|
বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০১৩, ৬ আষাঢ় ১৪২০
রোনাল্ডোকে রাখতে ১৫৫ মিলিয়ন ইউরো!
স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ চার বছরে রিয়াল মাদ্রিদের ট্রাম্পকার্ডে পরিণত হয়েছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। রিয়াল বলতেই পর্তুগীজ এ তারকা ফরোয়ার্ডের চেহারা ভেসে ওঠে সবার চোখে। বিশ্বব্যাপী স্প্যানিশ জায়ান্টদের যত সমর্থক তাঁর অধিকাংশই তো রোনাল্ডো প্রেমের কারণে। তাঁকে কি আর এত সহজে অন্য কোথাও যেতে দেয়া যায়? জোরেশোরে শোনা যাচ্ছিল রোনাল্ডোর পুরনো ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তাঁকে দলে ভেড়ানোর যথাসাধ্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটি আর হচ্ছে না। চুক্তি নবায়নের জন্য রোনাল্ডোকে যে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে সেটা বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে সবাইকে হতভম্ব করে দেয়ার জন্য যথেষ্ট। আগামী ৫ বছরের জন্য রোনাল্ডোর প্রতিনিধির সঙ্গে ১৫৫ মিলিয়ন ইউরোর চুক্তি করার আলোচনায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে রিয়াল কর্তৃপক্ষ। চুক্তি সম্পন্ন হলে ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি উপার্জনকারী ফুটবলার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করবেন রোনাল্ডো। সবমিলিয়ে কর দিয়েও বছরে ১৫ মিলিয়ন ইউরো থাকবে তাঁর পকেটে!
সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে চার মৌসুম কাটিয়ে রোনাল্ডো ১৯৯ ম্যাচে করেছেন ২০১টি গোল। গত বৃহস্পতিবার তিনি টুইটারে লিখেছিলেন, ‘রিয়ালের সঙ্গে চুক্তি নবায়নের সকল খবর মিথ্যা।’ তিনি জানান, বর্তমান চুক্তি অনুসারে ২০১৫ পর্যন্ত রিয়ালেই থাকতে হবে তাঁর চলমান চুক্তি অনুসারেই। ২০০৩ থেকে ২০০৯ মোট ছয়টি মৌসুম ম্যানইউর হয়ে কাটিয়েছেন ২৮ বছর বয়সী রোনাল্ডো। তবে ওল্ড ট্র্যাফোর্ড ছাড়ার পর স্পেনে এসে আরও দুরন্ত হয়ে ওঠেন। তাই রোনাল্ডোকে নতুন করে ফিরিয়ে আনতে আদা-জল খেয়েই লেগেছিল ম্যানইউ। কিন্তু সেটা স্বপ্নই থেকে যাচ্ছে। তবে ব্যালন ডি’অর জেতার জন্য যে সমর্থন পাওয়ার প্রয়োজন ছিল সেটা রিয়াল সমর্থকদের কাছেও যথাযথভাবে না পাওয়ার পর থেকে দুঃখে ভারাক্রান্ত হন রোনাল্ডো। সতীর্থ মারসেলো এবং কোচ মরিনহোর সঙ্গেও সম্পর্কের অবনতি ঘটে মৌসুমের প্রথম দিকে। কিছুটা আশাহত হয়ে পড়েন রিয়ালের পক্ষ থেকে চুক্তি নবায়নের ক্ষেত্রে তেমন আগ্রহ না দেখানোয়। অথচ ২০০৯ সালে রেকর্ড ৯৪ মিলিয়ন ইউরো দিয়ে তাঁকে দলে ভিড়িয়েছিল রিয়াল। এ চুক্তি অনুসারে কর দিয়েও পকেটে ১০ মিলিয়ন ইউরো থাকে রোনাল্ডোর। চিরাচরিত নিয়মে একসময় আয়কর বেতনের ৪৫ শতাংশ হলেও সেটা বিদেশী ফুটবলাররা দিতেন ২৩ শতাংশ হারে। কিন্তু বর্তমানে অর্ধেকটাই রাজস্ব খাতে চলে যায়। বতর্মানে পারিশ্রমিকের ৫২ শতাংশ স্প্যানিশ সরকারকে দিতে হয় বিদেশী ফুটবলারদের। সেক্ষেত্রে নতুন চুক্তির প্রস্তাব অনুসারে বছরে রোনাল্ডোর বেতন ৩১ মিলিয়ন ইউরো হলেও কর দিয়ে অবশিষ্ট থাকবে মাত্র ১৫ মিলিয়ন ইউরো।
চড়ামূল্য দিয়ে হলেও রোনাল্ডোকে রাখতে বদ্ধপরিকর রিয়াল। কারণ, অন্যতম শত্রু বার্সিলোনা পেয়েছে নেইমারকে। তাঁকে দলে ভেড়াতে কম তদবির করেনি রিয়াল। সম্প্রতি জার্মান ক্লাব বরুসিয়া ডর্টমুন্ড থেকে লেভানডোস্কি ও ইলকে গুনডোগানকেও নিতে ব্যর্থ হয়েছে তারা। তারও আগে সার্জিও এ্যাগুয়েরো ও র্যাদামেল ফ্যালকাওকে দলে ভেড়ানো সম্ভব হয়নি। গ্যারেথ বেল ও এডিনসন কাভানিকেও প্রত্যাশার বাইরে মূল্য চাওয়ায় পায়নি রিয়াল। সবমিলিয়ে রোনান্ডো আরও বেশি মূল্যবান হয়ে উঠেছেন দলটির জন্য। তাই ক্লাব প্রেসিডেন্ট ফ্লোরেন্টিনো পেরেজ বলেছেন, ‘ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোকে ঘিরেই আমি রিয়ালকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। আমি চাই বিশ্বের সর্বাধিক পারিশ্রমিক পাওয়া ফুটবলার হবেন ক্রিশ্চিয়ানো।’ এ কারণেই ফুটবল বিস্ময় লিওনেল মেসির চেয়েও বেশি উপার্জনকারী হিসেবে রোনাল্ডোকে প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ নিয়েছে রিয়াল। মেসি বোনাসসহ বছরে ১৩ মিলিয়ন ইউরো এবং সম্প্রতি মোনাকোতে যোগ দেয়া ফ্যালকাও বছরে ১৪ মিলিয়ন ইউরো পকেটে পুরবেন। যদিও বর্তমানে এ তালিকায় সবার ওপর ক্যামরুনের স্যামুয়েল ইতো। তিনি আনঝি মাখাচকালা থেকে আয় করছেন বছরে ২০ মিলিয়ন ইউরো। কিন্তু তিন বছরের চুক্তি থাকায় তাঁকেও ছাড়িয়ে যাবেন রোনাল্ডো সবমিলিয়ে আয়ের দিক থেকে।
স্প্যানিশদের দৃষ্টি শেষ চারে, বাঁচামরার লড়াই উরুগুয়ের
রাত ১টায় মুখোমুখি স্পেন-তাহিতি
জাহিদুল আলম জয় ॥ মজার ব্যাপারই বলতে হবে। ফিফা কনফেডারেশন্স কাপে ‘বি’ গ্রুপে আজ বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে দু’টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। রাত ১টায় মুখোমুখি হবে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন ও ওশেনিয়া চ্যাম্পিয়ন তাহিতি। ভোর ৪টায় লড়বে আফ্রিকান চ্যাম্পিয়ন নাইজিরিয়া ও কোপা আমেরিকার শিরোপাধারী উরুগুয়ে। অবাক করা ব্যাপার, দুটি ম্যাচের দলই এর আগে কখনও আন্তর্জাতিক বা প্রীতি ম্যাচে একে অপরের মুখোমুখি হয়নি। এই হিসেবে কনফেডারেশন্স কাপের মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো পরস্পরের বিরুদ্ধে ময়দানী লড়াইয়ে অবতীর্ণ হচ্ছে স্পেন-তাহিতি ও নাইজিরিয়া-উরুগুয়ে।
বলার অপেক্ষা রাখে না, তাহিতির বিরুদ্ধে স্পষ্ট ফেবারিট বিশ্ব ও ইউরো শিরোপাজয়ী স্পেন। নিজেদের প্রথম ম্যাচে জাভি, ইনিয়েস্তা, রামোসরা ২-১ গোলে পরাজিত করে উরুগুয়েকে। আজকের ম্যাচে জয় পেলে তাই সেমিফাইনাল নিশ্চিত হবে ভিসেন্তে ডেল বস্কের দলের। তাহিতি ১৭ জুন নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলে নাইজিরিয়ার বিরুদ্ধে। ওই ম্যাচের মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো কোন আন্তর্জাতিক আসরে খেলার রেকর্ড গড়ে ছোট্ট দেশটি। সুপার ঈগলসদের কাছে ৬-১ গোলের বড় ব্যবধানে হারলেও খুশি তাহিতি। স্পেনের বিরুদ্ধেও দেশটি জয় কিংবা ড্রয়ের স্বপ্ন দেখছে না! ক্যাসিয়াস, ভিয়া, ইনিয়েস্তা, জাভি, পেড্রোদের বিরুদ্ধে খেলতে পারাই তাদের জন্য সৌভাগ্যের। এই প্রথমবারের মতো স্পেনের বিরুদ্ধে খেলবে তাহিতি। এর আগে অবশ্য ফিফা অনুর্ধ-২০ বিশ্বকাপে একবার মুখোমুখি হয়েছিল দু’দেশ। ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত ওই ম্যাচে স্পেন ৮-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছিল তাহিতিকে। আজকের ম্যাচেও তাই গোলবন্যায় ভাসতে পারে ওশেনিয়া চ্যাম্পিয়নরা! উরুগুয়ে-নাইজিরিয়ার এখন পর্যন্ত মুখোমুখি না হওয়াটা অবাক করা ঘটনাই বটে। দেশ দুটি ফিফা বিচ বিশ্বকাপে একবার মুখোমুখি হয়েছিল। ২০০৭ সালে অনুষ্ঠিত কোয়ার্টার ফাইনালের ওই ম্যাচে জয় পেয়েছিল দক্ষিণ আমেরিকার দেশ। আজ ভোরে তাই অচেনা প্রতিপক্ষ হিসেবেই মুখোমুখি হচ্ছে আফ্রিকান ও কোপা আমেরিকার শিরোপাধারীরা। এই ম্যাচটি উরুগুয়ের জন্য বাঁচামরার। নিজেদের প্রথম ম্যাচে স্পেনের কাছে হারায় শেষ চারের আশা বাঁচিয়ে রাখতে অন্ততপক্ষে হার এড়াতে হবে তাদের। উরুগুয়ের কোচ দিয়েগো লুগানো ম্যাচটিকে ‘ফাইনাল’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। দলের কোচ অস্কার তাবারেজও ম্যাচটিকে চূড়ান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। দলের তারকা স্ট্রাইকার দিয়াগো ফোরলান বলেছেন, স্পেনের কাছে হার ছিল স্বাভাবিক ঘটনা! কিন্তু এখন আমাদের নাইজিরিয়ার বিরুদ্ধে জয় পেতেই হবে। ম্যাচটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুর্বল প্রতিপক্ষ হলেও তাহিতির বিরুদ্ধে বড় জয়ে সুবিধাজনক অবস্থায় আছে নাইজিরিয়া। বোর্ডের সঙ্গে ঝামেলা মিটিয়ে ব্রাজিলে আসা সুপার ঈগলসরাও এখন স্বপ্নকাতর জয় নিয়ে শেষ চার নিশ্চিত করতে। দলের কোচ স্টিফেন কেশি বলেছেন, আমি বলতে চাই আমাদের সুযোগ আছে। আমরা সুযোগটাকে কাজে লাগাতে চাই। তিনি আরও বলেন, আমাদের পরিষ্কার সম্ভাবনা আছে, শতভাগ সম্ভাবনা। তবে প্রতিপক্ষ অবশ্যই কঠিন। মিশন শুরু করলেও একপর্যায়ে কনফেডারেশন্স কাপে নাইজিরিয়ার খেলা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছিল সংশয়। আসর শুরুর মাত্র দুদিন আগে ধর্মঘটের ঘোষণা দিয়ে হৈচৈ ফেলে দিয়েছিলেন নাইজিরিয়ার ফুটবলাররা। ব্রাজিলের উদ্দেশে যাত্রা করার কথা থাকলেও নির্ধারিত বিমানে উঠতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন দলটির ফুটবলাররা। নাইজিরিয়ার ফুটবলারদের এই কা-ে বিশ্বকাপের মহড়া আসর ঘিরেই সৃষ্টি হয়েছিল অনিশ্চয়তা। শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার (ফিফা) হস্তক্ষেপে। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে ভাল পারফরম্যান্স দেখাতে পারলে খেলোয়াড়দের ১০ হাজার ডলার করে বাড়তি বোনাস দেয়া হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল নাইজিরিয়া ফুটবল সংস্থা। কিন্তু আচমকাই সেই বোনাসের পরিমাণ অর্ধেক করে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়া হলে ধর্মঘটের ডাক দেন ফুটবলাররা। অপ্রত্যাশিত ওই ঘটনার পর দ্রুত পদক্ষেপ নেন ফিফার মহাসচিব জেরোমে ভাল্কে। নাইজিরিয়ার ফুটবলারদের সঙ্গে কথা বলে তিনি সমস্যার সমাধান করেন দ্রুত। এর ফলশ্রুতিতে আফ্রিকান নেশন্স কাপজয়ী দেশ হিসেবে কনফেডারেশন্স কাপে অংশ নিচ্ছে নাইজিরিয়া।
এবার চমক দেখিয়েই কনফেডারেশন্স কাপে অংশ নিচ্ছে তাহিতি। পৃথিবীর মানচিত্রে ছোট্ট একটি দেশ। আয়তন মাত্র চার শ’ বর্গমাইল। জনসংখ্যাও মাত্র পৌনে দুই লাখ। ফুটবলবিশ্বে পরিচিত নেই বললেই চলে। অথচ মহাদেশীয় মহাযুদ্ধের আসরে তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে স্পেন, উরুগুয়ে, নাইজিরিয়ার মতো পরাশক্তিদের বিরুদ্ধে। মর্যাদার এই আসরে দলটি খেলতে এসেছে ওশেনিয়া অঞ্চলের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে। তাই খাতা-কলমে তাহিতিকে কেউ গণনায় না ধরলেও দলটি চমক দেখানোর স্বপ্ন দেখছে। অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে এই পর্যায়ে এসেছে তাহিতি। দলটি এখন পেশাদারিত্বের চাদরে নিজেদের জড়াতে পারেনি। মূলত ‘আধা-পেশাদার’ ফুটবলার নিয়ে দলটি গড়া। বেশিরভাগ ফুটবলারই দিনে নিজেদের আয় রোজগারের জন্য অন্য কাজ করেন। এরপর রাতে সবাই একত্রিত হয়ে অনুশীলন করেন। বর্তমান দলটির কেবল একজন ফুটবলারের সঙ্গে পূর্ণকালীন চুক্তি আছে। ‘সৌভাগ্যবান’ সেই খেলোয়াড় হলেন স্ট্রাইকার মারামা ভাহিরুয়া।
এই দলটির কিনা ২০১২ সালে ওএফসি কাপে রূপকথার জন্ম দিয়ে হয় চ্যাম্পিয়ন। এর মধ্যে দিয়ে প্রথম নিউজিল্যান্ড বা অস্ট্রেলিয়ার বাইরে থেকে কেউ ট্রফি জয়ের কৃতিত্ব দেখায়। দেশটির ফুটবল ইতিহাসে যা সবচেয়ে বড় সাফল্য। অসাধারণ এই সাফল্যগাথাকে অনুপ্রেরণা হিসেবে নিয়ে কনফেডারেশন্স মিশন শুরু করেছে তাহিতি। নাইজিরিয়ার কাছে বিধ্বস্ত হলেও অর্জনের খাতায় যোগ হয়েছে প্রাপ্তি। আজ বর্তমান বিশ্বের সেরা ফুটবল দল স্পেনের বিরুদ্ধে স্বপ্নের লড়াইয়ে অবতীর্ণ হচ্ছে তাহিতি। অনেকেই রসিকতা করে বলছেন, নিজেদের খেলা না খেলে যেন আবার স্পেনের খেলা দেখা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন মারামা ভাহিরুয়া, নিকোলাস ভালার, আলভিন তেহাউরা!
গ্রামীণ ব্যাংককে ছিনিয়ে নিতে দেবে না জনগণ ॥ ইউনূস
গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহাম্মদ ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংক সম্পর্কে সরকারের সুপারিশ নিয়ে একটি প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। এ সংক্রান্ত ড. ইউনূসের নিবন্ধ নিম্নে তুলে ধরা হলো :
গ্রামীণ ব্যাংক একটি অনন্য আইন কাঠামোর মাধ্যমে সৃষ্ট একটি অনন্য প্রতিষ্ঠান। এই আইন কাঠামো এই ব্যাংককে যে প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা ও ক্ষমতা দিয়েছে তার কর্মদক্ষতা গত ৩০ বছরে ব্যাংকের সফলতার মাধ্যমে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে। গ্রামীণ ব্যাংক কি অপরাধ করেছে যে তাকে টুকরা টুকরা করে ফেলতে হবে।
২০০৮ সাল পর্যন্ত সংশোধনীগুলোসহ গ্রামীণ ব্যাংক অধ্যাদেশটি এই ব্যাংকের আদর্শ ও উদ্দেশ্য পূরণের জন্য একটি চমৎকার আইন কাঠামো। এই কাঠামো পরিবর্তন করলে ভয়াবহ পরিণতির সৃষ্টি হবে। ২০০৮ সালের সংশোধনীতে বলা হয়েছিল গ্রামীণ ব্যাংক এখন থেকে শহরাঞ্চলে তার কার্যক্রম চালু করতে পারবে এবং গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান পর্ষদ কর্তৃক নির্বাচিত হবে, সরকার কর্তৃক নয়। কিন্তু বর্তমান সরকার এই সংশোধনী অনুমোদন না করতে তা বাতিল হয়ে যায়।
যে আইন কাঠামো নিয়ে গ্রামীণ ব্যাংক আন্তর্জাতিকভাবে গৌরবের শীর্ষে গেছে, নোবেল পুরস্কার পেয়েছে, ৮৪ লাখ ঋণগ্রহীতার জীবনে এবং তাদের সন্তানদের জীবনে আশার আলো জাগাতে পেরেছে, দরিদ্র মহিলাদের একটি বিশাল ব্যাংকের মালিক বানাতে পেরেছে, যেই আইন কাঠামোর অবদানের জন্য সারা জাতি তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ, যে আইন কাঠামোকে পৃথিবী অভিনন্দন জানাচ্ছে, অন্যরা যে কাঠামো অনুকরণ করতে চাচ্ছে, তদন্ত কমিশন সেই কাঠামোতে কী অপরাধ পেলো যে তাকে আস্তাকুঁড়ে ফেলে দেবার আয়োজন করছে। কমিশন কি মেহেরবাণী করে বিষয়টি জাতির সামনে খোলাসা করে বলবেন?
গ্রামীণ ব্যাংক গরিব মহিলাদের নিজস্ব অর্থে গড়া সম্পদ। যে প্রতিষ্ঠানের ৯৭ শতাংশ মালিকানা গরিব মহিলাদের হাতে সেখানে তদন্ত কমিশন কীভাবে প্রস্তাব করে যে এটার বৃহত্তর মালিকানা সরকারকে দিয়ে দিতে হবে। গরিব মানুষের মালিকানাকে গায়ের জোরে কেড়ে নেবার প্রস্তাব দেয়া হচ্ছে কেন? সরকারী মালিকানার ব্যাংক বানিয়ে সরকারী লোক দিয়ে পরিচালনা পর্ষদ গঠন করলে গ্রামীণ ব্যাংক উন্নতির চরম শিখরে উঠবে, নাকি ধ্বংসের গভীর গহ্বরে গিয়ে পৌঁছবে এটা কি বাংলাদেশের মানুষকে বুঝিয়ে বলতে হবে? কী লক্ষ্য মাথায় রেখে তদন্ত কমিশন এরকম আজগুবি ও বিধ্বংসী প্রস্তাব করতে পারল সেটা জানার আগ্রহ থাকবে দেশের সকল মানুষের।
শেয়ারের মালিকানার ৯৭ ভাগ গরিব মহিলাদের শুধু তাই নয়, তাদের সঞ্চয়ের টাকা দিয়েই গ্রামীণ ব্যাংকের মূল ঋণ কর্মসূচী চলে। এই ব্যাংকে তাদের আট হাজার কোটি টাকা সঞ্চয় জমা আছে। যে ব্যাংক নাগরিকদের নিজের টাকায় চলে সেখানে সরকারকে কেন ৫১ শতাংশ বা তারও বেশি মালিকানা দিতে হবে এবং সরকারের আজ্ঞাবহদের হাতে এই ব্যাংক পরিচালনার (তথা লুটপাটের) ব্যবস্থা করে দিতে হবে, এর ব্যাখ্যা কি কমিশন জাতির সামনে উপস্থাপন করবেন? এই সোনালী ব্যাংক পরিচালনার সরকারী ‘মহাসাফল্য’ দেখে অনেকে নিশ্চয়ই কমিশনকে এইরকম সুপারিশ করার জন্য উদ্বুদ্ধ করেছেন।
গরিবের ব্যাংক গরিবের হাত থেকে কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করবেন না। কলমের খোঁচায় আইন পাল্টিয়ে দিয়ে ৮৪ লাখ গরিব পরিবারের সঙ্গে চরদখলের খেলায় নামলে সেটা সরকারের জন্য সুখকর অভিজ্ঞতা হবে এমন মনে করার কোন কারণ নেই। আর দেশের মানুষ বিশ্বসমাজে তার গর্বের প্রতিষ্ঠানটিকে গ্রাস করে ও টুকরা টুকরা করে ধ্বংস করতে দেবে এই আশা করারও কোন কারণ নেই।
এই ব্যাংক সরকারের কাছ থেকে কোন টাকা নেয় না, কোন দাতা সংস্থা থেকেও টাকা নেয় না। এটা সম্পূর্ণরূপে স্বনির্ভর প্রতিষ্ঠান। এটা গরিব মহিলাদের মালিকানায় এবং তাদেরই পরিচালনায় একটি ব্যাংক। তার নিজস্ব আইন কাঠামোর আওতায় এটা সুন্দরভাবে বরাবর পরিচালিত হয়ে এসেছে। এই আইন কাঠামো পরিবর্তনের কোন কারণ এ পর্যন্ত ঘটেনি। গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালনার ব্যাপারে কারও মনে কোন সন্দেহের উদ্রেক কোনদিন হয়নি বরং এটা নিয়ে গর্ববোধ করেছে। সংবাদ মাধ্যমে এটা নিয়ে প্রশ্ন উঠেনি। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এর পরিচালনার মান নিয়ে প্রশ্ন তো উত্থাপন করেইনি বরং প্রতি বছর প্রশংসা করেছে। ঋণগ্রহীতারা এর ব্যবস্থাপনা নিয়ে কোন প্রশ্ন তোলেনি।
এখন তদন্ত কমিশন থেকে একটা অদ্ভুত প্রস্তাব এসেছে যে এর আইন কাঠামো পাল্টানো দরকার। কিন্তু কেন?
গ্রামীণ ব্যাংককে গ্রামীণ ব্যাংকের আইন মতো চলতে দিন। কমিশনের প্রস্তাব অনুসারে আইন পরিবর্তন করলে এটা একটা জাতীয় বিপর্যয় ডেকে নিয়ে আসবে। কমিশন যে কটি বিকল্প প্রস্তাব করেছে তার প্রতিটিই ব্যাংকের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনবে। ৪ কোটি গরিব মানুষের ভাগ্য এই ব্যাংকের সঙ্গে জড়িত আছে- এ কথা মনে রেখে এ ব্যাংককে রক্ষার দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যাদের সম্পদ কেড়ে নেবার আয়োজন হচ্ছে তারা এদেশের নাগরিক। তারা এদেশের ভোটার। এ কথা ভুলে গেলেও চলবে না। ৮৪ লাখ দরিদ্র নারীর মালিকানাধীন বিশ্বব্যাপী পরিচিত একটি স্বনির্ভর আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে সরকারীকরণ করা হলে কিংবা খণ্ডবিখণ্ড করা হলে এটা হবে সরকারের ক্ষমতার চরম অপব্যবহার।
আইন কাঠামো পরিবর্তনের বিষয়ে গ্রামীণ ব্যাংক তদন্ত কমিশনের সুপারিশগুলোর কোনটাই সামান্যতম বিবেচনারও যোগ্যতা রাখে না। কিন্তু এই সুপারিশগুলোর মধ্যে প্রচণ্ড ধবংসাত্মক শক্তি নিহীত আছে। তাই সমবেতভাবে এসুপারিশগুলোকে প্রতিহত করতে হবে। গ্রামীণ ব্যাংক চিরজীবী হোক। গরিব মহিলাদের ক্ষমতা চিরস্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত হোক। -সূত্র : বাংলা নিউজ
৪শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে রেজিলিয়েন্স ফান্ডে দুই বড় প্রকল্প অনুমোদন
বিশেষ প্রতিনিধি ॥ ক্লাইমেট চেঞ্জ রেজিলিয়েন্স ফান্ডের গভর্নিং কাউন্সিলের সভায় ৪শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি বড় প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। এ দুটি প্রকল্পের একটি হচ্ছে সৌর বিদ্যুতের মাধ্যমে সেচ প্রদান এবং অপরটি হচ্ছে খাদ্য সংরক্ষণের জন্য সাইলো নির্মাণ।
প্রকল্প দুটির মধ্যে সোলার ইরিগেশন প্রজেক্ট বা সৌর সেচ পাম্প প্রকল্পের মাধ্যমে সারাদেশে ১ হাজার ৫শ’ সেচ পাম্প স্থাপন করা হবে, যাতে ৪৫ হাজার কৃষক উপকৃত হবে। আর মডার্ন ফুড স্টোরেজ ফ্যাসিলিটি প্রজেক্টের মাধ্যমে সারাদেশে ৮টি সাইলো নির্মাণ করা হবে, যেখানে প্রায় ৬ লাখ টন খাদ্যশস্য অত্যাধুনিকভাবে মজুদ করা সম্ভব হবে।
বুধবার সচিবালয়ে বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ রেলিজিয়েন্স ফান্ডের গভর্নিং কাউন্সিলের সভায় এ প্রকল্প দুটি অনুমোদন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন কাউন্সিলের চেয়ারপার্সন পরিবেশ ও বন মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। সভায় গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী এ এইচ মোহাম্মদ আলী, পানিসম্পদ মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন, ডিএফআইডির কান্ট্রি ডিরেক্টর সারাহ কুক, বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর জনস্ জুট এবং পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সচিব শফিকুর রহমান পাটোয়ারী উপস্থিত ছিলেন।
অনুমোদিত প্রকল্পসমূহ হচ্ছে, ১৯৬ কোটি টাকা ব্যয়ে সোলার ইরিগেশন প্রজেক্ট এবং ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে মডার্ন ফুড স্টোরেজ ফ্যাসিলিটি প্রজেক্ট। এছাড়া পরিবেশ মন্ত্রণালয় ও বিসিসিআরএফ-এর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য আরও একটি প্রকল্প নীতিগতভাবে অনুমোদন করেছে বিসিসিআরএফ-এর গভর্নিং কাউন্সিল।
পরিবেশ ও বনমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, এ প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়িত হলে কৃষকদের সেচ সুবিধা বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবেশ উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। ডিজেল চালিত সেচ ব্যবস্থার মাধ্যমে একদিকে আমাদের জ্বালানির উপর চাপ বাড়ছে অন্যদিকে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘সোলার ইরিগেশন প্রজেক্টের মাধ্যমে যে ১ হাজার ৫শ’ সোলার ইরিগেশন পাম্প স্থাপিত হবে তার মাধ্যেমে একদিকে আমাদের বিদ্যুত ও জ্বালানি সাশ্রয় হবে অন্যদিকে সাধারণ কৃষক উপকৃত হবে’।
মডার্ন ফুড স্টোরেজ ফ্যাসিলিটি প্রজেক্ট সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। বর্তমান সরকারের আমলে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমাদের খাদ্য মজুদ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার জন্য সারাদেশে ৮টি সাইলো নির্মাণ করা হবে এ প্রকল্পের মাধ্যমে। এতে করে জরুরী খাদ্য পরিস্থিতি মোকাবেলার পাশাপাশি অত্যাধুনিক পদ্ধতিতে খাদ্য মজুদের মাধ্যমে নষ্ট ও অপচয়ের হাত থেকে খাদ্যশস্য রক্ষা করা সম্ভব হবে।
পরিবেশ বিপর্যয় মোকাবেলা এবং যথাযথ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দক্ষ জনশক্তির বিকল্প নেই উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এই প্রকল্পটি আমরা নীতিগত অনুমোদন দিয়েছি। প্রকল্পটি আরও পর্যালোচনা করে পরে চূড়ান্ত অনুমোদন প্রদান করা হবে।
উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে যুক্তরাজ্যের কাছ থেকে পাওয়া সাড়ে সাত কোটি পাউন্ড (প্রায় সাড়ে নয় কোটি ডলার) দিয়ে এই তহবিল গঠন করা হয়।
এ পর্যন্ত এ তহবিলে বিদেশীদের কাছ থেকে অনুদান হিসেবে প্রায় ১৭ কোটি ডলার সাহায্য পাওয়া গেছে।
ডিএসইর লেনদেন হাজার কোটি টাকা ছাড়াল
অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ চলতি বছরের প্রথমবারের মতো দেশের প্রধান পুুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক লেনদেন হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। দীর্ঘ সাড়ে ৮ মাস পরে সেখানে ১ হাজার ৭২ কোটি টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিটের লেনদেন হয়েছে। যা প্রায় ৯ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে গত বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর ডিএসইতে লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ১৭২ কোটি ১৩ লাখ টাকা। একইভাবে ডিএসইতে নতুন সূচক বেড়েছে ১ দশমিক ৭৮ শতাংশ হারে। অন্যান্য সূচকও ছিল উর্ধমুখী। অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও সূচক বেড়েছে। উভয় স্টক এক্সচেঞ্জেই জ্বালানি ও বিদ্যুত খাতের রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিগুলোর বেশি লেনদেন হয়েছে। দর বৃদ্ধির শীর্ষেও ছিল এসব কোম্পানি।
পুঁজিবাজার সম্পর্কে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন, রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে স্থিতাবস্থা, ২০১৩-১৪ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের জন্য কতিপয় প্রণোদনা এবং ৯০০ কোটি টাকা পুনঃঅর্থায়নের বিষয়গুলো সার্বিক পরিস্থিতিতে ইতিবাচক প্রভাব বয়ে এনেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। এছাড়া ডিএসই নবগঠিত পরিচালনা পর্ষদও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা পরিবর্তন এনেছে। বাজারের বর্তমান ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যে আস্থা সঙ্কট তৈরি হয়েছিল তা ধীরে ধীরে কেটে যাবে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। এর আগে বাজারে তারল্যপ্রবাহ বাড়াতে বারবার নানা সুপারিশ করেছে উভয় স্টক এক্সচেঞ্জ। ইতোমধ্যে মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো নেগেটিভ ইক্যুইটিতে থাকা পোর্টফলিওগুলো সচল করার উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানা গেছে। এর ফলে অনেক পোর্টফলিও সচল হবে এবং অনেকে লেনদেনের ক্ষমতা ফিরে পাবেন। এরই প্রভাব পড়েছে সার্বিক লেনদেনে। বাজার বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স এ্যাসোসিয়েশন (বিএমবিএ) সভাপতি মোহাম্মাদ এ হাফিজ বলেন, সাম্প্রতিক বাজারের উত্থান স্বাভাবিক পর্যায়ে রয়েছে। একটানা সূচক বাড়লেও মাঝে মধ্যে কিছু কোম্পানির মূল্য সংশোধনের ঘটনা ঘটছে। সূূচক সংশোধনের মাধ্যমে আস্তে আস্তে বাড়ছে। পাশাপাশি লেনদেনের পরিমাণ অনেকটা সন্তোষজনক পর্যায়ে রয়েছে। মূলত নিষ্ক্রিয় বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়তার কারণেই বাজারে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরছে। তাই আশা করা যায় এবার বাজারের স্থিতিশীলতা স্থায়ী হবে।
বুধবারে ডিএসইতে মোট ২৯২টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৪৮টির, কমেছে ১১৯টির আর অপরিবর্তিত রয়েছে ২৫টি কোম্পানির শেয়ার দর। টাকার পরিমাণে মোট লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৭২ কোটি ২৬ লাখ টাকা। যা আগের দিনের চেয়ে প্রায় ২৫১ কোটি টাকা বেশি। মঙ্গলবারে ডিএসইতে মোট ৮২১ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছিল। অপরদিকে অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে মোট ২১৬টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১০৭টির, কমেছে ৮৮টির আর অপরিবর্তিত রয়েছে ২১টি কোম্পানির শেয়ার দর।
বুধবারে আগের দিনের ধারাবাহিকতায় প্রায় সব কটি কোম্পানির দর বৃদ্ধি দিয়ে লেনদেন শুরু হয়। তবে কিছু কিছু কোম্পানির দর কমতে থাকে। কিন্তু জ্বালানি ও বিদ্যুত খাতের রাষ্ট্রায়ত্ত কিছু কোম্পানির দর বৃদ্ধির কারণে শুরুতেই সূচক প্রায় ৯০ পয়েন্ট বেড়ে যায়। ভাল মৌলভিত্তি সম্পন্ন কোম্পানিগুলোর প্রতি বিনিয়োগকারীদের চাহিদা ছিল পুরোটা সময়। সারাদিন উত্থানের পরে ডিএসইর নতুন সূচক আগের দিনের চেয়ে প্রায় ৭৫ পয়েন্ট বেড়ে ৪ হাজার ২৫৯ পয়েন্টে। তবে সাধারণ সূচক ওই তুলনায় বেশি বেড়েছে। সেখানে সাধারণ সূচক ৯১ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৪৭৭ পয়েন্ট। মোট ২ শতাংশ হারে এই সূচক বেড়েছে। একইভাবে নতুন বাছাই সূচক ডিএসই-৩০ সূচক ৩৪ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৫৭০ পয়েন্টে।
ডিএসইতে সূচকের বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে স্কয়ার ফার্মা, তিতাস গ্যাস, পাওয়ার গ্রীড, গ্রামীণফোন এবং আইসিবি। সূচকে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানি লিমিটেড, ইউনিক হোটেল এ্যান্ড রিসোর্ট, খুলনা পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড, ওরিয়ন ফার্মা এবং ফ্যামিলি টেক্স। এদিকে বস্ত্র খাতের কোম্পানি ফ্যামিলি টেক্সের লেনদেন শুরুর দ্বিতীয় দিনেই বড় ধরনের দরপতন ঘটেছে। বুধবারে কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ার দাম কমেছে ৬ দশমিক ৩৯ শতাংশ। এছাড়া বেশি দরপতন ঘটা কোম্পানিগুলোর মধ্যে মিউচ্যুয়াল ফান্ডের সংখ্যাই বেশি। খাতটির বেশিরভাগ ফান্ডের দরই কমেছে। এছাড়া বস্ত্র খাতের বেশিরভাগ কোম্পানির দরই কমেছে। তবে ব্যাংক খাতের অবস্থা তুলনামূলক ভাল ছিল। খাতটির মোট ৩০টি কোম্পানরই দর বেড়েছে।
বুধবারে জ্বালানি ও বিদ্যুত খাতের কোম্পাানিগুলোর দর বৃদ্ধির বাজিমাতের দিনে খাতটির মোট ২১৬ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। যা মোট লেনদেনের ২১ দশমিক ৪৯ ভাগ। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বস্ত্র খাতের কোম্পানিগুলো। খাতটির মোট ১১৫ কোটি ৮৭ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে, যা মোট লেনদেনের ১১ দশমিক ৫১ ভাগ। প্রকৌশল খাতের কোম্পানিগুলোও লেনদেনের পরিমাণ ১০৮ কোটি টাকা, যা মোট লেনদেনের ১০ দশমিক ৭৬ ভাগ।
ডিএসইতে লেনদেনের সেরা কোম্পানিগুলো হলোÑ বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানি লিমিটেড, মেঘনা পেট্রোলিয়াম, ডেসকো, তিতাস গ্যাস, অলিম্পিক, ইউনিক হোটেল এ্যান্ড রিসোর্ট লিমিটেড, ইউনাইটেড এয়ার, যমুনা ওয়েল, সামিট পূর্বাঞ্চল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড এবং ওরিয়ন ফার্মা।
অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও বেশিরভাগ কোম্পানির দর বৃদ্ধি দিয়ে লেনদেন শুরু হয়। সারাদিন সূচকের উলম্ফন শেষে সিএসইর সাধারণ সূচক আগের দিনের ১৮১ পয়েন্ট বেড়ে যায়। তবে আগের তুলনায় স্টক এক্সচেঞ্জটিতে লেনদেনের মন্দাভাব দেখা দেয়। দিনশেষে সেখানে লেনদেন হয়েছে মাত্র ২৩ কোটি টাকার, যা আগের দিনের চেয়ে প্রায় ৫০ কোটি টাকা কম।
সিএসইতে লেনদেনের সেরা কোম্পানিগুলো হলো : ব্রিটিশ আমেরিকান ট্যোবাকো কোম্পানি লিমিটেড, স্কয়ার ফার্মা, ইউনাইটেড এয়ার, ফ্যামিলি টেক্স, ওরিয়ন ফার্মা, আর এন স্পিনিং, হিডেলবার্গ সিমেন্ট, সামিট পূর্বাঞ্চল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড, ইউনিক হোটেল এ্যান্ড রিসোর্ট লিমিটেড এবং গোল্ডেন হারভেস্ট।
নেভি সিলসহ মার্কিন বাহিনীর বিশেষ শাখায় অংশ নেবেন নারীরা
পেন্টাগনের নয়া পরিকল্পনা
আর্মি রেঞ্জার্স ও নেভি সিলের মতো এলিট ফোর্সে অন্তর্ভুক্ত করাসহ সম্মুখ সমর এবং সেনাবাহিনীর সব বিশেষ শাখায় ২০১৬ সালের মধ্যে নারীদের অংশগ্রহণের পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী চাক হেগেলের ইতিপূর্বে জারি করা একটি নোটিস মঙ্গলবার প্রকাশ করা হয়েছে। সিএনএন অনলাইন।
পেন্টাগন জানিয়েছে, প্রতিরক্ষা বাহিনীর সকল বিভাগ থেকে লিঙ্গ বৈষম্য দূর করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ নীতিমালা কিভাবে বাস্তবায়ন করা হবে সেটি বিমান, সেনা ও নৌবাহিনী, মেরিন এবং বিশেষ বাহিনীগুলোর কমান্ডাররা পৃথকভাবে ঠিক করবেন। সম্মুখ সারির লড়াকু ইউনিটগুলোতে নারীরা শারীরিকভাবে পুরোপুরি খাপ খাওয়াতে পারবেন কি না এবং পুরুষ সহকর্মীদের নারীদের উপস্থিতি কিভাবে নেবেন তা নিয়ে অবশ্য কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর এলিট ফোর্সগুলোতে নারীদের অংশগ্রহণের ওপর যে কিছু বিধিনিষেধ ছিল পেন্টাগন এ বছর জানুয়ারিতেই তা প্রত্যাহার করে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। এ ব্যাপারে অবশ্য সবগুলো ফোর্সের কমান্ডারদের কাছ থেকে সমান উৎসাহব্যঞ্জক সাড়া পাওয়া যায়নি। এসব ঝুঁকিপূর্ণ সামরিক দায়িত্বগুলো পালনের জন্য নারীদের পুরো শারীরিক ফিটনেস রয়েছে কি না তা নিয়ে অনেকে সংশয় প্রকাশ করেছেন। কোন কোন কমান্ডার পুরুষদের কি প্রতিক্রিয়া হতে পারে তা ভেবে এ ব্যাপারে ততটা উৎসাহ দেখাননি। মার্কিন সেনাবাহিনীতে কর্মরত নারী সৈন্যরা ইতিপূর্বেও ইরাক ও আফগানিস্তানের অনেক বিপজ্জনক ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে দায়িত্ব পালন করেছেন। হেগেল গত মাসের ২১ তারিখ এ সম্পর্কিত যে মেমোটি তৈরি করেন তা মঙ্গলবার প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সকল এলিট ফোর্স ও সম্মুখ সমর যোদ্ধা হিসেবে ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসের মধ্যে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চায় পেন্টাগন। হেগেল বলেছেন, ‘আমি এ ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী যে নারীদের জন্য নতুন কর্মক্ষেত্র সৃষ্টির এ উদ্যোগ আমেরিকান জনগণ সমর্থন করবে এবং এটি আমাদের সমর শক্তি বাড়াবে’। বর্তমানে মার্কিন সামরিক বাহিনীতে কর্মরত নারীর সংখ্যা দুই লাখের ওপর। এই সংখ্যাটি যা সেনাবাহিনীর সকল সদস্যের ১৪.৫ শতাংশ। মার্কিন সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে নারী সদস্যের ওপর বিভিন্ন যৌন হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ডের খবর যখন মিডিয়ায় ব্যাপক হারে প্রকাশ পেতে শুরু করেছে তখন তাদের সম্মুখ সারিতে নিয়ে আসার এই উদ্যোগ নিল পেন্টাগন।
সিরিয়া ইস্যুতে মতৈক্য হয়নি
শিল্পোন্নত আট জাতি সম্মেলন শেষ
যুক্তরাজ্যের উত্তর আয়ারল্যান্ডে সোম ও মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত জি-৮ শীর্ষ সম্মেলনে সিরিয়া ইস্যুতে খুব দ্রুত একটি উদ্যোগ গ্রহণের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। শিল্পোন্নত আটটি দেশের সরকার ও রাষ্ট্র প্রধানরা সিরিয়া সঙ্কট সমাধানের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে একমত হলেও এর পদ্ধতি নিয়ে তারা কোন মতৈক্যে আসতে পারেননি। খবর এএফপি ও সিএনএন অনলাইনের।
সম্মেলনের চূড়ান্ত ঘোষণায় জি-৮ নেতারা বলেন, সিরিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠাই তাদের সবার অভিন্ন লক্ষ্য। তারা সিরিয়া ইস্যুতে যত শীঘ্র সম্ভব একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এর জন্য সেখানে গৃহযুদ্ধে বন্ধের জন্য তেমন কোন আশার বাণী শোনাতে পারেননি। সিরিয়ায় দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলা সরকার বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী লড়াই জাতিসংঘের হিসাবে এ পর্যন্ত ৯৩ হাজারের বেশি লোক নিহত এবং ১৫ লাখ মানুষ উদ্বাস্তু হয়েছে। সিরিয়া দুই প্রতিবেশী দেশ জর্দান এবং লেবানন এদের বেশির ভাগকে আশ্রয় দিয়েছে। মানবিক সহায়তামূলক ভূমিকার জন্য সম্মেলনে দেশ দুটোর প্রশংসা করা হয়। সিরিয়ায় বিদ্রোহীদের সঙ্গে আল কায়েদা ও অন্য যেসব চরমপন্থী গ্রুপ কাজ করছে তাদের ব্যাপারে জি-৮ সম্মেলন থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। চূড়ান্ত ঘোষণায় সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধে ‘যে কোন ধরনের রাসায়নিক অস্ত্র’ ব্যবহারের নিন্দা জানানো হয়েছে, তবে সরকার না বিদ্রোহী কারা এই অস্ত্র ব্যবহার করেছে সে সম্পর্কে কিছু বলা হয়নি। তবে ঘোষণায় রাসায়নিক অস্ত্রের প্রসঙ্গ আসায় এর তীব্র বিরোধিতা জানিয়ে বলেছে সিরিয়ার সরকারী বাহিনী রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে এমন কোন প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি। রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন বলেছেন, ‘জি-৮ সম্মেলনে সবাই না হলেও কোন কোন দেশ আমাদের এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করবে’।
সম্মেলনের একটি সূত্র জানিয়েছে, সিরিয়া ইস্যুতে রাশিয়াকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র জুলাইতে যে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজনের পরিকল্পনা করেছিল সেটি সম্ভবত আগস্টের আগে সম্ভব হবে না। এছাড়া সিরীয় বিদ্রোহীদের অস্ত্র দিয়ে সহায়তার মার্কিন উদ্যোগের সঙ্গে মস্কোর তীব্র মতবিরোধের অবসান এ সম্মেলনে হয়নি। পুতিন সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘সিরিয়ায় রক্তপাত অবশ্যই বন্ধ করতে হবে এবং তা করার একমাত্র কার্যকর উপায় হলো রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উপায়ে উভয়পক্ষের একটি সমঝোতায় আসা। তিনি সিরীয় বিদ্রোহীদের অস্ত্র দিয়ে সহায়তার মার্কিন উদ্যোগের কড়া সমালোচনা করলেও দেশটির শাসক বাশার আল আসাদের সরকারের প্রতি তার দেশে জাহাজের মাধ্যমে সামরিক সরঞ্জামাদি পাঠানো অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, ‘আসাদ সরকার সিরিয়ার বৈধ কর্তৃপক্ষ। তাই দেশটির কাছে চুক্তি অনুযায়ী সামরিক উপকরণ পাঠাতে আমাদের আইনত কোন বাধা নেই।’ অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, ‘আসাদ বাহিনী এর আগে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে বলে যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের সরকারের কাছে প্রমাণ রয়েছে। ওবামা বলেন, তিনি ও ফরাসী প্রেসিডেন্ট ফ্রাসোঁয়া ওলাদ মনে করেন সিরিয়ায় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার উত্তোরণ ঘটা দরকার। আসাদ পরবর্তী ফ্রান্সে একটি শক্তিশালী বিরোধী থাকবে বলে তিনি আশাপ্রকাশ করেছেন।
বুলবুলের জয়ে লাভবান মিনু, ক্ষতি বাদশার
মামুন-অর-রশিদ, রাজশাহী ॥ রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে সম্মিলিত নাগরিক ফোরামের প্রার্থী বিএনপির মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের জয়ে রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে লাভবান হয়েছেন সাবেক মেয়র ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মিজানুর রহমান মিনু। আর সবচেয়ে রাজনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন রাজশাহী সদর আসনের সাংসদ ও লিটনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা।
রাসিক নির্বাচন নিয়ে লিটন আর বুলবুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও চ্যালেঞ্জিং লড়াই হয়েছে মিনু আর বাদশার মধ্যে। এই লড়াইয়ে বলতে গেলে সবচেয়ে লাভবান হয়েছেন মিনুই। মিনু তাই এখন ফুরফুরে মেজাজে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছেন। বিএনপিপন্থী রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে রাজশাহী সদর আসন এখন মিনুর জন্য ‘ক্লিয়ার’।
অপরদিকে লিটনের পরাজয়ে আগামীতে বাদশার মনোনয়ন নিয়েই দেখা দিতে পারে সংশায়। এখানে লিটন মনোনয়ন না চাইলেও আওয়ামী লীগে শুরু হবে বাদশাকে নিয়ে টানাপোড়েন। মহাজোটের সিদ্ধান্তে শেষতক বাদশাকে রাজশাহী সদর আসনে মনোনয়ন দিলেও (আগের ২০০৯ সালের) মতো নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বাদশার পক্ষে মাঠে নামবে কিনা এ নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সিটি নির্বাচনে জয়ী হওয়ায় তার ক্লিন ইমেজে দলীয় (আওয়ামী লীগ) নেতাকর্মীরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। তবে এবার দৃশ্যপট আলাদা হবে। এমন ধারণা আওয়ামী বিশ্লেষকদের।
আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নাগরিক কমিটিকে উপেক্ষা করে বাদশাকে আহ্বায়ক করে লিটনের পক্ষে আলাদা নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করায় মেনে নিতে পারেনি আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মীরা। যে কারণে ফল বিপর্যয় হয় লিটনের। এই পরাজয়ের ক্ষোভ গিয়ে এখন পড়েছে বাদশার ওপর।
লিটনের পরাজয়ে একদিকে যেমন বাদশাকে নিয়ে আওয়ামী লীগে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে বুলবুলের জয়ে একইভাবে ককাট্টা হয়েছে বিএনপি। বিশেষ করে দুই দশকের রাজনৈতিক কোন্দল মিটিয়ে মিনু-নাদিম এখন এক হয়ে গেছেন। আর বুলবুলের জয়ে রাজশাহীতে উজ্জীবিত হয়েছে ওয়ান ইলেভেন ঝড়ে বিধ্বস্ত বিএনপি।
বিএনপি নেতাদের দাবি, সিটি নির্বাচনে ভোটের মাঠে দারুণ নাটকীয়তার মধ্যে মিনু আর নাদিম কারিশমা দেখিয়ে ২০০৮ সালে হারানো নগরের চাবি বুলবুলের হাতে তুলে দিয়েছেন। এতে সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছেন মিনু। কারণ বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে মিনু। তাদের ধারণা বুলবুলের পক্ষে মিনুর কঠোর পরিশ্রমের কারণেই জয়ের ফসল ঘরে তুলতে সমর্থ হয়েছে বিএনপি। তাই এখন রাজশাহীর রাজনীতির চালকের আসনে অধিষ্ঠিত মিনু।
রূপগঞ্জে তিতাসের কর্মকর্তাদের ওপর হামলা ॥ জিএমসহ আহত ১০
অবৈধ গ্যাস সংযোগে বাধা
নিজস্ব সংবাদদাতা, রূপগঞ্জ, ১৯ জুন ॥ রূপগঞ্জে তিতাস গ্যাসের অবৈধ বিতরণ লাইন নির্মাণে বাধা দেয়ায় দালালচক্রের হামলায় তিতাসের নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়ের মহাব্যবস্থাপকসহ অন্তত ১০জন আহত হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার তারাব পৌরসভার মোগড়াকুল এলাকায় ঘটে এ ঘটনা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেলে মোগড়াকুল মাদ্রাসার সড়ক এলাকায় একটি দালালচক্র গ্রাহকদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নিয়ে প্রায় ২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ওয়েল্ডিং মেশিন দিয়ে ২ ইঞ্চি অবৈধ বিতরণ পাইপ লাইন স্থাপন করছিল। খবর পেয়ে নারায়ণগঞ্জ তিতাস গ্যাস কার্যালয়ের মহাব্যবস্থাপক সামসুজ্জামানের নেতৃত্বে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঘটনাস্থলে এসে তাদের বাধা দেন। এক পর্যায়ে কর্মকর্তারা অবৈধ পাইপ লাইন নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত ওয়েল্ডিং মেশিনসহ মালামাল জব্দ করেন।
নির্বাচনে প্রমাণ হয়েছে সরকার সম্পূর্ণ জনবিচ্ছিন্ন ॥ ফখরুল
স্টাফ রিপোর্টার ॥ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নির্বাচন হবে না বলা রাষ্ট্রদ্রোহ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বুধবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ আয়োজিত গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের মুক্তির দাবিতে সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ফখরুল বলেন, দেশের জনগণ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া কোন নির্বাচনে অংশ নিবে না। সে ধরনের নির্বাচন আমরা হতেও দেব না। চার সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচনে পরাজয়ের মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে সরকার সম্পূর্ণ জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, বিরোধী দলকে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে আনার যে চেষ্টা চলছে তা সরকারের অলীক চিন্তা । মির্জা ফখরুল বলেন, সম্প্রতি সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কোন অসাংবিধানিক সরকারকে আনার চেষ্টা করবেন না। তাতে কারও লাভ হবে না, নির্বাচনই হবে না। নির্বাচন হবে না- এ কথা বলে সংবিধানের মূল কথাগুলোকে অস্বীকার করা হয়েছে। অসাংবিধানিক কাউকে আনার চেষ্টা করলে নির্বাচনই হবে না-এ কথা বলে তারা চাইছেন যে কোনভাবে বিরোধী দলকে নির্বাচনে অংশ নেয়াতে। তিনি বলেন, সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী এমনভাবে করা হয়েছে যে ক্ষমতাসীনরা নির্বাচন না দিয়েই ক্ষমতায় থাকতে পারবে।
চার সিটির নির্বাচনের পর সরকারের মুখোশ খুলে গেছে অভিযোগ করে ফখরুল বলেন, তাঁরা এখন বলছেন নির্বাচন হবে না। ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করতেই এ ধরনের কথা সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে। তবে বাংলাদেশের মানুষকে বোকা ভাবার কারণ নেই। এদেশের জনগণ প্রতিনিয়ত তাদের অধিকার আদায়ের জন্য লড়াই সংগ্রাম করছে।
আওয়ামী লীগ গণমাধ্যমকে ভয় পায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, টেলিভিশনের টকশো নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বিরূপ মন্তব্য দিয়েছেন। এছাড়াও সুশীল সমাজকেও কটাক্ষ করে তিনি বক্তব্য দিয়েছেন। সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশোধনীর মাধ্যমে মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। সরকাররের উদ্দেশে তিনি বলেন, সংবিধান ভাল করে পড়লে দেখতে পারবেন সরকার ইচ্ছা করলে নির্বাচন না দিয়ে ক্ষমতায় থাকতে পারবে। এটা বলাও দোষ। এতে রাষ্ট্রদ্রোহ অভিযোগ উঠতে পারে।
ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও গণতন্ত্রের ‘গ’ও বিশ্বাস করে না। এই আওয়ামী লীগ ১৯৭৫ সালে দেশ পরিচালনায় চরমভাবে ব্যর্থ হয়ে প্রথমে বিশেষ ক্ষমতা আইন করেছিল, তারপর জরুরী আইন করেও যখন ব্যর্থ হয় তখন একদলীয় বাকশাল কায়েম করেছিল।
বিএনপির সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক চাষী নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এ্যাডভোকেট জয়নুল আবদিন, ডা. এজেড এম জাহিদ হোসেন, বিএনপির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক এ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার, প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক আ ন হ আকতার হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রো-ভিসি আফম ইউসুফ হায়দার, পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যান জিন্নাতুন্নেসা তাহমিনা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সদরুল আমিন, শিক্ষক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়া, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কামালউদ্দিন সবুজ প্রমুখ।
চার সিটি নির্বাচনে সরকারের অবস্থা তছনছ হয়ে গেছে- মাহবুব ॥ চার সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সরকারের অবস্থা তছনছ হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে, জেনারেল (অব) মাহবুবুর রহমান। বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও’ নামক একটি সংগঠন আয়োজিত এক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরও বলেন সরকারের দুর্নীতির কারণে জনগণ ভোটের মাধ্যমে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।
মাহবুবুর রহমান বলেন, চার সিটি নির্বাচনে পরাজয়ের পর সরকারের অবস্থা যে খারাপ হয়েছে এটা তারা বুঝতে পেরেছে। তাই তাদের মন্ত্রীরা এটাকে বলেছেন বিপদ সঙ্কেত। আবার কেউ বলেছেন মহাবিপদ সঙ্কেত। আর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা না করলে শীঘ্রই আওয়ামী লীগ সরকার ও তাদের নেত্রীর ক্ষমতার মৃত্যুর ঘণ্টা শুনতে হবে ।
জেনারেল মাহবুব বলেন, সরকারকে তছনছ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। সিটি নির্বাচনের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়কের দাবি আরও বেগবান হয়েছে। তিনি বলেন, দেশে যদি গণতন্ত্র রাখতে হয় তাহলে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হতে হবে। আর তা হতে পারে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে একটি নির্বাচনের মাধ্যমে। আর গণতন্ত্র বাঁচলে দেশ বাঁচবে মানুষ বাঁচবে।
আয়োজক সংগঠনের সভাপতি কেএম রকিবুল ইসলাম রিপনের সভাপতিত্বে এতে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার এম হায়দার আলী, রুহুল আলম চৌধুরী, বিএনপির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক কর্নেল শাহজাহান মিলন, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইসমাঈল হোসেন বেঙ্গল, মেজর (অব) মেহবুব রহমান, এবিএম মোশারফ, হেলেন জেরিন খান।
‘নারী বিশ্বের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও পরিবর্তনের প্রতিনিধি’
১৮ দফা ‘ঢাকা ঘোষণা’র মধ্য দিয়ে ক’ওয়েলথ মহিলা মন্ত্রীদের দশম সম্মেলন শেষ
কূটনৈতিক রিপোর্টার ॥ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, শান্তি, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য নারীর ক্ষমতায়নকে চালিকাশক্তি উল্লেখ করে কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর জন্য প্রণয়ন করা হয়েছে ১৮ দফা ‘ঢাকা ঘোষণা’। এতে বিশ্বের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও পরিবর্তনের প্রতিনিধি হিসেবে নারীকে স্বীকৃতি দেয়ার ওপর জোর দেয়া হয়েছে। বুধবার ‘ঢাকা ঘোষণা’ প্রণয়নের মাধ্যমে শেষ হয়েছে দশম কমনওয়েলথ মহিলাবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের সম্মেলন। তিনদিনব্যাপী সম্মেলনটি শুরু হয় গত সোমবার।
বুধবার হোটেল সোনারগাঁওয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ‘ঢাকা ঘোষণা’ তুলে ধরে সম্মেলনের সমাপনী টানেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি। এর আগে সোমবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে দশম কমনওয়েলথ মহিলাবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের সম্মেলনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সম্মেলনে বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক আলোচনার পর আগামী তিন বছরের কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা হয়। কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে ঢাকা ঘোষণায় মোট ১৮ দফা সুপারিশ করা হয়। সম্মেলনটি সুন্দর ও সুচারুরূপে আয়োজনের জন্য বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানানো হয়। পাশাপাশি জানানো হয়, আগামী ১১তম সম্মেলনটি হবে প্রশান্ত মহাসাগরের দক্ষিণে নিউজিল্যান্ড ও হাইতির মাঝামাঝি অবস্থিত দেশ সামোয়ায়।
সমাপনী দিনে সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার মহিলাবিষয়ক মন্ত্রীর পদমর্যাদাধারী জুলি কলিন্স, গায়ানার মানবতা ও সামাজিক নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী জেনিফার ওয়েবস্টার এবং মরিশাসের জেন্ডার সমতা, শিশু উন্নয়ন এবং পরিবারকল্যাণবিষয়ক মন্ত্রী মারিয়া ফ্রানসেসকা মিরিলি মার্টিন।
সংবাদ সম্মেলনে মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি বলেন, কমনওয়েলথভুক্ত মহিলাবিষয়ক মন্ত্রীরা নারীর সার্বিক ক্ষমতায়ন বৃদ্ধিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলো নারীর ক্ষমতায়নকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার চালিকাশক্তি হিসেবে দেখতে চায়। তিনি বলেন, সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের আর মাত্র দুই বছর বাকি। তাই এ সম্মেলনে কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলো ২০১৫ পরবর্তী সময়ে নারীর প্রতি সহিংসতা ও নারীর সার্বিক ক্ষমতায়নকে নতুন বৈশ্বিক উন্নয়ন এজেন্ডা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক ফোরামে পরামর্শ দেয়ার জন্য ঐকমত্যে পৌঁছেছে।
এদিকে ১৮ দফা সুপারিশের ঢাকা ঘোষণায় বলা হয়েছে, কমনওয়েলথভুক্ত ৫৪ দেশের মন্ত্রীরা ব্যবসা ও কর্মোদ্যোগে নারী নেতৃত্ব বিকাশের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন এবং তাদের মতে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, শান্তি, সামাজিক ন্যায়বিচার ও টেকসই উন্নয়নের জন্য চালিকাশক্তি হচ্ছে নারীর ক্ষমতায়ন। বেজিং ঘোষণা এবং জেন্ডার সমতার ২০০৫ থেকে ২০১৫ মেয়াদের কমনওয়েলথ কর্মপরিকল্পনার আলোকে নারীর আর্থ-সামাজিক ক্ষমতায়নকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পদক্ষেপ চলমান রাখতে হবে। সবক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীর অংশগ্রহণ, নারীর প্রতি সহিংসতা নির্মূলে উদ্যোগ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে প্রতিনিধি হিসেবে নারীকে স্বীকৃতি দেয়ার ওপর জোর দেয়া হয়।
ঢাকা ঘোষণায় ২০১৫ সাল পরবর্তী জেন্ডার সমতা ও নারীর ক্ষমতায়ন উন্নয়নের অবকাঠামো বিষয়েও একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরির ওপর জোর দেয়া হয়। এতে নারীর প্রতি বৈষম্য বিলোপ, নির্যাতন প্রতিরোধ ও নারীর ক্ষমতায়নে বৈশ্বিক মনোযোগ বৃদ্ধি এবং নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ও জীবনযাত্রায় জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাবকে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
ঢাকা ঘোষণায় নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের ওপর তিনটি পৃথক সুপারিশ করে বলা হয়েছে, নারীর কর্মপ্রচেষ্টার উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করতে হবে যাতে ব্যবসার ক্ষেত্রে নারীরা নেতৃত্বের পর্যায়ে আসতে পারে। প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক দুই খাতেই নারীর ব্যবসা সম্প্রসারণের সুযোগ সৃষ্টিতে সহায়তা বাড়াতে হবে। নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ আর্থিক সমস্যা নিরসনে সরকারী-বেসরকারী অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে অর্থ সহায়তা দিতে হবে। কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে অর্থ সহায়তার ক্ষেত্রে পর্যবেক্ষণ ও নেটওয়ার্ক বৃদ্ধি এবং লিঙ্গবান্ধব নীতি প্রণয়নের ওপর জোর দেয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক এই সম্মেলনের উদ্দেশ্য হচ্ছে- কিভাবে কমনওয়েলথ এবং সদস্যভুক্ত দেশগুলোর নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখতে পারে তার একটি রোডম্যাপ তৈরি করা। ১৯৮৫ সাল থেকে তিন বছর পর পর কমনওয়েলথ সদস্যভুক্ত দেশগুলোর মহিলাবিষয়ক মন্ত্রণালয়গুলোর বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রত্যেক বৈঠকের প্রতিপাদ্য বিষয়ের ওপর কিছু অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হয় এবং পরবর্তী তিন বছরে তা বাস্তবায়ন করা হয়। ত্রিবার্ষিক এ বৈঠকের এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘উদ্যোক্তা উন্নয়নে নারীর নেতৃত্ব।’
আলীমের লোকজন কাদিপুরে ৩৭০ জনকে হত্যা করে
স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত বিএনপির সাবেক মন্ত্রী আব্দুল আলীমের বিরুদ্ধে ২৬ তম সাক্ষী যোগেন চন্দ্র পাল জবাবনন্দী প্রদান করেছেন। জবানবন্দীতে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধকালে আলীম শান্তি কমিটির লোক ও পাকসেনাদের নিয়ে কাদিপুর গ্রামে হামলা চালিয়ে ৩৭০ জন হত্যা করে। এদের মধ্যে কৃষ্ণ ডাক্তার, শিবেন ও তরমুজা লালের লাশ চিনতে পেরেছিলাম। আজ আসামি পক্ষের আইনজীবী সাক্ষীকে জেরা করার জন্য দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। বিচারপতি ওবায়দুল হাসান শাহীনের নেতৃত্বে তিন সদস্যবিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ প্রদান করেছেন।
সাক্ষী যোগেন চন্দ্র পাল জবানবন্দীতে বলেন, আমার নাম যোগেন চন্দ্র পাল। পিতা মৃত ললিত চন্দ্র পাল। ঠিকানা কড়ই পালপাড়া, থানা ও জেলা জয়পুরহাট। আমি মৃৎশিল্পের কাজ করি। এবং কৃষি কাজও করি। ১৯৭১ সালে আমার বয়স ছিল অনুমান ২৩ /২৪ বছর। আমি তৃতীয় শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করেছি।
সাক্ষী আরও বলেন, ১৯৭১ সালের বৈশাখ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে আলীম শান্তি কমিটির লোক ও পাকসেনাদের নিয়ে কাদিপুর গ্রামে আসে। তার বাড়ি থেকে দুই-তিন বিঘা সরে গিয়ে দেখেন চাঁন-তারা পতাকা ও লাঠি হাতে আলীমের সহযোগীরা মানুষদের তাড়া করে উত্তর দিক থেকে পশ্চিম দিকে নিয়ে আসছে। আমি তখন মনে করলাম এরাই হচ্ছে আলীম সাহেবের শািন্ত কমিটির লোক। আমি তখন ভয়ে আমার বাড়ির পূর্ব দিকে একটি ঝোপঝাড়ওয়ালা গোরস্তান ছিল তার ভিতরে আশ্রয় গ্রহণ করি। সেখান থেকে আমি দেখতে পেলাম আলীম সাহেবের শান্তি কমিটির লোকেরা লঠি দিয়ে পিটিয়ে বেশ কিছু লোককে ডোমপুকুরপারে জড়ো করছে। সেখানে পাক সেনারা ছিল। কিছুক্ষণ পর ডোমপুকুরে প্রচ- গোলাগুলির শব্দ পাই। আমি যেখানে ছিলাম, সেখান থেকে ডোমপুকুর পারটি দেখা যাচ্ছিল। তখন চারদিকে প্রচ- গোলাগুলি হচ্ছিল। চারদিকে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট হচ্ছিল। এ অবস্থায় আমি ভীত হয়ে গোরস্তানের ভিতর ঝোপঝাড়ের পাতার মধ্যে নিজেকে আড়াল করে রািখ। (এ সময় সাক্ষী বর্ণনা দেয়ার সময় অঝোরে কাঁদছিলেন)।
মুসলিম উম্মাহর নাম শুনলে তাদের গায়ে জ্বর আসে
যুদ্ধাপরাধী বিচার
ট্রাইব্যুনালে সাকার নানা বক্তব্য ॥ বাগ্বিতণ্ডা
স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর পক্ষে সাফাই সাক্ষী অব্যাহত রয়েছে। আজ আবারও তিনি সাক্ষ্য প্রদান করবেন। বুধবারও নিজের পক্ষে জবানবন্দী দিতে গিয়ে স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে উত্তেজিত হয়ে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করলে। প্রসিকিউশন পক্ষের সঙ্গে বাগবিতন্ডা লেগে যায়। এ সময় সাকা ও তাঁর আইনজীবীদের সঙ্গে প্রসিকিউটরদের বাগবিতণ্ডায় সাময়িকভাবে বন্ধও হয়ে যায় সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম। প্রসিকিউটর পক্ষ তখন ট্রাইব্যুনালের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলে, তিনি কোন আইন, বিধি, রুলস মানেন না। এখনও মানছেন না। জবানবন্দী দেয়ার সময় বার বার আসামিপক্ষের আইনজীবী প্রসিকিউটরদের মধ্যে কয়েকদফা বাগবিতণ্ডা চলে। বিচারপতি জাাহাঙ্গীর হোসেন সেলিমের নেতৃত্বে দুই সদস্যবিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ -এ এই জবানবন্দ্যী প্রদান করা হচ্ছে। অন্য সদস্য ছিলেন বিচারপতি আনোয়ারুল হক।
সাকা চৌধুরীর ওই ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের জোর আপত্তি তোলেন প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম, প্রসিকিউটর সুলতান মোহাম্মদ সিমন ও প্রসিকিউটর ড. তুরিন আফরোজ। প্রসিকিউটর ড. তুরিন আফরোজ এ সময় ট্রাইব্যুনালের সাক্ষী সংক্রান্ত রুল শোনান। সাক্ষ্যদানকালে সাকা চৌধুরী প্রসিকিউটরদের উদ্দেশ্যে বলেন, চারটি নির্বাচনে হারলেও মুসলিম উম্মাহ নাম শুনলেই তাদের গায়ে জ্বর আসে। পরে জোহরের আজান শুরু হলে সাকা চৌধুরী জওহর লাল নেহেরুর উদাহরণ দিতে চাইলে ট্রাইব্যুনাল বলে আজান হচ্ছে। ব্যারিস্টার ফখরুলও বলেন আজান হচ্ছে, তখন সাকা এজলাস কক্ষে বসা প্রসিকিউটরের দিকে ইশারা করে বলেন, আস্তিকরা কথা বলবেন না, নাস্তিকরা বলুক।
জবানবন্দীতে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী ন্যাশনাল হেরিটেজ (জাতীয় ঐতিহ্য)। বাংলাদেশের জন্য এটি একটি ইতিহাস। এ বই প্রদর্শনী (এক্সিবিট) দরকার নেই। এ সময় প্রসিকউশন তাতে জোর আপত্তি জানায়। তখন সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেন, আমার বিশ্বাস তো আমার জবানবন্দীতেই যাবে। বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনী বইয়ের ৯ থেকে ১১ পৃষ্ঠার কোন্ জায়গায় দাবি করেছেন তাঁর বিরুদ্ধে সর্ব প্রথম রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রণোদিত মামলাটি ছিল গোপালগঞ্জের একজন হিন্দু ভদ্রলোককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে। তাঁর এই বক্তব্যের বিরোধিতা করেন প্রসিকউটর সুলতান মাহমুদ সীমন। উল্লেখিত অংশ প্রসিকিউশনের আপত্তি সহকারে লেখা হয়। তখন সাকা চৌধুরী বলেন, আমি একজন অর্ধশিক্ষিত মানুষ। আপনাদের সামনে দাঁড়িয়েছি।
সাকা চৌধুরী তাঁর জবানবন্দীতে আরও বলেন, ১৯৭১ সালে তিনি পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ে পলিটিক্যাল সায়েন্সের অনার্স ফাইনাল ইয়ারের ছাত্র ছিলেন। একাত্তর সালের ১৬ ডিসেম্বর তিনি লন্ডনে রেসিডেন্স ছিলেন। ‘৭৪ সালের এপ্রিল মাসে তিনি বাংলাদেশে ফিরে আসেন। তিনি ’৭৪ থেকে ’৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর হত্যা পর্যন্ত পলাতক ছিলেন না। ১৯৭৪ সালের অক্টোবর মাসে প্রথম গঠন করেন কিউসি শিপিং কোম্পানি। ১৯৭৪ সাল থেকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পর্যন্ত অর্ধডজন বিদেশ ভ্রমণ করেছেন। জবানবন্দীতে তিনি বলেন, ১৫ আগস্ট তিনি বিদেশেই ছিলেন।
সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেন, আমি যখন ডিসাইড করেছি তখন বাংলাদেশের সীমান্তে হত্যা, তিস্তার পানি জনগণের ন্যায্য পাওনা কিনা? আমার পারসেপশন, আমার বিশ্বাস তো আমার জবানবন্দীতেই যাবে। পাশে বসে থাকা সাকার আইনজীবী আহসানুল হক হেনা বলেন, মামলাত ’৭১ সালে হয়নি। মামলা হয়েছে এই সরকারের সময়ে। সঙ্গে সঙ্গে সাকা বলেন, দুবাই বা বিদেশে কি লোকজন মারা যাচ্ছে না। তারা কি দেশের লোক না। আমি কি তাদের কথা বলতে পারব না। দেশের মানুষ মারা যাওয়ার এইসব ঘটনা তো এই সরকারের সময় ঘটেছে। ’৭১ সালে তো ঘটেনি।
পদ্মা সেতু প্রকল্পে অর্থায়ন করবে না জাইকা
অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ পদ্মা সেতু প্রকল্পে আর ফিরছে না জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)। দুর্নীতির অভিযোগ এবং অর্থায়ন জটিলতায় প্রকল্পটি দীর্ঘদিন ঝুলে থাকায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। জাইকা প্রেসিডেন্ট আকিহিকো তানাকা এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। তিনি এও বলেছেন, তাদের এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত। ভারত সফররত জাইকা প্রেসিডেন্ট একটি অনলাইন সংবাদ সংস্থাকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি এসব কথা বলেন।
এর ফলে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে জটিলতার কারণে সরে গেলেও পদ্মা সেতু প্রকল্পে জাইকা আবার ফিরতে পারে, এমন গুঞ্জনের অবসান ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্র জানায়, গত মাসে নয়াদিল্লীতে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) বার্ষিক সভায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জাইকা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে জাইকার দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের মহাপরিচালক মাসাকাত নাকাহার আভাস দেন, বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব দিলে জাইকা পদ্মা সেতু প্রকল্পে অর্থায়নের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে। ওই বৈঠকের পর অর্থমন্ত্রীও সাংবাদিকদের বলেছিলেন, তাদের ফিরে আসার অনুরোধ জানাব। আমার আশা, তারা ফিরে আসবে।
জাইকা প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, বাংলাদেশের এই প্রকল্পে স্বল্প সুদে ঋণ দেয়ার যে পরিকল্পনা ছিল তা ইতোমধ্যে বাতিল হয়ে গেছে। আমরা আর এ প্রকল্পের সঙ্গে নেই। তাছাড়া বাংলাদেশ সরকার বাইরের কারো আর্থিক সহযোগিতা না নিয়ে নিজস্ব অর্থায়নেই এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে আগ্রহী বলে মনে হচ্ছে।
বর্তমান সরকারের অন্যতম নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পদ্মা সেতু বাস্তবায়নে ২৯১ কোটি টাকার একটি প্রকল্প পরিকল্পনা করা হয়েছিল, যাতে বিশ্ব ব্যাংকের ১২০ কোটি এবং জাইকার ৪০ কোটি ডলার ঋণ দেয়ার কথা ছিল।
দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর দীর্ঘ টানাপড়েন শেষে চলতি বছরের শুরুতে এই প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করে বাংলাদেশ। ফলে জাইকা এবং অন্য দুই ঋণদাতা সংস্থা এডিবি ও আইডিবিও পদ্মা প্রকল্প থেকে সরে যায়।
সে সময় জাইকার এক বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, বর্তমান কাঠামোয় আমাদের পক্ষে আর এ প্রকল্পের সহঅর্থদাতা থাকা সম্ভব নয়। নীতির ক্ষেত্রে আপোসহীন থাকতে আমরা অঙ্গীকারাবদ্ধ।
চার নতুন মেয়র দায়িত্ব না পাওয়া অবধি দেখভালের দায়িত্ব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের
স্টাফ রিপোর্টার ॥ চার সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের গেজেট এখনই প্রকাশ করতে পারছে না নির্বাচন কমিশন। রাজশাহী, খুলনা, সিলেট ও বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে বর্তমান মেয়রদের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পরেই কেবল গেজেট প্রকাশ করা হবে। ফলে চার সিটি কর্পোরেশনের মেয়রদের ক্ষমতা গ্রহণের জন্য আগামী অক্টোবর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তবে চারটি সিটি কর্পোরেশনে কোন মেয়র না থাকায় স্থানীয় সরকার বিভাগ বিষয়টি দেখবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মোঃ শাওনেয়াজ। বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, আগের মেয়রদের মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত চার সিটি কর্পোরেশনে নবনির্বাচিতদের গেজেট প্রকাশ করা যাচ্ছে না। আইন অনুযায়ী নির্বাচিত মেয়রদের পাঁচ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত নবনির্বাচিত মেয়রদের চেয়ারে বসার নিয়ম নেই। আগের মেয়রদের মেয়াদ শেষ হবে অক্টোবরে। মেয়াদ শেষ হলেই নবনির্বাচিত মেয়ররা ক্ষমতা পাবেন।
গত ১৫ জুন একযোগে খুলনা, রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল ও সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে বিএনপির সমর্থিত প্রার্থীরা মেয়র ও কাউন্সিলর পদে নিরঙ্কুশ জয়লাভ করে। সিটি কর্পোরেশন আইন ২০০৯-এর ৩৪ ধারার ১ (খ) উপধারা অনুযায়ী, কর্পোরেশনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পূববর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। সিটি কর্পোরেশনের প্রথম সভা থেকে পাঁচ বছর মেয়াদের কার্যক্রম শুরু হয়। ২০০৮ সালের ৮ আগস্ট দেশের খুলনা, রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হয়। এর মধ্যে রাজশাহী ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয় ২০০৮ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর। ২৭ সেপ্টেম্বর প্রথম সভা হয় খুলনা সিটি কর্পোরেশনের এবং বরিশাল সিটির প্রথম সভা হয় ৭ অক্টোবর। আইন অনুযায়ী মার্চ থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে এ নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা থাকায় মেয়াদের আগেই ১৫ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন সম্পন্ন করার উদ্যোগ নিয়েছে ইসি।
এদিকে নিকট ভবিষ্যতে কোন নির্বাচনে ইলেক্ট্রনিং ভোটিং মেশিন ব্যবহার থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। বিশেষ করে ইভিএম ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু জটিলতা দেখা দেয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। চার সিটি করপোরেশন নির্বাচনের একটি ওয়ার্ডে ইভিএম ব্যবহার করে ভোট গ্রহণ করে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনে ইভিএম ব্যবহারে জটিলতা দেখা দেয়ায় প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা গণনা করা সম্ভব হয়নি। বিধায় সে কেন্দ্রে ফলাফল স্থগিত করে নতুন করে ভোট নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি।
এর আগেও কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন এবং নরসিংদী পৌরসভা নির্বাচনেও ইভিএম ব্যবহার করা নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়। এ পরিস্থিতিতে আজ গাজীপুরের কালীগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের ইতোপূর্বে নেয়া সিদ্ধান্তও বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন। এছাড়া আগামী ৬ জুলাই অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নবগঠিত গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয় ইসি। তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২৫ নম্বর সাধারণ ওয়ার্ডে এ পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। কিন্তু জটিলতা দেখা দেয়ায় নতুন করে ইভিএম আর ব্যবহার করা হবে না। এ বিষয়ে ইসি শাহনেওয়াজ জানান, ইতোপূর্বে ধারাবাহিকভাবে সিটি নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা হলেও আগামী কোন নির্বাচনে আর ইভিএম ব্যবহার করবে না কমিশন। তিনি বলেন, রাজশাহী সিটি নির্বাচনে একটি কেন্দ্রে ইভিএমে সমস্যা হওয়ায় সেই কেন্দ্রের ভোট গণনা হয়নি। এ নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, রাজশাহীর ইভিএম মেশিনটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আশা করছি তদন্তের ভিত্তিতে সঠিক তথ্য পাওয়া যাবে। যতদিন সঠিক তথ্য উদ্ঘাটন না হবে ততদিন কোন নির্বাচন ইভিএমে ব্যবহার করা ঠিক হবে না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সীমা পুনর্নির্ধারণের বিষয়গুলো কমিশন পর্যবেক্ষণ শুরু করেছে। কয়েকদিনের মধ্যে এ প্রক্রিয়া শেষ হবে। পর্যবেক্ষণ শেষ হলেই সীমানা নিয়ে গেজেট প্রকাশ করবে কমিশন। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে আজ কমিশন বৈঠক করবে বলে জানান নির্বাচন কমিশনার।
বিশ্বব্যাংক বললেই কাউকে শাস্তি দেয়া যায় না
তাদের রিপোর্টে ড. মসিউরের নামগন্ধও নেই, তাদের সব কিছুই স্বতঃসিদ্ধ নয় ॥ দুদক চেয়ারম্যান
স্টাফ রিপোর্টার ॥ দুদক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান বলেছেন, বিশ্বব্যাংক বললেই কাউকে শাস্তি দেয়া যায় না। দুদক সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের সঙ্গে বিদায়ী সভায় তিনি বলেন, সকল তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিশ্ব ব্যাংক যা বলে তার সবকিছুই স্বতঃসিদ্ধ নয়। আগামী ২৩ জুন দুদক চেয়ারম্যান হিসেবে গোলাম রহমানের শেষ কর্মদিবস।
পদ্মা সেতু ও বিশ্ব ব্যাংক প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের উত্তরে চেয়ারম্যান গোলাম রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অর্থনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমানকে নিয়ে বিশ্ব ব্যাংক অনেক কথা বলেছে। কিন্তু তাদের (বিশ্ব ব্যাংকের) চূড়ান্ত প্রতিবেদনে ড. মসিউরের নাম গন্ধও নেই। এতে প্রমাণিত হয় বিশ্ব ব্যাংক যা বলে তার সবকিছুই স্বতঃসিদ্ধ নয়। এ বিষয়ে তিনি আরও বলেন, দুর্নীতির ষড়যন্ত্রে কেউ যদি যুক্ত থাকেন তবে তিনি কখনই রক্ষা পাবে না। আমাদের কিংবা কানাডার আদালতে সত্য উদঘাটন হবে। বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়ন প্রত্যাহার প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান বলেন, ‘সব কিছু বিবেচনা করে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়ন প্রত্যাহার করতে আরও সময় নেয়া উচিত ছিল।’
এদিকে নিজ কর্ম মেয়াদ (চার বছর) পার হওয়ার সময় চেয়ারম্যান হিসেবে নিজেকে সফল নয় বলে মনে করেন গোলাম রহমান। তার সাফল্য সম্পর্ক জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি সফল না। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে সফলতা রয়েছে, যার বিবেচনা করবে দেশের জনগণ। যদি দুর্নীতির দায়ে দ্রুত বিচার করে অপরাধীদের শাস্তি দিতে পারতাম, তাহলে নিজেকে সফল মনে করতাম। চার বছরে নিজেকে অনেক সময় হতাশাজনক মনে হয়েছে। আইনের সীমাবদ্ধতার জন্যই কিছু করা যায়নি।’
আইনের সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক ক্ষেত্রেই দুদক কাজ করতে পারে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিদেশে লোক পাঠানো, প্রাইভেট সেক্টর এবং রিয়েল এস্টেট ব্যবসার ক্ষেত্রে প্রচুর দুর্নীতি হয়। আমরা এসব ক্ষেত্রে কিছুই করতে পারি না। এটার প্রতিকার হওয়া উচিত।
এদিকে চার বছর আগে দুদকে যোগ দেয়ার তিন মাস পরে দুদককে ‘নখ-দন্তহীন ব্যাঘ্র’ উপাধি দেয়া দুদক চেয়ারম্যান বিদায় বেলায়ও মনে করেন দুদক একই জায়গায় রয়েছে। তিনি বলেন, ‘দুদক এখনও নখ-দন্তহীন ব্যাঘ্রই রয়েছে।’ তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্ন করেন, দুর্নীতির কারণে বড় বড় ব্যক্তির শাস্তি হয়েছে, এমন কারও কথা কি আপনারা বলতে পারেন? সমাজে নাম-ডাক আছে প্রতিবছর এমন ন্যূনতম ১শ’ ব্যক্তি দুর্নীতির দায়ে জেলে যেত, তাহলে দুদকের কামড় মানুষ বুঝতে পারত। তিনি বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে এত কিছু করার পরও কারও শাস্তি হয় না। তাহলে কি দুদক টুথ লেস টাইগার নয়? এ অবস্থার পরিবর্তন না হলে দুদক টুথ লেস টাইগার ছিল এবং থাকবে। প্রচলিত কথার বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, ‘আমি মাঝে মাঝে বলি, বাঘে ধরলে ১৮ ঘা, পুলিশ ধরলে ২১ ঘা আর দুদক ধরলে ৩১ ঘা। শুধু ‘ঘা’টাই আছে, আর কিছু নেই। তাছাড়া দুর্নীতির বিষয়টি সামাজিকভাবে স্বীকৃতও হয়েছে বলে মন্তব্য গোলাম রহমানের। হলমার্ক-পদ্মা সেতু-ডেসটিনির মামলা সম্পর্কে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, বড় বড় অনেক মামলা হয়েছে। আমি সব সময় চেষ্টা করেছি সব কিছু সহজ করে নিতে। মামলা-মোকদ্দমার ক্ষেত্রে আমি কখনও সহকর্মীদের প্রভাবিত করিনি। তাদের সব সময় নির্দেশ দিয়েছি, যাতে নিরপরাধীরা কখনও অপরাধী না হয় এবং অপরাধীরা কখনও ছাড়া না পায়। ডেসটিনি-হলমার্ক এসব ক্ষেত্রে আমি দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়ার পক্ষে ছিলাম। আইনী প্রক্রিয়ায় তা ব্যাহত হয়েছে।’ দুদকের কৃতিত্বের ১০ শতাংশ দুদকের আর বাকি ৯০ শতাংশ মিডিয়া দাবিদার বলেও জানান তিনি।
সিস্টেমে দুর্বলতা রয়েছে উল্লেখ করে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের সিস্টেমে কিছু দুর্বলতার কারণে অনেকেই অবৈধ সম্পদ অর্জন করে। কিছু নিজের নামে, আর কিছু অন্যের নামে থাকে যা পরবর্তীতে পাওয়ার অব এ্যাটর্নি নিয়ে ওই সম্পদ বিক্রি করেন তারা। চেয়ারম্যান আরও বলেন, দুদক চেয়ারম্যানকে বাইরের কিছু লোকের সঙ্গে সর্বদা যুদ্ধ করতে হচ্ছে। তারা (বাইরের লোক) চেয়ারম্যানকে সর্বদা চ্যাপটা করে রাখতে চেয়েছেন।
গোলাম রহমান ২০০৯ সালের ২৪ জুন দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে যোগ দেন। আগামী ২৩ জুন তার শেষ কর্মদিবস। সর্বশেষ পদে থাকা নিয়ে হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করা হয়। সেটি এখন বিচারাধীন রয়েছে। সামগ্রিক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার দুদক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান রাষ্ট্রপতি এ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাত করেন।
তাজরীন মালিককে দায়ী করে হত্যা মামলা দায়েরের সুপারিশ
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তদন্ত রিপোর্ট হাইকোর্টে দাখিল ॥ মালিকের স্ত্রীসহ আটজনের সংশ্লিষ্টতা অগ্নিকাণ্ডে
আরাফাত মুন্না ॥ আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে তাজরীন ফ্যাশনসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তদন্ত প্রতিবেদন হাইকোর্টে দাখিল করা হয়েছে। এ প্রতিবেদনে তাজরীনের মালিক দেলোয়ার হোসেনকে দায়ী করে তার বিরুদ্ধে অবহেলাজনিত কারণে ৩০৪ (ক) ধারায় হত্যা মামলা দায়েরের সুপারিশ করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাইন উদ্দিন খন্দকার ২০১২ সালের ১৭ ডিসেম্বর মন্ত্রণালয়ে এ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছিলেন। এছাড়া তৈরি পোশাক সংশ্লিষ্ট মন্ত্রিসভা কমিটির আরও একটি প্রতিবেদন এ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে জমা দেয়া হয়েছে। এ প্রতিবেদনেও তাজরীনের মালিক দেলোয়ার হোসেনকে দায়ী করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশের বিষয়টি এ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের একটি সূত্র জনকণ্ঠকে নিশ্চিত করেছে।
এদিকে বুধবার রাষ্ট্রপক্ষ বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি এবিএম আলতাফ হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তদন্ত প্রতিবেদনটি হলফনামা আকারে দখিল করে। পরে আশুলিয়ার তাজরীন গার্মেন্টসে অগ্নিকা-ের ঘটনায় কোন্্ প্রক্রিয়ায় কাকে কত ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়েছে তার একটি প্রতিবেদন দাখিল করতে বিজিএমইএ এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রধান কারখানা পরিদর্শককে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। এছাড়া ঘটনার পর দমকল বাহিনী কি কি পদক্ষেপ নিয়েছে সে বিষয়ে দমকল বাহিনীকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। আদালত এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১৮ জুলাই দিন ধার্য করেছেন। ওই দিনের প্রতিবেদনগুলো আদালতে দাখিল করতে বলা হয়েছে। হত্যা মামলা দায়েরের নির্দেশ চেয়ে করা এক রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে এ প্রতিবেদনটি আদালতে উপস্থাপন করা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এত বিপুলসংখ্যক শ্রমিকের মর্মান্তিক মত্যুর জন্য মালিকের অমার্জনীয় অবহেলাই দায়ী। এটি সুস্পষ্টভাবে অবহেলাজনিত মুত্যু ঘটানোর অপরাধ। প্রতিবেদনে মালিক দেলোয়ার হোসেন ও তার স্ত্রী সম্পর্কে বলা হয়েছে, তারা সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে নিজ মালিকানাধীন কারখানার নিচতলায় শ্রমিকদের চলাচলের পথ গুদাম হিসেবে ব্যবহার করেন এবং ত্রুটিপূর্ণ নকশা অবলম্বনে ইটভাটার মতো একটি ভবন নির্মাণ করেছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এছাড়া এ অগ্নিকাণ্ডে যাদের সুস্পষ্ট সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে তারা হলেন ফ্যাক্টরি ব্যবস্থাপক মোঃ আবদুর রাজ্জাক, কোয়ালিটি ম্যানেজার মোঃ শাহিদুজ্জামান বেলাল, প্রডাকশন ম্যানেজার মোঃ মোবারক হোসেন মঞ্জু, এজিএম মোঃ সোহেল রানা ও হারুন অর রশিদ, সিকিউরিটি ইনচার্জ আল আমিন, প্রকৌশলী এম মাহবুবুল মোর্শেদ ও দেলোয়ার হেসেনের স্ত্রী।
কোন্্ প্রক্রিয়ায় কাকে কত ক্ষতিপুরণ দেওয়া হয়েছে ॥ আশুলিয়ার তাজরীন গার্মেন্টসে অগ্নিকা-ের ঘটনায় কোন্ প্রক্রিয়ায় কাকে কত ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়েছে তার একটি প্রতিবেদন দাখিল করতে বিজিএমইএ এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রধান কারখানা পরিদর্শককে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। এছাড়া ঘটনার পর দমকল বাহিনী কি কি পদক্ষেপ নিয়েছে সে বিষয়ে দমকল বাহিনীকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। আগামী ১৮ জুলাইয়ের মধ্যে এ প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। বুধবার বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি এবিএম আলতাফ হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়। ওই অগ্নিকা-ের বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তদন্ত প্রতিবেদন রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে দাখিল করার পর আদেশ দেয়া হয়।
পরে সংশ্লিষ্ট আদালতের ডেপুটি এ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিত রায় বলেন, আমরা তাজরীনের বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন আদালতে জমা দিয়েছি। আদালত আগামী ১৮ জুলাই এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির দিন রেখেছে। আদালতে তাজরীন মালিক দেলোয়ার হোসেনের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার ফিদা এম কামাল ও ইউসুল হোসেন হুমায়ুন। আদালতে আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন এমআই ফারুকী ও ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া।
গত বছরের ২৪ নবেম্বর রাতে সাভারের আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে তাজরীন ফ্যাশনস লিমিটেড নামের তৈরি পোশাক কারখানার নয়তলা ভবনের নিচতলার গুদামে আগুন লাগে। ধীরে ধীরে তা নয়তলা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। ওই অগ্নিকা-ের ঘটনায় বিজিএমইএ’র দাখিল করা প্রতিবেদনে এক শ‘ ১২ শ্রমিক নিহত হয় বলে দাবি করা হয়। যদিও শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয় যে, এক শ’২৪ জন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় তিন নৃবিজ্ঞানী নাজনীন আক্তার বানু, সাইয়েদা গুলরুক কামাল ও মাহমুদুল হাসান গত ২৮ এপ্রিল হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন। এ রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৯ মে তাজরীনের মালিক দেলোয়ারের দেশত্যাগের বিরুদ্ধে নির্দেশনা জারি করে হাইকোর্ট। এছাড়া পরিচয় শনাক্ত না হওয়া ৩৭ জনের পরিবারের সদস্যদের ডিএনএ শনাক্ত করার নির্দেশ দেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করে ১৯ জুনের মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে পুলিশের মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) নির্দেশ দেয়া হয়। তবে আদালতের এই আদেশের কপি সময়মতো না পৌঁছানোয় আইজিপি প্রতিবেদন দাখিল করেননি বলে জানা গেছে। এছাড়া চলতি বছরের ২৯ মে তাজরীনের মালিক দেলোয়ার হোসেনসহ অজ্ঞাত ২০-৩০ জনের বিরুদ্ধে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হত্যা মামলা করেন অগ্নিকা-ে নিহত রেহানার ভাই আব্দুল মতিন।
জিয়া পরিবার ও ক’জন বিএনপি নেতার কাছে ৯৮০ কোটি টাকা পাওনা
সমাবেশ নিষিদ্ধ করার অভিপ্রায় সরকারের নেই ॥ প্রধানমন্ত্রী
সংসদ রিপোর্টার ॥ প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, কোন ব্যক্তি বা কোন সংগঠনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করার অভিপ্রায় বর্তমান সরকারের নেই। আইনের বিধান অনুযায়ী শান্তিপূর্ণ সভা-সমাবেশ করার প্রতিশ্রুতি দিলে কোন ব্যক্তি বা সংগঠন নির্ধারিত স্থানে নির্বিঘেœ সভা-সমাবেশ করতে পারবে। আর বিরোধীদলীয় নেত্রীর দুই পুত্র তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান, ভাই ইস্কান্দার মির্জাসহ বিএনপির ক’জন নেতার মালিকানাধীন ১৫ শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ৯৮০ কোটি ২ লাখ টাকা ব্যাংক ঋণ বকেয়া রয়েছে। এর বিরাট একটা অংশ কু ঋণ বা মন্দ ঋণ।
বুধবার জাতীয় সংসদে টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নোত্তর পর্বে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ তথ্য জানান। অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, চলতি মাসের শেষ দিকে নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নের জন্য পদ্মা সেতুর মূল দরপত্র আহ্বান করা হবে। এরপরই ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে বর্তমান সরকারের মেয়াদেই সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে। তাছাড়া সেতু প্রকল্পের নিরাপত্তা ও তদারকির জন্য সেনাবাহিনীর একটি কম্পোজিট ব্রিগেড গঠনের আদেশ দেয়া হয়েছে।
হেফাজত-জামায়াত-বিএনপির সম্মিলিত তা-ব ॥ বিএনপির সংসদ সদস্য এএম মাহবুব উদ্দিন খোকনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী সংসদে জানান, সংবিধানের ৩৭ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে “জনশৃঙ্খলা বা জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসংগত বাধা-নিষেধ সাপেক্ষে শান্তিপূর্ণভাবে ও নিরস্ত্র অবস্থায় সমাবেত হবার এবং জনসভা ও শোভাযাত্রায় যোগদান করার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের থাকবে।” কিন্তু সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামী, ছাত্রশিবির এবং বিএনপি ও ছাত্রদলের প্ররোচনায় ও নেতৃত্বে যেসব সমাবেশ ঢাকা মহানগরীতে ও দেশের অন্যান্য স্থানে অনুষ্ঠিত হয়েছে, তাতে দেখা গেছে তারা সব সমাবেশেই জন-শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছে। সময় ও ক্ষেত্র বিশেষে লাঠিসোটা, ককটেল এমনকি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সাধারণ জনগণের জীবন, সম্পত্তি বিনষ্ট করেছে। তাদের অশুভ তৎপরতায় রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যগণ আক্রান্ত এমনকি নিহতের ঘটনাও ঘটেছে।
প্রধানমন্ত্রী এ প্রসঙ্গে গত ৩ মে থেকে ৬ মে পর্যন্ত রাজধানীতে নারকীয় তা-বের কথা উল্লেখ করে বলেন, জামায়াত-শিবির-বিএনপি-ছাত্রদল এক হয়ে রাজধানীর শাপলা চত্বরে সমাবেশ থেকে নির্দোষ ও নিরপেক্ষ সাধারণ জনগণের দোকানপাট লুট ও অগ্নিসংযোগ, কমিউনিস্ট পার্টির অফিসে অগ্নিসংযোগ, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে হামলা এমনকি কোরান শরীফ পর্যন্ত পুড়িয়ে দিয়েছে। তাদের পরিকল্পিত আক্রমণ থেকে জনগণের যানবাহনও রেহাই পায়নি, জনগণের অর্থে রোপিত ও লালিত গাছপালা, পথ বেষ্টনী বিনষ্ট হয় এবং তাদের ধ্বংসযজ্ঞে রাজধানীর ব্যস্ততম বাণিজ্যিক এলাকায় নারকীয় পরিবেশ সৃষ্টি হয়। তিনি আরও বলেন, জনশৃঙ্খলা মারাত্মকভাবে ভঙ্গ করার বাইরে জনস্বাস্থ্যের ও অমানবিকভাবে বিনাশ ঘটাতেও তারা ইতস্তত করেনি। এ ধরনের দায়িত্বহীন সাংবিধানিক সূত্রের লঙ্ঘন ঘটানোর ফলে যে ক্ষতিসাধন হয়েছে তা পরিমাপ করার জন্য এবং তা ভবিষ্যতে নিবারণের জন্য সংশ্লিষ্ট সকল তরফ থেকে মূল্যায়ন ও নিরূপণে পরবর্তী একমাস ঢাকা মহানগরীতে সমাবেশ করা যাবে না বলে বলা হয়েছে। তবে কোন ব্যক্তি বা সংগঠনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করার অভিপ্রায় সরকারের নেই।
জিয়ার পরিবার ও বিএনপি নেতাদের কাছে পাওয়া ৯৮০ কোটি টাকা ॥ বিএনপির সংসদ সদস্য বেগম নিলুফার চৌধুরী মনির অপর এক প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা জানান, রাষ্ট্রায়াত্ত প্রতিষ্ঠানসমূহের কাছে সরকারী ব্যাংকগুলোর ১৫ হাজার ১১৩ কোটি টাকা বকেয়া পাওনা রয়েছে। এছাড়া তারেক-কোকোর মালিকানাধিন ড্যান্ডি ডাইং, খাম্বা ও গিয়াস উদ্দিন আল মামুনসহ কয়েকজন বিএনপি নেতার ১৫টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ৯৮০ কোটি ২ লাখ টাকা ব্যাংক ঋণ বকেয়া রয়েছে। এর বিরাট অংশই কু ঋণ বা মন্দ ঋণ।
প্রধানমন্ত্রী সংসদকে জানান, বিএনপি নেতা তারেক রহমান, সাইদ ইস্কান্দার, আরাফত রহমান, গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, মোজাফর আহমেদ ও নাসরীন আহমেদের মালিকানাধীন ড্যান্ডি ডায়িংয়ের কাছে বকেয়া ঋণের পরিমাণ হচ্ছে ৪০ কোটি ১৪ লাখ টাকা। এছাড়া তারেক রহমানের বন্ধু গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের প্রিকার্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ১৩ কোটি ৭৬ লাখ, খাম্বা লিমিটেডের ২৯ কোটি ৫৩ লাখ, ওয়ান স্পিনিং মিলের ২৬২ কোটি ৭১ লাখ টাকা ব্যাংক ঋণ রয়েছে।
তিনি জানান, পার্টেক্স গ্রুপের মালিক বিএনপি নেতা এমএ হাসেমের আম্বার কটন মিলস লিমিটেডের ৩৭৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকা ব্যাংক ঋণ রয়েছে। বিএনপির আরেক নেতা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর মালিকানাধীন মেসার্স বেঙ্গল ফিস এ্যান্ড ফ্রগলেগসের কাছে ৫ কোটি ২৯ লাখ, মিহির গার্মেন্টসের ২২ লাখ, মেসার্স আলফা প্যাকেজেস (বিডি লিঃ) ২৮ কোটি ও হোটেল সারিনার ২৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকা ব্যাংক ঋণ রয়েছে। এছাড়া বিএনপি নেতা মঞ্জুর মোর্শেদ খানের মেসার্স পেসিফিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ৮ কোটি ১৬ লাখ, নয়াপাড়া টি কোম্পানির ৫৩ লাখ টাকা, পেসিফিক মোটরস লিমিটেডের ১২ কোটি ৭৮ লাখ টাকা ব্যাংক ঋণ রয়েছে।
পদ্মা সেতুর দরপত্র চলতি মাসেই ॥ সরকারী দলের সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিকের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, চলতি মাসের শেষ দিকে নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নের জন্য পদ্মা সেতুর মূল দরপত্র আহ্বান করা হবে। পদ্মা সেতু প্রকল্প নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নে আগামী অর্থ বছরে এ প্রকল্পের অনুকূলে ছয় হাজার ৮৫২ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। চলতি জুন মাসের শেষের দিকে মূল সেতুর দরপত্র আহ্বান করা হবে। ঠিকাদার নিয়োগ চূড়ান্ত করে বর্তমান সরকারের মেয়াদের মধ্যে সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
এ বিষয়ে তিনি আরও বলেন, মোট ২০ হাজার ৫০৭ কোটি ২০ লাখ টাকা বা দুই দশমিক ৯৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রাক্কলিত ব্যয়ে ‘পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ (সংশোধিত)’ শীর্ষক প্রকল্পটি ২০১১ সালের ১১ জানুয়ারি একনেক সভায় অনুমোদিত হয়। পদ্মা সেতু প্রকল্পের জন্য ভূমির প্রয়োজন এক হাজার ১০৩ দশমিক ৭২ হেক্টর। ইতোমধ্যে এক হাজার ১ দশমিক ১৩ হেক্টর ভূমি অধিগ্রহণের জন্য ৮৩৫ কোটি ৪২ লাখ টাকা সংশ্লিষ্ট তিন জেলার জেলা প্রশাসককে পরিশোধ করা হয়েছে।
নাছিমুল আলম চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেনাবাহিনীর উন্নয়নের জন্য একটি রাডার কন্ট্রোল এডি ইউনিট, একটি ইলেক্ট্রনিক ওয়ারফেয়ার কোম্পানি এবং একটি ইএমই সেকশন নতুন গঠন করা হয়েছে। এছাড়াও পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও তদারকির জন্য দুটি পদাতিক ইউনিট ও একটি ইসিবি ব্যাটালিয়ন সমন্বয়ে নতুন একটি কম্পোজিট ব্রিগেড গঠনের আদেশ প্রদান করা হয়েছে।
সন্ত্রাস দমনে জিরো টলারেন্স ॥ সরকারী দলের সামশুল হক চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা জানান, বর্তমান সরকার সন্ত্রাস দমনে দৃঢ় ও বলিষ্ঠ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সন্ত্রাস নিরোধে বাংলাদেশ সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি জিরো টলারেন্স। বাংলাদেশ এখন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক উভয় ক্ষেত্রেই সন্ত্রাস নিরোধ সংক্রান্ত সকল পদক্ষেপ সম-অংশীদার হিসেবে জাতিসংঘ এবং অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে একযোগে কাজ করে চলেছে।
স্নাতক পর্যায়ে উপবৃত্তি ॥ নারী শিক্ষা উন্নয়নে নতুন যুগের সূচনা
০ সুবিধা পাবে এক লাখ ৩৩ হাজার ৭২৬ ছাত্রী
০ ৭৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দ
০ ৩০ জুন কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
বিভাষ বাড়ৈ ॥ দেশের নারী শিক্ষার উন্নয়নে রাষ্ট্রীয় সুযোগসুুবিধা বৃদ্ধিতে নতুন যুগের সূচনা হতে যাচ্ছে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সারাদেশের স্নাতক ও সমমান পর্যায়ের ছাত্রীদের দেয়া হচ্ছে উপবৃত্তি। আগামী ৩০ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের শিক্ষার উন্নয়নে তার দেয়া ওয়াদা অনুসারেই প্রথমবারের মতো চালু হওয়া এ উপবৃত্তি কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। জানা গেছে, ‘প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের মাধ্যমে দেশের উচ্চশিক্ষার এ স্তরে উপবৃত্তি পাবে এক লাখ ৩৩ হাজার ৭২৬ ছাত্রী। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যেই ৭৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। উপবৃত্তিসংক্রান্ত সকল প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও পর্যায়ক্রমে ট্রাস্ট বোর্ড তা চালিয়ে যাবে। কেবল তাই নয়, প্রথমে কেবল ছাত্রীদের উপবৃত্তি দেয়া হলেও পর্যায়ক্রমে প্রধানমন্ত্রীর এ ট্রাস্টের আওতায় নিয়ে আসা হবে দেশের মেধাবী ও দরিদ্র ছাত্রদেরও।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, এক লাখ ৩৩ হাজার ৭২৬ ছাত্রীকে উপবৃত্তি প্রদানের জন্য বছরে ৭৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা ব্যয় হবে। প্রতি ছাত্রীকে বছরে উপবৃত্তি দুই হাজার ৪০০ টাকা, পরীক্ষার ফি বাবদ এক হাজার টাকা, বই কেনার জন্য এক হাজার ৫০০ টাকা, টিউশন ফি বাবদ ৭২০ টাকা সর্বমোট পাঁচ হাজার ৬২০ টাকা প্রদান করা হবে। আগামী ৩০ জুন প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ জুনের শেষ দিন বিশাল এ কর্মযজ্ঞের উদ্বোধনের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, দেশের শিক্ষার উন্নয়নে আমাদের প্রধানমন্ত্রী উপবৃত্তির উদ্বোধন করবেন। নারী শিক্ষার সুযোগ তথা দেশের শিক্ষার উন্নয়নে এ পদক্ষেপ সুফল হয়ে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন শিক্ষামন্ত্রী। শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে একমত পোষণ করে উচ্চ শিক্ষাস্তরের এ উপবৃত্তির অপেক্ষায় আছেন শিক্ষাবিদ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী অভিভাববকসহ সংশ্লিষ্ট সকলেই। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে ‘প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট’ নামে একটি ট্রাস্ট গঠন করা হয়েছে। ট্রাস্টে সিড মানি হিসেবে এক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দও দেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধন অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর (মাউশি)। উদ্বোধন অনুষ্ঠানকে ঘিরে যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। আগামী ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে ধানম-িতে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কম্পিউটার সেল অফিসে ট্রাস্ট বোর্ডের কার্যালয় করা হবে। এই কার্যালয়ের জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে ৩২ জন জনবল নিয়োগে জনপ্রশাসন ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়া গেছে জানিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, ট্রাস্টের কর্মকর্তা-কর্মচারীর চাকরি নিয়মাবলী সংবলিত খসড়া ‘চাকরি প্রবিধানমালা’ প্রস্তুত করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের সকল স্কুল, মাদ্রাসা, কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি প্রদানের লক্ষ্যে ট্রাস্ট ফান্ড গঠনের জন্য ২০১০ সালের ২০ এপ্রিল স্বহস্তে লিখিত নির্দেশনা প্রদান করেন। এর প্রেক্ষিতে পরিকল্পনামন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব) একে খন্দকারের সভাপতিত্বে কয়েকটি সভায় ট্রাস্ট আইনের খসড়া চূড়ান্ত করা হয়। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট আইন ২০১১ সালের ১২ ডিসেম্বর মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়। পরে ২০১২ সালের ১১ মার্চ জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট বিল, ২০১২ পাস হয়। গত বছরের ১৪ মার্চ তা গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে। ট্রাস্ট আইন অনুযায়ী পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট উপদেষ্টা পরিষদ এবং ২৩ সদস্য বিশিষ্ট ট্রাস্টি বোর্ড ইতোমধ্যেই গঠন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এ ট্রাস্টি বোর্ডের প্রধান পৃষ্ঠপোষক।
উপদেষ্টা পরিষদ ও ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য হলোÑ অর্থমন্ত্রী ড. আবুল মাল আবদুল মুহিত, পরিকল্পনামন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব) একে খন্দকার, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ডা. আফসারুল আমিন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. একে আজাদ চৌধুরী, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব, প্রধানমন্ত্রীর সচিব, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব, শিক্ষা সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক, কারিগরি শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কর্মাস এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি, ব্যাংকার্স এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি প্রমুখ। আগামী ৩০ জুন প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে দেশের নারী শিক্ষার উন্নয়নে রাষ্ট্রীয় সুযোগ সুুবিধা বৃদ্ধিতে নতুন যুগের সূচনা হতে যাচ্ছে বলে অভিমত ব্যক্ত করলেন ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ফাহিমা খাতুন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের মাধ্যমে দেশের উচ্চশিক্ষার এ স্তরে উপবৃত্তি পাবে এক লাখ ৩৩ হাজার ৭২৬ ছাত্রী। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যেই ৭৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। মহাপরিচালক বলেন, এখন যে উপবৃত্তি প্রকল্পগুলো আছে সেগুলোর মেয়াদ শেষ হলে আর মেয়াদ বাড়ানো হবে না। বরং উপবৃৃত্তি প্রকল্পগুলো মেয়াদ শেষ হলে পর্যায়ক্রমে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, এখন কেবল ছাত্রীদের উপবৃত্তি দেয়া হলেও পর্যায়ক্রমে প্রধানমন্ত্রীর এ ট্রাস্টের আওতায় নিয়ে আসা হবে দেশের মেধাবী ও দরিদ্র ছাত্রদেরও। ট্রাস্টের সদস্যরা জানিয়েছেন, শুরুতে এক লাখ ৩৩ হাজার ৭২৬ ছাত্রী উপবৃত্তি পেলেও পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে এ সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করা হবে। বেসরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের ফান্ড সহায়তা প্রদানে এগিয়ে আসবে বলে সভায় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ট্রাস্টের সদস্যরা।
মিথ্যাচার করবেন না
০ সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডার ও ব্যক্তিগত কৈফিয়তে বিতর্কের এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভ্রান্তি দূর করতে এ বক্তব্য প্রদান করেন
০ তিনি বলেন, গতবার তত্ত্বাবধায়ক দুই বছর ছিল, এবার এলে নির্বাচনই দেবে না
‘সংসদে আমার বক্তব্য ছিল-আবার তত্ত্বাবধায়ক সরকার আসলে দেশে আর নির্বাচন নাও হতে পারে। ...অথচ আমার সেই বক্তব্য বিকৃত করে প্রকাশ করা হলো- তত্ত্বাবধায়ক চাইলে নির্বাচনই হবে না’
সংসদ রিপোর্টার ॥ প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে এর আগে সংসদে দেয়া তাঁর বক্তব্যকে ‘বিকৃত’ করে উপস্থাপন করা হয়েছে। সংসদে আমার বক্তব্য ছিল- ‘আবার তত্ত্বাবধায়ক সরকার আসলে দেশে আর নির্বাচন নাও হতে পারে। কারণ তিন মাসের জন্য ক্ষমতায় এসে গত তত্ত্বাবধায়ক সরকার দু’বছর ক্ষমতায় ছিল। এবার তত্ত্বাবধায়ক আসলে তারা আরও আঁটঘাট বেঁধেই নামবে। গতবার তো দু’বছর পর নির্বাচন দিয়েছিল, এবার আসলে হয়তো আর নির্বাচনই দেবে না। এটা বিরোধী দলকে স্মরণ করিয়ে দিতেই আমি এ কথা বলেছি।’ অথচ আমার সেই বক্তব্য বিকৃত করে প্রকাশ করা হলো- “তত্ত্বাবধায়ক চাইলে নির্বাচনই হবে না।” এভাবে বক্তব্য বিকৃত করে উপস্থাপন করে জাতিকে বিভ্রান্ত করা কারোরই উচিত নয়।
বুধবার জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডার ও ব্যক্তিগত কৈফিয়তে সরকার ও বিরোধী দলের প্রাণবন্ত বিতর্কের এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেও দাঁড়িয়ে তাঁর বক্তব্য নিয়ে বিভ্রান্ত দূর করতে ব্যাখ্যা দেন এবং বিএনপির ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের তিস্তা চুক্তি ও টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে করা অভিযোগের জবাব দেন।
দীর্ঘদিন পরে হলেও দেশবাসী জাতীয় সংসদে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে প্রাণবন্ত বিতর্ক উপভোগ করল। স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে ব্যক্তিগত কৈফিয়ত ও পয়েন্ট অব অর্ডারে প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও বক্তব্য রাখেন সরকারী দলের তোফায়েল আহমদ, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, বিএনপির ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ও সৈয়দা আশিফা আশরাফি পাপিয়া।
প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলের অভিযোগ খ-ন করা ছাড়াও বিএনপির এক মহিলা সংসদ সদস্য তাঁর পুত্রবধূকে ‘ইহুদী’ বলারও সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, আমার পুত্রবধু ইহুদী নন, তিনি অবশ্য খ্রীস্টান। কিন্তু খ্রীস্টান তো আহলে কিতাব। সিনিয়র আইনজীবী ড. কামাল হোসেনের মেয়েজামাই অবশ্য ইহুদী। তাঁর কথা বলতে গিয়েই কী আমার পুত্রবধূ সম্পর্কে মিথ্যাচার করা হলো? বিরোধী দলের সদস্যদের মিথ্যাচার করে জাতিকে বিভ্রান্ত না করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদে কিংবা বাইরে যেখানেই কথা বলুন, যুক্তিনির্ভর সত্য তথ্য দিয়ে বক্তব্য রাখুন। অযথা মিথ্যাচার করে জাতিকে বিভ্রান্ত করবেন না।
সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে মন্ত্রণালয় দেয়া এবং আমির হোসেন আমুকে মন্ত্রিত্ব করার মওদুদের সুপারিশের জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘উনি (মওদুদ) তো দলবদলে পারদর্শী। উনি যে কখন কোথায় থাকেন তার তো ঠিক নেই। অন্যজনের জন্য সুপারিশ করছেন, আসলে উনিই পদ (মন্ত্রিত্ব) চাচ্ছেন কি না, তা জানি না। উনি এত ঘাটের পানি খেয়েছেন যে, তাঁকে কেউ হজম করতে পারবে না। তিনি বলেন, উনি নিজের বইয়ে লেখেন এক রকম, বাস্তবে করেন আরেক রকম।
তত্ত্বাবধায়ক সম্পর্কে তাঁর অবস্থান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দিয়েছি, আমি বিরোধী দলকে বলেছি এত তত্ত্বাবধায়ক-তত্ত্বাবধায়ক করেন, তত্ত্বাবধায়ক যে চান, তত্ত্বাবধায়ক যদি আসে আবার যদি এক-এগারো হয়, তাহলে এবার আর এ দেশে কোন নির্বাচনই হবে না। তার কারণ ছিল, গত বার যখন তত্ত্বাবধায়ক আসল, তখনই দেখা গেল তিন মাসের জন্য আসার কথা। আমাদের আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন আইনজীবীরা তখন ব্যাখ্যা দিলেন রোজকেয়ামত পর্যন্ত ফখরুদ্দিন-মঈনুদ্দিনের সরকার ক্ষমতায় থাকতে পারবে। এরপর তখন আর নির্বাচন দেয়ার কথাই বলে না। শুনলাম আর্মি ব্যাকড, হেডেড বাই আর্মি কিভাবে হবে, সেই মই বেয়ে ওঠার চেষ্টা।
তিনি বলেন, ওই সময় কেউ কথা বলেনি। শুধু আমি কথা বলেছি। কথা বলতে গিয়ে আমাকে বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেফতার করা হলো। তিনি বলেন, ওই তত্ত্বাবধায়ক সরকার তিন মাসের জায়গায় দুই বছর থেকেছে। আর এবার এলে যে আঁটঘাট বেঁধে আসবে মোটেও নড়াতে পারবেন না। এবার আর নির্বাচনই দেবে না। আমি এই কথাই বলেছি। এই কথাকে বিকৃত করে বলেছে আর ইলেকশনই হবে না! প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বিকৃত তথ্যে ভালই হচ্ছে, মানুষ জানতে পারছে। একদিক দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার এলে পরে আর কোন ইলেকশন এদেশে হবে না। এই বাস্তবতা বিরোধী দলের মানতে হবে। তখন ছিল মাইনাস টু ফর্মুলা এবং সেই ফর্মুলা যাঁরা করেছিলেন, তাঁরা কিন্তু এখনও আছেন। সে সময়ের মাইনাস টু ফর্মুলার প্রণেতারা এখনও হা করে আছে, কখন শিকে ছিঁড়বে, আর তারা খপ করে ধরে ফেলবে।
গত ৫ মে হেফাজতের তা-ব নিয়ে বিরোধী দলের মিথ্যাচারের মাধ্যমে দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করার সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গ্রামে-গ্রামে গিয়ে নির্জলা মিথ্যাচার করে জাতিকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। সংসদে কয়েকজন বিরোধী দলের সংসদ সদস্য বলেছেন, হেফাজতকে সরিয়ে দিতে নাকি এক লাখ ২০ হাজার গুলি খরচ করা হয়েছে! তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, এত গুলিবর্ষণ করা হলে মতিঝিলের অবস্থা কী হতো? মতিঝিলের আশপাশে যত বিল্ডিং আছে তাতে তো এই গুলির দাগ থাকবে। যদি আড়াই হাজার মানুষ নিহত হয়, তবে তো এক লাখ মানুষের আহত হওয়ার কথা। মাত্র ত্রিশ মিনিটের অভিযানে ভারত থেকে ট্রাক এনে হাজার হাজার লাশ সরিয়ে ফেলা হয়েছে, লাশ গুম করা হয়েছে ইত্যাদি নানা মিথ্যাচার করা হচ্ছে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে।
শেখ হাসিনা বলেন, ইসলাম ধর্মে মিথ্যা বলা মহাপাপ। অথচ জামায়াত-বিএনপিরা সেই কাজটিই করছে। তিনি বলেন, হেফাজতকে সরাতে চলা অভিযান বিভিন্ন টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়েছে। অভিযানে একটি মানুষও মারা যায়নি। অথচ রুয়ান্ডার ভূমিকম্পে নিহতদের ছবি এবং জোন্সটাউনের গণ-আত্মহত্যার ছবি ছাপিয়ে বলা হলো এসব হেফাজতের লাশ! পবিত্র মক্কার কাবা শরিফের গিলাফ পরিবর্তনের ছবি মিথ্যাচার করে ছাপানো হলো একজন যুদ্ধাপরাধীর মুক্তির জন্য নাকি সেখানে মানববন্ধন করা হয়েছে! তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, একজন মুসলমান কী কখনও পবিত্র কাবা শরিফ নিয়ে এমন মিথ্যাচার করতে পারে? তিনি বলেন, ওইদিন হেফাজতের নামে বিএনপি-জামায়াত সন্ত্রাসীরা অসংখ্য কোরান শরিফ পুড়িয়ে দিয়েছে, ব্যাংক-বীমা ও সোনার দোকান লুটপাট করেছে। এর ভিডিওফুটেজ দেখলেই তা স্পষ্ট হয়ে যাবে।
বর্তমান সরকারের আমলেই তিস্তা চুক্তি হবে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্ষমতায় থাকতে ভারতপ্রীতি, আর বিরোধী দলে গেলে ভারত বিরোধিতা করাÑ এটাই বিএনপির চরিত্র। গঙ্গার চুক্তির সময় বিএনপি বিরোধিতা করে বলল, ৫ বছরের নিচে চুক্তি হলে তারা মানবে না। আমরা ৩০ বছরের চুক্তি করলাম। তখন বলল চুক্তি হলেও পানি আসে না। বিরোধীদলীয় নেত্রী পদ্মা নদীতে বাঁশ দিয়ে গভীরতা মাপতে গিয়ে বললেন, ‘একবাঁও মেলে না, দু’বাঁও মেলে না।’ অথচ বিরোধী দলে থাকতে খালেদা জিয়া ভারতে গিয়ে গঙ্গার পানিবণ্টনের কথা বলতে ভুলেই গিয়েছিলেন।
এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, খালেদা জিয়া তিন বার ক্ষমতায়, এরশাদও একবার ক্ষমতায় ছিলেন। কিন্তু ক্ষমতায় থেকে গঙ্গা চুক্তি, পার্বত্য শান্তি চুক্তি, দু’ দেশের সীমানা নির্ধারণ নিয়ে কোন উদ্যোগ নিলেন না কেন? আমরা ভারতের সঙ্গে সীমানা শনাক্ত করার কাজ শেষ করেছি। খালেদা জিয়ার জন্য তাঁর নির্বাচনী এলাকায় ফেনীতে ভারত থেকে ৪৫ একর জায়গা আদায় করে দিয়েছি। তিনি বলেন, ক্ষমতায় থাকতে খালেদা জিয়ারা সমুদ্রসীমায় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা নিয়েও কোন উদ্যোগ নেননি। আমরা মামলা করে মিয়ানমারের কাছ থেকে সমুদ্রসীমায় বাংলাদেশের সমপরিমাণ জায়গায় অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছি। ২০১৪ সালে ভারতের সঙ্গে মামলার রায় হবে। জনগণ যদি আমাদের ভোট দিয়ে আমাদের আবারও দেশ সেবার সুযোগ দেয় তবে ভারতের কাছ থেকেও আমাদের ন্যায্য অধিকার ফিরে পাব। বিএনপি ক্ষমতায় এলে তারা এ কাজটি করতে ভুলে যাবে, সমুদ্রসীমায় আমরা আবার অধিকার হারাব।
তোফায়েল-সুরঞ্জিত মওদুদের প্রাণবন্ত বিতর্ক ॥ সংসদ অধিবেশনের শুরুতেই স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর বলেন, গত ক’দিনে আলোচনার নামে কয়েকজন সংসদ সদস্য কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে ব্যক্তি আক্রমণ করে বক্তব্য রেখেছেন। তাঁরা ব্যক্তিগত কৈফিয়তে বক্তব্য রাখতে চেয়েছেন। এরপর স্পীকার ব্যক্তিগত কৈফিয়ত ও পয়েন্ট অব অর্ডারে সরকারী দলের তোফায়েল আহমদ, দফতরবিহীন মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ও বিএনপির ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ও সৈয়দা আশিফা আশরাাফি পাপিয়াকে বক্তব্য রাখার সুযোগ দিলে তাঁদের মধ্যে প্রায় এক ঘণ্টার প্রাণবন্ত বিতর্ক হয়।
তোফায়েল আহমদ পয়েন্ট অব অর্ডারে বলেন, মওদুদ আহমদ বইয়ে যা লেখেন তা সত্য লেখেন, কিন্তু বাস্তবে করেন তাঁর উল্টো। আমারা পাঠক হিসেবে তাঁর বইয়ের যেটুকু ভাল সেটি তো আমরা বলব। মওদুদ সাহেব বলেন, বিরোধী দল সংখ্যায় ছোট হলেও বুদ্ধিমত্তায় সবার চেয়ে বেশি। মওদুদ সাহেবের যে বুদ্ধি-জ্ঞান বেশি তা শুধু আমরা কেন, গোটা দেশের মানুষই তা ভাল করে জানে। তিনি বলেন, আমাদের কারোরই বক্তব্যের সময়সীমা অতিক্রম করা উচিত নয়। সংসদে খারাপ ভাষা ব্যবহারের জায়গা নয়। বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা কোনদিন জাতীয় স্বার্থ বিনষ্ট করে কোন চুক্তি করেননি, ভবিষ্যতেও করবেন না।
দফতরবিহীন মন্ত্রী ও প্রবীণ পার্লামেন্টারিয়ান সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ব্যক্তিগত কৈফিয়ত দিতে দাঁড়িয়ে বলেন, সংসদে দূরভীসন্ধিমূলক ও রাজনৈতিক উদ্দেশে বক্তব্য দেয়ার কোন সুযোগ নেই। যা বলতে হবে প্রমাণ দিয়েই বলতে হবে। ব্যারিস্টার আন্দালিব পার্থ আমার বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগ করেছেন। আমার এপিএসের ৭৫ লাখ টাকার দুর্নীতির বিষয়ে আমি কেন পদত্যাগ করলাম না, সেই প্রশ্ন তিনি তুলেছেন। ঘটনার পর আমি পদত্যাগ করেছিলাম, সেটি দেশবাসী জানেন। পদত্যাগ করার অধিকার আমার যেমন রয়েছে, সেটি গ্রহণ করা বা না করা সেটিও সরকারের বিষয়। তিনি বলেন, এ বিষয়ে দুদক থেকে মামলা হয়েছে, যা আদালতে বিচারাধীন। সংসদে কোন বিচারাধীন বিষয়ে আলোচনা বা কথা বলা যায় না। অথচ সেটিও মানা হয়নি।
তিনি আত্মপক্ষ সমর্থন করে বলেন, হেফাজত সম্পর্কে আমার বরাত দিয়ে যে বক্তব্য ছাপা হয়েছিল, তার ব্যাখ্যা আমি দিয়েছি। আমার সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর সংবাদ ছাপা হয়েছে। কারোর ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি আঘাত হানার অভিপ্রায় আমার ছিল না। তার পরেও যদি কেউ আঘাত পেয়ে থাকেন সেজন্য আমি দুঃখ প্রকাশ করেও বিবৃতি দিয়েছি। আমি সকল ধর্মের প্রতি ও আলেম-ওলামাদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমি হেফাজত নয়, ছদ্মবেশে হেফাজতের সমাবেশে বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীদের অনুপ্রবেশ ও ধ্বংসযজ্ঞ পরিচালনার কথা বলেছি। বিরোধী দলের উচিত, শ্রদ্ধা এবং তথ্য-উপাত্ত ও প্রমাণ রেখেই জাতীয় নেতাদের সম্পর্কে সাবধানে সংসদে কথা বলা।
পরে পয়েন্ট অব অর্ডারে ফের দাঁড়িয়ে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, আজ মওদুদ সাহেব গঙ্গা চুক্তির প্রতি সমর্থন জানালেন। সারাপৃথিবীর মানুষকে স্তম্ভিত করে ঐতিহাসিক গঙ্গা চুক্তি করল, তখন মওদুদ সাহেবদের দল সমর্থন নয় বিরোধিতা করেছিলেন। পাবর্ত্য চুক্তির সময়ও খালেদা জিয়া বলেছিলেন, এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশ ভারত হয়ে যাবে। এটা কী বিরোধী দলের কাজ। একদিন সময় আসবে বিরোধী দল স্বীকার করবে গঙ্গা চুক্তি, পাবর্ত্য চুক্তি ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে সরকার ঠিক কাজ করেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করেছি, সেটিতেও জানিয়ে এটিও সমর্থন করে নির্বাচনে আসবে। সংঘাত-সংঘর্ষের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে সমঝোতার রাজনীতিতে আসতে হয় তবে আশা করব বিরোধী দল দেশপ্রেমিক
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ কৈফিয়ত দিতে গিয়ে বলেন, গত সপ্তাহে সংসদে তিস্তা নদীর চুক্তি সম্পর্কে কথা বলেছিলাম। সরকার থেকে বলা হয়েছিল এবারই চুক্তি হবে। কিন্তু তা হয়নি। যৌথ কমিশনের সভা হওয়ার কথা থাকলেও ভারত দুদিনের নোটিসে বাতিল করে দিল। হতাশা থেকেই বিষয়টি উত্থাপন করেছি। অথচ সরকারী দলের আমির হোসেন আমু দাঁড়িয়ে অনর্থক আমাকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করে বক্তব্য রাখলেন। পরবর্তী পররাষ্ট্রমন্ত্রীও বললেন, আমি নাকি অসত্য বক্তব্য দিয়েছি। আমি সঠিক ও সত্য কথা বলেছি, এটি আমি প্রমাণ করতে রাজি আছি।
তিনি বলেন, আমরা ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চাই, দাসত্বের সম্পর্ক চাই না। আমরা যেন সবকিছু দিয়ে না দিই। বর্তমান সরকারের আমলে তিস্তা চুক্তি হচ্ছে না এটি সবাই বলে। তিনি আন্তঃনদী সম্পর্কে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিস্তারিত ব্যাখ্যা দাবি করে বলেন, জাতীয় স্বার্থে আসুন একসঙ্গে কাজ করি। সরকার ভারতকে শুধু দিয়েই গেছে, কোনকিছুই আনতে পারেনি। সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণেই এ ঘটনা ঘটছে। টিপাইমুখ বাঁধ হচ্ছে কী না, সংসদীয় একটি টিম গঠন করুন সরেজমিনে দেখে আসতে চাই সত্যিকার অবস্থা কী। তিনি বলেন, আমার বই অনেকে পড়ছেন, খুশি লাগে। কিন্তু বইয়ের তিনটি লাইন পড়ে বাকিটা পড়বেন না, এটি সততার লক্ষণ নয়।
সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে মওদুদ আহমদ বলেন, গঙ্গা চুক্তির বিষয়ে আমাদের এখনও কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। তবে চুক্তি না হওয়ার চেয়ে চুক্তি হওয়া ভাল এ কথা বলেছি। এই চুক্তি নিয়ে কোন সময় ভারতের সঙ্গে মতবিরোধ দেখা দিলে তাহলে নিষ্পত্তি করার কোন গ্রাউন্ড নেই। প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ করি, আপনাকে খুশি করার জন্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত কথা বলেছেন, আপনি তাঁকে একটি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী করে দেন। আমির হোসেন আমুও আপনাকে খুশি করতে চেয়েছেন
বিএনপির সৈয়দা আশিফা আশরাফি পাপিয়া বলেন, সরকারী দলের সংসদ সদস্যরা আমাকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করে বক্তব্য দিয়েছেন। আমি নাকি হাওয়া ভবনের দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত এবং আমি নাকি রাত জাগা পাখি ও বিউটি কুইন। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, সংসদে যিনি এসব কুরুচিপূর্ণ উক্তি করলেন, তাঁর সঙ্গে আমি কী কখনও রাত জেগেছি? নাকি তিনি আমার বাসার পাহারাদার ছিলেন? আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলতে পারি হাওয়া ভবনের দুর্নীতির সঙ্গে আমি কোনভাবেই জড়িত নই।
|