মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শুক্রবার, ২৮ জানুয়ারী ২০১১, ১৫ মাঘ ১৪১৭
সাংবাদিকরা এখন পেশাগত প্রতিশ্রুতি থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন ॥ আবেদ খান
স্টাফ রিপোর্টার ॥ দেশে পেশাগত সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। সাংবাদিকরা এখন পেশাগত প্রতিশ্রুতির জায়গা থেকে ক্রমশ দূরে সরে যাচ্ছেন। প্রথিতযশা সাংবাদিক ও কালের কণ্ঠ সম্পাদক আবেদ খান সাংবাদিকতা বিষয়ক এক পাবলিক লেকচারে এই মন্তব্য করেন।
তাঁর মতে, এখন সাংবাদিকদের কাছে আদর্শের চেয়ে ভোগবাদিতাই বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। ক্রমান্বয়ে সাংবাদিকরা পণ্যে পরিণত হচ্ছেন। তাঁদের বাজার মূল্যও বাড়ছে, সাংবাদিকরা আজ সেবাদাস। সাংবাদিকতা জগতে বিরাজ করছে নৈরাজ্য। দেশের সংবাদমাধ্যম কর্পোরেট আগ্রাসনের শিকার হয়ে কৃষ্ণপক্ষে ঘুরপাক খাচ্ছে। এ প্রবণতা সাংবাদিকতা পেশার জন্যই বিপজ্জনক।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর কাওরান বাজারের ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত জার্নালিজম ট্রেনিং এ্যান্ড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ-যাত্রী আয়োজিত 'বাংলাদেশের সাংবাদিকতা : অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যত' শীর্ষক পাবলিক লেকচারের প্রধান বক্তা ছিলেন আবেদ খান।
আবেদ খান লেকচারে বলেন, রাজনৈতিক দর্শনের ভিত্তিতে ত্রিশের দশক থেকে এদেশে সংবাদপত্রের বিকাশ শুরু হয়। অথচ পঞ্চাশ-ষাটের দশক ও আজকের সাংবাদিকতার মধ্যে বিরাট তফাত হয়ে গেছে। উদাহরণ স্বরূপ আদর্শগত সাংবাদিকতার ভিত্তি হিসেবে দৈনিক আজাদের ইতিহাস তুলে ধরেন তিনি। সেই সময়ের সাংবাদিকতায় আজকের মতো পেশাদারিত্ব না থাকলেও এক ধরনের নৈতিকতা ও দায়বদ্ধতা ছিল। শিক্ষিত তরুণরা সাংবাদিকতায় আসতেন, তাঁদের ছিল শক্তিশালী রাজনৈতিক দর্শন। অতীতে দেশে রাজনৈতিক মতাদর্শগত বিভেদ থেকে নতুন সংবাদপত্রের জন্ম হলেও বর্তমানে ব্যবসায়িক স্বার্থের কারণে সংবাদপত্র প্রকাশিত হয় বলে মনত্মব্য করেন তিনি। বাংলাদেশের সংবাদপত্রের চলার পথে রয়েছে নানান বাঁক। দৈনিক আজাদের পর দৈনিক ইত্তেফাক, দৈনিক পাকিস্তান পরবর্তীতে দৈনিক বাংলা সাংবাদিকতার আঙ্গিকে নতুন ধারার প্রবর্তন করে। যার ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন সময়ে একের পর এক সংবাদপত্র প্রকাশিত হয়ে সংবাদ প্রকাশ এবং পত্রিকার আকারভেদে নানা পরিবর্তন সাধিত হয়। সাংবাদিকদের বেতন কাঠামো বরাবরই অবহেলিত উলেস্নখ করে তিনি বলেন, বিস্ময়ের বিষয় হলো সাংবাদিকদের বেতন কাঠামো প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সেনা শাসকদের হাত ধরে। প্রথম ওয়েজ বোর্ড চালু করেন আইয়ুব খান। সব শেষ ওয়েজ বোর্ডও হয় সেনা সমর্থিত বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়। তবে, সংবাদপত্রের প্রতি তাঁদের ভালবাসার কারণে এগুলো হয়নি। ও সব সরকার এগুলো করেছে সাংবাদিক কেনার প্রবণতা থেকে। ১৯৬৪ সালে প্রেস ট্রাস্ট গঠনের মধ্য দিয়ে সাংবাদিক কেনার প্রবণতা শুরম্ন হয় বলে লেকচারে উলেস্নখ করেন আবেদ খান।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এখনও সংবাদপত্র বেশ জনপ্রিয়। প্রতিনিয়ত এর চাহিদা বাড়ছে। তিনি আগামী দেড় দশক পর্যনত্ম এর উত্থান থাকবে বলে মনত্মব্য করেন। তবে, বর্তমানে ইলেক্ট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়া সংবাদপত্রের জন্য যে হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে তা থাকবে না বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন। আগামী দিনের সংবাদপত্র জগতে যে পরিবর্তন আসবে তার নেতৃত্ব দেবে এ দেশের তরম্নণ প্রজন্ম। এই প্রজন্মই নতুন নতুন ধারার সৃষ্টি করবে বলেও তাঁর লেকচারের মূল সুর হিসেবে উঠে আসে। যাত্রীর প্রধান নির্বাহী জামিল আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সিনিয়র সাংবাদিক ও যাত্রীর উপদেষ্টা জগলুল আহমেদ চৌধুরী। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিক ও গণমাধ্যম পেশাজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।