রবিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০১০, ৯ ফাল্গুন ১৪১৬ 
ছয় দশক পরে মংলা বন্দরে স্বয়ংক্রিয় জেটিসহ ফুড সাইলো নির্মাণ হচ্ছে
বদলে যাবে বন্দরের স্থবির অবস্থা
বাবুল সরদার, বাগেরহাট ॥ মংলা বন্দর প্রতিষ্ঠার ৬ দশক পরে বহু আকাঙ্ৰিত 'ফুড সাইলো' নির্মিত হতে যাচ্ছে। মংলা বন্দরের জয়মনির ঘোল এলাকায়। স্বয়ংক্রিয় জেটিসহ এ ফুড সাইলো নির্মাণের কাজ চলতি বছরের মধ্যে শুরম্ন করা হবে। এ জন্য ব্যয় হবে প্রায় আড়াই শ' কোটি টাকা। চলতি মাসের মধ্যে জাতীয় অর্থনৈতিক কমিটির নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) এ প্রকল্প অনুমোদন হওয়ার পর জমি অধিগ্রহণ ও নির্মাণ কাজ শুরম্ন করা হবে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাগেরহাট প্রেসকাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে খাদ্য ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) পিউস কসত্মা এ তথ্য জানান। সভায় প্রেসকাবের সভাপতি মীর জুলফিকার আলী লুলু, সাধারণ সম্পাদক বাবুল সরদার, দেলোয়ার হোসেন, শওকত আলী আকুঞ্জী, এ্যাড. শাহ আলম টুকু, সুনীল দাস, বিষ্ণু প্রসাদ চক্রবর্তী, মাসুদুল হক, এম. আকবর টুটুল, মোঃ কামরম্নজ্জামান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে তিনি প্রকল্প এলাকা সংশিস্নষ্ট মংলা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সাইদুর রহমান, সহকারী কমিশনার (ভূমি), কানুনগোসহ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে জয়মনির ঘোল এলাকার পরিবেশ, যাতায়াত ব্যবস্থা, পাওয়ার জেনারেশন অবস্থা, পয়ঃপ্রণালী ও পানি নিষ্কাশনসহ সামগ্রিক বিষয়ে আলাপ-আলোচনা করেন। মতবিনিময় সভায় জানানো হয়, ১৯৫০ সালে মংলা বন্দর প্রতিষ্ঠার পর গত ৬ দশকের বিভিন্ন সময়ে বন্দর কতর্ৃপ, বন্দর ব্যবহারকারী, স্টিভিডর ও আমদানি-রফতানিকারকগণ দাবি জানালে সরকারি সংশিস্নষ্ট কতর্ৃপ বিভিন্ন সময়ে মংলা বন্দরে একটি ফুড সাইলো স্থাপনের আশ্বাস দেয়। কিন্তু গত ৬০ বছরেও তা বাসত্মবায়ন হয়নি। বর্তমান সরকার মতা গ্রহণের পর গত বছরের শেষ দিকে মংলা বন্দরের উন্নয়ন ও গতিশীলতা বৃদ্ধির ল্যে মংলার জয়মনির ঘোল এলাকায় একটি জেটিসহ স্বয়ংক্রিয় ফুড সাইলো স্থাপনের নীতিগত সিদ্ধানত্ম হয়। সেই আলোকে চলতি মাসের মধ্যেই একনেকে প্রকল্পটি পাস হওয়ার কথা রয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন হলেই দ্রম্নততার সঙ্গে এর নির্মাণ কাজ এবং একই সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ উন্নয়ন, বিদু্যত সরবরাহ নিশ্চিত করাসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরম্ন করা হবে বলে ডিজি পিউস কসত্মা জানান। এর ফলে মংলা বন্দরের বর্তমান স্থবির অবস্থা পাল্টে গিয়ে গতিশীলতা ফিরে পাবে বলে সংশিস্নষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।
মংলা বন্দর সূত্র জানায়, বন্দরে জাহাজের আগমন বৃদ্ধি ও আমদানিকারকদের সুবিধার্থে মংলায় একটি ফুড সাইলো করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে বন্দর ব্যবহারকারীরা দাবি জানিয়ে আসছিল। বন্দর কতর্ৃপরে তরফ থেকে সরকারের সংশিস্নষ্ট বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে প্রায় এক যুগ আগে খাদ্য বিভাগের প থেকে মংলা বন্দর এলাকায় একটি ফুড সাইলো নির্মাণের আশ্বাস দেয়া হয়। সে ল্যে বন্দর কতর্ৃপ সংশিস্নষ্ট বিভাগকে জমিও প্রদান করে। কিন্তু তা আর অগ্রসর হয়নি। তবে বর্তমান সরকার চলতি বছরের মধ্যে আধুনিক একটি ফুড সাইলো নির্মাণের পরিকল্পনার কথা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এর মাধ্যমে সরকারের আমদানিকৃত খাদ্যশস্যের শতকরা ৪০ভাগ মংলা বন্দরের মাধ্যমে আনার যে প্রতিশ্রম্নতি রয়েছে তাও বাসত্মবায়ন সম্ভব হবে বলে বন্দরের চেয়ারম্যান কমোডর এম, ফারম্নক জানান। বন্দর ব্যবহারকারী স্টিভিডর কোম্পানি খুলনা ট্রেডার্সের পরিচালক মোঃ জাহিদ হোসেন জানান, মংলা বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে একটি ফুড সাইলো নির্মাণের দাবি তারা জানিয়ে আসছেন। এটি না হওয়ায় বিদেশী জাহাজ ও আমদানিকারকরা এ বন্দর ব্যবহারে আগ্রহ হারায়। খাদ্যদ্রব্য আমদানি করে সহজে ও সুষ্ঠুভাবে মজুদকরণের ব্যবস্থা না থাকায় এ বন্দরের মাধ্যমে আমদানিকারকরা উৎসাহ দেখায় না। তদুপরি প্রতিবছর সরকারের প থেকে বিপুল পরিমাণ খাদ্যদ্রব্য আমদানি করতে হয় সে েেত্রও এ বন্দর ব্যবহার করা যাচ্ছে না। ফুড সাইলো নির্মাণ হলে চট্টগ্রাম বন্দরের জাহাজ জট এড়িয়ে খুব সহজেই এ বন্দরের মাধ্যমে সরকারী- বেসরকারী প্রতিষ্ঠান আমদানি-রফতানির কাজ করতে পারবে। ফলে এ বন্দরের চাঞ্চল্যতা ফিরে পাবে বলে তিনি আশা করেন। বাগেরহাট চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি সরদার আনছার উদ্দিন জানান, দীর্ঘদিনের এ দাবিটি পূরণ হলে মংলা বন্দর ও ইপিজেডের যেমন উন্নয়ন হবে তেমনি এ অঞ্চলের কয়েক হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ ঘটবে। তিনি দ্রম্নততার সঙ্গে এ প্রকল্পটি বাসত্মবায়নের দাবি জানান।
|