মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বৃহস্পতিবার, ২ আগষ্ট ২০১২, ১৮ শ্রাবণ ১৪১৯
শিক্ষক লাঞ্ছিত, পাঁচ ছাত্র বহিষ্কার ॥ পাবিপ্রবি বন্ধ ঘোষণা
নিজস্ব সংবাদদাতা, পাবনা, ১ আগস্ট ॥ পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা প্রক্টরসহ ৫ শিক্ষককে গাড়ি থেকে নামিয়ে লাঞ্ছিত ও অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনায় ৫ ছাত্রকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় আগামী ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানিয়েছে, ছাত্ররা বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে ক্লাস বর্জনসহ বিভিন্ন কর্মসূচীর একপর্যায়ে বুধবার সকাল সাড়ে ৮টায় শহরের মোজাহিদ ক্লাবের সামনে শিক্ষকদের বহনকারী একটি মাইক্রোবাস বিক্ষুব্ধরা গতিরোধ করে। ছাত্ররা এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মোঃ কামরুজ্জামান, প্রশাসন বিভাগের প্রভাষক মোঃ আমিরুল ইসলাম, ভূগোল পরিবেশ ও নগর পরিকল্পনা বিভাগের প্রভাষক রাহিদুল ইসলাম, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মাহমুদুল হাসান, বাংলা বিভাগের প্রভাষক তানভীর হায়দার, অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক তাওহীদুল ইসলামকে মাইক্রোবাস থেকে টেনে রাস্তার ওপর নামিয়ে লাঞ্ছিত করাসহ অবরুদ্ধ করে রাখে। এ সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ছাত্রদের ওপর লাঠিচার্জ করলে ১০ ছাত্র আহত ও ৫ ছাত্রকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত ছাত্ররা হলো মাহাদী হাসান সজীব (১৯), আল-আমিন (২০), সাজ্জাদ হোসেন (২০), বাকি বিল্লাহ (২১) ও খালেদ হোসেন (২০)। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় রিজেন্ট বোর্ডের ১৬তম জরুরী সভায় বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করার চেষ্টার অংশ হিসেবে শিক্ষকদের লাঞ্ছিত করার ও বিভিন্ন বিভাগে তালা ঝুলিয়ে দেয়ার অপরাধে ৫ ছাত্রকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বহি®কৃতরা হচ্ছে পদার্থবিজ্ঞান ২য় বর্ষের ছাত্র মোঃ মাহাদি হাসান সজিব, ইলেকট্রিক এ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিঃ ১ম বর্ষের ছাত্র মোঃ আল আমিন, গণিত ২য় বর্ষের ছাত্র মোঃ সাজ্জাদ হোসেন, কম্পিউটার সায়েন্স ৩য় বর্ষের ছাত্র মোঃ বাকী বিল্লাহ, গণিত বিভাগ ২য় বর্ষের ছাত্র মোঃ খালেদ হোসেন। রিজেন্ট বোর্ড ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছুটি ঘোষণাসহ শিক্ষক লাঞ্ছিতের ঘটনা তদন্তে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগীয় চেয়ারম্যান মোঃ খায়রুল আলমকে আহ্বায়ক করে ৫ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে। পাবিপ্রবি ডেপুটি রেজিস্ট্রার বিজন কুমার ব্রহ্ম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়েছে, আন্দোলনরত ছাত্রদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে দাবিদাওয়া মেনে নেয়ার পরও আন্দোলনের নামে কতিপয় ছাত্র শিক্ষকদের লাঞ্ছিত ও ছাত্রছাত্রীদের মেসে গিয়ে হুমকি দেয়া ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস বন্ধ করে দেয়ার ঘটনায় রিজেন্ট বোর্ড মিটিংয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
এদিকে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা শহরের টাউন হল থেকে গ্রেফতারকৃতদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, প্রশাসনিক ভবনসহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।