মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বৃহস্পতিবার, ২৬ জুলাই ২০১২, ১১ শ্রাবণ ১৪১৯
খালাফ খুনী গ্রেফতার
০ সৌদি কূটনীতিক খালাফ আল আলী খুনের রহস্য উদঘাটন
০ ৪ খুনী গ্রেফতার
০ খুনীরা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে
বিশেষ প্রতিনিধি ॥ অবশেষে ৪ মাস ২০ দিন পর ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সৌদি দূতাবাসের কর্মকর্তা খালাফ মোহাম্মদ আল আলী খুনের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে। খুনের সঙ্গে জড়িত ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা পেশাদার অপরাধী। খুনে ব্যবহৃত রিভলবারটি উদ্ধার হয়েছে। উদ্ধার হয়েছে খুনের সময়ে ব্যবহৃত গাড়িটি। গ্রেফতারকৃত ৪ খুনীকে ৮ দিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ছিনতাই করতে গিয়ে দুর্বৃত্তরা বাধাপ্রাপ্ত হয়ে খালাফকে হত্যা করেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। ঢাকায় সৌদি দূতাবাসের খুনের ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও খুনীরা গ্রেফতার হওয়ায় বাংলাদেশের সঙ্গে সৌদি আরবের সুসম্পর্ক আরও গভীর হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
গ্রেফতারকৃত ৪ জন হচ্ছে, সাইফুল ইসলাম ওরফে মামুন, মোঃ আল আমিন, আকবর আলী লালু ওরফে রনি, মোঃ রফিকুল ইসলাম ওরফে খোকন। তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদকালে খুনের ব্যাপারে স্বীকার করেছে বলে গোয়েন্দা পুলিশ দাবি করেছেন। তারা ডাকাতি ও ছিনতাই কাজে জড়িত। সৌদি দূতাবাস কর্মকর্তা ছাড়াও এই সঙ্ঘবদ্ধ দুর্বৃত্ত দলটি সাবেক নৌবাহিনীপ্রধানের বাসায় ও ডেপুটি কর কমিশনারের বাসায় ডাকাতি করেছে বলে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে জানিয়েছে।
যেভাবে হত্যাকা- সংঘটিত হয়েছে ॥ রাজধানীর অভিজাত এলাকার কূটনৈতিকপাড়ায় সৌদি দূতাবাসের সেকেন্ড সেক্রেটারি সৌদি নাগরিক খালাফ আল আলীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। বাংলাদেশে এই প্রথম কোন কূটনীতিককে গুলি করে হত্যা করার ঘটনা ঘটল। কারা কি কারণে তাকে গুলি করে হত্যা করেছে তার কারণ এখনও উদঘাটিত হয়নি। পুলিশ, সিআইডি, র‌্যাব, ডিবি, এসবি, ডিজিএফআই, এনএসআইসহ সকল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত শুরু করেছেন। সৌদি কর্মকর্তা নিহত হওয়ার খবর শুনে মঙ্গলবার সকাল ১২টার দিকে সৌদি দূতাবাসের এ্যাম্বাসেডর এ্যাট লার্জ এম জিয়াউদ্দিন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পশ্চিম এশিয়া বিভাগের মহাপরিচালক এম আলামা সিদ্দিক এবং চীফ অব প্রটোকল এমএএস সাদিক দুপুরে ইউনাইটেড হাসপাতালে ছুটে যান। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা সৌদি আরব সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
ঘটনার পর রাত প্রায় সোয়া একটার দিকে গুলশানের নিজ বাসার সামনে গুলি করে হত্যা করা হয় সৌদী দূতাবাসের সেকেন্ড সেক্রেটারি, হেড অব সিটিজেন এ্যাফেয়ার্স কর্মকর্তা খালাফ আল আলীকে (৪৭)। এই হত্যাকা-কে পূর্বপরিকল্পিত এবং সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য বলে তদন্তকারীরা প্রাথমকি ধারণায় উপনীত হয়েছেন। এটা কোন ছিনতাইয়ের উদ্দেশে দুর্বৃত্তের হাতে খুন হওয়ার ঘটনা নয় বলে তদন্তকারীদের ধারণা। তার দেহে মাত্র একটি গুলির আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। যেখানে খুন হয়েছেন সেখানে কোন রক্ত পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্ত শেষে খালাজের মরদেহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের হিমাগারে রাখা হয়েছে।
ঘটনার পর রাত সোয়া ১টার দিকে রাজধানীর গুলশান-১-এর ১২০ নম্বর রোডে এই খুনের ঘটনাটি ঘটে। ১২০ নম্বর রোড ও ১১৭ নম্বর রোড পাশাপাশি। ১১৭ নম্বর রোড থেকে সোজা পশ্চিম দিকে প্রায় ২০ ফুট চওড়া এবং ৫শ’ ফুট লম্বা একটি রাস্তা আছে। রাস্তার দু’পাশে ৪টি করে মোট ৮টি বাড়ি। ১১৭ নম্বর রোড থেকে পশ্চিম দিকে ঢুকতেই প্রথমেই বামদিকে পড়বে অগানন নামের ডুপ্লেক্স একটি বুটিক হাউস। আর ডানদিকে পড়বে ৬তলা ১৯/বি নম্বর বাড়িটি। এ বাড়িটিতে বাংলাদেশের ব্রিটিশ দূতাবাসের একাধিক কর্মকর্তার বসবাস। বাড়িটির পঞ্চম তলায় পর্তুগালের কনসুলেট অফিস। এখানে ঢুকেই মাত্র ১০ গজ পরেই ১৯/বি নম্বর বাড়িটির দেয়ালের পাশ থেকে এগুনোর সামনের রাস্তা থেকে খালাফকে উদ্ধার করা হয়। খালাফকে যেখান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে তার নিচ দিয়ে মাত্র এক ফুট চওড়া একটি ড্রেন বয়ে গেছে। ড্রেনের ওপর প্রায় ৬ ফুট লম্বা দুটি সিমেন্টের পাটাতন রয়েছে। উদ্ধারকালে খালাফ অজ্ঞান অবস্থান ওই পাটাতনের ওপর রাস্তার দিকে পা আর দেয়ালের দিকে মাথা দিয়ে পড়ে ছিলেন। দেয়ালসহ ড্রেনের ওপর ফুলের গাছের লতা ঘন হয়ে ছেয়ে আছে। এতে সহজেই আলো বিশেষ করে রাতে ড্রেনের ওপর পড়বে না।
রাত সোয়া একটার দিকে সেখান থেকে অচেতন অবস্থায় অজ্ঞাত হিসেবে উদ্ধার করে প্রথমেই খালাফকে গুলশান ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। ভোর পৌঁনে ৫টার দিকে ইউনাইটেড হাসপাতালেই খালাফকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। খালাফ যে জায়গায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন সেখান থেকে বাসার দূরত্ব মাত্র ৩৩ গজ। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে খালাফের মৃত্যু হয়। খালাফের দেহ থেকে এক ফোঁটা রক্তও বাইরে বের হয়নি। খালাফের বাম পাঁজরের নিচে একটি গুলির অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। বিকেল ৫টার দিকে খালাফের মরদেহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়।
ডিএমপির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে যা বলা হয়েছে ॥ বুধবার ডিএমপির দেয়া প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ০৫/০৩/১২ খ্রিঃ তারিখ রাত (০৬/০৩/১২ খ্রিঃ তারিখ রাত) অনুমান ১.২০ ঘটিকায় গুলশান থানাধীন ১২০ নং রোডে সৌদি দূতাবাসের কর্মকর্তা খালাফ মোহাম্মদ আল আলী দুষ্কৃতকারী কর্তৃক গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। উল্লিখিত ঘটনায় গুলশান থানার মামলা নং-১৫, তারিখ- ০৭/০৩/১২ খ্রি. ধারা-৩০২/৩৪ পেনাল কোড রুজু হয়। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি খুব গুরুত্বের সঙ্গে দেশী-বিদেশী মিডিয়ায় প্রচারিত হয় এবং মামলাটির বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারও বিশেষ গুরুত্বারোপ করে। মামলাটি প্রাথমিক পর্যায়ে থানা পুলিশ তদন্ত করে। পরবর্তী সময়ে গুরুত্ব বিবেচনায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের ওপর মামলাটির তদন্তভার ন্যস্ত করা হয়।
মামলাটি গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর এবং এর সাথে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি জড়িত বিবেচনায় রেখে ঢাকা মেট্রোপলিটন গোয়েন্দা পুলিশ মামলাটির মূল রহস্য উদঘাটন ও জড়িত অপরাধীদের গ্রেফতারে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালায়। তদন্তকালে মামলাটির তদন্ত সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পদক্ষেপের সঙ্গে মৃতের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন সংগ্রহ করা হয়। ময়নাতদন্তকালে মৃতের শরীরে বিদ্ধ গুলির অংশ ময়নাতদন্তকারী ডাক্তার উদ্ধারপূর্বক পুলিশের নিকট হস্তান্তর করেন। পুলিশ উক্ত ফায়ার্ড বুলেট জব্দনামা মূলে জব্দ করেন এবং ফায়ার্ড বুলেটটি কোন ধরনের অস্ত্র হতে নিক্ষিপ্ত হয়েছে তা নির্ধারণের জন্য সিআইডি বাংলাদেশ, ঢাকার ব্যালিস্টিক বিশারদের নিকট প্রেরণ করা হয়। ব্যালিস্টিক বিশারদ এই মর্মে মতামত দেন যে, ‘ফায়ার্ড বুলেটটি .২২ ক্যালিবারের নিয়মিত আগ্নেয়াস্ত্র হতে নিক্ষিপ্ত হয়েছে।’
মামলাটির রহস্য উদঘাটনের জন্য ছিনতাই/দস্যুতা সংঘটনের বিষয়, ভিকটিমের ব্যক্তিগত ও পেশাগত বিষয় এবং কোন দেশী বা আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্র জড়িত থাকার বিষয়সমূহ বিস্তারিত ও নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখা হয়। এ কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও অপরাধীদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তাদের কর্মকা- পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি মাথায় রেখে তদন্ত কাজ অব্যাহত থাকে। ইতোমধ্যে গত ০৪/০৬/১২ খ্রিঃ তারিখ ডিএমপির দক্ষিণখান থানাধীন উত্তর গাওয়াইর এলাকা হতে আসামি (১) সাইফুল ইসলাম মামুন (২৪), পিতা-মৃত আঃ মোতালেব হাওলাদার, সাং-মধ্য খোন্তাকাটা, থানা-শরণখোলা, জেলা- বাগেরহাট; বর্তমানে-১৩২ উত্তর গাওয়াইর, থানা-দক্ষিণখান, ডিএমপি, ঢাকা, (২) মোঃ আল-আমিন (২৫), পিতা- ফারুক ঘরামী, সাং-হাজীখালী, থানা ও জেলা-পটুয়াখালী; বর্তমানে- কুড়িল বিশ্বরোড, থানা-খিলক্ষেত, ডিএমপি, ঢাকা এবং (৩) আকবর আলী লালু রনি (২৪), পিতা-আঃ জলিল, সাং- গোয়ালকোয়া, থানা-ডামুড্যা, জেলা- শরীয়তপুর; বর্তমানে-২৭ নং ধামালকোট, হাজী সোবহান রোড, থানা-ভাষানটেক, ডিএমপি, ঢাকা, দের দেখানো ও দখল হতে একটি কালো রঙের বিদেশী .২২ বোর রিভলবার নং- ১৬১৬৮১৯ উদ্ধার করা হয়। ধৃত আসামি সাইফুলকে জিজ্ঞাসাবাদে জানায় সে সহ আসামি আল আমিন ও আকবর আলী লালু রনি গং পর্যায়ক্রমে উক্ত অস্ত্রটি দখলে রাখে। এতদসংক্রান্তে উক্ত তিনজনের বিরুদ্ধে দক্ষিণখান থানার মামলা নং- ০৮ (০৬) ১২ খ্রিঃ, ধারা- ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের ১৯-এ রুজু হয়। মামলাটির তদন্তকালে প্রকাশ পায় যে, উল্লিখিত উদ্ধারকৃত .২২ বোরের রিভলবারটি গত ২৯/০৯/১১ খ্রিঃ তারিখ রাতে খিলক্ষেত থানাধীন সেবা ক্লিনিকের মালিক আবুল হোসেনের বাসায় উল্লিখিত আসামি (১) সাইফুল ইসলাম মামুন (২৪), (২) মোঃ আল-আমিন (২৫), (৩) আকবর আলী লালু রনি (২৪), (৪) মোঃ রফিকুল ইসলাম খোকন (৩০), পিতা-আব্দুস সালাম, সাং-নাটকঘর বাইলেন, থানা- কোতোয়ালি, জেলা-ময়মনসিংহসহ অন্যরা ডাকাতি করে অন্য মালামালের সাথে নিয়ে যায়।
অতঃপর খালাফ মোহাম্মদ আল আলীর মামলাটি তদন্তের স্বার্থে উদ্ধারকৃত রিভলবারটি হতে ভিকটিমের মৃত দেহ থেকে উদ্ধারকৃত ফায়ার্ড বুলেটের অংশ নিক্ষিপ্ত হয়েছে কিনা তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মতামত প্রদানের জন্য বিজ্ঞ আদালতের অনুমতিক্রমে সিআইডি বাংলাদেশ, ঢাকার ব্যালিস্টিক বিশারদের নিকট প্রেরণ করা হয়। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ব্যালিস্টিক বিশারদ এই মর্মে মতামত প্রেরণ করেন যে, “ক্রমিক নং ১-এ বর্ণিত আলামত রিভলবার (রিভলবার নং-১৬১৬৮১৯ অজগওঘওঙঝ, গঅউঊ ওঘ এঊজগঅঘণ) দ্বারা ক্রমিক নং ২-এ বর্ণিত আলামত ফায়ার্ড বুলেট ফায়ার করা হয়েছে।” উক্ত মতামত প্রাপ্তির পর সঙ্গতকারণেই প্রতীয়মান হয় যে, উল্লিখিত আসামি (১) সাইফুল ইসলাম মামুন (২৪), (২) মোঃ আল-আমিন (২৫), (৩) আকবর আলী লালু রনি (২৪), (৪) মোঃ রফিকুল ইসলাম খোকন (৩০) আলোচ্য মামলার ঘটনার সাথে জড়িত রয়েছে। কেননা মানুষের ফিঙ্গারপ্রিন্টের মতোই ফায়ার্ড বুলেটে বিভিন্ন ধরনের মার্ক থাকে, যা শুধুমাত্র কোন নির্দিষ্ট আগ্নেয়াস্ত্র দ্বারা গুলিবর্ষণের ঘটনাই প্রমাণ করে এবং এটি একটি চূড়ান্ত সাক্ষ্য। তাছাড়াও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে আসামিদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি যাচাই ও নিশ্চিত করা হয়। এ কারণে তাদেরকে উক্ত মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে এবং তদন্তের স্বার্থে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রকৃত রহস্য উদঘাটনসহ অন্যান্য বস্তুগত সাক্ষ্য সংগ্রহ করার জন্য আট দিনের পুলিশ রিমান্ডে আনা হয়। রিমান্ডে ধৃত আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে আসামি মোঃ রফিকুল ইসলাম খোকনের দেখানো মতে হত্যাকা-ে ব্যবহৃত গাড়িটি গত ২৪/০৭/২০১২ খ্রি. তারিখ রাতে ঢাকার মানিকদী এলাকা হতে উদ্ধার করা হয়। উল্লেখ্য, উক্ত আসামিরা অভ্যাসগতভাবে ডাকাতি ও ছিনতাই কাজের সাথে জড়িত। ইতোপূর্বে সাবেক নৌবাহিনী প্রধানের বাসায় ও ডেপুটি কর কমিশনারের বাসায় তারা ডাকাতি করে বলে তদন্তকালে প্রকাশ পায়। নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে মামলাটির তদন্ত অব্যাহত আছে।
মামলাটির আন্তর্জাতিক গুরুত্ব বিবেচনায় মোল্যা নজরুল ইসলাম পিপিএম (বার), ডিসি (ডিবি-উত্তর), ডিএমপি, ঢাকা মহোদয়ের নেতৃত্বে মামলাটির তদন্তকারী অফিসার মোঃ ওবায়দুল হক পিপিএমসহ ডিবি-উত্তর বিভাগের এডিসি, এসি ও অন্য অফিসারদের দীর্ঘদিনের ঐকান্তিক ও সর্বোচ্চ প্রচেষ্টার মাধ্যমেই আলোচ্য মামলাটির মূল রহস্য উদঘাটন ও জড়িত অপরাধীদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়, যার ফলে দেশ ও আন্তর্জাতিক পরিম-লে ঢাকা মেট্রোপলিটন গোয়েন্দা পুলিশ তথা বাংলাদেশ পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়।
সে সময় কে কি বলেছিলেন ॥ গুলশান থানার অপারেশন অফিসার জনকণ্ঠকে বলেছিলেন, খালাফের দেহের ভেতরে রক্তক্ষরণ হয়েছে। যার ফলে খালাফকে রক্ত দেয়ার কোন পথ ছিল না। খালাফের বামপাঁজরের নিচের দিকে একটি মাত্র গুলির আলামত পাওয়া গেছে। গুলিটি বের হয়ে যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, খুব কাছ থেকে খালাফকে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হতে পারে। ঘটনাস্থল থেকে সিআইডি আলামত সংগ্রহ করে তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। ক্রাইম সিন বিভাগের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ কমিশনার জনকণ্ঠকে জানান, খালাফকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। খুব কাছ থেকে খালাফকে মারাত্মক আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হতে পারে।
জানা গেছে, খালাফ বাংলাদেশের সৌদি দূতাবাসে প্রায় আড়াই বছর যাবত কর্মরত ছিলেন। তিনি আড়াই বছর যাবত গুলশান-১-এর ১২০ নম্বর রোডের বেসরকারী ডেভেলপার কোম্পানি বিটিআইয়ের তৈরিকৃত ৬ তলা ২২/এ নম্বর বাড়িতে বসবাস করছিলেন। তিন ইউনিট বিশিষ্ট বাড়িটির পঞ্চম তলার পূর্বদিকের এ-৪ নম্বর প্রথম ফ্ল্যাটেই বসবাস করছিলেন।
বাড়িটির ম্যানেজার সাইফুল ইসলাম তখন জনকণ্ঠকে জানান, তিনি বাড়িটিতে প্রায় ৫ বছর ধরে ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত। নিহত খালাফ পূর্বদিকের ২১৩৮ বর্গফুট আয়তনের এ/৪ নম্বর ফ্ল্যাটে মাসিক প্রায় অর্ধলাখ টাকা ভাড়ায় বসবাস করছিলেন। খালাফ একাই বসবাস করতেন। তাঁর পরিবার সৌদি আরবে বসবাস করেন। ফ্ল্যাটে কাজের লোক ব্যতীত তেমন কেউ ছিল না। বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, খালাফের ব্যবহৃত দ ৮৪-০৫৯ নম্বরের কালো কাচের অফ হোয়াইট রঙের টয়োটা কারমি গাড়িটি বাড়ির নিচেই পার্কিং করা। খালাফ খুন হওয়ার পর বাংলাদেশের সৌদি দূতাবাসের কর্মকর্তারা খালাফের গাড়িচালক আল আমিনকে সৌদি দূতাবাস কার্যালয়ে নিয়ে যান। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বাড়িটির সিঁড়ির পাশেই খালিফের প্রাইভেটকারের পাশেই প্রিয় হলুদ রঙের চায়নার তৈরিকৃত হারকিউলেস বাইসাইকেলটি অযতেœ পড়ে আছে।
বাড়িটির দ্বিতীয় তলার সি-২ নম্বর ফ্ল্যাটের বাসিন্দা বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত কানাডার নাগরিক ড. শাহ জহির আহমেদ (৪৫) তখন জনকণ্ঠকে জানান, তিনি পরিবার নিয়ে প্রায় সাড়ে ৪ বছর ওই বাড়িতে বসবাস করছেন। কিন্তু এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি। তিনি আরও বলেন, খালাফ প্রায়ই অভিযোগ করতেন, তাঁর প্রিয় বাইসাইকেলটি কে বা কারা প্রায় সময়ই নষ্ট করে রাখে। এতে খালাফ প্রায় বিরক্তি প্রকাশ করতেন। ওইদিন খালাফ বাইসাইকেল নষ্ট থাকায় হেঁটেই ব্যায়াম করতে বের হন।
ড. জহির আহমেদের ছেলে শাহ নাভিন আহমেদ (১৬) বলেছিলেন, সে গুলশানের একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের ছাত্র। সৌদি নাগরিক খালাফের সঙ্গে তাঁর প্রায়ই দেখা হতো। খালাফ প্রচুর ব্যায়াম করতেন। ব্যায়ামের মধ্যে তিনি বেশি করে হাঁটতেন আর বাইসাইকেল চালাতেন। বাড়িটির নিচতলায় খালাফের সাইকেল থাকত। সোমবার রাত ১০টার দিকে লিফটে খালাফের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়। খালাফ প্রায়ই তাকে ব্যায়াম করার পরামর্শ দিত। ব্যায়ামের সময় খালাফের হাতে পানির বোতল দেখা যেত। দীর্ঘ সময় এলাকাটিতে বসবাসকালে এ ধরনের ঘটনা তার নজরে আসেনি। তার ধারণাÑ এ ধরনের বাড়িটির নিরাপত্তাকর্মী তাপস রেমা (২৭) জনকণ্ঠকে জানিয়েছিলেন, ঘটনার পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে খালাফ একটি হাফহাতা সাদা গেঞ্জি, ট্রাউজার আর কেড্স পরে হাঁটতে বের হন। ওই সময় তিনি গেটের ভেতরের দিকে বসে দায়িত্ব পালন করছিলেন। খালাফ প্রতিদিনই হাঁটতেন। কোন কোন সময় গভীররাত পর্যন্তও তিনি ব্যায়াম করতেন। ব্যায়ামের মধ্যে তিনি হাঁটতেন আর বাইসাইকেল চালাতেন। যেদিন সাইকেল নষ্ট থাকত সেদিন হাঁটতেন। রাত ১টা ১২ কি ১৩ মিনিটের সময় একটি আওয়াজ পান। আওয়াজ তেমন জোরালো নয়। সামান্য জোরে গাড়ির চাকা পাংচার হলে যেমন আওয়াজ হয় ঠিক তেমনি একটি আওয়াজ পান। এরপরই একটি সাদা রঙের প্রাইভেটকার দ্রুতগতিতে পূর্বদিক থেকে পশ্চিম দিকে চলে যায়। যতদূর মনে পড়ে গেটের ভেতরে থেকেই তিনি দেখেন গাড়িতে চালকসহ ২ জন ছিল।
যে বাড়ির দেয়ালের পাশে খালাফ গুলিবিদ্ধ হন তার সামনের ২১ নম্বর বাড়ির নিরাপত্তাকর্মী রবিউল ইসলাম (৫০) জনকণ্ঠকে বলেছিলেন, তিনি বাড়িটিতে প্রায় আড়াই বছর হচ্ছে চাকরি করছেন। ঘটনার সময় তিনি দায়িত্বরত ছিলেন। রাত প্রায় সোয়া একটার দিকে একটি আওয়াজ পান। আওয়াজ তেমন জোরালো নয়। পরে তিনি পুলিশের গাড়ির উপস্থিতি টের পান।
যে বাড়ির দেয়ালের পাশ থেকে খালাফকে উদ্ধার করা হয়েছে ওই বাড়ির নিরাপত্তাকর্মী জুলফিকার আলী (৪০) জনকণ্ঠকে বলেছিলেন, তিনি রাতে একটি গুলির শব্দের মতো শব্দ শুনতে পান। এরপর বিষয়টি তিনি পুলিশকে জানান। পুলিশ গিয়ে খালাফকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে।
এই বাড়িটির ঠিক সামনের বাড়ির নিরাপত্তাকর্মী জনকণ্ঠকে জানান, তাঁরা গুলির শব্দ শুনতে পান। এর খানিক পরে পুলিশের উপস্থিতি টের পাওয়া যায়। খালাফকে যে বাড়ির দেয়ালের পাশ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ওই বাড়িটিতে নির্মাণ কাজ চলছে। অনেক রাত পর্যন্তও নির্মাণ কাজ চলে। রাত সাড়ে ১০টার দিকে নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে যায়। তবে ভেতরে নির্মাণ শ্রমিকসহ নিরাপত্তাকর্মীরা থাকেন।
অগাননের কর্মচারী আব্দুর রহিম জনকণ্ঠকে বলেছিলেন, খালাফ যেখানে খুন হয়েছেন তার থেকে প্রায় ১০ গজ দূরে তিনিসহ অগাননের ৪ কর্মচারী অগাননের দ্বিতীয় তলায় বসবাস করেন। সোমবার রাতের খাওয়া-দাওয়া সেরে তারা ঘুমিয়ে পড়েন। তাঁরা হত্যাকা- সম্পর্কে কিছুই জানেন না।
সৌদি দূতাবাসের দ্বিতীয় সচিব (হেড অব সৌদি সিটিজেনস এ্যাফেয়ার্স) দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি। বাংলাদেশ ও সৌদির মধ্যে দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক বজায় থাকবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু সাংবাদিকদের বলেন, আমরা নিহত কর্মকর্তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি, বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে, তদন্তের পর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ঢাকা মেডিক্যালে ইন্টার্নি ডাক্তারদের হামলায় ১৫ সাংবাদিক আহত
কতিপয় চিহ্নিত নেতার উস্কানিতে ইন্টার্নি ও বহিরাগত সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়েছে ॥ অভিযোগ সাংবাদিক নেতাদের
স্টাফ রিপোর্টার ॥ বুধবারও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। দিনব্যাপী এ হামলায় ১৫ জন সাংবাদিক আহত হয়েছেন। সাংবাদিকদের অবরুদ্ধ করে ডাক্তার-কর্মচারীরা তাদের গাড়ি ও ক্যামেরা ভাংচুর করে। স্বাচিপের কতিপয় বিতর্কিত নেতা, ইন্টার্নি চিকিৎসক ও বহিরাগত সন্ত্রাসীরা হামলার ঘটনায় জড়িত। জানা গেছে, বুধবারও হাসপাতালের চিকিৎসক ও সাংবাদিকরা মুখোমুখি অবস্থান নেয়। ঢামেক হাসপাতাল ক্যাম্পাসে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। চিকিৎসক ও কর্মচারীদের স্বেচ্ছাচারিতা ও কর্তব্য অবহেলায় হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার চরম ব্যাহত হচ্ছে। শুধু তাই নয়, যে রোগীকে বাঁচাতে সাংবাদিকরা হাসপাতালে গিয়েছিলেন, বুধবার বিকেল পর্যন্ত তারা নিখোঁজ ছিল। হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মচারীরা তাদের কোথায় রেখেছে, তা কেউ জানতে পারেননি। তবে রোগীকে হাসপাতাল থেকে বিদায় করে দেয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের মহাসচিব অধ্যাপক ডা. ইকবাল আর্সলান জনকণ্ঠকে জানান, উভয় পক্ষের অসহনশীল মনোভাব ও ভুল বোঝাবুঝির কারণে ঘটনাটি ঘটেছে। এটি অনাকাক্সিক্ষত। ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটানোর জন্য হাসপাতালের চিকিৎসক নেতৃবৃন্দকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আর বিষয়টি নিয়ে হাসপাতালের প্রতিনিধি ও সাংবাদিকদের নেতৃবৃন্দের মধ্যে সিটিংয়ের ব্যবস্থা করার জন্য বলে দেয়া হয়েছে। খুব শীঘ্রই এ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে বলে স্বাচিপ মহাসচিব জানান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোগী আরিফুল হক রিপন ও তার স্ত্রী বন্যা চৌধুরীকে হাসপাতাল থেকে রিলিজ দেয়া হয়েছে। রিলিজের পর তারা ঢাকা মেডিক্যাল হাসপাতালে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে দেখা করতে যান। সংবাদ পেয়ে আবাসিক সার্জন ডা. নাজমুল, ডা. হাকিম ও ইন্টার্নি চিকিৎসক জুয়েল তাদের দলবল নিয়ে জরুরী বিভাগের গেট সংলগ্ন পুলিশ ফাঁড়িতে সাংবাদিকদের নির্ধারিত স্থানে রোগী রিপন, তার স্ত্রী বন্যা চৌধুরীকে অবরুদ্ধ করে রাখে। এক পর্যায়ে ওই চিকিৎসকরা লাঠিসোটা নিয়ে সেখানে বসা সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায়। ও পরে তারা কয়েকজন ফটোসাংবাদিকের ক্যামেরা কেড়ে নেয়। এ ঘটনার খবর পেয়ে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশা ও সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু এবং বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আক্তারুজ্জামন লাভলুসহ সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ ঢাকা মেডিক্যালে ছুটে যান। তারা পরিচালকের সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা বলতে গেলে ইন্টার্নি চিকিৎসকরা তাদের ওপরও অতর্কিত হামলা চালায়। এক পর্যায়ে চিকিৎসক-কর্মচারীরা সাংবাদিকদের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। এ সময় সাংবাদিকদের মারধর ও নির্যাতনের ঘটনায় চিকিৎসা নিতে আসা ও ভর্তি রোগীরা ছোটাছুটি করতে থাকে। এ সময় ইন্টার্নি চিকিৎসকরা লাঠিসোটা নিয়ে জরুরী বিভাগের সামনে গাড়ি পার্কিংয়ে প্রেস লেখা কয়েকটি গাড়িতে ভাংচুর চালায়। চিকিৎসক ও কর্মচারীদের ইটপাটকেলে ১৫ সাংবাদিক আহত হন। আহতরা হলেন ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের রিপোর্টার খলিল আরাফাত, ভোরের কাগজের আসলাম রহমান, দৈনিক করতোয়ার রুদ্র রাসেল, সমকালের দীপু হাজরা ও ফটোসাংবাদিক নয়ন, গাজী টিভির রিপোর্টার সায়েদুল ইসলাম, ক্যামেরাম্যান রিয়াজ ও মোজাফফর, বাংলাভিশনের রিপোর্টার সুজন মাহমুদ, ফয়েজ ও সিনিয়র ক্যামেরাম্যান সেলিম, যুগান্তরের সিনিয়র রিপোর্টার মনিরুজ্জামান উজ্জল, দেশ টিভির মাহমুদ হাসান ও ক্যামেরাম্যান ইয়াকুব হাসান সুমন, এটিএন নিউজের স্টাফ রিপোর্টার মফিজুল তপু। এদের মধ্যে চারজনকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে চিকিৎসা দেয়া হয়। এ ছাড়া গাজী টিভি, দেশ টিভি ও সমকালের ক্যামেরা ভাংচুর করা হয়। এ ছাড়া গাজী টিভির একটি গাড়ি ও ক্যামেরা চিকিৎসকদের দখলে রয়েছে। কয়েক সাংবাদিককে হাসপাতালে আটকে রাখা হয়েছে। এ ব্যাপারে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোস্তাফিজুর রহমান জনকণ্ঠকে বলেছেন, এটি একটি দুঃখজনক ঘটনা। আমরা চাচ্ছি জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সমঝোতা করতে। যেভাবে সাংবাদিক ও চিকিৎসকদের মধ্যে মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হয়েছে। এই দ্বন্দ্বে ভবিষ্যতে হাসপাতাল বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
ঘটনার শুরু ॥ জানা গেছে, গত ২৯ জুন ঝিনাইদহে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত আরিফুল হক চৌধুরী আহত হন সার্জারি বিভাগের ২১৪ নম্বর ওয়ার্ডের ৯ নম্বর বেডে সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. শহীদ হোসেনের অধীনে ভর্তি করা হয়। তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে লাভলী নামে এক ইন্টার্নি চিকিৎসকের সঙ্গে রোগী আরিফুলের তর্কাতর্কি হয়। এরই জের ধরে ২০ জুলাই সকালে ওই ওয়ার্ডে প্রবেশ করেন স্বাচিপ নেতা অধ্যাপক ডা. শহীদ হোসেন। এ সময় ইন্টার্নি চিকিৎসক লাভলীকে সঙ্গে নিয়ে স্বাচিপ নেতা অধ্যাপক শহীদ ওই রোগীর বেডের সামনে যায়। এক পর্যায়ে অধ্যাপক শহীদ রোগী শহীদকে প্রশ্ন করেন ‘তুই কি করিস।’ রোগী ঠিকাদার পরিচয় দিলে, তিনি বলেন ঠিকাদাররা সবাই চোর। এক পর্যায়ে অধ্যাপক শহীদ রোগীর স্ত্রী বন্যা চৌধুরীকে ওয়ার্ড থেকে বের করে দিয়ে দরজা লাগিয়ে দেন। এ সময় অধ্যাপক শহীদ ও ইন্টার্নি ডাক্তার লাভলী গুরুতর আহত রোগী আরিফুলকে মারধর করেন ও রোগী আরিফুলকে ছাড়পত্র দিয়ে ওয়ার্ড থেকে বের করে দেন। রোগীর আত্মীয়স্বজন জানান, রোগী আরিফুলের পেটের সেলাইয়ে ইনফেকশন হয়ে পেটের নাড়িভুঁড়ি দেখা যাচ্ছিল। ঘটনাটি কর্তব্যরত ইন্টার্নি চিকিৎসক লাভলীকে জানালে রোগীর আত্মীয়ের ওপর রাগান্বিত হন তিনি। রোগীকে বেড থেকে উঠে তার কাছে নিয়ে আসতে বলা হয়। রোগী বেড থেকে উঠতে কষ্ট হওয়ায় কথা বলতে ওই ইন্টার্নি চিকিৎসক রোগী ও তার আত্মীয়ের ওপর ক্ষিপ্ত হয়। ঘটনাটি জনকণ্ঠসহ বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় খবরটি প্রকাশিত হয়। এরই জের ধরে গত চারদিন ধরে ইন্টার্নি চিকিৎসকরা মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় সময় টিভির স্টাফ রিপোর্টার মাহবুব হোসেন ও ক্যামেরাম্যান মাহাদিউলকে মারধর করে। এক পর্যায়ে তারা সাংবাদিকদের পরিচালকের কক্ষের সামনে দাঁড় করিয়ে রাখেন। বিকেলে বৈশাখী টিভির স্টাফ রিপোর্টার মোসাদ্দেক মুন্না ও ক্যামেরাম্যান অমিত সাহাকে ইন্টার্নি চিকিৎসক ডা. রাজিব ডা. জাহেদ ও সহযোগীরা জরুরী বিভাগ থেকে বের করে দেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, প্রচলিত বিধিবিধান অমান্য করে চিকিৎসকদের কক্ষে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির রিপ্রেজেন্টেটিভদের হরহামেশা ঢোকার ক্ষেত্রে কোন বাধা না থাকলেও এ হাসপাতালে সাংবাদিকদের প্রবেশ করতে বাধা দেয়া হচ্ছে। এটা তথ্য অধিকার আইনের লঙ্ঘন। অনেক চিকিৎসক ও কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, হাসপাতাল কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। যা ইচ্ছে তাই করবে। এখানে চিকিৎসকরা রোগীর সেবা করব। এ জন্যই তাকে চাকরি ও ট্রেনিংয়ের জন্য রাখা হয়েছে। তাদের এখানে মস্তানি করার জন্য রাখা হয়নি। সূত্রগুলো জানায়, সরকারী দলের ভেতরে থেকে বিরোধীদলীয় কিছু চিকিৎসক সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য হাসপাতালে নানা ধরনের অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। অতীতে হাসপাতালে সাংবাদিক প্রবেশের ওপর কোন বিধিনিষেধ ছিল না। এটি তদন্ত হওয়া দরকার। চিকিৎসকের নামে রোগীকে মারধর ও সাংবাদিক পেটালো এরা তবে কারা? সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত চারদিনে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সাংবাদিক লাঞ্ছনার ঘটনা রীতিমতো অপ্রীতিকর ঘটনা। স্বাচিপের বহুল বিতর্কিত কিছু নেতা, ইন্টার্নি চিকিৎসক ও কিছু বহিরাগত সন্ত্রাসী হাসপাতালের জরুরী বিভাগের প্রধান ফটক, বহির্বিভাগ ও কলেজ গেটে সশস্ত্র পাহারা বসিয়েছে। তারা কয়েকদিন ধরে জরুরী বিভাগের গেট দিয়ে কোন সাংবাদিককে ঢুকতে দেয়নি। জোরপূর্বক তাদের বের করে দেয়া হয়। এ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। অনেকে বলেছে, কলেজের ক্ষমতাধর এক নামকরা চিকিৎসক নেতা ও হাসপাতালের প্রশাসনিক কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশে সাংবাদিকদের প্রবেশ বাধা ও মারধরের ঘটনা ঘটছে। এমনকি রোগীদের মারধরের মতো ঘটনা ঘটছে অহরহ। এতে রোগীরা এদের কাছে অসহায় হয়ে পড়েছে। এসব চিকিৎসক নেতার অতীত রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে বহু বিতর্ক রয়েছে। এমনকি প্রায়শই হাসপাতালের ভেতরে চিকিৎসক গ্রুপ ও ইন্টার্নি চিকিৎসকদের ধাওয়া পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটছে। অতীতে এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেনি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়। অনেক চিকিৎসক ও কর্মচারী নাম প্রকাশ না করা শর্তে বলেন, হাসপাতাল কারও ব্যক্তিগত সম্পতি নয় যে যা ইচ্ছা তাই করবে। এখানে চিকিৎসকরা রোগীর সেবা করবে। এ জন্যই তাকে চাকরি ও ট্রেনিংয়ের জন্য রাখা হয়েছে। তাদের এখানে মস্তানি করার জন্য রাখা হয়নি।
বিশ্বব্যাংক ঋণ বাতিল সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে
আশা অর্থমন্ত্রীর ॥ ‘পদ্মা সেতু প্রকল্পে কোন ধরনের দুর্নীতি হবে না’
অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ পদ্মা সেতু প্রকল্পে কোন ধরনের দুর্নীতি হবে না এমন নিশ্চয়তা দিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। বুধবার পদ্মা সেতু নিয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তিনি জোর দিয়ে এ কথা বলেছেন। বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, পদ্মা সেতু সম্পর্কে বাংলাদেশের বক্তব্য আগেও বলা হয়েছে সেতুর কাজ চলতি বছরে শুরু করব। দ্বিতীয়ত আমরা নিশ্চিত করতে চাই যে, এই সেতু প্রকল্পে কোন ধরনের দুর্নীতি হবে না। এবার বিশ্বব্যাংক ঋণ বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে বলে তিনি আশা করছেন।
বিশ্বব্যাংকের সব শর্ত পূরণে গত সোমবার সাবেক যোগাযোগমন্ত্রি সৈয়দ আবুল হোসেন মন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগ করেন। একদিন পর মঙ্গলবার এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, দুর্নীতির কোন বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ না থাকলেও বিশ্বব্যাংকের শর্ত পূরণের অংশ হিসেবেই সৈয়দ আবুল হোসেন পদত্যাগ করেছেন। এর একদিন পরেই বুধবার পদ্মা সেতু নিয়ে অর্থমন্ত্রী আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রদান করেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, পদ্মা সেতু প্রকল্পের জন্য ইতোমধ্যে কাজ শুরু করার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এই কাজটি বিঘিœত হয় যখন বিশ্বব্যাংক এই প্রকল্প বাস্তবায়নে দুর্নীতির আশঙ্কা করে। তাদের এই আশঙ্কা নিবৃত্তির জন্য আমরা দুর্নীতি দমন কমিশনকে দায়িত্ব দিই। দুদক ২০১১ সালের আগস্টে তদন্ত শুরু করে। তাদের তদন্তে এখনও কোন ধরনের দুর্নীতি পাওয়া যায়নি। এই তদন্ত শুধু অব্যাহত নয় আরও জোরদার করা হয়েছে।
আমরা বিশ্বব্যাংককে বারবারই প্রকল্প বাস্তবায়নে পুনরায় কাজ শুরু করতে বলছি এবং তাদের এখানে এসে আমাদের সঙ্গে আলোচনার আহ্বান জানাই। অবশেষে বিশ্বব্যাংক গত জুনে এসে আমাদের সঙ্গে আলোচনা করে। তাদের সঙ্গে আলোচনা কিছুটা এগিয়ে গেলে ৫ জুন চারটি শর্ত দিয়ে বিশ্বব্যাংক তাদের অভিমত ব্যক্ত করে। বিশ্বব্যাংক স্বীকার করেছে যে, তাদের দু’টি শর্ত ইতোমধ্যেই পূরণ হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্ত কমিটি অনেক আগেই গঠন করা হয়েছে এবং উন্নয়ন সহযোগীদের অধিকতর ভূমিকা প্রদান করে বাস্তবায়ন পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিশ্বব্যাংক এরপর আরও স্বীকার করেছে, দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্ত এবং তাদের তদন্ত সম্বন্ধে একটি ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়। শুধু একটি শর্তে আইনগত কারণে আমরা তাদের প্রস্তাবিত পদক্ষেপে সম্মত হয়নি। যে প্রমাণটি বিশ্বব্যাংক বিশ্বাসযোগ্য বলে দাবি করে সেটি আমাদের আইনে তখনই বিশ্বাসযোগ্য হবে যখন এ অভিযোগটি দ্বিতীয় একটি সূত্র দ্বারা সমর্থিত হবে।
কিন্তু অভিযোগের যদিও কোন প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি তবু একজন উচ্চপদস্থ সরকারী কর্মকর্তা ইতোমধ্যেই ছুটিতে গেছেন। সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী নিজেকে নির্দোষ দাবি করেও তদন্তের কাজ এগিয়ে দেয়ার উদ্দেশ্যে দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছেন।
আমরা অন্য তিন উন্নয়ন সহযোগীর সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর থেকেই আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক ইতোমধ্যেই আমাদের জানিয়েছে যে, তারা এই প্রকল্প বাস্তবায়নে গভীরভাবে আগ্রহী এবং এজন্য যেসব বাধা সৃষ্টি হয়েছে সেগুলো অপসারণে আমাদের সাফল্য কামনা করেছে।
জাইকাও এ বিষয় নিয়ে আমাদের সঙ্গে সর্বক্ষণিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। এবং তাদের প্রেসিডেন্ট এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করছেন। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকও এ বিষয়ে আমাদের সঙ্গে আলোচনায় আছে। আমরা প্রথমেই বলেছিলাম, বিশ্বব্যাংকের সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার দাবি রাখে। এখনও আমরা আশা করছি, বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হবে এবং আমাদের যে অপবাদ দেয়া হয়েছে সেটার স্খলন হবে।
প্রণব মুখার্জীর শপথ রাইসিনায় প্রথম বাঙালী রাষ্ট্রপতি
মানস বন্দ্যোপাধ্যায়, নয়াদিল্লী থেকে ॥ সম্পূর্ণ রাজকীয় কায়দায় প্রণব মুখার্জী (৭৬) ভারতের ১৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন বুধবার। সংসদের সেন্ট্রাল হলে তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান সুপ্রীমকোর্টের প্রধান বিচারপতি এসএইচ কাপাড়িয়া। প্রণব এবং প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রতিভা পাটিল ঠিক বেলা সাড়ে ১১টায় সংসদ ভবনে প্রবেশ করেন রাজকীয় কায়দায়। উপরাষ্ট্রপতি হামিদ আনসারি এবং লোকসভা স্পীকার মীরা কুমার এ সময় প্রণব এবং প্রতিভাকে স্বাগত জানিয়ে হলের ভেতর নিয়ে যান। সেন্ট্রাল হলে তাঁর শপথ অনুষ্ঠান হয়। শপথ গ্রহণের পরই প্রতিভার সঙ্গে আসন বদল করে প্রণব বসেন রাষ্ট্রপতির জন্য নির্দিষ্ট আসনে। প্রণবই হচ্ছেন ভারতের প্রথম বাঙালী রাষ্ট্রপতি। প্রণবের পরিবারের অনেকেই আগে থেকেই ছিলেন হলের ভেতর। স্ত্রী শুভ্রা আসেন বেলা ১১টায় হুইলচেয়ারে বসে। ছিলেন পুত্র অভিজিত, কন্যা শর্মিষ্ঠা। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বসেন হলের পেছনের সারিতে। তাঁর পাশে গিয়ে বসেন রেলমন্ত্রী মুকুল রায়। রাজ্যসভা সদস্য কুনাল ঘোষ বসেছিলেন দ্বিতীয় সারির সামনের দিকে। কিন্তু মমতাকে দেখতে পেয়ে ছেনের সারিতে গিয়ে তিনি আসন গ্রহণ করেন। আবাসন প্রতিমন্ত্রী সুগত রায়ও এসে মমতার পাশের আরেকটি আসন দখল করেন। দ্বিতীয় সারির মাঝামাঝি বসেছিলেন চিত্রাভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী। বিজেপি নেতা লাল কৃষ্ণ আদভানি এবং সুষমা স্বরাজ একই সঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করেন। ঠিক সোনিয়া গান্ধীর পিছে পিছে। প্রধানমন্ত্রী ডা. মনমোহন সিং স্ত্রীকে নিয়ে প্রবেশ করেন। চার মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার, অখিলেশ যাদব, ভূপেংদের সিং হুডা, অশোক গেহলট একই সঙ্গে বসেছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আসন গ্রহণ করেছিলেন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি এপিজে আব্দুল কালাম। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো প্রধানমন্ত্রীর পাশের দু’নম্বরের আসনটি খালি রাখা হয়েছিল। কেননা ওই আসনটি নিয়েই এনসিপি নেতা শরদ পাওয়ারের সঙ্গে কংগ্রেসের তিক্ততা চলছে। একে এ্যান্টনি বা পাওয়ার কেউ সেখানে বসেননি। পাওয়ার প্রফুল্ল প্যাটেল, সুপ্রিয়া সুলে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। পূর্বোত্তর থেকে অসমের সাংসদ বীরেন বৈশ, মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী মুকুল সাংমা, অরুণাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী নবাম টাকি, মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী লালথানহাওলা, ডোনার মন্ত্রী পবন সিং ঘটওয়ার, সাংসদ রানী নরহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। শপথ গ্রহণের পর তিনি সংক্ষিপ্ত ভাষণ দেন। ভাষণে নেহরু, গান্ধী, সর্দার প্যাটেল, রাজেন্দ্র প্রসাদ, মওলানা আজাদের প্রতি তিনি শ্রদ্ধা জানলেও নেতাজীর কথা উল্লেখ নেই। মন্দির, মসজিদ, গুরুদ্বারা, গির্জার মর্যাদা রক্ষা করে সব ধর্মকে সমন্বয়ের কথা বলেছেন। শিক্ষা, অহিংসা, শান্তি, প্রগতির সঙ্গে সঙ্গে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের কথা বলেছেন। বলেছেন যুদ্ধ নয়, শান্তির পথই মানবতার লক্ষ্য। যুদ্ধ শেষ হয়নি। নতুন রাষ্ট্রপতি বলেছেন, যুদ্ধ চলছে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে, দারিদ্র্যর বিরুদ্ধে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে। ভাষণের শেষে তিনি স্বামী বিবেকানন্দর বাণী দিয়ে রাষ্ট্রপতির প্রথম ভাষণ শেষ করেন। জাতীয় সঙ্গীতের পর বেরিয়ে যাওয়ার সময় দু’পাশে দাঁড়ানো সকলকে উদ্দেশ করে হাত তুলে সম্মান জানান প্রণব। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে করমর্দন করার সময় পাশে দাঁড়িয়েছিলেন সোনিয়া গান্ধী। প্রণব তাঁকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে এগিয়ে যান। থামেননি প্রথা অনুযায়ী। কিন্তু একেবারে বেরিয়ে যাওয়ার মুখে মমতাকে দেখে এক মুহূর্তের জন্য থমকে দাঁড়িয়ে ছুড়ে দিলেন একটি কথা, খুব খুশি হয়েছি।
জে. খাদিম হুসাইন রাজার বিভ্রান্তিকর বয়ান
মুনতাসীর মামুন
এটি আশঙ্কার বিষয় যে মিডিয়া মানুষকে আজকাল বিভ্রান্ত করছে। কোন কোন বিষয়ে তারা এমন ধারণার সৃষ্টি করেছে যা সত্যের বিপরীত। বালখিল্যতাতো আছেই। যে দিন হুমায়ূন আহমেদের মরদেহ এলো বাংলাদেশে, সেদিন সকালে শুনি একটি চ্যানেলের একজন রিপোর্টার বলছেন, এই যে এমেরিটাস বিমান আসছে। সে আজ ধন্য, কারণ সে বহন করছে হুমায়ূন আহমেদের মরদেহ। কী বলব! যাক, পুরনো বিষয়ে ফিরে যাই। [বিস্তারিত চতুরঙ্গ পাতায়, পৃষ্ঠা-৭]
ব্যস্ততা বেড়েছে মার্কেটের ব্যবসায়ী ও কর্মচারীদের
রমজানুল মোবারক
স্টাফ রিপোর্টার ॥ রমজান এলেই ব্যস্ততা বেড়ে যায় রাজধানীর বড় বড় মার্কেটগুলোর ব্যবসায়ী ও দোকান কর্মচারীদের। সারাদিন দম ফেলার ফুরসত থাকে না। কিন্তু ইফতারের সময় হলেই থেমে যায় সব বেচাকেনা। যদিও রমজান উপলক্ষে এখনও পুরোদমে বেচাকেনা শুরু হয়নি। ব্যবসায়ীরা বলছেন ১০ রোজার পর থেকে তাদের বেড়ে যাবে ব্যস্ততা। তবে শত ব্যস্ততার মধ্যে বিভিন্ন মার্কেট ও ফুটপাথের ব্যবসায়ীদের সন্ধ্যার ইফতার চলে আয়েশী ভঙ্গিতে। সামান্য সময়ের জন্য সব ভেদাভেদ ভুলে তারা এক হয়ে যায়। বুধবার বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে ব্যস্ত থাকা এসব ব্যবসায়ীর এভাবেই ইফতার করতে দেখা গেল। তারা জানান, ব্যস্ততা বাড়লে ইফতারিতে কোন আয়েশী ভঙ্গি থাকবে না। কোনমতে নাকে মুখে দিয়ে ইফতার সারতে হবে। তবে ব্যস্ততা বাড়ার আগে রমজানের প্রথম কয়েকদিন তারা একসঙ্গে ইফতার বেশ উপভোগ করেন।
ইফতারের সময় দোকান মালিক, ব্যবসায়ী ও কর্মচারীদের মধ্যে থাকে না কোন ভেদাভেদ। ইফতারের জন্য মালিকপক্ষের পক্ষ থেকে কর্মচারীদের জন্য থাকে আলাদা বরাদ্দ। অনেক সময় মালিক না থাকলেও কর্মচারীরা নিজেরাই ইফতার সারেন। সে ক্ষেত্রে ইফতারিতে তাদের কোন সমস্যা হয় না। বেশিরভাগ সময় ইফতারি বাইরে থেকে কিনে আনতে হয়। নিজেরা তৈরি করেন শরবত। লেবুর রস বা কখনও ট্যাং পানিতে মিশিয়ে তৈরি করা হয় শরবত। প্রত্যেকটা মার্কেটের সামনেই তৈরিকৃত ইফতারি সহজেই কিনতে পাওয়া যায়। কখনও বা মালিক বাসা থেকে কর্মচারীদের জন্য ইফতারি তৈরি করে আনেন। রাজধানীর, মিরপুর, নিউমার্কেট, গাউছিয়া, বসুন্ধরাসহ বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে ব্যবসায়ীদের আয়েশী ভঙ্গিতে ইফতার সারতে দেখা গেছে।
তবে একেক মার্কেটে ইফতারি আইটেম থাকে একেক রকম। বসুন্ধরা মার্কেটে বিভিন্ন দোকানগুলো ঘুরে দেখা গেছে ব্যবসায়ী ও দোকান কর্মচারীরা মিলেমিশে ইফতার সারছে। তাদের ইফতারির মধ্যেও রয়েছে দামী সব আইটেমের সমাহার। ফ্যাশন ওয়াল্ডের দোকানে গিয়ে দেখা গেল সবাই মিলে একসঙ্গে ইফতারে মেতে উঠেছে। তাদের ইফতারির মধ্যে রয়েছে বেগুনি, চিকেন ফ্রাই, আলুর চিপস, শসা, খোরমা, নাশপাতি, ছোলা, পেঁয়াজু। মুড়ির সঙ্গে ছোলা, পেঁয়াজু, কাঁচা মরিচ ও পেঁয়াজ মিশিয়ে তৈরি করা হয়েছে সবার জন্য ইফতারি। এছাড়া সবার জন্য শরবত তো রয়েছেই। এখানকার এক কর্মচারী বলেন, প্রতিদিন ইফতারের জন্য প্রত্যেকের আলাদা আলাদা বরাদ্দ থাকে। এ বরাদ্দের টাকা দিয়েই একসঙ্গে ইফতারি তৈরি করেন। তিনি বলেন, সারাদিন কর্মব্যস্ততার পর একসঙ্গে এভাবে ইফতারের মজাটাই আলাদা। মালিক সব দিন ইফতারিতে তাদের সঙ্গে থাকেন না। যেদিন থাকে একসঙ্গে ইফতার করেন বলে তিনি জানান।
মিরপুর ১০-এ শাহআলী মার্কেট, মিরপুর এক নম্বরে সোনারবাংলা শপিং কমপ্লেক্স, মুক্তিযোদ্ধা মার্কেট ঘুরে একই দৃশ্য দেখা গেল। সারাদিন কর্মব্যস্ততার পর এক সঙ্গে ইফতারে মেতে ওঠে তারা। ইফতারি আইটেমগুলোও বাইরে থেকে কিনে আনতে হয় বলে জানালেন এসব দোকানের কর্মচারী ও ব্যবসায়ীরা। তারা জানান, এখনও রমজানের পুরোদমে বিক্রি শুরু হয়নি। তাই ইফতারে কিছুটা আয়েশী ভঙ্গিতেই করা হয়। ব্যস্ততা বেড়ে গেলে তখন নাকে মুখে ইফতার করার সময়ও পাওয়া যায় না। নিউমার্কেট ঘুরে দেখা গেল ব্যবসায়ী ইফতারির সময় বেচাকেনা বন্ধ করে ইফতার করছে। নিউমার্কেটের দোতলায় মামুন ফ্যাশনের ব্যবসায়ী মামুন হোসেন বলেন, রোজা শুরু হওয়ার পর থেকে তিনি প্রতিদিন কর্মচারীদের নিয়ে একসঙ্গে ইফতার করেন। ১০ রোজার পর থেকে তাদের ব্যস্ততা অনেক বেড়ে যাবে বলে জানালেন।
এদিকে মার্কেটগুলোর পাশাপাশি ফুটপাথে ব্যবসায়ীদের ইফতারে অন্যরকম আনন্দ লক্ষ্য করা গেছে। তারা নিজেদের সাধ্য অনুযায়ী সীমিত পরিসরে প্রতিদিন ইফতারের আয়োজন করে থাকেন। তাদের ইফতারির আয়োজনে হালিম কাবাবের মতো বড় কোন মেন্যু থাকে না। ইফতারির সময় বেচাকেনার ফাঁকেই তারা ছোলামুড়ি, পেঁয়াজু, খেজুর আলুর চপ দিয়েই সাদামাটা ইফতার করে থাকেন। তবে যেদিন বেচাকেনা ভাল হচ্ছে সেদিন তাদের ইফতারির আইটেমে নতুন কিছু যোগ হয় বলে জানালেন ফার্মগেট ওভার ব্রিজের ফুটপাথের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী জামাল উদ্দিন। তিনি দীর্ঘদিন ঘরে এখানে ব্যবসা করছেন। এবার ঢাকা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে রমজানে ফুটপাথ মুক্ত রাখার ঘোষণা দিলেও শেষপর্যন্ত তা কার্যকর করা সম্ভব হয়নি।
প্রতিবছর রমজানে যে বেচাকেনা হয় তার একটি বিশাল অংশজুড়ে থাকে ফুটপাথের বেচাকেনা। এবার রমজানকে সামনে রেখে তাকে বেচাকেনার বড় ধরনের টার্গেট রয়েছে। তাই আগ থেকেই তারা প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। দিন দিন তাদের ব্যস্ততাও বেড়ে যাচ্ছে বলে জানালে ধানম-ি হাকার্স মার্কেটের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সালাউদ্দিন। তিনি বলেন, ব্যবসার প্রয়োজনেই ফুটপাথে বসেই ইফতার সারতে হয়। বেচাকেনা ফেলে পরিবার-পরিজনদের সঙ্গে ইফতার করার সামর্থ্য তাদের হয়ে ওঠে না। রোজার সামনের দিনগুলো ব্যস্ততা আরও বাড়বে। ফলে প্রতিটি রোজায় তাদের ফুটপাথে বসেই ইফতার সারতে হবে।
সরেজমিনে এসব ফুটপাথ ঘুরে দেখা গেছে চারটার পর থেকে তারা ইফতারি আয়োজনে ব্যস্ত হয়ে ওঠে। ফুটপাথের কয়েক ব্যবসায়ী মিলে এক সঙ্গে ইফতার করতে দেখা গেছে। এক্ষেত্রে প্রতিদিন একজনকে দায়িত্ব দেয়া হয় ইফতারি আয়োজনে। আর সবাই অপেক্ষায় থাকে কখন ইফতারের সময় হবে। ফার্মগেট, নিউমার্কেট, গুলিস্তানের ফুটপাথের গেঞ্জি, জুতো স্যান্ডেল, প্যান্ট শার্টসহ ভাসমান ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন এভাবে ইফতার সারছে বলে তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। প্রতিদিন এভাবে ইফতারি আয়োজন করতে তাদের ৬শ’ টাকা থেকে ৯শ’ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়।
এদিকে রমজান ঘিরে শুরু হওয়া রাজনৈতিক সংস্কৃতি এখনও অব্যাহত রয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে আয়োজন করা হচ্ছে ইফতার পার্টির আয়োজন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের বাইরে থাকায় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বুধবার কোন ইফতারের আয়োজন ছিল না। তবে প্রধান বিরোধী দল পেশাজীবীদের সম্মানে বুধবার আয়োজন করে ইফতার পার্টির। জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে আয়োজিত এ ইফতার পার্টিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা। এছাড়া দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব, দলের সিনিয়র নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা এ ইফতার পার্টিতে অংশগ্রহণ করেন।
এদিকে অন্য দিনের চেয়ে বুধবার পঞ্চম রোজায় ঢাকার ভিন্ন পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে। সকাল থেকে ঢাকার বিভিন্ন রাস্তায় গাড়ির চাপ বেশি থাকায় যানজট লক্ষ্য করা গেছে। ৪র্থ রোজ থেকেই শুরু হয়েছে ভ্যাপসা গরম। বুধবার তার ব্যতিক্রম হয়নি। আকাশে মেঘের আনাগোনা থাকলেও সারাদিন বৃষ্টির দেখা মেলেনি। প্রচ- গরমে অনেক রোজাদারদের হাঁসফাঁস করতে দেখা গেছে। একটু স্বস্তি আশায় যোহর নামাজের পর বিভিন্ন মসজিদের ভেতরে বিশ্রাম করতে দেখা গেছে। তবে এদিন বিদ্যুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল।
এদিকে রমজান উপলক্ষে বিএসটিআই শুরু করেছে ভেজালের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান। বুধবারের অভিযানে ভেজাল পণ্য বিক্রির অভিযাগে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা, একটি প্রতিষ্ঠান সিলগালা ও অবৈধ পণ্য সামগ্রী জব্দ করেছে। বুধবার বিএসটিআইয়ের উদ্যোগে এবযোগে রাজধানীতে চারটি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আবু সাঈদের নেতৃত্বে একটি মোবাইল কোর্ট গোবিন্দপুর, শনির আখড়া এলাকায় ইসলামিক ফার্মাসিটিক্যাল প্রাইভেট লিমিটেডের লাচ্ছাসেমাই, সয়াবিন তৈল এবং সরিষার তৈলের সিএম লাইসেন্স নবায়ন না করে উৎপাদন, বিক্রয় ও বিতরণ করায় ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করে। একই স্থানে বিক্রমপুর ভাগ্যকুল মিষ্টান্ন ভা-ারকে দইয়ের সিএম লাইসেন্স গ্রহণ না করে উৎপাদন, বিক্রয় ও বিতরণ করায় ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রহিমা খাতুনের নেতৃত্বে একটি মোবাইল কোর্ট র‌্যাঙ্কিন স্ট্রিট এলাকায় ভুলু বেকারি এ্যান্ড জেনারেল স্টোরের মানসম্মত পাল্লা ব্যবহার না করায় ৫ হাজার টাকা জরিমানা করে। আজিমপুর এলাকায় নোংরা খোলা পরিবেশের উৎপাদনের জন্য যাদব ঘোষ এ্যান্ড সন্সকে ৮০ হাজার, রোজ হেভেন ফুডসকে ২০ হাজার এবং মৌরি ফুড এ্যান্ড ক্যাটারিংকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে অপর একটি আদালত।
হলুদ হিমু কালো র‌্যাব মানবতার স্বাক্ষর রেখে গেছেন হুমায়ূন
শংকর কুমার দে ॥ ‘হলুদ হিমু কালো র‌্যাব।’ চিরনিদ্রায় শায়িত নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের লেখা বই। বই নয়তো যেন এ এক প্রতিবাদ। এই প্রতিবাদ ক্রসফায়ারের। কলম জাদুকর হুমায়ূন আহমেদ তার এই বই দিয়ে ক্রসফায়ারের প্রতিবাদ করে গেছেন। মানবতার জন্য সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রতিবাদের নিদর্শন ‘হলুদ হিমু কালো র‌্যাব।’
২০০৪ সালে র‌্যাব সৃষ্টি হওয়ার পর একের পর এক ক্রসফায়ারের গল্পে প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন দোষী-নির্দোষ অসংখ্য মানুষ। ২০০৬ সালে ‘হলুদ হিমু কালো র‌্যাব’ নামে বইটি লেখেন কালজয়ী কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ। এই বইয়ের মাধ্যমে ক্রসফায়ারের প্রতিবাদ করেন তিনি। ২০০৪ সালের ৩০ জুন র‌্যাবের হাতে ক্রসফায়ারে নিহত হয় ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর অন্যতম পিচ্চি হান্নান। এরপর র‌্যাবের হাতে ক্রসফায়ারে নিহত হতে থাকে একের পর এক সন্ত্রাসী। ক্রসফায়ার নিয়ে তুমুল বিতর্ক সৃষ্টি হয় সারাদেশেই। নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ তখন আর নিরব থাকতে পারেননি। তাঁর কলমের জাদুর ছোঁয়ায় সৃষ্টি হয় অনবদ্য পাঠক সমাদৃত এক বই। বইয়ের নামকরণ হয় হলুদ হিমু কালো র‌্যাব। এই বইয়ের এক চরিত্র হিমু। তিনি হিমুকে দাঁড় করালেন র‌্যাবের মুখোমুখি। হলুদ হিমু কালো র‌্যাব বইয়ে ক্রসফায়ারে প্রতিবাদ জানালেন লেখক হুমায়ূন আহমেদ। বইটি ২০০৬ সালের বইমেলায় ব্যাপক জনপ্রিয় হয়।
হলুদ হিমু কালো র‌্যাব বইয়ের দারুণ কাটতি হয়। প্রথম সপ্তাহেই বইটির মুদ্রণ করতে হয় তিনবার। বইটি নিয়ে সৃষ্টি হয় তোলপাড়। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে চলে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা। এই বইয়ে র‌্যাবের হাতে আটক দেখানো হয় হিমুকে। হিমুর মুখ দিয়ে বলানো হয়, ‘আমি হাতলবিহীন কাঠের চেয়ারে বসে আছি।’ আমার সামনে বড় সেক্রেটারিয়েট টেবিলের মতো টেবিল। ব্যথায় টনটন শুরু হয়েছে। টেবিলের ওপাশে বসে আছেন তিনজন। মাঝখানে যিনি আছেন তাঁর হাতে চেঙ্গিস খান বই। অতি মনোযোগে বইটা দেখছেন তিনি। মনে হচ্ছে, বইটার ভেতর সাঙ্কেতিক কিছু আছে কিনা ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে । দু’এক লাইন করে মাঝেমধ্যে পড়েন। তারপরই ভুরু কুঁচকে ফেলেন।’ বইয়ের একস্থানে লেখা আছে হিমুর সামনে কিভাবে কাওরান বাজার থেকে আটক করা হয় মুরগি মিলনকে। মুরগি মিলনকে আটক করার পর ক্রসফায়ারে নিয়ে যাওয়ার আগে প্রস্তুতি নেয়া হয়। ক্রসফায়ারের বর্ণনা দেয়া হয়।
র‌্যাবের এই ক্রসফায়ার নিয়ে পাঠকদের মধ্যে সাহসিকতার জন্ম দিয়েছেন কালজয়ী লেখক হুমায়ূন আহমেদ। হলুদ হিমু কালো র‌্যাব বইয়ে ক্রসফায়ারের প্রতিবাদ করেন লেখক। এই বইটি নিয়ে তখন র‌্যাবের সদর দফতরে বৈঠক হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তখনকার স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর।
র‌্যাব কর্মকর্তারা বৈঠকে দাবি করেন যে ‘হলুদ হিমু কালো র‌্যাব’ বইয়ে র‌্যাবের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করা হয়েছে। অতএব প্রতিকার চাই। এই বইটি মানুষ পড়লে র‌্যাব সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হতে পারে সারাদেশেই। এই বইটি নিষিদ্ধ করার দাবি করা হয় বৈঠকে। লেখক হুমায়ূন আহমেদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানানো হয়। র‌্যাব কর্মকর্তাদের এই দাবির মুখে একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছিলেন তখনকার স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাবর। সংবাদ মাধ্যমে এই বই নিয়ে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। তারপর র‌্যাবের গঠিত কমিটি কার্যক্রম স্থগিত করতে বাধ্য হয়।
নন্দিত লেখক হুমায়ন আহমেদ যে একজন মানবতাবাদী ছিলেন তার প্রমাণ দেয় হলুদ হিমু কালো র‌্যাব বইয়ে। সামাজিক দায়বদ্ধতার অঙ্গীকার পূরণ করে গেছেন তার লেখার মধ্য দিয়ে। কথাসাহিত্যের বিনোদনের পাশাপাশি সমাজের আইনশৃঙ্খলার দিকে নজর রেখেছিলেন তিনি। তিনি র‌্যাবের ক্রসফায়ারের প্রতিবাদ জানান তার লেখায়। লেখকের ‘হলুদ হিমু কালো র‌্যাব’ বইয়ের মাধ্যমে ক্রসফায়ারের প্রথম প্রতিবাদ। হলুদ হিমু কালো র‌্যাব বইয়ের মতো অনবদ্য লেখার মধ্য দিয়ে চিরবিদায় নিয়েও বেঁচে থাকবেন অমর কথাসাহিত্যের কিংবদন্তি হুমায়ূন আহমেদ।
জাবির নির্বাচিত ভিসি ড. আনোয়ার হোসেনের দায়িত্ব গ্রহণ
জাবি সংবাদদাতা ॥ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন বুধবার ‘নির্বাচিত উপাচার্য’ হিসেবে যোগদান করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট হলে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে তিনি নবনির্বাচিত উপাচার্য হিসেবে যোগদান করেন। যোগদান অনুষ্ঠানে উপাচার্য বলেন, তিনি বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একযোগে কাজ করবেন। গণতন্ত্র চর্চা, পরমত সহিষ্ণুতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করবেন। তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে মেয়াদ উত্তীর্ণ বিভিন্ন পর্ষদের নির্বাচনের উদ্যোগ নেবেন। শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতকরণে সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। অনুষ্ঠানে উপাচার্য তাঁর ‘স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়’ গড়ার অঙ্গীকার করেন। উপাচার্য আরও বলেন, সন্ত্রাস ও সেশনজটমুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, হলে সহাবস্থান নিশ্চিত করা, শিক্ষা ও গবেষণায় উৎকর্ষ সাধন, প্রয়াত নাট্যাচার্য সেলিম আল দীনের সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে এ বিশ্ববিদ্যালয়কে সংস্কৃতি চর্চার তীর্থভূমি হিসেবে প্রতিষ্ঠা, প্রাকৃতিক পরিবেশ অক্ষুণœ রাখার মাধ্যমে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করার মধ্য দিয়ে তিনি স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অভিযাত্রায় সকলকে অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ ফরহাদ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোঃ নাসির উদ্দিন, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, রেজিস্ট্রার আবু বকর সিদ্দিক, হল প্রভোস্ট, প্রক্টর, বিভাগীয় সভাপতি, অফিসপ্রধান, বিভিন্ন সমিতির নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, অফিসার, কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।
পরে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন বিশ্ববিদ্যালয় শহীদ মিনার, জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন।
এর আগে রাষ্ট্রপতি ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর নির্বাচিত উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক ড. মোঃ আনোয়ার হোসেনকে চার বছরের জন্য এ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিযুক্ত করেন।
গত ২০ জুলাই ২০১২ তারিখে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সিনেটের এক বিশেষ সভায় ‘তিন সদস্যের উপাচার্য প্যানেল নির্বাচন’ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচিত এই তিনজনের প্যানেল থেকে রাষ্ট্রপতি ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর মোঃ জিল্লুর রহমান অধ্যাপক ড. মোঃ আনোয়ার হোসেনকে চার বছরের জন্য জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেন। উল্লেখ্য যে, ২০০৯ সালে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশের সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়েই প্রথম উপাচার্য প্যানেল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
নুহাশপল্লীতে দোয়া মাহফিল ও ইফতারের আয়োজন
ঢাকায় এসেছেন গুলতেকিন
স্টাফ রিপোর্টার ॥ প্রয়াত লেখক হুমায়ূন আহমেদ স্মরণে গাজীপুরের নুহাশপল্লীতে বুধবার সন্ধ্যায় দোয়া মাহফিল ও ইফতারের আয়োজন করা হয়। নুহাশপল্লীর ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম বুলবুল জানান, লেখকের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন, তাঁর পরিবারের সদস্য ও টেলিভিশন অভিনেতা অভিনেত্রীসহ হুমায়ূন আহমেদের ঘনিষ্ঠজনরা এতে অংশ নেন।
লেখকের ছোট ভাই কার্টুনিস্ট আহসান হাবীব জানান, বড় ছেলের মৃত্যুতে মা আয়েশা ফয়েজ এক দিন গরিবদের খাওয়াবেন। তারিখটি এখনও ঠিক হয়নি। তবে পরিবারের সবার সঙ্গে আলোচনা করে শুক্রবার আয়োজনটি করা হতে পারে বলে জানা গেছে। তবে হুমায়ূন আহমেদের কুলখানি কবে হবে সে ব্যাপারে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি।
এদিকে, হুমায়ূন আহমেদের ছোট মেয়ে বিপাশাকে নিয়ে প্রয়াত লেখকের প্রথম স্ত্রী গুলতেকিন ঢাকায় এসেছেন বলেও জানান আহসান হাবীব। মঙ্গলবার রাতে একটি ফ্লাইটে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফেরেন মা- মেয়ে। আগে থেকেই গুলতেকিন ঢাকায় এমন খবর অস্বীকার করেন তিনি।
গত ১৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের বেলভিউ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন হুমায়ূন আহমেদ। মঙ্গলবার প্রিয় নুহাশপল্লীতে তাঁকে দাফন করা হয়।
নুহাশপল্লীতে হুমায়ূন ভক্তদের পদচারণা ॥ নিজস্ব সংবাদদাতা গাজীপুর থেকে জানান, নুহাশপল্লীতে বুধবারও ছিল ভক্তদের পদচারণা । আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম ও দেশের নানা এলাকা থেকে সাংস্কৃতিককর্মী ও সাধারণ ভক্তরা প্রিয় মানুষের কবরটি একবার দেখার জন্য নুহাশপল্লীতে এসেছিলেন। সকাল থেকেই প্রয়াত কথা সাহিত্যক হুমায়ূন আহমেদের কবরে তারা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা ও ভালবাসা জানিয়েছেন। অন্যদিকে হুমায়ূন আহমেদের আত্মার শান্তি কামনা করে সন্ধ্যায় নুহাশপল্লীতে আয়োজন করা হয় মিলাদ মাহফিল।
নুহাশপল্লীর ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম বুলবুল জানান, সাংস্কৃতিক কর্মীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার ভক্তরা বুধবার ভোর থেকেই হুমায়ূন আহমেদের কবর জিয়ারত ও ফুল দিয়ে লেখককে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন। তারা কবরের পাশে অবস্থান করেন। অনেকে তার আত্মার শান্তি কামনা করে দোয়া করেন। এদিকে সকাল থেকেই নুহাশপল্লীতে প্রয়াত লেখকের আত্মার মাগফেরাত কামনায় কোরান তেলাওয়াত করা হয়। সন্ধ্যায় আয়োজন করা হয় ইফতার ও মিলাদ মাহফিলের। হুমায়ূন আহমেদের কবর খনন ও দাফনের কাজে অংশগ্রহণকারীসহ এলাকার লোকজন এতে অংশ নেন।
মঙ্গলবার হুমায়ূন আহমেদের দাফনের পর থেকেই নুহাশপল্লীতে প্রয়াত লেখকের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন, তার বাবা ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী, মা তহুরা আলী এমপি, ছেলে নিশাত ও নিনিতসহ স্বজনরা অবস্থান করছেন। তারা আরও কয়েকদিন সেখানে থাকবেন বলে জানা গেছে। তবে লেখকের ভাইবোন এবং প্রথম স্ত্রীর সন্তানদের কেউই বুধবার নুহাশপল্লীতে যাননি বলে জানান সেখানকার ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম বুলবুল।
বুধবার শাওন স্থানীয় সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, হুমায়ূন আহমেদের ইচ্ছা অনুযায়ীই তাঁকে নুহাশপল্লীতে দাফন করা হয়েছে। এ ব্যাপারে বিভিন্ন মিডিয়ায় ভিন্ন ভিন্ন সংবাদ প্রকাশ করার সমালোচনা করে তিনি বলেন, কবর দেয়ার ব্যাপারে হুমায়ূন আহমেদের বক্তব্য আংশিক প্রকাশ করা হয়েছে। তিনি মৃত্যুর আগে নূহাশপল্লীতেই দাফনের কথা বলে গেছেন।
অলিম্পিক উদ্বোধনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী লন্ডন পৌঁছেছেন
স্টাফ রিপোর্টার ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অলিম্পিক গেমস-২০১২’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে লন্ডন গেছেন। বুধবার সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইটে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন। তিনি লন্ডনের স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে হিথরো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। এরপর সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রী লন্ডনে সেন্ট প্যানক্রাস রেনেসাঁ হোটেলে যান। সফরকালীন পাঁচ দিন তিনি এই হোটেলে থাকবেন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের আমন্ত্রণে বিশ্বের ১২০ দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানরা অলিম্পিক গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৩৮ সদস্যবিশিষ্ট একটি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
লন্ডনে ৫ দিন অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী ব্যস্ত সময় কাটাবেন। তিনি ২৭ জুলাই লন্ডনে অলিম্পিক গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। এর আগে সেদিন বিকেলেই লন্ডনের বাকিংহাম প্যালেসে রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের দেয়া রাজকীয় সংবর্ধনায় যোগ দেবেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ ও পেশাজীবীদের সঙ্গে বেশ কয়েকটি বৈঠকে যোগ এবং স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে সাক্ষাতকার দেবেন। ২৫ জুলাই সেন্ট প্যানক্রাস রেনেসাঁ হোটেলে যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে এক ইফতার মাহফিলে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। হাউস অব লর্ডসের ব্রিটিশ রক্ষণশীল দলের সদস্য ও উইম্বলডনের লর্ড আহমেদ ২৬ জুলাই শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাত করবেন। বাংলাদেশ সংক্রান্ত অল পার্টি ব্রিটিশ পার্লামেন্টারি গ্রুপ, ব্রিটিশ-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স (বিবিসিসি), বাংলাদেশ ক্যাটারার্স এ্যাসোসিয়েশনের (বিসিএ) নেতৃবৃন্দ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত করবেন। প্রধানমন্ত্রী ২৮ জুলাই ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম হেগ এমপির সঙ্গে সাক্ষাত করবেন। কমনওয়েলথ মহাসচিব কমলেশ শর্মা, লেবার পার্টির নেতা এডওয়ার্ড মিলিব্যান্ড এবং প্রখ্যাত সাংবাদিক ও লেখক একুশের অমর গানের রচয়িতা আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর হোটেল স্যুইটে সাক্ষাত করবেন। সর্বইউরোপীয় আওয়ামী লীগ ও সর্বইউরোপীয় বঙ্গবন্ধু পরিষদের নেতৃবৃন্দের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আগামী ২৮ জুলাই ওয়েস্ট মিনিস্টার হোটেলের পার্ক প্লাজায় লন্ডনে বসবাসরত বাংলাদেশী কমিউনিটি আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে অংশগ্রহণ করবেন। প্রধানমন্ত্রী ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন (বিবিসি), সানডে টাইমস ও চ্যানেল ফোর কে সাক্ষাতকার দেবেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আহাদ আলী সরকার, এ্যাম্বাসেডর এ্যাট লার্জ এম জিয়াউদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ এই সফরে শেখ হাসিনার সঙ্গে রয়েছেন। আগামী ৩০ জুলাই সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন।
প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানাতে গতকাল বিমানববন্দরে উপস্থিত ছিলেন সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচটি ইমাম, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহাবুব-উল আলম হানিফ প্রমুখ। এছাড়া মন্ত্রিপরিষদ সচিব, তিন বাহিনীপ্রধানগণ ও কূটনৈতিক কোরের ডিন উপস্থিত ছিলেন।
নৌপথে যাত্রী হয়রানি ও চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থার নির্দেশ
স্টাফ রিপোর্টার ॥ ঈদ সামনে রেখে নৌপথে যাত্রী হয়রানি ও চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বুধবার মন্ত্রণালয়ের সভা কক্ষে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাহজাহান খান এ নির্দেশ দেন।
বৈঠকে নৌপথে যাত্রী হয়রানি বন্ধ, অপরিকল্পিত নদী খনন রোধ, শ্রমিকদের নিরাপত্তা বিধান ও অবৈধভাবে রাতে বালু বোঝাই জাহাজ চলাচল বন্ধ করার বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা হয়।
নৌপরিবহনমন্ত্রী বলেন, ঈদের আগেই নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ড বেড়ে যায়। যাত্রীদের নিরাপত্তা বিধানে এসবের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়া হবে। তিনি বলেন, গত বছরের ন্যায় এ বছরও ঈদে সদরঘাট এলাকায় লঞ্চ মালিক সমিতির উদ্যোগে ‘কমিউনিটি পুলিশ’এর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মন্ত্রী বলেন, নৌপথে সীমানা নির্ধারণ না থাকায় ডাকাতি ও নৌডুবির ঘটনায় মামলা ও অন্যান্য আইনী প্রক্রিয়ায় নানা সমস্যা হচ্ছে। এসব সমস্যা নিরসনে নৌ-সীমানা নির্ধারণে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় কাজ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। নৌপথে নিরাপত্তায় নৌপুলিশ গঠন এবং কোস্টগার্ড বাহিনীকে শক্তিশালী করতে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এছাড়া নৌপথে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করতে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেয়া হবে। নৌপথে মার্কিং এবং ভারতের জাহাজ চলাচলে যে সকল সমস্যা রয়েছে তা সমাধান করা হবে।
ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নিরাপদ ও নিশ্চিত করতে আগামী ২৯ জুলাই ঈদ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন, ভূমিমন্ত্রী রেজাউল করিম হীরা, নৌপরিবহন সচিব আব্দুল মান্নান হাওলাদারসহ মন্ত্রণালয়ের উর্ধতন কর্মকর্তা এবং নৌপরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে বিশ্বব্যাংককে সহায়তা করবে দুদক
স্টাফ রিপোর্টার ॥ পদ্মা সেতুর দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদান করতে সম্মত হয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন। তদন্তের পূর্ণাঙ্গতা, যথার্থতা, স্বচ্ছতা এবং সততা রক্ষা করতে বিশ্বব্যাংকের প্রস্তাবে সম্মত হয়েছেন বলে জানান কমিশনের চেয়ারম্যান গোলাম রহমান। এর মধ্য দিয়ে বিশ্ব ব্যাংকের সকল শর্ত মেনে নিলো সরকার।
বুধবার দুদক চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, পূর্বের শর্তানুযায়ী বিশ্বব্যাংক তিন সদস্যের একটি আন্তর্জাতিক প্যানেল গঠন করবে। এ জন্য সরকার ও বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে এ বিষয়ে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হবে।
জুন মাসের শেষের দিকে পদ্মা সেতু প্রকল্পের ঋণচুক্তি বাতিল করে একটি বিবৃতি দেয় বিশ্বব্যাংক। সরকারী ও বেসরকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিশ্বাসযোগ্য দুর্নীতির অভিযোগ আনা হলেও বাংলাদেশ সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি বলে ওই বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশন বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে পদ্মা সেতুর দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের বিষয়ে তথ্য আদান-প্রদান করতে অস্বীকৃতি প্রকাশ করে বলেও বিশ্বব্যাংক পক্ষ থেকে জানানো হয়। ঋণ চুক্তি বাতিলের পরের দিন দুর্নীতি দমন কমিশন নিজস্ব কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে। এ সময় কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, পদ্মা সেতুর পরামর্শক প্রাক যাচাই সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে বিশ্বব্যাংক অসহযোগিতা করেছে। তিনি বলেন, তারা একটি তালিকা ছাড়া অন্য তথ্য দিতে অপরাগতা প্রকাশ করেছে। তাছাড়া জুন মাসে ২৩ থেকে ২৫ তারিখ বিশ্বব্যাংক কর্মকর্তারা ঢাকা সফরে এসে দুর্নীতি দমন কমিশনকে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক প্যানেল গঠনের যে প্রস্তাব দেয় তা দেশের সার্বভৌমত্ব এবং দুদক আইন পরিপন্থী। তাই দুদক বিশ্বব্যাংকের ওই প্রস্তাব তখন প্রত্যাখ্যান করে।
তবে পদ্মা সেতুর অভিযোগ তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রাখে দুর্নীতি দমন কমিশন। মাঝখানে পদ্মা সেতুর দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে নানা নাটকীয় ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা হচ্ছে, পদ্মা সেতুর দুর্নীতির অভিযোগ বিশ্বব্যাংক যাকে উদ্দেশ্য করে তুলেছিল সেই ব্যক্তি তৎকালীন যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের ২৩ তারিখ পদত্যাগের বিষয়টি। এছাড়া স্বেচ্ছায় ছুটি নেন সেতু বিভাগের সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া। এমন অবস্থায় বুধবার জরুরী সংবাদ সম্মেলন আহ্বাান করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান গোলাম রহমান। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, তদন্তের পূর্ণাঙ্গতা, যথার্থতা, স্বচ্ছতা এবং সততা রক্ষা করতে বিশ্বব্যাংকের প্রস্তাবে সম্মত হয়েছে দুদক। কমিশনের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা যাতে খর্ব না হয় সেদিক লক্ষ্য রেখে সরকার ও বিশ্বব্যাংক এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করবে বলে দুদক চেয়ারম্যান জানান।
বিশ্বব্যাংকের বিরুদ্ধে দুদকের পূর্বের অসহযোগিতার অভিযোগের বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে কমিশনের চেয়ারম্যান গোলাম রহমান বলেন, এটা গ্যাপ অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং, একপর্যায়ে আমাদের মনে হয়েছিল বিশ্বব্যাংক যে প্রস্তাব করেছিল তাতে মনে হয়েছে এতে কমিশনের স্বাধীনতা ক্ষুণœ হতে পারে।
এদিকে পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির বিষয়ে পরামর্শক হিসেবে প্রাকযোগ্য প্রতিষ্ঠানের তালিকায় থাকা ব্রিটিশ কোম্পানি হালক্রো গ্রুপের স্থানীয় প্রতিনিধিদের দুই জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। বুধবার কমিশন কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হন ডিজাইন প্ল্যানিং এ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট কনসালট্যান্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. এ. সোবহান ও ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিংয়ের নির্বাহী পরিচালক প্রফেসর ড. এম. মনোয়ারুল হোসেইন।
সূত্র জানিয়েছে, সকাল ১০টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন কমিশনের উপপরিচালক জয়নুল আবেদিন শিবলী এবং মির্জা জাহিদুল আলম। পদ্মা সেতু প্রকল্পে তাদের কি ধরনের সংশ্লিষ্টতা ছিল এ বিষয়ে জানতেই তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে জানা গেছে।
আমিনুল নিহতের ঘটনা পোশাক শিল্প রফতানিতে প্রভাব ফেলবে না ॥ শ্রমমন্ত্রী
স্টাফ রিপোর্টার ॥ শ্রম ও প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন জানিয়েছেন, পোশাক শিল্প শ্রমিক নেতা আমিনুল ইসলাম নিহতের ঘটনায় পোশাক শিল্প রফতানিতে কোন নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। এ বিষয়ে বিদেশী ক্রেতাদের আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, আমিনুলের খুনীদের গ্রেফতার ও বিচারে প্রশাসন বিশেষভাবে তৎপর রয়েছে। বুধবার সচিবালয়ে পোশাক শিল্প খাতের দেশী ও বিদেশী ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
বৈঠকে শ্রম মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মিকাইল শিপার, এফবিসিসিআই সভাপতি একে আজাদ, বিজিএমইএ সহ-সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান এবং বিজিএমইএর ক্রেতা বিষয়ক পরামর্শক জেনিফার জাব্বারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ক্রেতারা অংশ নেন।
শ্রমমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, দেশে শুধু আমিনুলই নিহত হননি, আরও অনেকে নিহত হয়েছেন। সরকার প্রতিটি হত্যাকা-ই সমান গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত ও ঘাতকদের গ্রেফতারের চেষ্টা করছে। ইতোমধ্যে সৌদি কর্মকর্তার ঘাতকদের গ্রেফতার করা হয়েছে। আমিনুলের ঘাতকরা গ্রেফতার হলে তাদেরও সবার সামনে উপস্থাপন করা হবে।
তিনি বলেন, শ্রমিক নেতা আমিনুল হত্যাকা- নিয়ে বিভিন্ন মহল আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, দেশের তৈরি পোশাক রফতানিতে এর প্রভাব পড়বে। তবে এটা সত্য নয়। এ নিয়ে বিদেশী ক্রেতাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তাদের মতামত হচ্ছে, আমিনুলের ঘটনা পোশাক রফতানির সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। তবে ওই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারে আশা করছেন বিদেশী ক্রেতারা। আমরা তাদের আশ্বাস দিয়েছি, আমিনুলের খুনীদের গ্রেফতারে প্রশাসন বিশেষভাবে তৎপর রয়েছে।
তৈরি পোশাক খাতের পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে মন্তব্য জানতে চাইলে মন্ত্রী মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যে দ্বিমত পোষণ করে তিনি বলেন, কেউ কেউ মনে করছেন, এখানে পরিস্থিতি অনেক খারাপ। এখানে ব্যবসা করার মতো অবস্থা নেই। এ বিষয়ে ক্রেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। এ খাতে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা নেই- এমনটা তারা মনে করেন না। বরং এখানে কাজ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব বলেই তারা মনে করছেন।
শ্রমিকদের বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে শ্রমমন্ত্রী বলেন, শুধু শ্রমিকদের নয়, সকল ভাড়াটিয়ার বাড়ি ভাড়া বাড়ছে। বছরে দুই থেকে তিনবার বাড়ি ভাড়া বাড়ছে। বাড়ি ভাড়া বাড়ার ফলে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। এ মুহূর্তে বেতন বাড়ানোর চেয়ে বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণেই সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। কারণ বেতন বাড়ালে আবারও বাড়িভাড়া বাড়বে।
তিনি জানান, সরকার থেকে বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে ইতোমধ্যেই জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসকরা ইতোমধ্যে কাজ শুরুও করেছেন। অবৈধ ও অন্যায়ভাবে বাড়িভাড়া বাড়ালেই তারা ব্যবস্থা নেবেন। প্রয়োজনে তারা ভ্রাম্যমাণ আদালতও পরিচালনা করবেন।
চাঁপাইয়ে বিএসএফের গুলিতে যুবক নিহত
নিজস্ব সংবাদদাতা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ২৫ জুলাই ॥ চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার শিংনগর সীমান্তে বুধবার দুপুরে জমিতে সেচ দিতে গেলে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী-বিএসএফের গুলিতে এক বাংলাদেশী যুবক নিহত হয়েছে।
নিহত যুবক শিবগঞ্জ উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে সানাউল ইসলাম (২২)। চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৩৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অপারেশন অফিসার মেজর আবু নাঈম জানান, বুধবার দুপুর সোয়া ২টার দিকে শিংনগর এলাকায় ১৬৯ নম্বর সীমানা মেইন পিলার থেকে ১০০ গজ বাংলাদেশ অভ্যন্তরে সানাউল জমিতে সেচ দিতে যায়। এ সময় ভারতের মালদহ ১২০ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের দৌলতপুর ক্যাম্পের জওয়ানরা তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে সে ঘটনাস্থলেই নিহত হয়।
তিনি জানান, এ ঘটনায় বিজিবি কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের জন্য বিএসএফকে আহ্বান জানিয়েছি। ওই বৈঠকে এ হত্যাকা-ের প্রতিবাদ জানাব।
খোশ আমদেদ মাহে রমজান
অধ্যাপক মনিরুল ইসলাম রফিক ॥ আজ মাহে রমজানের ষষ্ঠ দিবস। মাহে রমজান কুরআন নাযিেেলর মাস। এজন্য ইসলামী শরীয়ত এ মাসের রজনী ভাগে খতমে তারাবির মাধ্যমে কুরআন শরীফের তিলাওয়াতকে অবধারিত করেছে। কারণ, কুরআন শরীফের এ তিলাওয়াত মুমিন মুসলমান মাত্রই মহিমান্বিত ও উপকৃত হয়। মহাগ্রন্থ আল-কুরআনুল কারীম মানব জাতির জন্য মহান ¯্রষ্টা আল্লাহ পাকের পক্ষ হতে সর্বশেষ ও পরিপূর্ণ হিদায়াত বা দিকনির্দেশনামূলক গ্রন্থ। এটি গোটা মানব জাতির জন্য পথপ্রদর্শক। এখানে শিক্ষা ও সভ্যতার সব উপাদান ও সূত্র নিহিত রয়েছে। এককালে এটিকে মর্যাদা দান, তিলাওয়াত ও অধ্যয়নের মাধ্যমে মুসলিম জাতির গৌরবদীপ্ত উত্থান ঘটেছে।
কুরআনুল কারীমের ভূমিকা ও প্রভাব সম্পর্কে সূরা বাকারার শুরুতে বলা হয়েছে : ‘এ সেই কিতাব যাতে কোন সন্দেহ নেই। (এটি) পথ প্রদর্শনকারী পরহেযগারদের জন্য... .।’ উদ্ধৃত অংশে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, কুরআন শরীফ তাদেরকেই সঠিক পথ দেখাবে, যারা সঠিক পথ পাওয়ার জন্য আগ্রহী ও উদগ্রীব থাকে, হিদায়াতের মন-মানসিকতা নিয়ে এ পবিত্র গ্রন্থ তিলাওয়াত করে। যারা পুতঃপবিত্র মনপ্রাণ নিয়ে এটি অধ্যয়ন ও তিলাওয়াত করবে, দুনিয়া ও আখিরাতে তারা অবশ্য সৌভাগ্যময় জীবনের অধিকারী হবে। এ কুরআনকে বলা হয়েছে শিফাউন লিন-নাস মানব জাতির জন্য নিরাময় বস্তু। আল্লাহতায়ালা বলেন : এই হলো মানুষের জন্য বর্ণনা ধারা, আর যারা ভয় করে তাদের জন্য উপদেশাবলী।’-(৩:১৩৮)।
এটি ভক্তি সহকারে বরকত লাভের আশায় তিলাওয়াত করলে আল্লাহ অভাবীর অভাব মোচন করেন, দুঃখী মানুষের দুঃখ দূর করেন। অন্তর ভরে দেন প্রশস্ততা ও প্রশান্তিতে। এ বিষয়ে আল্লামা ইবনে কাসীর (রহ) ঐতিহাসিক ইবনুল আসাকীরের বরাত দিয়ে একটি ঘটনা বর্ণনা করেন।
ঘটনাটি হলো এই, বিখ্যাত সাহাবী ও কুরআন বিশেষজ্ঞ হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদি) যখন অন্তিম রোগ শয্যায় শায়িত ছিলেন, তখন মুসলিম জাহানের তৎকালীন খলিফা আমীরুল মো’মেনীন হযরত উসমান (রাদি) তাঁকে দেখতে যান। এ সময় তাদের মধ্যে শিক্ষাপ্রদ কথোপকথন হয়। তা নি¤œরূপ :
হযরত উসমান : মা তাশতাকী- আপনার অসুখটা কি?
হযরত ইবনে মাসউদ : আমার পাপসমূহই আমার অসুখ।
ওসমান গনি : আপনার চাহিদা বা বাসনা কি?
ইবনে মাসউদ : রাহমাতু রাব্বী অর্থাৎ আমার মহান প্রভু আল্লাহপাকের দয়া ও রহমতের ভিখারী।
ওসমান গনি : আমি আপনার জন্য কোন চিকিৎসক ডাকব কি?
ইবনে মাসউদ : চিকিৎসকই আমাকে রোগাক্রান্ত করেছে।
উসমান গনি : আমি আপনার জন্য সরকারী বায়তুল মাল থেকে কোন উপঢৌকন পাঠিয়ে দেব কি?
ইবনে মাসউদ : আপনি চিন্তা করেছেন যে, আমার কন্যারা দারিদ্র্য ও উপবাসে পতিত হবে। কিন্তু আমি এরূপ চিন্তা করি না, কারণ আমি কন্যাদের জোর নির্দেশ দিয়ে রেখেছি যে, তারা যেন প্রতিরাতে (কুরআন শরীফের) সূরা ওয়াকিয়া পাঠ করে। কেননা মহানবী (স) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ইশার নামাযের পর সূরা ওয়াকিয়া তিলাওয়াত করে, সে কখনও উপবাসে আক্রান্ত হবে না।’-(ইবনে কাসীর)।
এভাবে কুরআন শরীফ ও হাদীস শরীফে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত ও অধ্যয়নের বহুবিধ বরকত ও উপকারিতার কথা বর্ণিত হয়েছে। আমরা আমাদের জীবনের স্বার্থে কুরআনমুখী অভ্যাস গড়ে তুলব।