড়ায় টোল আদায় শুরু করেছে তানোর পৌর কর্তৃপক্ষ। টোল সড়ক ঘোষণা না হলেও এ সড়কে এখন হাঁটতেও মানুষকে টোল দিতে হচ্ছে। এর আগে শিবনদের ঘাটে টোলের বিনিময়ে নৌকায় পারাপারের ব্যবস্থা ছিল। এখন হেঁটে পার হলেও টোল আদায় করা হচ্ছে। ক্ষুব্ধ পথচারীদের অভিযোগ এ সংযোগ সড়কের চেয়ে নৌকাই ভাল ছিল।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, সেতুর সঙ্গে সংযোগ সড়কের বরাদ্দ ধরা ছিল না। সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়কের জন্য ১৭ দশমিক ৬২ একর জমি অধিগ্রহণ করতে হয়। এ জন্য দীর্ঘ সময় লেগে যায়। এ সময় সেতুর পাশ দিয়েই মানুষ নৌকায় চড়ে তানোরের গোল্লাপাড়া থেকে মোহনপুরের সইপাড়া যাতায়াত করতেন। মাস দুয়েক আগে এ সড়ক মানুষের চলাচলের জন উপযুক্ত হয়েছে। এখনও পাকা করা হয়নি। তবে মানুষ হেঁটে চলাচল শুরু করেছে। ফলে খেয়াঘাটের নৌকা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সেই সুযোগে আদায় করা হচ্ছে টোল।
তানোরের গোল্লাপাড়ায় একটি টোলঘরও করা হয়েছে। এখানে সারাক্ষণ একজন টোল আদায়কারী বসে থাকেন। তিনি এক পথচারীর কাছে এ সড়ক হয়ে একবার যাওয়ার জন্য পাঁচ টাকা এবং ফেরার পথে আরও পাঁচ টাকা আদায় করছেন।
সম্প্রতি এ সড়কে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের শুরুতে গোল্লাপাড়া বাজারের নিচে টোলঘরে বসে রয়েছে টোল আদায়কারী রফিজ উদ্দিন। মানুষ সড়কে উঠলেই তিনি টোল দাবি করেন। টোলের রসিদ চাইলে তিনি বলেন, রসিদ পাবে না, কিন্তু টাকা দিতেই হবে। তিনি দাবি করেন দুই লাখ ১০ হাজার টাকায় পয়লা বৈশাখে তাঁরা ঘাট ডেকে নিয়েছেন। এক মাস পরেই রাস্তা হয়ে গেছে ফলে ঘাট বন্ধ হয়ে গেছে। এখন সেই টাকা তুলতে এ টোলের ব্যবস্থা। মোহনপুরের স্থানীয় বাসিন্দা রুস্তম আলী বলেন, তাঁর স্ত্রীকে চিকিৎসক দেখাতে তানোর বাজারে নিয়ে আসছিলেন। দেড় কিলোমিটার রাস্তা কাদার মধ্যে হেঁটে এসে ২০ টাকা দিতে হলো। এর চেয়ে নৌকাই ভাল ছিল। এ সড়কে টোল সড়ক করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাজেদা ইয়াসমিন বলেন, এটিকে টোল সড়ক ঘোষণা করা হয়নি। টোল আদায়ের কথাও তিনি শোনেননি। সড়কের কিছু অংশ তানোর পৌরসভার মধ্যে পড়েছে। পৌরসভা কী করছে তিনি জানেন না। তানোর উপজেলা প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন বলেন, এ সড়কের জন্য ছয় কোটি টাকার বরাদ্দ পাওয়া গেছে। তার মাত্র ২৫ শতাংশ কাজ হয়েছে। তবে তানোর পৌরসভার মেয়র ফিরোজ সরকার টোল আদায়ের কথা স্বীকার করে বলেন, বছরে তিনি ওই ঘাট থেকে দুই লাখ টাকার রাজস্ব পান। টোল না আদায় করলে তার পৌরসভা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হবে।
প্রসঙ্গত, শিবন নির্মাণ কাজ দীর্ঘ সাত বছর পর শেষ হলেও সংযোগ সড়কের অভাবে কাজে আসছিল না সেতুটি।
জোয়ার ভাটার দোলাচলে ভোলার দুই লাখ মানুষ
ঈদ আনন্দবঞ্চিত
সংবাদদাতা, চরফ্যাশন, ২৭ জুলাই ॥ ভোলার চরফ্যাশনের ৯ ইউনিয়নের দুই লাখ মানুষ অস্বাভাবিক জোয়ার ভাটার দোলাচলে দুর্দশায় পড়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, প্রায় ৬ কিলোমিটার এলাকায় কোন বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ না থাকায় এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
দুর্গত এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অস্বাভাবিক জোয়ারের প্রবল ঢেউ প্রতিদিন ৯টি ইউনিয়নের আঘাত হানছে। এতে প্রতিদিনই প্লাবিত হচ্ছে বসতবাড়ি। ইউনিয়নগুলো হলো- চরমাদ্রাজ, হাজারীগঞ্জ, আসলামপুর, চর কুকরি-মুকরি, ঢালচর, চরমানিকা, মুজিবনগর, জাহানপুর। চর মাদ্রাজ এলাকার গিয়ে চারদিকে এক অস্বাভাবিক ও দমবন্ধ পরিবেশ দেখা গেল। ভেঙ্গে ও ডুবে যাওয়া বাড়িঘরের আসবাবপত্র নিয়ে সড়কে আশ্রয় নিয়েছে অনেক পরিবার। তাদের কান্নায় ভারি হয়ে উঠেছে সেখানকার পরিবেশ। উপড়ে যাওয়া বড় বড় গাছ নদী ও খালের পানিতে ভাসছে। জোয়ারে ভেঙ্গে গেছে মোহাম্মদপুর গ্রামের নূরনবী ও আবদুল মান্নানের বাড়িঘর। সেসব বাড়িঘরের ধ্বংসাবশেষ নৌকা দিয়ে এনে ট্রলিতে তুলছেন তাঁরা। জানতে চাইলে নূরনবী বলেন, ‘এই দ্যাশের খাওন আল্লায় শ্যাষ কইর্যাব দিছে, বাপ-দাদার ভিটা জমি সব মেঘনার প্যাডে, অ্যাহোন ল্যাতরা (একটি জায়গার নাম) যাই।’ নূরনবী ও আবদুল মান্নানের মতো বহু মানুষের বাড়িঘর ভেসে গেছে জোয়ারে। যাদের যাওয়ার কোন জায়গা নেই, তারা বাঁধের ওপর ভাঙ্গা ঘরের ধ্বংসাবশেষ ও আসবাব রেখে অন্যের বাড়িতে রাত কাটাচ্ছে। তাদের রাত-দিনগুলো কাটছে অর্ধাহারে-অনাহারে। পূর্ব-মাদ্রাজের রহিমা বিবি বলেন, ‘চুলা বিজা, লারকিও (জ্বালানি) বিজা, দুগা চাউল পাইছি, কিন্তুক রান্দোনের জাগা নাই, খামু কি?’ এ কথা বলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন রহিমা বিবি।
এলাকা ঘুরে দেখা যায়, আমনের বীজতলা, আউশের খেত, শসা-ধুন্দল, বেগুন, বরবটিসহ অনেকের সবজিবাগান পানিতে ডুবে আবার ভেসে উঠেছে। কোথাও কোথাও পানি সরাতে পাম্প বসানো হয়েছে। চরফ্যাশন বাজার থেকে সামরাজ যেতে সড়কের অন্তত ১১০টি স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। ইটভাটা, স মিল, রাইস মিলসহ অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পানির নিচে। মাটির রাস্তার কোন চিহ্ন নেই। ডুবে আছে বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও। ডুবে থাকা কলগুলো মাথা উঁচিয়ে জেগে উঠেছে ময়লা গায়ে। শিশুরা গণহারে সর্দিতে আক্রান্ত হচ্ছে। কেরামতগঞ্জ বাজারের পল্লি চিকিৎসক আবুল কাশেম বলেন, ‘এলাকার বেশিরভাগ মানুষ জ্বর-ঠা-ায় এবং শিশুরা পাতলা পায়খানা ও সর্দিতে আক্রান্ত হয়েছে।’
অস্বাভাবিক জোয়ারের সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে ভাঙ্গন। ভোলা জেলার সবচেয়ে বড় মাছ ঘাট সামরাজ স্লুইচ গেট। সেখানে প্রতিদিন চার-পাঁচ কোটি টাকা লেনদেন হয়। গত সাত দিনে এই ঘাটটি মেঘনায় সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে গেছে। ঘাটের প্রবীণ মৎস্য ব্যবসায়ী জয়নাল আবেদীন বলেন, অস্বাভাবিক জোয়ার ও মেঘনার ভাঙ্গন ব্যবসায়ীদের ৩০ কোটি টাকার ক্ষতি করেছে। বাজারের খোরশেদ দরবেশের বরফকল, বন অফিস, পাউবোর অফিস, তোফায়েল মিয়া ও আবদুল মালেকের আড়তসহ অর্ধশতাধিক আধা পাকা ভবন মেঘনাগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। সামরাজ ঘাটের ব্যবসায়ী আবদুর রহমান, মোঃ ফারুক মিয়াসহ একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, শুধু পানি উন্নয়ন বোর্ডের আলস্যের কারণে আজ মানুষের এই দুরবস্থা। যথাসময়ে বাঁধ নির্মাণ করা হলে এই জোয়ারের পানি হয়ত ঠেকানো যেত। তিনি বলেন, পানিতে সবকিছু হারিয়ে গত পনের দিন দুর্গত মানুষের গোসল, খাওয়া-দাওয়া, নামাজ-রোজা প্রায় বন্ধ। ভাঙ্গনে হাজার হাজার পরিবার নিঃস্ব। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল হাকিম বলেন, যথাসময়ে দরপত্র ক্রয়ে না করায় বাঁধ নির্মাণের কাজ বিলম্বিত হয়। তিনি বলেন, জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে পূর্ণিমার প্রভাবে পানির উচ্চতা বেড়ে বিপদসীমা ছাড়িয়ে যায়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেজাউল করিম দুর্গতদের মধ্যে টাকা ও চাল বিতরণ করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করা হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ে আরও ত্রাণের চাহিদা পাঠানো হয়েছে।

রাজশাহীর চরাঞ্চলের দুই শতাধিক পরিবারের ঈদ আনন্দ ফিকে
স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী থেকে জানান, রাজশাহীর বাঘায় পদ্মা নদীর ভাঙ্গন শুরু হওয়ায় উপজেলার চরাঞ্চলের মানুষ এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছে। আর দুইদিন পর ঈদ। দেশের মানুষ যখন ঈদ আনন্দের জোয়ারে মাতোয়ারা, তখন বাঘার পদ্মার চকরাজাপুর চরের দুই শতাধিক পরিবারে নেই ঈদ আনন্দ। স্থানীয় বাসিন্দারা এখন ব্যস্ত ভাঙ্গনের কবল থেকে বাড়ি-ঘর বাঁচাতে। ফলে ফিকে হয়ে গেছে তাদের ঈদ আনন্দ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পদ্মার উত্তাল ঢেউয়ের ধাক্কায় এখন হুমকির মুখে উপজেলার চকরাজাপুর চরের দুই শতাধিক পরিবারের বাড়িঘর-বসতি। গত তিন সপ্তাহে পদ্মায় বসত হারিয়েছে ওই এলাকার জিল্লুর রহমান, আবুল কাশেম, বজলুর রহমান, আহম্মেদ আলী, রেজাউল করিম, বশু মণ্ডল, বাচ্চু মিয়া, রিয়াজুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম, মনির হোসেনসহ আরও অনেকেই।
মাথা গোঁজার একমাত্র ঠাঁই হারিয়ে তারা এখন দিশাহারা। কিন্তু তারপরও ঈদে নতুন কাপড়ের জন্য অবুঝ সন্তানের কান্নাভেজা আবদার বাবা-মায়ের কষ্টকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। গত প্রায় তিন সপ্তাহের ব্যবধানে দুই শতাধিক পরিবার নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়ে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছে।
ওই এলাকার কৃষক রাজু মিয়া ও রবিউল ইসলাম জানান, কয়েক দিনে রাক্ষুসী পদ্মা গিলেছে বিঘার পর বিঘা ধান, পাটসহ আবাদি জমি ও গাছপালা। ভাঙ্গনের শিকার ওই সব মানুষদের সহযোগিতা তো দূরের কথা সান্ত¡না দেয়ার মতোও কেউ নেই।
অব্যাহত ভাঙ্গন থেকে বাড়িঘর সরানোর তাড়ায় ব্যস্ত এখানকার বাসিন্দারা। পূর্ব চকরাজাপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেওয়ান শওকত জামান জানান, ফসলী জমিসহ গাছপালা, বাড়িঘর নদীতে বিলীন হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়ে কোনরকম বেঁচে আছে দুই শতাধিক পরিবার। তারা এখন ঘরবাড়ি সরাতে ব্যস্ত। এর মধ্যে ঈদ করবে কী করে। তিনি জানান, তাঁর বিদ্যালয়টিও হুমকির মধ্যে রয়েছে। ইতোমধ্যে বিদ্যালয়টি দুইবার স্থানান্তর করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
স্থানীয় গড়গড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম সরকার জানান, ভাঙ্গনকবলিত মানুষদের জন্য গত বছর ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হয়েছিল। তবে এবার বরাদ্দ এখনও আসেনি। এলে দেয়া হবে বলে তিনি জানান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বাদল চন্দ্র হালদার জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। তাদের আর্থিক সহায়তা দেয়া হবে।
শ্রেষ্ঠত্ব পুনরুদ্ধারে মরিয়া রিয়াল-বার্সা
স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ আসন্ন ২০১৪-১৫ ক্লাব মৌসুমে শ্রেষ্ঠত্ব পুনরুদ্ধারে মরিয়া হয়ে কাজ করছে দুই স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সিলোনা। গত মৌসুমে রিয়াল চাম্পিয়ন্স লীগের শিরোপা জিতলেও অন্যান্য আসরে ব্যর্থ হয়। আর বার্সা নিজেদের ক্লাব ইতিহাসের জঘন্য পারফরমেন্স প্রদর্শন করে শিরোপাশূন্য থাকে। এ কারণে এবার নতুন মৌসুমে ভাল কিছু করার আকাক্সক্ষা নিয়েই প্রস্তুতি শুরু করেছে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় দুই ক্লাব।
বার্সা-রিয়ালের শ্রেষ্ঠত্বের মিশনে বরবারের মতোই নিয়ামকের ভূমিকা পালন করবেন দুই সুপারস্টার লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। তবে মজার বিষয় হচ্ছে, আসন্ন মৌসুমে এই দুই তারকার একচ্ছত্র দ্বৈরথের হয়ত অবসান ঘটতে যাচ্ছে। ফুটবলপণ্ডিতরা অভিমত রাখছেন, এবারের মৌসুমে রোনাল্ডো-মেসি দ্বৈরথ ছাড়াও দেখা যেতে পারে রড্রিগুয়েজ-সুয়ারেজ ও নেইমার-বেলের মধ্যেও লড়াই। এসব ব্যক্তিগত লড়াইয়ে এগিয়ে থাকারা দলগতভাবেও সাফল্য পাওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকবে বলে মনে করছেন ফুটবলসংশ্লিষ্টরা।
বিগত কয়েক মৌসুম ধরেই ব্যক্তিগত দ্বৈরথ চলছে লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর মধ্যে। বার্সিলোনার হয়ে আর্জেন্টাইন জাদুকর ও রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে পর্তুগীজ প্রাণভোমরা প্রদর্শন করে চলেছেন নয়নাভিরাম ধারাবাহিক পারফরমেন্স। তবে বছর শেষে পারফরমেন্সের হিসেব কষলে বেশিরভাগ সময়ই সেরার আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছেন মেসি। তবে সর্বশেষ লা লীগায় মেসিকে টপকে পারফরমেন্সে এগিয়ে যান রোনাল্ডো। ময়দানে নামা মানেই গোল, দলের জয়, সঙ্গে নিজের রেকর্ড সমৃদ্ধ করা। গত কয়েক মৌসুমে চিত্রটা প্রতিনিয়ত এরকম ছিল মেসি-রোনাল্ডোর বেলায়। আলোচিত এই দ্বৈরথ ভক্ত-সমর্থকদের মনে ক্ষুধা মিটিয়েছে পুরোদমে। সঙ্গে নিজেদের অতৃপ্তিও। ২০১০-১১ মৌসুমে ক্যারিয়ার সেরা পারফরমেন্সে ভরা ছিল মেসি ও রোনাল্ডোর। পরের মৌসুম অর্থাৎ ২০১১-১২ তে মেসি-রোনাল্ডোর গতি যেন আরও দুুরন্ত, গোলের নেশাটা আরও তীব্র। ফলে এ মৌসুমে বলতে গেলে রেকর্ড ভাঙ্গা-গড়ায় ব্যস্ত ছিলেন দু’জন। মেসি বেশ এগিয়ে থাকলেও মৌসুমজুড়ে সমান ঔজ্জ্বল্য ছড়ান রোনাল্ডো। এর পরের মৌসুমে লা লীগায় রেকর্ড ৫০, সব ধরনের প্রতিযোগিতায় ৭৩ গোল; মেসির নতুন রেকর্ড। সেখানে রোনাল্ডোও পিছিয়ে ছিলেন না। লীগে ৪৬, সব মিলিয়ে ৬০। দুই দলের হয়ে দুই তারকা ফরোয়ার্ডের নজরকাড়া নৈপুণ্য বিস্ময় জাগিয়েছে সবাইকে। সর্বশেষ মৌসুমে মেসিকে ছাপিয়ে যান রোনাল্ডো। এবার কি হবে সেটাই এখন দেখার। গত মৌসুমে লিভারপুলের হয়ে ৩৩ ম্যাচে ৩১ গোল করেন লুইস সুয়ারেজ। বিশ্বকাপে কামড় কা-ে নিষিদ্ধ হওয়া এই ফরোয়ার্ড এবার খেলবেন বার্সিলোনার হয়ে। অ্যালেক্সিস সানচেজ বার্সা ছাড়ায় সুয়ারেজেকে খেলতে হবে বাড়তি দায়িত্ব নিয়ে। বিশ্বকাপেও শুর্টুা করেছিলেন দুর্দান্ত। কিন্তু অপ্রত্যাশিত ঝরে ল-ভ- হতে হয় উরুগুয়েন তারকাকে। মেসুত ওজিল চলে যাওয়ায় গত মৌসুমে রিয়ালের হয়ে এ্যাটাকিং মিডফিল্ডারের কাজ করেছিলেন এ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া। এবার জেমস রড্রিগুয়েজকে এই ভূমিকায় দেখা যাবে। কলম্বিয়ান তারকা ব্রাজিল বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট জিতে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। রিয়ালের হয়ে খেলার স্বপ্নপূরণের পর রড্রিগুয়েজ এখন দলের শিরোপা জয়ে অবদান রাখতে চান। এক্ষেত্রে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাব বার্সার সুয়ারেজের সঙ্গে ব্যক্তিগত লড়াইয়ের বিষয়টিও উঠে আসছে।
আগের বার্সিলোনা ও রিয়ালের অন্যতম সেরা পাওয়া ছিল যথাক্রমে নেইমার ও গ্যারেথ বেলকে দলভুক্ত করা। অনেক নাটকীয়তার পর বার্সা নিশ্চিত করে নেইমারকে। ব্রাজিলিয়ান তারাক ৩৬ ম্যাচে ১৩ গোল করলেও ক্যাটালানদের হয়ে প্রথম মৌসুমে দেখা পাননি শিরোপার। অন্যদিকে বেল ৩৯ ম্যাচে করেন ২১ গোল। শুরুর দিকে নিষ্প্রভ থাকলেও শেষদিকে নিজের ক্যারিশমা দেখান। আসন্ন মৌসুমে এই দুই তারকা নিজ নিজ দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। বেল তো ইতোমধ্যে বলেই দিয়েছেন, মৌসুমের ছয়টি শিরোপা জিততে চান তারা। তবে নেইমার এখনও ইনজুরিতে ভুগছেন। ঠিক কবে নাগাদ তিনি মাঠে ফিরতে পারবেন তা এখনও নিশ্চিত নয়।
এশিয়ান গেমস, প্রাথমিক ক্যাম্পে ২৫ ফুটবলার
স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য এশিয়ান গেমসে অংশগ্রহণের লক্ষে ২৫ ফুটবলারকে ডাকা হয়েছে প্রাথমিক ক্যাম্পে। ডেনমার্ক প্রবাসী জামাল ভুইয়াসহ ডাক পাওয়া ফুটবলারদের ৩ আগস্ট দুপুর ১২টায় মতিঝিলের বাফুফে ভবনে বাংলাদেশ জাতীয় দলের হেড কোচ ডি ক্রুইফ ও সহকারী রেনে কোস্টারের নিকট রিপোর্ট করতে হবে। উল্লেখ্য, সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠেয় গেমসে বাংলাদেশ অনুর্ধ-২৩ জাতীয় যুবদল অংশগ্রহণ করবে। মনোনীত ফুটবলাররা হলেন, ঢাকা আবাহনীর মোঃ শহিদুল আলম, আমিতকুর রহমান মিশু, শাহেদুল আলম শাহেদ, টুটুল হোসেন বাদশা, ঢাকা মোহামেডানের জাহিদ হাসান এমিলি, হেমন্ত কুমার ভিনসেন্ট, এ এস ইউসুফ সিফাত, তপু বর্মন, ওয়াহেদ আহমেদ, নাহিদুল ইসলাম নাহিদ, মোঃ ইমন মাহমুদ, শেখ জামাল ধানম-ির সোহেল রানা, তকলিস আহমেদ, মামুনুল ইসলাম মামুন, মোঃ রায়হান হাসান, ইয়ামিন আহমেদ চৌধুরী মুন্না, কেস্ট কুমার বোস, শেখ রাসেল কেসির ইয়াসিন খান, টি বিমেএমসির ওমর ফারুক বাবু, ব্রাদার্সের জুয়েল রানা, মোঃ রুবেল মিয়া, মুক্তিযোদ্ধা কেসির রাসেল মাহমুদ লিটন ও উত্তর বারিধারা ক্লাবের মোঃ ওসমান গনি। প্রসঙ্গত, তালিকায় রয়েছেন সদ্যসমাপ্ত বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ ফুটবল চ্যাম্পিয়ন শেখ জামাল ধানম-ি ক্লাবের সাত খেলোয়াড়। এরপর মোহাডোনের ছয়জন। আর আবাহনীর চার ফুটবলার।
রুনির জোড়া গোলে ম্যানইউর জয়, ইন্টার মিলানে ধরাশায়ী রিয়াল
স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ নতুন কোচ লুইস ভ্যান গালের আস্থাভাজন হতে মাঠের পারফরমেন্সে উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্বলতর হচ্ছেন ওয়েন রুনি। যুক্তরাষ্ট্র সফরে প্রথম প্রীতি ম্যাচে জোড়া গোল করার পর দ্বিতীয় ম্যাচেও দুই গোল করেছেন তারকা এই ফরোয়ার্ড। রবিবার যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারন্যাশনাল চ্যাম্পিয়ন্স কাপে ‘এ’ গ্রুপের ম্যাচে ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ৩-২ গোলে পরাজিত করে ইতালিয়ান ক্লাব এএস রোমাকে। ম্যানউর হয়ে অপর গোলটি করেন মিডফিল্ডার জুয়ান মাতা। নতুন কোচ ভ্যান গালের অধীনে ইউনাইটেডের এটা টানা দ্বিতীয় জয়। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের লস এ্যাঞ্জেলেস গ্যালাক্সির বিরুদ্ধে প্রীতি ম্যাচে ৭-০ গোলে জয় পেয়েছিল ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগের ইতিহাসের সেরা সাফল্যের দলটি।
দলবদলের বাজার গরম করলেও প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতির প্রথম ম্যাচটি ভাল কাটেনি রিয়াল মাদ্রিদের। ইন্টারন্যাশনাল চ্যাম্পিয়ন্স কাপে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নদের টাইব্রেকারে ৩-২ গোলে হারিয়েছে ইতালিয়ান ক্লাব ইন্টার মিলান। নির্ধারিত সময়ের খেলা ১-১ গোলে অমীমাংসতি ছিল। হার মেনেছে ইংলিশ ক্লাব আর্সেনালও। স্বাগতিক নিউইয়র্ক রেড বুলসের কাছে ১-০ গোলে নতি স্বীকার করে গানার্সরা। ভ্যান গাল দায়িত্ব নেয়ার পর গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, রুনির ম্যানইউর সেরা একাদশে জায়গা নাও হতে পারে! এ কারণে মেজাজি এই স্ট্রাইকার নিজেকে প্রমাণের জন্য উঠেপড়ে লেগেছেন। এই প্রচেষ্টায় দারুণ সফল তিনি। ইন্টারন্যাশনাল চ্যাম্পিয়ন্স কাপে রেড ডেভিলসদের জয়ের নায়ক তারকা এই ফুটবলার। কলোরাডোর ডেনভারে স্পোর্টস অথরিটি ফিল্ডে অনুষ্ঠিত ম্যাচে নিজে দুই গোল করার পাশাপাশি দলের অপর গোলটিতেও সহায়তা করেন তিনি। শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে খেলা ম্যানইউ প্রথমার্ধের শেষদিকে তিন গোল করে জয় একপ্রকার নিশ্চিত করে ফেলে। ম্যাচের ৩৬ মিনিটে ২০ গজ দূর থেকে রুনির জোরালো শটে এগিয়ে যায় ম্যানইউ। ৩৮ মিনিটে নিজেদের সীমানা থেকে রুনির দেয়া লম্বা পাস দারুণভাবে আয়ত্তে এনে ব্যবধান ২-০ করেন স্প্যানিশ মিডফিল্ডার মাতা। প্রথমার্ধের ইনজুরি সময়ে পেনাল্টি থেকে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোলটি করেন রুনি। বিরতির পর অবশ্য দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় এএস রোমা। ম্যাচের ৭৫ মিনিটে মিরালেম পিজানিচের অসাধারণ এক গোলে ব্যবধান ৩-১ করে তারা। মাঝ মাঠেরও ১০ গজ আগে থেকে বসনিয়ার এই মিডফিল্ডারের দুর্দান্ত শটটি কিছুটা এগিয়ে আসা ইউনাইটেডের গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে জালে জড়ায়। ম্যাচ শেষের এক মিনিট আগে পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান ৩-২ করেন রোমার ইতালিয়ান স্ট্রাইকার ফ্রান্সেসকো টট্টি। শেষ পর্যন্ত এই ফলাফলেই ম্যাচ শেষ হয়। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন রিয়াল মাদ্রিদ আসছে মৌসুমে স্প্যানিশ লা লীগার শিরোপা পুনরুদ্ধারসহ মৌসুমে ছয়টি শিরোপাতেই দৃষ্টি রাখছে। এ লক্ষ্যে আরও কয়েক তারকাকে দলে ভিড়িয়েছে গ্যালাক্টিকোরা। কিন্তু মৌসুম শুরুর প্রস্তুতি ম্যাচের প্রথমেই হারের স্বাদ পেয়েছে কার্লো আনচেলোত্তির দল। ইন্টার মিলানের সঙ্গে ম্যাচটি নির্ধারিত ৯০ মিনিটি ১-১ গোলে ড্র ছিল। এরপর ভাগ্যনির্ধারণী টাইব্রেকারে রিয়ালকে ৩-২ গোলে হারায় ইন্টার। ক্যালিফোর্নিয়া মেমোরিয়াল স্টেডিয়ামে অবশ্য শুরুটা দারুণ করেছিল রিয়াল। ম্যাচের দশম মিনিটেই গ্যারেথ বেলের দারুণ নৈপুণ্যে এগিয়ে যায় ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নরা। মাঝ মাঠের কাছাকাছি থেকে বল পেয়ে বেশ খানিকটা এগিয়ে গিয়ে ৩০ গজ দূর থেকে বাঁ পায়ের জোরালো শটে লক্ষ্যভেদ করেন ওয়েলসের এই ফরোয়ার্ড। এই গোলের অগ্রগামিতা নিয়েই বিরতিতে যায় রিয়াল। বিরতির পর ৬৮ মিনিটে মাউরো ইকার্ডির পেনাল্টি গোলে ম্যাচে সমতা ফেরায় ইন্টার। ডি বক্সের মধ্যে ইকার্ডির সতীর্থ নেমাঞ্জা ভিদিচকে অবৈধভাবে বাঁধা দিলে পেনাল্টি পায় ইন্টার। সমতাবস্থায় ম্যাচ শেষ হওয়ার পর টাইব্রেকারে গড়ায় খেলা। সেখানে রিয়ালের তিনটি শট রুখে দেন ইন্টারের আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক জুয়ান পাবলো ক্যারিসো।
আইসিসির ওপর চটলেন ধোনি
প্রসঙ্গ এ্যান্ডারসন-বিতর্ক ও জাদেজার জরিমানা
স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ জমে উঠেছে মাঠের বাইরের খেলা। লর্ডস হয়ে সিরিজ এখন সাউদাম্পটনে। কিন্তু ট্রেন্টব্রিজের প্রথম টেস্টে জেমস এ্যান্ডারসনের সঙ্গে রবিন্দ্র জাদেজার অনাকাক্সিক্ষত সেই ঘটনা যেন ক্রমশ ফুলে ফেপে উঠছে। অভিযুক্ত এ্যান্ডারসনের শুনানি ১ আগস্ট, তার আগেই ভুক্তভোগী জাদেজার ম্যাচ ফির ৫০ শতাংশ জরিমানা করেছে আইসিসি! ‘ক্যাপ্টেন কুল’ ধোনি আর ‘কুল’ থাকতে পারলেন না। ভারত অধিনায়ক এবার প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করলেন ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসির (ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল) ওপর।
জাদেজার শাস্তির (জরিমানা) বিপক্ষে আইসিসিতে আবেদন জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআই। এবার তীব্রস্বরে কথা বলছেন ধোনি। সাউদাম্পটনে তৃতীয় টেস্ট শুরুর প্রাক সংবাদ সম্মেলনে ভারত অধিনায়ক কার্যত গোটা ক্রিকেট দুনিয়াকেই চমকে দিয়েছেন। ‘কাল যদি আমি আমার খেলোয়াড়দের বলি, মাঠে তোমরা একটি কথাও বলো না। কিন্তু তারপরও ব্যাপারটা এমনই দাঁড়াবে যে, সেই লোকটা যাই করুক না কেন, আমাদের ম্যাচ ফির ৫০ শতাংশ কেটে নেয়া হবে। তার চেয়ে আমি লোকটাকে (এ্যান্ডারসনকে বোঝাতে) গালাগাল দিয়েই না হয় জরিমানার শাস্তি ভোগ করি। কারণ ব্যাপারটা এমন দাঁড়াল যে, আমাকে অন্য একজনের গালি খেতে হবে আবার জরিমানাও গুনতে হবে! হাস্যকর।’
নটিংহামে সিরিজের প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় দিন ক্রিজে ব্যাটিং করছিলেন ভারতীয় অলরাউন্ডার রবিন্দ্র জাদেজা। ফিল্ডিংয়ের সময় জাদেজাকে লক্ষ্য করে অশালীন, বিব্রতকর মন্তব্য করেন তারকা ইংলিশ পেসার এ্যান্ডারসন। লাঞ্চ বিরতির সময় জাদেজার দিকে তেড়ে যান তিনি! ভারতীয় মিডিয়ার সংবাদ অনুসারে লাঞ্চে ড্রেসিং রুমে এ নিয়ে আলোচনার পর নাকি মাঠে নামতেও আপত্তি জানিয়েছিল মহেন্দ্র সিং ধোনির দল! জাদেজার অভিযোগ, এ্যান্ডারসনের মন্তব্য ছিল স্পষ্টতই বর্ণবৈষম্যের সামীল। ভারতীয় ম্যানেজমেন্টের পক্ষ থেকে বিষয়টি ম্যাচ রেফারিকে জানানো হয়। লর্ডস টেস্ট শুরুর আগেই শুনানি হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু দৃশ্যের ভিডিও ফুটেজ হাতে না পাওয়া সেটি পিছিয়ে ১ আগস্ট নেয়া হয়। বক্তব্য, সাক্ষী প্রমাণ ও ম্যাচের ভিডিও দেখে অভিযোগ প্রমাণিত হলে এ্যান্ডারসনকে দুই থেকে চার টেস্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করা হতে পারে। এ্যান্ডারসনের শুনানির আগেই জাদেজার ম্যাচ ফির ৫০ শতাংশ জরিমানা করে ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি! শুক্রবার এক বিবৃতিতে আইসিসি জরিমানার বিষয়টি নিশ্চিত করে। ট্রেন্টব্রিজে এ্যান্ডারসনের বলে আম্পায়ার জাদেজাকে এলবিডব্লিউ না দিলে কটূক্তি করে বিতর্কের শুরু করেন জিমি। জাদেজাও পাল্টা বাক্য বিনিময় করেন। এই ঘটনায় জাদেজা আইসিসির কোড অব কনডাক্ট (লেভেল-টু) লঙ্ঘন করেছেন, মর্মে তার ম্যাচ ফির শতকরা ৫০ ভাগ জরিমানা ধার্য করে আইসিসি। জাদেজাকে সরাসরি দোষী করা না হলেও বাঁহাতি এই তারকা অলরাউন্ডার ‘স্পিরিট অব গেমস’ পরিপন্থী আচরণ করেছেন বলে জানিয়েছে আইসিসি।
ক্ষুব্ধ ভারত অধিনায় মহেন্দ সিং ধোনি আরও জানিয়েছেন, প্রথম টেস্টের ঘটনা এবং তার জেরে জাদেজার বিরুদ্ধে আইসিসির শাস্তির এই সিদ্ধান্ত কিভাবে গোটা ব্যাপারটাকেই হাতের বাইরে নিয়ে চলে যাচ্ছে সেটা বোঝানোর জন্যেই তিনি ওইসব কথা বলেন। সঙ্গে এটাও বলেন, ইংল্যান্ড থেকে ধোনিই নাকি বিসিসিআইকে বলেছিলেন জাদেজার জরিমানায় এর বিপক্ষে প্রতিবাদ জানানো দরকার। বোর্ড তার কথার গুরুত্ব দেয়ায় তিনি খুশি। ভারত বনাম আইসিসি উত্তাপ বাড়িয়ে দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমি মনে করি সেদিনের ঘটনায় জাদেজার দিক থেকে বিন্দুমাত্র প্ররোচনা কিংবা আগ্রাসন ছিল না। ফলে ওপর শাস্তিটা আমাদের আরও আঘাত দিয়েছে। অদ্ভুত ব্যাপার জাদেজার বিরুদ্ধে আইসিসি কোড অব কন্ডাক্ট লেভে-২ অপারধের অভিযোগ এনেছে। অথচ শাস্তি দেয়া হয়েছে লেভেল-১ এর আওয়াতায়! লেভেল-১ এর সৌন্দর্য হলো আপনি এর বিরুদ্ধে আপীল করতে পারবেন না! কিন্তু ভারতীয় আইন বিভাগ বিষয়টি খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে। স্পষ্ট করেই বলছি, আমি জাদেজার এই শাস্তিতে মোটেই খুশি নই।’