মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শুক্রবার, ৩ অক্টোবর ২০১৪, ১৮ আশ্বিন ১৪২১
মিয়ানমারের জেলে শতাধিক বাংলাদেশীর মানবেতর জীবনযাপন
স্টাফ রিপোর্টার, কক্সবাজার/বরিশাল ॥ বঙ্গোপসাগরে টহলে থাকা মিয়ানমারের নৌবাহিনীর হাতে আটক আরও শতাধিক বাংলাদেশী বিভিন্ন কারাগারে মানবেতর জীবনযাপন করছে। মিয়ানমার কারাগার থেকে ফিরে আসা লোকজন এ তথ্য জানিয়েছেন। এদিকে আদম ব্যাপারীর খপ্পরে পড়ে গত ৯ মাস যাবত ভারতের চেন্নাই জেলে কারাভোগ করছেন বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বেজগাতি গ্রামের সাইফুল ইসলামসহ ছয় যুবক। তাদের মুক্তির জন্য প্রধানমন্ত্রীসহ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে ওইসব যুবকের পরিবার। মিয়ানমারের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ বিজিবির (বাংলাদেশ বর্ডারগার্ড) কাছে মঙ্গলবার ৩২ বাংলাদেশী নাগরিককে ফেরত দেয়। দুই দেশের সরকারী পর্যায়ে আলোচনার পর টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে মঙ্গলবার ফেরত আনা হয় ৩২ জনকে। বিভিন্ন সময়ে কক্সবাজার থেকে সমুদ্র পথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে এবং সাগরে মাছ শিকাররত অবস্থায় এরা আটক হয় সেদেশের নৌবাহিনীর হাতে। এদের বেশিরভাগই কক্সবাজারের বাসিন্দা। কক্সবাজার সদরের খুরুশকুল এলাকার মোহাম্মদ রফিক, পাহাড়তলীর আজিজুর রহমান, আলীর জাহান এলাকার মোহাম্মদ ইদ্রিস, সমিতিপাড়ার মোহাম্মদ জুবায়ের, ঈদগাঁওয়ের আনোয়ার সাদেক জানান, ভাল চাকরির লোভে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বহু মানুষ কক্সবাজার থেকে সমুদ্র পথে অবৈধভাবে থাইল্যান্ড হয়ে মালয়েশিয়া যাওয়ার চেষ্টা করে থাকে। প্রতারক চক্রের (দালাল) খপ্পরে পড়ে তাদের মতো অনেকের ঠাঁই হয় মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডের কারাগারে। সূত্র জানায়, থাইল্যান্ডের কারাগারে আটক ৪০ বাংলাদেশীকে দেশে ফিরিয়ে আনার সপ্তাহ খানেকের মধ্যে মঙ্গলবার মিয়ানমার কারাগার থেকেও ফিরিয়ে আনা হয়েছে আরও ৩২ জনকে। তারা সবাই দুই থেকে পাঁচ বছর মিয়ানমারের জেলে আটক ছিলেন বলে জানা গেছে। মিয়ানমার কারাগারে আরও শতাধিক আটক আছে। আটকরা কৌশলে সাদা জামায় তাদের নাম-ঠিকানা লিখে পাঠিয়েছে ফেরত আসা ব্যক্তিদের অনেকের মাধ্যমে। দালালরা তাদের ধরে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার চেষ্টা, আটক হওয়ার পর শারীরিক নির্যাতনের বিবরণও দিয়েছেন তারা। ছয় যুবক ৯ মাস চেন্নাই জেলে ॥ ভারত থেকে সৌদি আরবে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে আদম ব্যাপারীর প্রতারণার শিকার হয়ে গত ৯ মাস যাবত ভারতের চেন্নাইতে কারাভোগ করছেন বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বেজগাতি গ্রামের সাইফুল ইসলামসহ বিভিন্ন এলাকার ছয় যুবক। ওইসব প্রতারিত যুবকদের পরিবারবর্গ সহায় সম্বল হারিয়ে এখন পথে বসেছেন। মুম্বাইয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনার অফিস থেকে আটককৃতরা বাংলাদেশী কিনা শনাক্ত করা হলেই জেলখানা থেকে মুক্তি পাবেন বলে তার পরিবারের সদস্যরা দাবি করছেন। এজন্য তারা প্রধানমন্ত্রীসহ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। ভারত থেকে পালিয়ে আসা পলাশ মৃধা জানান, আদম ব্যাপারী মান্নানের খপ্পরে পড়ে চেন্নাই সিংগালপোর্ট ক্যাম্পে আটক সাইফুল ইসলাম জাহারুল কবিরাজসহ অন্যরা হলেন সাভারের কুনারচর গ্রামের জামাল উদ্দিনের পুত্র বাবুল হোসেন, বগুড়ার শেরপুর থানার কৃষ্ণপুর গ্রামের মানিকের পুত্র মোঃ রব্বানী, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর থানার দিদারকান্দি গ্রামের রাজ্জাক মোল্লার পুত্র নুর আবেদীন, যশোরের উদায়ীনগর থানার দুলগ্রামের জিনদার বিশ্বাসের পুত্র সফিকুল ইসলাম বিশ্বাস ও ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থানার চিলা গ্রামের হোসেন মোল্লার পুত্র ইসমাইল মোল্লা।