মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
রবিবার, ২৬ অক্টোবর ২০১৪, ১১ কার্তিক ১৪২১
টেস্ট ক্রিকেটে জুবায়েরের কাক্সিক্ষত শুরু
বাংলদেশ-জিম্বাবুইয়ে সিরিজ
স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম পদার্পণ। মাত্র দুটি প্রথম শ্রেণীর ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা। নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফেরা বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ের দুইয়ে থাকা সাকিব আল হাসান ফিরেছেন দারুণ কিছু করার ক্ষুধা নিয়ে। আর আগেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে দুর্দান্ত অভিষেক হওয়ার পর তরুণ স্পিনার তাইজুল ইসলাম এবার দেশের মাটিতে সহজতর প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নেমেছেন। এত চ্যালেঞ্জের মধ্যে মর্যাদার টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক হলো জুবায়ের হোসেন লিখনের। দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে সর্বপ্রথম জেনুইন লেগস্পিনার হিসেবে ১৯ বছর বয়সী এক তরুণের জন্য ভাল কিছু করাটা বেশ কঠিনই। তবু ভবিষ্যতে ভাল করবেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পরিবেশে মানিয়ে উঠতে পারলে উজ্জ্বলতা ছড়াবেন সেই ছাপ দেখিয়ে ফেলেছেন মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে সফরকারী জিম্বাবুইয়ের বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টের প্রথম দিনেই। অভিষেকের দিন ভয়ঙ্কর সাকিবের ৫৯ রানে ৬ উইকেট শিকার দেখেছেন আর নিজে নিয়েছেন দুই উইকেট (৫৮/২)। সংবাদ সম্মেলনে সাকিবও প্রশংসা করলেন জুবায়েরের এবং জানালেন দলের সবাই তাঁর বোলিংয়ে সন্তুষ্ট। দলের সিনিয়র ক্রিকেটারের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা মূলক মন্তব্য পেয়েছেন, এবার এগিয়ে যাওয়ার পালা তাঁর।
ইনিংসের ৩০তম ওভারে টেস্ট ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো বোলিংয়ের সুযোগ পেলেন জুবায়ের। লেগস্পিনার হয়ে ওঠার পর যে স্বপ্নটা বুকে লালন করেছিলেন সেটা পূরণ হলো এর মাধ্যমে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আরেকজন লেগস্পিনারের যাত্রা শুরু হতে দেখল। বাংলাদেশের ৭৪তম টেস্ট ক্রিকেটার হিসেবে নামার পর যখন বোলিং করতে আসলেন তখন ক্রিজে দারুণ খেলতে থাকা ওপেনার সিকান্দার রাজা। আরেক প্রান্তে জিম্বাবুইয়ের অধিনায়ক ও অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান ব্রেন্ডন টেইলর। এ দুজন দলের তৃতীয় উইকেট পতনের পর জুটিটা শক্ত করে তুলছিলেন। তবে টেস্ট ক্যারিয়ারের অষ্টম অর্থাৎ দ্বিতীয় ওভারের দ্বিতীয় বলেই নিজের প্রথম শিকার করলেন জুবায়ের। জিম্বাবুইয়ের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান অধিনায়ক টেইলরকে (২৮) শিকার করলেন। আর ভেঙ্গে দিলেন ৫২ রানের জুটি। সবচেয়ে ভয়ঙ্কর জুটিতেই চিড় ধরালেন তিনি। টেইলরকে ফিরিয়ে দেয়ার পর বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি। ফিরিয়ে দিলেন এদিন জিম্বাবুইয়ে ইনিংসের একমাত্র হাফ সেঞ্চুরিয়ান ওপেনার সিকান্দারকে (৫১)। মাঝে তাঁকে অব্যাহতি দিলেও পানি পানের বিরতি শেষেই তাঁকে ফিরিয়ে এনেছিলেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম। আস্থা রেখেছেন জুবায়ের। এবার ৪৫ রানের জুটি ভেঙ্গে দিলেন সিকান্দার-এলটন চিগুম্বুরার। ফিরে গেলেন সিকান্দার। দারুণ দুটি উইকেট নিয়ে মিডলঅর্ডারের মেরুদ-ে আঘাত করেন তরুণ জুবায়ের। আর এরপরই জ্বলে ওঠেন সাকিব। তাঁর ভয়ঙ্কর বোলিং উপভোগ ছাড়া আর কিছুই করার সুযোগ ছিল না এ তরুণের।
জিম্বাবুইয়ের ইনিংস শেষে ১৫ ওভারে এক মেডেনসহ ৫৮ রান দিয়ে দুই উইকেট শিকার করলেন তিনি। আর জুবায়েরের অভিষেক ম্যাচেই বোলিং দেখে দারুণ তুষ্ট বাংলাদেশ শিবিরও। সাকিব এ বিষয়ে বলেন, ‘ওর মেধা আছে। ভালভাবেই শুরু করেছে। অভিষেক ম্যাচেই যেভাবে বোলিং করল তাতে সবাই সন্তুষ্ট। আমার মনে হয় এটা ধরে রাখতে পারলে সে আরও ভাল করতে সক্ষম হবে।’ অলক কাপালি ছিলেন অলরাউন্ডার। তবে যখন খেলেছেন তখন বাংলাদেশ দলের জন্য একমাত্র লেগস্পিনার হিসেবে ভাল সার্ভিস দিয়েছেন। এছাড়া অনিয়মিত লেগস্পিনার হিসেবে মাঝেমাঝে দলকে বাড়তি সুবিধা দিতেন মোহাম্মদ আশরাফুলও। তবে মূল পরিচয় লেগস্পিনার এমন একজনকে অবশেষে পেয়েছে বাংলাদেশ দল। সুযোগ পেলে দারুণ কিছু করে দলে জায়গা পাকাপোক্ত করার কথা বলেছিলেন। প্রথম ইনিংসে যতটুকু করেছেন তাতে তাঁর মেধার পরিচয় পাওয়া গেছে। এবার দ্বিতীয় ইনিংসের অপেক্ষা। সাকিবের কথা সত্য করে দ্বিতীয় ইনিংসে জিম্বাবুইয়েকে চাপে ফেলতে পারবেন ভয়ঙ্কর লেগস্পিন করে জুবায়ের? সময়ই বলে দেবে।
প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের লক্ষ্য নিদেনপক্ষে ৪০০
প্রত্যাশা সাকিব আল হাসানের
স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ জিম্বাবুইয়ের ইনিংস দেখেই বোঝা যাচ্ছে ম্যাচটি বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে। তবে এর জন্য প্রয়োজন এখন ব্যাটসম্যানদের দায়িত্ব নিয়ে খেলা। প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট তুলে নেয়া সাকিব আল হাসানই বাংলাদেশ ব্যাটসম্যানদের ছক কষে দিচ্ছেন। যে ছকে প্রথম ইনিংসে ৩৫০-৪০০ রানের হিসেবই আছে। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ এ রানই করতে চায়। তাহলেই যে প্রথম ইনিংসে জিম্বাবুইয়ের করা ২৪০ রানের চেয়ে অনেক এগিয়ে যাওয়া যাবে। প্রথম টেস্টে জেতার সম্ভাবনাও খুব ভালভাবেই থাকবে বাংলাদেশের।
ক্যারিয়ারে ১২ বার ৫ উইকেট বা তারবেশি উইকেট নিয়েছেন সাকিব। শনিবার প্রথম দিনেই ৫৯ রানে ৬ উইকেট তুলে নিয়েছেন। দিন শেষে ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এসে এখন ব্যাটসম্যানদেরই যা করার করতে হবে এমন ইঙ্গিতই দিলেন। জানালেন, ‘যদি ৪০০ রান করতে পারি তাহলে তো খুবই ভাল। পিচটা যে ব্যাটিং উইকেট তা না। আমার কাছে মনে হয় ৩৫০-৪০০ করার মতো সামর্থ্য আমাদের আছে। ৬০০ রান করারও সামর্থ্য আছে। তবে আমার মনে হয় ৩৫০-৪০০ করতে পারলে আমাদের দ্বিতীয় ইনিংসের জন্য ভাল হবে।’ সেই ভালটা জয়ের দিকেই ইঙ্গিত।
জিম্বাবুইয়ে তিনদিনের প্রস্তুতি ম্যাচে যেমন যবুথবু অবস্থায় ছিল। বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম টেস্টেও সেই একই রূপ তাদের। প্রথম ইনিংসে ২৪০ রানের বেশি করতে পারেনি। শুধু সিকান্দার রাজা অর্ধশতক করতে পেরেছেন। সিকান্দারের ৫১ রানই জিম্বাবুইয়ের ইনিংসের সবচেয়ে বড় স্কোর। যে ভুসিমুজি সিবান্দা, হ্যামিল্টন মাসাকাদজা, ব্রেন্ডন টেইলর, এলটন চিগুম্বুরা, ক্রেইগ এরভিনদের নিয়ে ভাবনার উদয় হয়েছে, কেউই সারা জাগানোর মতো খেলা উপস্থাপন করতে পারেননি। স্পিন ভীতি যে আগে থেকেই ছিল। সেই স্পিনেই প্রথম ইনিংসে মাত খেয়েছে জিম্বাবুইয়ে।
তবে বাংলাদেশও যে মাত খাবে না তা বলা মুশকিল। বল হঠাৎ হঠাৎ এতটা বাউন্স হচ্ছে যা অবাক করার মতোই। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে এমনটি কখনই হয়নি। তামিম ইকবালই যে আউট হলেন এমন হঠাৎ আসা বাউন্সারেই। পেসার তিনাশে পানিয়াঙ্গারা বারবারই চেষ্টা করেছেন বাউন্সার দিতে। কিন্তু দলীয় ১০ রানে গিয়ে হঠাৎ করে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি বাউন্স হয়ে গেল। আর তাতেই মারবেন না ছাড়বেন-এ দ্বিধা-দ্বন্দ্বে পড়ে তামিম (৫) আউট হয়ে গেলেন। আর স্পিন ঘূর্ণি তো শুরু থেকেই আছে। আজ দ্বিতীয় দিনে কী হয় কে জানে। তবে এমন উইকেটেও যে শামসুর রহমান শুভ ও মুমিনুল হক মিলে জিম্বাবুইয়ে বোলারদের শাসন করেছেন, তাতেই আশাবাদী হয়ে উঠেছেন সাকিব।
তাই বলেছেনও, ‘দেশের মাটিতে কখনই এত বাউন্স করে নাই। কিছু বল যেভাবে লাফ দিচ্ছে তা কখনই হয় নাই। ওদের পেস বোলাররা কিন্তু ভাল বল করছে। ৮-১০ ওভার যতটুকু বল করেছে ভাল করেছে। আমাদের ব্যাটসম্যানরাও ভাল করেছে। তামিমেরটা খুবই ভাল বল ছিল। যে দুইজন আছে তারা ভাল এ্যাপ্লাই করেছে। যেহেতু এ কন্ডিশনে খেলে আমরা অভ্যস্ত। আমাদের অভিজ্ঞতাও বেশি। আমরা স্পিন ভাল খেলি। স্পিন একটা ফ্যাক্টর হতে পারে। আমরা যদি ওদের চেয়ে ভাল এ্যাপ্লাই করতে পারি আমার মনে হয় ভাল একটা অবস্থানে যেতে পারব।’
দিন শেষে বাংলাদেশ কতটা ভাল করল, এর চাইতেও বেশি সাকিবকে নিয়েই মাতামাতি হচ্ছে। আন্তর্জাতিক পরিম-লে দেশের হয়ে সাকিবের দাপটই বেশি। এমন অলরাউন্ডার নিষিদ্ধ থাকার পর আবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরেই নিজের জাত চিনিয়ে দিলেন। মাতামাতি হওয়ারই কথা। তবে সাকিব এগুলো আমলে নিচ্ছেন না। তার লক্ষ্যের কথা জানতে চাইতেই বলেছেন, ‘তেমন কিছু না। টিমের জন্য কন্ট্রিবিউট করা। যেটা করতে পেরেছি তাতে খুশি।’ নিজেকে ভাগ্যবানও ভাবছেন সাকিব, ‘আমি লাকি মনে হয়। দিন শেষে পারফর্মেন্সটাই বড়। তাই করছি। যদি সাপোর্টারদের জন্য খেলতে পারি আমার কাছে মনে হয় এটাই হবে সবচেয়ে বড় পাওয়া।’
তবে বাংলাদেশ যে গেমপ্ল্যান করে খেলতে নেমেছে প্রথম দিনে সফল হয়েছে। এতে সন্তুষ্ট সবাই। সাকিব বললেন, ‘গেমপ্ল্যান ছিল বেসিক যেটা করে সেটা। যেহেতু অলআউট হয়ে গেছে ঠিক আছে। তবে আমাদের দ্রুত উইকেট নেয়ার একটা পরিকল্পনা ছিল। সবাই এ নিয়ে আলোচনাও করেছি। সেটা আমরা করতে পারছি। দ্রুতই ২টা উইকেট নিয়ে নিয়েছি।’
এখন টার্গেট উইকেট আঁকড়ে থাকা, যতক্ষণ সম্ভব ব্যাটিং করা। সাকিব তাই বুঝিয়ে দিলেন, ‘টিমে তিন-চারজন আক্রমণাত্মক বোলার থাকলে, উইকেট টেকার বোলার থাকলে সবার জন্য উপকার হয়। পুরো টিমের জন্যই ভাল। এখন টার্গেট ব্যাটিং করা যতক্ষণ সম্ভব।’ এখন যতক্ষণ বলতে কম করে হলেও ৩৫০ রান চাই। ৪০০ রান হলে তো ভালই।
সাকিবের রাজসিক প্রত্যাবর্তন
ফিরেই ৬ উইকেট, জিম্বাবুইয়ে ২৪০/১০, বাংলাদেশ ২৭/১
মোঃ মামুন রশীদ ॥ টেস্ট ক্রিকেটে বিশ্বের এক নম্বর অলরাউন্ডার। একই সঙ্গে বোলিং ও ব্যাটিংয়ে অন্যতম স্তম্ভ দলের। মাঠে তাঁর উপস্থিতিই অন্যরকম এক অনুপ্রেরণা সতীর্থদের জন্য। কিন্তু সেই সাকিব আল হাসানকে ছাড়াই এবার ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর করতে হয়েছে বাংলাদেশ দলকে। কোচ চান্দিকা হাতুরাসিংহের কথার অবাধ্য হওয়া এবং দর্শক গ্যালারিতে গিয়ে মারামারির ঘটনায় ৬ মাসের জন্য অপরিহার্য এই ক্রিকেটারকেই ৬ মাসের জন্য সব ধরনের ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ করেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। কিন্তু ক্যারিবীয় সফরে তাঁর অভাব হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে বাংলাদেশ শিবির। অবশেষে শাস্তি কমিয়ে আনার পর মাত্র আড়াই মাসেরও কম সময় মাঠের বাইরে থাকার পর ফেরেন অনুশীলনে। খেলেছেন এশিয়ান গেমসেও। টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বাধিক উইকেটশিকারী সাকিব। আর বাংলাদেশের চরম প্রতিপক্ষ জিম্বাবুইয়ের বিরুদ্ধে ফিরেই ভেল্কি দেখিয়েছেন বোলিংয়ে। নিয়েছেন মাত্র ৫৯ রানে ৬ উইকেট। ক্যারিয়ারে দ্বাদশ বারের মতো ৫ উইকেট বা তারচেয়ে বেশি শিকার করার গৌরব হলেও জিম্বাবুইয়ের বিরুদ্ধে এই প্রথম তিনি এ কৃতিত্ব দেখালেন। তাঁর ভয়াল ঘূর্ণি বলের কারণেই সফরকারী জিম্বাবুইয়ের প্রথম ইনিংস গুটিয়ে গেছে মাত্র ২৪০ রানে। বর্তমানে অলরাউন্ড র‌্যাঙ্কিংয়ে দুইয়ে থাকলেও দীর্ঘদিন শীর্ষ আসনে আসীন সাকিবের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তনটা হলো তাই রাজকীয় বেশেই।
এ বছর মাত্র চারটি টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ দল। এর মধ্যে গত জানুয়ারিতে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে দেশের মাটিতে দুই টেস্টে ৯ উইকেট নিয়ে সাকিবও চলতি বছরে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বাধিক উইকেট শিকারী। বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসেই সর্বাধিক ১২২ উইকেটের মালিক হিসেবে সাকিব জিম্বাবুইয়ের বিরুদ্ধে মাঠে ফিরলেন। গত জুলাইয়ে নিষিদ্ধ হওয়ার পর ১৬ সেপ্টেম্বর আবার অনুশীলন করার সুযোগ পেয়েছিলেন নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর। এ মাসে দক্ষিণ কোরিয়ার ইনচনে হওয়া এশিয়াড ক্রিকেটে অংশ নিয়ে ফিরেছিলেন। আর এখন ফিরলেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও। জিম্বাবুইয়ের বিরুদ্ধে আগে খেলা ৩ টেস্টে মাত্র ৮ উইকেট নিতে পেরেছিলেন। প্রতিপক্ষকে টেস্ট ক্রিকেটে অলআউট করতে যে বোলিং আক্রমণ প্রয়োজন তা অনেকটাই দুর্বলতর হয়ে পড়ে সাকিবের মতো স্পিন জাদুকরের অভাব থাকলে। সেটা এবার ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে বেশ ভালভাবেই পরিলক্ষিত হয়েছে। দুই টেস্টের সিরিজে প্রতিপক্ষকে অলআউট করা দূরে মাত্র ২১ উইকেট নিতে পেরেছেন বাংলাদেশের বোলাররা। ব্যাটিংয়ে মিডল অর্ডারের স্তম্ভ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, তাই সেক্ষেত্রেও সাকিবের অভাব দেখা গেছে। তবে আবার ফিরলেন তিনি। ক্যারিবীয় সফরে দুই টেস্ট খেলতে না পারার আক্ষেপটা ঝাড়তে শুরু করলেন জিম্বাবুইয়ের ব্যাটিং লাইনআপে। সাকিবের ঘূর্ণিতে আগুন। সেটা ভালভাবেই টের পেল জিম্বাবুইয়ের ব্যাটসম্যানরা। ইনিংসের অষ্টম ওভারেই দলের অন্যতম ভরসা সাকিবের হাতে বল তুলে দিলেন অধিনায়ক মুশফিক। মেডেন দিয়ে শুরু। টানা দুটি মেডেন দেয়ার পর ব্যক্তিগত তৃতীয় আর ইনিংসের দ্বাদশ ওভারেই আঘাত হানলেন তিনি। ক্রমেই উইকেটে থিতু হতে থাকা ওয়ানডাউন ব্যাটসম্যান হ্যামিল্টন মাসাকাদজাকে সাজঘরে ফিরিয়ে দিয়ে শুরু করলেন ধ্বংসের কাজটা। তাঁকে আর রুখতে পারেনি জিম্বাবুইয়ের ব্যাটসম্যানরা। একের পর আরও পাঁচ ব্যাটসম্যান আত্মসমর্পণ করেছেন তাঁর বোলিংয়ের সামনে, একের পর এক উইকেট নিয়েছেন তিনি। তাঁর স্পিনে বিভ্রান্ত হয়ে ফিরে গেছেন এলটন চিগুম্বুরা, রেগিস চাকাবভা, জন নিয়ুম্বু, তিনাশে পানিয়াঙ্গারা ও তাফাদজাওয়া কামুনগোজি। ৬ উইকেটে ২০০ রান থেকে জিম্বাবুইয়ের ইনিংস আর মাত্র ৪০ রানে গুটিয়ে গেছে সাকিবের ভয়াল ঘূর্ণির একক দাপটে। মাত্র ৫৯ রানেই ৬ উইকেট নিয়ে রাজার বেশেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরলেন তিনি। এখন পর্যন্ত এ বছর এনিয়ে ৪ ইনিংস বোলিং করে ১৫ উইকেট শিকার করে বাংলাদেশী বোলারদের মধ্যে তিনিই সবার ওপর। আর সবমিলিয়ে ক্যারিয়ারে ১২৮ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসেও তিনিই সবার শীর্ষে। তবে জিম্বাবুইয়ের বিরুদ্ধে এর আগে কখনও ৫ উইকেট পাননি। এবারই প্রথম বাংলাদেশের চিরশত্রুর বিরুদ্ধে ইনিংসে ৫ উইকেট নিলেন তিনি। এনিয়ে ক্যারিয়ারে চতুর্থবারের মতো ইনিংসে ৬ উইকেট বা তারচেয়ে বেশি শিকার করার গৌরবও দেখালেন। তবে ক্যারিয়ারে এক ইনিংসে ৫ উইকেট বা তারচেয়ে বেশি উইকেট শিকারের ঘটনা তিনি এনিয়ে ঘটালেন দ্বাদশবারের মতো। একমাত্র অস্ট্রেলিয়া ব্যতীত সব টেস্ট খেলুড়ে দেশের বিরুদ্ধেই এমন কৃতিত্ব দেখানো শেষ। অসিদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত টেস্ট ম্যাচই খেলেননি তিনি। তবে দিনশেষে জানালেন প্রত্যয়, ‘ওদের বিরুদ্ধে যেহতু খেলিনি তাই বলা যাচ্ছে না কি ঘটবে। তবে যখন খেলব অবশ্যই ভাল করার প্রচেষ্টা থাকবে। খেলে যদি পাঁচ উইকেট নিতে পারি সেটা আমার জন্য এবং দলের জন্যও ভাল হবে।’
গান্ধী পরিবারের বাইরের কেউ একদিন কংগ্রেস সভাপতি হবেন ॥ চিদম্বরম
ভারতে গান্ধী পরিবারের বাইরের কেউ একদিন কংগ্রেস সভাপতি হবেন বলে মন্তব্য করলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরম। তিনি এও বললেন, নতুন প্রজন্মের মধ্যে রাহুল গান্ধীর গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে ঠিকই, তবে তার মানে এই নয় যে, ভবিষ্যতে আর কোন নেতার উত্থান ঘটবে না। একটি টিভি চ্যানেলে দেয়া সাক্ষাতকারে এমন একাধিক বিস্ফোরক মন্তব্য করে দলের ভেতরে-বাইরে যথেষ্ট বিতর্ক উস্কে দিলেন বর্ষীয়ান দক্ষিণী নেতা।
-আনন্দবাজার পত্রিকা।
কংগ্রেস সভানেত্রী পদে সোনিয়া গান্ধীর মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী বছর। তার আগে দলের সাংগঠনিক নির্বাচনের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন সভাপতি নির্বাচিত হবেন আগামী জুলাইয়ে। এমনই এক সন্ধিক্ষণে চিদম্বরম বললেন যে, দলের মনোবল তলানিতে। তাই কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্ব নিশ্চয়ই সক্রিয় হওয়ার জন্য কোন ‘টাইম টেবিল’ ঠিক করে রেখেছেন। কিন্তু সেই টাইম টেবিলটাই একটু সংক্ষিপ্ত হওয়া দরকার। নইলে দলকে ঘুরে দাঁড় করানো যাবে না। তিনি বলেছেন, ‘সভাপতি ও সহ-সভাপতির কাছে আমার আর্জি, আরও বেশি কথা বলুন। মানুষের সঙ্গে যোগস্থাপন, সভা সমাবেশ করুন। কথা বলুন সংবাদমাধ্যমের সঙ্গেও।’ প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী অবশ্য এও বলেছেন, তাঁদের প্রজন্মে সোনিয়াই সব থেকে গ্রহণযোগ্য নেত্রী। কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণভাবে, নতুন প্রজন্মের কথা বলতে গিয়ে প্রিয়ঙ্কা গান্ধী প্রসঙ্গ যেমন তিনি এড়িয়ে গিয়েছেন, তেমনই রাহুলের সম্ভাবনার দিকটিতেও তেমন কোন গুরুত্ব দেননি।
চিদম্বরমকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, গান্ধী পরিবারের নন, এমন কেউ কি কংগ্রেস সভাপতি হতে পারেন? চিদম্বরম বলেন, ‘আমি তা-ই মনে করি। একদিন না একদিন হতেই পারেন।’ কবে? চিদম্বরম বলেন, ‘কবে তা বলতে পারব না।’ আপাতদৃষ্টিতে চিদম্বরম অযৌক্তিক কিছু বলেননি। কংগ্রেস সংবিধানেও কোথাও লেখা নেই যে নেহের-গান্ধী পরিবার থেকেই সর্বদা কংগ্রেস সভাপতি মনোনীত হবেন। কিন্তু রাজধানীতে সম্প্রতি এই ধারণা জোরালো হচ্ছিল যে, আগামী বছর সভানেত্রী পদে মেয়াদ শেষ হলে সোনিয়া আর পুনর্নির্বাচিত বা মনোনীত হতে চাইবেন না।
ভারসাম্য নষ্ট করছে যুক্তরাষ্ট্র
অভিযোগ পুতিনের ॥ সাবেক মিত্র ইয়ানুকোভচকে সহায়তা করার কথা প্রথমবারের মতো স্বীকার
যুক্তরাষ্ট্র বৈশ্বিক ভারসাম্য নষ্ট করছে বলে রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন অভিযোগ করেছেন। শুক্রবার কৃষ্ণ সাগরের তীরবর্তী অবকাশ শহর সোচিতে বক্তৃতার সময় তিনি এই অভিযোগ করেন। শীতল যুদ্ধ যুগ পরবর্তীকালে রাশিয়া ও পশ্চিমের মধ্যে এখন যে সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে এর জন্য যুক্তরাষ্ট্র দায়ী বলে পুতিন দৃঢ়কণ্ঠে দাবি করেন। খবর বিবিসি ও ওয়াশিংটন পোস্ট অনলাইনের।
পুতিন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নিজের স্বার্থে ‘পুরো বিশ্বকে বদলে দেয়ার’ চেষ্টা করছে। রাশিয়ার নেতৃত্বে থাকা ১৫ বছরের মধ্যে এবারই পুতিন যুক্তরাষ্ট্রকে উদ্দেশ করে সবচেয়ে কঠিন ভাষা প্রয়োগ করলেন। ইউক্রেনে সঙ্কট তৈরির পর সাত মাস পার হয়েছে। এ সংঘাতে অন্তত ৩ হাজার ৭শ’ ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছে। পরিস্থিতি রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রকে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সহসা সঙ্কট কাটবে বলে পুতিন মনে করেন না। তার মতে, ইউক্রেন ইস্যুকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র আরোপিত নিষেধাজ্ঞাগুলোর একমাত্র উদ্দেশ্য রাশিয়াকে বশ্যতা স্বীকার করানো। পুতিন স্বীকার করেন যে, তিনি ইউক্রেনের সাবেক প্রেসিডেন্ট ভিক্টর ইয়ানুকোভিচ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তাকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন। ইয়ানুকোভিচ গণআন্দোলনের মুখে এ বছর ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতাচ্যুত হন। রাশিয়ার চাপের মুখে ইয়ানুকোভিচ গত বছর নবেম্বরে ইইউয়ের সঙ্গে গ্যাস চুক্তি সই করা থেকে সরে এসেছিলেন। এরপর শুরু হয় ইউক্রেনের রাজনৈতিক সংঘাত। ইয়ানুকোভিচের বিদায়ের পর ক্ষমতায় আসেন পশ্চিমাপন্থী পেত্রো পোরোশেঙ্কো। প্রায় তিন ঘণ্টার এই বক্তৃতায় পুতিন পশ্চিমা দেশগুলোকে কোন ধরনের ছাড় না দেয়ার কথা প্রত্যয়ের সঙ্গে ঘোষণা করেন। মধ্যপ্রাচ্য সঙ্কট ও সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠ পোষকতার জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেন। পুতিন বলেন, ‘আমি বুঝি না আমাদের সহযোগীরা (যুক্তরাষ্ট্র) কিভাবে বারংবার একই ভুলের পুনরাবৃত্তি করে চলেছে।’ সিরিয়া, লিবিয়া, ইরাক ও আফগানিস্তানে জঙ্গী উত্থানের জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ভুল নীতিকে দায়ী করেন। পুরো বক্তৃতাটি রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যমে প্রচারিত হয়। সাবেক মিত্র ইয়ানুকোভচকে প্রত্যক্ষভাবে সহায়তা করার কথা এই প্রথম স্বীকার করলেন পুতিন। তার মতে, ইয়ানুকোভিচকে জোর করে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, রাশিয়া আন্তর্জাতিক লঙ্ঘন করেনি বা ইউক্রেনের সার্বভৌমত্বকেও অসম্মান করেনি। তিনি ক্রিমিয়া উপদ্বীপকে রাশিয়ার সঙ্গে সংযুক্তিকরণের ঘটনাটি আইনসম্মতভাবে হয়েছে বলে দাবি করেন। পুতিন জোর দিয়ে বলেন যে, বৈশ্বিক ইস্যুতে পদক্ষেপ গ্রহণের ক্ষেত্রে কারও কাছ থেকে অনুমতি নেয়ার বাধ্যবাধকতা রাশিয়ার নেই। তিনি এমন একটি ফোরামের বার্ষিক সমাবেশে বক্তৃতাটি দিয়েছেন যেটি মূলত পশ্চিমের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্কোন্নয়নের জন্য গঠিত হয়েছে।
পশ্চিমা ও রুশ বিশেষজ্ঞদের সংগঠন ভালদাই ক্লাবের এবারের সম্মেলনটি এবার সোচি শহরে অনুষ্ঠিত হলো। সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে এমন সাংবাদিক, বিশ্লেষক ও কর্মকর্তাদের অনেকে ছিলেন, যারা রুশ সরকারের সমালোচক হিসেবে পরিচিত। এর আগে সংগঠনটির বার্ষিক সম্মেলনে পুতিন মূলত পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতি রাশিয়ার শুভেচ্ছা বার্তা তুলে ধরতেন। গত বছর তিনি এ সম্মেলনে বিরোধী পার্লামেন্ট সদস্যদের কিছু প্রশ্নের উত্তর এবং রাজনৈতিক ছাড়ের প্রস্তাব দেন। এছাড়া তিনি সেখানে কৌতুকও বিনিময় করতেন। কিন্তু এবারের প্রেক্ষাপট ছিল একেবারেই ভিন্ন। পুরো বক্তৃতায় তাকে একবারের জন্যও হাসতে দেখা যায়নি।
এ কে খন্দকার বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে কলকাতা গিয়েছিলেন, মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেননি ॥ শফিউল্লাহ
বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার ॥ মুক্তিযুদ্ধের উপ-প্রধান সেনাপতি এ কে খন্দকারকে এখন আর মুক্তিযোদ্ধা বলা যাবে না। ‘১৯৭১ : ভেতরে বাইরে’ বইতে মিথ্যা তথ্য লিখে তিনি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করেছেন। যিনি মুক্তিযুদ্ধের বিকৃত ইতিহাস রচনা করতে পারেন তিনি আর মুক্তিযোদ্ধা থাকতে পারেন না। শনিবার বেলা সাড়ে এগারোটায় জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে ঢাকা বিভাগের সেক্টরস কমান্ডারস ফোরামের এক আলোচনা সভায় এ মন্তব্য করেন সেক্টরস কমান্ডারস ফোরামের সভাপতি কে এম শফিউল্লাহ বীর উত্তম। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি প্রতিরোধ ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার দাবিতে ওই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
কে এম শফিউল্লাহ আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর ভাষণে জয় পাকিস্তান বলেছেন এটা কখনও শুনিনি। উনি (এ কে খন্দকার) কিভাবে জানলেন?, আমার জীবদ্দশায় কখনও জয় পাকিস্তান শুনিনি। বইটিতে সব মনগড়া তথ্য ও মিথ্যা ইতিহাস লেখা হয়েছে। এরপর বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণার প্রমাণ হিসেবে তিনি বিভিন্ন বই ও দলিলপত্র থেকে উদ্ধৃতি এবং তথ্য তুলে ধরেন।
তিনি আরও বলেন, এ কে খন্দকার বলেছেন স্বাধীনতা যুদ্ধের নাকি কোন রাজনৈতিক প্রস্তুতি ছিল না। কিন্তু পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের তদানীন্তন জনসংযোগ কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার সিদ্দিক সালিক তাঁর ‘উইটনেস টু সারেন্ডার’ বইয়ের ৭৫ পৃষ্ঠায় বলেছেন ২৫ মার্চের রাতে ফার্মগেটে পাকিস্তানী বাহিনী বাধার সম্মুখীন হয়। এ কে খন্দকার স্বাধীনতা যুদ্ধে যাননি। তিনি বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে কলকাতায় গিয়েছিলেন। আমরা যুদ্ধে গেছি মার্চে। আর উনি গেলেন মে মাসে। গিয়ে সোজা উঠলেন হেডকোয়ার্টারে। বাকি সময় তিনি সেখানেই ছিলেন। এ কে খন্দকার কোথায় যুদ্ধ করেছেন প্রশ্ন রাখেন তিনি। এসব করার পর আবার প্রকৃত ইতিহাস বিকৃতি করে বই লিখেছেন। এখন তাঁকে আর মুক্তিযোদ্ধা বলা যাবে না।
ফোরামের ভাইস চেয়ারম্যান আবু ওসমান চৌধুরী বলেন, যারা ইতিহাস বিকৃতি করে, তাদের প্রতিরোধ করতে তরুণ প্রজন্মকে সঠিক ইতিহাস শেখাতে হবে এবং এর বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
ফোরামের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হারুন হাবীব বলেন, ষড়যন্ত্রকারীরা স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেই চলেছে, আর আওয়ামী লীগ আত্মতুষ্টিতে ভুগছে। বর্তমান অবস্থায় কারও আত্মতুষ্টিতে ভোগার সুযোগ নেই।
ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, যারা ইতিহাস বিকৃত করে তারা ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হয়। ইতিহাস শব্দটির সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু ও সত্য তথ্য উপস্থাপনের বিষয়টি জড়িত। আর যে ইতিহাস মিথ্যা তথ্যকে ভিত্তি করে রচিত হয় তা ইতিহাস নয়, উপহাস। তরুণ প্রজন্মকে সঠিক ও সত্য ইতিহাস জেনে সব ইতিহাস বিকৃতকারী ও ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে।
মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ পাটোয়ারীর সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন সেক্টর কমান্ডার সি আর দত্ত, জিয়াউদ্দিন আহমেদ, ছাত্রলীগ নেতা নূর কুতুব উল আলম প্রমুখ।
এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য বাংলাদেশ
অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের (এআইআইবি) প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হলো বাংলাদেশ। গত শুক্রবার চীনের তৈরি অবকাঠামো উন্নয়ন ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে সমঝোতা স্মারকে সই করেছেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান। চীনের রাজধানী বেজিং এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
বাংলাদেশসহ আরও ২১টি দেশ নতুন এ ব্যাংকের সদস্য হতে সমঝোতা স্বাক্ষর করেছে। দেশগুলো হচ্ছে শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, নেপাল, ভারত, ব্রুনাই, কম্বোডিয়া, মালয়েশিয়া, কাজাখাস্তান, কুয়েত, মঙ্গোলিয়া, মিয়ানমার, লাওস, নেপাল, ওমান, ফিলিপিন্স, কাতার, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, উজবেকিস্তান ও ভিয়েতনাম। অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের কারণে চীনের তৈরি এ ব্যাংকে যোগ দেয়নি দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও জাপান।
এর আগে ব্যাংকটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হতে বাংলাদেশকে অনুরোধ জানায় চীন। এতে বলা হয় যেসব দেশ শুরুতেই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করবে তারা সবাই এ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যের মর্যাদা লাভ করবে। পরে যারা যোগদান করবে, তারা শুধু সদস্য হিসেবে গণ্য হবে। এ প্রেক্ষিতে সেপ্টেম্বর মাসে সরকারের উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে চীনের এআইআই ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হওয়া এবং সমঝোতা স্মারকে সই করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।
বাংলাদেশের চীনের এ ব্যাংকে যোগ দেয়ার বিষয়ে ঢাকায় নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন এর আগে বলেছিলেন, বিশ্বব্যাংকের আইডা এখনও সবচেয়ে সহজ শর্তে ঋণ দেয়। কিন্তু চীনের ব্যাংকের সুদের হার কি হবে, গ্রেস পিরিয়ড কি হবে এবং তাদের ঋণ পেতে কি ধরনের শর্ত থাকবে সেসব বিষয় এখনও জানা যায়নি। তবে বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবকাঠামো খাতে এত বেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন যেটি আমাদের একার পক্ষে মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমানে বিশ্বব্যাংকের আইডা থেকে বছরে ৫২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মতো ঋণ দেয়া হয়, যা ১৮০টি দেশের মধ্যে ভাগ হয়ে যায়। কিন্তু বিশ্বব্যাংকের হিসাব মতেই বাংলাদেশের শুধুমাত্র অবকাঠামো খাতে (বিদ্যুত, পরিবহন, টেলিকমিউনিকেশন, স্যানিটেশন ইত্যাদি) বিনিয়োগ প্রয়োজন বছরে ৭ থেকে ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ অন্যান্য খাতগুলো বাদ দিয়ে। এ ক্ষেত্রে শুধু বিশ্বব্যাংক, এডিবি ও আইডিবিই নয় এর বাইরে আরও একটি অপশন যোগ হচ্ছে।
সূত্র জানায়, ব্যাংকটির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে সদস্য দেশগুলোকে অবকাঠামো খাতে ঋণ দেয়া। এর অনুমোদিত মূলধন ধরা হয়েছে ৫০ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ২০ শতাংশ আসবে সদস্য দেশগুলো থেকে। আগামী বছরই ব্যাংকটির কার্যক্রম শুরু হবে। নতুন ব্যাংক গঠনের উদ্যোগ প্রসঙ্গে চীন সরকার বলছে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর অবকাঠামো উন্নয়নে এআইআইবি প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে আঞ্চলিক যোগাযোগ, সংযোগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে। এই ব্যাংক থেকে মূলত অবকাঠামো খাতেই ঋণ দেয়া হবে বলে জানিয়েছে দেশটি। এর মধ্যে থাকবে বিদ্যুত ও জ্বালানি, পরিবহন, টেলিকমিউনিকেশন্স। এছাড়া গ্রামীণ অবকাঠামো, কৃষি উন্নয়ন, নগর উন্নয়নেও চীনের ব্যাংকটি ঋণ দেবে। এআইআইবির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হতে পারবে দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো। এর বাইরের অন্য কোন দেশ তা হতে পারবে না। এআইআইবি কাঠামো তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। প্রথমে থাকবে বোর্ড অব গবর্নস। এর পর থাকবে বোর্ড অব ডিরেক্টরস। তৃতীয় ধাপে থাকবে ম্যানেজমেন্ট বা ব্যবস্থাপনা। বোর্ড অব ডিরেক্টরসে যাঁরা সদস্য থাকবেন তাঁরা হবেন অনাবাসিক। এই কমিটি বছরে চারবার বৈঠকে বসবে। এই কমিটির কাজ হবে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনার কর্মকা- মনিটরিং এবং কৌশলগত নির্দেশনা দেয়া। ব্যাংকটির প্রেসিডেন্ট বোর্ড অব ডিরেক্টরসের চেয়ারম্যান হতে পারবেন। পাশাপাশি ঋণ ও বিনিয়োগ কমিটির চেয়ারম্যান হবেন প্রেসিডেন্ট।
ঋণ ও শুল্ক নীতিমালা চায় বারভিডা
অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ গাড়ি আমদানিতে দীর্ঘমেয়াদী নীতিমালা চায় বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইম্পোর্টার্স এ্যান্ড ডিলার্স এ্যাসোসিয়েশন (বারভিডা)। গাড়ি ব্যবসায় গতি ধরে রাখার জন্য ঋণ ও শুল্ক নীতিমালা থাকা প্রয়োজন উল্লেখ করে এজন্য কমপক্ষে তিন বছরের নীতিমালা করার দাবি জানান প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি মোঃ হাবিব উল্লাহ ডন। বারভিডার ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার রাজধানীর হোটেল লাভিঞ্চিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেন বারভিডার মহাসচিব মাহবুবুল হক চৌধুরী বাবু। এ সময় সংগঠনের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে বারভিডার সভাপতি বলেন, দেশে সড়ক দুর্ঘটনা এড়াতে চালকদের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। বাজারে কেবল গাড়ি বিক্রিতে সীমাবদ্ধ থাকবেন না। দুর্ঘটনা এড়াতে গাড়ি চালকদের প্রশিক্ষণ দিতে ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে বারভিডা। এ ছাড়াও বারভিডা ফাউন্ডেশন করা হবে। তিনি জানান, বারভিডা মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য গাড়ি আমদানি করছে। আমদানি করা গাড়ির ৯৮ শতাংশ জাপানী। এগুলো খুবই মজবুত ও অনায়াসে ২০ বছর চালাতে পারে। তবে দেশে বেসরকারী খাতে ভাল গণপরিবহনের ব্যবস্থা নেই। এজন্য তিনি আগামীতে কমার্শিয়াল গাড়ি আমদানিতে সুযোগ দেয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে আমরা রিকন্ডিশন মোটর গাড়ি আমদানি, বিপণন ও সরবরাহের মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব খাতে ১ হাজার ৮৮৫ কোটি টাকা দিয়েছি। এক্ষেত্রে মোটর গাড়ি আমদানির পরিমাণ ছিল ১৪ হাজার ৮১৩ ইউনিট। এদিকে ২০০৯-১০ অর্থবছরে গাড়ি আমদানির ক্ষেত্রে রাজস্ব দিয়েছিলাম প্রায় ৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা। কিন্তু ২০১১-১২ ও ২০১২-১৩ অর্থবছরে রাজনৈতিক স্থিতিশীল পরিবেশ না থাকায় এবং ব্যাংকের সুদের হার অধিকমাত্রায় চলে যাওয়া ও গাড়ির আমদানি কমে যাওয়ায় রাজস্বের হার অনেকটাই কমে গেছে। এ অবস্থায় বর্তমান অর্থবছরে সরকার রিকন্ডিশন গাড়ি আমদানি ও সাম্প্রতিক কার লোনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক ৫০ শতাংশ ও ৫০ শতাংশ হারে লোনের যে সার্কুলার দিয়েছে তাতে ব্যবসায়ীরা যেমন কিছু সুবিধা পেয়েছে, ঠিক তেমনিভাবে কিছুটা হারিয়েছে। হাবিবউল্লাহ ডন বলেন, সাম্প্রতিক রিকন্ডশন গাড়ি ব্যবসার ক্ষেত্রে যেভাবে লোকসানের পাল্লা মাথায় নিয়ে ঘুরে বেড়াতে হয়েছিল তা গত ৪ থেকে ৫ মাসে কিছুটা হলেও কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছি। এ অবস্থায় দেশের অর্থনীতি ও বেকার সমস্যা দূরীকরণের লক্ষ্যে সকল ধরনের ব্যবসায় সরকার ও সংশ্লিষ্টদের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনা।
এদিকে সাংবাদিক সম্মেলনে সংগঠনটির মহাসচিব মাহবুবুল হক চৌধুরী বাবর লিখিত বক্তব্যে বলেন, বারভিডা গঠন ২০ বছর পূর্ণ হলেও এ সেক্টরের যাত্রা শুরু হয়েছিল ৩৭ বছর পূর্বে। তবে বর্তমান উন্নয়ন অভিযাত্রায় নিবেদিত রিকন্ডিশন মোটর গাড়ি ক্রমাগতভাবে অগ্রসর বাংলাদেশের সমর্থক হয়ে উঠেছে। নতুন নতুন সড়ক-মহাসড়ক, ফ্লাইওভার নির্মাণের মধ্য দিয়ে অবকাঠামো খাতে নতুন মাত্রা যুক্ত হচ্ছে। এর মধ্যে পদ্মা সেতুর বাস্তবায়ন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এক্সপ্রেস ওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা, সারাদেশের মহাসড়কগুলো ৬ ও ৪ লেনে করার প্রক্রিয়া সরকারের সদিচ্ছা সমৃদ্ধ বাংলাদেশ নির্মাণকে অনুপ্রাণিত করবে বলে আমাদের আশা। তিনি বলেন, ৩ হাজার ৫৩৮ কিলোমিটার মহাসড়ক আর ৮ হাজার ২৭৮ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়কে বর্তমানে ২১ লাখ ৫ হাজার ১৪০টি মোটর গাড়ি চলাচল করছে। এতে রিকন্ডিশন মোটর গাড়ির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৭২ হাজার।
ঢাকা মহানগরীতে বারভিডার গাড়ি চলছে সাকুল্যে আড়াই লাখ। সেখানে সব শ্রেণীর গাড়ি চলাচল করছে। তিনি আরও বলেন, আগামী ১ নবেম্বর বারভিডার ২০ বছর পূর্তি উৎযাপন করা হবে। ওইদিন সকাল ১০টায় হাতিরঝিলে এ যাবত আমদানি করা বিভিন্ন মডেলের রিকন্ডিশন্ড মোটর গাড়ির র‌্যালি অনুষ্ঠিত হবে। র‌্যালি উদ্বোধন করবেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এ ছাড়া ওইদিন সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আলোচনা সভা, সঙ্গীতানুষ্ঠান ও নৈশভোজের আয়োজন করা হয়েছে। সভায় প্রধান অতিথি থাকবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এবং সঙ্গীতানুষ্ঠানে আসছেন ভারতের খ্যাতনামা শিল্পী মিতালী মুখার্জি।
সপ্তাহের ব্যবধানে পুঁজিবাজারে সূচক ও লেনদেন কমেছে
অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ সপ্তাহের ব্যবধানে পুঁজিবাজারে গড় লেনদেন ও সূচক উভয়ই কমেছে। দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) লেনদেন কমেছে ৩১ শতাংশ এবং চিটাগাং স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) ২২ শতাংশ। আলোচিত সপ্তাহে ডিএসইতে ব্রড ইনডেক্স বা ডিএসইএক্স সূচক কমেছে ১৩১ পয়েন্টের উপরে। অপর বাজার সিএসইতে প্রধান মূল্যসূচক কমেছে ২ শতাংশের উপরে। জানা গেছে, গত সপ্তাহে ডিএসইতে টাকার অংকে লেনদেন কমেছে প্রায় এক হাজার ৫৩৬ কোটি ৭৩ লাখ ৩৫ হাজার ৮৯৬ টাকা এবং সিএসইতে ৬৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা।
ডিএসইর প্রধান সূচক সপ্তাহের শুরুতে অবস্থান ছিল ৫ হাজার ২৮৫ পয়েন্ট। সমাপ্ত সপ্তাহে তা কমে দাঁড়ায় ৫ হাজার ১৫৪ পয়েন্টে। সপ্তাহের ব্যবধানে ২ দশমিক ৪৯ শতাংশ বা ১৩১ দশমিক ৭৩ পয়েন্ট কমেছে। ডিএসই-৩০ সূচক কমেছে ২ দশমিক ৭১ শতাংশ বা ৫৪ দশমিক ১২ পয়েন্ট। সপ্তাহের শুরুতে এই সূচক ছিল এক হাজার ৯৯৭ পয়েন্টে। সপ্তাহ শেষে তা কমে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৯৪৩ পয়েন্টে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ডিএসইএস সূচক সপ্তাহের শুরুতে এক হাজার ২৪২ পয়েন্ট নিয়ে যাত্রা শুরু করে। সপ্তাহের শেষে তা কমে এসে দাঁড়ায় এক হাজার ২১৬ পয়েন্টে। অর্থাৎ সপ্তাহ শেষে এই সূচক ২ দশমিক ১১ শতাংশ বা ২৬ দশমিক ২২ পয়েন্ট কমেছে। আগের সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৪ হাজার ৮১০ কোটি ২৮ লাখ ৫৫ হাজার টাকার শেয়ার। আর সমাপ্ত সপ্তাহে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ২৭৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকার শেয়ার। এ হিসাবে গত সপ্তাহে ডিএসইতে টাকার অংকে লেনদেন কমেছে প্রায় এক হাজার ৫৩৬ কোটি ৭৩ লাখ ৩৫ হাজার ৮৯৬ টাকা বা ৩১ দশমিক ৯৫ শতাংশ। গত সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে ২ দশমিক ৩৮ শতাংশ বা ৮ হাজার ২৭০ কোটি ২ লাখ ২৪ হাজার ৬৮৫ টাকা।
গত সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে বাজার মূলধন ছিল ৩ লাখ ৪৬ হাজার ৭৬২ কোটি ৮৫ লাখ ৬ হাজার ৫৩৪ টাকা এবং শেষ কার্যদিবস বাজার মূলধন ছিল ৩ লাখ ৩৮ হাজার ৪৯২ কোটি ৮২ লাখ ৮১ হাজার ৮৪৯ টাকা। এই লেনদেনের মধ্যে ‘এ’ ক্যাটাগরির কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৮২ দশমিক ৩৮ শতাংশ; ‘বি’ ক্যাটাগরির ১ দশমিক ৯২ শতাংশ; ‘এন’ ক্যাটাগরির ১২ দশমিক ৩৫ শতাংশ এবং ‘জেড’ ক্যাটাগরির লেনদেন হয়েছে ২ দশমিক ৯৪ শতাংশ।
গত সপ্তাহে ডিএসইতে মোট ৩১৫টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৫৫টির, কমেছে ২৫১টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৫টির। আর লেনদেন হয়নি ৪টি কোম্পানির। আর সিএসইতে টাকার পরিমাণে লেনদেন কমেছে ৬৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা বা ২২ দশমিক ৬৯ শতাংশ। লেনদেনের সঙ্গে কমেছে সব ধরনের সূচক। এদিকে গত সপ্তাহে সিএসইর প্রধান সূচক কমেছে ২ দশমিক ৪১ শতাংশ বা ৩৯৩ পয়েন্ট। এদিকে সিএসসিএক্স সূচক কমছে ২ দশমিক ৩৬ শতাংশ। আর সিএসই-৩০ সূচক কমেছে ২ দশমিক ৩০ শতাংশ।
গত সপ্তাহে সিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ২৫৫টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৪২টির, কমেছে ২০৮টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৫টির।
পদ্মা সেতু নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্তই সঠিক ॥ অর্থমন্ত্রী
স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট অফিস ॥ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, পদ্মা সেতু নিয়ে বিশ্বব্যাংকের বর্তমান অবস্থান প্রমাণ করে বাংলাদেশ সরকারের সিদ্ধান্তই সঠিক ছিল। বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন করতে চেয়েছিল। তারা বলেছিল নতুন করে সম্ভাব্যতা যাচাই করতে হবে। সেটা আমরা মানিনি, তাদের বিদায় করে দেয়া হয়। এখন কাজ হচ্ছে শুনে তারা বলছে এটি জলদি হলে ভাল। অর্থমন্ত্রী শনিবার সকালে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সম্প্রসারণ কাজ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, হরতালে দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, কিন্তু এখন হরতাল হয় না। শুধু সহিংসতা এড়াতে কিছু মানুষ ঘর থেকে বের হয় না। দেশে বিনিয়োগ বাড়ছে না বলে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মন্তব্যের ব্যাপারে আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, খালেদা জিয়া এ ব্যাপারে জানার বা খোঁজ-খবর নেয়ার প্রয়োজন রাখেন না। তার বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই। মন্ত্রীর সঙ্গে এ সময় সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ উপস্থিত ছিলেন।
পিকেএসএফের বর্ষব্যাপী রজতজয়ন্তীর দ্বিতীয় পর্ব শুরু আজ
সাত দিনব্যাপী উন্নয়ন মেলা ও সেমিনার
অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ পল্লী-কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) রজতজয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠানমালার দ্বিতীয় পর্ব শুরু হচ্ছে আজ রবিবার। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজন করা হয়েছে সাত দিনব্যাপী উন্নয়ন মেলা ও সেমিনারের। দারিদ্র্য বিমোচন ও উন্নয়নের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রতিদিন দুটি করে মোট ১৩টি সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীবর্গ, সংসদ সদস্য, সচিববৃন্দ, প্রথিতযশা অর্থনীতিবিদ, সমাজকর্মী, গবেষক, শিক্ষাবিদ ও সুশীল সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তি এ সব সেমিনারে অংশগ্রহণ করবেন। পাশাপাশি ভারত, ভিয়েতনাম, উজবেকিস্তান ও আমেরিকা হতে আমন্ত্রিত উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ ও আলোচকবৃন্দ এ সব সেমিনারে অংশগ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছেন পিকেএসএফের চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ। এ উপলক্ষে শনিবার প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ সব কর্মসূচী ঘোষণা করেন তিনি। এ সময় সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল করিম ও ডিএমডি জমিস উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সেমিনারের পাশাপাশি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর উৎপাদিত বিভিন্ন পণ্যের প্রদর্শনী ও বিক্রির আয়োজন রেখে ওই সাত দিন ১২৫টি স্টল সংবলিত উন্নয়ন মেলা-২০১৪ অনুষ্ঠিত হবে। বিভিন্ন ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান, সরকারী প্রতিষ্ঠান, আইটি প্রতিষ্ঠান, গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ভারতের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের স্টল এ মেলায় স্থান পাবে। সবার জন্য উন্মুক্ত এ মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা হতে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত চলবে। নির্বাচিত বিশিষ্ট শিল্পীবৃন্দের পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়ের শিল্পীবৃন্দের অংশগ্রহণে মেলা প্রাঙ্গণে প্রতিসন্ধ্যায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকবে।
উদ্বোধনীর ঠিক এক বছর পর তৃতীয় পর্যায়ে ২০১৫ সালের ১০ মে একই ভেন্যুতে সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বর্ষব্যাপী রজতজয়ন্তী অনুষ্ঠান সমাপ্ত হবে। উদ্বোধনীর পর থেকে সমাপনী অনুষ্ঠান পর্যন্ত সময়ে সময়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।
কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, কর্মসংস্থানের মাধ্যমে দারিদ্র্য দূরীকরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার দেশের বিভিন্ন বেসরকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের অনুকূলে নিরবচ্ছিন্ন অর্থায়ন এবং প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ প্রদানের জন্য পিকেএসএফ প্রতিষ্ঠা করে। পিকেএসএফের প্রতিষ্ঠালগ্নে বিশে^র অন্যকোথাও এ ধরনের প্রতিষ্ঠান ছিল না। অনুসরণীয় কোন পূর্বঅভিজ্ঞতা বা নজির ব্যতিরেকেই পিকেএসএফ বিগত ২৪ বছরে ক্ষুদ্রঋণ সেবা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছে। বর্তমানে নেপাল, পাকিস্তান, কেনিয়াসহ বিশ্বের বেশ কিছু দেশে পিকেএসএফের আদলে প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে। মাত্র ২৩টি সহযোগী সংস্থার ১ হাজার ১২ জন উদ্যোক্তাকে সহযোগিতা প্রদানের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে পিকেএসএফ সারাদেশের প্রতিটি উপজেলায় দুই শতাধিক সহযোগী সংস্থার প্রায় ৬ হাজার ৬৯৫টি শাখার মাধ্যমে ৮১ লাখ ৩১ হাজার ২৬৯ জন উদ্যোক্তার মাঝে আর্থিক ও সামাজিক সেবা পৌঁছে দিচ্ছে।
তিনি জানান, বিগত ২৪ বছরে অনেক সাফল্যের মধ্যে পিকেএসএফের অন্যতম সাফল্য প্রথাগত ক্ষুদ্রঋণ থেকে বেরিয়ে এসে ক্ষুদ্রঋণকে বহুমুখীকরণ ও বৈচিত্র্য আনয়ন করেছে। ক্ষুদ্রঋণ পরিচালনার কাঠামোতে আমূল পরিবর্তন এনে ঋণ কার্যক্রমকে যুগোপযোগী ও দরিদ্রবান্ধব করেছে। গ্রামাঞ্চলে কাজ শুরু করলেও পরবর্তীতে শহরাঞ্চলের বিভিন্ন উৎপাদন ও সেবামূলক কর্মসংস্থানের জন্যও অর্থ যোগানে সহযোগী সংস্থাগুলোর মাধ্যমে বিশেষ অবদান রাখছে। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের, যারা তাদের উদ্যোক্তাসুলভ প্রতিভা দেখাতে সক্ষম হয়েছেন। তাদের জন্য ক্ষুদ্র উদ্যোগ ঋণ ও অন্যান্য সেবা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে, যেখানে ঋণের সিলিং প্রথাগত ঋণ হতে অনেকগুণ বেশি। ক্ষুদ্র উদ্যোগ ঋণ ও সংশিষ্ট সেবা কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগের গুচ্ছগুলো বের করা হয়েছে। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের পণ্য সামগ্রীর মানোন্নয়নের জন্য নানাবিধ ব্যবসা উন্নয়ন বিষয়ক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়িত হচ্ছে। এ দেশে দরিদ্র মানুষের নানা উৎপাদনমুখী ও সেবা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মৌসুমভিত্তিক ঋণের প্রয়োজন পড়ে। এ ধরনের চাহিদা মেটাতে পিকেএসএফ মৌসুমী ঋণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। যাতে অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠী দারিদ্র্যের বেড়াজাল থেকে বেরিয়ে আসতে পারে। পিকেএসএফ বর্তমানে অতিদরিদ্রদের জন্য সর্ববৃহৎ আর্থিক ও সেবামূলক কাজ করছে।
ভারতীয় বিমানে আত্মঘাতী হামলার হুমকি, বিমানবন্দরে সতর্কতা
সন্দেহের তীর আইএস বা আল কায়েদার দিকে
জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ ভারতীয় বিমান সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়া লিমিটেডের দুটি বিমানে সন্ত্রাসী হামলার হুমকিতে দেশটির প্রধান কয়েকটি বিমানবন্দরে কড়া সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ই-মেইলের মাধ্যমে এ হুমকি দেয়া হয়। ভারতীয় বিমান কর্তৃপক্ষ মনে করছে, এ হুমকির পেছনে ইসলামিক স্টেট (আইএস) অথবা আল কায়েদার হাত থাকতে পারে। এ হুমকির পর শুক্রবার মধ্যরাত এবং শনিবার ভোরে মুম্বাইয়ের ছত্রপতি শিবাজি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ মুম্বাই, কলকাতা, আহমেদাবাদ এবং কোচির বিমানবন্দরকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়। খবর হিন্দুস্থান টাইমস ও ডিএনএ অনলাইনের।
ওই উড়ো ই-মেইলে বলা হয়, শুক্রবার মধ্যরাত অথবা শনিবার ভোরের দিকে উপর্যুপরি আত্মঘাতী হামলা চালানো হবে। আত্মঘাতীরা হাতে বহনযোগ্য লাগেজের মধ্যে বোমা নিয়ে বিমানে উঠবে। আর এই মেইল পাওয়ার পরপরই ভারতীয় বিমান কর্তৃপক্ষ বিমানবন্দরগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করে।
ভারতীয় বিমান সুরক্ষা ব্যুরো এনএসজির এক কর্মকর্তা জানান, সংশ্লিষ্ট সকল বিমানবন্দরে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিমানবন্দর এলাকার নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে হাইজ্যাকিং প্রতিরোধী টিম মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি বিমানবন্দরে আগত সকল যাত্রীর ব্যাগ তল্লাশি করতে সব রকম ব্যাবস্থা নেয়া হয়েছে।
মুম্বাই, কলকাতা, আহমেদাবাদ এবং কোচির পাশাপাশি অন্যান্য বিমানবন্দরে সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে। এ বিমানবন্দরগুলোতে বোমা শনাক্ত এবং নিষ্ক্রিয়করণ যন্ত্র, কুইক রেসপন্স টিম এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
মুম্বাই পুলিশ জানিয়েছে, অনেক সময় এমনভাবে বোমা লুকিয়ে রাখা হয় যা এক্সরে মেশিনেও ধরা পড়ে না। তাই বিমানবন্দরে আগত সকল যাত্রীর একটি ব্যাগও যেন পুঙ্খানুপুঙ্খ তল্লাশি ব্যাতীত ছাড়া না হয় তা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
খবরে আরও বলা হয়েছে? আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি বিমানবন্দরগুলোতে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার লোকেরা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে।
অবশ্য এর আগেও এয়ার ইন্ডিয়াকে নিশানা করেছিল সন্ত্রাসবাদীরা। ১৯৮৫ সালের ২৩ জুন কানাডার মন্ট্রিয়ল থেকে লন্ডনগামী একটি বিমানে হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ২৪ ভারতীয়সহ ৩২৯ জন নিহত হয়। আবার ১৯৯৯ সালে এয়ার ইন্ডিয়ার এয়ারবাস -১৩০০ বিমানটিকে হাইজ্যাক করে তালেবান। এ সময় তিন জঙ্গীর মুক্তির বিনিময়ে ১৪৯ জনের মুক্তির ব্যবস্থা করে ভারত।
সিএসআরের অর্থ জঙ্গী ও সন্ত্রাসী লালনে ব্যয় করতে দেয়া হবে না
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর উন্নয়নের চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে গবর্নর
স্টাফ রিপোর্টার ॥ ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতের কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) ফান্ডের অর্থ কোনক্রমেই জঙ্গী বা সন্ত্রাসী লালনে ব্যয় করতে দেবে না বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সিএসআরের ব্যয় অবশ্যই স্বচ্ছ হতে হবে। ২০০৮ সালের নীতিমালাটি আরও যুগোপযোগী ও সুসংহত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ ফান্ড ব্যয়ে কোন প্রকার অনিয়ম হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সঙ্গে সঙ্গেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে ও ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত রাখবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। শনিবার সেগুনবাগিচায় মুুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর উন্নয়নে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর চেক হস্তান্তর উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গবর্নর ড. আতিউর রহমান এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গবর্নর বলেন, সিএসআর কার্যক্রমকে ব্যাংকিং কার্যক্রমের মূল ধারায় প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। বর্তমানে ব্যাংকিং খাত সিএসআর ফান্ডের টাকা স্বাস্থ্য, শিক্ষা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, ক্রীড়া, শিল্প ও সংস্কৃতি, পরিবেশ বান্ধব এবং অনগ্রসর খাতে পরিচালনা করছে। তিনি বলেন, সারা বিশ্বেই কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা অর্থাৎ সিএসআর একটি সুপরিচিত শব্দ। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি জনগণের কাছ থেকে আমানত সংগ্রহ করে আবার জনগণকেই সেই অর্থ ধার দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে। কাজেই তাদের সিএসআর দায়ও বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের সকল ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে সিএসআর কার্যক্রমে অংশগ্রহণ ও উৎসাহিত করার লক্ষ্যে ২০০৮ সালে একটি নীতিমালা করে। সিএসআর কর্মকা-কে ব্যাংকিং কার্যক্রমের মূলধারায় দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করায় গত ৫ বছরের ব্যবধানে এ খাতে সিএসআর ব্যয় ৮ গুণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৪৭ কোটি টাকা।
গবর্নর বলেন, একটি জাতির শ্রেষ্ঠ সম্পদ তার ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও স্বাধীনতা। বাঙালীর ইতিহাস মূলত মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস। এ মুক্তিযুদ্ধ অবিনশ্বর। মুক্তিযোদ্ধারা একাত্তরে যে স্বপ্ন দেখেছিলেন তা আমাদের বাস্তবায়ন করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সত্যিকার সোনার বাংলা গড়ে তুলতে হবে, যে বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত হবে কল্যাণমূলক শাসনব্যবস্থা। সকলের মাঝে দেশপ্রেম, সততা, জবাবদিহিতা ও নিষ্ঠাবোধ জাগ্রত হবে। সমৃদ্ধশালী একটি বাংলাদেশ গড়ে উঠুক এটা সবসময়ই চাই। দেশের যে কোন উন্নয়নে সবার পাশে থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক অবশ্যই কার্যকর ভূমিকা পালন করে যাবে। তাছাড়া মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণে একটি মহান দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকও তা সংরক্ষণে কিছুটা হলেও অবদান রাখতে পেরেছে বলে আমরা গর্বিত। এর আগে ব্যাংকগুলো সিএসআর ফান্ড থেকে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের উন্নয়নে প্রায় ৩০ কোটি টাকা দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক নিজেও সামাজিক এই দায়বদ্ধ কাজে অংশগ্রহণ করেছে এবং নানা ধরনের রেগুলেটরি সহায়তা প্রদানে এগিয়ে এসেছে। আসুন আমরা সবাই মিলে মুক্তিযুদ্ধের এ মহান স্মৃতিঘর গড়ে তুলি। এতে ভবিষ্যত প্রজন্মকে অতীত ও বর্তমানের সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখা সম্ভব হবে।
বাঙালী জাতির কাছে মুক্তিযুদ্ধের চেয়ে বড় কোন সম্পদ হতে পারে না। মুক্তিযুদ্ধ আমাদের গর্ব। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি রক্ষার্থে সদা জাগ্রত মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর আমাদের ঐতিহ্য ও অহঙ্কারের প্রতীক। তাই মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকে সমুন্নত রাখতে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো আজ যে অর্থ প্রদান করল, তা কিছুটা হলেও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের উন্নয়নে সহায়ক হবে বলে আমি মনে করি।
অনুষ্ঠান শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ প্রণোদনায় মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের উন্নয়নে ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশন প্রমোটার্স এ্যাসোসিয়েশন (এফআইপিএ) এবং বাংলাদেশ লিজিং এ্যান্ড ফাইন্যান্স কোম্পানিজ এ্যাসোসিয়েশন (বিএলএফসিএ) এক কোটি ৭২ লাখ টাকার চেক গবর্নর জাদুঘর ট্রাস্টির কাছে হস্তান্তর করেন।
জাদুঘরের ট্রাস্টি ডাঃ সারওয়ার আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গবর্নর এস.কে. সুর চৌধুরী এবং এফআইপিএ সভাপতি এম. মতিউল ইসলাম ও বিএলএফসিএ সভাপতি আসাদ খান, এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পেশা ও সংগঠনের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও মুক্তিযোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন।
বড়দিন সামনে রেখে চাঙ্গা দেশের তৈরি পোশাক খাত
ইইউ থেকে বিপুল অর্ডার
এম শাহজাহান ॥ বড়দিন সামনে রেখে চাঙ্গা দেশের তৈরি পোশাক শিল্পখাত। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ১০-১৫ শতাংশ রফতানি আদেশ বৃদ্ধি পেয়েছে। খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের প্রধান উৎসব বড়দিন কেন্দ্র করে তৈরি পোশাকের প্রধান ক্রেতা ইইউ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজার এখন জমজমাট। আগামী ২৫ ডিসেম্বরের বড়দিনের মার্কেট ধরতে পোশাকের শিপমেন্ট পেতে তাগাদা দিচ্ছে ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো। আর এ কারণে নবেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে পুরোদমে শিপমেন্ট কার্যক্রম শুরু হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রানা প্লাজা দুর্ঘটনা এবং জিএসপি ইস্যুতে এ শিল্পে যে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছিল তা কেটে যাচ্ছে। রফতানি আদেশ বৃদ্ধি পাওয়ায় পোশাক শিল্পের সুদিন আবার ফিরে আসছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
জানা গেছে, বড়দিন সামনে রেখে পুরনো এবং নতুন সব বাজারে পোশাক রফতানি বাড়ছে। বিশেষ করে নতুন বাজারে রফতানি প্রবৃদ্ধি সবচেয়ে ভাল। নতুন বাজার থেকে রফতানি আয়ে প্রবৃদ্ধি বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ২০১২-১৩ অর্থবছরে নতুন বাজারে প্রবৃদ্ধি ছিল ১২ দশমিক ৭১ শতাংশ, যা ২০১৩-১৪ অর্থবছরে বেড়ে হয়েছে ২১ দশমিক ১৫ শতাংশ। এছাড়া বড়দিন সামনে রেখে পোশাকের বড় ক্রেতা ইইউ এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও রফতানি আদেশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী জনকণ্ঠকে বলেন, খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রধান উৎসব বড়দিন সামনে রেখে তৈরি পোশাক শিল্পখাতের রফতানি আদেশ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত তিন মাসে এ শিল্পের প্রবৃদ্ধি নেগেটিভ ধারায় থাকলেও এখন তা ইতিবাচক অবস্থায় রয়েছে। রফতানি আদেশই বলে দিচ্ছে এখন মার্কেট ভাল অবস্থায় রয়েছে। তিনি বলেন, বড়দিন একদিনের, কিন্তু উৎসব চলে কয়েকমাস ধরে। ফলে কেনাকাটাও শুরু হবে নবেম্বরের প্রথম দিক থেকেই। ইতোমধ্যে ১০-১৫ শতাংশ রফতানি আদেশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
তিনি বলেন, দেশের অধিকাংশ গার্মেন্টসে বড়দিনের পোশাক বানানো হচ্ছে। শিল্প মালিকরা যথাসময়ে পোশাক শিপমেন্ট করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। আশা করছি জিএসপি ও রানা প্লাজা ধসের পর এ শিল্পে বাড়তি যে চাপ তৈরি হয়েছিল তা কেটে যাবে।
রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) এবং বিজিএমইএর গবেষণা সেলের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত তিন অর্থবছর ধরে প্রতি বছর নতুন বাজারে রফতানি আয় দ্বিগুণ হারে বাড়ছে। গত ২০১৩-১৪ অর্থবছরে নতুন বাজারে সম্মিলিত প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২১ দশমিক ১৫ শতাংশ। আগের অর্থবছরে এই হার ছিল ১২ দশমিক ৭১ শতাংশ। ২০১১-১২ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ছিল ৬ দশমিক ৫৬ শতাংশ। আর নতুন বাজার হিসেবে তুরস্ক, অস্ট্রেলিয়া, চীন, জাপান, কোরিয়া, মেক্সিকো, রাশিয়া, আফ্রিকা, ব্রাজিল, মধ্যপ্রাচ্য, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, আর্জেন্টিনা, চিলি, উরুগুয়ে, পর্তুগাল, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ অন্তত ২৫টি দেশকে নতুন বাজার হিসেবে বিবেচনা করেন রফতানিকারকরা।
তবে আলোচ্য সময়ে এসব বাজারের মধ্যে শীর্ষে ছিল তুরস্ক। রফতানি হয়েছে ৬২ কোটি ২৩ লাখ ডলারের পণ্য। এসব বাজারের মধ্যে গত অর্থবছর শীর্ষে থাকা জাপান এবার দ্বিতীয় স্থানে নেমে এসেছে। তবে গত বছরের ৪৯ কোটি ডলার থেকে আয় বেড়ে হয়েছে ৫৭ কোটি ২২ লাখ ডলার। তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া। আগের বছরের আয় থেকে সামান্য বেড়ে রফতানি হয়েছে ৪৩ কোটি ডলারের পণ্য। নতুন বাজারের মধ্যে ব্রাজিল এবং দক্ষিণ আফ্রিকা ছাড়া সব বাজারেই আগের বছরের তুলনায় রফতানি আয় বেড়েছে।
এ প্রসঙ্গে বিজিএমইএ সভাপতি মোঃ আতিকুল ইসলাম বলেন, রফতানি বাজার হিসেবে নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের ওপর নির্ভরতা কমাতে চান তাঁরা। এ কারণে নতুন নতুন বাজারের দিকে মনোযোগ দেয়া হচ্ছে। এসব বাজারে আবহাওয়া এবং স্থানীয় ফ্যাশন নিয়ে তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে চাহিদা অনুযায়ী পোশাক উৎপাদনে জোর দিচ্ছেন তাঁরা। এ কারণে রাশিয়া, ব্রাজিল, মেক্সিকোসহ লাতিন আমেরিকা, আফ্রিকারও বেশ কিছু দেশে রফতানি বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। আগামীতে নতুন বাজারের রফতানি আয় উল্লেখযোগ্যহারে বাড়বে বলে আশা করেন তিনি।
গোলাম আযমের আপীল অকার্যকর হচ্ছে ॥ ২ ডিসেম্বর শুনানি
যুদ্ধাপরাধী বিচার আলীমের আপীলে একই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল
স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ৯০ বছর কারাদ-প্রাপ্ত ঘৃণিত যুদ্ধাপরাধী রাজাকারদের নেতা গোলাম আযমের মৃত্যুর কারণে সুপ্রীমকোর্টে বিচারাধীন তার আপীল মামলা অকার্যকর হচ্ছে। আগামী ২ ডিসেম্বর শুনানির জন্য নির্ধারিত দিনেই সুপ্রীমকোর্ট গোলাম আযমের পক্ষে-বিপক্ষে দায়ের করা দুটি আপীল অকার্যকর ঘোষণা করতে পারে বলেই জানিয়েছেন এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। তিনি বলেন, ফৌজদারী মামলায় মৃত্যুর পর কারও বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনার বিধান নেই। তাই স্বাভাবিকভাবেই আপীল মামলাটি অকার্যকর হয়ে যাবে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর দেয়া ৯০ বছরের কারাদ-াদেশ বাতিল করে তাকে খালাস দেয়ার আর্জি জানিয়ে আপীল করেছিল এই যুদ্ধাপরাধীদের নেতা। অন্যদিকে ট্রাইব্যুনালের সাজা অপর্যাপ্ত উল্লেখ করে তার সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদ-াদেশ ও জামায়াত নিষিদ্ধের আরজি জানিয়ে আপীল করেছিল রাষ্ট্রপক্ষও। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আগামী ২ ডিসেম্বর থেকে দুটি আপীলেরই একসঙ্গে শুনানি শুরুর দিন ধার্য করেছিল সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগ।
কিংবদন্তিরা আসছেন মাতাবেন ১৬০ শিল্পী, চলছে প্রস্তুতি
নবেম্বরে উচ্চাঙ্গসঙ্গীত উৎসব
মোরসালিন মিজান

উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের আশ্চর্য সুন্দর আসর। বাংলাদেশে। একদিন দু’দিন নয়। ৫ দিনব্যাপী উৎসব। না, কোন মিলনায়তনে নয়। পাঁচ তারকা হোটেলের বলরুমে নয়। রাজধানী ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে। বিশাল এই স্টেডিয়ামে সুরের খেলা শুরু হয় সন্ধ্যা থেকে। সারা রাত ধরে চলে। বিরতিহীন। ক্ল্যাসিকেল মিউজিক। কে শোনবে? এই প্রশ্ন এক সময় উঠেছিল বৈকি। তবে ওই ওঠা পর্যন্তই। শ্রোতা না পাওয়ার আশঙ্কা ভুল প্রমাণ করেছে বেঙ্গল উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত উৎসব। ২০১২ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম আসর থেকেই হাজার হাজার শ্রোতা। বিভিন্ন বয়সী মানুষ প্রাণভরে উপভোগ করেন উপমহাদেশের বড় বড় উস্তাদের পরিবেশনা। প-িতদের কণ্ঠ যন্ত্রসঙ্গীত শ্রোতাদের বাড়ি ফিরতে দেয় না। এই দৃশ্য সত্যি অভাবনীয়। একবার এমন উৎসবের আয়োজন করতে পারাই অনেক বড় কথা। গৌরবের বিষয়। অথচ প্রতিবছর একই সময়ে উৎসবটি আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছিলেন আয়োজকরা।
সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এবার আয়োজন করা হচ্ছে তৃতীয় আসর। বর্ণাঢ্য উৎসবের উদ্বোধন আনুষ্ঠানিক করা হবে ২৭ নবেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায়। চলবে ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। আয়োজক সূত্র জানায়, এবারও প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত সরব থাকবে মঞ্চ। পরিবেশিত হবে কণ্ঠ ও যন্ত্রসঙ্গীত। ক্ল্যাসিকেল নৃত্যের পরিবেশনা নিয়ে আসবেন বিখ্যাত শিল্পীরা। বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী জানান, এ বছর উৎসব উৎসর্গ করা হয়েছে পল্লীকবি জসীম উদ্দীনকে। পঞ্চান্ন ঘণ্টার এই সঙ্গীত সম্মেলনে ভারত ও বাংলাদেশের ১৬০ শিল্পী অংশগ্রহণ করবেন। বাংলাদেশের বিশিষ্ট শিল্পীদের সম্মেলক বাংলা গান দিয়ে সূচনা করা হবে প্রথম দিনের অধিবেশন। সম্মেলক গানের কারণে এবারের উৎসবে বাংলাদেশী শিল্পীদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। চূড়ান্ত করা হয়েছে ৭৫ জনের নাম।
তবে এই আয়োজনে মঞ্চ আলোকিত করে রাখেন উপমহাদেশের কিংবদন্তি শিল্পীরাই। সে তালিকায় এবারও আছেন প-িত হরিপ্রসাদ চৌরাশিয়া, প-িত উলহাশ কাশালকার, বিদুষী গিরিজা দেবী, ওস্তাদ আমজাদ আলী খান, ওস্তাদ রশিদ খান, শিবু কুমার শর্মা, অজয় চক্রবর্তী, কৌশিকী চক্রবর্তী, প-িত তেজেন্দ্র মজুমদারের মতো বিখ্যাত শিল্পী। লুভা নাহিদ জানান, বিখ্যাত এই শিল্পীদের প্রায় প্রত্যেকের সঙ্গে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে। সবাই উৎসবে আসার ব্যাপারে বিশেষ আগ্রহী। ঘোরতর কোন সমস্যা দেখা না দিলে গত দুই বছর যাঁরা উৎসবে যোগ দিয়েছিলেন তাঁদের প্রায় সবাই আসবেন। গত দুই বছর আসতে পারেননি এমন ওস্তাদ এবং প-িতরাও তৃতীয় আসরে যোগ দেবেন। এই তালিকায় রয়েছেন উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের কিংবদন্তি শিল্পী পদ্মবিভূষণ বিদুষী কিশোরী আমানকর।
তবে শিল্পীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করতে আরও একটু সময় লাগবে বলে জানান তিনি। উৎসবের বাদবাকি প্রস্তুতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এর আগে দুইবার উৎসবটি আয়োজনের ফলে আমরা এখন অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী। আমাদের প্রচুর লোকজন উৎসব সফল করতে রাতদিন কাজ করছেন। সব ঠিক থাকলে এবারও সফল হব আমরা।
তৃতীয় আসরটি প্রসঙ্গে মূল আয়োজক বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের সভাপতি আবুল খায়ের লিটু বলেন, গত বছর এক রাতে ৩৬ হাজার দর্শক জড়ো হয়েছিলেন। এবার রাজনৈতিক অবস্থা স্থিতিশীল। ফলে প্রতিরাতে অর্ধলক্ষ শ্রোতার সমাগম ঘটবে বলে আশা করছি আমরা। কেন এই আয়োজন? জানতে শিল্পের এই পৃষ্ঠপোষক বলেন, সঙ্গীতের মূল রস তো শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে। এক সময় এই ধারার সঙ্গীতে আমাদের দেশ অত্যন্ত সমৃদ্ধ ছিল। সে ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের একটি চেষ্টা বলতে পারেন। সেই সঙ্গে শ্রোতা ও শিল্পী তৈরির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি আমরা। এই উৎসব শ্রোতা তৈরিতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে বলেও মনে করেন তিনি।
প্রতিবারের মতো এবারও উৎসব উপভোগের জন্য কোন টিকেটের প্রয়োজন হবে না। ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করে উপভোগ করা যাবে উৎসব। ৩ নবেম্বর থেকে অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করা যাবে। এ জন্য বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইট (যঃঃঢ়://িি.িনবহমধষভড়ঁহফধঃরড়হ.ড়ৎম) ভ্রমণ করার পরামর্শ দিয়েছেন উৎসবের আয়োজকরা।
আলালসহ ৬৪ নেতাকর্মী আটক
নাশকতার পরিকল্পনা
স্টাফ রিপোর্টার ॥ যুবদল সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ ৬৪ জন নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার সকাল ১০টায় তাঁর লালমাটিয়ার নিউ কলোনির বাসায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়। সন্ধ্যায় তাঁদের জিজ্জাসাবাদের জন্য মিন্টু রোডের গোয়েন্দা অফিসে নেয়া হয়।
পুলিশ জানায়, রবিবারের হরতাল ও বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার আদালতে হাজিরার দিন সামনে রেখে ওই বাসায় তখন গোপন বৈঠকে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছিল।
আলালকে আটকের পরপরই সাংবাদিকদের মোহাম্মদপুর থানার ওসি আজিজুল হক বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই তাদের আটক করা হয়েছে। কেননা, সকালে লালমাটিয়ার ওই বাসার আন্ডারগ্রাউন্ডে তাঁরা বৈঠক করছিলেন। পুলিশের কাছে খবর ছিল, হরতালে নাশকতা সৃষ্টির জন্য ওই বৈঠকে পরিকল্পনা চলছে। এমন খবরের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকেই যুবদল সভাপতিসহ ৬৪ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়।
এদিকে রাতে পুলিশের জনসংযোগ শাখার উপকমিশনার মাসুদুর রহমান জানান, মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ তাদের ডিবিতে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তাদের বিরুদ্ধে নাশকতার অভিযোগে মোহ্ম্মাদপুর থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। এ বিষয়ে মোহাম্মদপুর থানার ওসি আজিজুল হক জানান, ওই বাসায় কেন এত সকালে এক সঙ্গে এত লোক জমায়েত হয়েছিল তা সুস্পষ্ট। মূলত বড় ধরণের নাশকতার লক্ষ্যেই গোপনে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছিল।
মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী কমিশনার শেখ রাজীবুল হাসান জানান, হরতালকে সামনে রেখে নাশকতার ষড়যন্ত্র করাই ছিল ওই বাসার গোপন বৈঠকের লক্ষ্য।
পারিবারিক সূত্র জানায়, আটকের পর মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে গোয়েন্দা কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। যুবদল সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেফতার করার দাবিতে রবিবার সারাদেশে হরতাল ডেকেছে সম্মিলিত ইসলামী দলসমূহ। একই দিন দুর্নীতির একটি মামলায় আদালতে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার হাজির হওয়ার দিন রয়েছে। এর একদিন আগে সরকার যুবদলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে তাঁদের গ্রেফতার করে।
বিএনপির সবুজ সঙ্কেতেই জামায়াতপন্থী ইসলামী দল হরতাল ডেকেছে
হেফাজতের সমর্থন নেই
স্টাফ রিপোর্টার ॥ বিতর্কিত বক্তব্যের জেরে লতিফ সিদ্দিকীকে মন্ত্রিসভা ও আওয়ামী লীগের সদস্য থেকে সরিয়ে দেয়ার পরও আজ সারাদেশে হরতাল পালন করবে বিএনপি-জামায়াতপন্থী ইসলামী দলগুলো। ‘সম্মিলিত ইসলামী দলসমূহের ব্যানারে হবে হরতাল। হরতাল আহ্বানকারীরা বলেছেন, সরকারের নেয়া সিদ্ধান্তে কর্মসূচী বন্ধ হবে না। লতিফ সিদ্দিকীর বিচার করা হয়নি বলেই হরতাল হবে। কর্মসূচীতে বাধা দেয়া হলে ফের লাগাতার হরতাল, অবরোধের হুমকি দিয়েছেন তাঁরা। এদিকে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার আদালতে হাজিরা না দেয়ার কৌশল বাস্তবায়নে হরতাল ডাকাসহ রাজনীতি করার খবর প্রকাশ হয়ে পড়ায় কর্মসূচীতে সমর্থন দিচ্ছে না হেফাজত। শনিবার হেফাজত নেতারা বলেছেন, হরতালে তাদের সমর্থন নেই। তবে লতিফ ইস্যুতে বিএনপি-জামায়াতের কাছ থেকে বিশেষ সুবিধা গ্রহণসহ নানা বিষয়ে মতবিরোধে জড়িয়ে পড়েছেন হেফাজত নেতারা।
এদিকে হরতালে যে কোন ধরনের নাশকতায় রাতে রাজধানীসহ সারাদেশে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। জানা গেছে, সম্মিলিত ইসলামী দলসমূহের ব্যানারে ডাকা হরতালের পেছনে মামলায় বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার আদালতে হাজিরা না দেয়ার কৌশলই অন্যতম কারণ। জামায়াতপন্থী হেফাজতের একটি অংশ, খেলাফত মজলিশ ও খেলাফত আন্দোলনসহ ২০ দলের শরিক নেতাদের ভিন্ন ব্যানারে মাঠে নামিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায় জামায়াত-শিবিরও। এ লক্ষ্যে বিএনপির সিগন্যাল নিয়েই জামায়াত হরতালসহ নাশকতামূলক কর্মসূচীর জন্য তাদের মদদপুষ্ট কিছু বিতর্কিত দলকে মাঠে নামিয়েছে। আন্দোলনের জন্য ইসলামী দলগুলোকে সমন্বয় করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে জামায়াতের সহযোগী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ মসজিদ মিশনের সেক্রেটারি জেনারেল খলিলুর রহমান মাদানীকে। যদিও জামায়াতের মজলিশে শূরার সদস্য যাইনুল আবদিনের সংগঠন সম্মিলিত ওলামা মাশায়েখ পরিষদের নতুন সংস্করণই হচ্ছে এই ‘সম্মিলিত ইসলামী দলসমূহ’। যেখানে আছেন কেবল ২০ দলীয় জোটের জামায়াত মদদপুষ্ট নেতারাই। সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালনের আহ্বান জানিয়ে শনিবার সম্মিলিত ইসলামী দলসমূহের সদস্য সচিব মাওলানা জাফরুল্লাহ খান বলেছেন, গত ১৬ অক্টোবরই আমরা ঘোষণা দিয়েছিলাম ২২ তারিখের মধ্যে লতিফ সিদ্দিকী গ্রেফতার না হলে ২৬ অক্টোবর সারাদেশে হরতাল পালন করব। সরকার ব্যর্থ হয়েছে। তাই আমাদের পূর্বঘোষণা অনুযায়ী রবিবার সকাল-সন্ধ্যা হরতাল হবে। সম্মিলিত ইসলামী দলের যুগ্ম-মহাসচিব ও জামায়াতের সহযোগী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ মসজিদ মিশনের সেক্রেটারি ড. খলিলুর রহমান মাদানী হরতালের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, হরতাল কর্মসূচী থেকে পেছনে ফেরার সুযোগ নেই। আশা করি সরকার আমাদের দাবি মেনে নেবে। আপত্তিকর মন্তব্য করায় লতিফ সিদ্দিকীর মন্ত্রিত্ব গেছে, দলের প্রেসিডিয়াম পদ গেছে, সাধারণ সদস্যপদ গেছে, তার বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা হয়েছে, একাধিক গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি হয়েছে। তাহলে আবার কেন আন্দোলন? এসব প্রশ্নে ওই নেতা বলেন, সরকারের দায়িত্বই হলো, তাকে গ্রেফতার করে বিচার করা। ওই দাবিতেই হরতাল। এ দাবি পূরণ হয়নি। এদিকে ধর্মের দোহাই দিয়ে ডাকা হরতালের নামে বিএনপি-জামায়াতের রাজনীতি করার কৌশল প্রকাশ হয়ে পড়েছে অন্যান্য ইসলামী দল ও সংগঠনের মাঝে। হরতালে অন্যান্য ইসলামী সংগঠনের সমর্থন চাওয়া হলেও শনিবার পর্যন্ত তারা রাজি হয়নি। খেলাফত মজলিশের কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যাপক আবদুল জলিল বলেন, হরতাল ঘোষণার দিন আমাদের দলের সহকারী মহাসচিব মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন প্রেসক্লাবে গিয়েছিলেন। ওই জোটের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক নেই। হরতাল নিয়ে কোন সিদ্ধান্ত হয়নি।
বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার আদালতে হাজিরা না দেয়ার কৌশল বাস্তবায়নে হরতাল ডাকার খবর প্রকাশ হয়ে পড়ায় সমালোচনা এড়াতে হরতালে সমর্থনের চিন্তা থেকে সরে এসেছে হেফাজতের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। দলটির প্রচার সম্পাদক ওয়ালিউল্লাহ আরমান জানিয়েছেন, হরতালে সমর্থন দিচ্ছেন না তাঁরা। ঢাকা মহানগরের নেতা ফজলুল করীম কাসেমী বলেছেন, কালইতো (আজ রবিবার) হরতাল। আর কখন সমর্থন দেব? সমর্থন দেয়ার জন্য কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে এখন পর্যন্ত বলা হয়নি। তাই হরতালে আমরা সমর্থন দিচ্ছি না। কেন্দ্রীয় নির্দেশ ছাড়াতো আর সারাদেশের হরতালে সমর্থন দেয়া যায় না। এদিকে হেফাজত নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হরতালে কেন্দ্রীয় নেতাদের সমর্থন না থাকলেও লতিফ ইস্যুতে বিএনপি-জামায়াতের কাছ থেকে বিশেষ সুবিধা গ্রহণসহ নানা বিষয়ে মতবিরোধে জড়িয়ে পড়েছেন হেফাজত নেতারা। শরিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে তিনভাগ হয়ে পড়েছে হেফাজত। সূত্র বলছে, লতিফ সিদ্দিকী ইস্যুতে ফের মাঠে নামার চেষ্টা ছিল হেফাজতের। হেফাজতকে মাঠে নামাতে নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগও করেছিলেন বিএনপি-জামায়াতের কয়েক শীর্ষ নেতা। সংগঠনটির কয়েক কেন্দ্রীয় নেতা এ সুযোগটি কাজে লাগাতে চাইলেও ঢাকা কমিটির ত্রিমুখী দ্বন্দ্বে বিপাকে পড়েন তাঁরা।
জানা গেছে, একটি অংশ জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের ছত্রছায়ায় বারিধারাকেন্দ্রিক। দ্বিতীয় অংশটি লালবাগ জামিয়া কোরানিয়া মাদ্রাসা ও বড় কাটারা মাদ্রাসাকেন্দ্রিক ইসলামী ঐক্যজোট পরিচালিত। তৃতীয় অংশটি হচ্ছে কামরাঙ্গীরচর জামিয়া নূরিয়াকেন্দ্রিক খেলাফত আন্দোলন। ঢাকা কমিটির ত্রিধারায় বিভক্তির পেছনে কাজ করছে দুটি বিষয়। একটি হচ্ছে আধিপত্য বিস্তার। আর অন্যটি হচ্ছেÑ কয়েকজন নেতার বিভিন্ন দল থেকে অর্থ গ্রহণের অভিযোগ। এ বিষয়টিকে হেফাজত নেতাদের নৈতিক পরাজয় ও লোভী চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন হেফাজতের সাধারণ নেতাকর্মীরা। তাঁরা বলছেন, কর্মসূচীর নামে আবারও লোভী নেতাদের কবলে পড়ছে হেফাজত। তাছাড়া এখন বিএনপি নেত্রীর আদালতে হাজিরার দিন হেফাজত কর্মসূচীতে নামলে হেফাজতের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে। মূলত এমন এক অবস্থাতেই হরতালে সমর্থন দেয়ার চিন্তা থেকে হেফাজত সরে এসেছে। তবে বসে নেই বিএনপি-জামায়াত। ওই দিন মামলায় বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার আদালতে হাজিরা দেয়ার দিন ধার্য আছে। আগের মতো এবারও হাজিরা এড়াতেই এ হরতাল। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট ও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় মোট ৪১টি দিবসের মধ্যে মাত্র ৫ বার হাজির হয়েছিলেন খালেদা জিয়া। খালেদা জিয়ার মামলার দিনেই হরতাল ডাকা হয়। আর না হলে অসুস্থতা, নিরাপত্তাহীনতা- নানা অজুহাত দেখিয়ে খালেদা জিয়া বারবার আদালতকে উপেক্ষা করেছেন।
হরতাল প্রত্যাহারের আহ্বান এফবিসিসিআইর ॥ দেশব্যাপী ডাকা আজকের হরতাল প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি সংগঠন (এফবিসিসিআই)। দেশের সার্বিক উন্নয়নের ধারা সমুন্নত রাখার স্বার্থেই এই হরতাল প্রত্যাহার করা উচিত বলেও মনে করে এফবিসিসিআই। এফবিসিসিআইর মহাসচিব মীর শাহাবুদ্দিন মোহাম্মদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই আহ্বান জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে বর্তমানে ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ বিরাজ করছে। এ অবস্থায় হরতালসহ যে কোন নেতিবাচক কার্যক্রম দেশের ভাবমূর্তির ওপর প্রভাব ফেলবে। এতে বিনিয়োগকারীরা নিরুৎসাহিত হবেন। হরতাল প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ইন্সিওরেন্স এ্যাসোসিয়েশনও।
অন্যদিকে আজকের হরতালে রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের জেলাসমূহে বাস চালানোর ঘোষণা দিয়েছে ঢাকা সড়ক পরিবহন সমিতি। শনিবার সংগঠনের কার্যালয়ে মালিক-শ্রমিকদের নিয়ে এক যৌথসভা শেষে এ ঘোষণা দেয়া হয়।
ঢাকা সড়ক পরিবহন সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেন, এই হরতালের কোন যৌক্তিকতা নেই। কারণ অপরাধীর বিরুদ্ধে দলের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এরপরও হরতালের কোন যৌক্তিকতা ছিল না। তিনি বলেন, ধর্মের দোহাই দিয়ে ডাকা এ হরতাল সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও জনস্বার্থবিরোধী। ইস্যুবিহীন এ হরতালে সড়ক পরিবহন সেক্টরের মালিক-শ্রমিকরা সাড়া দেবে না। মালিক-শ্রমিকরা হরতাল প্রত্যাখ্যান করে ঢাকা শহর ও ঢাকার আশপাশের জেলাগুলোতে বাস-মিনিবাস চালাবে। তবে যাত্রী পাওয়া সাপেক্ষে আন্তঃজেলা রুটের বাস চলাচল করবে। হরতালে গাড়ি ও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
অধিকাংশ গাড়িই ফিটনেসবিহীন লক্কড় ঝক্কড়
হাঁড়ি ভাঙলেন মন্ত্রী
স্টাফ রিপোর্টার ॥ সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে যখন সারাদেশে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা তখন হাটে হাঁড়ি ভাঙলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের নিজেই। বলেছেন, সড়কে চলাচলকারী অধিকাংশ যানবাহনের ফিটনেস নেই! তাহলে এ কথা সত্য যে, বেশিরভাগ যানবাহন ফিটনেস ছাড়াই চলাচল করছে। দিন দিন বাড়ছে দুর্ঘটনার মাত্রা। বিশেষজ্ঞরা বরাবরই বলছেন, দুর্ঘটনার অন্যতম কারণের একটি হলো গাড়ির ফিটনেস না থাকা। ইতোমধ্যে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকেও দাবি উঠেছে, রাস্তায় রাস্তায় চেকপোস্ট বসিয়ে সকল যানবাহনের ফিটনেস পরীক্ষা করা। যেসব গাড়ি দিনের পর দিন ফিটনেস ছাড়া লক্কড় ঝক্কড় অবস্থায় চলাচল করছে সেগুলো বন্ধেরও দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।
বর্তমানে দেশে রেজিস্ট্রেশনভুক্ত যানবাহনের সংখ্যা ২১ লাখেরও বেশি। এর মধ্যে মোটরসাইকেলের সংখ্যাই বেশি। অনুমোদনহীন যানবাহনের সংখ্যা কত- নেই সঠিক কোন পরিসংখ্যান। যে কেউ ইচ্ছে করলেই গাড়ি কিনে রাস্তায় নামাতে পারেন। নিষিদ্ধ গাড়িও বিক্রি হচ্ছে দেদার। এমন বাস্তবতায় প্রশ্ন উঠেছে সরকারী তালিকাভুক্ত গাড়ির মধ্যে কতভাগের ফিটনেস ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে? বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) কাছে এ সংক্রান্ত যেমন তথ্য নেই, তেমনি মন্ত্রী নিজেও এ ব্যাপারে ওয়াকিফহাল নন।
শনিবার সকালে তেজগাঁও সড়ক ও জনপথ অধিদফতরে মন্ত্রণালয় ও দফতরের উর্ধতন কর্মকর্তাদের নিয়ে আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন যোগাযোগমন্ত্রী। বক্তব্যে তিনি বলেন, অভিযান চালিয়ে ডাম্পিংয়ে আর কত গাড়ি পাঠাব। সড়কে যেসব গাড়ি চলাচল করছে অধিকাংশেরই ফিটনেস নেই। একটি দেশের পরিবহন সেক্টরে এ রকম অরাজকতা চলছে সত্যিই ভাবা যায় না। মন্ত্রীর কথা শুনে অনুষ্ঠানস্থলে অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তবে এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেছেন, ফিটনেস ছাড়া গাড়ি চলবে এ অবস্থা চলতে দেয়া যায় না। তাই এই অবস্থার বিকল্প ভাবা প্রয়োজন।
মন্ত্রী বলেন, সড়কের জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি দরকার। মান্ধাতা আমলের জীপ গাড়ি এখনও চলছে সড়কের কাজ, তা হতে পারে না। প্রকৌশলীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সড়কের কাজ মানসম্পন্ন হতে হবে। যেখানেই কাজ করুন এ বিষয়টি আপনারা মাথায় রাখবেন। সরকার টাকা দেয়। কিছুদিন পর রাস্তা ভেঙ্গে গেলে মানুষকে দুর্ভোগে পড়তে হয়। তাই নিজের মনে করে মানসম্পন্ন কাজ করবেন। যেন কেউ বলতে না পারে, সরকারী কাজ তাই অবহেলা হয়েছে। এ রকম অভিযোগ শুনতে চাই না। দেশ আপনার-আমার সকলের। দেশকে ভালবাসতে হবে। প্রতিটি মানুষকে ভালবাসতে হবে। অবহেলার কারণে কেন মানুষ কষ্ট করবে? মনে রাখবেন, কাজ খারাপ হলে দোষ যায় সরকারের কাঁধে। প্রকৌশলীদের বদনাম হয়। এই বাস্তবতা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।
বেগম জিয়ার হাজিরা না দেয়ার অজুহাত হিসেবেই আজ হরতাল
সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ
শংকর কুমার দে ॥ কতিপয় ইসলামী দলের রবিবারের হরতাল কেন ? হরতাল ডাকার নেপথ্যের ‘রহস্যাবৃত’ প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন গোয়েন্দারা। রবিবারের মধ্যে লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেফতারের দাবিতে সরকারকে আল্টিমেটাম দিয়ে ডাকা হরতালের নেপথ্যে রয়েছে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা। একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, লতিফ সিদ্দিকী তো বিদেশে। সরকার তাকে গ্রেফতার করবে কিভাবে ? ইসলামী দলগুলোও জানে সরকার ইচ্ছে করলে তাঁকে বিদেশ থেকে এনে এই মুহূর্তে গ্রেফতার করতে পারবে না। তাহলে হরতাল কেন ? নেপথ্যে রয়েছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের সঙ্গে আঁতাত করে সরকারের পতন ঘটানোর সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা। ইসলামী দলগুলোর নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের নেতাদের মধ্যে গোপন বৈঠক হয়েছে। বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের আন্দোলন চাঙ্গা করতেই লতিফ সিদ্দিকী ইস্যু সামনে এনে হরতালের ডাক দিয়েছে ইসলামী দলগুলো। ইসলামী দলগুলোর ডাকা রবিবারের হরতালের দিনেই বেগম জিয়ার দুর্নীতির মামলায় আদালতে হাজিরা দেয়ার পূর্ব নির্ধারিত তারিখ। আদালতে হাজির না হওয়ার একটি অজুহাত তৈরির জন্যও হরতালের ডাক দেয়া হয়েছে। হরতালের নৈরাজ্য ও নাশকতা মোকাবেলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর অবস্থান নেয়ার জন্য পরামর্শ দিয়েছে গোয়েন্দা সংস্থা।
প্রতিবেদনে গোয়েন্দা সংস্থা উল্লেখ করেছে, হজ ও তবলীগ জামাত নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করার পর পরই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিদেশে থাকা অবস্থায়ই লতিফ সিদ্দিকীকে মন্ত্রিসভা থেকে বহিষ্কারের নির্দেশ দেন। তারপর মন্ত্রিসভা থেকে বহিষ্কার করা হয় লতিফ সিদ্দিকীকে। আওয়ামী লীগ থেকেও বহিষ্কার করা হয়েছে তাঁকে। এমনকি তাঁকে দলের প্রাথমিক সদস্য পদ থেকেও বহিষ্কার করা হয়েছে। সারাদেশের বিভিন্নস্থানের আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এমনকি তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা (ওয়ারেন্ট) জারি করা হয়েছে। দেশে থাকলে এতদিনে লতিফ সিদ্দিকী গ্রেফতার হতেন, এমনকি তাঁকে যে কারাগারে পাঠানো হতো তা এতসব আইনী প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে পরিষ্কার।
গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, একজন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে সরকার যেভাবে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে তা নজিরবিহীন। তার পরও ইসলামী দলগুলো লতিফ সিদ্দিককে গ্রেফতারের দাবিতে সরকারকে আল্টিমেটাম দিয়ে হরতাল ডাকল কেন? বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া সম্প্রতি উত্তরাঞ্চলে সফরে গিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে যে কঠোর বক্তব্য দিচ্ছেন তার নেপথ্যে ইসলামী দলগুলোর গোপন সমঝোতা। ইসলামী দলগুলোর সঙ্গে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের একটি গোপন বৈঠকে সমঝোতা হয়েছে। আগামীতে সরকারবিরোধী যে আন্দোলন হবে তাতে তারা অংশী নেবে ইসলামী দলগুলো। সরকার পতনের আন্দোলনকে বেগবান করতে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট আন্দোলনের যে হুঙ্কার দিচ্ছে, তাতে ইসলামী দলগুলোর অংশগ্রহণের ইঙ্গিত হিসেবেই হরতাল ডাকা হয়েছে।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, রবিবার যেদিন ইসলামী দলগুলো হরতাল ডেকেছে সেদিনই বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার আদালতে একটি দুর্নীতির মামলায় হাজির হওয়ার পূর্ব নির্ধারিত দিন। রবিবার আলিয়া মাদ্রাসায় স্থাপিত বিশেষ জজ আদালতে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলা ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় হাজিরা দেয়ার কথা আছে। হরতালের কারণ দেখিয়ে আদালতে হাজির না হওয়ার একটি অজুহাত তৈরি করে দিতে ইসলামী দলগুলো হরতালের ডাক দিয়েছে। এটাও বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রতি ইসলামী দলগুলোর গোপন বৈঠকের সমঝোতার ফসল বলে মনে করছেন গোয়েন্দারা।
সাকিবের ঘূর্ণিজাদুতে ২৪০ রানেই অলআউট জিম্বাবুইয়ে
বাংলাদেশ ২১৩ রানে পিছিয়ে
মিথুন আশরাফ ॥ মাঝখানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ খেলতে পারেননি। শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিষিদ্ধ ছিলেন। যেই জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে সিরিজে ফিরলেন, এক এক করে ছয়টি উইকেট শিকার করে নিলেন। তাঁর রাজত্ব যে এখনও বহাল আছে তা বুঝিয়ে দিলেন। সাকিবের এ রাজত্বে, ঘূর্ণির জাদুতে প্রথম ইনিংসে ২৪০ রানেই অলআউট হয়ে গেল জিম্বাবুইয়ে। মিরপুর টেস্টের প্রথম দিনেই বিপাকে পড়ে গেল ব্রেন্ডন টেইলরের দল। এরপর বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ১ উইকেট হারিয়ে ২৭ রান করতেই দিন শেষ হয়ে যায়। এখনও বাংলাদেশ ২১৩ রানে পিছিয়ে । আজ ম্যাচের দ্বিতীয় দিন। এ দিনে মুমিনুল হক (১৪*) ও শামসুর রহমান (৮*) ব্যাট করতে নামবেন।
ম্যাচটিতে শুরু থেকেই বিপাকে পড়ে জিম্বাবুইয়ে। ঠিক তেমনি বাংলাদেশও বিপদে পড়ে যায়। ১০ রানে ওপেনার তামিম ইকবালকে (৫) হারায় মুশফিকুর রহীমের দল। অবশ্য তামিম ভাল বলেই আউট হন। পানিয়াঙ্গারার দুর্দান্ত বাউন্সারে তামিম আউট হয়ে যান। এরপর পানিয়াঙ্গারা একের পর এক বাউন্সারে শামসুর ও মুমিনুলকেও আউট করার চেষ্টা করেন। কিন্তু কাজ হয় না। খুব ভালভাবেই তার বলগুলো সামাল দেন এ দুই ব্যাটসম্যান।
বাংলাদেশ বোলাররাও উইকেটের সুবিধা যথেষ্টই পেয়েছেন। উইকেটে বাউন্স হয়েছে। বলও ঘুরেছে। সেই সুবিধাগুলো নিয়ে ৩১ রানেই প্রথম দুই উইকেট শিকার করে নেয় বাংলাদেশ। ভুসিমুজি সিবান্দাকে আউট করে প্রথম উইকেটটি শাহাদাত হোসেন শিকার করলেও হ্যামিল্টন মাসাকাদজাকে আউট করে দ্বিতীয় উইকেট নেন সাকিব। শুরু হয়ে যায় সাকিবের স্পিন ঘূর্ণি। এরপর থেকে একের পর এক উইকেট তুলে নিতে থাকেন সাকিব। একদিকে টেস্টে অভিষিক্ত জুবায়ের হোসেন লিখন চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন। আরেকদিকে সাকিব চাপ প্রয়োগ করার সঙ্গে উইকেটও নিজের দখলে করে নেন। যখনই বড় জুটি হওয়ার সম্ভাবনা জেগেছে সাকিব ও লিখন মিলে সেই জুটি ভেঙ্গে দিয়েছেন।
লেগ স্পিনার লিখন অভিষেক টেস্টেই দুই উইকেট শিকার করে নিয়েছেন। জিম্বাবুইয়ের প্রথম ইনিংসের সেরা রান সংগ্রাহক ব্যাটসম্যান সিকান্দার রাজা (৫১) ও অধিনায়ক ব্রেন্ডন টেইলরের (২৮) উইকেট শিকার করেছেন লিখন। তৃতীয় উইকেটে যখন ৫২ রানের বড় জুটি গড়ে ফেলে জিম্বাবুইয়ে তখনই টেইলরকে সাজঘরে ফেরান লিখন। মাসাকাদজার পর চিগুম্বুরা (২৯), চাকাবভা (২৫), নিয়ুম্বু (১৪), পানিয়াঙ্গারা (৮) ও সর্বশেষ কামুঙ্গোজির (৫) উইকেট নিজের ঝুলিতে ভরে নিয়ে জিম্বাবুইয়ের ইনিংসই গুটিয়ে দেন সাকিব। মাঝখানে তাইজুল ইসলাম শুধু এরভিনের (৩৪) উইকেট নেন।
বাংলাদেশের জন্য তিন ম্যাচের এ টেস্ট সিরিজে জয় পাওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের ৯ নম্বরে থাকতে হবে। না হলে ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ জয়ী দলের সঙ্গে খেলতে হবে টেস্ট। এ সিরিজে জিতলে বাংলাদেশ টেস্টে ১০ নম্বর থেকে ৯ নম্বরে উঠে যাবে। জিম্বাবুইয়ে চলে যাবে ১০ নম্বরে।
সিরিজের প্রথম টেস্টেই জয়ের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। এখন ব্যাটসম্যানরা ভাল ব্যাটিং করতে পারলেই হয়। বোলাররা যা করার করে দিয়েছেন। এখন ব্যাটসম্যানদের পালা। এই টেস্টের প্রথম ইনিংসে সাকিব যে ৬ উইকেট নিয়েছেন তা প্রথমবারের মতো জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে টেস্টে সাকিবের সবচেয়ে ভাল বোলিং। এ নিয়ে সাকিব ১২ বার ৫ বা তার বেশি উইকেট শিকার করলেন। ৫৯ রানে নিয়েছেন ৬ উইকেট। এ টেস্টে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো প্রসিদ্ধ একজন লেগ স্পিনারের আবির্ভাব ঘটল। জুবায়ের হোসেন লিখন অভিষেক টেস্টে নামার আগে প্রধান নির্বাচক, সাবেক ক্রিকেটার ফারুক আহমেদের হাত থেকে টেস্ট ক্যাপটি পরেন। সিরিজে জয় পাওয়া অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য এ সিরিজে ডিআরএস (ডিসিসান রিভিউ সিস্টেম) পদ্ধতিও রাখা হয়েছে। প্রথম দিনেই বিফলে গেছে দুই দলেরই ডিআরএস মিশন। দুই দলই একটি করে সুবিধা নিতে গিয়ে ব্যর্থ হয়।
ব্যর্থ হননি সাকিব। বাংলাদেশ ক্রিকেটারদের বডি ল্যাংগুয়েজই এদিন বলে দিচ্ছিল কতটা স্বতঃস্ফূর্ত তারা। জয়ের জন্য কতটা ক্ষুধার্ত। সেই ক্ষুধা প্রথম ইনিংসে মিটেছে। সামনের চারদিন কী হয় তাই দেখার বিষয়। তবে প্রথম দিনে সাকিবের রাজত্বে বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে সবচেয়ে কম রানে অলআউট হয়েছে ঠিকই জিম্বাবুইয়ে।
আইএসের সঙ্গে এক হওয়ার জন্য জামায়াতের মাস্টারপ্ল্যান
বিপুল অস্ত্রসহ চার হুজি জঙ্গী গ্রেফতার
বিশেষ প্রতিনিধি ॥ দেশের সকল উগ্র জঙ্গী ও ধর্ম ব্যবসায়ী দল নিয়ে ইসলামিক স্টেট বা ‘আইএস’-এর সঙ্গে এক হওয়ার চেষ্টায় জড়িত থাকা চার হুজি জঙ্গীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশই এ কাজের মূল। তারা দেশের সকল জঙ্গী নিয়ে আইএসে যোগ দেয়ার জন্য ‘বাংলাদেশ জিহাদী গ্রুপ’ নামের একটি সম্মিলিত প্ল্যাটফর্ম করার এ মাস্টার প্ল্যান তৈরি করেছে জামায়াতে ইসলামী।
গ্রেফতারকৃত চার জঙ্গীর কাছে পাওয়া গেছে পাকিস্তানে তৈরি একটি সাব মেশিনগান, উচ্চমাত্রার ৫৫ ধরনের বিস্ফোরক, জেহাদী বই এবং ‘আইএস’ মনোগ্রাম।
গোয়েন্দা হেফাজতে জঙ্গীরা জানায়, তাদের উদ্দেশ্য ছিল অক্টোবর মাসের শেষে ২০০৪ সালের একুশে আগস্টের মতো গ্রেনেড হামলা করে দেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তির বিনাশ ঘটানো। একই সঙ্গে আলকায়দা অনুসারী জঙ্গী সংগঠন আইএসের সঙ্গে মিলে কয়েকটি জেহাদী গ্রুপে বিভক্ত হয়ে গোপন হত্যা। এই চার জঙ্গী ঢাকা, রাজশাহী ও চট্টগ্রামে নাশকতার পরিকল্পনা করেছিল বলে জানান গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও লতিফ সিদ্দিকীসহ কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তিকে হত্যার পরিকল্পনা ছিল তাদের। উল্লেখ্য, সম্প্রতি হজ এবং তবলীগ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে রোষানলে পড়েছেন লতিফ সিদ্দিকী।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ এবং নগর বিশেষ শাখা (এসবি)র পাঁচটি দল বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বৃহস্পতি ও শুক্রবার রাজধানীর উত্তরা, টিকাটুলি এবং নারায়ণগঞ্জ থেকে মোঃ রফিক আহমেদ ওরফে সাজিদ (৩৪), মোঃ উমর ওরফে ফয়জুল ওরফে রবি (২৫), মোঃ নাদিম আহমেদ ওরফে সুমন (৩০) ও মোঃ সালাউদ্দিন আহমেদকে (২৯) গ্রেফতার করে। বোমা তৈরি এবং উচ্চমাত্রার বিস্ফোরক পদার্থ নিয়ে গবেষণা করার জন্য তাদের তৈরি দুইটি ল্যাবরেটরির সন্ধান পাওয়া যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এবং রাজধানীর ওয়ারীতে। জঙ্গীরা জানিয়েছে বোমা তৈরি এবং জঙ্গীবাদ প্রচারণার জন্য বাংলাদেশের বিভিন্ন উৎস ছাড়াও পাকিস্তান থেকে আসত তাদের অর্থ। এই অর্থের যোগানদাতার সন্ধানে মাঠে নেমেছেন গোয়েন্দারা।
উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলায় ২৪ জন নিহত হন এবং তৎকালীন বিরোধী দলের নেতা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ অনেকেই প্রাণে বেঁচে গেলেও আহত হয়েছিলেন। হুজি জঙ্গীদের ভাষায় সেই ‘অসমাপ্ত কাজ’ ‘সমাপ্ত’ করতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের হত্যা করে দেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তিকে বিনাশ করাই তাদের মূল লক্ষ্য। আগস্ট মাসেই নাশকতার উদ্দেশ্য থাকলেও আগস্টে দেশের নিরাপত্তা বাহিনী তুলনামূলকভাবে বেশি সতর্ক থাকার কারণে অক্টোবর মাসে নাশকতা ঘটানোর সিদ্ধান্ত নেয় জামায়াত হুজি নেতারা।
এই চার জঙ্গীর আস্তানা থেকে উদ্ধারকৃত বিস্ফোরক দিয়ে তৈরি বোমা দিয়ে কোন বড় সমাবেশে হামলা করলে এর বিস্ফোরণে কমপক্ষে ২৫ জন মানুষ একসঙ্গে নিহত হতে পারে জানালেন বোমা বিশেষজ্ঞ গোয়েন্দারা। জামায়াত হুজি জঙ্গী জোটের তালিকা ডাটাবেজ করে রাখা হয়েছে, যাতে পরবর্তীতে যে ‘মুজাহিদ’ই দায়িত্ব নিক না কেন, দলের নির্দেশনা অনুসরণ করে যেন তা বাস্তবায়ন করতে পারে, সেজন্য হত্যা তালিকায় দেশের গুরুত্বপূর্ণ এবং সম্মানিত (ভিভিআইপি) ব্যক্তিদের নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর, বাসার ঠিকানা, গাড়ির নম্বর লিপিবদ্ধ রাখা হয়েছে। পাকিস্তানে তৈরি সাবমেশিন গান (এসএমজি) কাশিমপুর কারাগারে বন্দী হুজি আধ্যাত্মিক গুরু আবু জাফরের বলে পুলিশের কাছে দাবি করেছে এই চার জঙ্গীর নেতা রফিক আহমেদ ওরফে সাজিদ। জাফরের আত্মীয় পরিচয়ে তার আদালতে হাজিরার দিন এবং কাশিমপুর কারাগারে নিয়মিত দেখা করে কর্মপরিকল্পনা এবং নির্দেশনা নিয়েছেন তার ভাবশিষ্য এবং সন্তানতুল্য লালিত উমর ওরফে ফয়জুল, ওরফে রবি।
গ্রেফতারকৃতরা হরকাতুল জিহাদের সক্রিয় সদস্য উল্লেখ করে অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া এক কর্মকর্তা জানান, গ্রেফতার চারজনের মধ্যে মোঃ রফিক আহমেদ ওরফে সাজিদ তাদের সংগঠক। অর্থ সংগ্রহের দায়িত্ব পালন করত সাজিদ। রাজধানীর প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক শ্রেণীর রসায়ন বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র উমর দক্ষ বোমা কারিগর। হুজি জঙ্গী উমর আত্মরক্ষার কৌশল হিসেবে তার ২৫ বছর বয়সের মধ্যেই কখনও ফয়জুল কখনও রবি নামে পরিচিত করেছে নিজেকে। গোয়েন্দা শাখার যুগ্ম কমিশনার মুহম্মদ মনিরুল ইসলাম জনকণ্ঠকে জানান, বোমা বানানোতে বাংলাদেশে এ পর্যন্ত সবচেয়ে দক্ষ জঙ্গী ছিল বোমারু মিজান। উমরকে বোমা বানানো এবং জঙ্গীবাদে কাগজে কলমে এবং হাতে কলমে প্রশিক্ষিত করেছে হুজি নেতা মওলানা আবু সাঈদ প্রকাশ আবু জাফর। এ কারণে উমর পুঁথিগত বিদ্যা এবং কারিগরি দিক দু’ভাবেই দক্ষ, যা বোমারু মিজানের ছিল না বলে জানালেন এ গোয়েন্দা কর্মকর্তা। কাশিমপুর কারাগারে বন্দী জেহাদী গুরু মওলানা আবু সাঈদ প্রকাশ আবু জাফর সন্তানের মতো লালন পালন করে তার ভাবশিষ্য হিসেবে গড়ে তুলেছেন হুজি জঙ্গী উমরকে। মওলানা আবু সাঈদ প্রকাশ আবু জাফর হরকাত-উল-জিহাদ আল ইসলামী (হুজি) আমির মুফতি হান্নানের ও আধ্যাত্মিক দীক্ষাগুরু।
হুজির অন্য সদস্যরা বোমা তৈরিতে উমরের কারিগরি এবং পুঁথিগত দক্ষতা কাজে লাগায়। গ্রেফতারকৃত জঙ্গী নাদিম আহমেদ সুমন ও সালাউদ্দিন বোমা তৈরির সরঞ্জাম সরবরাহের কাজ করত। গ্রেফতার হওয়া নিষিদ্ধ জঙ্গী সংগঠন হরকাতুল জিহাদের চার সদস্য জিজ্ঞাসাবাদে এ তথ্য দিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জঙ্গীবিরোধী এই অভিযানের নির্দেশনা দেন গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য বিভাগ (দক্ষিণ)-এর অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত উপকমিশনার জাহাঙ্গীর হোসেন মাতুব্বর। জনকণ্ঠকে জাহাঙ্গীর হোসেন মাতুব্বর জানান, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এই জঙ্গীদের জন্য তুলনামূলক নিরাপদ ক্ষেত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। তাই হুজি জঙ্গীরা নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার ধর্মগঞ্জে মালেক সরকারের বাড়ি ভাড়া নেয় ২০০৩ সালে। এখানেই দুই মাস আগে ল্যাবরেটরি প্রতিষ্ঠা করে পদার্থবিদ্যার ছাত্র উমরের নির্দেশনায় শক্তিশালী বোমা বানানোর প্রস্তুতি নেয়। ল্যাবরেটরিতে বিস্ফোরক থেকে আত্মরক্ষার মাস্কসহ প্রয়োজনীয় অনেক উপকরণ পাওয়া যায়। অন্যদিকে রাজধানীর ওয়ারী থানার র‌্যাংকিন স্ট্রীটের ৬ তালা বিল্ডিং ভাড়া নিয়ে আরেকটি ল্যাব তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছিল হুজি জঙ্গীরা।
বোমা বানানোর জন্য এই বিপুল বিনিয়োগের নেপথ্যে দেশের অনেক রাজনৈতিক নেতার অর্থায়ন আছে বলে জানিয়েছে জঙ্গীরা। এ তথ্য যাচাই করা হচ্ছে বলে জানালেন গোয়েন্দারা।
বন্ধ জনশক্তি রফতানি চালু করার লক্ষ্যেই আমিরাতে প্রধানমন্ত্রী
আবুধাবি বিমানবন্দরে উষ্ণ অভ্যর্থনা
বিশেষ প্রতিনিধি ॥ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কোন্নয়ন ও বন্ধ থাকা জনশক্তি রফতানির বৃহত্তম বাজারটি আবার চালু করার লক্ষ্যে তিনদিনের সরকারী সফরে তেলসমৃদ্ধ উপসাগরীয় দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) গেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার সকাল সাড়ে আটটায় বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইটে ঢাকা ত্যাগ করে স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে এগারোটায় আবুধাবি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী।
ইউএই’র সমাজকল্যাণমন্ত্রী মরিয়ম মোহাম্মাদ খালফান আল রুমি ও ইউএইতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মাদ ইমরান এবং দুই দেশের উর্ধতন কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিক মোটর শোভাযাত্রা সহকারে সেন্ট রেজিস হোটেল যান। সফরকালে তিনি এ হোটেলেই থাকবেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আরব আমিরাত সফরে বন্ধ থাকা জনশক্তি রফতানির দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজার আবার চালু হওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এমন আশার কথা জানিয়েছে। দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ দ্বিতীয় বৃহত্তম শ্রম বাজার সংযুক্ত আরব আমিরাতে জনশক্তি রফতানি বন্ধ রয়েছে। বাজারটি খুলে গেলে বাংলাদেশের কয়েক লাখ কর্মীর কর্মসংস্থান হবে।
সূত্র জানায়, সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশের জনশক্তি রয়েছে ১৫ লাখের বেশি। বাংলাদেশী কর্মীদের অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় হঠাৎ করে দেশটির কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি রফতানি বন্ধ করে দেয়। এক পর্যায়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত সব বাংলাদেশীর ভিসাও বন্ধ করে দিয়েছিল। এছাড়া বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনেক কোম্পানি বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু বর্তমানে বিশ্ব মন্দা পরিস্থিতি কাটিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত নতুন করে জনশক্তি নেয়ার কাজ শুরু করেছে। কিন্তু বাংলাদেশী কর্মীদের বেলায় এখনও কঠোর অবস্থানে রয়েছে আমিরাত কর্তৃপক্ষ। প্রধানমন্ত্রী এই বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আরব আমিরাত সফরে গেছেন। সফরকালে বাংলাদেশী যারা আরব আমিরাতের কারাগারে আটক রয়েছেন, তাদের ফেরত আনাসহ আরও কয়েকটি বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
আরব আমিরাতের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগের প্রাক্কালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, বেসামরিক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, তিন বাহিনীর প্রধানগণ এবং উচ্চপর্যায়ের সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা তাঁকে বিদায় জানান। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, তিনদিনের এ দ্বিপাক্ষিক সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইউএই’র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী, জাতির মাতা, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। আজ রবিবার আবুধাবিতে জাতির মাতা শেখ ফাতিমা, যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল্লাহ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক করার কথা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবুধাবিতে বাংলাদেশী কমিউনিটির দেয়া এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানেও যোগ দেবেন।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রী সেখানে ইউএইর ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী এবং দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মাদ বিন রশিদ আল মকতুমের সঙ্গে বৈঠক করতে সোমবার দুবাই যাবেন। এরপর শেখ হাসিনা রাস আল-খাইমাহ (আরএকে) সফর করবেন এবং সেখানে তিনি রাস আল-খাইমাহর শাসক শেখ সৌদ বিন আকর আল কাশিমির সঙ্গে বৈঠক করবেন। প্রধানমন্ত্রী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে সোমবার রাতে দেশে ফিরবেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রটি আরও জানায়, সফরকালে বাংলাদেশ ও ইউএইর মধ্যে বাণিজ্য, জনশক্তি ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত ছয়টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে। এ ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে যেসব চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে পারে, তার মধ্যে রয়েছে ফরেন অফিস কনসাল্টেশন বিষয়ক সমঝোতা স্মারক, জনশক্তি রফতানি পুনরায় চালু করতে ইউএই’র একটি আউটসোর্সিং কোম্পানির সঙ্গে সমঝোতা স্মারক এবং দ-প্রাপ্ত আসামি প্রত্যাবাসন এবং বিনিয়োগ সুরক্ষা ও সম্প্রসারণ সংক্রান্ত চুক্তি।
এছাড়া সফরকালে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় ইউএইর আল-নাহিয়ান ফাউন্ডেশন কর্তৃক একটি হাসপাতাল স্থাপন চুক্তি, কূটনৈতিক ও সরকারী পাসপোর্টধারীদের ভিসামুক্ত গমনাগমন চুক্তি, উচ্চ শিক্ষা ও বৈজ্ঞানিক গবেষণা বিষয়ক সমঝোতা স্মারক এবং ইউএই দূতাবাসের জন্য ঢাকায় এক খ- জমি হস্তান্তর চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে।
অবকাঠামো ও জমি সমস্যার ফাঁদ ॥ মুখ ঢাকছে বিনিয়োগ
০ নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়লেও প্রকৃত বিনিয়োগে হতাশা
০ কর্মসংস্থান ও প্রবৃদ্ধি অর্জনে নেতিবাচক প্রভাব
০ ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য পূরণ হচ্ছে না
হামিদ-উজ-জামান মামুন ॥ জমি ও অবকাঠামোর ফাঁদে আটকে আছে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ। নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কিছুটা বাড়লেও প্রকৃত বিনিয়োগ নিয়ে হতাশা কাটছে না। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিরাজমান থাকলেও শুধু জমি ও অবকাঠামো সমস্যার কারণেই দেশে কাক্সিক্ষত বিনিয়োগ হচ্ছে না । এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে। এ প্রেক্ষিতে কাক্সিক্ষত বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে দ্রুত সমস্যা সমাধানের তাগিদ দিয়েছে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, অর্থনীতিবিদ, শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
এ বিষয়ে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দীন জনকণ্ঠকে বলেন, গত বছরের রাজনৈতিক অস্থিরতার পরও বর্তমানে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ বাড়ছে। সেই পরিবেশ আমরা তৈরি করতে পেরেছি। তারপরও সবাই জানি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে জমি ও অবকাঠামো সমস্যা রয়েছে। আজ (শনিবার) অনুষ্ঠিত আমাদের বোর্ড সভায় আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে যে, বিনিয়োগকারীদের জন্য জমি ও অবকাঠামো সমস্যা সমাধানের জন্য কি কি করা যায় সে বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। কেননা বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করতে চাচ্ছে। যেমন, জমি দেয়া হয়েছে বলেই জাপান বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে আসছে। কয়েকদিন আগে ইতালি সফরে দেখেছি প্রচুর বিনিয়োগকারী বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এখন সমস্যাগুলো সমাধানে কাজ করতে হবে।
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক ড. মোস্তফা কে. মুজেরী জনকণ্ঠকে বলেন, বিনিয়োগ বোর্ডের হিসাব অনুযায়ী নিবন্ধিত বিদেশী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা হয়ত কিছুটা বেড়েছে। কিন্তু রেজিস্ট্রেশন মানে তো আর বিনিয়োগ নয়। এটি হচ্ছে ইনটেনশন বা বিনিয়োগের ইচ্ছা। তাই প্রকৃত বিনিয়োগ কতটা হচ্ছে সেটিই ভাবনার বিষয়। তিনি বলেন, সামগ্রিকভাবে বেসরকারী বিনিয়োগ শ্লথ। যেখানে বেসরকারী বিনিয়োগ কাক্সিক্ষত গতি পায়নি, সেখানে বিদেশী বিনিয়োগ আশা করা যায় না। বিদেশী বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অনেক বাধা রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান বাধা হিসেবে মনে করছি জমির দুষ্প্রাপ্যতা এবং অবকাঠামো সমস্যা। এক্ষেত্রে যোগাযোগ খাতের বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীর গতি, বিদ্যুত সমস্যা ও পোর্টের ক্ষেত্রে এখনও সমস্যা বিরাজ করছে। তার মধ্যেও বিনিয়োগ ক্ষেত্রে সামান্য উন্নতি হলেও সামগ্রিকভাবে কাক্সিক্ষত মাত্রায় হচ্ছে না।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নীতির ক্ষেত্রে খুব বেশি সমস্যা নেই। তারপরও কোরিয়ান ইপিজেড নিয়ে যে সমস্যা হয়েছে তাতে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের কাছে ভুল সিগন্যাল যাচ্ছে। আমরা স্পেশাল ইকোনমিক জোন দ্রুত করতে পারছি না বা ধীরগতি বিরাজ করছে। এখন কিছু বিদেশী মাল্টিন্যাশনাল বিনিয়োগ দ্রুত দেশে আনতে হবে। তাহলে অন্যরা দেখে উৎসাহিত হবে।
সূত্র জানায়, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন মাস পর্যন্ত তিন মাসে শতভাগ বিদেশী প্রতিষ্ঠান ১০টি এবং যৌথ বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ১৬টিসহ মোট ২৬টি প্রতিষ্ঠান নিবন্ধিত হয়েছে। এগুলোর বিনিয়োগের পরিমাণ ৫০৭ কোটি ৫৮ লাখ ২ হাজার কোটি টাকা। তার আগের তিন মাসে অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত নিবন্ধিত হয়েছিল ৪০টি প্রতিষ্ঠান। এতে বিনিয়োগ হয়েছিল ১ হাজার ১৬৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। এক্ষেত্রে যৌথ ও শতভাগ বিদেশী বিনিয়োগ কমেছে ৫৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ।
কিন্তু পরবর্তীতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিরাজ করায় দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ কিছুটা বাড়তে শুরু করেছে। বিনিয়োগ বোর্ডের সর্বশেষ নিবন্ধিত শিল্পের ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে শতভাগ বিদেশী প্রতিষ্ঠান ১২টি এবং যৌথ বিনিয়োগের জন্য নিবন্ধিত ১৫টি শিল্প প্রতিষ্ঠানসহ মোট ২৭টি নিবন্ধিত শিল্প ইউনিটের প্রস্তাব পাওয়া গেছে। এসব ইউনিটে বিনিয়োগের পরিমাণ এক হাজার ৭১১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। এক্ষেত্রে তার আগের তিন মাসের তুলনায় প্রস্তাবিত বিনিয়োগকৃত অর্থের পরিমাণ বেড়েছে। পাশপাশি বেড়েছে দেশী বিনিয়োগ নিবন্ধনের সংখ্যাও।
বিনিয়োগ বোর্ড বলছে স্থানীয় ও বৈদেশিক মিলে সম্মিলিতভাবে বস্ত্রশিল্প খাতে বেশী বিনিয়োগ পাওয়া গেছে; যা মোট বিনিয়োগের ৩৭ দশমিক ৩৪ শতাংশ। এছাড়া পর্যায়ক্রমিকভাবে ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে ২৯ দশমিক ৩১, রসায়ন শিল্প খাতে ১৩ দশমিক ৫৬, সেবা খাতে আট দশমিক ২৬ এবং অন্যান্য শিল্পখাতে ১১ দশমিক ৫৩ শতাংশ বিনিয়োগ প্রস্তাব নিবন্ধিত হয়েছে।
বিনিয়োগ বিষয়ে এক্সপোর্টার্স এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি আব্দুস মুর্শেদী জনকণ্ঠকে বলেন, বিনিয়োগ বোর্ডে নিবন্ধিত শিল্প ইউনিটের সংখ্যা বাড়লেই যে আশান্বিত হতে হবে এমন কোন কথা নেই। বাস্তবতা হচ্ছে অনেক দেশী ও বিদেশী বিনিয়োগকারী নিবন্ধন করে দুশ্চিন্তায় আছে। প্রায় দুই শ’র মতো কোম্পানি ব্যাংক ঋণ ম্যানেজ করেছে অন্যান্য কাজও করেছে; কিন্তু ইউটিলিটর অভাবে কারখানা চালু করতে পারছে না। আবার অনেকেই সবকিছু রেডি করেছে কিন্তু জমি পাচ্ছে না। তাছাড়া রফতনিমুখী শিল্পের উদ্যোক্তারা হিমসিম খাচ্ছে। কারণ গত বছরের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা যদিও এখন নেই তারপরও পরিবহন খাতের সমস্যা এবং ব্যাংকিং খাতেও সমস্যা বিরাজমান। এ্যাকর্ড ও এ্যালায়েন্স আসার কারণে আমাদের কমপ্লায়েন্স ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। সেই সঙ্গে বিনিয়োগের জন্য একটি অন্যতম উপাদান জমির দাম এখন সবচেয়ে বেশি। বিদ্যুত, গ্যাস ও অবকাঠামো খাতের সমস্যা সমাধান করে কিছু শিল্পে সরকারকে রিফাইন্যান্সিং করা উচিত, যেটি ভারতে আছে। এখন বলতে গেলে বলতে হয় উদ্যোক্তারা নিজেদের টিকিয়ে রাখার কাজে ব্যস্ত। এ অবস্থায় নতুন বিনিয়োগ আনতে গেলে সরকারীভাবে প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করতে হবে।
বিশ্বব্যাংকের মতে, চলতি অর্থবছরে ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে গেলে ৩৪ থেকে ৩৫ শতাংশ বিনিয়োগ দরকার। বর্তমানে জিডিপির ২৮ শতাংশ বিনিয়োগ হচ্ছে। এক বছরের মধ্যে তা ৩৪ শতাংশে নিয়ে যাওয়া প্রায় অসম্ভব। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রধান সমস্যা হচ্ছে ভূমি ও অবকাঠামো। এজন্য যে চারটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে তা দ্রুত করার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো তৈরি হলে সেখানে ব্যাপক বিদেশী বিনিয়োগ আসবে। তাছাড়া তৈরি পোশাক খাতের চলমান সংস্কারের পাশাপাশি পদ্মা সেতুর বাস্তবায়ন, ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-ময়মনসিংহ চার লেন সড়কের কাজ দ্রুত শেষ করা, ঢাকা-চট্টগ্রাম ডবল লাইন রেলপথ, ঢাকা মেট্রোরেলসহ বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীর আওতায় নেয়া বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্পের বাস্তবায়ন করতে হবে। সংস্থাটির পক্ষ থেকে সম্প্রতি বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিনিয়োগের জন্য পরিবেশের ঘাটতি রয়েছে। জাতীয় সঞ্চয় হার এখন জিডিপির ৩০ শতাংশ; যা অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ হারের চেয়ে ১ দশমিক ৮৫ শতাংশ বেশি।
ঢাকা অফিসে নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, বিনিয়োগ হওয়ার মতো সম্ভাবনা ও অর্থ থাকলেও রাস্তাঘাট, অবকাঠামো, গ্যাস, বিদ্যুত ও বন্দর সুবিধা, অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি হলে বেসরকারী ও বিদেশী বিনিয়োগ আসবে।
বিনিয়োগ বিষয়ে ফরেন ইনভেস্টমেন্ট চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফআইসিসিআই) সভাপতি রুপালী চৌধুরী জনকণ্ঠকে বলেন, আমাদের বিনিয়োগের প্রধান সমস্যাই হচ্ছে জমি নিয়ে। সেই সঙ্গে অবকাঠামো। এই দুই সমস্যার কারণে কাক্সিক্ষত বিনিয়োগ আসছে না। ফলে কাক্সিক্ষত কর্মসংস্থান ও প্রবৃদ্ধিও হচ্ছে না। এজন্য অতি দ্রুত সরকারকে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি করতে হবে। রাস্তা, বন্দর, বিদ্যুত-গ্যাস সমস্যার সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া জরুরী। আর একটি বিষয় হচ্ছে, দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে হবে। তাহলে বিদেশী বিনিয়োগ বাড়বে।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, চলমান ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা অনুযায়ী পাঁচ বছরে মোট দেশজ বিনিয়োগ ধরা হয়েছে যথাক্রমে (জিডিপির অংশ) ২৬ দশমিক পাঁচ শতাংশ, ২৮ দশমিক চার শতাংশ, ২৯ দশমিক ছয় শতাংশ, ৩১ শতাংশ এবং শেষ বছরে ৩২ দশমিক পাঁচ শতাংশ। ব্যক্তিখাতের বিনিয়োগ (জিডিপির অংশ) যথাক্রমে ২০ দশমিক নয় শতাংশ, ২২ দশমিক দুই শতাংশ, ২৩ শতাংশ, ২৪ শতাংশ এবং ২৫ শতাংশ। অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ ( জিডিপির অংশ) যথাক্রমে দুই শতাংশ, তিন দশমিক পাঁচ শতাংশ, চার দশমিক পাঁচ শতাংশ, পাঁচ শতাংশ এবং ছয় শতাংশ। সরকারী খাতে বিনিয়োগ (জিডিপির অংশ) যথাক্রমে পাঁচ দশমিক ছয় শতাংশ, ছয় দশমিক দুই শতাংশ, ছয় দশমিক ছয় শতাংশ, সাত শতাংশ এবং সাত দশমিক পাঁচ শতাংশ।
২০১১ সাল থেকে বাস্তবায়ন শুরু হওয়া পরিকল্পনায় বলা হয়েছিল, ২০১৫ সাল নাগাদ সরকারী ও বেসরকারী বিনিয়োগ জিডিপির ৩২ শতাংশে উন্নীত করা হবে। ওই বছর বিনিয়োগ ছিল জিডিপির ২৪ শতাংশ। কিন্তু সম্প্রতি মধ্যবর্তী মূল্যায়নে দেখা গেছে, চার বছর পর এখন সরকারী-বেসকারী বিনিয়োগ হয়েছে জিডিপির ২৮ দশমিক ৬৯ শতাংশ। বাকি এক বছরে তা তিন শতাংশ বাড়িয়ে ৩২ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হবে না। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,সরকারী ও মোট বিনিয়োগের লক্ষ্য ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্র্ণ নয়। যদিও পূর্বের যেকোন সময়ের তুলনায় বিনিয়োগের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে; তারপরও মোটের ওপর ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় বিনিয়োগের লক্ষ্য পূরণ হবে না। বলা হয়েছে, বাংলাদেশ গ্লোবাল কার্যসম্পাদন ক্ষমতা র‌্যাংকিং হতে দেখা যায় বিনিয়োগের পরিবেশ ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার প্রক্ষেপণ মতো সহায়ক নয়।
এ বিষয়ে পরিকল্পনার মূল্যায়ন প্রতিবেদন তৈরির সঙ্গে যুক্ত পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য ড. শামসুল আলম জনকণ্ঠকে বলেন, শুধু রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা থাকলেই বিনিয়োগ আসবে না। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বছরের পর বছর ধরে সিভিল ওয়্যার চলছে। সেসব দেশে বিনিয়োগ ও প্রবৃদ্ধি বেড়েই চলছে। আমাদের দেশে মূল সমস্যা হচ্ছে জমির সঙ্কট আর অবকাঠামো। যদিও বিদ্যুত সমস্যার কিছুটা উন্নতি হয়েছে কিন্তু গ্যাস দিতে পারছি না। বর্তমানে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে অতীতের যেকোন সময়ের তুলনায় ভাল আছে। ফলে বিনিয়োগকারীদের কিছুটা আস্থা ফিরে আসছে। বিনিয়োগ নীতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ যথেষ্ট উদার হলেও আমাদের প্রধান দুটি সমস্যা সমাধান দ্রুত করতে হবে। পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
অন্যদিকে সম্প্রতি প্রকাশিত জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থার (আঙ্কটাড) ‘বিশ্ব বিনিয়োগ রিপোর্ট ২০১৪’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে অর্থনীতির ওপর আস্থা থাকায় ২০১৩ সালে দেশে সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগ বেড়েছে। এজন্য গত বছর রাজনৈতিক অস্থিরতা থাকলেও তার প্রভাব পড়েনি বিদেশী বিনিয়োগে। দেশে গত বছর এই বিনিয়োগ হয়েছে ১৫৯ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার, যা আগের বছরের চেয়ে প্রায় ২৪ শতাংশ বেশি। আর সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ এসেছে ব্যাংকিং, টেক্সটাইল এবং টেলিকমিউনিকেশন্স খাতে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৩ সালে বিশ্বে এফডিআই ৯ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১ দশমিক ৪৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। সংস্থাটি মনে করছে, ২০১৪ সালে আঙ্কটাড প্রকল্পের আওতায় উন্নত দেশগুলোতে এই বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়াবে ১ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে। আর ২০১৬ সালে তা ১ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছবে। আঙ্কটাডের ওই প্রতিবেদনে বাংলাদেশে এই বিনিয়োগের বৃদ্ধি দেখানো হয়েছে ২৩ দশমিক ৬৬ শতাংশ। তা ২০১২ সালে ১৩ দশমিক ৮২ শতাংশ বেড়েছিল। প্রতিবেশী দেশ ভারতে এই বৃদ্ধির হার ১৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ বেড়ে বিনিয়োগ হয়েছে ২ হাজার ৮১৯ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার। তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট খাতগুলোতে বেসরকারী বিনিয়োগের অংশগ্রহণ তুলনামূলকভাবে কমে গেছে। উন্নয়নশীল দেশের তুলনায় স্বল্পোন্নত দেশগুলোতে (এলডিসি) এটা বেশিমাত্রায় কমেছে। ওই প্রতিবেদন প্রকাশের সময় প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের পরে বাংলাদেশের অবস্থানকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, আশা করছি-এফডিআই আগামী বছর ৫০ শতাংশ বেড়ে ২ থেকে আড়াই বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ হবে। তবে এজন্য অবকাঠামো খাতের ব্যাপক উন্নতি দরকার হবে। সরকার সেই লক্ষ্য সামনে নিয়ে কাজ করছে। তিনি বলেন, এটা ঠিক, আমাদের অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। কিন্তু বর্তমান সরকারের প্রতি বিদেশীদের দীর্ঘমেয়াদি আস্থা রয়েছে। এজন্য দেশের উৎপাদনমুখী বিভিন্ন শিল্পখাতে বিদেশী বিনিয়োগ বেড়েছে। তিনি বলেন, বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে বাংলাদেশ, চীন, ভারত ও মিয়ানমারকে সঙ্গে নিয়ে গঠন করা হচ্ছে বিসিআইএম। গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করা হবে। এছাড়া বিদ্যুত উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে। মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্র বিরোধ নিষ্পত্তি হয়েছে। ফলে দেশে বিদেশীরা আকৃষ্ট হচ্ছেন। ইন্ডাস্ট্রিতে বিদ্যুত দিতে অবকাঠামো দরকার। এখন সেই অবকাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে।
এর আগে এক প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংক বলেছিল, শ্রমঘন ছয় খাতে দেড় কোটি লোকের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে। একে কাজে লাগাতে ৫টি পরামর্শ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। এর ওপর ভিত্তি করে একটি কর্মকৌশল তৈরি করছে সরকার। এ বিষয়ে ইতোমধ্যেই ১৭টি মন্ত্রণালয় ও সংস্থার কাছ থেকে মতামত নেয়া হয়েছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন ও উচ্চতর প্রবৃদ্ধি কর্মকৌশল সংক্রান্ত এক সভায় কর্মসংস্থান সৃষ্টির এ বিষয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে বলে জানােেগছে। এ নিয়ে মুখ্য সচিবকে প্রধান করে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। তবে এ উদ্যোগটি যতটা দ্রুত হওয়া দরকার ততটা দ্রুত হচ্ছে না বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক।
এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের লীড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন জনকণ্ঠকে বলেন, শ্রমিকদের দাম বাড়ায় চীন থেকে আগামী দশ বছরে ৮০ মিলিয়ন কর্মসংস্থান বেরিয়ে যাবে। এর মধ্যে আমরা হিসাব করেছি বাংলাদেশে শ্রমঘন শিল্পে ১৫ মিলিয়ন কর্মসংস্থান সম্ভব। কিন্তু এর জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে। এর জন্য বিনিয়োগ দরকার। অবকাঠামো, জমি, দক্ষ শ্রমিক, অর্থায়ন ও জ্বালানি এগুলোর প্রয়োজন। এর সব এক সঙ্গে করে অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরির ওপর বেশি জোর দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, থাইল্যান্ডে যেখানে ৩০০ অর্থনৈতিক অঞ্চল, চীনে ৩ হাজার এবং ফিলিপিন্সে ৩০০ অর্থনৈতিক অঞ্চল রয়েছে সেখানে বাংলাদেশে কার্যকর রয়েছে মাত্র ৩টি এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন (অর্থনৈতিক অঞ্চল নয়)। কাজেই অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি করে কাক্সিক্ষত কর্মসংস্থান তৈরির ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।
আদিবাসীদের অস্তিত্ব রক্ষায় পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান
দিনাজপুরে সেমিনারে বক্তারা
স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর ॥ ‘পার্বত্য ও সমতল অঞ্চলের সকল আদিবাসী জাতি গোষ্ঠীকে তাদের ভাষা, শিল্প, সংস্কৃতি, জীবন ধারা, স্বতন্ত্র, সংরক্ষণসহ সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেয়া, সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন গঠন করা এবং পৃথক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার দাবিকে সামনে রেখে’ শনিবার নর্দান ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (এনডিএফ) দিনাজপুরের আয়োজনে মাতাসাগর মান্ডলিক পালকীয় কেন্দ্রের হলরুমে আদিবাসী ইস্যু ও মানবাধিকার সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এনডিএফের পরিচালক মিঃ ভিকটর লাকড়া’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মিঃ স্টিফেন মুর্মু, শাহজাহান শাহ্, ফাদার আলবেনুস টপ্য, চিত্ত ঘোষ, নির্মল সরেন, রণজিৎ কুমার রায়, এনএনদাশ, মোঃ শফিকুল ইসলাম, কেরাবিন হেমরম, আব্দুস সালাম, ভিকায়েল টুডু, ক্রিপ্টন প্রমুখ।

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে মেগা সাইন স্থাপন
স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ ॥ নারায়ণগঞ্জের দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় সতর্কতামূলক মেগা সাইন স্থাপন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় মেগা সাইন স্থাপন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন পুলিশ সুপার ড. খন্দকার মহিদ উদ্দিন। ওয়ালটনের সহায়তায় পুরো জেলার আড়াইশ দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় এসব মেগা সাইন স্থাপন করা হবে। এসব মেগা সাইন রাতের বেলায় উজ্জল আলো ছড়াবে, যা ১০-১৫ কিলোমিটার দূর থেকেও দেখা যাবে। এসব সাইন দেখে চালকরা সতর্কতার সঙ্গে গাড়ি চালাতে পারবে।



নেত্রকোনায় বিএনপির সম্মেলন ॥ এক পক্ষের বর্জন

নিজস্ব সংবাদদাতা, নেত্রকোনা, ২৫ অক্টোবর ॥ এক পক্ষের বিদ্রোহ ও বর্জনের মধ্য দিয়ে শনিবার জেলা শহরের চকপাড়া খেলার মাঠে নেত্রকোনা জেলা বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদ। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আশরাফ উদ্দিন খানের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ফজলুল হক মিলন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- কেন্দ্রীয় নেতা রায়হান আমিন রনি, খোরশেদ মিয়া আলম, রফিকুল ইসলাম হিলালী, কায়সার কামাল, আমীরুল ইসলাম আলীম, ডাঃ দেলোয়ার হোসেন টিটো প্রমুখ। সম্মেলন চলাকালে দুপুরে জেলা বিএনপির একটি অংশ শহরের পুরনো কালেক্টরেট চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশ করে। সেখানে বক্তব্য রাখেন- মোস্তাফিজুর রহমান খান রেজভী, এটিএম মোস্তফা চুন্নু, শফিকুল কাদের সুজা, কামাল আহমেদ, আব্দুল ওয়াহাব ভূঁইয়া, শামছুল আলম মারুফ প্রমুখ।

ইউপি চেয়ারম্যানসহ আটক চার

সিলেটে আ’লীগ কর্মী খুন
স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট অফিস ॥ সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে আওয়ামী লীগ কর্মী আবদুল আলী হত্যকা-ের ঘটনায় ডিবি পুলিশ শনিবার ভোরে সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তেলিখাল ইউপি চেয়ারম্যান কাজী আবদুল ওদুদ আলফু মিয়াসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, এরা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। আটককৃত অপর তিনজন হলেন- তোতা মিয়া, শফিক ও ওয়াসকুরুনি।

এসআইসহ ৫ পুলিশ ক্লোজড

গাইবান্ধায় যাত্রী লাঞ্ছিত
নিজস্ব সংবাদদাতা, গাইবান্ধা, ২৫ অক্টোবর ॥ গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থানার এক উপ-পরিদর্শকসহ (এসআই) ৫ পুলিশ সদস্যকে শনিবার প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে। তারা এখন পুলিশ লাইনে। একটি বাস থেকে ১৫ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধারকালে এক মহিলা যাত্রীকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় ওই পুলিশ সদস্যদের প্রত্যাহার করে নেয়া হয়।
রাঙ্গামাটিতে আওয়ামী লীগের কমিটি ঘোষণা
২২ মাস পর
নিজস্ব সংবাদদাতা, রাঙ্গামাটি, ২৫ অক্টোবর ॥ অবশেষে রাঙ্গামাটি জেলা আওয়ামী লীগের ৭১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হলো। শুক্রবার সন্ধ্যায় রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে একটি জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই কমিটি ঘোষণা করা হয়। ২০১২ সালের ৮ ডিসেম্বর ত্রিবার্ষিক কাউন্সিলের মাধ্যমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার ২২ মাস পর পূর্ণাঙ্গ কমিটি আত্মপ্রকাশ হলো। এবারের কমিটিতে সহযোগী সংগঠনের বেশ কিছু নেতা জেলা কমিটিতে স্থান পেয়েছে।
এবার কমিটি নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে বলে দাবি করে জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার বলেন, দীর্ঘ ২২ মাস পূর্বে জেলা কমিটির সম্মেলন ও কাউন্সিলের মাধ্যমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়। একান্ত ২ জনকে এ দীর্ঘসময় দলের সাংগঠনিক কাজগুলো করতে হলেও সকলের সার্বিক সহযোগিতায় অত্যন্ত আন্তরিকতায় সকল কর্মকা- আমরা একসঙ্গে করতে সমর্থ হয়েছি। আশা করি আগামী দিনে আমাদের সকল কর্মকাণ্ডে আরও গতিশীল ও সমন্বয়শীল হবে। তিনি কেন্দ্র অনুমোদিত ৭১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ও উপদেষ্টামন্ডলীর নাম ঘোষণা করেন।
ফেনী বিসিক শিল্পনগরী ৫১ বছরেও পূর্ণতা পায়নি
জিম্মি মালিকরা
নিজস্ব সংবাদদাতা, ফেনী, ২৫ অক্টোবর ॥ অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম, দুর্নীতির কারণে ৫১ বছরেও পূর্ণতা পায়নি ফেনী বিসিক শিল্পনগরী। গ্যাস,পানি,বিদ্যুত সমস্যা সর্বোপরি ব্যাংক্ ঋণের অতিরিক্ত সুদের হারের কারণে শিল্প কারখানা স্থাপনের প্রধান অন্তরায় হয়ে আছে। যান চলাচলের অযোগ্য রাস্তা, পানি, গ্যাস সরবরাহ অপ্রতুলতা, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকা, বর্জ্য নির্গমনের ড্রেন না থাকায় দুর্গন্ধে পরিবেশ দূষিত হয়ে পড়েছে। যে সকল প্রতিষ্ঠান কোনভাবে চালু রয়েছে তাও বিসিক কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা, দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে বন্ধ হওয়ার উপক্রম। ইতোমধ্যে বিসিক প্রধান কার্যালয় থেকে এক সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি দুর্নীতির অভিযোগ সরজমিনে তদন্ত করে গেছে। তদন্তে দুর্নীতি, অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ফেনী শহরতলীর চাড়িপুর এলাকায় ১৯৬২ সালে বিসিক শিল্পনগরী স্থাপন করা হয়। বিভিন্ন পরিমাপের ৪৪ টি প্লটের মধ্যে ১৫/১৬ টি শিল্পকারখানা চালু রয়েছে। প্লটের প্রতিশতক জমি ৭ হাজার ৫০০ টাকায় নির্ধারণ করে শিল্প মালিকদের কাছে দীর্ঘমেয়াদী ইজারা প্রদান করলেও অনেক ইজারা গ্রহিতা নির্ধারিত সময়ে শিল্পকারখানা গড়ে তুলেননি। অনেক ইজারা গ্রহীতা প্রতিশতক জমি ১০/১২ লাখ টাকা হিসাবে প্লট বিক্রি করে হাত গুটিয়ে নিয়েছে। শিল্প মালিকদের একটি সিন্ডিকেট প্লট নিয়ে রমরমা বাণিজ্য করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
শিল্প মালিক মনির উদ্দিন জানান, রাস্তার দুরবস্থার কারণে পণ্য পরিবহনে ভোগান্তি চরম রূপ ধারণ করেছে। রাস্তাটি সংস্কারের কোন উদ্যোগ গত ৫ বছরে নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ফেনী বিসিক শিল্প মালিক সমিতির সহসভাপতি আনোয়ার হোসেন ভুঞা জানান, বিসিক শিল্পনগরীতে শিল্প উদ্যোক্তাদের যে সকল সুবিধা পাওয়ার কথা তা তারা পাচ্ছে না, ফলে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।