মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শুক্রবার, ২৫ অক্টোবর ২০১৩, ১০ কার্তিক ১৪২০
ব্যাপক নাশকতা ॥ জামায়াতী ছক
০ ঢাকায় গ্যাস, বিদ্যুত লাইন কেটে দেয়া, পুলিশ ফাঁড়ি আক্রমণসহ মসজিদকেন্দ্রিক নাশকতার পরিকল্পনা
০ জামিন পেয়ে মাঠে নেমেছে পুলিশ পেটানো প্রশিক্ষিত কর্মীরা
০ মহল্লায় মহল্লায় মহাজোটের প্রতিরোধ, অপরিচিত সন্দেহজনক কাউকে পেলে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হবে
বিভাষ বাড়ৈ ॥ নির্বাচনকালীন সরকার এবং আজকের জনসভা ঘিরে জোট-মহাজোটের মুখোমুখি অবস্থানে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক। সভাসমাবেশ নিষিদ্ধ থাকলেও আজ সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যানে ১৮ দলীয় জোটকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মহাসমাবেশের অনুমতি দেয়ায় কিছুটা স্বস্তি দেখা গেলেও আতঙ্ক কাটছে না। বিএনপি ঘোষণা দিয়েছে, সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যান নয়, নয়াপল্টনেই তারা সমাবেশ করবে। অন্যদিকে বার বার ওয়াদা দিলেও ১৮ দলের কর্মসূচী জামায়াত-শিবিরসহ উগ্রবাদীদের কারণে আদৌ শেষ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ হবে কিনা, এ নিয়েও রয়েছে আতঙ্ক। বিএনপি নেতা সাদেক হোসেন খোকা দলীয় নেতাকর্মীদের দা-কুড়াল নিয়ে মাঠে নামার ঘোষণা অনুসারেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবির আড়ালে যুদ্ধাপরাধীদের মুুক্তির আশায় আজকের দিনটিকে টার্গেট করেছে দলগতভাবে যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত জামায়াত-শিবির। ১৮ দলের কর্মসূচীকে কাজে লাগিয়ে দেশজুড়ে কষা হয়েছে বড় ধরনের নাশকতার ছক। রাজধানীসহ অন্তত ৩০টি জেলাকে টার্গেট করে ইতোমধ্যেই মাঠে নেমেছে জামায়াত-শিবির ছুটি ও আত্মগোপনে থাকা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নেতাকর্মীদের বিশেষ গ্রুপ ‘রিজার্ভ ফোর্স।’ সকল যুদ্ধাপরাধীর মুক্তির আশায় চরম অস্থিরতা তৈরিতে আজকের দিনটিকে যে কোন মূল্যে কাজে লাগাতে চায় জামায়াত।
দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থানে দেশজুড়ে সৃষ্ট আতঙ্ক সর্বশেষ নমনীয় অবস্থানে গত মঙ্গলবার থেকেই আস্তে আস্তে কাটতে শুরু করেছিল। যুদ্ধাংদেহী অবস্থার পরিবর্তে হঠাৎ দুই পক্ষের চিঠি, ফোনালাপ আর জাতিসংঘের উদ্যোগের পর বুধবার বিরোধী দলের সংসদে যোগদানের মধ্য দিয়ে আরও নাটকীয় মোড় নিয়েছিল দেশের রাজনীতি। বইতে শুরু করেছিল সমঝোতা-সংলাপের সুবাতাস। কিছুটা আশার আলো দেখছিল মানুষ। তবে সরকারীভাবে সঙ্কট উত্তরণে সর্বোচ্চ ছাড় দেয়ার মনোভাব দেখালেও আজকের দিনটিকে ঘিরে বিএনপি, জামায়াত-শিবিরের দেশজুড়ে নাশকতা দমনে কঠোর অবস্থান নেয় সরকার। বিএনপির ঘাড়ে চেপে জামায়াত-শিবিরসহ উগ্রবাদীদের যে কোন নাশকতার হাত থেকে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রস্তুত রাখা হয় র‌্যাব, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকার পর বুধবারই চট্টগ্রাম, ররিশালেও সভাসমাবেশ নিষিদ্ধ করার ঘোষণা আসে। সারাদেশের জামায়াত-শিবিরের নাশকতামূলক কর্মকা- শুরু হওয়ায় আরও কঠোর অবস্থান নেয় সরকার। এই অবস্থায় রাজধানীতে মহাসমাবেশের অনুমতি দেয়া হবে কিনা, সে প্রশ্ন সামনে চলে আসে। তবে এরই মধ্যে অনুমতি না হলেও সমাবেশ করবই বৃহস্পতিবার বিএনপি নেতাদের এমন ঘোষণায় উত্তেজনা বেড়ে যায়। আগের ঘোষণা অনুযায়ী বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া এ জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন। জনসভা করবই বিএনপির এমন ঘোষণায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে দেশের বিভিন্ন স্থানেও। বগুড়ায় ১৪৪ ধারা ভেঙ্গে শুক্রবার জনসভা করার ঘোষণা দেয় ১৮ দলীয় জোট। আগেই আওয়ামী লীগ ও বিএনপি একই স্থানে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচী ডাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন। বগুড়া জেলা বিএনপি সংবাদ সম্মেলন করে ১৮ দলের জনসভায় ১৪৪ ধারা জারি করার প্রতিবাদ জানিয়ে তা ভাঙ্গার ঘোষণা দেয়।
এদিকে মাঠে সক্রিয় হয়ে ওঠে শিবির। খোদ রাজধানীর মহাখালী, বাড্ডায় আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে আগুন দেয়ার অপচেষ্টা চালায় তারা। ২০-৩০ শিবির ক্যাডার বাড্ডা কার্যালয়ে হামলা চালায়। এরপর আগুন দিতে গেলে হাতেনাতে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে শিবিরের দুই ক্যাডার। নয়াপল্টনে মোটরসাইকেলে আগুন দেয়া হয়। বিএনপির পর দুপুরেই জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান যে কোন মূল্যে শুক্রবারের জনসভাসহ সারাদেশে কর্মসূচী পালন করতে নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেন। এদিকে মুখে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচীর কথা বলা হলেও জনসভার নামে নেয়া হয়েছে নাশকতার পরিকল্পনা। জানা গেছে, সমাবেশকে ঘিরে আজ ঢাকার ৬টি প্রবেশ পথে অবস্থান নিয়ে রাজধানী অচল করার পরিকল্পনা রয়েছে ১৮ দলীয় জোটের। নয়াপল্টনে জনসভা বা অন্য কোন কর্মসূচী করে লাগাতার অবস্থান নেয়ার পোপন পরিকল্পনা আছে তাদের। সারাদেশে একইসঙ্গে নাশকতা ও আন্দোলন চলানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। কেবল তাই নয়, আজকের মহাসমাবেশে যোগ দিতে নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংকের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নির্দেশ দিয়েছেন। সরকারের কাছে সদ্য জমা পড়া বিশেষ একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানানো হয়েছে। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা নোবেল জয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংকের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে ১৮ দলীয় জোটের মহাসমাবেশে অংশগ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। এদের সঙ্গে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র, টিএমএসএস ও ডেসটিনিসহ বিভিন্ন বেসরকারী সংস্থার কর্মকর্তা কর্মচারীরাও সম্মিলিত পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের ব্যানারে সমাবেশে যোগ দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আজ সারাদেশে একইসঙ্গে নাশকতা ও আন্দোলন শুরু করবে ১৮ দলীয় জোট। কেন্দ্রীয়ভাবে দায়িত্ব পালন করবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন ও তরিকুল ইসলাম। এছাড়া প্রতিটি বিভাগ, জেলা ও থানা এবং ওয়ার্ডভিত্তিক কমিটি গঠন করে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। ধ্বংসাত্মক কর্মকা- চালাতে বৈধ অস্ত্রের পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র গোলাবারুদ মজুদ করা হয়েছে। নাশকতা চালাতে জামায়াতে ইসলামী, ছাত্রশিবির, হেফাজতে ইসলাম ও বিভিন্ন জঙ্গী সংগঠন প্রস্তুত। শিবিরের প্রায় দশ হাজার সদস্য এখন ঢাকায় অবস্থান করছে বলেও জানা গেছে। আজ ১৮ দলীয় জোটের প্রধান টার্গেট ঢাকার প্রবেশ পথ যাত্রাবাড়ী, পোস্তগোলা, বাঁশেরপুল, বাবুবাজার, গাবতলী ও আব্দুল্লাহপুর। অবস্থান নিয়ে তারা ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালাবে। পানি, বিদ্যুত, গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, নিরাপত্তা চৌকি, থানা, আওয়ামী লীগ অফিসও রয়েছে তাদের হামলার টার্গেটে। এছাড়া নয়াপল্টন, বিজয়নগর, কাকরাইল, দৈনিক বাংলার মোড়, ফকিরাপুল, শাপলা চত্বর, বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট, প্রেসক্লাব, যাত্রাবাড়ী, ফার্মগেট, গাবতলী, মিরপুর-১, মিরপুর-১০, মহাখালী, আব্দুল্লাহপুরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টসমূহে তারা অবস্থান নেয়ার পরিকল্পনা করেছে। জুমার নামাজের পর জামায়াত-শিবির ও হেফাজতে ইসলামের বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা বায়তুল মোকাররম, পুরানা পল্টন জামে মসজিদ, বিজয়নগরের মসজিদে নূর, নয়াপল্টন জামে মসজিদ, কালভার্ট বেড়া মসজিদ, গোলাপশাহ মসজিদ, কাঁটাবন মসজিদ, ফকিরাপুল মেজবাউল উলম মাদ্রাসা ও মসজিদ, বটতলা মসজিদ ও পিডব্লিউডি জামে মসজিদসহ বিভিন্ন মসজিদ ও মাদ্রাসায় অবস্থান নিয়ে ব্যাপক ধ্বংসাত্মক কর্মকা- চালানোর পরিকল্পনা নিয়েছে।
এদিকে ১৮ দলের এবারের আন্দোলনকে যে কোন মূল্যে কাজে লাগাতে বিশেষভাবে প্রস্তুত জামায়াত-শিবির। বিএনপির ঘাড়ে চেপে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবির আড়ালে যুদ্ধাপরাধীদের মুুক্তির আশায় আজকের দিনটিকে টার্গেট করেছে দলগতভাবে যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত জামায়াত-শিবির। এ লক্ষ্যে ইতিবাচক হলেও নির্বাচন সম্পর্কিত যে কোন সরকারী ঘোষণার বিরুদ্ধে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে জামায়াত তার রাজনৈতিক মিত্র বিএনপিকেও জানিয়ে দিয়েছে। একই সঙ্গে কষা হচ্ছে বড় ধরনের নাশকতার ছক। ১৮ দলের ব্যানারেই ২০০৬ সালের পল্টন সংঘর্ষে নিজেদের কর্মী নিহত হওয়ার প্রতিশোধ নেয়ার অঙ্গীকার করে দেশজুড়ে শিবির ক্যাডারদের প্রস্তুত হতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। প্রতিশোধ ও নিজেদের শক্তির প্রমাণ দিতে নেয়া হয়েছে নাশকতার পরিকল্পনা। শিবিরের ভাষায় প্রতিশোধ ও সকল যুদ্ধাপরাধীর মুক্তির আশায় চরম অস্থিরতা তৈরিতে ১৮ দলীয় জোটের সমাবেশের দিনটিকেই কাজে লাগাতে চায় জামায়াত। তাদের নাশকতার পরিকল্পনা সম্পর্কে আরও জানা গেছে, ঢাকা মহানগরীকে উত্তাল করতে চায় তারা। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর গত বৃহস্পতিবার প্রকাশ্যে মাঠে নেমেছেন দলটির নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি নূরুল ইসলাম বুলবুল। তিনি মহানগর ও থানা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তিনি পর্যায়ক্রমে ওয়ার্ড শিবির নেতাকর্মীদের সঙ্গেও বৈঠক করেন। এছাড়াও কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ড. মুঃ শফিকুল ইসলাম মাসুদ ও মঞ্জুরুল ইসলাম ভূঁইয়া, মোবারক হোসাইন, মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান ও এ্যাডভোকেট হেলাল উদ্দীন এবং শিবির নেতা মিজানুর রহমানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের তৎপরতা বাড়িয়েছেন। এরা মূলত এতদিন আন্ডারগ্রাউন্ডে ছিলেন। এছাড়া শিবিরে সদ্য জামিন পাওয়া নেতারা প্রকাশ্যে না এলেও ভেতরে থেকে সব কলকাঠি নাড়ছেন বলেও জানা গেছে। শিবির সূত্রে জানা গেছে, মতিঝিলসহ রাজধানীতে বিভিন্ন সময় পুলিশ পেটানোর জন্য প্রশিক্ষিত ক্যাডাররা আবারও মাঠে নামছে। জামায়াত-শিবির নেতারা জানিয়েছেন, শেষ মুহূর্তে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে তারা তাদের শক্তিশালী রিজার্ভ ফোর্সকে মাঠে নামাতে বাধ্য হয়েছেন। অতীতের মতো পুলিশ পেটানোর পাশাপাশি নতুন করে সরকারী অফিসে হামলা, অগ্নিসংযোগ, থানা ও পুলিশ ফাঁড়িতে আগুন, ঢাকায় আওয়ামী লীগের থানা ও ওয়ার্ড লেভেলের অফিসে আগুন দেয়ার পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামছে তারা। অভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে রাজশাহী, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর মহানগরও। সঙ্গে বাছাই করা ৩৩টি জেলার জামায়াত ও শিবির সভাপতিকে একই ধরনের নির্দেশ দিয়েছেন কেন্দ্র থেকে। জেলাগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো, সাতক্ষীরা, দিনাজপুর, গাইবান্ধা, ঠাকুরগাঁও, মাগুরা, পটুয়াখালী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর, বাগেরহাট, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, ঝিনাইদহ, লালমনিরহাট, কুমিল্লা, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, নোয়াখালী, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, পিরোজপুর, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, কক্সবাজার জেলা। এরই অংশ হিসেবে গত দুই দিন সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, রাজধানীর বনানী ও টঙ্গীতে আওয়ামী লীগের অফিসে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করেছে জামায়াত-শিবিরের প্রশিক্ষিত ক্যাডাররা।
তবে যে কোন নাশকতা মোকাবেলায় প্রস্তুত আওয়ামী লীগসহ মহজোটের দলগুলোও। রাজধানীজুড়ে মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। নেতারা মাঠ দখলে রাখতে বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন। দিয়েছেন নানা নির্দেশনা। বঙ্গবন্ধু এ্যাভিনিউ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা থেকে এ ঘোষণা দেন আওয়ামী লীগ নেতারা। এ লক্ষ্যে শুক্রবার থেকে রাজধানীর মসজিদগুলোতে অবস্থানের পাশাপাশি পাড়া-মহল্লায় অপরিচিত কাউকে দেখা মাত্র গণধোলাই দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দিতে নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। নাশকতা মোকাবেলা করে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাতেই ঢাকাসহ বিভাগীয় শহরে নেমেছে বিজিবি। সভাসমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে খুলনায়ও। জ্বালাও-পোড়াও করলে তা কঠোর হাতে দমন করবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীÑ এ মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর। তিনি বলেন, নৈরাজ্য সৃষ্টি করলে বিরোধী দলকে দেশের কোথাও সভাসমাবেশ করতে দেয়া হবে না। মন্ত্রী বলেন, আমি এখনও আশা করব বিএনপিসহ অন্য রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে এবং দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। তবে, নির্বাচন বানচাল করতে চাইলে সরকারের সব শক্তি দিয়ে তা প্রতিহত করা হবে। পরস্পরবিরোধী ত্রিমুখী এ অবস্থানে রাজধানীজুড়ে সহিংসতার আশঙ্কায় সংশ্লিষ্ট রাজনীতিক, বুদ্ধিজীবী, সমাজ বিশ্লেষক ও মিডিয়াকর্মীদের পাশাপাশি এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও নানা ভাবনা ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। তবে অনেকেরই মত ও প্রত্যাশা হচ্ছে, আসলে কিছুই হবে না।
ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়
দৈনিক তিন কাপ কফি পান করলে লিভার ক্যান্সারের ঝুঁকি অর্ধেকটা কমে আসবে। কফি ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করে তা আগেই প্রমাণিত হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় জানা গেল, লিভার ক্যান্সারের ঝুঁকিও কমায়। গবেষক ড. কার্লো লা ভেসিয়া বলেন, অতীতে বিভিন্ন গবেষণায় এমনটাই বলা হয়েছে কফি স্বাস্থ্যের জন্য ভাল। কিন্তু লিভারের জন্য এই পানীয় আরও ভাল। ইতালির একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মহামারীবিদ্যা বিভাগের এই গবেষক বলেন, লিভার সিরোসিস ও এনজাইমে তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলে কফি। তবে লিভার ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাসে কফি কেন বিশেষ ভূমিকা রাখে, তা এখনও ভালভাবে জানা সম্ভব হয়নি। লিভার ক্যান্সার থেকে বাঁচতে ব্যাপকভাবে হেপাটাইটিস বি ভ্যাকসিন নেয়া হচ্ছে। বিশ্বে সাধারণত যেসব ক্যান্সার হয় তার মধ্যে লিভার ক্যান্সার ষষ্ঠ। এতে প্রতিবছর বহু লোক মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে। ক্যান্সারে মৃত্যুর হারের দিক থেকে লিভার ক্যান্সার তৃতীয় কারণ। খবর মেইল অনলাইনের।
মেধাবী ছাত্র তুহিনের জীবন বাঁচাতে এগিয়ে আসুন
স্টাফ রিপোর্টার ॥ প্রিয় দেশবাসী, মেধাবী ছাত্র তুহিন কুমার পান্ডের জীবন বাঁচাতে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিন। তিনি দুরারোগ্য অগ্ন্যাশয় ও লিভারজনিত হেপাটাইটিস বি রোগে আক্রান্ত। দেশের বিভিন্ন চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে তাঁকে চিকিৎসা করানো হয়েছে। কিন্তু তাঁর শারীরিক অবস্থার কোন উন্নতি হয়নি। জরুরী ভিত্তিতে ভারতের ভেলোর খ্রীশ্চিয়ান হসপিটালে নিয়ে যাওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। কিন্তু তুহিনের মাতা-পিতার পক্ষে এই ব্যয়বহুল চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। পরিবারটির আর্থিক অবস্থা ভাল না। চিকিৎসার পেছনে ইতোমধ্যে অনেক টাকা খরচ হয়েছে। রোগীর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটছে। এমতাবস্থায়, তুহিনের চিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রীসহ সকল হৃদয়বান ও দানশীল ব্যক্তির আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছেন তাঁর মাতা-পিতা। চিকিৎসায় সহযোগিতা দিতে সরাসরি যোগাযোগ করুন এ মোবাইল নম্বরে ০১৭৭৬০১৬৪০৪। আর সাহায্য দিন এ সঞ্চয়ী হিসাবে-অর্চনা হাওলাদার, জনতা ব্যাংক লিঃ, মোহাম্মদপুর শাখা, হিসাব নং ০০২২১৩০০২।
ঘোষণা : দৈনিক জনকণ্ঠ ‘মানুষ মানুষের জন্য’ বিভাগে খবর প্রকাশের মাধ্যমে সহৃদয় ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ ঘটিয়ে দিয়ে থাকে। সাহায্য সরাসরি সাহায্যপ্রার্থীর ব্যাংক এ্যাকাউন্টে জমা দিতে হবে অথবা সাহায্যপ্রার্থীর দেয়া মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করতে হবে। দৈনিক জনকণ্ঠ এ বিষয়ে কোন দায়ভার গ্রহণ করবে না।
জাবি ভিসি প্যানেল ও জাকসু নির্বাচনের ঘোষণা দিলেন আনোয়ার হোসেন
জাবি সংবাদদাতা ॥ উপাচার্য প্যানেল ও জাকসু নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোঃ আনোয়ার হোসেন। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নির্বাচন দুটি দিয়ে নির্বাচিত উপাচার্যের হাতে দায়িত্ব হস্তান্তর করে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছেন। জাতীয় সংসদের শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভার আলোকে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় প্রশাসনিক ভবনের সিনেট হলে এক সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য এ ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, আগামী ২৪ জানুয়ারির আগে উপাচার্য প্যানেল নির্বাচন ও ৬ ডিসেম্বর জাকসু ও হল ইউনিয়নসমূহের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সে লক্ষ্যে সকল প্রস্তুতি অনতিবিলম্বে শুরু হবে। সিনেটে রেজিস্ট্রার গ্রাজুয়েট নির্বাচনে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ অবিলম্বে প্রত্যাহারের ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং সে নির্বাচনে তফসিল আগামী কয়েকদিনের মধ্যে ঘোষিত হবে।
পর্র্যায়ক্রমে অন্যান্য নির্বাচন ও মনোনয়ন সমাপ্ত করা হবে। জাতীয় নির্বাচনের পূর্বেই পুনর্গঠিত সিনেটের বিশেষ অধিবেশনে উপাচার্য প্যানেল নির্বাচন করা হবে। এ নির্বাচনে আমি প্রার্থী হব না।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন উপউপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক এমএ মতিন, উপউপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আফসার আহমদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক আবুল খায়ের, রেজিস্ট্রার আবু বকর সিদ্দিক, জনসংযোগ অফিসের পরিচালক আবু কাশেমসহ বিভিন্ন হলের প্রাধ্যক্ষ ও বিভাগের সভাপতিগণ।
শিক্ষা বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সভার সিদ্ধান্তের আলোকে উপাচার্য বলেন, প্রশাসনের অংশ হয়ে প্রশাসনবিরোধী কর্মকা-ে সরাসরি যুক্ত থাকার কারণে যে দু’জন প্রাধ্যক্ষকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে, তা কার্যকর হবে না। তবে শর্ত থাকে যে প্রশাসনের সঙ্গে কোন শিক্ষক স্বপদে বহাল থেকে কোন প্রকার প্রশাসনবিরোধী কর্মকা-ে লিপ্ত হবেন না।
চারজন শিক্ষক ও একজন ছাত্র বিশ্ববিদ্যালয় সচল রাখার জন্য হাইকোর্টে যে রিট আবেদনটি করেছিলেন সে রিট আবেদন প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়ে উপাচার্য বলেন, আন্দোলনকারী শিক্ষকরা নিশ্চয় এই মর্মে আশ্বস্ত করবেন যে, তাঁরাও তাঁদের সকল আন্দোলন কর্মসূচী প্রত্যাহার করবেন।
উল্লেখ্য, বুধবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদের শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির ৩৮তম বৈঠকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট নির্বাচনের সিদ্ধান্ত হয়।
কমিটির সভাপতি রাশেদ খান মেননের সভাপতিত্বে সদস্য হিসেবে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, মির্জা আজম, শেখ আব্দুল ওহাব, বীরেন শিকদার, জিয়াউর রহমান এবং মমতাজ বেগম বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও বৈঠকে শিক্ষাসচিব, মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্মকর্তা এবং সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে বিদ্যমান সমস্যা ও তার সমাধান নিয়ে আলোচনা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে উচ্চ আদালতে দায়ের করা রিট প্রত্যাহার করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে আন্দোলনরত শিক্ষকদের উদ্দেশে শর্তারোপ করা হয় যে, তাঁরা বিনাশর্তে আন্দোলন প্রত্যাহার করবেন। তাঁরা সিনেট নির্বাচনের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করবেন এবং কোন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার ক্ষেত্রে উভয় পক্ষের সমঝোতার মাধ্যমে সিদ্ধান্তে উপনীত হবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনায় সহযোগিতা ও সহমর্মিতা প্রদর্শনের পরামর্শ দেয় কমিটি।
অন্য পাতায়
অন্য খবর : পৃষ্ঠা-৩ ও ৬,
সম্পাদকীয় : পৃষ্ঠা-৪, চতুরঙ্গ : পৃষ্ঠা-৫, বিদেশের খবর : পৃষ্ঠা-৭, খেলার খবর : পৃষ্ঠা-৮ ও ৯, দেশের খবর : পৃষ্ঠা-১০ ও ১১, ব্যবসা বাণিজ্য : পৃষ্ঠা-১৩, অর্থ-বাণিজ্য : পৃষ্ঠা-১৪,
শেষের পাতা : বায়ান্ন বাজার তিপ্পান্ন গলি : পৃষ্ঠা-১৬,
সাময়িকী প্রচ্ছদ : পৃষ্ঠা-১৭, বিজ্ঞান : পৃষ্ঠা-১৮,
অপরাজিতা : পৃষ্ঠা-১৯,
সাহিত্য : পৃষ্ঠা-২০ ও ২১, সংস্কৃতি অঙ্গন : পৃষ্ঠা-২২, ভ্রমণ : পৃষ্ঠা-২৩, ফ্যাশন : পৃষ্ঠা-২৪
শান্তি শৃঙ্খলা বিনষ্টকারীদের দমনে সর্বশক্তি নিয়োগ ॥ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সংসদ রিপোর্টার ॥ দেশের শান্তিশৃঙ্খলা বিনষ্টের সঙ্গে জড়িতদের দমনে রাষ্ট্রের সর্বশক্তি নিয়োগ করা হবে বলে সংসদে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর। তিনি বলেন, দেশের শান্তিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে যারা ষড়যন্ত্র করে তারা দেশের শত্রু। এদের দমন করে জনগণের জানমাল-সম্পদ রক্ষা করা সরকারের দায়িত্ব। স্বাধীনতাবিরোধী ও দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টিকারী যে কোন অপশক্তির ষড়যন্ত্র প্রতিরোধে সরকার থেকে ব্যাপক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারী দলের হুইপ আ স ম ফিরোজের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ সব কথা বলেন। সীমান্তে হত্যাকা- বন্ধে আলাদা কোন চুক্তি স্বাক্ষরের প্রয়োজন নেই উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক আইন এবং বাংলাদেশ ও ভারতের অভ্যন্তরীণ আইনে যে কোন নিরীহ ব্যক্তিকে হত্যা করা অপরাধ। তাই সীমান্ত হত্যা বন্ধে নতুন করে কোন চুক্তির দরকার হবে না।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, দেশের কারাগারসমূহে বর্তমানে ধারণ ক্ষমতার দ্বিগুণ বন্দী আটক রয়েছে। দেশের কারাগারসমূহে ধারণ ক্ষমতা ৩২ হাজার ৩৭৬ জন, বর্তমানে সেখানে আটক রয়েছে ৬৭ হাজার ৩৭২ জন। তবে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে ৬/৭ গুণ বেশি বন্দী কোন কারাগারেই নেই।
মন্ত্রী জানান, সীমান্ত হত্যাকা- বন্ধে দু’দেশের সীমান্ত রক্ষীদের মধ্যে সমঝোতা স্থাপন ও রক্ষাকরণের প্রয়োজন আছে। যে কোন হত্যাকা- অপরাধ হলেও বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে মাঝে মধ্যে অনাকাক্সিক্ষতভাবে ভারতের বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশী হত্যার ঘটনা ঘটে। এ ধরনের ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের পক্ষ হতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানানো হয়।
মন্ত্রী আরও জানান, বর্তমান সরকারের অব্যাহত প্রচেষ্টার ফলে সীমান্ত হত্যাকা-ের ঘটনা ক্রমশ কমে এসেছে। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ সীমান্ত হত্যাকা- শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
সরকারী দলের গোলাম দস্তগীর গাজীর প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর হতে এ পর্যন্ত ১৮৪ বাংলাদেশী নাগরিক বিএসএফ কর্তৃক নিহত হয়েছে। বিএনপির সংরক্ষিত আসনের অনুপস্থিত সংসদ সদস্য মোসাম্মাৎ শাম্মী আক্তারের লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, সীমান্তে মানব পাচারের ঘঠনা ঘটে থাকে, তবে চোরাচালানের চেয়ে মানব পাচারের সংখ্যা খুবই কম। গত জানুয়ারি হতে আগস্ট ২০১৩ পর্যন্ত পাচারকালে ৪২৭ নারী ও ১০৫ শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া পাচারের সঙ্গে জড়িত ১৪ মানব পাচারকারীকে আটক করে বিচারের আওতায় আনা হয়েছে।
বিএনপির আরেক সংসদ সদস্য নাজিম উদ্দিন আহমেদের লিখিত প্রশ্নের জবাবে ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর জানান, বিডিআর বিদ্রোহের অভিযোগে বিশেষ আদালতে অভিযুক্ত আসামির সংখ্যা ৬ হাজার ৬১ জন। এর মধ্যে গ্রেফতার হয়েছে ৬ হাজার ৪১ জন। পালাতক আছে ২০ জন। এ ছাড়া বিশেষ আদালতে সাজাপ্রাপ্ত আসামি ৫ হাজার ৯২৬ জন। অভিযুক্তদের মধ্যে ১১৫ জনকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে। খালাসপ্রাপ্তদের মধ্যে কেউ কেউ অবসর গ্রহণ করেছে এবং অনেকে চাকরিতে বহাল আছে।
আওয়ামী লীগ আজ থেকে রাজপথ দখলে রাখবে
বিশেষ প্রতিনিধি ॥ ২৫ অক্টোবরকে ঘিরে আজ শুক্রবার থেকে আগামী নির্বাচন পর্যন্ত গোটা রাজধানী নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার ঘোষণা দিয়েছে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ। আইনকে অগ্রাহ্য করে কেউ যাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য আজ ভোর থেকে আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগ পর্যন্ত সজাগ ও সতর্কভাবে অবস্থানের মাধ্যমে মসজিদ, অলিগলি, পাড়া-মহল্লাসহ পুরো রাজপথে দখলে রাখবে তারা। বিএনপি-জামায়াতকে রাজপথে নৈরাজ্য করার কোন সুযোগ দেবে না দলটি। রাজধানীতে কেউ অরাজকতা ও সন্ত্রাসী কর্মকা- ঘটানোর চেষ্টা করলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তাদের প্রতিরোধ করে পুলিশের হাতে তুলে দিতে মহানগরীর ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও থানা শাখা দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে বঙ্গবন্ধু এ্যাভিনিউস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতৃবৃন্দ এ নির্দেশ দেন। রাজধানীতে আজ সমাবেশ করার সার্বিক প্রস্তুতি থাকলেও প্রশাসনের অনুমতি না পেলে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে সমাবেশ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নগর আওয়ামী লীগ।
বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুব-উল-আলম হানিফ বিরোধী দলের যে কোন ষড়যন্ত্র রুখে দিতে রাজপথে সক্রিয় থাকতে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, রাজপথে যে কোন অরাজকতা ও সন্ত্রাসী কর্মকা- রুখে দেয়া আমাদের পবিত্র দায়িত্ব। এ পবিত্র দায়িত্ব পালন করতে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে মাঠে থাকবে।
তিনি বলেন, মধ্যযুগীয় কায়দায় চর দখলের মতো দা-কুড়াল, বল্লম নিয়ে বিএনপি নেতারা তাঁদের কর্মীদের রাজপথে নামতে বলেছে। এটা কোন ধরনের গণতন্ত্র? তবে বাংলার জনগণ তাদের দা-কুড়াল নিয়ে নৈরাজ্য করার সুযোগ দেবে না। নির্বাচনকালীন আন্তর্বর্তী সরকারের রূপরেখা নিয়ে খালেদা জিয়ার দেয়া প্রস্তাব অসাংবিধানিক উল্লেখ করে হানিফ বলেন, আগামী ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত সরকারের মেয়াদ রয়েছে। সংসদ যতদিন থাকবে সরকার ততদিন থাকবে। সংবিধান অনুযায়ী তফসিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত সংসদ বহাল থাকবে।
হানিফ আরও বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার কারণ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চলছে। আমাদের এই বিচার শেষ করতে হবে। যুদ্ধাপরাধীমুক্ত বাংলাদেশ এবং উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার জন্য শেখ হাসিনার সরকারকে আবার প্রয়োজন। সম্প্রতি খালেদা জিয়ার ক্ষমা করার ঘোষণাকে ‘অপমানজনক’ উল্লেখ করে হানিফ বলেন, তাঁর কাছে কে ক্ষমা চাইতে গেছে যে তিনি ক্ষমা করেছেন? বরং খালেদা জিয়া ও তাঁর পরিবার ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলাসহ যেসব হত্যাকা- ঘটিয়েছেন, সে জন্য তাঁর জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক এমপি বলেন, আজ শুক্রবার জামায়াত-শিবিরকর্মীরা গুপ্ত হামলার মাধ্যমে রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় নাশকতা করতে পারে বলে আমাদের কাছে খবর আছে। গত দুই দিন ধরে তারা দেশের বিভিন্ন জায়গায় নাশকতা সৃষ্টি করেছে। এ কারণে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। জামায়াত-শিবিরের নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, বিভিন্ন জায়গা থেকে বিএনপি-জামায়াত সন্ত্রাসীরা ঢাকা ও তার আশপাশের মসজিদগুলোতে অবস্থান নিচ্ছে। যারা (বিএনপি-জামায়াত) দেশকে আফগানিস্তান, পাকিস্তান বানাতে চায় তারা মসজিদগুলোকে অপবিত্র করতে পারে। কিন্তু তাদের সে সুযোগ দেয়া যাবে না।
তিনি বলেন, এসব কারণে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীসহ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে শুক্রবার সকাল থেকেই মসজিদগুলোতে অবস্থান নিতে হবে। যাতে মসজিদ থেকে কেউ উস্কানি দিতে না পারে। তারা নামাজ পড়ার আড়ালে মসজিদে বসে কোরান সুন্নাহবিরোধী অপপ্রচার চালাতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। বিরোধীদলীয় নেতাকে উদ্দেশ করে নানক বলেন, সন্ত্রাসের পথ পরিহার করে শান্তির পথে আসুন। অন্যথায় জনবিছিন্ন হয়ে যাবেন এবং দেশে রাজনীতি করতে পারবেন না।
ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম বলেন, একাত্তরের মতো যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে দুশমনের (বিএনপি-জামায়াত) বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ঢাকা মহানগরের পাড়া-মহল্লায় অপরিচিত সন্দেহভাজন কাউকে দেখলে তাঁকে পুুলিশের হাতে সোপর্দ করুন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বিএনপি-জামায়াতের নাশকতা রুখে দিতে হবে।
২৫ অক্টোবর নগর আওয়ামী লীগ সমাবেশ করবে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, পল্টন ময়দান, বঙ্গবন্ধু এ্যাভিনিউ, ও সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যান রাজধানীর এই ৩টি জায়গায় সমাবেশ করার অনুমতি চাওয়া হয়েছে প্রশাসনের কাছে। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রশাসনের অনুমতি পেলে সমাবেশ করব। আর অনুমতি না পেলে প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও সমাবেশ করব না।
ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এমএ আজিজের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন আইন প্রতিমন্ত্রী ও মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, কামাল আহমেদ মজুমদার এমপি, দফতর সম্পাদক সহিদুল ইসলাম মিলনসহ মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ।
আজ বিএনপির সমাবেশ, ডিএমপির অনুমতি
সোহ্রাওয়ার্দী না নয়াপল্টনে?
স্টাফ রিপোর্টার ॥ পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী আজ রাজধানীতে বিএনপির নেতৃত্বে আঠারো দলীয় জোটের সমাবেশ। নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে এই সমাবেশের ঘোষণা দেয়া হয়। এই রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত সমাবেশের স্থান চূড়ান্ত হয়নি। তেরো দফা শর্তসাপেক্ষে পুলিশ সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের অনুমোদন দিয়েছে। পুলিশের এই অনুমতিতে সন্তুষ্ট নয় জোটের নেতারা। নয়া পল্টনেই সমাবেশে করার ঘোষণা দিয়ে তারা অনুমতি পুনর্বিবেচনার জন্য পুলিশের কাছে আবেদন জানিয়েছে। জবাবে পুলিশের পক্ষ থেকে সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যানেই সমাবেশ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। রাতে বিএনপির সংসদীয় দলের চীফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক জনকণ্ঠকে বলেন, ‘পুলিশের অনুরোধ রাখা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী নয়া পল্টনেই আমরা সমাবেশ করব।’ সমাবেশ থেকে হরতাল অবরোধসহ কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচী ঘোষণা করতে পারেন বেগম খালেদা জিয়া।
সমাবেশের জন্য বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার ইব্রাহিম ফাতেমির কাছে অনুমতি চেয়ে আবেদন করে। সমাবেশের জন্য বৃহস্পতিবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অনুমতি চেয়ে এ আবেদন করা হয়। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বরকত উল্লাহ বুলুর নেতৃত্বে বিএনপি সাংসদ জয়নুল আবদিন ফারুক, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী ও আবুল খায়ের ভুঁইয়া অনুমতির জন্য মহানগর পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে যান। বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপির সমাবেশের জন্য অনুমতি দেয়া হয়। পরে সন্ধ্যায় খালেদা জিয়ার নির্দেশে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চীফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক আবারও ডিএমপি কার্যালয়ে গিয়ে পুলিশ কমিশনারের কাছে নয়াপল্টনে সমাবেশের লিখিত আবেদন করেন। কিন্তু ডিএমপি থেকে জানানো হয়, নয়াপল্টনে সমাবেশের অনুমতি দেয়া সম্ভব নয়। এ খবর শোনার পর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুহুল কবির রিজভী জানান, খালেদা জিয়ার নির্দেশে কার্যালয়ের সামনেই সমাবেশ করা হবে। সে অনুযায়ী সমাবেশের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।
বিএনপির এ সমাবেশ ঘিরে বেশ কিছুদিন ধরে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিশেষ করে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের আজকের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচী নিয়ে এ উত্তেজনা শুরু হয়। এছাড়া বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকার একটি বক্তব্যের পর থেকে বিএনপির সমাবেশ নিয়ে জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ঈদের আগে গত ১৪ অক্টোবর বিকেলে ঢাকা মহানগর বিএনপির এক বর্ধিতসভায় সাদেক হোসেন খোকা ঘোষণা দেন ২৫ অক্টোবরের সমাবেশে বাধা দেয়া চেষ্টা করা হলে দা, কুড়াল, বল্লমসহ যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্য থেকেই মূলত সমাবেশ নিয়ে আতঙ্ক তৈরি হয়। এ কারণে ঢাকা শহরে সভাসমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার।
এদিকে এ নিষেধাজ্ঞার মধ্যে সমাবেশ করার বিষয়ে অনড় থাকে বিএনপি। বিশেষ করে একাধিক সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপি যে কোন মূল্যে সমাবেশ করার ঘোষণা দেয়। ২৩ অক্টোবর বিএনপি চেয়ারপার্সনে বেগম খালেদা জিয়ার গুলশান অফিসে ১৮ দলীয় জোটের বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব যে কোন মূল্যে সমাবেশ করার ঘোষণা দেয়। এর পরদিন বৃহস্পতিবার বিএনপির পল্টন কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলেও যে কোন মূল্যে আজকের জনসভা করা হবেই। তিনি বলেন, সমাবেশের অনুমতি দেয়া হোক, আর না হোক যে কোন মূল্যে নির্দলীয় সরকারের এক দফা দাবিতে সমাবেশ করবেই বিএনপি। বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া ওই জনসভায় বক্তব্য দেবেন।
বিএনপির সংবাদ সম্মেলন ॥ এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। সংবাদে তিনি উল্লেখ করেন, নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলেও যে কোন মূল্যে আজকের জনসভা করা হবে। সমাবেশের অনুমতি দেয়া হোক আর না হোক যে কোন মূল্যে নির্দলীয় সরকারের এক দফা দাবিতে সমাবেশ করবেই বিএনপি। বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া ওই জনসভায় বক্তব্য দেবেন।
তিনি বলেন, নয়াপল্টনে অনেক আগেই সমাবেশের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। দ্বিধাহীন চিত্তে বলছি এ সমাবেশ হবেই। এটা আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। সারাদেশে সভাসমাবেশ বন্ধ করে সরকার গণতন্ত্র ও জনগণের সঙ্গে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। একতরফা নির্বাচন করে কেউ কোন দিন টিকে থাকতে পারেনি। এ সরকারও পারবে না।
সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেন, আজকের সামাবেশকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে ১২৯ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ৮৫০ নেতাকর্মীর বাসায় পুলিশ হানা দিয়েছে। সরকার ২৫ অক্টোবরকে সামনে রেখে ভীতি ও শঙ্কার পরিবেশ সৃষ্টি করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সরকারের উস্কানি ও নির্দেশে গ্রেফতার নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। এর পরিণতি শুভ হতে পারে না জনগণের টাকায় কেনা অস্ত্র জনগণের দিকে তাক করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীকে সমঝোতার পথে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যদি সমঝোতায় না আসেন তাহলে প্রধানমন্ত্রী গণতন্ত্রের ঘাতক হিসেবে বিবেচিত হবেন।
পুলিশকে হুঁশিয়ারি দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির এই নেতা বলেন, সরকারের নির্দেশে জনগণের প্রতি এহেন আচরণের কারণে আপনারা ক্ষমা পাবেন না। এর উত্তর ঠিকই পাবেন। জনগণের প্রতি পুলিশ লেলিয়ে দেয়া থেকে বিরত থাকার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আইনসঙ্গত আচরণ করুন। নইলে এর উপযুক্ত জবাব পাবেন।
রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেয়ার পরদিনই সভাসমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। কোন প্রচলিত আইন ও নাগরিক অধিকারকে সরকার তোয়াক্কা করছে না। প্রধানমন্ত্রী সকালে একটা বলছেন, বিকেলে আবার উল্টো কথা বলছেন। তিনি সমঝোতার পথে আসছেন না। দেশে এক ভীতির পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে।
কূটনীতিকদের সঙ্গে বিএনপির বৈঠক ॥ দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল। বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে গুলশানের হোটেল হেরিটেজে এ বৈঠক শুরু হয়। দেড় ঘণ্টাব্যাপী এ বৈঠক শেষ হয় সাড়ে ৫টায়। বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা রিয়াজ রহমান, সাবিহ উদ্দিন আহমেদ ও ড. এম ওসমান ফারুক উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া কূটনীতিকদের পক্ষে ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও পাকিস্তানসহ কিছু দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনকালীন সরকার পদ্ধতিসহ চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে এ বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।
চট্টগ্রাম রাজশাহীতে বিজিবি টহল ॥ নাশকতার আশঙ্কায় বিভিন্ন স্থানে ১৪৪ ধারা
জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ নাশকতার আশঙ্কায় বৃহস্পতিবার থেকে চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে বিজিবির টহল শুরু হয়েছে। বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির আশঙ্কায় নগরীতে নিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল বেশ জোরদার। সকাল থেকেই পুলিশ ও র‌্যাবের পাশাপাশি রাস্তায় নামে বিজিবি। আজ শুক্রবার নিরাপত্তা বাহিনী থাকবে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায়। প্রয়োজনে যে কোন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণের ক্ষমতা দেয়া হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে মাঠে নামে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা। নগরীর প্রধান প্রধান সড়কে এরপর থেকে দিনভর বিজিবির গাড়ির টহল লক্ষ্য করা যায়। লালদীঘি মাঠে পাল্টাপাল্টি সমাবেশ আহ্বানকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে এমন আশঙ্কায় প্রশাসন ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। শুধু নগরীতেই নয়, নগরীর বাইরে বেশ কয়েকটি উপজেলা স্পর্শকাতর বিবেচনা করে বাড়তি সতর্কতামূলক ব্যবস্থাও গ্রহণ করেছে প্রশাসন।
সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার বনজ কুমার মজুমদার সাংবাদিকদের জানান, বিজিবির টহল শুরু হয়েছে। পুলিশ ও র‌্যাবও সতর্ক রয়েছে। যে কোন ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি হলে তা মোকাবেলায় পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রয়েছে প্রশাসনের।
আন্দোলনের নামে ১৮ দলের নাশকতা ঠেকাতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে রাজশাহী নগরীতে নামানো হয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। তিন প্লাটুন বিজিবি সদস্য সন্ধ্যা সাতটার পর থেকে নগরীতে নামানো হয়। এ ছাড়াও সর্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে আরও দুই প্লাটুন বিজিবি সদস্য। বিজিবি রাজশাহী-৩৭ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল নজরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, রাজশাহীর পরিস্থিতি এখনও শান্ত রয়েছে। তবে বাড়তি সতর্কতার জন্য বিজিবি সদস্য সন্ধ্যা থেকে নামানো হয়েছে। আরও পর্যাপ্ত সংখ্যক বিজিবি সদস্য স্ট্যান্ডবাই রয়েছে।
আজ ২৫ অক্টোবর সরকারী দল ও বিরোধী দলের মুখোমুখি অবস্থান ও একই স্থানে সমাবেশ আহ্বান এবং জামায়াত-শিবিরের নাশকতার আশঙ্কায় জনগণের জানমালের নিরাপত্তায় দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। বগুড়া, জয়পুরহাট, পঞ্চগড়, কুমিল্লা মহানগরী ও সদর দক্ষিণ উপজেলা, খুলনা মহানগরী, নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর, খাগড়াছড়ি ও টেকনাফে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। ফলে এসব এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ ও বিজিবি। খবর স্টাফ রিপোর্টার ও নিজস্ব সংবাদদাতাদের।
ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ কাঁচপুর সেতুসহ আশপাশের এলাকায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি পাল্টাপাল্টি সমাবেশ ডাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করেছে জেলা প্রশাসন। দু’পক্ষই কাঁচপুর সেতুসহ আশপাশের এলাকায় সমাবেশ করার ক্ষেত্রে অনড় থাকলে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বৃহস্পতিবার বিকেলে ১৪৪ ধারা জারি করে জেলা প্রশাসন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্ইু প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সাজোয়া যান প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মনোজ কান্তি বড়াল জানান, বৃহস্পতিবার রাত ১২টা থেকে ওই এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত ১৪৪ ধারা অব্যাহত থাকবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দুই প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
বগুড়ায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) প্রস্তুত রাখা হয়েছে। শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশ ও র‌্যাব মোতায়েন করা হয়েছে। শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে শুক্রবার বিকেলে একই সময়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি জনসভা আহ্বান করেছে। বৃহস্পতিবার সকালে বিএনপি দলীয় কার্যালয়ে ১৮ দলের সাংবাদিক সম্মেলনে বলা হয়, ১৪৪ ধারার মধ্যেই তারা জনসভা করবে। এই ঘোষণার পর শহরজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে উৎকণ্ঠা আর আতঙ্ক। এই মাত্রা আরও বেড়ে গেছে গত কয়েক দিনে বগুড়া সদর থানায় শিবিরের ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায়। সদর থানায় বুধবার রাত থেকে ছাদে বালির বস্তা রেখে তার ওপর মাঝারি আগ্নেয়াস্ত্র বসিয়ে ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা বসানো হয়েছে থানার চারধারে। সূত্র জানায়, নাশকতার শঙ্কায় বগুড়ার সব থানা ও ফাঁড়িতে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
কুমিল্লা মহানগরীর কান্দিরপাড় এলাকায় ২শ’ গজের ব্যবধানে চার স্থানে আওয়ামী লীগ-বিএনপির পৃথক চারটি গ্রুপ এবং সদর দক্ষিণের পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় বিএনপির অপর একটি অংশ সমাবেশ আহ্বান করায় সংঘর্ষের আশঙ্কায় পুরো মহানগর ও সদর দক্ষিণ উপজেলায় সব ধরনের সভাসমাবেশের ওপর অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। বৃহস্পতিবার রাত ৮টা থেকে এ আদেশ কার্যকর হবে বলে জানায় প্রশাসন। এ নিয়ে জেলাব্যাপী টানটান উত্তেজনা ও জনমনে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়াও নাশকতা ঠেকাতে আজ শুক্রবার ভোর থেকে জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় বিজিবি মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জেলার সব সরকারী হাসপাতালের ডাক্তার ও নার্সের ছুটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বাতিলসহ মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে।
জয়পুরহাট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে শনিবার ভোর ৬টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করেছে। নাশকতার আশঙ্কায় সকল প্রকার সভাসমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ ইয়াছিন ১৪৪ ধারা জারির কথা জানিয়ে বলেন, অন্যান্য উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে সেসব উপজেলায় ১৪৪ ধারা জারি করতে সংশ্লিষ্ট ইউএনওদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পুলিশ জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে ৩২ জনকে গ্রেফতার করেছে।
পঞ্চগড়ের বোদা বাজার ধানহাটি মাঠে ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন। উপজেলা বিএনপির বিবদমান দুটি গ্রুপ একই সময় ধানহাটি মাঠে জনসভা আহ্বান করায় শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত সেখানে সব ধরনের সভাসমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। উপজেলা প্রশাসন এই নিষেধাজ্ঞা জারি করে।
খুলনা মহানগরী এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) কমিশনার এক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। এ নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি মাইকে প্রচারও করা হয়।
নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী ২৪ অক্টোবর রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে পরবর্তী আদেশ না দেয়া পর্যন্ত খুলনা মহানগরী এলাকায় সকলপ্রকার সভা, সমাবেশ, মানববন্ধন, র‌্যালি, মিছিল এবং সকলপ্রকার ছড়ি বা লাঠি, দা, কুড়াল, ইট-পাথরের টুকরা, বিস্ফোরক দ্রব্য এবং আগ্নেয়াস্ত্র বহন নিষিদ্ধ। এ ছাড়া যানবাহন ও জনসাধারণের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি ও রাস্তায় দাঁড়িয়ে বা বসে কোন ধরনের সভাসমাবেশ ও মিছিল করা যাবে না।
আজ আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পাল্টাপাল্টি সমাবেশ কেন্দ্র করে খাগড়াছড়িতে ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন। বৃহস্পতিবার রাত ১২টা থেকে শুক্রবার রাত ১২টা পর্যন্ত এই ধারা বলবত থাকবে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে শুক্রবার দুপুরে মুক্তমঞ্চে সমাবেশ করার কথা ঘোষণা করেন জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি প্রবীণ চন্দ্র চাকমা। এর ফলে পুরো জেলায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। এদিকে কক্সবাজারের টেকনাফেও জারি করা হয়েছে ১৪৪ ধারা।
সিরাজগঞ্জ শহরের বাজার স্টেশন স্বাধীনতা স্কয়ার এলাকায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি শুক্রবার একই সময়ে সভা আহ্বান করায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে জেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকযোগে শহরে এ খবর প্রচার করা হয়। শুক্রবার ভোর ছয়টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত শহরের বাজার স্টেশন স্বাধীনতা স্কয়ার এলাকায় ১৪৪ ধারা বলবত করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ২০ হাজার সদস্য মোতায়েন
* রাজধানীর ছয় প্রবেশপথে নিরাপত্তা বেষ্টনী ্রভাংচুর * নৈরাজ্য কঠোর হাতে দমন, * শিবিরের ১০ হাজার, জঙ্গী ঢাকায়
শংকর কুমার দে ॥ টানটান উত্তেজনায় ডেড লাইন ২৫ অক্টোবর সামনে রেখে বিগত কয়েক দিনে ছড়িয়ে পড়া রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যে সৃষ্ট উদ্বেগ, উৎকণ্ঠার পরিপ্রেক্ষিতে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। সরকার পতনের জন্য রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশ অচল করে দেয়ার আন্দোলনের নামে ব্যাপক নাশকতা ও নৈরাজ্য সৃষ্টির আশঙ্কা করছে গোয়েন্দা সংস্থা। সরকারের পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যসহ ২০ সহস্রাধিক সদস্যকে মাঠে নামানো ও মোতায়েন করা হয়েছে। রাজধানীর প্রবেশপথসহ ৬ পয়েন্টে নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলা, সিসি ক্যামেরা দিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করাসহ জলকামান, এপিসি, এ্যাম্বুলেন্স, বোমা ডিজপোজেল ইউনিটসহ সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। জ্বালাও, পোড়াও, ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ, নাশকতা, নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হলে দায়ী ও দোষীদের কঠোর হস্তে দমন করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে সরকারের নীতিনির্ধারক মহলে পাঠানো প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শুক্রবারের ১৮ দলীয় জোটের সমাবেশ ঘিরে আজ ঢাকার ৬টি প্রবেশপথে অবস্থান নিয়ে রাজধানী অচল করার পরিকল্পনা রয়েছে। রাজধানী ঢাকা অচল করতে তাদের পানি, বিদ্যুত ও গ্যাসসংযোগ ক্ষতিগ্রস্ত ও বিচ্ছিন্ন করার নীলনক্সার তথ্যের কথা উল্লেখ আছে। সরকার পতনের আন্দোলনের নামে নাশকতা ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করা হতে পারে। নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যাপারে সরকারের মতবিরোধের কারণে গ্রামীণ ব্যাংকের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ১৮ দলীয় জোটের সমাবেশে যোগদানের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে শুক্রবারের ১৮ দলীয় জোটের সমাবেশে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। যুদ্ধাপরাধীর বিচার ও বিচারের রায় বানচাল করার জন্য জামায়াতÑশিবির শুক্রবারের সমাবেশকে সামনে রেখে শক্তি প্রদর্শনের মহড়া দেয়ার জন্য মরণকামড় দিতে পারে। এ জন্য হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মীদেরও সমাবেশে যোগদানের জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। সরকারের নীতিনির্ধারক মহলে পাঠানো গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে এ ধরনের তথ্য জানানো হয়েছে।
গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী ডেড লাইন ২৫ অক্টোবরের সমাবেশ থেকে সরকারকে অচল করে দেয়ার জন্য নাশকতা ও আন্দোলনের ব্যাপারে ১৮ দলীয় জোটের বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য কেন্দ্রীয় দুই নেতাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তাঁরা প্রতিটি বিভাগ, জেলা ও থানা এবং ওয়ার্ডভিত্তিক কমিটি গঠন করে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। ধ্বংসাত্মক কর্মকা- চালাতে বৈধ অস্ত্রের পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র গোলাবারুদ মজুদ করা হয়েছে। নাশকতা চালাতে জামায়াতে ইসলামী, ছাত্রশিবির, হেফাজতে ইসলাম ও বিভিন্ন জঙ্গী সংগঠন প্রস্তুত। শিবিরের প্রায় দশ হাজার সদস্য এখন রাজধানী ঢাকায় অবস্থান করছে। ১৮ দলীয় জোটের প্রধান টার্গেট ঢাকার প্রবেশপথ যাত্রাবাড়ী, পোস্তগোলা, বাঁশেরপুল, বাবুবাজার, গাবতলী ও আব্দুল্লাহপুর। এসব স্থানে অবস্থান নিয়ে তারা ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে পারে। পানি, বিদ্যুত, গ্যাসসংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, নিরাপত্তা চৌকি, থানা, আওয়ামী লীগ অফিসকেও তারা হামলার টার্গেট করেছে। হামলার টার্গেটে আছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও। রাজধানী ঢাকার নয়াপল্টন, বিজয়নগর, কাকরাইল, দৈনিক বাংলা মোড়, ফকিরাপুল, শাপলা চত্বর, বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট, প্রেসক্লাব, যাত্রাবাড়ী, ফার্মগেট, গাবতলী, মিরপুর-১, মিরপুর-১০, মহাখালী, আব্দুলাহপুরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অবস্থান নেয়ার পরিকল্পনা করেছে ১৮ দলীয় জোটভুক্তরা।
জুমার নামাজের পর ॥ শুক্রবার জুমার নামাজের পর জামায়াত-শিবির ও হেফাজতে ইসলামসহ ১৮ দলীয় জোটভুক্ত বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা বায়তুল মোকাররম, পুরানা পল্টন জামে মসজিদ, বিজয়নগরের মসজিদে নূর, নয়াপল্টন জামে মসজিদ, কালভার্ট বেড়া মসজিদ, গোলাপশাহ মসজিদ, কাঁটাবন মসজিদ, ফকিরাপুল মেজবাউল উলুম মাদ্রাসা ও মসজিদ, বটতলা মসজিদ ও পিডব্লিউডি জামে মসজিদসহ বিভিন্ন মসজিদ ও মাদ্রাসায় অবস্থান নিয়ে মিছিল করে সমাবেশে যাওয়ার অজুহাতে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে পারে। গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে গ্রামীণ ব্যাংকের বিষয়ে সরকারের মতবিরোধের জের ধরে গ্রামীণ ব্যাংকের সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে ১৮ দলীয় জোটের মহাসমাবেশে অংশগ্রহণের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। গ্রামীণ ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়াও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র, টিএমএসএস ও ডেসটিনিসহ বিভিন্ন বেসরকারী সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীও সম্মিলিত পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের ব্যানারে সমাবেশে যোগ দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জামায়াতÑশিবিরের মরণকামড় ॥ গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কোণঠাসা হয়ে পড়া জামায়াত-শিবির সরকারের শেষ সময়ে ব্যাপক নাশকতা চালাতে পারে। পাশাপাশি তাদের প্রধান টার্গেট হতে পারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে এমন তথ্যই দেয়া হয়েছে। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর এই দুই দিন জামায়াত-শিবির রাজধানীসহ সারাদেশে ব্যাপক নাশকতা চালাতে পারে। বোমা হামলা, যানবাহন ভাংচুর, অগ্নিসংযোগসহ নানা ধরনের ধ্বংসাত্মক কর্মকা- চালাবে তারা। এরই মাঝে পুলিশের ওপরও হামলা চালাতে পারে তারা। হামলা হতে পারে পুলিশের স্থাপনা, থানা ও ফাঁড়িতেও। বুধবার শিবিরের পক্ষ থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ২৫ অক্টোবর গণ-অভ্যুত্থান হবে বলেও হুমকি দেয়া হয়েছে। রাজধানীর প্রেসক্লাবে শিবিরকর্মীদের আটকের প্রতিবাদে পাঠানো এই বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সারাদেশে গণগ্রেফতার করে এই অভ্যুত্থান ঠেকানো যাবে না। বুধবার রাজধানীর প্রেসক্লাব থেকে আটক করা হয় ১৮ শিবিরকর্মীকে। ২৫ অক্টোবর রাজধানীতে নাশকতা চালাতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা শিবির ক্যাডাররা হোটেলে অবস্থান করছে এমন খবরের ভিত্তিতে সেখানেও অভিযান পরিচালনা করছে পুলিশ। রাজধানীর নয়াপল্টনের বিএনপির কার্যালয়ের দুই পাশে হোটেল মিডওয়ে ও ভিক্টোরিতে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহনেও ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়। দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জামায়াত-শিবির চোরাগোপ্তা হামলার পরিকল্পনা করেছে। রাজধানী ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক গ্রেফতার অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
ডিএমপির সদর দফতরে বিএনপির নেতৃবৃন্দ ॥ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ সদর দফতরে যান বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা জয়নুল আবদিন ফারুক, বরকত উল্লাহ বুলু, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী ও আবুল খায়ের ভুইয়ার সমন্বয়ে ৪ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা পর বের হয়ে জয়নুল আবদিন ফারুক সাংবাদিকদের জানান, আমরা মহাসমাবেশের অনুমতির জন্য এসেছিলাম। যদিও ইতোপূর্বে অনুমতির জন্য আবেদন জমা দেয়া হয়েছে। আগের আবেদনপত্রে সমাবেশ করার সম্ভাব্য স্থান হিসেবে ৩টি জায়গার উল্লেখ করা হয়েছিল। এবারও দলীয় প্যাডে লেখা ওই আবেদনপত্রে শুধু নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনেই সমাবেশ করার অনুমতি চাওয়া হয়েছে। নয়াপল্টনের পরিবর্তে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুমতি দেয়ার পর তা মানেনি ১৮ দলীয় জোট। উল্লেখ্য, প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচীতে সংঘাতের আশঙ্কায় গত ২০ অক্টোবর থেকে ঢাকা মহানগর এলাকায় সভাসমাবেশ নিষিদ্ধ করে পুলিশ।
বিজিবি মোতায়েন ॥ রাজধানী ঢাকাসহ বিভাগীয় শহরগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহায়তার জন্য বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। বিজিবি সদর দফতর সূত্র জানায়, বিজিবি মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেয়ার পর রাজধানী ঢাকাসহ বিভাগীয় শহরগুলোর জন্য বিজিবি সদস্যদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে রাজধানীসহ বিভাগীয় শহরগুলোতে পর্যাপ্তসংখ্যক বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। ২৫ অক্টোবরকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল রাজধানীসহ সারাদেশে নাশকতামূলক কর্মকা- চালাতে পারে, এ জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহায়তার জন্য রাজধানীতে সন্ধ্যায় ২০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। রাজধানীসহ সারাদেশে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতায় আগামী ২৫ অক্টোবরকে সামনে রেখে বড় ধরনের নাশকতার আশঙ্কা করছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। ২৫ অক্টোবর রাজধানীতে বিএনপির সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার ব্যাপারে নয়াপল্টনের পরিবর্তে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুমতি দেয়া হয়েছে শর্তসাপেক্ষে। কিন্তু ওই সভাসমাবেশকে ঘিরে এরই মধ্যে জামায়াত-শিবিরসহ কিছু ধর্মভিত্তিক দল উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে আসছে। এমনকি ওইদিন বড় ধরনের নাশকতা চালানো হবে বলেও হুমকি দেয়া হয়েছে। নাশকতার আশঙ্কায় গত কয়েক দিন ধরেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। সর্বক্ষণিকভাবে কঠোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে রাজধানীসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে। বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রামে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। সন্ধ্যায় রাজধানী ঢাকাসহ সিলেট, খুলনা, রাজশাহী, রংপুর ও বরিশালে বিজিবি নামানো হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পদক্ষেপ ॥ বিজিবি, র‌্যাব, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার ২০ সহস্রাধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হচ্ছে। শতাধিক সিসি ক্যামেরা দিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। জলকামান, এপিসি, এ্যাম্বুলেন্স, বোমা ডিজপোজেল ইউনিটসহ সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। রাজধানীর ৬ পয়েন্টে অবরোধ কর্মসূচী পালন করবে হেফাজতে ইসলাম। সূর্য ওঠার আগেই অবরোধ কর্মসূচীর দায়িত্ব পালন করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের। গত কয়েক দিনে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ সদর দফতরে। রাজধানীর ৪৯ থানার ওসি, প্রত্যেক জোনের এসি, ডিসিসহ উর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন বৈঠকে। বৈঠকে ১৮ দলীয় জোটের সমাবেশ কর্মসূচী যাতে শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হতে পারে সে জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ধৈর্যসহকারে সর্বাত্মক সহযোগিতা দেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আর যদি মানুষজনের জানমাল বিনষ্ট ও ফৌজদারি অপরাধ সংগঠিত করা হয় তাহলে কঠোর হস্তে দমন করতে হবে বলে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে। রাজধানীর যে ৬ পয়েন্টে অবরোধ কর্মসূচী পালন করবে সেই পয়েন্টগুলোসহ শতাধিক পয়েন্টে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা (সিসি ক্যামেরা) বসানো হয়েছে। ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা দিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার জন্য স্থাপন করা হয়েছে কন্ট্রোল রুম। কন্ট্রোল রুম থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে যদি কোন স্থানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যের সংখ্যা বৃদ্ধি, মোতায়েন, কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের আত্মরক্ষার্থে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে জলকামান, এপিসি, এ্যাম্বুলেন্সসহ অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
গুজবে কান দেবেন না ॥ পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তারা বলেছেন, গুজবে কান না দেয়ার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। ১৮ দলীয় জোটের সমাবেশ কর্মসূচীর জন্য অনুমতি দেয়ার পর পর্যাপ্ত নিরাপত্তারব্যবস্থা করা হয়েছে। উৎকণ্ঠিত বা আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচী পালনে কোন বাধা নেই। স্বার্থান্বেষী মহল নিরাপত্তা বিঘিœত করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে। জনগণের জানমাল রক্ষার্থে যখন যেখানে যেমন পরিস্থিতি দাঁড়ায় সেখানে তেমনি আইন প্রয়োগ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের জন্য ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করে তাৎক্ষণিক বিচার করে শাস্তি দেয়া হতে পারে। যদি জ্বালাও, পোড়াও, অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানো হয় তাহলে এই ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হতে পারে।
যা বলেছেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ॥ বিরোধী দল সমাবেশের নামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে তা প্রতিহত করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু। এ লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে বিজিবিকেও নামানো হবে। বৃহস্পতিবার সকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিজ কার্যালয়ে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘সমাবেশের নামে কোন রকম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হলে আইনশৃখলা বাহিনী সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে তা প্রতিহত করবে।’ জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দেয়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, সমাবেশের নামে কোন প্রকার বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না। সমাবেশের নামে কেউ উচ্ছৃঙ্খল আচরণের চেষ্টা করলে সঙ্গে সঙ্গে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শামসুল হক টুকু বলেন, ‘ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) যদি মনে করে নাশকতা ঘটবে না তাহলে সমাবেশের অনুমতি তারা দিতে পারে। বিষয়টি ডিএমপির।’ সারাদেশে বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের অভিযোগ নাকচ করে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘যাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।’
বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড দ্বিতীয় টেস্টের ভাগ্য নির্ধারণ আজ
মিথুন আশরাফ ॥ বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড প্রথম টেস্ট ড্র হয়েছে। আজ দ্বিতীয় টেস্টের শেষ দিন। এ দিনে টেস্টে কোন দল জিতবে, না টেস্ট ড্র হয়ে যাবে; সেই ফয়সালা হবে। এখন পর্যন্ত যে অবস্থা তাতে বাংলাদেশ ১১৪ রানে এগিয়ে রয়েছে। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ২৮২ রান করার পর নিউজিল্যান্ড প্রথম ইনিংসে এ্যান্ডারসনের ১১৬ রানের পর ওয়াটলিংয়ের অপরাজিত ৭০ রানে ৪৩৭ রান করে। প্রথম ইনিংসে নিউজিল্যান্ড ১৫৫ রানে এগিয়ে যায়। এরপর বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে খেলতে নেমে তামিম-মমিনুলের তৃতীয় উইকেটের ১৫৭ রানের জুটিতে ২৬৯ রান করে। তামিম ৭০ রান করে আউট হন। মমিনুল হক এখনও ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় শতক ও টানা দুই টেস্টে শতক করে ১২৬ রান নিয়ে ব্যাট করছেন। তাঁর সঙ্গে আছেন সাকিব আল হাসান (৩২)। আজ ম্যাচের শেষ দিনে এ দুজন দলকে বাঁচাতে নামবেন।
ম্যাচে জয় ও ড্র যে কোন একটি ফল আসবে। তবে এখনও নিশ্চিত নয় কোন দল জয় পাবে। ম্যাচে এখন এমন পরিস্থিতি বিরাজ করছে যে ড্র হওয়াটা স্বাভাবিক। তবে অস্বাভাবিক হয়ে কারও হাতে জয়ও ধরা দিতে পারে। যে কোন দল জিতে যেতে পারে। চতুর্থ দিন শেষে বাংলাদেশ ভাল অবস্থানে থাকলেও পঞ্চম দিন সকালে দ্রুত অলআউট হয়ে গেলে নিউজিল্যান্ড জিতে যেতে পারে। আর যদি বাংলাদেশ আরও ১৫০-২০০ রানের মতো দ্রুত সময়ে যোগ করে ঝুঁকি নিয়ে নিউজিল্যান্ডকে ব্যাটিং করার সুযোগ দেয় তাহলে জয়ও ধরা দিতে পারে। কিভাবে? বাংলাদেশ যদি ৩০০ রানের মতো দ্রুততম সময়ে টার্গেট নিউজিল্যান্ডকে ছুড়ে দিতে পারে তাহলে একটা সম্ভাবনা আছে। নিউজিল্যান্ড যেহেতু প্রথম টেস্ট ড্র করেছে, দ্বিতীয় টেস্টে জয় তুলে নিতে চাইবে। এমন মুহূর্তে উইকেট যদি স্পিনারদের সহযোগিতা করে তাহলে এ রান করার আগেই নিউজিল্যান্ড অলআউটও হয়ে যেতে পারে। বাংলাদেশ অথবা নিউজিল্যান্ড যে কোন দলই জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ার মতো পরিস্থিতি এখনও ম্যাচে বিরাজ করছে। আর তাই ওপেনার তামিম ইকবাল ম্যাচের ফল কী হতে পারে এ নিয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।
জয়ের হিসেব গেল। এবার আসা যাক ড্র’র হিসেবে। এ ম্যাচ যেভাবে চলছে সেভাবে আজও যদি চলে ড্র হয়ে যাবে। মমিনুল ও সাকিব খেলছে। ব্যাটসম্যান আছে মুশফিক, নাসির ও সোহাগ গাজী। ব্যাটিংয়ে নামার সুযোগ থাকছে রাজ্জাক, রুবেল ও আল আমিনেরও। দিনটিতে ৯০ ওভার খেলা হবে। বাংলাদেশ এগিয়ে ১১৪ রানে। যদি এ ব্যাটসম্যানগুলো মিলে ৫০ ওভার খেলে দিতে পারে তাহলে ম্যাচ ড্র হয়ে যাবে। ৫০ ওভারে রান যদি ২০০ হয়, টার্গেট হবে ৩০০ রানের ওপর। আর যদি ১৫০ রান হয় তাহলে টার্গেট হবে ২৫০ রানের ওপর। তখন নিউজিল্যান্ড বাকি থাকা ওভারে টার্গেট অতিক্রম করতে পারবে না। ঠিক যেমনটি হয়েছে প্রথম টেস্টে। ৪৬ ওভারে বাংলাদেশকে জিততে ২৫৬ রানের টার্গেট দিয়েছিল নিউজিল্যান্ড। সেটি অতিক্রম করা সম্ভব হয়নি। ঠিক তেমনি নিউজিল্যান্ডেরও সম্ভব হবে না। এ কাজটিই করতে চাইছে বাংলাদেশ।
মীরসরাইয়ে বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণ ॥ শিবিরকর্মী আহত
সংবাদদাতা, মীরসরাই, ২৪ অক্টোবর ॥ চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জে একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হাত বোমা বানানোর সময় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে জামালপুর তা’লীমুল কোরান একাডেমীতে এ বিস্ফোরণে আহত হয়েছে এক শিবিরকর্মী। তবে গুরুতর আহত এ কর্মীকে পুলিশ আসার আগেই সরিয়ে নিয়েছে জামায়াত শিবিরের নেতাকর্মীরা। পুলিশ সেখান থেকে বিস্ফোরক তৈরির বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শিবিরকর্মী আলমগীর হোসেন বৃহস্পতিবার বিকেলে জামালপুর তা’লীমুল কোরান একাডেমীতে বসে হাত বোমা তৈরি করছিল। আকস্মিকভাবে একটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। এতে তার বাম হাতের ৩টি আঙ্গুল বিচ্ছিন্ন এবং পায়ে জখম হয়। পরে এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েই শিবিরের অন্য নেতাকর্মীদের সহযোগিতায় হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় আলমগীর। খবর পেয়ে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে বোমা তৈরির গান পাউডার, কৌটাসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করে এবং আলমগীরের ছোটভাইকে গ্রেফতার করে।
জোরারগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নাজমুল হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগে আলমগীরকে অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়। অভিযানে বোমা তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
আজ থেকে এ সরকার অবৈধ
খালেদার দাবি
স্টাফ রিপোর্টার ॥ আজ শুক্রবার থেকে বর্তমান সরকার অবৈধ বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের নেতা ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ২৪ অক্টোবরের পর থেকে অর্থাৎ ‘আজকের পর কাল থেকে’ এ সরকার অবৈধ। আর অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করা নাগরিক অধিকার। তাই আমাদের আন্দোলন চলবে। দুর্বার আন্দোলনে এ সরকারকে ক্ষমতা থেকে নামাতে হবে। জনসভায় বাধা দিলে উদ্ভূত পরিস্থিতির দায় সরকারকে বহন করতে হবে।
খালেদা জিয়া বলেন, সরকার এখন টালবাহানা করছে। এতদিন তারা বলেছিল আপনারা ফর্মুলা দেন। তাই আমি নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে ফর্মুলা দিয়েছি। সরকারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ফর্মুলায় যা বলেছি তা সংবিধান সম্মতভাবে করা সম্ভব। আপনারা যা যা বলেছেন সব করেছি। এখন আর কিছু বাদ নেই। বল এখন আপনাদের কোর্টে। এখন আপনাদেরই ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। তিনি বলেন, এখনও দেশে নিরপেক্ষ লোক আছে তাদের নির্বাচিত করে নিয়ে আসবেন। তাঁরা নির্বাচিত হয়ে নির্বাচনকালীন সময়ে কাজ করবেন শুধু তিন মাসের জন্য। পরবর্তীতে তাঁরা ফেরত যাবে কিন্তু তাঁরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে না।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে খালেদা জিয়া বলেন, ক্ষমতায় থেকে নির্বাচন করে আপনারা আবার ক্ষমতায় আসবেন এ চিন্তা বাদ দেন। তবে আপনাদের অধীনে কোন নির্বাচন হবে না, হতে দেয়া হবে না। শুধু আমি নই, সবদলই নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন চায়। তাই নির্বচন হতে হবে নির্দলীয় সরকারের অধীনেই। আপনাদের যদি এতই জনপ্রিয়তা থাকে তাহলে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন। আপনারা বিজয়ী হলে স্বাগত জানাব। আর আমরা বিজয়ী হলে আপনাদের নিয়ে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠন করব।
৫টা ১৪ মিনিট থেকে শুরু করে ২০ মিনিটব্যাপী বক্তব্যে খালেদা জিয়া বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের আটক, নির্যাতন ও গুমের চিত্রসহ এ সরকারের সব অন্যায়-অত্যাচারের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি দেশবাসীর কাছে প্রশ্ন রেখে বলেন, কোন দলের মতপ্রকাশ করতে দেয়া হয় না, সভাসমাবেশ করতে দেয়া হয় না এটার নাম কী গণতন্ত্র? যত্রতত্র নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। রিমান্ডে নিয়ে তাঁদের ওপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে। সরকারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ধানাই-পানাই না করে অবিলম্বে জনসভা করার অনুমতি দিন। আমরা জনসভা করব। আর কাল যেহেতু জনসভা আছে তাই আজ আর বেশিকিছু না বলে কাল বলব।
আওয়ামী লীগকে উদ্দেশ করে খালেদা জিয়া বলেন, আপনারা তড়িঘড়ি করে সংবিধান সংশোধন করলেন। অথচ সংবিধান সংশোধনের কোন প্রয়োজন ছিল না। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য এক সময় আপনারাই আন্দোলন করেছিলেন। ১৭৩ দিন হরতাল দিয়েছিলেন, জ্বালাও-পোড়াও করে মানুষের অনেক ক্ষতি করেছিলেন, লগি-বৈঠা ও গানপাউডার দিয়ে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করেছিলেন। গণতন্ত্র রক্ষা করার জন্য তখন আমরা আপনাদের দাবি মেনে নিয়েছিলাম। এখন কেন তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করলেন। আপনারা বাকশাল করেছিলেন ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার জন্য টিকতে পারেননি। এবারও সংবিধান সংশোধন করে নিজেদের অধীনে নির্বাচন করে ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে চাচ্ছেন, কিন্তু আপনাদের সেই আশা পূরণ হবে না।
খালেদা জিয়া বলেন, আগামীকাল (আজ শুক্রবার) আমরা নয়াপল্টনে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করব। আমরা অশান্তি চাই না। এই সমাবেশে বাধা বিঘœ সৃষ্টি করতে চাইলে এর দায় দায়িত্ব আপনাদেরই নিতে হবে।
খালেদা জিয়া বলেন, এ সরকার জনগণের সরকার নয়, এ সরকার আওয়ামী লীগের সরকার। সে জন্য আওয়ামী লীগের জন্য কাজ করছে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দেশের মানুষের জন্য কাজ করবে, দেশ শতভাগ এগোবে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, সরকার সভাসমাবেশ করার অধিকার কেড়ে নিচ্ছে। টকশো করতে দিচ্ছে না। টেলিভিশনে মতপ্রকাশ করতে দেয়া হচ্ছে নাÑ এটা কী গণতন্ত্র? তিনি অভিযোগ করেন, আমাদের নেতাকর্মীদের ধরে নিয়ে রিমান্ডে নেয়া হচ্ছে। সরকার প্রতি পদে পদে মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে।
খালেদা জিয়া বলেন, দেশের উন্নতি করার জন্য প্রয়োজন গণতান্ত্রিক সরকার। যে সবার জন্য কাজ করবে। আওয়ামী লীগকে জনগণ জানে। তাঁরা জনগণের কাছে মাফ চেয়ে ক্ষমতায় এসেছিল। তারপরও তাঁরা লুটপাট করেছে। তাঁরা শেয়ার বাজার হলমার্ক, ডেস্টিনি ও পদ্মা সেতুর টাকা লুট করেছে।
খালেদা জিয়া বলেন, এ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দেশের মানুষের ওপর জুলুম নির্যাতন করছে। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়েছে। এ সরকার গণমানুষের সরকার নয়, আওয়ামী লীগের সরকার। দেশে এখন গ্যাস, বিদ্যুত ও পানি নেই। এ সমস্যা সমাধানে সরকারের কোন নজর নেই। আর আওয়ামী লীগ না হলে দেশে কোন কাজ পাওয়া যায় না, চাকরি পাওয়া যায় না। আওয়ামী লীগের হুকুম ছাড়া দেশে কিছুই হয় না। শিক্ষকদের উদ্দেশে খালেদা জিয়া বলেন, নির্দলীয় সরকারের দাবি আদায়ে আমাদের সহযোগিতা করুন। আমরা ক্ষমতায় গেলে আপনাদের চাকরি জাতীয়করণসহ বেতন বৃদ্ধি করা হবে। তিনি বলেন, দেশে আগামী দিনের সুনাগরিক গড়ে তুলতে শিক্ষকদের কাজ করতে হবে। তবে এখন সবচেয়ে বড় প্রয়োজন অত্যাচারী সরকারকে বিদায় করে নিরপেক্ষ নির্বাচন। সরকারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, এখনও সময় আছে আসুন গণতন্ত্র রক্ষার জন্য একসঙ্গে কাজ করি।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার একটি স্বৈরাচারী সরকার। দেশের সব গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে তাঁরা ধ্বংস করেছে। আজই এ সরকারের শেষ দিন। এ সরকার লজ্জাহীন। সামান্যতম লজ্জা থাকলে তাঁরা এখনই পদত্যাগ করত। সেটা না করে তাঁরা ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করতে চাচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রকৃত গণতান্ত্রিক সরকার ছাড়া কোন দাবিই আদায় হয় না, হতে পারে না। তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া আমরা নির্বাচনে যাব না। বর্তমান সরকার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রস্তাব সংসদে উত্থাপন করতে বললে আমরা তা উত্থাপন করি, কিন্তু তাঁরা সেটা মানেননি। তাঁরা বলছে, এ প্রস্তাব সংবিধান পরিপন্থী। তিনি আরও বলেন, সংবিধান পরিপন্থী তো হবেই। আপনারা সংবিধানকে কেটে-ছেঁটে সংশোধন করে নিজেদের মতো করে সাজিয়েছেন। শিক্ষক-কর্মচারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ২৫ অক্টোবর বিএনপির সমাবেশ হবেই। আপনারা সমাবেশে উপস্থিত হয়ে সরকারকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে বাধ্য করবেন।
শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মহাসমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, যুগ্ম মহাসচিব আমানুল্লাহ আমান, বরকত উল্লাহ বুলু, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এহসানুল হক মিলন, ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (একাংশ) সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কামালউদ্দিন সবুজ, অধ্যক্ষ পরিষদের সভাপতি সামসুল হক, কলেজ শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যক্ষ রেজাউল করিম, মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির মহাসচিব দেলোয়ার হোসেন প্রমুখ।
সুন্দরীর ছদ্মবেশে রাক্ষসী মুখ ও মুখোশ
আবেদ খান
রূপকথার গল্প দিয়েই শুরু করি। পুরোটা নয়, সারাংশ। রাজা যাচ্ছিলেন মৃগয়ায়, কয়েকজন দেহরক্ষী নিয়ে। অরণ্যের প্রবেশমুখে দেখলেন একটি বিশাল বৃক্ষের নিচে রোদনরত এক অপরূপ সুন্দরী রমনী। এমন অনিন্দ্যসুন্দরী রমনী তিনি আগে আর কখনও দেখেননি। এমনকি তাঁর রানীদের কারও রূপই এই রূপসীর ধারে কাছে নয়। রাজা অশ্বপৃষ্ঠ থেকে অবতরণ করে সেই সুন্দরীর সম্মুখীন হয়ে বললেন, ‘সুন্দরী, এই নির্জন বনভূমিতে একাকী এভাবে দাঁড়িয়ে ক্রন্দন করছ কেন? কে তুমি? কোথা থেকে এসেছ, কোথায় যেতে চাও? আমি এ অঞ্চলের নৃপতি, তুমি খুলে বল কী তোমার দুঃখ। আমি অবশ্যই তার মীমাংসা করব।’
রোরুদ্যমানা নারী যে কথা বলল, তা হলোÑ সে একটি প্রতিবেশী রাজ্যের রাজকন্যা। কিছুকাল পূর্বে একটি রাক্ষস সেই রাজ্যের সবাইকে হত্যা করে। তাঁর পিতা-মাতাসহ রাজ্যের কেউই রক্ষা পায়নি। সে কোনমতে বেঁচে আসতে পেরেছে বটে, কিন্তু এখন এই প্রাণরক্ষার কী প্রয়োজন সে বুঝে উঠতে পারছে না। [বিস্তারিত চতুরঙ্গ পাতায়, পৃষ্ঠা-৫]
অনুমতি না পাওয়ায় আজ আওয়ামী লীগের সমাবেশ হচ্ছে না
স্টাফ রিপোর্টার ॥ বিএনপি অনুমতি পেলেও ঢাকায় আজ শুক্রবার সমাবেশ করার অনুমতি পায়নি শাসক দল আওয়ামী লীগ। শর্তসাপেক্ষে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটকে সমাবেশ করার অনুমতি দিলেও আবেদন করা সত্ত্বেও ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগকে সমাবেশ করার অনুমতি দেয়নি ঢাকা মহানগর পুলিশ।
বঙ্গবন্ধু এ্যাভিনিউতে আজ শুক্রবার ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের পূর্বঘোষিত সমাবেশ করার কথা ছিল। গত ১০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত দলের মহানগর শাখার বর্ধিত সভায় আজ বঙ্গবন্ধু এ্যাভিনিউস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এই সমাবেশের কর্মসূচী ঘোষণা করেন মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম। ১৩ অক্টোবর মহানগর আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক সহিদুল ইসলাম মিলন ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, বঙ্গবন্ধু এ্যাভিনিউ এবং পল্টন ময়দানের যে কোন একটি স্থানে সমাবেশ অনুষ্ঠানের অনুমতি চেয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, সিটি কর্পোরেশন ও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কাছে পৃথক পৃথকভাবে আবেদন করেন।
কিন্তু বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত তাদের কোন স্থানেই সমাবেশের অনুমতি দেয়া হয়নি। তবে মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, অনুমতি না পাওয়ায় আমরা আজ পূর্বঘোষিত সমাবেশ করব না। তবে নেতাকর্মীরা মাঠে থাকবে। বিএনপি সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও বোমাবাজি করলে তার দাঁত ভাঙ্গা জবাব দেয়া হবে।
অধিবেশন চললেও সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণায় অসুবিধা হবে না ॥ সিইসি
স্টাফ রিপোর্টার ॥ আজ থেকে শুরু হচ্ছে দশম জাতীয় সংসদের দিনক্ষণ গণনা। সংবিধান অনুযায়ী ২৪ অক্টোবর থেকে ২৪ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। নির্বাচনের দিনক্ষণ শুরুর আগের দিন বৃহস্পতিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজি রকিব উদ্দিন জানিয়েছেন কমিশন নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। সঠিক সময়ে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। যাতে সবার জন্য নির্বাচনে অংশ নিতে সুবিধা হয়। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য কোন ছাড় দেয়া হবে না বলে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, সংসদ অধিবেশন চললেও নির্বাচনের তফসিল ঘোষণায় কোন অসুবিধা হবে না। সতর্কতার সঙ্গে নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। সবার অংশগ্রহণের অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কমিশনের শক্তির উৎস সংবিধান। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনকালীন সময়ে যে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কমিশনের সহায়তা এবং চাহিদা পূরণে বাধ্য। তারপরও কমিশনের আরও ক্ষমতা লাগবে কিনা তা ভেবে দেখতে হবে।
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচনে যোগ্য ও ভাল লোক রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেয়া হবে। যদি কোন কর্মকর্তা কোন দলের পক্ষ হয়ে কথা বলেন তাঁদের রিটানিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেয়া হবে না। তফসিল ঘোষণার সময়ই রিটানিং কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেন নির্বাচনে দেশী বিদেশী পর্যবেক্ষকদের পর্যবেক্ষণের যে নীতিমালা রয়েছে তাতে এবার কিছুটা পরিবর্তন আনা হচ্ছে। তবে এতে মৌলিক কোন পরিবর্তন আনা হচ্ছে না। কারণ এ নীতিমালার অধীনে অনেক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাই সামান্য কিছু পরিবর্তন আনা হচ্ছে। নির্বাচনে প্রার্থীদের আচরণ বিধি সম্পর্কে বলেন আচরণবিধি সংশোধনের কাজ প্রায় চূড়ান্ত করা হয়েছে। দু’একদিনের মধ্যে তা প্রকাশ করা হবে।
এনডিপির নিবন্ধন সম্পর্কে তিনি বলেন হাইকোর্ট এনডিপির নিবন্ধন দেয়ার জন্য রায় দিয়েছে। এ রায় ইসির হাতে এসে পৌঁছেছে। এক মাসের মধ্যে তাদের কাগজপত্র যাচাই করে নিবন্ধন দেয়ার কথা বলা হয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন কারণে সময় পার হয়েছে। এনডিপির নিবন্ধন বিষয়ে যাচাই বাচাই করতে আর কিছুদিন সময় লাগবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
কওমী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা তাঁদের সনদের স্বীকৃতি পাচ্ছেন
বর্তমান মেয়াদেই সরকার কওমী মাদ্রাসা শিক্ষা কর্তৃপক্ষ গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে
স্টাফ রিপোর্টার ॥ ক্ষমতাসীন মহাজোট সরকারের মেয়াদেই সনদের সরকারী স্বীকৃতি পেতে যাচ্ছে দেশের কওমী মাদ্রাসার লাখ লাখ শিক্ষার্থী। ‘বাংলাদেশ কওমী মাদ্রাসা শিক্ষা কর্তৃপক্ষ’ গঠন করে শিক্ষার্থীদের সনদের স্বীকৃতি দেয়া ও এসব মাদ্রাসার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সরকার নিয়ন্ত্রিত মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন আলিয়া মাদ্রাসার বাইরে দেশে প্রায় ২৫ হাজার কওমী মাদ্রাসা রয়েছে বলে মনে করা হয়। তবে এসব মাদ্রাসায় কত সংখ্যক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে তার সুনির্দিষ্ট কোন পরিসংখ্যান সরকার কিংবা বেসরকারী কোন প্রতিষ্ঠানের কাছেও নেই। কওমী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সনদের সরকারীভাবে কোন স্বীকৃতিও নেই। ফলে চাকরি থেকে শুরু করে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য এরা প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারেন না। তবে অনেক প্রতিষ্ঠান ও এর মালিকদের বিরুদ্ধে রয়েছে উগ্র জঙ্গীবাদী কর্মকা-ের অভিযোগ। এদিকে কিছু ধর্মব্যবসায়ী সনদের বিরোধিতা করছে অভিযোগ এনে লাখ লাখ শিক্ষার্থীকে রক্ষায় অবিলম্বে শিক্ষা সনদের স্বীকৃতি দানের আহ্বান জানিয়েছে দাওয়াতে ইসলাম বাংলাদেশ।
বৃহস্পতিবার শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ সরকারী উদ্যোগের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন, সনদের স্বীকৃতির জন্য কওমী শিক্ষার্থীদের দাবি যৌক্তিক। অবশ্যই তাঁদের সনদের স্বীকৃতি পাওয়া উচিত। আলেম-ওলামাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে কওমী মাদ্রাসা শিক্ষা কর্তৃপক্ষ গঠন করে শীঘ্রই কওমী শিক্ষার্থীদের সনদের স্বীকৃতি দেয়ার বিষয়টি বাস্তবায়ন করা হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, কওমী শিক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিশিষ্ট এক আলেমকে কওমী মাদ্রাসা শিক্ষা কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ করবে সরকার। আর কওমী শিক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিশিষ্ট সাত আলেমকে এই কর্তৃপক্ষের সদস্য করা হবে। এ ছাড়া কওমী মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের (বেফাক) পাঁচ বোর্ডের পাঁচজন চেয়ারম্যান পদাধিকার বলে এই কর্তৃপক্ষের সদস্য হবেন। সরকারের পক্ষ থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব বা তদূর্ধ পদমর্যাদার একজনকে এই কর্তৃপক্ষের সদস্য করা হবে। শিক্ষা কর্তৃপক্ষ তাদের পছন্দমত একজনকে এই কর্তৃপক্ষের সদস্য সচিব হিসেবে নিয়োগ দেবে বলেও কর্মকর্তারা জানান। কর্মকর্তারা বলেন, কওমী মাদ্রাসা শিক্ষা কর্তৃপক্ষ স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরের ডিগ্রীর স্বীকৃতি দেবে। কওমী মাদ্রাসার বিভিন্ন বোর্ডের কার্যক্রম সমন্বয় করা এবং কারিকুলাম যুগপোযোগী করার কাজ করবে এই কর্তৃপক্ষ। এই কর্তৃপক্ষ যে কোন ধরনের সহযোগিতা চাইলে সরকার তা দেবে বলেও জানান তাঁরা। কওমী মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ মাদ্রাসাগুলোর এ্যাফিলিয়েটিং হিসেবে কাজ করবে। অর্থাৎ সনদের স্বীকৃতি পেতে হলে কওমী মাদ্রাসাগুলোকে অবশ্যই এই কর্তৃপক্ষের অধিভুক্ত হতে হবে। যেসব মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের অধিভুক্ত হবে না সেসব মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা সনদের স্বীকৃতি পাবে না। কওমী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা সনদের স্বীকৃতি পেলে বিভিন্ন চাকরির জন্য আবেদন করতে পারবেন। এ ছাড়া প্রতিযোগিতামূলক বিভিন্ন পরীক্ষায় অংশ নেয়ারও সুযোগ পাবেন বলে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা জানান। কওমী নেছাব অনুসরণ করেই কওমী মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ কওমী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের পাঠ্যক্রম প্রস্তুত করবে। জানা গেছে, বিগত চারদলীয় জোট সরকারের সময় থেকেই কওমী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা তাদের সনদের স্বীকৃতির দাবি জানিয়ে আসছিল। জোট ওই সরকার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তায়ন হয়নি। বর্তমান সরকার গত বছরের ১৫ এপ্রিল কওমী মাদ্রাসা শিক্ষার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে বেফাকের সভাপতি ও চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালক ও হেফাজতে ইসলামীর আমির শাহ আহমদ শফীকে চেয়ারম্যান করে ১৭ সদস্যের কমিশন গঠন করে। এই কমিশনের কো-চেয়ারম্যান হন শোলাকিয়া ঈদগাহের খতিব ফরিদ উদ্দিন মাসউদ। আর সদস্য সচিব করা হয় গোপালগঞ্জের গওহরডাঙ্গা মাদ্রাসার অধ্যক্ষ রুƒহুল আমীনকে।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, হেফাজতে ইসলামীর আমিরের নেতৃত্বাধীন কমিশনের সুপারিশের আলোকেই কওমী শিক্ষার্থীদের সনদের স্বীকৃতি দিতে কর্তৃপক্ষ গঠন করা হচ্ছে। কওমী মাদ্রাসা নিয়ে যে কোন ধরনের সিদ্ধান্ত কওমী মাদ্রাসার আলেম-ওলামারাই নেবেন বলে শিক্ষানীতিতেও উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, হেফাজতে ইসলামীর আমিরের নেতৃত্বাধীন কমিশন যে প্রস্তাব দিয়েছে আমরা তারই অনুমোদন দিচ্ছি। কারণ দীর্ঘদিন থেকেই শিক্ষার্থীরা সনদের স্বীকৃতির দাবি জানিয়ে আসছিল। আর এটা তাদের ন্যায্য দাবি। আলেম-ওলামাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেই কওমী মাদ্রসা শিক্ষা কর্তৃপক্ষ গঠন করা হবে বলেও জানান শিক্ষামন্ত্রী। এদিকে কওমী মাদ্রাসার স্বীকৃতির জন্য আন্দোলনরত সংগঠন দাওয়াতে ইসলাম অভিযোগ করেছে, কিছু ধর্মব্যবসায়ী সনদের বিরোধিতা করছে। এরা শিক্ষার্থীদের নিজেদের মতো নিয়ন্ত্রণে রেখে ব্যবসা করতে চায়। সংগঠনের আহ্বায়ক মাওলানা জহিরুল ইসলাম (মুস্তাকিম হুজুর) এক বিবৃতিতে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন যে, কমিশন যেভাবে চাইবে সেভাবে শিক্ষা সনদের স্বীকৃতি প্রদান করা হবে। কওমী মাদ্রাসাগুলোকে সরকারের নিয়ন্ত্রণে আনা হবে না। সরকারের উদ্দেশ্য শুধু কওমী শিক্ষার্থীদের সরকারী চাকরির সুযোগ তৈরি করা। আল্লামা আহম্মদ শফী এবং কমিশনের অন্য আলেম-ওলামাগণ এ বক্তব্য মেনে নিয়েই একটি অভিন্ন শিক্ষা কারিকুলাম প্রস্তুতির কাজে হাত দিয়েছিলেন। কিন্তু এক সময় এসে আহম্মদ শফী কারও দ্বারা বিভ্রান্ত হয়ে মনে করে বসলেন যে, কওমী মাদ্রাসা বোর্ড ‘বেফাক’ তাঁর হাত ছাড়া হয়ে যাবে। তাঁর এ ধারণাটি যথাযথ নয় বলেই মনে করে দাওয়াতে ইসলাম। আহ্বায়ক আরও বলেন, সরকার যখন কওমী মাদ্রাসার শিক্ষা সনদের স্বীকৃতি দিতে সব ধরনের কার্যক্রম হাতে নিয়েছে তখন কতিপয় আলেম নামধারী মুরব্বি এর বিরোধিতা করে নানা ধরনের বিবৃতি দিয়ে যাচ্ছেন। এতে করে কওমী শিক্ষা সনদের সরকারী স্বীকৃতি আদায় ও বাস্তবায়ন বিলম্বিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দেশের বিশিষ্ট ওলামায়ে কেরামগণ মনে করছেন, কওমী আলেমদের শিক্ষা সনদের সরকারী স্বীকৃতির আদায় এখন জরুরী হয়ে পড়েছে। দীর্ঘসময় ধরে কিছু মুরুব্বি আলেম কওমী শিক্ষাকে নিয়ে ব্যবসা করছেন। মুরুব্বি সেজে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের কাছ থেকে যাকাত, ফিতরা, কোরবানির পশুর চামড়া ও দান দক্ষিণা নিয়ে বড় বড় মাদ্রাসা করেছেন। এ সব দ্বীনী প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে। মুরুব্বি নামধারী এসব আলেম টাকা পয়সা নিয়ে তাদের জীবনের উন্নতি সাধনে ব্যস্ত। কওমী শিক্ষা সনদের সরকারী স্বীকৃতি হলে এসব নামধারী আলেমদের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে। আমরা মনে করি, এসব আলেম তথা নামধারী মুরুব্বিদের কথা না শুনে প্রধানমন্ত্রী অবশ্যই কওমী শিক্ষা সনদের সরকারী স্বীকৃতি দেবেন এবং তাঁর আমলেই এর বাস্তবায়ন করবেন।
রাজশাহীতে বস্তাভর্তি পাথরসহ শিবিরকর্মী আটক, গ্রেফতার ২০
১৮ দলের মঞ্চ ভেঙ্গে দিল পুলিশ
স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী ॥ রাজশাহী নগরীসহ জেলায় ব্যাপক ধরপাকড় শুরু করেছে পুলিশ। বুধবার রাত ১০টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত নগরীর বিভিন্ন স্থানে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ২০ জনকে আটক করেছে। এরমধ্যে বস্তাভর্তি পাথরসহ পুঠিয়া থানা পুলিশ শিবিরের এক নেতাকেও আটক করা হয়েছে। এছাড়া নগরীর কাটাখালীতে জেলা বিএনপির একটি মঞ্চ ভেঙ্গে দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরীর উপকন্ঠে পবা উপজেলার কাটাখালী পৌরসভা এলাকার সিনেমা হলের সামনে মঞ্চ তৈরি করার সময় পুলিশ ভেঙ্গে দিয়েছে।
পবা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মফিদুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে জেলা ১৮ দলের নেতাকর্মীদের অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচী ঘোষণা করা হয়। এ বিক্ষোভ সমাবেশের অনুমতি চেয়ে পুলিশের কাছে আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ অনুমতি না দিয়ে মঞ্চ করতে বাধা দেয় এবং পরে তা ভেঙ্গে দেয়।
মতিহার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুস সোবহান বলেন, জেলা ১৮ দলকে বিক্ষোভ মিছিল করার অনুমতি দেয়া হয়েছে। তবে মহাসড়কের পাশে মঞ্চ করে দিনভর বিক্ষোভ সামাবেশ করলে যান চলাচল বিঘœ ও নাশকতার আশঙ্কায় সেখানে মঞ্চ ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে। অপরদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলা ও নাশকতা সৃষ্টির লক্ষ্যে রেললাইন থেকে বস্তাভর্তি পাথর নিয়ে যাবার পথে পুঠিয়া উপজেলার কাজীপাড়া গ্রামে জনতার হতে ধরা পড়ে গণধোলাইয়ের পর এক শিবির কর্মীকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। তার নাম তবিবুর রহমান (২২)। সে রাজশাহী নগরীর মতিহার থানার পাহাড়পুর জামে মসজিদের ঈমাম।
পুঠিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ আবু ওবাইদা জানান, শিবিরকর্মী তবিবুর রংপুরের মিঠাপুকুর থানার ইসলামপুর গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে। সে কাপাসিয়া এলাকায় শিবিরের সহসভাপতি ও মতিহারের পাহাড়পুর জামে মসজিদের ঈমাম।
বৃহস্পতিবার ভোরে তবিবুর রেল লাইনের পাথর বস্তায় ভর্তি করে ভ্যানযোগে রাজশাহীর দিকে যাওয়ার সময় জনতার হাতে ধরা পড়ে। পরে সে স্বীকার করে শুক্রবার নাশকতা সৃষ্টির জন্য পাথর সংগ্রহ করে নিয়ে যাচ্ছিল।
কোটি মানুষের প্রিয় শিল্পী মান্না দে আর নেই
মোরসালিন মিজান ॥ সেই সাতজন নেই আজ টেবিলটা তবুু আছে/সাতটা পেয়ালা আজও খালি নেই/একই সে বাগানে আজ এসেছে নতুন কুঁড়ি/শুধু সেই সেদিনের মালী নেই...। হ্যাঁ, চলে গেছেন মালী। চিরতরে। আর জমবে না প্রাণখোলা আড্ডা। মান্নাদের কফি হাউস হয়ে গেছে মান্না দের স্মৃতি শুধু। এখন সেখানে বিয়োগ ব্যথা। গোটা ভারত এবং বাংলাদেশে শোক। সারা পৃথিবীর বাংলাভাষীদের মন খারাপ। বড় ভালবাসার মানুষ প্রিয় শিল্পী পুজনীয় মান্না দে চলে গেছেন যে তাঁদের ছেড়ে। প্রায় সাত দশকের সঙ্গীত জীবন। বাংলা তো বটেই, অন্য অনেক ভাষায় গান করেছেন। সংখ্যায় তা প্রায় সাড়ে তিন হাজার। সিনেমার গান, ধ্রুপদী সঙ্গীত, আধুনিক গান, রবীন্দ্রসঙ্গীত, নজরুলগীতিÑ সবখানে দরদী কণ্ঠ! সঙ্গীত সমজদারদের মতে, নানা আঙ্গিকের গান গাওয়ার সহজাত প্রতিভা মান্না দে। বিরল এই প্রতিভা উপমহাদেশের কিংবদন্তি শিল্পী বৃহস্পতিবার ভোর ৩টা ৫০ মিনিটে ভারতের বেঙ্গালুরুর একটি বেসরকারী হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর। দুপুরে বেঙ্গালুরুর হিব্বল মহাশ্মশানে শিল্পীর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। উপমহাদেশের বিখ্যাত এই গায়কের মৃত্যুর খবরে ভারতসহ বাংলাদেশের সঙ্গীত ও সংস্কৃতি অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। তবে যেখানে জন্ম, জীবনের স্বর্ণ সময় পার করেছেন যে শহরে সেই প্রিয় কলকাতায় কিংবা কফি হাউসে আনা সম্ভব হয়নি তাঁর মরদেহ।
জনকণ্ঠের কলকাতা প্রতিনিধি শুভদীপ বকসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে বুকের সংক্রমণ ও কিডনির সমস্যায় ভুগছিলেন মান্না দে। গত ৮ জুন অবস্থার আরও অবনতি হলে শিল্পীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর থেকে হাসপাতালেই ছিলেন তিনি। বেশ কয়েকবার তাঁর ডায়ালিসিস হয়। অবশেষে বৃহস্পতিবার ভোরে চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে পৃথিবী থেকে চলে যান মান্না দে। ভক্তদের শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য সকাল ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত মরদেহ বেঙ্গালুরুর রবীন্দ্র কলা ক্ষেত্রে রাখা হয়। সেখানে প্রিয় শিল্পীকে চির বিদায় জানান ভক্ত অনুরাগীরা। তবে মুখ্যমন্ত্রী মমতার অনুরোধ সত্ত্বেও মান্না দের মরদেহ জন্মস্থান কলকাতায় আনার অনুমতি দেয়নি শিল্পীর পরিবার। কী কারণে এমন সিদ্ধান্ত তা জানা যায়নি। তবে এই সিদ্ধান্ত পশ্চিমবঙ্গের মানুষের শোক আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
মান্না দে ১৯১৯ সালের ১ মে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর আসল নাম ছিল প্রবোধচন্দ্র দে। বাবা পূর্ণচন্দ্র দে ও মা মহামায়া দেবী। লেখাপড়া করেছেন কলকাতার স্কটিশ চার্চ কলেজ এবং বিদ্যাসাগর কলেজে। আর সঙ্গীত শিক্ষার শুরু কাকা সঙ্গীতাচার্য কৃষ্ণচন্দ্র দের কাছে। ১৯২০ ও ৩০-এর দশকের বিখ্যাত গায়ক ছিলেন তিনি। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী গায়কের শিষ্য ও সহকারী ছিলেন মান্না দে। ১৯৪২-এ কাকার হাত ধরেই তিনি বম্বে পাড়ি জমান। ওস্তাদ দবির খানের কাছে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে তালিম নেন। শিখেছেন ওস্তাদ আমান আলি খান ও ওস্তাদ রহমান খানের কাছে। বিস্ময়কত তথ্য হচ্ছে, সঙ্গীত জীবন শুরুর মাত্র ৬ বছরের মধ্যে তিনি দেশের অন্যতম বিখ্যাত শিল্পীদের তালিকায় জায়গা করে নেন। বাংলা, হিন্দী, ভোজপুরি, পঞ্জাবী, কোঙ্কনি, অসমিয়া, ওড়িষ্যা, গুজরাতি, মরাঠিসহ বিভিন্ন ভাষায় তিনি সাড়ে তিন হাজারের মতো গান করেছেন। সিনেমায় গাওয়া শুরু করেন কৃষ্ণচন্দ্রের হাত ধরেই। কাকার সঙ্গীত পরিচালনায় ‘তমন্না’ ছবিতে সুরাইয়ার সঙ্গে দ্বৈতকণ্ঠে প্রথম গান ‘জাগো আয়ে ঊষা, পঞ্ছি বোলে জাগো’ গানটি। এখানেই শেষ নয়। গান করার পাশাপাশি কৃষ্ণচন্দ্র ও শচীনদেব বর্মণের সঙ্গে সহকারী সঙ্গীত পরিচালকের কাজ করেন তিনি। হিন্দী সিনেমায় তাঁর প্রথম একক হিট গানটি ছিল ‘উপর গগন বিশাল।’ সেটি ১৯৪৩ সালের কথা। পরে শচীন দেব বর্মণসহ বিখ্যাত সঙ্গীত পরিচালকদের সুরে ১৯৪০, ৫০ ও ৬০-এর দশকে সিনেমায় অনেক কালজয়ী গান করেন তিনি। ‘কতদূরে আর নিয়ে যাবে বলো’ গানটি তাঁর রেকর্ড করা প্রথম বাংলা গান। এটি ১৯৫৩ সালে রেকর্ড করা হয়। ৬০-এর দশক থেকে বাংলা সিনেমায় প্লে-ব্যাক করেছেন। এখানেও তিনি ছিলেন বিপুল জনপ্রিয়। তাঁর বিখ্যাত বাংলা গানগুলোর মধ্যে ‘কফি হাউসের সেই আড্ডাটা’ ছাড়াও রয়েছে ‘এই কুলে আমি, ‘সেই তো আবার কাছে এলে, ‘ললিতা’, ‘ওকে আজ চলে যেতে বল না’, ‘আমার ভালবাসার রাজপ্রাসাদে’, ‘যখন কেউ আমাকে পাগল বলে’, ‘আমি যামিনী তুমি শশী হে’, ‘কাহারবা নয় দাদরা বাজাও’, ‘শাওন রাতে যদি’, ‘আমার ভালবাসার রাজপ্রাসাদে’, ‘আমি যে জলসাঘরে’ সহ অনেক গান। এসব গানের মাধ্যমে শ্রোতার হৃদয়ের মনিকোটায় স্থান করে নেন মান্না দে।
কর্মের স্বীকৃতিও হিসেবে পেয়েছেন বহু পুরস্কারও। নানাভাবে তাঁকে সম্মানিত করা হয়েছে। ১৯৭১ সালে ভারত সরকার তাঁকে ‘পদ্মশ্রী’ পুরস্কার প্রদান করে। ২০০৫ অর্জন করেন ‘পদ্মভূষণ’। ২০০৭ সালে লাভ করেন ‘দাদাসাহেব ফালকে’ পুরস্কার। এ ছাড়াও ভারতের ৪টি জাতীয় পুরস্কার, রবীন্দ্রভারতী ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্মানিক ডি. লিট, আলাউদ্দিন খান পুরস্কারসহ দেশ-বিদেশের অসংখ্য পুরস্কার লাভ করেন মান্না দে। এমন কীর্তিমানের মৃত্যু নেই। এই ভালবাসা এই প্রেমের মৃত্যু হয় না।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শোক ॥ মান্না দের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ এ্যাডভোকেট। এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, সুরেলা এই কণ্ঠ এই সঙ্গীত শৈলী কখনও ভুলবার নয়। উপমহাদেশের সঙ্গীতপ্রেমী জনগণের কাছে এই কিংবদন্তি শিল্পী চিরঞ্জীব থাকবেন। রাষ্ট্রপতি মান্না দের বিদ্রেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্য, বন্ধুবান্ধব ও শুভাকাঙ্খীদের প্রতি সমবেদনা জানান। অপর এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, মান্না দে সঙ্গীত প্রিয় মানুষের কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
মান্না দের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন ও জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া। এক শোক বার্তায় বিএনপি চেয়ারপার্সন বলেন, অসাধারণ কণ্ঠশিল্পী মান্না দের মৃত্যুতে সমগ্র বাংলাভাষীদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ভারতের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শোক ॥ জনকণ্ঠের কলকাতা প্রতিনিধি জানান, মান্না দের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্র্জী বলেছেন, বহুমুখী প্রতিভার এক অসাধারণ শিল্পী ছিলেন মান্না দে। তাঁর গায়কী চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। অপর শোক বার্তায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং বলেছেন, আমি গভীরভাবে মর্মাহত। তিনি ছিলেন ‘সুরসম্রাট’। তাঁর গায়কী ছিল স্বতন্ত্র। তাঁর মৃত্যুতে ভারত এক জন কিংবদন্তি শিল্পীকে হারাল।
তারকাদের শোক ॥ মান্না দের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন ট্যুইটারে লিখেছেন, সঙ্গীত জগতের একজন মহীরুহ চলে গেলেন। শব্দ বেঁচে থাকে। অমর হয়ে যায়। সাবানা আজমির টুইটÑ মান্না দে এক স্বতন্ত্র কণ্ঠের অধিকারী। নিজের গানের মধ্যে দিয়েই তিনি বেঁচে থাকবেন। অনুপম খের বলেছেন, মান্না দে সেই কিংবদন্তি শিল্পীদের মধ্যে প্রথম, যাঁর গান আমি শিমলায় একটি অনুষ্ঠানে শুনেছিলাম। তিনি তাঁর কণ্ঠস্বরের মতোই ভদ্র ও শান্ত ছিলেন। তাঁকে খুব মিস করব। তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করি। তবলার জাদুকর ওস্তাদ জাকির হুসেন বলেছেন, শেষ স্বর্ণকণ্ঠ শিল্পী চলে গেলেন। মধুর ভ-ারকর টুইটে লিখেছেন, মান্না দা, সোনালি কণ্ঠের অধিকারী কিংবদন্তি শিল্পী। দশকের পর দশক ধরে আমাদের হৃদয়ে রাজত্ব করেছেন। সবাই তাঁর শূন্যতা অনুভব করবে। বাপ্পি লাহিড়ী বলেছেন, তিনি সুরসম্রাট ছিলেন। সঙ্গীত গুলে খেয়েছিলেন। ভারতের সঙ্গীতজগৎ পিতৃস্থানীয়কে হারাল। আরতি মুখোপাধ্যায় বলেছেন, উনি নিজেই সঙ্গীতের প্রতিষ্ঠান ছিলেন। ওঁর প্রয়াণে অপুরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল। অনুপ ঘোষাল বলেন, মান্না দে এক পরিপূর্ণ শিল্পী। প-িত অজয় চক্রবর্তী বলেন, দেশের সাঙ্গীতিক বাবা চলে গেলেন। মান্না দে ভারতের রতœ। হৈমন্তী শুক্লা বলেছেন, তিনি আমার বাবার মতো ছিলেন। আমি আজ যেটুকু জানি সবই তাঁর জন্য। মৃত্যুতে তাঁর স্নেহ থেকে বঞ্চিত হলাম। সেইসঙ্গে গানের জগতের বিরাট ক্ষতি হলো। শ্রীকান্ত আচার্য বলেছেন, মান্না দের মতো শিল্পী শতাব্দীতে এক বারই আসেন। অপর্ণা সেন বলেছেন, ওঁর সঙ্গে আমার খুব বেশি দেখা হয়নি, সেই দুঃখ চিরকাল রয়ে যাবে। এই মৃত্যু পরবর্তী প্রজন্মের কাছে এক বিরাট ক্ষতি। শ্রেয়া ঘোষাল বলেছেন, সারা জীবন তিনি সঙ্গীতের সাধনা করে গেছেন। শুধু শিল্পী হিসেবে নয়, মানুষ হিসাবেও খুব ভাল ছিলেন। তিনি মারা যাননি, তিনি অমর। অভিজিৎ বলেছেন, ‘কফি হাউস’ থেকে ‘আমি যে জলসাঘরে’ এসব গানের মাঝে তিনি চিরকাল বেঁচে থাকবেন। তিনি ভগবানের দূত। একইভাবে শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের শিল্পী ও সংস্কৃতিসেবীরা।
রাজনীতিবিদদের শোক ॥ পশ্চিমবঙ্গের কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী তিওয়ারি টুইটারে লিখেছেন, মান্না দের মৃত্যুতে আমি গভীর শোকাহত। আরও এক কিংবদন্তি আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। তাঁর কণ্ঠ ও গায়কীতে একটা গোটা প্রজন্ম মজে ছিল। বিজেপির প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নরেন্দ্র মোদিও বাদ যাননি। তাঁর টুইট, আমরা এক কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পীকে হারালাম। তাঁর অমর কণ্ঠ আমাদের মধ্যে সারাজীবন থাকবে। সুষমা স্বরাজ টুইটারে লিখেছেন, মহানগায়ক মান্না দের প্রতি আমার শ্রদ্ধা জানাই।
রাজনৈতিক সঙ্কটে চ্যালেঞ্জের মুখে অর্থনীতি
এম শাহজাহান ॥ চলমান রাজনৈতিক সঙ্কটে চ্যালেঞ্জের মুখে দেশের অর্থনীতি। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। বড় উদ্যোক্তা থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের ব্যবসায়ীরাও আতঙ্কিত। চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট দূর করে দেশের অর্থনীতিকে বাঁচাতে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই থেকে বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বরাবর চিঠি দেয়া হয়েছে।
এর আগে ব্যবসায়ীদের আরেক সংগঠন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি থেকে গত ২০ অক্টোবর এই দুই নেত্রীকে পৃথক চিঠি দেয়া হয়। এছাড়া সম্প্রতি পোশাক রফতানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ বাটেক্সপো ফেয়ারে দুই নেত্রীকে আমন্ত্রণ জানায়। ওই সময় বিজিএমইএর পক্ষ থেকে বলা হয়, দেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা দূর না হলে ক্রেতারা বাংলাদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে। তাই দেশের রফতানি বাণিজ্যসহ সামষ্টিক অর্থনীতি রক্ষা করতে দ্রুত রাজনৈতিক সঙ্কট দূর হওয়া প্রয়োজন। এ প্রসঙ্গে এফবিসিসিআই সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দীন আহমেদ জনকণ্ঠকে বলেন, রাজনৈতিক সঙ্কটে ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম হতাশা ও অস্থিরতা বিরাজ করছে। এই অস্থিরতা দূর না হলে দেশের অর্থনীতিই এক কঠিন সঙ্কটের মধ্যে পড়বে। অথচ রাজনীতিবিদরা দেশের মানুষের ভালর জন্যই রাজনীতি করেন। তিনি বলেন, নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে দেশে যে রাজনৈতিক সঙ্কট চলছে তা সংলাপ ও আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে দূর হওয়া প্রয়োজন। এফবিসিসিআই থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে চিঠি দেয়া হয়েছে। ওই চিঠিতে আমরা রাজনৈতিক সঙ্কট দূর করতে দুই দলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছি।
পাশাপাশি দু’নেত্রীর সঙ্গে দেখা করার আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে। তাঁরা সময় দিলে আমরা সাক্ষাতেও দুই নেত্রীকে চলমান সঙ্কট দূর করার জন্য অনুরোধ করব। এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সর্বদলীয় সরকারের মতো একটি ভাল প্রস্তাব দিয়েছেন। অপরদিকে বিরোধীদলীয় নেত্রীও একটি প্রস্তাব জাতির সামনে তুলে ধরেছেন। এখন রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত এই প্রস্তাব দুটি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করা। আমরা ব্যবসায়ীরা চলমান রাজনৈতিক সঙ্কটের অবসান চাই।
এদিকে ঢাকা চেম্বারের প্রেসিডেন্ট মোঃ সবুর খানও চলমান সঙ্কট উত্তরণ ও সাক্ষাতের সময় চেয়ে দুই নেত্রীকে চিঠি দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে লেখা চিঠিতে বলা হয়েছেÑ বর্তমান সরকার কর্তৃক গৃহীত সঠিক নীতিমালা ও পদক্ষেপের ফলে দেশের আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রয়েছে এবং বিগত দু’দশকেরও বেশি সময় ধরে গড়ে ৬ শতাংশের অধিক হারে জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হচ্ছে। এছাড়া তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর এবং অধিক কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যে ঢাকা চেম্বার ২ হাজার নতুন উদ্যোক্তা তৈরির কর্মসূচী গ্রহণ করেছে। এসব উদ্যোগ সফল করতে সহযোগিতা ও প্রাজ্ঞ দিকনির্দেশনার জন্য এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ঢাকা চেম্বারের পরিচালনা পর্ষদ সুনির্দিষ্ট কিছু প্রস্তাবনা তুলে ধরতে চায়। এছাড়া বিরোধীদলীয় নেত্রীকে লেখা চিঠিতে ঢাকা চেম্বারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছেÑ চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট এবং অস্থিরতায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং দেশের আর্থ-সামাজিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে। বর্তমানে দেশের মানুষের নিকট রাজনীতি একটি প্রকট সমস্যা হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য রাজনৈতিকদলগুলোকে প্রধান ভূমিকা রাখতে হবে।
এছাড়া চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট উত্তরণে সম্প্রতি আত্মপ্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যবসায়ী পরিষদ এবং স্বাধীনতা ব্যবসায়ী পরিষদ নামে দুটি সংগঠনের। বাণিজ্য সংগঠনের পাশাপাশি এ দুটি সংগঠনও রাজনৈতিক সঙ্কট থেকে দেশের অর্থনীতি রক্ষা করতে কাজ করে যাচ্ছে। বিএনপিপন্থী বাংলাদেশ ব্যবসায়ী পরিষদের নেতা ও বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা আব্দুল আউয়াল মিন্টু জনকণ্ঠকে বলেন, এফবিসিসিআইয়ের একপেশে অবস্থানের কারণে চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট দূর করতে বাংলাদেশ ব্যবসায়ী পরিষদ সৃষ্টি করা হয়েছে।
শুধু হরতাল-অবরোধের কথা না বলে কিভাবে রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান হতে পারে সে বিষয়গুলো ব্যবসায়ী নেতাদের বিবেচনায় নিতে হবে। তিনি বলেন, চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা থেকে দেশের অর্থনীতি রক্ষায় বাংলাদেশ ব্যবসায়ী পরিষদকে সাংগঠনিকভাবে রূপ দিতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। অপরদিকে আওয়ামী লীগপন্থী স্বাধীনতা ব্যবসায়ী পরিষদের আহ্বায়ক আবুল কাশেম আহমেদ বলেন, যে কোন রাজনৈতিক অস্থিরতায় অর্থনীতিতে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে।