মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শুক্রবার, ১৭ আগষ্ট ২০১২, ২ ভাদ্র ১৪১৯
ঢাকা ছাড়ছে ৭০ লাখ
পদে পদে দুর্ভোগ বিড়ম্বনা
রাজন ভট্টাচার্য ॥ ঈদে নাড়ির টানে রাজধানী ছাড়ছে ৭০ লাখের বেশি মানুষ। এর মধ্যে লঞ্চযোগে ৪০ লাখের বেশি যাত্রী যাচ্ছে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায়। নৌ-পথে সবচেয়ে বেশি মানুষ বাড়ি ফিরলেও বিড়ম্বনার শেষ নেই। তিন-চারগুণ যাত্রীসহ মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে লঞ্চে শেকড়ের টানে বাড়ি ফিরছে মানুষ। একটি লঞ্চেও নেই প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম। ছাদ-ডেক থেকে শুরু করে ঠাঁই নেই লঞ্চের কোথাও। অবশ্য বাসটার্মিনালগুলোতে তেমন একটা ভিড় ছিল না। তবে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া, মাওয়া ফেরিঘাট, ঢাকা-চট্টগ্রাম-ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ছিল তীব্র যানজট। এর মধ্যে ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় চট্টগ্রাম মহাসড়কে। সময়মতো ড্রেজিং না করায় মাওয়া ফেরিঘাটে পারাপারের সময় মাঝনদীতে আটকে যাচ্ছিল ফেরি। সব মিলেয়ে কোথাও বাস-ট্রেন-লঞ্চের সিডিউল ঠিক নেই।
ট্রেনে সিডিউল বিপর্যয় চলছেই ॥ কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে নির্ধারিত সময়ে ট্রেন ছেড়ে যেতে পারেনি। এ কারণে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। বিশেষ করে সারদায় ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার কারণে রাজশাহীর সঙ্গে দুপুর পর্যন্ত ঢাকার রেল যোগাযোগ বন্ধ ছিল। রাজশাহী ছাড়া অন্যান্য রুটেও এক থেকে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত ট্রেন ছাড়তে বিলম্ব হয়। এদিকে স্টেশন কর্মকর্তাদের যোগসাজশে টিকেট কালোবাজারির অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। তারা বলছেন, অগ্রিম টিকেট বিক্রির সময় কাউন্টার থেকে বলা হয়েছিল টিকেট শেষ। কিন্তু ট্রেন ছাড়ার আগে সিটসহ টিকেট বিক্রি করতে দেখা গেছে। ট্রেনের সিডিউল বিপর্যয়, অপেক্ষার নির্ঘুম রাত, চরম ভোগান্তি সব কিছুকে মাড়িয়ে কমলাপুর রেলস্টেশনে বাড়ি ফেরা মানুষের ঢল নামে সকাল থেকেই। কিন্তু কখন তারা গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছেন সে প্রশ্নের উত্তর মিলছিল না বৃহস্পতিবার ।
সকালে কমলাপুর রেলস্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে, বাড়ি ফেরা মানুষের ভিড় বাড়ছে। চোখেমুখে তাদের উৎকণ্ঠা, কখন ট্রেন আসবে। ট্রেন আসা মাত্রই ছাদ, দুই ট্রেনের জোড়া, ক্যান্টিনসহ সব খানেই জায়গা দখলের প্রতিযোগিতা চলছিল। রেলস্টেশনের ম্যানেজার খায়রুল বাশার ট্রেনের সিডিউল বিপর্যয়ের কথা স্বীকার করে জানান, রাজশাহীতে ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হওয়া ও অতিরিক্ত যাত্রী ওঠানামার কারণে কিছু ট্রেনের আসা-যাওয়ায় বিলম্ব হচ্ছে। খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা ২০ মিনিটে ছাড়ার কথা থাকলেও ট্রেনটি সকাল ৯টার আগে স্টেশনেই আসেনি। রাজশাহীগামী ধুমকেতু সকাল ৬টায় ছাড়ার কথা থাকলেও সেটি কমলাপুর আসে ৯টার পর। বৃহস্পতিবার সকালে টিকেট কালোবাজারির সময় হুমায়ুন নামে কমলাপুর রেলস্টেশনের এক কর্মচারীকে আটক করেছে আর্মড পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের বিভিন্ন ট্রেনের ১২ টিকেট পাওয়া যায়। ঈদ উপলক্ষে খুলনা-ঢাকা-খুলনা রুটে বুধবার রাত ১০টা থেকে বাড়তি দুটি ট্রেন চালু করা হয়েছে। এ ট্রেনের নাম দেয়া হয়েছে ঈদ স্পেশাল ট্রেন-৩ ও ৪।

ভোগান্তি কমেনি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে
ভোগান্তি কমেনি ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কে। বুধবারের মতো বৃহস্পতিবারও এই রুটের বিভিন্ন অংশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ে ঘরমুখো মানুষ। প্রায় ৮০ কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয় গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কের কুমিল্লা এলাকায়। তবে একটানা যানজট ছিল না। কিছুদূর পরপর রাস্তা ফাঁকা দেখা গেছে। আবার কিছুদূর পর স্থানীয় বাজার বা লোকালয়ের পাশের মহাসড়কে যানজট দেখা দেয়।
পরিবহন মালিকসহ চালকরা জানিয়েছেন, সড়ক দুর্ঘটনা, বেপরোয়া গাড়ি চালানো, অল্প গতির যানবাহন চলাচল, ছোট যানবাহনগুলো যেমন খুশি রাস্তা ব্যবহারসহ ওভারটেক করতে গিয়েই যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। পাশাপাশি লোকাল বাস, কাভার্ডভ্যান-লরি থামিয়ে পুলিশের চাঁদাবাজি তো আছেই। কুমিল্লার দাউদকান্দির গৌরীপুর থেকে শুরু করে ইলিয়টগঞ্জ, চান্দিনা থেকে বুড়িচংয়ের কালাকচুয়া ও ক্যান্টনমেন্ট থেকে পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড পর্যন্ত দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার সুয়াগাজী থেকে চৌদ্দগ্রামের মিয়ার বাজার এলাকায় সকাল থেকে যানজটের কারণে খুব ধীরগতিতে গাড়ি চলাচল করছে। এছাড়া পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া, মাওয়া ফেরিঘাটে, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ছিল দীর্ঘ যানজট। পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মহাসড়কে প্রয়োজনীয় সংখ্যক রেকার না রাখা, অবৈধ দোকানপাট, বাজারসহ টার্মিনাল উচ্ছেদ না করা, লক্কড়ঝক্কড় যানবাহনসহ নসিমন, করিমন ও ভটভটির দৌরাত্ম্য তো আছেই।

তিল ধারণের ঠাঁই নেই লঞ্চে
তিল ধরার ঠাঁই নেই ঢাকার সদরঘাট থেকে বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া লঞ্চগুলোতে। যাত্রী নিরাপত্তার বালাই নেই। নিরাপত্তার কথা না ভেবে একটু জায়গা পাওয়াই যেন সবচেয়ে বড় প্রশান্তির বিষয় ছিল যাত্রীদের কাছে। ১৪-১৯ আগস্ট পর্যন্ত দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় ৪৫ রুটে ৪০ লাখের বেশি যাত্রী পরিবহনের টার্গেট লঞ্চ মালিক সমিতির। সদরঘাট থেকে দিনে দেড় শতাধিক লঞ্চ যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে।
বৃহস্পতিবার সদরঘাটে গিয়ে দেখা গেছে, টিকেট না পেয়ে লঞ্চের ছাদে চড়ে ঝুঁকি নিয়ে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে দক্ষিণাঞ্চলের হাজারও মানুষ। লঞ্চের ছাদে চড়তে কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও কেউ মানছে না সেই নির্দেশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও কোন বাধা নেই। তিন থেকে চারগুণ নিয়ে টার্মিনাল ছাড়ছে লঞ্চ। লঞ্চ মালিকরা দাবি করছেন, দক্ষিণাঞ্চলের ৩০ লাখ লঞ্চযাত্রী রয়েছে। ক্যাবিন, ডেক ও সোফা মিলিয়ে লঞ্চে এত যাত্রী বহনের কোনো সুযোগ নেই। ফলে বাধ্য হয়েই যাত্রীরা লঞ্চের ছাদে চড়ছে। কর্তৃপক্ষের মানা তারা শুনছে না। বরিশাল, ভোলা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরগুনা ছাড়াও এসব জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ঢাকা থেকে সরাসরি লঞ্চ চালু রয়েছে। এসব লঞ্চে ক্যাবিন প্রত্যাশী যাত্রীর সংখ্যা ২৫ হাজারেরও বেশি। তার বিপরীতে ক্যাবিন রয়েছে মাত্র সাড়ে ৪ হাজার। ঢাকা-বরিশাল রুটে চলাচলকারী লঞ্চগুলোর মধ্যে বিলাসবহুল লঞ্চ মাত্র ১১। বিলাসবহুল ১১ লঞ্চ মিলিয়ে সবক’টিতে ক্যাবিন রয়েছে মাত্র ৯৩০টি। লঞ্চের টিকেট কালোবাজারি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন সদরঘাট টার্মিনালে আসা যাত্রীদের অনেকেই। তারা বলেন, ‘কাউন্টারে টিকেট নেই। সব টিকেট দালালদের কাছে। কয়েকগুণ বেশি দাম দিলেই টিকেট মিলছে।

বাসটার্মিনালে যাত্রী কম
মহাখালী, সায়েদাবাদ ও গাবতলী বাসটার্মিনালে বৃহস্পতিবার দিনভর যাত্রী চাপ কম ছিল। পরিবহন মালিকরা জানিয়েছেন, মঙ্গল ও বুধবার যাত্রী চাপ বেশি ছিল। দীর্ঘ সময় ছুটি থাকার কারণে বৃহস্পতিবার থেকে চাপ কমেছে। তবে শুক্রবার অফিস শেষে গার্মেন্টস ছুটির পর আবারো সরগরম হবে বাস টার্মিনালগুলো। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্ল্যাহ জনকণ্ঠ’কে জানান, রাজধানীর সবকটি বাসটার্মিনালে তুলনামূলক যাত্রী কম। বিলাসবহুল বাসগুলো অনেক সময় সিট খালি রেখেই বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে যাচ্ছে বলে জানান তিনি। সায়েদাবাদ আন্তঃজেলা পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খায়রুল আলম মোল্লা জনকণ্ঠ’কে জানান, টার্মিনালের ভেতরে বাইরে থেকে দিনে আড়াই হাজার বাস ছেড়ে যাচ্ছে। গত দুই দিনের তুলনায় বৃহস্পতিবার যাত্রী কম থাকার কথাও জানান তিনি।

৭০ লাখের বেশি মানুষ ঢাকা ছাড়ছে
ঈদ উপলক্ষে ৭০ লাখের বেশি মানুষ ঢাকা ছাড়ছে। এই হিসেবে নগরীতে নিরাপত্তা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ডিসি (ডিবি) ও ডিএমপি মুখপাত্র মনিরুল ইসলাম জানান, ঈদে ৬০ লাখ মানুষ ঢাকা ছাড়ছে। তাই বাসাবাড়ির নিরাপত্তা দিতে নেয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা। এদিকে নগরীর সায়েদাবাদ টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন প্র্য়া আড়াই হাজার বাস বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাচ্ছে। মহাখালী থেকে দেড় হাজার ও গাবতলী থেকে দেড় হাজারের বেশি বাস ছাড়ছে। সব মিলিয়ে প্রায় ছয় হাজার বাস চলাচল করছে বিভিন্ন রুটে। বাসপ্রতি ৪০ যাত্রী পরিবহন করা হলে দিনে প্রায় আড়াই লাখ যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে। ছাদসহ দাঁড় করিয়েও লোক নেয়া হচ্ছে। এই হিসেবে তিন লাখের বেশি। ১৩-১৯ আগস্ট পর্যন্ত বাসে ২১ লাখ যাত্রী পরিবহন সম্ভব। এছাড়াও প্রাইভেট কারসহ নিজস্ব ব্যবস্থায় যাচ্ছে পাঁচ লাখ মানুষ। ১৪-১৯ আগস্ট পর্যন্ত ৪০ লাখ যাত্রী পরিবহনের টার্গেট লঞ্চ মালিকদের। ১৪-১৯ তারিখ পর্যন্ত ছয় দিনে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ ট্রেনযোগে ঢাকা ছাড়বে। আকাশপথে অভ্যন্তরীণ রুটে যাত্রী সংখ্যাও কম নয়। সব মিলিয়ে ৭০ লাখের বেশি মানুষ ঢাকা ছাড়ছে এবারের ঈদে। রাজধানীর মোট জনসংখ্যার সোয়া কোটিরও বেশি। এই হিসেবে তিন ভাগের দুই ভাগ মানুষ ঢাকা ছেড়ে যাবে।
যাকাত নিতে পায়ের নিচে পড়ে হত ৩
ফকিরাপুলে আরও ২০ নারী পদপিষ্ট
বিশেষ প্রতিনিধি ॥ রাজধানীর ফকিরাপুলে যাকাতের কাপড় সংগ্রহ করতে গিয়ে হুড়োহুড়িতে পদদলিত হয়ে ৩ নারী নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন ২০ নারী। বৃহস্পতিবার ইফতারের আগমুহর্তে ফকিরাপুলের মালেক মিয়ার ১০৫ নং বাড়িতে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। বিকেলের দিকে কয়েক হাজার গরিব নারী-পুরুষ মার্কেটের পেছনে বাড়ির কাছে ভিড় করে যাকাতের কাপড়ের আশায়। যাকাতের কাপড় নেয়ার জন্য কার আগে কে নেবে তার জন্য হুড়োহুড়ি শুরু করে। এতে পদদলিত হয়ে ঘটনাস্থলেই ৩ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে।
নিহত ৩ নারী হচ্ছেন জরিনা বেগম (৩৬), তাঁর স্বামীর নাম মৃত ফজর আলী। লালমনিরহাটের আদিতমারীর চরমইষা গ্রামে তাঁর বাড়ি। আরামবাগ পুলিশবক্সের কাছে থাকতেন তিনি। সাজিয়া আক্তার ওরফে ময়না বেগম (৩০)। তাঁর স্বামীর নাম হচ্ছে বাচ্চু মিয়া। গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর রাইপুরে। ফকিরাপুলের মালেক সাহেবের গলিতে থাকতেন তিনি। অজ্ঞাতনামা অপর নিহত নারীর বয়স প্রায় ৬৫ বছর। তাঁর পরনে হাল্কা সবুজ রঙের শাড়ি। কেউ তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করতে পারেননি।
মতিঝিল থানার কর্তব্যরত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মালেক সাহেবের বাড়িতে যাকাতের কাপড় নিতে গিয়ে ভিড়ের চাপে পদদলিত হয়ে ৩ নারী মারা গেছেন। রেনু বেগম (২২) নামে আহত এক নারীকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
প্রতিবারই এ মার্কেটে এভাবে যাকাতের কাপড় বিতরণ করা হয়। বৃহস্পতিবার ঈদের ছুটিতে মার্কেট ছিল বন্ধ। মার্কেটের পেছনেই মালিকপক্ষের বাড়ি। প্রতিবারের মতো এবারও যাকাতের কাপড় বিতরণের আয়োজন করা হয়। যাকাতের কাপড় বিতরণের খবর পেয়ে বিকেল থেকেই কয়েক হাজার নারী-পুরুষ সেখানে জমা হয়। যাকাতের কাপড় দেয়া শুরু হলে কার আগে কে কাপড় নেবে তার জন্য হুড়াহুড়ি শুরু করে। হুড়োহুড়ি করে কাপড় নিতে গিয়ে পদদলিত হয়ে তিন জন মারা যান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ১০৫ নং ফকিরাপুলের মরহুম মালেকের ভায়রা ভাই শাহজাহান যাকাতের কাপড় বিতরণ করছিলেন। গরিব দুঃখীদের জন্য ইফতারের আয়োজন ছিল সাত তলা মার্কেটের চার তলায়। বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে কয়েক হাজার গরিব দুঃখী নারী-পুরুষ যাকাতের কাপড়ের জন্য জড়ো হয়। ইফতারির ঠিক ১৫ মিনিট আগে যাকাতের কাপড় বিতরণ শুরু হয়। সে সময় একজনের ওপর ভর করে আরেকজন কাপড় নেয়ার জন্য হুড়োহুড়ি শুরু করে। এ সময় কয়েকজন পদদলিত হন। এর মধ্যে ৩ নারী ঘটনাস্থলেই মারা যান। ধানম-ি এলাকার বাসিন্দা শিল্পপতি শাহজাহান মিয়া প্রতিবছরই তার ভায়রা ভাই মালেক মিয়ার মার্কেটে যাকাতের কাপড় বিতরণ করেন।
মতিঝিল থানা পুলিশ জানিয়েছেন, যাকাতের কাপড় নিতে গিয়ে হুড়োহুড়ি করে পদদলিত হয়ে হতাহতের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ যায়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। পুলিশ দ্রুততার সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে বলে জানানো হয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এ ব্যাপারে থানায় কোন মামলা হয়নি।
যাঁরা সংসদে আছেন তাঁদের গণতন্ত্র রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে
১৫ আগস্ট উপলক্ষে আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী
বিশেষ প্রতিনিধি ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণতন্ত্রবিরোধীদের সম্পর্কে দেশবাসীকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, দেশের সে সব খেলোয়াড় সম্পর্কে দেশবাসীকে সতর্ক থাকতে হবে যারা জনগণের ভাগ্যে নিয়ে খেলে নিজেদের ভাগ্য গড়তে চায়। দলীয় সরকারের অধীনেই আগামী জাতীয় নির্বাচনের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, সরকার পরিবর্তন হবে সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায়। নির্বাচিত সরকারের অধীনে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হয় না এটা ঠিক নয়। সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে যাঁরা সংসদে আছেন তাঁদের সবাইকে সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।
বিভিন্ন টক শো ও গণমাধ্যমে কলাম লিখনের মাধ্যমে সরকারের সমালোচনাকারীদের এক হাত নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কিছু ব্যক্তি আছেন যাঁরা নিজেরা দল করতে পারেন না, দল করতে গিয়েও ব্যর্থ হন অথচ ক্ষমতায় যাওয়ার খায়েশ রয়েছে। তারাই বিভিন্ন টক শোতে গিয়ে টেলিভিশন ফাটিয়ে ফেলেন, আবার কলম দিয়ে কিছু সংবাদপত্রে যা খুশি লিখে যাচ্ছেন। এদের জনগণের কাছে ভোট চাওয়ার বা পরীক্ষা দেয়ার যোগ্যতা নেই বলেই গণতন্ত্রকে ভয় পায়। সে জন্যই গণতান্ত্রিক সরকারকে কীভাবে ছোট করা যায় সেই চেষ্টাই করে। কারণ দেশে অগণতান্ত্রিক ও অসাংবিধানিক সরকার ক্ষমতায় এলে তাদের গুরুত্ব বাড়ে। কিন্তু আমরা সংবিধান সংশোধন করে জনগণের ক্ষমতা নিশ্চিত করেছি। আর কাউকে জনগণের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে দেব না।
বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগের দু’দিনব্যাপী কর্মসূচীর দ্বিতীয় দিনে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত আলোচনাসভায় সভাপতির বক্তব্য রাখতে গিয়ে শেখ হাসিনা আরও বলেন, বর্তমান সরকারের সাড়ে তিন বছরে বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় ৫ হাজার ২৯২টি নির্বাচন হয়েছে। একটি নির্বাচনেও কোন অনিয়ম বা লোকক্ষয় হয়নি। আর তাই কোন নির্বাচিত সরকারের অধীনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে না যাঁরা বলেন তাঁরা ঠিক বলেন না। কারণ আওয়ামী লীগ কোন সামরিক শাসনের গর্ভে বা কোন জেনারেলের পকেট থেকে জন্ম নেয়া রাজনৈতিক দল নয়। আওয়ামী লীগের জন্ম গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায়, দেশের মাটি ও মানুষের জন্ম থেকে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আলোচনাসভায় বক্তব্য রাখেন দফতরবিহীন মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, অধ্যাপক ড. দুর্গাদাস ভট্টাচার্য, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, একেএম রহমতউল্লাহ এমপি, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান ও নগর আওয়ামী লীগের মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম। সভা পরিচালনা করেন নূহ-উল-আলম লেনিন ও অসীম কুমার উকিল। আলোচনাসভার শুরুতেই বঙ্গবন্ধুসহ ১৫ আগস্টের শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের দুঃশাসনের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসার পর পাঁচটি বছর জোট সরকার যে অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়েছে, তা একাত্তরের বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে। আমরা চাই না দেশ ও জনগণের ভাগ্যে আবারও সেই দুর্দিন ও অমানিষার অন্ধকার ফিরে আসুক। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ওই পাঁচ বছর ক্ষমতায় থেকে সব দিক থেকে দেশকে পিছিয়ে দিয়ে গেছে। দেশের মানুষের জীবনের কোন মূল্যে ছিল না। হত্যা-খুন, সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ ও বাংলা ভাই সৃষ্টি, প্রতিদিন বোমা ও গ্রেনেডের আওয়াজ শুনতে হয়েছে দেশের মানুষকে।
দেশ ও জনগণের স্বার্থে যে কোন ত্যাগ স্বীকারের কথা দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গতবার ক্ষমতায় আসার পর শুনলাম দেশ নাকি গ্যাসের ওপর ভাসছে। গ্যাস বিক্রির জন্য আমাদের ওপর চাপ দেয়া হলো। আমি গ্যাস বিক্রি করতে রাজি হইনি এটাই ছিল আমার অপরাধ। গ্যাস বিক্রিতে রাজি হলেন বর্তমান বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, আমি বঙ্গবন্ধুর কন্যা। এ দেশের মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য আমার বাবা-মা, ভাইসহ সবাই জীবন দিয়ে গেছেন। আমারও জীবন যায় যাক, তবুও বাংলাদেশের জনগণের এতটুকু ক্ষতি আমি হতে দেব না। মৃত্যু বা জীবনের ভয় আমি করি না। দেশ ও জাতির স্বার্থ রক্ষা করার সাহস আমার আগেও ছিল এখনও আছে।
’৭৫ পরবর্তী বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনীদের বিচারের পরিবর্তে বিভিন্নভাবে পুরস্কৃত করার জন্য জিয়া-এরশাদ-খালেদা জিয়ার সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা বলেন, অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী জেনারেল জিয়া বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনীদের বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করেছিলেন। যুদ্ধাপরাধীদের মুক্তি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী-মন্ত্রী বানিয়ে রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসিত করেছিলেন। জেনারেল এরশাদও বঙ্গবন্ধুর খুনীকে রাষ্ট্রপতির প্রার্থী করেছিলেন। মানিক মিয়ার এক ছেলেও বঙ্গবন্ধুর খুনীদের দিয়ে রাজনৈতিক দল ‘প্রগশ’ বানিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, জেনারেল জিয়ার স্ত্রী খালেদা জিয়াও বঙ্গবন্ধুর খুনীদের পুরস্কৃত করার পাশাপাশি ১৫ ফেব্রুয়ারি ভোটারবিহীন নির্বাচনে আত্মস্বীকৃত খুনী রশিদ-হুদাকে এমপি বানিয়ে বিরোধী দলের নেতা পর্যন্ত বানিয়েছিলেন। খুনীরা দম্ভভরে বলত আমাদের বিচার কে করবে? কিন্তু দেশের জনগণের আমাদের ওপর আস্থা-বিশ্বাস ছিল বলেই আমরা বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার করেছি, বিচারের রায়ও কার্যকর করেছি। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কাজ শুরু করেছি, ইনশাল্লাহ এ বিচারের কাজও আমরা শেষ করব।
বিডিআর বিদ্রোহের বিচার সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জেনারেল জিয়ার আমলে প্রায় ১৮/১৯টি ক্যু হয়েছে। কোনটারই সঠিক বিচার হয়নি। বিচারের নামে প্রহসন করে অসংখ্য সামরিক অফিসার ও সৈনিককে ফাঁসি দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমান সরকারের আমলে বিডিআরের ঘটনায় সত্যিকারের বিচার হচ্ছে। কিন্তু কারা সব সময় খুনীদের রক্ষা করে, বাঁচাতে চায়Ñ এ বিচারের ক্ষেত্রেও দেশবাসী একটু লক্ষ্য করলেই বুঝতে পারবে।
বর্তমান সরকারের বিভিন্ন সফলতার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, মাত্র তিন বছরেই আমরা বিদ্যুত উৎপাদন দ্বিগুণের মতো বাড়িয়েছি। স্বাক্ষরতার হার বাড়িয়েছি, খাদ্যেও স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে বাংলাদেশ। তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে বাংলাদেশের পরিচিত ছিল সন্ত্রাসী, দুর্নীতি ও জঙ্গীবাদের দেশ হিসেবে। আমরা সেই দুর্নাম ঘুচিয়েছি, বাংলাদেশ এখন সারাবিশ্বের কাছে একটি সম্ভাবনাময় দেশ এবং উন্নয়নের মডেল হিসেবে পরিচিত।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৮০ কিমি যানজট
যাত্রী দুর্ভোগ চরমে, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪
নিজস্ব সংবাদদাতা, কুমিল্লা/ দাউদকান্দি, ১৬ আগস্ট ॥ আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে দীর্ঘ যানজটের কবলে পড়েছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক। মহাসড়কের দাউদকান্দি টোল প্লাজা থেকে চৌদ্দগ্রাম পর্যন্ত প্রায় ৮০ কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনা ও অতিরিক্ত যান চলাচলের কারণে বুধবার রাত তিনটা থেকে এ জট লাগে। দাউদকান্দি হাইওয়ে পুলিশের হাবিলদার কামরুল হাসান জানান, এলোপাতাড়িভাবে অতিরিক্ত যান চলাচলের সঙ্গে সড়ক দুর্ঘটনা যুক্ত হওয়ায় যানজট তীব্র আকার ধারণ করে। ঈদ উপলক্ষে ঘরমুখো হাজারো যাত্রীর দুর্ভোগ এখন সীমাহীন। রাস্তার মাঝখানে আটকে থাকার কারণে অনেক যাত্রী সেহ্্রি পর্যন্ত খেতে পারেননি। চট্টগ্রাম থেকে রাত ১১টায় ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহনের যাত্রী পোশাকশ্রমিক সুমী (২২) জানান, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে রাত তিনটায় যানজটে আটকা পড়ে গাড়ি। ছয় ঘণ্টা পর সকাল নয়টায় দাউদকান্দির গৌরীপুরে পৌঁছাই। অথচ রাত তিনটায় ঢাকা পৌঁছার কথা ছিল।
একই সময়ে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী হানিফ পরিবহনের যাত্রী নৌবাহিনীতে কমর্রত সামছুদ্দোহা রিপন যানজটে আটকা পড়েন স্ত্রী, আট ও সাড়ে তিন বছরের দুই মেয়েকে নিয়ে। আশপাশে খাবারের কোন দোকান না থাকায় তিনিসহ বাসের কোন যাত্রীই সেহ্রি খেতে পারেননি। হাইওয়ে পুলিশের কুমিল্লার পূর্বাঞ্চলের সহকারী পুলিশ সুপার বেলায়েত হোসেন দাউদকান্দির গৌরীপুর চৌরাস্তার মোড়ে দায়িত্ব পালনকালে বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত কাভার্ডভ্যান ও লরি অন্যত্র সরানোর আগ পর্যন্ত দীর্ঘ দেড় ঘণ্টা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল। ঈদ উপলক্ষে এমনিতেই রাস্তায় যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ এবং তাঁর ওপর দুর্ঘটনা যানজটকে বাড়িয়ে তুলছে। যানজটের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা। বৃহস্পতিবার ভোরে কুমিল্লা-নোয়াখালী সড়কে লাকসামের চন্দনা কৃষ্ণপুরে বাস-কাভার্ডভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৩ জন নিহত ও কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন। নিহত ও আহতদের নাম জানা যায়নি। তবে তাদের সবার বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জে বলে জানা গেছে। তারা নোয়াখালীর চাটখিলে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করছিলেন। আহতদের লাকসামের একটি বেসরকারী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। লাকসাম থানার পরিদর্শক আবুল কাশেম চৌধুরী জানান, বৃহস্পতিবার ভোরে কুমিল্লা-নোয়াখালী সড়কে লাকসামের চন্দনা কৃষ্ণপুর এলাকায় ঢাকাগামী একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি কাভার্ডভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে বাসটি রাস্তার পাশে খাদে পড়ে যায়। এদিকে বৃহস্পতিবার ভোরে মহাসড়কের দাউদকান্দির জিংলাতলীতে লরি ও কাভার্ডভ্যানের সংঘর্ষের পর যানজট পরিস্থিতি আরও অসহনীয় হয়ে ওঠে। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত কাভার্ডভ্যানের চালক কাজী লিটন (৪০) ও সহকারী স্বপনকে দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কাজী লিটনকে ডাক্তাররা মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর বাড়ি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের গোপালপুর গ্রামে। দুর্ঘটনার এক ঘণ্টা পর রেকার এনে গাড়ি দুটি সরিয়ে নেয়া হলেও অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে যানজট রয়ে গেছে।
আজ সেই ১৭ আগস্ট দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলার ৭ বছর পূর্তি
শংকর কুমার দে ॥ আজ ভয়াল ১৭ আগস্ট। দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলার ৭ বছরপূর্তি। দীর্ঘ ৭ বছরেও দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলার মামলাগুলোর বিচার কাজ শেষ হয়নি। এই ব্যাপারে দায়েরকৃত ২৭৫টি মামলার মধ্যে ৯৪টির বিচার শেষ হয়েছে। বিচারাধীন রয়েছে ১শ’ ৫৬টি মামলা। তদন্তাধীন ২৫টি মামলার মধ্যে ৫ মামলার তদন্ত কাজ শেষ হয়নি এখনও। চার্জশীট দাখিল করা হলেও মামলাগুলো এখনও বিচারাধীন রয়েছে। তবে দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলাকারী জঙ্গীগোষ্ঠীর মেরুদ- ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে।
২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) দেশের ৬৩ জেলার (মুন্সীগঞ্জ বাদে) গুরুত্বপূর্ণ সাড়ে ৪শ’ স্থানে প্রায় সাড়ে ৫শ’ বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জঙ্গী হামলার প্রকাশ্যে প্রচার চালায়। হামলায় দু‘জন নিহত হওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয় প্রকাশ্যে জঙ্গী কার্যক্রম। গত ৫ বছরে জেএমবির কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও তাদের নির্মূল করা সম্ভবপর হয়নি। আত্মগোপনে থেকে জেএমবি তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। নামে-বেনামে, ছদ্মনামে জঙ্গীরা এখনও তৎপরতা চালাচ্ছে।
দেশজুড়ে ১৭ আগস্টের পর শুরু হয় একের পর এক আত্মঘাতী জঙ্গী হামলা। বোমা হামলায় বিচারক, আইনজীবী, পুলিশ, সরকারী-বেসরকারী কর্মকর্তাসহ ৩৩ জন নিহত হন। আহত হন ৪ শতাধিক। বাংলাদেশ জঙ্গীকবলিত হয়ে পড়ায় সেই ঘটনা আন্তর্জাতিক পরিম-লে আলোচিত হয়। জঙ্গী গ্রেফতারে তৎপর হয়ে ওঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ঐ সময় গ্রেফতার হয় জেএমবির শীর্ষ নেতা শায়খ আব্দুর রহমান, সিদ্দিকুল ইসলাম বাংলাভাই, আতাউর রহমান সানি, খালেদ সাইফুল্লাহসহ প্রায় সাড়ে ৪শ’ জঙ্গী নেতাকর্মী। সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় ঢাকা মহানগর বাদে সারাদেশে দায়ের করা হয় ১শ’ ৩৮টি মামলা। হামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ১৪শ’ জন গ্রেফতার হয়। পরবর্তীতে যাচাই-বাছাই করে ৯শ’ ৮১ জনকে বিভিন্ন মামলায় আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ সদর দফতরের এক কর্মকর্তা বলেছেন, সাংগাঠনিকভাবে জেএমবির কার্যক্রম একেবারে ঝিমিয়ে পড়েছে। তবে তাদের একেবারে নির্মূল করা এখনও সম্ভব হয়নি। তাদের দ্বারা বড় ধরনের কোন নাশকতা ঘটানোর মতো ক্ষমতা আর নেই। জেএমবি গ্রেফতার করতে র‌্যাবের অভিযান চলছে। তাদের গতিবিধি নজরদারিতে আছে।
সিআইডির একটি সূত্র জানিয়েছে, এ পর্যন্ত জেএমবির জঙ্গী কার্যক্রমের ঘটনায় সারাদেশে ৩শ’ ২২টি মামলা হয়েছে। এসব মামলার মধ্যে চার্জশীট হয়েছে ২শ’ ৮৯টির। ১শ’ ১৫টি মামলার বিচার কাজ শেষ হয়েছে। ২৫টি মামলার চূড়ান্ত রিপোর্ট দেয়া হয়েছে। ৮টি মামলার তদন্ত কাজ চলছে। বিচার শেষ হওয়া ১শ’ ১৫টি মামলার মধ্যে ৯৫টি মামলায় আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দেয়া হয়েছে। এদের মধ্যে ৫১ জনকে মৃত্যুদ- দেয়া হয়েছে। ১শ’ ৩১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদ- এবং ১শ’ ৮৪ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়েছে।
রাজধানীর ৩৩টি স্পটে বোমা হামলার ঘটনায় ১৮টি মামলা দায়ের হয়। এই ১৮টি মামলার মধ্যে ৫টি মামলায় বোমার বাহককে খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে মামলার তদন্ত কাজ থেমে গেছে। এ ব্যাপারে ডিবির এক কর্মকর্তা জানান, র‌্যাবের হাতে বিভিন্ন সময়ে গ্রেফতার হওয়া জেএমবি ক্যাডারদের মাধ্যমে তথ্য বেরিয়ে আসছে যে তাদের কেউ কেউ ঢাকায় বোমা হামলার সময় বোমা বহন করেছিল অথবা বোমা বিস্ফোরণের তথ্য জানতে পারে। তদন্তকারী সূত্রে জানানো হয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের তথ্য অনুযায়ী মামলাগুলোর তদন্ত কাজ চলছে বলে জানা গেছে।
গত বছরের অক্টোবর থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত সারাদেশে জেএমবির শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার কর হয়। এদের মধ্যে সিরিজ বোমা হামলার কারিগর মইনুল হক ওরফে ইকবাল ওরফে রাজীবকে গত বছরের ২২ জুন র‌্যাব ঢাকার পল্লবী থেকে গ্রেফতার করে। এর আগে জেএমবির চট্টগ্রাম অঞ্চলে সিরিজ বোমা হামলার দায়িত্ব পালনকারী বোমারু মিজানকে ২০০৯ সালের ১৪ মে মিরপুরের পীরেরবাগ থেকে গ্রেফতার করে। এছাড়া র‌্যাব সিরিজ বোমা হামলার সঙ্গে জড়িত চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে শাহাদত, নরসিংদীতে সাইফুল, ময়মনসিংহ থেকে সাইফুর, গাজীপুর থেকে মোহতাছিম বিল্লাহ ওরফে বশির, নারায়ণগঞ্জ থেকে ক্বারি সাইদুর রহমান ও ঢাকার শনিরআখড়া থেকে হানিফ ওরফে কালামকে গ্রেফতার করে। এরা সকলেই ১৭ আগস্ট সিরিজ বোমা হামলার সঙ্গে জড়িত ছিল। সর্বশেষ গত জুন মাসে জেএমবির আমির মওলানা সাইদুর রহমানকে পুলিশ গ্রেফতার করে। তবে এরা যেসব স্থানে বোমা হামলা চালিয়েছিল ঐ ঘটনায় দায়ের করা অনেক মামলার বিচার কাজ শেষ হয়েছে। সে ক্ষেত্রে এসব আসামিদের অন্য বোমা হামলা মামলায় সম্পূরক চার্জশীট দেয়া হচ্ছে।
সিরিজ বোমা হামলার পূর্ব কথা
২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট দেশের ৬৩ জেলায় (মুন্সীগঞ্জ বাদে) সিরিজ বোমা হামলা চালায় জঙ্গীরা। রাজধানীসহ সারাদেশে সকাল ১১টায় এ হামলা চালানো হয়। দেশের ৩শ’টি স্থানে মাত্র আধঘণ্টার ব্যবধানে একযোগে ৫শ’ বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এতে দু’জন নিহত ও দু’শতাধিক লোক আহত হয়। পরে আরও প্রায় ২০টি মামলার চার্জশীট দাখিল করা হয়। সিরিজ বোমা হামলার স্থান হিসাবে হাইকোর্ট, সুপ্রীমকোর্ট, জেলা আদালত, বিমানবন্দর, বাংলাদেশে থাকা মার্কিন দূতাবাস, জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়, প্রেসক্লাব ও সরকারী-আধাসরকারী গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বেছে নেয়া হয়। হামলার স্থানসমূহে জামা’তুল মুজাহিদীনের লিফলেট পাওয়া যায়। লিফলেটগুলোতে বাংলাদেশে আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠা করার বিষয়ে বক্তব্য লেখা ছিল। দেশের কর্মরত বিচারকদের প্রতি একটি বিশেষ বার্তা পাঠানো হয়। তাতে বলা হয়, দ্রুত এদেশে ইসলামী হুকুমত কায়েম করতে হবে। নতুবা কঠিন পথ বেছে নিতে বাধ্য হবে জেএমবি। ইসলামী হুকুমত কায়েমের বিষয়ে তাদের সঙ্গে দেশ-বিদেশের অনেক শক্তিশালী দেশ ও শীর্ষ রাজনৈতিক দল একমত পোষণ করেছে। অতএব যারা বিচারক আছেন তারা তাগুতি আইন বাদ দিয়ে ইসলামী আইনে বিচার করবেন। নতুবা আরও ভয়াবহ বিপদ আপনাদের জন্য অপেক্ষা করছে। এ সতর্কবাণীর (সিরিজ বোমা হামলা) পর আমরা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করব। তারপর আবার হামলা শুরু হবে। প্রসঙ্গত, সিরিজ বোমা হামলায় সারাদেশের বিভিন্ন থানায় শতাধিক মামলা দায়ের করে পুলিশ। এর মধ্যে ২০০৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত অর্ধশত মামলার চার্জশীট দাখিল করা হয়। এর মধ্যে জয়পুরহাট জেলায় দায়েরকৃত মামলায় ২০০৬ সালের ১৪ মে ১০ জনকে যাবজ্জীবন, ৩ জনকে ২০ বছরের কারাদ- ও ১৪ জনকে বেকসুর খালাসের নির্দেশ দেয় আদালত।
সিরিজ বোমা হামলার কিছুদিন পর আবার শুরু হয় ধারাবাহিক হামলা। তারই জের ধরে ওই বছরই ৩ অক্টোবর চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর ও চট্টগ্রামের জেলা আদালতে বিচার কাজ চলাকালে বেলা ১২টায় আবার একযোগে বোমা হামলা চালানো হয়। এজলাসে ঢুকে বিচারককে লক্ষ্য করে বোমা ছুড়ে মারা হয়। তিন জেলা আদালতে প্রতিজেলায় ৩টি করে মোট ৯টি বোমা ছোড়া হয়। এর মধ্যে ৫টি বোমা বিস্ফোরিত হয়। বাকিগুলো অবিস্ফোরিত থাকে। এ ব্যাপারে চাঁদপুর ও চট্টগ্রামে দায়েরকৃত মামলায় ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এসব মামলায় শায়খ আব্দুর রহমান, বাংলাভাই, আতাউর রহমান সানি, জাভেদ ইকবাল, আবু জহর, জাহেদুল ইসলাম সুমন, শাহাদত হোসেন ও লাল্টুকে আসামি করা হয়। এর ১৫ দিন পর ১৯ অক্টোবর সিলেটের দ্রত বিচার আদালতের বিচারক বিপ্লব গোস্বামীকে হত্যা করতে বোমা হামলা চালায় জঙ্গীরা। তিনি অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান। কিন্তু বোমার আঘাতে মারাত্মক আহত হন। এর মাসখানেক পরেই ১৫ নবেম্বর বহুল আলোচিত ঝালকাঠি শহরের অফিসার্সপাড়ায় জাজেস কোয়ার্টারের সামনে বিচারকদের বহনকারী মাইক্রোবাসে শক্তিশালী বোমা দিয়ে হামলা চালানো হয়। বোমা বিস্ফোরণে ঝালকাঠি জজ আদালতের সিনিয়র সহকারী জজ সোহেল আহমেদ চৌধুরী ও জগন্নাথ পাঁড়ে নিহত হন। অল্পের জন্য রক্ষা পান আরেক বিচারক আব্দুল আউয়াল। এ হামলার ঘটনায় ২টি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়। এরপর ৩০ নবেম্বর গাজীপুর ও চট্টগ্রাম আদালতে পৌনে এক ঘন্টার ব্যবধানে আত্মঘাতী জঙ্গীরা গায়ে বোমা বেঁধে হামলা চালায়। এতে ২ জঙ্গীসহ ৯ জন নিহত ও শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়। সর্বশেষ ২ ডিসেম্বর গাজীপুর জেলা আদালতে আবারও চায়ের ফ্ল্যাক্সে করে বোমা হামলা চালানো হয়। এতে ৭ জন নিহত ও অর্ধশত আহত হয়। সর্বশেষ চলতি বছর জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করার সময় জঙ্গীরা প্রদর্শনীর জন্য রাখা বোমা তুলে ছুড়ে মারে।
জঙ্গী গ্রেফতার
বিভিন্ন হামলার সঙ্গে জড়িত জেএমবির আমির শায়খ আব্দুর রহমানকে ২০০৬ সালের ২ মার্চ সিলেটের পূর্ব শাপলাবাগ এলাকার সূর্র্য দীঘল বাড়ি থেকে, জেএমবির সেকেন্ড ইন কমান্ড সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলাভাইকে ২০০৬ সালের ৬ মার্চ ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা থানাধীন চেচুয়া বাজারের রামপুরা গ্রাম থেকে, হুজি প্রধান মুফতি হান্নানকে ২০০৫ সালের ১ অক্টোবর রাজধানীর মধ্য বাড্ডা থেকে, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার অপারেশনাল কমান্ডার মুফতি মঈন উদ্দিন ওরফে আবু জান্দালকে ২০০৮ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি গাজীপুরের বানিয়াচালা মসজিদ থেকে, আব্দুল আউয়াল ওরফে আদিলকে ২০০৫ সালের ১৮ নবেম্বর ঠাকুরগাঁও থেকে, জেএমবির শূরা সদস্য আতাউর রহমান ওরফে সানিকে ২০০৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর রাজধানীর তেজগাঁও ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে, জেএমবির শূরা সদস্য হাফেজ রাকিব হাসান ওরফে মাহমুদকে ২০০৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম এলাকা থেকে, জেএমবির সূরা সদস্য মোঃ সালেহীন ওরফে সালাউদ্দিন ওরফে তৌহিদকে ২০০৬ সালের ২৫ এপ্রিল চট্টগ্রামের সিডিএ এলাকার একটি বাড়ি থেকে, জেএমবির শূরা সদস্য ফারুক হোসেন ওরফে খালেদ সাইফুল্লাহ ওরফে সিরাজ ওরফে আমজাদকে ২০০৬ সালের ৪ এপ্রিল রাজধানীর ডেমরার কোনাপাড়া-ডগাইর এলাকার আইডিয়াল পাড়ের ৮ নম্বর বাড়ি থেকে, জেএমবির সামরিক কমান্ডার মোঃ মোহতাসিম বিল্লাহ ওরফে বশিরকে ২০০৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি গাজীপুরের কোনাবাড়ি থেকে, জেএমবির বোমা বিশেষজ্ঞ মোঃ জাহিদ হোসেন সুমন ওরফে বোমা মিজানকে ২০০৯ সালের রাজধানীর মিরপুর পীরেরবাগ এলাকা থেকে ও জেএমবির আইটি শাখার প্রধান বুয়েট ইঞ্জিনিয়ার মোঃ এমরানুল হক ওরফে রাজীব ওরফে মঈনুল ওরফে আবু তোবা ওরফে ইকবালকে রাজধানীর পল্লবী এলাকা থেকে চলতি মাসের জুন মাসে গ্রেফতার করা হয়। এদের মধ্যে ঝালকাঠির দুই বিচারক হত্যা মামলায় পরে মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। ঝালাকাঠিতে দুই বিচারক হত্যা মামলায় ২০০৬ সালের ২১ মার্চ মামুন, সুলতান হোসেন খান, শায়খ আব্দুর রহমান, আব্দুল আউয়াল, আতাউর রহমান সানি, সিদ্দিকুল ইসলাম বাংলাভাই, শাকিল আহমেদ ওরফে মোল্লা ওমর (মৃত) ও মেহেদীসহ ৮ জনকে আসামি করে চার্জশীট দাখিল করা হয়। ২০০৬ সালের ৩০ মে মামলায় রায়ে শায়খ আব্দুর রহমান, সিদ্দিকুল ইসলাম বাংলাভাই, আতাউর রহমান সানি, আব্দুল আউয়াল, মাসুম, খালিদ, সাইফুল্লাহসহ মোট ৭ জনকে ফাঁসির আদেশ দেয়া হয়। ২০০৭ সালের ৩০ মার্চ এদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়।
বিএনপি-জামায়াত জোটের কানেকশন
২০০১ সালে বাংলাদেশে জঙ্গীবাদের ভয়াবহ বিস্তার ঘটে। বহুল আলোচিত আফগান যুদ্ধে অন্তত ১২ হাজার বাংলাদেশী অংশ নেয়। যুদ্ধে অংশ নেয়াদের মধ্যে ১ হাজার ৮২ জন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের। আফগান ফেরত যোদ্ধারা দেশে ফিরে ঢাকার খিলগাঁওয়ের তালতলায় ‘জাগো মুজাহিদ’ নামে একটি সংগঠন করে। ১৯৯৫ সালের দিকে মুফতি হান্নান অন্তত ৩ হাজার আফগান ফেরত যোদ্ধাকে সংগঠিত করে। সংগঠিত দলটিকে হরকত-উল-জিহাদ অব বাংলাদেশ সংক্ষেপে (হুজিবি) নাম দেয়া হয়। হুজিবিই পরবর্তীতে হুজি নাম ধারণ করে। হুজি গঠনে বিএনপি-জামায়াতের একটি অংশ নানাভাবে সহযোগিতা করে। এছাড়া পার্শ্ববর্তী একটি মুসলিম দেশের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা হুজি গঠনে আর্থিক সহায়তা করে। আফগান যুদ্ধে অংশ নেয়া ভারতীয় ও পাকিস্তানের জঙ্গী সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বার মুজাহিদরা হুজি ও জেএমবির সঙ্গে যোগ দেয়। সম্প্রতি মনসুর আলী ওরফে হাবিবুল্লাহ, ড. ওবায়দুল্লাহ ও হাবিবুল্লাহকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ দেশীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে জঙ্গীদের মোটা অঙ্কের টাকা দেয়া হয়। এসব টাকা দিয়ে আফগান ফেরত জঙ্গীরা ট্রেনিং ক্যাম্প চালু করে। পরে মুফতি হান্নান, শায়খ আব্দুর রহমান, সিদ্দিকুল ইসলাম বাংলাভাইয়ের পরামর্শে সুনামগঞ্জ জেলার ফেঞ্চুগঞ্জ সার কারখানার পিছনে, নাইক্ষ্যংছড়ি, হিমছড়ি, বিলাইছড়ি, খাগড়াছড়ি, মানিকছড়ি, চট্টগ্রামের হাটহাজারী, পটিয়া, লালখানবাজার, সিলেট ও কক্সবাজারের উখিয়াসহ আশপাশের দুর্গম পাহাড়ী এলাকায় মাদ্রাসার নামে ১৫টি ট্রেনিং ক্যাম্প চালু করা হয়। ট্রেনিংয়ের দায়িত্ব পালন করে মুফতি হান্নান, মুফতি মাওলানা আব্দুস সালাম, শায়খ আব্দুর রহমান, সিদ্দিকুল ইসলাম বাংলাভাই, ভারতীয় জঙ্গী মুফতি মাওলানা ওবায়দুল্লাহ ও মাওলানা হাবিবুল্লাহ। লস্কর-ই-তৈয়বার শীর্ষ নেতা আমির রেজা খান, খুররম খৈয়াম ওরফে শাহজাহান, মাওলানা আকরাম, মাওলানা আবু খালেক, মাওলানা জালাল উদ্দিন ট্রেনিং পরিদর্শন করে। জঙ্গীদের মাঝে সনদও বিতরণ করা হয়।
১৯৯৬ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজারের উখিয়া থেকে ট্রেনিংরত অবস্থায় হুজির ৪০ সদস্যকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ গ্রেফতার করে পুলিশ। ২০০১ সালের জানুয়ারিতে চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশনের প্রধান ও রোহিঙ্গার সামরিক শাখার প্রধান কমান্ডার মোহাম্মদ সেলিম ওরফে সেলিম উল্লাহকে গ্রেফতার করে। সেলিম উল্লাহর সঙ্গে ২১ আগস্ট শেখ হাসিনার ওপর গ্রেনেড হামলাকারী হুজি নেতা কারাবন্দী মুফতি হান্নান, মুফতি মাওলানা আব্দুস সালাম, আবু জান্দাল, মুরসালিন, মুত্তাকিন, ভারতীয় শীর্ষ জঙ্গীনেতা ওবায়দুল্লাহ, হাবিবুল্লাহ, পাকিস্তানের জঙ্গী সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বার নেতা আমির রেজা খান, খুররম খৈয়ামের সখ্য ছিল। হুজি ও জেএমবি সেলিম মোহাম্মদের কাছ থেকে অস্ত্রও সংগ্রহ করে। সেলিম উল্লাহ গ্রেফতার হওয়ার খবর ঢাকার এমপি হোস্টেলে পৌঁছে। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের দু’জন এমপি গ্রেফতারের খবরে চরম নাখোশ হয়। প্রসঙ্গত, সেলিম মোহাম্মদ আরাকানের অধিবাসী। পরে স্থানীয় দুই সাংসদ মোহাম্মদ শাহজালাল ও মোহাম্মদ শাহজাহানের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা হয়। এই দুই সাংসদ সহোদর। এদের একজন বিএনপি থেকে অপরজন জামায়াত থেকে নির্বাচিত সাংসদ। পরবর্তীতে দুই সাংসদ তাদের বোনকে সেলিম মোহাম্মদের সঙ্গে বিয়ে দেয়।
কক্সবাজার থেকে গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে কক্সবাজার থানায় অস্ত্র আইনে মামলা হয়। গ্রেফতারকৃতদের পক্ষে আইনী লড়াইয়ের জন্য জামায়াতে ইসলামীর নেতা ব্যারিস্টার কোরবান আলীকে দায়িত্ব দেয়া হয়। বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের দু’জন স্থানীয় সাংসদ ও ৩ মন্ত্রীর নির্দেশেই জামায়াত নেতা ও আইনজীবীকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। ব্যারিস্টার কোরবান আলীকে জঙ্গীদের পক্ষে আইনী লড়াই করতে শায়খ আব্দুর রহমান ও সিদ্দিকুল ইসলাম বাংলাভাইও তদ্বির করেছিল। আদালত গ্রেফতারকৃত হুজি সদস্যদের যাবজ্জীবন সাজা মঞ্জুর করেন। জামায়াত নেতা ব্যারিস্টার কোরবান আলী জামিনে ব্যর্থ হলে দলের তরফ থেকে যথেষ্ট কথা শুনতে হয়েছিল। পরে অবশ্য বিএনপি-জামায়াত জোটের আর্শীবাদে হুজি সদস্যরা জামিনে ছাড়া পায়। মুক্ত হয়েই আবার তারা গোপনে সংঘটিত হতে থাকে। গত ২ জুলাই সাজাপ্রাপ্ত ৪০ হুজি সদস্যদের মধ্যে ৬ জনকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। পরে তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া যায়। গোয়েন্দা সূত্র জানায়, এর আগে শায়খ আব্দুর রহমান, সিদ্দিকুল ইসলাম বাংলাভাই, মুফতি হান্নান, আবু জান্দাল ও আতাউর রহমান সানি গ্রেফতার হয়ে রিমান্ডে বিএনপি-জামায়াতের অনেকের সঙ্গেই তাদের সখ্যের বিষয়টি স্বীকার করে। সর্বশেষ ২০০২ সালে শায়খ রহমান পাকিস্তান গিয়ে লস্কর-ই-তৈয়বার নিকট থেকে অস্ত্রসহ বোমা ও গ্রেনেডের ওপর বিশেষ কোর্স সম্পন্ন করে। ২০০৫ সালে পাকিস্তানী বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক আব্দুর রহমান ও সাজ্জাদ হোসেন জেএমবিকে ১০ হাজার পাউন্ড সাহায্য করে। দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলা ও ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় কক্সবাজারে ট্রেনিং নেয়া অন্তত ২০ হুজি সদস্য এ দুটি হামলায় অংশ নেয়। দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলার ৭ বছর পরও হামলাকারী সব জঙ্গী যেমন ধরা পড়েনি, তেমনি যেসব জঙ্গী হামলায় অংশ নিয়ে ধরা পড়েছে তাদের বিচারও সম্পন্ন হয়নি।
সিবোটে অতিরিক্ত ভাড়া ॥ মাওয়ায় অভিযানকালে ইউএনওর গাড়িতে হামলা, চালক আহত
স্টাফ রিপোর্টার, মুন্সীগঞ্জ ॥ মাওয়ায় স্পিডবোটে বেশি ভাড়া আদায় নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় ইজারাদারের লোকজন হামলা চালায়। এতে ইউএনও’র গাড়ি ভাংচুর এবং চালক গুরুতর আহত হয়েছে। এই ঘটনায় পুলিশ ৮ জনকে আটক করে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের দায়ে মোঃ সজল (২৫) নামের এক জনকে তিন মাসের কারাদ- দেয়া হয় এবং হামলায় ঘটনায় ৬ জনকে দ্রুত বিচার আইনে গ্রেফতার করা হয়। বাকি একজনকে ছেড়ে দেয়া হয়ছে। মাওয়া-কাওড়াকান্দি রুটে নির্ধারিত ভাড়া ১২০ টাকা। কিন্তু ঈদ উপলক্ষে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা আদায় করা হচ্ছিল।
গুরুতর আহত লৌহজংয়ের ইউএনও’র গাড়িচালক আতাউর রহমানকে (২৮) স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও লৌহজংয়ের ইউএনও মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান, বিষয়টি আমরা কঠোরভাবে দেখছি। ঈদে ঘরমুখো মানুষের নির্বিঘœ যাতায়াতের জন্য সবরকম প্রচেষ্টা চলছে। হামলা করে এই প্রক্রিয়ায় কোন বাধা সৃষ্টি করতে পারবে না।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় আটকত দু’জনকে তাদের সহযোগীরা পুলিশের হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়, পরে তাদের একজনকে (সজল) পুলিশ আটক করে। সামনে ছিল পুলিশের গাড়ি, পেছনে ইউএনও’র গাড়ি। এ সময় সংঘবদ্ধ ইজারাদারের লোকজন লাঠি নিয়ে ইউএনও’র গাড়িতে হামলা চালিয়ে গাড়ির গ্লাস ভাংচুরসহ ব্যাপক ক্ষতি করে।
স্থানীয়দের অভিযোগ- মাওয়া পুলিশ ফাঁড়িকে মাসোয়ারা দিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে আসছিল ইজারাদাররা। এই ফাঁড়ির মাধ্যমে লৌহজং থানার একজন ওসি, মাওয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই খন্দকার খালিদ এবং ডিএসবির কনস্টেবল আমির ঘাট থেকে নিয়মিত চাঁদা নিয়ে থাকেন। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাওয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই খন্দকার খালেদ। পুলিশ সুপার বলেছেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
হামলার ঘটনায় ইজারাদার হামিদুলের ভাই টিটুসহ ২৩ জনের নাম উল্লেখসহ দেড় থেকে দুই শতাধিক অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে ইউএনও’র ড্রাইভার আতাউর রহমান লৌহজং থানায় দ্রুত বিচার আইনে মামলা করেছেন। ঘটনার পরপর বিশেষ অভিযানে আটককৃত খলিল বেপারী (২৮), শামীম খান (২৮), মোঃ কামাল সর্দার (১৮), শহিদুল ভূইয়া (২৫), মোঃ মিঠু মাদবর (২০), সুমন বেপারীকে (১৯) এই মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে।
দ-প্রাপ্ত সজল মেদিনীম-লের বারেক ব্যাপারীর পুত্র। সে ইজারাদার হামিদুলের ভাগ্নে।
ঘটনার পর পর অতিরিক্ত র‌্যাব ও পুলিশ অভিযান চালিয়ে ভিডিও ফুটেজ দেখে তাদের আটক করে । তবে ঘাটের পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে। যাত্রীরা নির্বিঘেœই পারাপার হচ্ছে বলে জানান পুলিশ সুপার মোঃ শাহাবুদ্দিন খান।
ইউএনও জানান, মাওয়ায় কোস্টগার্ড তলব করা হয়েছে। ঈদের আগ পর্যন্ত কোস্টগার্ড মাওয়াতে অবস্থান করবে।
মুন্সীগঞ্জ জেলা পরিষদের এই সিবোট ইজারাদার স্থানীয় মেদিনীম-ল ইউপি যুবলীগের সভাপতি হামিদুল ইসলাম। তার সঙ্গে যোগাযোগ করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। অভিযোগ রয়েছে- স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের এক প্রভাবশালী এবং জেলা পরিষদের আস্কারায় এই ইজারাদার ঘাটের দায়িত্ব গ্রহণের পরই নানা অরাজকতা চালাচ্ছে। এতে ঈদে ঘরমুখো মানুষের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়সহ পড়তে হচ্ছে নানা বিড়ম্বনায়।
ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠন ঝুলে গেছে!
শরীফুল ইসলাম ॥ খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিপরীতমুখী অবস্থানের কারণে বিএনপির সহযোগী সংগঠন ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠন প্রক্রিয়া আবারও ঝুলে গেছে। ঈদের পরও ছাত্রদলের কমিটি হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। এ পরিস্থিতিতে সংগঠনটির নতুন কমিটিতে পদপ্রত্যাশী ছাত্রদল নেতাদের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে বলে জানা গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রদলের নতুন কমিটি নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করে আসছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান। এবারও তিনি লন্ডন থেকে ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন। কিন্তু তারেক রহমান যেভাবে চেয়েছিলেন সেভাবে কমিটি করা হলে এ নিয়ে বড় ধরনের ঝামেলা হতে পারে বলে আঁচ করে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া নিজেই আন্দোলন-সংগ্রামে মূলদলের ‘নিউক্লিয়াস’ হিসেবে পরিচিত বিএনপির সহযোগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃত্ব নির্বাচনের কাজে হাত দেন। ঈদের আগেই তিনি কমিটি ঘোষণা দেয়ার প্রস্তুতিও নিয়েছিলেন। কিন্তু এতে তাঁর ছেলে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান মনোক্ষুণœ হওয়ায় তিনি আপাতত কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া থামিয়ে দেন।
নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের লক্ষ্যে সৌদি আরব যাওয়ার আগে গুলশান কার্যালয়ে ছাত্রদলের বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির নেতাদের সঙ্গে চার দিনব্যাপী বৈঠক করেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। প্রথমবার ১৯ জুলাই রাত সাড়ে ১০টা থেকে ১টা পর্যন্ত, দ্বিতীয়বার ২৮ জুলাই রাত সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত, তৃতীয়বার ২৯ জুলাই রাত সাড়ে ১০টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত এবং ৩০ জুলাই রাত সাড়ে ১০টা থেকে দুইটা পর্যন্ত ছাত্রদল নেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করেন তিনি। এসব বৈঠকে দীর্ঘ সময় নিয়ে তিনি মনোযোগ দিয়ে ছাত্রদল নেতাদের বক্তব্য শোনেন এবং তারপর তিনি তাঁদের উদ্দেশে দিক-নির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া তাঁর বক্তব্যে ছাত্রদলের পদপ্রত্যাশী নেতাদের উদ্দেশে সুস্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, নেতৃত্ব পাওয়ার আশায় কোন ভাইয়া বা নেতার বাড়িতে ধর্ণা দিয়ে কাজ হবে না। সহ্য করা হবে না কোন তদ্বির-সুপারিশও। তিনি বলেছেন, যারা নেতৃত্বে আসতে পারে এমন নেতাদের সম্পর্কে সকল তথ্য বিএনপি হাইকমান্ডের কাছে আছে। বৈঠকে উপস্থিত ছাত্রদল নেতাদের খালেদা জিয়া বলেন, মনে রাখবে, তোমাদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহে মাঠে আমার নিজস্ব গোয়েন্দা টিম কাজ করছে। নেতৃত্ব পাওয়ার আশায় কোন ভাই বা নেতার কাছে তদ্বির করা হলে তা নেতৃত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে নেতিবাচক ভূমিকা রাখবে। তদ্বিরকারীদের সম্পর্কে তদন্ত করা হবে। প্রয়োজনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ছাত্রদলের নেতৃত্ব নির্বাচনে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ভূমিকা সম্পর্কে খালেদা জিয়া বলেন, তারেক রহমান অসুস্থ। সুস্থ হলে রাজনীতিতে ফিরবে সে। তার আগে নয়। তাই দূর থেকে তারেক রহমান ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনের ব্যাপারে কোন সুপারিশ করলে তাতে অন্যদের প্রতি অবিচার হতে পারে। তাই তারেক রহমান কমিটির বিষয়ে কিছু বলবে না। এছাড়া তারেক রহমান এখন অসুস্থ, তাই রাজনীতি নিয়ে মাথা ঘামায় না। তাকে আগে সুস্থ হতে দাও। আর আমাদের পক্ষ থেকে যে কমিটি দেয়া হবে সেই কমিটির নেতৃত্ব মেনে নিয়ে সবাইকে কাজ করতে হবে। মনে রাখবে, সুপারিশ ও তদ্বিরের জোরে নতুন কমিটিতে কারও স্থান হবে না। কমিটির বিষয়ে কারও হস্তক্ষেপ মানা হবে না। রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম, দলের প্রতি আনুগত্য ও যোগ্যতার মাপকাঠিতেই নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে। ত্যাগী, মেধাবী ও দক্ষদেরই স্থান দেয়া হবে।
ছাত্রদল নেতাদের সঙ্গে বৈঠককালে খালেদা জিয়া বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রদলের কর্মকা- না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কিছু ঘটলে আন্তর্জাতিক মিডিয়াতে তা ফলাও করে প্রচার করা হয়। তাই ছাত্রদলকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সক্রিয় হতে হবে। তিনি বলেন, আমি গত ১ জানুয়ারি কমিটি দেয়ার কথা বলেছিলাম। কিন্তু সরকারের দমন-পীড়ন, হামলা-মামলা ও গ্রেফতারের কারণে সময়মতো কমিটি দিতে পারিনি। দীর্ঘ সময় নেতারা কারাগারে থাকায় দেরি হয়েছে। কিন্তু আর বেশি দেরি হবে না। হতাশার কোন কারণ নেই। সবার ভূমিকা সম্পর্কে আমি জানি।
ছাত্রদল নেতাদের উদ্দেশ্যে খালেদা জিয়া আরও বলেন, এ সংগঠন থেকে অতীতে অনেকে এমপি হয়েছে, মন্ত্রী হয়েছে। যোগ্য নেতৃত্ব তৈরি হয়েছে। নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য এবং যাদের মধ্যে নৈতিকতা রয়েছে তাদের ছাত্রদলের নেতৃত্বে আনা হবে। খালেদা জিয়া আরও বলেন, কোন ভাইয়ার কথায় ছাত্রদল চলবে না। কোন বলয় বা অঞ্চলের কথায় ছাত্রদল চলবে না। আগামীদিনের আন্দোলন জোরদার করতে ছাত্রদলের গুরুত্বপূর্ণ পদে সাহসীদের স্থান দেয়া হবে। আর আন্দোলন জোরদার করতে প্রথমে ছাত্রদল ও পরে যুবদলে পরিবর্তন হবে।
ছাত্রদল সূত্রে জানা যায়, প্রত্যাশিত নতুন কমিটিতে কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী প্রতিযোগী বেশি। এসব পদের জন্য যেসব ছাত্রনেতার নাম আলোচনায় শোনা যায় তাদের মধ্যে রয়েছেন বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলীম, সিনিয়র সহসভাপতি শহীদুল ইসলাম বাবুল, মহানগর দক্ষিণ আহ্বায়ক হাবিবুর রশিদ হাবিব, বর্তমান কমিটির বাইরে বিগত কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল, বিগত ঢাবি কমিটির হাসান মামুন, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, বর্তমান কমিটির যুগ্ম সম্পাদক আমিরুল ইসলাম শিমুল, আনোয়ারুল হক রয়েল, আবু সাঈদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির বর্তমান যুগ্ম আহ্বায়ক ওবায়দুল হক নাসির। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নেতৃত্বপ্রত্যাশীদের মধ্যে রাজিব আহসান, আকরামুল হাসান, আসাদুজ্জামান আসাদ, মাসুদ খান পারভেজ, মফিজুর রহমান আশিক ও সাদিউল কবির নীরবের নাম আলোচনায় রয়েছে।
সূত্র মতে, নতুন কমিটিতে স্থান পেতে ছাত্রদলের বেশ কয়েক নেতা লন্ডনে গিয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাত করে এসেছেন। আবার কেউ কেউ তারেক রহমানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এমন বিএনপি নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে ছাত্রদলের নতুন কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ পাওয়ার চেষ্টা করছেন। আর এ খবর পাওয়ার পরই খালেদা জিয়া এবার ছাত্রদলের কমিটি গঠনের দায়িত্ব নিজে নিয়েছেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রদলের এক কেন্দ্রীয় নেতা জানান, লন্ডন থেকে তারেক রহমান ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছিলেন। কিন্তু আন্দোলন-সংগ্রামে নিষ্ক্রিয় থাকা বর্তমান কমিটির কিছু নেতা আবারও গুরুত্বপূর্ণ পদ পেতে যাচ্ছে দেখে খালেদা জিয়া তারেক রহমানের কমিটি গঠন প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করে তা থামিয়ে দেন এবং ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনের দায়িত্ব নিজেই নেন। তবে খালেদা জিয়ার এই হস্তক্ষেপে তারেক রহমান ক্ষুব্ধ হয়েছেন। যে কারণে ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঈদের আগে ঘোষণার কথা থাকলেও তা হয়নি। ঈদের পরও এ কমিটি হওয়ার কোন সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।
জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে তিন স্তরের নিরাপত্তা
স্টাফ রিপোর্টার ॥ জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে এবারের নিরাপত্তা থাকছে কঠোর। পৃথক পৃথক তিন স্তরে কড়া নিরাপত্তা গড়ে তোলা হচ্ছে। বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার ঈদগাহ ময়দানসহ আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করার সরকারী নির্দেশ রয়েছে। ঈদের মাসখানেক আগ থেকেই পুরো এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ময়দানের প্রবেশ পথগুলোতে বসানো হচ্ছে আর্চওয়ে মেটাল ডিটেক্টর। এ ছাড়া ঈদগাহ ময়দানসহ তার আশপাশে বসেছে অসংখ্য গোপন মুভি ক্যামেরা ও সিসি টিভি। রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ, প্রধান বিচারপতি, বিচারকগণ, বিদেশী কূটনৈতিক, উর্ধতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, নগরীর বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গসহ সর্বস্তরের মুসল্লিগণ নামাজে অংশ নিচ্ছেন। এ জন্য নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি যানবাহন চলাচল ও পার্কিংয়েও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে প্রধান জামায়াত অনুষ্ঠিত হবে। ঈদগাহ ময়দানে আগত সন্দেহভাজনদের দেহ তল্লাশি করা হবে। আগতদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঈদগাহ মাঠসহ পুরো এলাকায় বসানো হচ্ছে অসংখ্য গোপন মুভি ক্যামেরা ও সিসি টিভি। প্রধান ফটকগুলোতে বসানো হচ্ছে আর্চওয়ে মেটাল ডিটেক্টর। এর বাইরে স্ট্রাইকিং ফোর্স থাকছে বাড়তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে। জাতীয় ঈদগাহ ময়দানসহ আশপাশের এলাকায় নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সব ধরণের যানবাহনের চলাচলের ওপর বিধিনির্ষেধ আরোপ করা হয়েছে। গোপন মুভি ক্যামেরা ও সিসি টিভি মনিটরিং করতে কন্ট্রোল স্থাপন করা হয়েছে। এসব কন্ট্রোলরুম থেকেই পুরো ঈদগাহ মাঠ ও তার আশপাশের এলাকা মনিটরিং করা হবে। এ ছাড়াও বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও ডগ স্কোয়াড পুরো মাঠে কয়েক দফায় তল্লাশি চালাবে।

পার্কিং এলাকা
এ ছাড়া সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের আশপাশের নিম্নবর্ণিত স্থানসমূহ পার্কিং এলাকা হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের দক্ষিণ-পশ্চিমাংশে সুপ্রীম কোর্টের অভ্যন্তরে গোল চত্বরের কাছে রাষ্ট্রপতির গাড়িবহর (ভিভিআইপি এ্যালাইটিংয়ের পশ্চিম পাশে)। সুপ্রীম কোর্টের ভেতরে দক্ষিণ-পশ্চিম কর্নারে (মাজার সংলগ্ন উত্তর পাশে) বিচারপতিগণের গাড়ি পার্কিং। জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের প্রধান গেটের উত্তর-পশ্চিম দিকে মন্ত্রিপরিষদ সদস্যসহ ভিআইপিদের গাড়ি পার্কিং। গণপূর্ত ভবনের আঙ্গিনা ও অভ্যন্তরে সরকারী কর্মকর্তা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের গাড়ি পার্কিং। জিরো পয়েন্ট ও ইউবিএল ক্রসিংয়ের (মুক্তাঙ্গন) উভয় পাশে সাধারণ পার্কিং। দোয়েল চত্বরের দক্ষিণ-পশ্চিম-উত্তর পাশে সাধারণ পার্কিং। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হল থেকে বঙ্গবাজার হকার্স মার্কেট ক্রসিং পর্যন্ত রাস্তার উভয় পাশে সাধারণ পার্কিং। মৎস্য ভবন ক্রসিংয়ের পূর্ব দিকে কার্পেট গলি রোড ক্রসিং পর্যন্ত রাস্তার উভয় পাশে সাধারণ পার্কিং। জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের নিকটবর্তী নির্ধারিত পার্কিংয়ে শুধু ভিভিআইপি ও ভিআইপিগণের গাড়িসমূহ মৎস্য ভবন হয়ে প্রবেশ করবে। অন্যান্য ব্যক্তির গাড়ি এবং বাণিজ্যিক যানবাহনসমূহ সরকারী কর্মচারী হাসপাতাল মোড়-প্রেসক্লাব লিংক রোড-পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পেছনের গলি-সাবকন্ট্রোলরুম গ্যাপ-ইউবিএল ক্রসিং-দোয়েল চত্বর ক্রসিং-মৎস্য ভবন ক্রসিংয়ে স্থাপিত ব্যারিকেডের বাইরে পার্কিং ও চলাচল করবে।
ট্রাইব্যুনালের বিরুদ্ধে কথা না বলার অনুরোধ কামরুলের
স্টাফ রিপোর্টার ॥ যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে ঈদের পর বিএনপি-জামায়াত জোট একটা মরণ কামড় দেয়ার চেষ্টা করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন আইন প্রতিমন্ত্রী এ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম এমপি।
তিনি বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের সময় বিএনপি বাধা দিয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর হত্যা মামলার রায় যাতে বাংলাদেশের মাটিতে না হয় সে জন্য ইনডেমনিটি জারি করেছিল। যুদ্ধাপরাধী বিচার যখন একটা পরিণতির দিকে এগুচ্ছে তখন তারা ঈদের পর মরণ কামড় দেবে। এ জন্য স্বাধীনতা পক্ষের সকল শক্তিকে সোচ্চার থাকার আহ্বান জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস-২০১২’ উপলক্ষে শেখ রাসেল শিশু সংসদ আয়োজিত এক আলোচনাসভা ও পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক ড. সুলতানা শাফির সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন এ্যাটর্নি জেনারেল এ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম, কৃষক লীগের সভাপতি এমএ করিম প্রমুখ। অনুষ্ঠান শেষে পরিষদের পক্ষ থেকে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিশুদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
আইন প্রতিমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর আর কোন দেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিরোধিতা করে না। কিন্তু আমাদের দেশে করে । কারণ আমরা এখন স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিকে বিতাড়িত করতে পারিনি। এখন পাকিস্তান নেই কিন্তু পাকিস্তানের সেই মদদদাতারা আছে। তারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বাঁধাগ্রস্ত করতে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র করছে।
এ বছরের মধ্যেই কয়েকজন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্যক্রম শেষ হবে এমন আশা প্রকাশ করে কামরুল বলেন, ট্রাইব্যুনাল স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে। বিচার কাজ যেভাবে এগুচ্ছে তাতে এ বছরের মধ্যেই কয়েকজন যুদ্ধাপরাধীর বিচার কাজ শেষ হবে। এ সময় তিনি সবাইকে হতাশ হয়ে ট্রাইব্যুনালের বিরুদ্ধে কথা না বলতে অনুরোধ করেন।
আইন প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যা এবং ২১ আগস্ট শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা- একই সূত্রে গাঁথা। এ দুটি ষড়যন্ত্র আলাদা করে দেখার কোন সুযোগ নেই। তিনি বলেন, ১৫ আগস্ট খালেদা জিয়া তাঁর জন্মদিন পালন করেন। আসলে তাঁর জন্ম দিন তিনটা। ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবের রক্তের মধ্য দিয়ে খালেদা জিয়ার এ জন্ম। সে রূপকথার ডাইনীর মতো জাতীয় শোক দিবসে তাঁর মিথ্যা জন্মদিন পালন করে উল্লাস প্রকাশ করে।
অবশেষে মোবাইলে দশ সেকেন্ড পালস বাধ্যতামূলক হলো
অমান্য করলে ব্যবস্থা গ্রহণ
ফিরোজ মান্না ॥ মোবাইল ফোনের প্রতিকলে ১০ সেকেন্ড পালস বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বুধবার থেকে অপারেটরদের এই নির্দেশ পালন করতে বলেছে বিটিআরসি। যদি কোন অপারেটর এ নির্দেশ অমান্য করে তাহলে ওই অপারেটরের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব) জিয়া আহমেদ বলেন, গ্রাহকরা কল করার পর নেটওয়ার্কের কারিগরি ত্রুটির কারণে প্রতিনিয়তই কল ড্রপের মতো সমস্যায় পড়ছেন। এরপর পুনর্সংযোগে প্রতিবারই এক মিনিট বা পূর্ণ পালসের অর্থ পরিশোধ করতে হয়। অনেকটা ইচ্ছাকৃতভাবে কল ড্রপ করিয়ে অনেক অপারেটরের বাড়তি টাকা আদায় করে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে বিষয়টি নিয়ে কমিশনে আলোচনার পর ১০ সেকেন্ড পালস বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এখন থেকে প্রতিটি অপারেটর প্রতি কলে ১০ সেকেন্ড পালস দিতে বাধ্য। কোন অপারেটর এ নির্দেশ অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বিটিআরসি সূত্র জানিয়েছে, দেশী মোবাইল ফোন কলে সব ধরনের প্যাকেজে ন্যূনতম ১০ সেকেন্ড পালস রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) বলেছে, প্রতিটি দেশী অপারেটরের ক্ষেত্রে ১৫ আগস্ট থেকে এ আদেশ বাস্তবায়ন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ১৫ থেকে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত কোন মোবাইল অপারেটর এ নির্দেশ বাস্তবায়ন করেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে বিটিআরসির এক কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি মনিটর করা হচ্ছে। অপারেটরদের অবশ্যই এ নির্দেশ পালন করতে হবে। এটা না করলে আইন অনুযায়ী তাদের নানা ধরনের জরিমানা করা হবে। গ্রাহকদের একটি কলের বিপরীতে একাধিকবার কল করতে হয়। আর এ চেষ্টায় প্রতিবারই নির্ধারিত এক মিনিটের বা পূর্ণ পালসের ফি দিতে হচ্ছে। এতে গ্রাহকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। গ্রাহকদের আর্থিক ক্ষতি থেকে রক্ষা করতেই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ১০ কোটি মোবাইল গ্রাহক রয়েছে। সারাদিনে একজন গ্রাহক যদি গড়ে ৫টি কল করেনÑ তাহলে দেখা যাবে তিনটি কলই ড্রপ করা হচ্ছে। ফলে ওই গ্রাহককে আবার নতুন করে কল করতে হচ্ছে। এতে তাকে নতুন কলের চার্জ দিতে হচ্ছে। নতুন কল তিনটির জন্য একজন গ্রাহককে কম করে হলেও ৬ টাকা গুনতে হচ্ছে। এভাবে প্রতিটি অপারেটর গ্রাহকদের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা প্রতারণার মাধ্যমে কেটে নিচ্ছে। তাছাড়া বিভিন্ন মোবাইল অপারেটর গ্রাহকসেবার নামে নতুন নতুন প্যাকেজ ঘোষণা করে। এসব প্যাকেজ হচ্ছে শুভঙ্করের ফাঁকি। প্রতিটি অফার গ্রহণ করতে গ্রাহকদের সংশ্লিষ্ট নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হয়। প্রতিটি এসএমএস ২ থেকে আড়াই টাকা কেটে নেয় অপারেটররা। টাকা কেটে নিলেও অনেক গ্রাহকসেবা এ্যাক্টিভ হয় না। অথচ গ্রাহকের পকেট থেকে ওই টাকা চলে যায় অপারেটরের পকেটে। এভাবে ১০ কোটি গ্রাহকের মধ্য থেকে যদি ৩ থেকে ৪ কোটি গ্রাহক অফারগুলো গ্রহণ করেন তাহলে প্রতিদিন মোবাইল কোম্পানিগুলো কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। অনেক গ্রাহক সংক্ষিপ্ত কথোপকথনে অভ্যস্ত। এতে অতিরিক্ত সময়ের ফি নেয়া বাস্তবসম্মত নয়। অপারেটরদের এ ধরনের কাজ বন্ধ করতে ১০ সেকেন্ডের পালস বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। গ্রাহকসেবার নামে বিভিন্ন অফারের বিষয়ে কমিশন ঈদের পরে আরেকটি সিদ্ধান্ত নেবে বলে বিটিআরসি জানিয়েছে।
১০ সেকেন্ডে পালস নির্ধারণের বিষয়টি কমিশনে পাস করার পর তা অপারেটরদের চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। গ্রামীণফোন, রবি, বাংলালিংক, এয়ারটেল, সিটিসেল এবং টেলিটক কর্তৃপক্ষকে যথাযথ নির্দেশ দিয়েছে বিটিআরসি। এছাড়া দেশে এ মুহূর্তে মোবাইল ফোনের সিমের হিসাবে গ্রাহক সংখ্যা নয় কোটি। এ হিসাব এনবিআর ও বিটিআরসির। এর বাইরেও অনেক রেজিস্ট্রেশনবিহীন সিম চালু রেখেছে বিভিন্ন অপারেটর। রেজিস্ট্রেশনবিহীন সিমের বিষয়ে বিটিআরসি এর আগে বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরের কাছে হিসাব চেয়েছিল। অপারেটররা এ হিসাব না দিলেও বিটিআরসি বলেছে, রেজিস্ট্রেশনবিহীন সিমের পরিমাণ কয়েক লাখ।
বিটিআরসি সূত্র জানিয়েছে, গত এক দশকে টেলিকম খাতে লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রায় ৮শ’ অপারেটর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ১৫ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। এসব অপারেটর ৪৭০ বিলিয়ন টাকার বেশি বিনিয়োগ করেছে। এখান থেকে সরকার ১৭ হাজার কোটি টাকারও বেশি রাজস্ব আয় করেছে। টেলিযোগাযোগ খাতে মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে অনেক নীতিমালা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়ন করা হয়েছে। টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণের জন্য স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসাবে ২০০১ সালে বিটিআরসি প্রতিষ্ঠা করে সরকার। নতুন প্রযুক্তি প্রচলনের মাধ্যমে কম খরচে মানসম্মত টেলিযোগাযোগ সেবা নিশ্চিত করতে ২০০২ সালের ৩১ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠানটি আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করে। বর্তমানে গোটা দেশ মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতায় চলে এসেছে। এখন ধরতে গেলে শতভাগ কানেক্টিভিটি তৈরি হয়েছে। সরকারের ভিশন ২০২১ বাস্তবায়নে এই কানেক্টিভিটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ২০০২ সালে মোবাইল ফোনের গ্রাহক সংখ্যা ছিল ১১ লাখ। এখন এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০ কোটি। ইন্টারনেট গ্রাহক সংখ্যাও ছাড়িয়ে গেছে ৪ কোটির উপরে। টেলিযোগাযোগ খাত নিয়মশৃঙ্খলার মধ্যে আনা হয়েছে। মোবাইল অপারেটররা আগে বিনা মূল্যে স্পেক্ট্রাম ব্যবহার করত। এখন লাইসেন্স নবায়নের ওপর ফি ধরা হয়েছে। অপারেটরদের সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বিটিআরসির জটিলতা সৃষ্টি হলেও পরে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হচ্ছে। কিছু ব্যাপারে সমস্যা হতেই পারে। তবে রেগুলেটরি বডি ও অপারেটরদের সম্পর্ক ভাল আছে। এখানে দ্বি-মতের কোন অবকাশ নেই। গত নবেম্বরে টু-জি লাইসেন্স নবায়ন হয়েছে। অপারেটররা টাকাও জমা দিয়েছে।
১৬শ' যাত্রী নিয়ে আটকা পড়েছে দুটি জাহাজ
স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ কর্ণফুলীর মোহনা ও বঙ্গোপসাগরের সন্দ্বীপ উপকূলে প্রায় ১৬শ’ যাত্রী নিয়ে আটকা পড়েছে বিআইডব্লিউটিসির দুটি জাহাজ। ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়লে জাহাজ দুটি অচল হয়ে পড়ে। এতে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে যাত্রীদের মাঝে।
বিআইডব্লিউটিসি সূত্রে জানা যায়, সকালে হাতিয়া থেকে সন্দ্বীপ হয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা করে এমভি মনিরুল হক নামে যাত্রীবাহী জাহাজ। বিকেলের মধ্যেই এটির সদরঘাট জেটিতে ভেড়ার কথা। কিন্তু কর্ণফুলী নদীর মোহনায় এসে এর একটি ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। ফলে জাহাজটি এগুতে না পেরে সেখানেই জরুরী নোঙ্গর করে। এ জাহাজে রয়েছে প্রায় আড়াই শ’ যাত্রী। ঈদকে সামনে রেখে মেরামতের পর এমভি মনিরুল হকের দ্বিতীয় দফা যাত্রা ছিল এটি। এর আগে গত ১৩ আগস্ট এটি চট্টগ্রাম থেকে সন্দ্বীপ ও হাতিয়ার উদ্দেশে ছেড়েছিল।
এদিকে চট্টগ্রাম থেকে প্রায় ১৪শ’ যাত্রী নিয়ে ছেড়ে যাওয়া জাহাজ এমভি আবদুল লতিফ আটকা পড়েছে সন্দ্বীপ উপকূলে। সকাল ৯টায় এটি চট্টগ্রাম সদরঘাট থেকে ছাড়ে। জাহাজটিতে সন্দ্বীপের যাত্রী ছিল প্রায় ১৩শ’ আর হাতিয়ার যাত্রী ছিল শতাধিক। এ জাহাজটিও বিকেলের মধ্যে যাত্রী নিয়ে সন্দ্বীপে ভেড়ার কথা। কিন্তু উপকূলে গিয়ে ইঞ্জিন বিকল হয়ে এটাও থমকে যায়। ফলে উত্তাল সাগরে যাত্রীরা রয়েছেন ভীতির মধ্যে।
বিআইডব্লিউটিসির ডিজিএম (কর্মাশিয়াল) নুরুল আলম আখন্দ জানান, আপাতত জাহাজ দুটিকে নোঙ্গর করা হয়েছে। জোয়ারের সময় এগুলোকে সরিয়ে নেয়ার কাজ শুরু হবে। এর জন্য বিআইডব্লিউটিসির টাগবোট প্রস্তুত রয়েছে। তবে প্রথমে খবর পাওয়ার পরই সঙ্গে সঙ্গে কোন টাগবোট ছুটে যেতে পারেনি বলে স্বীকার করেছে কর্তৃপক্ষ। উল্লেখ্য, ঈদকে সামনে রেখে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছে মানুষ। সন্দ্বীপ এবং হাতিয়ায় যাওয়ার জন্য প্রধান অবলম্বন যাত্রীবাহী জাহাজ।
কবিতার বরপুত্র শামসুর রাহমানের আজ ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী
স্টাফ রিপোর্টার ॥ ছন্দময় ও শিল্পিত শব্দের প্রক্ষেপণে কবিতায় দেশ ও মানুষের কথা বলে গেছেন একইসঙ্গে বাঙালীর ও বাংলাভাষার কবি শামসুর রাহমান। সমকালীনতা ধারণকারী অনন্য প্রতিভায় উজ্জ্বল এই নাগরিক কবি ছিলেন বাংলাদেশ ও আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি। কাব্য রচনায় সৃষ্টি ও মননের দ্যুতিময় উপস্থাপনা তাঁকে দিয়েছে কবিতার বরপুত্রের উপাধি। আজ শুক্রবার দেশ, মাটি ও মানুষের কথা বলা এ কবির ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী। ২০০৬ সালের ১৭ আগস্ট তিনি পাড়ি জমান না ফেরার দেশে। কবির প্রয়াণ দিবসের আগের দিন বৃহস্পতিবার কথা হয় তাঁর স্নেহধন্য পুত্রবধূ টিয়া রহমানের সঙ্গে। বাকরুদ্ধ কণ্ঠে বললেন, সম্পর্কে শ্বশুর হলেও তিনি ছিলেন আমার বাবার মতো। আজও তাঁর ঘরের লিখতে বসার চেয়ার, টেবিলসহ সবকিছু একইরকম আছে। সবই আছে, শুধু মানুষটি নেই। জীবন থেকে হারিয়ে চলে গেলেন স্মৃতির পাতায়। ১৭ আগস্টের বিশেষ দিনটিতে পরিবারের সবাই নিমজ্জিত হয় তাঁকে হারানোর বেদনায়। এসব কথার পর শোকের বাতাবরণ থেকে বেরিয়ে টিয়া রহমান বললেন, শুক্রবার সকালে পরিবারের পক্ষ থেকে কবির বনানীর কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। এছাড়াও কবির স্মৃতি বিজড়িত শ্যামলীর বাসায় কোরান খতম ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।
এর বাইরে কবির মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবে জাতীয় কবিতা পরিষদ। পরিষদের সভাপতি কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী জানান, শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় সংগঠনের পক্ষ থেকে শামসুর রাহমানের কবরে ফুলেল শ্রদ্ধা জানানো হবে।
১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর তিলোত্তমা শহর ঢাকার মাহুতটুলিতে জন্মেছিলেন কবি শামসুর রাহমান। জন্ম ও মৃত্যুর মাঝের ৭৭ বছরের বর্ণময় জীবনের বড় অংশজুড়েই নিমগ্ন থেকেছেন কবিতা সৃজনের মোহ ও অনুরাগে। পুরনো ঢাকায় বেড়ে ওঠায় নগর জীবনের নানা অনুষঙ্গ ও প্রকরণ উদ্ভাসিত হয়েছে এ নাগরিক কবির কবিতায়। জীবনানন্দ পরবর্তী বাংলা কবিতাকে আধুনিকতার পথে ধাবিত করায় তাঁর ভূমিকা একেবারেই স্বতন্ত্র। বিশ শতকের তিরিশের দশকের পাঁচ মহান কবির পর তিনিই আধুনিক বাংলা কবিতার প্রধান পুরুষ হিসেবে প্রসিদ্ধ। ষাটের দশকে গোড়ার দিকেই কবি প্রতিভার বিচ্ছুরণে আলোকিত করেন সাহিত্যের ভুবন। সূচনাটা অস্তিত্ববাদী ইউরোপীয় আধুনিকতায় ধাবিত হলেও একটা সময়ে দেশজ সুর ও ঐতিহ্যকে কবিতায় ধারণ করেছেন নিবিড় মমতায়। সমকালীন ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে চিরকালীনতার অনুভূতির প্রকাশ ঘটিয়েছেন কবিতার বুননে। সাম্প্রদায়িকতা ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে যেমন কবিতার ভাষায় প্রতিবাদ করেছেন, তেমনি মুক্তিযুদ্ধকালে স্বাধীনতার আকাক্সক্ষায় উজ্জীবিত মানুষকে প্রেরণা দিয়েছেন কবিতার সৃষ্টিশীলতায়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ওপর লিখিত তাঁর দুটি কবিতা ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা’ একইসঙ্গে পাঠক ও বোদ্ধাদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয় ও সমাদৃত।
১৯৪৯ সালে লেখেন প্রথম কবিতা ‘১৯৪৯’। প্রকাশিত হয় সাপ্তাহিক সোনার বাংলা পত্রিকায়। আর এই শুরুটা ছিল শিল্পবোধসম্পন্ন সংবেদী পাঠকের জন্য লেখা কবিতার সৃষ্টিসম্ভার। পত্রপত্রিকায় লেখা তাঁর চিত্রকল্পময় কবিতার সূত্র ধরে প্রথম গ্রন্থ প্রকাশের আগেই এপার-বাংলার কবিতাপ্রেমীদের নজর কাড়েন শামসুর রাহমান। ১৯৬০ সালে প্রকাশিত হয় প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে।’ কবির নিমগ্ন অন্তর্গত বোধ ও ভাবনার জগতের অপূর্ব রূপায়ণ ছিল এই কাব্যগ্রন্থ। এছাড়াও ষাটের দশকে প্রকাশিত কবির উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো ‘রৌদ্র করোটিতে’, ‘বিধ্বস্ত নীলিমা’, ‘নিরালোকে দিব্যরথ’ ও ‘আমি অনাহারী।’
অন্তর্মুখী স্বভাবের হলেও রাজনীতির দহন থেকে গা বাঁচিয়ে চলেননি এই কবি। তৎকালীন পাকিস্তান আমলে আইয়ুববিরোধী গণঅভ্যুত্থান এবং মুক্তিযুদ্ধ-পূর্ব ও পরবর্তী বাস্তবতায় অস্ত্র হিসেবে বেছে নিয়েছেন কলমকে। রচনা করেছেন অজস্র অনবদ্য কবিতা। তাঁর রচিত ‘বন্দিশিবির থেকে’, ‘দুঃসময়ে মুখোমুখি’, ‘ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা’, ‘উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ’ কাব্যগ্রন্থগুলোয় তীক্ষè ও প্রবলভাবে বিম্বিত হয়েছে গণমানুষের কণ্ঠস্বরের প্রতিধ্বনি। স্বৈরশাসক আইয়ুব খানকে বিদ্রƒপ করে ১৯৫৮ সালে সিকান্দার আবু জাফর সম্পাদিত সমকাল পত্রিকায় লেখেন ‘হাতির শুঁড’ নামক কবিতা। সত্তরের নবেম্বরের ভয়াল জলোচ্ছ্বাসের পর মওলানা ভাসানীর পল্টনের ঐতিহাসিক জনসভার পটভূমিতে রচিত ‘সফেদ পাঞ্জাবি’ অথবা তারও আগে ‘বর্ণমালা আমার দুঃখিনী বর্ণমালা’, একাত্তরের পটভূমিতে ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা’, ‘স্বাধীনতা তুমি’, ‘গেরিলা’, ‘কাঁক’ ইত্যাদি কবিতাগুলোয় উচ্চারিত হয়েছে এ দেশের কোটি মানুষের কণ্ঠধ্বনি। ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে জীবন বিসর্জন দেয়া আসাদকে নিয়ে লিখেছেন ‘আসাদের শার্ট’ কবিতাটি। বাংলাদেশের অবিসংবাদিত নেতা শেখ মুজিবুর রহমান যখন কারাগারে তখন তাঁকে উদ্দেশ করে লেখেন অসাধারণ কবিতা ‘টেলেমেকাস।’ সামরিক স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লিখেছেন ‘উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ’ ও ‘ইকারুসের আকাশ।’ যুদ্ধাপরাধীদের উত্থানে ক্ষোভের প্রকাশ ঘটিয়ে লিখেছেন ‘একটি মোনাজাতের খসড়া’, ‘ফুঁসে ওঠা ফতোয়া’র মতো আলোড়ন সৃষ্টিকারী কবিতা। গণতন্ত্রের জন্য লড়াকু সৈনিক শহীদ নূর হোসেনকে উৎসর্গ করে রচনা করেছেন ‘বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়।’ এভাবেই নিভৃতচারী ও রোমান্টিক কবি শামসুর রাহমান হয়ে উঠেছেন বাংলাদেশের সমকালের সকল গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার কাব্যভাষ্যকার। একইসঙ্গে কবিতার জমিনে তিনি পরিস্ফুটিত করেছেন চিরকালীন বেদনা, প্রেম, মৃত্যু, ভালবাসাসহ নানা বিষয়ের শৈল্পিক ব্যঞ্জনা। নগর জীবনের প্রতি ভালবাসায় মুগ্ধ হয়ে তাঁর কলম থেকে বেরিয়ে এসেছে গদ্যগ্রন্থ ‘স্মৃতির শহর।’
কবিতা ছাড়াও উপন্যাস, ছড়া, প্রবন্ধ লেখার পাশাপাশি অনুবাদেও সিদ্ধহস্ত ছিলেন শামসুর রাহমান। এর বাইরে গীতিকার হিসেবেও তাঁর আরেকটি পরিচয়। সংখ্যাধিক্যে না হলেও শব্দ চয়ন, উপমা ও শব্দের অন্তমিল ব্যবহারে যা কিনা মানের বিবেচনায় পেয়েছে উৎকর্ষতা। তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গানের মধ্যে রয়েছেÑ ‘আমি প্রতিদিন তোমাকেই দেখি,’ ‘স্মৃতি ঝলমল সুনীল মাঠের কাছে,’ ফসলের মাঠে/ মেঘনার তীরে, অনেক দিনের মতো এই দিন,’ ‘এই মাটির কণা’, ‘স্বাধীনতা তুমি আছ বলে গোলাপ চামেলি ফোটে,’ ‘এল নববর্ষ/শুভ নববর্ষ,’ ‘বৈশাখী দিনে,’ ‘ধুধু পিপাসার ক্ষণে,’ ‘শূন্যে ডালে হঠাৎ হাওয়ায় লাগল ঝাঁকি,’ ‘বৈশাখেরই অগ্নিঝালর দহন আনে জুড়ে,’ ‘কথার ছলেই কথা দিয়েছিলে,’ ‘মধুময় পৃথিবীকে নীলাকাশ ডাকবে,’ ‘তোমার হৃদয়ে শ্রাবণের বর্ষণ,’ ‘মেঘের কিনারে রঙধনু জাগে’ ইত্যাদি।
শামসুর রাহমান রচিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ছয়টি। উপন্যাস লিখেছেন ৬টি। একটি করে রয়েছে প্রবন্ধ ও ছড়ার বই। অনুবাদ গ্রন্থের সংখ্যা ৬টি।
পঞ্চাশের দশকের শেষ দিকে মর্নিং নিউজে সাংবাদিকতার মাধ্যমে পেশাগত জীবনে প্রবেশ ঘটে তাঁর। এরপর ১৯৫৭ সাল থেকে ১৯৫৯ সাল পর্যন্ত রেডিও পাকিস্তানের অনুষ্ঠান প্রযোজক ছিলেন। এর মাঝে আবার ফিরে আসেন পুরনো কর্মস্থল দৈনিক মর্নিং নিউজ-এ। সেখানে ১৯৬০ সাল থেকে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত সহযোগী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৪ সালের নবেম্বরে সরকারী দৈনিক পাকিস্তানের সহকারী সম্পাদকের দায়িত্ব নিয়ে পরবর্তীতে ১৯৭৭ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত দৈনিক বাংলায় এই দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি দৈনিক বাংলা ও সাপ্তাহিক বিচিত্রার সম্পাদক নিযুক্ত হন। ১৯৮৭তে সামরিক সরকারের শাসনামলে তাঁকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়। এ সময় তিনি মাসিক সাহিত্য পত্রিকা অধুনার সম্পাদকের দায়িত্ব¡ পালন করেন।
স্বাধীনতা পুরস্কার, একুশে পদক, বাংলা একাডেমী পুরস্কার, আদমজী পুরস্কার, আনন্দ পুরস্কার, জীবনানন্দ পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন শামসুর রাহমান। রবীন্দ্রভারতী ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাঁকে সম্মানসূচক ডিলিট উপাধি দেয়া হয়।
বাবা মুখলেসুর রহমান চৌধুরী ও মা আমেনা বেগম। ১৩ ভাই-বোনের মধ্যে কবি ছিলেন চতুর্থ। পুরনো ঢাকার পোগোজ ইংলিশ হাইস্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন ১৯৪৫ সালে। ১৯৪৭ সালে ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজী বিষয়ে ভর্তি হন এবং তিন বছর নিয়মিত ক্লাসও করেন সেখানে। শেষ পর্যন্ত আর মূল পরীক্ষা দেননি। পাসকোর্সে বিএ পাস করে তিনি ইংরেজী সাহিত্যে এমএ (প্রিলিমিনারি) পরীক্ষায় দ্বিতীয় বিভাগে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করলেও শেষ পর্বের পরীক্ষায় অংশ নেননি।
আজ জুমাতুল বিদা
স্টাফ রিপোর্টার ॥ আজ জুমাতুল বিদা অর্থাৎ রমজান মাসের শেষ জুমার নামাজ। সারাদেশে মুসলিম সম্প্রদায় বিশেষভাবে জুমাতুল বিদার নামাজ আদায় করবে।
এ উপলক্ষে মসজিদে মসজিদে মুসল্লিদের ভিড় থাকবে অন্যদিনের চেয়ে অনেক বেশি। মুসল্লিরা রমজানের শেষ প্রান্তে এসে জুমাতুল বিদায় আল্লাহর কাছে তাদের রোজা কবুল করা ও গুনাহ মাফ চেয়ে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেবেন।
খালেদা হাসিনাকে বাদ দিয়ে কোন রাজনীতি সফল হবে না
ইলিয়াস আলীর বাসায় ফখরুল
স্টাফ রিপোর্টার ॥ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এখনও বাংলাদেশের রাজনীতি দুই নেত্রীর ওপর নির্ভর করে। তাই দুইনেত্রী খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনাকে বাদ দিয়ে দেশে কোন রাজনীতি সফল হবে না। বৃহস্পতিবার দুপুরে নিখোঁজ বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস আলীর বনানীর বাসায় তার পরিবারের সদস্যদের ঈদ উপহার দিতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা এখনও আশাবাদী ইলিয়াস বেঁচে আছে এবং সরকারের কাছেই আছে। কিন্তু সরকার ইলিয়াস আলীকে খুঁজে বের করতে কোন চেষ্টাই করছে না। তবে ভবিষ্যতে ইলিয়াস আলী গুমের ঘটনায় এ সরকার সবচেয়ে বড় বিপদে পড়বে। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের ভারত সফর ও তৃতীয় ধারার রাজনীতি সম্পর্কে তিনি বলেন, আমরা এ নিয়ে চিন্তা করছি না। আমরা মনে করি- এদেশে দুই নেত্রীকে বাদ দিয়ে যারা রাজনীতির কথা চিন্তা করছেন, তারা অলীক চিন্তা করছেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ইলিয়াস আলীকে ফিরিয়ে দেয়ার দাবিটি জাতীয় দাবিতে পরিণত হলেও গত ৪ মাস ধরে সরকার বিষয়টি নিয়ে কোন কাজ করছে না। সরকারী সংস্থাগুলো কোন প্রশ্নের জবাব দিচ্ছে না। এতে আমাদের বিশ্বাস দিনে দিনে শক্ত হচ্ছে যে, সরকার ও তাদের লোকজনই ইলিয়াস আলী গুমের সঙ্গে জড়িত। তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক দেশে গুম একটি অত্যন্ত জঘন্য অপরাধ। জাতিসংঘ সনদের এটি মানবতাবিরোধী অপরাধ। ইলিয়াস আলী গুমের পরে যে আন্দোলন চাঙ্গা হয়েছিল তা কেন স্তিমিত হয়ে গেল এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আসলে আন্দোলনের একটা স্তর আছে। আমরা মনে করি না আন্দোলন স্তিমিত হয়েছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, ১৭ আগস্ট ইলিয়াস আলী নিখোঁজের চারমাস পূর্ণ হবে। গত ১৭ এপ্রিল ইলিয়াস আলী তার গাড়ি চালকসহ নিখেঁাঁজ হন। এ চার মাসে আমরা সরকারের কাছে বার বার অনুরোধ জানিয়েছি তাকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে। কিন্তু সরকার বিষয়টি নিয়ে এখন আর কোন কথা বলতেও রাজি নয়।
এ সরকারের মেয়াদে ১৩৫ জন রাজনৈতিক নেতা-কর্মী গুম হয়েছে দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের এপিএসের ড্রাইভারের কোন খোঁজ নেই। ইলিয়াস নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা যারা প্রত্যক্ষ করেছিলেন তাদেরও এখন আর দেখা যাচ্ছে না। তিনি অভিযোগ করেন যারাই সামনে আসছে এবং সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলছে তাদেরই গুম করা হচ্ছে। এটা গণতন্ত্রের জন্য অশনি সঙ্কেত। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইলিয়াস আলীও টিপাইমুখসহ এই সরকারের নানা কর্মকা-ের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন।
ইলিয়াস আলী এখনও জীবিত মনে করেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি নেই এমন তথ্য এখনও পাইনি। প্রধানমন্ত্রীও তাকে ফেরত দেবেন বলেছিলেন। আমরা প্রধানমন্ত্রীর কথায় আশ্বস্ত হয়েছি। ইলিয়াসের পরিবারও মনে করে তিনি জীবিত রয়েছেন। সরকার তাকে ফিরিয়ে দেবে বলে আমরা আশা করছি। আর ইলিয়াস আলী যদি সরকারের কাছে না থাকে তাহলে সরকারকেই প্রমাণ করতে হবে যে ইলিয়াস আলী তাদের কাছে নেই।
মির্জা ফখরুল বলেন, ইলিয়াসের খোঁজ পেতে সরকার বিরোধী দলের সহযোগিতা পাচ্ছে না মর্মে দেয়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ্যাডভোকেট সাহারা খাতুনের বক্তব্যকে মিথ্যা। সম্প্রতি এরশাদের দেয়া দুই নেত্রীকে মাইনাস করা বিষয়ক বক্তব্যের বিষয়ে দৃষ্ট আকর্ষণ করা হলে ফখরুল বলেন, এখনও বাংলাদেশের রাজনীতি দুই নেত্রীর ওপর নির্ভর করে। তিনি বলেন, ঈদের পরে সরকার পতনের এক দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু হবে। ইলিয়াস ইস্যুতে আন্দোলনে ভাটা পড়ল কেন এবং ঈদের পরে সরকার পতনের যে আন্দোলন শুরু হবে তাতে ইলিয়াস আলী ইস্যু থাকছে না কেন জানতে চাইলে ফখরুল বলেন, সব আন্দোলনই এক সঙ্গে করা হচ্ছে।
হরতালে গাড়ি পোড়ানোর মামলায় বিএনপির শীর্ষ নেতাদের আত্মগোপন ভুল হয়েছে এবং এজন্য দলকে মাসুল দিতে হবে বলে বিভিন্ন মহল থেকে মন্তব্য করা হয়েছে বিষয়টিকে আপনি কিভাবে দেখছেন সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, এটা দলের সিদ্ধান্ত ছিল। তবে গাড়ি পোড়ানোর মামলায় সরকারের নৈতিক পরাজয় হয়েছে।
দুপুর সাড়ে ১২টায় ইলিয়াস আলী বনানীর বাসায় পৌঁছান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি কাইয়ুম চৌধুরী ও কৃষক দলের যুগ্ম-সম্পাদক জামাল উদ্দিন খান মিলন। ইলিয়াসের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে তার স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা, ছোট মেয়ে সাইয়ারা নাওয়াল ও ছেলে নাবিদ সাহারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় ইলিয়াস নিখোঁজ থাকায় তার স্ত্রী ও সন্তানদের সান্ত¡না দেন মির্জা ফখরুল।
একজনের মৃত্যুর দিনে অনেকের জন্ম হতে পারে- ব্যারিস্টার রফিক ॥ ১৫ আগস্ট খালেদা জিয়ার জন্ম দিন পালন প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেছেন, জন্ম ও মৃত্যু সব সৃষ্টিকর্তার হাতে। একজন মানুষের মৃত্যুর দিনে অনেকের জন্ম হতে পারে। এটা মানুষ সৃষ্টির আগেই আল্লাহ ঠিক করে রাখেন।
জঈশ-ই-মোহাম্মদের বাংলাদেশ প্রধান ঢাকায় গ্রেফতার
স্টাফ রিপোর্টার ॥ পাকিস্তানভিত্তিক ইসলামী জঙ্গী সংগঠন জঈশ-ই-মোহাম্মদের বাংলাদেশের অন্যতম সংগঠক মাওলানা মোঃ ইউনুসকে (৪৮) গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। তার বিরুদ্ধে কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের মধ্যে সাংগঠনিক তৎপরতা চালানোর অভিযোগ রয়েছে। দলীয় ও ব্যক্তিগতভাবে ইউনুসের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর যোগাযোগ রয়েছে। ইতোপূর্বেও অন্তত অর্ধশত বিদেশী জঙ্গী গ্রেফতার হয়েছে। তারপরও বাংলাদেশে দেশী জঙ্গী সংগঠন ও স্বাধীনতাবিরোধী এবং উগ্র ইসলামী দলগুলোর সহায়তায় জঙ্গী তৎপরতা চলছে।
শুক্রবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য (দক্ষিণ) বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার হাসান আরাফাতের নেতৃত্বে একদল গোয়েন্দা রাজধানীর ফকিরাপুল এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে গ্রেফতার করা হয় মাওলানা ইউনুসকে। দুপুর ২টার দিকে মাওলানা ইউনুসকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া এ্যান্ড পাবলিক রিলেশন শাখায় সাংবাদিকদের সামনে হাজির করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির মিডিয়া সেলের উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান, অতিরিক্ত উপ-কমিশনার নুরুন্নবী ও মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপি মুখপাত্র ডিবির দক্ষিণ বিভাগের উপ-কমিশনার মনিরুল ইসলাম জানান, ইতোপূর্বে গ্রেফতারকৃত রোহিঙ্গা ও মিয়ানমারের নাগরিকদের জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে মাওলানা ইউনুসকে গ্রেফতার করা হয়। মাওলানা ইউনুস কক্সাবাজারের মৌলভীর কাটা আলগিভারী আদর্শ দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক। অভিযোগ করা হচ্ছে, শিক্ষকতার আড়ালে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গী সংগঠন জঈশ-ই-মোহাম্মদের সংগঠক হিসেবে বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছিল।
মাদ্রাসার প্রাক্তন অধ্যক্ষ সাবের আহম্মেদ পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গী সংগঠনটির অন্যতম আদর্শিক নেতা। মূলত অধ্যক্ষ সাবেরের মাধ্যমেই মাওলানা ইউনুস জঈশ-ই-মোহাম্মদের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। প্রায় ১০ বছর আগে সাবের আহম্মেদ পাকিস্তান চলে যায়। সেখান থেকেই কলকাঠি নাড়ছে সাবের আহম্মেদ। পাকিস্তানে অবস্থান করেই মাওলানা মোঃ ইউনুসের মাধ্যমে বাংলাদেশে জঈশ-ই-মোহাম্মদের কার্যক্রমের প্রসার ঘটানোর চেষ্টা করছে। বাংলাদেশে সংগঠনটিকে সংগঠিত করতে আর্থিক ও আদর্শিক সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে মাওলানা সাবের।
মাওলানা ইউনুস কক্সবাজার এলাকায় রোহিঙ্গা ও কক্সবাজারের স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে জঈশ-ই-মোহাম্মদের প্রসার লাভের জন্য কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিল। তাকে বাংলাদেশে জঈশ-ই-মোহাম্মদ ও অন্যান্য জঙ্গী সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ থাকার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত আছে। ইউনুস পাকিস্তানী জঙ্গী সংগঠনটির সংগঠক হিসেবে রামুতে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জঈশ-ই-মোহাম্মদের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করছিল। সাবের ও ইউনুসের সঙ্গে বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামীর যোগাযোগ রয়েছে। ইউনুস জামায়াতের এক শীর্ষ পর্যায়ের নেতার সঙ্গে সাক্ষাতের উদ্দেশেই ঢাকায় এসেছিল। জামায়াতের সঙ্গে ইউনুস ও সাবেরের দলীয় ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে দীর্ঘদিনের যোগাযোগ রয়েছে। জামায়াতের অনেক শীর্ষ নেতাই পাকিস্তানে গিয়ে মাওলানা সাবেরের সঙ্গে যোগাযোগ করে।
প্রসঙ্গত, গত বুধবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে নূর হাবা ও নূর আহমেদকে জাল পাসপোর্টসহ গ্রেফতার করা হয়। তারাও ইউনুস সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য দিয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য যাচাইবাছাই করা হচ্ছে।
মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে পরাজিত শক্তি এদেশে জঙ্গীবাদের বিস্তার ঘটাতে থাকে। বিশেষ করে বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে বাংলাদেশে বিদেশী জঙ্গী সংগঠনের জোর তৎপরতা শুরু হয়। এদেশে ঘাঁটি গাড়তে থাকে বিদেশী জঙ্গী সংগঠনগুলো। দেশে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টির লক্ষ্যে দেশী-বিদেশী জঙ্গীরা কাজ করছে। এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতেই সারাদেশে সাঁড়াশি অভিযান শুরু হয়।
অভিযানের ধারাবাহিকতায় ২০০৯ সালের ২৭ মে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে বিশ্বখ্যাত সঙ্গীত ব্যক্তিত্ব গুলশান কুমার হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত জেলপলাতক আসামি ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড আব্দুর রউফ দাউদ মার্চেন্ট গ্রেফতার হয়। এরপর মাফিয়া ডন ছোট শাকিলের সহযোগী জাহিদ শেখ গ্রেফতার হয়। তাদের তথ্যমতে, গ্রেফতার হয় ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড ও আন্তর্জাতিক জঙ্গী সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়্যেবার শীর্ষ নেতা মুফতি মাওলানা ড. ওবায়দুল্লাহ। ১৫ বছর ধরে বাংলাদেশের ৫ কওমী মাদ্রাসায় শিক্ষতার আড়ালে জিহাদী ভাই (জঙ্গী) তৈরি করছিল। তাকে গ্রেফতার করতে ভারতের কয়েক হাজার কমান্ডো হেলিকপ্টারযোগে অপারেশন চালিয়েছিল। ওবায়দুল্লাহর তথ্যমতে, ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গী লস্কর-ই-তৈয়্যেবার অন্যতম সংগঠক ২৫ বার আফগান যুদ্ধে সরাসরি অংশ নেয়া সমরাস্ত্র ও বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ মাওলানা মোঃ মনসুর আলী ওরফে হাবিবুল্লাহকে গ্রেফতার করা হয়। ১৭ বছর ধরে বাংলাদেশী নাগরিক হিসেবে এদেশে বসবাস করে জঙ্গী তৈরি করছিল। গ্রেফতারকৃতরা প্রকাশ করে দেয় বাংলাদেশে লস্কর-ই-তৈয়্যেবা, জঈশ-ই-মোহাম্মদ, জঈশ-ই-মোস্তফা ও হুজির (হরকত-উল-জিহাদ) কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য।
গ্রেফতারকৃতদের তথ্যমতে, র‌্যাব ২০১০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর নিউমার্কেট থানার ৫৩/১ বসুন্ধরা গলির সুকন্যা টাওয়ারের ৫/এফ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে পাকিস্তানভিত্তিক আত্মঘাতী জঙ্গী সংগঠন জঈশ-ই-মোহাম্মদের উচ্চতর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দুর্ধর্ষ পাকি জঙ্গী রেজোয়ান আহম্মেদ, তার সহযোগী ইমাদ উদ্দিন ওরফে মুন্না, সাদেক হোসেন ওরফে খোকা, আবু নাসের মুন্সী ও বিমান ছিনতাইয়ে পারদর্শী নান্নু মিয়া ওরফে বিল্লালকে গ্রেফতার করে। দেশী-বিদেশী জঙ্গীদের আশ্রয়দাতা হিসেবে দু’সহোদর জামায়াত নেতা সালাউদ্দিন ও বিএনপি নেতা মহিউদ্দিনকেও গ্রেফতার করে র‌্যাব। গোয়েন্দা সূত্রগুলো জানায়, বাংলাদেশে জঙ্গীবাদের মূল শেকড় স্বাধীনতাবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোতে। তাদের কারণেই আজো বাংলাদেশে জঙ্গী তৎপরতা অব্যাহত আছে।
মাইলামের বক্তব্য ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার ষড়যন্ত্রের অংশ
যুক্তরাষ্ট্রে শোক দিবসের আলোচনায় নেতারা
এনা, নিউইয়র্ক থেকে ॥ বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার সংঘবদ্ধ ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম বি মাইলাম ওয়াল স্ট্রীট জার্নালের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সমাজের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশকে কোন ধরনের সহায়তা না দেয়ার জন্যÑএ মন্তব্য করা হয় ১৫ আগস্ট সন্ধ্যায় (বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার সকাল) নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সমাবেশ থেকে। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হলেও মূলত: তা পরিণত হয় ‘বহির্বিশ্বে বাংলাদেশবিরোধী অপপ্রচার প্রতিহত করার সংকল্প গ্রহণের সমাবেশে।’ এতে সভাপতিত্ব করেন এ সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আকতার হোসেন এবং পরিচালনা করেন সেক্রেটারি সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ। বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে শুরু এ সমাবেশে মোট ২৮ জন বক্তব্য রাখেন। মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক ও এনআরবি ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিজাম চৌধুরী। তিনি এ সমাবেশ থেকে আরও উল্লেখ করেন, ষড়যন্ত্রকারীরা ইতোমধ্যেই একটি ক্যু-র (সামরিক অভ্যুত্থান) চক্রান্ত করেছিল বঙ্গবন্ধু কন্যাকে হত্যার জন্য। কিন্তু আমাদের বিচক্ষণ গোয়েন্দা বিভাগ তা নস্যাত করে দিয়েছে। বাংলাদেশ থেকে মুক্তিযুদ্ধের নাম-নিশানা মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র এখনও অব্যাহত রয়েছে বলেও দাবি করেন নিজাম চৌধুরী। ১৪ আগস্ট ওয়াল স্ট্রীট জার্নালে এক সময় ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী উইলিয়াম বি মাইলামের লেখা একটি মন্তব্য প্রতিবেদনের বক্তব্যের কঠোর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে নিজাম চৌধুরী বলেন, বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট আমলে লুট করা সম্পদের বিরাট একটি অংশে আন্তর্জাতিক লবিস্ট ফার্ম ভাড়া করেছে একাত্তরের ঘাতক এবং তাদের দোসররা। উইলিয়াম বি মাইলাম সে প্রক্রিয়ারই একটি অংশ এবং এজন্যই তিনি নগ্ন ভাষায় বিশ্বব্যাংকসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশকে সহায়তা না করার জন্য। নিজাম চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের মানুষ এখন আর বোকা নেই। তাঁরা সবকিছু বুঝতে শিখেছেন এবং তাঁরা নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাচ্ছেন। একাত্তরেও এমন অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছিল কিন্তু বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাঙালী ঐক্যবদ্ধ ছিল বলে স্বাধীনতা যুদ্ধকে নস্যাত করা সম্ভব হয়নি। নিজাম চৌধুরী বলেন, এবারও সম্ভব হবে না, কারণ গোটা জাতি বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। অবিলম্বে এহেন ষড়যন্ত্র থেকে বিরত হওয়ার আহ্বানও জানানো হয় মাইলামসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি। উল্লেখ্য যে, ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক প্রখ্যাত থিঙ্কট্যাঙ্ক ‘উড্রো উইলসন ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর স্কলার’-এর সিনিয়র স্কলার হচ্ছেন উইলিয়াম বি মাইলাম। এই থিঙ্কট্যাঙ্ক থেকেই বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য বিস্তারের পরিকল্পনা ও পরামর্শ প্রদান করা হয়। সাবেক কূটনীতিক, গবেষক, শিক্ষাবিদ এবং আমলারা এ থিঙ্কট্যাঙ্কের সঙ্গে জড়িত।
এ সমাবেশ থেকে আরও ঘোষণা করা হয়, সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগদানের জন্য শেখ হাসিনা যখন নিউইয়র্কে আসবেন তখন তাঁকে স্মরণকালের বৃহত্তম সংবর্ধনা প্রদান ছাড়াও জাতিসংঘের সামনে ও জেএফকে এয়ারপোর্টে বিরাট শান্তি সমাবেশ করা হবে। উল্লেখ্য যে, জেএফকে এয়ারপোর্ট, জাতিসংঘের বাইরে এবং শেখ হাসিনার হোটেলের সামনে কালো পতাকা প্রদর্শন ও বিক্ষোভ প্রদর্শনের যে কর্মসূচী বিএনপি ঘোষণা করেছে তাকে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিহত করার জন্যই আওয়ামী লীগ এ পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে উল্লেখ করেন নিজাম চৌধুরী।
অপর বক্তারা উল্লেখ করেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার মাধ্যমেই তার প্রতি যথার্থ সম্মান প্রদর্শন করা সম্ভব হবে। আলোচনায় অংশ নেন একুশে পদকপ্রাপ্ত শিক্ষাবিদ ড. মনসুর খান, যুক্তরাষ্ট্র আ’লীগের সহসভাপতি মাহবুবুর রহমান, সৈয়দ বসারত আলী, সিরাজউদ্দিন আহমেদ, শামসুদ্দিন আজাদ ও নজমুল ইসলাম, যুগ্ম সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ এবং আইরিন পারভিন, সাংগঠনিক সম্পাদক মহিউদ্দিন দেওয়ান, প্রচার সম্পাদক হাজী এনাম, যুক্তরাষ্ট্র জাসদের সভাপতি আব্দুল মোসাব্বির, নিউইয়র্ক স্টেট আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন আজমল, নিউইয়র্ক মহানগর আ’লীগের সিনিয়র সহসভাপতি জাকারিয়া চৌধুরী এবং সেক্রেটারি ইমদাদুর রহমান চৌধুরী, বাংলাদেশ ল সোসাইটির সেক্রেটারি মুর্শেদা জামান, বঙ্গমাতা পরিষদের সভাপতি আশরাফুজ্জামান, যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের সভাপতি মিসবাহ আহমেদ, যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিক লীগের সভাপতি শামসুল আলম, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সেক্রেটারি নুরুজ্জামান সর্দার, যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগের সেক্রেটারী জাহাঙ্গীর হোসেন, আ’লীগের নির্বাহী সদস্য জসীমউদ্দিন খান মিঠু প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে নিউইয়র্কের বাইরের অঞ্চলের নেতাকর্মীরাও অংশ নেন।
আল বিদা মাহে রমজান
অধ্যাপক মনিরুল ইসলাম রফিক ॥ দেখতে না দেখতেই কিভাবে যেন মাহে রমজান ও এর ইফতার-সাহরী ও তারাবির আনন্দ নিঃশেষিত হতে চলেছে। আজ পবিত্র জুমা, জুমাতুল বিদা! মাহে রমজানুল মোবারককে আনুষ্ঠানিক বিদায় জানানোর হৃদয়ভাঙ্গা দিবস। ২/১দিন পরই ঈদ-উল-ফিতর। একদিকে সিয়ামের পরিবেশ হারানোর বেদনা। অন্যদিকে রমজান মাসে অনেক মধুময় বিষয় ও স্মৃতি আয়ত্ত করার আনন্দ বা ঈদ। দুটো যেন আজ একাকার। এর মাধ্যমে সত্যিকারের সাধকরা সত্যি সত্যি ইসলামের সঠিক সুন্দর হিদায়াতের পথপ্রাপ্ত হন।
হযরত রাসূলে কারীম (স.) বলেছেন : সর্বোত্তম দিন হলো জুমার দিন। এ দিনে হযরত আদমকে (আ) সৃষ্টি করা হয়েছে। এ দিনে তাঁকে জান্নাতে দাখিল করা হয়েছে, এ দিনে হযরত আদমকে (আ) জান্নাত থেকে দুনিয়ায় পাঠানো হয়েছে এবং এ দিনেই কিয়ামত সংঘটিত হবে। -(মুসলিম শরীফ ১ম খ-)। জ্বিন এবং ইনসান ব্যতীত সকল প্রাণী শুক্রবার দিন সুবহে সাদিক থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত, কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার ভয়ে সন্ত্রস্ত হয়ে অপেক্ষমাণ থাকে। এ শুক্রবার দিন এমন একটি সময় আছে, যে সময় কোন মুসলিম বান্দা নামাজ আদায়রত অবস্থায় আল্লাহর কাছে যে কোন জিনিসের প্রার্থনা করবে আল্লাহ্ তাকে তা দান করবেন। হযরত সালমান ফারসী (রাদি) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (স.) বলেছেন : যে ব্যক্তি জুমার দিন যথাযথভাবে গোসল ও পবিত্রতা অর্জন করে এবং নিজের কেশরাজিতে তৈল মেখে অথবা সুগন্ধি ব্যবহার করে নামাজের জন্য মসজিদের উদ্দেশে রওনা হয় এবং মসজিদে এসে দুই ব্যক্তির মাঝে ফাঁক করে না, তারপর যে পরিমাণ নফল নামাজ তার জিম্মায় নির্ধারিত তা আদায় করে, এরপর ইমাম সাহেবের খুৎবা পাঠ করার সময় চুপ করে বসে খুৎবা শ্রবণ করে, আল্লাহ তায়ালা তার বিগত জুমা থেকে বর্তমান জুমা পর্যন্ত যাবতীয় গুনাহ মাফ করে দিবেন।- (বুখারী)।
মাহে রমজানের জুমা অন্য এগারো মাসের জুমা থেকে আরও বেশি ফজিলত ও বরকতের তা বলাই বাহুল্য। কেননা এ মাসের প্রত্যেক ফরজ ইবাদতের সাওয়াব ৭০ গুণ বেশি। আর ‘জুমাতুল বিদা’ মানে পবিত্র রমজান মাসের বিদায়ের বার্তাবাহী জুমা। মু’মিন মুসলমানগণ পরম আহ্লাদ ও বিশেষ মর্যাদায় পালন করে থাকেন এ দিবসটি। রমজানুল মুবারক ক্রমাগত শেষ হয়ে এলে ২টি দিবসের প্রতি তারা বিশেষ আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে থাকে। একটি হলো পবিত্র শব-ই- কদর, অপরটি হলো জুমাতুল বিদা। আজ পবিত্র জুমাতুল বিদার ফজিলত প্রাপ্তির সময়।
জুমাতুল বিদার খুৎবায় থাকে মাহে রমজানের বিদায়বার্তা। মসজিদের ঈমাম বা খতিব যখন অত্যন্ত হৃদয়গ্রাহী ভাষায় তা বর্ণনা করেন তখন দিকে দিকে করুণ ও কাতর দৃশ্যের উদ্ভব হয়। রমজানের বিদায়ী সানাই শোনে মুসল্লিগণ হতবিহ্বল হয়ে পড়েন। এ সময় মুসল্লিগণ তাওবায় অংশ নেন। কায়মনোবাক্যে অতীতের ভুলত্রুটির জন্য অনুশোচনা ব্যক্ত করেন। নিজের জন্য ও ময়-মুরব্বি আওলাদ ফরজন্দ, সর্বোপরি দেশ-জাতির মঙ্গল কামনায় সকলে অভিন্ন কণ্ঠে ফরিয়াদ করেন। তাই জুমাতুল বিদা বস্তুতই ইবাদত বন্দেগীর, তাওবা, ইস্তিগফারের, মাহে রমজানের বিদায় বেলায় আনুষ্ঠানিক আত্মোপলব্ধির ও বিশেষ মুনাজাতের। আমরা যেন পূর্ণ মর্যাদা ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে তা উদযাপন করি।
একইভাবে দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর এখন পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর অত্যাসন্ন। ঈদ-উল-ফিতর মানে রোজা ভাঙ্গার উৎসব। গত একমাস ধরে সিয়াম সাধনার মধ্যে দিয়ে রোজাদার যে কঠিন পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়েছে, আজ তা থেকে উত্তীর্ণের সময় ক্রমেই ঘনিয়ে এসেছে। চতুর্দিকে তাই আজ ঈদের আমেজ সুস্পষ্ট। মুসলিম সমাজ জীবনে ঈদ-উল-ফিতরের অবারিত আনন্দধারার তুলনা চলেনা। কারণ, প্রথমত এ আনন্দ- উৎসবের আমেজ গরিবের পর্ণ কুটির হতে ধনীর বালাখানা পর্যন্ত সমানভাবে মুখরিত। শহর নগর গ্রাম গঞ্জ সর্বত্র এর ঢেউ বি¯ৃÍত। দ্বিতীয়ত এ আনন্দ অতি পবিত্র ও নির্মল। এখানে বাড়াবাড়ি নেই, অতিরঞ্জিতের কোন স্থান নেই। আছে আত্মত্যাগ, অন্যকে কাছে টানার ও ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহ্ তা’য়ালার নৈকট্য লাভের সমন্বিত কর্মসূচী।
বস্তুত রমজান যেমন সাধনার মাস এতে সিয়াম, কিয়ামসহ কঠিন ইবাদতসমূহের মাঝামাঝি রয়েছে ইফতার সাহরীর আনন্দদায়ক মুহূর্তগুলো, তেমনি ঈদ-আনন্দও কিছু বিধিনিষেধে পরিপূর্ণ যা অনিয়মতান্ত্রিকতাকে নিরুৎসাহিত করে এক সুশৃঙ্খল ও ধারাবাহিক দায়িত্ব কর্তব্য স্মরণ করিয়ে দেয়। যেমন : ঈদের নামাজের প্রাক্কালে কিছু মুস্তাহাব কাজ করার বিধান রয়েছে। তন্মধ্যে- ১. ঈদগাহে গমনের পূর্বে ফজরের পর কোন মিষ্টি জাতীয় খাবার গ্রহণ, ২. গোসল করা, ৩. মিসওয়াক করা, ৪. খুশবু ব্যবহার করা, ৫. উত্তম কাপড় চোপড় পরিধান করা ৬. ঈদের নামাজে গমনের পূর্বে সাদকাতুল ফিতর আদায় করা ৭. প্রত্যুষে বিছানা ত্যাগ করা, ৮. সকাল সকাল ঈদগাহে উপস্থিত হওয়া, ৯. হেঁটে হেঁটে ঈদগাহ অভিমুখে গমন করা, ১০. চলতে পথে নিচু কণ্ঠে তাকবির বলে যাওয়া (তাকবীর ‘আল্লাহু আকবর, আল্লাহু আকবর, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবর ওয়ালিল্লাহিল হামদ্)। ১১. এক পথে যাওয়া, ভিন্ন পথে আসা, ১২. সাজগোছ করা, ১৩. উন্মুক্ত আকাশের নিচে খোলা ময়দানে ঈদের নামাজ আদায় করা।
ঈদের আনন্দে যেন আমরা ঈদের পালনীয় আহকামগুলো ভুলে না যাই, সে দিকে আগে থেকে সতর্ক থাকতে হবে।
মানুষ মানুষের জন্য
নাঈম বোন ক্যান্সারে আক্রান্ত, চিকিৎসায় সাহায্য করুন
স্টাফ রিপোর্টার ॥ প্রিয় দেশবাসী, মেধাবী ছাত্র মোঃ নাঈম মিয়ার (১৪) জীবন বাঁচাতে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিন। দীর্ঘদিন ধরে সে বোন ক্যান্সারে আক্রান্ত। তাকে কলকাতা মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসা করানোর উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু পর্যাপ্ত টাকার অভাবে ভারতে তার চিকিৎসা মাঝপথে আটকে গেছে। তাকে পুরোপুরি সুস্থ করে তুলতে আরও ১২ লাখ টাকা লাগবে বলে জানিয়েছেন কলকাতা মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের ক্যান্সার বিভাগের প্রধান অধ্যাপক অনুপ মজুমদার। কিন্তু নাঈমের পিতা সাংবাদিক মোঃ আহছান উল্লাহর পক্ষে এই ব্যয়বহুল চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। চিকিৎসার পেছনে সহায়সম্পত্তি হারিয়ে ইতোমধ্যে নিঃস্ব হয়ে গেছে পরিবারটি। বরিশালের গৌরনদী পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের উত্তর পালরনদী মহল্লায় তাদের বাসা। গৌরনদী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আহছান উল্লাহ। গৌরনদী সদরের আল-হেলাল একাডেমীর নবম শ্রেণীর মেধাবী ছাত্র ও ক্ষুদে ক্রিকেটার নাঈম মিয়া। তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটছে। এমতাবস্থায়, নাঈমের চিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রীসহ সকল হৃদয়বান ও দানশীল ব্যক্তির আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছেন তাঁর অসহায় মাতা-পিতা। মেধাবী ছাত্র নাঈমের চিকিৎসায় সহযোগিতা দিতে সরাসরি যোগাযোগ করুন এই মোবাইল নম্বরে ০১৭১৫৭৮৬১৪৯। আর সাহায্য দিন এই সঞ্চয়ী হিসাবে-মোঃ আহছান উল্লাহ, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, গৌরনদী শাখা, বরিশাল, হিসাব নং ০৩৬০৩১০০০৮২২৭।
ঘোষণা : দৈনিক জনকণ্ঠ ‘মানুষ মানুষের জন্য’ বিভাগে খবর প্রকাশের মাধ্যমে সহৃদয় ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ ঘটিয়ে দিয়ে থাকে। সাহায্য সরাসরি সাহায্যপ্রার্থীর ব্যাংক এ্যাকাউন্টে জমা দিতে হবে অথবা সাহায্যপ্রার্থীর দেয়া মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করতে হবে। দৈনিক জনকণ্ঠ এ বিষয়ে কোন দায়ভার গ্রহণ করবে না।
ফেসবুকে কাদেরের প্রশংসায় তিন শ নাগরিক
তৌহিদুর রহমান ॥ ঈদ উপলক্ষে বিভিন্নস্থানে যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের আকস্মিক পরিদর্শনের বিষয়টি সাধারণ মানুষ ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। এ বিষয়ে যোগাযোগমন্ত্রীর ফেসবুকে সারাদেশ থেকে শত শত প্রশংসাসূচক মন্তব্য করা হয়েছে। গত চারদিনে পৌনে তিন শ’ নাগরিক যোগাযোগমন্ত্রীকে প্রশংসা করেছেন। মন্ত্রীকে রেল ও বাস স্টেশনে আকস্মিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার জন্য ফেসবুকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ঈদ উপলক্ষে প্রতিদিনই যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বিভিন্ন রেল ও বাস স্টেশন পরিদর্শন করছেন। পরিদর্শনকালে দায়িত্বে অবহেলার জন্য তিনি ইতোমধ্যে রেলস্টেশনে বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বহিষ্কার করেছেন। একইভাবে বিআরটিসি ও সড়ক বিভাগের কর্মকর্তাকেও দায়িত্বে অবহেলার জন্য সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। যোগাযোগমন্ত্রীর এসব কর্মকা-কে দেশের সাধারণ মানুষ ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। মন্ত্রীর ফেসবুকে এ নিয়ে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য এসেছে।
যোগাযোগমন্ত্রীর ফেসবুকে দেখা যায়, গত চারদিনে পৌনে তিন শ’ নাগরিক মন্ত্রীকে প্রশংসা করেছেন। ফেসবুকে লিপি আজাদ নামে একজন ভদ্রমহিলা যোগাযোগমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেছেন, ‘আমি এর আগে আপনার মতো কোনো মন্ত্রী দেখিনি। দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার রাতারাতি পরির্বতন করা সম্ভব নয়। তবে আপনি যে চেষ্টা করছেন, সেজন্য আপনাকে স্যালুট করি’। সাইফুল আলম নামে একজন ভদ্রলোক লিখেছেন, ‘আপনার মতো এমন কিছু মানুষ চাই’। হাফিজা হ্যাপি সুখী নামের একজন ভদ্রমহিলা লিখেছেন, ‘যোগাযোগমন্ত্রী অন্যান্য রাজনীতিবিদদের জন্য একটি আইডল’। বদরুল আলম পরশ নামে একজন অনুরোধ জানিয়ে লিখেছেন, একদিনের জন্য আপনি প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসেন’। সাজ্জাদুল আনোয়ার লিখেছেন, আপনার মতো একনিষ্ঠ রাজনীতিবিদ চাই’। আমান আলী নামে একজন লিখেছেন, ‘আপনার কাজের জন্য আমরা ঈশ্বরের কাছে দোয়া করি। আপনাকে অন্যান্য মন্ত্রীর অনুসরণ করা উচিত’।
যোগাযোগমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে প্রশান্ত দাশ নামে একজন লিখেছেন ‘মন্ত্রী হলে আপনার মতো মন্ত্রী হওয়া উচিত’ । মোহাম্মদ ইসমাইল লিখেছেন, ‘বাংলাদেশে ওনার মতো মন্ত্রী প্রয়োজন’। সুমন নামে একজন মন্ত্রীর উদ্দেশ্যে লিখেছেন, ‘আপনি যেভাবে কাজ করছেন, আপনার মতো সব মন্ত্রী যদি এমনভাবে কাজ করতেন, তাহলে দেশ পিছিয়ে থাকতো না’। মোছাম্মাদ আক্তার লিখেছেন, ‘আপনি দেশ ও জাতির জন্য কাজ করছেন, আপনি একজন অনেক বড় নেতা’। মোহাম্মদ আহসান কবির নামে একজন লিখেছেন, ‘স্যার আমি আপনার দলের লোক নই। তবে আপনার কাজকে পছন্দ করি। আপনি প্রকৃতই একজন মন্ত্রী।’
যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গত কয়েকদিনে বিভিন্ন বাস ও রেল স্টেশন পরিদর্শনের ছবির ওপরে এসব মন্তব্য করা হয়েছে। বুধবার কমলাপুর রেল স্টেশনে যোগাযোগমন্ত্রীর নির্দেশে অর্থের বিনিময়ে অবৈধভাবে রেলের আসন বিক্রির অভিযোগে এ্যাটেনন্ডেন্ট নিজাম উদ্দীনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। ওইদিন সকালে রেলস্টেশন পরিদর্শনের সময় অভিযোগ পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিজামকে বরখাস্তের এই নির্দেশ দেন মন্ত্রী। একইদিনে একটি ট্রেনের লাইট ও ফ্যান নষ্ট থাকায় রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী সাবা উদ্দীনকে কারণ দর্শানোর এবং বদলির নির্দেশ দেন মন্ত্রী। এর আগে নারায়ণগঞ্জের বিআরটিসি ডিপোতে দুই কর্মকর্তা মিরপুরের বিআরটিসি কার্যালয়ে এক কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্তের নির্দেশ দেন যোগাযোগমন্ত্রী। তাঁর পরিদর্শনের বিষয়ে সাধারণ মানুষ ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। উল্লেখ্য, ওবায়দুল কাদেরকে গত বছর ৫ ডিসেম্বর যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়।