মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
১১০৩২৬
শনিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০১০, ১ ফাল্গুন ১৪১৬
জলকেলি কলকাকলি_আনন্দে আত্মহারা শিশু কিশোররা
জাবিতে পাখিমেলা ও ছবি আঁকা প্রতিযোগিতা
কুন্তল রায় ॥ 'আচ্ছা ওরা কি খায়? ওরা কি আমাদের মতো কথা বলতে পারে? পারে না? তাহলে কোন্ ভাষায় কথা বলে? পানিতে ওদের ঠা-া লাগে না? ইস! আমি যদি ওদের মতো উড়তে পারতাম।'
ছয় বছরের শায়লার প্রশ্নবাণে জর্জরিত তার বাবা। লেকের স্থির পানিতে তুলোর মতো নরম পালকের শরীর নিয়ে অলস ভঙ্গিতে ভাসতে থাকা সরালি কিংবা হঠাৎ পানির মধ্যে ডুবসাঁতার দেয়া পানকৌড়ি দেখে বার বারই আনন্দে চিৎকার করে উঠছিল সে। আর প্রশ্নের কোন শেষ নেই তার। ইট-সিমেন্টে গড়া ঢাকা শহরের আবদ্ধ জীবন থেকে একদিনের জন্য মুক্ত হয়ে নিজেকে পাখির মতোই স্বাধীন ভাবছিল যেন!
শুক্রবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ ও ওয়াইল্ড লাইফ রেসকিউ সেন্টার (ডবিস্নউআরসি)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত পাখিমেলায় শায়লার মতো অসংখ্য শিশুরা প্রকৃতির অপার সুন্দর সৃষ্টি পাখি দেখতে এসেছিল। শুধু শিশুকিশোররাই নয়, তাদের বাবা-মা, পরিবারের অন্য সদস্যরাও পাখি দেখতে এসে মেতে উঠেছিলেন তাদেরই সঙ্গে। লেকের পানিতে পাখিদের জলক্রীড়া টেলিস্কোপে চোখ লাগিয়ে দেখার আনন্দ নিয়েছেন ছেলে-বুড়ো সবাই।
প্রতিবারের মতো এ বছরও উৎসবের আমেজে আয়োজিত হলো জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক আয়োজন পাখিমেলা। 'পাখপাখালি দেশের রত্ন, আসুন সবাই করি যত্ন' এটাই ছিল এবারের পাখিমেলার মূলমন্ত্র। শুক্রবার সকাল নয়টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রসত্মাবিত জহির রায়হান মিলনায়তন চত্বরে উপাচার্য অধ্যাপক শরীফ এনামুল কবির বেলুন উড়িয়ে মেলার উদ্বোধন করেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপউপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোঃ ফরহাদ হোসেন, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক আব্দুস সালাম, অধ্যাপক মোঃ মফিজুল কবির, ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক এটিএম আতিকুৃর রহমান।
পাখিমেলা উপল েবিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের বিপরীতে লেকের পাড়ে টেলিস্কোপ বসানো হয়। ঢাকা থেকে আসা এবং স্থানীয় দর্শকরা এই টেলিস্কোপে পাখি দেখেছেন। ঢাকা থেকে ছেলেমেয়েদের নিয়ে পাখিমেলা ঘুরতে এসে আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান মোঃ আবদুলস্নাহ। বলেন, এমন আয়োজন প্রতিবছরই করা উচিত। প্রকৃতির সানি্নধ্যে পরিবার-পরিজন নিয়ে আসতে পেরে খুব ভাল লাগছে।
শুধু পাখি দেখেই ানত্ম হয়নি মেলায় আসা প্রায় পাঁচ শতাধিক দর্শনাথর্ী। আয়োজন করা হয় আনত্মঃবিশ্ববিদ্যালয় পাখি দেখা প্রতিযোগিতার। প্রতিযোগিতায় জাহাঙ্গীরনগর ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের চারজন করে মোট চারটি দল অংশ নেয়। সকাল নয়টা থেকে এগারটা পর্যনত্ম প্রসত্মাবিত জহির রায়হান মিলনায়তনের গ্যালারিতে অনুষ্ঠিত হয় শিশুকিশোরদের জন্য পাখির ছবি অাঁকা প্রতিযোগিতা। দু'টি গ্রম্নপে বিভক্ত এ প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন স্থানের স্কুল পর্যায়ের ২৯১ শিার্থী অংশ নেয়। এ ছাড়াও ছিল পাখি বিষয়ক উপস্থিত বক্তৃতা ও কুইজ প্রতিযোগিতা। পাখিকে সঙ্গে নিয়ে মেলার প্রতিটি আয়োজনই ছিল আনন্দ-উচ্ছ্বাসে ভরা। বিকেলে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। বিকেলের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও পাখিরা বাদ পড়েনি।
পাখিমেলার আহ্বায়ক অধ্যাপক মোঃ মফিজুল কবির বলেন, পাখি সংরণে গণসচেতনতা বৃদ্ধির ল্যেই এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। এ মেলার নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আমরা পাখিদের সম্পর্কে জানতে ও শিখতে পারব। আমাদের মধ্যে পাখিদের প্রতি মমত্ববোধ তৈরি হবে যা পাখি সংরণে গূরম্নত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি মনত্মব্য করেন।
বেনাপোলে গড়ে ওঠা শুল্ক ফাঁকিবাজ চক্র বেপরোয়া
সরিষায় ভূত! আরও এক চালান আটক
জনকণ্ঠ রিপোর্ট ॥ বেনাপোল কাস্টমস্ কমিশনারের সহযোগিতায় গড়েওঠা একটি চিহ্নিত শক্তিশালী শুল্ক ফাঁকিবাজ চক্র এখন বেপরোয়া । চক্রটি একের পর এক রাজস্ব ফাঁকির মতো ভয়ানক কারবার চালিয়ে গেলেও ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না তাদের বিরম্নদ্ধে। যে কারণে বন্ধ হচ্ছে না শুল্ক ফাঁকির কারবার। বৃহস্পতিবার রাতে ফের বেনাপোল বন্দরে শুল্ক ফাঁকির একটি চালান আটক করা হয়েছে। এ চালানে রাজস্ব ফাঁকির পরিমাণ কি, তা এই রিপোর্ট লেখা পর্যনত্ম জানা না গেলেও আটক মালামালের মূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা। এবারের ঘটনার সঙ্গে কাস্টসমের এক সাবেক বিতর্কিত কর্মকর্তার সহোদর সরাসরি জড়িত। এই ব্যক্তির সঙ্গে আবার কাস্টমসের এক সুপারিনটেনডেন্ট ও এক ইন্সপেক্টর জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। শুল্ক ফাঁকির ঘটনার সঙ্গে কাস্টমস কর্মকর্তারা জড়িত থাকার কারণে বেনাপোল বন্দরে তোলপাড় চলছে।
জানা গেছে, বেনাপোল কাস্টম হাউসের বর্তমান কমিশনারের নাম ড. আব্দুল মান্নান শিকদার। তিনি কয়েক মাস আগে ঢাকা থেকে বেনাপোল বন্দরে বদলি হয়ে এসেছেন। তার কর্মস্থলে আগে ছিলেন কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল কাফি। তার আমলেও শুল্ক ফাঁকির ঘটনা ঘটেছিল। বর্তমান কমিশনার এখানে আসার পর চিহ্নিত একটি শুল্ক ফাঁকিবাজ চক্র তার সঙ্গে অাঁতাত করে শুল্ক ফাঁকির কারবার শুরম্ন করেছে। এই ব্যক্তির সঙ্গে চক্রটির মোটা অঙ্কের অর্থের ভাগাভাগি রয়েছে। যারা শুল্ক ফাঁকি দেয় তারা খুবই শক্তিশালী। এদের জাল এতই গভীরে বিসত্মৃত যে এদের হদিস পাওয়া বড়ই কঠিন। তাছাড়া চক্রটি সব সময়ই কোন না কোন সরকারী দলের ছত্রছায়ায় লালিত হয়। যে কারেণ এরা নিরাপদে-নির্বিঘ্নে শুল্ক ফাঁকির কারবার চালিয়ে যায়। এসব করে তারা রাতারাতি বনে যায় কোটি কোটি টাকার মালিক। আর কাস্টমসে অবৈধ অর্থের লোভে চাকরিতে আসা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হয়ে যায় অঢেল বিত্তবৈভব আর কালো টাকার মালিক। আর মাঝে পড়ে রাজস্ব হারায় সরকার।
বৃহস্পতিবার রাত অনুমানিক সাড়ে ৯ টার দিকে সরকারের শীর্ষ গোয়েন্দা সংস্থার স্থানীয় প্রতিনিধিদের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বেনাপোল কাস্টম হাউসের সামনে থেকে সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের একটি (ঢাকা মেঃ উ-১৪-০৮৫১) কভার্ডভ্যান আটক করা হয়। এই ভ্যানে ৬০০ ড্রাম টেক্সটাইলে ব্যবহৃত রি-এ্যাকটিভ ডাইস পাওয়া যায়, যা বেনাপোল বন্দরে ৩৪ নং শেড থেকে লোড করা হয়েছিল। চালানটির কাস্টমস বি/ই নং- ৬০২৪। চালানে ১৬০ ড্রাম ঘোষণার অতিরিক্ত মাল পাওয়া যায়। পণ্যগুলো আটক করা হয়েছে। আটক মালের মূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা। রাজস্ব ফাঁকির পরিমাণ কি, তা নিরূপণ করা যায়নি শুক্রবার ছুটির কারণে। তবে ধারণা করা হচ্ছে, বিপুল রাজস্ব ফাঁকির ঘটনা ঘটেছে। কাস্টমস সূত্র মতে, আটক মালের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স রিয়াইন কর্পোরেশন। ঠিকানা ৭৭, মতিঝিল, বা/এ, ঢাকা। আর বেনাপোল বন্দরে চালানটি খালাসের দায়িত্বে ছিল মেসার্স বনো ট্রেডিং কপের্ারেশন। একটি সূত্র জানায়, এই প্রতিষ্ঠানের মালিক কাস্টম হাউসের সাবেক এক বিতর্কিত সুপারিনটেনডেন্টের সহোদর। এ ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে এ রকম শুল্ক ফাঁকির কারবার চালিয়ে যাচ্ছে। অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, এর আগেও তারা এ ধরনের পণ্যের চালান বন্দর থেকে খালাস করে নিয়ে গেছে। যে সব চালানে ফাঁকি দেয়া হয়েছে লাখ লাখ টাকার রাজস্ব। এগুলো তদনত্ম করার দাবি উঠেছে। জানা গেছে, এদের সঙ্গে কাস্টমসের এক সুপারিনটেনডেন্ট ও এক ইন্সপেক্টর দীর্ঘদিন ধরে জড়িত রয়েছে, যাদের কারণে শুল্ক ফাঁকি বন্ধ হচ্ছে না এবং দিন দিন বেড়েই চলেছে।
এদিকে, চলতি মাসের ৭ তারিখে দৈনিক জনকণ্ঠে বেনাপোলে লাখ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকি শিরোনামে একটি তথ্যবহুল রিপোর্ট প্রকাশিত হওয়ার পর কাস্টমস, বন্দর ও সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাদের টনক নড়ছে। যার প্রেেিত বৃহস্পতিবার গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে এই চালানটি আটক করা হয়েছে। তবে যে পরিমাণ শুল্ক ফাঁকির ঘটনা ঘটছে তা আটক বা ধরা পড়ছে না বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। এ ব্যাপারে বেনাপোল কাস্টম হাউসের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংবাদিকদের কাছে বলেছেন, বৃহস্পতিবার একটি পণ্য চালান আটক করা হয়েছে এবং মামলার প্রস্তুতি চলছে।
পাহাড়ে ফের ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাধানোর পাঁয়তারা
ধর্মান্ধ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মদদ
জীতেন বড়ুয়া/ওমর ফারম্নক শামীম, খাগড়াছড়ি ॥ পার্বত্য চট্টগ্রামের শানত্মি বিনষ্টে একটি ভয়াবহ সামপ্রদায়িক দাঙ্গার ঘটনা ঘটাতে নানামুখী ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে একটি বিশেষ মহল। ইসু্য তাদের সশস্ত্র চাঁদাবাজি বন্ধ করা। সমপ্রতি জেলার বিভিন্ন স্থানে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া কয়েকটি ঘটনার আলামত ও স্থানীয় সূত্রে পাওয়া বিভিন্ন তথ্যে এই ষড়যন্ত্রের আলামত স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
গত কয়েকদিনে দীঘিনালা উপজেলার মারিশ্যা এলাকায় বেশ ক'টি গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই বৈঠকে খাগড়াছড়ি জেলা শহরের বেশ ক'জন বাঙালী ছাত্র পরিষদ নেতা (জামায়াত শিবির কমর্ী), দীঘিনালা এবং বাঘাইহাট ও মারিশ্যার বাঙালী ছাত্র পরিষদের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। গোপন সূত্রের খবরে জানা যায়, বৈঠকটি পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনৈতিক সূতিকাগার খাগড়াছড়িতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ঘটনা ঘটাতে নেতাকর্মীদের বিভিন্ন দিকনির্দেশনার বৈঠক ছিল। পার্বত্য চট্টগ্রাম ইসু্যতে বর্তমান সরকারের দৃষ্টিভঙ্গিকে কলুষিত করতে মরিয়া হয়ে উঠেপড়ে লেগেছে এই ধর্মান্ধ রাজনৈতিক দলটি।
অপরদিকে দু'টি স্থানীয় রাজনৈতিক দলের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের বেপরোয়া চাঁদাবাজির ইসু্য ষড়যন্ত্রকারীদের গুজব আর মিথ্যা প্রচারণায় সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে নতুন মাত্রা যোগ করছে। এছাড়া পাহাড়ে নিয়োজিত একটি বিশেষ বাহিনীকে ব্যসত্ম রাখা, খবরদারি আর কর্তৃত্ব বহাল রাখতেই পরিকল্পিতভাবে সাজানো হচ্ছে বিভিন্ন বিরোধের ঘটনা। এসব বিরোধ নিষ্পত্তির েেত্র বিশেষ মহলটির ভূমিকা পপাতমূলক, যাতে করে সাধারণ পাহাড়ী-বাঙালীর মাঝে সৃষ্টি হয় ােভ আর আন্দোলনের রসদ। ভারসাম্যহীন এমন পরিস্থিতিই সুবিধা বয়ে আনে এই মহলটির জন্য। যে কারণে বিশেষ বিশেষ সময়ে ইসু্য তৈরির মাধ্যমে পাহাড়ে শানত্মি বিনষ্টে মরিয়া হয়ে ওঠে এই চক্রটি। উলেস্নখ্য, ১৯৮৬ সালের ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার পর ১৯৯৭ সালে সরকারের সঙ্গে শানত্মি চুক্তি সম্পাদিত হয়।
বিশেষ মহলের ইঙ্গিতে সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সংঘাতে লিপ্ত হতে যে কোন সময়ের জন্য প্রস্তুত রয়েছে ষড়যন্ত্রকারী দলটির ছাত্র সংগঠনের কর্মীরা। বিরোধপূর্ণ এলাকাগুলোতে ছাত্র সংগঠনের কর্মীদের নিজ নিজ এলাকায় বিশেষভাবে অবস্থানের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। জেলার যে ক'টি স্থানে পাহাড়ী ও বাঙালীদের মাঝে ভূমি বিরোধ আছে এমন কয়েকটি এলাকায় সাধারণ বাঙালীদের ভূূমি দখলে নিতে চলছে উদ্বুদ্ধকরণ, (যাতে সংঘাত অনিবার্য)। খালি জায়গায় নতুন বসতি স্থাপন, তুচ্ছ ঘটনা সৃষ্টির মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে উভয় সমপ্রদায়ের মানুষকে সামপ্রদায়িক উস্কানি দিতে নিয়োজিত আছে স্থানীয় মানুষকে নিয়ে বিশেষ দল। এভাবেই চলছে ভয়াবহ সামপ্রদায়িক দাঙ্গার পরিকল্পনা। যে কোন সময় কোন ঘটনাকে পুঁজি করে মুহূর্তের মধ্যেই ভয়াবহ এই দাঙ্গা সৃষ্টিতে প্রস্তুত রয়েছে উগ্রপন্থী রাজনৈতিক দলের ছাত্রসংগঠনটির নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে এই ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা।
খাগড়াছড়ি আসনের সংসদ সদস্য ও শরণার্থী বিষয়ক টাস্কফোর্স চেয়ারম্যান যতীন্দ্রলাল ত্রিপুরা বলেন, সামপ্রতিক কিছু ঘটনায় চক্রানত্মকারীদের ষড়যন্ত্রের আভাস পাওয়া যাচ্ছে, যে কোন মূল্যে এসব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করা হবে। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর জেলা সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট নাছির উদ্দিন বলেন, পাহাড়বাসীর জন্য এমন কিছু প্রত্যাশিত নয়। এখানকার মানুষ শানত্মির জন্য অনেক ত্যাগ করেছে। অনেকেই স্বজন হারিয়েছে, ভিটেমাটি ছাড়া হয়েছে হাজার হাজার পরিবার। ষড়যন্ত্রকারীরা আবারও এমন জঘন্য ঘটনার সৃষ্টি করলে পাহাড়ের মানুষ তাদের মা করবে না। স্থানীয় দৈনিক অরণ্য বার্তার সম্পাদক ও খাগড়াছড়ি প্রেসকাবের সভাপতি সাংবাদিক চৌধুরী আতাউর জানান, কয়েকটি তুচ্ছ ঘটনায় ঘটে যাওয়া তুলকালাম কা-, অপপ্রচার আর নানারকমের গুজবের খবরই প্রমাণ করে একটি মহল সামপ্রদায়িক দাঙ্গার ঘটনা ঘটাতে মরিয়া হয়ে কাজ করছে। এই মুহূর্তে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে পরে কিছুই করার থাকবে না।
জামায়াতের সঙ্গে এখনই যুগপৎ আন্দোলনে যাচ্ছে না বিএনপি
জনকণ্ঠ রিপোর্ট ॥ জাতীয় সংসদের ভেতরে ও রাজপথে সরকারের কর্মকা-ের প্রতিবাদ জানালেও যুদ্ধাপরাধী বলে অভিযুক্ত জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে এই মুহূর্তে যুগপৎ আন্দোলনে যাচ্ছে না প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। যখন জামায়াতের অঙ্গ-সংগঠন ছাত্রশিবির ক্যাডারদের গ্রেফতারের লৰ্যে সাঁড়াশি অভিযান চলছে, ঠিক এই মুহূর্তে জামায়াতের নেতারা ছুটে গেলেন প্রধান বিরোধী দল বিএনপির কাছে। সরকারের বিরম্নদ্ধে সারাদেশে আন্দোলন গড়ে তুলতে চায় জামায়াত। কিন্তু যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রশ্নে আপাতত জামায়াতের সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনের কর্মসূচী দিতে আগ্রহী নয় বিএনপি। সরকারের বিরম্নদ্ধে আন্দোলনের জন্য জনমত গড়ে তোলা ও দল চাঙ্গা করার পরই রাজপথে আন্দোলনে নামতে চায় বিএনপি। সরকারকে আরও কিছু সময় দেয়ারও কৌশল নিয়েছে তারা। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কর্মসূচী সরকার কতটুকু বাসত্মবায়ন করতে পারবে, সেই অপেৰাও করছে বিএনপি। তবে জামায়াতে ইসলামী ও শিবিরের পৰে সরাসরি সাপাই না গাইলেও বিরোধিতা করছে না প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। শিবিরের তা-বে সারাদেশে যেভাবে চিরম্ননি অভিযান শুরম্ন হয়েছে, তাতে একঘরে হয়ে পড়েছে জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবির। রাজনীতিতে শরিক দল বিএনপি ছাড়া জামায়াতে ইসলামী ও শিবিরের আর কোন বন্ধু নেই। এ জন্যই সরকারের বিরম্নদ্ধে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলার লৰ্যে বিএনপিকে মাঠে নামানোর জন্য মরিয়া হয়ে উঠছে তারা।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমরা সংসদের ভেতরে ও বাইরে রাজপথে সরকারের কর্মকা-ের প্রতিবাদ জানাব। তবে বর্তমান সরকারের বিরম্নদ্ধে লাগাতার আন্দোলন গড়ে তুলতে সময় লাগবে। বড় ধরনের ইসু্য ছাড়া আন্দোলনে যাওয়া ঠিক হবে কিনা তাও ভাবা হচ্ছে। জামায়াতে ইসলামীর নেতারা এখনই সরকার পতনের আন্দোলন গড়ে তুলতে চায়। কিন্তু তা কতটুকু সম্ভব, তা নিয়েও বিএনপির মধ্যে আলোচনা হচ্ছে। আমরা রাজপথে আছি, সময় হলেই তুমুল আন্দোলনের ডাক দেয়া হবে। কারণ আমাদের দলীয় চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া আগেই ঘোষণা করেছেন আমরা সংসদে যাব, রাজপথেও প্রতিবাদ করব।
জামায়াত-শিবির সংগঠনের ক্যাডাররা বরাবরই হিংস্র। শিবির কর্মীদের ওপরে স্বাভাবিক অবস্থা দেখা গেলেও ভেতরে তার পুরো উল্টো। কিছুদিন রগকাটা কর্মসূচী বন্ধ ছিল। আওয়ামী লীগ সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে আবার শিৰা প্রতিষ্ঠানে রগকাটা ও হত্যার রাজনীতি শুরম্ন করেছে শিবির ক্যাডাররা। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে বাধা দিতেই চলছে শিবিরের এই হত্যাযজ্ঞ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকা-ের খুনীদের ফাঁসির রায় কার্যকর করার পর সরকার চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রশ্নে অনড়। এ অবস্থায় রাজনৈতিক পরিস্থিতি অন্যদিকে মোড় নেয়ার লৰ্যেই বিশেষ কৌশলে শিবিরের ক্যাডাররা হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে। হত্যা করা হচ্ছে মেধাবী ছাত্রলীগ কর্মীদের। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের কর্মী ফারম্নককে হত্যা করা হয়েছে। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের কর্মী ছাড়াও সাধারণ ছাত্রের রগ কেটে দিয়েছে শিবিরের ক্যাডাররা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিৰাঙ্গনে সন্ত্রাসী কর্মকা-ের হোতা শিবির ক্যাডাররা চালাচ্ছে সন্ত্রাসী তা-ব। জাতীয় সংসদে দাবি উঠছে রগকাটা রাজনীতির সংগঠন জামায়াত ও শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হোক। একইভাবে দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে দাবি উঠছে, সামাজিকভাবে জামায়াতকে বয়কট করা হোক। এ অবস্থায় সারাদেশে শিবিরের বিরম্নদ্ধে চলছে চিরম্ননি অভিযান। রাজশাহী নগর জামায়াতে ইসলামীর আমির আতাউর রহমানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ফারম্নক হত্যা মামলার আসামি শিবিরকর্মী শাহীন গুলিতে নিহত হয়। এর প্রতিবাদে দুই দিনের কর্মসূচী ঘোষণা করে জামায়াতে ইসলাম ও ছাত্রশিবির সংগঠন।
মহাজোট সরকারের কেবল এক বছর পার হলো। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সরকারের এক বছরের মাথায় আন্দোলন যদি সফল না হয়, তখন বিএনপি আরও ৰতিগ্রসত্ম হবে। এ আশঙ্কা থেকেই আন্দোলনে যেতে বিএনপির অনেকেই সায় দিচ্ছে না। সরকারকে সময় দেয়ার সঙ্গে বিভিন্নভাবে সরকারকে চাপে রাখার কৌশল নিয়েছে তারা। একদিকে সংসদের ভেতরে দলীয় সংসদ সদস্যরা সরকারের কর্মকা-ের প্রতিবাদ জানাবে। অন্যদিকে সংসদের বাইরে রাজপথেও বিভিন্ন ইসু্যতে কর্মসূচী অব্যাহত রাখার সিদ্ধানত্ম নিয়েছে বিএনপি।
১০ মাস পর বৃহস্পতিবার সংসদ অধিবেশনে যোগ দিয়েছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। তাদের সঙ্গে শরিক দল জামায়াতে ইসলামীর দুই জন ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) এক জন সদস্য অধিবেশনে যোগ দেন। মাত্র চার ঘণ্টা সংসদে ছিল বিএনপি। প্রথম দিনেই অধিবেশন থেকে ওয়াক আউট করেছে তারা। রবিবার বিকাল তিনটা পর্যনত্ম অধিবেশন মুলতবি করা হয়েছে। ওইদিনও বিএনপি অধিবেশনে প্রবেশ করে সরকারের কর্মকা-ের বিরম্নদ্ধে প্রতিবাদ জানাবে। অধিবেশন থেকে ওয়াক আউট করলেও সংসদে যোগ দেয়ার কারণে বিএনপিকে স্বাগত জানিয়েছে দেশের মানুষ। দলীয় নেতাকর্মীর একই দাবি রাজপথে কর্মসূচী দেয়ার পাশাপাশি সংসদেও থাকতে হবে বিএনপিকে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন ৩০০ বিধিতে বক্তব্য রাখেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে 'খুনী মোশতাক-জিয়া চক্র স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত-শিবিরকে লালন-পালন এবং রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসন করছে বলে অভিযোগ করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানান বিরোধী দলের সদস্যরা। মাইক ছাড়াই দাঁড়িয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ করেন তাঁরা। বিরোধী দলের সদস্যরা ফোর চাইলে স্পীকার বলেন, ৩০০ বিধির ওপর বক্তব্য দেয়ার নিয়ম নেই, তখনই টেবিল চাপড়ে, ফাইল ছুড়ে হৈ-চৈ করে অধিবেশন থেকে ওয়াক আউট করেন তাঁরা। ওয়াক আউটের পর এক ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন বিএনপির সদস্যরা। এদিকে বিএনপি সংসদে ফেরায় স্বাগত জানিয়েছে ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত জেমস মরিয়ার্টি। বিএনপির সিদ্ধানত্ম প্রশংসনীয় বলে উলেস্নখ করেন তিনি। সুশীল সমাজের ব্যক্তিরাও স্বাগত জানিয়েছে বিএনপিকে। জাতীয় সংসদ হচ্ছে সকল কিছুর কেন্দ্রবিন্দু। আওয়ামী লীগ সরকারের কর্মকা-ের প্রতিবাদ সংসদ অধিবেশনেই করা উচিত।
জনস্রোত_ অটোগ্রাফ শিকারিদের কবলে দুই লেখক
বইমেলা প্রতিদিন
সৈয়দ সোহরাব ॥ প্রত্যাশা যেমন ছিল তাই হয়েছে। ছুটির দিন শুক্রবার অমর একুশের বইমেলায় ঢল নেমেছিল মানুষের। একে জনস্রোত বললেও কম বলা হবে। ছুটির দিন হওয়ায় ছেলেমেয়েদের সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন অনেক বাবা-মা। তরম্নণ-তরম্নণীরা এসেছিল দল বেঁধে। এদিকে টিএসসি, সেদিকে দোয়েল চত্বর থেকে দু'টি করে লম্বা লাইন দিয়ে ঢুকছিল সেই বিকেল চারটা থেকেই। সন্ধ্যার পরে এ লাইন হয়েছে আরও দীর্ঘ। বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার পাখ-পাখালির কলকাকলি শুনতে শুনতে মৃদু পায়ে হেঁটে হেঁটে মেলায় প্রবেশ করতে এদিন পাঠক-দর্শনার্থীর প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট সময় লেগেছে। নদীর স্রোত যেমন সাগরে এসে পড়ে, তেমনি এদিন মানুষের স্রোত ছিল মেলার দিকে। বারোতম দিন পার হতে না হতেই এমন জনসমাগম আর কখনও দেখা যায়নি। সামনে মেলার চিত্র কি হবে তা এখন বলা মুশকিল। এদিন বাইরের লাইন দেখেই বোঝা গেছে, ভেতরের কি অবস্থা। ভেতরে গিয়ে দেখি মানুষ গায়ে গা লাগিয়ে হাঁটছে। নাম করা স্টলগুলোর সামনে উপচেপড়া ভিড়। সকাল এগারোটায় মেলা শুরম্নর পর থেকেই ছিল উপচেপড়া ভিড়। প্রকাশকরা বেশ খুশি বিক্রি ভাল হচ্ছে বলে। তবে পাঠকদের অভিযোগ সৃজনশীল বই খুব কম। মেলায় এদিন জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক মুহম্মদ জাফর ইকবাল, ইমদাদুল হক মিলনকে সারাৰণই ব্যসত্ম থাকতে দেখা গেছে অটোগ্রাফ দিতে। এদিন মেলায় আরও এসেছিলেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) এম সাখাওয়াত হোসেন ও ইংল্যান্ড প্রবাসী লেখক মিথুন। এদিন নতুন বই এসেছে ২১৪টি।
ছুটির দিনে মেলার বাইরের চিত্রেও ছিল বেশ বৈচিত্র। হকাররা কি নিয়ে বসেনি এদিন সেখানে। চুড়ি, বালা, মালা, টিপ, লেডিস স্যান্ডেল, ব্যাগ, গৃহস্থালি সামগ্রী, শিশুদের খেলনা, এমনকি পাইরেটেড বইয়ের পসরা সাজিয়ে বসা হকারে সয়লাব ছিল আণবিক শক্তি কমিশনের গেট থেকে চারম্নকলার গেট পর্যনত্ম। অনেক হকারের মুখেই ছিল যেটা নেন এক শ', যেটা নেন ষাট, যেটা নেন আশি এমন ডাক। এদিন নজরম্নল মঞ্চে তিন ডজনেরও বেশি বইয়ের মোড়ক উন্মোচিত হয়েছে।

লেখকদের কথা
এদিন মেলায় যে ক'জন জনপ্রিয় লেখক এসেছিলেন তাঁদের প্রিন্ট মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলার ফুরসত ছিল না। ইমদাদুল হক মিলনের সঙ্গে দু'চারবার কথা বলার চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি। তাঁর দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করলেও অটোগ্রাফ দিতে গিয়ে খেই হারিয়ে ফেলছিলেন। মুহম্মদ জাফর ইকবাল তো ছিলেন আরও ব্যসত্ম। প্রতি বছরের মতো এবারও নজরম্নল মঞ্চে ওঠার এক দিকের সিঁড়ি দখল করে বসেছেন, আর তাঁকে ঘিরে আছে শত শত তরম্নণ পাঠক-পাঠিকা। পাঠকরা তাঁর বইয়েই তাঁর অটোগ্রাফ নেয়ার জন্য দু'টি দীর্ঘ লাইনেও দাঁড়িয়ে গেছেন। তাঁকে ঘিরে এমন ভিড়ের জন্য এদিকের সিঁড়ি দিয়ে কেউ আর নজরম্নল মঞ্চে যেতে পারেনি। ইংল্যান্ড থেকে আসা প্রবাসী লেখক মিথুনের সঙ্গে কথা হলে তিনি জনকণ্ঠকে বলেন, ৩৫ বছর যাবত ইংল্যান্ডে আছি, তবে প্রতি বছরই বইমেলার সময় দেশে আসি। এবার আমার একটি বইও এসেছে মেলায়, উপন্যাস। বাংলায় এটি আমার প্রথম উপন্যাস, নাম 'দিয়ালা'। আমি সাধারণত ডাচ ভাষায় লিখি, তাও ভাষা সাহিত্যের ওপর। বাংলা ভাষায় খুব একটা লেখা নেই আমার। এর আগে কবিতার বই ঐ বসনত্মে এবং ছোটদের স্বর্ণপুরির রাজকুমারী নামে দু'টি বই লিখেছি। দিয়ালা উপন্যাসটি মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে লেখা একটি প্রেমের গল্প। অনেক লেখকই ভালবাসার গল্প লিখেছেন, কিন্তু আমি এই বইতে যেভাবে তা উপস্থাপন করেছি, আগে কেউ সেভাবে লেখেনি। বইটি আশা করি পাঠকদের ভাল লাগবে।

প্রকাশকদের কথা
প্রকাশকরা এদিন বেজায় খুশি ছিলেন। বিক্রি হয়েছে প্রচুর। নাম করা স্টলগুলো থেকে বই কিনতে কোন কোন পাঠককে আধা ঘণ্টার ওপরে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। শোভা প্রকাশনীর মালিক মিজানুর রহমান বলেন, এবার নতুন বই এনেছি ৪০টিরও বেশি। এর মধ্যে সৃজনশীল বই আছে অনেক। প্রথম থেকেই এবার মেলা জমজমাট। শুরম্নতে বিক্রি মোটামুটি হলেও এখন বেশ ভাল বিক্রি হচ্ছে। পাঠকদের অভিযোগের ভিত্তিতে পালক পাবলিশার্সের মালিক ফোরকান আহমদ বলেন, আমি সব সময়ই সৃজনশীল বই প্রকাশ করি। বাণিজ্যিক চিনত্মা থেকে নয়, সমাজ ও দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই এ কাজটি করি আমি। অন্য প্রকাশকরাও যদি সৃজনশীল বই প্রকাশে একটু বেশি উদ্যোগী হতো তাহলে পাঠকরা আজ আর অভিযোগ করতে পারত না। তিনিও বিক্রি ভাল হচ্ছে বলে জানালেন।

শিশুদের আবৃত্তি প্রতিযোগিতা
প্রতি বছরের এবারও বাংলা একাডেমী শিশুদের আবৃত্তি প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিল শুক্রবার। শিশুদের তিনটি শাখায় এদিন মোট অংশ নেয় ২৬৮ জন শিশু। সবচেয়ে ছোট ক শাখায় ১২৫ জন শিশু আবৃত্তি করে কাজী নজরম্নলের 'খুকি ও কাঠ বিড়ালী' কবিতাটি। খ শাখায় অংশ নেয়া ১০০ শিশু আবৃত্তি করে আবু জাফর বোয়দুলস্নাহর 'মাগো ওরা বলে' কবিতাটি। আর গ শাখার ৪৩ শিশু সৈয়দ শামসুল হকের আমার পরিচয় আবৃত্তি করে। শিশুদের এই প্রতিযোগিতার প্রাধমিক ফলাফল প্রকাশিত হবে ১৬ ফেব্রম্নয়ারি, ফাইনাল প্রতিযোগিতা হবে ১৯ ফেব্রম্নয়ারি। আর বাংলা একাডেমী পুরস্কার ঘোষণা করা হবে ২০ ফেব্রম্নয়ারি।

নতুন বই
এদিন নতুন বই এসেছে ২১৪টি। এর মধ্যে উপন্যাস ছিল ৫২টি, কবিতা ৪৩টি, গল্প ২৫টি, শিশুসাহিত্য ও রচনাবলী ১৩টি করে উলেস্নখযোগ্য। এদিনের বইগুলোর মধ্যে শওকত আলম সিদ্দিকীর পশুর মেলা, পাখির মেলা ও ঐ যে আকাশ শিশুতোষ তিনটি বই ছিল উলেস্নখযোগ্য। সহজ সরল বাক্যে লেখা এরং রঙিন ও শিশু উপযোগী অলঙ্করণে বেশ আকর্ষণীয়ভাবে তৈরি করা হয়েছে। ছোট ছোট বাক্যের সঙ্গে ছবি যুক্ত করে বইগুলোকে করেছে সহজবোধ্য এবং এই বইয়ের মাধ্যমে শিশুরা সহজে ছবি অাঁকায় অভ্যসত্ম হবে। এদিনের অন্যান্য বইগুলোর মধ্যে রয়েছে আখতার জামানের উপন্যাস মেঘ ছুঁয়েছে একা একা এনেছে ইত্যাদি, আসিনুল ইসলামের ছড়ার বই চিচিংফাঁকের দেশে এনেছে মুক্তচিনত্মা, শিকড় এনেছে রাবেয়া সুলতানার কাউকে কিছু না বলে, বাতিঘরে পাওয়া যাচ্ছে শাহজাহান সাজুর নাম নেই, সিআইডি পুলিশসহ ৬টি বই।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি জামায়াতের
স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ সন্ত্রাসী হামলায় নিহত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মহিউদ্দিন মাসুমকে জামায়াতে ইসলাম শিবির কর্মী দাবি করে খুনীদের দৃষ্টানত্মমূলক শাসত্মির দাবি জানিয়েছে। বিকেলে নগর জামায়াত আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নগর জামায়াতের আমির ও এমপি মাওলানা শামসুল ইসলাম। সাংবাদিক সম্মেলনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘটিত ছাত্র সংঘর্ষের পর একজন ছাত্র নিহত হওয়ার প্রেেিত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর উস্কানিমূলক বক্তব্য ও নির্দেশের ভিত্তিতে দেশজুড়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম হয়েছে অভিযোগ করে এ দুই মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করা হয়। জামায়াত তাদের প থেকে ৫ দফা দাবি দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মহিউদ্দিন, শাহীন ও রাবি ছাত্র ফারম্নকসহ সকল হত্যাকা-ের সুষ্ঠু তদনত্ম ও খুনীদের গ্রেফতার করে শাসত্মি দিতে হবে। চট্টগ্রামে গ্রেফতারকৃত জামায়াত-শিবির কর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। ষড়যন্ত্রমূলক দায়েরকৃত সকল মিথ্যা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। জামায়াত শিবিরের অফিস ও নেতাকর্মীদের বাসায় হামলাকারীদের গ্রেফতার করতে হবে এবং চিরম্ননি অভিযানের নামে পুলিশী হয়রানি বন্ধ করতে হবে। সম্মেলনে জামায়াত নেতা মাওলানা মমিনুল হক চৌধুরী, জাফর সাদেক, আমিরম্নজ্জামান, মোঃ ইসহাক, নজরম্নল ইসলাম, মোঃ নুরম্নলস্নাহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। অপরদিকে বাংলাদেশ ইসলামী সমাজ কল্যাণ ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগরীর প থেকে সংগঠনের নগর সভাপতি অধ্যাপক আহসান উলস্নাহসহ গ্রেফতারকৃত সকল নেতাকমর্ীর মুক্তি দাবি করা হয়েছে।
চবিতে ২৪ বছরে নিহত ৯ মেধাবী ছাত্র
চবি সংবাদদাতা ॥ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবিরের রাজনীতি উত্থানের পর ২৪ বছরে মারা গেছে ১৩ মেধাবী ছাত্র। এর মধ্যে ৯ জনই মারা গেছে শিবিরের হাতে। দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি, ক্যাম্পাসে আধিপত্য এবং আবাসিক হলের নিয়ন্ত্রণ নিতে এসব হত্যাকা- ঘটায় শিবির। চবিতে সর্বশেষ হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে। চবির রাজনীতিবিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র ও ছাত্রলীগ সমর্থক এএমএ মহিউদ্দিন ওরফে মাসুম হত্যাকা-ে সন্দেহের তীর ছুটছে সেই শিবিরের বিরম্নদ্ধে।
চবিতে শিবিরের আত্মপ্রকাশের প্রথমদিনেই সহিংস রাজনীতির ধারা চালু হয়। ১৯৮৬ সালের ২৬ নবেম্বর জাতীয় ছাত্রসমাজ নেতা হামিদের হাতের কব্জি কেটে নেয় শিবির ক্যাডাররা। কাটা কব্জি নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রকাশ্য মিছিল বের করে তারা।
চবিতে সর্বপ্রথম হত্যাকা- ঘটে ১৯৮৮ সালের ২৮ এপিল। সেদিন নগরীর বটতলী স্টেশনে সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যর সঙ্গে ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে । এ সংঘর্ষে নিহত হয় আমিনুল হক। সে ছিল পরিসংখ্যান দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। চবিতে সংঘটিত সব হত্যাকা-ের মধ্যে শুধুমাত্র এটির বিচার হয়।
চবিতে সর্বশেষ চাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৮৯ সালে। পরবর্তী বছরের ২২ ডিসেম্বর সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যর বিজয় মিছিলে হামলা চালায় শিবির। এতে গুরম্নতর আহত হয় ছাত্রমৈত্রীর ফারম্নকুজ্জমান ফারম্নক। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় ২৪ ডিসেম্বর মারা যায় এ ছাত্রনেতা। এ হত্যা মামলার আসামি বর্তমানে চবির শিক।
চবি শিকপুত্র নরম্নল হুদা মুছাকে ১৯৯৪ সালে ২৯ অক্টোবর নির্মমভাবে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়। ছাত্রশিবিরের রাজনীতি ত্যাগ করে ছাত্রদলে যোগ দেয়ায় কাল হয়। ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের তৎকালীন শিক তাঁর পিতা ড. ইনামুল হক পুত্রের হত্যার বিচারের দাবি জানিয়েছেন দীর্ঘদিন ধরে।
বিশ্বদ্যালয়ে ছাত্রলীগ নিয়ন্ত্রিত মোজাম্মেল কটেজে শিবির ১৯৯৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর হামলা চালায়। সবাই পালিয়ে যেতে পারলেও বকুল আটকে পড়ে। নির্যাতনের পর তাকে হত্যা করে ঘাতকরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হয়নি আইয়ুব আলীর। শিবির সন্ত্রাসীদের গুলিতে ১৯৯৮ সালের ৬ মে মারা যায়।
চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের ছাত্র ও চবির শিক ড. রশীদ উন নবীর পুত্র মুশফিক উস সালেহীন ১৯৯৮ সালের ১৮ মে বালুচড়া এলাকায় শিৰক বাসে ক্যাম্পাসে যাওয়ার পথে শিবির সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন।
ছাত্র ইউনিয়ন কর্মী ও চারম্নকলা বিভাগের ২য় বর্ষের ছাত্র সঞ্জয় তলাপাত্র নগরীর বটতলী স্টেশনে শিবিরের পাথর হামলায় ১৯৯৮ সালের ২০ আগস্ট গুরম্নতর আহত হয়। চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় দুদিন পর ২২ আগস্ট চমেক হাসপাতালে মারা যায়।
২০০১ সালে নির্বাচনের পর বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার আমলে ২৯ ডিসেম্বর শিবিরের সন্ত্রাসীরা ছাত্রলীগের সহসভাপতি আলী মতর্ুজাকে গ্রামের বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়।
দীর্ঘ সময়েও এসব হত্যা মামলার একটি ছাড়া অন্যগুলোর কোন বিচার হয়নি। হত্যা মামলার আসামিদের অনেকেই জামায়াতের পৃষ্ঠপোষকতায় দেশ-বিদেশে প্রতিষ্ঠিত। পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদাসীনতায় হত্যা মামলার আসামিরা বার বার পার পেয়ে গেছে। এসব কারণে সর্বশেষ বৃহস্পতিবার রাতে আবারও চবির মেধাবী এএমএ মহিউদ্দিন খুন হয়।
রাজশাহী জামায়াত আমির ও ১০ শিবির ক্যাডার পাঁচ দিনের রিমান্ডে
বিক্ষোভ সমাবেশ হয়নি
স্টাফ রিপোর্টর্ার, রাজশাহী ॥ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে তা-ব ও ছাত্রলীগের ফারম্নক হোসেন হত্যাকান্ড এবং আবাসিক হলগুলোতে তা-ব ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটনায় গ্রেফতারকৃত রাজশাহী মহানগর জামায়াতের আমির আতাউর রহমান এবং ১০ শিবির ক্যাডারসহ মোট ১১ জনকে ৫ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। অন্যদিকে পুলিশী ধড়পাকড়ের ভয়ে শুক্রবার বাদজুমা রাজশাহী মহানগরীতে কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষিত বিােভ সমাবেশ পালন করতে পারেনি জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসসহ নগরীর গুরম্নত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে। জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এ ল্যে নগরীতে জেলা থেকে বাড়তি পুলিশ আনা হয়েছে। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র হত্যা, আহত ও তা-বের ঘটনায় শুক্রবার মতিহার থানায় আরও একটি মামলা হয়েছে। ছাত্রলীগ কর্মী রাহেদুল ইসলাম বাদী হয়ে দায়েরকৃত মামলায় শিবিরের ৩৪ নেতাকর্মী ও ক্যাডারের নামোলেস্নখসহ অজ্ঞাত ২০/২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ নিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনায় মামলার সংখ্যা দাঁড়াল ৪ -এ। এ ছাড়া পুলিশের চিরম্ননি অভিযানের তৃতীয় রাতে ১২ শিবির ক্যাডারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মোট গ্রেফতারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৬ -এ।
মতিহার থানার ডিউটি অফিসার এএসআই আমিনুল জানান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ কর্মী ফারম্নক হোসেন হত্যাকা- এবং আবাসিক হলগুলোতে তা-ব ও পুলিশের ওপর হামলার মামলায় শুক্রবার ১২ আসামিকে রাজশাহীর চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়। এরা হলো- রাজশাহী মহানগর জামায়াতের আমির আতাউর রহমান, শিবির কর্মী খালেক, সায়নুজ্জামান, মোকবুল হোসেন, গোলাম ইয়াছিন, শাহীন আলম, আব্দুল হক, মামুনুর রশিদ (১), মামুনুর রশিদ (২), খায়রম্নল ইসলাম ও ইসরাফিল। দুপুরে আসামিদের ১১ জনকে রাজশাহীর অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ রম্নহুল আমিনের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানায় পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত তাদের প্রত্যেকের ৫ দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করে। তবে রাজশাহী মহানগর জামায়াতের আমির আতাউর রহমানের প েরিমান্ডের বিরোধিতা করে আদালতে বক্তব্য রাখেন আইনজীবী যথাক্রমে শামসুল আলম, মিজানুল ইসলাম, আবু মোহাম্মদ সেলিম, নাজিমুদ্দিন খান ও সদরম্নল আলম । এর আগে জামায়াতের অনুসারী একদল চিকিৎসক এ্যাম্বুলেন্সে করে গিয়ে টেস্টের কথা বলে কোর্ট হাজত থেকে আতাউর রহমানের বস্নাড নেয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশ তাদের বাধা দিলে উভয়প েবাকবিত-ার ঘটনা ঘটে। প্রসঙ্গত গত বুধবার ২৮ এবং বৃহস্পতিবার ৬ শিবির ক্যাডারকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। তাদের নিকট থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলা ও তা-ব সম্পর্কে গুরম্নত্বপূর্ণ তথ্য প্রাপ্তির কথা জানালেও মামলার স্বার্থে তা প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।
এদিকে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষিত শুক্রবারের বিােভ কর্মসূচী পালন করতে পারেনি জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা। জানা গেছে, জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা বাদ জুমা নগরীর বিভিন্ন মসজিদ এলাকা থেকে বিােভ মিছিল করবে খবর পেয়ে সংশিস্নষ্ট মসজিদ এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। ফলে পুলিশী ধড়পাকড়ের ভয়ে শুক্রবার বাদজুমা রাজশাহী মহানগরীর কোথাও বিােভ-সমাবেশ পালন করতে পারেনি জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা।
রাবির ক্লাস আজ শুরু ॥ গুজব ছড়িয়ে ক্যাম্পাস ফাঁকা করতে চায় শিবির
স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী ॥ এদিকে নিরাপত্তাহীনতার গুজব ছড়িয়ে স্থানীয় জামায়াত-শিবিরের সমর্থকরা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও সংলগ্ন এলাকার ছাত্রছাত্রীদের বিভিন্ন স্থানে চলে যেতে উদ্বুদ্ধ করছে। তাদের প্ররোচনায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ সত্ত্বেও অনেক শিার্থী ক্যাম্পাস ও সংলগ্ন এলাকা ছেড়ে চলে গেছে। ফলে ক্যাম্পাস প্রায় ফাঁকা হয়ে পড়েছে। বর্তমানে ক্যাম্পাসে শিার্থীর সংখ্যা খুব কম। এর মধ্যে আজ শনিবার থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বিভাগের কাসসমূহ শুরম্নর কথা রয়েছে। তবে পরীাসমূহ আগামী ১৭ ফেব্রম্নয়ারি পর্যনত্ম পরীা স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।
প্রক্টর অধ্যাপক চৌধুরী মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস বর্তমানে শানত্ম ও স্বাভাবিক রয়েছে। সম্ভাব্য অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্টে ও আবাসিক হলের গেটে অতিরিক্ত পুলিশ, আর্মড পুলিশসহ ক্যাম্পাসে র্যাব সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছে।
এদিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবিরের তা-বে ছাত্রলীগ কর্মী হতাহতের প্রতিবাদ, খুনীদের ফাঁসি ও জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে শুক্রবার বিকেলে যুবলীগ নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বিনোদপুর বাজারে বিােভ সমাবেশ করেছে।
প্রত্যদর্শীরা জানান, বিকেলে ৫টার দিকে বিনোদপুর বাজারে রাজশাহী মহানগর ও ৩০ নং ওয়ার্ড যুবলীগ বিােভ সমাবেশের আয়োজন করে। বিনোদপুর বাজার থেকে বিােভ মিছিলটি রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়ক প্রদণি শেষে পুনরায় একই স্থানে সমাবেশে মিলিত হয়। ৩০ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি রাবি্বল হোসেনের সভাপতিত্বে সমাবেশে সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম, ২৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ডা. আবদুল মান্নান, রাজশাহী মহানগর শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আবদুল মোমিন, সাধারণ সম্পাদক জেডু সরকার, যুগ্ম-সম্পাদক আলী অক্কাস ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আওয়াল কবির জয় বক্তব্য রাখেন। বক্তারা অবিলম্বে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ওপর সশস্ত্র হামলাকারী শিবিরের নেতাকর্মী ও ক্যাডারদের গ্রেফতার, ফাঁসি এবং জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি জানান।
বি'বাড়িয়ায় স্কুল ছাত্রাবাসে বোমা ৭ শিবির গ্রেফতার
নিজস্ব সংবাদদাতা , ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ১২ ফেব্রম্নয়ারি ॥ বৃহস্পতিবার রাত প্রায় সাড়ে ১১টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কাউতলী রেসিডেন্সিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের ছাত্রাবাসে বোমা বিষ্ফোরণ ঘটে। পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ৭জনকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশ ও প্রত্য্যদশর্ীরা জানায়, রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেসিডেন্সিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের ৩নং ছাত্রা্বাসে প্রথমে ৩/৪টি হাত বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। পরে প্রচ- শব্দে আরও একটি বিস্ফোরণ হয়। এ সময় গোটা এলাকা কেঁপে ওঠে। ঘটনার সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগে পুলিশ হল সুপার মফিজুর রহমান (২৫), হলের সিকিউরিটি গার্ড আতিকুর রহমান (২৮), ছাত্র মোঃ রোমান (১৮), মাহমুদুল হাসান (১৮), মনিরম্নল ইসলাম (১৭), মুকিত সরকার (১৮), মোহামুদুল ইসলাম (১৮)কে গ্রেফতার করে নিয়ে আসে। তাদের বিরম্নদ্ধে বিস্ফোরক আইনে মামলা হয়েছে। প্রত্যদশর্ীরা জানায়, বোমা বিস্ফোরণে কেউ হতাহত না হলেও রম্নমের জানালার কাঁচ ও টিউব লাইট ভেঙ্গে পড়েছে। তবে পুরো ঘটনাটি রহস্য জনক বলে সংশিস্নষ্টরা মনে করছে। ঘটনার দীর্ঘণ পর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতর্া মোহাম্মদ হামিদুল ইসলাম দাবি করেছেন, গ্রেফতারকৃতরা ছাত্র শিবিরের কমর্ী। স্থানীয় সূএ জানায়, স্কুলের মালিকানা নিয়ে বিরোধের কারণে পরিকল্পিতভাবে এটি হয়ে থাকতে পারে। বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেসিডেন্সিয়াল স্কুল এন্ড কলেজটি স্থানীয় জামায়াত নেতারা পরিচালনা করছেন।
এদিকে স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, বাইরে থেকে প্রথমে ছাত্রাবাসের জানালায় গুলি করা হয়। কমপ ে৫/৬ রাউন্ড গুলি চালানো হয়। প্রত্যদশর্ীদের বরাত দিয়ে দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, প্রথমে যে শব্দ হয়েছে সে সব শব্দ গুলির। পরেরটি বোমার। ঘটনার পরপর সরকারী গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর লোকজন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। সদর থানার এসআই ফেরদৌস জাহান বাদী হয়ে বিস্ফোরক উপাদানবলী ১৯০৮ আইন অনুসারে মামলা দায়ের করেছেন। শুক্রবার বিকেলে গ্রেফতারকৃতদের ৫ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠায় পুলিশ। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতর্া আরও জানায়, গ্রেফতারকৃতদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড চাওয়া হয়। এদিকে স্কুলের মালিকানার সঙ্গে ভারতের এক নাগরিক বাংলাদেশের মিথ্যা পরিচয়ে যুক্ত রয়েছে বলে জানা গেছে।
এবার সরকারকে হুমকি দিল শিবির
স্টাফ রিপোর্টার ॥ রাবির ঘটনা নিয়ে সরকারের নেয়া পদৰেপকে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে মোকাবেলার হুমকি দিয়েছে শিবির। শিবির সভাপতি রেজাউল করিম তাদের বিরম্নদ্ধে সরকারের নেয়া পদৰেপকে অগণতান্ত্রিক হিসেবে অভিহিত করে এই হুমকি দিয়েছেন। রগ কাটা বাহিনী হিসাবে পরিচিত উগ্রবাদী সংগঠনের এবার উল্টো দাবি, তারা নয় বরং ছাত্রলীগ হলো দেশের সবচেয়ে বড় জঙ্গী সংগঠন। শিবিরকে নিষিদ্ধ করার আগে ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করতে হবে। শিবির সভাপতি রেজাউল করিম একই সঙ্গে দাবি করেছেন, আমরা নই বরং রগ কাটার দল হলো ছাত্রলীগ। শিবির হচ্ছে থিউরিটিক্যাল রগ কাটা আর ছাত্রলীগ প্র্যাকটিক্যালি রগ কাটার দল। আর যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটির দেয়া জঙ্গী সংগঠনের তালিকা অসত্য ও মিথ্যা।
শুক্রবার দুপুরে পুরানা পল্টনস্থ ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিবির সভাপতি এসব কথা বলেছেন। রেজাউল করিম বলেন, ছাত্রলীগের অব্যাহত সন্ত্রাসের লাগাম টেনে না ধরে সরকার ছাত্রশিবিরকে নির্মূলের যে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে তা পরিচালনার নৈতিক অধিকার এ সরকারের মন্ত্রী, পুলিশ বা ছাত্রলীগের নেই। বিভিন্ন মহল থেকে শিবিরকে নিষিদ্ধ করার দাবি প্রসঙ্গে শিবির সভাপতি বলেন, ছাত্রলীগকে কয়েকবার নিষিদ্ধ করা উচিত। কারণ বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় জঙ্গী সংগঠন হচ্ছে ছাত্রলীগ। তার কুকর্মের কারণে প্রধানমন্ত্রী ছাত্রলীগের সাংগঠনিক প্রধানের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবিরের হামলায় ছাত্রলীগের এক কর্মীর নিহত ও চারজনের হাত-পায়ের রগ কেটে নেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে সভাপতি বলেন, 'আমরা রগ কাটিনি।' যাঁরা আহত হয়েছেন তাঁরা হামলাকারীর নাম উলেস্নখ করে বলেছেন, ছাত্রশিবিরের কোন কোন নেতা রগ কেটেছে, সাংবাদিকদের এমন মনত্মব্যের জবাবে রেজাউল করিম বলেন, রাষ্ট্র যখন কারও বিরম্নদ্ধে অবস্থান নেয় তখন এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে। তিনি জানান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনায় তারা তিন সদস্যের একটি তদনত্ম কমিটি গঠন করেছেন। লিখিত বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, ছাত্রলীগ নেতার হত্যার সঙ্গে তাদের কেউ জড়িত নন। এর পরিপ্রেেিত সাংবাদিকরা জানতে চায়, 'আপনারা বলছেন তদনত্ম কমিটি গঠন করা হয়েছে আবার বলছেন শিবির নির্দোষ, তাহলে কেন তদনত্ম কমিটি গঠন করেছেন।' জবাবে রেজাউল বলেন, লাশটি কে ম্যানহোলে রাখল, ছাত্রশিবিরকে দোষী করল, সেখানে শুধু হত্যার ঘটনাই ঘটেনি, সেখানে আরও ঘটনা ঘটেছে ও গ্রেফতার হয়েছে। তদনত্ম কমিটি দেখবে সেখানে কোন বাড়াবাড়ি হয়েছে কিনা।
সাংবাদিকরা বলেন, তাহলে তদনত্ম কমিটির ফল কী হবে তা তো আগেই বোঝা যাচ্ছে। এ মনত্মব্যের জবাবে শিবিরের সভাপতি আবারও বলেন, তদনত্ম কমিটি দেখবে সেখানে কোন প্রকার বাড়াবাড়ি হয়েছে কিনা। সাংবাদিকরা তদনত্ম কমিটির সদস্যদের নাম জানতে চাইলে তিনি সদস্যদের নাম প্রকাশে রাজি হননি। সাংবাদিকরা জানতে চান, পৃথিবীতে এমন কোন তদনত্ম কমিটি কি আছে যেখানে কমিটির সদস্যদের নাম প্রকাশ করা হয়নি। জবাবে রেজাউল করিম বলেন, এটা ব্যতিক্রম ধরতে পারেন। এটা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম তদনত্ম কমিটি হবে। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি শিবিরকে জঙ্গী সংগঠন হিসাবে তুলে ধরেছে। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে রেজাউল করিম বলেন, ঐ তালিকা অসত্য, মিথ্যা। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন শিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল ডা. আব্দুলস্নাহ আল মামুন চৌধুরী, কেন্দ্রীয় নেতা গোলাম মাওলা শিমুল, দেলোয়ার হোসেন, আতাউর রহমান সরকার প্রমুখ।
বগুড়ায় চাঁদাবাজদের ছুরিকাঘাতে হাটের কেয়ারটেকার ও গণপিটুনিতে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা নিহত
স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া অফিস ॥ বগুড়ার নন্দীগ্রামের ওমরপুর হাটে শুক্রবার বিকেলে চাঁদাবাজদের ছুরিকাঘাতে ১ জন নিহত ও ৩ জন আহত হয়েছে। এই ঘটনার পর হাটের লোকজন পিটিয়ে গুরম্নতর আহত করেছে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতিসহ কয়েকজনকে। নিহত ব্যক্তি হলেন হাটের কেয়ারটেকার ইউসুফ আলী (৫০)। তাঁর বাড়ি নন্দীগ্রামে। আহতরা হলো সামসুল (২৬) ও মাফু (২৭)। তাদের বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানায় নন্দীগ্রাম পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান জুয়েল বিকেলে তার দলবল নিয়ে ওমরপুর হাটে গিয়ে ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদা দাবি করতে থাকে। এ সময় চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে জুয়েলের লোকজন এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করতে থাকে। এ সময় হাটের কেয়ারটেকার ইউসুফ আলী ঘটনাস্থলেই মারা যান। এই ঘটনায় হাটের লোকজন প্তি হয়ে জুয়েলকে ধাওয়া করে ধরে ফেলে এবং গণধোলাই দিয়ে আগুন লাগিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। পুলিশ গিয়ে গুরম্নতর আহত জুয়েলকে উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
তিন নাটক মঞ্চস্থ, ভাষা দিবসের গান বেঙ্গলে
সংস্কৃতি সংবাদ
স্টাফ রিপোর্টার ॥ লোক নাট্যদলের সাম্প্রতিক প্রযোজনা 'লীলাবতীর আখ্যান'-এর ২৫তম মঞ্চায়ন শুক্রবার শিল্পকলা একাডেমীর এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে অনুষ্ঠিত হয়। নারীর বুদ্ধিদীপ্ত প্রকাশ এই নাটকের অনত্মর্নিহিত প্রতিপাদ্য। নারীর বিকাশকে রম্নদ্ধ করার ইতিহাস উপস্থাপন করার মধ্যদিয়ে 'লীলাবতী আখ্যান' একটি নারীমুক্তির আখ্যানে পরিণত হয়। 'কিংবদনত্মির খনা'র জীবনালেখ্য 'লীলাবতী আখ্যান' রচনা করেছেন নাসরীন মুসত্মাফা। নির্দেশনা দিয়েছেন লিয়াকত আলী লাকী। নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেন মাহফুজা হিলালী হ্যাপী, মাসুদ সুমন, লিয়াকত আলী লাকী, আবু বকর বকশী, ঈসা আল জামী রাহী, চন্দ্রশেখর দেবনাথ, রম্নবেল শঙ্কর, আব্দুলস্নাহ আল মাহমুদ মামুন, আজিজুর রহমান সুজন, জাকির হোসেন, সহিদুজ্জামান আকাশ, মাহবুব রাব্বী তনয়, জেবুন্নেসা সোবহান, আনিছুর রহমান, নাজমুস শাহাদাত, শ্রাবণ হায়দার বুলবুল, নুরম্নন্নাহার বেবী, উম্মে সাহেলা শিল্পী, মোসত্মাফিজ, পারভেজ, মাসুম, টনি, মুনিয়া, মণি, আলিফ প্রমুখ। আবহ সঙ্গীত পরিচালনায় ইয়াসমিন আলী ও নির্ঝও চৌধুরী। একই দিন দলের ১৩ বছর পূর্তি উপলৰে মহিলা সমিতি মিলনায়তনে 'শাদী মোবারক' নাটকটি মঞ্চস্থ করে বাঙলা নাট্যদল। এটি ছিল নাটকের ৪৭তম মঞ্চায়ন। নাটকটির রচনা ও নির্দেশনায় ছিলেন হ. ম সহিদুজ্জামান। শিল্পকলা একাডেমীতে এদিন সিএটি মঞ্চস্থ করে 'সেনাপতি' নাটকটি।
ভাষা দিবসের গান বেঙ্গলে
বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের নিয়মিত আয়োজন 'প্রাণের খেলা'য় শুক্রবার পরিবেশিত হলো আনত্মর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের গান। অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন বিশিষ্ট কণ্ঠশিল্পী সুমন চৌধুরী এবং বেঙ্গল বিকাশ প্রতিযোগিতার দুই বিজয়ী সুমা রানী রায় ও নিলুফার জাহান। অনুষ্ঠানে শিল্পী নিলুফার জাহান পরিবেশন করেন_ তুমি নির্মল কর মঙ্গল কর, মায়ের দেয়া মোটা কাপড়, দেখ মা এবার দুয়ার খুলে ও মলয় আসিয়া কয়ে গেছেসহ বেশ কিছু গান। শিল্পী সুমা রানী রায়ের কণ্ঠে ছিল_ আমি অলকে পরিতে, একবার গাল ভরা মা ডাকে ও আমি বাঁধিনু তোমার তীরে। সার্থক জনম আমার, একবার তোরা মা বলিয়া ডাক, কে বসিলে আজি, বাসনত্মী হে ভুবনমোহিনী, সন্ধ্যা গোধূলি লগনে, ভরিয়া পরাণ শুনিতেছি গান, কুহু কুহু কুহু, আজি এ কুসুমহার, মোর প্রিয়া হবে, চৈতালী চাঁদনী রাতে, স্বপনে এসো নিরজনে, আমার শ্যামা মায়ের, মাগো চিন্ময়ী রূপ ধরেসহ আরও কয়েকটি গান গেয়ে শোনান শিল্পী সুমন চৌধুরী। সান্ধ্যকালীন এ আয়োজন বেশ উপভোগ করেন শ্রোতা।
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের নতুন স্থাপত্য মডেল উন্মোচন
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের নির্মিতব্য নতুন ভবনের স্থাপত্য মডেল উন্মোচন ও তহবিল সংগ্রহ অভিযান উপলৰে এক অনুষ্ঠান শুক্রবার শিল্পকলা একাডেমীতে অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন জাদুঘরের ট্রাস্টি আলী যাকের, আক্কু চৌধুরী, মফিদুল হক, ড. সারওয়ার আলী, আসাদুজ্জামান নূর প্রমুখ। অনুষ্ঠানে জাদুঘরের নতুন ভবনের নকশা উপস্থাপনের পাশাপাশি একাডেমীর উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে স্থাপনা, আলো ও শব্দ মূর্ছনা দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ ও বধ্যভূমির প্রতিরূপ প্রদর্শন করা হয়। আজ শনিবারও একই স্থানে বধ্যভূমির প্রতিরূপ প্রদর্শন করবে থিয়েটার ডিজাইন ইনস্টিটিউট।
কারম্নশিল্প মেলা আজ শুরম্ন
বাংলার প্রাচীন রাজধানী ঐতিহাসিক সোনারগাঁওয়ে আজ শনিবার থেকে শুরম্ন হচ্ছে কারম্নশিল্প মেলা। মাসব্যাপী এ মেলার আয়োজন করছে লোক ও কারম্নশিল্প ফাউন্ডেশন। ফাউন্ডেশনের লোকজ মঞ্চে বিকেল ৪টায় এর উদ্বোধন করবেন সংসদ সদস্য আব্দুলস্নাহ-আল কায়সার। ফাউন্ডেশনের পরিচালক রবীন্দ্র গোপের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি থাকবেন সংস্কৃতি সচিব হেদায়েতুলস্নাহ আল মামুন। মেলায় বাউল গান, পালাগান, কবি গান, ভাওয়াইয়া, ভাটিয়ালি, জারি গান, সারি গানসহ প্রায় সব ধরনের লোকজ সঙ্গীতের পরিবেশনা অনত্মভর্ুক্ত থাকবে। কনে দেখা, গায়ে হলুদ, পালকিতে বরযাত্রা, জামাইকে পিঠা খাওয়ানো ইত্যাদি ঐতিহ্যবাহী আচার অনুষ্ঠানেরও থাকবে নান্দনিক উপস্থাপনা। আয়োজক সূত্র জানায়, মেলায় কারম্নশিল্পজাত পণ্যসামগ্রী বিক্রয়ের জন্য বেশকিছু স্টল বসানো হয়েছে। এসবের ৬৮টিতে হসত্মশিল্প ও ৩৬টিতে থাকবে পোশাকের প্রদর্শনী।