মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১২, ৭ আশ্বিন ১৪১৯
সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে শীঘ্র সংলাপ ॥ ইনু
বিশেষ প্রতিনিধি ॥ নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে শীঘ্রই সংলাপ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন নবনিযুক্ত তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু। তিনি বলেন, নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের যে অনৈক্য দেখা দিয়েছে, তার দ্রুতই সমাধান হবে। এ ইস্যুতে উভয়ের মধ্যে সংলাপ হবে ইনশাল্লাহ। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রশ্নে তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় সরকার ব্যবস্থা কি হবে তা একতরফাভাবে করা ঠিক হবে না, সম্মিলিতভাবেই করতে হবে।
শুক্রবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) আয়োজিত মিট দ্য রিপোর্টার্স অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী সমসাময়িক রাজনীতিসহ বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের ব্যবস্থা এখনও হয়ে ওঠেনি। তাই নির্বাচনের আগে সব সময় নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক হয়। সরকার ও বিরোধী দলের অবস্থান এখনও এক জায়গায় নেই। তবে সাংবিধানিক ব্যবস্থা ও আদালতের রায় বিবেচনা করে আমাদের কাজ করতে হবে। সেই আলোচনা একতরফা নয়, বিরোধী দলকে নিয়ে করতে হবে। আজ হোক, কাল হোক সংলাপ হবেই। তাদের সংলাপের আহ্বান জানানো হয়েছে। এখনও সাড়া পাইনি। অপেক্ষায় আছি।
সংগঠনের সভাপতি শাখাওয়াত হোসেন বাদশা ও সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু উপস্থিত ছিলেন। দেশের গণতন্ত্র সঙ্কটাপন্ন দাবি করে ইনু বলেন, এ সঙ্কট উত্তরণে অতীতের মতো সাংবাদিক সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে।
আওয়ামী লীগকে বাইরে রেখে ১৪ দলের কয়েকটি শরিক ও বামদের সঙ্গে নিয়ে জনগুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে বিভিন্ন কর্মসূচী পালন সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে হাসানুল হক ইনু বলেন, এটা কোন নতুন কাঠামো নয়। গত সাড়ে তিন বছরে আমরা অনানুষ্ঠানিকভাবে অনেক বৈঠক করেছি। আর এ বৈঠকের দুটো কারণ। একটা হলো কিভাবে ঐক্যের মূল সেতুবন্ধন ২৩ দফা বাস্তবায়ন করা যায়। অপরটি হলো ১৪ দল ও মহাজোটে সমন্বয়হীনতা কিভাবে কাটিয়ে তোলা যায়। তাছাড়া জনগণের সমস্যা নিয়ে কথা বা সংলাপ, যা অতীতেও হয়েছে। আগামীতেও করব।
রাশেদ খান মেননের মন্ত্রিসভায় যোগদান না করা প্রসঙ্গে অপর এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, চৌদ্দ দলের মধ্যে কোনই সমন্বয়হীনতা নেই। মন্ত্রী হওয়ার সঙ্গে রাজনীতির হেরফের নেই। তাছাড়া মন্ত্রিত্ব আমার কাছে চাকরি নয়। রাজনৈতিক কর্তব্য পালন। রাজনৈতিক কারণে মহাজোটে ছিলাম, আছি এবং মন্ত্রিসভায় যোগ দিয়েছি।
ওয়েজবোর্ড সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমি অষ্টম ওয়েজবোর্ড দেখেছি। আলোচনা চলছে। আলোচনা করে এ ব্যাপারে এক বা দুই সপ্তাহের মধ্যে ঘোষণা আসবে। ওয়েজবোর্ড কর্তৃপক্ষ পুরো দেশবাসীকে অবহিত করবে। তিনি বলেন, ইলেকট্রনিক মিডিয়ার আলাদা ওয়েজবোর্ড গঠনে সাংবাদিক নেতাদের মতামত নিয়ে ব্যাপারটা নিষ্পত্তি করা হবে। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের পেশা নিয়ে কথা বলেন। বিভিন্ন দেশ-বিদেশের সাংবাদিকতার নিয়মনীতিও তুলে ধরেন।
সাগর-রুনী হত্যাকা- প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সাগর-রুনী হত্যাকা-ে পুরো সাংবাদিক সমাজের রক্তক্ষরণ হচ্ছে। তথ্যমন্ত্রী হিসেবে আমি নিজেও ভিকটিম। আশা করি এর সঠিক তদন্ত হবে।
মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ইনু বলেন, মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ শুধুই রাজনৈতিক কারণ মাত্র। এর পেছনে অন্য কোন কারণ আছে বলে মনে করি না।