মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
৮৯৪৫৬
রবিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০১২, ২৩ মাঘ ১৪১৮
টিপাইমুখে ড্যাম করার পূর্বে যৌথ কমিশন গঠন করুন ॥ সুরঞ্জিত
নিজস্ব সংবাদদাতা, সুনামগঞ্জ, ৪ ফেব্রুয়ারি ॥ রেলমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এমপি টিপাইমুখে ড্যাম করার পূর্বে যৌথ কমিশন গঠন করার আহান জানিয়েছেন। তিনি সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ ও হবিগঞ্জকে ভাটিবাংলা আখ্যায়িত করে বলেন, টিপাইমুখে ড্যাম হলে ভাটি অঞ্চলের কোটি কোটি মানুষের জীবনযাত্রা বিপন্ন হবার আশঙ্কা রয়েছে।
শনিবার বিকেলে সুনামগঞ্জের শাল্লায় শাহিদা আলী পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত বিশাল গণসংবর্ধনা সমাবেশে এ কথা বলেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মহিমচন্দ্র দাসের সভাপতিত্বে সংবর্ধনা সমাবেশে রেলমন্ত্রী বলেন, ভারতের টিপাইমুখে ড্যাম হলে সিলেটসহ দেশের উজান এলাকার খুব বেশি ক্ষতি হবে না, ক্ষতি হবে ভাটি বাংলার। তিনি ভাটি বাংলার আর্থ সামাজিক অবস্থা ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি রক্ষার জন্য টিপাইমুখে ড্যাম করার পূর্বে যৌথ কমিশন গঠন করার জন্য বন্ধুসুলভ সম্পর্ক বজায় রেখে ভারত ও বাংলাদেশকে উদ্যোগ নেবার আহান জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এ বিষয়ে পৃথকভাবেও নিজ¯^ কমিশন গঠনের উদ্যোগ নিতে পারে।
সংবর্ধনা সমাবেশে এছাড়াও বক্তব্য রাখেন, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মহিবুর রহমান মানিক এমপি, শাল্লা উপজেলা চেয়ারম্যান অবনীমোহন দাস, দিরাই পৌরসভার মেয়র আজিজুর রহমান বুলবুল, দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের আহায়ক আলতাব উদ্দিন, ¯ে^চ্ছাসেবক লীগের সভাপতি বিশ্বজিৎ চৌধুরী নান্টু প্রমুখ।
আমাদের দেশটা একটা অদ্ভুত দেশ ॥ অর্থমন্ত্রী
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোরডটকম ॥ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, এই দেশটা একটা অদ্ভুত দেশ। আপাত দৃষ্টিতে যা অসম্ভব তাও এখানে সম্ভব। তা না হালে ২০ বছর আগে যেখানে শিশুমৃত্যুর হার ছিল ১৬৫, এখন তা ৫৪-তে নেমে এসেছে। আমাদের এই সাফল্য দেখে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনও বলেছেন, দারিদ্য্র বিমোচনে বাংলাদেশে অসাধারণ অগ্রগতি সাধিত হচ্ছে।
শনিবার সিলেটের একটি হোটেলে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের ফ্লাইং ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন। বাণিজ্যমন্ত্রী জিএম কাদের, বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন
মন্ত্রী ফারুক খান, সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান চৌধুরী, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার কমোডর মাহমুদ হোসাইন বক্তব্য রাখেন। ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের চেয়ারম্যান ক্যাপ্টেন তাসবিরুল আহমেদ চৌধুরী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। জিএম কাদের বলেন, এদেশে এত জনশক্তি থাকতে বিদেশ থেকে বৈমানিক এনে উড়োজাহাজ চালানো দুর্ভাগ্যজনক। তাই ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের ফ্লাইং স্কুল চালুর উদ্যোগ নিঃসন্দেহে ইতিবাচক।
তিনি বলেন, অভ্যন্তরীণ রুটে বন্ধ বিমানবন্দরগুলো সচল করতে উড়োজাহাজ অবতরণসহ অন্যান্য চার্জ কমানোর চিন্তাভাবনা করা হবে। ফারুক খান বলেন, আগামী দিনে শুধু বাংলাদেশই নয়, সারাবিশ্বের সব উড়োজাহাজ চালাবে আমাদের ছেলেরা।
বাসস জানায়, এদিকে শুক্রবার রাতে সিলেট চেম্বারের সঙ্গে এক মতবিনিময়সভায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, সিলেটে ১১০ কোটি টাকায় নগর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর আওতায় ৮০ভাগ বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে, যা বৃটিশ আমলের পর আর কেউ করতে পারেনি। সিলেট চেম্বারের প্রেসিডেন্ট ফারুক আহমদ মিছবাহ’র সভাপতিত্বে মতবিনিময়সভায় অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, সিরামিক শিল্পে সিলেট একটি সম্ভাবনাময় অঞ্চল। কিন্তু এ শিল্পে সিলেটের মানুষের বিনিয়োগ কম। তিনি সিলেটে বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য প্রবাসী সিলেটীদের প্রতি আহান জানান। মন্ত্রী বলেন, সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তে বাংলাদেশে ৭টি স্পেশাল ইকোনমিক জোন প্রতিষ্ঠা করা হবে। সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের শেরপুরে একটি স্পেশাল ইকোনমিক জোন স্থাপন করা হবে। গ্যাস, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগসহ সকল দিক থেকে শেরপুর একটি সুবিধাজনক স্থান। এ বিষয়ে খুব শীঘ্রই ঘোষণা আসবে। তিনি বলেন, সিলেটে গ্যাসের অনেক সোর্স আছে। বর্তমান সরকারের সময়ে সিলেটে যে বিদ্যুতের উৎপাদন হয়েছে ১৯৬০ সালের পর তা আর কেউ করতে পারেনি। তিনি প্রশ্ন করেন, সিলেটে বিদ্যুৎ-গ্যাসের যথেষ্ট মজুদ থাকা সত্তে¡ও কেন বিনিয়োগ বাড়ানো হয় না।
বিএনপি নেতা নূরুল ইসলাম ফের দু’দিনের রিমান্ডে
মেয়র লোকমান হত্যা
নিজস্ব সংবাদদাতা, নরসিংদী, ৪ ফেব্রুয়ারি ॥ মেয়র লোকমান হত্যা মামলার এজাহারভূক্ত আসামি নরসিংদী সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ নূরুল ইসলামকে তৃতীয় দফায় ফের ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশ পরিদর্শক মামুনুর রশীদ মন্ডল দ্বিতীয় দফায় ৪ দিন রিমান্ড শেষে শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় নূরুল ইসলামকে নরসিংদীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রিপতি কুমার বিশ্বাসের আদালতে হাজির করে। এ সময় কোর্ট পুলিশের উপ-পরিদর্শক আশরাফ হোসেন আদালতকে জানান, পুলিশী জিজ্ঞসাবাদে আসামি নূরুল ইসলাম গূরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেছে। এতে মামলার তদন্তে ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে। তাকে অধিকতর জিজ্ঞসাবাদে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে। তাই তাকে ১০ দিনের রিমান্ড প্রয়োজন।
এ সময় আসামিপক্ষের কৌঁসুলি জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ্যাডভোকেট আঃ বাছেদ ভূইয়াসহ ১০/১২ আইনজীবী রিমান্ডের বিরোধিতা করে আদালতকে জানান, মেয়র লোকমান হত্যাকান্ডের সময় নূরুল ইসলাম দেশে ছিলেন না, তাকে হয়রানির উদ্দেশ্যে এ মামলায় জড়ানো হয়েছে। তিনি নির্দোষ উল্লেখ করে তাঁকে জামিন দেয়ার আবেদন জানান। বিজ্ঞ আদালত উভয় পক্ষের শুনানি শেষে নূরুল ইসলামের ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
নূরুল ইসলামের মুক্তির দাবিতে বিএনপির সভা ॥ শনিবার বিকেলে শহরের ভেলানগরে নূরুল ইসলামের মুক্তির দাবিতে নরসিংদী জেলা বিএনপি এক প্রতিবাদ সভা করেছে। জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক এমপি খায়রুল কবির খোকনের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন মাস্টার, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ফেরদৌস আহমেদ খোকন, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশীদ হারুন প্রমুখ। বক্তারা অবিলম্বে নূরুল ইসলামের মুক্তি দাবি করেন।
সন্ত্রাসীদের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি নির্বাচন
শংকর কুমার দে ॥ আসন্ন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে নির্বাচনে সন্ত্রাসীদের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যেমে চাঁদা সংগ্রহ করছে সন্ত্রাসীরা। মাদক ব্যবসার কাজেও ব্যাবহৃত হচ্ছে কুরিয়র সার্ভিস। রাজধানীর ছিনতাই প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। শনিবার পুলিশ সদর দফতরে এক জরুরী সভায় উক্ত বিষয়ে আলোচনার পর উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তাদের এই নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশের আইজি হাছান মাহমুদ খন্দকার। পুলিশ সদর দফতর সূত্রে এ খবর জানা গেছে।
সভা সূত্রে জানা গেছে, শনিবার পুলিশ সদর দফতরে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন র‌্যাবের মহাপরিচালক মোখলেসুর রহমান, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার বেনজীর আহমেদ, নগরীতে দায়িত্বপালনকারী র‌্যাবের পাঁচটি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক, র‌্যাবের ইন্টেলিজেন্স, র‌্যাবের মিডিয়া উইংয়ের প্রধান, ডিএমপির সকল জোনের ডিসিরা ও পুলিশ সদর দফতরের উর্ধতন কর্মকর্তারা।
রাজধানীর ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়ে গেছে বলে আলোচনা হয়েছে অনুষ্ঠিত সভায়। ছিনতাই বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পুলিশের আইজিপি। যে কোন মূল্যে ছিনতাই প্রতিরোধে আইনশৃক্সখলা বাহিনীর সদস্যদের কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। রাজধানীর আইনশৃক্সখলা নিয়ন্ত্রণে র‌্যাব-পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালানোর নির্দেশ দেন আইজিপি। ছিনতাইয়ের পাশাপাশি মাদক ব্যবসা, আসন্ন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়েও আলোচনা হয়।
সভায় আলোচনা হয়েছে যে, আইনশৃক্সখলা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণে মাদক ব্যবসায়ীরা কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবহার করছে। এমনকি কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে সন্ত্রাসীরা চাঁদার টাকা গ্রহণ করছে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে রাজধানীর কুরিয়ার সার্ভিসের মালিক ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে আইনশৃক্সখলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বৈঠক করবে বলে সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে নগরীতে র‌্যাব ও পুলিশের আরও চেক পোস্ট বাড়ানোর নির্দেশ দেয়া হয়।
সূত্র জানায়, বৈঠকে চেকপোস্ট সম্পর্কে আইজিকে অবহিত করেন ডিসিরা। পুলিশের জনবল সঙ্কট, যানবাহন সঙ্কটের কথা আলোচনা হয়েছে সভায়। আইজিপি এসব সমস্যা সমাধানে তার সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। বৈঠকে গত ৩ মাসের রাজধানীর অপরাধ পরিসংখ্যান নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে ডিএমপি কমিশনার বেনজীর আহমেদ জানিয়েছেন, রাজধানীতে অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে আইনশৃক্সখলা পরিস্থিতি ভাল। সম্প্রতি কয়েকটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এর অধিকাংশ শনাক্ত ও অপরাধীদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। ছিনতাই প্রতিরোধে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলে সভায় জানান তিনি।
বৈঠক সূত্র জানায়, বৈঠকে ব্যাংক থেকে বড় অঙ্কের টাকা উত্তোলন নিয়ে আলোচনা হয়। পুলিশ কর্মকর্তারা বলেছেন, ব্যাংক থেকে বড় অঙ্কের টাকা তোলার ব্যাপারে উত্তোলনকারী থানা পুলিশদের সহায়তা নেয়ার নির্দেশ থাকলেও তা অনেকেই মানেন না। এ কারণেই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। এরজন্য কেউ যদি বড় অঙ্কের টাকা উত্তোলন করে তা যেন ব্যাংক থেকে স্থানীয় পুলিশকে অবহিত করে। যে ব্যক্তি টাকা উত্তোলন করবেন তার কাছেও নিরাপত্তা নিয়ে ব্যাংক কর্মকর্তারা যেন কথা বলেন সে ব্যাপারেও আলোচনা হয়েছে। এ ব্যাপারে নগরীর ব্যাংকগুলোর কর্মকর্তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইনশৃক্সখলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এমন এক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রাজধানীতে আসন্ন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসীদের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনার আশঙ্কার বিষয়টি আলোচনা হয়। ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের এলাকাভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আইজিপি র‌্যাব ও পুলিশ কর্মকর্তাদের যৌথভাবে কাজ করার কর্মপদ্ধতি ঠিক করার নির্দেশনা দিয়েছেন। র‌্যাব ও পুলিশ যৌথভাবে কর্মপদ্ধতি নির্ধারণ করে কাজ করলে আইনশৃক্সখলা পরিস্থিতি উন্নয়নে সুফল পাওয়া যাবে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও বীমা কোম্পানি মুখোমুখি অবস্থানে
আলোচনা ছাড়া বিধি জারি হলে মানা হবে না- হুমকি উদ্যোক্তাদের
রাজু আহমেদ ॥ আইন ও বিধিবিধান জারি ও সেগুলোর বাস্তবায়ন নিয়ে গত কিছুদিন ধরে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়ে গেছে দেশের বীমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) এবং এ খাতের কোম্পানিগুলো। আইডিআরএ’র জারি করা কয়েকটি সার্কুলারকে কেন্দ্র করে এ অবস্থা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে বীমা কোম্পানির পরিচালকদের জন্য ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা এ ধরনের দু’টি কোম্পানিতে পরিচালক পদে থাকার সুযোগ বন্ধের উদ্যোগে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন উদ্যোক্তারা। পাশাপাশি বীমার ট্যারিফের ক্ষেত্রে দুয়েকটি খাতে বিশেষ সুবিধা বাতিল করা নিয়েও উদ্যোক্তাদের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি সার্কুলারের কার্যকারিতার প্রশ্ন উচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। আলোচনা ছাড়া কোন বিধি জারি করা হলে তা মানা হবে না বলে হুমকি দিয়েছেন উদ্যোক্তারা। অন্যদিকে বীমা কর্তৃপক্ষ বলছে, তারা নতুন কোন আইন করছেন না, প্রচলতি আইন বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছেন মাত্র।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বীমা কোম্পানির পরিচালকদের দ্বৈত সত্তা বন্ধে গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর একটি সার্কুলার জারি করে আইডিআরএ। ওই সার্কুলার অনুসারে বীমা কোম্পানির পরিচালকরা ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান কিংবা একই ধরনের দুটি কোম্পানিতে পরিচালক হিসেবে আর থাকতে পারবেন না। সার্কুলারে বলা হয়, বীমা আইন-২০১০ এর ৭৫ ধারায় উল্লেখ আছে, কোন বীমা কোম্পানির পরিচালক একই শ্রেণীর বীমা কোম্পানি বা ব্যাংক বা অন্য কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হতে পারবেন না। কিন্তু এতদিন আইন উপেক্ষা করে কোন কোন পরিচালক একাধিক প্রতিষ্ঠানে জড়িয়ে পড়েছেন। ফলে বীমা খাতে শৃক্সখলা ও ¯^চ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিদ্যমান আইন কঠোরভাবে পালনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
তবে এ আইন কতদিনের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে হবে, সে ব্যাপারে সার্কুলারে কোন সময়সীমা বেধে দেয়া হয়নি। এ আইন কার্যকরের ব্যাপারে বীমা খাতের উদ্যোক্তাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, এটি ভাল উদ্যোগ। এতে আর্থিক খাতে ¯^চ্ছতা বাড়বে। আবার কোন কোন উদ্যোক্তার মতে, এ আইন বাস্তবায়ন হলে বীমা খাতের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হবে।
বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এ্যাসোসিয়েশনের (বিআইএ) বক্তব্য হলো, ১৯৩৮ সালের বীমা আইনে এ ধরনের বিধিনিষেধ ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে এই বিধিনিষেধ রহিত করা হয়েছিল। যে আইনের মাধ্যমে বীমা কোম্পানির পরিচালকদের জন্য ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে, তা পরিবর্তন করতে হলে সংসদের অনুমোদনের প্রয়োজন। বীমা আইন ২০১০-এর এই ধারাটির প্রয়োগ আপাতত না করে সংশোধনের জন্য প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রস্তাবটি
সংসদে আনা প্রয়োজন।
অন্যদিকে বীমার ট্যারিফের ক্ষেত্রে দু’একটি খাত বিশেষ সুবিধা পেত। বীমা খাতের আর্থিক উন্নয়ন এবং সব খাতের সুযোগ-সুবিধা সমান করতে এই বিশেষ সুবিধা প্রত্যাহার করেছে আইডিআরএ। গত বছরের ৮ আগস্ট জারি করা সাকুর্লারের মাধ্যমে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের প্রদত্ত বিশেষ ট্যারিফ সুবিধা রহিত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর কাছে দেয়া এক স্মারকলিপিতে বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এ্যাসোসিয়েশন বলেছে, বিষয়টি বেশ আলোচিত। এর ফলে যারা ভুক্তভোগী হবে তাদেরসহ বিআইএকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে পার্শ্ববর্তী ও উন্নত দেশগুলোর ট্যারিফ বিবেচনায় এনে এই সার্কুলারটি জারি করা উচিত ছিল। ইতোমধ্যেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার পর সার্কুলারটির কার্যকারিতা স্থগিত হয়ে গেছে।
অর্থমন্ত্রীকে দেয়া স্মারকলিপিতে বিআইএ আরও বলেছে, ‘আইডিআরএ কর্তৃক বিভিন্ন বিধি ও প্রবিধান প্রণয়নকে আমরা স্বাগত জানিয়েছি। নতুন বিধি ও প্রবিধান প্রণয়নের ক্ষেত্রে বিআইএ’র সঙ্গে আলোচনা করার জন্য এবং সমঝোতার সঙ্গে বিধি প্রণয়নের ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রদত্ত নির্দেশ জারি করা হয়েছে। স¤প্রতি এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এ্যাসোসিয়েশন লাইফ এবং নন-লাইফ ইন্স্যুরেন্স থেকে ৬ জন প্রতিনিধি আইডিআরএ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা এবং সমঝোতা সাপেক্ষে ইন্স্যুরেন্স এ্যাসোসিয়েশন কর্তৃক প্রদত্ত প্রস্তাবনার ভিত্তিতে বিধি এবং প্রবিধান প্রণয়ন করার জন্য দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। আমরা মনে করি, বীমা শিল্পের প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিআইএ-এর সঙ্গে আলোচনা ব্যতিরেকে বিধি প্রণয়ন করা হলে তা বীমা শিল্পের উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। তাই আইডিআরএ কর্তৃক কোন বিধি ও প্রবিধান মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর আগে আলোচনা সাপেক্ষে একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া প্রয়োজন। আইডিআরএ এবং বিআইএ থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধিদের মধ্যে সমš^য় ঘাটতি দেখা দিলে অর্থ মন্ত্রণালয় উভয় পক্ষের প্রতিনিধিদের আলোচনা সাপেক্ষে সঠিক সিদ্ধান্ত উপনীত হতে পারে।’
গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর আরেকটি সার্কুলার জারি করে আইডিআরএ বীমা কোম্পানির পরিচালকদের জন্য নিজস্ব কোম্পানিতে কোন বীমা ব্যবসা না করার নির্দেশ দেয়। এ বিষয়ে বিআইএ মনে করে, পরিচালকরা নিজের বীমা ব্যবসা নিজ কোম্পানিতে করার ব্যাপারে কোন বিধিনিষেধ থাকা উচিত নয়। প্রতিবেশী ও উন্নত দেশেও এ ধরনের কোন বিধিনিষেধ নেই। তবে এ বিষয়ে কোন সমস্যা থাকলে বিআইএ’র সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা যেতে পারে।
২৮ সেপ্টেম্বর আইডিআরএ জারি করা আরেকটি সার্কুলারে নির্দিষ্ট ছকের মাধ্যমে মে মাস থেকে ব্যাংক এ্যাকাউন্ট এবং ব্যবসায়িক বিভিন্ন ধরনের তথ্য প্রদানের নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু এ নির্দেশনারও বিরোধিতা করেছে বিআইএ। তাদের মতে, মে মাস থেকে এসব তথ্য প্রদান করা বেশ জটিল ও অসুবিধাজনক। এ কারণে সার্কুলার জারির পর থেকে এসব তথ্য প্রদান করা উচিত।
অর্থমন্ত্রীকে দেয়া স্মারকলিপিতে বীমা প্রতিনিধিদের উৎসে আয়কর প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বিআইএ বলেছে, বীমা কোম্পানিগুলো গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র জনগণকে সংগঠিত করে বীমা পলিসির আওতায় আনার লক্ষ্যে ক্ষুদ্র বীমার প্রচলন করেছে। গরিব জনগণ মাসিক সর্বনিম্ন ৫০-৬০ টাকা হারে প্রিমিয়াম পরিশোধ করে বীমা সুবিধা লাভ করতে পারে। এদের সংগঠিত করার জন্য গ্রামে বসবাসকারী অর্ধশিক্ষিত বেকার যুবকদেরই বীমা কোম্পানির এজেন্ট হিসেবে নিয়োগ করা হয়। এ ধরনের এজেন্ট মাসে সর্বোচ্চ ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা আয় করে। অথচ এনবিআর এদের পারিশ্রমিকের ওপর ৫ শতাংশ হারে উৎসে আয়কর আদায় করে থাকে। দেশে ব্যক্তি আয়ের ওপর ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয়কর মুক্ত। বীমা এজেন্টদের অনেকের বার্ষিক আয় এই সীমার অনেক নিচে। তারপরও তাদের কাছ থেকে উৎসে কর কর্তনের যুক্তি নেই।
এছাড়া বিআইএ মুদারাবা ইসলামী বন্ডের মুনাফার হার ৮ থেকে ১০ শতাংশ মুনাফা প্রদান, বীমা খাতে দক্ষ জনবল সৃষ্টির লক্ষ্যে বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স একাডেমিকে শক্তিশালী করা, বীমা কোম্পানির আয় নিরূপণ পদ্ধতি সহজ করা, বীমা কোম্পানির ক্ষেত্রে আয়করের হার ১৫ শতাংশ নির্ধারণ, বীমা কোম্পানির সাবসিডিয়ারি কোম্পানি স্থাপনে বিদ্যমান সমস্যা দূর করা, আইপিওতে লাইফফান্ডের জন্য বিশেষ কোটা সংরক্ষণ এবং লাইসেন্স নবায়ন ফি হ্রাসের দাবি জানিয়েছে।
এদিকে সাধারণ বীমা কোম্পানিগুলোর প্রিমিয়াম সংক্রান্ত লেনদেনের ক্ষেত্রে চেকের টাকা পাওয়ার আগে বীমার কাগজপত্র ইস্যু নিষিদ্ধ করে গত ২৪ নবেম্বর আরেকটি সার্কুরার জারি করে আইডিআরএ। ওই প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, প্রিমিয়াম ৫ হাজার টাকার বেশি হলে বীমা কোম্পানিকে অবশ্যই ডিডি, পে-অর্ডার, ক্রেডিট এ্যাডভাইস, ইলেকট্রিক ফান্ড ট্রান্সফার বা এ্যাকাউন্ট পেয়ি চেকের মাধ্যমে তা গ্রহণ করতে হবে। এসব ক্ষেত্রে বীমা দলিলাদি অবশ্যই চেকের অর্থ পাওয়ার পর ইস্যু করতে হবে। গত ১ ডিসেম্বর থেকে এ নিয়ম কার্যকর হবে বলে ঘোষণা দেয়া হয়।
কিন্তু এই প্রজ্ঞাপনটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সাদ সান এ্যাপারেল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক উচ্চ আদালতে রিট করেন। এর প্রেক্ষিতে গত ২৫ জানুয়ারি হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ প্রজ্ঞাপনটির কার্যকারিতা ৩ মাসের জন্য স্থগিত করেছে।
ভূমিদস্যুরা থেমে নেই, বুড়িগঙ্গার শাখা প্রশাখা দখল চলছে
নদীর বুকে ধু ধু বালুচর ও বিশাল অট্টালিকা ছাড়া কিছুই চোখে পড়ে না
স্টাফ রিপোর্টার ॥ উচ্চ আদালতের বার বার নির্দেশের পরও ঢাকার কণ্ঠহার বুড়িগঙ্গার নদীর শাখা-প্রশাখার দুই তীর আবারও দখলের প্রতিযোগিতা চলছে। গত কয়েকদিন ধরে পশ্চিমের শাখা নদীর বুকে প্রায় দুই কিলোমিটার জায়গাজুড়ে ড্রেজিংয়ের পাইপ টেনে বালু ভরাটের প্রস্তুতি চালাচ্ছেন কামরাঙ্গীরচরের শাসকদলীয় বহু বিতর্কিত এক প্রভাবশালী নেতা ও তার সহোদর নব্য আওয়ামীলীগ নেতা। তবে ওই আওয়ামী লীগ নেতা দাবি করেন, খরিদ সূত্রে ওই নদীর বুকের ৩৩ কাঠা জমির মালিক তিনি ও জাহাঙ্গীর আলম। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, আওয়ামী লীগ নেতার জমিটি কামরাঙ্গীরচর পূর্বরসূলপুর ৬ থেকে ৮ নম্বর রোডের সামনে ও লালবাগ নওয়াবগঞ্জ পার্কের সন্নিকটে প্রবহমান নদীর বুকে। ওই নদীর বুকে বালু ভরাট হলে বিজিবি হেডকোয়ার্টারের পানি নিষ্কাশনের মূল স্থান স্লুইস গেট বন্ধ হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর ফলে শুধু বিজিবি হেডকোয়ার্টার নয়, পুরনো ঢাকার লালবাগ ও হাজারীবাগে প্রায় ২০ লাখ বাসিন্দার পানি চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যাবে বলে সূত্রগুলো দাবি করেন। ইতোমধ্যে নদীর বুকে দখল চলছে। সেখানে সরকারী ও ব্যক্তিমালিকানাধীন নানা স্থাপনা গড়ে তোলা হচ্ছে। এটি দেখার কেউ নেই। অভিযোগ রয়েছে, জেলা প্রশাসকের এক শ্রেণীর দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের যোগসাজশে নদীর বুকে নির্বিচারে দখল চলছে। এমনকি বিআইডব্লিউটিএর নদী বন্দর রক্ষা কমিটি, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কতিপয় দুনীর্তিবাজ কর্মকর্তা ও পুলিশের রহস্যজনক ভূমিকার কারণে নদীর বুকে দখল চলছে। এ ব্যাপারে ঢাকা জেলা প্রশাসক মহিবুল হক জনকণ্ঠকে জানান, বুড়িগঙ্গার পশ্চিমের শাখা নদী বালু ভরাট হয়েছে, তা জানেন না তিনি। তবে অচিরেই এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন। কামরাঙ্গীরচর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হোসেন সরকার জনকণ্ঠকে জানান, খরিদ সূত্রে ৩৩ কাঠা জমির মালিক তিনি ও জাহাঙ্গীর আলম। যার আর এস দাগ নম্বর ২১৫২, ২১৫৩, ২১৫৪, ২১২৯। আমার জমি ভরাট করলে নদী পানি চলাচলে বাঁধাগ্রস্ত হবে না। এমনকি স্লুইস গেটের পানি আসার সমস্যা হবে না। এ ব্যাপারে স্থানীয় ঢাকা-২ আসনের সাংসদ ও আইন ও সংসদ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম জনকণ্ঠকে জানান, দলীয় নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ কেউ নদীর জমি দখল করতে পারবেন না। যদি কেউ দখল করে তাতে বাঁধা দেয়া হবে। তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এদিকে নদী বিশেষজ্ঞরা জানান, যেভাবে ভূমিদস্যুরা নদীর বুক একের পর এক দখল করে নিচ্ছে। তাতে এক সময় বুড়িগঙ্গা শাখা-প্রশাখা নদী দেশের মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে। এতে ভবিষ্যতে ঢাকা বসবাস করা অযোগ্য হয়ে পড়বে। কঠোর আইন ও সুষ্ঠু নীতিমালার অভাবে বুড়িগঙ্গা নদী দখল থামানো যাচ্ছে না। বুড়িগঙ্গা নদীর বুক দখলের অত্যাচারে ঢাকা শহররক্ষা বাঁধের প্রায় ১৫টি স্লুইস গেট বন্ধ থাকায় নগরীর নিম্নাঞ্চলের জলাবদ্ধতা দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিয়েছে। আদৌ কি বুড়িগঙ্গা শাখা প্রশাখা নদী থেকে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ হবে। নাকি এটি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের মুখের বুলি? অনেকে বলেছেন, যারাই বুড়িগঙ্গা রক্ষা করবে, তারাই দখলদারের সঙ্গে আঁতাত করে মাটি ভরাট করে দখল পাকাপোক্ত করে দিচ্ছে। নদীর বুকে বক্সকালভার্ট করে দখলদারদের দখলে উৎসাহ যোগাচ্ছে। এর ফলে নদীর বুক দখল করার সুযোগ করে নিয়েছে ভূমিদস্যুরা। যখন যে সরকার, তখন সে সরকারের নেতারা ভূমিদস্যুদের সঙ্গে আঁতাত করে দখল চালিয়ে যাচ্ছে। উচ্চ আদালতের বার বার নির্দেশের পরও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন নদীর বুক পুনরুদ্ধারে নামছে না। পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (পবা) চেয়ারম্যান আবু নাসের জনকণ্ঠকে জানান, ভূমিদস্যুরা বুড়িগঙ্গার পশ্চিমের শাখা নদী মেরে ফেলছে। এর জন্য দায়ী সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করছি। এমনকি নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়, নদী রক্ষা কমিটি ও জেলা প্রশাসকের সঙ্গে বহুবার এই নদী রক্ষা করার জন্য আমরা বার বার আলোচনায় বসতে চেয়েছি। কিন্তু তারা যে কেন এই ব্যাপারে আলোচনা বসতে চাচ্ছেন না। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে মামলা করেছি। আর সরকার যদি বুড়িগঙ্গা নদী দখল করতে চায় তাহলে এটি রুখবে কে?
সরেজমিন ঘুরে তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, পুরনো ঢাকার লালবাগের সোয়ারীঘাট থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমে কামরাঙ্গীরচরের মূল প্রবেশদ্বার হাক্কুল এবাদ ব্রিজ থেকে একটু এগিয়ে গেলেই বড়গ্রাম, কুড়াঘাট, পূর্ব রসূলপুর, পশ্চিম রসূলপুর এলাকার কোল ঘেঁষে বুড়িগঙ্গা থেকে একটি শাখা বেরিয়ে গেছে, যা লালবাগ, নওয়াবগঞ্জ বড় মসজিদ ঘাট বেড়িবাঁধ, বাজার, হাজারীবাগের ট্যানারি, রায়েরবাজার, বসিলা, কাঁটাসূর হয়ে আবার মূল নদীতে এসে পড়েছে। বেরিয়ে যাওয়া এই অংশটি বুড়িগঙ্গার পশ্চিমের শাখা নদী হিসেবে পরিচিত। প্রায় সাড়ে তিন দশক ধরে কিছু অর্থলিপ্সু নগরবাসী এই নদীর ওপর অত্যাচার চালিয়েছে। ’৯০ দশকে তৎকালীন বিএনপি সরকারের আমলে বুড়িগঙ্গার এই শাখা নদীতে দখলের মহোৎসব চলেছে। একই উপায়ে ২০০১ সালে বিএনপি জামায়াত-জোট সরকারের আমলে স্থানীয় দলীয় সাংসদ পিন্টু ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা এই শাখা নদীর বুকে বালু ভরাট করে নির্বিচারে দখল চালিয়েছে। তখন সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়েছে। এতে কয়েকজন মারা যায়। খেলতে গিয়ে অনেক শিশু বালুচাপায় মারা গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়। এতে কামরাঙ্গীরচর থানায় মামলা হয়েছে। তার পরও থেমে থাকেনি নদী দখলের উৎসব। বিশেষ করে সেই সময় তৎকালীন এমপি পিন্টু এই কামরাঙ্গীরচর কুড়াঘাট এলাকায় বুড়িগঙ্গা শাখা নদীর ওপর সরকারী খাস জমির ৭২৯ দাগের নদীর বুকে বালু ভরাট করে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট মেডিক্যাল হাসপাতাল নির্মাণ শুরু করে। পরে তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী বেগম জিয়া হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর করেন। ৬ কোটি টাকা খরচ করেও নদীর বুকে বালু ভরাট করে হাসপাতালের শুধু মাঠ ছাড়া আর কিছুই উপহার পায়নি স্থানীয়বাসিন্দারা। গত বছর র‌্যাব-১০-এর কার্যালয় নির্মাণের জন্য ওই নদীর ওপর চোখ পড়ে। সম্প্রতি র‌্যাব-১০ তাদের কার্যালয় নির্মাণের জন্য সরকারের কাছ থেকে এই জমির কিছু অংশ ক্রয় করে। এসিল্যান্ড নদীর ওপর বাঁশের খুঁটির ওপর লাল নিশান টাঙ্গিয়ে র‌্যাব-১০কে তাদের জমির দখল বুঝিয়ে দেয়। এরপর প্রবহমান নদীর ওপর বিশাল বাঁশের ঘেরাও দিয়ে বালু ভরাট শুরু হয়। এ ঘটনায় জনকণ্ঠ সরেজমিন সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসনের টনক নড়ে। সে সময় জেলা প্রশাসক মহিবুল হক লিখিতভাবে নদীর বুকে বালু ভরাট পরিবেশের জন্য হুমকি বলে ভূমি মন্ত্রণালয়ে জানান। এমনকি এক ব্যক্তি নদীর বুকে র‌্যাবের জমিটি তাদের দাবি করে উচ্চ আদালতে মামলা করেন। পরে উচ্চ আদালত স্থিতাবস্থার নির্দেশ দেন। এরপরই র‌্যাবের বালু ভরাট মাঝপথে থেমে যায়। ইতোমধ্যে এই ৭২৯ দাগের সরকারী খাস জমির ৪৪ একর জমির অধিকাংশ দখল হয়ে গেছে। সেখানে শোভা পাচ্ছে অসংখ্য আলিশান ভবন ও দোকানঘর। যেটুকু নদী বিদ্যমান, সেই নদীর পুরাটা অংশ দখল করার জন্য ভূমিদস্যুরা প্রতিযোগিতায় নেমেছে। গত বছর লালবাগ আমলিগোলা বালু ঘাট বেড়িবাঁধ পাশের নদীর ওপর আমলিগোলার স্থায়ী বাসিন্দা জেসমিন ক্যামিকেল সল্যুশান ইন্ডাস্ট্রিজের মালিক সুলতান গাজী নিজের মালিকানা দাবি করে র‌্যাব-১০-এর কার্যালয়ের পাশের নির্ধারিত নদীর বিশাল জায়গা ঘিরে বাঁশের খুঁটি পুঁতে দখল করেন। এর কয়েক শ’ গজ সামনে এগিয়ে কামরাঙ্গীরচর পূর্বরসূলপুর ১ নম্বর গলির মাথায় স্থানীয় কয়েক বাসিন্দা নদীর জমি দখল করে টং বাঁশের ঘরবাড়ি তৈরি করে প্রতিমাসে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। তবে বিআইডব্লিউটিএ নদী বন্দরের সিনিয়র উপ-পরিচালক শরিফ আহমেদ জনকণ্ঠকে জানান, কয়েক মাস আগে ওই শাখা নদীতে একই ব্যক্তি একই স্থানে বাঁশ পুঁতে ঘের করার সময় শ্রমিকরা হাতেনাতে ধরে থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছিল। এমনকি মামলা পর্যন্ত করে এদের জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। তবে সেখানে আবারও দখল করা হলে বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানানো হয়। এটি তাদের আওতাধীন জমি। এরপরই সেখানে বালু ভরাটের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। তবে নদীতে পুঁতে রাখা বাঁশের খুঁটি এখনও শোভা পাচ্ছে। এরপর নদীর পূর্বরসূলপুর ৭ ও ৮ নম্বর গলির মাথায় বুড়িগঙ্গা শাখা নদীর বিশাল অংশ দখল করে মাকের্ট ও বসতঘর নির্মাণ করে ভাড়া দিয়ে মোটা অংকের ভাড়া হাতিয়ে নিচ্ছে হাজারীবাগের এক ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা। তার পাশে নদীর বুকের ওপর জেলা প্রশাসকের নির্দেশে বক্সকালভার্ট নির্মাণ কাজ চলছে। এই কারণে তার পশ্চিমের নদীর বুক দখল করে দখলের মহোৎসব চলছে। লালবাগ নওয়াবগঞ্জ সেকশন বেড়িবাঁধের কংক্রিটের তৈরি বড় বড় স্পার উপড়ে নদীর বুকে বালু ভরাট করে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কতিপয় নেতা মিলে কথিত লিজের নামে অবৈধভাবে পাকা দালান তৈরি ধরে দোকান ভাড়া দিয়ে প্রতিমাসে লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। তারা বেড়িবাঁধের ঢালে শহর র¶ায় নির্মিত কংক্রিটের তৈরি ১৫/২০টি বড় বড় স্পার উপড়ে ফেলে। যা কামরাঙ্গীরচর ও লালবাগের প্রধান সংযোগ সড়ক নবাবগঞ্জ সেকশন পুলিশ ফাঁড়ির ঢালে ও রসূলপুর ব্রিজ মার্কেটের গরিবের বাজারসংলগ্ন রসুলপুর ব্রিজের দ¶িণ-পশ্চিম কোনে বুড়িগঙ্গা শাখা নদীর ওপর সরকারী খাস জমি। যার অনুমানিক মূল্য প্রায় ২ কোটি টাকা। এর পাশে নদীর বুকে ও বিদ্যুতকেন্দ্র ঘেঁষে শিল্পপতি লোকমান হাজী নামে এক প্রভাবশালী বুড়িগঙ্গার নদীর বিশাল অংশজুড়ে বালু ভরাট করে তার মালিকানাধীন ভলবো ব্যাটারি ও পান্না ব্যাটারি কারখানা তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
সরকারের নানা পদক্ষেপে বিচার ব্যবস্থায় নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে
‘বিচারিক ক্ষেত্রে জেন্ডার’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান বিচারপতি
স্টাফ রিপোর্টার ॥ প্রধান বিচারপতি মোঃ মোজাম্মেল হোসেন বলেছেন, বিচারব্যবস্থাকে আরও নারীবান্ধব হতে হবে। সংবিধান এবং আইনের চোখে নারী-পুরুষ সমান হলেও সংস্কৃতি, ভূপ্রকৃতি এবং অর্থনৈতিক অবস্থা নারীর প্রতি বৈষম্য তৈরি করে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সরকারের নানামুখী পদক্ষেপে বিচারব্যবস্থায় নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে যা ইতিবাচক দিক।
বাংলাদেশে বিচারব্যবস্থায় উন্নতমানের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমে নারী অধিকারগুলোর আইনগত প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয় বিবেচনায় রেখে শনিবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁয় ‘বিচারিক ক্ষেত্রে জেন্ডার’ শীর্ষক এক জাতীয় কর্মশালায় প্রধান বিচারপতি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ মহিলা জজ এ্যাসোসিয়েশন এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচী (ইউএনডিপি) যৌথভাবে কর্মশালার আয়োজন করে।
কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোঃ মোজাম্মেল হোসেন বলেন, নারীর প্রতি শ্রদ্ধার অভাব উগ্রবাদী চেতনার উত্থানের কারণেও নারীরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। এসব সমস্যা সমাধানের জন্য সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া দরকার। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সুপ্রীমকোর্ট ও হাইকোর্ট নারীদের স্বার্থ সংরক্ষণে খুবই গুরুত্ব দিচ্ছে। একটি কমিটি করা হচ্ছে, যারা নারীদের সহায়ক বিচারব্যবস্থায় অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।
প্রধান বিচারপতি নারীদের বিচারব্যবস্থায় অংশগ্রহণের পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, ২০০০ সালের আগে সুপ্রীমকোর্টে কোন নারী বিচারপতি ছিল না। এখন আপীল বিভাগে ছয় নারী বিচারপতি রয়েছেন। সারাদেশে ২৪৪ মহিলা জজ রয়েছেন। সহকারী এ্যটর্নী জেনারেল ছাড়াও বার কাউন্সিলে অনেক নারী আইনজীবী রয়েছেন। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বিচারব্যবস্থায় নারীর অংশগ্রহণের দিক দিয়ে বাংলাদেশের অবস্থা সব থেকে ভাল বলে জানান তিনি।
মূলত দুটি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে কর্মশালাটি আয়োজন করা হয়। প্রচলিত বিচারব্যবস্থায় নারীর প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে আইনগত সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং আদালতে ভিকটিম হয়ে আসা নারী অথবা নারী-সাক্ষীকে যথাযথ সুরক্ষা দেয়া।
কর্মশালার সুপারিশে বলা হয়, বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারী বিচারপ্রার্থীদের ক্ষেত্রে মেডিক্যাল সার্টিফিকেট, দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি, আদালতে নারী এবং শিশুদের জন্য পৃথক বিশ্রামাগার নির্মাণ, পুষ্টিকর খাবারের সুব্যবস্থা করা, নারীর বিচারে বিশেষ করে ধর্ষণ মামলার বিচারের ক্ষেত্রে নারীর প্রতি অবমাননাকর পরিস্থিতি এড়িয়ে বিচার করা এবং বিচারকদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার উপর জোর দেয়া হয়।
বাংলাদেশ মহিলা মহিলা জজ এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি লাইলা সালমা বানুর সভাপতিত্বে কর্মশালায় ইউএনডিপির কান্ট্রি ডিরেক্টর স্টেফেন প্রিজনার, বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী, সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, নাজমুন আরা সুলতানা বক্তব্য রাখেন।
কর্মশালাটি ‘নারীর জন্য বিচার’ বিষয়নির্ভর একটি কর্মপর্বের মাধ্যমে উদ্বোধন করা হয়। যেখানে সুপ্রিমকোর্টের আইনবিদ ড. শাহদিন মালিক স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, বিচারপতি নাইমা হায়দার এবং এ্যাডভোকেট ফউজিয়া করিম ফিরোজ। এছাড়াও নারীর ক্ষমতায়নের উন্নয়নমূলক প্রাপ্তি শীর্ষক একটি উপস্থাপনা করেন ইউএনডিপি বাংলাদেশের জেন্ডার এক্সপার্ট সুকহি কোয়াক।
ইউএনডিপির পক্ষ থেকে বলা হয়, বাংলাদেশ মহিলা বিচারক পরিষদ এবং ইউএনডিপির বাংলাদেশের পরিকল্পনায় ২০১২ সালে জাতীয় পর্যায়ে এটিই প্রথম কর্মশালা। উভয় সংস্থা একত্রিত হয়ে বাংলাদেশে নারীর আইনী এবং সামাজিক সুরক্ষা বিষয়ে পরামর্শগুলো তৈরি করবে। ইউএনডিপির কান্ট্রি ডিরেক্টর স্টেফেন প্রিজনার তাঁর বক্তব্যে বাংলাদশের নারী বিচারপ্রার্থী এবং বিচারক উভয়ের অবস্থার উন্নয়নে সহায়তা প্রদানে তার সংস্থা পাশে থাকবে বলে জানান।
আসছে মানসম্পন্ন বই, বিদেশীদের চুটিয়ে আড্ডা
অমর একুশে গ্রন্থমেলা
মোরসালিন মিজান
শনিবারের ছুটি ভালই কাজে লাগিয়েছেন বইপ্রেমী মানুষ। বাংলা একাডেমী চষে বেড়িয়েছেন তাঁরা। দল বেঁধে এসেছেন অনেকেই। ছোট ছোট ছেলেমেয়েকে হাত ধরে মেলায় নিয়ে এসেছেন বাবামায়েরা। অল্পবিস্তর কেনাবেচাও হয়েছে। মেলা শুরুর চতুর্থ দিনে প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন আয়োজক বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান। অব্যবস্থাপনার বিভিন্ন অভিযোগ সম্পর্কে নিজের বক্তব্য তুলে ধরার চেষ্টা করেন তিনি।
সন্ধ্যা পর্যন্ত একাডেমীর তথ্যকেন্দ্রে এদিন জমা পড়া নতুন বইয়ের সংখ্যা ছিল ১৩৩টি। এগুলোর মধ্যে সর্বাধিক ৩২টি উপন্যাস। ৩১টি কবিতার বই। গল্পের বই এসেছে ১২টি। ৯টি রম্য রচনা। শিশুতোষ বই এসেছে ৬টি। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক বইয়ের সংখ্যা ২। বাকি বইগুলো বিভিন্ন বিষয়ে লেখা। মেলামঞ্চে আনুষ্ঠানিকভাবে ৬টি নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন হয়। এগুলোর একটি মোস্তাফিজুর রহমান পিনুর ‘ক্ষমা করো, হে শহীদ’। শিখা প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান। কণ্ঠশিল্পী কনকচাঁপার ‘মুখোমুখি যোদ্ধা’ কাব্যগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন ইমদাদুল হক মিলন। বইটি প্রকাশ করেছেন পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স।

বিদগ্ধ পাঠকের বই
গত কয়েক দিনে মেলায় আসা বইগুলোর মধ্যে বেশ কিছু নজর কেড়েছে বিদগ্ধ পাঠকের। এগুলোর একটি বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক ও গল্পকার হাসান আজিজুল হকের ‘বাচনিক আত্মজৈবিনিক’। শুধু নিজের জীবনের কথা নয়, এর সঙ্গে দেশের অনেক ইতিহাস মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। বইতে শিক্ষা, রাজনীতি, সাংবাদিকতা ও সংবাদপত্র শিল্প নিয়েও আত্মভাবনার প্রকাশ ঘটিয়েছেন লেখক। সাতচল্লিশের দেশভাগ ও একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকে গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গ করেছেন। বইটি প্রকাশ করেছে মাওলা ব্রাদার্স। ইতিহাসের পেছন ছোটা মানুষ মুনতাসীর মামুন আগে লিখেছিলেন ‘রাজাকারের মন’। সে ধারাবাহিকতায় এবার এসেছে তাঁর ‘শান্তিকমিটি ১৯৭১’। বইটি প্রকাশ করেছে মাওলা ব্রাদার্স। এখানে মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশ সমর্থকদের শায়েস্তা করার জন্য গঠিত শান্তিকমিটির নেতাদের মনস্তত্ত¡ বিশ্লেষণের চেষ্টা করেছেন লেখক। কবিতা ও কবিতা বিষয়ক বেশ কিছু বই আছে অমর একুশে গ্রন্থমেলায়। শুদ্ধ¯^র প্রকাশ করেছে প্রয়াত কবি আবদুল মান্নান সৈয়দের ‘ঘুমের ভিতরে নিদ্রাহীন’ বইটি। সিলেটের কবি দিলওয়ারের বই ‘রবীন্দ্রনাথ কী সাম্প্রদায়িক!’ নিজের রচনায় প্রশ্নটির জবাব দেয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি। বইয়ে অন্তর্ভুক্ত অন্য প্রবন্ধগুলোও পাঠককে চিন্তার খোরাক দেবে। এ বইটিও প্রকাশ করেছে শুদ্ধ¯^র। একই প্রকাশনী থেকে এসেছে কবি অনিন্দিতা ইসলামের বই ‘আবুল হোসেনের কবিতা বিষয় বৈচিত্র্য ও শিল্পরূপ’। প্রথম প্রবন্ধগ্রন্থ হলেও প্রাঞ্জলতা আছে তাঁর লেখায়। অ্যাডর্ন থেকে এসেছে ‘ক্লিনিং ফ্রম জীবনানন্দ দাস’। বইটির অনুবাদ করেছেন মুশতাক আহমাদ। চমৎকার প্রচ্ছদের কারণেও বইটি বিশেষ নজর কাড়ে। এতে জীবনানন্দের ২২টি কবিতার ইংরেজী অনুবাদ স্থান পেয়েছে। এ প্রয়াসটির ফলে বাংলা কবিতার উচ্চতা ও কবি হিসেবে জীবনানন্দের বিশালত্ব সম্পর্কে জানতে পারবেন ভিনদেশী পাঠক। এসবের বাইরে সঙ্গীত বিষয়ক একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ ‘অগ্রন্থিত রাধারমণ’। সংকলনের কাজটি করেছেন সুমন কুমার দাশ। ইতোমধ্যে বিভিন্ন সংগ্রাহকের কল্যাণে গ্রন্থভুক্ত হয়েছে রাধারমণের গাওয়া ও লেখা সহস্রাধিক গান। আর সর্বশেষ সংযোজন সুমনকুমার দাশের সংগৃহীত ৩০টি গান। সম্পূর্ণ অগ্রন্থিত এ গানগুলো গ্রন্থভুক্ত হওয়ায় রাধারমণের গানের ভাণ্ডার সম্পর্কে আরও জানার সুযোগ হলো। বইটি প্রকাশ করেছে এডর্ন।

মেলায় অতিথি
চতুর্থ দিন মেলায় এসেছিলেন নির্বাচন কমিশনার সাখাওয়াত হোসেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিজারুল কায়েস, কণ্ঠশিল্পী তপন চৌধুরী, কনকচাঁপা, মনির খান, শুভ্রদেবসহ এক ঝাঁক তারকা। নিজের লেখালেখি জীবন সম্পর্কে কনক চাঁপা জনকণ্ঠকে বলেন, আমার লেখার অভ্যাস অনেক পুরনো। সকল কাজের ফাঁকে লেখাটা চালিয়ে নেয়ার চেষ্টা করি। তারই ফল কাব্যগ্রন্থÑ ‘মুখোমুখি যোদ্ধা’।

চুটিয়ে আড্ডা
মেলায় বই কেনা আর দেখা ছাড়াও প্রতিদিনই চুটিয়ে আড্ডা দিচ্ছেন লেখক পাঠক প্রকাশকরা। ছড়াকার লুৎফর রহমান রিটন, প্রবাসী কবি ইকবাল হাসান, নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক নজরুল ইসলাম কে নাই আড্ডায়? মেলায় বেলজিয়ামের একজন কবিকেও দেখা যায়। আর নজরুল মঞ্চের ঠিক সামনে বসেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ড্যানিয়েল ও শানা। কেমন লাগছে? জানতে চাইলে কিছুটা যেন লজ্জাই পেলেন দুইজন। মিষ্টি হেসে বললেন, গত কয়েক মাস ধরে ঢাকায় আমরা। তবে মেলায় এসে বিশেষ ভাল লাগলো। কিন্তু তোমাদের বইতো আমরা পড়তে পারি না। তাই কেনা হয়নি।

মুখোমুখি মহাপরিচালক
শনিবার প্রথম সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান। তিনি বলেন, এ মেলা শুধু আমাদের না। সকলের। বই নিয়ে এটি পৃথিবীর বৃহত্তম মেলা। একে সফলত করতে শ্রম দিচ্ছি আমরা। এ জন্য আমাদের বাড়তি কোন লোকবল নেই। মেলার অব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে নিজেদের সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এখানে সামাজিক অনেক প্রতিবন্ধকতা আছে। আমাদের নিজেদের দুর্বলতা আছে। ত্রæটি থাকতে পারে। একাডেমী সব কুল রক্ষার চেষ্টা করতে গিয়ে মেলার জন্য অভিনব বিপদ ডেকে এনেছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা চাকরি করি। কিছুটা আপোসকামী। মেলার ইভেন্ট পার্টনার আপন কমিউনিকেশন্সের হাজারো দুর্বলতা প্রকাশিত হলেও একাডেমীর মহাপরিচালক তা দেখেননি বলে জানান। একাডেমী একেবারে শক্তিহীন নয় নিজের এমন বক্তব্যের স্বপক্ষে কিছু বলার আছে কিনা জানতে চাইলে মহাপরিচালক আবরও নিজেদের অক্ষমতার কথা সামনে নিয়ে আসেন। বলেন, একাডেমী প্রাঙ্গণের বাইরের স্টলগুলোর উপর আমরা তেমন নিয়ন্ত্রণ নেই। সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কোন বিষয়কে জটিল না করার পরামর্শ দেন উপ পরিচালক মুর্শিদ উদ্দিন আনোয়ার।

আজকের অনুষ্ঠান
আজ রবিবার বিকেলে রবীন্দ্র মঞ্চে তিন ভাষা শহীদের জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোচনা হবে। এতে ভাষাশহীদ শফিউর রহমান ও আব্দুল জব্বারকে নিয়ে তপন বাগচী এবং ভাষাশহীদ অহিউল্লাহকে নিয়ে জামিল চৌধুরী মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন।
শেখ হাসিনাকে এখনও হত্যার ষড়যন্ত্র চলছে ॥ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্টাফ রিপোর্টার ॥ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার ষড়যন্ত্র চলছে। বিএনপি ও জামায়াত হিযবুত তাহরীরসহ গোপন সংগঠনগুলোকে মদদ দিচ্ছে। তারা যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে ষড়যন্ত্র করছে। কিন্তু তাদের এ ষড়যন্ত্র বাংলার মানুষ বানচাল করে দেবে। তিনি শনিবার সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন। মুক্তিযুদ্ধ যুব পরিষদ এ আলোচনাসভার আয়োজন করে।
সাহারা খাতুন বলেন, সপরিবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষে শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসার দিনই তাকে হত্যার ষড়যন্ত্র শুরু হয় এবং আজও তা অব্যাহত আছে। মন্ত্রী দ্ব্যর্থহীনভাষায় বলেন, তাদের ষড়যন্ত্র কোনদিনই সফল হবে না। আইনশৃক্সখলা রক্ষাকারী বাহিনী এ ব্যাপারে পুরোপুরি সতর্ক রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, বিএনপি ও জামায়াত হিযবুত তাহরীরসহ গোপন সংগঠনগুলোকে মদদ দিচ্ছে। তারা যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে ষড়যন্ত্র করছে। কিন্তু তাদের এ ষড়যন্ত্র বাংলার জনগণ বানচাল করে দেবে। সকল ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবার এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে গণসচেতনতা সৃষ্টির জন্য সকলের প্রতি তিনি আহান জানান।
সাহারা খাতুন বলেন, বর্তমান সরকার যুদ্ধাপরাধীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনেছে। তাদের বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল এবং তদন্ত দল ও প্রসিকিউশন গঠন করা হয়েছে। এখন বিচারকার্য চলছে। দেশবাসীর সহযোগিতায় যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দ্রুত সম্পন্ন হবে বলে তিনি দৃঢ় আস্থা ব্যক্ত করেন। মন্ত্রী বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দ্রুত সম্পাদনের জন্য শীঘ্রই নতুন একটি ট্রাইবুনাল গঠন করা হবে।
তিনি বলেন, জামায়াতের মদদে কয়েকটি গোপন সংগঠন দেশকে অস্থিতিশীল করতে বিশৃক্সখলা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। এরই অংশ হিসাবে জামায়াত-শিবির পুলিশের ওপর চোরাগোপ্তা হামলা চালিয়েছে। তবে পুলিশ বাহিনী এ ব্যাপারে সতর্ক থাকায় তারা সফল হতে পারেনি।
সভায় আইন প্রতিমন্ত্রী এ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেছেন, আগামীতে সরকার পতনে বিরোধী দল যেসব কর্মসূচী দিয়ে মাঠ দখলের চেষ্টা করছে সেগুলো সফল হবে না। আগামী ১২ তারিখের আগে আমরা এমন কর্মসূচী দেব, যা দেখে তারা ঢাকায় আসার সাহসও করবে না। মাঠ আমরা নিজেদের দখলে রাখব। তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে-বিপক্ষে যে বিতর্ক আছে আমরা চিরতরে সেটি শেষ করতে চাই।
আইন প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিএনপির রোডমার্চে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া বন্ধে স্লোগান এবং সমাবেশগুলোতে জামায়াতের দুর্দান্ত উপস্থিতি আমরা দেখেছি। এতে জামায়াতের পেটে বিএনপি ঢুকে গেছে বলে আমরা মনে করছি।
মুক্তিযুদ্ধ যুব পরিষদ সভাপতি কেএম গোলাম দস্তগীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন বিশেষ অতিথি হিসেবে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক হাজী সেলিম, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ আলম মুরাদ, প্রজন্ম ’৭১-এর সভাপতি আব্দুল আজিজ এবং বাংলাদেশ কৃষকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এমএ করিম।
পুঁজিবাজার হবে নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বড় উদ্বেগ
মন্তব্য টাইম ম্যাগাজিনের
বিশেষ প্রতিনিধি ॥ দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতিতে যে সময়ে শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ক্রমশ পুঞ্জীভূত হচ্ছে, পুঁজিবাজারের বিপর্যয় সেই আগুনে ঘি ঢেলে দিয়েছে। ২০১৩ সালের মাঝামাঝিতে জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন সরকারের জন্য বড় উদ্বেগের নাম এখন পুঁজিবাজার। গত এক বছর ধরে স্টক এক্সচেঞ্জের সামনে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীরা। সরকারের নীতিনির্ধারকদের একটি অংশ স্লল্পপুঁজির বিনিয়োগকারীদের রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে বলে তারা মনে করছে।
বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের সাম্প্রতিক উত্থান-পতন এবং এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে আগামী জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্ভাব্য চিত্র তুলে ধরেছে বিশ্ববিখ্যাত টাইম ম্যাগাজিন। গত শুক্রবার ম্যগাজিনটির অনলাইন সংস্করণে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার ও সামগ্রিক অর্থনীতি নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। ‘বিশ্বের দুর্বলতম পুঁজিবাজারের উত্থান-পতন’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে গত তিন বছরে বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, পুঁজিবাজারের অস্বাভাবিক উত্থান এবং অবশ্যম্ভাবী পতন এবং এর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনে শেয়ারবাজারের অস্বাভাবিক উত্থানের কারণ সম্পর্কে বলা হয়েছে, ব্যাংকের টাকার শক্তির ওপর ভর করে ২০১০ সালে পুঁজিবাজার আকশচুম্বী হয়ে ওঠে। বাজারের অস্বাভাবিক উর্ধগতি ক্ষুদ্র ও মৌসুমী বিনিয়োগকারীদের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে প্রলুব্ধ করে। এমনকি শেয়ারবাজার সম্পর্কে ন্যূনতম ধারণা নেই, এমন ব্যক্তিরাও এখানে লেনদেনে নেমে পড়ে। ফলে ২০০৭ সালে যেখানে বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাবের সংখ্যা ছিল মাত্র ৫ লাখ সেখানে ২০১০ সালে তা ৩৫ লাখ দাঁড়ায়।
ওই সময় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক ৯০ শতাংশ বেড়ে যায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১০ সালের শেষ দিকে এসে এই বুদ্বুদ অবশ্যম্ভাবীভাবে ফেটে যায়। ওই সময় দেশে মূল্যস্ফীতির হার ১১ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। ফলে মুদ্রা সঙ্কোচনের অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক শেয়ারবাজারে বাণিজ্যিক ব্যাংকের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করে। এর ফল দাঁড়ায় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে টানা পতন। অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধির ধারাবাহিক দরপতনের ফলে ২০১১ সালে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক কমেছে ৫৫ শতাংশ। পুঁজিবাজারের এই মন্দা আরও প্রসারিত হয়ে দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমস্যাকে জটিল করে তুলেছে।
হাফিজুর রহমান নামে এক বিনিয়োগকারীর উদাহরণ তুলে ধরে প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, ‘মাত্র দুই-তিন মাসে টাকা দ্বিগুণ-তিন গুণ হয়ে যাওয়ায় তার পরিবারের সদস্যদের কাছে তিনি ছিলেন নায়ক (প্রিন্স)। কিভাবে তিনি এত টাকার মালিক হলেন তখন কেউ এ প্রশ্ন তোলেনি। কিন্তু বাজার বিপর্যয়ের পর চরম হতাশায় গত মে মাসে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান হাফিজুর রহমান। এরপরই সবার সামনে প্রকাশিত হয় তার হতাশার সূত্র। ইউরোপ-আমেরিকা প্রবাসী আত্মীয়-স্বজনদের পাঠানো হাজার হাজার ডলার শেয়ারবাজারে খাটিয়েছিলেন হাফিজুর রহমান। মূলত খুলনায় বাড়ি কেনার জন্য এই টাকা পাঠিয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু বাজার ধসের ফলে এর বড় অংশই লোকসান হয়ে যায়। যার পরিণতি ৫৫ বছর বয়সী হাফিজুর রহমানের মৃত্যু।’
হাফিজুর রহমানের দুলাভাই মির্জা গোলাম সবুর টাইম ম্যাগাজিনকে বলেন, ‘ওই সময় শেয়ারবাজারে ব্যাপক উর্ধগতি দেখে অনেকেই টাকা খাটিয়েছিলেন। অথচ তাঁদের কারই এই বাজার সম্পর্কে কোন জ্ঞান ছিল না।’
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপে তৈরি পোশাকের চাহিদা কমে যাওয়া এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ হ্রাসের ফলে বাংলাদেশে বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এতে টাকার মূল্যমান দ্রুত কমে যাচ্ছে। গত দু’ বছরে টাকার বিপরীতে ডলারের মূল্য এক-পঞ্চমাংশ বেড়ে গেছে। যদিও ২০০৬ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে জিডিপি প্রবৃদ্ধির গড় ছিল ৬.৩ শতাংশ। গোল্ডম্যান শ্যাকসের ‘নেক্সট ইলেভেন’ উদীয়মান অর্থনৈতিক শক্তির তালিকায় জায়গা করে নিয়েছিল দেশটি। জেপি মর্গামের ‘ফ্রন্টেইনার ফাইভ’ দেশের একটির নামও বাংলাদেশ। কিন্তু শেয়ারবাজারের নাটকীয় উত্থান ও টানা পতনের ফলে উদীয়মান বাজারের বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি সতর্ক সঙ্কেত হয়ে উঠেছে।
প্রতিবেদনটিতে বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে আশাবাদও ব্যক্ত করা হয়েছে। এ টি ক্যাপিটালের ম্যানেজিং পার্টনার ইফতি ইসলামকে উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘সড়ক ও বন্দরসহ অবকঠামো উন্নয়নে সফল হলে এবং চীনে ম্যানুফেকচারিং খাতের প্রতি মনোযোগ অব্যাহত রাখলে আগামী এক দশকে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে রফতানি আয় দ্বিগুণ করা সম্ভব।’
প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করে আল গোরের ফোন
জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলা
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম ॥ প্রধানমন্ত্রীকে ফোন করে জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় তাঁর ভূমিকার প্রশংসা করেছেন নোবেল বিজয়ী সাবেক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট আল গোর। ‘এ ভয়েজ টু বটম অব আর্থ’ মিশনে বর্তমানে এ্যান্টার্কটিকায় থাকা গোর শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ফোন করেন। মিশনের সবার পক্ষ থেকে তিনি ফোন করেন বলে উল্লেখ করেন সাবেক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট। এ সময় সেখানে আইসল্যান্ডের প্রেসিডেন্টসহ বিভিন্ন দেশের পরিবেশমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (গণমাধ্যম) মাহবুবুল হক শাকিল এ কথা জানান।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এ সময় জলবায়ুর ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর বিষয়ে কথা বলেন। আল গোরকে ধন্যবাদ জানিয়ে পরিবেশ আন্দোলনে ভূমিকার জন্য তার প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনে ভূমিকার রাখা গ্রীনহাউজ গ্যাস নিঃসরণকারী দেশের তালিকায় বাংলাদেশ তলার দিকে থাকলেও পরিবর্তনজনিত প্রভাব বাংলাদেশের ওপরই বেশি। ‘এ ভয়েজ টু বটম অব আর্থ’ মিশনের লক্ষ্য জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব পর্যবেক্ষণ ও এ বিষয়ে বিশ্ববাসীর মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি। গোরের সঙ্গে বাংলাদেশের পরিবেশমন্ত্রী হাছান মাহমুদ গত ৩১ জানুয়ারি এ্যান্টার্কটিকার হান্নাহ পয়েন্টে যান। ১৯৯৩ থেকে ২০০১ মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনকারী আল গোর তার জলবায়ু পরিবর্তন রোধ বিষয়ক কর্মকাÊের জন্য ২০০৭ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার পান।
আবারও বাংলাদেশকে আশ্বস্ত করতে আসছেন প্রণব
বিশেষ প্রতিনিধি ॥ প্রতিশ্রুতি পূরণে বাংলাদেশকে আবারও ‘আশ্বস্ত করার’ বার্তা নিয়ে আসছেন ভারতের অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখার্জী। প্রতিশ্রুতি পূরণে দীর্ঘসূত্রিতা এবং সীমান্তে সাম্প্রতিক অনভিপ্রেত ঘটনার কারণে দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্কে টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে। এ টানাপোড়েন কাটাতেই প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংয়ের সদিচ্ছার বার্তা নিয়ে বাংলাদেশে আসছেন তিনি। কিন্তু সেই প্রতিশ্রæতি পূরণে আবারও আশ্বাসে কতটা আশ্বস্ত হবে বাংলাদেশ সেটাই দেখার বিষয়।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর এবং ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর ফিরতি সফরে স্বাক্ষরিত চুক্তি ও প্রেেটাকলগুলোর একটিও এখন পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি। এই প্রতিশ্রুতি দিয়েও চুক্তি না করা, আবার চুক্তি করেও তা বাস্তবায়ন না করার কারণে বাংলাদেশ বেশ হতাশ হয়ে পড়েছে ভারতের প্রতি। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের বাংলাদেশ সফরের সময় তিস্তা চুক্তি স্বাক্ষরের ব্যাপারে বাংলাদেশ বেশ আশাবাদী ছিল। কিন্তু ড. মনমোহন সিংয়ের বাংলাদেশ সফরের পর মাস পেরিয়ে গেলেও ওই চুক্তি না হওয়ায় বাংলাদেশ এখন বেশ হতাশ। তার ওপর ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরের সময় স্বাক্ষরিত চুক্তি ও প্রটোকলগুলো বাস্তবায়িত না হওয়ায় এ হতাশা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। সম্প্রতি ত্রিপুরা সফরের সময় খোদ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সে হতাশার বিষয়টি তুলে ধরেছেন। গত ১১ জানুয়ারি ত্রিপুরার রাজভবনে ভারতের উপ-রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশের মধ্যকার সব চুক্তি বাস্তবায়নের তাগিদ দেন তিনি। সেই সঙ্গে দুই দেশের জনগনের বৃহত্তর স্বার্থে ভারতের দেয়া প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন।
শুধু চুক্তি না হওয়া বা চুক্তি বাস্তবায়ন না হওয়ার বিষয়টিই নয়, বাংলাদেশকে দেয়া কোন প্রতিশ্রæতিই এখন পর্যন্ত রক্ষা করেনি ভারত। বিশেষ করে অবকাঠামো উন্নয়নে বাংলাদেশকে দেয়া একশ কোটি ডলারের ঋণের এক টাকাও এখন পর্যন্ত ছাড় করেনি। এ ঋণের আওতায় জানুয়ারিতে ১৩টি ডাবল ডেকার বাস আসার কথা থাকলেও, তা আসেনি। এ পর্যন্ত ২১টি প্রকল্পের মধ্যে ১৩টি প্রকল্প লাইন অব ক্রেডিটে যুক্ত হয়েছে। এতে অবশ্য দুই বছর চলে গেছে। ফলে ওই একশ’ কোটি ডলার কবে আসবে, কিংবা আদৌ আসবে কিনা এ নিয়েই যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।
যা করে গেলাম আল্লার ওয়াস্তে তা রক্ষা করবেন ॥ সিইসি
কমিশনের আস্থা ধরে রাখতে হবে ॥ এনইসি ভবনে বিদায় সংবর্ধনা
স্টাফ রিপোর্টার ॥ ‘যা করে গেলাম আল্লার ওয়াস্তে তা রক্ষা করবেন। যে কোন মূল্যে নিরপেক্ষতা ধরে রাখবেন। পাঁচ বছরে সবচেয়ে বড় অর্জন ছবিসহ ভোটার তালিকা আপনাদের কাছে আমানত হিসেবে রেখে গেলাম। সঠিক প্রক্রিয়ায় এর দেখভাল করবেন।’ বিদায়ী মুহুর্তে আবেগ-আপ্লুত কণ্ঠে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে এ কথা বলেছেন বিদায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ড. এটিএম শামসুল হুদা। তিনি বলেন, কমিশনকে কিছু কর্তৃত্ব দিলে দলীয় সরকারের অধীনেও সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব। বিদায়ী দুই নির্বাচন কমিশনার বলেন, নির্বাচন সংস্কৃতিতে আমূল পরিবর্তন এনে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে এ কমিশন সর্বমহলে যে আস্থা অর্জন করেছে সেই আস্থা ধরে রাখতে হবে।
বর্তমান কমিশনকে বিদায় সংবর্ধনা দিতে বেলা ১১টায় আগারগাঁওয়ের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি) মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়। ইসি সচিব মোহাম্মদ সাদিকের সভাপতিত্বে ‘পঞ্চবার্ষিক কৌশলগত পরিকল্পনা ও দ্বিবার্ষিক কর্মপরিকল্পনায় বিদায়ী ইসির দিকনির্দেশনা’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানে আঞ্চলিক ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। ইসি সচিবালয়ের অতিরিক্ত যুগ্ম সচিব সিরাজুল ইসলামের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ মুসা এবং কম্পিউটার অপারেটর আবু নাসের মোহাম্মদ মানসুর হেল্লাছ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সিইসি এবং দুই নির্বাচন কমিশনার মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) এম সাখাওয়াত হোসেন। সিইসি শামসুল হুদা ও নির্বাচন কমিশনার ছহুল হোসাইনের মেয়াদ ৫ ফেব্রæয়ারি শেষ হয়ে যাচ্ছে। আর সাখাওয়াত হোসেনের মেয়াদ রয়েছে ১৪ ফেব্রæয়ারি পর্যন্ত।
বিদায়ী সিইসি তাঁর বক্তৃতায় দলীয় সরকারের অধীনে আগামী জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে বলেন, ‘আল্লার দুনিয়ায় কোন কিছু অসম্ভব নয়। অবশ্যই সম্ভব। বর্তমান ব্যবস্থায় হয়ত সম্ভব নয়। এ কারণে তত্ত‍াবধায়ক সরকার ব্যবস্থার দাবি উঠছে। তবে ইসিকে কিছু কর্তৃত্ব দিলে ইভিএমের বিরোধিতা না করে ব্যবহার করতে দিলে অবশ্যই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব।’ তিনি আরও বলেন, অনেকেই বলেন, ইসির কর্মীদের দিয়ে নির্বাচন করার জন্য। সেটাও সম্ভব। যদি সাত বিভাগে এক মাস ধরে পর্যায়ক্রমে ভোট নেয়া হয়।
সিইসি জানান, এক অনুষ্ঠানে বিএনপির একজন তাঁকে প্রশ্ন রাখেন দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন করা যাবে কি না? সিইসি জানান, তিনি তখন কাজটা করা কঠিন বলে মত দেন। তিনি তখন বলেন, ‘কতিপয় ভাল লোক আছে যাঁরা নির্বাচনটা করতে চাচ্ছে, অধিকাংশ লোক তা ভণ্ডুল করতে চাচ্ছে। শুভ-অশুভের মধ্যে একটা সংঘর্ষ লেগেই থাকছে। একে পরাভূত করার শক্তি অর্জন ও সুযোগ দেয়া দরকার। শর্ত আরোপ করতে পারলে আমরা (ইসি) সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারব।’
সিইসি বলেন, আমরা যখন ছবিসহ ভোটার তালিকার কাজে হাত দিয়েছিলাম তখন অধিকাংশ লোক বলেছিল আমরা ওই কাজ করতে পারব না। ২৯ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচনও হবে না বলে আশঙ্কা করেছিল। সিইসি কৌতুক করে বলেন, এমন কি আমার স্ত্রীও ডিসেম্বরের ১০/১২ তারিখেও নির্বাচন হবে কি না সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমি খুব একটা ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি নই। এরপরও বলছি, পরিশ্রম ও আল্লার অশেষ রহমতে আমরা এত কাজ করে যেতে পারলাম, যা করে গেলাম আল্লার ওয়াস্তে তা দেখভাল করে রাখবেন।’
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কমিশন যে আস্থা অর্জন করেছে তা শুধু ধরে রাখলে হবে না, আরও ওপরে নিয়ে যেতে হবে। সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হতে হলে যে কোন মূল্যে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোকে সহযোগিতা দেয়ার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, আমরা রাজনৈতিক দলগুলোকে আমাদের প্রধান ক্লায়েন্ট মনে করেছি। সব পর্যায়ে তাদের প্রতি সহযোগিতা-সহমর্মিতার কোন বিকল্প নেই। যদি সহযোগিতা না করে চলেন তবে আপনারা পুরোপুরি ব্যর্থ হবেন, মহাবিপদে পড়বেন।
হালনাগাদ ভোটার তালিকা প্রণয়ন, সারাদেশে ইসি কার্যালয় স্থাপন, জনগণকে সেবা দেয়া, যোগ্য কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ও রাজনৈতিক দলগুলোসহ সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে মিলেমিশে ইসির কাজ এগিয়ে নেয়ার পরামর্শ দেন তিনি। সিইসি বলেন, ‘ছবিসহ ভোটার তালিকা ও এর তথ্যভাণ্ডার দেশের মানুষের কাছে আদৃত। এটা নির্ভুল বললেই চলে। এ আমানত দিয়ে যাচ্ছি। নির্ভুলভাবে হালনাগাদ করবেন। এ আমানত রক্ষা করতে হবে।’
পাঁচ বছর মেয়াদে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানসহ সার্বিক সহযোগিতার জন্য ইসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিনন্দন জানানোর সময় অশ্রæসজল হয়ে পড়েন এটিএম শামসুল হুদা।
তৃপ্তি নিয়ে বিদায় নিচ্ছি ॥ ছহুল হোসাইন
বিদায়ী বক্তৃতায় নির্বাচন কমিশনার মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন বলেন, আমরা যখন দায়িত্ব নেই তখন সুষ্ঠু নির্বাচন না হওয়ার পেছনে তিনটি কারণ চিহ্নিত করি। সেগুলো হচ্ছে- ত্রæটিযুক্ত ভোটার তালিকা, কালো টাকা ও পেশীশক্তি। বিদায়বেলায় অনেক তৃপ্তি নিয়ে যাচ্ছি যে আমরা এসব পাল্টাতে পেরেছি। ভোটকেন্দ্রকে এখন আর কেউ রণক্ষেত্র মনে করে না। মা তার সন্তান কোলে নিয়ে ভোট দিতে যান। নিরপেক্ষভাবে কাজ করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘আগামী ইসিকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে হবে। যে আস্থা অর্জন করেছি তা ধরে রাখতে হবে। জনগণের কাছে কোন কিছু গ্রহণযোগ্য না হলে পরিণতি কি হয় তা আমরা অতীতে দেখেছি।’
ভোটার তালিকায় বাংলাদেশ আজ রোল মডেল সাখাওয়াত হোসেন
নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) এম সাখাওয়াত হোসেন নির্বাচনী পরিবেশে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে মন্তব্য করে বলেন, ‘জোর জবরদস্তি করে ভোট নেয়ার দিন শেষ হয়ে গেছে। সাধারণ মানুষ এখন বিশ্বাস করে ¯^চ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন সম্ভব।’ তিনি বলেন, ছবিসহ ভোটার তালিকা এ কমিশনের সবচেয়ে বড় অর্জন। আজ চীনসহ চারটি দেশ বাংলাদেশ মডেলে ভোটার তালিকা করতে চায়। তিনি বলেন, আমরা নির্বাচনী সংস্কৃতিতেও পরিবর্তন এনেছি। নির্বাচনে জনসভা না করা, পোস্টার না লাগানোর মতো আইনী বিধি প্রণয়নের চিন্তা করার সময় ইসির মাঠ পর্যায়ের কর্মীরাই সংশয় জানিয়েছিল যে, এটা করা কখনই সম্ভব নয়। অথচ আজ সবার সহযোগিতায় সেই কাজ সম্ভব হয়েছে। এসব অর্জন ধরে রাখতে হবে। যতই চাপ আসুক না কেন লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে পরিষ্কার রাখতে হবে।
যুদ্ধাপরাধী রক্ষা করার চেষ্টা করবেন না ॥ খালেদার প্রতি হাসিনা
বিশেষ প্রতিনিধি ॥ গণতন্ত্রের স্বার্থে বিধ্বংসী চিন্তা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি উদাত্ত আহান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিরোধী দলের নেতার উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘বিধ্বংসী চিন্তা থেকে বেরিয়ে জনগণের কাতারে আসুন, জনগণের কথা চিন্তা করুন। জনগণের ওপর আস্থা-বিশ্বাস রাখুন। তা না হলে দেশের জনগণ আপনাকে প্রত্যাখ্যান করবে। এমন কোন কাজ করবেন না যাতে নিজের খারাপ হয়, দেশের গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়ে। এমনটা করলে তার ফল আপনার জন্য ভাল হবে না।’
গৌরব, ঐতিহ্য ও সংগ্রামের ঐতিহ্যবাহী সংগঠন ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠার ৬৪ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তত্তাবধায়ক সরকার আসলেই যে বিরোধী দলের নেত্রীকে কোলে নিয়ে ক্ষমতায় বসাবে সেই আশা করার দরকার নেই। তাঁর স্বাদের ইয়াজউদ্দিন-ফখরুদ্দীন-মইনুদ্দিনরা ক্ষমতায় এসে তাঁকে ক্ষমতায় বসায়নি, উল্টো জেলে পুরেছে। দুই ছেলেকে উত্তম-মধ্যম দিয়ে বিদেশে যেতে বাধ্য করেছে। আগামীতেও যে তা হবে না তার গ্যারান্টি কোথায়? বিরোধীদলীয় নেত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে যাবেন না। বাংলার মানুষ তা গ্রহণ করবে না। তাদের বিচার বাংলার মাটিতেই হবে। এটা বন্ধ করতে পারবেন না।
বিরোধী দলের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি-জামায়াত সব সময় মনে করে রাজপথে কিছু ঘটালেই দেশে একটা কিছু ঘটে যাবে। তাদের আবার ক্ষমতায় নিয়ে এসে বসাবে। কিন্তু তাদের এই আশা কখনই পুরণ হবে না। তিনি বলেন, আমরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করছি। সন্ত্রাস-জঙ্গীবাদের ঘটনা আর না ঘটে সে ব্যবস্থা নিয়েছি। যারা এতিমের টাকা মেরে খেয়েছে তাদের বিচার হচ্ছে এটা অনেকের পছন্দ না। তাই তারা ষড়যন্ত্র করছে। তিনি বলেন, বিরোধীদলীয় নেত্রী আন্দোলনের নামে সরকার উৎখাত করে কি এবং কাকে আনতে চায়? আসলে আন্দোললের নামে অনেক ত্যাগ ও সংগ্রামের মাধ্যমে যে গণতন্ত্র ফিরে এসেছে, সেই কষ্টার্জিত গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রাকে তারা বাধাগ্রস্ত করতে চায়। তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধী, দুর্নীতিবাজদের রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব না। জনগণ আমাদের যুদ্ধাপরাধী, দুর্নীতিবাজদের বিচার করার দায়িত্ব দিয়েছে। যতই বাধা আসুক বাংলার মাটিতে আমরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করবই করব। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ছাত্রলীগের এই পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে ষাটের দশক থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত ঐতিহ্যবাহী এ ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্বদানকারী প্রবীণ-নবীন ছাত্রলীগের নেতাদের মিলনমেলায় পরিণত হয়। নবীন-প্রবীণ নেতাদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে বিশাল এই সম্মেলনস্থল। স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে সেই উত্তাল সময়ের দিকে হারিয়ে যান প্রবীণ ছাত্রলীগ নেতারা। তোফায়েল আহমদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা থেকে শুরু করে আজকের ছাত্রলীগের নেতৃত্বদানকারী নেতারা একে অপরের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন, প্রবীণ নেতারা তাঁদের সময়ের আদর্শ-ত্যাগ ও সংগ্রামে উদ্দীপ্ত ছাত্রলীগের বিশাল ভূমিকার কথা তুলে ধরে আজকের তরুণ নেতাদের তা থেকে শিক্ষা নেয়ার আহান জানান।
সম্মেলনস্থলে এসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সঙ্গীতের মূর্ছনায় জাতীয় পতাকা ও ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি এসএম বদিউজ্জামান সোহাগ সংগঠনের পতাকা উত্তোলন করেন। এ সময় জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশিত হয়। এরপর প্রধানমন্ত্রী ৬৪টি শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
ছাত্রলীগ সভাপতি এসএম বদিউজ্জামান সোহাগের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলমের পরিচালনায় পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও বক্তব্য রাখেন ষাটের দশক থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত বিভিন্ন সময় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালনকারী আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক ডাকসু ভিপি তোফায়েল আহমদ এমপি, ইসমত কাদির গামা, যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি, আবদুল মান্নান এমপি, ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন এমপি, প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক এমপি, আবদুর রহমান এমপি, শাহে আলম, মাইনুদ্দিন হাসান চৌধুরী, এনামুল হক শামিম, বাহাদুর ব্যাপারী, মাহমুদুল হাসান রিপন, মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন প্রমুখ।
মঞ্চে এ সময় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, আহমদ হোসেন ছাড়াও বিভিন্ন সময় ছাত্রলীগের নেতৃত্বদানকারী ছাত্রনেতা বাহালুল মজনুন চুন্নু, অসীম কুমার উকিল, ইসহাস আলী খান পান্না, নজরুল ইসলাম বাবু এমপিসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে উত্তরীয় ও শাল পরিয়ে দেয়া হয়। এরপর ছাত্রলীগের বিভিন্ন ইউনিট আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর হাতে ক্রেস্ট তুলে দেয়।
বিরোধীদলীয় নেতাকে উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, গণতান্ত্রিক আন্দোলন করবেন, ঠিক আছে। কিন্তু মানুষ মারবেন কেন? গাড়ি পোড়াবেন কেন? জ্বালাও- পোড়াও করবেন কেন? পুলিশকে উস্কানি দিয়ে যে পাঁচজন নিহত হলো তার দায় কে নেবে? নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য গঠিত অনুসন্ধান কমিটি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা ক্ষমতায় থাকলেও নির্বাচন কমিশন গঠন করতে যাইনি। আমরাই দৃষ্টান্ত স্থাপন করলাম নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনের।
ছাত্রলীগকে চরিত্র বদলানোর পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ছাত্রলীগকে চরিত্র বদলাতে হবে। আদর্শ অনুসরণ করতে হবে। রাজনীতির পাশাপাশি ভালভাবে পড়াশুনা করে নিজেদের গড়তে হবে। সুযোগ সন্ধানীদের বিষয়ে ছাত্রলীগ নেতৃত্বকে সজাগ থাকার আহান জানিয়ে তিনি বলেন, কিছু কিছু লোক থাকে তারা সবসময় ‘গবর্মেন্ট পার্টি’। তারা মনে করে, যে সরকারই আসুন না কেন, তাদের কিছু হবে না। সুযোগ সন্ধানীদের এনে দলভারি করার দরকার নেই। এজন্য ছাত্রলীগকে সজাগ থাকতে হবে।
ছাত্র রাজনীতির বন্ধ করে দেয়ার বিপক্ষে নিজের অবস্থান তুলে ধরে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, ছাত্র রাজনীতি ছাড়া ভবিষ্যত প্রজন্ম গড়ে উঠবে না। আমরাও ছাত্র রাজনীতি করেছি। তবে সেই রাজনীতি হতে হবে ত্যাগের, আদর্শের ও দেশপ্রেমের। কিন্তু রাজনীতি যদি আখের গোছানোর জন্য হয় সে রাজনীতি- সে রাজনীতি দেশকে কিছুই দিতে পারে না।
এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা আরও বলেন, ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বলব- লেখাপড়া করতে হবে। কারণ শি¶াই হচ্ছে দেশকে উন্নয়নের দিকে নিয়ে যাওয়ার মূল হাতিয়ার। আমি ছাত্রদের হাতে যেমন বই-কলম তুলে দিয়েছি, তেমন বলব রাজনীতিও করতে হবে।
রাজনীতিতে সততার গুরুত্ব তুলে ধরে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ছাত্রলীগকে উদ্দেশ করে বলেন, ধনসম্পদ সাময়িক জৌলুশ দিতে পারে, অন্য কিছু নয়। সততা থাকলে মাথা উঁচু করে চলা যায়, কথা বলা যায়। যে নেতৃত্ব সততার সঙ্গে জীবন চালাতে পারে, সে নেতৃত্ব দেশকে কিছু দিতে পারে। মাথা উঁচু করে কথা বলতে পারে। সততার জোর থাকলে কঠিন সময়েও নেতৃত্ব দিতে পারবে।
তিনি বলেন, ছাত্রলীগের প্রতিটি নেতাকর্মীকে মনে রাখতে হবে, ৩০ লাখ শহীদের রক্তের ঋণ শোধ করতে হবে। এটা আমাদের দায়। তাই ¯^াধীনতার চেতনা প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় কেউ যেন বাধা দিতে না পারে- সেজন্য ছাত্র সমাজকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহŸান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিরোধীদলীয় নেত্রী যা বলেন, সেটা তার বেলায় ফলে। এর আগে বলেছিলেন, আওয়ামী লীগ ৩০টি আসনও পাবে না। উল্টো বিগত নির্বাচনে তিনিই পেয়েছেন ২৯ আসন। এখন তিনি (খালেদা জিয়া) বিরোধী দলীয় নেত্রী হয়েছেন। আমরা যদি এরশাদ সাহেবকে আর কয়েকটা আসন বেশি ছেড়ে দিতাম, তবে তিনি (খালেদা জিয়া) বিরোধী দলীয় নেত্রীও হতে পারতেন না।
আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য এবং ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি তোফায়েল আহমদ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নীতি ও আদর্শে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহŸান জানিয়ে বলেন,
ছাত্রলীগের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি থাকলে তা মিটিয়ে ফেলতে হবে। আমাদের অগ্রযাত্রাকে ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ড যাতে ম্লান না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের প্রতি আমার অনুরোধ, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দ্রুত কাজ শেষ করতে হবে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কাজ শেষ করতে হবে। কারণ এর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। ছাত্রলীগের আরেক সভাপতি এবং আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ভাল কাজের দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে। সরকারের অর্জনগুলো অচিরেই দৃশ্যমান হবে। একটি আচরণ অনেক অর্জনকে ম্লান করে দিতে পারে। ছাত্রলীগের প্রতিটি নেতাকর্মীকে এ ব্যাপারে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে।
নির্বাচন প্রশ্নে দুই বড় দলের অবস্থানে সঙ্কট ঘনীভূত
বিএনপি চায় বহির্বিশ্বের হস্তক্ষেপ, সংলাপে আওয়ামী লীগের গরজ নেই
শরীফুল ইসলাম ॥ আগামী দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে দেশের বড় দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি পরস্পরবিরোধী অবস্থানে। সরকারী দল আওয়ামী লীগ বলছে তত্তাবধায়ক সরকার পুনর্বহালের আর কোন সুযোগ নেই। অপরদিকে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি বলছে, তত্তাবধায়ক সরকার ছাড়া তারা নির্বাচনে যাবে না। এ পরিস্থিতিতে আগামী নির্বাচনের আগেই দেশে রাজনৈতিক সঙ্কট ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আর এই সঙ্কট থেকে দেশকে মুক্ত রাখতে তত্ত¡াবধায়ক সরকারসহ বিভিন্ন ইস্যুতে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সমঝোতার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। তবে দেশীয় কোন মহলের প্রতি আস্থা রাখতে না পারায় বিএনপি তত্তাবধায়ক সরকার ইস্যুতে বহির্বিশ্বের হস্তক্ষেপ চাচ্ছে। আর এ জন্যই তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে লবিস্ট নিয়োগ করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। কিন্তু এ ইস্যুতে বিএনপির সঙ্গে সংলাপ করার ব্যাপারে আওয়ামী লীগের কোন গরজ নেই। তবে এ ইস্যুতে বিরোধী দলের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছতে আওয়ামী লীগের প্রতিও বিভিন্ন মহলের চাপ রয়েছে বলে জানা গেছে। এ পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক সঙ্কট নিরসনে সম্প্রতি ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজেনা বড় দুই দলকে সংলাপে বসার আহান জানিয়েছেন।
এদিকে তত্তাবধায়ক সরকারের দাবিতে আগামী ১২ মার্চ বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট ও সমমনা দলগুলোর মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে সংঘাত ও সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সারাদেশ থেকে বিপুল সংখ্যক জনতার উপস্থিতি ঘটিয়ে সেদিন ঢাকা অচল করে দেয়া হবে। বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াসহ দলের সিনিয়র নেতারা ইতোমধ্যেই বলেছেন ওই কর্মসূচীতে বাধা দেয়া হলে উদ্ভূত পরিস্থিতির দায়ভার সরকারকেই বহন করতে হবে। অপরদিকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেও ওইদিন পাল্টা কর্মসূচী দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। শনিবার এক কর্মসূচীতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা ও আইন প্রতিমন্ত্রী এ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, ১২ মার্চ বিরোধী দলের কর্মীরা ঢাকায় ঢুকতেই পারবে না। এই কর্মসূচী দেয়া হয়েছে যুদ্ধাপরাধীদের গ্রেফতারের জন্য। তাই ওইদিন আওয়ামী লীগসহ ১৪ দল এমন কর্মসূচী দেবে যে বিরোধী দল ঢাকা দখল দূরে থাক, এখানে ঢুকতেই পারবে না।
প্রসঙ্গত, গত বছর ৩০ জুন জাতীয় সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী বিল পাস হওয়ার পর থেকেই তত্তাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল হয়ে যায়। এর পর থেকেই তত্তাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের ব্যবস্থা করতে বিএনপি বিভিন্ন দেশে লবিস্ট নিয়োগ করে। এ ছাড়া গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড. ইউনূসসহ দেশের স্বানামধন্য কয়েক বিশিষ্টজনকেও প্রভাবশালী দেশগুলোর সরকারের সঙ্গে এ নিয়ে যোগাযোগ করার দায়িত্ব দেয় বিএনপি। বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া তাঁর বক্তব্যে বার বার তত্তাবধায়ক সরকারের দাবি জানিয়ে এই পদ্ধতির সরকার ছাড়া দেশে কোন নির্বাচন হবে না বলে সরকারকে হুঁশিয়ার করে দিচ্ছেন। অপরদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তত্তাবধায়ক সরকার আর পুনর্বহাল হবে না বলে তার অবস্থান বারবার পরিষ্কার করে বিরোধী দলের দাবি নাকচ করে দিচ্ছেন।
এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সঙ্কট নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশ তাদের কর্মতৎপরতা বৃদ্ধি করেছে। এরই অংশ হিসেবে মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট ব্লেক ১৪ ফেব্রæয়ারি ঢাকায় আসছেন বলে জানা গেছে। ২০ ফেব্রæয়ারি ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি প্রতিনিধি দল ঢাকায় আসার কথা রয়েছে। এ ছাড়া আরও কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিরাও বাংলাদেশের রাজনৈতিক সঙ্কট নিরসনে করণীয় ঠিক করতে ঢাকা সফর করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানা গেছে।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটের ব্যানারে গত বছর অক্টোবর মাস থেকে বিভিন্ন বিভাগে রোডমার্চ ও জনসভা কর্মসূচী শুরু করে। এর অংশ হিসেবে ১০ ও ১১ অক্টোবর ঢাকা থেকে সিলেট অভিমুখে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে চারদলীয় জোট ও সমমনা দলগুলোর প্রথম দফা রোডমার্চ কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ১৮ ও ১৯ অক্টোবর ঢাকা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ অভিমুখে দ্বিতীয় দফা, ২৬ ও ২৭ অক্টোবর খুলনা অভিমুখে এবং সর্বশেষ এ বছর ৮ ও ৯ জানুয়ারি ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে রোডমার্চ করে চারদলীয় জোট। ৯ জানুয়ারি চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ডের জনসভা থেকে খালেদা জিয়া তত্ত¡াবধায়ক সরকারের দাবিতে ২৯ জানুয়ারি সারাদেশে গণমিছিল ও আগামী ১২ মার্চ ঢাকায় মহাসমাবেশ কর্মসূচী ঘোষণা করেন।
২৯ জানুয়ারি পূর্বঘোষিত বিএনপির গণমিছিল চলাকালে চাঁদপুর ও লক্ষীপুরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে বিএনপির ৪ নেতাকর্মী নিহত হয়। ওইদিন রাজধানী ঢাকাসহ দেশের কোন কোন জেলায় এই কর্মসূচী পালনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এ ঘটনার পর সারাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিভিন্ন মহল থেকে দাবি ওঠে দুই দলের মধ্যে সংলাপের। কিন্তু দুই দলের কারও প্রতি কারও যেখানে আস্থা নেই, সেখানে তাদের মধ্যে সংলাপ কি করে সম্ভব তা নিয়েও আলোচনা-সমালোচনা চলতে থাকে। বিএনপি চেয়ারপার্সন ও তার দলের অন্য নেতারা এখন ধারাবাহিকভাবে গণঅভ্যুত্থানে সরকার পতনের ঘোষণা দিচ্ছেন। চারদলীয় জোট ও অন্য সমমনা দলগুলোও খালেদা জিয়ার সঙ্গে সুর মিলিয়ে বিভিন্ন সভা-সমাবেশে কথা বলছেন। আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর বিরোধিতা করে তত্ত¡াবধায়ক সরকার এলে পরিণতি কি হতে পারে তার ব্যাখ্যাও দিচ্ছেন। ক্ষমতাসীন মহাজোটের শরিক দলগুলোও আওয়ামী লীগের সঙ্গে সুর মিলিয়ে এ দেশে তত্তাবধায়ক সরকার আর ফিরে আসবে না বলে মন্তব্য করছেন। এ পরিস্থিতিতে দেশের ভবিষ্যত পরিণতি নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা প্রকাশ করা হচ্ছে।
তত্তাবধায়ক সরকারের দাবিতে ১২ মার্চ রাজধানীতে চারদলীয় জোট ও সমমনা দলের মহাসমাবেশ। বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া ইতোমধ্যেই ‘চলো চলো ঢাকা চলো’ স্লোগান দিয়ে সারাদেশের সকল স্তরের মানুষকে এ কর্মসূচীতে হাজির হওয়ার আহান জানিয়েছেন। এই মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে ঢাকায় বড় ধরনের শোডাউন করছে বিএনপি ও জামায়াতসহ চারদলীয় জোট এবং সমমনা দলগুলো। কিন্তু সরকারী দল আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেও পাল্টা কর্মসূচী ঘোষণা করা হয়েছে। তাই ২৯ জানুয়ারির মতো সরকার আবার বিরোধী দলের কর্মসূচীতে বাধা দিয়ে পরিস্থিতি সংঘাতের পথে নিয়ে যায় কিনা এ নিয়েও আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে পরিস্থিতি যে কোন সময় ঘোলাটে হতে পারে বলে সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যেই সতর্কবাণী উচ্চারিত হয়েছে।
অভিজ্ঞ মহলের মতে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে দেশের বড় দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে সমঝোতার কোন বিকল্প নেই। আর যেহেতু দেশীয় কোন মহলের প্রতি সব দলের আস্থা নেই তাই বিদেশী কোন মহলের মধ্যস্থতায় সংলাপ করা যেতে পারে।
নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন ইস্যুতে গত জানুয়ারি মাসে রাষ্ট্রপতি মোঃ জিল্লুর রহমান বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ করেছেন। তিনি ১১ জানুয়ারি বিএনপি ও ১২ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংলাপ করেন। কিন্তু নির্বাচন কমিশন নিয়ে সংলাপ হলেও এ নিয়ে কোন কথা না বলে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া রাষ্ট্রপতিকে তত্ত¡াবধায়ক সরকার পুনর্বহালের ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানিয়ে একটি লিখিত প্রস্তাব পেশ করেন। এই সংলাপের পর নির্বাচন কমিশন গঠন করতে সার্চ কমিটি গঠন করা হয় এবং সংলাপে অংশ নেয়া রাজনৈতিক দলগুলোকে সার্চ কমিটির কাছে নির্বাচন কমিশনের জন্য নাম জমা দিতে বলা হয়। কিন্তু আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন দল নাম জমা দিলেও বিএনপি সার্চ কমিটির কাছে কোন নাম জমা দেয়নি। এর মাধ্যমে বিএনপি তত্ত¡াবধায়ক সরকার ছাড়া নির্বাচনে যাবে না এমন অবস্থানের কথা জানান দেয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নির্বাচন কমিশন গঠন প্রশ্নে বিএনপির পক্ষ থেকে বড় ধরনের কোন বাধা সৃষ্টি করা না হলেও তত্তাবধায়ক সরকার ইস্যুতে পিছপা হবে না। এ ইস্যুতে তারা সরকারকে কোন ছাড় দেবে না। এ পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক সঙ্কট নিরসনে সম্প্রতি ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজেনা বড় দুই দলকে সংলাপে বসার আহান জানিয়েছেন। এর পর বিএনপির পক্ষ থেকে সংলাপে বসার আগ্রহ প্রকাশ করা হলেও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এখনও বিষয়টিকে আমলে নেয়া হয়নি।
এ ব্যাপারে শনিবার এক কর্মসূচীতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, বিএনপি তত্তাবধায়ক সরকার ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে যে কোন সময় যে কোন স্থানে আলোচনায় বসতে রাজি। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হলে তত্তাবধায়ক সরকারের কোন বিকল্প নেই। সরকার জাতীয় এই দাবি মেনে নিলে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের বিষয়ে সংসদের ভেতরে-বাইরে আলোচনায় বসতে আমরা রাজি। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে ২৪টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ১৬টিই তত্তাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের পক্ষে মত দিয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, তার পরও ওই বিষয়ে সিদ্ধান্ত না নিয়ে এখন সরকার নিজেদের অনুগত নির্বাচন কমিশন গঠন করে কারচুপির যন্ত্র ইভিএম দিয়ে নির্বাচনের স্বপ্ন দেখছে। কিন্তু তত্তাবধায়ক সরকার পুনর্বহাল না করলে গণঅভ্যুত্থানে এই সরকারের পতন ঘটানো হবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এমকে আনোয়ার শনিবার এক কর্মসূচীতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ১২ মার্চ ঢাকায় মহাসমাবেশের দিনে আওয়ামী লীগের পাল্টা কর্মসূচীর প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, সন্ত্রাস বাদ দিয়ে আসুন কোন রাস্তায় আপনারা সমাবেশ করবেন। কারা রাস্তার দখল নিতে পারে এবং কাদের বেশি লোক হয় দেখিয়ে দেব। তিনি বলেন, তত্তাবধায়ক নিয়ে সংলাপ করতে আমরা রাজি আছি। কিন্তু তত্তাবধায়ক সরকার ছাড়া অন্য কোন সংলাপে আমরা যাব না।
তত্তাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলী খান জনকণ্ঠকে বলেন, দেশের দুই বড় রাজনৈতিক দলের পাল্টাপাল্টি অবস্থান নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। এদের মধ্যে সমঝোতা হওয়া প্রয়োজন। আমরা অনেক আগে থেকেই আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে সংলাপের কথা বলে আসছি। এখন মার্কিন রাষ্ট্রদূতও সংলাপের কথা বলছেন। তাই আমরা মনে করি সংলাপে বসে সমঝোতা করে সকল সমস্যার সমাধান করা প্রয়োজন। তা না হলে দেশে সঙ্কট সৃষ্টি হবে।
অন্য এক নির্বাচনী উৎসব, ভোট দিল ২৫ লাখ শিশু
স্টাফ রিপোর্টার ॥ নির্বাচন নয়, এ যেন নির্বাচনী উৎসব। আর এই উৎসবে শামিল হতেই শনিবার বিদ্যালয়ে এসেছিল প্রাথমিক স্তরের ২৫ লাখ শিশু। শিক্ষার্থীদের কোলাহলে মুখরিত ছিল রাজধানীসহ সারাদেশের ১৩ হাজার ৫৮৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে পা রেখেই তারা মেতে ওঠে উল্লাসে। শুরু হয় ভোট দেয়ার পালা। নিজ নিজ স্কুলে নির্বাচনী উৎসবে শামিল হয়ে শিক্ষার উন্নয়নে ছাত্রছাত্রীরা নিজেরাই ভোট দিয়ে নির্বাচন করল নিজেদের প্রতিনিধি। নির্বাচন কমিশনার, প্রিসাইডিং, সহকারী প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করেছে শিশুরাই। শৃক্সখলা রক্ষায় কেউ কেউ হয়েছে র‌্যাব, পুলিশ, আনসার বাহিনীর সদস্য। সরাসরি ভোটের মাধ্যমে প্রতিটি বিদ্যালয়ে সাতজন করে ৯৫ হাজার ৮১ জন প্রার্থী নির্বাচিত হলো। যেখানে প্রার্থী ছিল এক লাখ ৬২ হাজার ৪৮৯ জন। ২৫ লাখ ভোটারের প্রায় ৯৫ শতাংশ উপস্থিত ছিল ব্যতিক্রমী এই উৎসবে।
নির্বাচন শেষে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর জানিয়েছে, সকাল ৯টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশেই দেশের ১৩ হাজার ৫৮৩টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছাত্র পরিষদ (স্টুডেন্টস কাউন্সিল) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ নির্বাচনে মুদ্রিত কোন পোস্টার ও প্রতীক ব্যবহার করা হয় না। নির্বাচিত প্রতিনিধিরা ৭দিনের মধ্যে সভা করে নিজেদের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন, প্রতি শ্রেণী কক্ষে ২জন করে সহযোগী সদস্য মনোনীত এবং এক বছরের কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করবে। প্রাথমিক শিক্ষাস্তরে ভর্তির হার বৃদ্ধি, ঝরে পড়া রোধ, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা, শিশুদের মাঝে গণতন্ত্র চর্চা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া, অন্যের মতামতের প্রতি সহিষ্ণুতা এবং শ্রদ্ধা প্রদর্শন, বিদ্যালয়ের শিখন শিখানো কার্যক্রমে শিক্ষকমণ্ডলীকে সহায়তা এবং বিদ্যালয়ের পরিবেশ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই এই আয়োজনের লক্ষ্য।
সকালে রাজধানীর মিরপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আনন্দঘন পরিবেশে ছাত্র পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনায় ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা ভোট দিচ্ছে। প্রার্থীরাও উৎসবে শামিল হয়ে ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করছে। বিদ্যালয়ের ভোটদান কার্যক্রম পরিদর্শন করেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক শ্যামল কান্তি ঘোষ। ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় ফায়দাবাদ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশুদের আগ্রহে খুশি প্রধান শিক্ষক বদরুল আলম। খুশি অভিভাবক ও স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরাও। প্রধান শিক্ষক বদরুল আলম তার প্রতিক্রিয়ায় বললেন, এই আয়োজন শিশুদের নেতৃত্ব বিকাশে কাজ করবে। শিশুরা অত্যন্ত খুশি। আবার অনেক শিক্ষকই মনে করছেন এর ফলে শিশুদের ক্ষতিও হতে পারে। তাদের মতে, স্টুডেন্ট কাউন্সিলের নির্বাচনের নাম করে ছোট ছোট এই শিশুদের মাঝে ‘রাজনীতির বিষফোঁড়া ঢোকানো হচ্ছে। কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। শিশুরা এই নিয়েই ব্যস্ত থাকবে। অধিদফতরের কর্মকর্তারা জানালেন, নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সভা করে নিজেদের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন করবে। নির্বাচিত ছাত্র পরিষদের মধ্যে কেউ দেখবে শিক্ষা, কেউ দেখবে স্কুলের পরিবেশ, কেউ দেখবে আইনশৃক্সখলা ও খেলাধুলার সকল বিষয়। নির্বাচিতদের একজন হবে প্রধানমন্ত্রী। আর সহযোগী প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিতদের একজন ছাত্র ও একজন ছাত্রী। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর ও এর অধীন সকল প্রতিষ্ঠানের তত্তাবধানে অনুষ্ঠিত হয় নির্বাচন। অধিদফতরের মহাপরিচালক শ্যামল কান্তি ঘোষ জানালেন, ছাত্রছাত্রীদের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত সাত জন প্রতিনিধির প্রধান দায়িত্ব ও সম্পাদিত কর্মকাণ্ডগুলো হলো- পরিবেশ (বিদ্যালয়, আঙ্গিনা ও টয়লেট পরিষ্কার এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা), পুস্তক এবং শিক্ষণ সামগ্রী, স্বাস্থ্য, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি, পানি সম্পদ, অভ্যর্থনা ও আপ্যায়ন, বৃক্ষ রোপণ ও বাগান তৈরি। সারাদেশের প্রতি উপজেলা থেকে কমপক্ষে ২০টি করে মোট ১৩ হাজার ৫৮৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্টুডেন্টস কাউন্সিল নির্বাচনের আয়োজন করা হয়। এর মধ্যে পঞ্চগড় ও যশোর জেলায় সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। যশোর জেলার বিদ্যালয়ের সংখ্যা এক হাজার ২৪০ এবং পঞ্চগড় জেলায় বিদ্যালয় সংখ্যা ৬২৬। আর ঢাকা মহানগরীতে ১৯৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শিশুদের ব্যতিক্রমী এ আয়োজনকে অত্যন্ত ইতিবাচক উল্লেখ করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপ-পরিচালক মোঃ ফসিউল্লাহ্ বলেন, সারাদেশে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত বছরের সফলতার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, যেসব স্কুলে কাউন্সিল হয়েছে সেখানে অনেক পরিবর্তন এসেছে। স্কুলের পরিবেশই পাল্টে গেছে। অনেক স্কুলে অভিভাবকদের সহায়তায় স্কুলে কম্পিউটার সংগ্রহ করেছে প্রতিনিধিরাই।
এদিকে জনকণ্ঠের টেকনাফ সংবাদদাতা জানিয়েছেন, সারা দেশের মতো শিশু শিক্ষার্থীদের বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে টেকনাফের ২০টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়েও স্টুডেন্ট কাউন্সিল নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোবারক আক্তার জানান, নির্বাচনে ২০ প্রাইমারী স্কুলের শিশু শিক্ষার্থীরা ৭ জন করে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করে। রংপুর থেকে পীরগঞ্জ সংবাদদাতা জানান, পীরগঞ্জেও ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলার ২১৩টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে এবার ২০টিতে স্টুডেন্টস কাউন্সিল গঠন করা হয়েছে।
ঝিনাইদহ থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা জানিয়েছেন, জেলার ৬টি উপজেলার ১২০টি বিদ্যালয়ে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত একটানা শিশু ভোটারদের ভোট গ্রহণ চলে। জেলার ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রুহুল আমীন জানান, নির্বাচনে ভোটারের উপস্থিতি ছিল সন্তোষজনক। হরিনাকুণ্ডুর ভালকি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় শিশু ভোটাররা লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিচ্ছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, এই নির্বাচনের মাধ্যমে শিশুরা নেতৃত্বর প্রতি সহনশীল ও গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে উঠবে। বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ নির্বাচনের কাজে তাদের সহযোগিতা করেন ।
চাঁদপুর থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা জানান, জেলায় ২৪৪টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্টুডেট কাউন্সিল নির্বাচন উৎসবমুখর ও অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে চাঁদপুর সদরে ২৭টি, কচুয়ায় ২১টি, হাজিগঞ্জে ২১টি, হাইমচরে ২০টি, ফরিদগঞ্জে ২০টি, মতলব উত্তরে ৩৯টি ও মতলব দক্ষিণে ৭৬টি বিদ্যালয়ে হয়েছে নির্বাচন। মতলব উত্তরে ৩৫টি এবং চাঁদপুরে ১টি বিদ্যালয়ে বিনাপ্রতিদ্ব›িদ্বতায় প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়েছে। জেলার প্রতিটি স্কুলের প্রতিটি কেন্দ্রে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোটাররা তাদের ভোট দিয়েছে। চাঁদপুর সদর উপজেলার বিষ্ণুদী আজিমিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট চলাকালীন দেখা যায়, এখানে ছাত্রছাত্রীরা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে বিপুল আনন্দ এবং উৎসবের মধ্য দিয়ে ভোট দিচ্ছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তাদের বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করছে কিন্তু ভোট দেয়ার ক্ষেত্রে কোন রকম প্রভাব বিস্তার করছে না। এই কোমলমতি শিশুরাই প্রধান নির্বাচন কমিশনার, প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসার হয়েছে, কেউবা পুলিশ, র‌্যাব, আনসার হয়েছে এবং প্রত্যেকেই তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করছে।
গাজীপুর থকে নিজস্ব সংবাদদাতা জানিয়েছেন, দেশব্যাপী স্টুডেন্টস কাউন্সিল নির্বাচনের অংশ হিসেবে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার স্টুডেন্টস কাউন্সিল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনে উপজেলার ২২টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণী থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত মোট ৩ হাজার ৭৮৭ জন শিক্ষার্থী সরাসরি ভোটে অংশগ্রহণ করে। ২২টি বিদ্যালয়ের প্রতিটিতে ৭টি পদের জন্য ৩২৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্ব›িদ্বতা করে। নির্বাচিত হয়েছে ১৫৪ জন। উপজেলা শিক্ষা অফিসার আবু সায়েম মোঃ তৌহিদুল ইসলাম নির্বাচনের সার্বিক কার্যক্রম তদারকী করেন এবং সহকারী উপজেলা অফিসার মোঃ আব্দুল জলিল হাওলাদার, মোঃ খলিলুর রহমান, মোঃ আবুল ফজল, মোঃ শরীফ উদ্দিন, মোঃ আনসার উদ্দিন, মোঃ ইকবাল উদ্দিন নিজ নিজ ক্লাস্টারের নির্বাচিত বিদ্যালয়সমূহের নির্বাচনী কার্যক্রম তদারকী করেন।
চাঁদপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এমদাদুল হক জানান, তার বিদ্যালয়ে নির্বাচনী কার্যক্রম উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। ফুলবাড়িয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের মাঝে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সৃষ্টির লক্ষ্যে এ পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানান। এছাড়া মাদারীপুর, মির্জাপুর, আমতলীসহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা সংবাদদাতারা অত্যন্ত সুন্দর ও উৎসবমুখর পরিবেশে শিশুদের এ ব্যতিক্রমী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার খবর জানিয়েছেন।
পদ্মা সেতু ॥ মালয়েশিয়ার সঙ্গে চুক্তি ২১ ফেব্রুয়ারি
০ বিনিয়োগ ২১৬ কোটি ডলার
০ বার্নামাকে দেয়া সাক্ষাতকারে বলেছেন বিশেষ দূত দাতো সেরি সামি ভেল্লু
মিজান চৌধুরী ॥ পদ্মা সেতু নির্মাণের ব্যাপারে মালয়েশিয়া সরকারের সঙ্গে আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করবে বাংলাদেশ। সরকার টু সরকার পর্যায়ে চুক্তির ব্যাপারে প্রস্তুতি চলছে। প্রস্তাবিত পদ্মা সেতু নির্মাণে ৬ দশমিক ৬ বিলিয়ন আরএম (২১৬ কোটি মার্কিন ডলার) বিনিয়োগ করবে মালয়েশিয়ান সরকার।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর অবকাঠামো বিষয়ক দূত (ভারত ও দক্ষিণ এশিয়া) দাতো সেরি এস সামি ভেল্লু শনিবার মালয়েশিয়ার নিউজ এজেন্সি বার্নামাকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে এ কথা বলেছেন। সাক্ষাতকারে তিনি আরও বলেন, গত মাসে বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করা হয়েছে। আমরা বলেছি, পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য আমরা প্রস্তুত। ওই পরিদর্শনের সময় সেতু নির্মাণের ব্যয় ও টেকনিক্যাল প্রকল্প পাঠানো হয়েছে। আশা করছি চলতি মাসের মধ্যেই, বিশেষ করে ২১ ফেব্রæয়ারি সেতু নির্মাণে দুই দেশের সরকারের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাত করে বিষয়টি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতো সেরি নাজিব রাজ্জাককে অবহিত করা হয়েছে। প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়, দুই দেশের সরকার টু সরকার পর্যায়ে বিশেষ প্রস্তাবিত পরিবহন (এসপিভি) পদ্ধতিতে বাস্তবায়ন করা হবে। এই এসপিভি মালয়েশিয়ান প্রকল্প বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিকভাবে অভিজ্ঞ বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে যৌথ কনসোর্টিয়াম গঠন করবে। এই কনসোর্টিয়াম মালয়েশিয়া সরকারের কাছ থেকে কোন ধরনের আর্থিক সহায়তা না নিয়েই নিজেরা এটি বাস্তবায়ন করবে।
এই কনসোর্টিয়াম দুবাই থেকে অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে অর্থ সংগ্রহের ব্যাপারে মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশ সরকারের কোন আপত্তি নেই বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, গত মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেন দাতো সেরি এস সামি ভেল্লু। ওই সময় পদ্মা সেতু নির্মাণের ব্যাপারে মালয়েশিয়া সরকারের পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেয়া হয়। তবে সেতু নির্মাণের ক্ষেত্রে সাতটি শর্ত জুড়ে দেয়া হয়। এর মধ্যে সেতু নির্মাণের পর ৫০ বছর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব এবং ২৫ বছর পর্যন্ত যানবাহনের টোল আদায়ের দায়িত্ব, সেতুটি লাভজনক করতে প্রয়োজনীয় স্থানে রাজ¯^ ভর্তুকি প্রদান, ট্যাক্সমুক্ত নির্মাণ সামগ্রী ও যন্ত্রপাতি আমদানির প্রস্তাব দেয়া হয়। এছাড়া পরিবেশগত ও মানবাধিকারসহ কোন কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব না হয় সে ব্যাপারে সরকারের অর্থ প্রবাহের নিশ্চয়তা চাওয়া হয়।
মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য পদ্মা সেতুর মধ্যে মাল্টিপারপাস রাস্তা ও রেলওয়ের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। মালয়েশিয়া কন্সট্রাকশন ইন্ডাস্ট্রি এবং সরকারের সঙ্গে সংযুক্ত নির্মাণ কোম্পানি যৌথভাবে এই সেতু নির্মাণ করবে। এটি মনিটরিং করা হবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিশেষ ক‚টনৈতিক বিভাগ থেকে।
সেমি ভেল্লু সাক্ষাতকারে বলেন, বাংলাদেশের পদ্মা সেতু নির্মাণের মাধ্যমে মালয়েশিয়া বিশ্বকে জানাতে চায়। বিশ্বের যে কোন কিছু করার সক্ষমতা মালয়েশিয়ার রয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রকল্পের কাজ শুরু করার বিষয়টি দুই দেশের সরকার ঠিক করবে।
উল্লেখ্য, পদ্মা সেতু নির্মাণের ব্যাপারে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ১২০ কোটি মার্কিন ডলারের চুক্তি করে। এছাড়া এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ৬১ দশমিক ৫ কোটি ডলার, , জাপান ইন্টারন্যাশনাল কর্পোরেশন ৪০ কোটি ডলার এবং ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ১৪ কোটি ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু দুর্নীতির অভিযোগ এনে বিশ্বব্যাংক সহায়তা বন্ধ করে দেয়। দুর্নীতির অভিযোগ আমলে নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনকে অনুসন্ধান করতে দায়িত্ব দেয়া হয়। এদিকে বিশ্বব্যাংক নিজ¯^ভাবে এবং কানাডিয়ান পুলিশও পদ্মা সেতুর দুর্নীতির ব্যাপারে তদন্ত শুরু করে। অবশ্য গত ২৬ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুর দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারলে তাদের কাছ থেকে কোন অর্থ নেয়া হবে না।
অবশ্য গত ২ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশন আনুষ্ঠানিক প্রেস ব্রিফিং করে বলে, সেতু নির্মাণে প্রাক যোগ্য প্রতিষ্ঠান নির্বাচনে এখনও পর্যন্ত কোন দুর্নীতির প্রমাণ পায়নি দুদক। তবে পরামর্শক নিয়োগ সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করছে কানাডিয়ান পুলিশ। এ পরিস্থিতিতে সেতু নির্মাণের জন্য সরকার বিকল্প পথ খোঁজে। শেষ পর্যন্ত মালয়েশিয়া সরকার দেশের এই বৃহত্তম সেতু নির্মাণে এগিয়ে আসে।
সৈয়দপুরে নতুন রেল কারখানা স্থাপন করা হচ্ছে
দেশেই তৈরি হবে বিলাসবহুল রেলকোচ
তাহমিন হক ববি, নীলফামারী থেকে ॥ এবার দেশে যাত্রীবাহী বিলাসবহুল রেলকোচ (বগি) তৈরি করা হবে। আর এ জন্য উত্তরাঞ্চলের নীলফামারীর সৈয়দপুরে নতুন আঙ্গিকে আরেকটি (দ্বিতীয়) রেলওয়ে কারখানা নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার। সরকারের এই উদ্যোগে সমীক্ষা চালানো হয়েছে।
সমীক্ষাটি চালায় ভারতীয় রেলওয়ের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান রাইটস লিমিটেড ও ইন্ডিয়ার গ্রুপ জেনারেল ম্যানেজার পুনিত কুমারের নেতৃত্বে দুই সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। সৈয়দপুরে দ্বিতীয় রেলওয়ে কারখানা নির্মাণ হলে আর বিদেশ থেকে রেলকোচ আমদানি করতে হবে না। এখানেই নতুন নতুন রেলকোচ তৈরি করা হবে।
গত বছরের ১২ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নীলফামারী সফর করেন। বড়মাঠের বিশাল জনসভায় প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন সৈয়দপুরে আরেকটি রেল কারখানা স্থাপন করে রেলকোচ নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি পৃথক রেলপথ মন্ত্রণালয় গঠন করা হয়। রেলপথ মন্ত্রণালয় গঠনের পর চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি রেলপথমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তও সৈয়দপুর সফরে আসেন এবং প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রæতির আরেকটি রেল কারখানা স্থাপনের ঘোষণা দেন এবং স্থান নির্ধারণ করেন।
সূত্র মতে সরকারের এই উদ্যোগে গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার এই দু’দিন সৈয়দপুরে সমীক্ষা চালানো হয়। সমীক্ষা দলের প্রধান ভারতীয় রেলওয়ের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান রাইটস লিমিটেড ও ইন্ডিয়ার গ্রæপ জেনারেল পুনিত কুমার বলেন, সৈয়দপুরে যেহেতু রেলওয়ের একটি মেরামত কারখানা রয়েছে, সেহেতু এখানে অনুক‚ল পরিবেশ ও অনেক সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। আমরা কেবল একটি নতুন কারখানা স্থাপনে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও মেশিন স্থাপনের দিকগুলো বিবেচনায় রেখেছি। তিনি আরো জানান, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের আরও একটি ভারতীয় প্রতিনিধি দল সৈয়দপুর সফরে আসবে। তারা অবকাঠামো নির্মাণ ও কারিগরি দিক নিয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই করে বাংলাদেশ রেলওয়ের কাছে একটি প্রতিবেদন জমা দেবে।
সূত্র মতে ভারতীয় অর্থায়নে সৈয়দপুরে এই নতুন রেলকোচ (বগি) নির্মাণ কারখানা হবে। বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক খলিলুর রহমান জানান, বর্তমান সরকার পৃথক রেলপথ মন্ত্রণালয় গঠন করে যাত্রীসেবায় রেলকে ঢেলে সাজাতে কাজ করছে। আর এ জন্য বিদেশ থেকে আর রেলকোচ আমদানি না করে দেশেই কোচ তৈরির সিদ্ধান্তে সৈয়দপুরে আরেকটি কারখানা স্থাপনের ঘোষণা দেন। সে অনুযায়ীই বাংলাদেশ রেলওয়ে একটি রূপরেখা তৈরি করেছে এবং ভারতীয় প্রতিনিধি দল সমীক্ষা চালাচ্ছে।
রেলওয়ে শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় সহসাধারণ সম্পাদক ও সৈয়দপুর রেল শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক মোকছেদুল মোমিন, বর্তমান সরকারের উদ্যোগে সৈয়দপুরে নতুন রেলকোচ তৈরির জন্য আরেকটি কারখানা স্থাপনের সিদ্ধান্তকে ¯^াগত জানান। পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করে বলেন, নীলফামারীর সৈয়দপুরে পুরনো একটি রেলখানা রয়েছে। এই কারখানাটি নির্মাণ করা হয়েছিল ১৮৭০ সালে, যা তৎকালীন আসাম-বেঙ্গল রেলওয়ের বৃহত্তম কারখানাটি স্থাপন ছিল সৈয়দপুরে। এটি নির্মাণের পর (অতীতে) এই কারখানায় নতুন কোচও নির্মাণ করা হয়েছিল। দেশভাগের অনেক পর ৬০ দশকে নীলফামারীর চিলাহাটী হয়ে ভারতের হলদিবাড়ি হয়ে জলপাইগুড়ি, অসম, শিলিগুড়ি রেলপথের যোগাযোগ ছিল। এই পথে চলাচল করতো দার্জিলিং মেইল ও পার্সপোট ট্রেন। ’৬২ সালে বাংলাদেশ অংশের ৮ কিলোমিটার ও ভারতের অংশের ৩ কিলোমিটার রেলপথ তুলে ফেলা হয়। এরপর থেকে সৈয়দপুরে আসাম বেঙ্গল রেল কারখানাটি ঝিমিয়ে পড়ে। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই পুরনো রেল কারখানাটিতে পুরনো রেলকাচ, ওয়াগন ও ট্যাঙ্ক ওয়াগন (বিটিএ) মেরামত করে সচল করার উদ্যোগ নেয়া হয়। এ জন্য ১৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে এই পুরনো কারখানাটি আধুনিকায়ন কাজ শেষ পর্যায়। বর্তমানে এই কারখানায় রেলওয়ে কোচ ও ওয়াগন মেরামত করা হচ্ছে। গত বছর দুটি ঈদের সময় সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় প্রায় ১৩১টি যাত্রীবাহী কোচ (বগি) মেরাতম করে বিভিন্ন আন্তঃনগর ট্রেনে সংযোগ দিয়ে ঈদে সারাদেশের ঘরমুখো মানুষের স্বচ্ছন্দে ভ্রমণ নিশ্চিত করা হয়েছিল। এ ছাড়া বর্তমানে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার ওয়াগন শপে এরই মধ্যে প্রায় দুই শতাধিক ওয়াগন মেরামত এবং ৩০টি ট্যাঙ্ক ওয়াগনে (বিটিএ) ভ্যাকুয়াম ব্রেক সংযোজন করা হয়েছে। এ ছাড়াও এ ট্যাঙ্ক থেকে দ্রুত তেল অপসারণ বটম ডেলিভারি সিস্টেম চালু করেছে কারখানার কারিগররা। এর ফলে আর মান্ধাতা আমলের জটিল উপায়ে তেল অপসারণ করতে হবে না। ব্রডগেজ লাইনের সব ওয়াগন ওই ব্যবস্থা সংযোজিত হয়েছে কারখানায়। দীর্ঘদিনের পুরনো এসব ট্যাঙ্ক ওয়াগনে আধুনিক ব্রেক না থাকায় ধীরগতিতে চলাচল করত এবং গন্তব্যে পৌঁছতে অনেক সময় লেগে যেত। ওই ট্যাঙ্ক ওয়াগন আধুনিকাতার ছোঁয়া ৪০ কিলোমিটারের বদলে এখন ৮০ কিলোমিটার গতিতে চলাচল করতে পারছে।
ইউরো বাঁচাতে ত্রাণকর্তা হতে চায় চীন
* ইউরোর প্রভাবে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতে মন্দার আশঙ্কা
* মার্কিন অর্থনীতি ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে
অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ ঋণ সঙ্কটের পাশাপাশি ভয়াবহ বেকারত্বের করলে পড়েছে ইউরোজোন। ইউরো সঙ্কটের কারণে মন্দার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতে। ঋণ সঙ্কটে জর্জরিত ইউরোপকে এ অবস্থা থেকে টেনে তুলতে পুনরুদ্ধার তহবিল গঠন করতে চায় চীন। অর্থাৎ ইউরো বাঁচাতে ত্রাণকর্তা হতে চায় বিশ্বের শীর্ষ উদীয়মান অর্থনীতির এ দেশটি।
অন্যদিকে, ইউরো সঙ্কট চলতে থাকলেও শক্তিশালী হতে শুরু করেছে মার্কিন অর্থনীতি। বেকারত্ব কমেছে প্রায় ৮ শতাংশ। শুধুমাত্র জানুয়ারি মাসে ২ লাখ ৪৩ হাজার নতুন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে এ দেশটিতে। এর ফলে বিশ্ব অর্থনীতি কিছুটা হলেও শক্তিশালী হতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
ইউরোজোনের সমৃদ্ধ অর্থনীতি ফিরিয়ে দিতে এ তহবিল ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারে। তাই চীনের প্রধানমন্ত্রী ওয়েন জিয়াবাও ইউরো অঞ্চলের ঋণসঙ্কট সমাধানে পুনরুদ্ধার তহবিল গঠনে জার্মান চ্যান্সেলর এ্যাঞ্জেলা মার্কেলের সঙ্গে একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন। বৈঠক শেষে তারা সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববাসীর সামনে এ বিষয়টি তুলে ধরেন।
ইউরোপিয়ান ফিন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি ফ্যাসিলিটি (ইএফএসএফ) অথবা ইউরোপিয়ান স্ট্যাবিলিটি মেকানিজমের (ইএসএম) মাধ্যমে অর্থসহায়তার বিষয়ে নির্দিষ্ট কোন প্রতিশ্রুতি দেননি ওয়েন জিয়াবাও।
সম্প্রতি এ্যাঞ্জেলা মার্কেলের চীন সফর উপলক্ষে দেয়া বক্তৃতায় ওয়েন এ বিষয়টি পরিষ্কার করেন। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের মাধ্যমে চীন কীভাবে আরও ঋণসহায়তা দেবে সে বিষয়ে পর্যালোচনা করছে তারা। এ ছাড়া ইএফএসএফ এবং ইএসএমের মাধ্যমেও ইউরোপের ঋণসঙ্কট সমাধানে চীন তাদের কার্যক্রম বাড়ানোর বিষয়ে চিন্তা করছে। ইএসএমের রয়েছে ৫০ হাজার কোটি ইউরোর একটি স্থায়ী অর্থসহায়তা তহবিল, যা আগামী জুলাই থেকে তাদের কার্যক্রম শুরু করবে। এ তহবিল আয়ারল্যান্ড, পর্তুগাল ও গ্রিসকে দ্বিতীয়বার অর্থসহায়তা দেয়া অস্থায়ী তহবিল ইএফএসএফের বিকল্প হিসেবে কাজ করবে।
অন্যদিকে চীনের রয়েছে ৩২ লাখ কোটি ডলারের বিদেশী মুদ্রার মজুদ, যা ইউরোপের কিছু দেশের প্রয়োজনীয় অর্থসহায়তার সম্ভাব্য উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
চীন সবসময়ই বলে আসছে তারা ইউরোকে স্থিতিশীল করতে প্রয়োজনীয় সব সহায়তা দেবে। ইউরোর সম্পত্তির তুলনায় চীনের রিজার্ভের পরিমাণ এক-চতুর্থাংশ। তবে দেশটি সবসময়ই তাদের সাহায্য সম্পর্কে নির্দিষ্ট কিছু বলতে অনীহা প্রকাশ করেছে।
মার্কেল বলেন, ইউরোপকে অবশ্যই তাদের ভাগ্য বদল করতে হবে। চীন বাব বার এ কথার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। বিশ্ব অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করার সাধারণ দায়িত্ববোধ থেকে চীন ইউরোকে স্থিতিশীল করতে প্রস্তুত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ইউরোর স্থিতিশীলতা নির্ভর করছে ইউরোপের দেশগুলোর ওপর। ইউরোপ বর্তমানে একতার মধ্যে থাকবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের অবশ্যই নিজেদের কাজ করতে হবে। এদিকে মার্কেলের চীন সফর উপলক্ষে কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, এর মাধ্যমে ইউরোপকে সহায়তার জন্য চীন নির্দিষ্ট প্রতিশ্রæতি দেবে।
ইউরোপের অর্থনীতির ওপর চীনের আস্থা রয়েছে উল্লেখ করে ওয়েন বলেন, ইউরো এবং ইউরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য চীন প্রয়োজনীয় চেষ্টা করবে। আইএমএফের মাধ্যমে সহায়তা করতে চীন বিভিন্ন পন্থার পর্যবেক্ষণ এবং মূল্যায়ন করছে। এ ছাড়া তারা ইএসএম অথবা ইএফএসএফের মাধ্যমে সহায়তার বিষয়টিও গভীরভাবে ভাবছে।
ইউরো অঞ্চলের ১৭টি দেশ চাইছে আইএমএফের কাছে অতিরিক্ত অর্থসহায়তার প্রতিশ্রæতি দেয়ার আগেই সদস্য দেশ নিজেদের মধ্যেই অর্থ তহবিল বাড়াবে। উল্লেখ্য, সম্প্রতি আইএমএফ ইউরো অঞ্চলকে অর্থসহায়তা ও ভবিষ্যত ঋণসঙ্কট মোকাবেলা করতে তহবিল গঠনের জন্য অতিরিক্ত ৫০ হাজার ইউরো অর্থসহায়তা চেয়েছে।
ইউরো অঞ্চলের বেকারত্বে নতুন রেকর্ড ॥ ইউরো অঞ্চলের অস্থির অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করল বেকারত্বে নতুন রেকর্ড। ২০১১ সালের শেষে এ অঞ্চলে বেকারত্বের হার ব্যাপকভাবে বেড়েছে। নবেম্বরে এ অঞ্চলের ১৭টি দেশের বেকারত্বের হার ছিল ১০ দশমিক ৩ শতাংশ। ডিসেম্বরে এ হার ১০ দশমিক ৪ শতাংশে দাঁড়ায়।
বিবিসি জানায়, গত বছরের ডিসেম্বরে ১ কোটি ৬৫ লাখ কর্মী ইউরো অঞ্চলে চাকরির খোঁজে বাইরে যায়। অথচ এক বছর আগে এ ধরনের অভিবাসীর সংখ্যা ছিল ৭ লাখ ৫১ হাজার।
জানা গেছে, এ সময় স্পেনে বেকারত্বের হার ছিল সবচেয়ে বেশি (২২ দশমিক ৯ শতাংশ) এবং সর্বনিম্ন অস্ট্রিয়ায় (৪ দশমিক ১ শতাংশ)। মূলত এ অঞ্চলে ধারাবাহিকভাবে ঋণ সঙ্কট অব্যাহত থাকায় ২০১১ সালে বেকারত্বের সংখ্যা রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। অথচ ২০১০ সালে এখানে বেকারত্বের হার ছিল ১০ শতাংশ।
এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত ২৭টি দেশের গত ডিসেম্বরে বেকারত্বের হার ছিল ৯ দশমিক ৯ শতাংশ। এ সময় ২ কোটি ৩৮ লাখ লোক তাদের চাকরি হারিয়েছে। আর নবেম্বরে বেকারত্বের হার ছিল ২ দশমিক ৮ থেকে ৯ দশমিক ৯ শতাংশের মধ্যে।
যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতে মন্দার আশঙ্কা ॥ ইউরোজোনের সদস্য না হলেও ইউরোনির্ভর হয়ে পড়েছে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি। তাই ইউরো সঙ্কটের কারণে এ দেশটির অর্থনীতি নিয়ে নতুন করে সংশয় প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকরা।
চলতি বছরের প্রথম ভাগে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি মন্দার কবলে পড়তে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন তারা। ২০১২ সালে ব্রিটেনের সার্বিক অর্থনীতির গতি শূন্য দশমিক এক শতাংশ হ্রাস পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কিন্তু ইউরো অঞ্চলের ঋণসঙ্কটের সমাধান হলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ৩ শতাংশ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মূলত এ দেশটিতে অব্যাহতভাবে বাসা বাড়ির খরচ কমে যাওয়াই এ উদ্বেগের কারণ বলে জানা গেছে।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ইকোনমি এ্যান্ড সোশ্যাল রিসার্চ (এনআইএসইআর) অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি স্বাভাবিক রাখার উদ্দেশে অস্থায়ীভাবে ব্যয় সঙ্কোচনের পরামর্শ দিয়েছে সরকারকে।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে ॥ মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ক্রমান্বয়ে শক্তিশালী হচ্ছে এবং তা দ্রুত গতিতে স্বাভাবিক পর্যায়ে চলে আসছে।
সরকারী এক পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, জানুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্রে ২ লাখ ৪৩ হাজার নতুন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে। যা গত নয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে আশাতীতভাবে কর্মসংস্থান বেড়েছে। বিশেষজ্ঞরা এক পূর্বাভাসে জানিয়েছিলেন, জানুয়ারিতে দেড় লাখ নতুন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে সরকারী হিসেব মতে বেকারত্বের হার গত তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম ছিল জানুয়ারিতে।
এই হিসেব অনুযায়ী প্রায় ৮ শতাংশের মতো কমে গেছে বেকারত্বের হার।
শুধুমাত্র গত মাসেই সৃষ্টি হয়েছে প্রায় আড়াই লাখের মতো নতুন কর্মসংস্থান যা হিসেবের তুলনায় অনেক বেশি। অর্থনৈতিক মন্দার এই সময়ে নতুন কর্মসংস্থান ব্যাপক আশার সঞ্চার করেছে দেশটিতে।
হোয়াইট হাউস বলছে নতুন এই তথ্য এটাই প্রমাণ করে যে মার্কিন অর্থনীতি ধীরে ধীরে ক্ষতি পুষিয়ে উঠছে। বিষয়টিতে আশার সঞ্চার হলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলছেন খরাপ সময় পুরোপুরি পার হতে এখনও সময় লাগবে।
তিনি বলেন, এখনও বহু মার্কিন নাগরিকদের চাকরি প্রয়োজন। তবে অর্থনীতি যে গতি তাতে কোন সন্দেহ নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।
১৯৩০ সালের অর্থনৈতিক মন্দার পর যুক্তরাষ্ট্রে এখন সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন কাজ সৃষ্টির পুরো কৃতিত্ব দেয়া হচ্ছে বেসরকারী খাতকে। কাজের উৎস যাই হোক না কেন বিষয়টি আসছে নবেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বারাক ওবামার দ্বিতীয় দফা জয়ে সহায়তা করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিপর্যয়ের আরেক সপ্তাহ পার করল পুঁজিবাজার
অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ বড় ধরনের বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে আরেকটি সপ্তাহ পার করল দেশের পুঁজিবাজার। অধিকাংশ শেয়ারের ব্যাপক দরপতনের ফলে গত সপ্তাহে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাধারণ সূচক ৬৪১ পয়েন্ট কমে গেছে। আর চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক কমেছে ৮৫৫ পয়েন্ট। ধারাবাহিক মহামন্দার প্রেক্ষিতে সরকারের দিক থেকে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলেও প্রায় ১৩ মাস ধরে শেয়ারবাজারে আস্থা ও তারল্য সঙ্কট চলছে। তা সত্তে¡ও অনেক বিনিয়োগকারীর মনে ক্ষীণ আশা ছিল, সূচক ৪ হাজার পয়েন্টের নিচে নামবে না। কিন্তু সবাইকে হতাশ করে ২৭ মাস পর গত সপ্তাহেই ৪০০০ পয়েন্টের নিচে নেমে গেছে ডিএসই সাধারণ সূচক। শেয়ারের মূল্য ও আয়ের (পিই) গড় অনুপাত সাড়ে ৭ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন ১০.২৮-এ নেমে এসেছে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থা থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে একের পর এক উদ্যোগ সত্তে¡ও কোনভাবেই পতন থামছে না। ফলে সর্বস্ব হারিয়ে চরম হতাশায় আত্মহননের পথ বেছে নিতে শুরু করেছে বিনিয়োগকারীরা। এ পর্যন্ত তিনজন বিনিয়োগকারী আত্মহত্যা করেছেন। আর মানসিক চাপে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছেন আরও অনেকে।
বিপর্যয় শুরুর পর থেকেই শেয়ারবাজার স্থিতিশীল করতে একের পর এক পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি), অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) পক্ষ থেকে বাজারবান্ধব অনেক ঘোষণা এসেছে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বাজার সংশ্লিষ্টদের নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন। এসব উদ্যোগের ফলে সাময়িকভাবে উর্ধমুখী হয়েছে। কিন্তু প্রতিবারই দু’চারদিনের মধ্যেই পুনরায় বিপর্যয়ের পথে ধাবিত হয়েছে শেয়ারবাজার। এই পরিস্থিতিতে গত নবেম্বরে পুঁজিবাজার স্থিতিশীল করতে উদ্যোগী হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাজার সংশ্লিষ্টদের নিয়ে দীর্ঘ বৈঠক করে বেশ কিছু দিকনির্দেশনা দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর সেই উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় ২৩ নবেম্বর এসইসির পক্ষ ঘোষণা করা হয় ‘পুঁজিবাজার স্থিতিশীল প্যাকেজ।’
‘প্যাকেজ পদক্ষেপ’ ঘোষণার পর অধিকাংশ বিশ্লেষক এবং বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ঘোষিত পদক্ষেপগুলোকে শেয়ারবাজারের জন্য ইতিবাচক বলে মত প্রকাশ করেন। এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে বাজারে গতিশীলতা ফিরবে বলেও তাঁরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। প্যাকেজ ঘোষণার পর ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে শেয়ারবাজারে স্থিতিশীলতা ফিরতে শুরু করে। প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে বাজারের আর্থিক লেনদেন ও সূচকের ওঠানামা ¯^াভাবিক থাকায় বিনিয়োগকারীরাও আশাবাদী হয়ে উঠছিলেন। কিন্তু ব্যাংক ঋণের সুদের হারের সর্বোচ্চ সীমা তুলে নেয়া এবং রেপো ও রিভার্স রেপোর সুদ বৃদ্ধি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে দু’টি সার্কুলার জারির পর পরিস্থিতি বদলে যেতে থাকে। মূলত এ কারণেই গত সপ্তাহে শেয়ারবাজারে নেতিবাচক প্রবণতা দেখা দেয়। সেইসঙ্গে যুক্ত হয় মুদ্রানীতি নিয়ে নানামুখী আলোচনা। আর অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগে এনবিআর ছাড়া অন্য সংস্থার প্রশ্ন তোলার প্রজ্ঞাপন জারি এবং সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিনিয়োগ বন্ধের ঘোষণা নিয়ে সরকারের মধ্যে সমš^য়হীনতার কারণে বাজারে নতুন করে বিপর্যয় দেখা দেয়। ফলে কিন্তু দু’ মাস পার হওয়ার আগেই ‘প্যাকেজ’ নিয়ে সেই আশা হতাশায় রূপ নেয়। বাজারবান্ধব পদক্ষেপের পরও অস্বাভাবিক এই পতনে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এর আগেও প্রতিবারই সরকারের বিভিন্ন ঘোষণায় প্রাথমিকভাবে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি হলেও ধীরে ধীরে তা হতাশায় রূপ নিয়েছে।
ধারাবাহিক বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে বর্তমানে পুঁজিবাজার যে অবস্থানে এসেছে তাতে আরও দরপতনের যৌক্তিক কোন কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না বিশ্লেষকরা। তবে বিনিয়োগকারীদের আস্থা সঙ্কটের কারণেই পরিস্থিতির বদল হচ্ছে না বলে মনে করেন তাঁরা। তাঁদের মতে, এক বছরেরও বেশি সময় ধরে শেয়ারবাজারে তারল্য সঙ্কট চলছে। এই সঙ্কট কাটাতে বিভিন্ন সময়ে অসংখ্য উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সাময়িকভাবে কিছু সুফলও এসেছে। কিন্তু এরপরই আবার ধস নেমেছে। এভাবে প্রতিবার নতুন আশা নিয়ে বিনিয়োগ করার পরপরই পুনরায় ধসের কবলে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। এর ফলে বাজারের ওপর তাদের আস্থা নষ্ট হয়ে গেছে।
অবশ্য অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনীতিতে শ্লথগতি চলছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংক ঋণের লাগাম টেনে ধরেছে। অন্যদিকে ব্যাংকিং খাতে এখনও তারল্য সঙ্কট রয়েছে। অর্থ সংস্থানের জন্য ব্যাংকগুলো আমানতের সুদের হার বাড়িয়ে দিচ্ছে। ফলে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের চেয়ে মানুষ ব্যাংকে টাকা রাখাকেই অধিক লাভজনক মনে করছে। আবার মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ায় মানুষের সঞ্চয় কমে গেছে। আবার যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে টাকা আছে তারাও বিপর্যস্ত শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের ঝুঁকি নিতে চাইছে না। এসব কিছুই শেয়ারবাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) চার কার্যদিবসই সূচক কমেছে। ডিএসইতে তালিকাভুক্ত মোট ২৭৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে গত সপ্তাহে মাত্র ৫টির শেয়ারের দর বেড়েছে। এর বিপরীতে কমেছে ২৬১টির। বাকি ৭টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়নি। সার্বিকভাবে এক সপ্তাহে ডিএসইর সূচক ১৪ দশমিক ২৯ শতাংশ বা ৬৪১ পয়েন্ট কমে ৩ হাজার ৮৪৫ পয়েন্টে নেমেছে। এর আগের সপ্তাহে ডিএসইর সাধারণ সূচক কমেছিল ৪৫৯ পয়েন্ট।
গত সপ্তাহে ডিএসইতে আর্থিক লেনদেনের পরিমাণও কমে গেছে। সারা সপ্তাহে মোট ১ হাজার ১৫১ কোটি ৫৫ লাখ ৪৭ হাজার টাকার লেনদেন হয় যা আগের সপ্তাহ থেকে ৫৪ কোটি ১২ লাখ ৫৯ হাজার টাকার কম। আগের সপ্তাহে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ২০৫ কোটি ৬৮ লাখ ৬ হাজার টাকার।
পাকিস্তানে নির্ধারিত সময়েই সিনেট নির্বাচন ॥ জিলানি
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা জিলানি বলেছেন, ষড়যন্ত্র সত্তে¡ও নির্ধারিত সময়েই সিনেট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। শুক্রবার লাহোর রেলওয়ে স্টেশনে এক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আগে জিলানি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। এদিকে পাকিস্তান তেহরিক ই ইনসাফ (পিটিআই) দলের প্রধান ও সাবেক ক্রিকেটার ইমরান খান এবং এক টেলিভিশন উপস্থাপক শুক্রবার সুপ্রীমকোর্টে উপনির্বাচন ও সিনেট নির্বাচন স্থগিত করার জন্য আবেদন করেন। ত্রুটিপূর্ণ ভোটার তালিকা নিয়ে ওই দু’জনের অভিযোগের ভিত্তিতে আদালতে ইতোমধ্যেই শুনানি শুরু হয়েছে। খবর ডন অনলাইনের।
জিলানি বলেন, পার্লামেন্টে তার সরকারের পঞ্চম বাজেট পেশের পর সাধারণ নির্বাচন এগিয়ে আনার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। তিনি আরও বলেন, আমি সবচেয়ে বেশি মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছি। সিনেট নির্বাচনে বিলম্ব করতে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে বলে ছয় মাস আগেই আমি ইঙ্গিত দিয়েছিলাম। ধৈর্য ধরুন, কিছু দিনের মধ্যেই সব ষড়যন্ত্র প্রকাশিত হবে। জিলানি বলেন, সিনেট নির্বাচন নির্ধারিত সময়েই হবে। কোন ব্যক্তি বা দল যদি নির্বাচন পেছাতে আগ্রহী হয়, তাহলে তারা বাজেটের পর আমার সঙ্গে আলোচনা করতে পারবেন। এদিকে উপ-নির্বাচনের সময়সূচীর প্রজ্ঞাপন স্থগিতের জন্য নির্বাচন কমিশনকে আহান জানাতে সুপ্রীমকোর্টের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন ইমরান খান। নির্বাচন কমিশন ২৭ জানুয়ারি এই প্রজ্ঞাপন জারি করে। পাঞ্জাব, সিন্ধু ও খাইবার পাখতুন প্রদেশে জাতীয় পরিষদে ছয়টি আসনে এবং প্রাদেশিক পরিষদে চারটি আসনে উপ নির্বাচন হবে। অন্য এক আবেদনে ২ মার্চ সিনেট নির্বাচন না করতে পাকিস্তান নির্বাচন কমিশনকে (ইসিপি) নির্দেশ দিতে আদালতের প্রতি অনুরোধ করেছেন টিভি উপস্থাপক মোবাশের লোকমান। ১২ মার্চের মধ্যে অর্ধেক সিনেটর অবসর নেবেন। আবেদনকারী অভিযোগ করেছেন যে প্রায় ৭০ পার্লামেন্ট সদস্যের কোন শিক্ষাগত ডিগ্রী নেই। কিন্তু তারাই নতুন সিনেটর নির্বাচিত হতে পারেন। ২৯ এমপি নির্বাচন কমিশনের অধীনে বিতর্কিত ভোটার তালিকায় উপ-নির্বাচনে নির্বাচিত হয়েছেন। সিনেট নির্বাচনে ভ‚য়া ডিগ্রী ও ত্রুটিপূর্ণ ভোটার তালিকার মাধ্যমে নির্বাচিতদের জায়গা নেই।
সিরীয় বাহিনীর গোলায় হোমসে নিহত ২৬০
বিশ্বে বিভিন্ন দেশের রাজধানীতে সিরীয় দূতাবাসে বিক্ষোভকারীদের হামলা ব্যাপক ভাংচুর
সিরীয় সেনাবাহিনী শনিবার ভোরে দেশটির তৃতীয় বৃহত্তম শহর হোমসে সরকারবিরোধীদের ওপর নির্বিচারে গোলাবর্ষণ করলে অন্তত ২৬০ বেসামরিক ব্যক্তি নিহত এবং কয়েক শ’ আহত হয়। বিভিন্ন বসতি লক্ষ্য করে ছোড়া রকেটের আঘাতে দালানকোঠা ভীতসন্ত্রস্ত বাসিন্দাদের ওপর ভেঙ্গে পড়ে। এটিই ছিল দেশটিতে ১০ মাস ধরে চলমান সরকারবিরোধী অভ্যুত্থানে সবচেয়ে ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা এক বিরোধী দলের পক্ষ থেকে এ কথা জানানো হয়। তবে সিরীয় সরকার মধ্যাঞ্চলীয় হোমস শহরে এর সেনাবাহিনীর গোলাবর্ষণের কথা অস্বীকার করে ঐ রক্তপাতের ঘটনার ‘সশস্ত্র বন্দুকধারী’দের ওপর দোষারোপ করেছে। রাষ্ট্রীয় প্রচার মাধ্যমে এ কথা বলা হয়। এদিকে, সর্বশেষ ঐ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বিশ্বের বিভিন্ন রাজধানীতে বিক্ষোভকারীরা সিরীয় দূতাবাসে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর চালায়। খবর এএফপি, বিবিসি ও ওয়াশিংটন পোস্ট অনলাইনের।
সরকারবিরোধী সিরিয়ান ন্যাশনাল কাউন্সিল (এসএনসি) বৈরুতে এক বিবৃতিতে বলেছে, প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের বাহিনী শনিবার ভোরে হোমসের আবাসিক এলাকাগুলোর ওপর নির্বিচারে গোলাবর্ষণ করে। এতে নারী-পুরুষ-শিশুসহ অন্তত ২৬০ বেসামরিক ব্যক্তি নিহত এবং কয়েক শ’ আহত হয়েছে। এটি ছিল গত বছরের মার্চে সিরিয়ায় অভ্যুত্থান শুরু হওয়ার পর সবচেয়ে ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড। এসএনসির বিবৃতিতে নিরপরাধ সিরীয়দের রক্তক্ষয় বন্ধ করার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে এবং তা বন্ধ করার পদক্ষেপ নিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহান জানানো হয়। এতে সিরীয় সরকারের হত্যাকাণ্ড নিয়ে অবস্থান পরিবর্তন করতে, সরকারের নিন্দা করতে এবং সিরীয়দের গণতান্ত্রিক পথে কোন সরকার নির্বাচনের সুযোগ দিতে রাশিয়ার প্রতি দাবি জানানো হয়। সরকারী বার্তা সংস্থা ‘সানা’ জানায়, সরকার হোমসের কোন কোন এলাকায় সেনাবাহিনীর গোলাবর্ষণের কথা অস্বীকার করেছে। সহিংসতায় উস্কানি দিচ্ছে এমন টেলিভিশন কেন্দ্রগুলো ঐ খবর ছড়াচ্ছে। সানার খবরে মন্তব্য করা হয়। বার্তা সংস্থাটি বলেছে, স্যাটেলাইট টেলিভিশন কেন্দ্রগুলোর দেখানো বেসামরিক লোকজন সশস্ত্র বন্দুকধারীদের হাতে অপহৃত ও নিহত হয়। এদিকে, সিরিয়ার ঐ সর্বশেষ রক্তক্ষয়ী ঘটনার প্রতিবাদে একদল সিরীয় মিসরের রাজধানী কায়রোর সিরীয় দূতাবাসে হামলা চালিয়ে আসবাবপত্র ও যন্ত্রপাতি ভাংচুর করে এবং ভবনটির কোন অংশে আগুন ধরিয়ে দেয়। দূতাবাসের কর্মকর্তা ও এক প্রত্যক্ষদর্শী এ কথা জানান। প্রত্যক্ষদর্শী জানান, কায়রোর কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ঐ দূতাবাসের গেট, আসবাবপত্র ও কম্পিউটার ভাংচুর করা হয়। ভবনের প্রথম তলাটির কিছু কিছু অংশ পুড়ে যায়। লন্ডনে সিরীয় দূতাবাসে ঢুকে বিক্ষোভ প্রদর্শনকালে পাঁচ প্রতিবাদীকে গ্রেফতার করা হয়। দূতাবাসের জানালা ভাংচুর করা হয় বলে জানা যায়। সিরীয় বাহিনীর হাতে দুয়েরও বেশি বেসামরিক লোক নিহত হয়েছে বলে খবর বেরোনোর পর প্রায় ১৫০ প্রতিবাদী দূতাবাসের বাইরে সমবেত হয়।
জার্মানির রাজধানী বার্লিনে সিরীয় দূতাবাসে প্রায় ২০ জন প্রতিবাদী ঢুকে পড়ে কয়েকটি দফতরের ক্ষতিসাধন করে। তারা দূতাবাসের দেয়ালগুলোতে বিভিন্ন স্লোগান লিখে রাখে। এরপর তাদের গ্রেফতার করা হয়। তবে অনুপ্রবেশকারীদের পরিচয় লিখে রেখে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। এ নিয়ে পুলিশের তদন্ত শুরু হয়েছে। উপসাগরীয় রাষ্ট্র কুয়েতের রাজধানী কুয়েত সিটিতে কয়েক শ’ বিক্ষুব্ধ সিরীয় এবং স্থানীয় কর্মীরা সিরীয় দূতাবাসে জোর করে প্রবেশের চেষ্টা চালালে কুয়েত কর্তৃপক্ষ কয়েক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে। শনিবার কর্মীরা ও এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা এ কথা জানান।
কয়েতী এ্যাসোসিয়েশন ফর হিউম্যান রাইটস জানায়, দূতাবাসের রক্ষীরা ফাঁকা গুলি ছুড়লে পালাতে গিয়ে ধস্তাধস্তিতে অন্তত দু’ প্রতিবাদী আহত হয়।