|
বুধবার, ২ ডিসেম্বর ২০০৯, ১৮ অগ্রহায়ন ১৪১৬ ঘুরে দাঁড়াচ্ছে দেশ
অর্থনীতির সব সূচকই উর্ধমুখী
রাজু আহমেদ আন্তর্জাতিক ঋণদাতা সংস্থাগুলোর সব রকম আশঙ্কা কাটিয়ে ক্রমশ ঘুরে দাঁড়াচ্ছে জাতীয় অর্থনীতির গতি। গত ৫ বছরে একের পর এক সঙ্কটের প্রভাব কাটিয়ে অর্থনীতির প্রায় সব সূচকই উর্ধমুখী অবস্থানে রয়েছে। বিশ্বমন্দার প্রভাব মোকাবেলা করে রফতানি, রেমিটেন্স, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে। তা সত্ত্বেও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নেতিবাচক ভবিষ্যদ্বাণী সরকারের নীতিনির্ধারক এবং অর্থনীতিবিদদের বিস্মিত করেছে। অনেকেই মনে করেন, তাদের পরামর্শ না মেনে জাতীয় চাহিদা বিবেচনায় বর্তমান সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়ার কারণে আইএমএফসহ ঋণদাতা সংস্থাগুলো ক্ষুব্ধ। অর্থনীতির দুর্বলতা প্রমাণ করে বাংলাদেশকে ঋণনির্ভর করে রাখার জন্যই তারা এ ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশ করছে।
এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, আইএমএফ প্রতিনিধিরা বিভিন্ন খাতে ভর্তুকি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তারা বলেছে কোন কোন খাতে ভতর্ুকির পরিমাণ বেশি। কিন্তু আমরা জানিয়ে দিয়েছি যে সব খাতে ভতর্ুকির প্রয়োজন হবে তা অবশ্যই অব্যাহত রাখা হবে। তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশের কম হবে না, বরং বেশি হতে পারে। অর্থনীতির ভিত মজবুত রাখতে প্রয়োজনে ভর্তুকি দেয়া হবে। আইএমএফ মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ার কথা বলেছে। আমরা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখার সব ধরনের চেষ্টা অব্যাহত রাখব। এডিপি বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করতে নানা পদক্ষেপ নেয়ার কথা তুলে ধরে কিছুদিনের মধ্যেই বিনিয়োগে স্থবিরতা কেটে যাবে বলে আশা করছি। অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, প্রায় তিন বছর ধরে বিশ্ব অর্থনীতিতে চরম মন্দা অবস্থা বিরাজ করলেও বাংলাদেশ সফলভাবে এর প্রভাব মোকাবেলা করেছে। দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি, রফতানি আয়, রাজস্ব পরিস্থিতি, আর্থিক খাত, কৃষি ও শিল্প উৎপাদনসহ সামগ্রিক অর্থনীতি সন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে। বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ-এডিবির আশঙ্কাকে ভুল প্রমাণ করে গত অর্থবছরে মোট জাতীয় উৎপাদনে (জিডিপি) ৫.৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ইতোমধ্যেই হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে। স্থানীয় উৎস থেকে রাজস্ব আয় মাত্র পাঁচ বছরে দ্বিগুণ হয়েছে। গত অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের পরিমাণ ছিল প্রায় সাড়ে ৫২ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের প্রথম দু' মাসে রাজস্ব আয়ের পরিমাণ ছিল ৩৯২২ কোটি ৭৬ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩৭ কোটি ৫৯ লাখ টাকা বেশি। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বিশ্বমন্দা সত্ত্বেও রফতানি খাতে গত অর্থবছরে ১০ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। অবশ্য চলতি বছরের প্রথম দু' মাসে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় রফতানি আয় ৪.১৪ শতাংশ কমে গিয়েছিল। কিন্তু সেপ্টেম্বর মাসে ইতিবাচক প্রবণতা ফিরে আসায় অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১.৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। বিশ্বমন্দায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ খাত ওভেন ও নিট পোশাক রফতানিতে প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকায় চলতি অর্থবছরে সামগ্রিকভাবে রফতানি আয় হ্রাসের আশঙ্কা নেই বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন। বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, বিশ্বমন্দার কারণে উন্নত দেশগুলোর অর্থনীতি যে হারে আক্রান্ত হয়েছে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে তা হয়নি। অবশ্য বিশ্ববাজারে জিনিসপত্রের দাম কমে যাওয়ায় বাংলাদেশের রফতানি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। বিশ্ব অর্থনীতির উন্নতি হলে এ খাতে বাংলাদেশেরও উন্নতি হবে। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের আরেক প্রধান খাত প্রবাসী শ্রমিকদের অর্থ প্রেরণের ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে। অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) এ খাতে প্রায় ২২ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। অন্যদিকে মূল্যস্ফীতির হার গত বছরের সেপ্টেম্বরে ১০ শতাংশের বেশি থাকলেও এ বছর তা ৪ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। বিদু্যত, গ্যাসসহ অভ্যন্তরীণ অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতার কারণে বিনিয়োগ ব্যাহত হলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত জুলাই মাসের পর থেকে দেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। চলতি বছরের আগস্ট মাসে স্থানীয়ভাবে ব্যাংকিং খাতের বিনিয়োগের পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় ২৮.১৪ শতাংশ বেড়েছে_ যার মোট পরিমাণ ৫ হাজার ৬৩০ কোটি টাকা। সামগ্রিকভাবে বিনিয়োগের আর্থিক সঙ্গতি এখনও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। দেশের ব্যাংকিং খাতে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ অতিরিক্ত তারল্য রয়েছে। উৎপাদন ও কর্মসংস্থানকে প্রাধান্য দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক সঙ্কুলানমুখী মুদ্রানীতি বাস্তবায়ন করছে। সহায়ক অবকাঠামো গড়ে তুলতে পারলে স্বল্প সময়ের মধ্যেই বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগের মাধ্যমে অর্থনীতিকে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করানো সম্ভব। বিদেশী বিনিয়োগের পরিবেশ আগের তুলনায় উন্নত বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করেছেন। শিল্প ও কৃষি উৎপাদনের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। অর্থনীতির সব সূচক ইতিবাচক ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দিলেও সম্পূর্ণ বিপরীত মূল্যায়ন করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সংস্থা। সংস্থাটির মতে, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে নিকট ভবিষ্যতে বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি ডবল ডিজিটে চলে যেতে পারে। এ ছাড়া অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগে শ্লথগতি, সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের গতিহীনতার কারণে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশে নেমে আসবে বলেও মনে করছে ঋণ প্রদানকারী আন্তর্জাতিক সংস্থাটি। তবে তাদের এই মূল্যায়নের সঙ্গে একমত নন অর্থমন্ত্রীসহ সরকারের নীতিনির্ধারক ও অর্থনীতিবিদরা। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংকিং খাতে বিপুল পরিমাণ উদ্বৃত্ত তারল্য, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, রাজস্ব প্রবৃদ্ধিসহ দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ভারসাম্য তুলনামূলকভাবে আগের চেয়ে বেশি অনুকূলে থাকায় সরকার আইএমএফের সঙ্গে নতুন করে ঋণ চুক্তিতে আবদ্ধ হতে আগ্রহী নয়। অবাস্তবায়নযোগ্য ও দেশীয় বাস্তবতাবিমুখ শর্তের বিনিময়ে ঋণ না নিয়ে দারিদ্র্য বিমোচনের ক্ষেত্রে ঋণদাতাদের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা পেতে বেশি মনোযোগী হচ্ছে অর্থ মন্ত্রণালয়। ইতোমধ্যেই আইএমএফের দেয়া কয়েকটি ঋণ চুক্তির প্রস্তাবে নেতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে সরকার। তাদের পরামর্শ ও চাপ উপেক্ষা করে সঙ্কোচনমূলক মুদ্রানীতির পরিবর্তে সঙ্কুলানমুখী মুদ্রানীতি গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর এসব কারণে বাংলাদেশে ঋণ কার্যক্রম নিয়ে কিছুটা হলেও চিন্তিত আইএমএফ। দেশের অর্থনীতি সম্পর্কে নেতিবাচক ভবিষ্যদ্বাণী করার পেছনে এ বিষয়টি কাজ করছে বলে কেউ কেউ মনে করেন। এ বিষয়ে অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক এমএম আকাশ বলেন, কৃষি, শিল্প ও জাতীয় উন্নয়নের ক্ষেত্রে বর্তমান সরকার যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করছে তার অনেক কিছুই বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের পরামর্শের সঙ্গে মেলে না। এ কারণে এসব সংস্থার সঙ্গে সরকারের মনোমালিন্য অস্বাভাবিক নয়। দেশের অর্থনীতি সম্পর্কে আইএমএফ যে মূল্যায়ন করেছে তা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তা ছাড়া এর আগে দেশের পোশাক শিল্প, বিশ্বমন্দার প্রভাব এবং সর্বশেষ গত অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিয়ে আইএমএফ ও এডিবি যেসব ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল_ তা শেষ পর্যন্ত ভুল প্রমাণিত হয়েছে। এবারও অর্থমন্ত্রী নিজেই তাদের সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করেছেন। অবশ্য জিডিপি প্রবৃদ্ধি সম্পর্কে আইএমএফের শঙ্কা কতটা সঠিক_ অর্থবছর শেষ হলেই তা প্রমাণ হয়ে যাবে। বিজয়ের মাসের প্রথম দিনে রুখে দাঁড়ানোর শপথ
স্টাফ রিপোর্টার মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন, বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার রায় কার্যকর, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার দৃঢ় অঙ্গীকারের মাধ্যমে মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে আওয়ামী লীগের মাসব্যাপী বিজয় উৎসবের কর্মসূচী। বিজয় মাসের সূচনা দিনে দলটির হাজার হাজার নেতাকমর্ী ঐতিহাসিক সোহ্রাওয়াদর্ী উদ্যানের শিখা চিরন্তরে সামনে মুষ্টিবদ্ধ দু'হাত তুলে জাতির জনকের হত্যা মামলায় চূড়ান্ত রায় কার্যকর করে জাতিকে কলঙ্কমুক্ত এবং মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত ঘৃণ্য শক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর শপথবাক্য পাঠ করেন।
সকালে ঐতিহাসিক ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পু্#৬৩৭৪৩;মাল্য অর্পণের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের মাসব্যাপী কর্মসূচীর সূচনা হয়। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও জাতীয় সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। এরপর সোহ্রাওয়াদর্ী উদ্যানে শিখা চিরন্তনে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন শেষে দলের নেতাকমর্ী ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষকে শপথবাক্য পাঠ করান তিনি। দলের আগে সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী প্রথমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে শিখা চিরন্তনে পু্#৬৩৭৪৩;ার্ঘ্য অর্পণ করেন। পরে আওয়ামী লীগের নেতাকমর্ীরা মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধেও পু্#৬৩৭৪৩;ার্ঘ্য অর্পণ করেন। শপথ পাঠের আগে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে প্রদত্ত বক্তব্যে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদ, দু'লাখ মা-বোন যাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে এবং সকল বীর মুক্তিযোদ্ধাকে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি প্রারম্ভিক বক্তব্যে আরও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন জাতীয় চার নেতাসহ ১৫ আগস্ট সকল শহীদকে। একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধে অন্যতম সহায়তাকারী ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত ইন্দিরা গান্ধী এবং যেসব ভারতীয় সেনা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গ করেছিলেন তাঁদেরও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন শেষে মুক্তিযুদ্ধে সকল শহীদ স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর হাজার হাজার নেতাকমর্ী ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী মানুষকে শপথবাক্য পাঠ করানো হয়। সবাই মুষ্টিবদ্ধ হাত ওপরে তুলে শপথ নেন। শপথ্যবাক্যে বলা হয়- "বঙ্গবন্ধুর অনুপ্রেরণা, শেখ হাসিনার উদ্যম ও দিক-নির্দেশনাকে আন্তরিকতার সঙ্গে চেতনা-মননে ধারণ করে ক্ষুধা, দারিদ্র্য, দুনর্ীতি ও সন্ত্রাসমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করে একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধকে সমুন্নত ও বাঙালীর হাজার বছরের কৃষ্টি-সংস্কৃতি-ঐতিহ্যকে জীবনবোধে ধারণ করব। জাতি-ধর্ম-বর্ণ-দলমত নির্বিশেষে সকল বিভেদ ভুলে দেশের অগ্রগতির স্বার্থে আত্মনিয়োগ করব।" বিজয়ের মাসে শপথে আরও বলা হয়, "যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবেই। রাষ্ট্রপিতা জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের কালজয়ী আদর্শ ও প্রেরণা বুকে ধারণ ও চেতনায় লালন করে তাঁর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে সকল বাধা উল্লঙ্ঘন করব। মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত ঘৃণ্য শক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবই। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের আইনের উপযুক্ত বিচারে শাস্তি প্রদান করে জাতির দূরপনেয় কলঙ্ক নিরসনে সদা তৎপর থাকব।" শত সহস্র মানুষ মুষ্টিবদ্ধ দু'হাত তুলে এ শপথ নেন। শপথগ্রহণ এবং শ্রদ্ধা নিবেদনকালে এ সময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, ওবায়দুল কাদের, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, আক্তারুজ্জামান, এ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু, শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ, গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী এ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান খান, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন (অব) এবি তাজুল ইসলাম, এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, প্রতিমন্ত্রী ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, মৃণাল কান্তি দাস, ফজিলাতুন্নেসা ইন্দিরা, সুজিত রায় নন্দী কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিজয়ের মাস ডিসেম্বরের প্রথম দিন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুব মহিলা লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, শ্রমিক লীগ, তাঁতী লীগ, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, জয় বাংলা সাংস্কৃতিক ঐক্যজোট সহ বিভিন্ন সংগঠন বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি, শিখা চিরন্তন এবং মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে পু্#৬৩৭৪৩;মাল্য অর্পণ করে। দেশব্যাপী যুবলীগের গণস্বাক্ষর অভিযান বিজয়ের মাসের সূচনা দিনে মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধুর খুনীদের মৃতু্যদণ্ডের রায়ের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে যুবলীগের উদ্যোগে গণস্বাক্ষর অভিযান শুরু হয়েছে। বিকেলে ধানমণ্ডির বঙ্গবন্ধুর বাসভবনের সামনে এই গণস্বাক্ষর অভিযানের উদ্বোধন করেন বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার প্রধান কেঁৗসুলি এ্যাডভোকেট আনিসুল হক। কর্মসূচীর দ্বিতীয় দিন আজ বুধবার বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এই স্বাক্ষর কর্মসূচী পালিত হবে। কর্মসূচীর উদ্বোধন করে এ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণার পর জাতি কলঙ্কমুক্ত হয়েছে। পাপ মোচন হয়েছে বাংলাদেশের। জাতি পেয়েছে ন্যায়বিচার। কেননা এ হত্যার দায় আমাদের সকলের। বঙ্গবন্ধুর খুনী ও তাদের দোসররা আমাদের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বকে বিপন্ন করার অপচেষ্টা করেছিল। এই খুনীদের কারণে ২১ বছর গণতন্ত্রহীন, অধিকারহীন থাকে বাংলাদেশের মানুষ। আইনের শাসন হয়েছে ভূলুণ্ঠিত। প্রত্যাশিত এই রায়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিন পর জাতি কলঙ্কের অভিশাপ থেকে মুক্ত হলো। এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, জাতি বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিশোধ চায়নি, চেয়েছে ন্যায়বিচার। বিশেষ ট্রাইবু্যনালে নয়, প্রচলিত আইনে স্বাভাবিক ও স্বচ্ছ বিচার প্রক্রিয়ায় জাতি ৩৪ বছর পর ন্যায়বিচার পেয়েছে। সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আলহাজ ওমর ফারুক চৌধুরীর সভাপতিত্বে গণস্বাক্ষরপূর্ব সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন সুপ্রীমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি বিচারপতি এ এফ এম মেজবাহ উদ্দিন, সাবেক আইনমন্ত্রী এ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হুইপ মির্জা আজম, এ্যাডভোকেট মমতাজ উদ্দিন মেহেদী, মোশাররফ হোসেন কাজল, এম আমিন উদ্দিন, হারুন-অর রশীদ ও মোতাহার হোসেন সাজু। আবার পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নের চাকা ঘুরতে শুরু করেছে
আজ পালিত হবে চুক্তির ১২তম বার্ষিকী
নিখিল মানখিন সরকারের প্রতিশ্রুতি এবং পাহাড়ীদের প্রতীক্ষার মধ্য দিয়ে আজ বুধবার পালিত হচ্ছে পার্বত্য শান্তি চুক্তির ১২তম বার্ষিকী। দীর্ঘ দু'যুগের বেশি সময়ের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর ১৯৯৭ সালের এ দিনে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পার্বত্য শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি বার্ষিকী উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করেছে সরকার। রাঙ্গামাটি জেলা সদরে জিমনেসিয়াম মাঠে দিবসটি কেন্দ্রীয়ভাবে উদ্যাপন করছে জনসংহতি সমিতি। গত এক যুগেও চুক্তিটির বাস্তবায়ন এখনও প্রাথমিক অবস্থাতেই রয়ে গেছে। পাহাড়ী ও সেটেলারদের মধ্যে বিশ্বাসের দূরত্ব দূর হয়নি আশানুরূপ। তবে চলতি বছরে ক্ষমতায় এসেই বেশ কিছু বাস্তব উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে চুক্তি পুরোপুরি বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে বর্তমান সরকার। আওয়ামী লীগ সরকারের এমন আন্তরিক উদ্যোগের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন দেখতে চায় পাহাড়ীরা। সময়সীমা বেঁধে দিয়ে চুক্তি বাস্তবায়নের দাবি তুলেছে তারা। সরকারের চুক্তি বাস্তবায়ন ইতিবাচক, তবে পাহাড়ে এখনও সেনা কর্তৃত্ব চলছে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান ও জনসংহতি সমিতির সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা)।
চুক্তির ১২তম বার্ষিকীতে দেয়া বাণীতে রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান বলেন, আমি বিশ্বাস করি, শান্তি চুক্তির মাধ্যমেই পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের আর্থসামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হচ্ছে। দেশের তিন পার্বত্য জেলায় যুগ যুগ ধরে বিভিন্ন নৃতাত্তি্বক জনগোষ্ঠী বসবাস করে আসছে। তাদের ভাষা, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি অঞ্চলগুলোকে বিশেষভাবে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছে। দেশের উন্নয়ন দলমত নির্বিশেষে সকলের প্রতি একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, পার্বত্য শান্তি চুক্তির মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘদিনের জাতিগত হানাহানি বন্ধ এবং অনগ্রসর ও অনুন্নত ওই অঞ্চলের উন্নয়নের ধারা ও শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমান সরকার পার্বত্য শান্তি চুক্তি পূর্ণ বাস্তবায়নে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এ জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং কমিটিসমূহকে বিরাজমান সমস্যা দ্রুত সমাধানের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। শান্তি চুক্তি অনুযায়ী পার্বত্য অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য সংরক্ষণ এবং সার্বিক উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে সংশ্লিষ্ট আইন, বিধানাবলি, রীতিসমূহ প্রণয়ন, পরিবর্তন, সংশোধন ও সংযোজনের বিধান রাখা হয়। চুক্তিতে 'পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ ' গঠনের মাধ্যমে পুরো অঞ্চলকে একটি অভিন্ন প্রশাসনিক ইউনিটে নিয়ে আসার লক্ষ্য নির্ধারিত ছিল। এই চুক্তি বিরাজমান রাজনৈতিক সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানের পাশাপাশি অবসান ঘটিয়েছিল শরণার্থী সমস্যা, সশস্ত্র সংঘাত ও সহিংসতা। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার চুক্তি বাস্তবায়নে সময় পেয়েছিল তিন বছর আট মাস। ওই সময় চুক্তির বিভিন্ন দিক আইনী কাঠামো লাভ করে। কিন্তু ভূমি কমিশন আইন, সেনা ক্যাম্প সরিয়ে নেয়া ও অভ্যন্তরীণ উপজাতীয় উদ্বাস্তু পুনর্বাসন সংক্রান্ত বিষয়ে দেখা দেয় মতপার্থক্য। ২০০১ সালের নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতা লাভের পর চুক্তি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া পরিবীক্ষণের লক্ষ্যে 'চুক্তি বাস্তবায়ন কমিটি' গঠনের পরিবর্তে 'মন্ত্রীপরিষদ কমিটি' নামে ভিন্ন একটি কমিটি করে। ওই কমিটি জনসংহতি সমিতিকে পাশ কাটিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখে। মূলত অভ্যন্তরীণভাবে জোটের চুক্তিবিরোধী মনোভাব বজায় রাখার পাশাপাশি চুক্তি টিকিয়ে রাখার বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলকে দেখানোই এর মূল উদ্দেশ্য ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় এসে চুক্তি লঙ্ঘন করে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান পদে খাগড়াছড়ি থেকে নির্বাচিত বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল ওয়াদুদ ভূইয়াকে নিয়োগ দেয়। অথচ চুক্তি অনুযায়ী একজন যোগ্য উপজাতীয়কে নিয়োগ দেয়ার কথা। অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু পরিবারের পুনর্বাসন কার্যক্রম জোট সরকারের আমলে সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমিবিরোধ নি্#৬৩৭৪৩;ত্তির লক্ষ্যে গঠিত 'পার্বত্য ভূমি কমিশন' মাত্র একবার বৈঠক করা ছাড়া আর কোন অগ্রগতি দেখাতে পারেনি। গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নে কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকেই চুক্তি বাস্তবায়নের চাকা পুনরায় ঘুরতে শুরু করে। ক্ষমতা নেয়ার প্রথম বছরেই বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে চুক্তি পরিবীক্ষণ ও বাস্তবায়ন কমিটি করেছে। উদ্বাস্তু পুনর্বাসন বিষয়ক টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান আদিবাসী থেকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আরও নিয়োগ দেয়া হয়েছে ভূমি কমিশনের চেয়ারম্যান। চুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির ইতোমধ্যে দু'টি সভা অনুষ্ঠিত হয়ে গেছে। আর গত সেপ্টেম্বরে তিন পার্বত্য জেলা থেকে এক ব্রিগেড সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয় সরকার। একটি ব্রিগেডের আওতায় সাধারণত তিনটি পদাতিক ব্যাটালিয়ন, সিগন্যাল, ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি, আর্টিলারিসহ অন্য সহযোগি সাব ইউনিট থাকে। একেক ব্রিগেডে প্রায় ৩ হাজার জনবল থাকে। তিন পার্বত্য জেলায় মোট ৫টি সেনা ব্রিগেড রয়েছে। তার মধ্যে কাপ্তাই ব্রিগেড প্রত্যাহার করা হলো। চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত তিন পার্বত্য জেলায় ২শ'টি সেনাক্যাম্প প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে সরকার। আজ বুধবার শান্তি চুক্তি বার্ষিকীতে ক্রোড়পত্র প্রকাশ করে চুক্তি বাস্তবায়নে একান্ত আন্তরিকতার পরিচয় দিয়েছে বর্তমান সরকার। নিজস্ব সংবাদদাতা রাঙ্গামাটি থেকে জানান, পার্বত্যাঞ্চলে ত্রিপক্ষীয়ভাবে আজ বুধবার শান্তি চুক্তির এক যুগ পূর্তি পালিত হচ্ছে। এ উপলক্ষে রাঙ্গামাটিসহ তিন পার্বত্য জেলায় আওয়ামী লীগ, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি ও সরকারের পক্ষে পৃথকভাবে নানা কর্মসূচী হাতে নিয়েছে। পার্বত্য চুক্তির বাস্তবায়ন পুনরায় নতুন করে শুরু হওয়ায় খুশি এখানকার জনগণ। মঙ্গলবার রাঙ্গামাটির অফিসকক্ষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান ও জনসংহতি সমিতির সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা) বলেন, সরকারের চুক্তি বাস্তবায়ন ইতিবাচক, তবে পাহাড়ে এখনও চলছে সেনা কর্তৃত্ব। শান্তি চুক্তির ১২ বছর পরও আঞ্চলিক পরিষদের একটি প্রবিধান ছাড়া আর কোন প্রবিধান সরকার অনুমোদন করেনি। সরকার শুধুমাত্র আঞ্চলিক পরিষদের নিয়োগ সংক্রান্ত একটি প্রবিধান অনুমোদন দিয়েছে। সরকার এখন পর্যন্ত আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও সদস্যদের কোন পদমর্যাদা দেয়নি। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বাস্তবায়িত হয়নি চুক্তির এমন ১১টি ধারা তুলে ধরেন। এগুলোর মধ্যে রয়েছে ভূমি বিরোধ ও নি্#৬৩৭৪৩;ত্তি, আঞ্চলিক ও জেলা পরিষদের সদস্যদের পদমর্যাদা প্রদান, জেএসএস সদস্য, অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু ও ভারত প্রত্যাগতদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা। আওয়ামী লীগের সঙ্গে তাঁর কোন বিরোধ নেই বলে তিনি জানান। নিজস্ব সংবাদদাদা খাগড়াছড়ি থেকে জানান, চুক্তির এ ঐতিহাসিক দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে তিন পার্বত্য জেলায় আজ বুধবার বর্ণাঢ্য কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে। চুক্তির পক্ষে-বিপক্ষে ত্রিমুখী কর্মসূচী পালিত হবে। চুক্তিবিরোধী সংগঠন ইউপিডিএফ এবার চুক্তি সম্পর্কে তাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে। বিবৃতিতে বলা হয়, ইউপিডিএফ চুক্তির দুর্বল বিষয় নিয়ে সমালোচনা করে এবং চুক্তিকে কাগুজে চুক্তি বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে বর্তমান সরকার চুক্তি বাস্তবায়ন করলে তারা বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। পার্বত্য চট্টগ্রাম অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু বিষয়ক টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান যতীন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি বলেন, বর্তমান সরকার ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে চুক্তি বাস্তবায়নে হাত দিয়েছে। চুক্তি বাস্তবায়িত হলে এখানকার মানুষ উপকৃত হবে, কেউ বৈষম্যের শিকার হবে না। সমধিকার আন্দোলন নেতা দোস্ত মোহাম্মদ চৌধুরী বলেন, দু'টি সরকারই যখন চুক্তির সকল শর্ত মেনে নিয়েছে, সেজন্য আমরা এর বিরোধিতা করি না। তবে চুক্তির সঙ্গে সাংবিধানিক সাংঘর্ষিক বিষয়সমূহ বাতিল না করলে বাস্তবায়ন কঠিন হবে। এদিকে চুক্তি বাস্তবায়নে আওয়ামী লীগ সরকারের আন্তরিকতার বিষয়টি স্বীকার করেছেন পাহাড়ী নেতারাও। তবে সময়সীমা বেঁধে দিয়ে চুক্তি বাস্তবায়নের দাবি তুলেছেন তাঁরা। জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রচার সম্পাদক মঙ্গল কুমার চাকমা বুধবার জনকণ্ঠকে বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর চুক্তি বাস্তবায়নে বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে যা আমাদের উজ্জীবিত করেছে। তবে উদ্যোগ গ্রহণ করে প্রাথমিক পর্যায়ে ফেলে রাখলেই হবে না, সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপের মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন করতে হবে। বর্তমান সরকারের নেয়া এ সব উদ্যোগের বিষয়টি ইতিবাচক হতে পারে, কিন্তু কার্যকর অগ্রগতি হয়েছে এমন বলা যাবে না। এর উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ভূমি কমিশনের চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয়া হয়েছে, কিন্তু কমিশনের কোন দফতর নেই, লোকবল নেই। পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ আইন ও তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন প্রণীত হলেও তা যথাযথভাবে কার্যকর হয়নি। ভূমি কমিশন গঠিত হলেও ভূমি বিরোধ নি্#৬৩৭৪৩;ত্তি হয়নি এবং চুক্তির সঙ্গে বিরোধাত্মকভাবে ভূমি কমিশন আইন প্রণয়ন করা হয়। ভারত প্রত্যাগত জুম্ম শরণার্থী ও অভ্যন্তরীণ জুম্ম উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসন করা হয়নি। পক্ষান্তরে চুক্তি লঙ্ঘন করে সেটেলারদের অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু গণ্য করে পার্বত্য চট্টগ্রামে পুনর্বাসনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং বলেন, চুক্তি বাস্তবায়নে বর্তমান সরকারের আন্তরিকতার ব্যাপারে আমাদের সন্দেহ নেই। কিন্তু অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চুক্তি বাস্তবায়নের রোডম্যাপ ঘোষণা করা উচিত। জীর্ণ বাড়ি ইভটিজিং যে ভার্সিটিতে ছাত্রীদের নিয়তি!
মহিউদ্দিন আহমেদ তাসলিমা বেগম। গ্রামের বাড়ি নড়াইল। উচ্চশিক্ষা নিতে ভর্তি হয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে। দুই বছর পর পদার্থবিজ্ঞানে অনার্স শেষ হবে তার। পুরনো ঢাকার ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের নোংরা পরিবেশ, চরম অর্থনৈতিক অভাব-অনটন ও মহল্লার রোমিওদের অতিরিক্ত ইভটিজিংয়ের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের গত ২৪টি মাস কাটিয়েছে সে। ছাত্রীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন হল না থাকায় মেসে থেকে এ ধরনের বিরক্তিকর জীবন অতিবাহিত করতে হচ্ছে তাঁকে। তাসলিমার মতো এ রকম ১২ হাজার ছাত্রী রয়েছে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে। তাদের অধিকাংশই থাকে মেসে। সবাইকে পোহাতে হচ্ছে একই সমস্যা। ছাত্রীদের এসব সমস্য নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কতর্ৃপক্ষের মাথাব্যথা নেই বলে দাবি করল ছাত্রীরা। তবে বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক মেসবাহউদ্দিন আহমেদ ছাত্রীদের সমস্যার কথা স্বীকার করে জনকণ্ঠকে বলেছেন, আমরা অতি তাড়াতাড়ি ছাত্রীদের জন্য হল নির্মাণ করব। এ বিষয়ে তাঁদের অফিসিয়াল কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে তিনি জানান।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিশ্বদ্যিালয়ে প্রায় ২৭ হাজার ছাত্রছাত্রী রয়েছে। এর মধ্যে ১২ হাজার ছাত্রী রয়েছে। এ বিপুল পরিমাণ শিক্ষাথর্ীর মধ্যে ছাত্রদের জন্য বাণী ভবন নামে একটি হল রয়েছে। সেখানে গুটিকয়েক ছাত্র থাকে। আর ছাত্রীদের জন্য কোন হল নেই। তাই ছাত্রীদের থাকতে হয় মেসে। ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে কয়েকজন ছাত্রী এক সঙ্গে মেস করে থাকে। মেসের জন্য ফ্ল্যাট পেতে ছাত্রীদের নানা ধরনের ভোগান্তি পোহাতে হয়। ঢাকা শহরের অনেক বাড়িওয়ালা ব্যাচেলর মেয়েদের বাসা ভাড়া দিতে চায় না। যে সব বাড়িতে পরিবার নিয়ে কেউ থাকতে চায় না এ রকম কিছু পুরনো বাড়ি ব্যাচেলরদের ভাড়া দেয়া হয়। ওই সব বাড়ির পরিবেশ একেবারে নাজুক। এ ধরনের বাড়ি হয়ত ঝুঁকিপূর্ণ, নয়ত নোংরা পরিবেশ। ব্যাচেলর মেসে পানির সঙ্কট সব সময় লেগেই থাকে। সকালবেলায় গোসল না করে ছাত্রীদের ক্লাসে যেতে হয়। অনেক মেসে আলো-বাতাস ঢোকার পথ থাকে না। এ রকম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে থেকে তাদের লেখাপড়া করতে হয়। তবে নতুন ঢাকার কিছু কিছু ভাল বাড়িতে ব্যাচেলর মেয়েদের মেস ভাড়া দেয়া হয়। কিন্তু ওই সব মেস থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দূরে হওয়ায় শিক্ষাথর্ীরা এ সুযোগসুবিধা ভোগ করতে পারে না। মেসে থাকা ছাত্রীদের উল্লেখযোগ্য একটি সমস্যা হচ্ছে তাদের মহল্লার রোমিওদের ইভটিজিংয়ের শিকার হতে হয়। কারণ স্থানীয় রোমিওরা ভাল করে জানে মেসে থাকা মেয়েরা গ্রাম থেকে এসেছে। তাদের ইভটিজিং করলে কোন প্রকার প্রতিরোধের মুখে পড়তে হবে না। গ্রাম থেকে আসা সহজ সরল এসব মেয়ে মুখ বুজে টিজিংয়ের মতো বিরক্তিকর পরিস্থিতি মেনে নিয়ে শিক্ষাজীবন চালিয়ে যাচ্ছে। এ ঘটনা পুরনো ঢাকায় বেশি ঘটে। অতিরিক্ত ইভটিজিংয়ের কারণে মাঝে মধ্যে ছাত্রীরা মেস ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। পুরনো ঢাকার ১২/৩ পাঁচ তলা বিশিষ্ট বাসার চার তলায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮ ছাত্রী থাকত। বাসা থেকে বের হওয়ার পর প্রায়ই মহল্লার ছেলেরা উত্ত্যক্ত করত। শেষ পর্যন্ত বিরক্ত হয়ে ওই বাসা ছাড়তে হয়েছে তাদের। কলতা বাজার, পাতলা খান লেন, লক্ষ্মী বাজার এলাকায় এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের অসংখ্য মেস রয়েছে। ওই মেসের মেয়েদেরও একই সমস্যায় পড়তে হয় প্রতিনয়িত। মেসে থাকা ছাত্রীদের খাওয়ার মানও একেবারে নিম্নমানের। গ্রাম থেকে আসা নিম্নবিত্ত পরিবারের ছাত্রীরা মেস ভাড়া ও বিশ্ববিদ্যালয়ের খরচ বহন করতে গিয়ে তারা প্রয়োজনীয় পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার থেকে বঞ্চিত হয়। কয়েকটি মেসের ছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে তারা সকালবেলায় ডাল আর আলু ভর্তা দিয়ে ভাত খায়। দুপুরে আর রাতে এক তরকারির বেশি তাদের কপালে জোটে না। এর ওপর দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতি তাদের মেস জীবনকে আরও অতিষ্ঠ করে তুলেছে। ঢাকাতে ধারাবাহিক যে লোডশেডিং হয় এর কারণে সময়মতো পরীক্ষা এবং ক্লাসের পড়া শেষ করতে পারে না তারা। এতে করে শিক্ষার মানও খারাপ হচ্ছে তাদের। হলবিহীন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেস জীবনের তিক্ত অভিজ্ঞতা সম্পর্কে তাসলিমা বেগম জানায়, হল না থাকাতে আমাদের বাসা ভাড়ার টাকা দিতে হচ্ছে, খাওয়ার খরচ হচ্ছে অতিরিক্ত, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে থাকতে হচ্ছে, খেতে হচ্ছে নিম্নমানের খাবার, মেস থেকে বের হলে প্রতিনিয়ত বখাটেদের ইভটিজিংয়ের শিকার হতে হয়। মাঝেমধ্যে ইভটিজিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠি। এ ছাড়া গত দুই বছরের মধ্যে কোন মাসে তার বাড়ি থেকে চাহিদা অনুযায়ী টাকা পাঠাতে পারেনি। যার জন্য অভাব-অনটনের মধ্য দিয়ে চলতে হচ্ছে তাকে। বাড়ি থেকে যে টাকা পাঠায় বিশ্ববিদ্যালয়ের হল থাকলে এ টাকায় তাসলিমা খুব সুন্দরভাবে চলতে পারত বলে সে উল্লেখ করে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক আনোয়ারা বেগম জনকণ্ঠকে বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন হল না থাকায় ছাত্রীদের মেসে থেকে লেখাপড়া করতে হয়। মেস জীবন ছাত্রদের জন্যই অনেক কষ্টের। ছাত্রীদের ক্ষেত্রে এ কষ্ট আরও কঠিন আকার ধারণ করে। ছাত্রীদের জন্য দ্রুত হল নির্মাণ করতে বিশ্ববিদ্যালয় কতর্ৃপক্ষ কাজ করছে বলে তিনি জানান। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মেসবাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ছাত্রীরা অনেক কষ্ট করে মেসে থেকে লেখাপড়া করছে। বিষয়টা আমরা অনুধাবন করতে পেরেছি। তাই ধূপখোলা মাঠে ১০০০ আসনের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম যে হল নির্মাণ করা হবে তা ছাত্রীদের দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের। কত দিনের মধ্যে ছাত্রীরা হল পাবে এমন প্রশ্নের জবাবে উপাচার্য বলেন, যত তাড়াতাড়ি ছাত্রীদের আবাসন সঙ্কট দূর করা যায় সে চেষ্টা করছি আমরা। উল্লেখ্য, দেশের যে কয়টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় আছে এর প্রতিটিতেই হল রয়েছে। শুধু জগন্নাথ বিশ্বদ্যিালয়ের ছাত্রছাত্রীদের জন্য ৫০ ছাত্র থাকতে পারে এমন জরাজীর্ণ বাণী ভবন হল ছাড়া কোন হল নেই। যানজট নিরসনে আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে পুলিশ
অটো সিগন্যাল মানা বাধ্যতামূলক, তাৎ ণিক জরিমানা ও ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিল, নির্দিষ্ট লেনে গাড়ি চালাতে হবে, ২০ বছরের পুরনো গাড়ি তুলে দেয়া হবে
স্টাফ রিপোর্টার যানজট নিরসনে আরও কঠোর হচ্ছে পুলিশ। ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের আর্থিক জরিমানা ও ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিলের পাশাপাশি গ্রেফতারের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে কোন প্রকার ওয়ারেন্টের প্রয়োজন হবে না। আগামী ৮ ডিসেম্বর থেকে এ নির্দেশ কার্যকর করা হবে। রাস্তায় অটো সিগন্যাল মেনে চলা বাধ্যতামূলক। ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের কমপক্ষে হাজার টাকা জরিমানা ও ড্রাইভিং লাইসেন্স ৩ মাসের জন্য বাতিল করার নির্দেশ জারি করা হয়েছে। সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে এ ধরনের নির্দেশনা পেয়েছে পুলিশ। নির্দিষ্ট লেনে গাড়ি চলাচল করবে। বেআইনীভাবে লেন পরিবর্তন করামাত্র আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে পুলিশ। ঢাকার রাস্তা থেকে ২০ বছরের পুরনো গাড়ি তুলে দেয়া হচ্ছে। এজন্য পুরনো গাড়ি জব্দ করতে ঝটিকা অভিযানে নেমেছে পুলিশ। এক্ষেত্রে সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা চেয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার একেএম শহীদুল হক।
মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর পুলিশ সদর দফতরে পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তা ও পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে তিনি এক জরুরী বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে ডিএমপি কমিশনার একেএম শহীদুল হক যানজট নিরসনে একটি কর্মপরিকল্পনার কথা সাংবাদিকদের জানান। পরিকল্পনা মোতাবেক ট্রাফিক আইন মেনে চলার বিষয়ে জনগণসহ যানবাহন মালিক ও পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য নানা ধরনের প্রচার অভিযান শুরু করা হয়েছে। এটা চলবে ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত। ট্রাফিক আইন সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে পুলিশের ১২ উপকমিশনার বিভিন্ন প্রচারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এঁদের নেতৃত্বেই ১২ টিম গঠিত হয়েছে। টিম গুলো রাজধানীর ১২ পয়েন্টে চেকপোস্ট বসিয়ে ট্রাফিক আইন অমান্যকারী যানবাহনকে শনাক্ত করে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেবে। প্রতিটি ভিআইপি রোডের মোড়ে ও গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার বিশেষ জায়গায় মাইকিং চলবে। মাইকিং ব্যবস্থা দীর্ঘদিন চালু থাকার কথা রয়েছে। মাইকে ট্রাফিক আইন মেনে চলার বিষয়ে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা প্রচার করা হবে। এ ছাড়া চালকদের ট্রাফিক আইন সম্পর্কে বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচী চালু করা হবে। ৩ লেনের রাস্তায় প্রথম লেন অর্থাৎ রাস্তার ডান পাশের লেনে প্রাইভেটকার, মাইক্রো, জীপ, ভিআইপিদের বহনকারী গাড়ি, দ্বিতীয় লেন অর্থাৎ রাস্তার মাঝখানের লেনে মিনিবাস, বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও তৃতীয় লেন অর্থাৎ রাস্তার বাম পাশের লেনে বেবি ট্যাঙ্,ি টেম্পো, হিউম্যান হলার, মিশুক জাতীয় গাড়ি চলাচল করবে। প্রতিটি লেনে একটি গাড়ির পিছনে আরেকটি গাড়ি থাকবে। ট্রাফিক আইন অমান্য করে ওভারটেক করা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সামনের ক্রসিংয়ে বামে মোড় নিতে হলে আগেই লেন পরিবর্তন করে ঠিক লেনে গাড়ি রাখতে হবে। কোন লেন বন্ধ করে রাখা যাবে না। লেন পরিবর্তনের সময় অবশ্যই যানবাহনের দিকনির্দেশক বাতি জ্বালাতে হবে। যাতে সহজেই পিছনের যানবাহন ধারণা করতে পারে গাড়িটির গন্তব্য কোন্ দিকে। ইচ্ছামতো পার্কিং করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নির্দিষ্ট জায়গায় পার্কিং করতে হবে। বাসস্ট্যান্ড ব্যতীত কোথাও যানবাহন থামানো নিষেধ করা হয়েছে। বাসস্ট্যান্ড ব্যতীত কোথাও গাড়ি থামানো যাবে না। অনুমোদিত জায়গায় পার্কিং করে যাত্রী ওঠা-নামা করতে হবে। বৈঠকে যানজট নিরসনে রাজধানী থেকে ২০ বছরের অধিক পুরনো যানবাহন তুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এজন্য পুলিশ রাজধানীতে ঝটিকা অভিযান শুরু করেছে। ইতোপূর্বেও পুলিশ ২০ বছরের অধিক পুরনো যানবাহন জব্দ করতে ঝটিকা অভিযান চালিয়েছিল। চলতি বছর ৯ আগস্ট থেকে ২৫ নবেম্বর পর্যন্ত ২০ বছরের অধিক ৯ হাজার ৪শ' ৭টি গাড়ি জব্দ করা হয়েছিল। এ ছাড়া ৫ হাজার ৩শ' ৪০টি অবৈধ রিঙ্া জব্দ করা হয়েছিল। জব্দকৃত মোটরযানের মধ্যে 'আর কোন দিন এসব গাড়ি ঢাকায় চালাব না' মর্মে মুচলেকা দিয়ে ৪শ' ৪৫টি গাড়ি ছেড়ে দেয়া হয়। বাকি ৭শ' ৩০টি মোটরযান বিভিন্ন ধরনের জরিমানা আদায় করে ছেড়ে দেয়া হয়েছিল। ট্রাফিক বিভাগের হিসাব অনুযায়ী ২০০৩ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত রাজধানীতেই ৪ লাখ ৭০ হাজার ৫শ' ৭টি গাড়ির লাইসেন্স দেয়া হয়। এর মধ্যে প্রাইভেটকারের সংখ্যা ১ লাখ ২৯ হাজার ৬শ' ২৯টি। বাকিগুলো অন্য মোটরযান। এরপর ফুটপাথ থেকে পর্যায়ক্রমে সব ধরনের দোকানপাট তুলে দেয়া হবে। যানজট নিরসনে প্রাইভেটকারের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ ও জব্দকৃত ২০ বছরের অধিক পুরনো গাড়ি ডাম্পিং করার জায়গা চেয়ে যোগাযোগ মন্ত্রণালয় বরাবর পুলিশ একটি দরখাস্ত দাখিল করেছে। ট্রাফিক বিভাগ জানায়, রাজধানীর নামীদামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কারণে রাজধানীতে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি ও ট্রাফিক পুলিশের হিসাব অনুযায়ী রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতিনিয়ত প্রায় ৬৬ হাজার প্রাইভেটকার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত অবস্থান করে। বেশিরভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব পার্কিং প্লেস নেই। যার ফলে এসব প্রাইভেটকারের প্রায় অধিকাংশই বিভিন্ন রাস্তার ওপর পার্কিং করা থাকে। যানজটের এটিও একটি অন্যতম কারণ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। ২০ বছরের অধিক পুরনো গাড়ি জব্দ করার পর জব্দকৃত গাড়ি রাখার কোন জায়গা নেই। এসব গাড়ি ড্যাম্পিং করতে যে জায়গার দরকার তা পুলিশের নেই। ডিএমপি কমিশনার জানান, শুধু রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর এই ট্রাফিক আইনের বাইরে থাকবে। বৈঠকে পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তা ও পরিবহন সেক্টরের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ইসি এখন ইইউ
কূটনৈতিক রিপোর্টার এখন থেকে ডেলিগেশন অব ইউরোপিয়ান কমিশন(ইসি) বাংলাদেশে ডেলিগেশন অব ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন(ইইউ) নামে পরিচিত হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের লিসবন চুক্তির আলোকে নামের এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। মঙ্গলবার স্থানীয় একটি হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকায় ইইউর ডেলিগেশন প্রধান ড. স্টিফেন ফ্রোইন সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আজকের দিনটি ইইউর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। লিসবন চুক্তির আলোকে আমরা আজ ইইউর নামের পাশাপাশি আইনগত দিকেরও কিছু পরিবর্তন এনেছি। লিসবন চুক্তির মাধ্যমে ইইউর পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন থেকে ইইউ বিশ্বের নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা ও পরিবর্তনের লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসাবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গেও আমাদের সম্পর্কের উন্নয়ন হবে বলে আমি মনে করি। তিনি বলেন, এখন থেকে ইইউর বহির্সম্পর্ক বিভাগ নিয়ন্ত্রণ করবে একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল, যারা পররাষ্ট্র এবং নিরাপত্তা কৌশল প্রণয়ন করবেন। তিনি বলেন, ইইউ জ্বালানি, জলবায়ুর পরিবর্তন, আন্তঃসীমান্ত অপরাধ, অভিবাসনের মতো ইসু্যতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের শক্তিশালী ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা করে। লিসবন চুক্তির কারণে বাংলাদেশীদের জন্য ইইউর সদস্য দেশগুলোতে ভিসাপ্রাপ্তি এবং বাংলাদেশের সঙ্গে সংস্থাটির বাণিজ্য উন্নয়নের মতো বিষয়গুলোতে কোন পরিবর্তন আসবে না বলে তিনি জানান। ২৭ জাতি সংস্থা ইইউ গত মাসে লিসবন চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। মঙ্গলবার থেকে চুক্তিটি কার্যকর হয়। সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বাংলাদেশে সুইডেনের রাষ্ট্রদূত ব্রিট হেগস্টম এবং স্পেন দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন এডওয়াডের্া রোমেরো উপস্থিত ছিলেন। বিজয়ের মাস
স্টাফ রিপোর্টার একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ আমাদের শ্রেষ্ঠতম অর্জন। এর পেছনে রয়েছে লাখ লাখ মানুষের রক্ত ও মহান আত্মত্যাগ। মুক্তিপাগল বাঙারী জাতি এক সাগর রক্তের বিনিময়ে এই ডিসেম্বরেই ছিনিয়ে আনে হাজারো বছরের লালিত স্বপ্ন প্রিয় স্বাধীনতা যুদ্ধের মহান বিজয়। বিশ্ব মানচিত্রে স্থান পায় লাল-সবুজের রক্তস্নাত স্বাধীন পতাকা, স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। বছর ঘুরে আবার এসেছে সেই বিজয়ের মাস ডিসেম্বর। পৃথিবীর মানচিত্রে একটি নতুন জাতি ও ভূখণ্ডের স্বীকৃতি আদায়ের মাস। ২৪ বছরের পাকিস্তানী শাসন-শোষণকে পদানত করে ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে বাংলার দামাল সন্তানরা ছিনিয়ে আনা বীরত্বগাথা বিজয় অর্জনের মাস।
৩৮ বছর আগের ২ ডিসেম্বর। একাত্তরে বিজয়ের মাস ডিসেম্বর যতই এগিয়ে যায় মুক্তিযুদ্ধের বিজয় যেন ততই এগিয়ে আসতে থাকে। কিন্তু পরাজয় সুনিশ্চিত জেনে চরম নিষ্ঠুরতা ও বর্বরতায় মেতে ওঠে হিংস্র পাক হানাদার বাহিনী। নবেম্বরের শেষ সপ্তাহের দিকেই পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় প্রধান জেনারেল নিয়াজী তার রাজাকার, আলবদর ও সেনাবাহিনীকে দেশের চারদিকে ছড়িয়ে নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞ চালাতে থাকে। কিন্তু তখনও হানাদার বাহিনী বুঝতে পারেনি তাদের পতন অত্যাসন্ন। একাত্তরের রক্তক্ষরা এই দিনে গেরিলা আক্রমণ থেকে সম্মুখযুদ্ধের গতি বাড়ে। অপ্রতিরোধ্য বাঙালীর বিজয়রথে পাকবাহিনীর নিষ্ঠুর সব পরিকল্পনা ভেস্তে যেতে থাকে। পরাজয়ের আভাস পেয়ে তৎকালীন পাকিস্তানী প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান এদিন মরিয়া হয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিঙ্নকে একটি চিঠি পাঠান। ইয়াহিয়া তার চিঠিতে যুদ্ধকালীন সাহায্যের আশায় ১৯৫৯ সালের পাক-মার্কিন দ্বিপক্ষীয় চুক্তির এক অনুচ্ছেদের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন। সীমান্ত এলাকায় পাক জান্তারা সমরসজ্জা বৃদ্ধি করায় ভারতও তা মোকাবেলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেয়। ডিসেম্বরের প্রথম থেকেই ত্রিমুখী যুদ্ধের আশঙ্কা ক্রমেই প্রবল হয়ে উঠতে থাকে। এসব দেখেশুনে ভারত সরকার বুঝেছিল, পাকিস্তান যুদ্ধ করবেই। ভারত তখন যে রাজনৈতিক সমাধানের চেষ্টা বা আশা একেবারে ছেড়ে দিয়েছে তা নয়। কিন্তু রাজনৈতিক সমাধানের সঙ্গে সঙ্গে ভারত সামরিক প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছিল। পশ্চিমের প্রস্তুতি দেখে এবং নাশকতামূলক কাজের লোক ধরা পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভারত মোটামুটি পরিষ্কার বুঝে ফেলে পাকিস্তান রাজনৈতিক সমাধানের দিকে যাবে না, বরং লড়াই-ই করবে। তাই তখন থেকে ভারতের প্রস্তুতিও জোরদার হয়েছিল। অন্যদিকে বীর বাঙালীর গেরিলা আক্রমণে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়ে পাক সৈন্যরা। যতই সময় গড়াচ্ছিল গেরিলা আক্রমণ ততই প্রবল হতে থাকে। পাক সেনাদের হাতে তখনও আধুনিক অস্ত্র-গোলাবারুদ মজুদ থাকায় মুক্তিযোদ্ধারা প্রবল গেরিলা আক্রমণের মাধ্যমে পরাস্ত করতে থাকে। মুক্তিপাগল বাঙালীর অকুতোভয় লড়াইয়ে পাক হানাদারদের রাতে চলাফেরাও কঠিন হয়ে পড়ে। নিয়াজী বুঝতে পারে, এবার বড় ধরনের কিছু করতে না পারলেই নয়। তাই মার্কিন সাহায্য নিশ্চিত, নিজেদের শক্তি বৃদ্ধি, রাজাকার-আলবদর-আলশামসসহ এ দেশীয় স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিকে নিয়ে ব্যাপক নিধনযজ্ঞ চালানোর জঘন্য পরিকল্পনা অাঁটতে থাকে কসাই নিয়াজী। বর্ণাঢ্য ও ব্যাপক আয়োজনে মঙ্গলবার থেকে ডিসেম্বর মাসব্যাপী বিজয় উৎসব কর্মসূচী পালন শুরু হয়েছে। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ এবার বর্ণিল ও ব্যতিক্রমী আয়োজনে পালন করছে মাসব্যাপী কর্মসূচী। মঙ্গলবার সকালে যে স্থানটিতে একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর পরাক্রমশালী পাক হানাদাররা বাঙালীর দামাল ছেলেদের কাছে আত্মসমর্পণে বাধ্য হয়েছিল, সেই সোহরাওয়াদর্ী উদ্যানের শিখা চিরন্তনে পু্#৬৩৭৪৩;ার্ঘ্য অর্পণ, দু'হাত তুলে হাজার হাজার নেতাকমর্ী স্বাধীনতাবিরোধীদের রুখে দাঁড়ানোর দীপ্ত শপথ নিয়েছেন। যুবলীগ বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিচারের রায় কার্যকরে জনসমর্থন আদায়ে শুরু করেছে গণস্বাক্ষর অভিযান। সিপিবি মুক্তাঙ্গনে সমাবেশ ও মিছিল করে বিজয়ের মাসের কর্মসূচীর সূচনা করেছে। সমাবেশ থেকে নেতারা বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রাখতে হলে চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন এবং চার মূলনীতিসহ বাহাত্তরের সংবিধান পুর্নপ্রতিষ্ঠা করতে হবে। মাহবুব আলমের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, আহসান হাবিব লাবলু, সাজ্জাদ জহির চন্দন, আনোয়ার হোসেন রেজা, আখতার হোসেন, জলি আক্তার, আবদুল বাসেত, মানবেন্দ্র দেব প্রমুখ। বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের উদ্যোগেও বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি ও শিখা চিরন্তনে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন শেষে মুক্তিযোদ্ধারাও শপথ গ্রহণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সুলতান উদ্দীন আহম্মদ রাজা, ইকবাল হোসেন, আনোয়ার হোসেন পাহাড়ী প্রমুখ। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন ডিসেম্বর মাসজুড়ে নানা কর্মসূচীর মাধ্যমে একাত্তরের বীর শহীদদের স্মরণ করছে। কাউন্সিলে সব পদে নির্বাচন হচ্ছে না বিএনপির
স্টাফ রিপোর্টার দীর্ঘ ১৬ বছর পর অনুষ্ঠেয় বিএনপির কাউন্সিলে সব পদে নির্বাচন হচ্ছে না। তবে দলের সর্বোচ্চ পদ চেয়ারপার্সন পদে নির্বাচন হবে। কাউন্সিলরদের ভোটে চেয়ারপার্সন নির্বাচিত হওয়ার পর নতুন চেয়ারপার্সন গণতান্ত্রিক ক্ষমতাবলে দলটির জাতীয় কার্যকরী কমিটি কাউন্সিলরদের সামনে উপস্থাপন করবেন। মঙ্গলবার চেয়ারপার্সন পদে নির্বাচনের জন্য তফসিল ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশনের সভাপতি বিচারপতি টিএইচ খান। নিয়ম রক্ষায় তফসিল ঘোষণা করা হলেও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ছাড়া চেয়ারপার্সন পদে বিকল্প কোন প্রাথর্ী নেই। ফলে অতীতের মতো খালেদা জিয়ার ইচ্ছার ওপরই কেন্দ্রীয় কমিটির নতুন নেতা নির্বাচনের দায় বর্তাচ্ছে।
নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর বিকেলে চেয়ারপার্সন পদে নির্বাচনের জন্য খালেদা জিয়ার পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন দলের দফতর সম্পাদক রিজভী আহমেদ। কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সহকারী রিটার্নিং অফিসার এমএ মান্নানের কাছ থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন তিনি। এ সময় দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এদিকে ২৫১২ কাউন্সিলর তাদের সরাসরি ভোটাধিকার প্রয়োগ করে চেয়ারপার্সন নির্বাচিত করবেন। কাউন্সিলে সব মিলিয়ে সর্বমোট ১২ হাজার ডেলিগেট থাকবেন। তবে চেয়ারপার্সন পদে যাঁরা প্রতিদ্বন্দি্বতা করবেন তাঁরা কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে ২ ডিসেম্বরের মধ্যে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও দাখিল করতে পারবেন। কাল ৩ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র বাছাই ও ৪ ডিসেম্বর প্রত্যাহারের শেষ দিন। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের পর চেয়ারপার্সন পদে নির্বাচনের ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে বিএনপি। ৩০ নবেম্বর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সাংগঠনিক ৭৫ জেলা কমিটির মধ্যে মাত্র ৪৮ জেলার সম্মেলন হয়। দলীয় কোন্দলের কারণে ২৮ জেলায় সম্মেলন করতে পারেনি বিএনপি। এর মধ্যে সারাদেশে ৬৭ ভাগ জেলা সম্মেলন এবং উপজেলা, পৌরসভা ও থানা সম্মেলন হয়েছে ৭০ ভাগ। যেসব জেলায় সম্মেলন হয়নি ওইসব জেলার আহ্বায়ক ও প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক কাউন্সিলর হিসেবে জাতীয় সম্মেলনে যোগ দেবেন। আহ্বায়ক কমিটি যাতে কাউন্সিলে অংশ নিতে পারে এ জন্য গঠনতন্ত্রে কিছুটা সংশোধনী আনা হয়েছে। তবে ঢাকা মহানগর কমিটি বাতিল করায় জাতীয় কাউন্সিলে ওই কমিটির কেউ প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন না। কিন্তু মহানগরের থানা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা পদাধিকারবলে কাউন্সিলের প্রতিনিধিত্ব করবেন বলে জানান দলের দফতর সম্পাদক রিজভী আহমেদ। তিনি বলেন, কাউন্সিলের বাইরে প্রতিটি সংসদীয় আসন থেকে ৪০ ডেলিগেট জাতীয় কাউন্সিলে যোগ দেবেন। এতে করে মোট ১২ হাজার ডেলিগেট কাউন্সিলে উপস্থিত থাকবেন। গত ফেব্রুয়ারি মাসে তৃণমূল নেতাদের সাক্ষাতকার নেয়া হয়। তৃণমূল নেতাদের সুপারিশ ছিল ত্যাগী ও যোগ্য নেতাকে কমিটিতে প্রাধান্য দিতে। কিন্তু তৃণমূল নেতাদের প্রাধান্য না দেয়ায় কমিটি গঠন নিয়ে সারাদেশে সংঘর্ষ হয়। গত ৯ জুন সারাদেশে ৭৫ জেলা কমিটি বাতিল করে ৭২ জেলা আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। ঢাকা মহানগর, মানিকগঞ্জ জেলা ও ঢাকা জেলায় নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন হয়নি। পূর্ণাঙ্গ জেলা কমিটি গঠন করতে গিয়ে সারাদেশে মারামারি ও সংঘর্ষ হয়। চট্টগ্রাম মহানগর, ফরিদপুর, পঞ্চগড় জেলাসহ বেশ কয়েকটি জেলায় অভ্যন্তরীণ কোন্দলে সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত ২৮ জেলায় সম্মেলন হয়নি। উল্লেখযোগ্য জেলাগুলো হচ্ছে গাজীপুর, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম (উত্তর), বরগুনা, বরিশাল (মহানগর), বরিশাল (দক্ষিণ), দিনাজপুর, ঝালকাঠী, জয়পুরহাট, পাবনা, কিশোরগঞ্জ, নওগাঁ, সিলেট (মহানগর), বগুড়া, ঢাকা মহানগর, ঢাকা ও মানিকগঞ্জ। ৮ ডিসেম্বরের কাউন্সিল সফল করার লক্ষ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে বিএনপি। চেয়ারপার্সন পদে নির্বাচনের জন্য তফসিল ঘোষণা করা হয়। তফসিল ঘোষণা করেন চেয়ারপার্সন নির্বাচন কমিশনের সভাপতি বিচারপতি টিএইচ খান। এ সময় নির্বাচন কমিশনের সদস্য এ্যাডভোকেট আব্দুর রেজ্জাক খান ও এ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া এবং রিটার্নিং অফিসার আরএ গনি ও সহকারী রিটার্নর্িং অফিসার এমএ মান্নান, এ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার, খোরশেদ আলম, ব্যারিস্টার নাসিরউদ্দিন অসীম, দফতর সম্পাদক রিজভী আহমেদ এবং বিএনপির ছাত্রবিষয়ক ফজলুল হক মিলন। তফসিল ঘোষণার পর এক ব্রিফিংয়ে বিচারপতি টিএইচ খান বলেন, বিএনপির বিদ্যমান গঠনতন্ত্র অনুযায়ীই চেয়ারপার্সন পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। চেয়ারপার্সন পদে নির্বাচনের জন্য প্রার্থীর বয়স নির্ধারণ করা হয়েছে সর্বনিম্ন ৩০ বছর। গঠনতন্ত্রে কেবল চেয়ারপার্সন পদে নির্বাচন করার বিধান রয়েছে। মহাসচিবসহ বিভিন্ন পদে নির্বাচনের বিষয়ে কিছু সংশোধনী প্রস্তাব এসেছে। তা জাতীয় কাউন্সিলে চূড়ান্ত অনুমোদন হলে পরবতর্ীতে গঠনতন্ত্রে সংযোজন করা হবে বলে তিনি জানান। ডিসি ওসি ও এসআইয়ের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ
কোর্ট রিপোর্টার তেজগাঁও জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার চৌধুরী মঞ্জুরুল কবীর, আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইদুল হক ও পুলিশের এসআই নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইবু্যনাল-৪ এর আদালতে দৈনিক খবরের এক মহিলা সাংবাদিক বাদী হয়ে মঙ্গলবার মামলাটি দায়ের করেন। বাদিনী আদাবর থানার শেখেরটেকের পিসিকালচার রোডের বাসিন্দা।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, বাদিনী পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে তেজগাঁও জোনের ডিসি চৌধুরী মঞ্জুরুল কবীরের সঙ্গে পরিচয় হয়। পরিচয়ের সূত্রে তিনি ভালবাসার প্রস্তাব দেন এবং এক পর্যায়ে কু প্রস্তাবও দেন। এতে বাদিনী রাজি না হওয়ায় তাকে এক মিথ্যা মামলায় আটক করা হয়। বাদিনী ঐ মামলায় জামিনে মুক্তি পেলে গত ৭ নবেম্বর ডিসির নির্দেশে এসআই নজরুল ইসলাম বাদিনীকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে তাকে মুখ বেঁধে আদাবর থানার ৩ তলায় একটা কক্ষে নিয়ে ডিসি মঞ্জুরুল কবির তাকে ধর্ষণ করে। তাকে বিবস্ত্র করে ছবি তোলে। অভিযুক্ত ডিসি চলে গেলে ঐ কক্ষে ওসি সহিদুল হক ঢুকে বাদিনীকে ধর্ষণ করে। পরে এসআই নজরুল বাদিনীর বিভিন্ন জায়গায় স্পর্শ করে এবং বাদিনীর গলার চেন ও মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। এক পর্যায়ে বাদিনী জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। পরের দিন একটা হেরোইনের মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে কোর্টে পাঠিয়ে দেয়। গত ২৩ নবেম্বর বাদিনী জামিনে মুক্তি পান। বাদিনীর পক্ষে মামলা শুনানি করেন এ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম। বিএনপি আমলের আইন উপদেষ্টা
শীঘ্র নিয়োগ বাতিল
জনকণ্ঠে প্রকাশিত 'ওঁরা বহাল তবিয়তে' সংবাদ প্রকাশের পর
বিকাশ দত্ত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, ব্যাংক, বীমা ও অফিসে আইন উপদেষ্টাদের নিয়োগ শীঘ্রই বাতিল করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে জোট সরকার ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় যে সমস্ত ডেপুটি এ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) ও সহকারী এ্যাটর্নি জেনারেল (এএজি) রয়েছেন তাঁদের ব্যাপারেও ব্যবস্থা নেয়া হবে। আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ এ কথা বলেছেন। তিনি আরও বলেছেন, এ্যাটর্নি জেনারেল এ ব্যাপারে রিপোর্ট দিলেই ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ বিষয়টি জানতে বুধবার এ্যাটর্নি জেনারেলকে ডাকা হবে।
২৫ নবেম্বর 'ওরা বহাল তবিয়তে' শিরোনামে রিপোর্ট প্রকাশ হবার পর সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের জানিয়ে দেয়া হয়। বিষয়টি সরকারের নীতিনির্ধারকদেরকেও ভাবিয়ে তুলেছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনীদের আইনজীবীরা এখন সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আইন উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োজিত রয়েছেন। এতে সরকারের গোপনীয় নথিপত্র পাচার হবার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ব্যাপারে আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ জনকণ্ঠকে বলেছেন, যে সমস্ত প্রতিষ্ঠানে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আইন উপদেষ্টারা এখনও রয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। অতি শীঘ্র এঁদের নিয়োগ বাতিল করা হবে। এগুলো নিজস্ব মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাপার। ওরা এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে। ডেপুটি এ্যাটর্নি জেনারেল এবং সহকারী এ্যাটর্নি জেনারেলের ব্যাপারে আইনমন্ত্রী বলেছেন, এ্যাটর্নি জেনারেল রিপোর্ট দিলে বিষয়টি দেখব। এ বিষয় জানতে আজ এ্যাটর্নি জেনারেলকে ডাকব। এদিকে এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম জনকণ্ঠকে বলেছেন, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের নিয়োগপ্রাপ্তদের নেয়া হয়নি। বারে একটি গ্রুপ আছে যারা এখানে ঢুকতে চায়। তারা উদ্দেশ্যমূলকভাবে এ কাজগুলো করছে। আইন প্রতিমন্ত্রী এ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, নিউজ হবার পর পরই যে সমস্ত প্রতিষ্ঠানে জোট সরকারের সময় নিয়োগপ্রাপ্ত আইন উপদেষ্টা রয়েছেন, তাঁদের সরিয়ে দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এখানে আমাদের করার কিছু নেই। দুনর্ীতি দমন কমিশন (দুদক) থেকে তাঁদের নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। বিষয়টি দুদকই দেখবে। দুনর্ীতি দমন কমিশনের (দুদক) ডিজি (প্রশাসন) কর্নেল হানিফ ইকবাল জনকণ্ঠকে বলেছেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানের জন্য আইনজীবী নিয়োগ করে থাকি; অন্য প্রতিষ্ঠানের আইন উপদেষ্টা আমরা কিভাবে নিয়োগ করব? এটা আমাদের বিষয় নয়। 'ওরা বহাল তবিয়তে শিরোনামে' রিপোর্ট ছাপা হবার পর সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে শুরু করে সর্বস্তরে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সবাই জানতে যাচ্ছে, ১১ মাস ধরে এ সমস্ত আইন উপদেষ্টা কিভাবে থাকল। বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন এই প্রতিনিধিকে বলেছেন, তিনি দু'বছর আগে ক্রিকেট বোর্ডের আইন উপদেষ্টা থেকে পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগের পর তাঁর পাওনা টাকাগুলোও তিনি পাননি। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ১১ মাস আগে ক্ষমতায় এসেছে। ক্ষমতায় আসার এক মাসের মাথায় মহাজোট সরকারকে পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহ দমন করতে হয়। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে জঙ্গীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে ১১ মাসের মাথায় দেশ অনেক দূর এগিয়ে গেছে। মহাজোট সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে একটি মহল বেশ তৎপর হয়ে উঠেছে। এরই মধ্যে বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যার বিচার সম্পন্ন হয়েছে। দীর্ঘ ৩৪ বছর পর বাঙালী জাতি তার পিতা হত্যার বিচার পেল। সমগ্র জাতি দেখেছে বঙ্গবন্ধুর খুনীদের আইনজীবী কারা? সেই সমস্ত আইনজীবী বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আইন উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। এখনও তাঁরা ঐ পদেই আছেন। বর্তমান সরকার ১১ মাস ক্ষমতায় আসার পরও তাঁরা এই পদে কীভাবে থাকেন? সেটাই জাতির প্রশ্ন। বর্তমান সরকারের আদর্শে বিশ্বাসী না হয়েও, স্বীয় পদে আসীন আছেন, তাঁরা কখনও সরকারের মঙ্গল কামনা করবেন না। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় আসার কয়েক দিনের মধ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে আওয়ামী লীগের মতাদর্শে বিশ্বাসীদের একের পর এক চাকরিচু্যত করা হয়। যাদের চাকরিচু্যত করতে পারেনি তাদের নানাভাবে হেনস্থা করেছে। অথচ বর্তমান মহাজোট সরকার এখনও চিন্তাই করতে পারেনি, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের লোকজন তাদের মধ্যে মিশে আছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে চরম মূল্য দিতে হবে। বুধবার হাজীরা ফিরতে শুরু করবেন
স্টাফ রিপোর্টার পবিত্র হজব্রত পালন শেষে হাজীরা আজ বুধবার থেকে ফিরতে শুরু করবেন। তিনটি ফ্লাইটে দেড় হাজার হাজী দেশে ফিরবেন। এ ছাড়া মঙ্গলবার নিয়মিত ফ্লাইটে ৩১১ হাজী দেশে ফিরেছেন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এয়ার কমোডর (অব) জাকিউল ইসলাম জনকণ্ঠকে জানান, এবার হজযাত্রীরা কোন প্রকার ঝমেলা ছাড়াই হজব্রত পালন করতে গেছেন_ তেমনি শান্তিপূর্ণভাবে হাজীরা দেশে ফিরবেন। আজ থেকে দু'টি হজ ফ্লাইটসহ একটি নিয়মিত ফ্লাইটের মাধ্যমে হাজীদের দেশে আনা হবে।
বিমান সূত্র জানিয়েছে, গত ২১ অক্টোবর সকাল ১১ প্রথম ফ্লাইট উদ্বোধনের মাধ্যমে হজযাত্রী পরিবহন শুরু হয়েছে। টানা এক মাস হজযাত্রী পরিবহন করা হয়। হজযাত্রী পরিবহনের জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স জেদ্দা এয়ারপোর্টে ৭৭টি স্লট পেয়েছিল। প্রতিদিন বিমান দু'টি করে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। ফিরতি ফ্লাইট একইভাবে পরিচালনা করা হবে। এবার ৫৮ হাজার ৪৫৯ হজযাত্রী হজব্রত পালন করেছেন। গত বছরের তুলনায় এবার হজযাত্রীর সংখ্যা ৯ হাজার ৬৫৯ জন বেশি। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ৩৮ হাজার ৪৫৯ হজযাত্রীকে পরিবহন করবে। বাকি ২০ হাজার হজযাত্রী সৌদিয়া এয়ারলাইন্সসহ বিভিন্ন এয়ারলাইন্স হাজীদের পরিবহন করবে। নিয়মিত ফ্লাইটে গত মঙ্গলবার বিকেলে ৩১১ হাজী দেশে ফিরেছেন। আজ বুধবার হজের বিশেষ ফ্লাইট হাজীদের নিয়ে দুপুর ১২টা ১০ মিনিট ও বিকাল ৫টা ২০ মিনিটে জিয়ায় অবতরণ করবে। এছাড়া নিয়মিত ফ্লাইট বিকেল সাড়ে ৫টায় আরও কয়েক শ' হাজী নিয়ে জিয়ায় অবতরণ করার কথা রয়েছে। বোয়িং-৭৪৭ উড়োজাহাজে ১১ শ' হাজী নিয়ে পরিবহন করবে। বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, হাজীদের পরিবহনে কোন প্রকার অনিয়ম হবে না। বিমানের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্কতা নেয়া হয়েছে। এবার হজযাত্রী পরিবহনে যেমন কোন অনিয়ম হয়নি তেমনি হাজীদের দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। খুনীদের ব্যাপারে দায়িত্বশীলদের এখনই কথা না বলা উচিত সাহারা
স্টাফ রিপোর্টার বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনীদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের এখনই কথা না বলা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন। মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিয়মকালে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনীরা কে কোথায় আছে এ ব্যাপারে আমি মনে করি কম কথা বলা উচিত। সবকিছু বলা ঠিক না। বলে ফেললে অনেক কাজ করা যায় না। এতে অনেক সময় খুনীরা পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়ে যায়। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কানাডার সঙ্গে বন্দীবিনিময় চুক্তি না থাকলেও বঙ্গবন্ধুর খুনীদের দেশে ফিরিয়ে আনতে কোন সমস্যা হবে না। যেভাবে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা যায় সেভাবেই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর খুনী নূর চৌধুরীকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইতোপূর্বে আমরা খুনী মহিউদ্দিন ও হুদাকে দেশে ফিরিয়ে এনেছি। তাদের দেশে ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোলের মাধ্যমে ইতোপূর্বে রেড এ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। নতুন করে আবারও উদ্যোগ নিয়েছি। খুনীরা স্থান পরিবর্তন করছে। আমাদের কাছে খবর রয়েছে। ঈদের সময় আইনশৃক্মখলা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, ঈদে ঘরে ফিরতে রাস্তায় জ্যাম এবং লঞ্চডুবির ঘটনা ছাড়া বাকি পরিস্থিতি ভাল ছিল। ছুটি কম হওয়ায় একসঙ্গে ব্যাপক সংখ্যক লোক ঢাকা ছেড়ে যাওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। লঞ্চডুবির ঘটনাটি মর্মান্তিক আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, এখনও লাশ পাওয়া যাচ্ছে। তিনি বলেন, ঘরে ফিরতে রাস্তায় জ্যাম হওয়ায় সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পুলিশ গিয়ে যানজট নিরসনে চেষ্টা চালায়। যানজট এত প্রকট আকার ধারণ করে যে কাঁচপুর ব্রিজের কাছে একটি ট্রাক নষ্ট হয়ে গেলে তাকে টেনে আনতে সেখানে রেকার যাওয়ার পরিস্থিতি ছিল না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মোঃ গোলাম হোসেন বলেন, রাস্তায় গাড়ি চালকরা যেন প্রতিযোগিতায় নেমেছিল। কে আগে যেতে পারে, কে কয়টা ট্রিপ বেশি দিতে পারে সে লক্ষ্যে তারা রাস্তার যেখানে ফাঁকা পেয়েছে সেখানেই গাড়ি ঢুকিয়ে দিয়েছে। রাস্তায় ডিভাইডার না থাকায় পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে। তিনি বলেন, আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন আনতে হবে। রাস্তায় নামলে অনেকে তাড়াহুড়া শুরু করে দেয়। একটু ফাঁক পেলেই ঢুকে পড়ে। এতে দুর্ঘটনাও ঘটে। আগামী মাসেই ন্যায়পাল নিয়োগ দেবে সরকার
স্টাফ রিপোর্টার আগামী জানুয়ারি মাসের মধ্যেই ন্যায়পাল নিয়োগ দেবে সরকার। নিয়োগ পাওয়া ন্যায়পাল সরকারী, আধা সরকারী ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন অনিয়ম তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সরকারের কাছে প্রতিবেদন পাঠাবে। মঙ্গলবার সচিবালয়ে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) কান্ট্রি ডিরেক্টর পল জে হেইটেন্স আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদের সঙ্গে বৈঠকের পর মন্ত্রী সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য আগামী জানুয়ারি মাসের মধ্যেই ন্যায়পাল নিয়োগ দেয়া হবে। এ বিষয়ে এডিবি সরকারকে আর্থিক সহায়তাসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আইনমন্ত্রী বলেন, সংসদের সুপারিশের ভিত্তিতে পাঁচ বছরের জন্য রাষ্ট্রপতি গ্রহণযোগ্য কোন ব্যক্তিকে ন্যায়পাল হিসেবে নিয়োগ দেবেন। ক্ষতিগ্রস্ত কোন ব্যক্তির অভিযোগের ভিত্তিতে ন্যায়পাল সরকারী, আধাসরকারী ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন অনিয়ম তদন্ত করবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সরকারের কাছে প্রতিবেদন পাঠাবে। ন্যায়পালের প্রতিবেদন অনুযায়ী সরকার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বাধ্য থাকবে। তিনি বলেন, সংবিধানের ৭৭ অনুচ্ছেদে ন্যায়পাল নিয়োগের বিধান রয়েছে এবং ১৯৮০ সালে এ সংক্রান্ত একটি আইনও পাস হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, এডিবি স্থায়ী এ্যাটর্নি সার্ভিস প্রতিষ্ঠানের আহ্বান জানিয়েছেন। এর ফলে সরকার পরিবর্তনের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আইন কর্মকর্তা পরিবর্তনের রেওয়াজও বন্ধ হবে। তবে এ জন্য আলাদা ক্যাডার সার্ভিস প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এ বিষয়ে এডিবি আর্থিক সহায়তা দেবে বলে আশ্বাস দিয়েছে। এইডসে এ বছরে মারা গেছে ৩৯ জন স্বাস্থ্যমন্ত্রী
স্টাফ রিপোর্টার প্রতিবছরের ন্যায় এবারও ১ ডিসেম্বর মঙ্গলবার বিশ্ব এইডস দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক বলেছেন, এইডসে এ বছর বাংলাদেশে ৩৯ জনের মৃতু্য হয়েছে। তিনি বলেন, চলতি বছর দেশে ২৫০ জন এইচআইভিতে আক্রান্ত হয়েছে। এদের মধ্যে ১৪৩ জনের এইডস ধরা পড়েছে। মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, গত ২০ বছরে দেশে ১ হাজার ৭৪৫ জন এইচআইভিতে আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে এইডস হয়েছে ৬১৯ জনের এবং মারা গেছে ২০৪ জন। ১৯৮৯ সালে বাংলাদেশে প্রথম এইচআইভি ভাইরাস ধরা পড়ে। তিনি বলেন, যারা শিরায় মাদক গ্রহণ করে তাদের মধ্যে এইচআইভিতে আক্রান্তের হার ৫ শতাংশেরও বেশি। এর মধ্যে ঢাকায় কিছু এলাকায় এইচআইভিতে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, গত ৭ বছর ধরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চরম ব্যবস্থাপনা বিরাজ করেছে। গত চার বছর ধরে কোন ডিপিসির বৈঠক হয়নি। এখন পদোন্নতি দেয়ার লোক পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে বিভিন্ন সেক্টরে কাজে জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। আমরা এই সকল সেক্টরে দক্ষতা বাড়াতে টিম গঠন করছি। তিনি আরও বলেন, অতীতের কাজে নানা ত্রুটি পেয়েছি আমরা। এই ত্রুটি মোকাবেলায় জাতীয় পর্যায়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. সৈয়দ মুদাচ্ছির আলী বলেন, সবাইকে একসঙ্গে এইডস প্রতিরোধে কাজ করতে হবে। বাংলাদেশ মেডিক্যাল এ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বদলি, টেন্ডারবাজি বা নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে কাজ না করে জনগণের জন্য কাজ করুন। ছুটির পর লেনদেনের প্রথম দিনেই চাঙ্গা শেয়ারবাজার
অর্থনৈতিক রিপোর্টার ঈদের ছুটির পর লেনদেনের প্রথম দিনেই চাঙ্গা হয়ে উঠেছে পুঁজিবাজার। তিনটি নতুন রেকর্ডের মধ্য দিয়ে গতকাল দিনের লেনদেন শেষ করেছে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এঙ্চেঞ্জ (ডিএসই)। বাজার মূলধন, সাধারণ সূচক ও সার্বিক সূচকে রেকর্ডের পাশাপাশি আবারও হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে লেনদেন। অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দর বাড়লেও টানা বৃদ্ধির পর সংশোধিত হয়েছে শতাধিক কোম্পানির দর।
বাজার বিশ্লেষকরা মনে করেন, কোরবানি ঈদ সামনে রেখে গত সপ্তাহে অনেক নিয়মিত বিনিয়োগকারী পুঁজিবাজারের লেনদেন থেকে বিরত ছিলেন। ঈদের পর কয়েক দিন বাজারে বিনিয়োগকারীদের আনগোনা কম থাকবে এবং সেই সুযোগে তুলনামূলক কম দরে শেয়ার কেনা যাবে_ এ আশায় অনেকেই হাতে নগদ টাকা নিয়ে বসে ছিলেন। টানা চার দিন বন্ধের পর লেনদেনের প্রথম দিনে এদের অধিকাংশই শেয়ার কিনতে সচেষ্ট ছিলেন। এদিন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরাও বিপুলসংখ্যক শেয়ার কিনেছেন। এসব কারণে বাজারে লেনদেন বেড়েছে। ঈদের আমেজ কাটিয়ে বিনিয়োগকারীদের ভিড় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চলতি সপ্তাহে বাজারে লেনদেনে চাঙ্গাভাব অব্যাহত থাকার সম্ভাবনাই বেশি। গতকাল ডিএসইতে মোট ২৩১ কোম্পানির ২ কোটি ৮১ লাখ ৭৭ হাজার ৪১৮টি শেয়ারের লেনদেন হয়েছে_ যার আর্থিক মূল্য ১ হাজার ১৫ কোটি ৫৮ লাখ ৫৩ হাজার ৯২৪ টাকা। লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ১২৬টির শেয়ারের দর বেড়েছে এবং ১০৫টির কমেছে। অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দর ডিএসইর বাজার মূলধনে নতুন রেকর্ড সৃষ্টির ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। গতকাল বাজার মূলধনের (তালিকাভুক্ত সকল শেয়ারের মোট বাজারমূল্য) পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮৬ হাজার ৫শ' ২৬ কোটি ২২ লাখ ৭৩ হাজার টাকা_ যা আগের লেনদেন দিবসের তুলনায় ১ হাজার ৬শ' ৫০ কোটি ৬৭ লাখ ৩৫ হাজার টাকা বেশি। ডিএসই সাধারণ সূচক আরেক ধাপ বেড়ে ৪৪২৪ দশমিক ০১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে_ যা ডিএসইর ইতিহাসে সর্বোচ্চ। পাশাপাশি সার্বিক সূচকও নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করে ৩৬৭২ দশমিক ৫৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। মেরিকোর লভ্যাংশ ঘোষণা : শেয়ারবাজারে নতুন তালিকাভুক্ত কোম্পানি মেরিকো বাংলাদেশ লিমিটেড শেয়ারহোল্ডারদের জন্য গতকাল ২৫ শতাংশ হারে লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। কোম্পানির প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে শেয়ারহোল্ডাররা আড়াই টাকা পাবেন। গতকাল শেয়ারবাজারে সর্বশেষ এ কোম্পানির প্রতিটি শেয়ার ৩৮১ টাকা ৬০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে। সে হিসেবে প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে লভ্যাংশের পরিমাণ দাঁড়ায় সাড়ে ৬ পয়সা! আগামী ১৯ জানুয়ারি সকাল ১১টায় গাজীপুরের মৌচাকে অবস্থিত কারখানা প্রাঙ্গণে মেরিকোর বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। গতকাল প্রকাশিত সর্বশেষ আর্থিক হিসাব অনুযায়ী কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ১৬ টাকা ৪৫ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদের পরিমাণ ৪৯ টাকা ৮৬ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। দু'টি মিউচু্যয়াল ফান্ড গঠন করবে ট্রাস্ট ব্যাংক : পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য দু'টি পৃথক মিউচু্যয়াল ফান্ড গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ। টিবিএল ফার্স্ট এনআরবি মিউচু্যয়াল ফান্ড এবং টিবিএল ফার্স্ট ক্লায়েন্ট মিউচু্যয়াল ফান্ড নামের এ দু'টি ফান্ডের প্রতিটির আর্থিক পরিমাণ হবে ২০০ কোটি টাকা। ফান্ডগুলোতে ট্রাস্ট ব্যাংক ২০ কোটি টাকা করে বিনিয়োগ করবে। বাকি অর্থ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হবে। এছাড়া মার্চেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য 'ট্রাস্ট ব্যাংক ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড' নামে ৫০০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের একটি সহযোগী কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করবে ট্রাস্ট ব্যাংক। কোম্পানিটির প্রাথমিক পরিশোধিত মূলধন হবে ২০০ কোটি টাকা। ডিমেট হচ্ছে ফার্মা এইডের শেয়ার : সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড্রের (সিডিবিএল) অন্তভর্ুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ফার্মা এইড লিমিটেড। আগামী জানুয়ারিতে কোম্পানির সকল শেয়ার ডিমেট প্রক্রিয়া (কাগজের শেয়ারকে ইলেকট্রনিক শেয়ারে রূপান্তর) সম্পন্ন হবে। সালাম মুর্শেদীর গার্মেন্টসে বহিরাগতরা হামলা চালিয়েছে!
অর্থনৈতিক রিপোর্টার ঈদ উদযাপন ছুটি দুই দিন বৃদ্ধির ইসু্যতে ব্যাপক তাণ্ডব চালানো হয়েছে বিজিএমইএ প্রেসিডেন্ট সালাম মুর্শেদীর গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে। ঈদের ছুটির একদিন আগে আশুলিয়া ইনভয় কমপ্লেঙ্ লিমিটেডে এই ঘটনা ঘটেছে। গার্মেন্টস কর্তর্ৃপক্ষের দাবি_ বহিরাগত লোকজনের ইন্ধনে কিছু উচ্ছৃক্মখল শ্রমিক এ কাজ করেছে। সাততলা ভবনের গার্মেন্টসের সব ফ্লোরের গুরুত্বপূর্ণ মেশিনারিজ, কম্পিউটার ও অবকাঠামো ভেঙ্গে বেতন দেয়ার ৫০ লাখ টাকা নগদ লুট করে নিয়ে যায়।
এই তাণ্ডবলীলায় প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩ কোটি টাকা বলে তাদের নিজস্ব হিসেবে বের করা হয়েছে। এ ব্যাপারে চাঁদরাতে স্থানীয় থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। ব্যাপক ভাংচুরের বিষয় দেখানোর জন্য ঢাকা থেকে বিভিন্ন মিডিয়ার সংবাদিকদের নিয়ে যাওয়া হয় সেখানে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, প্রতিটি ফ্লোরে সেলাই মেশিন ফেলে দিয়ে নষ্ট করা হয়। সিসিটিভির ক্যামেরা, কম্পিউটার, ল্যাপটপ, বিভিন্ন মেশিনারিজ, অফিসের গ্লাস, চেয়ার, টেবিল, ভাংচুর করা হয়। ওই গার্মেন্টসের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপক মঞ্জুর মোরশেদ সংবাদিকদের জানান, এই ঘটনা পরিকল্পিত। বহিরাগতরা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত রয়েছে। ঘটনার বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত কারখানায় সাড়ে ৫ হাজার শ্রমিক কাজ করে। খাবারের জন্য বিরতি দেয়া হয়। এ সময় ২৭ নবেম্বর থেকে ২ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬ দিনের ছুটির নোটিস বোর্ডে টাঙ্গানো হয়। কিন্তু ওই নোটিস টাঙ্গানোর পর কিছু শ্রমিক ৮ দিনের ছুটি দাবি করে। এই নিয়ে এক পর্যায়ে নিচের প্রশাসনিক কক্ষের সোফা রাস্তায় নিয়ে শ্রমিকরা আগুন ধরিয়ে রাস্তা বন্ধ করে দেয়। এ সময় কিছু বহিরাগত কারখানায় ঢুকে পড়ে। শ্রমিকদের সঙ্গে মিলে তারা ব্যাপক ভাংচুর চালায়। তিনি আরও বলেন, এ সময় নিচে শ্রমিকদের নবেম্বর মাসের বেতন দেয়া চলছে। প্রায় এক হাজার শ্রমিকের হাতে ২০ লাখ টাকা বেতন দেয়া শেষ হয়। কতিপয় লোক শ্রমিকদের সঙ্গে মিলে বেতনের বাকি ৫০ লাখ টাকা আলমারি ভেঙ্গে লুট করে নিয়ে যায়। এ ছাড়া উপর থেকে দেড় হাজার পিস জ্যাকেট লুট করে নেয়। ওই ফ্যাক্টরির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মদ আলী বলেন, অন্য সকল ফ্যাক্টরিতে ৬ দিনের ছুটি দেয়া হয়েছে। একই ভাবে ইনভয় কমপ্লেঙ্ ফ্যাক্টরির ছুটি ৬ দিন দেয়া শ্রমিকরা মানতে চায় না। তাদের দাবি নিয়ে আমরা আলোচনার প্রস্তাব দিলেও তারা এই কাণ্ড ঘটায়। ওই কারখানা থেকে প্রতিমাসে নয় লাখ ডলারের পোশাক রফতানি হচ্ছে। প্রতি দিন ৩০ হাজার পিস পোশাক উৎপাদন করছে। কোকো উদ্ধার হয়নি ৪ দিনেও, হত্যা মামলা দায়ের মাতম
তিন বিআইডবিস্নউটিএ কর্মকর্তা সাসপেন্ড, ৭ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন
জনকণ্ঠ রিপোর্ট ভোলার লালমোহনে লাশের মিছিল থমকে দাঁড়ালেও শোকের মাতম থামেনি। স্বজন হারানো ও নিখোঁজদের সন্ধানে আসা পরিবারের সদস্যদের বুকফাটা আর্তনাদ আর আহাজারিতে পুরো লালমোহনেই বইছে শোকাবহ পরিবেশ। মঙ্গলবার সারাদিনে নতুন কোন লাশ উদ্ধার হয়নি। গত ৪ দিনেও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি ঘাতক লঞ্চ এমভি কোকো-৪। ক্ষমতার দাপটে অতীতে ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকলেও এবার রেহাই পাচ্ছে না কোকো লঞ্চের মালিকপক্ষ। বেঁচে যাওয়া এক লঞ্চযাত্রী সোমবার রাতে কোকো-৪-এর মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে লালমোহন থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। অন্যদিকে উদ্ধারকাজে গাফিলতির কারণে বিআইডবি্লউটিএ'র তিন কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক তদন্ত কাজ শেষ করেছেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে গঠিত সাত সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি। তদন্তকারী কর্মকর্তারা ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনের কারণেই এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণ করছেন। এছাড়া অবৈধভাবে ত্রুটিপূর্ণ এই লঞ্চটিকে ফিটনেস প্রদানের জন্য দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শুরু হয়েছে তদন্ত। এদিকে দুর্ঘটনাকবলিত লঞ্চ এমভি কোকো-৪ উদ্ধারে উদ্ধারকারী জাহাজ 'রুস্তম' নারায়ণগঞ্জ থেকে লালমোহনের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। সঙ্গে গেছে দশ টনের ছয়টি এবং ১৫ টনের পাঁচটি মোট ১১টি 'চেন কপ্পা' উদ্ধারকারী জাহাজ। লঞ্চ উদ্ধারের সার্বিক বিষয়টি তদারকি করছেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান। প্রাণে বেঁচে যাওয়া এবং স্বজন খোঁজার জন্য ভিড় করা মানুষের আহাজারির পাশাপাশি ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে। প্রশাসনের উদ্ধার তৎপরতার গাফিলতি ও ধীরগতিতে ক্ষোভের পাশাপাশি তাদের অনেকেরই প্রশ্ন_ এটি নিছকই দুর্ঘটনা নয়। জিয়া পরিবারের মালিকানাধীন কোকোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অর্থলি্#৮৭৭৬;া, ক্ষমতার দাপটে ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত ৭ গুণ যাত্রী পরিবহন, যাত্রী নামার সময় লঞ্চের দরজা বন্ধ করে দিয়ে বেপরোয়া ও অমানবিকভাবে ভাড়া আদায়ের চেষ্টার কারণেই ৭৮ জন মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। এদের অর্ধেকের মতোই শিশু। আর ভেসে গেছে ও নিখোঁজ রয়েছে এখনও অনেকে। তেঁতুলিয়া নদী পাড়ের মানুষরা কোকো-৪-এর মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। সোমবার রাতে ভোলার লালমোহন উপজেলার তেঁতুলিয়া নদীতে ঈদের আগের রাতে দুর্ঘটনাকবলিত এমভি কোকো-৪ নামের লঞ্চটির কতর্ৃপক্ষের ২৫ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়েছে। দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া লঞ্চটির যাত্রী কামাল হোসেন বাদী হয়ে লালমোহন থানায় এ মামলাটি দায়ের করেন। মামলার ধারা দেয়া হয়েছে- দণ্ডবিধির ২৮০/২৮২/৩০২/৩৪। লালমোহন থানার ওসি জাকির হোসেন ফকির সাংবাদিকদের জানান, মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে_ অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই, বেপরোয়া গতিতে ও নাজিরপুর লঞ্চ টার্মিনালে লঞ্চ না ভিড়িয়ে প্রায় ৫০ ফুট আগে ভেড়ানোর চেষ্টা করায় লঞ্চ ডুবে এত মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। তিনি জানান, তদন্ত কমিটিগুলো প্রতিবেদন দেয়ার পর উর্ধতন কতর্ৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে মামলার ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে। থানা সূত্র জানায়, মামলায় আসামি করা হয়েছে কোকো-৪-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক, পরিচালক, ব্যবস্থাপক, মাস্টার, ড্রাইভার ও কেরানীসহ (ভাড়া আদায়কারী) মোট ২৫ জন। একাধিক সূত্র মতে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান ও তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু বিতর্কিত ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের যৌথ মালিকানায় পরিচালিত লঞ্চ এমভি কোকো-৪ নকশা বহিভর্ূতভাবে নির্মিত। কিন্তু মালিকপক্ষ ক্ষমতার অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে ২০০০ সালে এই নৌযানটির নিবন্ধন নেয়। অবকাঠামোগত ত্রুটি ছাড়াও দীর্ঘসময়ে লঞ্চটির নানা যান্ত্রিক ত্রুটি ও ফিটনেস হারালেও সমুদ্র পরিবহন অধিদফতরের ঢাকা (সদরঘাট) অফিস থেকে কোন ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই প্রতিবছর লঞ্চটির সার্ভে (ফিটনেস) সনদ দেয়া হয়। এমনি ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে চলতি বছরের ২২ অক্টোবর ফিটনেস সনদ নিতে সক্ষম হয় কোকোর কতর্ৃপক্ষ। সূত্রটি জানায়, এসব অপকর্মের সঙ্গে জড়িত ইঞ্জিনিয়ার এ্যান্ড শিপ সার্ভেয়ারদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। নিজস্ব প্রতিনিধি হাসিব রহমান ঘটনাস্থল ঘুরে এসে ভোলা থেকে জানান, ভোলার লালমোহনে নাজিরপুরে কোকো-৪ লঞ্চ দুর্ঘটনার পর উদ্ধার কাজে বিলম্ব হওয়ার অভিযোগ ছিল প্রথম থেকেই। এমনকি নৌমন্ত্রীর লঞ্চ দুর্ঘটনার স্থান পরিদর্শনকালে এক ঘণ্টা পরে উদ্ধারকারী হামজা এসে উদ্ধার কাজে নিয়োজিত হবে এমনটা জানালেও তা আসে প্রায় ২০ ঘণ্টা পর। যাত্রীবাহী দুর্ঘটনাকবলিত লঞ্চটি দ্রুত উদ্ধার করতে উদ্ধারকারী জাহাজ 'হামজাকে' ঘটনাস্থলে প্রেরণে বিলম্ব করায় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কতর্ৃপক্ষের (বিআইডবি্লউটিএ) তিন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে মঙ্গলবার বিকেলে বিআইডবি্লউটিএ'র সচিব মনোয়ার হোসেন তাঁদের বরখাস্ত করেন। বরখাস্তকৃতরা হলেন- নৌ সংরক্ষণ ও পরিচালনা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক আবদুর রাজ্জাক, নৌ সংরক্ষণ ও পরিচালনা বিভাগ বরিশাল শাখার উর্ধতন উপপরিচালক মোঃ শাহজাহান এবং কতর্ৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ করায় বন্দর ও পরিবহন বিভাগ বরিশাল শাখার উর্ধতন উপপরিচালক মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম। লঞ্চ দুর্ঘটনার তদন্তের জন্য নতুন পুনর্গঠিত তদন্ত টিমের তদন্ত পরিচালনা নিয়েও তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে লালমোহনে। কোকো লঞ্চটি এখনও উদ্ধার হয়নি। তার আগেই দুই দিন স্থানীয়ভাবে তদন্ত শেষে তদন্ত টিমের ঢাকায় চলে যাওয়ায় এলাকার লোকজনের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তবে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম প্রধান জয়ন্ত কুমার নন্দীর নেতৃত্বে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী বহনের কারণেই এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। তদন্ত কমিটি লঞ্চ যাত্রী ও ঘাটের প্রত্যক্ষদশর্ীসহ ৩০ জনের বক্তব্য রেকর্ড করার পাশাপাশি লঞ্চের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, উচ্চতা মেপেছে। তদন্ত টিমের সদস্যরা জানান, লঞ্চের মালিকপক্ষের কাউকে তাঁরা খুঁজে পাননি। ঢাকায় গিয়ে তাঁদের নোটিস করবেন। লঞ্চটির সার্ভে রিপোর্টে তাঁরা জানতে পেরেছেন, ২৪/১০/২০১০ পর্যন্ত মেয়াদ আছে। ভোলার কাজ শেষ করে মঙ্গলবারই তাঁরা ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন। ঢাকায় গিয়ে লঞ্চটির সার্ভে রিপোর্ট তদন্ত করবেন বলে জানান। তবে তদন্ত কমিটির তদন্ত কর্মকাণ্ড দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। তাঁদের অভিযোগ, দায়সারা গোছের তদন্ত করা হচ্ছে। লালমোহনে শোকের মাতম ভোলার লালমোহনে চলছে শোকের মাতম। চারদিকে নিহতদের পরিবারের স্বজনদের আহাজারি ও কান্নার রোল। যারা এখনও নিহতদের লাশ পায়নি, তারা তেঁতুলিয়া নদীর তীরে খুঁজে ফিরছে স্বজনদের। তেঁতুলিয়া তীরে ঝুলছে শোকের ব্যানার। লঞ্চটি চার দিন পরও উদ্ধার করতে না পারায় অনেক লাশই ভেসে যাচ্ছে বলে অভিযোগ সর্বত্র। মঙ্গলবার নতুন কোন লাশ উদ্ধার করা না গেলেও স্থানীয় স্টুডেন্ট ফোরাম অভিযোগ করেছে, আরও ৩টি লাশ নদীতে ভেসে গেছে। শেষ চেষ্টার জন্য উদ্ধারকারী জাহাজ রুস্তমকে আনা হচ্ছে। সরেজমিনে দুর্ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, কোকো-৪ লঞ্চটি উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা ক্রেন দিয়ে টেনে রেখেছে। লঞ্চটি ঘাটের ১৫/২০ গজ দূরে অর্ধনিমজ্জিত অবস্থায় কাত হয়ে পড়ে আছে। এখনও লঞ্চটির নিচ তলা পানির নিচে। নদীর পাড়ে হাজার হাজার মানুষের দিনভর অপেক্ষা। কেউবা নিখোঁজ থাকা যাত্রীদের নাম লেখাচ্ছে। নদীর দু'পার থেকেই মাঝেমধ্যে ভেসে আসছে মানুষের বুকফাটা কান্না আর আর্তনাদ। তাদের শেষ চাওয়া নিহতদের লাশটা অন্তত যেন পান। কিন্তু তাদের সান্ত্বনা দেয়ার মতো কেউ নেই সেখানে। স্থানীয়রা বলছেন, উদ্ধার কাজ যা করেছে, স্থানীয় স্টুডেন্ট ফোরামের সদস্যরাই করেছে। ওই ফোরামের সদস্যরা জানায়, মঙ্গলবার লালমোহনের কাছে গাইমারা তেঁতুলিয়া নদীতে আরও ৩টি লাশ জেলেদের বাধা জালে আটকা পড়েছে। লাশগুলো নদী পাড়ে তুলে রাখার পর ফের ভেসে গেছে বলে স্থানীয় জেলেরা জানায়। সোমবার রাতে উদ্ধারকৃত দু'টি মহিলার লাশের পরিচয় না পাওয়ায় লালমোহন গোরস্তানে তাদের দাফন করা হয়। জেলা প্রশাসক মোঃ মেসবাহুল ইসলাম জানান, হামজা লঞ্চটিকে টেনে তুলতে না পারায় অসমাপ্ত কাজের জন্য উদ্ধারকারী জাহাজ রুস্তমকে আনা হচ্ছে। বিকেল নাগাদ রুস্তম পেঁৗছার কথা রয়েছে। ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মেজর (অব.) জসিম উদ্দিন সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, নিমজ্জিত কোকো-৪ লঞ্চটি থেকে তিনি একটি ফিটনেস সার্টিফিকেট পেয়েছেন। ফিটনেস সার্টিফিকেটে লেখা রয়েছে ২০০৭ পর্যন্ত। তিনি অভিযোগ করেন, এ লঞ্চটি ধারণক্ষমতা ৩৭০ হলেও প্রায় ৪ হাজার যাত্রী বহন করে। ভোলা-লালমোহন রুটের যে পাঁচটি লঞ্চ রয়েছে তা হচ্ছে- এমভি সালাউদ্দিন, পাতারহাট-১ ও ৫, কোকো-৪ ও ৫। এসব লঞ্চের একটিরও ফিটনেস নেই। তিনি বলেন, লঞ্চ দুর্ঘটনার পর মালিকপক্ষের কাউকেই পাওয়া যাচ্ছে না। প্রিন্স নামক একটি দ্বিতল লঞ্চকে কেটে তিন তলা করা হয়। প্রশাসনের দুর্বলতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখানে উদ্ধারের কোন সরঞ্জাম নেই। বিশেষ করে অঙ্েিজন ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি, ওয়াটার সার্চ লাইট এসব কিছুই নেই। এদিকে ঘটনাস্থলে আসা ডিপার্টমেন্ট অব শিপিংয়ের প্রধান প্রকৌশলী একেএম ফখরুল ইসলাম জানান, সাধারণত ফিটনেস না থাকলে রুট পারমিট দেয়া হয় না। এই লঞ্চটির ২০১০ সালের ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত রুট পারমিটের অনুমতি রয়েছে। তবে এটির ধারণক্ষমতা ৪৫৬ জন। ঘটনার দিন ১৫শ' থেকে দুই হাজার যাত্রী বহন করার কথা যাত্রীদের কাছ থেকে জানা গেছে। কিন্তু ওইদিন ঢাকা থেকে ছেড়ে আসার সময় ভয়েস রিপোর্টে তারা ৪৭০ যাত্রী বহন করেছে বলে জানায়। অন্যদিকে নৌ শিপিংয়ের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, কোকো-৪-এর রেজিস্ট্রেশন নম্বর ৫৮২৬ এবং নবায়নের তারিখ ছিল চলতি বছরের ১০ অক্টোবর। তাই ফিটনেস নিয়ে কোন্ তথ্য সঠিক এ নিয়ে বিভ্রান্তি কাটছেই না। সীতাকুণ্ডে বৃক্ষ নিধন ১৩শ' জনকে আসামি করে মামলা
সংবাদদাতা, সীতাকুণ্ড, ১ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে রাতের অাঁধারে উপকূলীয় সবুজ বেষ্টনীর সহস্রাধিক কেওড়া গাছ কেটে ফেলার ঘটনায় ১৩শ' অজ্ঞাত গ্রামবাসীকে আসামি করে সীতাকুণ্ড থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। বাঁশবাড়ীয়া বন কর্মকর্তা হাসান মিয়া বাদী হয়ে এ মামলা করেন। মামলায় নির্দিষ্ট আসামি হিসেবে দেখানো হয়েছে ১৪জনকে। এদিকে বন বিভাগের মামলা নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা বিতর্ক। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিশেষ সমঝোতার মাধ্যমে মূল হোতাদের বাইরে রেখে মামলায় গ্রামের নিরীহ লোকদের ফাঁসিয়ে দেয়া হয়েছে। গাছ কাটার অভিযোগে রবিবার রাতে আটককৃত ৬ জনকে মঙ্গলবার আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। অপরদিকে ইকোপার্কে সবুজ বনায়নের রোপণকৃত গাছ কাটার ঘটনায় কোন মামলা হয়নি।
বন কর্মকর্তা হাসান মিয়ার দায়ের করা মামলার এজাহারে বলা হয়, ২৯ নবেম্বর রাত ৮টায় চিহ্নিত ১৪ জনসহ ১৩শ' অজ্ঞাত গ্রামবাসী ১ হাজার ৫৬০টি গাছ কেটে ফেলে। এতে বন বিভাগের ১২ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে। মামলায় নির্দিষ্ট ১৪ জনসহ অজ্ঞাত ১৩শ' জনকে আসামি করা হয়। নাম উল্লেখ করা ১৪ আসামি হচ্ছে, স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ জহুর, মামুন, শফিউল আলম, মনির, বেলাল, দিদার, রুমি, শাহেদ, জয়নাল, আলমগীর, রুবেল, হারেছ মিয়া, দীলিপ চন্দ্র নাথ ও লাভলূ। বন কর্মকর্তার দায়েরকৃত এজাহারে এক নম্বর আসামি স্থানীয় মেম্বার জহুর জানান, তিনি ঐদিন ঢাকা এ্যাপোলো হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এ ঘটনার সঙ্গে তার কোন সংশ্লিষ্টতা ছিল না। তাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এই মামলায় আসামি করা হয়েছে। দুই নম্বর আসামি মামুন জানান, গাছ কাটার বিরুদ্ধে বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে সাক্ষাতকার দেয়ায় তাকে বন বিভাগের কর্মকর্তারা মামলায় জড়িয়েছেন। এদিকে বন বিভাগের দায়ের করা মামলার ভয়ে গ্রাম পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে। এলাকাটি এখন আতঙ্কের গ্রামে পরিণত হয়েছে। এদিকে ঘটনার পর নানা তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা এজাহারের প্রাথমিক খসড়ায় এজাহারে প্রভাবশালী কয়েকজনের নাম উল্লেখ থাকলেও পরবতর্ীতে তা বাদ দিয়ে নিরীহ লোকদের জড়িয়ে এজাহার দাখিল করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় সূত্রমতে, খসড়া এজাহারে ছিল_ শিল্পপতি ও বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরী, আওয়ামী লীগ নেতা আ.ন.ম দিলশাদ ও মাসুদসহ বেশ কয়েকজনের নাম। এছাড়া স্থানীয় লোকজনের বক্তব্যে বেরিয়ে এসেছিল স্থানীয় এমপি এবিএম আবুল কাশেম, তাঁর পুত্র মামুন এবং আরেক প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা আ.জ.ম নাছিরের নাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোন রাঘব-বোয়ালের নাম অভিযুক্তদের তালিকায় উঠে আসেনি। উপকূলীয় বন কর্মকর্তা জামিল মোহাম্মদ খানের কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি জনকণ্ঠকে জানান, আসামি হলে সবাই নিরীহ হয়ে যায়। এক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। তিনি জানান, এলাকায় সরেজমিন যাচাই করে যাদের নাম এসেছে তাদেরকেই মামলার আসামি করা হয়েছে। তবে মামলা দায়েরই শেষ কথা নয়। কেউ নিরপরাধ হয়ে থাকলে সেটি নিশ্চয়ই প্রমাণ হবে। তিনি আরও জানান, সাধারণত শিপইয়ার্ড নির্মাণের জন্য গাছ কেটে দখলে নেয়া হলে সেখানে সাইনবোর্ড লাগানো হয়। কিন্তু এ ধরনের কোন নামফলক এবার কেউ লাগায়নি। তাছাড়া গাছ উদ্ধার করতে গিয়েও বন বিভাগের লোকজন বাধাপ্রাপ্ত হয়নি। ফলে এখনই বলা যাচ্ছে না কারা এ কাজটি করেছে। পরবতর্ীতে বন উজাড় হওয়া জায়গায় কেউ স্থাপনা নির্মাণ করতে চাইলে বোঝা যাবে প্রকৃত অপরাধী কারা। সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। কমর্ীদের ক্ষোভ, হতাশার মুখে হতে যাচ্ছে বিএনপির কাউন্সিল
অর্ধেক জেলা-উপজেলায় কাউন্সিল হয়নি
রাসেল রানা দেশের প্রায় অর্ধেক জেলা-উপজেলার কাউন্সিল না করেই ৮ ডিসেম্বর জাতীয় কাউন্সিল করতে যাচ্ছে দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি। ইতোমধ্যে জাতীয় কাউন্সিলের সকল প্রস্তুতিও প্রায় সম্পন্ন। তবে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নির্বাচনের কথা বলা হলেও বাস্তবে এর কোন প্রতিফলন থাকছে না। তৃণমূল নেতাকর্মীরা গঠনতন্ত্র সংশোধন করে দলের দ্বিতীয় শীর্ষ পদ 'মহাসচিব' পদে সরাসরি নির্বাচনের দাবি জানালেও দলের চেয়ারপার্সন এ দাবি নাকচ করে দিয়েছেন। পাশাপাশি যেসব জেলা-উপজেলায় কাউন্সিল হয়েছে, সেসব স্থানের কোথাও পাল্টা কমিটি আবার কোথাওবা কোন কেন্দ্রীয় নেতার পকেট কমিটি গঠিত হয়েছে। এসব কারণে জাতীয় কাউন্সিলকে সামনে রেখে সারাদেশের নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনার বিপরীতে বিরাজ করছে ক্ষোভ, হতাশা ও দলের অস্তিত্ব নিয়ে শঙ্কা।
দলীয় সূত্রমতে, ১৯৯৩ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির সর্বশেষ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা থাকায় প্রায় ষোলো বছর পর দলের পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলের আয়োজন করেছে দলটি। তবে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে জাতীয় কাউন্সিল করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নিবন্ধনের সময় বাড়িয়ে নিলেও তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতামত উপেক্ষিতই থেকে যাচ্ছে। দলের শীর্ষ নেতারা বারবার গণতান্ত্রিক পন্থায় সব পর্যায়ের কমিটি গঠনের ঘোষণা দিলেও জেলা-উপজেলা কমিটি গঠনে গণতন্ত্রের লেশমাত্র ছিল না। যেসব জেলা-উপজেলায় কমিটি গঠন হয়েছে তার মধ্যে দু-একটি জেলা-উপজেলা ছাড়া সবস্থানে জেলা আহ্বায়ক কিংবা কেন্দ্রীয় কোন নেতার ইচ্ছামাফিক পকেট কমিটি গঠিত হয়েছে। এর মধ্যে অনেক স্থানেই পাল্টা কমিটিও গঠন করা হয়েছে। অভ্যন্তরীন সংঘর্ষ, ধাওয়াপাল্টা ধাওয়ায় কাউন্সিল পণ্ড হওয়ার ঘটনা বিএনপির সাধারণ ঘটনায় পরিণত হয়েছে। জেলা-উপজেলার কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে গত মাসে অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষে কেন্দ্রীয় নেতাসহ শত শত নেতাকর্মী আহত হয়েছে। জেলা কাউন্সিলের জন্য নির্ধারিত শেষদিন সোমবারও কয়েকটি জেলায় পাল্টাপাল্টি কমিটি গঠিত হয়েছে। সোমবার অধিকাংশ কাউন্সিলরের অনুপস্থিতিতে পৃথক দুইটি স্থানে পাল্টাপাল্টি কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে হবিগঞ্জ জেলার কাউন্সিল হয়েছে। পাবনা জেলা বিএনপির বিবদমান দুই গ্রুপ সোমবার পাল্টাপাল্টি কাউন্সিলের মধ্য দিয়ে দুইটি পৃথক কমিটি ঘোষণা করেছে। সকালে দলের একটি অংশ জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয় দখল করে কাউন্সিল করে। পরে দলের অপর অংশ বিকালে একই স্থানে কাউন্সিল করে। এ বিষয়ে পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, বিদ্রোহী অংশের নামধারী কিছু ব্যক্তি কাউন্সিলের নামে যা করেছে তা প্রহসন ছাড়া কিছু নয়। দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তকে অমান্য করে তাদের কমিটি গঠন করার কোন এখতিয়ার নেই। দলের ভাবমূর্তি নষ্টের চেষ্টায় তারা এ কাজ করেছে। শান্তিশৃক্মখলা রক্ষায় আমরা কোন বাধা দেইনি। তবে অপর অংশের নেতা ও জেলা বিএনপির সাবেক দফতর সম্পাদক ফেরদৌস মঞ্জু সাংবাদিকদের জানান, জেলা বিএনপির কাউন্সিল নিয়ে দলের একাংশ কয়েকদিন ধরে লুকোচুরি খেলছে। এছাড়া একইদিনে কাউখালী, ক্ষেতলাল, কসবা, জয়পুরহাট, আক্কেলপুর, নবীনগরে সংঘর্ষের পাশাপাশি পাল্টাপাল্টি কমিটি গঠিত হয়েছে। সংঘর্ষের আশঙ্কায় সোমবার স্থগিত করা হয়েছে নেত্রকোনা ও পিরোজপুর জেলার কাউন্সিল। এর আগেও বেশ কয়েকটি জেলা-উপজেলার কাউন্সিল কেন্দ্র থেকে স্থগিত করা হয়। এছাড়া জেলা পর্যায়ের কাউন্সিল ৩০ নবেম্বরের মধ্যে শেষ করার কথা থাকলেও নোয়াখালী জেলা বিএনপির কাউন্সিলের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে ৪ ডিসেম্বর। জেলার ১৭টি সাংগঠনিক ইউনিটের মধ্যে ১২টির কাউন্সিল না করেই জেলা কাউন্সিলের তারিখ ঘোষণায় সাধারণ কর্মী সমর্থকরা হতাশ। বিষয়টি স্বীকার করে বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা আহ্বায়ক মোহাম্মদ শাহজাহান সাংবাদিকদের জানান, বিভিন্ন উপজেলা পর্যায়ে নেতৃত্বের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবেই সময়মতো কাউন্সিল করা সম্ভব হয়নি। তবে গঠনতন্ত্রের আলোকে ১৭টি সাংগঠনিক ইউনিটের মধ্যে অন্তত নয়টির কাউন্সিল ৪ ডিসেম্বরের আগে শেষ করার চেষ্টা রয়েছে। এছাড়া যেসব উপজেলার কাউন্সিল করা যাবে না সেগুলোর আহ্বায়ক কমিটি থেকে জেলা কাউন্সিলের কাউন্সিলর মনোনীত করা হবে। দলীয় কোন্দলের বিষয় স্বীকার করে দলের দফতর সম্পাদক রিজভী আহমেদ সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, দলীয় কোন্দলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিএনপির স্থানীয় শাখাগুলোর সম্মেলন হতে পারেনি। তবে জেলা পর্যায়ের ৭০ ভাগ সম্মেলন শেষ হয়েছে বলে দাবি করেছেন রিজভী আহমেদ। তিনি আরও জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যেসব জেলা উপজেলার কাউন্সিল সম্পন্ন হবে না, তাদের জাতীয় কাউন্সিলে কাউন্সিলর হিসেবে অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে দলের নীতি নির্ধারনী ফোরাম সিদ্ধান্ত নেবে। এ বিষয়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, যেসব জেলায় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া চর্চার ক্ষেত্রে কাউন্সিল বা কমিটি গঠনের উদ্যোগ আপাতত বিঘি্নত হয়েছে, সেগুলোতে জাতীয় কাউন্সিল-পরবর্তী সময়ে আবারও কাউন্সিলের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে। আর এসব জেলা বা ইউনিট থেকে গঠনতন্ত্র প্রদত্ত ক্ষমতাবলে দলীয় চেয়ারপার্সন তাঁর জন্য রক্ষিত ১০ শতাংশ কোটা অনুযায়ী জাতীয় কাউন্সিলের জন্য প্রতিনিধি বা কাউন্সিলর নিয়োগ দেবেন। জাতীয় কাউন্সিলের প্রস্তুতি সম্পর্কে তিনি বলেন, জাতীয় কাউন্সিলের সকল প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন। উপকমিটিগুলোও তাদের কাজকর্ম প্রায় গুছিয়ে এনেছে। এছাড়া দলের একটি সূত্র জানায়, বিএনপির গঠনতন্ত্রেই গণতন্ত্র নেই_ বিভিন্ন মহল থেকে এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে গঠনতন্ত্রকে গণতান্ত্রিক করতে গঠনতন্ত্র সংশোধন উপকমিটিকে তৃণমূল পর্যায় থেকে মতামত নিতে বলা হয়। সে কারণে তৃণমূল পর্যায় থেকে মতামত চায় উপকমিটি। এতে তৃণমূল থেকে মহাসচিব পদে নির্বাচনের জোরালো প্রস্তাব আসে। সে মোতাবেক চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার কাছে জমা দেয়া উপ-কমিটির আহ্বায়ক তরিকুল ইসলামের প্রতিবেদনেও মহাসচিব পদে নির্বাচনের প্রস্তাব ছিল। কিন্তু প্রস্তাবটি স্থায়ী কমিটি বাতিল করে দিয়েছে। দলীয় চেয়ারপার্সনের নির্দেশেই স্থায়ী কমিটি এ প্রস্তাব বাতিল করে বলে জানা গেছে। সূত্রমতে, স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য প্রস্তাবটিকে গণতান্ত্রিক আখ্যায়িত করে এ প্রস্তাব পাসের পক্ষে অবস্থান নিতে চাইলেও চেয়ারপার্সনের সিদ্ধান্ত জানার পর কেউ আর এ প্রস্তাব সমর্থন করার সাহস দেখাননি। তৃণমূল পর্যায় থেকে মতামত নেয়ার বিষয়টি একেবারেই লোক দেখানো ছিল বলে সূত্র দাবি করেছে। সূত্র জানায়, তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতামত উপেক্ষা করায় জাতীয় কাউন্সিল নিয়ে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে তারা। আগেই প্রস্তুত করে রাখা কমিটি কাউন্সিলদের দ্বারা শুধু পাস করিয়ে নেয়া হবে- এমন ধারণা থেকেই মূলত কাউন্সিলদের মধ্যে কোন উৎসাহ-উদ্দীপনা নেই। পাশাপাশি অনেক জেলা-উপজেলায় ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীরা নেতৃত্ব থেকে বাদ পড়া, দুর্নীতিবাজ গণবিচ্ছিন্ন নেতাদের ইচ্ছামাফিক পকেট কমিটি গঠন হওয়ায় তৃণমূলে বিরাজ করছে ক্ষোভ ও হতাশা। একইসঙ্গে দলের অস্তিত্ব সঙ্কটের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন জেলা- উপজেলা পর্যায়ের অনেক নেতাকমর্ী। উন্নয়নশীল দেশের চেয়ে বেশি বাজার সুবিধা চেয়েছে বাংলাদেশ
তালিকা চেয়েছে শুল্কমুক্ত ৯৭ শতাংশ পণ্যের
কাওসার রহমান, জেনেভা থেকে বাংলাদেশ আবারও বলিষ্ঠ কণ্ঠে উন্নয়নশীল দেশগুলোর চেয়ে অধিকতর বাজার সুবিধা চেয়েছে। তালিকা চেয়েছে শুল্কমুক্ত ৯৭ শতাংশ পণ্যের। বলেছে, জরুরী ভিত্তিতে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে পরিষ্কার ভাষায় জানাতে হবে, স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে দেয়া ৯৭ শতাংশ পণ্যের শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধায় কোন কোন পণ্য রয়েছে। অবশিষ্ট তিন শতাংশ পণ্যের বিষয়টিও চলমান আলোচনার সমাপ্তির আগেই নি্#৬৩৭৪৩;ত্তি করতে হবে।
বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী ফারুক খান মঙ্গলবার সকালে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সপ্তম মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে উন্নত দেশগুলোর কাছে এ দাবি জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে তিনি উন্নয়ন সহযোগীদের আন্তরিক সমর্থন ও সহযোগিতা চেয়েছেন। বলেছেন, তাদেরকে অবশ্যই জি-২০ সামিটসহ আন্তর্জাতিক ফোরামে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করতে হবে। বিশ্ব বাণিজ্যের চলমান আলোচনা সমাপ্তিতে বিলম্বের জন্য বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী হতাশা ব্যক্ত করেছেন। বলেছেন, দোহা উন্নয়ন আলোচনা শেষ করতে বিলম্বের কারণে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা পেতে বিলম্ব হচ্ছে। তিনিও অন্যান্য দেশের বাণিজ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে একই সুরে সুর মিলিয়ে ২০১০ সালের মধ্যে দোহা রাউন্ড শেষ করার জন্য সদস্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী জেনেভায় চলমান বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সপ্তম মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে বক্তৃতা করার জন্য অন্যান্য দেশের বাণিজ্যমন্ত্রীদের মতো তিন মিনিট সময় পান। ওই স্বল্প সময়ের মধ্যেই তিনি বাংলাদেশের বাণিজ্যের অবস্থা, জলবায়ুর ক্ষতিকর প্রভাব, স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর চেয়ে অধিকতর অগ্রাধিকার সুবিধা প্রদানের বিষয়টি চমৎকার ভাষায় তুলে ধরেন। বলেন, 'আমি এবার বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নিয়মিত বৈঠকে যোগ দিতে এসেছি। কিন্তু আমি উচ্চ আশা নিয়ে ফিরে যেতে চাই। আমি আমার জনগণ এবং সংসদের জন্য ইতিবাচক কিছু নিয়ে যেতে চাই। আশা করি জেনেভায় আমাদের সম্মিলিত প্রয়াস সেই ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে।' বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক মন্দা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। অথচ এ সমস্যার একটিও আমাদের সৃষ্ট নয়। বৈশ্বিক মন্দার প্রভাবে আমাদের রফতানি আয় গত প্রান্তিকে ১২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। বস্ত্র ও তৈরি পোশাক রফতানি হ্রাস পেয়েছে প্রায় ২৭ শতাংশ। বাংলাদেশী শ্রমিকদের বিদেশ গমন কমেছে প্রায় ৪০ শতাংশ। তার ওপর বিশ্ব বাণিজ্যে অসমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত একটি দেশ। বিশ্ব বাণিজ্যের এই অসম ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে আমরা বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সদস্যদের কাছে ভারসাম্যপূর্ণ সমাধান আশা করছি। বৈঠকের দ্বিতীয় দিনের কর্ম অধিবেশনে বাংলাদেশের ইসু্যটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে আয়োজনকরা মনে করছেন। বিকালে কর্ম অধিবেশনে দোহা উন্নয়ন আলোচনার অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে। ওই বৈঠকেই স্বল্পোন্নত দেশগুলোর পক্ষে তাঞ্জানিয়া এ ইসু্যটি আবারও বিশ্ব নেতৃবৃন্দের কাছে তুলে ধরবে। যাতে কোন উন্নয়নশীল দেশ (নন-এলডিসি) স্বল্পোন্নত দেশের চেয়ে বেশি বাণিজ্য সুবিধা না পায়। সোমবার জেনেভায় বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক শুরু হয়েছে। দ্বিতীয় দিনের বৈঠক চলছে সকাল থেকেই। এসব বৈঠকে বিশ্ব বাণিজ্যের নীতি নির্ধারকরা নতুন বছরেই ইতি টানতে চাইছেন চলমান দোহা উন্নয়ন আলোচনার। 'দোহা ডেভেলপমেন্ট রাউন্ড' নামে বিশ্ব বাণিজ্য উন্নয়নের এই আলোচনার শুরু হয়েছে আট বছর আগে কাতারের রাজধানী দোহা থেকে। উন্নত উন্নয়নশীল এবং স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মধ্যে নানা বিভেদ নানা মেরুকরণের কারণে সেই আলোচনা এখনও শেষ করা যায়নি। মাঝখানে বিশ্ব বাণিজ্যের আলোচনায় অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছিল। সেই অনিশ্চয়তা কাটিয়ে আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে দোহা উন্নয়ন আলোচনা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বাণিজ্য নীতি ঘোষণার ইঙ্গিত সেই দোহা উন্নয়ন আলোচনায় নতুন আশার সঞ্চার করেছে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নেতৃবৃন্দ আগামী বছরের মধ্যে সেই আলোচনা সমাপ্তির নতুন স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন। তাঁরা ২০১০ সালকে গত আট বছর ধরে চলমান বিশ্ব বাণিজ্যের চলমান আলোচনা সমাপ্তির নতুন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন। এজন্য বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নেতৃবৃন্দ এ সংস্থার সদস্য দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বলছেন, সদস্য দেশগুলো ঐক্যবদ্ধ হলে ২০১০ সালের মধ্যেই চলমান উন্নয়ন আলোচনা সমাপ্তি টানা সম্ভব হবে। এ প্রসঙ্গে সংস্থার মহাপরিচালক ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাবেক বাণিজ্য মন্ত্রী প্যাসকেল লামি একটি চীনা প্রবাদ তুলে ধরে বলেন, 'জং জি চেং চেং।' অর্থাৎ একতাই শক্তি। আমরা আশা করছি আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই আমরা আগামী বছরের মধ্যে দোহা উন্নয়ন আলোচনা শেষ করার ব্যাপারে আরও অধিকভাবে ঐক্যবদ্ধ হতে পারব। তিনি বলেন, আপনাদেরকে এই বিশ্বাস নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে যে, টেকসই উন্নয়নে বাণিজ্য বড় ভূমিকা পালন করতে পারে। আর উন্নয়নই নিয়ে আসতে পারে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি। এটা সৃষ্টি করতে পারে বেকারদের জন্য কর্মসংস্থান। উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বাণিজ্যই হতে পারে দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধের শক্তিশালী অস্ত্র। আড়াই হাজারেরও বেশি প্রতিনিধি, সাংবাদিক ও এনজিও কর্মীর পদচারণায় জেনেভা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টার মুখরিত হয়ে উঠেছে। আগের দিন দিনভর বৃষ্টির পর জেনেভার আকাশে সোনালী রোদ ঝিলিক দিয়েছে। সেই রোদে শীতের তীব্রতা কিছুটা কমেছে। তবে দ্বিতীয় দিনে বিশ্বায়ন বিরোধীরা আর কোন বিক্ষোভ প্রদর্শন করেনি। কনভেনশন সেন্টারের সামনের মাঠে তারা তাঁবু টাঙ্গিয়ে শান্তিপূর্ণ অবস্থান নিয়েছে। বিভিন্ন দেশ থেকে আসা এনজিও নেতৃবৃন্দ সেখানে গিয়ে তাদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে আসছে। টার্মিনালগুলো ভিড়ে ঠাসা, কর্মচঞ্চল হচ্ছে রাজধানী
এবার ফেরার পালা
স্টাফ রিপোর্টার আবারও সরগরম রাজধানীর টার্মিনালগুলো। সবখানেই ঘরে ফেরা মানুষের ভিড়। কর্মস্থলে যোগ দেয়ার ব্যস্ততা। বিষাক্ত নগরীতে নিজেকে মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা। চেষ্টা আবারও যান্ত্রিক জীবনে ফিরে আসার। তবে ফেরার পথেও পিছু ছাড়েনি বিড়ম্বনা। যাওয়ার পথে যেমন তীব্র যানজটের ধকল সহ্য করতে হয়েছে। তেমনি ছিল নানা দুর্ভোগ। ফিরে আসতেও বিভিন্ন রুটে যাত্রীদের কমবেশি পোহাতে হয়েছে যন্ত্রণা। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে ঢাকায় ফেরা যাত্রীদের কাওড়াকান্দি-মাওয়া ফেরিঘাটে তিন ঘণ্টার বেশি সময় যানজটের কবলে পড়ে থাকতে হয়েছে। বৃহত্তর ময়মনসিংহের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা যাত্রীবাহী পরিবহনগুলো গাজীপুর চৌরাস্তা এলাকায় প্রায় এক ঘণ্টা সময় যানজটের কবলে পড়ে। তবুও ফিরে আসা মানুষের মুখে ছিল আত্মতৃপ্তির এক চিলতে হাসি। প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার সুখটুকুই যেন যন্ত্রণাকে ছাপিয়ে গেছে। পরিবারের সদস্য বা প্রিয়জনদের মধ্যে যাদের বাড়ি যাওয়ার সুযোগ হয়নি তাদের জন্য এসেছে রকমারি খাবার। মঙ্গলবার রাজধানীর বিভিন্ন বাস, লঞ্চ ও রেল স্টেশন ঘুরে এসব চিত্র দেখা গেছে। ফিরে আসা যাত্রীদের পরিবহন সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ছিল হাজারো অভিযোগ। বিভিন্ন রুটে এখনও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। টার্মিনালের বিভিন্ন পরিবহনের কাউন্টার এখনও লোকশূন্য।
সকাল থেকেই কমলাপুর রেলস্টেশনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ট্রেনে আসা যাত্রীদের ভিড়। বেলা সাড়ে তিনটায় নোয়াখালী থেকে বলাকা এঙ্প্রেসে কমলাপুর স্টেশনে পেঁৗছেন একটি বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থার কর্মকর্তা সিরাজুল আলম। প্রথমেই জানালেন বিড়ম্বনার কথা। অভিযোগ ট্রেন পেঁৗছতে দেরি প্রায় দেড় ঘণ্টা। আট বছর পর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে একসঙ্গে ঈদ করেন। তাই এবারের ঈদের আনন্দ অনেকটাই বাড়তি ছিল বলে মনে করেন তিনি। সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেন এলাকার আইনশৃক্মখলা পরিস্থিতি নিয়ে। চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, ময়মনসিংহ এলাকা থেকে ফিরে আসা যাত্রীদের ভিড় বেশি। ভোর থেকেই ফিরে আসা যাত্রীদের ভিড়ে সরগরম হয়ে ওঠে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল। ভোলা, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠিসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে একের পর এক লঞ্চ ঘাটে এসে ভিড় করে। প্রতিটি লঞ্চেই ছিল উপচেপড়া ভিড়। অতিরিক্ত যাত্রী। যে কারণে অনেকের মনে ছিল আতঙ্ক। তা ছাড়া বরিশালে কোকো ট্র্যাজেডির কারণে একটু বেশি আতঙ্ক যোগ হয়েছিল অনেকের মনে। বেশিরভাগ যাত্রীর অভিযোগ লঞ্চ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে। যাত্রী ওঠানোর কারণে ঘাটে-ঘাটে হয়রানি সহ্য করতে হয়েছে। দুর্ঘটনা প্রতিরোধে নদীপথে আইনশৃক্মখলা বাহিনীর কোন তৎপরতা চোখে পড়েনি। কারও বিরুদ্ধে জরিমানা কিংবা অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনের কারণে আইনী ব্যবস্থাও নেয়া হয়নি। তবুও নিরাপদে ফিরতে পেরে পরিতৃপ্তির হাসি ছিল অনেকের মুখে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নদীপথে যারা ফিরছেন তাদের বেশিরভাগই সাধারণ শ্রমজীবী। কেউ গার্মেন্টসে কাজ করেন, কেউ বা দিনমজুর। তবে ফিরে আসা যাত্রীরা বলছেন, যাত্রী পরিবহনে কোন প্রকার নিয়মনীতি মানছে না লঞ্চসংশ্লিষ্টরা। অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে ফিটনেসবিহীন লঞ্চও চলছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিয়ে ফিরে আসা যাত্রীদের ভাগ্যে কোকো ট্র্যাজেডির মতো আরও একটি দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। অকালে যেতে পারে মানুষের প্রাণ। ইতোমধ্যে ফিটনেসবিহীন লঞ্চ কোকো দুর্ঘটনায় ৮০ জনের বেশি নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ আছে অনেকেই। বরিশালজুড়ে নদীর পারে চলছে শোকের মাতম। আহাজারি। নিখোঁজ মানুষের সন্ধানে নদীর পারে প্রিয়জনদের চলছে আর্তনাদ। এদিকে গাবতলী, সায়েদাবাদ, মহাখালী, গুলিস্তানসহ বিভিন্ন বাস টার্মিনালে ফিরে আসা যাত্রীদের ভিড় দেখা গেছে। তেমনি সমানতালে এখনও ঢাকা ছাড়ছেন অনেকেই। যাঁরা ঢাকা ছাড়ছেন তাঁদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নেয়ার অভিযোগ অনেক যাত্রীর। সুনামগঞ্জ, সিলেট, নেত্রকোনা ও ময়মনসিংহ রুটে বিভিন্ন পরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এদিকে মঙ্গলবার ভোর থেকে কাওড়াকান্দি-মাওয়া ফেরিঘাটে তীব্র যানজট দেখা দেয়। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে আসা কয়েক শ' যাত্রীবাহী পরিবহন তিন ঘণ্টার বেশি আটকে থাকে। যানজট ছাড়িয়ে যায় তিন কিলোমিটারের বেশি এলাকা। যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে ওঠে। যাত্রীদের অভিযোগ, ঘাট এলাকায় ট্রাফিকসহ আইনশৃক্মখলা বাহিনীর উপস্থিতি তেমন একটা লক্ষ্য করা যায়নি। দুই ঘণ্টার বেশি সময় পর অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পেঁৗছে। এদিকে ফেরি পারাপারে ঘাট ইজারাদারদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে টোল আদায়কারীদের কয়েকদফা ঝগড়ার ঘটনাও ঘটেছে। বৃহত্তর ময়মনসিংহের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা যাত্রীদের গাজীপুর চৌরাস্তা এলাকায় যানজটের কবলে পড়তে হয়েছে। সকাল থেকেই প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজট দেখা দেয়। প্রায় এক ঘণ্টা সময় যাত্রীদের যানজটে আটকে থাকতে হয়। |
||
|
সাবধানবাণী: বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে এই সাইটের কোন উপাদান ব্যবহার করা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ এবং কপিরাইট আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ।
|