মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বৃহস্পতিবার, ২ আগষ্ট ২০১২, ১৮ শ্রাবণ ১৪১৯
রাজনীতিকদের মিলনমেলা গণভবনে
বিশেষ প্রতিনিধি ॥ গণভবনে বসেছিল মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের রাজনীতিকদের মিলনমেলা। শুধু মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসীরাই নয়, ক্ষমতাসীন মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টি, ইসলামী ঐক্যজোটের একাংশ, তরিকত ফেডারেশন ছাড়াও বেশকিছু ইসলামী রাজনৈতিক দলের নেতারাও শরিক হয়েছিলেন বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনীতিবিদদের সম্মানে দেয়া ইফতার মাহফিলে। তবে আমন্ত্রণ জানানো হলেও প্রধান বিরোধী দল বিএনপির কোন নেতা এই ইফতার মাহফিলে যোগ দেননি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইফতারের আগে গণভবনে আগত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে ঘুরে ঘুরে কুশল বিনিময় করেন। দীর্ঘ দিনের রাজপথের সহযোদ্ধা রাজনীতিকরাও এ সময় প্রধানমন্ত্রীর কুশল জানতে চান এবং শারীরিক অবস্থার খোঁজ-খবর নেন। ইফতার শেষেও প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সার্বিক বিষয়ে খোঁজ-খবর নেন। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল রাজনৈতিক দলের নেতারা প্রধানমন্ত্রীর ইফতার মাহফিলে অংশ নিলেও বিএনপি ও তাদের পক্ষের কোন রাজনৈতিক দলের নেতাই গণভবনে আসেননি। বিরোধী দল বিএনপিকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতে ইসলামীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
প্রধানমন্ত্রীর ইফতার মাহফিলে অংশগ্রহণ না করা প্রসঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ইফতার মাহফিলে অংশগ্রহণের প্রশ্নই ওঠে না। কারণ বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া গত ২৩ জুলাই আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকসহ সভাপতিমন্ডলীর সদস্যদের ইফতার মাহফিলে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁরা কেউ আসেননি। তাই আমরাও যাইনি।
গণভবনে অনুষ্ঠিত ইফতার মাহফিলের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে একমঞ্চে উপবিষ্ট ছিলেন জাতীয় সংসদের স্পীকার এ্যাডভোকেট আবদুল হামিদ, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মনজুরুল ইসলাম খান, সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, সাম্যবাদী দলের শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়–য়া, গণআজাদী লীগের সভাপতি হাজী আবদুস সামাদ, ন্যাপের আমেনা বেগম ও ইসলামী ঐক্যজোটের একাংশের চেয়ারম্যান মিসবাহুর রহমান চৌধুরী।
ইফতার মাহফিলের শুরুতে কোরান তেলাওয়াত করেন ক্বারী মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম। এরপর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ১৫ আগস্টের শহীদ, মুক্তিযুদ্ধে শহীদ, শহীদ জাতীয় চার নেতা, ২১ আগস্টের শহীদসহ সকল গণতান্ত্রিক ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নিহত শহীদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মাওলানা মোঃ সালাউদ্দিন আহমেদ।
রাজনীতিবিদদের সম্মানে গণভবনে দেয়া প্রধানমন্ত্রীর ইফতার মাহফিলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা ছাড়াও আওয়ামী লীগের সব পর্যায়ের নেতা, মন্ত্রী পরিষদের সদস্যবর্গ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেস্টাগণ, সংসদ সদস্যগণ এবং সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। রাজনীতিকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, আবুল মাল আবদুল মুহিত, আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু, বেগম মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মোহাম্মদ নাসিম, মাহবুব-উল-আলম হানিফ, এইচ টি ইমাম, ড. গওহর রিজভী, অধ্যাপক আলাউদ্দিন আহমেদ, ড. মশিউর রহমান, জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদ, জাতীয় পার্টির ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, জিয়াউদ্দিন বাবলু, রুহুল আমিন হাওলাদার, জাসদের মইনউদ্দীন খান বাদল, শরিফ নুরুল আম্বিয়া, শিরিন আখতার, ওয়ার্কার্স পার্টির ফজলে হোসেন বাদশা, ন্যাপের আমিনা বেগম, গণতন্ত্রী পার্টির নুরুর রহমান সেলিম, আওয়ামী লীগের জাহাঙ্গীর কবির নানক, অধ্যাপক ডা. রুহুল হক, ড. আবদুর রাজ্জাক, আহমদ হোসেন, বাহাউদ্দিন নাছিম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরীসহ প্রায় সহস্রাধিক রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।