মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১২, ৭ আশ্বিন ১৪১৯
পাট ও পাটজাত পণ্য রফতানির নতুন বাজার খোঁজা হচ্ছে
থাইল্যান্ড ভিয়েতনাম কেনিয়াসহ অনেক দেশই টার্গেট
তৌহিদুর রহমান ॥ পাট ও পাটজাত দ্রব্য রফতানির লক্ষ্যে বিশ্বে নতুন বাজার খুঁজছে সরকার। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ পাট আমদানি কমিয়ে দেয়ার ফলে নতুন বাজার সন্ধান করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডকে নতুন বাজার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া আরও বিভিন্ন দেশে পাট পণ্য সরবরাহের চেষ্টা চলছে।
বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আশরাফুল মকবুল জনকণ্ঠকে বলেন, ট্রাডিশনালভাবে যেসব দেশে পাট ও পাটজাত পণ্য রফতানি করা হতো, সেসব দেশে পাট রফতানি কমে গেছে। ফলে পাট রফতানির লক্ষ্যে এখন নতুন নতুন দেশে বাজার সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ডকে ইতোমধ্যে পাটের নতুন বাজার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সূত্রমতে, বাংলাদেশের পাটের বড় ক্রেতা সিরিয়া, মিসর, ইরান, ইরাক, ভারত, চীন, পাকিস্তান, সুদান, ইরাক, বেলজিয়াম, জাপান, গ্রীস, চেক রিপাবলিক, স্পেন, রাশিয়া, তুরস্ক, ইতালি, যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডস, বুলগেরিয়া, লিবিয়া ইত্যাদি দেশ পাটের আমদানি কমিয়ে দিয়েছে। সুদানে বাংলাদেশের চটের বস্তার বড় বাজার থাকলেও সেখানেও এখন চটের বস্তা রফতানি বন্ধ রয়েছে। তবে সরকার নতুন নতুন বাজার সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ করে চলেছে। এবার কেনিয়ায় ভুট্টার ফলন ভাল হয়েছে। তাই সেখানে প্রচুর পাটের বস্তার প্রয়োজন হবে। ফলে পাটের বস্তার বড় একটি বাজারের সম্ভাবনা রয়েছে কেনিয়ায়। অপরদিকে গত ৯ আগস্ট পাটজাত পণ্য ব্যবহার নিয়ে রুয়ান্ডার সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে। শীঘ্রই রুয়ান্ডার একটি বাণিজ্য প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে আসছে বলে জানা গেছে।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সম্প্রতি থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম সরকার তাদের দেশে পাটজাত পণ্য ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছে। ফলে এ দুটি দেশ বাংলাদেশের বড় বাজার হতে পারে বলে মনে করছে সরকারের নীতি নির্ধারক মহল। এরই মধ্যে থাইল্যান্ডে পাটের বস্তা রফতানি শুরু করেছে বাংলাদেশ। চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত থাইল্যান্ডে ৫০ হাজার টন পাটজাত পণ্য রফতানি করা হয়েছে। আরও এক লাখ টন পাটপণ্য বাংলাদেশ থেকে নেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে থাইল্যান্ড।
সূত্রমতে, গত বছর বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দার কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্র পাটজাত পণ্য আমদানি কমিয়ে দেয়। ফলে দেশের বাজারে পাটের দাম ব্যাপকভাবে কমে যায়। এর আগেই যেসব ব্যবসায়ী বেশি দামে পাট কিনে রেখেছিলেন তাঁরা লোকসানের মুখে পড়েন। একসময় এর প্রভাব পড়তে শুরু করে প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকদের ওপর। সেই প্রভাব এখনও অব্যাহত রয়েছে। ২০১২-১৩ অর্থবছরের বাজেটে উন্নয়ন ও অনুন্নয়ন খাত মিলিয়ে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে ৩৮২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। বস্ত্র ও পাটশিল্পের সমন্বিত উন্নয়নের মাধ্যমে এ শিল্পকে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগী করার উদ্যোগ হিসেবে এই অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে।
২০১০-১১ অর্থবছরে পাট রফতানি করে বাংলাদেশ আয় করেছিল ১১১ কোটি ৪৯ লাখ ডলার। ২০১১-১২ অর্থবছরে তা ৯৬ কোটি ৭৩ লাখ ডলারে নেমে আসে। এ ছাড়া চলতি অর্থবছরের গত জুলাই মাসেও লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী পাট ও পাটজাত পণ্য রফতানি করতে পারেনি বাংলাদেশ। জুলাই মাসে ৯ কোটি আট লাখ ডলারের কাঁচা পাট ও পাটজাত পণ্য রফতানির লক্ষ্যমাত্রা ছিল। রফতানি হয়েছে ৭ কোটি ৮৫ লাখ ডলারের পণ্য। এছাড়া জুলাই মাসে কাঁচা পাট রফতানির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি কমেছে। লক্ষ্যমাত্রা ছিল দুই কোটি ৫৩ লাখ ডলারের কাঁচা পাট রফতানির। রফতানি হয়েছে মাত্র এক কোটি ২৬ লাখ ডলারের। রফতানি কমেছে ৫০ শতাংশ।
এদিকে জানা গেছে, বিশ্বে পাট রফতানির লক্ষ্যে নতুন নতুন বাজার সৃষ্টির উদ্যোগ নেয়া হলেও দেশের বাজারে বিভিন্ন কারণে পাট শিল্পের চাহিদা বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। সরকার থেকে পাটের মোড়ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করে আইন করা হলেও নানা কারণে বাস্তবায়িত হচ্ছে না।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বিদেশের বাজারে পাট রফতানি কমলেও বিজেএমসির অধীনে পাটকলগুলো ২০১০-১১ অর্থবছরে ১৯ কোটি ৫৩ লাখ টাকা মুনাফা করেছে। তবে এর আগে পর পর দুই বছর লোকসান দেয় বিজেএমসি। সূত্রমতে, পাট রফতানি থেকে আয় কমলেও রফতানিকারকের সংখ্যা বেড়েছে। ২০১০-১১ অর্থবছরের তুলনায় ২০১১-১২ অর্থবছরে অতিরিক্ত ৩৯ প্রতিষ্ঠান কাঁচা পাট রফতানি করেছে। এ সময়ে নতুন পাঁচটি দেশে পাট রফতানি হয়েছে। ২০১১-১২ অর্থবছরে দেশে কাঁচা পাট রফতানিকারক ছিলেন ১৬৮। অথচ ২০১০-১১ অর্থবছরে ছিলেন ১২৯ জন। উল্লেখ্য, বর্তমানে বিশ্বের ১১০ দেশে সরকারী-বেসরকারী পর্যায়ে পাট ও পাটজাত পণ্য রফতানি করা হচ্ছে। তবে আরও নতুন নতুন বাজারের সন্ধানও চলছে।