মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
মঙ্গলবার, ২১ মে ২০১৩, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২০
বিদ্রোহ ঘোষণা অতঃপর ‘সেন্ট মেন রিভোল্ট’
মনোয়ারুল হক মনি
বাংলাদেশের আন্ডারগ্রাউন্ড সঙ্গীতের জগতে বর্তমান সময়ের সুপরিচিত দলের নাম ‘সেন্ট মেন রিভোল্ট’। বিভিন্ন মেটাল কনসার্টে নিয়মিত অংশগ্রহণ ও শ্রোতাদের জন্য অনেক ভেবেচিন্তে গান করায় ইতোমধ্যে তাদের আলাদা সম্মানের জায়গা তৈরি হয়ে গেছে।
আমাদের দেশের আন্ডারগ্রাউন্ড গানের দলের মধ্যে ও মেটাল ভক্তদের মাঝে ইমরান উল শীফা খুবই পরিচিত একজন গিটারিস্টের নাম। ‘পয়জন গ্রীন’ নামক থ্রাশ মেটাল গানের দলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন এক সময়ে। ২০০৬ সালে পয়জন গ্রীনের কার্যক্রম কিছুটা স্থগিত হয়। পরে সেই বিরতি অনেক দীর্ঘ হয়ে যায়। তখন ওই দলের সদস্যরা নিজেদের ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। ইমরান উল শীফা তখন শিল্প সম্পর্কিত বেশ কিছু দিকে কাজ করতে থাকেন। সঙ্গীত থেকে এভাবে সাড়ে তিন বছর নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখার পর তার উপলব্ধি হলো যে, সঙ্গীতই তার সত্তাকে খুঁজে পাওয়ার মাধ্যম। অন্য কিছুতে কোনভাবেই শান্তি পাচ্ছিলেন না। উপায় কাম ব্যক। পাপের প্রায়শ্চিত্ত মতো। না হলে যে চির অপরাধী হয়ে থাকতে হবে বাºেবীর কাছে। পূর্বে করা পাপের প্রায়শ্চিত করতেই যেন তাঁর এ কাম ব্যক অর্থাৎ ফিরে আসা।
২০১০ সালে তিনি তাঁর পুরাতন দলের সদস্য তানভীর চৌধুরীকে আহ্বান জানান একসঙ্গে একটি প্রকল্প আকারে গান করার জন্য। সামির মেসবাহ বেইজ বাজানোর জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেন। লিড গিটারিস্ট হিসাবে সালমি রহমানকে আহ্বান জানানো হয়। এরপর রবিন আহমেদ ড্রামার হিসাবে যোগদান করেন। সেই সময়ে তারা একসঙ্গে একটা গানের প্রকল্প হিসাবেই বেশ কিছুদিন অনুশীলন করেন। তবে তখনও একটি পূর্ণাঙ্গ গানের দলের আকারে তারা যাননি। দেকতে দেখতে তারা আবার নিজেদের ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত হয়ে যান।
এরপর ইমরান-উল-শীফা একটি পূর্ণাঙ্গ গানের দল গঠন করার জন্য সদস্য খুঁজতে থাকেন। এক সময় তিনি তাঁর সঙ্গে খুঁজে পেলেন ভোকালিস্ট হিসাবে রিয়াদ আহমেদকে। ড্রামার হিসাবে আসলেন সাদ আনোয়ার। বেইজিস্ট হিসাবে রুবায়েত রহমান।
এদের প্রত্যেকেই নিজেদের জায়গায় অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছেন আগে থেকেই। রিয়াদ আহমেদ আগে ছিলেন চট্টগ্রামের বেশ পরিচিত থ্রাশ মেটাল দল মাইকো কাইনেসিসের ভোকাল। সাদ আনোয়ার সাইনোশিউর, অর্বজ ও জাহিলীয়াতে ছিলেন। আর রুবায়েত রহমান স্যাটানিক নামের একটি ব্ল্যাক মেটাল দলের সদস্য ছিলেন।
এরপর তাদের পুরোদমে অনুশীলন শুরু হয়। তারা নিজেদের দলের জন্য একটি নাম ভাবতে থাকেন। এমন একটা নাম যা তাদের সঙ্গীত এবং তাদের উদ্দেশ্য ও অন্তর্নিহিত কথাগুলোর প্রতিফলন ঘটাবে। তখন যেন সময় হয়েছিল চৈতন্য ফিরে পেয়ে সত্যকে গ্রহণ করার। সঙ্গীতের অন্ধকার দিকের অনেক নেতিবাচক প্রভাব শিল্পী ও শ্রোতার মাঝেই পড়ে। তাদের তখন চড়া মূল্য দিতে হয়। সেই অন্ধকারকে বর্জন করে আলোর দিকে যাবার প্রবল ইচ্ছা থেকেই তারা নিজেদের গানের মাধ্যমেই প্রায়শ্চিত্তের কথা ভাবলেন। তারা যেন বিদ্রোহ ঘোষণা করলেন সেই শক্তির বিরুদ্ধে যারা নিষ্পাপ মনগুলো ধ্বংস করছে তাদের আগ্রাসী গান দিয়ে। তাই দলের নাম হিসেবে এলো ‘সেন্ট মেন রিভোল্ট’।
আত্মঘাতী ও আগ্রাসী গান বর্জন করে তাঁরা সেই ভ্রষ্টদের বিরুদ্ধেই গান করছেন। তাঁরা গানের মাধ্যমেই বিভিন্ন ইতিবাচক দিক ও নেতিবাচক গুণের ভয়াবহতা নিয়ে কথা বলেন।
এরপর থেকে ‘সেন্ট মেন রিভোল্ট’ তাদের নিজস্ব গান নিয়ে কাজ করছে। গানের সুর করার ক্ষেত্রে বাস্তব অভিজ্ঞতা ও আধ্যাত্মিকতাকে প্রাধান্য দেন গিটারিস্ট ইমরান-উল-শীফা। তাঁরা প্রতিটি গান অনেক সময় নিয়ে সৃষ্টি করেছেন ও করছেন।
সেন্ট মেন রিভোল্ট মেটালের বেশ কিছু ধারা নিয়ে কাজ করেন। তাঁরা বর্তমানে নিজেদের সঙ্গীত ধারাকে ‘স্পিরিচুয়াল থ্রাশ মেটাল’ বলেন। তাঁদের মধ্যে গ্রুপ মেটাল, ডুমমেটাল ও ডেথ মেটালের ছাপও দুর্লক্ষ্য নয়।
সর্বশেষ সদস্য বদলের পর বেইজিস্ট হিসাবে লেভিন যোগদান করেন। সেন্ট মেন রিভোল্ট এখন বেছে বেছে কনসার্ট করছে। তাঁরা বছরে পাঁচ-ছয়টি কনসার্টে অংশ নিয়ে বাকি সময় তাদের গানের পেছনে দেয়ার চিন্তা করেছেন।
তাঁরা প্রথম ইপি বের করার জন্য নতুন গানের কাজ করছেন। খুব শীঘ্রই তা শ্রোতাদের হাতে পৌঁছে দেয়ার প্রতিশ্রুতির কথাও জানালেন তাঁরা।
‘সেন্ট মেন রিভোল্ট’-এর যেসব গান মিশ্র এ্যালবামে আছে
ক্স একটা ছোট পরীর গল্প- রক ৪০৪
ক্স কালো দেশ- রিপাবলিক
ক্স বিদ্রোহীর বিদ্রোহী- রক ৬০৬
ক্স পবিত্রের অহমিকা- হাতিয়ার
ক্স অদ্বিতীয় টাইর‌্যান্টস শ্যাল ফল