বৃহস্পতিবার, ২ আগষ্ট ২০১২, ১৮ শ্রাবণ ১৪১৯ 
সেল ফোন লাইসেন্স নবায়ন নিয়ে বিটিআরসি ও সংসদীয় কমিটি মতবিরোধ
সংসদ রিপোর্টার ॥ সেল ফোন অপারেটরদের লাইসেন্স নবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে সংসদীয় কমিটি ও বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) মধ্যে। লাইসেন্স নবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে অর্থমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী ১৫ দিনের মধ্যে সংসদীয় কমিটি সমস্যা সমাধানে সুপারিশ করলেও তাতে আপত্তি জানিয়েছে বিটিআরসি। কমিটি বিটিআরসির এ আচরণে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।
বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকের সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি হাসানুল হক ইনু। বৈঠকে কমিটির সদস্য ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু, হুইপ আ স ম ফিরোজ, আব্দুল কুদ্দুস, খালিদ মাহ্মুদ চৌধুরী, মোয়াজ্জেম হোসেন রতন ও গোলাম মোস্তফা এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব সুনীল কান্তি বোসসহ সংশ্লিষ্টরা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক সূত্র জানায়, আদালতে মামলা করার পরও মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোন, সিটিসেল, বাংলালিংক ও রবির লাইসেন্স নবায়ন শর্ত নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা নিরসন না হওয়ায় কমিটি সেক্ষেত্রে অর্থমন্ত্রীর প্রস্তাব মেনে নেয়ার সুপারিশ করে। অর্থমন্ত্রীর প্রস্তাব অনুযায়ী, এ জটিলতা দূর করতে ১৫ দিনের মধ্যে বিটিআরসি, অপারেটর ও এনবিআরের মধ্যে ত্রি-পক্ষীয় সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হতে হবে। তবে কমিটির এই সুপারিশ মানতে রাজি হননি বৈঠকে উপস্থিত বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব) জিয়া আহমেদ। তিনি সমঝোতা স্মারকে বিটিআরসিকে কোন পক্ষ করতে রাজি হননি। তিনি এ্যাটর্নি জেনারেল, মন্ত্রণালয় ও অপারেটরদের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তাব করেছেন। তবে কমিটি তা গ্রহণ করেনি।
এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে কমিটির সভাপতি হাসানুল হক ইনু এর সত্যতা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, বিটিআরসির আপত্তিতে কিছু যায় আসে না। কমিটি এ বিষয়ে কালক্ষেপণ না করে সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে সমঝোতা স্মারকের খসড়া তৈরি হয়েছে। এই স্মারক স্বাক্ষর হলে দুই পক্ষই মামলা তুলে নেবে। চারটি মোবাইল অপারেটরের লাইসেন্স নবায়নে ধীরগতি নিয়ে কমিটির বৈঠকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
এদিকে বৈঠকে বিটিসিএলের কার্যক্রম নিয়ে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে সংসদীয় কমিটি। এ বিষয়ে কমিটির সভাপতি বলেন, প্রতিষ্ঠানটিতে গ্রাহক সেবার অবনতি, আন্তর্জাতিক কল টার্মিনেশনে অব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তিগত বিশৃঙ্খলা ও ক্যারিয়ার কোম্পানির কাছ থেকে বকেয়া আদায়ে ব্যর্থতা দেখা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নেও অদক্ষতার পরিচয় দিচ্ছে। তিনি বলেন, কোম্পানি হিসেবে প্রতিষ্ঠার পর বিটিসিএলের কাজে যে গতি থাকার কথা ছিল তা নেই। ২০১৩ সালের মধ্যে এক কোটি গ্রাহক সৃষ্টি করার লক্ষ্য ছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত মাত্র এক লাখ ৭৪ হাজার সংযোগ দিতে পেরেছে। তিনি আরও বলেন, অভিযোগ রয়েছে বিটিসিএলের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এমনকি বিটিসিএলের আইনজীবীরাই বিদেশী ক্যারিয়ার প্রতিষ্ঠানের পক্ষে কাজ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। কমিটি এসব ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করেছে।
বৈঠক সূত্র জানায়, চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ৫৮টি ক্যারিয়ার প্রতিষ্ঠানের কাছে বিটিসিএলের প্রায় ৮শ’ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। বার বার তাগাদা দিয়েও তা আদায় করা যাচ্ছে না। বর্তমানে আন্তর্জাতিক কল সংখ্যা ৫ কোটি থেকে কমে ৩ কোটিতে নেমেছে। ফলে সরকারের রাজস্ব আয় কমে গেছে।
বৈঠকে কল সংখ্যা বৃদ্ধির মাধ্যমে রাজস্ব আয় বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া অবৈধ পন্থায় আন্তর্জাতিক কল টার্মিনেশন রোধে বিটিসিএলের প্রযুক্তিগত ত্রুটি-বিচ্যুতি সংশোধনের সুপারিশ করা হয়েছে।
|