বৃহস্পতিবার, ১৯ জুলাই ২০১২, ৪ শ্রাবণ ১৪১৯
গ্রামীণফোনের বিরুদ্ধে গণহারে কর্মী ছাঁটাইয়ের অভিযোগ
ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ সংসদ কমিটির
সংসদ রিপোর্টার ॥ গণহারে কর্মী ছাঁটাই করে গ্রামীণফোন দেশের দক্ষ মানবসম্পদকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। অর্থনীতির ওপর চাপ ফেলছে। এ ছাঁটাইকে ‘অনৈতিক শ্রমচর্চা’ আখ্যায়িত করে অচিরেই এ সমস্যার সমাধান না করলে গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহীসহ উচ্চ পর্যায়ের কর্তাব্যক্তিদের অভিযুক্ত করে শ্রম আইনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করেছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।
বুধবার জাতীয় সংসদে গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহীকে তলবের পর সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান সংসদীয় কমিটির সভাপতি ইসরাফিল আলম। দুপুরে জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, গ্রামীণের বিদ্যমান সঙ্কট নিরসনের জন্য বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি), ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম পরিচালনা বোর্ডকে গ্রামীণফোনের সঙ্গে আলোচনার সুপারিশ করা হয়েছে। এভাবে শ্রম আইন লঙ্ঘন করে কর্মী ছাঁটাইয়ের কারণ ব্যাখ্যা করতে না পারলে গ্রামীণফোনের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শ্রম আইনের ২৯১ ধারা অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। ওই আইনে ছয় মাসের কারাদ-সহ জরিমানার বিধান রয়েছে।
এদিকে বৈঠকের পর গ্রামীণের প্রধান নির্বাহী (সিইও) টরে জনসন মিডিয়ার প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, ‘বৈঠকের পুরো আলোচনাটি হয়েছে বাংলা ভাষায়। যে কারণে অভিযোগের বিষয়গুলো সঠিকভাবে অনুধাবন করতে পারিনি। অফিসে ফিরে দো-ভাষীর সহায়তায় বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত হয়ে সন্ধ্যার মধ্যে একটি বিবৃতি দেয়া হবে।’
সূত্র মতে, বৈঠকে প্রধান নির্বাহীর সঙ্গে বাংলাভাষী গ্রামীণের তিন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। তারা সময়ে সময়ে তাকে ইংরেজীতে অভিযোগগুলো অবহিত করেছেন। বৈঠকে কর্মী ছাঁটাইয়ের পক্ষে গ্রামীণ জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানে অবকাঠামোগত পরিবর্তন চলছে। এর প্রক্রিয়া হিসেবে যারা তাদের কাজে দক্ষতা প্রমাণ করতে পারেনি তাদের পরীক্ষা নিয়ে ‘লো পারফরমার’ হিসেবে বাদ দেয়া হয়েছে। তবে গ্রামীণের এ যুক্তি মানেনি কমিটি। সংসদীয় কমিটির মতে, এ যুক্তি অগ্রহণযোগ্য ও অমানবিক।
কর্মী ছাঁটাইয়ের বিষয়ে কমিটির সভাপতি ইসরাফিল আলম সংবাদ সম্মেলনে বলেন, গ্রামীণ সেলফোন কোম্পানিটি অনৈতিক শ্রমচর্চা করছে। তারা সু-শাসনের কথা বলে, আর তারাই করছে সু-শাসনের লঙ্ঘন। এটা খুব দুঃখজনক।
সংসদ কমিটির সভাপতি ইসরাফিল আলমের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান, মোঃ শহীদুজ্জামান সরকার, মোঃ আব্দুছ ছাত্তার, ননী গোপাল ম-ল, মোঃ জাকির হোসেন এবং রওশন জাহান অংশ নেন। এছাড়াও কমিটির আমন্ত্রণে গ্রামীণফোনের গণছাঁটাই বিষয়ে আলোচনার জন্য নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব) জিয়া আহমেদ, গ্রামীণ ফোনের প্রধান নির্বাহী টরে জনসন, এইচআর এর ভারপ্রাপ্ত প্রধান তৌহিদ আবদুল্লাহ এবং অভিযোগকারীদের পক্ষে গ্রামীণফোনের চাকরিচ্যুত দুই কর্মকর্তা ওমর ফারুক ও মিয়া মোঃ শফিকুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
|