মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ৮ আশ্বিন ১৪২০
ডেড লাইন ॥ ২৫ অক্টোবর!
০ মোকাবেলার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক থাকার নির্দেশ
০ বিএনপি চায় এদিন বিশৃঙ্খলার মাধ্যমে সরকারকে তত্ত্বাবধায়ক দিতে বাধ্য করতে ০ জামায়াত চায় যে কোন পরিস্থিতি সৃষ্টি করে বিএনপিকে ক্ষমতায় আনতে, যাতে যুদ্ধাপরাধের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত নেতারা মুক্তি পায়
তপন বিশ্বাস ॥ সরকারের শেষ সময় যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বদা সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। যে কোন বিশৃঙ্খলা মোকাবেলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। রবিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এই নির্দেশ দেয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সূত্র জানায়, সরকারের কাছে তথ্য রয়েছে, শেষ সময়ে বিশেষ করে ২৫ অক্টোবরের পর জামায়াত-শিবিরসহ বিরোধী দল বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা ঘটাতে পারে। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের মতো একটি বড় ঘটনা ঘটিয়ে দেশকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে প্রধান বিরোধী দল বিএনপির পাশাপাশি জামায়াতও এতে অংশ নেবে। তাদের ধারণা, ২৫ অক্টোবরের পর প্রশাসনের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ শিথিল হয়ে আসবে। এই সুযোগকে তারা কাজে লাগাতে চাচ্ছে।
সূত্রমতে, বিএনপি চাচ্ছে সরকার তাদের তত্ত্বাবধায়কের দাবি মেনে নিক। সরকারকে এই দাবি মানতে বাধ্য করার পরিকল্পনা হিসেবে সরকারের মেয়াদ শেষে বড় রকমের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাচ্ছে তারা। বড় কোন ঘটনা ঘটানো সম্ভব হলে এই সরকারের অধীনে নির্বাচন করা আর সম্ভব হবে না বলে তারা মনে করছে। তখন ব্যাপক চাপে পড়ে এক প্রকার বাধ্য হয়ে বিএনপির তত্ত্বাবধায়কের দাবি মেনে নিতে হবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে। এভাবে তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারলে সংবিধানের আলোকে যে নির্বাচনের কথা বলা হচ্ছে, তা থেকে সরে আসতে বাধ্য হবে সরকার। সে পরিকল্পনা মাথায় নিয়ে সরকারের দাবি আদায়ে শেষ অস্ত্র হিসেবে ‘ঢাকা অচল’ করার পরিকল্পনা করছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। দলটির নেতারা মনে করছেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে সঙ্কটের সমাধান না হলে নির্দলীয় সরকারের দাবি আদায়ের আন্দোলন ‘একদলীয় নির্বাচন’ প্রতিহত করার আন্দোলনে রূপ নেবে।
সূত্র জানায়, বিএনপি মনে করছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে অথবা আন্তর্জাতিক মহলের চাপে চলমান রাজনৈতিক সঙ্কটের সমাধান হওয়ার সম্ভাবনা কম। দলের নীতিনির্ধারকেরা মনে করছেন, আন্দোলনের মাধ্যমে রাজধানী ঢাকাকে কয়েকদিন সারাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখতে পারলে সরকার সমঝোতায় আসতে বাধ্য হবে। বিএনপিদলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করবে না বিধায় কঠোর আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ২৫ অক্টোবরের পর হরতাল, সড়ক, নৌ ও রেলপথ অবরোধসহ নানা কর্মসূচী দেয়া হবে।
বিএনপিসহ ১৮ দলীয় জোটের নেতাকর্মী সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে রাস্তায় নেমে আসবে। এতে তারা সাধারণ মানুষকেও অন্তর্ভুক্ত করতে চায়। সঙ্কট সমাধানের জন্য বিএনপি ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত অপেক্ষা করবে বলে সম্প্রতি বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া একাধিক জনসভায় বলেছেন। তার আগে খুলনা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে খালেদা জিয়ার জনসভার কর্মসূচী রয়েছে। তারপর ঈদ, পুজো, হজ, কোরবানির পশুর হাটসহ নানা কারণে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত জনভোগান্তি হয়, এমন কর্মসূচী না দেয়ার পক্ষে দলটি। এ ছাড়া ১১ থেকে ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত টানা সরকারী ছুটি রয়েছে। আবার মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মামলার রায় চলতি মাসে দেয়া হলে নেতাকর্মীরা কেমন প্রতিক্রিয়া দেখাবেন, সেটাও আমলে রাখতে চান দলের নীতিনির্ধারকেরা। তবে এ নিয়ে দলীয়ভাবে কোন কর্মসূচী না দেয়ার পক্ষে দলটির শীর্ষস্থানীয় বেশিরভাগ নেতা।
বিএনপি মনে করছে, সংবিধান অনুযায়ী ২৪ অক্টোবর পার হলে চলমান সঙ্কটের শান্তিপূর্ণ সমাধানে আর কোন পথ থাকছে না। কারণ বর্তমান জাতীয় সংসদের শেষ অধিবেশন এখন চলছে। স্পীকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, কার্য-উপদেষ্টা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত এ অধিবেশন চলবে। বিএনপি মনে করছে, নির্বাচনের সময় সরকারব্যবস্থা নিয়ে বিরোধী দলের ন্যূনতম দাবি পূরণ করতে হলে এই অধিবেশনেই সংবিধানে পরিবর্তন আনতে হবে।
জানা গেছে, ‘ঢাকা অচল’ করার মতো কর্মসূচী নিয়ে বিএনপির মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। এই কর্মসূচিকে বিএনপির কোন কোন নেতা ‘সারাদেশ অচল’ কর্মসূচী বলেও উল্লেখ করছেন। দলীয় সূত্রগুলো বলছে, প্রাথমিকভাবে যে আলোচনা চলছে, সে অনুযায়ী অক্টোবরের শেষে ঢাকায় মহাসমাবেশ করার চিন্তা করা হচ্ছে। সেখান থেকে টানা হরতাল ও অবরোধের মতো কর্মসূচীও দেয়া হতে পারে। বিএনপি মনে করছে, ২৫ অক্টোবরের পর প্রশাসনসহ সব প্রতিষ্ঠানের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ শিথিল হয়ে আসবে। কর্মসূচী প্রণয়নে এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।
এদিকে জামায়াত মনে করছে, যে কোন প্রকারে হোক আওয়ামী লীগকে ঠেকাতে হবে। তারা মনে করছে, আওয়মী লীগকে ঠেকাতে পারলে যুদ্ধাপরাধের দায়ে দ-প্রাপ্ত নেতাদের তারা মুক্ত করতে পারবে। সে ক্ষেত্রে বিএনপিকে ক্ষমতায় আনতে পারলে যুদ্ধাপরাধের দায়ে দ-প্রাপ্ত তাদের নেতাদেরও মুক্ত করে এনে আবারও তাদের দলকে চাঙ্গা করতে পারবে। আদালতের রয়ে একের পর এক যুদ্ধাপরাধীর শাস্তি হলেও বিএনপির নীরবতা বুঝিয়ে দিয়েছে তারা জামায়াতের পক্ষে। এতে জামায়াত বিএপিকে আরও প্রকৃত মিত্র ভাবছে। কিন্তু আবারও যদি আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসে তা হলে তাদের কোন অস্তিত্ব থাকবে না। তাই অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে তারাও মরিয়া। তাই বিএনপির পাশাপাশি জামায়াত তাদের সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে নামবে।
সূত্র জানায়, সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা সরকারকে জানিয়ে দিয়েছে, আগামী ২৫ অক্টোবরের পর বিরোধী দল দেশে বড় ধরনের নাশকতা বা অরাজকতা সৃষ্টি করার পরিল্পনা করেছে। তারা বিগত ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের ন্যায় রাজধানীতে বড় রকমের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়। গোয়েন্দা সংস্থার এই তথ্যের ভিত্তিতে সরকারও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এ লক্ষ্যে আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি’র বৈঠকে আইন-শৃঙ্খখা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বদা সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর প্রধান বিরোধী দল বিএনপির ‘দেশ অচল করে দেয়া কর্মসূচী’ সম্পর্কে সাংবাদিকদের বলেন, সবার সব ইচ্ছা পূরণ হয় না। বিএনপির ইচ্ছাও পূরণ হবে না। তিনি বলেন, ‘ইচ্ছাগুলো যদি ঘোড়া হতো, তাহলে হয়ত সেটা পূরণ হতো। কিন্তু সব ইচ্ছা পূরণ হয় না। বিএনপির যে আশা সে আশাও পূরণ হবার নয়। কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার মতো শক্তি বিএনপির নেই।’
মহীউদ্দীন খান আলমগীর আরও বলেন, আন্দোলনের নামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অধিকার বিএনপির নেই। বিশৃঙ্খলা হলে তা কঠোরভাবে দমন করা হবে। দমন করার ক্ষমতা সরকারের আছে। তিনি বলেন, দুর্গাপুজোর সময় যেন দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না হয়, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে বৈঠকে। সাম্প্রতিক ঘটে যাওয়া রাজনৈতিক হত্যাকা- সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাঁরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছেন এ হত্যাকা-গুলো দলীয় কোন্দলের কারণে ঘটেছে। সরকার এতে আতঙ্কিত না হলেও উৎকণ্ঠিত। এ ধরনের হত্যাকা- প্রতিকারে যা যা করা দরকার, সরকার তা-ই করবে।
দু’একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভাল বলেও দাবি করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন শ্রমমন্ত্রী রাজিউদ্দীন আহমেদ, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক, পুলিশের মহাপরিদর্শক হাসান মাহমুদ খন্দকার ও পুলিশের ঊর্ধতন কর্মকর্তারা।
২৪ অক্টোবরের পর যে কোন দিন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা
নির্বাচন কমিশনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন
স্টাফ রিপোর্টার ॥ আগামী নির্বাচনের অপেক্ষার প্রহর গুনছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন সামনে রেখে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। আগামী ২৪ অক্টোবরের পর সংবিধান অনুযায়ী যে কোন দিন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে। তবে কোন্ পদ্ধতির সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে এটি নিশ্চিত না হওয়ায় কমিশন কিছুটা দ্বিধায় রয়েছে। তারা নির্বাচনের জন্য এখনও প্রধান দু রাজনৈতিক দলের দিকে তাকিয়ে আছে। শেষ পর্যন্ত যদি দু দলের মধ্যে কোন প্রকার সমঝোতা না হয় তাহলে ইসির সামনে একমাত্র পথ রয়েছে সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের ব্যবস্থা করা। সে অনুযায়ী নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সংবিধানের অধীনে নির্বাচন হলেও সবার জন্য সমান পরিবেশ তৈরির চেষ্টা কমিশনের পক্ষ থেকে করা হবে। কারণ কমিশনের কাজ হলো সব প্রার্থীর সমান অধিকার নিশ্চিত করা। এক্ষেত্রে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হলেও সুষ্ঠু নির্বাচনে কোন প্রভাব পড়বে না। সংবিধান অনুযায়ী আগামী ২৪ অক্টোবরের পর যে কোনদিন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে। আগামী ২৪ জানুয়ায়ির মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের। জানা গেছে, এ ডেডলাইন ধরে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। তবে এরই মধ্যে রাজনৈতিক কোন সমঝোতা হলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে কমিশন।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হলেও তারা নির্বাচন সুষ্ঠু ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য পরিচালনায় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। এজন্য যা যা করা প্রয়োজন কমিশনের পক্ষ থেকে সে ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রয়োজনে আচরণবিধিতে সংশোধন আনা হতে পারে। অন্যান্য দেশের রেফারেন্সও এক্ষেত্রে কাজে লাগানো হবে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, বিশ্বের অনেক দেশেই দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের নজির রয়েছে। ভারতেও দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হয়। প্রয়োজনে ভারতে যেভাবে নির্বাচন পরিচালনা করা হয় তার আলোকে এখানেও নির্বাচনের ব্যবস্থা নেয়া হবে। কারণ সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই কমিশনের একমাত্র লক্ষ্য। নির্বাচন নিয়ে কে কোথায় কি বলল তা কমিশনের দেখার বিষয় নয়। কমিশনের কাজ হলো গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সবার কাছে নিরপেক্ষতার প্রমাণ দেয়া।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ বিষয়ে সম্প্রতি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে থেকে আগামী দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন। যথাসময়ে এ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। সাংবিধানিকভাবে এবং আইন অনুযায়ী আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এজন্য ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা হয়েছে। জাতীয় সংসদের সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। নির্বাচনের জন্য কমিশনের প্রস্তুতি আর কিছু বাকি নেই।
ইতোমধ্যে নির্বাচনসংক্রান্ত আইন বা আরপিও মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনুমোদন দেয়া হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, আরপিও অনুযায়ী নির্বাচনে সময়ে সব মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণ কমিশনের হাতে দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। যাতে নির্বাচনের সময়ে সব মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ বদলি কমিশনের হাতে থাকে। এছাড়া নির্বাচনের সময়ে কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে যাতে তার বিরুদ্ধে কমিশন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। এছাড়া আরপিওতে প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যয়, নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং নির্বাচন আইন ভঙ্গের জন্য শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ইতোমধ্যে নির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। এবার হালনাগাদে ভোটার সংখ্যা ৭০ লাখ বেড়েছে। মোট ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ কোটি ২১ লাখ ২৯ হাজার ৮৫২ জন। গত বছর ১০ মার্চ থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করে ইসি। এ বছর ৩১ জানুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়। তবে জানা গেছে, এবার নারী ভোটার সংখ্যা গতবারের তুলনায় অনেক কমে গেছে। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে মহিলা ভোটার সংখ্যা পুরুষ ভোটার সংখ্যার চেয়ে ১৪ লাখ বেশি ছিল। এবার তা পুরুষ ভোটারের তুলনায় ৪ লাখ কমে গেছে। বিএনপির পক্ষ থেকে এ ভোটার তালিকা নিয়ে আপত্তি জানানো হয়েছে।
আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ঢাকার নতুন ভোটারদের জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণ শুরু হবে বলে কমিশন জানিয়েছে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে নতুন করে যাঁরা ভোটার তালিকায় নাম তুলেছেন, তাঁদের জাতীয় পরিচয়পত্র বুধবার থেকে বিলি করা শুরু হবে। প্রাথমিকভাবে ঢাকা মহানগর থেকে পরিচয়পত্র বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য জেলায় এ কাজ চলবে।
এছাড়া নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতীয় সংসদের ৩শ’ আসনের সীমানা পুননির্ধারণ চূড়ান্ত করা হয়েছে। সংসদীয় ৫০টি আসনের পরিবর্তন এনে বাকিগুলোতে ২০০৮ সালের সীমানা বহাল রাখা হয়েছে। আর এ সীমানা অনুযায়ী আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স, অমোচনীয় কালিসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহের কাজও চলছে। ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
গার্মেন্টস শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ গাড়ি ভাংচুর
কারখানায় আগুন
স্টাফ রিপোর্র্টার ॥ বেতন বৃদ্ধির দাবিতে ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠেছে গার্মেন্টস সেক্টর। রবিবার রাজধানীর উত্তরা, গাজীপুরের টঙ্গী, জয়দেবপুর, কালিয়াকৈর ও নারায়ণগঞ্জে দফা দফায় বিক্ষোভ করেছে কয়েক হাজার পোশাক শ্রমিক। এ সময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ ও গাড়ি ভাংচুর করে। কালিয়াকৈর এলাকার একটি টেক্সটাইল ফ্যাক্টরিতে আগুন লাগিয়ে দেয় শ্রমিকরা। এতে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ সড়কে প্রায় চার ঘণ্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। এসব ঘটনায় পুলিশসহ কমপক্ষে শতাধিক আহত হয়। ছুটি ঘোষণা করা হয় শতাধিক কারাখানায়।
এ অবস্থায় রবিবার ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই উদ্বেগ প্রকাশ করে পোশাক শিল্পে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
রবিবার সরেজমিন দেখা যায়, উত্তরা এলাকা থেকে প্রথম বিক্ষোভ মিছিলটি বের করা হয়। সকাল ৮টা থেকেই শ্রমিকরা বিভিন্ন সড়কে বিক্ষোভ শুরু করে। তবে তাতে যান চলাচলে বিঘœ ঘটেনি। অবশ্য একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, পুলিশ পোশাক শ্রমিকদের সরে যেতে বললে প্রথমে বাগ্বিত-া ও পরে ধাওয়া পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় কিছু শ্রমিক পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট পাটকেলও ছোড়ে। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শ্রমিকরা মিছিল নিয়ে দক্ষিণখান থানা এলাকার দিকে রওনা হয়। তবে সেখানে কোন বিশৃঙ্খলা হয়নি। পোশাক শ্রমিকরা সকাল থেকেই বেতন বাড়ানোর দাবিতে উত্তরায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে। তবে পুলিশ কোন কঠোর পদক্ষেপ নেয়নি।
এলাকায় কয়েকটি তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের কয়েক দফা ধাওয়া পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে ১০-১৫ শ্রমিক আহত হন। রবিবার সকাল থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত এ এলাকার পোশাক শ্রমিকরা ন্যূনতম মজুরি ৮ হাজার টাকা করার দাবিতে দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিল করেন। মিছিল থেকে কয়েকটি পোশাক কারখানা লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করলে বাধা দয়ে পুলিশ। এ সময় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া পাল্টাধাওয়া হয়।
টঙ্গী থেকে সংবাদদাতা, নুরুল ইসলাম জানান, রবিবার দুপুরে বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে টঙ্গীর প্রায় অধিকাংশ পোশাক কারখানায় শ্রমিকরা কারখানা বন্ধ করে দিয়ে রাজপথে নেমে আসে। তারা বিক্ষোভ, ভাংচুর, রাস্তায় অগ্নিসংযোগ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ শতাধিক রাউন্ড টিয়ারশেল ও গুলি ছোড়ে। শ্রমিকরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে টঙ্গী থানার ওসিসহ ১শ’ শ্রমিক আহত হয়। স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে টঙ্গী থানার ওসি আবুল কালাম আজাদকে ছেড়ে দেয়া হয়। অন্যদেরকে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানান, প্রথমে টঙ্গীর বিসিক এলাকার উইন্ডো গ্রুপ ও জাবের এ্যান্ড যোবায়ের কারখানার শ্রমিকরা একত্রিত হয়ে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে। এদের সঙ্গে অনন্ত, শিশির, হামিদ টেক্সটাইলের শ্রমিকরা আন্দোলনকারী শ্রমিকদের সঙ্গে যোগ দেয়। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা এ সময় বিভিন্ন গার্মেন্টস এ ভাংচুর শুরু করে এবং বিসিকের রাস্তা অবরোধ করে রাখে। খবর পেয়ে টঙ্গী থানা ও শিল্প পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শ্রমিকদের রাস্তা থেকে অবরোধ তুলে নেয়ার অনুরোধ করে। শ্রমিকরা অবরোধ তুলে না দিলে পুলিশ শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ শুরু করে। এতে শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ শ্রমিকদের লক্ষ্য করে শতাধিক রাউন্ড টিয়ারশেল ও গুলি ছোড়ে।
গাজীপুর থেকে সংবাদদাতা, মোস্তাফিজুর রহমান জানান, গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি আট হাজার টাকা ও জিএসপি সুবিধা পুনর্বহালসহ বিভিন্ন দাবিতে রবিবারও বিক্ষোভ ও আন্দোলনে উত্তাল ছিল গাজীপুর। এদিন বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা কাজে যোগ না দিয়ে সকাল থেকে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ করতে থাকে। বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকরা কারখানা থেকে বেরিয়ে এসে জেলার বিভিন্ন এলাকায় সড়ক মহাসড়ক অবরোধ করে এবং কারখানা ও যানবাহন ভাংচুর করেছে। এ সময় তারা কারখানা ও গাড়িসহ সড়কের ওপর অগ্নিসংযোগ করেছে। আন্দোলনরত শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশ ও র‌্যাবের দফায় দফায় সংঘর্ষে ও ধাওয়া পাল্টাধাওয়ায় বিভিন্ন এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পরলে ওইসব এলাকার দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ শর্টগানের গুলি ও টিয়ারশেল ছুড়েছে এবং লাঠিচার্জ করেছে। এতে শতাধিক শ্রমিক, পুলিশ ও পথচারী আহত হয়েছে। শ্রমিক অসন্তোষ ছড়িয়ে পরায় জেলার শতাধিক কারখানা ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিক বিক্ষোভ চলছিল।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, রবিবার সকাল সোয়া ৮টার দিকে কালিয়াকৈর উপজেলা চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুত এলাকার ইন্টারস্টপ এ্যাপারেলস লিমিটেড কারখানার পোশাক কারখানার শ্রমিকরা ন্যূনতম মজুরি আট হাজার টাকা ও জিএসপি সুবিধা পুনর্বহালসহ ৬ দফা দাবিতে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ শুরু করে। এ সময় বহিরাগত কিছু শ্রমিকরা এ কারখানায় এসে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কর্তৃপক্ষ কারখানা এক দিনের ছুটি দিয়ে শ্রমিকদের কারখানা থেকে বের করে দেয়। পরে তারা বহিরাগত শ্রমিকদের সঙ্গে যোগ দিয়ে পার্শ্ববর্তী ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের ওপর এসে সড়ক অবরোধ করে। এ সময় তাদের সঙ্গে আন্দোলনে যোগ দেয়ার জন্য স্থানীয় ডিভাইন টেক্সটাইল লিমিটেড, ইকোটেক্স লিমিটেড, ট্রপিক্যাল নীটেক্স, আয়মন টেক্সটাইল লিমিটেড, মোতমায়েন হোসিয়ারী লিমিটড, এপেক্স ফার্মা লিমিটেড, এপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেড, স্টারলিং এ্যাপারেলস লিমিটেড, আরএল ডাইং লিমিটেড, উইনটেড সোয়েটার এবং গোমতী টেক্সটাইল লিমিটেড কারখানাসহ আশেপাশের কারখানায় গিয়ে ওইসব কারখানার শ্রমিকদের কারখানা থেকে বের করে আনলে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকরা এ সময় বেশ কয়েকটি কারখানা ও যানবাহন ভাংচুর করে। সংবাদ পেয়ে গাজীপুরের শিল্পপুলিশ, কালিয়াকৈর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে লাঠিচার্জ করে। এ সময় শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট পাটকেল ছুড়তে থাকে। এ সময় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টাধাওয়া হয়। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড শর্টগানের গুলি ও টিয়ারশেল ছুড়ে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ ঘটনায় কমপক্ষে ৩০ শ্রমিক ও পুলিশ আহত হয়। সংঘর্ষে আহত সিরাজুল ইসলাম ও আবুল হাসান নামের দুশ্রমিকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে এ ঘটনার পর শ্রমিকরা আবারও মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ ও ভাংচুর করে।
এছাড়াও সকাল ৯টার দিকে গাজীপুর মহানগরের ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট সংলগ্ন তিন সড়ক এলাকায় ইন্টারমেক্স গ্রুপ, স্প্যারো এ্যাপারেল, এএসটি নিট ওয়্যার লিমিটেড বাইপেড সোয়েটার, ইন্টার্ন ক্রাফট সোয়েটার কারখানার শ্রমিকরা কর্মবিরতি, বিক্ষোভ, ঢাকা-গাজীপুর সড়ক অবরোধ ও ভাংচুর করে। তারা বিভিন্ন কারখানার নিরাপত্তা কর্মীদের মারধর করে। পরে পুলিশ এসে লাঠিচার্জ করে শ্রমিকদের ওই সড়ক থেকে সরিয়ে দিলে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এদিকে বিকেলে গাজীপুর মহানগরের নাওজোর এলাকার দিগন্ত সোয়েটার কারখানা ও আশপাশের এলাকার কয়েকটি গার্মেন্টসের শ্রমিকরা একই দাবিতে কর্মবিরতি করে বিক্ষোভ করে। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে এসে সড়ক অবরোধ করে। পরে পুলিশ এসে লাঠিচার্জ করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
নারায়ণগঞ্জ থেকে রুমন রেজা জানান, বকেয়া পাওনা পরিশোধ এবং কারখানা খুলে দেয়ার দাবিতে একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা নারায়ণগঞ্জ শ্রম অধিদফতর ঘেরাও করেছে। রবিবার দুপুরে শহরের চাষাঢ়ায় অবস্থিত শ্রম অধিদফতর অফিস টেক্সটেক উন্ড মেয়ার প্রা. লিমিটেডের শ্রমিকরা।
এসএম কাদিরের সভাপতিত্বে ঘেরাও সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের জেলার সংগঠক সেলিম মাহমুদ, জাহাঙ্গীর আলম গোলক, গার্মেন্টস ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি এমএ শাহীন, শ্রমিক ফ্রন্ট জেলা সংগঠক সাইফুল ইসলাম শরীফ, হাসনাত কবীর ও মামুন। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে কারখানা খুলে দিয়ে শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধের ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য শ্রম পরিদর্শকের নিকট স্মারকলিপি পেশ করে।
এদিকে এক বিবৃতিতে এফবিসিসিআই জানিয়েছে, যে সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জিএসপি সুবিধা পুনর্বহাল রাখার জন্য সরকারের পাশাপাশি এফবিসিসিআই ও বিজিএমইএ আন্তর্জাতিক মহলে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে- সেই সময় শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি নিয়ে চলমান সহিংস কর্মকা- ও অসন্তোষ খুবই উদ্বেগজনক। এ অসন্তোষকে পুঁজি করে কিছু সংখ্যক দুষ্কৃতী সহিংস কর্মকা-ে লিপ্ত হওয়ায় মালিকগণ পোশাক কারখানা বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছে। পোশাক শিল্প ও শ্রমিকদের বৃহত্তর কল্যাণের স্বার্থে একটি ন্যায্য মজুরি কাঠামোর প্রতি এফবিসিসিআই পূর্ণসমর্থন করে। কেননা শ্রমিকরাই উৎপাদনের মূল কারিগর। এ ক্ষেত্রে সব পক্ষের সমন্বয়ে একটি মুজরি কাঠামোর বিষয়ে দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছা সম্ভব হবে বলে আশা করে এফবিসিসিআই।
চাহিদার চেয়ে সরবরাহ বেশি, তবু বাড়ছে পেঁয়াজের দাম
এম শাহজাহান ॥ চাহিদার তুলনায় বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ বেশি। বিক্রেতাদের ডালাভর্তি দেশী ও আমদানিকৃত পেঁয়াজে। চাহিদা যেমন আছে, তেমনি আছে যোগানও। বাজারে বিক্রেতাদের দোকানের চিত্রই বলে দেয় দেশে পেঁয়াজের কোন সঙ্কট নেই। কিন্তু তার পরও এ পণ্যটির দাম বাড়ছে হু হু করে। চাহিদা ও যোগানের মধ্যে সমন্বয় থাকার পরও দাম বাড়তির ঘটনা মানতে পারছেন না ভোক্তারা।
আর এক্ষেত্রে শুধু প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের সঙ্কট কাজে লাগিয়ে পেঁয়াজের দাম বাড়ানো হচ্ছে। ওই দেশে বন্যা ও খরার কারণে চলতি মৌসুমে পেঁয়াজ উৎপাদন তুলনামূলক কম হয়েছে, বেড়েছে দামও। আর এ সুযোগ নিচ্ছে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, কোরবানি ঈদ সামনে রেখে কৃত্রিমভাবে পেঁয়াজের সঙ্কট সৃষ্টি করার পাঁয়তারা করা হচ্ছে। আমদানিকারক, আড়তমালিক, কমিশন এজেন্ট, পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাদের যোগসাজশে চলছে দাম বাড়ানোর প্রতিযোগিতা। আর এ কারণে এক মাসের ব্যবধানে প্রায় পেঁয়াজের দ্বিগুন দাম বেড়েছে । বর্তমানে প্রতিকেজি দেশী পেঁয়াজ ৭৫-৮০ এবং আমদানিকৃত ভারতীয় পেঁয়াজ ৮০-৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণের তথ্য মতে, চলতি বছর দেশে পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে ১৯ লাখ ১৪ হাজার মে.টন। এছাড়া ৫ লাখ টন পেঁয়াজ আমদানি করা হয়েছে। সারা বছরে পেঁয়াজের চাহিদা ২২ লাখ মে.টন। ওই হিসেবে এখন আমদানি না হলেও দেশে পেঁয়াজ সঙ্কট হওয়ার কথা নয়। কিন্তু তার পরও ভারতে বাড়ার কারণে দেশে পেঁয়াজের দাম হু হু করে বাড়ছে। যদিও উৎপাদন ও চাহিদার এ তথ্য নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। উৎপাদন ও চাহিদা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলছে, প্রতিমাসে দেশে পেঁয়াজের চাহিদা ১ লাখ ৩০ থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার মে.টন। অর্থাৎ কাঁচা পেঁয়াজ প্রায় ২০ লাখ টনের মতো উৎপাদন হলেও শুকনো অবস্থায় তা ১২ লাখ টনে নেমে আসে। তাই অবশিষ্ট পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়। তবে এ বছরও আমদানি ভাল হয়েছে। আর কোন পেঁয়াজ আমদানি না হলেও কোরবানি পর্যন্ত চলার মতো পর্যাপ্ত পেঁয়াজ বাজারে রয়েছে। কিন্তু তার পরও ভারতের সঙ্কটটি মাথায় রেখে পেঁয়াজ আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে বাণিজ্য সচিব মাহবুব আহমেদ জানান, ভাল উৎপাদনের পাশাপাশি এ বছর এই সময় পর্যন্ত ৫ লাখ টন পেঁয়াজ আমদানি করা হয়েছে। দেশে উৎপাদন এবং আমদানির যে তথ্য রয়েছে, তাতে পেঁয়াজের ঘাটতির কোন আশঙ্কা নেই। শুধু ভারতে দাম বাড়ার কারণে দেশে এভাবে রাতারাতি পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্যবসায়ীরা এক ধরনের সুযোগ নিয়েছেন।
এদিকে চাহিদা ও আমদানি সঙ্কটকে পুঁজি করে মধ্যস্বত্বভোগীরা পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। আমদানিকারকদের কাছ থেকে কিনে নিয়ে মধ্যস্বত্বভোগীরা ক্রমান্বয়ে বাজারে পণ্য ছাড়ছে। ফলে একদিকে যেমন বাজারে সঙ্কট থেকে যাচ্ছে অন্যদিকে সরকারের কোন পদক্ষেপই কাজে আসছে না। ফলে ফলে দিন দিন বাড়ছে পেঁয়াজের দাম। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারকে সিন্ডিকেট ও মজুদদারদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। বাজারে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া উৎপাদন করেই যাতে পেঁয়াজের চাহিদা মেটানো যায় সে উদ্যোগ নিতে হবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরকে। পাশাপাশি আমদানির জন্য ভারতের বিকল্প বাজারের সন্ধান করতে হবে।
সূত্র মতে, গত বৃহস্পতিবার রাতেও ব্যবসায়ীরা ভারত থেকে প্রতিটন পেঁয়াজ আমদানি করেছে ৬৫০ ডলারে। কিন্তু শুক্রবার থেকে ভারত সরকার তা নির্ধারণ করে ৯০০ মার্কিন ডলার। পাকিস্তানে কয়েক মাস আগে পেঁয়াজের কেজি ছিল ২৭-২৯ টাকার মধ্যে। বর্তমানে তা দাঁড়িয়েছে ৩৬-৪৩ টাকা। মিয়ানমারে বর্তমানে প্রতিকেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২৫-২৬ টাকা দরে।
খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার যাঁরা ৬৫০ ডলারে পেঁয়াজ আমদানি করেছেন তাঁরা শনিবার ৯০০ ডলারেই বিক্রি করছেন। তাই পাইকারি দরও বাড়াতে হয়েছে। এছাড়া আমদানিকারকরা বিভিন্ন অজুহাতে বন্দরে আসা পেঁয়াজ খালাস করছে না বেশি দামে ছাড়ার জন্য।
বর্তমানে বন্দরে প্রায় ১০ কন্টেনার পেঁয়াজ খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে। যা পূর্বের দামে আমদানি করে বর্তমান দামে ক্রমান্বয়ে বাজারে ছাড়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
পেঁয়াজ নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যা করছে ॥ পেঁয়াজ নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে বর্ডার ট্রেডের মাধ্যমে মিয়ানমার থেকে ব্যবসায়ীদের দিয়ে পেঁয়াজ আমদানির ব্যবস্থা। একই সঙ্গে ব্যাংক সুদ ও এলসি মার্জিন কমানোর জন্য মন্ত্রণালয় কাজ করছে। রবিবার বাণিজ্যমন্ত্রী জিএম কাদের মন্ত্রণালয়ে পেঁয়াজ নিয়ে একটি ঘরোয়া বৈঠক করেছেন। ওই বৈঠক থেকে তিনি টিসিবির পেঁয়াজ স্বল্প আয়ের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন। পেঁয়াজের আমদানি, সরবরাহ এবং মূল্য স্বাভাবিক রাখতে সবধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে তিনি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে আরও বেশি তৎপর হওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলছে, দেশে বর্তমানে পর্যাপ্ত পেঁয়াজ মজুদ রয়েছে। পেঁয়াজ নিয়ে যাতে কোন ধরনের ষড়যন্ত্র না হয় বা কৃত্রিম উপায়ে সঙ্কট সৃষ্টি করে মূল্য বৃদ্ধি করা না হয়, সেদিকে কঠোর নজরদারি করতে নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রী জিএম কাদের। এছাড়া বাণিজ্য মন্ত্রণালয় পেঁয়াজ আমদানিকারকদের সুবিধার্থে ব্যাংক ঋণের সুদের হার এবং এলসি মার্জিন কমানোর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুরোধ জানিয়েছে।
দেশের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে ভারতের পাশাপাশি মিয়ানমার, চীন ও পাকিস্তান থেকেও পেঁয়াজ আমদানি করা হচ্ছে। কোরবানি ঈদ সামনে রেখে যাতে কোন মহল পেঁয়াজের কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করতে না পারে, সে জন্য সরকার সবধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি আমদানি সহজ করতে সকল নৌ ও স্থলবন্দরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় দায়িত্ব পালন করছেন।
জানা গেছে, টিসিবি সরাসরি নয়, স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে মিয়ানমার থেকে ৫ হাজার মে.টন পেঁয়াজ আমদানি করতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। এর প্রথম চালান ইতোমধ্যে বাজারে এসেছে। বাকিগুলো পর্যায়ক্রমে বাজারে আসবে। এছাড়া পেঁয়াজের দাম স্বাভাবিক রাখতে টিসিবি রবিবার থেকে ঢাকাসহ দেশব্যাপী নির্ধারিত ডিলারদের মাধ্যমে ট্রাকে করে বিক্রি কার্যক্রম শুরু করেছে। দাম না কমা পর্যন্ত টিসিবির এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
দাবি আদায়ে এবার রাজপথে নামবেন খালেদা জিয়া
২৫ অক্টোবরের পর লাগাতার হরতাল অবরোধ ॥ পেশাজীবীদের সঙ্গে সিরিজ বৈঠক
শরীফুল ইসলাম ॥ নির্দলীয় সরকারের দাবি আদায়ে চূড়ান্ত আন্দোলনের প্রস্তুতি জোরদার করতে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার প্রতিনিধিদের সঙ্গে সিরিজ বৈঠক করছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। সবার মতামত নিয়ে বর্তমান সরকারের আমলে শেষ আন্দোলনের কর্মসূচী ঘোষণা করবেন তিনি। এ কর্মসূচীর মধ্যে ২৫ অক্টোবরের পর লাগাতার হরতালসহ রাজপথ, রেলপথ ও নৌপথ অবরোধ করা হবে। এ কর্মসূচী সফল করতে সারাদেশ থেকে ঢাকার চারিদিকে বিপুলসংখ্যক লোক জড়ো করে রাজধানীকে সারাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করা হবে। এ কর্মসূচী চলাকালে খালেদা জিয়া নিজেও সরাসরি রাজপথে নামবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, নির্দলীয় সরকারের দাবি আদায়ে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া বিভিন্ন জেলায় জনসভা করার পাশাপাশি প্রায় প্রতিদিনই কোন না কোন শ্রেণী-পেশার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে আন্দোলনের কৌশল সম্পর্কে মতবিনিময় করছেন। তিনি তাদের সরাসরি আন্দোলনে শরিক হওয়ার জন্যও উদ্বুদ্ধ করছেন। শনিবার রাতেও টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স ফোরামের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আন্দোলনের প্রস্তুতি নিয়ে মতবিনিময়কালে তিনি বলেছেন, নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি মেনে না নিলে ২৫ অক্টোবর থেকে দেশ অচল করে দেয়ার মতো আন্দোলন শুরু করা হবে। এ জন্য তিনি সবাইকে সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণের আহ্বান জানান। এর আগে চিকিৎসক, আইনজীবী, সাংবাদিক, প্রকৌশলী, বিজ্ঞানী, শিক্ষক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন।
বিএনপি হাইকমান্ড মনে করছে, লাগাতার হরতাল-অবরোধ কর্মসূচীর মাধ্যমে রাজধানী ঢাকাকে সারা দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারলে সরকার নির্দলীয় সরকারের দাবি মেনে নিতে বাধ্য হবে। আর তা হলে দেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি হবে। এ ধরনের পরিবেশে নির্বাচন হলে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জনগণের রায় নিয়ে জোট সহজেই ক্ষমতায় যেতে সক্ষম হবে। আর ক্ষমতায় যেতে পারলে দেশে নতুন ধারার সরকার ও রাজনীতি চালু করে তারা ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করার চেষ্টা করবে।
এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব) মাহবুবুর রহমান জনকণ্ঠকে বলেন, দেশ আজ মহাসঙ্কটে। তাই আমরা আশা করি সরকার গণতন্ত্রের স্বার্থে বিরোধীদলের সঙ্গে সংলাপ করে সমস্যার সমাধান করবে এবং নির্দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করবে। আর যদি সরকার সে ব্যবস্থা না করে তাহলে আমরা বাধ্য হব জনগণকে সঙ্গে নিয়ে লাগাতার হরতাল ও অবরোধসহ আন্দোলনের কঠোর কর্মসূচী পালন করতে। তবে আমরা আশাবাদী আমাদের সে পথে যেতে হবে না, তার আগেই সরকার নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি মেনে নেবে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সারাদেশের বিভিন্ন জেলায় জনসভা শেষ করে ১৮ দলীয় জোটের আয়োজনে ২৫ অক্টোবর বা তার পরদিন রাজধানীতে বড় ধরনের একটি জনসভার আয়োজন করা হবে। এ জনসভায় বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া লাগাতার হরতাল ও অবরোধ কর্মসূচীসহ আন্দোলনের কঠোর কর্মসূচী ঘোষণা করবেন। আর এ কর্মসূচী সফল করতে তিনি নিজেও রাজপথে নেমে আসবেন। খালেদা জিয়া সরাসরি রাজপথে নেমে গেলে সারাদেশে বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা দলে দলে রাস্তায় নেমে আসতে বাধ্য হবে বলে বিএনপি নেতারা মনে করছেন।
এদিকে এখনও সংলাপ করে দেশে বিরাজমান রাজনৈতিক সঙ্কটের সমাধান সম্ভব বলে বিভিন্ন মহল থেকে বলা হলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আপাতত সমঝোতার মাধ্যমে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যাপারে সমাধানের কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বিদেশী কূটনীতিকরাও দেশের বড় দুই দলের মধ্যে সংলাপের ব্যাপারে আশা ছেড়ে দিয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে বিএনপিকেও কঠোর আন্দোলনে যাওয়া ছাড়া অন্য কোন পথ নেই বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করছেন।
সরকারের তরফ থেকে বারবারই বলা হচ্ছে বর্তমান সংবিধানেরে আলোকেই দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা কী হবে সে ব্যাপারে সরকার বা আওয়ামী লীগের তরফ থেকে কিছুই বলা হচ্ছে না। তাই ২৫ অক্টোবরের পর সরকার দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যাপারে কী ধরনের পদক্ষেপ নেয় তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বিএনপি হাইকমান্ড। সরকারের পদক্ষেপ থেকে অবস্থা বোঝে ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছে দলটি। ২৫ অক্টোবরের পর আওয়ামী লীগ যদি তাদের সাজানো ছক অনুযায়ী নির্বাচনের দিকে অগ্রসর হয় তাহলে লাগাতার হরতাল ও অবরোধসহ আন্দোলনের কঠোর কর্মসূচী পালন করবে তারা। আর ওই কর্মসূচীর মাধ্যমেই সরকারকে ঘায়েল করার সর্বাত্মক চেষ্টা চালাবে।
বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও মনে করছেন দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন তাদের জন্য বাঁচামরার লড়াই। এ নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় না আসতে পারলে রাজনৈতিকভাবে অনেক পেছনে পড়ে যাবে তাঁরা। তাই যে কোন মূল্যে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন আদায় করতে হবে। আর যদি দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হয় তা হলে সে নির্বাচন বর্জনের পাশাপাশি নির্বাচন বানচাল করতে যা যা প্রয়োজন তাই করা হবে।
অবশ্য ৮, ১৫ ও ১৬ সেপ্টেম্বর নরসিংদী, রংপুর ও রাজশাহীর জনসভায় বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া নিজেই তার বক্তব্যে সরকারকে নির্দলীয় সরকারের দাবি আদায়ের ব্যাপারে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত সময় দিয়ে বলেছেন, এর পর এমন আন্দোলন শুরু হবে যে, বর্তমান সরকার পালানোর পথও পাবে না। রাজশাহীর জনসভায় তিনি সরাদেশের মানুষকে ২৫ অক্টোবরের পর ঢাকা অভিমুখে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, এমন আন্দোলন হবে যাতে সারাদেশ অচল হয়ে যাবে।
সূত্র মতে, ২৫ অক্টোবরের পর সরকারের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কঠোর ব্যবস্থা ও মামলা-হামলাসহ সম্ভাব্য সব ধরনের নির্যাতনের কথা মাথায় রেখেই এবার মাঠে নামবে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা। বিএনপি সমর্থিত বিভিন্ন শ্রেণী পেশার প্রতিনিধিরাও ২৫ অক্টোবরের পর খালেদা জিয়া ঘোষিত আন্দোলন কর্মসূচীতে সরাসরি শরিক হবে বলে জানা গেছে।
প্রসঙ্গত ২৫ অক্টোবরের আন্দোলন কর্মসূচী সফলের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইতোমধ্যেই বিএনপির সিনিয়র নেতারা সারাদেশের সকল জেলা সফর করে দলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েছেন। এ ছাড়া পৃথক পৃথকভাবে জামায়াতসহ ১৮ দলীয় জোটের প্রতিটি শরিক দল নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রস্তুতি জোরদার করার চেষ্টা করেছেন বলে জানা গেছে। সেই সঙ্গে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৮ দলীয় জোটের সম্ভাব্য প্রার্থীরাও নিজ নিজ সংসদীয় এলাকায় নির্দলীয় সরকারের দাবিতে কঠোর আন্দোলনে অংশ নেয়ার ব্যাপারে জনমত তৈরির কাজ করে যাচ্ছেন। এ কাজে কেন্দ্র থেকে ১৮ দলীয় জোটের সিনিয়র নেতারা সার্বক্ষণিক সহায়তা দিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন জনকণ্ঠকে বলেন, ২৪ অক্টোবরের মধ্যে বর্তমান সরকার যদি নির্দলীয় সরকারের ব্যবস্থা না করে তা হলে বোঝা যাবে এ সরকার আর তা করবে না। তখন আমাদের কঠোর আন্দোলন ছাড়া আর কিছু করার থাকবে না। জনগণও আন্দোলনে নেমে আসবে। তাই বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াই বলেছেন হরতাল-অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচী দিয়ে নির্দলীয় সরকারের দাবি আদায় করে নেয়া হবে।
গাইবান্ধার পাঁচ আসনে এবার স্থানীয় প্রার্থীর কদর বেশি
আবু জাফর সাবু, গাইবান্ধা ॥ আসন্ন দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাইবান্ধার ৫টি আসনে মনোনয়ন পেতে ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জামায়াতে ইসলামী ও জাসদের সম্ভাব্য প্রার্থীরা শহর-গ্রাম-বন্দরে ব্যানার, পোস্টার লাগিয়ে ঈদের শুভেচ্ছা জানানোসহ নানা পদ্ধতিতে নির্বাচনী তৎপরতা শুরু করেছে। অনেকেই আবার বিভিন্ন স্থানে সভা-সমাবেশ করে প্রার্থী হিসেবে কর্মী সমর্থকদের দ্বারা নিজেদের নাম ঘোষণা করছেন। এ ছাড়া সম্ভাব্য প্রার্থীদের সমর্থনে মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে সমর্থকদের মিছিল এবং সংবাদ সম্মেলন করে প্রার্থিতা ঘোষণাও করছেন কেউ কেউ। মসজিদে মসজিদে কার্পেট, মাইক, ফ্যান, জেনারেটর বিতরণসহ নানাভাবে নতুন প্রার্থীরা বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে জনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে সরেজমিনে এলাকা পরিদর্শন করে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে অধিকাংশ ভোটাররা বহিরাগত নয়, বরং এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করেন এমন প্রার্থীদের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করছেন সর্বাধিক। এ ছাড়া পুরনোদের পরিবর্তে নতুনদের প্রতিও যথেষ্ট আগ্রহ পরিলক্ষিত হচ্ছে। তবে আওয়ামী লীগ, বিএনপি এবং জাতীয় পার্টিতে এবার সীমাহীন দলীয় কোন্দল রয়েছে। আর সে কারণেই এখন পর্যন্ত দলগুলোতে একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী হয়েছেন। এ ছাড়া প্রতিটি আসনেই বর্তমান এমপিদের দল ও জনবিচ্ছিন্নতা পাহাড়সম। ফলে সঙ্গত কারণেই দলগুলোতে বিভেদ আরও বেড়েছে- যা নির্বাচনে সংশিষ্ট দলকে প্রভাবিত করবে।
উল্লেখ্য যে, এ জেলার পাঁচটি আসনের মধ্যে গতবারের নির্বাচনে মহাজোটভুক্ত আওয়ামী লীগ ৩টিতে ও জাতীয় পার্র্টি (এ) ২টিতে জয়লাভ করে। তবে ২০০১ সালে আওয়ামী লীগ ১টি, বিএনপি থেকে ১টি, জাতীয় পার্টি (এ) ২টি ও জামায়াতে ইসলামী ১টি আসনে জয়লাভ করেছিল।
গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ উপজেলা) ॥ এ আসনে ইতোপূর্বে জাতীয় পার্টি তিনবার, জামায়াতে ইসলামী একবার এবং গত নির্বাচনে বর্তমান সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা কমিটির সদস্য কর্নেল (অব) ডা. আব্দুল কাদের খান মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন। সে কারণে এ আসনটিকে জামায়াত এবং জাতীয় পার্টির অন্যতম ঘাঁটি হিসেবেও বিবেচনা করা হয়। তবে আওয়ামী লীগের সমর্থনও এখানে কম নয়। তাঁদের প্রার্থীও নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হওয়ার যোগ্যতা রাখেন বলে এলাকার ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। এবারে এই আসনের পরিস্থিতি একটু ভিন্ন। কেননা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মী-সমর্থকরা ৪ পুলিশসহ একাধিক ব্যক্তি হত্যা এবং ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ করে যে ভয়াবহ তা-ব চালিয়েছে, তাতে উপজেলার ভোটাররা জামায়াত থেকে অনেকটাই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।
জাতীয় পার্টির বর্তমান এমপি মূলত বগুড়ার স্থায়ী বাসিন্দা। তাঁর কর্মকালে তিনি পার্টির নিজ দলীয় নেতাকর্মী এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী সমর্থকদের সঙ্গে যথেষ্ট সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে পারেননি। তদুপরি এলাকায় কম আসার কারণে জনবিচ্ছিন্নতাও সৃষ্টি হয়েছে। ফলে সম্প্রতি নির্বাচনী জনপ্রিয়তায় যথেষ্টই পিছিয়ে রয়েছেন তিনি। এ কারণে আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা যথেষ্টই বেড়েছে। আওয়ামী লীগ দলীয় একমাত্র মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে বিশিষ্ট শিল্পপতি এবং সুন্দরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন ও তাঁর দলীয় সমর্থকরা ইতোমধ্যে নির্বাচনী তৎপরতা শুরু করেছেন। এই উপজেলায় আওয়ামী লীগের কোন দলীয় কোন্দল না থাকায় একক প্রার্থী হওয়ার কারণে মনোনয়ন পেলে তিনি একজন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে সাফল্য পেতে পারেন বলে ভোটাররা মনে করছেন।
তবে কর্নেল (অব) ডা. আব্দুল কাদের খানও জাপার মনোনয়ন নিয়ে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের তৎপরতা চালাতে দেখা যাচ্ছে। কিন্তু তাঁর সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মী-সমর্থকদের যোগাযোগ যথেষ্টই কম পরিলক্ষিত হচ্ছে। এর পাশাপাশি জাপার অন্য মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন, পর পর দুবারের সাবেক সংসদ সদস্য জাপা কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব, উপজেলা কমিটির সভাপতি ও বর্তমান সুন্দরগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ ওয়াহেদুজ্জামান সরকার বাদশা এবারও মনোনয়ন প্রত্যাশী। তাঁর নির্বাচনী জনসংযোগ এবং পূর্ব জনপ্রিয়তার কারণে তাঁকে অনেকটাই এগিয়ে নিয়ে গেছে। কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি ও জেলা কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারীকে কিছুদিন যাবত নির্বাচনী প্রচার চালাতে দেখা যাচ্ছে। তিনি সুন্দরগঞ্জের বাসিন্দা হলেও স্থায়ীভাবে বসবাস করেন না, তিনি বরাবরই ঢাকায় অবস্থান করেন। সে কারণে এলাকার ভোটাররা এখনও তাঁর প্রতি যথেষ্ট আগ্রহী হয়ে ওঠেনি। তবে কিছু কর্মীবাহিনী তিনি ইতোমধ্যে তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। এ ছাড়াও সুন্দরগঞ্জ পৌর জাপার সভাপতি ও জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রশিদ সরকার ডাবলু, দলীয় সমর্থক সোনাউল্যাহ সোনা, ইঞ্জিনিয়ার সরদার মোস্তফা মহসিন ও নওশের আলীও মনোনয়ন প্রত্যাশী হয়েছেন।
জাপার অন্য সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে সঙ্গত কারণেই এবারও ওয়াহেদুজ্জামান সরকার বাদশা জনপ্রিয়তায় অনেকটাই এগিয়ে। এ আসনে গত নির্বাচনে বিএনপির কোন প্রার্থী ছিল না। চারদলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে সাবেক এমপি জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা আব্দুল আজিজ গত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মহাজোটের জাপা প্রার্থীর কাছে হেরে যান। এবারও তিনি প্রার্থী হবেন বলে শোনা যাচ্ছে। তবে তিনি সুন্দরগঞ্জের পুলিশ হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন রাহাজানির অন্যতম আসামি হিসেবে পলাতক থাকায় প্রকাশ্যে তাঁর পক্ষে জামায়াতের নির্বাচনী কোন তৎপরতা পরিলক্ষিত না হলেও গোপনে কর্মীরা তাঁদের নির্বাচনী প্রচার অব্যাহত রেখেছেন। তবে বিএনপি থেকে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাজহার-উল-ইসলাম এবং সাবেক উপজেলা সভাপতি ও জেলা জজ কোর্টের সাবেক পিপি এ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম জিন্নাহ মনোনয়ন পেতে জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন। এ আসনে বিএনপির জনপ্রিয়তা আগের চাইতে কিছুটা বেড়েছে বলেও বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে। জামায়াত নির্বাচন না করলে বিএনপি এবার তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা চালাতে সক্ষম হবেন বলে সমর্থকরা আশা করছেন।
গাইবান্ধা-২ (গাইবান্ধা সদর উপজেলা) ॥ এ আসনে আওয়ামী লীগ দলীয় বর্তমান সংসদ সদস্য মাহাবুব আরা বেগম গিনি এবারেও নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী। তবে দলীয় নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে তাঁর সম্পর্কে দলীয় কার্যক্রমে সম্পৃক্ত না হওয়া এবং নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক না রাখার অভিযোগ রয়েছে। নির্বাচিত হওয়ার পর ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ কম থাকায় সে ক্ষেত্রেও যথেষ্ট দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে বলেও সরেজমিন পরিদর্শনে জানা গেছে।
জেলায় আওয়ামী লীগ ও তাঁদের অঙ্গ সংগঠনগুলোর মধ্যে দলীয় কোন্দল, বর্তমান সংসদ সদস্যের সঙ্গে নেতাকর্মীদের সম্পর্কহীনতা এবার এ দলের একাধিক প্রার্থীকে নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী হতে উৎসাহ জুগিয়েছে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক এ্যাডভোকেট সৈয়দ শামস-উল-আলম হিরু ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক এ দুজন বিগত দুটি নির্বাচন থেকেই মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে তাঁদের তৎপরতা অব্যাহত রেখেছেন। এলাকায় তাঁদের যথেষ্ট জনপ্রিয়তা এবং স্বচ্ছ ইমেজ রয়েছে। বিশেষ করে আবু বকর সিদ্দিকের নির্বাচনী তৎপরতা তাঁকে কিছুটা এগিয়ে নিয়ে গেছে। জেলা যুব ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক আমিনুজ্জামান রিংকু ও থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহ্ সারোয়ার কবির দলে যথেষ্ট জনপ্রিয় এবং এ দুজন তরুণ নেতা এবার এমপি নির্বাচনের মনোনয়ন প্রত্যাশী হয়ে ইতোমধ্যে অনেকের মধ্যেই সাড়া ফেলেছেন। শামসুর রহমান টুটুল মূলত বর্তমান এমপির ভাই। তিনি অনেক আগে থেকেই গোটা উপজেলায় ব্যানার, পোস্টার লাগিয়ে মসজিদে মসজিদে কার্পেট, মাইক, ফ্যান বিতরণসহ এবং মিছিল-মিটিং করে বেড়াচ্ছেন। ব্যারিস্টার মাসুদ আকতার পলাশের মনোনয়ন প্রত্যাশা শুধু ব্যানার ঝোলানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ। অন্য কোন তৎপরতা পরিলক্ষিত হয়নি।
অন্যদিকে জেলা বিএনপির অঙ্গসংগঠনগুলোর মধ্যে দলীয় কোন্দল ব্যাপক হওয়ায় তাঁদের নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যার্শীদের সংখ্যা অনেক বেশি। বর্তমান জেলা সভাপতি গত নির্বাচনে বিএনপির সংসদ সদস্য প্রার্থী আনিসুজ্জামান খান বাবু, তরুণ এবং উদ্দীপ্ত নেতা জেলা জিয়া পরিষদের সদস্য সচিব ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র নেতা খন্দকার আহাদ আহমেদ ও সাহাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মাহবুবুর রহমান টুলু এবারে নির্বাচন প্রত্যাশী। এ তিনজন মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতা আলোচনায় আসতে সক্ষম হয়েছেন এবং এদের নিয়ে জেলা ও উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরাও দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছেন। যা নির্বাচনে বিএনপির পক্ষে কাক্সিক্ষত ফলাফলকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে বলে ভোটাররা মনে করছেন।
এদিকে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এ্যাডভোকেট হামিদুল হক ছানা ও সাবেক এমপি প্রার্থী কমোডর (অব) শফিকুর রহমান ও জেলা বারের সাবেক সভাপতি এ্যাডভোকেট সেকেন্দার আযম আনাম বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী বলেও জানা গেছে। জাতীয় পার্টি থেকে গাইবান্ধা সদর উপজেলার বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও জাপা থেকে ৩ দফায় নির্বাচিত সাবেক এমপি ও জেলা জাপার সভাপতি আব্দুর রশীদ সরকার এবারও মনোনয়ন প্রত্যাশী। বিগত নির্বাচনে যথেষ্ট জনপ্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও মহাজোটভিত্তিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দলীয় মাহাবুব আরা বেগম গিনিকে মনোনয়ন দেয়া হয়। এবার মহাজোটভিত্তিক নির্বাচন হলেও মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত হবেন না বলে তিনি আশাবাদী। কেননা তাঁর জনপ্রিয়তা নেহায়েত কম নয়। তবে জাতীয় পার্টির অন্যতম নেতা গাইবান্ধা জেলার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জাতীয় শ্রমিক পার্টির জেলা সভাপতি এবং জেলা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি রেজাউন্নবী রাজু ও অপর এক শিল্পপতি, যিনি মূলত ঢাকায় অবস্থান করেন সেই মেজবাহুল ইসলাম লাভলু এবার নিজ দল থেকে মনোনয়ন পাওয়ার জন্য প্রচার চালাচ্ছেন।
গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্যাপুর ও পলাশবাড়ি উপজেলা) ॥ এ আসনে ৬ বারের নির্বাচিত ও বর্তমান সংসদ সদস্য এবং জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. টি আই এম ফজলে রাব্বি চৌধুরী ও জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার দিলারা খন্দকার শিল্পী দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার লক্ষ্যে জনসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন। বর্তমান এমপির জনপ্রিয়তায় এবার কিছুটা ভাটা পড়েছে। সেই সুযোগে রাজনীতিতে একেবারেই তরুণ ব্যারিস্টার দিলারা খন্দকার শিল্পী এমপি প্রার্থী হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছেন। জাপা চেয়ারম্যান এরশাদ ইতোমধ্যে এক চিঠিতে তাকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছেন। গত নির্বাচনে মহাজোটের কারণে আওয়ামী লীগ এ আসনটি জাপাকে ছেড়ে দিলেও এবার অবস্থার পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া আওয়ামী লীগ থেকে সাদুল্যাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ডা. ইউনুস আলী সরকার, ব্রিগেডিয়ার (অব) মাহমুদুল হক, সাদুল্যাপুর উপজেলার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এম এ ওয়াহেদ, উপজেলা সাধারণ সম্পাদক সাহারিয়ার খান বিপ্লব, পলাশবাড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোকছেদ চৌধুরী বিদ্যুৎ, সাদুল্যাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ জাকারিয়া খন্দকার, কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম স্মৃতি মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বামী ডা. ওয়াজেদ মিয়ার বড় ভাই আব্দুল ওয়াহেদ কানু মিয়ার ছেলে রংপুরের পীরগঞ্জের বাসিন্দা ইঞ্জিনিয়ার সাঈদ রেজা শান্ত নিজ এলাকা ছেড়ে এ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী হয়ে নির্বাচনী তৎপরতা শুরু করেছেন। আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থীদের মধ্যে বিএম-এর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. ইউনুস আলী সরকার গত নির্বাচনে মনোনয়নবঞ্চিত হয়েও এককভাবে নির্বাচন করে এ উপজেলা থেকেই বিপুল পরিমাণ ভোট পেয়েছিলেন। এদিক থেকে দলীয় মনোনয়ন পেলে জনপ্রিয়তার কারণে তাঁর মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সাফল্য পেতে পারে। এ ছাড়া বর্তমান পলাশবাড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মোকছেদ চৌধুরী বিদ্যুৎও জনপ্রিয়তার দিক থেকে পিছিয়ে নেই। কেন্দ্রীয় জাসদ নেতা ও বর্তমান সাদুল্যাপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান খাদেমুল ইসলাম খুদি এবারে মহাজোটের অন্যতম মনোনয়ন প্রত্যাশী। জনপ্রিয় এই তরুণ নেতা ইতোমধ্যে নির্বাচনী প্রচারে অনেকটাই এগিয়ে।
বিএনপি থেকে এ আসনে গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ডা. ময়নুল হোসেন সাদিক, বিএনপি নেতা মোঃ রফিকুল ইসলাম রফিক এবং জামায়াতে ইসলামী থেকে গতবারের সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা নজরুল ইসলাম লেবু ও জাতীয় পার্টি (জেপি) থেকে এ্যাডভোকেট ফজলে করিম পল্লব মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে এলাকায় সভা-সমাবেশ, পোস্টার, ব্যানার, জনসংযোগসহ বিভিন্ন স্তরে নির্বাচনী তৎপরতা শুরু করেছেন।
গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা) ॥ এ আসনে আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মনোয়ার হোসেন চৌধুরী এবং গোবিন্দগঞ্জের বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সিদ্দিক হোসেন চৌধুরী দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার লক্ষ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন। বর্তমান এমপি যথেষ্ট স্বচ্ছ ইমেজ থাকলেও সাংগঠনিক দক্ষতা ও দলীয় কর্মকা- এবং জনসমর্থনে আবুল কালাম আজাদ কিছুটা এগিয়ে রয়েছে। মনোনয়ন যেই পাক নির্বাচনে এ দুজন যৌথভাবে কাজ না করলে আর জাপা জোটে না থাকলে আওয়ামী লীগের এ আসনটি হারানোর সমূহ সম্ভাবনা প্রায় নিশ্চিত। কেননা বিএনপি, জাতীয় পার্টি কোন পক্ষই এখানে দুর্বল নয়।
এ ছাড়া গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা বিএনপি সভাপতি আব্দুল মান্নান ম-ল, বিএনপি নেতা ও এ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শামীম কাওছার লিংকন, ড্যাব নেতা ডা. ইকবাল হাসান, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় নেতা আমিনুল ইসলাম এবং মেজর (অব) রিয়াজুল ইসলাম তালুকদার দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমির ও এ আসনের গতবাবের চারদলীয় জোটের প্রার্থী ডা. আব্দুর রহিম সরকার এবারও দলীয় মনোনয়ন চাইবেন। জাতীয় পার্টি (এ) থেকে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা জাপা সভাপতি এবং সাবেক সাংসদ লুৎফর রহমান চৌধুরী ও গতবারের জাপা প্রার্থী আলী মাহবুব নিজ নিজ দল থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী।
গাইবান্ধা-৫ (ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলা) ॥ এ আসনে আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য এবং আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিঞা ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন এবারে দলীয় মনোনয়ন পেতে সর্বশক্তি নিয়োগ করেছেন। এক ফজলে রাব্বি মিঞার সঙ্গে ইতোমধ্যে টক্কর দিয়ে নিজের প্রার্থিতার সমর্থনে এ দুটি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এমনকি প্রত্যন্ত চরাঞ্চলে ব্যাপক মিছিল-মিটিং করছেন তরুণ প্রার্থী মাহমুদ হাসান রিপন। প্রচুর জনসমাগমও হচ্ছে এসব মিটিংয়ে। দুবারের এমপি সাবেক আইন প্রতিমন্ত্রী ও অভিজ্ঞ রাজনীতিক ফজলে রাব্বির সমর্থকরাও তৎপরতা চালাচ্ছে সমানে সমান। তবে মনোনয়ন যেই পাক নির্বাচনে দুজনে একত্রিত হয়ে কাজ না করলে জোটবহির্ভূত নির্বাচনের ক্ষেত্রে জাপার রওশন এরশাদের কাছে এ আসনটি হারানোর সম্ভাবনা রয়েছে বলে ভোটাররা মনে করছেন। এমনকি বিএনপিও এ আসনটি পেতে পারে।
গতবারের সংসদ সদস্য প্রার্থী হাছান আলী সরকার, জেলা কৃষক দলের সহ-সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বিশিষ্ট রাজনীতিক সৈয়দ মোঃ বেলাল হোসেন ইউসুফ, সাবেক এমপি রোস্তম আলী মোল্যার ছেলে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাহামুদুন্নবী টিটুল, সাঘাটা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি হেড মাস্টার আব্দুল্যা আকন্দ, সাবেক ছাত্রনেতা ও জাতীয়বাদী তাঁতী দলের কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যক্ষ আরশাদুল কবীর রাঙ্গা এবার বিএনপি থেকে দলীয় মনোনয়ন পেতে মাঠে নেমেছেন।
জাতীয় পার্টি (এ) থেকে জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক এমপি বেগম রওশন এরশাদ, যিনি এ আসনে সামান্য ভোটের ব্যবধানে গত নির্বাচনে পরাজিত হয়েছিলেন তিনিও এবার মনোনয়ন প্রত্যাশী। এ ছাড়া সাঘাটা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা জাপার সভাপতি এ্যাডভোকেট এইচ এম গোলাম শহীদ রঞ্জু দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে এলাকায় সভা-সমাবেশ, পোস্টার, ব্যানার লাগিয়ে বিভিন্ন স্তরে নির্বাচনী তৎপরতা শুরু করেছেন।
টাকার মান ধরে রাখতে ডলার কেনা বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক
বিশেষ প্রতিনিধি ॥ বাজারে ডলারের সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় টাকার মান ধরে রাখতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের রুপীর অবমূল্যায়নের কথা বিবেচনায় নিয়ে টাকার মান ধরে রাখতে বাজার থেকে ডলার কেনা জোরদার করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতে বেশি লাভবান হচ্ছে বাংলাদেশী ব্যবসায়ীরা।
জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স, রফতানি আয় ও প্রকল্প সাহায্য বেড়ে যাওয়ায় এবং আমদানি ব্যয় কমায় বাজারে ডলারের সরবরাহ বেড়ে গেছে। এ অবস্থায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে ডলার না কিনলে পার্শ্ববর্তী ভারতের মতো বাংলাদেশেও টাকার মান কমে যাবে, যা দেশের রেমিটেন্স ও রফতানি আয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এ সব বিবেচনায় গত অর্থবছরের মতো চলতি অর্থবছরেও বাজার থেকে ডলার কেনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা।ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপীর অব্যাহত দরপতনে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ভারতে বাংলাদেশী পণ্য রফতানিতে কিছুটা সমস্যা হলেও ভারতীয় পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে বেশি লাভবান হচ্ছে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা।
এ প্রসঙ্গে ইন্দো-বাংলা চেম্বারের বন্দর সাব-কমিটির চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান জানান, রুপীর অব্যাহত দরপতনে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। আমরা প্রতিবছর ভারত থেকে ৫শ’ কোটি ডলারের সমপরিমাণ পণ্য আমদানি করি। বর্তমান পরিস্থিতিতে একই পরিমাণ আমদানির জন্য খরচ ১০ শতাংশ কম হচ্ছে। এতে ৫০ কোটি ডলার সাশ্রয় হবে।
জানা যায়, চলতি ২০১৩-১৪ অর্থবছরের আড়াই মাসেই এক’শ কোটি ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ কারণে গত চার মাসেরও বেশি সময় ধরে টাকা-ডলারের বিনিময় হার একই জায়গায় স্থির রয়েছে। ভারতের মতো বাংলাদেশী টাকার মানের যাতে অবমূল্যায়ন না ঘটে সেজন্য মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকাকে শক্তিশালী রাখতে ভাসমান (ফ্লোটিং) মুদ্রাবাজারে হস্তক্ষেপ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর বাজার থেকে ডলার কেনার কারণে বৈদেশিক মুদ্রার ভা-ার আরও স্ফীত হচ্ছে। গত ১৯ সেপ্টেম্বর দিন শেষে রিজার্ভ আবারও ১৬শ’ কোটি ডলারের পৌঁছেছে। গত ২০১২-১৩ অর্থবছরে পুরো সময়ে ডলার কেনা হয়েছিল ৪৮০ কোটি ডলার।
তবে বাজার থেকে ডলার কিনে টাকার মান বাড়িয়ে রাখার পক্ষপাতি নন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গবর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন। তিনি বলেন, ভারতে ডলারের বিপরীতে রুপীর মান কমছে। বাংলাদেশে বাজার থেকে ডলার কিনে টাকার মান বাড়িয়ে রাখা হচ্ছে। ভারত সরকার তাদের দেশে বিদেশী বিনিয়োগ বাড়াতে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই রুপীর বিপরীতে ডলারকে শক্তিশালী হতে দিচ্ছে। এর ফলে বাংলাদেশের বাজার ভারতীয় পণ্য দখল করে নিতে পারে।
গত ১৯ সেপ্টেম্বর রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া ৬১ টাকা ৭৪ পয়সায় ডলার কিনেছে। এক সপ্তাহ আগে এই দর ছিল ৬৩ টাকা ৯০ পয়সা। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে ভারতীয় রুপীর বিপরীতে ডলারের দর ৬৭ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। চার মাস আগে (৫ মে) এই রুপীর দর ছিল ৫১ টাকা।
আইএমএফের চাপে ২০০৩ সালে বাংলাদেশে ভাসমান মুদ্রা বিনিময় ব্যবস্থা (ফ্লোটিং) চালু হয়। এ ব্যবস্থায় বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় ব্যবস্থা বাজারের ওপর ছেড়ে দেয়া হয়। তার আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সময় সময় ডলার টাকার বিনিময় মূল্য নির্ধারণ করে দিত এবং সে ম’ল্যেই মুদ্রাবাজারে ডলার কেনাবেচা হতো। তবে ভাসমান মুদ্রাবিনিময় হার চালু হলেও মাঝে মধ্যেই বাজারে হস্তক্ষেপ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাজারে ডলারের সরবরাহ বেড়ে গেলে টাকার মান ধরে রাখতে ওই বাড়তি ডলার কিনে নিচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তারই অংশ হিসাবে গত দুই বছর ধরে বাজার থেকে ডলার কেনা অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন্স রিজার্ভ এ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের মহাব্যবস্থাপক কাজী ছাইদুর রহমান বলেন, চলতি অর্থবছরের প্রথম আড়াই মাসে এক শ’ কোটি ডলার বাজার থেকে কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাজারে ডলারের সরবরাহ বাড়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক তা কিনে নিচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘বেশ কিছুদিন ধরে টাকা-ডলারের বিনিময় হার স্থিতিশীল রয়েছে। ভারতের মুদ্রাবাজারে বেশ কিছুদিন ধরে অস্থিরতা চলছে। আমাদের এখানে সেটা নেই। এটা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য ভাল’।
বাংলাদেশের বাজারে ভারতীয় পণ্যের প্রবেশ প্রসঙ্গে ছাইদুর রহমান বলেন, ‘রুপীর দর এখন প্রতিদিনই কমছে। সে কারণে এ বিষয়টি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই’।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতিডলার ৭৭ টাকা ৭৫ পয়সায় বিক্রি হচ্ছে। গত চার মাস ধরে এই একই দামে ডলার বিক্রি হচ্ছে।
বিক্ষোভের নামে আজ নাশকতা চালাতে পারে জামায়াত
জনকণ্ঠ রিপোর্ট ॥ হরতাল দিয়ে দেশজুড়ে তা-বের পর আজ দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন করবে বিএনপির রাজনৈতিক মিত্র জামায়াত। আপীল বিভাগের চূড়ান্ত রায়ে একাত্তরের ঘাতক কাদের মোল্লার ফাঁসির আদেশ প্রত্যাখ্যান করে তার মুক্তির দাবিতে আদালতে ক্রিমিনাল সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত জামায়াত-শিবির এ কর্মসূচী পালন করবে। কর্মসূচী যে কোন মূল্যে সফল করা হবে বলে ইতোমধ্যেই হুমকি দিয়েছেন জামায়াত নেতারা। এদিকে কর্মসূচীর নামে নাশকতা চালিয়ে চলতি সপ্তাহে আবারও হরতাল দেয়ার পাঁয়তারা করছে উগ্রবাদী এ দলটি। দুই দিনের হরতালে বাইরে ব্যাপক তা-ব চালালেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর কঠোর অবস্থানে রাজধানীতে সক্রিয় হতে পারেনি। তবে হরতালের ইস্যু তৈরি করতে আজ বিক্ষোভ কর্মসূচীর নামে রাজধানীতে শক্তি প্রদর্শনের জন্য ষড়যন্ত্র জামায়াত-শিবির। তারা ঝটিকা মিছিল করে ভাংচুরসহ নাশকতা চালানো হতে পারে। বাধা দেয়া হলেই দেয়া হবে হরতাল।
হরতালের কথা না বললেও বিক্ষোভ কর্মসূচীতে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আচরণ দেখে পরবর্তী কর্মসূচী নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছে জামায়াত নেতারা। বিক্ষোভ কর্মসূচীতে সরকার বড় ধরনের কোন বাধা দিলে পরবর্তী কর্মসূচী ঠিক করা হবে। এ বিষয়ে দলের নির্বাহী পরিষদের সদস্য হামিদুর রহমান আযাদ এমপি সাংবাদিকদের বলেছেন, দলের এক শীর্ষ নেতাকে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসি দেবে সেখানে দল বসে থাকবে না। রায়ের প্রতিবাদে দু’দিন হরতাল দিয়েছি। কিন্তু সরকার যদি অন্যায়ভাবে রায় কার্যকর করার সাহস দেখায় তবে আরও কঠোর কর্মসূচী নিয়ে আমরা মাঠে নামব। ঈদের আগে আর কোন হরতাল আসছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পূর্ণাঙ্গ রায় ও সর্বশেষ পরিস্থিতি দেখেই সিদ্ধান্ত নেব। জানা গেছে, সরকারবিরোধী আন্দোলন জোরালো করতে ঈদের আগে একটি বা দুটি হরতাল দিতে চায় জামায়াত। কর্মসূচী বাস্তবায়নে এখন কাজ করছে বিভিন্ন সময়ে শিবিরের সভাপতি ও সেক্রেটারির দায়িত্ব পালনকারী বর্তমানের জামায়াত নেতারা। মূলত শিবিরের সাবেক এ নেতারাই এখন রাজধানীতে জামায়াত-শিবিরের কর্মকা- নিয়ন্ত্রণ করছেন মোবাইল, ই-মেইল, ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে। র্এ আগে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আপীল বিভাগের চূড়ান্ত রায়ে কাদের মোল্লার ফাঁসির আদেশ প্রত্যাখ্যান করে বুধ ও বৃহস্পতিবার দেশব্যাপী হরতালের ডাক দিয়েছিল জামায়াত। মঙ্গলবার রায়ের পরই দেশের বিভিন্ন স্থানে শুরু হয় জামায়াত-শিবিরের তা-ব। হামলা, ভাংচুর, বোমা বিস্ফোরণ, অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে দেশের অসংখ্য জেলা ও উপজেলায়। রাস্তা অবরোধ, গাড়ি ভাংচুর ও পুলিশের ওপর হামলা চালানো হয়। তা-ব চালানো হয় চট্টগ্রামে। ওই দিনেই রাজধানীতে শিবিরের ককটেলে ঝলসে গেছে অটোরিক্সাচালক। ঘটনায় আহত হয় অর্ধশতাধিক। বুধবার হরতালের প্রথম দিন গুলিবর্ষণ, হামলা-ভাংচুর-অগ্নিসংযোগসহ তা-ব চলিয়েছে জামায়াত-শিবির। যানবাহন চলাচল করায় জনজীবন অনেকটা স্বাভাবিক থাকলেও জামায়াত-শিবিরের নাশকতার শিকার হয়েছে সাধারণ মানুষ, পুলিশ, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ছাড়াও অসংখ্য যানবাহন। পুলিশ ফাঁড়িতে সশস্ত্র আক্রমণ, পুলিশের ওপর গুলিবর্ষণ, ছাড়াও বিভিন্ন স্থানে রাস্তা অবরোধ করে গাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে। নোয়াখালীতে তাদের হামলায় নিহত হয়েছেন এক সিএনজিচালক। চট্টগ্রামে সাতকানিয়ায় পুলিশের ওপর গুলিবর্ষণসহ ব্যাপক তা-ব চালিয়েছে জামায়াত-শিবির ক্যাডাররা। শিবিরের গুলিতে এখানে বিঁদ্ধ হয়েছেন এক পুলিশ কনস্টেবল। শিবিরের গুলি তাঁর বুক দিয়ে ঢুকে পিঠ দিয়ে বেরিয়ে গেছে। নাশকতা চালিয়েছে কুমিল্লা, রাজশাহী, সাতক্ষীরা, ফেনী, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে। শিবিরের হামলায় আহত হয়েছে দেড় শতাধিক। চট্টগ্রামে গুলিবিদ্ধ ওই কনস্টেবল মোঃ ইকবাল হোসেনের অস্ত্রোপচার হয়েছে ঢাকায়। তবে তাঁর অবস্থা এখনও আশঙ্কামুক্ত নয়।
হরতালের দ্বিতীয় দিন আরও ভয়াবহ জঙ্গীরূপ নিয়ে দেশজুড়ে তা-ব চালিয়েছে জামায়াত-শিবির। বগুড়ায় জামায়াতের আগুনে দগ্ধ ট্রাকচালক সামসুল হক ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে রবিবার। প্রথম দিনের নাশকতার পর আরও ভয়ঙ্কর চেহারা নিয়ে বৃহস্পতিবার পুলিশ ফাঁড়ি ও বিজিবির গাড়িসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যদের ওপর সশস্ত্র আক্রমণ চালিয়েছে উগ্রবাদী এ সংগঠনের ক্যাডাররা। বোমা হামলা ও আগুন দেয়া হয়েছে পুলিশ ও বিজিবির গাড়িতে। সিরাজগঞ্জ, মেহেরপুর, বগুড়া, গাজীপুর, কুমিল্লাসহ বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় গুলিবর্ষণ, হামলা, অগ্নিসংযোগসহ তা-ব চালিয়েছে জামায়াত-শিবির। সিরাজগঞ্জে অটোরিক্সার এক যাত্রীকে পিটিয়ে হত্যা করেছে জামায়াতীরা। তবে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে মেহেরপুরে নিহত হয়েছে এক জামায়াতকর্মী। উগ্রবাদী এ দলটির সশস্ত্র ক্যাডারদের বোমা হামলা ও আগুনে পুড়ে গেছে চার সাধারণ মানুষ। যারা হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। সহিংসতায় আহত হয়েছেন ১৫ পুলিশ সদস্যসহ দেড়শতাধিক। দুই দিনের কর্মসূচীতে ঢাকায় দুর্বল অবস্থানে ছিল জামায়াত-শিবির। তবে জানা গেছে, এবার রাজধানীতে শক্তি প্রদর্শনের জন্য গোপন পরিকল্পনা নিয়েছে তারা। চলতি সপ্তাহেই রাজনীতি অস্থির করতে কর্মীদের প্রস্তুত করা এবং হামলার পাঁয়তারা চলছে। রাজপথে নামতে বাধা দেয়ার অজুহাতেই ঝটিকা মিছিল থেকে চালানো হতে পারে হামলা। আর এতে বাধা দিলেই দেয়া হবে হরতাল। শিবিরের সূত্রগুলো বলছে, যুদ্ধাপরাধের মামলার রায়ের প্রেক্ষিতে দেয়া প্রতিবাদ কর্মসূচীতে বাধা এলেই পাল্টা হামলা করার নির্দেশ ইতোমধ্যেই কর্মীদের দেয়া হয়েছে। কেবল ঢাকাকে লক্ষ্য করেই তারা মাঠে নামিয়েছে শিবিরের প্রশিক্ষিত একটি গ্রুপকে। যাদের মনিটরিং করছে শিবিরের সাবেক কয়েক শীর্ষ নেতা। যারা প্রত্যেকেই এখন রাজধানীর বিভিন্ন থানার জামায়াত আমির ও ঢাকা মহানগর কমিটির নেতা। সম্প্রতি রাজধানীতে শিবিরের ঘাঁটি বলে পরিচিত মগবাজার আর আর লালবাগের হাজারীবাগে বোমা বানানোর সময় পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছে শিবিরের প্রশিক্ষিত এমন ১১ কর্মী। শনিবার মালিবাগ এলাকা থেকে ১০টি তাজা বোমাসহ ১২ শিবিরকর্মীকে আটক করে শাহজাহানপুর থানা পুলিশ। একই দিনে হাজারীবাগ থেকে ৫১টি বোমাসহ ১ জনকে আটক করে হাজারীবাগ থানা পুলিশ। এ সময় পুলিশের ওপর বোমা হামলাও করা হয়। হাজারীবাগের ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্য ও একজন আনসার এবং হামলাকারী আহত হয়েছেন। পুলিশ বলছে, শিবির দুই ধরনের বোমা তৈরি করছে একই সঙ্গে গানপাউডার সংগ্রহে রাখছে। হালকা হাতবোমা ফাটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে গানপাউডার দিয়ে গাড়িতে আগুন দিচ্ছে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেলেই ভারি বোমা মেরে আহত করছে। তারা যেন কোন হামলা না করতে পারে সেজন্য রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে। এদিকে কর্মসূচীর নামে যে কোন ধরনের নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে কঠোর আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে। আইনী ব্যবস্থায় ধংসাত্মক কর্মকা-ের জন্য অপরাধীদের আহ্বানকারীদের অভিযুক্ত করে মামলা পর্যন্ত দায়ের করা হতে পারে। মামলার অভিযোগের ভিত্তিতেই কর্মসূচী আহ্বানকারীদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়ার চিন্তাভাবনা চলছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অধীনে আনা হচ্ছে গ্রামীণ ব্যাংককে
ব্যাংকের ৭৫ শতাংশ শেয়ার থাকবে শেয়ারহোল্ডারদের কাছে ॥ জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী
অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অধীনে আসছে বহুল আলোচিত গ্রামীণ ব্যাংক। নিয়ন্ত্রক সংস্থার বাংলাদেশ ব্যাংকের আওতায় আনা হচ্ছে গ্রামীণ ব্যাংককে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
রবিবার মন্ত্রিসভা বিভাগে ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গ্রামীণ ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের জুরিসডিকশনে আসবে। শেয়ার বণ্টন যা আছে, তাই থাকবে। ২৫ শতাংশ থাকবে সরকারের কাছে, ৭৫ শতাংশ থাকবে গ্রামীণ ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডারদের কাছে। গ্রামীণ ব্যাংককে একটি নিয়ন্ত্রক সংস্থার অধীনে আনার বিষয়ে এর আগে কয়েকবার আভাস দিলেও এবারই প্রথম সরাসরি বাংলাদেশ ব্যাংকের নাম বললেন অর্থমন্ত্রী।
গ্রামীণ ব্যাংক কমিশন কবে প্রতিবেদন দেবে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ৩০ সেপ্টেম্বর পাব। তাদের সঙ্গে মোর অর লেস আলোচনা হয়েছে। যা আছে আগেই বলেছি।
১৯৮৩ সালে একটি সামরিক অধ্যাদেশের মাধ্যমে গ্রামীণ ব্যাংকের সূচনা হওয়ার পর থেকেই ইউনূস এ প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। ২০১১ সালে অবসরের বয়সসীমা পেরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তার এমডি পদে থাকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ওই বছর মার্চে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যখন ইউনূসকে অব্যাহতি দেয়, তখন তাঁর বয়স প্রায় ৭১ বছর। এরপর থেকে ওই পদটি ফাঁকা রয়েছে। এরপর গ্রামীণ ব্যাংক ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগের বিজ্ঞাপন দিলেও হাইকোর্টের আদেশে তা স্থগিত রয়েছে।
এক প্রশ্নর জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ইউনূস সাহেব ও উনার সমর্থকরা হাইকোর্ট গিয়ে এমডি নিয়োগ আটকে রেখেছেন। আমরা চেষ্টা করছি ওই আদেশ উইথড্র করার। এটা উইথড্র করলেই এমডি নিয়োগ দেয়া হবে। ২০১০-এর ডিসেম্বরে নরওয়ের টেলিভিশনে প্রচারিত একটি প্রামাণ্যচিত্রে মুহম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে গ্রামীণ ব্যাংককে দেয়া বিদেশী অর্থ এক তহবিল থেকে অন্য তহবিলে স্থানান্তরের অভিযোগ ওঠে। এরপর দেশে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
এ পরিপ্রেক্ষিতে গ্রামীণ ব্যাংকের কর্মকা- পর্যালোচনায় একটি কমিশন গঠন করে সরকার। সম্প্রতি কমিশন তাদের প্রাথমিক প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দেয়, যাতে ব্যাংকের বর্তমান কাঠামো বদলে বিকেন্দ্রীকরণের সুপারিশ করা হয়েছে।
ক্যাম্পাস উত্তপ্ত, আতঙ্ক ॥ রাবিতে ছাত্রলীগ শিবির ও পুলিশের মধ্যে ব্যাপক গুলিবিনিময়
স্টাফ রিপোর্টার, রাবি সংবাদদাতা, রাজশাহী ॥ আধিপত্য বিস্তার নিয়ে তিন বছরের বেশি সময় ধরে কোণঠাসা ছাত্রশিবিরের তৎপরতায় আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। এবার প্রকাশ্যে ক্যাম্পাসে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে।
ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে প্রকাশ্যে শোডাউনকে কেন্দ্র করে রবিবার ছাত্রশিবির-ছাত্রলীগ ও পুলিশের মধ্যে ব্যাপক গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটে। এতে শিবিরের দুই কর্মীসহ তিনজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ক্যাম্পাসজুড়ে আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে শহর থেকে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিলেও পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে বেলা আড়াইটার দিকে আবারও মিছিল বের করে শিবির।
ক্যাম্পাসে গোলাগুলির ঘটনায় আহতরা হলেন শিবিরের মতিহার হল শাখার সভাপতি আবু সুফিয়ান, বিজ্ঞান অনুষদের সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন ও ভাষা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ফিরোজ।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, রবিবার দুপুর ১২টার সময় দলীয় টেন্টে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অবস্থান করছিলেন। এ সময় কয়েকজন শিবিরকর্মী সেখান দিয়ে যাওয়ার সময় উস্কানিমূলক সেøাগান দেয়া শুরু করেন। তখন ছাত্রলীগ কর্মীরা তাদের ধাওয়া দেন। ছাত্রলীগের দাবি, শিবিরকর্মীরা পালিয়ে যাওয়ার সময় কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে।
এ ঘটনার পর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়কে মিছিল বের করে। সোয়া ১২টার সময় খবর পেয়ে পুলিশ ক্যাম্পাসে পৌঁছলে তাদের সঙ্গে যোগ দেয় ছাত্রলীগ কর্মীরা। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ কলা ভবনের সামনে অবস্থান নেয়। এ সময় শহীদুল্লাহ কলা ভবনের তৃতীয় তলায় কয়েকজন শিবিরকর্মী অবস্থান করছিলেন। ওপর থেকে তারা (শিবির) গুলি ছুড়তে পারে এ আশঙ্কায় পুলিশ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ব্যাপক গুলি ছুড়তে শুরু করে। পুলিশ এ সময় অন্তত ৩০ রাউন্ড গুলি ছুড়লে শিবিরকর্মীরা বিভিন্ন কক্ষে অবস্থান নেয়। এ সময় পুলিশ ও ছাত্রলীগের ছোড়া গুলিতে শিবিরকর্মী আবু সুফিয়ান, ইমরান হোসেন ও ভাষা বিভাগের শিক্ষার্থী ফিরোজ আহত হয়। তবে এ ঘটনায় পুলিশ কাউকে আটক করতে পারেনি। এ দিকে ব্যাপক গুলির শব্দে ক্যাম্পাসের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গুলির শব্দে সাধারণ শিক্ষার্থীরা দিগি¦দিক ছোটাছুটি শুরু করে।
রাবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান রানা বলেন, ‘শিবির পরিকল্পিতভাবে ক্যাম্পাসে আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছে। তবে ছাত্রলীগের প্রতিরোধের কারণে তারা ক্যাম্পাসে টিকতে পারেনি। তবে রাবি শাখা শিবিরের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন ইয়াহইয়া দাবি করেন, আমাদের কর্মীরা শান্তিপূর্ণভাবে ক্যাম্পাসে অবস্থান করছিল। ছাত্রলীগের ক্যাডাররা কোন কারণ ছাড়াই গুলি চালিয়েছে। এ ঘটনায় তাদের দুজন নেতা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
নগরীর মতিহার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এসএম আবদুস সোবহান জানান, ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি বর্তমানে পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. তারিকুল হাসান বলেন, ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার জন্য বিভিন্ন পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে বেলা আড়াইটার দিকে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে আবারও বিক্ষোভ মিছিল বের করে শিবির। তারা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন কাজলা ও তালাইমারি এলাকায় বিক্ষোভ মিছিলটি বের করলে নতুন করে আবারও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ সেখানে উপস্থিত হলে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে শিবিরকর্মীরা পালিয়ে যায়।
দু’দফা দাবিতে বিক্ষোভ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আশ্বাসে রাজধানীতে অবরোধ প্রত্যাহার ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের
স্টাফ রিপোর্টার ॥ ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের বেতনবৈষম্য দূর করাসহ দুই দফা দাবিতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্নস্থানে রবিবার বিক্ষোভ ও রাস্তা অবরোধ করেছে কারিগরি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীরা। পূর্ব ঘোষণা অনুসারে দাবি বাস্তবায়নে কর্মসূচী পালন করা হয়েছে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, দিনাজপুরসহ বিভিন্ন অঞ্চলের কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। রাজধানীতে ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এলাকায় রাস্তা অবরোধ করে কর্মসূচী বিক্ষোভ করার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীরের আশ্বাসে রাজধানীর অবরোধ তুলে নেয় বাংলাদেশ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং পেশাজীবী ছাত্র-শিক্ষক সংগ্রাম পরিষদ।
রবিবার সকাল ১১টার দিকে ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের দক্ষিণ গেটে সমাবেশ করে পরিষদ। সমাবেশ শেষে সাতরাস্তা মোড়ে অবস্থান নেয় তারা। সরকারী চাকরিতে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের মান বাড়ানোর দাবিসহ দুই দফা দাবিতে সড়ক অবরোধ কর্মসূচী পালন করে ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটউটের শিক্ষার্থীরাও। এতে দুর্ভোগে পড়েন ওই পথে চলাচলকারীরা। এ সময় আটক করা হয় কয়েকজনকে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে রবিবার নিউইয়র্ক যাওয়ার আগেই দাবি বাস্তবায়নের অনুরোধ করেন পরিষদ নেতারা। পরিষদের আহ্বায়ক ফজলুল হক মল্লিক বলেন, প্রধানমন্ত্রী, আপনি নিউইয়র্ক যাওয়ার আগে আমাদের দাবি বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়ে যান। না হলে ফিরে দেখবেন বাংলাদেশ তছনছ হয়ে গেছে। এ সময় ২৫ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদ অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল করে স্পীকারের কাছে স্মারকলিপি প্রদানের ঘোষণা দেন পরিষদের নেতারা। বেলা একটার দিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাদের দুই দফা দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেয়া হয়। মন্ত্রী কর্মসূচীকে কেন্দ্র করে আটক ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের মুক্তির ঘোষণা দেন। দাবি বাস্তবায়নে চট্টগ্রাম নগরের হালিশহর বড় পোল এলাকায় অবরোধ করেছিল আন্দোলনকারীরা। এ সময় ত্রিমুখী সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশের অনুরোধে তাঁরা অবরোধ তুলে নেয়। বাংলাদেশ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং পেশাজীবী-ছাত্র-শিক্ষক সংগ্রাম পরিষদ চট্টগ্রাম জেলার আহ্বায়ক জালালউদ্দিন মোল্লা বলেন, আমরা কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে কর্মসূচী পালন করেছি। কর্মসূচীতে অংশ নেয় নাসিরাবাদ সরকারী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, হালিশহর মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, চট্টগ্রাম টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ, ডেফোডিল পলিটেকনিক, শ্যামলী আইডিয়াল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, ন্যাশনাল পলিটেকনিকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। দিনাজপুর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) শিক্ষার্থীদের রাস্তা অবরোধের কর্মসূচীতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে তিন ছাত্রনেতা আহত হয়েছেন। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল ও রবার বুলেট নিক্ষেপ করেছে। আহতদের দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আওয়াল জানান, এসআরও ২০০৮ বাতিল, ডিপ্লোমা কর্মকর্তাদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবিতে দেশব্যাপী কর্মসূচীর অংশ হিসেবে দুপুর ১২টার দিকে দিনাজপুর-ঢাকা মহাসড়কের পলিটেকনিক মোড়ে মহাসড়ক অবরোধ করে তারা। এ সময় পুলিশ তাদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দেয়। এতে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ভারগ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কাদের জিলানী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ১৪ রাউন্ড টিয়ারশেল ও ১৩ রাউন্ড রবার বুলেট নিক্ষেপ করা হয়েছে। রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা বেতন বৈষম্য ও পেশাগত সমস্যা সমাধানের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল, সড়ক অবরোধ ও গাড়ি ভাংচুর করেছে। এ সময় রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র রায়হান আলীকে আটক করেছে পুলিশ।
২৪ শিবিরকর্মী আটক ॥ সাতক্ষীরায় আওয়ামী লীগের দু’নেতা কর্মীকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম
স্টাফ রিপোর্টার, সাতক্ষীরা ॥ জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা দু’আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করেছে। শনিবার রাত ৮টার দিকে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার ধোপাডাঙা পাটনী বিলের পাকা রাস্তার ওপর এ হামলা চালানো হয়। আহতদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ২৪ জনকে আটক করেছে। আহতরা হলো দেবহাটা উপজেলার ধোপাডাঙা গ্রামের সবিয়ার রহমানের ছেলে সখীপুর ইউপি সদস্য আওয়ামী লীগ কর্মী নাজিমউদ্দন সরদার (৩৮) ও সখীপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি ধোপাডাঙা গ্রামের কালাচাঁদ গাজীর ছেলে আকিমউদ্দিন (৩৫)।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, সখীপুর ইউনিয়নের পাঁচপোতা ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পাঁচপোতা গ্রামের আব্দুল আজিজকে গত ১৫ জুলাই হরতাল চলাকালে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা কুপিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় তার ছেলে হাফিজুর রহমান বাদী হয়ে থানায় মামলা করে। ওই হত্যা মামলার আসামিদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশ শনিবার সন্ধ্যায় সখীপুর এলাকায় অভিযান চালায়। পুলিশী অভিযানের খবর পেয়ে জামায়াত-শিবিরের অধিকাংশ নেতাকর্মী এলাকা ছেড়ে চলে যায়। রাত ৯টার দিকে ইউপি সদস্য নাজিমউদ্দিন সরদার মোটরসাইকেলে ভাতশালা থেকে বাড়ি ফেরার সময় পাটনী বিলের মাঝখানে পাকা রাস্তার ওপর সখীপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি জিয়ারুল ইসলামের নেতৃত্বে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। তাকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করার পর মোটরসাইকেলটি ভাঙচুর করে। একই সময় ভ্যানযোগে আকিমউদ্দিন বাড়ি আসার সময় একই স্থানে হামলা চালানো হয় তার ওপর। মারাত্মক জখম অবস্থায় তাদের সখীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় রাতেই তাদের সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল বারী জানান, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ২৪ জনকে আটক করা হয়েছে। রবিবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত তাদের সাতক্ষীরা সদর থানায় নিয়ে পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তরা জিজ্ঞাসাবাদ করছিল।
কুষ্টিয়ায় বন্দুকযুদ্ধে চরমপন্থী নেতা নিহত
নিজস্ব সংবাদদাতা, কুষ্টিয়া, ২২ সেপ্টেম্বর ॥ কুষ্টিয়ার খোকসায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ফজলুর রহমান ওরফে ফজু (৩৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। পুলিশের দাবি, নিহত ফজু চরমপন্থী সংগঠন গণমুক্তিফৌজের আঞ্চলিক নেতা। রবিবার ভোরে খোকসা উপজেলার উথুলিয়া ব্রিজের কাছে এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, উথুলিয়া ব্রিজের কাছে কয়েকজন চরমপন্থী নাশকতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে গোপন বৈঠক করছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার রাত তিনটার দিকে সেখানে অভিযান চালায় কুষ্টিয়া গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্যরা। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পুলিশও পাল্টা গুলি ছুড়লে উভয় পক্ষের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধ বেঁধে যায়। প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে দুই পক্ষের মধ্যে এ বন্দুকযুদ্ধ চলে। পরে ঘটনাস্থল থেকে একজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়রা মৃতদেহটি পার্শ্ববর্তী কুমারখালী উপজেলার যদুবয়রা গ্রামের ফজলুর রহমান ওরফে ফজুর বলে শনাক্ত করে।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল, একটি রিভলবার, একটি পাইপগান, দুটি এলজিসহ বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে। কুষ্টিয়া গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, ফজলুর রহমান চরমপন্থী সংগঠন গণমুক্তিফৌজের আঞ্চলিক নেতা। সে খোকসার আলোচিত ইউপি চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম হত্যা মামলার প্রধান আসামি এবং চরমপন্থী সংগঠন গণমুক্তিফৌজ নেতা টিক্কার সেকেন্ড ইন কমান্ড। তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় হত্যাসহ অন্তত ছয়টি মামলা রয়েছে।
আয়কর মেলায় ১১১৭ কোটি টাকা আদায়
অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ সাত দিনের মেলায় আয়কর আদায় ১ হাজার ১১৭ কোটির টাকার বেশি। রবিবার ছিল মেলায় শেষদিন। তাই সকাল বেলায় মেলায় ছুটে আসে করদাতারা। বেলা বাড়ার সঙ্গে করদাতাদের ভিড়ে মুখরিত হয়ে উঠে রাজধানীর অফিসার্স ক্লাব চত্বর। করদাতাদের ব্যাপক উপস্থিতি ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে শেষ হলো সাত দিনের আয়কর মেলা। করদাতাদের সব ধরণের সেবা প্রদানে ব্যস্ত ছিলেন কর বিভাগের সকল পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ।
এদিকে এবার ঢাকাসহ সারাদেশে আয়োজিত আয়কর মেলার শেষদিন মোট ১ লাখ ৭৮৭ করদাতাকে সেবা প্রদান করা হয়েছে। নতুন করদাতা হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন ২ হাজার ২৫৬ করদাতা। করদাতাগণের মধ্যে ১৬ হাজার ৮১০ করদাতা নতুন ই-টিআইএন পদ্ধতিতে পুনঃ নিবন্ধিত হয়েছেন।এছাড়া আয়কর মেলার শেষদিনে আয়কর রিটার্ন জমা পড়েছে ২৯ হাজার ৩১০ টি এবং আয়কর আদায় হয়েছে ৩১৭ কোটি ৭৭ লক্ষ ২৮ হাজার ৮৪৯ টাকা। সারা দেশে মোট ৫ লাখ ১০ হাজার ১৪৫ জন করদাতাকে সেবা প্রদান করা হয়েছে। নতুন করদাতা হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন ১২ হাজার ৩৩৭ জন করদাতা। করদাতাগণের মধ্যে ৭৪ হাজার ৩৫৬ জন করদাতা নতুন ই-টিআইএন পদ্ধতিতে পুনঃনিবন্ধিত হয়েছেন। আয়কর মেলার শেষদিন পর্যন্ত আয়কর রিটার্ন জমা পড়েছে ১ লাখ ৩২ হাজার ১৭ টি এবং সর্বমোট আয়কর আদায় হয়েছে ১ হাজার ১১৭ কোটি ৪০ লাখ ২৩ হাজার ৪৩৯ টাকা।
রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় আয়কর মেলার সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ওই সময় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আ হ ম মোস্তফা কামাল, এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ফরিদা রহমান এমপি এবং বেগম সিমিন হোসেন রিমি এমপি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য এবং আয়কর মেলার আহ্বায়ক মোঃ বশির উদ্দিন আহমেদ।
উল্লেখ্য, গত ১৬-২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সকল বিভাগীয় শহরে ৭ দিন ব্যাপী, অপর ৫৪ টি জেলা শহরে ২ দিন ব্যাপী এবং ৩ টি পার্বত্য জেলায় ট্রাকযোগে ১ দিনের আয়কর মেলা অনুষ্ঠিত হয়। এই প্রথমবারের মতো দেশব্যাপী আয়কর মেলা আয়োজিত হয়েছে।
জাতিসংঘ অধিবেশনে ॥ যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা ত্যাগ
বিশেষ প্রতিনিধি ॥ জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৬৮তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রবিবার রাত সাড়ে ৯টায় আমিরাত এয়ারওয়েজের একটি বিমানযোগে নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন। বিমানবন্দরে সরকারের জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতারা প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান। তিনি ৮দিনের সফর শেষে আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর দেশের উদ্দেশে নিউইয়র্ক ত্যাগ করবেন।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে আগামী শুক্রবার প্রতিবারের ন্যায় এবারও বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য প্রধানমন্ত্রী যাত্রা করলেও এ সফরকালে বিভিন্ন রাষ্ট্র ও সংস্থা প্রধানের সঙ্গে তাঁর দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বর্তমানে বিদ্যমান বেশকিছু অমিমাংসিত ইস্যুর জট খুলে যেতে পারে বলেই মনে করছেন। বিশেষ করে আগামী নির্বাচন নিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনের সঙ্গে এবং তিস্তার পানি বণ্টনসহ স্থল সীমান্তচুক্তি নিয়ে দু’দেশের মধ্যে সৃষ্ট বিশ্বাস-অবিশ্বাসের যে ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে, নিউইয়র্কে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এ দুটি বিষয়ে একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসার সম্ভাবনা রয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ভারত ও বাংলাদেশ- বন্ধুপ্রতিম এ দু’দেশেই জাতীয় নির্বাচন অত্যাসন্ন। ভারতের ক্ষমতাসীন কংগ্রেস এবং বাংলাদেশে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ- দু’দলই পুনরায় জনগণের রায় নিয়ে ক্ষমতায় আসতে ইতোমধ্যে নির্বাচনীযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছে। তবে কথা দেয়ার পরও পশ্চিমবঙ্গ সরকার তথা মমতা ব্যানার্জীর বিরোধিতার কারণে বহুল আলোচিত তিস্তা চুক্তির বাস্তবায়ন এবং সীমান্তচুক্তির বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় দু’দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের মধ্যে কিছুটা হতাশার সৃষ্টি করেছে।
নির্বাচনের আগেই কথা রাখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সেদেশের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহের গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের ব্যাপারে অনেকটাই মুখিয়ে রয়েছে ভারত। দেশটির কূটনৈতিক মহলেরও আশাবাদ, দু’দেশের দুই শীর্ষ নেতার মধ্যে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সৃষ্ট সমস্যার একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানের একটি পথ খুলে যাবে। এছাড়া মাত্র কিছুদিন আগেই জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন আগামী জাতীয় নির্বাচন বিষয়ে টেলিফোনে দুই নেত্রী শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি সৃষ্ট সঙ্কট সমাধানে দু’নেত্রীর মধ্যে সংলাপেরও তাগিদ দিয়েছেন। এই প্রেক্ষাপটে বান কি মুনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠকে আগামী নির্বাচন প্রশ্নে সবকিছু পরিষ্কার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র ইতোমধ্যে বান কি মুন ও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানী, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই, কমনওয়েলথ মহাসচিব কমলেশ শর্মার সঙ্গেও বৈঠকে বসার কর্মসূচী রয়েছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশগ্রহণ, বিভিন্ন রাষ্ট্র ও সংস্থা প্রধানের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি এর বাইরে কয়েকটি আলোচনাসভায় যোগ দেবেন শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রীর মূল সফরসঙ্গী ৯১ জন। আর এফবিসিআই-এর সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে ৩৭ সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলও তাঁর সঙ্গে গেছেন। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য তোফায়েল আহমেদ ও আমির হোসেন আমু, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাতীয় পার্টির সভাপতিম-লীর সদস্য ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি, জাসদ নেতা মইন উদ্দীন খান বাদল এমপি, জাতীয় পার্টির এমপি মুজিবুল হক, জাসদের এমপি শাহ জিকরুল আহমেদ, সরকারী দলের এমপি মোঃ আতিউর রহমান, এ্যাডভোকেট ইকবালুর রহিম প্রমুখ।
এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন এ্যাম্বাসেডর অ্যাট লার্জ, তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ১৫, বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ১৮, গণমাধ্যমের পাঁচ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ১০, আমেরিকায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব আবুল কালাম আজাদ, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগম, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য শামসুল আলম, পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়াম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জামান আহমেদ, নিরাপত্তা দল ১৮ ও প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের প্রেস উইংয়ের ৯ জন।
বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের মধ্যে যুব মহিলা লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আশ্রাফুন্নেসা ও আলেয়া সারোয়ার ডেইজি, নিলুফার আনজুম, ছাত্রলীগের সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিক নাজমুল আলম, মহিলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিনু রহমান, শেলী সাইদা হুসাইন, টুঙ্গীপাড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ সোলায়মান বিশ্বাস, বারডেমের পরিচালক জ্ঞানেন্দ্রিয় চাকমা, কৃষক লীগের সভাপতি মোতাহার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক খোন্দকার শামসুল হক, আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য সুবাস বোস, নীলফামারী পৌরসভার চেয়ারম্যান দেওয়ান কামাল আহমেদ, জাতীয় শ্রমিক জোটের সভাপতি শিরীন আখতার, পেশাজীবী নারী সমাজের সাধারণ সম্পাদক আফরোজা হক রীনা, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক নুরুর রহমান সেলিম, বাংলাদেশ বেসরকারী প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি আমিনুল ইসলাম ও মহাসচিব মনছুর আলী।
জার্মানিতে পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত, মেরকেলের জয়ের সম্ভাবনা
বিডিনিউজ ॥ চার বছর আগে ইউরোপজুড়ে ঋণ সঙ্কট শুরুর পর রবিবার জার্মানিতে পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন চ্যান্সেলর এ্যাঙ্গেলা মেরকেলের মধ্য-ডানপন্থী রক্ষণশীল জোট জয় পাবে বলে নির্বাচন পূর্ব জরিপে আভাস পাওয়া গেছে।
রবিবার স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় শুরু হয়ে সন্ধ্যা ৬টা ভোটগ্রহণ চলে। জার্মানিতে ভোটারের সংখ্যা ছয় কোটি ২০ লাখ। নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে কি হতে পারে তা নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সর্বশেষ নির্বাচনী জরিপে দেখা গেছে, মেরকেলের ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ইউনিয়ন (সিডিইউ) এবং ব্রাভারিয়ান খ্রিস্টিয়ান সোশ্যাল ইউনিয়নের (সিএসইউ) রক্ষণশীল জোটের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন প্রায় ৩৯ শতাংশ ভোটার। অপরদিকে দ্বিতীয় বৃহত্তম দল মধ্য-বামপন্থী সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটসের (এসপিডি) পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন প্রায় ২৬ শতাংশ ভোটার। এতে ধারণা করা হচ্ছে, তৃতীয় মেয়াদেও চ্যান্সেলরের পদ ধরে রাখতে পারবেন ৫৯ বছর বয়সী মেরকেল। সাবেক পূর্ব জার্মান প্রোটেস্ট্যান্ট যাজকের মেয়ে মেরকেল ২০০৫ সালে ক্ষমতায় আসার পর দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করেছেন, সেই সঙ্গে শ্রমবাজারকে গতিশীল করে তুলেছেন। তার নমনীয় ‘ধাপের পর ধাপ’ নীতি বিদেশে সমালোচিত হলেও দেশের ভেতরে অনেকেই তার এ নীতিকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। এই নমনীয় নীতির কারণে সমর্থকদের মাঝে তিনি ‘মা’ বলে সম্বোধিত হয়েছেন।

রাজশাহীতে ১৪শ’ চকোলেট বোমা উদ্ধার

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী ॥ আতঙ্ক সৃষ্টির লক্ষ্যে নিয়ে আসা ১৪২৮ পিস চকোলেট বোমাসহ বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মালামাল উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। শনিবার রাতে বিজিবির সদর দফতরের প্রধান ফটকের সামনে রাজশাহী বিজিবি ৩৭ ব্যাটালিয়নের একটি দল যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় এসব উদ্ধার করে।
রাজশাহী বিজিবির ৩৭ ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লে. কর্নেল নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবির টহল দল রাজশাহী সদর দফতরের প্রধান ফটকের সামনে নওগাঁ থেকে রাজশাহীগামী একটি যাত্রীবাহী বাস তল্লাশি চালায়। এ সময় মালিকবিহীন অবস্থায় ১৪২৮ পিস ‘বুড়িমার চকোলেট’ বোমাসহ ৪০ কেজি ভারতীয় জিরা, পেন্টা স্কাইফ্লাস ২০টি ও ইলেকট্রিক ক্রাকার্স উদ্ধার করা হয়। চকোলেট বোমাগুলো আতঙ্ক সৃষ্টির লক্ষ্যে নিয়ে আসা হচ্ছিল বলে বিজিবি সূত্র জানিয়েছে।


কামারুজ্জামানের আপীল ॥ আবেদনের সার সংক্ষেপ ২৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দাখিলের নির্দেশ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদ-প্রাপ্ত জামায়াত নেতা কামারুজ্জামানকে ট্রাইব্যুনালের দেয়া দ-ের বিরুদ্ধে তার দায়ের করা আপীল আবেদনের সার-সংক্ষেপ আগামী ২৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছেন সুপ্রীমকোর্ট। রবিবার আসামি পক্ষের দুই সপ্তাহের সময় আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি মোঃ মোজাম্মেল হোসেন নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের আপীল বেঞ্চ এই সময় দেন।
আসামিপক্ষে শুনানি করেন ট্রাইব্যুনালে জামায়াত নেতাদের প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক এবং রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশন পক্ষের সমন্বয়ক ও অতিরিক্ত এ্যাটর্নি জেনারেল এমকে রহমান।
এর আগে গত ২০ ও ২১ সেপ্টেম্বরও কামারুজ্জামানের মামলাটি আপীল বিভাগের কার্যতালিকায় ছিল। তবে নিজেদের ডাকা হরতালের অজুহাত দেখিয়ে আদালতে উপস্থিত হননি আসামি পক্ষের আইনজীবীরা।
গত ৯ মে কামারুজ্জামানকে মৃত্যুদ-াদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে আনা সাতটি অভিযোগের মধ্যে পাঁচটি রাষ্ট্রপক্ষ প্রমাণ করতে পেরেছে। এর মধ্যে সোহাগপুরের ‘বিধবাপল্লীতে’ নির্বিচার হত্যাকা- ও গোলাম মোস্তফা হত্যাকা-ের দায়ে কামারুজ্জামানকে মৃত্যুদ-ের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। কামানরুজ্জামানের দ- বাতিল করে তাকে খালাস দেয়ার আবেদন জানিয়ে গত ৬ জুন আসামি পক্ষ ১২৪টি যুক্তিতে আপীল করেছেন। তাদের মূল আবেদন ১০৫ পৃষ্ঠার। আর এর সঙ্গে ২ হাজার ৫৬৪ পৃষ্ঠার আনুষঙ্গিক কাগজপত্র জমা দেয়া হয়েছে।


চুম্বকের মতো টানছে

হ্যারি পটারের বদৌলতে ব্রিটেনে পর্যটকদের আগমন বেড়ে গেছে। বিশেষ করে এই সিরিজের কাহিনীগুলোতে উল্লেখিত ভৌতিক স্থানগুলো পর্যটকদের চুম্বকের মতো টানছে। যে কারণে অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যেও ব্রিটিশ পর্যটন শিল্পকে লোকসান গুনতে হয়নি।
হ্যারি পটারের প্রথম দুটি ছবিতে প্রদর্শিত ব্রিটেনের নর্থহাম্বারল্যান্ডে আলনউইক দুর্গ দেখার জন্য প্রচুর পর্যটক আসছেন। ছবিতে ড্যানিয়েল র‌্যাডক্লিফ হ্যারির চরিত্রে এবং এমা ওয়াটসন তার সঙ্গীর চরিত্রে অভিনয় করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১১ সালের পর ব্রিটেনে পর্যটক আগমন ২৩০ শতাংশ বেড়ে গেছে। এর ফলে পর্যটন খাতে ৯০ লাখ পাউন্ড বেশি রাজস্ব আয় হয়েছে। ব্রিটেনে আসা পর্যটকদের প্রতি তিন জনের একজন জানিয়েছেন, তাঁরা হ্যারি পটারের ছবিগুলোতে দেখানো দুর্গগুলো দেখতে এসেছেন। তবে এসব দুর্গ যে কেবল হ্যারির ছবিতে ব্যবহার হয়েছে তা নয় রবিনহুড, প্রিন্স অব থিভস এবং ব্ল্যাকল্যাডারের মতো টিভি সিরিয়ালগুলোতেও ব্যবহৃত হয়েছে। পর্যটকদের বেশিরভাগই মার্র্কিন নাগরিক। এছাড়া ব্রাজিল, রাশিয়া ও ভারতেরও বহু পর্যটক রয়েছেন।
-ডেইলি মেইল অনলাইন।