মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
সোমবার, ১৮ এপ্রিল ২০১১, ৫ বৈশাখ ১৪১৮
চুলের যত্নে দেশী উপকরণ
চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা ... নারীর চুল নিয়ে কবিতা আর গানের শেষ নেই। যুগ যুগ ধরে এই চুল নারীকে দিয়েছে মোহনীয় সৌন্দর্য। কিন্তু বর্তমানে চুলপড়া একটা বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সমস্যা সমাধানে অর্থাৎ চুলপড়া থেকে নিজেদের রৰা করতে বেছে নিন প্রাকৃতিক ভেষজগুণসম্পন্ন প্রসাধন। যার ব্যবহারে আপনার চুল হবে মজবুত, ঘন, সুস্থ ও সবল

ত্রিফলা
আমলকী হরীতকী আর বহেড়াকে ক্রিফলা বলা হয়। এই তিনটি ফলের সংমিশ্রণের নাম দেয়া হয়েছে ত্রিফলা। প্রাকৃতিক গুণসম্পন্ন ত্রিফলায় রয়েছে কয়েকটি বৈজ্ঞানিক উপাদান যা ব্যবহারে চুল হয় লম্বা কালো ও ঘন। চুলপড়ার প্রতিষেধক হিসেবে রাতে ভিজিয়ে রেখে পরের দিন বেটে চুলের গোড়ায় লাগিয়ে দু'ঘণ্টা রেখে যে কোন ভেষজ শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। এছাড়া ত্রিফলাযুক্ত তেল ব্যবহারেও উপকার পাবেন।

মেথি
এই সুগন্ধী ভেষজটি এসেছে কাশ্মীর এবং গঙ্গার উপরাংশের সমভূমি থেকে। এর চুল কন্ডিশনিং এবং জীবাণুনাশক গুণাগুণ মাথার চামড়ার সংক্রমণ প্রতিরোধ ও চুলপড়া বন্ধ করে এবং মাথা ঠা-া রাখে। ২ চা চামচ মেথি রাতে অল্প পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। পরদিন নরম হলে একটি আমলকী বিচি বাদ দিয়ে এর সঙ্গে মিহি করে বেটে চুলের গোড়ায় লাগিয়ে রাখুন। ২ ঘণ্টা পর শ্যাম্পু করে নিন। চুলপড়া বন্ধে অব্যর্থ। দু'তিনবার ব্যবহার করলেই এর সুফল বুঝতে পারবেন।

মেহেদী
প্রাচীনকালে হেনা কিংবা মেহেদিকে সৌন্দর্য উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা হতো। বর্তমানে এই মেহেদি পাতা বেটে হেনা ডাই হিসেবে ব্যবহার করা হয়। পর্ণমোচিগাছের এই সুগন্ধী ফুল ও মূল লতাগুল্ম সমন্বিত গুণাগুণ চুলের ঔজ্জ্বল্য বাড়ায়, ঝলমলে করে তোলে, চুলের অতিরিক্ত তেলতেলে ভাব ও খুশকি দূর করে। হেনায় গস্নুকোজের ভাগ থাকে বলে মাথা ঠা-া রাখে।

জবা
দোলদোলানো বাহারি গুণের বিখ্যাত এই লাতগুল্ম শোভিত ছোটখাটো নরম গাছটি চুল পুনরম্নৎপাদন এবং মজবুত করে তোলে। এটি চুলের টনিক যা চুলকে ঘন করে তোলে। জবার তেল খুব উপকারী।

ব্রাক্ষ্মী
ব্রাক্ষ্মীর অন্যতম উপাদান হলো এ্যালকালয়েড, গস্নাইকোসাইড, রেসিন, টেনিন, অরগ্যানিক এ্যাসিড এবং স্নেহ জাতীয় উপাদান, যা মাথায় সুচারম্নরূপে রক্ত সঞ্চালন করে, মাথা ঠা-া রাখে।

নিম
প্রাচীনকাল থেকেই নিমকে এ্যান্টিসেপ্টিক উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা হয়। নিম তেলের প্রধান উপাদান হলো সালফার ভিটামিন ই যুক্ত এই সালফার চুলকে পুষ্টি জোগায় এবং চুলকে অকালপক্বতার হাত থেকে রৰা করে।

লেবু
এ্যান্টিসেপ্টিক উপাদান হিসেবে পরিগণিত। এ ছাড়া লেবু চুলের খুশকি প্রতিরোধক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। দুধ ও লেবুর মিশ্রণ চুলের গোড়ায় লাগিয়ে ৩-৪ ঘণ্টা রেখে শ্যাম্পু করলে খুশকি দূর হবে। শ্যাম্পু করার পর পানিতে সামান্য লেবুর রস মিশিয়ে চুল ধুলে চুল ঝকঝকে রেশম কোমল ও মনোরম হয়ে ওঠে।

রোজমেরি তেল
রোজমেরিকে এ্যান্টিসেপ্টিক ও চুলের রৰাকবচ বলা হয়। রোজমেরি একটি শক্তিশালী এ্যান্টিডেনড্রাপ। এছাড়া এই তেলে কয়েকটি বৈজ্ঞানিক উপাদান আছে যা মাথায় আরাম পেঁৗছায় এবং শ্যাম্পু, টনিক ও তেল তৈরির কাজে ব্যবহার করা হয়।

নারকেল তেল
ইউনানি মতানুযায়ী যে কোন নারকেল তেলই চুলের পুষ্টি বিধান করে তাকে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল রাখে। কারণ এই তেলে আছে ভিটামিন ই, এফ ফাইলমটারোলস, স্কুয়ালেস। এসব বৈজ্ঞানিক উপাদান চুলকে করে তোলে রেশম কোমল, মনোরম, স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ও সুন্দর। এছাড়া প্রতিবার চুল শ্যাম্পু করার আগের রাতে মাথায় নারকেল তেল গরম করে চুলের গোড়ায় ঘষে ঘষে লাগান। পরদিন ১টি ডিমের সাদা অংশ এবং পরিমাণ মতো মধু এক সঙ্গে মিশিয়ে মাথায় লাগান। ২০ মিনিট অপেৰা করার পর যে কোন ভেষজ শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন।
মেরীনা চৌধুরী