রবিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০১০, ৯ ফাল্গুন ১৪১৬ 
স্ক্র্যাপ জাহাজ আমদানি থমকে গেছে ॥ এসআরও প্রত্যাহার দাবিতে সীতাকুণ্ডে মানববন্ধন
স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নতুন আদেশ নিয়ে এখনও কোন সুরাহা না হওয়ায় শিপ ব্রেকিং শিল্পে সৃষ্ট সমস্যার কোন সমাধান হয়নি। ব্যবসায়িক তির কথা চিনত্মা করে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস কর্তৃপ শর্ত সাপে েঅপেমাণ স্ক্র্যাপ জাহাজগুলো বিচিং করতে দিতে সম্মত হয়েছে বলে জানা গেছে। কিন্তু নতুন করে কোন স্ক্র্যাপ জাহাজের এলসি করছে না সংশিস্নষ্ট আমদানিকারকগণ। এ অবস্থায় এ সেক্টরে অস্থিতিশীলতা বেড়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স এ্যাসোসিয়েশন (বিএসবিএ) সভাপতি জাফর আলম জানান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গত ২৬ জানুয়ারি প্রদত্ত এক এসআরও তে বলেছে, স্ক্র্যাপ ভেসেল আমদানির েেত্র উহা বিষাক্ত বর্জ্যমুক্ত এ মর্মে রফতানিকারক সরকার বা সরকার কর্তৃক অনুমোদিত উপযুক্ত কর্তর্ৃপরে প্রত্যয়নপত্র শিপিং ডকুমেন্টের সঙ্গে দাখিল করতে হবে। এ আদেশের পর এ ধরনের প্রত্যয়নপত্র বিহীন স্ক্র্যাপ জাহাজের বিচিং কার্যক্রম বন্ধ করেছে কাস্টমস কর্তৃপ। বিএসবিএ সভাপতি বলেন, চলমান একটি জাহাজ রিসাইকিংয়ের উদ্দেশ্যে যখন বিক্রি হয় তখন এটির অবস্থান থাকে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে। কয়েক হাত ঘুরে এসব জাহাজ স্ক্র্যাপ হিসেবে আমদানি হয়ে আসে। এ অবস্থায় রফতানিকারক দেশ থেকে আদেশ অনুযায়ী প্রত্যয়নপত্র পাওয়া একেবারেই দুষ্কর। তাঁর মতে, শিপিং মন্ত্রণালয়ের অধীনে জাহাজ রিসাইকিংয়ের জন্য জাতীয় নীতিমালা বর্তমানে বিবেচনাধীন। এ অবস্থায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আদেশ স্থগিত রেখে চলমান প্রক্রিয়া বহাল রাখা একানত্ম জরম্নরী। তাঁর মতে, জরম্নরী ভিত্তিতে এ ব্যাপারে সুরাহা করা না হলে দেশ হারাবে শত শত কোটি টাকার রাজস্ব। বেকার হবে এ সেক্টরের সঙ্গে জড়িত প্রত্য ও পরোভাবে প্রায় ২০ লাখ মানুষ। কাঁচামালের অভাবে গড়ে উঠা রি রোলিং মিলগুলো বন্ধ হয়ে যাবে। দেশে তৈরির লৌহ সামগ্রীর যোগান বন্ধ হয়ে যাবে।
জাফর আলম বলেন, এসআরওটি জারি হবার পর স্ক্র্যাপ জাহাজ আমদানিতে এলসি প্রদান বন্ধ হয়ে গেছে। তাঁর মতে, পাট শিল্পের মতো শিপ ব্রেকিং শিল্পকেও চিরতরে বন্ধ করার ষড়যন্ত্র চলছে। এ ব্যাপারে সরকারের সুনির্দিষ্টভাবে হসত্মপে প্রয়োজন।
আমাদের সীতাকু- সংবাদদাতা জানান, জারিকৃত এসআরও প্রত্যাহার এবং দেশের একমাত্র জাহাজ ভাঙ্গা শিল্পকে রার দাবিতে শনিবার সীতাকুণ্ডের কুমিরা থেকে ভাটিয়ারি পর্যনত্ম চলমান ৮০টি জাহাজ ভাঙ্গা ইয়ার্ডের শ্রমিকরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেছে। শ্রমিকদের হাতে সরকারী ভুল সিদ্ধানত্মের কারণে শিপ ইয়ার্ড বন্ধ করা যাবে নাসহ বিভিন্ন সেস্নাগান সম্বলিত পেস্নকার্ড ও ব্যানার দেখা যায়।
উলেস্নখ্য, বর্তমানে আমদানি হয়ে আসা বেশকিছু স্ক্র্যাপ জাহাজ নিয়ে শীপ ইয়ার্ড মালিকরা বেকায়দায় রয়েছেন। পাশাপাশি শিপইয়ার্ড মালিকরা নতুন করে জাহাজ কেনা বন্ধ করে দিয়েছেন। ফলে শিপ ব্রেকিং শিল্প শিল্পাঞ্চলে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। মানববন্ধনে ৮০টি শিপ ইয়ার্ডের শ্রমিক, সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন রি-রোলিং মিলের শ্রমিক, স্টিল মিলের শ্রমিক ও ট্রাক এ্যাসোসিয়েশন এর হাজার হাজার শ্রমিক অংশ নেয়।
|