মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শুক্রবার, ২৫ জুলাই ২০১৪, ১০ শ্রাবণ ১৪২১
পার্বতীপুরে টিআরের ১০০ টন গম আত্মসাত
লুটপাটের টাকা ফেরত দিতে মন্ত্রীর নির্দেশ
নিজস্ব সংবাদদাতা, পার্বতীপুর, ২৪ জুলাই ॥ পার্বতীপুরে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দকৃত ১০০ মেট্রিক টন গম আত্মসাতের ঘটনা ঘটে। প্রতিষ্ঠানসমূহের নামে বরাদ্দবৃত ৪-৫ মে.টন গমের বিপরীতে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা প্রকল্প সভাপতিদের হাতে ধরিয়ে দিয়ে সিংহভাগ গমের টাকাই আত্মসাত করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা বরাদ্দকৃত ডিও ডিলারদের মাঝে বিক্রি করে লুটের টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ বণ্টন করে নিয়েছে। ঘটনা প্রকাশ পেলে এলাকার সংসদ সদস্য সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী এ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান আত্মসাতকৃত টাকা আগামী ৪ আগস্টের মধ্যে স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানে ফেরত দিতে কর্তৃপক্ষকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন।
সূত্রমতে ২৪ জুলাই পার্বতীপুরের ২৪ মসজিদ ও মাদ্রাসার নামে ১০০ মে.টন গম বরাদ্দ আসে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার দফতরে প্রকল্পের সভাপতিদের হাতে ডিও দেয়ার পরপরেই বরাদ্দের পরিমাণ গোপন রেখে ফাঁকা ভাউচারে স্বাক্ষর নেয়া হয় এবং ২৩টি ডিওর কপি নিজের হাতে রেখে দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসের অফিস সহকারী আব্দুল মজিদ। পরে তিনি ডিও ক্রেতা শফিকুল, সাদেকুল ও সবুরের কাছে প্রতিটন ২১ হাজার টাকা করে ৯৬ মে.টন গম ২০ লাখ ৬ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন। তাকে সহযোগিতা করেন মোস্তাফিজুর ইউনিয়নের জনৈক আল-আমিন। বিক্রয়কৃত টাকা থেকে প্রতিষ্ঠানগুলোকে সর্বনিম্ন ৩শ’ টাকা ও সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা হিসেবে বড়জোর দেড় লাখ টাকা দেয়া হয়। অবশিষ্ট টাকা জড়িতরা নিজেদের মধ্যে ভাগ বণ্টন করে নেয়। সরেজমিন ঘুরে জনা গেছে হাবড়া ইউনিয়নের ঘনেশ্যামপুর কে.এম মাদ্রাসার নামে বরাদ্দ ছিল ৫ মে.টন গম। গমের বাজারমূল্য কমপক্ষে ১ লাখ টাকা। মাদ্রাসার প্রকল্প সভাপতি মোঃ বাদশাহ্ আলী পেয়েছেন মাত্র ১০ হাজার টাকা। চণ্ডিপুর ইউনিয়নের বারকোনা আদিবাসী কালী মন্দিরের সংস্কারের নামে বরাদ্দ ছিল ৪ মে.টন গম। মন্দিরের সভাপতি মন্টু হাজদা পেয়েছেন মাত্র ৬ হাজার টাকা। গোবিন্দপুর ফাজিল মাদ্রাসার সুপার রজব আলী জানান তার মাদ্রাসার নামে ৪ টন গম বরাদ্দ থাকলেও তিনি কিছুই পাননি। মন্মথপুর ইউনিয়নের মবুল্লাপাড়া, মোমিনপুর ইউনিয়নের কামারপাড়া নূরানী মাদ্রাসা, আমবাড়ী ব্রীডস জামে মসজিদ, বাজেদপুর হাফেজিয়া মাদ্রাসাসহ কমপক্ষে ১০টি প্রতিষ্ঠানের কোন অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। ইউএনও দফতরের অফিস সহকারী আঃ মজিদ বলেন, ঘটনায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেন। তবে যারা টাকা লুটপাট করেছে, তাদের টাকা ফেরত দিতে মন্ত্রী কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। সেই লক্ষ্যে টাকা আদায় করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈদুল আলম শান্ত বলেন, প্রকল্প সভাপতিদের হাতে ডিও দেয়ার সময় আমি ছিলাম। পরবর্তি ঘটনা তার জানা নেই।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান, প্রকল্প সভাপতিদের হাতে ডিও দেয়ার সময় প্রমাণের জন্য ছবি তুলে রাখা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে না পারলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। গম লুটপাটের বিষয় তিনি কিছু জানেন না। পার্বতীপুর ইউএনও রাহেনুল ইসলাম আজ বৃস্পতিবার জানান, প্রমাণ হাতে নিয়ে প্রকল্পের সভাপতিদের হাতে ডিও তুলে দেয়া হয়েছে। কাজেই বরাদ্দের গম লুটপাটের সুযোগ নেই। কাজ না করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জামালপুরে ১৬৩ বস্তা ভিজিএফ চালসহ আটক ১
নিজস্ব সংবাদদাতা জামালপুুর, থেকে জানান, জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় ১৬৩ বস্তা ভিজিএফ চালসহ একজনকে আটক করেছে উপজেলা প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব চাল উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার চরপাকেরদহ ইউনিয়নের তেঘুরিয়া বাজারে বিএনপি নেতা ফজলু মাস্টারের কোচিং থেকে ৬৫ বস্তা ভিজিএফের চাল উদ্ধার করা হয়। এ সময় ফজলুল মাস্টারকে আটক করা হয়। এ ছাড়াও একই ইউনিয়নের যুব দল নেতা গিয়াস উদ্দিনের চালের মিল থেকে ২০ বস্তা ও গুদাশিমুলিয়া গ্রামে আলমের বাড়ির পাশে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৭৮বস্তা ভিজিএফ চাল উদ্ধার করা হয়।
চরপাকেরদহ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহ্ মোহাম্মদ মজনু ফকির জানান, গত চার দিন আগে কার্ডধারীদের মাঝে ভিজিএফ চাল বিতরণ করা হয়েছে।
প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে বাংলা একাডেমির প্রতিবাদ
বাংলা একাডেমির অগস্ত্য যাত্রা! না অগ্রযাত্রা?
গত ১৯.০৭.২০১৪ তারিখ আপনার জনপ্রিয় পত্রিকা ‘জনকণ্ঠ’-এর প্রথম পৃষ্ঠায় ‘বাঙালীর প্রাণের প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমি : অগস্ত্য যাত্রা!’ শীর্ষক প্রধান সংবাদে যেসব অভিযোগ ও দুর্নীতির কথা বলা হয়েছে তা তথ্যনির্ভর নয় এবং বিভ্রান্তিকর ও সত্যের অপলাপ মাত্র। আমরা এই সংবাদের প্রতিবাদ জানাই। প্রতিবাদটি নিম্নরূপ-
প্রথমেই বলা হয়েছে মহাপরিচালক ছয় পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন। বাংলা একাডেমিতে বর্তমানে পাঁচজন পরিচালক আছেন। ২০১৩ সালের বাংলা একাডেমি আইন অনুযায়ী তিনটি বিভাগে কোন পরিচালককে পদায়ন করা হয়নি। সে অবস্থায় মহাপরিচালকের ছয় পরিচালকের দায়িত্ব পালন করা কী করে সম্ভব (!) সেটা বোধহয় জনকণ্ঠের সংবাদদাতাই জানেন। মহাপরিচালক অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার অধিকারী হয়ে উপসচিব পদমর্যাদায় পরিচালকের পদে নিজেকে নামিয়ে এনেছেন (!) সংবাদদাতার এহেন ভাবনা বড়ই হাস্যকর!
বড় বড় প্রকল্পে কী ধরনের দুর্নীতি হয়েছে তার সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য দেয়া হয়নি। সবই ঢালাও অভিযোগ মাত্র। বলা হয়েছে, বাংলা একাডেমির সঙ্গে এখন নাকি কিছু আজ্ঞাবহ লোক ছাড়া বাকি দুনিয়ার যোজন যোজন দূরত্ব। সত্য উদ্ঘাটনই বটে! বাংলা একাডেমির সঙ্গে কবি-সাহিত্যিক-শিল্পী এবং আন্তর্জাতিক বুদ্ধিবৃত্তিক ও জ্ঞানীগুণী সম্প্রদায়ের সঙ্গে আগে কখনও এতটা নিবিড় সম্পর্ক ছিল না। আগে কখনও বাংলা একাডেমিতে কোন নোবেল বিজয়ী আসেননি। বর্তমান মহাপরিচালকের আন্তর্জাতিক বিশ্বের সঙ্গে সাংস্কৃতিক এবং একাডেমিক যোগাযোগের ফলেই বাঙালীর অহঙ্কার নোবেলবিজয়ী অধ্যাপক অমর্ত্য সেন বাংলা একাডেমিতে শুধু ‘গেস্ট অব অনার’ হয়েই আসেননি, অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে বাংলা একাডেমির ফেলোশিপও গ্রহণ করেছেন। শুধু তাই নয়, ব্রিটিশ কবি উইলিয়াম র‌্যাডিচি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত লোকশিল্প বিশারদ অধ্যাপক হেনরি গ্লাসি, অধ্যাপক মার্গারেট এন মিলস্ (যুক্তরাষ্ট্র), এস্তেনিয়ার বিখ্যাত পণ্ডিত উলো ভাক, ভারতের ফোকলোর পণ্ডিত ড. জহরলাল হান্ডু, কেতকী কুশারী ডাইসন (লন্ডন), ক্রিশ্চিনা নাইগ্রিন (সুইডেন), অধ্যাপক গৌতম ভদ্রসহ জগদ্বিখ্যাত অনেক সাহিত্যিক, পণ্ডিত ও ফোকলোরবিদ বাংলা একাডেমির নানা আন্তর্জাতিক সেমিনারে যোগ দিয়েছেন। স্মর্তব্য যে, বর্তমান মহাপরিচালক যখন বাংলা একাডেমির পরিচালক ছিলেন তখনও আন্তর্জাতিক সংযোগ এতটাই জোরালো করতে সক্ষম হয়েছিলেন যে, বিশ্বের সর্বশ্রেতত্ত্ব ও ফোকলোর প-িত অধ্যাপক এ্যালান ডান্ডেস (যুক্তরাষ্ট্র), লাউরি হংকোসহ (ফিনল্যান্ড) অসংখ্য পণ্ডিতজনের পদচারণায় বাংলা একাডেমি আন্তর্জাতিক বিশ্বে একটি সম্মানজনক স্থান গ্রহণ করতে সক্ষম হয়।
সংবাদদাতা কোথায় পেলেন যে আগামী বছরের জুন মাসে আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলনের আয়োজন করছেন মহাপরিচালক? আসলে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হচ্ছে আগামী বছরের ১া ফেব্রুয়ারি থেকে। ইতোমধ্যে কয়েকটি দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং এক নোবেলবিজয়ী সাহিত্যিককেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
বাংলা একাডেমির সচিবকে ‘লোকজ সংস্কৃতির বিকাশ কর্মসূচীর দায়িত্ব দেয়া কেন (?) অনুচিত সেটি আমাদের বোধগম্য নয়। তিনি এই কর্মসূচীর ব্যবস্থাপক হিসেবে প্রশাসনিক দক্ষতার কারণেই দ্রুত এই কাজটি সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছেন। এখন এই সিরিজের বইগুলো সম্পাদনার কাজ চলছে। অধ্যাপক যতীন সরকারকে লোকজ সংস্কৃতি বিকাশ কর্মসূচীতে নেত্রকোনা জেলার প্রধান সমন্বয়কারী করা হয়েছিল। সম্পাদনা করার দায়িত্ব মহাপরিচালকের এবং ফোকলোর বিশেষজ্ঞ হিসেবে তিনি সে কাজটি যথাযথভাবে সম্পন্ন করেছেন।
নানা প্রকল্পে পুকুরচুরির কথা বলা হয়েছে। এর উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে, ১. বর্ধমান হাউস সংস্কারে ৩ কোটি ১৮ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। হায়! খরচ হয়েছে মাত্র ৫৭ লাখ টাকা আর সংবাদদাতা একে ৩ কোটি ১৮ লাখ টাকা বানিয়ে ফেললেন। পুকুরচুরির উদাহরণই বটে! প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য যে, এই অর্থও বাংলা একাডেমি খরচ করেনি। গণপূর্ত অধিদফতরের মাধ্যমে ব্যয় হয়েছে; ২. রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আঞ্চলিক সম্মেলনে ৪ লাখ খাওয়ার খরচ হয়েছে বলে যে আজগুবি খবর দেয়া হয়েছে তা আরও বিস্ময়কর!!! এই খাতে খরচের জন্য ২ লাখ টাকা অনুদান হিসেবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগকে দেয়া হয়েছে এবং এই খরচ তারাই করে যথারীতি বাংলা একাডেমিতে হিসাব দিয়েছেন; ৩. কক্সবাজারের সম্মেলনে ৬ লাখ টাকা খরচের কথা বলা হয়েছে। এই ক্ষেত্রে ৩ দিনের সম্মেলনে খরচ হয়েছে ২ লাখ টাকা; ৪. প্রতিবছর কোটি কোটি টাকার বই বিক্রির নাকি কোন হিসাব নেই! বিজ্ঞ সংবাদদাতা এসে একাডেমির অর্থ শাখায় এসে এই হিসেবের তথ্যটি যেন জেনে যান। এটি খাতাপত্রে যথাযথভাবেই সংরক্ষিত আছে; ৫. ‘জাহাঙ্গীর’ নামে কেউ কোনদিন প্রেস ম্যানেজার ছিল না। সংবাদদাতার কল্পিত এই ‘জাহাঙ্গীর’ নামের কাউকে মহাপরিচালক কোনদিন প্রেসের ম্যানেজার করেননি; ৬. ট্রাক ট্রাক কাগজ যে রাস্তায় বিক্রি হয়েছে সংবাদদাতাকে এর তথ্যপ্রমাণ হাজির করার জন্য অনুরোধ জানাই। আমাদের এ ধরনের কোন সংবাদ জানা নেই। উপর্যুক্ত ৬টি পয়েন্টে সংবাদদাতার ‘পুকুরচুরি’র যে উদাহরণ দেখা গেল তা যে কতটা আজগুবি তা সহজেই অনুমেয়।
বর্তমান মহাপরিচালকের সময়ে বাংলা একাডেমির প্রকাশনা কমে গেছে বলে উল্লেখিত হয়েছে এবং এর তথ্য হিসেবে আগে কোন বছরে ৩০০ বই প্রকাশ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তার ১০১টি বইয়ের হিসাব করে দেখা গেছে তাতে পৃষ্ঠা সংখ্যা ২ হাজারের মতো।
আর বর্তমান মহাপরিচালকের সময়ে তিনখণ্ডে ৩ হাজার পৃষ্ঠার যে বিবর্তনমূলক অভিধান প্রকাশিত হয়েছে সেটি বাংলা ভাষাভাষী অঞ্চলের একটি অনন্য সাফল্যই শুধু নয়, এই বইয়েরই পৃষ্ঠা সংখ্যা ১০১ বইয়ের দেড়গুণ। প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ গ্রন্থটিকে রবীন্দ্রনাথের প্রয়াসের পরেও বাংলা ভাষাভাষী অঞ্চলের ১১৩ বছর পরে একটি অসামান্য সাফল্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে ‘‘Times of India’ পত্রিকায় বলা হয়েছে : Chalti Bangla finally gets a grammar of its own. আবদুশ শাকুর রচিত দুই খণ্ডে বাংলাদেশ থেকে প্রথম রবীন্দ্রজীবন প্রকাশ, অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের নজরুল নির্দেশিকা, রবীন্দ্র এ্যালবাম ‘তুমি কি কেবলই ছবি’, অধ্যাপক ফখরুল আলমের Rabindranath Tagore & National Identity Formation in Bangladesh, বিচারপতি হাবিবুর রহমানের 21st February speak for all languages, সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্র Ugly Asians, 100 Rhymes of Faiz Ahmed, Hundred Rhymes of Ekhlas Uddin, সেলিনা হোসেনের The Painters Palete, রণেশ দাশগুপ্ত রচনাবলি, আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ রচনাবলি, আবু জাফর ওবায়দল্লাহ্ রচনাবলি, আবদুল হক চৌধুরী রচনাবলি, সত্যেন সেন রচনাবলি, কবি শামসুর রাহমান স্মারকগ্রন্থ, এ আর মল্লিক স্মারকগ্রন্থসহ একইসঙ্গে এতোগুলো গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ আগে কখনও প্রকাশিত হয়নি। পুনর্মুদ্রণের ব্যাপারেও সংবাদদাতার তথ্য খুবই বিভ্রান্তিকর এবং অসত্য। ফেরদৌসীর শাহনামা’র ৬ খণ্ড, ২ খণ্ডে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্ম, বিচারপতি হাবিবুর রহমানের গঙ্গাঋদ্ধি থেকে বাংলাদেশসহ আরও কিছু গ্রন্থ পুনর্মুদ্রিত হয়েছে। এক শাহনামা পুনর্মুদ্রণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩২ লাখ টাকা। বাংলা ও বাঙালীর ইতিহাসের ১ম ও ২য় খণ্ডে প্রাচীন ও মধ্যযুগ অন্তর্ভুক্ত হবে। প্রাচীন ইতিহাস রচনা সময়সাপেক্ষ হলেও সে কাজ শুরু হয়েছে। তবে শেষখ- আগে ছাপা হয়েছে তার কারণ তাতে আমাদের গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস অন্তর্ভুক্ত। মুক্তিযুদ্ধের সরকার ক্ষমতাসীন থাকাবস্থায় বইটি সঙ্গত কারণেই আগে ছাপার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
বর্তমান মহাপরিচালক নীতিগতভাবেই নিম্নমানের পাঠ্যবই না ছাপার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কারণ ইতোপূর্বে ছাপানো কোটি কোটি টাকার নিম্নমানের পাঠ্যবইয়ে গুদাম ঠাসা। সেগুলো কোনমতেই বিক্রি করা যাচ্ছে না। এই দুঃসহ পরিস্থিতি এড়ানোর জন্যই বর্তমানে উন্নতমানসম্পন্ন এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থাদি ছাপা হচ্ছে। যেমন- প্লেটোর আইনকানুন, বিচারপতি এবাদুল হকের নজির আইন সংহিতা (২খণ্ড), এইচটি ইমামের বাংলাদেশ সরকার ১৯৭১, অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মুনীর চৌধুরী গ্রন্থের অনুবাদ, রবীন্দ্রসঙ্গীতকলা (২ খণ্ড), ঠরড়ষধঃবফ রহ ১৯৭১, নানা রঙের বিজ্ঞান, উনিশ শতকের বাংলায় নারী-পুরুষের সম্পর্ক, সৈয়দ শামসুল হকের বঙ্গবন্ধুর বীরগাঁথা, বাংলা নাটকে নিম্নবর্গ ইত্যাদি।
প্রবাসী পুরস্কার প্রদানের বিষয়টি বাংলা একাডেমি কাউন্সিলের একটি সুবিবেচিত সিদ্ধান্তের ফলেই গত তিন বছর যাবত দেয়া হচ্ছে এবং সে উপলক্ষে লন্ডনে বাংলা একাডেমির বই নিয়ে একটি মেলা অনুষ্ঠিত হয়। এতে লন্ডনসহ ইউরোপে বাংলা একাডেমির বইয়ের প্রচার এবং প্রসারে ভূমিকা পালন করছে।
১৯৫৫ সালে ঐতিহাসিক বর্ধমান হাউসে বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। পরে প্রেসভবন প্রতিষ্ঠা করা হয়। এখন বর্ধমান হাউসে তিনটি জাদুঘর স্থাপিত হয়েছে। জরাজীর্ণ প্রেসভবনটি আনুষঙ্গিক কাজে ব্যবহার করে সুদৃশ্য নতুন ৮ তলা ‘ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ভবনে’ একাডেমির প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। একই ভবনে গ্রন্থাগার আধুনিকায়নের কাজও চলছে। এছাড়া অত্যন্ত উন্নতমানের ৫০০ আসনের আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তন এবং কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষ, নির্মিয়মাণ ৫ তলা ড. মুহম্মদ এনামুল ভবন এবং উত্তরায় ১৩তলাবিশিষ্ট ২টি আবাসিক ভবন নির্মাণের ফলে বাংলা একাডেমি আধুনিক, মনোরম ও আকর্ষণীয় আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।
দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকায় ‘বাংলা একাডেমির অগস্ত্য যাত্রা’(!) বলে যাকে অখ্যাত করা হয়েছে আসলে তা বাংলা একাডেমির একুশ শতকের উপযোগী অগ্রযাত্রা।
যশোরে চলছে রক্তের অবৈধ ব্যবসা
হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে টাকা
স্টাফ রিপোর্টার, যশোর অফিস ॥ যশোরে মানুষের জীবনরক্ষাকারী রক্তের অবৈধভাবে বেচাকেনা বেড়েছে। কর্তৃপক্ষের নজরদারী না থাকায় অসাধুরা দীর্ঘদিন ধরে রক্তের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে স্বাধীনভাবে। ওষুধের ফার্মেসির পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণভাবে রক্ত বিক্রি হচ্ছে। আবার কোন প্রকার নিয়মনীতিকে তোয়াক্কা না করে গড়ে তোলা হয়েছে ব্লাড ব্যাংক। অসাধুদের বিক্রি করা রক্তের মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। হাসপাতাল ক্লিনিকে বিপদে পড়া মানুষের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে রক্তের অবৈধ ব্যবসায়ীরা হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা। অভিযোগ উঠেছে, জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সঠিকভাবে তদারকি ব্যবস্থা ও জবাবদিহিতা না থাকায় অসাধুদের অবৈধভাবে রক্তের ব্যবসা জমজমাটভাবে করছে। গত কয়েকদিনের অনুসন্ধানে রক্তের অবৈধ ব্যবসা সম্পর্কে পাওয়া গেছে অবাক হওয়ার মতো তথ্য। সূত্রে জানা গেছে, ব্লাড ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত করতে হলে অবশ্যই স্বাস্থ্য অধিদফতরের ডিজি কর্তৃক অনুমোদন নিতে হবে। আর বেসরকারী হাসপাতাল, ক্লিনিক, ওষুধের ফার্মেসি ও ভ্রাম্যমাণভাবে রক্ত বিক্রি করার কোন নিয়ম নেই। অথচ যশোরে অসাধু চক্র আর্থিকভাবে লাভবান হতে সরকারের নিয়মনীতিকে তোয়াক্কা না করে রক্তের অবৈধ ব্যবসা শুরু করেছে। যশোর শহরের সেন্ট্রাল ব্ল্যাড সম্পূর্ণ অবৈধভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে। কোন প্রকার পরীক্ষা-নীরিক্ষা ছাড়াই এখানে বিক্রি করা হচ্ছে রক্ত। অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিভিন্ন মাদকসেবীর কাছ থেকে ৫০ টাকা ও ১শ’ টাকার বিনিময়ে রক্ত ক্রয় করে শাহ আলম। পরে সুযোগ বুঝে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে তা বিপদে পড়া মানুষের কাছে নিম্নমানের এ রক্ত বিক্রি করে দেয়া হয়। এখান থেকে ক্রয় করা রক্তের বিভিন্ন ভাইরাস পাওয়া যায়। যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ভুক্তভোগী এক ব্যক্তি সেন্ট্রাল ব্লাড ব্যাংক থেকে ১ ব্যাগ (ও পজেটিভ) রক্ত কিনে আনেন। পরীক্ষা করে দেখা যায় ওই রক্তে ভাইরাস রয়েছে। পরে অবশ্য তা ফেরত পাঠানো হয়। সচেতন মহল বলছেন অনুমোদিত এ ধরনের ব্লাড ব্যাংক জীবন রক্ষাকারী রক্ত নিয়ে অসাধুরা বাণিজ্যে মেতে রয়েছেন। সামান্য লাভের আশায় তারা নিম্নমানের রক্ত বিক্রি করে মানুষের জীবন মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিতে দ্বিধাবোধ করছেন না। সেন্ট্রাল ব্লাড ব্যাংক দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে অবৈধ প্রতিষ্ঠান স্থাপন করে রক্তের ক্রয় বিক্রয় করলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন না। ফলে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
সেন্ট্রাল ব্লাড ব্যাংক পরিচালনাকারী শাহ আলম জানান, স্বাস্থ্য অধিদফতরের ডিজির কাছে প্রতিষ্ঠানের অনুুমোদনের জন্য আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু এখনো অনুমোদন মেলেনি। নিম্নমানের রক্তের বিক্রির অভিযোগ সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন তিনি। সিভিল সার্জন ডা. আতিকুর রহমান খান বলেছেন, অবৈধভাবে পরিচালিত সেন্ট্রাল ব্লাড ব্যাংকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন তথ্য তার কাছে এসেছে। অচিরেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সাকিবহীন দল ঘোষণা ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে
ফিরেছেন রুবেল
স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরকে সামনে রেখে দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বৃহস্পতিবার শেষ বিকেলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের জন্য ঘোষিত দলে শেষ পর্যন্ত জায়গা হয়নি সাকিব আল হাসানের। দলে ফিরেছেন পেসার রুবেল হোসেন।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরকে সামনে রেখে ১৫ সদস্যের দলে সেই অর্থে কোন চমক নেই। তবে দলে সুযোগ পেয়েছেন রুবেল হোসেন। ভারতের বিপক্ষে ৩ ম্যাচের ওয়ানডে দলে ছিলেন না এই পেসার। তবে ভারতের বিপক্ষে ২টি ওয়ানডে খেলা মোঃ মিঠুন সুযোগ পেয়েছেন ১৫ সদস্যের স্কোয়াডে। আগস্টের ২০ তারিখ থেকে সিরিজ শুরু হবে। এই সফরে ওয়েস্টি ইন্ডিজের সঙ্গে ৩টি ওয়ানডে, ২টি টেস্ট ও একটি টি২০ ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। আগামী ১৭ আগস্ট গ্রানাডায় প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে খেলতে নামবে বাংলাদেশ। ওয়ানডে সিরিজ শেষে অনুষ্ঠিত হওয়ার পরে একটি টি২০ ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। এরপর অনিুষ্ঠিত হবে ২ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ। ছয় মাস আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ থাকছেন সাকিব। তাই ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে যে সুযোগ হবে না, তা আগেই জানা ছিল। তাই ঘটল। অক্টোবরে জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে সিরিজ হবে। সেই সিরিজেও থাকতে পারবেন না সাকিব। তবে আগামী বছর ফেব্রুয়ারিতে যে বিশ্বকাপ হবে সেখানে ঠিকই সাকিব থাকবেন। সিরিজে না থাকলেও ঈদের পর থেকে অনুশীলন করতে পারবেন বাংলাদেশ অলরাউন্ডার। তবে সেই অনুশীলনও জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের সঙ্গে নয়, এককভাবে করবেন। এ নিয়ে এরই মধ্যে প্রধান কোচ হাতুরাসিংহে সাকিবকে অনুশীলন পরিকল্পনা দিয়েছেন। সাকিবের ফিটনেস ধরে রাখতে কোচ এমন উদ্যোগই নিয়েছেন।
১৫ সদস্যের স্কোয়াড ॥ মুশফিকুর রহিম (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, এনামুল হক বিজয়, শামসুর রহমান, মুমিনুল হক, রুবল হোসেন, নাসির হোসেন, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, মোঃ মিঠুন, আব্দুর রাজ্জাক, মাশরাফি বিন মর্তুজা, সোহাগ গাজী, তাসকিন আহমেদ, ইমরুল কায়েস ও আল-আমিন হোসেন।
তিন টেস্টের সিরিজের ছড়াছড়ি
বাংলাদেশের ক্রিকেটের নতুন ভবিষ্যত সূচী
স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ক্রিকেটের শক্তিশালী দলগুলো তিন ম্যাচের কিংবা তারও বেশি ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে পারলেও, বাংলাদেশ সেই সুযোগ পায় না। এবার ২০১৫-২৩ সালের যে নতুন ভবিষ্যত সূচী করা হয়েছে, সেখানে বাংলাদেশের তিন টেস্টের সিরিজের ছড়াছড়ি দেখা যাচ্ছে।
সেই ২০০০ সাল থেকে বাংলাদেশ টেস্ট ক্রিকেট খেলছে। দেশের টেস্ট ক্যারিয়ারের এক যুগ শেষ হয়েছে আরও ২ বছর আগেই। বাংলাদেশ এর মধ্যে টেস্ট খেলেছে ৮৩টি। আর টেস্ট সিরিজ খেলেছে ৪২টি। কিন্তু মাত্র দুইবারই তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলার সুযোগ পেয়েছে বাংলাদেশ। পাকিস্তানের বিপক্ষে ২০০৩ সালে একবার, আর ২০০৭ সালে একবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে পেরেছে। আর ৪০টি টেস্ট সিরিজের মধ্যে কয়েকটি এক ম্যাচের, বেশিরভাগই হয়েছে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ। তবে এবার বাংলাদেশের ভবিষ্যত সফরসূচীতে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলার ভাগ্য ভালভাবেই যুক্ত হচ্ছে।
ইএসপিন ক্রিকইনফো খুশির খবরই দিচ্ছে। নতুন সূচীতে বাংলাদেশ আট বছরে ৬৪টি টেস্ট খেলবে। এর মধ্যে যুক্ত হতে পারে ভারতের বিপক্ষে একটি টেস্টও। অক্টোবর থেকে শুরু হবে নতুন ভবিষ্যত সূচী। শেষ হবে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে। বাংলাদেশ এর মধ্যে আটটি তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলবে। শুরুতেই বাংলাদেশ অক্টোবরে দেশের মাটিতে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলবে। প্রতিপক্ষ চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী জিম্বাবুইয়ে ক্রিকেট দল। এটাই শেষ নয়। একই দলের বিপক্ষে মোট ৬ বারই তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। ২০১৬ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে দেশের মাটিতে আবারও জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষেই তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। ২০১৯ সালের জানুয়ারি ফেব্রুয়ারিতে আবারও একই দলের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ রয়েছে। ২০২০ সালের এপ্রিল-মে ও ২০২১ সালের মার্চ-এপ্রিলে একটি করে দুটি তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষ সেই জিম্বাবুইয়েই। জিম্বাবুইয়ের বাইরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। একটি ২০১৯ সালে ফেব্রুয়ারি-মার্চে। আরেকটি একই বছর সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে।
শুধু টেস্টেই খুশির সংবাদ আছে এমনটি নয়, ওয়ানডে ও টি২০’তেও সুখবর রয়েছে। ৯০টিরও বেশি ওয়ানডে এই সময়ের মধ্যে খেলবে বাংলাদেশ। থাকছে ২৭টি টি২০ ম্যাচও। সেইগুলো হবে দ্বিপক্ষীয় সিরিজে। সঙ্গে রয়েছে আইসিসির তিনজাতির সিরিজ, আইসিসির টুর্নামেন্টগুলোও।
আইসিসির পরবর্তী বোর্ডসভা হবে অক্টোবরে। এ সভাতেই ভবিষ্যত সফরসূচী চূড়ান্ত হয়ে যাবে। ২০১৬ সালের আগস্টে ভারতে গিয়ে একটি টেস্ট খেলার সুযোগও ভবিষ্যত সূচীতে মিলতে যাচ্ছে। ২০১৫ ও ২০২০ সালে বাংলাদেশে এসে খেলবে ভারত। ২০১৫ ও ২০২০ সালে অস্ট্রেলিয়াও বাংলাদেশে আসবে খেলতে। ২০১৭ সালে বাংলাদেশ যাবে অস্ট্রেলিয়ায় খেলতে। এর বাইরে যদি দ্বিপক্ষীয় আলোচনার ভিত্তিতে কোন সফর চূড়ান্ত করা যায় তাহলে টেস্ট, ওয়ানডে, টি২০ আরও বাড়তে পারে।
ক্ষেপণাস্ত্র থাকার কথা স্বীকার ইউক্রেনের বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতার
ইউক্রেনের একজন প্রভাবশালী রুশপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা তাদের কাছে বিমান বিধ্বংসী বিইউকে ক্ষেপণাস্ত্র থাকার কথা স্বীকার করেছেন। গত সপ্তাহে ইউক্রেনের আকাশে মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট এমএইচ১৭-এর আঘাতে বিধ্বস্ত হয়। ক্ষেপণাস্ত্রগুলো রাশিয়ায় তৈরি হয়ে থাকতে পারে বলে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে। খবর ওয়েবসাইটের।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে ভোস্টক ব্যাটালিয়নের কমান্ডার আলেক্সান্ডার খদাকোভস্কি প্রথমবারের মতো স্বীকার করেন যে, তাদের কাছে বিইউকে ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। ১৭ জুলাই আমস্টার্ডাম থেকে কুয়ালালামপুর যাওয়ার পথে ইউক্রেনের আকাশসীমায় ২৯৮ আরোহীসহ মালয়েশীয় যাত্রীবাহী প্লেনটি ভূপাতিত হয়। ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে এই কাজ করা হয়েছে এবং এর জন্য ইউক্রেনের রুশপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদীদের প্রথম থেকে দায়ী করে আসা হয়েছে। স্বঘোষিত দোনেৎস্ক পিপলস রিপাবলিকের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করে একাধিকবার দাবি করা হয় যে, তাদের কাছে এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র নাই। কারা এই ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে সে প্রশ্নের উত্তর এখনও পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার পর থেকে এটি এখন বিতর্কের সবচেয়ে বড় ইস্যু হিসেবে রয়ে গেছে। কারণ প্লেনটি বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বিধ্বস্ত হয়েছে। নির্বিচার বিমান হামলার জন্য খদাকোভস্কি কিয়েভের কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, আমি জানতে পেরেছি ক্ষেপণাস্ত্রগুলো (বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত অপর প্রদেশ) লুহানস্ক থেকে এসেছে। বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা দুটো প্রদেশ দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক এখন ঘটনার আলামত লুকানোর জন্য ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে কৌশল অবলম্বন করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার সময় বিইউকেগুলো কোথায় ছিল সেটা স্পষ্ট নয়।
ইরানের ওপর চার মাসের জন্য নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ইইউর
ইরান ও ছয় জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে টানা আলোচনার পর পরমাণু বিষয়ে চূড়ান্ত সমাধান না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত দু’পক্ষই আগামী ২৪ নবেম্বর পর্যন্ত আলোচনার মেয়াদ বাড়াতে সম্মত হয়। গত আলোচনায় ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা আংশিক তুলে নেয়া এবং বিভিন্ন দেশের ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের অর্থ ফেরত আনার বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। খবর ওয়েবসাইট।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিষদ সোমবার এক বিবৃতিতে বলেছে, ইরানের ওপর থেকে আংশিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার যে ঘোষণা ইউরোপ দিয়েছিল তা ফের আগামী ২৪ নবেম্বর পর্যন্ত নবায়ন করা হলো।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ইউরোপের এ সিদ্ধান্তের ফলে ইরানের তেলবাহী জাহাজের বিমা সুবিধা বহাল রাখার পাশাপাশি দেশটির আমদানি-রফতানি কার্যক্রম ও পেট্রোকেমিক্যাল জাত পণ্য, স্বর্ণ ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতব পদার্থ রফতানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে না। অর্থাৎ ইউরোপীয় ইউনিয়নের এ সিদ্ধান্তের ফলে আগামী চার মাস পর্যন্ত বাইরের দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের আর্থিক লেনদেন বহাল থাকবে। ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের চূড়ান্ত পরমাণু চুক্তি সইয়ের জন্য প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে পর্যায়ক্রমে ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার কথা বলা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র গত এক দশক ধরে ইরানের ওপর অযৌক্তিক নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দিয়ে আসলে শান্তিপূর্ণ পরমাণু প্রযুক্তির ব্যবহার থেকে ইরানকে বিরত রাখার পাশাপাশি দেশটির অর্থনৈতিক উন্নতির ধারা থামিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছে যাত্রীবাহী বিমানের যন্ত্রাংশ, নির্মাণ সামগ্রী, গাড়ি ও জরুরী ওষুধ বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এমনকি আমেরিকা ইউরোপীয় দেশগুলোকেও ইরান বিরোধী নিষেধাজ্ঞায় শামিল হতে চাপ দিয়ে যাচ্ছে। অথচ এ ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
ভারতের আপত্তিতে অনিশ্চয়তার মুখে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার চুক্তি
শস্য মজুদ ও ভর্তুকি নিয়ে উন্নত বিশ্বের সঙ্গে বিরোধ ভারতের
বিশেষ প্রতিনিধি ॥ খাদ্য সুরক্ষার প্রশ্নে শর্ত মেনে চলা নিয়ে ভারতের আপত্তির জেরে ফের অনিশ্চয়তার মুখে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি। এ ব্যাপারে উন্নত দুনিয়ার সঙ্গে মতবিরোধের কেন্দ্রে মূলত গণবণ্টনের জন্য ভারতে শস্য মজুদ করার ব্যবস্থা এবং ওই একই লক্ষ্যে দেয়া খাদ্যে ভর্তুকি।
গত সপ্তাহের শেষে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর সংগঠন জি২০-এর বৈঠকেই এ ব্যাপারে আপত্তি তুলেছে ভারত। ১৬০টি সদস্য দেশের মধ্যে নয়া অবাধ বাণিজ্য ব্যবস্থা গড়া নিয়ে এই চুক্তি সইয়ের সময়সীমা ৩১ জুলাই। ইন্দোনেশিয়ার বালিতে গত বছরের ডিসেম্বরে হওয়া ঐকমত্যের ভিত্তিতেই এই চুক্তি সই হওয়ার কথা। সে ক্ষেত্রে তা কার্যকর হবে ২০১৫ থেকে। তবে এ ব্যাপারে ভারতের চূড়ান্ত অবস্থান কী হবে, তা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বুধবার ডাকা বৈঠকে স্থির করার কথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার। তখনই বোঝা যাবে ভারত চুক্তিতে অনুমোদন দেবে কিনা। যদিও বালি চুক্তি নিয়ে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা বা ডব্লিউটিও সাধারণ পরিষদের দুই দিনের বৈঠক শুরু হয়েছে বৃহস্পতিবার।
ডব্লিউটিওর যে শর্ত মেনে চলতে ভারত তার অক্ষমতার কথা সম্প্রতি জি২০ বৈঠকে আবারও স্পষ্ট করে দিয়েছে, সেটি খাদ্যের মজুদ ভা-ার ও ভর্তুকি সংক্রান্ত। দরিদ্রদের ভর্তুকিতে খাদ্য বণ্টনের কারণেই ভারতকে উপযুক্ত পরিমাণে শস্য মজুদ রাখতে হয়। আর ডব্লিউটিওতে এখানেই আপত্তি উন্নত দুনিয়ার। তাদের অভিযোগ, মজুদ করলে ভাঙ্গা হবে অবাধ বাণিজ্যের শর্ত, কারণ তা বিশ্ব বাণিজ্যে কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে দেবে শস্যের দর। পাশাপাশি ডব্লিউটিও আইনে শস্যের মোট উৎপাদন মূল্যের মাত্র ১০ শতাংশে ভর্তুকি দেয়া যায়। যে দরে ওই ভর্তুকি নির্ধারিত হয়, তাও অন্তত দুই দশকের পুরনো। এখানেই আপত্তি ভারতের।
উল্লেখ্য, আমেরিকা কৃষিতে ভর্তুকি দেয় বছরে ১২,০০০ কোটি ডলার। আর ভারত দেয় মাত্র ১২০০ কোটি।
অস্ট্রেলিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী এ্যান্ডরু রব জানিয়েছেন, ‘ভারত এবং আফ্রিকার কিছু রাষ্ট্র নয়া চুক্তি সই নিয়ে আপত্তি তুলেছে। তবে অবাধ বাণিজ্যের লক্ষ্যে এই চুক্তি বাঁচাতে শেষ মুহূর্তে ভারত রফায় পৌঁছবে বলে আমার ধারণা।’
ডব্লিউটিও সূত্রেরও খবর, এ ব্যাপারে ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশ এবং উন্নত দুনিয়ার মধ্যে যাতে সন্ধি হয়, সেই চেষ্টাই চলছে।
বালিতেই ভারত এককাট্টা ছিল খাদ্য সুরক্ষার দাবিতে। তারা জানিয়ে দিয়েছিল বিষয়টি না মানলে, নয়া বাণিজ্য চুক্তিও মানবে না তারা। শেষ পর্যন্ত বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা জানিয়েছিল, কোন দেশ তার প্রধান খাদ্যশস্যে ভর্তুকি দিলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে না। মেনে নেয়া হয় ন্যূনতম সহায়ক মূল্যে কৃষকদের কাছ থেকে সরকারের খাদ্যশস্য কেনার বিষয়টিও। এর পরই আপাত ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হয় বালিতে। তবে এর জন্য ভারতের মতো উন্নয়নশীল দুনিয়াকে ডব্লিউটিও কী কী ছাড় দেবে, সে ব্যাপারে স্পষ্ট পথনির্দেশ মেলেনি বালিতে। আর সেই প্রশ্নই ফের মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে গত সপ্তাহে সিডনিতে জি২০ দেশগুলোর মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে।
তবে ডব্লিউটিও সূত্রের অভিযোগ, ভারত এ ব্যাপারে ঠিক কী ধরনের সুবিধা চায়, তা তারা স্পষ্ট করেনি। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি মাইকেল ফ্রোম্যান দাবি করেন, ‘বালি চুক্তি মেনে চলার অঙ্গীকার করেছিল ভারতসহ জি২০ রাষ্ট্রগুলো।’ তবে এই মুহূর্তে কিভাবে সমস্যা আপোসে মেটানো যায়, সেই চেষ্টাই করছে ডব্লিউটিও।
পুুঁজিবাজারে সূচকের উর্ধগতি লেনদেনও বাড়ল
অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ ঈদ-উল-ফিতরের আগের শেষ কার্র্যদিবস বৃহস্পতিবার দেশের পুঁজিবাজারে সূচকের বড় ধরনের উর্ধগতি দেখা গেছে। বড় কোম্পানিগুলোর দরবৃদ্ধির দিনে উভয় স্টক এক্সচেঞ্জেও আগের চেয়ে লেনদেন বেড়েছে। দিনটিতে আর্থিক প্রতিবেদন ঘোষণা করা কিছু কোম্পানিকে ঘিরে লেনদেন শুরু হলেও সারাদিনে লেনদেনের সেরা ১০ কোম্পানি মোট লেনদেনের ৫৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ লেনদেন করেছে। আগের প্রান্তিকের তুলনায় মুনাফা বাড়ার কারণে গ্রামীণফোন সারাদিনই লেনদেনের নেতৃত্ব ছিল। দিনশেষে ঢাকা স্টক একচেঞ্জের সূচকে যোগ দেয় ৩৮ পয়েন্ট। একইভাবে সেখানকার লেনদেন বেড়ে দাঁড়ায় ৩৩৯ কোটি টাকায়। একইভাবে অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক একচেঞ্জের সব ধরনের সূচকের সঙ্গে লেনদেন বেড়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, অনেক বিনিয়োগকারীই আছে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ ব্যবসা ছাড়া অন্য কিছু করে না। ঈদের আগে কেনাকাটার জন্য পুঁজিবাজার থেকে টাকা তুলে নেয় অনেক বিনিয়োগকারী। এখন শেয়ার বিক্রি করে আর টাকা তোলার সুযোগ না থাকায় দিনশেষে সেখানে আগের দিনের শেয়ারের ক্রয়াদেশ বেড়েছে। একই সঙ্গে শনিবারে ঘোষণা করতে যাওয়া মুদ্রানীতিতে সুদের হার কমানোর ঘোষণাও কিছুটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, সকালে সূচকের ইতিবাচক প্রবণতা দিয়ে লেনদেন শুরুর পর ডিএসইর প্রধান বা ডিএসইএক্স সূচক ৩৮ পয়েন্ট বেড়েছে বৃহস্পতিবার। এই সূচক বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৪২৭ পয়েন্টে। ফলে স্টক একচেঞ্জটির সার্বিক সূচকটি আবারও ৪ হাজার ৪শ’ পয়েন্টের মনস্তাত্ত্বিক সীমা অতিক্রম করেছে। শরীয়াহ বা ডিএসইএস সূচক ১১ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ১৫ শতাংশ বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ৪ পয়েন্টে। আর ডিএস৩০ সূচক ২৪ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৫২ শতাংশ বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ৬২৬ পয়েন্টে।
ডিএসইতে এ দিন লেনদেন হয়েছে ৩৩৯ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। আগের দিনের চেয়ে ২০ কোটি ৪৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন বেড়েছে এ দিন। বৃহস্পতিবার মোট লেনদেন হয়েছে ২৯৯টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার। লেনদেন হওয়া ৬৬ শতাংশ বা ১৯৯টি কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে। দর কমেছে ৭৪টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৬টির।
ডিএসইর লেনদেনের সেরা কোম্পানিগুলো হলো- গ্রামীণফোন, বেক্সিমকো, লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট লিমিটেড, শাহজিবাজার পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড, পদ্মা অয়েল, ফার কেমিক্যাল, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, স্কয়ার ফার্মা, মেঘনা পেট্রোলিয়াম এবং এসিআই।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বেড়েছে। শেয়ার বিক্রি করে টাকা নগদায়নের সুযোগ না থাকার কারণে সেখানে সব সূচকই বেড়েছে। সূচকের উর্ধগতি দিয়ে লেনদেন শুরুর পর (সিএসই) সিএসই সার্বিক সূচক ১০৫ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১৩ হাজার ৫৯৬ পয়েন্টে। একইভাবে সেখানে বাছাই সূচকটির মোট ১১৩ পয়েন্ট পতন ঘটেছে। সিএসইতে এ দিন মোট লেনদেন হয়েছে ২০৮টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৯৩টির, কমেছে ৭৫টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৪০টির। সিএসইর মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩৭ কোটি টাকা। বুধবার সেখানে মোট ৩৪ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছিল।
সিএসইতে লেনদেনের সেরা কোম্পানিগুলো হলো- শাহজালাল ব্যাংক লিমিটেড, বেক্সিমকো, গ্রামীণফোন, ফার কেমিক্যাল, শাহজিবাজার পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড, জেনারেশন নেক্সট ফ্যাশন, লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট, স্কয়ার ফার্মা, পদ্মা ওয়েল এবং পেনিনসুলা চট্টগ্রাম।
বিএনপি অনবরত হুমকি দেয়, ওদের আন্দোলন নিয়ে কথা বলতে চাই না ॥ মুহিত
স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট অফিস ॥ ঈদের পর খালেদার আন্দোলন নিয়ে মন্তব্য করতে নারাজ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেট নগরীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের নির্মাণ কাজ পরিদর্শন শেষে সংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ অপারগতা প্রকাশ করেন।
ঈদের পর বিএনপির আন্দোলনের হুমকি প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিএনপি অনবরত হুমকি দেয়। এ বিষয়ে আমি কোন কথা বলতে চাই না। সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, নতুন রূপে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এ বছর মহান বিজয় দিবসে উদ্বোধন করে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য খুলে দেয়া হবে। তিনি শহীদ মিনারের নির্মাণকাজের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন। এর আগে বেলা ১১টায় তিনি শাহী ঈদগাহ পরিদর্শন করেন অর্থমন্ত্রী।
ভেজাল ওষুধ তৈরির মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ আইনমন্ত্রীর
বিশেষ প্রতিনিধি ॥ ২০ বছর ধরে হিমাগারে থাকা আলোচিত ভেজাল ওষুধ তৈরির দুই মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। জনকণ্ঠকে এ তথ্য জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, এটর্নি জেনারেল অফিসকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে আলোচিত ভেজাল ওষুধের মামলা দ্রুত শেষ করার জন্যে। ১৯৯২ সালে দায়ের করা দুইটি মামলা উচ্চ আদালতের নির্দেশে ১৯৯৪ সাল থেকে স্থগিত। সুপ্রীমকোর্ট বন্ধ হয়ে গেছে বৃহস্পতিবার। ৩১ আগস্ট উচ্চ আদালতের নিয়মিত কার্যক্রম শুরু হলে এ মামলা নতুন করে শুরু করা হবে। দ্রুততম সময়ে ভেজাল প্যারাসিটামল তৈরির দায়ে দায়ের করা মামলার বিচার কাজ শেষ করে অপরাধীদের সাজা নিশ্চিত করা হবে বলে জানান আইনমন্ত্রী। এ ছাড়া ২০০৯ সালে রীড ফার্মা উৎপাদিত প্যারাসিটামল খেয়ে ২৭ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলাও দ্রুততম সময়ে শেষ করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান ড্রাগ আদালতের পিপি শাহীন আহমেদ খান। শাহীন আহমেদ খান জনকণ্ঠকে আরও বলেন, এ সংক্রান্ত কয়েকটি মামলা হয়েছিল। হয়ত তথ্য প্রমাণের অভাবে অন্য মামলাগুলো ফাইলবন্দী হয়ে আছে। সেসব নতুন করে শুরু করা কঠিন হবে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেন এই আইনজীবী।
ভেজাল প্যারাসিটামল ‘ফ্লামোডল’ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এ্যাডফ্লেমের মালিক ডা. হেলানা পাশাসহ তিনজনকে সর্বোচ্চ সাজা ১০ বছর সশ্রম কারাদ- এবং ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছে আদালত। সাক্ষ্য শুনানি শেষে মঙ্গলবার ঢাকার ড্রাগ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আবদুর রশিদ জড়িতদের শাস্তি দিয়ে এই রায় ঘোষণা করেন।
বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের রিপোর্ট মতে ১৯৮২ থেকে ১৯৯২ পর্যন্ত ২ হাজার ৭শ’ শিশু ভেজাল প্যারাসিটামল খেয়ে কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে।
ভয়াবহ শিশুমৃত্যুর বিপর্যয়ের ধারাবাহিকতা ঠেকাতে ১৯৯২ সালের ২৫ নবেম্বর ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের পরিদর্শক আবুল খায়ের চৌধুরী ১৯৯২ সালে তিনটি কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা করেন। এই চারটি মামলার মধ্যে এ্যাডফ্লেম ফার্মাসিটিক্যাল কোম্পানির বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী ছিল। কারণ এ্যাডফ্লেম ফার্মাসিটিক্যাল কোম্পানি উৎপাদিত ‘ফ্লামোডল’ প্যারাসিটামল সিরাপে ডাইইথিলিন গ্লাইকলের অবস্থান নিশ্চিত হয়। এর নমুনা সংগ্রহ করেছিলেন শিশু হাসপাতালের কিডনি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ হানিফ।
অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ হানিফ বলেন, প্যারাসিটামল সিরাপে জীবন বাঁচাতে থাকতে হয় ডাইলিউটেন্ট প্রপাইলিন গ্লাইকল। যা না দিয়ে অভিযুক্ত ৫ কোম্পানি সস্তায় বাজার থেকে সহজলভ্য উপাদান ডাইইথিলিন গ্লাইকল দিয়ে প্যারাসিটামল তৈরি করেছে। ডাইইথিলিন গ্লাইকল কসমেটিক্স এবং চামড়াজাত পণ্যে ব্যবহারের উপাদান। অবোধ শিশুদের রোগপ্রতিরোধ শক্তি তেমন না থাকার কারণে সেই ১০% থেকে ২০% ডাইইথিলিন গ্লাইকল প্যারাসিটামল সিরাপ দ্রুততম সময়ে জ্বরাক্রান্ত শিশুদের রেনাল ফেইলিওরের মাধ্যমে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে বললেন অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ হানিফ। এই অপরাধের কোন ক্ষমা তো হতেই পারে না, বরং এমন জঘন্য অমানবিক অপরাধের দায়ে সর্বোচ্চ সাজা প্রাপ্য।
১৬ বছর এ মামলা চারটির কার্যক্রম স্থবির ছিল। ২০০৯ সালে ভেজাল প্যারাসিটামল ‘ফ্লামোডল’ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এ্যাডফ্লেমের বিরুদ্ধে মামলার কার্যক্রম নতুন করে শুরু হলেও অন্য তিনটি মামলা এখনও স্থবির। একই অভিযোগে দায়ের করা মামলার সঙ্গে আরও তিনটি মামলা এখনও বিচারাধীন।
১৯৯২ সালে একরাতে মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর থেকে আব্দুল আউয়াল নোমান তার ১৩ মাসের শিশুপুত্র দীন ইসলাম দীনুর গায়ে জ্বর সারাতে স্থানীয় ওষুধের দোকান থেকে প্যারাসিটামল কেনেন। প্যারাসিটামল খাওয়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই দীনুর প্রশ্রাব বন্ধ হয়ে যায় সেই রাতে যানবাহনের অভাবে ঢাকয় নিতে পারেননি আব্দুল আউয়াল নোমান। পরদিন জানতে পারেন একই এলাকার আরও দুটি শিশু একইভাবে অসুস্থ হয়ে গেছে, যাদের বয়স ১২ মাস এবং ১৪ মাস। অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের সেই দুই শিশুসহ পরদিন ঢাকা শিশু হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যান আব্দুল আউয়াল নোমান। ঢাকা আসবার গাড়ি না পাওয়ার কারণে এক রাত দেরি হয়ে যায়। সেই সময়ে সিঙ্গাইয়ে জ্বর সারাতে প্যারাসিটামল খাওয়া তিনটি বাচ্চাই ভেজাল প্যারাসিটামল খেয়ে মারা যায় বলে জানান আব্দুল আউয়াল নোমান। সঙ্গে করে প্যারাসিটামলের বোতলটিও নেন তিনি। আব্দুল আউয়াল নোমান জনকণ্ঠের সঙ্গে সাক্ষাতকারে ২২ বছর আগে প্রিয়তম সন্তান হারানোর ঘটনা স্মরণ করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। সামান্য জ্বর থেকে সুস্থ করতে গিয়ে আমার দীনুকে হারালাম। এই সন্তান হারানোর শোক কী করে ভুলতে পারি? দীনুর মা তার মা এখনও বুক চাপড়াইয়া কাঁদে।
আদালতের রায়ের কারণে আর কোন ওষুধ কোম্পানি ভেজাল ওষুধ তৈরি করার সাহস পাবে না বলে আশা প্রকাশ করেন সন্তান হারা আব্দুল আউয়াল নোমান।
ঢাকা শিশু হাসপাতালের কিডনি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. হানিফ জনকণ্ঠকে বলেন, ভেজাল প্যারাসিটামল খাওয়ার কারণে কিডনি ফেইলিওরের অনেক শিশুকে এনেছিলেন তাদের অসহায় পিতামাতা। এই ২২ বছরেও কারও কারও কথা কোনভাবেই ভুলতে পারি না। বঙ্গভবনের এক কর্মচারীর দুই সন্তান পরপর মারা গেছে। বারান্দায় দুইটি সন্তানের লাশ সামনে নিয়ে বসে থাকা সেই দুর্ভাগা বাবা-মায়ের মুখ আমি ভুলতে পারি না। সেই বাবা তার কাঁধে দুই সন্তানের লাশ নিয়েছিলেন শুধু সন্তানদের জ্বর সারাতে ভেজাল প্যারাসিটামল খাওয়ানোর কারণে। আরেক দম্পতির বিয়ের ১৪ বছর পর জন্মানো সন্তান মারা গেছে। খুলনার এক দম্পতির প্রথম কন্যাসন্তান ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। এর পর পুত্র সন্তান হলে তার নাম রেখেছিলেন তারা ম্যারাডোনা। ৩ বছর বয়সী ম্যারাডোনা বিসিআইয়ের উৎপাদিত প্যারাসিটামল খেয়ে কিডনি রোগে আক্রান্ত হলে তাকে বাঁচাতে ঢাকা শিশু হাসপাতালে এনেছিলেন। কিন্তু সেই ৩ বছরের ম্যারাডোনাকেও আমরা বাঁচাতে পারিনি।
আরেক তরুণ দম্পতি ধর্মান্তরিত হয়ে বিয়ে করার কারণে সমাজচ্যুত ছিলেন। দুই পরিবারের স্বজনেরাই তাদের পরিত্যাগ করেছিলেন। তাদের ও প্রথম সন্তান মাত্র ১০ মাস বয়সে ভেজাল প্যারাসিটামল খেয়ে কিডনি ফেউলিওরে মৃত্যুবরণ করে।
১৯৮২ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত দেশের নানান প্রান্তে ভেজাল প্যারাসিটামল খেয়ে কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারায় কয়েক হাজার শিশু। ফুলের মতো নিষ্পাপ শিশুদের হত্যা করা হলেও ওষুধ (নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ ১৯৮২ অনুসারে সর্বোচ্চ শাস্তি দশ বছর কারাদ-। এ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শাহীন আহমেদ খান বলেন, ভেজাল ওষুধের কারণে মৃত্যু হলে অবশ্যই পেনাল কোডের ৩০২ ধারায় মামলা করার সুযোগ আছে।
তবে এই ধারায় এখনও ক্ষতিগ্রস্তদের কাউকে মামলা করতে দেখা যায়নি বলে হতাশা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী। ৩০২ ধারায় মামলা হলে হত্যার দায়ে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদ-। শাহীন আহমেদ খান বলেন, নিরীহ শিশুদের হত্যা করার মতো অপরাধ যারা করেন, তাদের এই শাস্তিই প্রাপ্য।
যানজট ও ভিড় এড়াতে মধ্যরাতেও চলছে কেনাকাটা
ঈদ বাজার
রহিম শেখ ॥ ক’দিন বাদেই ঈদ। তাই শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় ব্যস্ত নগরবাসী। রাজধানীর মার্কেট, বিপণিবিতান, শপিংমল ও ফ্যাশন হাউসগুলো বেচাকেনায় রাতদিন একাকার। মধ্যরাত পর্যন্ত চলছে এই বেচাকেনা। শুধু পোশাকই নয়, এখন জুতো, গহনা, প্রসাধন সামগ্রীও বেচাকেনা হচ্ছে প্রচুর পরিমাণে। বেচাকেনায়ও দম ফেলার সময় নেই দোকানিদের। দিনে নারী ক্রেতাদের ভিড় বেশি থাকলেও রাতে উল্টো চিত্র। ওই সময় তরুণ-তরুণী ও পুরুষ ক্রেতারা মার্কেটে ভিড় করছেন। রাত যত গভীর হয় ক্রেতাদের আনাগোনা তত বাড়ছে। মধ্যরাতের ক্রেতারা বললেন, অসহনীয় যানজট এড়াতেই কেনাকাটার জন্য গভীর রাত বেছে নিয়েছেন তাঁরা। দোকানিরা জানিয়েছেন, মধ্য রমজানের পর থেকে শুরু হয়েছে রাত জেগে কেনাকাটা। গভীর রাত পর্যন্ত থাকছে মানুষের স্রোত। ঈদ মানেই উৎসব। তাই সারা বছরের কেনাকাটা আর ঈদের কেনাকাটায় থাকে পার্থক্য। এ সময়ের কেনাকাটায় থাকে উৎসবমুখরতাও। ঈদে যত না আনন্দ তার চেয়ে বেশি আনন্দ পরিবার-পরিজন নিয়ে কেনাকাটা করায়। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত অফিসের কাজ শেষ করে বিকেলেই নেমে পড়েন অনেকে কেনাকাটায়, যা চলে গভীর রাত পর্যন্ত। বিক্রেতারা বাড়তি রোজগারের আশায় রাজধানীর অধিকাংশ মার্কেট, শপিংমল ও নামি-দামি ব্রান্ডের শোরুম খোলা রাখছেন ভোররাত পর্যন্ত। রাত হলেও পরিবার নিয়ে অনেকেই এ সময় কেনাকাটায় ব্যস্ত থাকছেন। কেনাকাটার পাশাপাশি উপভোগ করছেন রাতের ঢাকার সৌন্দর্য। বুধবার রাতে রাজধানীর বেশ কয়েকটি মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, অনেক ক্রেতা মধ্যরাতেও মনোযোগ দিয়ে কেনাকাটা করছেন। দিনের তুলনায় ক্রেতা কম বলে বিক্রেতারাও বাড়তি খাতির করছেন এসব ক্রেতাদের।
বসুন্ধরা সিটিতে গিয়ে দেখা যায়, বুধবার মাঝ রাতেও ক্রেতাদের পদভারে মূখরিত ছিল শপিংমলটি। অনেক ক্রেতাকে মার্কেটটির সামনে বসে সপরিবারে আড্ডায় মেতে থাকতেও দেখা গেছে। যেন রাতটা তাদের কাছে একটি চরম উপভোগ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাঝরাতে কেনাকাটা করতে আসার কারণ জানতে চাইলে একটি বেসরকারী কোম্পানির বিপণন কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক জনকণ্ঠকে জানান, দিনে অনেক জ্যাম থাকে। তাই রাতে এসেছি। এখন জ্যাম নেই। মিরপুর থেকে মাত্র ১০ মিনিটে এসেছি বসুন্ধরা সিটিতে। দিনে হলে ১ ঘণ্টায়ও পৌঁছানো সম্ভব নয়। একই কথা জানালেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান। বললেন, দিনের যানজট এড়াতে তারও মধ্যরাতে আসা। বসুন্ধরা সিটিতে কথা হয় বেসরকারী ব্যাংকের কর্মকর্তা আবুল মোনেম ও এ্যানি দম্পতির সঙ্গে। তাঁরা জানান, দিনে ব্যস্ততা ও তীব্র জ্যামের কারণে রাতে এসেছি শপিংয়ে। এ্যানি বলেন, দিনে কেনাকাটায় খুব ভিড়, মানুষের ধাক্কাধাক্কি। ঈদ উপলক্ষে রাজধানীজুড়ে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে, তাই রাতে কেনাকাটা করতে এসেছি।
বসুন্ধরা সিটিতে দেশী দশে অঞ্জনস’র বিক্রয়কর্মী সেজান বলেন, যারা মধ্যরাতে কেনাকাটা করতে আসেন, তারা ভিড় ছাড়া দেখেশুনে স্বচ্ছন্দে কেনাকাটা করতে পারেন। বসুন্ধরা সিটির জ্যোতি শাড়ি’র শোরুমের বিক্রেতা মাসুদ রানা জনকণ্ঠকে জানান, দিনে যাঁরা ব্যস্ত থাকেন, তাঁরাই আসেন ইফতারের পর। এর মধ্যে অনেকেই আসছেন মধ্যরাতে শপিং করতে। মধ্যরাতে কোন্ শ্রেণীর ক্রেতারা বেশি আসছেন এমন প্রশ্নের জবাবে বসুন্ধরা সিটির লুবনান ফ্যাশন হাউসের কর্মকর্তা ওয়াহিদ জনকণ্ঠকে বলেন, মধ্যম ও উচ্চ শ্রেণীর ক্রেতারা বেশি আসছেন। অনেকেই দিনে ব্যস্ত থাকেন। তাই রাতে সপরিবারে আসছেন। আবার ভিভিআইপিরা রাতেই বেশি আসছেন। এদিন গাউছিয়া মার্কেটে কথা হয় সায়েম ফ্যাশনের মালিক এ কে এম সায়েমের সঙ্গে। তিনি জনকণ্ঠকে বলেন, ঈদের বাকি হাতেগোনা ক’দিন। এ সময় সাধারণত গভীর রাত পর্যন্ত দোকানপাট খোলা রাখা হয়। কারণ, ক্রেতারা ইফতারের পর কেনাকাটা করতে বের হন। যতক্ষণ ক্রেতা আছে ততক্ষণ দোকানপাট খোলা রাখা হচ্ছে। এতে ব্যবসায়ীরা যেমন লাভবান হচ্ছেন ঠিক তেমনই ক্রেতারাও দিনের কাজকর্ম শেষে গভীর রাত পর্যন্ত কেনাকাটার সুযোগ পাচ্ছেন।
রাজধানীর বিভিন্ন শপিংমল ও মার্কেটের খুচরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুধু পোশাকই নয়, জুতো, গহনা, প্রসাধন সামগ্রীও বেচাকেনা হচ্ছে প্রচুর পরিমাণে। প্রথম দিকে শিশু-কিশোর ও নারীদের পোশাক বেশি বিক্রি হলেও এখন সব বয়সীর জন্য নানা ধরনের পোশাকই বিক্রি হচ্ছে। ঈদে পোশাকের পাশাপাশি চুড়ি, ইমিটেশন, ব্রেসলেট, পারফিউম, লিপস্টিক-নেইল পলিশসহ নানা কসমেটিকস, স্বর্ণালঙ্কার, হাতঘড়ি, টিভি-ফ্রিজ, থালা-বাসন, গিফট কার্ড প্রিয়জনের জন্য উপহার দেয়াও থেমে নেই। তাই বিভিন্ন গিফট আইটেমের দোকানগুলোও জমজমাট। বিক্রি চলছে জায়নামাজ, টুপি ও আতরসহ নানা ধরনের সুগন্ধী। একই সঙ্গে বিক্রি বেড়েছে সিডি-ডিভিডির দোকান-গুলোতেও। আর রাত-বিরাতে ক্রেতাদের ভুঁড়িভোজ দিয়ে ভালই মুনাফা করছে শপিংমল ও আশপাশের খাবারের দোকানগুলো।
সৈয়দ কায়সারের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক অব্যাহত
যুদ্ধাপরাধী বিচার
স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত জাতীয় পার্টির সাবেক মন্ত্রী সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রসিকিউটর রানা দাশগুপ্ত দ্বিতীয় দিনের মতো আসামির বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিষয়ে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। ৪ আগস্ট পরবর্তী যুক্তিতর্কের জন্য দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান শাহীনের নেতৃত্বে তিন সদস্যবিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ প্রদান করেছেন। ট্রাইব্যুনালে অন্য দু’সদস্য ছিলেন বিচারপতি মোঃ মুজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মোঃ শাহিনুর ইসলাম। অন্যদিকে প্রসিকিউশন পক্ষ মে মাসের পর থেকে কোন ঝুঁকিভাতা পাচ্ছেন না। পাশাপাশি ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরের জন্য প্রসিকিউটরদের বেতন ও ঝুঁকিভাতার জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে ৫ কোটি ৭১ হাজার টাকা চেয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আইন মন্ত্রণালয় ঝুুঁকিভাতা বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে। এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত চীফ প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলী বলেছেন, ব্যাখ্যা চাইলে অবশ্যই আমরা ব্যাখ্যা দেব।
বৃহস্পতিবার মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় প্রসিকিউটর রানা দাশগুপ্ত আসামি সৈয়দ কায়সারের বিরুদ্ধে যুক্তিতর্কে বেশ কিছু ডকুমেন্ট তুলে ধরেন। এর মধ্যে ২০০১ সালের দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকায় সৈয়দ কায়সারের ওপর একটি রিপোর্ট, বেশ কিছু বইয়ের বিবরণ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করেন। বইয়ের মধ্যে রয়েছে এ্যাসোসিয়েট অব পাকিস্তান আর্মি ৭১, সিলেটের গণহত্যা, সেক্টর ফোরামের ৫০ জনের তালিকা যার মধ্যে সৈয়দ কায়সারের নাম রয়েছে।
যুক্তিতর্কে চার্জের ওপর বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। এই চার্জে ৯ সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। যার মধ্যে ১ সাক্ষী ভিকটিম। সৈয়দ মোঃ কায়সারের বিরুদ্ধে মোট নয় ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধের ১৬ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে হত্যা, গণহত্যা, নির্যাতন, আটক, ধর্ষণ, মুক্তিপণ আদায়, অগ্নিসংযোগ ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগও রয়েছে। সৈয়দ কায়সারের বাবা সৈয়দ সঈদউদ্দিন ১৯৬২ সালে সিলেট-৭ আসন থেকে মুসলিম লীগের হয়ে এমএলএ নির্বাচিত হন আর কায়সার ১৯৭০ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন।
১৯৭১ সালে দখলদার পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর দোসর হিসেবে তাদের পক্ষ নেন কায়সার। মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রায় ৫০০ থেকে ৭০০ স্বাধীনতাবিরোধীকে নিয়ে তিনি নিজের নামে ‘কায়সার বাহিনী’ গঠন করেন। সৈয়দ কায়সার পাকিস্তানী সেনাবাহিনীকে পথ দেখিয়ে বিভিন্ন গ্রামে নিয়ে স্বাধীনতার পক্ষের লোক এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন চালাতেন। পরে দেশ স্বাধীন হওয়ার ঠিক আগে তিনি আত্মগোপন করেন।
১৯৭৫ সালে শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হওয়ার পর ১৯৭৮ সালে আবারও রাজনীতিতে আসেন কায়সার। ১৯৭৯ সালের সংসদ নির্বাচনে সিলেট-১৭ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সাংসদ নির্বাচিত হন তিনি। পরে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন এবং দলের হবিগঞ্জ শাখার সভাপতি হন। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন কায়সার। ১৯৮৮ সালে হবিগঞ্জ-৪ আসন থেকে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
কায়সারের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে, ১৯৭১ সালের ২৭ এপ্রিল সৈয়দ মোঃ কায়সার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর থানা এলাকায় পাকিস্তানী বাহিনীর সঙ্গে থেকে হত্যা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, অত্যাচার ও গুরুতর জখমের ঘটনা ঘটান। একই দিন হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর থানা এলাকায় তারা একটি বাজারসহ গ্রামের অসংখ্য বাড়িঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় এবং অনেক লোককে হত্যা করে। ২৮ এপ্রিল সৈয়দ কায়সার পাকিস্তানী সেনাবাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে একটি বাজারসহ কয়েকটি গ্রামে অভিযান চালিয়ে লুটপাটসহ বহু বাড়িঘর ও বাজার পুড়িয়ে দেয়। পরদিন হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ থানা এলাকায় পাকিস্তানী বাহিনীকে নিয়ে অভিযান চালিয়ে দুই জনকে আটক, অত্যাচার ও হত্যা করেন কায়সার। ৩০ এপ্রিল কায়সার হবিগঞ্জ সদর থানা এলাকায় সেনা সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন গ্রামে অভিযান চালান এবং বাড়িঘরে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করেন। মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে আসামি সৈয়দ কায়সার পাকিস্তানীদের নিয়ে চুনারুঘাট থানা এলাকায় অভিযানে যায়। সেখানে এক সাঁওতালি নারীকে ধর্ষণ করে। ১৫ মে কায়সার তার লোকজন ও সেনা নিয়ে মাধবপুর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আটজনকে হত্যা করেন। ২৯ মে কায়সার শায়েস্তাগঞ্জ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে অপহরণ করে দীর্ঘদিন নির্যাতনের পর হত্যা করেন।
১৬ জুন কায়সারের নেতৃত্বে রাজাকার বাহিনীর সদস্যরা হবিগঞ্জ সদর থেকে একজনকে অপহরণ করে। পরে পাকিস্তানী সেনা সদস্যরা তাকে হত্যা করে। ২৩ জুন সৈয়দ কায়সার নাসিরনগর থানা এলাকায় নিজের লোকজন নিয়ে বিভিন্ন গ্রামে লুটপাট, অগ্নিসংযোগ চালায় এবং লোকজনকে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের পর একজনকে হত্যা করে। ১৯৭১ সালের আগস্টে কায়সার মাধবপুর থানা এলাকায় নিজের লোকজন ও পাকিস্তানী বাহিনীকে নিয়ে অভিযান চালিয়ে অপরহরণ, নির্যাতন ও ধর্ষণ ঘটায়। ১৮ আগস্ট কায়সার ও তার বাহিনী চুনারুঘাট চা বাগান এলাকায় অভিযান চালিয়ে চার মুক্তিযোদ্ধাকে আটক করে নির্যাতন চালায় এবং সবাইকে হত্যা করে লাশ কুয়ায় ফেলে দেয়। ২৯ আগস্ট কায়সার তার বাহিনীসহ মাধবপুর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে চার মুক্তিযোদ্ধাকে আটক করে অত্যাচারের পর হত্যা করে। ১৯৭১ সালের অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি একদিন কায়সার তার বাহিনীসহ মাধবপুর থানার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে এক মুক্তিযোদ্ধাকে অপহরণ এবং নির্যাতনের পর তাকে হত্যা করে। ১৫ নবেম্বর কায়সার তার বাহিনী ও পাকিস্তানী সেনাদের নিয়ে নাসিরনগর থানা এলাকার ২০-২২টি গ্রামে শতাধিক লোককে হত্যা করেন এবং বাড়িঘরে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটায়।
গত ২ ফেব্রুযারি সৈয়দ কায়সারের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযোগ গঠন করা হয়। কায়সারের বিরুদ্ধে গণহত্যার একটি, হত্যা, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগ ও লুণ্ঠনের ১৩টি এবং ধর্ষণের দু’টিসহ মোট ১৬টি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়। গত বছরের ১৪ নবেম্বর তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয়া হয়। গত বছরের ৫ আগস্ট শর্তসাপেক্ষে জামিন পেয়ে বর্তমানে রাজধানীতে ছেলের বাসায় রয়েছেন কায়সার। কায়সার হচ্ছেন দ্বিতীয় কোন আসামি শর্ত সাপেক্ষে জামিন পেলেন। এর আগে বিএনপি নেতা আব্দুল আলীম শর্ত সাপেক্ষে জামিনে ছিলেন।
প্রসঙ্গ ঝুঁকিভাতা
একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের জন্য ২০১০ সালের ২৫ মার্চ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। মামলার সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ২০১২ সালের ২২ মার্চ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ নামে আরও একটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর থেকেই রেজিস্ট্রার কার্যালয়, তদন্ত সংস্থা এবং প্রসিকিউশন পক্ষের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ ঝুঁকিভাতা পেয়ে আসছেন। এবারই ব্যতিক্রম ঘটনা ঘটেছে প্রসিকিউশন পক্ষে। প্রসিকিউশন পক্ষে মে মাসের ঝুঁকিভাতা দেয়া হয়েছে। এর পর থেকে আর কোন ঝুঁকিভাতা দেয়া হয়নি। এমনকি প্রসিকিউশন পক্ষের প্রসিকিউটরবৃন্দ জুলাই মাসের বেতন পর্যন্ত পাননি। এ নিয়ে প্রসিকিউটরদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রসিকিউশন পক্ষ ২০১৪-১৫ অর্থবছরের প্রসিকিউটরদের বেতন ও ঝুঁকিভাতা বাবদ ৫ কোটি টাকা খরচের জন্য দেয়া হয়। এর মধ্যে ৩ কোটি টাকা বেতন ও দেড় কোটি টাকা ঝুঁকিভাতা। ২২ জুলাই আইন মন্ত্রণালয় থেকে সিনিয়র সহকারী সচিব মিয়াজী শহীদুল আলম চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বলা হয়েছে, চীফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে ব্যয় নির্বাহের জন্য ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বিভিন্ন খাতে সর্বমোট ৫ কোটি ৭১ হাজার ৮শ’ ৫২ টাকা বরাদ্দের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। অন্যান্য ভাতা ঝুঁকিভাতা খাতে দেড় কোটি টাকার প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা প্রদান, ভ্রমণভাতা খাতে চাহিত বরাদ্দের বিপরীতে যৌক্তিক কারণে দেশে-বিদেশে ভ্রমণের অগ্রিম তালিকা, পেট্রোল ও লুব্রিক্যান্ট খাতে বরাদ্দকৃত গাড়ি অনুযায়ী সরকারী বিধিমোতাবেক প্রাপ্যতাসহ উল্লিখিত খাতগুলোর বিপরীতে চাহিত অর্থের প্রয়োজনীয়তার পৃথক পৃথক ব্যাখ্যা দেয়ার কথা বলা হয়েছে।
আজ জুমাতুল বিদা ও পবিত্র লাইলাতুল কদর
স্টাফ রিপোর্টার ॥ জুমাতুল বিদা আজ। একই সঙ্গে আজ দিন শেষে রাতে পালিত হবে পবিত্র লাইলাতুল কদর। পবিত্র রমজান মাসের শেষ জুমাবারকে জুমাতুল বিদা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। এ দিনের যথাযথ গুরুত্ব বিবেচনা করে বিশ্বের মুসলমানরা শেষ জুমার নামাজ আদায় করে থাকেন। একই সঙ্গে এ দিনকে আল কুদস দিবস হিসেবেও অভিহিত করা হয়।
আজ পশ্চিম আকাশে সূর্য অস্ত যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হবে পবিত্র লাইলাতুল কদর। পবিত্র কোরান শরীফে এ রাতকে হাজার রাত অপেক্ষা উত্তম বলে ঘোষণা করা হয়েছে। পুণ্যময় সম্মানিত এ রাতেই নাজিল হয়েছিল পবিত্র কোরান। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে সারারাত অতিবাহিত করবেন এ উপলক্ষে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ রাজধানী ও দেশের সব মসজিদে ইবাদতের বিশেষ প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। লাইলাতুল কদর উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি এ্যাডভোকেট মোঃ আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিরোধী রাজনৈতিক দল বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া পৃথক বাণী দিয়েছেন।
শব-ই-কদর বা লাইলাতুল কদর। এর অর্থ অতিশয় সম্মানিত ও মহিমান্বিত রাত বা পবিত্র রজনী। আরবী ভাষায় লাইলাতুন অর্থ হলো রাত্রি বা রজনী এবং কদর শব্দের অর্থ সম্মান, মর্যাদা, মহাসম্মান। এ ছাড়াও এর অন্য অর্থ হলো ভাগ্য, পরিমাণ ও তাকদির নির্ধারণ করা। ইসলাম ধর্ম অনুসারে, এ রাতে মুসলমানদের সন্মান বৃদ্ধি করা হয়। তাই মুসলমানদের কাছে এই রাত অত্যন্ত পুণ্যময় ও মহাসম্মানিত হিসেবে পরিগণিত। কোরানের বর্ণনা অনুসারে আল্লাহ এ রাতকে অনন্য মর্যাদা দিয়েছেন এবং এই একটি মাত্র রজনীর উপাসনা হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও অধিক সওয়াব অর্জিত হওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে। বিশ্বের মুসলমানরা বিশ্বাস করে যে প্রতিবছর মাহে রমজানে মহিমান্বিত রজনী লাইলাতুল কদর তাদের জন্য সৌভাগ্য বয়ে আনে।
৬১০ হিজরীতে শব-ই-কদরের রাতে মক্কার নূর পর্বতের হেরা গুহায় ধ্যানরত অবস্থায় হযরত মুহাম্মদ (সা)-এর কাছে সর্বপ্রথম কোরান নাজিল হয়। মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ রাত সম্পর্কে হাদিস শরীফে অসংখ্য বর্ণনা রয়েছে। মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় গ্রন্থ আল কোরানে সূরা কদর নামে স্বতন্ত্র একটি পূর্ণ সূরাও নাজিল হয়েছে। এই সূরায় শব-ই- কদরের রাতকে হাজার মাসের চেয়ে উত্তম বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইসলামী বিশেষজ্ঞদের মতে, মুহাম্মদ (সা)-এর পূর্ববর্তী নবী এবং তাঁদের উম্মতগণ দীর্ঘায়ু লাভ করার কারণে বহু বছর আল্লাহর ইবাদত করার সুযোগ পেতেন। কিন্তু মুহাম্মদ (সা) থেকে শুরু করে তাঁর পরবর্তী অনুসারীদের আয়ু অনেক কম হওয়ায় তাঁদের পক্ষে আল্লাহর ইবাদত করে পূর্ববর্তীদের সমকক্ষ হওয়া কিছুতেই সম্ভবপর নয় বলে তাদের মাঝে আক্ষেপের সৃষ্টি হয়। তাঁদের এই আক্ষেপের প্রেক্ষিতে তাঁদের আক্ষেপ দূর করতে সূরা কদর নাজিল করা হয় বলে হাদিসের বর্ণনায় জানা যায়। এ সূরায় কদরকে হাজার মাসের চেয়ে উত্তম ও শ্রেষ্ঠ ইবাদত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইসলামে বছরের যে ক’টি দিন ও রাত বিশেষভাবে মহিমান্বিত, তার মধ্যে সবচেয়ে উত্তম ও ফজিলতপূর্ণ শব-ই-কদর। পবিত্র রমজানের এ রাতে লাওহে মাহফুজ থেকে নিম্ন আকাশে মহাগ্রন্থ আল কোরান অবতীর্ণ হয়। কোরান নাজিলের মাস হিসেবে রমজান যেমন বিশেষ মর্যাদায় ভূষিত, তেমনি কোরান নাজিলের কারণেই শব-ই-কদর অতি ফজিলত ও তাৎপর্য বহন করে।
এ রাতের গুরুত্ব সম্পর্কে বলা হয়েছে মুসলমানদের কাছে কদরের রাতের গুরুত্ব অপরিসীম। কোরানের সূরা কদরে উল্লেখ করা হয়েছে হাজার মাস উপাসনায় যে পুণ্য হয়, কদরের এক রাতের উপাসনা তার চেয়ে উত্তম। লাইলাতুল কদরের রাতে সৎ এবং ধার্মিক মুসলমানদের ওপর আল্লাহর অশেষ রহমত ও নিয়ামত বর্ষিত হয়। লাইলাতুল কদরে মুসলিমরা আল্লাহর কাছে মাগফিরাত, নাজাত ও ক্ষমা পাওয়ার পরম সুযোগ লাভ করে। লাইলাতুল কদর সম্পর্কে মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সা) বলেন, যে ব্যক্তি এ রাত ইবাদতের মাধ্যমে অতিবাহিত করবে, আল্লাহ তাঁর পূর্বের সব গুনাহ মাফ করে দেবেন।
হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, লাইলাতুল কদরের রজনীতে যে ব্যক্তি আল্লাহর আরাধনায় মগ্ন থাকবে আল্লাহ তাঁর ওপর থেকে দোজখের আগুন হারাম করে দেবেন। হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে সমস্ত রজনী আল্লাহতায়ালা লাইলাতুল কদর দ্বারাই সৌন্দর্য ও মোহনীয় করে দিয়েছেন। অতএব তোমরা এ বরকতময় রজনীতে বেশি বেশি তাসবিহ-তাহলিল ও ইবাদত-বন্দেগিতে রত থাক। অন্য এক হাদিসে মহানবী (সা) বলেছেন, তোমরা তোমাদের কবরকে আলোকিত পেতে চাইলে মহিমান্বিত লাইলাতুল কদর রাতে জেগে রাতব্যাপী ইবাদত বন্দেগিতে কাটিয়ে দাও।
তবে সাধারণভাবে ২৬ রমজানের রাতে শবে কদর পালন করা হয়ে থাকলেও ইসলামী বিশেষজ্ঞদের মতে, পবিত্র রমজান মাসের শেষ দশকের যে কোনো বেজোড় রাতে লাইলাতুল কদর আসতে পারে। তবে হাদিস শরীফের বর্ণনা অনুযায়ী ২৬ রমজান দিবাগত রাতটি পবিত্র লাইলাতুল কদর হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। মহিমান্বিত এ রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। তাঁদের মতে, লাইলাতুল কদর শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা)-এর উম্মতদের জন্য বিশেষ বৈশিষ্ট্য ও নেয়ামত। আর কোন নবীর উম্মতকে এ ধরনের ফজিলতপূর্ণ রাত বা দিন দান করা হয়নি।
মহাপুণ্যময় এ রাতে বিশ্বের মুসলমানরা ইবাদত- বন্দেগির মাধ্যমে অতিবাহিত করবেন। তবে এ রাতে কেউ নির্দিষ্ট কোন ইবাদতের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, পবিত্র কোরান তেলাওয়াত, নফল নামাজ, তসবিহ-তাহলিল, দান-সদকা সবই এ রাতে করা যায়। আস্থা ও বিশ্বাসের সঙ্গে যে কোন ইবাদত করলে আল্লাহর সান্নিধ্য পাওয়া সম্ভব। এদিকে জানা গেছে আজ পবিত্র লাইলতুল পালনে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম মসজিদের রাত জেগে ইবাদত-বন্দেগি পালনের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
জুমাতুল বিদা ॥ এদিকে ইসলামী চিবিদদের মতে, রমজান মাসের সর্বোত্তম বা উৎকৃষ্ট দিবস হলো জুমাতুল বিদা। রমজান মাসের শেষ শুক্রবার অথবা শেষ জুমাবারের দিন জুমাতুল বিদা হিসেবে মুসলিম বিশ্বে পরিচিত। এ মাসের শেষ জুমার দিন আবার পালিত হয় আল কুদ্স দিবস। এদিনের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম। দিনটি মুসলমানদের কাছে বিশেষ তাৎপর্য এই কারণে যে এ দিনে আল্লাহর নবী হযরত দাউদ (আ)-এর পুত্র হযরত সুলাইমান (আ) জেরুজালেসনগর প্রতিষ্ঠা করেন। আল্লাহর মহিমা তুলে ধরতে তিনি সেখানে মুসলমানদের প্রথম কিবলা মসজিদ আল-আকসা পুনর্নির্মাণ করেন। মক্কায় মসজিদে হারাম, মদিনার মসজিদে নববীর পর মুসলমানদের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান হচ্ছে বায়তুল মোকাদ্দাস বা মসজিদ আল-আকসা।
প্রতিবছর রমজান মাসের শেষ শুক্রবার বিশ্বের মুসলমানরা ইসরাইলের কবল থেকে বায়তুল মোকাদ্দাসকে মুক্ত করার জন্য নতুন শপথ নিয়ে থাকে। এ জন্য রমজান মাসের শেষ শুক্রবারকে আল কুদ্স দিবস বলা হয়। এদিনের বিশ্বের মুসলমানরা মুসলিম উম্মার ঐক্য, তাঁদের উন্নয়ন, আল কুদ্সের মুক্তি জন্য আল্লাহ্র দরবারে বিশেষ প্রার্থনা করে থাকে।
যুক্তরাষ্ট্র কোনদিন ভাল কাজের পক্ষে থাকে না ॥ শেরপুরে মতিয়া
ওবামার ভূমিকার সমালোচনা
নিজস্ব সংবাদদাতা, শেরপুর, ২৪ জুলাই ॥ গাজায় ইসরাইলের হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেছেন, নিরীহ ফিলিস্তিনীদের হত্যায় যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলকে সাহায্য করছে। যুক্তরাষ্ট্র কোনদিনও ভাল কাজের পক্ষে থাকে না। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ৩০ লাখ মানুষ শহীদ হন এবং ২ লাখ মা বোন যখন ইজ্জত দেন, তখনও পাকিস্তানের পক্ষে ছিল যুক্তরাষ্ট্র। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সাদ্দাম হোসেনকে ফাঁসি দিয়েছে। যে কারণে ইরাক আজ শেষ। ইরানের বিরুদ্ধেও ষড়যন্ত্র করছে আমেরিকা। আজকে সিরিয়াকে ধ্বংস করছে। এরা আজকে মধ্যপ্রাচ্যের সব দেশের পেছনে লেগে তার তেল উঠিয়ে নিয়ে নিজেরা আমানতে রাখছে। আর বাংলাদেশে যখনই শেখ হাসিনা এগুলোর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান, তখনই তারা আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে।
মতিয়া চৌধুরী বৃহস্পতিবার নালিতাবাড়ী উপজেলায় গরিব দুঃস্থদের মধ্যে ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে ভিজিএফ চাল, বয়স্ক ভাতা, শাড়ি, শার্ট বিতরণকালে ওইসব কথা বলেন। তিনি বলেন, যেখানে মানুষ খুন হয়, সেখানে যুক্তরাষ্ট্র থাকে। বাংলাদেশে যখন মানুষ খুন হয়েছিল, তখন যুক্তরাষ্ট্র তাদের পক্ষে ছিল। এই একটা দেশ টাকার গরম দেখায়। ধরাকে সরা জ্ঞান করে। আর যত রকম জঙ্গী, জঙ্গীদের পেছনে হলো এই যুক্তরাষ্ট্র। মুখে বলে আমরা জঙ্গী চাই না। আমরা জঙ্গীদের দমন করতে চাই। আর টাকা দেয় এই যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামাকে ইঙ্গিত করে কৃষিমন্ত্রী বলেন, মানবাধিকারের কথা বলেন যুক্তরাষ্ট্রের লোকেরা, যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি। আজকে নিজামীর জন্য আপনি পেরেশান হয়ে যান। আর ফিলিস্তিনে যখন মানুষ মারা যায়, তখন আর আপনার কিছু লাগে না। আপনারা যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে, আপনারা খুনীদের পক্ষে, আপনারা গরিব মানুষের শান্তির বিপক্ষে- এই অভ্যাস ছাড়ুন।
মতিয়া চৌধুরী বলেন, জাতিসংঘ এখন গাইও (গাভী) না, বলদও না। যখন যুদ্ধ হচ্ছে, তখন কিছু করে না। যখন অবস্থা প্রায় অন্যদিকে চলে যায়, তখন ওনারা নিরাপত্তা পরিষদে বসেন। মুক্তিযুদ্ধে আমাদের ত্রিশ লাখ মানুষ মরে সাফ, দুই লাখ মা-বোনের ইজ্জত শেষ, তখন তারা নিরাপত্তা পরিষদে বসল, তাও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে। কাজেই আজকে জাতিসংঘকেও বলব, আপনারা জালিমের পক্ষে থাকবেন না, মজলুমের পক্ষে থাকবেন। মনে রাখবেন মজলুমের জোরেই ভোট বেশি, ওই জালিমদের ভোট বেশি নয়। আমাদের চাঁদায় আপনারা চলেন। কাজেই সাধারণ মানুষের পক্ষে আপনারা থাকবেন, শান্তির পক্ষে থাকবেন- এটাই আপনাদের কাছে আমাদের কামনা।
কৃষকের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, কৃষকদের কৃষিকার্ড দেয়া হয়েছে। সেই কার্ড দিয়ে কৃষক ১০ টাকায় ব্যাংক এ্যাকাউন্ট খুলতে পারে। ব্যাংক থেকে কৃষি ঋণ নিতে পারে। এখন আর কৃষি ঋণের জন্য মহাজনের কাছে যেতে হয় না। মহাজন শব্দটা আমরা বিদায় দিয়েছি। বিদ্যুতের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপির ৫ বছর, তত্ত্বাবধায়কের ২ বছরÑ এই ৭ বছরে দেশে এক হাত বিদ্যুতের তারও বাড়েনি। আল্লাহর রহমতে আমাদের সময় নালিতাবাড়ীতেই ১শ’ কিলোমিটারের ওপরে বিদ্যুত দেয়া হয়েছে।
শেরপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাকীর হোসেনের সভাপতিত্বে বিতরণ অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপজেলা চেয়ারম্যান একেএম মোখলেছুর রহমান রিপন, পুলিশ সুপার মেহেদুল করিম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার, প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এদিন কৃষিমন্ত্রী পৌরসভাসহ উপজেলার তিনটি ইউনিয়নে ১ হাজার ৪শ’ গরিব ও দুস্থের মাঝে ১০ কেজি করে ভিজিএফের চাল, ৭৫০ জনকে শাড়ি, ৬০ জনকে থ্রিপিস, ২শ’ জনকে শার্ট, ২শ’ জনকে ট্রাউজার, ১৩৮ জনকে বয়স্ক ভাতা, ৬৩ জনকে বিধবা ভাতা, ১৫ জনকে প্রতিবন্ধী ভাতা ও প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারে শাড়ি এবং দুস্থদের মাঝে খেজুর বিতরণ করেন।
তিন দিনের লন্ডন সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী ফিরেছেন
বিশেষ প্রতিনিধি ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লন্ডনে তাঁর তিন দিনের সরকারী সফর শেষে দেশে ফিরেছেন। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ১৭ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ভিভিআইপি ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এর আগে বুধবার যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী ভিভিআইপি এই ফ্লাইটটি হিথ্রো বিমানবন্দর ত্যাগ করে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ও ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক এ্যান্থনি লেকের আমন্ত্রণে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত গার্ল সামিটে যোগ দিতে সোমবার লন্ডনে যান। গত ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ইউরোপের কোন দেশে এটি ছিল শেখ হাসিনার প্রথম সফর। সফরকালে মঙ্গলবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের সঙ্গে বৈঠক করেন। এতে দ্বিপক্ষীয় ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় স্থান পায়। বৈঠকে অর্থনীতি, সামাজিক ও নারী উন্নয়নে বাংলাদেশের অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসা করে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। এই সাফল্য কিভাবে এলো তা দেখতে বাংলাদেশ সফরেরও আগ্রহ প্রকাশ করেন ডেভিড ক্যামেরন।
মঙ্গলবার দুপুরে যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে অনুষ্ঠিত ‘গার্ল সামিট-২০১৪’ এ প্রধানমন্ত্রী ২০ সদস্যবিশিষ্ট উচ্চপর্যায়ের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। সেখানে তিনি বাংলাদেশে বাল্যবিয়ের ক্রমহ্রাসমান চিত্র এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীর অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী ওই সম্মেলনে বলেন, বাল্যবিয়ের মতো সামাজিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য শক্তিশালী রাজনৈতিক অঙ্গীকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী শীর্ষ পর্যায়ের অধিবেশনে যোগ দেন এবং ওয়ালওর্থ একাডেমিতে বুর্কিনা ফাঁসোর ফার্স্ট লেডি চাঁতাল কম্পাওর ও পাকিস্তানের বিশিষ্ট শিশু শিক্ষাকর্মী মালালা ইউসুফ জাইয়ের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। ‘ফিমেল জেনিটাল মিউটিলেশন (এফজিএম)’ এবং জোরপূর্বক ও বাল্যবিয়ে বন্ধে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা জোরদারের লক্ষ্যে যুক্তরাজ্য সরকার ও ইউনিসেফ প্রথমবারের মতো এ সামিটের আয়োজন করে।
এছাড়া সর্বদলীয় ব্রিটিশ সংসদীয় দল, যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ডেসমন্ড সোয়েন, ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক এ্যান্থনি লেক, যুক্তরাজ্যের ছায়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডগলাস আলেকজান্ডার, ব্রিটিশ হাউস অব কমন্সের স্বরাষ্ট্র বিষয়ক নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান কিথা ভাজ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর হোটেল স্যুটে সাক্ষাত করেন। বিশিষ্ট সাংবাদিক আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরীসহ যুক্তরাজ্যে কর্মরত বাংলাদেশের কয়েকজন সিনিয়র সাংবাদিক হোটেল স্যুটে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করেন।
শেখ হাসিনা সোমবার সন্ধ্যায় লন্ডন হিলটন হোটেলে আওয়ামী লীগের যুক্তরাজ্য শাখা আয়োজিত ইফতার মাহফিল পূর্ব আলোচনাসভায় বক্তব্য রাখেন। বুধবার সকালে তিনি বিবিসি ওয়ার্ল্ড রেডিও ও বিবিসি বাংলা সার্ভিসকে সাক্ষাতকারও দেন। এদিন ব্রিটিশ হাউস অব কমন্সের হোম এ্যাফেয়ার্স কমিটির চেয়ারম্যানের সঙ্গেও বৈঠক করেন তিনি। দুপুরে লন্ডনে বসবাসরত বাংলাদেশী সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, সব দেশের সঙ্গেই আমরা সম্পর্ক রাখতে চাই, তবে দেশের স্বার্থ বাদ দিয়ে নয়। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সমস্যা থাকবে আমরা সেগুলো সমাধান করব। সমুদ্রসীমা মামলায় বিজয়ী হলেও প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক অটুট থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
বিমান যাত্রীদের চমকে দিলেন প্রধানমন্ত্রী
লন্ডন স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ভিভিআইপি ফ্লাইটটি আকাশে ওঠার কিছুক্ষণ পরই বিজনেস ক্লাস থেকে বেরিয়ে আসেন প্রধানমন্ত্রী। উড়ন্ত বিমানের যাত্রীরা অবাক; তাদের সামনে এসে দাঁড়িয়েছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা! প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর স্বভাবসুলভ হাসিমাখা মুখে এগিয়ে এসে কুশল বিনিময় করলেন, সবার সঙ্গে ছবি তুললেন এবং শিশুদের কোলে নিয়ে আদর করেন। লন্ডন থেকে ঢাকার পথে উড়ে চলা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ‘রাঙা প্রভাত’ নামক ভিভিআইপি ফ্লাইটে বয়ে গেল আনন্দের ঢেউ। কারও সঙ্গে হাত মিলিয়ে, কাউকে জড়িয়ে ধরে, কারও সঙ্গে হাসিমুখে কুশল বিনিময় করে এগিয়ে চলেন শেখ হাসিনা। শিশুদের সঙ্গে নিয়ে একের পর এক ছবি তুললেন। নারীরা এগিয়ে গিয়ে সামিল হলেন সেই ছবিতে। বয়োবৃদ্ধদের দিকে ঝুঁকে তাদের শরীর-স্বাস্থ্যের খবর নিলেন শেখ হাসিনা। আর জানতে চাইলেন তাদের কেমন লাগছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এই ফ্লাইটের ভ্রমণ।
প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর ৫৬ জন সফরসঙ্গী ছাড়াও ঢাকা ও সিলেটগামী ৩২০ জন যাত্রী ছিলেন এই ফ্লাইটে। প্রধানমন্ত্রী যখন সকলের সঙ্গে কুশল বিনিময় করছিলেন তখন তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিশেষ সহকারী মাহবুবুল হক শাকিল, কয়েকজন নিরাপত্তাকর্মী ও ব্যক্তিগত কর্মকর্তা। প্রধানমন্ত্রীকে বিমানের আইল ধরে হাঁটতে দেখে যাত্রীদের মধ্যে ওঠে উল্লাসের ধ্বনি। অনেকেই মোবাইল ফোন বা ক্যামেরা হাতে নেন ছবি তোলার জন্য। এ সময় দুটি শিশু এসে একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তার হাতে মোবাইল ফোন তুলে দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাদের ছবি তুলে দিতে বলে। প্রধানমন্ত্রীও হাসিমুখে দুই শিশুর সঙ্গে দাঁড়িয়ে যান ছবি তোলার জন্য। শেখ হাসিনা এ সময় কয়েকজন নারী যাত্রীর হাত ধরে তাদের খোঁজখবর নেন। শিশুদের কোলে তুলে আদর করে দেন। এভাবে সুপরিসর বোয়িং ৭৭৭ উড়োজাহাজটির এক আইল ধরে এক মাথা থেকে অন্য মাথা পর্যন্ত হেঁটে গিয়ে অন্য পাশের আইল ধরে নিজের আসনে ফেরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি নিজের আসনে ফেরার পর পুরো বিমানজুড়ে শুরু হয় আলোচনা। অনেকের বলতে শোনা যায়, জীবনে প্রথমবারের মতো শেখ হাসিনাকে এত কাছ থেকে দেখলাম। কত সহজে তিনি মানুষের সঙ্গে মিশে গেলেন।
হেজাবিদের বোম্বেটে নীতি ও ইউরোপিয়ানদের প্রস্তাব
মুনতাসীর মামুন
বাংলাদেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চদশ রাষ্ট্রদূত নিযুক্ত হয়েছেন মার্শিয়া বার্নিকাট। সিনেটের শুনানিতে তিনি বলেন, ‘গত ৫ জানুয়ারির সংসদ নির্বাচন নিঃসন্দেহে ত্রুটিপূর্ণ ছিল এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর জরুরী ভিত্তিতে গঠনমূলক সংলাপে অংশগ্রহণ করা দরকার যা আরও প্রতিনিধিত্বমূলক সরকার গঠনের দিকে এগিয়ে যাবে।’ [প্রথম আলো ১৯.৭.১৪] [বিস্তারিত চতুরঙ্গ পাতায়, পৃষ্ঠা-৭]
ক্যামেরন বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ চান
প্রধানমন্ত্রীর সফর সম্পর্কে পররাষ্ট্রমন্ত্রী
স্টাফ রিপোর্টার ॥ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন বলেছেন, বাংলাদেশের নির্বাচন এখন অতীত। যুক্তরাজ্য ভবিষ্যতের দিকে তাকাতে চায়। আগামী দিনে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাজ্য দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও নিবিড় করতে চায়। দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে জোরদারের লক্ষ্যে ব্রিটিশ সরকার বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে একযোগে কাজ করে যাবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যুক্তরাজ্য সফর নিয়ে বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান। এছাড়া ৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূতের দেয়া বক্তব্য মার্কিন সরকারের বক্তব্য নয় বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
২১-২৩ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুক্তরাজ্য সফর করেন। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ও ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক এ্যান্থনি লেকের আমন্ত্রণে লন্ডনে অনুষ্ঠিত ‘গার্ল সামিট’ অংশগ্রহণ করেন। যুক্তরাজ্যে তিন দিনের সরকারী সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার দেশে ফিরেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার লন্ডন সফর নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়াও বক্তব্য রাখেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম ও পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক।
সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেন, ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের মাধ্যমে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রীর নতুন মেয়াদে যুক্তরাজ্য তথা পশ্চিমা কোন দেশে এটিই ছিল তাঁর প্রথম সফর। নারীর ক্ষমতায়নে একজন বিশ্বস্বীকৃত নেতা ও সরকারপ্রধান হিসেবে বহুপাক্ষিক এই ‘গার্ল সামিটে’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অংশগ্রহণ ছিল আন্তর্জাতিক প্রেক্ষিতে অত্যন্ত সফল এবং তাৎপর্যপূর্ণ। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্যের মতো একটি উন্নয়ন সহযোগী বন্ধু রাষ্ট্রের সঙ্গে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগিতাসংক্রান্ত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কোন্নয়নের দিক থেকেও প্রধানমন্ত্রীর এই সফরটি ছিল অত্যন্ত সফল ও কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেন, যুক্তরাজ্য সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের সঙ্গে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন। ২২ জুলাই প্রধানমন্ত্রী ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে পৌঁছালে ডেভিড ক্যামেরন তাঁর অফিসের বাইরে এগিয়ে এসে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান, যা ছিল হৃদ্য, উষ্ণতা এবং আস্থার বহির্প্রকাশ। ৪৫ মিনিট স্থায়ী এই বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে সৌহার্দ্যমূলক ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কন্যাশিশু শীর্ষ সম্মেলন আয়োজন করায় ক্যামেরনকে ধন্যবাদ জানালে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কন্যাশিশু ও নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের সাফল্য বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর দূরদৃষ্টি তথা ভিশনের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠককালে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন স্পষ্ট ভাষায় বলেন যে, বাংলাদেশের নির্বাচন এখন অতীত। যুক্তরাজ্য ভবিষ্যতের দিকে তাকাতে চায়। আগামী দিনে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাজ্য দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও নিবিড় করতে চায় এবং দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে জোরদারের লক্ষ্যে ব্রিটিশ সরকার বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে একযোগে কাজ করে যাবে।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়বস্তু তুলে ধরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন নারীর ক্ষমতায়ন, দারিদ্র্য দূরীকরণ, সামাজিক নিরাপত্তা, জনগণের জীবনমান উন্নয়ন ইত্যাদি বিষয়ে পাঁচ বছরের অগ্রগতি তুলে ধরে ব্রিটিশ সরকারের বিশেষ করে ডিএফআইডির অব্যাহত সহায়তার জন্য ক্যামেরনকে ধন্যবাদ জানান, তখন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অর্থনৈতিক, সামাজিক ও নারী উন্নয়নে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসা করেন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এমডিজি অর্জন করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের যে অগ্রগতি তা প্রশংসনীয় এবং বহু দেশের জন্য অনুকরণীয়। এই অগ্রগতিকে বজায় রাখতে ব্রিটিশ সরকারের পক্ষে তিনি সম্ভাব্য সবরকম সহায়তার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
ক্যামেরন কন্যাশিশুর শিক্ষা ও অধিকার রক্ষায় এবং নারীর অর্থনৈতিক ও সামাজিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিভঙ্গির প্রশংসা করেন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ক্রমাগতভাবে বার্ষিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধি এবং অন্যদিকে তার সুফল সামাজিক উন্নয়নের মাধ্যমে জনগণের মধ্যে বিস্তৃত করায় বাংলাদেশের এই বিস্ময়কর সাফল্য সরেজমিনে দেখতে তিনি শীঘ্রই বাংলাদেশ সফর করতে চান। এই সফরে তিনি সিলেট সফরেরও ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দুই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠককালে ক্যামেরন প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলেন, বাংলাদেশ মৌলবাদ ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলার ক্ষেত্রেও যে সাফল্য দেখিয়েছে তা প্রশংসনীয়। প্রধানমন্ত্রী দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেছেন যে জনগণের সম্মিলিত শক্তিই তাঁর দৃষ্টিভঙ্গির এবং সরকারের সাফল্যের মূল অনুপ্রেরণা। তিনি ডেভিড ক্যামেরনকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান এবং বলেন যে, সরকার ও বাংলাদেশের জনগণ তাঁকে আন্তরিকভাবে অভ্যর্থনা জানাবে।
একই দিনে গার্ল-সামিটে যোগদানের আগে যুক্তরাজ্যের নবনিযুক্ত আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ডেসমন্ড সোয়েইনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত করেন। এই বৈঠকে সোয়েইনি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর মতোই অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে বাংলাদেশের ধারাবাহিক সাফল্যের উচ্চ প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বৈদেশিক সাহায্য ব্যবহার সক্ষমতায় গভীর সন্তোষ প্রকাশ করে যুক্তরাজ্যের অব্যাহত সাহায্যের অঙ্গীকার পুর্নব্যক্ত করেন।
লন্ডন সফরকালে শ্যাডো পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডগলাস আলেকজান্ডার প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেন। তিনি বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর মতামত জানতে চান বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তন মৌলবাদ ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলা, বাজার সম্প্রসারণ ইত্যাদি বৈশ্বিক ইস্যু এবং বাংলাদেশে তৈরি পোশাক খাতের উন্নয়নে ব্রিটিশ সহায়তা, নারীর শিক্ষা সম্প্রসারণ ইত্যাদি দ্বিপাক্ষিক বিষয় এই আলোচনায় স্থান পায়। এছাড়াও অল পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপের পক্ষে কনজারভেটিভ মন্ত্রী লর্ড তারেক আহমেদ, লর্ড শেখ, ব্যারোনেস পলা মনজিলা উদ্দিন, রুশনারা আলী, এমপি ও লর্ড বিলমোরিয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করতে এলে তিনি বিভিন্ন ইস্যুতে মতবিনিময় করেন।
লর্ড সভার সদস্য ও ব্রিটিশ এমপিরা ৫ জানুয়ারির নির্বাচনপরবর্তী স্থিতিশীলতা ও শান্তি পুনর্প্রতিষ্ঠায় সরকারের প্রশংসা করে বলেন, শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিদেশী বিনিয়োগকে উৎসাহিত করবে। কয়েক এমপি ১৯৭১ সালে পাকিস্তানী দখলদার বাহিনীর হাতে নারী নির্যাতনকারীদের বিচারের পক্ষে জনমত তৈরিতে কাজ করছেন বলে জানান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুদ্ধাপরাধী ও মানবতাবিরোধী অপরাধীদের আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর ক্ষেত্রে তাঁর দৃঢ় অবস্থান তুলে ধরেন। এছাড়া এই আদালত স্বাধীনভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলেও তিনি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের উত্তরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ওয়াশিংটনে সিনেটে যে বক্তব্য দিয়েছে, সেটা মার্কিন সরকারের বক্তব্য নয়। কেননা সিনেটে দেয়া বক্তব্য একান্তই তাঁর নিজস্ব বক্তব্য। সেটা সিনেট গ্রহণ করবে কি-না, সেটা সিনেটের বিষয়।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে ডেভিড ক্যামেরনের সঙ্গে কোন আলোচনা হয়নি। তবে এ বিষয়ে কয়েক ব্রিটিশ মন্ত্রী-এমপিদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এ নিয়ে আলাপকালে তাঁরা জানিয়েছেন যে, তাঁরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পক্ষে রয়েছেন।
আবুল হাসান মাহমুদ আলী গার্ল সামিটের বিষয়ে জানান, ‘গার্ল সামিটে’র শীর্ষ পর্যায়ের প্যানেল আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অন্যতম আলোচক হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। তিনি বাংলাদেশ এবং বৈশ্বিক পর্যায়ে বাল্যবিবাহের কারণ এবং এর নিরোধে তাঁর সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ, অঙ্গীকার, কর্মপরিকল্পনা ও সুপারিশসমূহের ওপর বক্তব্য রাখেন। শীর্ষ পর্যায়ের প্লেনারিতে বিভিন্ন আলোচনায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশাপাশি বক্তব্য রাখেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন, বুরকিনা ফাসোর ফার্স্টলেডি শানট্যাল কাম্পাত্তরে, পাকিস্তানের মানবাধিকার কর্মী মালালা ইউসুফজাই ও ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক এ্যান্থনি লেক। প্লেনারির শীর্ষ পর্যায়ের প্যানেল আলোচনাটি সঞ্চালন করেন বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের প্রখ্যাত সাংবাদিক জয়নাব বাদাউই।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুুল হাসান মাহমুদ আলী জানান, গার্ল সামিটে নারী উন্নয়ন নীতি, ২০১১ নিয়ে জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন ধর্মভিত্তিক দলের বিরোধিতার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে।
এছাড়া যুক্তরাজ্য ও ইউনিসেফের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত কন্যাশিশুদের স্বাস্থ্য, সামাজিক, সাংস্কৃতিকভাবে ক্ষতিকারক তিনটি বিশেষ সমস্যা-যেমন বাল্য ও জোরপূর্বক বিবাহ, শিশুবিবাহ এবং মেয়েশিশুদের খতনা- ইত্যাদি নিয়ে এটিই ছিল বিশ্বের প্রথম সামিট। এতে ভারত, নেপাল, পাকিস্তান ছাড়াও বেশকিছু আফ্রিকার দেশ যেমন- জাম্বিয়া, ইথিওপিয়া, উগান্ডা, সিয়েরা লিওন, মালি, সোমালিয়া, ঘানা, গিনি এবং ইউরোপ ও আমেরিকার যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডস, সুইডেন, ডেনমার্ক ও নরওয়ে এবং কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়াসহ উন্নত ও উন্নয়নশীল বিশ্বের ৩০ পররাষ্ট্রমন্ত্রী, ইমিগ্রেশনমন্ত্রী, নারী বা শিশুমন্ত্রী ও মানবাধিকার কর্মীবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন ও বাল্য, জোরপূর্বক ও শিশুবিবাহ ও মেয়েশিশুদের খতনা সমস্যা আছে এ ধরনের প্রায় ৫০টি দেশের উর্ধতন কর্মকর্তা, মানবাধিকার এবং নারী অধিকার কর্মী ও জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা থেকে বহুলসংখ্যক ডেলিগেট অংশগ্রহণ করেন।
সামিটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘ভিশন-২০২১’-এর একই সময়ের ভেতরে ১৫ বছরের নিচের বাল্যবিবাহ ২০২১-এর মধ্যেই সম্পূর্ণ বন্ধ সম্ভব বলে সামিটে অঙ্গীকার প্রদান করেন। একসঙ্গে ১৫-১৮ বছরের মেয়েদের বিবাহ ২০২১-এ ভেতরে এক-তৃতীয়াংশ কমানো ও ২০৪১ সালে বাংলাদেশের ৭০তম স্বাধীনতা দিবসে বাল্যবিবাহ সম্পূর্ণ বন্ধের অঙ্গীকার ঘোষণা করেন।
মনিটরিংয়ের ফলে নিত্যপণ্যের দাম বাড়েনি রমজানে
সুযোগ পায়নি সিন্ডিকেট
এম শাহজাহান ॥ রমজানের শুরুতে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ১০টি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল সরকার। সরকারের ওই উদ্যোগে কঠোর বাজার মনিটরিংয়ে ও অসাধু ব্যবসায়ীদের দিকে নজরদারি থাকায় শেষ পর্যন্ত দ্রব্যমূল্য নিয়ে কারসাজির সুযোগ পায়নি সিন্ডিকেট চক্র। ফলে দু’একটি সবজি জাতীয় পণ্য ছাড়া পুরো রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ছিল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে থাকা সরকারের বড় সাফল্য বলেও মনে করা হচ্ছে। তবে ঈদ সামনে রেখে তরল দুধসহ সব ধরনের গুঁড়ো দুধের দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে তরল দুধের মজুদ শুরু করেছে খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতারা।
জানা গেছে, সাধারণ মানুষের স্বস্তি নিশ্চিত করতে রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও সরবরাহের লক্ষ্যে ১০টি পদক্ষেপ গ্রহণ করে সরকার। এগুলোর মধ্যে রয়েছে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে মূল্য তালিকা দোকানে বাধ্যতামূলক টাঙ্গিয়ে রাখা, নিয়মিত বাজার মনিটরিং, ভেজালবিরোধী অভিযান পরিচালনা, অবৈধভাবে পণ্য মজুদ ও সাপ্লাই চেনে বিঘœ ঘটালে জেল-জরিমানা ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, আমদানিতে ঋণ সুবিধা, সহজ শর্তে এলসি খোলা এবং কয়েকটি পণ্যের আমদানিতে শুল্ক সুবিধা প্রদান, রমজান মাসজুড়ে স্বল্পদামে টিসিবির পণ্যসামগ্রী বিক্রি অব্যাহত রাখা, রমজানে খুচরা পর্যায়ে ১০ এবং পাইকারি পর্যায়ে ১ শতাংশের বেশি মুনাফা না করা, পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত ও চাঁদাবাজি বন্ধ, বন্দরে সতর্কতা, গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারি বাড়ানো ও রোজা চলাকালীন শাক-সবজি রফতানি বন্ধ রাখা।
রোজা শুরু হওয়ার ৯-১০ দিন আগে থাকতেই সরকার এসব কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করে। ফলে পুরো রমজান মাসে কঠোর নজরদারির মধ্যে ছিল ভোগ্যপণ্যের ব্যবসায়ীরা।
এছাড়া ভোক্তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে ১৭টি পণ্যকে অত্যাবশ্যকীয় এবং জরুরী পণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। পণ্যগুলো হচ্ছে পেঁয়াজ, রসুন, মসুর ডাল, ছোলা, শুকনা মরিচ, দারুচিনি, লবঙ্গ, এলাচি, ধনিয়া, জিরা, আদা, হলুদ, তেজপাতা, সয়াবিন তেল, পামতেল, চিনি ও খাদ্য লবণ। এসব পণ্যের মধ্যে রমজানে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয়ে থাকে ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, পেঁয়াজ, ডাল ও খেজুর। এই ছয়টি পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে ব্যবসায়ীদের রোজা শুরুর আগেই আমদানি বাড়ানোর পরামর্শ দেয়া হয়। এ ক্ষেত্রে স্বল্পসুদে ঋণ সুবিধার ব্যবস্থা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে চাল, চিনি, ভোজ্যতেল, আটা, ডাল, ছোলা, পেঁয়াজ ও ডিমের মতো ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়তে পারেনি। তবে রোজার শুরুতে সবজি ও মাছের দাম ছিল চড়া। এখন সবজি ও মাছের দাম কমে আসছে। আলু রফতানি হওয়ার কারণে আলুর দাম বেড়ে যায়। তবে দেশের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে আলু রফতানি নিষিদ্ধ করার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।
জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। কোন কোন পণ্যের দাম কমতির দিকেও রয়েছে। এ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ দ্রব্যমূল্য সংক্রান্ত বৈঠকে সম্প্রতি জানান, রমজানে চিনি, ভোজ্যতেল ও ছোলার দাম বাড়বে না। ব্যবসায়ীরা ছোলার পর্যাপ্ত এলসি খুলেছে। এছাড়া দেশে ছোলার মজুদও ভাল। চিনি ও ভোজ্যতেলের আমদানি, মজুদ ও সরবরাহ স্বাভাবিক অবস্থায় রয়েছে।
সূত্র মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যমূল্য, বিশেষ করে চিনি এবং ভোজ্যতেলের দাম কমে এসেছে। এছাড়া মজুদ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে সয়াবিন ও পাম তেলের দাম কমেছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ১৪টি টিম বাজার তদারকি করছে ॥ রমজানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ১৪টি টিম বাজার তদারকি করছে। এছাড়া এ টিমগুলোর পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালতও পরিচালনা করা হচ্ছে। তদারকি দলগুলো ১ জুলাই থেকে শুরু করে শুধু রমজানই নয় আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে বাজার তদারকির কাজ করবে। ইতোমধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে তদারকি দল গঠন করে আদেশ জারি করা হয়েছে। অন্য সময়ে প্রতিটি দলের জন্য পরিদর্শনের তারিখসহ আদেশে আগে থেকেই বাজার নির্ধারণ করে দেয়া হলেও এবার তা হয়নি। পরিদর্শনের দিনই বাজার ঠিক করা হচ্ছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব সদর আলী বিশ্বাস স্বাক্ষরিত টিম গঠনের আদেশে বলা হয়, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে ঢাকা শহরের বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা বাজার নিয়মিতভাবে পরিদর্শন করে পণ্যসামগ্রীর মূল্য, মজুদ ও সরবরাহ পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ, কোন ধরনের অস্বাভাবিক পরিস্থিতি দেখা গেলে ব্যবস্থা নেবে এ দল। ৯ সদস্যের প্রতিটি টিমের দায়িত্বে থাকবেন উপসচিব ও সিনিয়র সহকারী সচিব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা। শুক্রবার ছাড়া সপ্তাহের সব দিন তদারকি কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

মূল্য তালিকা দর্শনীয় স্থানে টাঙ্গিয়ে রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে
রমজান সামনে রেখে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বাজারের প্রতিটি দোকানে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য তালিকা দর্শনীয় স্থানে টাঙ্গিয়ে রাখার নির্দেশ দিয়েছে। এটা অমান্য করলে লাইসেন্স বাতিল করার ঘোষণা দেয়া হয়। এছাড়া পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের সময় পাকা রশিদ সরবরাহের নির্দেশ দেয়া হয়। প্রতিটি পণ্য খুচরা নির্ধারিত মূল্যে বিক্রয় করতে হবে। ঢাকাসহ সারাদেশে এ নির্দেশনা কার্যকরার কথা ঘোষণা করে সরকার। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর এবং প্রতিটি জেলা প্রশাসনের বাজার মনিটরিং টিম নিয়মিত ভাবে এ সকল মূল্য তালিকা তদারকি করছে। যদিও সব দোকানে এখনও মূল্য তালিকা দেখা যায় না। তারপরও এ নির্দেশের ফলে খুচরা ব্যবসায়ীরা চাপের মুখে রয়েছে।

তরল দুধের মজুদ হচ্ছে
ঈদ সামনে রেখে তরল দুধের মজুদ করছে খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা। বেশি দাম পাওয়ার জন্য এটি করা হচ্ছে। ঈদ সামনে রেখে ইতোমধ্যে বাজারে মিল্কভিটা, আড়ং, প্রাণসহ বিভিন্ন কোম্পানির তরল দুধের দাম বেড়ে গেছে। খুচরা দোকানে বাড়তি দামে এসব দুধ বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। ওয়ারীর এক ক্রেতা জনকণ্ঠকে বলেন, প্রতিলিটার দুধে ৫-১০ টাকা বাড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। ঢাকার কোন কোন এলাকায় ৬০-৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে প্রতিলিটার দুধ। এছাড়া ডানো, ফ্রেশ, মার্কস গুঁড়ো দুধের দামও বাড়তির দিকে রয়েছে।
নিজেদের স্বার্থ বজায় রেখে সব দেশের সঙ্গেই সম্পর্ক রাখতে চাই
হিল্টন হোটেলে বাংলাদেশী সাংবাদিকদের প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তাঁর সরকার দেশের স্বার্থ বজায় রেখে যে কোন দেশের সঙ্গেই সর্ম্পক রাখতে চায়। তিনি বলেন, সব দেশের সঙ্গেই আমরা সর্ম্পক রাখতে চাই, তবে দেশের স্বার্থ বাদ দিয়ে নয়। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সমস্যা থাকবে আমরা সেগুলো সমাধান করব। সমুদ্রসীমা মামলায় বিজয়ী হলেও প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সর্ম্পক অটুট থাকবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমুদ্রসীমা মামলায় আমরা জয়ী হয়েছি। বিশাল এলাকা হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছিল। ১৯৯৬ সালে সরকার গঠনের পর সমুদ্রসীমা নিয়ে কিছু কাজ করা হয়েছিল। বিষয়টি কেবিনেটে পাস হয়। কিন্তু ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এসে এ ব্যাপারে কোন কাজ করেনি। শেখ হাসিনা বলেন, ভাগ্য ভাল ২০০৮ সালে আমরা বিজয়ী হয়েছিলাম। না হলে আমাদের সমুদ্র বিজয় হতো না। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ছাড়া দেশে যে সরকারগুলো ছিল কেউ কি সমুদ্রসীমা দাবি করতে পেরেছিল? মামলা করতে সাহস পেয়েছিল। তাঁর সরকারই মিয়ানমার এবং ভারতের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পেরেছি এ জন্যÑ আমরা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন করেছি। যারা উড়ে এসে জুড়ে বসে তারা শুধু ভোগই করে। আমাদের তো এ সব দিকে লক্ষ্য নেই। আমাদের যা আছে তা নিয়েই আছি। জঙ্গল থেকে এসে এলিট হয়ে যাইনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার লন্ডনের হিল্টন হোটেলে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশী সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বিশিষ্ট সাংবাদিক, সাহিত্যিক এবং কলাম লেখক আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর ছোটবোন শেখ রেহানাসহ গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। খবর বাসসর।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু দেশের জন্যই তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। এই অনুভূতি সবার মধ্যে থাকার নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, যাঁরা এ দেশের স্বাধীনতার জন্য কাজ করেছেন শুধু তাঁদের মধ্যেই আছে। ‘এত কাজ করার প্রেরণা কোথায় পান’ সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি দেখিয়ে বলেন, সততা, নিষ্ঠা, একাগ্রতা এবং জনগণের প্রতি দায়িত্ববোধ থাকলে সকল অসম্ভবকে সম্ভব করা যায়। তাঁর সরকার গত ৫ বছরে বিভিন্ন কর্মকা-ের মধ্য দিয়ে তা প্রমাণ করেছে। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ সম্পর্কিত অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জাতির পিতার এই ভাষণের মতো আর কোন ভাষণ দীর্ঘদিন ধরে আবেদন ধরে রাখতে পারেনি। এই ভাষণকে আর কেউ যাতে বিকৃত করতে না পারে সে জন্য এ ভাষণকে ডিজিটালাইজেশন করার পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে শেখ হাসিনা বলেন।
প্রবাসীদের ভোটার হওয়া প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইংল্যান্ডে ডুয়েল ভোটার ক্ষেত্রে কোন বাধা নেই। যে যখন বাংলাদেশে যাবেন তখন ভোটার হতে পারবেন। তবে ভোটটা বাংলাদেশে অনুষ্ঠান নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কিছু অসুবিধা আছে। তিনি বলেন, প্রবাসীরা ভোট দিক তা তিনি চান।
নারী শ্রমিকদের বিশেষ করে নারী ও শিশু শ্রমিক এবং বাল্যবিবাহ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী সবকিছুর জন্য দারিদ্র্যকে দায়ী করে তাঁর সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে বলেন, বাল্যবিয়ে আমাদের সকলের বিশেষ করে বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য একটি বড় ধরনের উদ্বেগ।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের আমন্ত্রণে বাল্যবিবাহ ও নারীর প্রতি বৈষম্য দূরীকরণে বাংলাদেশের গৃহীত বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপসমূহ আন্তর্জাতিক পরিম-লে তুলে ধরার জন্য যুক্তরাজ্যে অনুষ্ঠিত গার্ল সামিটে অংশগ্রহণ করেন। বিশ্বে বাল্যবিবাহ রোধে ব্যাপক জনমত সৃষ্টি করতে যুক্তরাজ্য সরকার এই প্রথমবারের মতো গার্ল শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করে।
ব্রিটেনের রাজধানী লন্ডনে মঙ্গলবার এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন।
দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুক্তরাজ্যে তাঁর তিন দিনের সরকারী সফর শেষে বৃহস্পতিবার সকালে লন্ডন থেকে দেশে ফিরেছেন।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ও ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক আন্থনি লেকের আমন্ত্রণে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত গার্ল সামিটে যোগ দিতে যুক্তরাজ্য সফর করেন।
মঙ্গলবার ব্রিটিশ রাজধানী লন্ডনে অনুষ্ঠিত গার্ল সামিট-২০১৪ অনুষ্ঠানে তিনি ২০ সদস্যবিশিষ্ট উচ্চপর্যায়ের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন।
প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গী সদস্যদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইট স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ১৭ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বাংলাদেশে বিগত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর ইউরোপের কোন দেশে এটি ছিল শেখ হাসিনার প্রথম সফর।
প্রধানমন্ত্রী সামিটের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে যোগ দেন এবং ওয়ালওর্থ একাডেমিতে বুর্কিনা ফাঁসোর ফার্স্টলেডি চাঁতাল কম্পাওর ও পাকিস্তানের বিশিষ্ট শিশু শিক্ষাকর্মী মালালা ইউসুফ জাইয়ের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
‘ফিমেল জেনিটাল মিউটিলেশন (এফজিএম)’ এবং জোরপূর্বক ও বাল্যবিবাহ বন্ধে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা জোরদারের লক্ষ্যে যুক্তরাজ্য সরকার ও ইউনিসেফ প্রথমবারের মতো এ সামিটের আয়োজন করে।
সফরকালে প্রধানমন্ত্রী ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের সঙ্গে বৈঠক করেন। এতে দ্বিপাক্ষিক ও পারস্পরিক স্বার্থসংশিষ্ট বিভিন্ন বিষয় স্থান পায়।
এ ছাড়া সর্বদলীয় ব্রিটিশ সংসদীয় দল, যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ডেসমন্ড সোয়েন, ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক আন্থনি লেক, যুক্তরাজ্যের ছায়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডগলাস আলেকজান্ডার, ব্রিটিশ হাউস অব কমন্সের স্বরাষ্ট্রবিষয়ক নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান কিথা ভাজ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর হোটেল স্যুটে সাক্ষাত করেন।
বিশিষ্ট সাংবাদিক আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীসহ যুক্তরাজ্যে কর্মরত বাংলাদেশের কয়েকজন সিনিয়র সাংবাদিক হোটেল স্যুটে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত করেন।
শেখ হাসিনা সোমবার সন্ধ্যায় লন্ডন হিলটন হোটেলে আওয়ামী লীগের যুক্তরাজ্য শাখা আয়োজিত ইফতার মাহফিল পূর্ব আলোচনায় ভাষণ দেন। তিনি বিবিসি ওয়ার্ল্ড রেডিও ও বিবিসি বাংলা সার্ভিসকে সাক্ষাতকার দেন।
ঘরে ফেরার স্রোত!
০ বাস লঞ্চ ট্রেনে উপচেপড়া ভিড়
০ বৃষ্টি হলে বাড়তে পারে দুর্ভোগ
০ জীবনের ঝুঁকিও হার মানছে ঘরে ফেরার আকুতির কাছে
রাজন ভট্টাচার্য ॥ নাড়ির টানে স্রোতের মতো ঘরে ফিরছে মানুষ। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কমলাপুর রেলস্টেশন, ঢাকা নদীবন্দর থেকে শুরু করে বাস টার্মিনালগুলোতে ছিল উপচেপড়া মানুষের ভিড়। ছিল টিকেটযুদ্ধও। প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে ঘরে ফেরা মানুষ কতটা ত্যাগ স্বীকার করতে হচ্ছে, শুধু তাঁরাই জানেন। একদিকে রাস্তায় রাস্তায় যানজটের দুর্ভোগ। গন্তব্যে পৌঁছাতে তিন থেকে ছয় ঘণ্টা পর্যন্ত বিলম্ব হচ্ছে। গুনতে হয়েছে বাড়তি ভাড়া। অগ্রিম টিকেট কিনেও ট্রেনের আসনে বসতে পারেননি অনেকে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রেন, বাস ও লঞ্চের ছাদে করে বাড়ি ফিরছেন অনেকে। বেশকিছু ট্রেন ছেড়েছে বিলম্বে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম-ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল মহাসড়ক নিয়ে যাত্রীসহ পরিবহন নেতাদের দুশ্চিন্তা কাটছে না। তাঁরা বলছেন, গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের একটিও স্থায়ীভাবে সংস্কার হয়নি। খোয়া আর বালুর মেরামত হয়েছে মাত্র। যাত্রীদের নিরাপদে বাড়ি যাওয়া নির্ভর করছে অনেকটাই প্রকৃতির ওপর। অর্থাৎ বৃষ্টি হলেই মহাসড়কে নামবে মহাদুর্ভোগ। না হলে জোড়াতালির মেরামতে কোন রকম ঈদ উৎসব শেষ করা সম্ভব হবে।
টঙ্গী থেকে মীরেরবাগ পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার সড়ক এখনও সংস্কার হয়নি। রাস্তাজুড়ে বড় বড় গর্ত এখনও রয়ে গেছে। অবৈধ বাস টার্মিনাল, বাজার তো আছেই। ফলে ঝুঁকি নিয়ে চলছে সিলেটগামী কিছু পরিবহন। কুমিল্লার ১৪ গ্রাম থেকে ফেনী পর্যন্ত রাস্তাটির কার্পেটিং নষ্ট হয়ে মহাসড়কজুড়ে ঢেউয়ের মতো সৃষ্টি হয়েছে। প্রকৌশলীরা বলছেন, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী দিয়ে কাজ করানোর ফলে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাস্তার কার্পেটিং নষ্ট হওয়ায় স্বাভাবিক গতিতে গাড়ি চলতে পারছে না। ফলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানজট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই রাস্তাটি দ্রুত সময়ের মধ্যে সংস্কারের পরামর্শ তাদের। উত্তরাঞ্চলের যাত্রীদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে আশুলিয়া-বাইপাইল-চন্দ্রা ও সাভার বাজার এলাকার মহাসড়কটি যানজটমুক্ত রাখতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন পরিবহন মালিক সমিতির নেতারা।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ জনকণ্ঠ’কে বলেন, ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা শুরু হয়েছে। সকলের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে পরিবহন সেক্টর প্রস্তুত হলেও রাস্তাঘাট নিয়ে কিছুটা সমস্যা রয়েই গেছে। সময়মতো নির্দিষ্ট গন্তব্যে পরিবহনগুলো পৌঁছতে পারছে না। তিনি বলেন, আমরা আশা করি আগামী ২-১ দিন আরও সংস্কার হবে। বৃষ্টি না হলে চলমান সংস্কারে মহাসড়কে খুব বেশি জনদুর্ভোগ হয়ত হবে না। তিনি বলেন, আমরা চাই না পরিবহন থেকে বাড়তি ভাড়া নেয়া হোক। এরই ধারাবাহিকতায় মহাখালী বাস টার্মিনালে বিভিন্ন পরিবহন কাউন্টারের সামনে বাড়তি ভাড়া না নিতে ব্যানার টানানো হয়েছে।

নয় দিনের ছুটির ফাঁদে দেশ- ঘরমুখো মানুষের স্রোত
ঈদের সঙ্গে যোগ হয়েছে শুক্র-শনি দুই দিনের সাপ্তাহিক ছুটি। এই ছুটি যেন ঈদের আনন্দটাকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। দুর্ভোগ এড়াতে তাই আগেভাগেই রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছেন অনেকে। আপনজনের সঙ্গে ঈদ উদ্যাপন করতে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছেন তাঁরা। নানা ভোগান্তি উপেক্ষা করে নৌপথে ঘরে ছুটছেন দক্ষিণাঞ্চলের মানুষরা।
বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর সদরঘাটে গিয়ে দেখা যায়, ঝামেলাহীন গন্তব্যে পৌঁছাতে আগেভাগেই লঞ্চে নিজের আসনটি দখল করতে ব্যস্ত যাত্রীরা। প্রতিটি লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী না থাকলেও ভিড় ছিল লক্ষণীয়। লঞ্চ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, সাপ্তাহিক ছুটির দিনের সঙ্গে ঈদের ছুটি মিলে যাওয়ায় অনেক যাত্রীই বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন। বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত ঢাকা নদীবন্দরে মানুষের ঢল নামে। বাড়তি যাত্রী নিয়ে একের পর এক বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশে লঞ্চ ছেড়ে যায়।
এমভি মিতালি-৪ লঞ্চের মাস্টার মোঃ কামালউদ্দিন জানান, গত ঈদের চেয়ে এবার যাত্রীর সংখ্যা বেশি হবে। কারণ গত ঈদে হরতাল থাকায় অনেকে ঢাকায় ঈদ করেছেন। তিনি বলেন, যাত্রী বেশি হলেও যাত্রাপথে কোন সমস্যা হবে না। এবার এই রুটে নতুন ১৬টি লঞ্চ যোগ হয়েছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে যাত্রীর চাপ। আশা করি শনিবার পর্যন্ত বেশ যাত্রী মিলবে।
বরিশালের আগৈলঝড়ার লঞ্চযাত্রী কামাল হোসেন বলেন, ঈদের ছুটি তো আছেই। এর সঙ্গে আবার শুক্র-শনি হওয়ায় বেশ ভাল হয়েছে। আগেভাগে বাড়ি যেতে পারছি বেশ আনন্দ লাগছে। তিনি জানান, গত ঈদে বাসে গিয়ে বেশ দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে হয়েছিল। এবার লঞ্চে যাচ্ছি, যাত্রাপথ দীর্ঘ হলেও যানজট কিংবা বাসের মতো দুর্ভোগের শিকার হতে হবে না। বিআইডব্লিটিসির চেয়ারম্যান মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, ‘এবার ঈদে ৬টি স্টিমার নিয়ে স্পেশাল সার্ভিস পরিচালনা করা হবে। এর মধ্যে ঢাকা-বরিশাল-মোরেলগঞ্জ রুটে চলাচল করবে চারটি রকেট। এছাড়া ঢাকা-বরিশাল রুটে চলাচল করবে নতুন নামানো এমভি বাঙালী। চাঁদপুর-বরিশাল রুটে চলাচল করবে এমভি সেলা। পাশাপাশি নিয়মিত চলাচলকারী সি-ট্রাক ও উপকূলীয় জাহাজগুলো সচল থাকবে।
বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান ড. মোঃ শামছুদ্দোহা খন্দকার বলেন, এ বছর ঈদ-উল-ফিতর উদ্যাপন করতে সদরঘাট নৌরুট দিয়ে প্রায় ৩০ লাখ যাত্রী বাড়ি যাবেন। এই যাত্রীদের আবার ফিরিয়ে আনা হবে। সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে লঞ্চ চলাচলের জন্য তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। এছাড়া মাওয়া-বরিশাল, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ও কিশোরগঞ্জে একটি করে চারটি উদ্ধারকারী জাহাজ রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি। শামছুদ্দোহা জানান, ঈদ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে বিআইডব্লিটিএর যেসব কর্মকর্তা রয়েছেন তাঁদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) যুগ্ম-পরিচালক সাইফুল ইসলাম খান বলেন, ঈদে ঘরমুখী যাত্রীদের নিরাপদে পৌঁছানোর জন্য প্রতিটি ঘাটে র্যাব, পুলিশ, ভ্রাম্যমাণ আদালত থাকবে। লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রীবহন করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি। যাত্রীদের বাড়ি পাঠাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানালেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্পোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) ঢাকা ঘাটের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার মোঃ খালেদ নেওয়াজ। তিনি বলেন, ঈদে যাত্রী পরিবহনে এবার কোন সমস্যা হবে না। পাবলিক লঞ্চের পাশাপাশি এবার বিআইডব্লিউটিসির নৌবহরে এমভি বাঙালী যাত্রীবাহী জাহাজ যোগ হয়েছে। আশা করছি যাত্রীরা নির্বিঘেœ চলাচল করতে পারবেন।
সূত্রে জানা গেছে, নতুন আনা এমভি বাঙালী উদ্বোধন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর থেকেই বিভিন্ন সময় জাহাজটিতে ত্রুটি ধরা পড়ে। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে জাহাজটি নিয়মিত চালানো যাচ্ছে না বলে জানা গেছে। তবে ঈদে জাহাজটি চলাচল করতে না পারলে যাত্রী পরিবহনে সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে।
লঞ্চে যাত্রীদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেয়া হয়েছে পুরো সদরঘাট এলাকা। লঞ্চ টার্মিনালসহ এর আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কয়েক স্তরের নিরাপত্তা নিয়েছে। এলাকার বিভিন্ন স্থানে লাগানো হয়েছে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা। যাত্রীদের নিরাপত্তা দিতে তৎপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। সদরঘাটমুখী যাত্রীদের চলাচলের রাস্তা নির্বিঘ্ন করতে দখল মুক্ত করা হয়েছে ফুটপাথ। কোন কোন রাস্তার ট্রাফিক ব্যবস্থার পরিবর্তন এনে করা হয়েছে একমুখী। মূল রাস্তার ওপরে যাতে গাড়ি পার্কিং করতে না পারে সে দিকে সজাগ দৃষ্টি রাখছে পুলিশ। যাত্রীদের পথ চেনাতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের রাস্তা থেকে সদরঘাট পর্যন্ত বিএনসিসির সদস্যদের কার্যক্রম লক্ষ্য করা গেছে। যাত্রীদের সচেতন করতে টার্মিনালজুড়ে চোখে পড়ে সচেতনতামূলক প্রচার অভিযান। টার্মিনাল ও এর আশপাশ এলাকায় মাইকিংয়ের মাধ্যমে প্রচার চলছে। টার্মিনাল ও নদীপথে নিরাপত্তা দেয়ার জন্য কাজ করছে র্যাব, পুলিশ, নৌপুলিশ, কোস্টগার্ডের সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশেষ টিম। জেটির ওপর বসানো হয়েছে অস্থায়ী পুলিশ কন্ট্রোল রুম। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে লঞ্চ যাতে ছেড়ে যায় সেদিকে তৎপর বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল কর্তৃপক্ষের ট্রাফিক বিভাগ। হকার মুক্ত করা হয়েছে জেটি।
লঞ্চমালিক সমিতির সভাপতি মাহবুব উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম বলেন, ঈদকে সামনে রেখে ঘরমুখী মানুষ যাতে নিরাপদে বাড়ি পৌঁছাতে পারেন সেজন্য মালিক সমিতির পক্ষ থেকে সবধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। এ ঈদে যাত্রীদের কাছ থেকে ১০ শতাংশ কমে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। নিরাপত্তার ব্যাপারে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কেএম ফিরোজ বলেন, বরাবরের মতো এবারও ঘরমুখী যাত্রীরা যাতে কোন রকম হয়রানির শিকার না হন, সেদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিশেষ নজর রাখছে। যাত্রীদের অভিযোগের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কমলাপুরে মানুষের ঢল- বাসে বাড়ছে যাত্রীর চাপ
যাঁরা ২৪ জুলাইয়ের ট্রেনের অগ্রিম টিকেট সংগ্রহ করেছিলেন তাঁদের ঘুম হারাম বুধবার রাত থেকেই। কারণ কোটা প্রথা ও মানুষের ভিড়ে টিকেট সংগ্রহ করা যেমন কষ্টকর, তেমনি সময়মতো স্টেশনে পৌঁছানো, ট্রেনে ওঠাও কম চ্যালেঞ্জের নয়। সকাল থেকে রেলস্টেশনে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। পরিবার-পরিজন নিয়ে বাড়ি ফিরছেন সবাই। আছে ভিন্ন রকম দৃশ্যও। তা হলো- শেষ দিনের টিকেট নেয়ার হিড়িক। অর্থাৎ বৃহস্পতিবার দেয়া হয়েছে ২৮ জুলাইয়ের অগ্রিম টিকেট। সেখানেও মানুষের যুদ্ধ। টিকেটের আশায় স্টেশনজুড়ে ছিল রাতজাগা মানুষের ভিড়। কেউ টিকেট পেয়েছেন। কেউ শূন্য হাতে বাড়ি ফিরেছেন। এ নিয়ে তুমুল হট্টগোল। হৈচৈ হয়েছে দফায় দফায়। যাত্রীদের অভিযোগ বিক্রি শেষ না হতেই কাউন্টার থেকে বলা হচ্ছে টিকেট না থাকার কথা। কাউন্টার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রত্যেক যাত্রী চারটি করে টিকেট পাবেন। যাঁরা আসছেন তাঁদের চাহিদা অনেক বেশি। সঙ্গত কারণেই দ্রুত টিকেট শেষ হয়ে যায়।
প্রথম দিনের ঈদের বিশেষ ট্রেনগুলোর বেশ কয়েকটি সময়মতো ছাড়তে পারেনি। এ নিয়ে যাত্রীদের অভিযোগ বিস্তর। কোন কোন ট্রেন দেড় থেকে দুই ঘণ্টা বেশি বিলম্বে ছেড়েছে। ময়মনসিংহগামী অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস ছেড়েছে প্রায় একঘণ্টা বিলম্বে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সিলেট, রাজশাহী, দিনাজপুর, চট্টগ্রাম, খুলনার বেশকিছু ট্রেন বিলম্বে ছাড়ার অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। কমলাপুরে দাঁড়িয়ে যাওয়া যাত্রীর সংখ্যাও নিছক কম ছিল না। কাউন্টারগুলোতে ছিল উপচেপড়া ভিড়। দ্রুত টিকেট নিয়ে ট্রেনের ছাদে, জোড়া, ইঞ্জিনে বসেছেন ঘরমুখো যাত্রীরা। ছাদে উঠতে মই ব্যবহারও দেখা গেছে। অনেকে টিকেট কেটে ভিড়ের কারণে নিজ আসনে বসতে পারেননি।

বাস টার্মিনালে বিকেলে মানুষের স্রোত
অফিস শেষে বাস টার্মিনালগুলোতে যাত্রী উপস্থিতি বাড়তে থাকে। দেশের উত্তরাঞ্চলের অগ্রিম টিকেট দেয়া বাসগুলোর যাত্রীরাও সকাল থেকে নিজ নিজ গন্তব্যে রওনা হয়েছেন সকাল থেকেই। গাবতলী বাস টার্মিনাল এলাকায় বিলাসবহুল পরিবহনগুলোকে একের পর পর বিভিন্ন জেলায় ছেড়ে যেতে দেখা গেছে। এর মধ্যে রয়েছেÑ শ্যামলী, হানিফ, এসএ পরিবহন, সোহাগ, গ্রীন লাইনসহ বিভিন্ন কোম্পানির বাস। ছোট ছোট পরিবহনও যাত্রী পেয়েছে বেশ। তাৎক্ষণিক টিকেট কেটে এসব পরিবহনে যাত্রা শুরু করেন যাত্রীরা। বৃহত্তর ময়মনসিংহসহ আন্তঃজেলার বিভিন্ন রুটের যাত্রীরা মহাখালী বাস টার্মিনালে বিকেল থেকে আসতে শুরু করেন। বৃহত্তর চট্টগ্রাম ও পূর্বাঞ্চলের যাত্রীরা বিকেলে সায়েদাবাদ টার্মিনালে ভিড় করেন। মহাখালী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কালাম জনকণ্ঠ’কে বলেন, মহাসড়কগুলোতে দিনভর যানজটের তেমন কোন খবর নেই। এটা ঘরমুখো যাত্রীদের জন্য স্বস্তিদায়ক সংবাদ। যানজট না হলে জোড়াতালির রাস্তায় কোন রকম গন্তব্যে পৌঁছানো যাবে। তবে বৃষ্টি হলে রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ হবে। মানুষের দুর্ভোগ হবে নিশ্চিতভাবেই বলা যায়।
বিআরটিসি বাসের অগ্রিম টিকেট দেয়া শেষ হয়েছে বৃহস্পতিবার। সেই সঙ্গে ঈদ স্পেশাল সার্ভিসগুলোরও যাত্রা শুরু হয়েছে এ দিন থেকেই। টিকেট বিক্রি কম। তাই পথে পথে বিআরটিসি বাসগুলোর যাত্রী ওঠানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। শনিবারের মধ্যে পরিবহন শ্রমিকদের ঈদ বোনাস পরিশোধের দাবি জানিয়েছে বিপ্লবী সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন। সংগঠনের পক্ষ থেকে সাধারণ সম্পাদক আলী রেজা স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানানো হয়।